গানের পরিচিতি ও সারমর্ম (Overview)
কবি ও সুরকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূলভাব (Main Theme):
'শরৎ তোমার' বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি অপূর্ব সুন্দর গান। এই গানে শরৎকালের স্নিগ্ধ ও অপরূপ প্রকৃতির বন্দনা করা হয়েছে। বর্ষার মেঘ কেটে যাওয়ার পর শরৎকালে প্রকৃতি এক নতুন ও পবিত্র রূপে সেজে ওঠে। ভোরের সোনালি আলো, শিশিরভেজা পরিবেশ, এবং শিউলি ফুলের সুগন্ধে ভরা শরৎ যেন এক মোহময়ী রূপ ধারণ করে। কবির কল্পনায় শরৎকাল যেন এক প্রাণবন্ত সত্তা, যার উপস্থিতিতে সমগ্র প্রকৃতি এবং মানুষের মন আনন্দে নেচে ওঠে।
(বিঃদ্রঃ— পাঠ্যবইতে এই অধ্যায়ের কোনো "হাতে কলমে" বা প্রশ্ন-উত্তর অংশ নেই। তাই ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে নিচে কবিতাটির বিস্তারিত আলোচনা ও শব্দার্থ দেওয়া হলো।)
(বিঃদ্রঃ— পাঠ্যবইতে এই অধ্যায়ের কোনো "হাতে কলমে" বা প্রশ্ন-উত্তর অংশ নেই। তাই ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে নিচে কবিতাটির বিস্তারিত আলোচনা ও শব্দার্থ দেওয়া হলো।)
কবিতার বিস্তারিত বিষয়বস্তু (Detailed Analysis)
প্রথম অংশ: ভোরের আলো ও শিশিরস্নিগ্ধ রূপ
"শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি..."
শরৎকালের সকালে সূর্য (অরুণ) যেন দু-হাত ভরে তার আলোকরশ্মি নিবেদন করে। সেই মোহময়ী সুন্দর আলোর পরশ বনের পথে-প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের শিশিরে ধোওয়া শরতের চুল (কুন্তল) আর শাড়ির আঁচল যেন বনের পথে লুটিয়ে পড়ে। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ ও পবিত্র রূপ দেখে সকালবেলার হৃদয় আনন্দে চঞ্চল হয়ে ওঠে।
শরৎকালের সকালে সূর্য (অরুণ) যেন দু-হাত ভরে তার আলোকরশ্মি নিবেদন করে। সেই মোহময়ী সুন্দর আলোর পরশ বনের পথে-প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের শিশিরে ধোওয়া শরতের চুল (কুন্তল) আর শাড়ির আঁচল যেন বনের পথে লুটিয়ে পড়ে। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ ও পবিত্র রূপ দেখে সকালবেলার হৃদয় আনন্দে চঞ্চল হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় অংশ: প্রকৃতির অপরূপ সাজ ও শিহরণ
"মানিক-গাঁথা ওই-যে তোমার কঙ্কণে..."
সবুজ উঠোনে বা বনের আঙিনায় (শ্যামল অঙ্গনে) শরতের রূপ এমনভাবে চমক দেয় (ঝিলিক লাগায়), যেন মনে হয় শরতের হাতে পরা চুড়িতে (কঙ্কণে) মহামূল্যবান রত্ন বা মানিক গাঁথা রয়েছে। লতাপাতায় ঘেরা ছায়াময় স্থানে (কুঞ্জছায়ায়) যখন গুনগুন শব্দে সংগীত বাজে, তখন প্রকৃতি যেন নাচের ভঙ্গিতে ওড়না ওড়ায়। আর সেই আনন্দের ছোঁয়ায় শিউলি ফুলের বনের বুক আনন্দে দুলে ওঠে (আন্দোলি)।
সবুজ উঠোনে বা বনের আঙিনায় (শ্যামল অঙ্গনে) শরতের রূপ এমনভাবে চমক দেয় (ঝিলিক লাগায়), যেন মনে হয় শরতের হাতে পরা চুড়িতে (কঙ্কণে) মহামূল্যবান রত্ন বা মানিক গাঁথা রয়েছে। লতাপাতায় ঘেরা ছায়াময় স্থানে (কুঞ্জছায়ায়) যখন গুনগুন শব্দে সংগীত বাজে, তখন প্রকৃতি যেন নাচের ভঙ্গিতে ওড়না ওড়ায়। আর সেই আনন্দের ছোঁয়ায় শিউলি ফুলের বনের বুক আনন্দে দুলে ওঠে (আন্দোলি)।
শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| শরৎ | বর্ষা ও হেমন্তের মাঝামাঝি ঋতু (Autumn) |
| অরুণ | সকালের সূর্য |
| অঞ্জলি | করজোড় / দু-হাত ভরে নিবেদন |
| মোহন | মুগ্ধকর / সুন্দর |
| অঙ্গুলি | আঙুল |
| শিশির | হিম / ঘাসের ওপর পড়া জলের কণা |
| কুন্তল | চুল / কেশ |
| অঞ্চল | শাড়ির পাড় বা আঁচল (এলাকা অর্থেও ব্যবহৃত হয়) |
| প্রভাত | সকাল |
| চঞ্চলি | চঞ্চল বা অস্থির হয়ে |
| মানিক | রত্ন / চুনি |
| কঙ্কণ | হাতের বালা বা চুড়ি |
| ঝিলিক | আলোর চমক |
| শ্যামল | সবুজ |
| অঙ্গন | উঠোন বা আঙিনা |
| কুঞ্জছায়া | লতাপাতায় ঘেরা ছায়াময় স্থান |
| গুঞ্জরণ | গুনগুন শব্দ / অস্ফুট আওয়াজ |
| ভঙ্গি | ঢং / ধরন বা রূপ |
| শিউলি বন | শেফালি ফুল বা শিউলি ফুলে ভরা বন |
| আন্দোলি | আন্দোলিত হয়ে বা দুলে উঠে |
কবির পরিচিতি (About the Author)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)
তিনি বাংলাভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং সুরকার। তাঁর রচিত হাজার হাজার গান বাঙালির প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাঁর লেখা গানগুলি গীতবিতান নামের বইতে কয়েক খণ্ডে বিধৃত বা সংগৃহীত রয়েছে। আর গানগুলি কীভাবে গাইতে হবে, তার স্বরলিপি বিভিন্ন খণ্ডে রয়েছে স্বরবিতান নামের বইয়ে। আমাদের পাঠ্য এই শরৎ তোমার গানটি গীতবিতানের প্রকৃতি পর্যায়ভুক্ত একটি গান।
Sponsored Links