Chapter 3: পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া (Atom, Molecule & Chemical Reaction)

মৌলের প্রতীক ও নাম | পরমাণুর গঠন (প্রোটন, ইলেকট্রন, নিউট্রন) | ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন | যৌগমূলক | রাসায়নিক সংকেত | রাসায়নিক বিক্রিয়া | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 27 April 2026 Last Update: 31 May 2026
Chapter 3

Chapter 3: পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 51 MCQ | 15 SAQ | 5 Broad Questions

পরমাণুর গঠন ক্যাটায়ন অ্যানায়ন রাসায়নিক সংকেত যোজনী
⚛️

পরমাণু

প্রোটন + নিউট্রন + ইলেকট্রন

🔢

পারমাণবিক সংখ্যা (Z)

প্রোটনের সংখ্যা

⚖️

ভরসংখ্যা (A)

p⁺ + n⁰ এর মোট সংখ্যা

🔗

যোজনী

ইলেকট্রন ত্যাগ/গ্রহণ সংখ্যা

গুরুত্বপূর্ণ যৌগমূলক

যৌগমূলকনামযোজনীযৌগমূলকনামযোজনী
NH₄⁺অ্যামোনিয়াম1OH⁻হাইড্রোক্সাইড1
NO₃⁻নাইট্রেট1HCO₃⁻বাইকার্বনেট1
SO₄²⁻সালফেট2CO₃²⁻কার্বনেট2
PO₄³⁻ফসফেট3SO₃²⁻সালফাইট2

MCQ (ব্যাখ্যাসহ)

51 টি
1. পরমাণুর কেন্দ্রে থাকা ধনাত্মক আধানযুক্ত কণার নাম কী?
ক) ক) ইলেকট্রন
খ) খ) প্রোটন
গ) গ) নিউট্রন
ঘ) ঘ) পজিট্রন
ব্যাখ্যা: প্রোটন (Proton) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ধনাত্মক (+ve) আধানযুক্ত কণা। প্রোটনের ভর 1.673×10⁻²⁷ kg এবং আধান +1.602×10⁻¹⁹ কুলম্ব। হাইড্রোজেন পরমাণুতে 1টি প্রোটন থাকে।
2. পরমাণুর কোন কণার কোনো আধান নেই?
ক) ক) প্রোটন
খ) খ) ইলেকট্রন
গ) গ) নিউট্রন
ঘ) ঘ) পজিট্রন
ব্যাখ্যা: নিউট্রন (Neutron) নিস্তড়িৎ বা আধানহীন কণা — এর কোনো তড়িৎ আধান নেই। এটি নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সাথে থাকে। নিউট্রনের ভর প্রোটনের প্রায় সমান (1.675×10⁻²⁷ kg)। বিজ্ঞানী জেমস চ্যাডউইক 1932 সালে নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
3. পরমাণুর কেন্দ্রকে কী বলে?
ক) ক) কক্ষপথ
খ) খ) নিউক্লিয়াস
গ) গ) শক্তিস্তর
ঘ) ঘ) অরবিটাল
ব্যাখ্যা: পরমাণুর কেন্দ্রস্থিত অতি ক্ষুদ্র, ঘন ও ধনাত্মক আধানযুক্ত অংশকে নিউক্লিয়াস (Nucleus) বলে। প্রোটন ও নিউট্রন নিয়ে নিউক্লিয়াস গঠিত। ইলেকট্রনগুলি নিউক্লিয়াসের চারপাশে নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে বা কক্ষপথে ঘুরছে।
4. ইলেকট্রনের আধান কীরূপ?
ক) ক) ধনাত্মক
খ) খ) ঋণাত্মক
গ) গ) নিরপেক্ষ
ঘ) ঘ) কখনো ধনাত্মক কখনো ঋণাত্মক
ব্যাখ্যা: ইলেকট্রন (Electron) ঋণাত্মক (-ve) আধানযুক্ত কণা। এর আধান -1.602×10⁻¹⁹ কুলম্ব। ইলেকট্রনের ভর প্রোটনের তুলনায় প্রায় 1/1840 অংশ (9.109×10⁻³¹ kg) — অত্যন্ত হালকা।
5. পরমাণুর কেন্দ্রে প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে কী বলে?
ক) ক) পারমাণবিক সংখ্যা
খ) খ) ভরসংখ্যা
গ) গ) যোজনী
ঘ) ঘ) আইসোটোপ সংখ্যা
ব্যাখ্যা: ভরসংখ্যা (Mass Number) = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা। যেমন কার্বনের (C-12) ভরসংখ্যা 12 — অর্থাৎ 6টি প্রোটন + 6টি নিউট্রন = 12। ভরসংখ্যা A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
6. সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
ক) ক) 8
খ) খ) 11
গ) গ) 17
ঘ) ঘ) 20
ব্যাখ্যা: সোডিয়ামের (Na) পারমাণবিক সংখ্যা 11 — অর্থাৎ এর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে এবং নিরপেক্ষ অবস্থায় 11টি ইলেকট্রন আছে। ইলেকট্রন বিন্যাস: 2, 8, 1। এটি ক্ষার ধাতু, যোজনী 1।
7. ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
ক) ক) 8
খ) খ) 17
গ) গ) 18
ঘ) ঘ) 35
ব্যাখ্যা: ক্লোরিনের (Cl) পারমাণবিক সংখ্যা 17 — 17টি প্রোটন ও 17টি ইলেকট্রন। ইলেকট্রন বিন্যাস: 2, 8, 7। শেষ কক্ষে 7টি ইলেকট্রন থাকায় এটি 1টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl⁻ আয়নে পরিণত হয়।
8. পরমাণু থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন বেরিয়ে গেলে কী উৎপন্ন হয়?
ক) ক) অ্যানায়ন
খ) খ) ক্যাটায়ন
গ) গ) নিউট্রন
ঘ) ঘ) আইসোটোপ
ব্যাখ্যা: পরমাণু থেকে ইলেকট্রন বেরিয়ে গেলে প্রোটন সংখ্যা > ইলেকট্রন সংখ্যা হয় → ধনাত্মক আধানযুক্ত কণা সৃষ্টি হয় — একে ক্যাটায়ন (Cation) বলে। যেমন: Na → Na⁺ + e⁻ (সোডিয়াম ক্যাটায়ন)।
9. পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করলে কী উৎপন্ন হয়?
ক) ক) ক্যাটায়ন
খ) খ) অ্যানায়ন
গ) গ) নিউট্রন
ঘ) ঘ) প্রোটন
ব্যাখ্যা: পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করলে ইলেকট্রন সংখ্যা > প্রোটন সংখ্যা হয় → ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা সৃষ্টি হয় — একে অ্যানায়ন (Anion) বলে। যেমন: Cl + e⁻ → Cl⁻ (ক্লোরাইড আয়ন)।
10. Na⁺ আয়নে ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
ক) ক) 10
খ) খ) 11
গ) গ) 12
ঘ) ঘ) 23
ব্যাখ্যা: সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 11 (11টি ইলেকট্রন)। Na⁺ আয়ন 1টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে — তাই ইলেকট্রন সংখ্যা = 11 - 1 = 10। Na⁺-এর ইলেকট্রন বিন্যাস (2,8) নিয়নের (Ne) মতো হয় — অষ্টক পূর্ণ।
11. Cl⁻ আয়নে ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
ক) ক) 16
খ) খ) 17
গ) গ) 18
ঘ) ঘ) 35
ব্যাখ্যা: ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা 17। Cl⁻ আয়ন 1টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে — ইলেকট্রন সংখ্যা = 17 + 1 = 18। Cl⁻-এর ইলেকট্রন বিন্যাস (2,8,8) আর্গনের (Ar) মতো — অষ্টক পূর্ণ।
12. সোডিয়াম ক্লোরাইডের (NaCl) সংকেতে Na⁺ ও Cl⁻-এর অনুপাত কত?
ক) ক) 1:1
খ) খ) 1:2
গ) গ) 2:1
ঘ) ঘ) 2:3
ব্যাখ্যা: NaCl-এ একটি Na⁺ (1টি ধনাত্মক চার্জ) ও একটি Cl⁻ (1টি ঋণাত্মক চার্জ) — চার্জের সমতা: +1 - 1 = 0। তাই Na⁺ : Cl⁻ = 1 : 1 — সংকেত NaCl।
13. ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইডের (MgCl₂) সংকেতে Mg²⁺ ও Cl⁻-এর অনুপাত কত?
ক) ক) 1:1
খ) খ) 1:2
গ) গ) 2:1
ঘ) ঘ) 2:3
ব্যাখ্যা: Mg²⁺-এ 2টি ধনাত্মক চার্জ — একে প্রশমিত করতে 2টি Cl⁻ (প্রত্যেকে 1টি ঋণাত্মক) প্রয়োজন। +2 + 2(-1) = 0। তাই Mg²⁺ : Cl⁻ = 1 : 2 — সংকেত MgCl₂।
14. অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের সংকেত কী?
ক) ক) AlO
খ) খ) Al₂O
গ) গ) AlO₃
ঘ) ঘ) Al₂O₃
ব্যাখ্যা: Al³⁺ (3টি + চার্জ) ও O²⁻ (2টি - চার্জ) নিয়ে যৌগ গঠনে চার্জ সমতা: 2টি Al³⁺ (= +6) ও 3টি O²⁻ (= -6)। +6 - 6 = 0। তাই সংকেত = Al₂O₃।
15. পরমাণুর শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাসের সূত্র কী?
ক) ক) n²
খ) খ) 2n²
গ) গ) n³
ঘ) ঘ) 2n
ব্যাখ্যা: কোনো শক্তিস্তরে (n-তম কক্ষ) সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা = 2n²। প্রথম কক্ষ (K, n=1): 2(1)² = 2; দ্বিতীয় (L, n=2): 8; তৃতীয় (M, n=3): 18; চতুর্থ (N, n=4): 32।
16. অষ্টক (Octet) কী?
ক) ক) 2টি ইলেকট্রনের স্থিতিশীলতা
খ) খ) শেষ কক্ষে 8টি ইলেকট্রন থাকা
গ) গ) 18টি ইলেকট্রন
ঘ) ঘ) শূন্য ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা: পরমাণুর শেষ কক্ষে 8টি ইলেকট্রন থাকলে (হিলিয়ামের ক্ষেত্রে 2টি) তখন পরমাণু স্থিতিশীল হয় — একে অষ্টক নিয়ম (Octet Rule) বলে। নোবেল গ্যাসের (Ne, Ar) অষ্টক পূর্ণ।
17. সালফার (S) এর যোজনী কত?
ক) ক) 1
খ) খ) 2
গ) গ) 3
ঘ) ঘ) 6
ব্যাখ্যা: সালফারের পারমাণবিক সংখ্যা 16 — ইলেকট্রন বিন্যাস (2,8,6)। শেষ কক্ষে 6টি ইলেকট্রন — অষ্টক পূর্ণ করতে 2টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে S²⁻ গঠন করে। তাই যোজনী = 2।
18. অ্যালুমিনিয়াম (Al) এর যোজনী কত?
ক) ক) 1
খ) খ) 2
গ) গ) 3
ঘ) ঘ) 4
ব্যাখ্যা: অ্যালুমিনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 13 — ইলেকট্রন বিন্যাস (2,8,3)। শেষ কক্ষের 3টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Al³⁺ গঠন করে অষ্টক পূর্ণ করে। তাই যোজনী = 3।
19. জিঙ্কের প্রতীক কী?
ক) ক) Zi
খ) খ) Zn
গ) গ) Zc
ঘ) ঘ) Zk
ব্যাখ্যা: জিঙ্কের বৈজ্ঞানিক প্রতীক Zn (জার্মান Zink থেকে)। জিঙ্কের পারমাণবিক সংখ্যা 30, যোজনী 2 (Zn²⁺)। এটি ZnSO₄, ZnO, ZnCl₂ ইত্যাদি যৌগ গঠন করে।
20. পটাশিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস কী?
ক) ক) 2,8,1
খ) খ) 2,8,7
গ) গ) 2,8,8,1
ঘ) ঘ) 2,8,2
ব্যাখ্যা: পটাশিয়ামের (K) পারমাণবিক সংখ্যা 19 — ইলেকট্রন বিন্যাস: K(2), L(8), M(8), N(1) — অর্থাৎ 2,8,8,1। শেষ কক্ষের 1টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে K⁺ গঠন করে।
21. সোডিয়াম সালফেটের সংকেত কী?
ক) ক) NaSO₄
খ) খ) Na₂SO₄
গ) গ) Na(SO₄)₂
ঘ) ঘ) Na₃SO₄
ব্যাখ্যা: Na⁺ (1টি +) ও SO₄²⁻ (2টি -) — চার্জ সমতা: 2 × (+1) + (-2) = 0। তাই 2টি Na⁺ ও 1টি SO₄²⁻ → Na₂SO₄।
22. ক্যালশিয়াম ক্লোরাইডের সংকেত কী?
ক) ক) CaCl
খ) খ) CaCl₂
গ) গ) Ca₂Cl
ঘ) ঘ) CaCl₃
ব্যাখ্যা: Ca²⁺ (2টি +) ও Cl⁻ (1টি -) — 2টি ঋণাত্মক চার্জ প্রয়োজন, তাই 2টি Cl⁻। সংকেত: CaCl₂।
23. কোনটি নোবেল গ্যাস?
ক) ক) অক্সিজেন
খ) খ) নাইট্রোজেন
গ) গ) আর্গন
ঘ) ঘ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা: আর্গন (Ar) একটি নোবেল গ্যাস (শ্রেণি 18) — এর শেষ কক্ষে 8টি ইলেকট্রন (অষ্টক পূর্ণ) থাকায় এটি রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়। হিলিয়াম, নিয়ন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডনও নোবেল গ্যাস।
24. হাইড্রোজেন পরমাণুতে প্রোটন, ইলেকট্রন ও নিউট্রনের সংখ্যা কত?
ক) ক) 1টি প্রোটন, 0টি ইলেকট্রন, 1টি নিউট্রন
খ) খ) 1টি প্রোটন, 1টি ইলেকট্রন, 0টি নিউট্রন
গ) গ) 1টি প্রোটন, 1টি ইলেকট্রন, 1টি নিউট্রন
ঘ) ঘ) 2টি প্রোটন, 2টি ইলেকট্রন, 2টি নিউট্রন
ব্যাখ্যা: সাধারণ হাইড্রোজেন (¹H বা প্রোটিয়াম) পরমাণুতে 1টি প্রোটন, 1টি ইলেকট্রন এবং 0টি নিউট্রন থাকে। এটি একমাত্র পরমাণু যার নিউক্লিয়াসে নিউট্রন নেই। ভরসংখ্যা = 1।
25. কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6 — এর ইলেকট্রন বিন্যাস কী?
ক) ক) 2,4
খ) খ) 2,8
গ) গ) 2,6
ঘ) ঘ) 4,2
ব্যাখ্যা: কার্বনের (C) পারমাণবিক সংখ্যা 6 → ইলেকট্রন 6টি। ইলেকট্রন বিন্যাস: K-কক্ষে 2, L-কক্ষে 4 → 2,4। শেষ কক্ষে 4টি ইলেকট্রন — যোজনী 4।
26. ম্যাগনেসিয়ামের প্রতীক কী?
ক) ক) Ma
খ) খ) Mg
গ) গ) Mn
ঘ) ঘ) M
ব্যাখ্যা: ম্যাগনেসিয়ামের প্রতীক Mg। Mn হল ম্যাঙ্গানিজের প্রতীক। ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 12, যোজনী 2 (Mg²⁺)। এটি MgO, MgSO₄ ইত্যাদি যৌগ গঠন করে।
27. Fe₂O₃ (ফেরিক অক্সাইড) যৌগে Fe-এর যোজনী কত?
ক) ক) 1
খ) খ) 2
গ) গ) 3
ঘ) ঘ) 4
ব্যাখ্যা: 2টি Fe-x আয়নের মোট চার্জ + 3(-2) = 0 → 2x - 6 = 0 → x = +3। তাই Fe-এর যোজনী = 3 (Fe³⁺)। এটি ফেরিক আয়ন। FeCl₃, Fe₂(SO₄)₃ ইত্যাদিতে Fe³⁺ থাকে।
28. Ca₃(PO₄)₂ যৌগে PO₄ যৌগমূলকের যোজনী কত?
ক) ক) 1
খ) খ) 2
গ) গ) 3
ঘ) ঘ) 4
ব্যাখ্যা: 3টি Ca²⁺ (মোট +6 চার্জ) ও 2টি PO₄ যৌগমূলক → চার্জ সাম্য: 3(+2) + 2(x) = 0 → 6 + 2x = 0 → x = -3। তাই PO₄ যৌগমূলকের যোজনী = 3 (PO₄³⁻)।
29. NH₄⁺ যৌগমূলকের নাম কী?
ক) ক) নাইট্রেট
খ) খ) অ্যামোনিয়াম
গ) গ) নাইট্রাইট
ঘ) ঘ) অ্যামাইড
ব্যাখ্যা: NH₄⁺ হল অ্যামোনিয়াম ক্যাটায়ন — যোজনী +1। NH₄Cl (অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড), (NH₄)₂SO₄ (অ্যামোনিয়াম সালফেট) ইত্যাদি যৌগ গঠন করে।
30. কোনটি দ্বিমৌলিক অণু?
ক) ক) He
খ) খ) O₂
গ) গ) H₂O
ঘ) ঘ) CO₂
ব্যাখ্যা: অক্সিজেন (O₂) দ্বিমৌলিক (Diatomic) অণু — দুটি O পরমাণু সমযোজী বন্ধনে যুক্ত। H₂, N₂, Cl₂, F₂, Br₂, I₂ — এই 7টি গ্যাস দ্বিমৌলিক অণু হিসেবে থাকে। He একমৌলিক, H₂O ত্রিমৌলিক।
31. SO₄²⁻ যৌগমূলকের নাম কী?
ক) ক) সালফাইড
খ) খ) সালফেট
গ) গ) সালফাইট
ঘ) ঘ) সালফার ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা: SO₄²⁻ হল সালফেট আয়ন (Sulfate) — যোজনী 2। Na₂SO₄ (সোডিয়াম সালফেট), CuSO₄ (কপার সালফেট) ইত্যাদিতে থাকে। SO₃²⁻ হল সালফাইট (Sulfite) — যোজনী 2।
32. NO₃⁻ যৌগমূলকের নাম কী ও যোজনী কত?
ক) ক) নাইট্রাইট, 1
খ) খ) নাইট্রেট, 1
গ) গ) নাইট্রেট, 2
ঘ) ঘ) নাইট্রাইট, 2
ব্যাখ্যা: NO₃⁻ হল নাইট্রেট (Nitrate) আয়ন, যোজনী 1। KNO₃ (পটাশিয়াম নাইট্রেট), AgNO₃ (সিলভার নাইট্রেট)। NO₂⁻ হল নাইট্রাইট, যোজনী 1।
33. OH⁻ আয়নের নাম কী?
ক) ক) অক্সাইড
খ) খ) হাইড্রোক্সাইড
গ) গ) পারঅক্সাইড
ঘ) ঘ) সুপারঅক্সাইড
ব্যাখ্যা: OH⁻ হল হাইড্রোক্সাইড আয়ন, যোজনী 1। NaOH (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড), Ca(OH)₂ (ক্যালশিয়াম হাইড্রোক্সাইড) ইত্যাদিতে থাকে। O²⁻ হল অক্সাইড (যোজনী 2)।
34. পারদের (Mercury) ল্যাটিন নাম কী?
ক) ক) Plumbum
খ) খ) Hydrargyrum
গ) গ) Stannum
ঘ) ঘ) Aurum
ব্যাখ্যা: পারদের ল্যাটিন নাম Hydrargyrum (হাইড্রারজিরাম) — অর্থ 'তরল রুপা'। এর থেকে প্রতীক Hg এসেছে। Plumbum → Pb (সীসা), Stannum → Sn (টিন), Aurum → Au (সোনা)।
35. U (ইউরেনিয়াম) মৌলটির নামকরণ করা হয়েছে কীসের নামে?
ক) ক) বিজ্ঞানী
খ) খ) দেশ
গ) গ) গ্রহ (ইউরেনাস)
ঘ) ঘ) শহর
ব্যাখ্যা: ইউরেনিয়াম (Uranium) মৌলের নামকরণ করা হয়েছে ইউরেনাস (Uranus) গ্রহের নামে। Neptunium → নেপচুন, Plutonium → প্লুটো (বামন গ্রহ) এর নামে। পারমাণবিক সংখ্যা 92।
36. কিউরিয়াম (Cm) মৌলটি কার নামে নামকরণ করা হয়েছে?
ক) ক) আইনস্টাইন
খ) খ) মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি
গ) গ) নিউটন
ঘ) ঘ) ফার্মি
ব্যাখ্যা: কিউরিয়াম (Curium, Cm) মৌলের নামকরণ করা হয়েছে বিজ্ঞানী দম্পতি মাদাম মেরি কুরি ও পিয়ের কুরির নামে। আইনস্টাইনিয়াম (Es) → আইনস্টাইন, ফার্মিয়াম (Fm) → এনরিকো ফার্মি।
37. সীসার প্রতীক Pb — এটি কোন ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে?
ক) ক) Plumbum
খ) খ) Ferrum
গ) গ) Argentum
ঘ) ঘ) Cuprum
ব্যাখ্যা: সীসার প্রতীক Pb এসেছে ল্যাটিন Plumbum থেকে। Ferrum → Fe (লোহা), Argentum → Ag (রুপা), Cuprum → Cu (তামা), Aurum → Au (সোনা)।
38. টিনের (Tin) প্রতীক Sn কোন শব্দ থেকে এসেছে?
ক) ক) Stannum
খ) খ) Plumbum
গ) গ) Wolfram
ঘ) ঘ) Natrium
ব্যাখ্যা: টিনের প্রতীক Sn এসেছে ল্যাটিন Stannum থেকে। Wolfram → W (টাংস্টেন), Natrium → Na (সোডিয়াম), Kalium → K (পটাশিয়াম)। আধুনিক প্রতীকগুলির অনেকগুলিই ল্যাটিন নাম থেকে এসেছে।
39. পটাশিয়ামের প্রতীক K — এটি কোন ল্যাটিন নাম থেকে?
ক) ক) Kalium
খ) খ) Natrium
গ) গ) Calcium
ঘ) ঘ) Magnesium
ব্যাখ্যা: পটাশিয়ামের প্রতীক K — ল্যাটিন Kalium থেকে (আরবি Al-Qalyah থেকে, যার অর্থ ছাই)। সোডিয়ামের প্রতীক Na — Natrium থেকে। আধুনিক ইংরেজি Potassium ও Sodium।
40. পোলোনিয়াম (Po) মৌলটি কোন দেশের নামে নামকরণ করা হয়েছে?
ক) ক) ফ্রান্স
খ) খ) জার্মানি
গ) গ) পোল্যান্ড
ঘ) ঘ) আমেরিকা
ব্যাখ্যা: পোলোনিয়াম (Polonium, Po) মৌলের নামকরণ করা হয়েছে পোল্যান্ড (Poland) দেশের নামে — মাদাম কুরির জন্মভূমি। ফ্রান্সিয়াম (Fr), জার্মেনিয়াম (Ge), অ্যামেরিসিয়াম (Am) নিজ নিজ দেশ/মহাদেশের নামে।
41. একটি ইলেকট্রনের ভর প্রোটনের তুলনায় কত ভাগ?
ক) ক) সমান
খ) খ) অর্ধেক
গ) গ) প্রায় 1/1840 ভাগ
ঘ) ঘ) দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা: ইলেকট্রনের ভর 9.109×10⁻³¹ kg এবং প্রোটনের ভর 1.673×10⁻²⁷ kg। অনুপাত = 9.109/1673 ≈ 1/1837 ≈ 1/1840। অর্থাৎ ইলেকট্রন প্রোটনের তুলনায় প্রায় 1840 গুণ হালকা।
42. Na₂SO₄ যৌগে সোডিয়াম, সালফার ও অক্সিজেনের পরমাণু সংখ্যা কত?
ক) ক) Na=1, S=1, O=4
খ) খ) Na=2, S=1, O=4
গ) গ) Na=2, S=2, O=4
ঘ) ঘ) Na=1, S=2, O=4
ব্যাখ্যা: Na₂SO₄: Na (সোডিয়াম) = 2টি পরমাণু (সংকেতে Na-এর নীচে 2), S (সালফার) = 1টি (সাবস্ক্রিপ্ট নেই মানে 1), O (অক্সিজেন) = 4টি পরমাণু। মোট পরমাণু = 2+1+4 = 7।
43. কোন মৌলের প্রতীক 'W'?
ক) ক) টিন
খ) খ) টাংস্টেন
গ) গ) সীসা
ঘ) ঘ) দস্তা
ব্যাখ্যা: টাংস্টেনের (Tungsten) প্রতীক W — জার্মান Wolfram (ভলফ্রাম) থেকে। টাংস্টেনের পারমাণবিক সংখ্যা 74, গলনাঙ্ক 3422°C — সর্বোচ্চ গলনাঙ্কের ধাতু। বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত।
44. কোনটি যৌগমূলক নয়?
ক) ক) SO₄²⁻
খ) খ) NO₃⁻
গ) গ) Na⁺
ঘ) ঘ) NH₄⁺
ব্যাখ্যা: Na⁺ একটি একক পরমাণু থেকে সৃষ্ট সরল আয়ন — এটি যৌগমূলক নয়। যৌগমূলক (Compound Radical) হল একাধিক পরমাণুর সমষ্টি যা একটি একক আয়নের মতো কাজ করে — যেমন SO₄²⁻, NO₃⁻, NH₄⁺, CO₃²⁻।
45. ইলেকট্রনের আধান ও প্রোটনের আধানের মধ্যে সম্পর্ক কী?
ক) ক) ইলেকট্রন > প্রোটন
খ) খ) সমান কিন্তু বিপরীত
গ) গ) প্রোটন > ইলেকট্রন
ঘ) ঘ) সম্পর্কহীন
ব্যাখ্যা: প্রোটনের আধান (+1.602×10⁻¹⁹ C) ও ইলেকট্রনের আধান (-1.602×10⁻¹⁹ C) পরিমাণে সমান কিন্তু বিপরীত চিহ্নযুক্ত। নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান — ফলে মোট আধান শূন্য।
46. নিউক্লিয়াসে কোন কোন কণা থাকে?
ক) ক) প্রোটন ও ইলেকট্রন
খ) খ) প্রোটন ও নিউট্রন
গ) গ) ইলেকট্রন ও নিউট্রন
ঘ) ঘ) শুধু প্রোটন
ব্যাখ্যা: নিউক্লিয়াসে প্রোটন (p⁺) ও নিউট্রন (n⁰) অবস্থান করে — একত্রে এদের নিউক্লিয়ন (Nucleon) বলে। ইলেকট্রনগুলি নিউক্লিয়াসের বাইরে নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে ঘোরে। হাইড্রোজেন-1 এর নিউক্লিয়াসে কেবলমাত্র 1টি প্রোটন থাকে।
47. CaCO₃ (ক্যালশিয়াম কার্বনেট) এ কয়টি পরমাণু আছে?
ক) ক) 4
খ) খ) 5
গ) গ) 6
ঘ) ঘ) 7
ব্যাখ্যা: CaCO₃: Ca = 1টি, C = 1টি, O = 3টি। মোট পরমাণু = 1 + 1 + 3 = 5টি। চুনাপাথর, খড়িমাটি, মার্বেল সবই CaCO₃ দিয়ে গঠিত।
48. প্রথম কক্ষে (K-কক্ষ) সর্বোচ্চ কতটি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
ক) ক) 2
খ) খ) 8
গ) গ) 18
ঘ) ঘ) 32
ব্যাখ্যা: 2n² সূত্রে n=1 (K-কক্ষ): 2(1)² = 2টি ইলেকট্রন। হিলিয়ামের (He) প্রথম কক্ষ পূর্ণ — 2টি ইলেকট্রন। হাইড্রোজেনের 1টি ইলেকট্রন আছে প্রথম কক্ষে।
49. NH₄Cl যৌগে অ্যামোনিয়াম (NH₄⁺) এর যোজনী কত?
ক) ক) 1
খ) খ) 2
গ) গ) 3
ঘ) ঘ) 4
ব্যাখ্যা: NH₄⁺ (অ্যামোনিয়াম) আয়নের আধান +1 — তাই এর যোজনী = 1। NH₄Cl গঠনে NH₄⁺ ও Cl⁻ 1:1 অনুপাতে থাকে। (NH₄)₂SO₄, NH₄NO₃ ইত্যাদি।
50. A ও B চিহ্নিত পরমাণু যথাক্রমে কী কী?
ক) ক) প্রোটন ও নিউট্রন
খ) খ) ইলেকট্রন ও প্রোটন
গ) গ) ভরসংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যা
ঘ) ঘ) পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা
ব্যাখ্যা: পরমাণুর প্রতীকে বামদিকে উপরে ভরসংখ্যা (A) ও নীচে পারমাণবিক সংখ্যা (Z) লেখা হয়। যেমন: ²³₁₁Na — অর্থাৎ Na-এর পারমাণবিক সংখ্যা 11, ভরসংখ্যা 23।
51. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর কী পরিবর্তন ঘটে?
ক) ক) নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন
খ) খ) কেবল ইলেকট্রনের পুনর্বিন্যাস
গ) গ) প্রোটন সংখ্যার পরিবর্তন
ঘ) ঘ) নিউট্রন সংখ্যার পরিবর্তন
ব্যাখ্যা: রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াস অপরিবর্তিত থাকে — শুধুমাত্র ইলেকট্রনের পুনর্বিন্যাস (বণ্টন) ঘটে। নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটলে তাকে নিউক্লীয় বিক্রিয়া বলে (যেমন তেজস্ক্রিয়তা, ফিশন-ফিউশন)।

SAQ (পূর্ণ উত্তর)

15 টি
1. পরমাণু (Atom) কাকে বলে? একটি পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যা করো।
পরমাণু (Atom): কোনো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের সমস্ত ধর্ম বর্তমান থাকে এবং যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তাকে পরমাণু বলে। গঠন: প্রতিটি পরমাণুর কেন্দ্রে প্রোটন (p⁺) ও নিউট্রন (n⁰) নিয়ে গঠিত নিউক্লিয়াস থাকে — যা ধনাত্মক আধানযুক্ত ও অত্যন্ত ভারী। নিউক্লিয়াসের চারপাশে নির্দিষ্ট বৃত্তাকার কক্ষপথে (K, L, M, N...) ইলেকট্রন (e⁻) ঘুরছে — যা ঋণাত্মক আধানযুক্ত ও অত্যন্ত হালকা। নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা = ইলেকট্রন সংখ্যা। যেমন সোডিয়াম (¹¹Na): 11p⁺ + 12n⁰ = নিউক্লিয়াস, 11e⁻ কক্ষপথে।
2. পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যার সংজ্ঞা দাও। একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝাও।
পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number, Z): কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা বলে। এটি মৌলের পরিচয় নির্ধারণ করে। ভরসংখ্যা (Mass Number, A): নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ভরসংখ্যা বলে। A = Z + N (N = নিউট্রন সংখ্যা)। উদাহরণ: সোডিয়াম (²³₁₁Na) — Z = 11 (11টি প্রোটন), A = 23। নিউট্রন সংখ্যা = A - Z = 23 - 11 = 12।
3. ক্যাটায়ন (Cation) ও অ্যানায়নের (Anion) সংজ্ঞা দাও। প্রত্যেকটির একটি করে উদাহরণ দাও।
ক্যাটায়ন (Cation): পরমাণু থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন বেরিয়ে গেলে ধনাত্মক আধানযুক্ত কণা সৃষ্টি হয় — একে ক্যাটায়ন বলে। ধাতু সাধারণত ইলেকট্রন ত্যাগ করে ক্যাটায়ন গঠন করে। উদাহরণ: Na → Na⁺ + e⁻ (সোডিয়াম ক্যাটায়ন), Mg → Mg²⁺ + 2e⁻। অ্যানায়ন (Anion): পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করলে ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা উৎপন্ন হয় — একে অ্যানায়ন বলে। অধাতু সাধারণত ইলেকট্রন গ্রহণ করে অ্যানায়ন গঠন করে। উদাহরণ: Cl + e⁻ → Cl⁻ (ক্লোরাইড), O + 2e⁻ → O²⁻ (অক্সাইড)।
4. যোজনী (Valency) কাকে বলে? সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্লোরিনের যোজনী কত?
যোজনী (Valency): কোনো মৌলের একটি পরমাণু অন্য মৌলের কতগুলি পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে বা প্রতিস্থাপিত করতে পারে, সেই সংখ্যাকে ঐ মৌলের যোজনী বলে। সহজভাবে: শেষ কক্ষে ইলেকট্রনের অষ্টক পূরণ করতে যে কয়টি ইলেকট্রন ত্যাগ বা গ্রহণ করে, তাই যোজনী। সোডিয়াম (Na): 2,8,1 → 1টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে → যোজনী 1। ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 2,8,2 → 2টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে → যোজনী 2। ক্লোরিন (Cl): 2,8,7 → 1টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে → যোজনী 1।
5. যৌগমূলক (Compound Radical) কাকে বলে? চারটি উদাহরণ দাও।
যৌগমূলক (Compound Radical): একাধিক পরমাণুর সমষ্টি যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি একক আয়নের মতো আচরণ করে এবং আলাদা অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে, তাকে যৌগমূলক বলে। চারটি উদাহরণ: (১) SO₄²⁻ (সালফেট) — যোজনী 2, (২) NO₃⁻ (নাইট্রেট) — যোজনী 1, (৩) NH₄⁺ (অ্যামোনিয়াম) — যোজনী 1, (৪) CO₃²⁻ (কার্বনেট) — যোজনী 2। এছাড়া OH⁻ (হাইড্রোক্সাইড, 1), PO₄³⁻ (ফসফেট, 3), HCO₃⁻ (বাইকার্বনেট, 1) ইত্যাদিও যৌগমূলক।
6. সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) ও ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইডের (MgCl₂) সংকেত কীভাবে গঠিত হয় তা ব্যাখ্যা করো।
রাসায়নিক সংকেত গঠনের নিয়ম: ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন এমন অনুপাতে নিতে হবে যাতে মোট চার্জ শূন্য হয়। NaCl: Na⁺ (1টি +) ও Cl⁻ (1টি -) — চার্জ সমতা: +1 + (-1) = 0। তাই 1:1 অনুপাত → NaCl। MgCl₂: Mg²⁺-এ 2টি ধনাত্মক চার্জ। Cl⁻-এ 1টি ঋণাত্মক চার্জ। 2টি ঋণাত্মক চার্জ পেতে 2টি Cl⁻ দরকার। চার্জ: +2 + 2×(-1) = 0। তাই Mg²⁺ : Cl⁻ = 1:2 → সংকেত: MgCl₂।
7. রাসায়নিক সংকেত কাকে বলে? তিনটি উদাহরণ দিয়ে বোঝাও।
রাসায়নিক সংকেত (Chemical Formula): কোনো রাসায়নিক যৌগের অণুতে উপস্থিত বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সংখ্যা ও অনুপাতকে প্রতীকের সাহায্যে সংক্ষেপে প্রকাশ করার পদ্ধতিকে রাসায়নিক সংকেত বলে। তিনটি উদাহরণ: (১) H₂O (জল) — 2টি হাইড্রোজেন ও 1টি অক্সিজেন পরমাণু নিয়ে গঠিত, (২) CO₂ (কার্বন ডাইঅক্সাইড) — 1টি কার্বন ও 2টি অক্সিজেন, (৩) CaCO₃ (ক্যালশিয়াম কার্বনেট) — 1টি Ca, 1টি C ও 3টি O পরমাণু।
8. Na₂CO₃, Ca(OH)₂ ও (NH₄)₂SO₄ - এই যৌগগুলির সম্পূর্ণ নাম লেখো ও প্রতিটিতে উপস্থিত মোট পরমাণু সংখ্যা নির্ণয় করো।
Na₂CO₃ → সোডিয়াম কার্বনেট। Na=2, C=1, O=3 → মোট 6টি পরমাণু। Ca(OH)₂ → ক্যালশিয়াম হাইড্রোক্সাইড। Ca=1, O=2 (OH-এর বাইরে 2 থাকায় O=1×2=2), H=2 → মোট 1+2+2 = 5টি পরমাণু। (NH₄)₂SO₄ → অ্যামোনিয়াম সালফেট। N=2 (NH₄-এর বাইরে 2), H=8 (4×2), S=1, O=4 → মোট 2+8+1+4 = 15টি পরমাণু।
9. Na⁺, Cl⁻ ও Mg²⁺ আয়নের ইলেকট্রন সংখ্যা নির্ণয় করো। এদের মধ্যে কার অষ্টক পূর্ণ?
ইলেকট্রন সংখ্যা নির্ণয়: Na (Z=11): Na⁺ = 11 - 1 = 10টি ইলেকট্রন, বিন্যাস (2,8) → অষ্টক পূর্ণ (নিয়নের মতো)। Cl (Z=17): Cl⁻ = 17 + 1 = 18টি ইলেকট্রন, বিন্যাস (2,8,8) → অষ্টক পূর্ণ (আর্গনের মতো)। Mg (Z=12): Mg²⁺ = 12 - 2 = 10টি ইলেকট্রন, বিন্যাস (2,8) → অষ্টক পূর্ণ। তিনটি আয়নেই শেষ কক্ষে 8টি করে ইলেকট্রন — সকলের অষ্টক পূর্ণ।
10. অ্যালুমিনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 13 — এর ইলেকট্রন বিন্যাস ও যোজনী নির্ণয় করো। Al³⁺ ক্যাটায়ন কীভাবে গঠিত হয়?
অ্যালুমিনিয়াম (Al) — Z=13, ইলেকট্রন 13টি। শক্তিস্তরে বিন্যাস: K(2), L(8), M(3) → 2,8,3। শেষ কক্ষে 3টি ইলেকট্রন — অষ্টক পূর্ণ করতে এগুলি ত্যাগ করে। Al → Al³⁺ + 3e⁻। Al³⁺-এ ইলেকট্রন সংখ্যা = 13 - 3 = 10 (2,8) — নিয়নের মতো অষ্টক পূর্ণ। যোজনী = 3 (কতগুলি ইলেকট্রন ত্যাগ করল)।
11. কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলের প্রতীক, ল্যাটিন নাম ও পারমাণবিক সংখ্যা লেখো (৫টি)।
গুরুত্বপূর্ণ মৌলের তথ্য: (১) সোডিয়াম — Na (Natrium থেকে), Z=11, (২) পটাশিয়াম — K (Kalium), Z=19, (৩) লোহা — Fe (Ferrum), Z=26, (৪) তামা — Cu (Cuprum), Z=29, (৫) সোনা — Au (Aurum), Z=79, (৬) রুপা — Ag (Argentum), Z=47, (৭) সীসা — Pb (Plumbum), Z=82, (৮) টিন — Sn (Stannum), Z=50, (৯) পারদ — Hg (Hydrargyrum), Z=80, (১০) টাংস্টেন — W (Wolfram), Z=74।
12. পরমাণুর শক্তিস্তর কাকে বলে? K, L, M কক্ষের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণক্ষমতা কত?
শক্তিস্তর (Energy Level/Shell): পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চারপাশে নির্দিষ্ট শক্তিসম্পন্ন যে বৃত্তাকার কক্ষপথে ইলেকট্রনগুলি আবর্তিত হয়, তাকে শক্তিস্তর বা কক্ষ (Shell) বলে। নিউক্লিয়াস থেকে দূরত্ব বাড়ার সাথে কক্ষের শক্তি বাড়ে। সূত্র: 2n² (n = কক্ষ সংখ্যা)। K-কক্ষ (n=1): 2(1)² = 2টি ইলেকট্রন। L-কক্ষ (n=2): 2(2)² = 8টি। M-কক্ষ (n=3): 2(3)² = 18টি। N-কক্ষ (n=4): 2(4)² = 32টি। তবে শেষ কক্ষে 8টির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না (অষ্টক নিয়ম)।
13. অষ্টক নিয়ম (Octet Rule) কী? পরমাণু কীভাবে অষ্টক পূর্ণ করে?
অষ্টক নিয়ম (Octet Rule): পরমাণুর শেষ কক্ষে 8টি ইলেকট্রন থাকলে (হিলিয়ামের ক্ষেত্রে 2টি) তা রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল হয় — একে অষ্টক নিয়ম বলে। নোবেল গ্যাসগুলির (Ne, Ar, Kr) অষ্টক পূর্ণ বলেই এরা নিষ্ক্রিয়। পরমাণু তিনভাবে অষ্টক পূর্ণ করে: (১) ইলেকট্রন ত্যাগ করে (ধাতু — Na → Na⁺ + e⁻), (২) ইলেকট্রন গ্রহণ করে (অধাতু — Cl + e⁻ → Cl⁻), (৩) ইলেকট্রন শেয়ার করে (সমযোজী বন্ধন — H₂O, CO₂)।
14. আয়নীয় বন্ধন (Ionic Bond) কাকে বলে? NaCl-এর গঠন উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করো।
আয়নীয় বন্ধন (Ionic Bond/Electrovalent Bond): ধাতু ও অধাতুর মধ্যে ইলেকট্রনের সম্পূর্ণ স্থানান্তরের মাধ্যমে ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের মধ্যে স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বলের দ্বারা যে বন্ধন গঠিত হয়, তাকে আয়নীয় বন্ধন বলে। NaCl-এর গঠন: Na (2,8,1) শেষ কক্ষের 1টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Na⁺ ক্যাটায়ন গঠন করে (2,8 — অষ্টক পূর্ণ)। Cl (2,8,7) ঐ ইলেকট্রনটি গ্রহণ করে Cl⁻ অ্যানায়ন গঠন করে (2,8,8 — অষ্টক পূর্ণ)। Na⁺ ও Cl⁻-এর মধ্যে স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বল প্রয়োগে NaCl সৃষ্টি হয়।
15. পারমাণবিকতা (Atomicity) কাকে বলে? একমৌলিক, দ্বিমৌলিক ও ত্রিমৌলিক অণুর উদাহরণ দাও।
পারমাণবিকতা বা পরমাণুকতা (Atomicity): কোনো মৌল বা যৌগের একটি অণুতে উপস্থিত মোট পরমাণুর সংখ্যাকে পারমাণবিকতা বলে। (১) একমৌলিক (Monoatomic): 1টি পরমাণু — নোবেল গ্যাস যেমন He, Ne, Ar, Kr। (২) দ্বিমৌলিক (Diatomic): 2টি পরমাণু — H₂, O₂, N₂, Cl₂, HCl, CO। (৩) ত্রিমৌলিক (Triatomic): 3টি পরমাণু — O₃ (ওজোন), H₂O, CO₂। (৪) বহুমৌলিক (Polyatomic): ৪ বা ততোধিক — P₄, S₈, C₆₀।

Broad Questions

5 টি
1. পরমাণুর গঠন বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করো। প্রোটন, ইলেকট্রন ও নিউট্রনের বৈশিষ্ট্য তুলনা করো। পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা কাকে বলে?

পরমাণুর গঠন (Structure of Atom)

প্রতিটি পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে যা প্রোটন (p⁺) ও নিউট্রন (n⁰) দিয়ে গঠিত। নিউক্লিয়াসের চারপাশে নির্দিষ্ট বৃত্তাকার শক্তিস্তরে (K, L, M, N...) ইলেকট্রন (e⁻) আবর্তিত হয়। নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা = ইলেকট্রন সংখ্যা।

কণাআধানভর (kg)অবস্থানআবিষ্কারক
প্রোটন (p⁺)+1.602×10⁻¹⁹ C1.673×10⁻²⁷নিউক্লিয়াসেরাদারফোর্ড (1919)
নিউট্রন (n⁰)0 (নিস্তড়িৎ)1.630×10⁻²⁷নিউক্লিয়াসেচ্যাডউইক (1932)
ইলেকট্রন (e⁻)-1.602×10⁻¹⁹ C9.109×10⁻³¹ (≈1/1840)কক্ষপথেজে.জে. থমসন (1897)

পারমাণবিক সংখ্যা (Z) = প্রোটনের সংখ্যা। ভরসংখ্যা (A) = প্রোটন + নিউট্রন = Z + N।

2. ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন কাকে বলে? উদাহরণসহ বোঝাও। আয়নীয় যৌগের সংকেত কীভাবে লেখা হয়? ক্রিস-ক্রস পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন

ক্যাটায়ন: e⁻ ত্যাগে ধনাত্মক আয়ন — Na⁺, Mg²⁺, Al³⁺, Fe³⁺। অ্যানায়ন: e⁻ গ্রহণে ঋণাত্মক আয়ন — Cl⁻, O²⁻, S²⁻।

ক্রিস-ক্রস পদ্ধতি (যৌগের সংকেত গঠন):
  1. ক্যাটায়নের চিহ্ন ও চার্জ লেখো
  2. অ্যানায়নের চিহ্ন ও চার্জ লেখো
  3. চার্জ সংখ্যা অদল-বদল (ক্রিস-ক্রস) করে নীচে সাবস্ক্রিপ্ট আকারে বসাও
  4. প্রথম বন্ধনীযুক্ত যৌগমূলকের জন্য বন্ধনী ব্যবহার করো

উদাহরণ: Ca²⁺ ও Cl⁻ → Ca₁Cl₂ → CaCl₂। Al³⁺ ও SO₄²⁻ → Al₂(SO₄)₃।

3. রাসায়নিক সংকেত কী? দ্বিমৌলিক যৌগ ও যৌগমূলকযুক্ত যৌগের সংকেত লেখার নিয়ম উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

রাসায়নিক সংকেত (Chemical Formula)

প্রতীক ও সাবস্ক্রিপ্টের সাহায্যে যৌগের অণুতে মৌলের পরমাণু সংখ্যা প্রকাশ।

দ্বিমৌলিক যৌগ (Binary Compound):

ক্যাটায়ন আগে, অ্যানায়ন পরে লিখে চার্জ ক্রিস-ক্রস: MgO, CaBr₂, Al₂O₃, K₂S।

যৌগমূলকযুক্ত যৌগ:

যৌগমূলকের বাইরে সাবস্ক্রিপ্ট 1-এর বেশি হলে বন্ধনী দিতে হবে। যেমন Ca(OH)₂, (NH₄)₂SO₄, Al₂(SO₄)₃, Mg₃(PO₄)₂।

4. মৌলের প্রতীক (Symbol) লেখার ইতিহাস সংক্ষেপে লেখো। আধুনিক IUPAC নিয়মে প্রতীক লেখার নিয়ম কী? উদাহরণ দাও।

মৌলের প্রতীকের ইতিহাস

প্রাচীন যুগ: ডাল্টন (1808) বৃত্তাকার চিহ্ন ব্যবহার করতেন। বার্জেলিয়াস (1813): আধুনিক অক্ষরভিত্তিক প্রতীকের প্রবর্তন — মৌলের ইংরেজি বা ল্যাটিন নামের প্রথম বা প্রথম দুই অক্ষর। IUPAC নিয়ম: (১) প্রথম অক্ষর বড় হাতের (Capital), (২) দ্বিতীয় অক্ষর ছোট হাতের (Small), (৩) ল্যাটিন নাম থেকে অনেক প্রতীক — Na (Natrium), Fe (Ferrum), Cu (Cuprum), Ag (Argentum), Au (Aurum), Pb (Plumbum), Hg (Hydrargyrum), K (Kalium), Sn (Stannum), W (Wolfram)।

5. HCO₃⁻, CO₃²⁻, SO₄²⁻, NO₃⁻, PO₄³⁻, OH⁻, NH₄⁺ যৌগমূলক ও তাদের যোজনী লেখো। এদের সমন্বয়ে একটি করে যৌগের নাম ও সংকেত লেখো।
যৌগমূলকনামযোজনীউদাহরণ যৌগসংকেত
HCO₃⁻বাইকার্বনেট/হাইড্রোজেন কার্বনেট1সোডিয়াম বাইকার্বনেটNaHCO₃
CO₃²⁻কার্বনেট2ক্যালশিয়াম কার্বনেটCaCO₃
SO₄²⁻সালফেট2কপার সালফেটCuSO₄
NO₃⁻নাইট্রেট1পটাশিয়াম নাইট্রেটKNO₃
PO₄³⁻ফসফেট3ক্যালশিয়াম ফসফেটCa₃(PO₄)₂
OH⁻হাইড্রোক্সাইড1সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডNaOH
NH₄⁺অ্যামোনিয়াম1অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডNH₄Cl

মনে রেখো!

পারমাণবিক সংখ্যা (Z) = প্রোটন | ভরসংখ্যা (A) = প্রোটন + নিউট্রন | ক্যাটায়ন = e⁻ ত্যাগ (+ আধান) | অ্যানায়ন = e⁻ গ্রহণ (- আধান) | যোজকতা = শেষ কক্ষের e⁻ যা ত্যাগ/গ্রহণ হয় | NaCl, MgCl₂, Al₂O₃, Na₂SO₄ — সংকেত ক্রিস-ক্রসে গঠিত!

Sponsored Links

Class 7 Poribesh O Biggan Chapter 3: পরমাণু, অণু ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

Frequently Asked Questions - পরমাণু, অণু

প্রোটন (ধনাত্মক, নিউক্লিয়াসে), নিউট্রন (আধানহীন, নিউক্লিয়াসে) ও ইলেকট্রন (ঋণাত্মক, কক্ষপথে)। প্রোটন ও নিউট্রনের ভর প্রায় সমান, ইলেকট্রন প্রায় 1840 গুণ হালকা।

পারমাণবিক সংখ্যা (Z) = নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা। ভরসংখ্যা (A) = প্রোটন + নিউট্রনের মোট সংখ্যা। Z মৌলের পরিচয় নির্ধারণ করে। A থেকে নিউট্রন সংখ্যা = A - Z।

ক্রিস-ক্রস পদ্ধতিতে: Na⁺(1+) ও Cl⁻(1-) → 1:1 → NaCl। Mg²⁺(2+) ও Cl⁻(1-) → চার্জ সমতা: 2(+1) + (-2) = 0 → Mg²⁺ : Cl⁻ = 1:2 → MgCl₂।

শেষ কক্ষ থেকে ইলেকট্রন ত্যাগ বা গ্রহণের সংখ্যাই যোজনী। সোডিয়াম (2,8,1) → 1টি e⁻ ত্যাগ → যোজনী 1। ক্লোরিন (2,8,7) → 1টি e⁻ গ্রহণ → যোজনী 1।