গানের পরিচিতি ও সারমর্ম (Overview)
কবি ও সুরকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূলভাব (Main Theme):
'ওরে গৃহবাসী' বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বসন্তের গান। এই গানটি মূলত দোলযাত্রা বা বসন্তোৎসবের পটভূমিকায় রচিত। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতি এক নতুন সাজে সেজে ওঠে। চারদিকে রঙের খেলা শুরু হয়। প্রকৃতির এই অনাবিল আনন্দ ও রঙের উৎসবকে উপভোগ করার জন্য কবি ঘরের মধ্যে আবদ্ধ মানুষদের (গৃহবাসীদের) দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি কবির 'গীতবিতান' গ্রন্থের 'প্রকৃতি' পর্যায়ের একটি গান।
কবিতার বিস্তারিত বিষয়বস্তু (Detailed Analysis)
প্রথম অংশ: গৃহবাসীদের প্রতি আহ্বান
"ওরে গৃহবাসী, খোল্, দ্বার খোল্, লাগল যে দোল..."
বসন্তকালে প্রকৃতিতে দোল উৎসব শুরু হয়েছে। জলে, স্থলে, এবং বনতলে সর্বত্র রঙের ছোঁয়া লেগেছে। তাই কবি ঘরের ভিতরে আটকে থাকা মানুষদের বারবার দরজা খুলে বাইরে আসতে বলছেন। প্রকৃতি সেজে উঠেছে, তাই ঘরের কোণে বসে থাকার আর সময় নেই।
বসন্তকালে প্রকৃতিতে দোল উৎসব শুরু হয়েছে। জলে, স্থলে, এবং বনতলে সর্বত্র রঙের ছোঁয়া লেগেছে। তাই কবি ঘরের ভিতরে আটকে থাকা মানুষদের বারবার দরজা খুলে বাইরে আসতে বলছেন। প্রকৃতি সেজে উঠেছে, তাই ঘরের কোণে বসে থাকার আর সময় নেই।
দ্বিতীয় অংশ: প্রকৃতির রঙিন সাজ
"রাঙা হাসি রাশি রাশি অশোকে পলাশে..."
বসন্তের আগমনে অশোক এবং পলাশ গাছে লাল রঙের ফুল ফুটেছে। কবি কল্পনা করেছেন যেন গাছেরা লাল রঙের হাসিতে মেতে উঠেছে। সকালের আকাশে মেঘের গায়েও লাল রঙের আভা (নেশা) লেগেছে। গাছের নতুন গজিয়ে ওঠা কচি পাতাতেও বসন্তের মাতাল হাওয়ার লাল রঙের ঢেউ বা হিল্লোল লেগেছে। প্রকৃতি যেন দোল খেলছে।
বসন্তের আগমনে অশোক এবং পলাশ গাছে লাল রঙের ফুল ফুটেছে। কবি কল্পনা করেছেন যেন গাছেরা লাল রঙের হাসিতে মেতে উঠেছে। সকালের আকাশে মেঘের গায়েও লাল রঙের আভা (নেশা) লেগেছে। গাছের নতুন গজিয়ে ওঠা কচি পাতাতেও বসন্তের মাতাল হাওয়ার লাল রঙের ঢেউ বা হিল্লোল লেগেছে। প্রকৃতি যেন দোল খেলছে।
তৃতীয় অংশ: বাতাস ও জীবজগতের আনন্দ
"বেণুবন মর্মরে দখিন বাতাসে..."
বসন্তের দখিনা বাতাসে বাঁশবাগানে (বেণুবনে) শুকনো পাতার খসখস (মর্মর) শব্দ হচ্ছে। সবুজ ঘাসের উপর রঙিন প্রজাপতিরা মনের আনন্দে উড়ে বেড়াচ্ছে বা দোল খাচ্ছে। মৌমাছিরা ফুলে ফুলে উড়ে গিয়ে ফুলের কাছে উপহার বা মধু প্রার্থনা (যাচি) করছে, আর তাদের ডানার গুনগুন শব্দ শুনে মনে হচ্ছে যেন কোনো ভিখারির হাতের বীণা বাজছে। চারদিকে মাধবীলতার কুঞ্জে (মাধবীবিতান) ফুলের সুগন্ধে বাতাস একদম আত্মহারা বা বিভোর হয়ে উঠেছে।
বসন্তের দখিনা বাতাসে বাঁশবাগানে (বেণুবনে) শুকনো পাতার খসখস (মর্মর) শব্দ হচ্ছে। সবুজ ঘাসের উপর রঙিন প্রজাপতিরা মনের আনন্দে উড়ে বেড়াচ্ছে বা দোল খাচ্ছে। মৌমাছিরা ফুলে ফুলে উড়ে গিয়ে ফুলের কাছে উপহার বা মধু প্রার্থনা (যাচি) করছে, আর তাদের ডানার গুনগুন শব্দ শুনে মনে হচ্ছে যেন কোনো ভিখারির হাতের বীণা বাজছে। চারদিকে মাধবীলতার কুঞ্জে (মাধবীবিতান) ফুলের সুগন্ধে বাতাস একদম আত্মহারা বা বিভোর হয়ে উঠেছে।
শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| গৃহবাসী | যে ঘরে বাস করে বা আবদ্ধ থাকে |
| দ্বার | দরজা |
| দোল | দোলযাত্রা বা বসন্তোৎসব (বসন্তের রঙের উৎসব) |
| স্থল | ডাঙা বা মাটি |
| বনতল | বনের নীচের অংশ বা অরণ্য |
| রাঙা | লাল রঙের |
| অশোক / পলাশ | বসন্তকালে ফোটা লাল রঙের ফুল |
| প্রভাত | সকালবেলা |
| নবীন | নতুন / কচি |
| হিল্লোল | ঢেউ বা দোলা |
| বেণুবন | বাঁশবাগান |
| মর্মর | শুকনো পাতা নড়ার খসখস শব্দ |
| দখিন বাতাস | দক্ষিণ দিক থেকে বয়ে আসা বাতাস (বসন্তের হাওয়া) |
| মউমাছি | মৌমাছি |
| যাচি | প্রার্থনা করে বা চেয়ে |
| দখিনা | দক্ষিণা বা উপহার |
| বীণা | তার দিয়ে তৈরি এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র |
| মাধবীবিতান | মাধবীলতা গাছের বাগান বা কুঞ্জ |
| বিভোল | আত্মহারা / বিভোর / মগ্ন |
কবির পরিচিতি (About the Author)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১):
তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং সুরকার। তাঁর রচিত অগণিত গানগুলি 'গীতবিতান' নামের বইতে কয়েক খণ্ডে বিধৃত বা সংগৃহীত রয়েছে। আর গানগুলির স্বরলিপি বিভিন্ন খণ্ডে রয়েছে 'স্বরবিতান' নামের বইয়ে।
আমাদের পাঠ্য 'ওরে গৃহবাসী' গানটি তাঁর 'গীতবিতান' বইয়ের 'প্রকৃতি' পর্যায়ভুক্ত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গান।
আমাদের পাঠ্য 'ওরে গৃহবাসী' গানটি তাঁর 'গীতবিতান' বইয়ের 'প্রকৃতি' পর্যায়ভুক্ত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গান।
Sponsored Links