Chapter 5: মানুষের খাদ্য (Human Food)
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 48 MCQ | 10 SAQ | 3 Broad
1. খাদ্যের প্রধান উপাদান কোনটি?
ক) ক) ভিটামিন
খ) খ) শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট
গ) গ) খনিজ মৌল
ঘ) ঘ) জল
শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) খাদ্যের প্রধান উপাদান — দেহের শক্তির প্রধান উৎস। 1g শর্করা = 4 kcal শক্তি। ভাত, রুটি, আলু, চিনি, ফল ইত্যাদি শর্করাজাতীয় খাদ্য। দিনের মোট ক্যালোরির 60-70% শর্করা থেকে আসা উচিত।
2. কোন খাদ্য উপাদান দেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে?
ক) ক) শর্করা
খ) খ) প্রোটিন
গ) গ) ফ্যাট
ঘ) ঘ) ভিটামিন
প্রোটিন (Protein) দেহের গঠনমূলক উপাদান — পেশি, হাড়, ত্বক, চুল, এনজাইম ও হরমোন গঠনে অপরিহার্য। 1g প্রোটিন = 4 kcal শক্তি। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, সয়াবিন প্রোটিনের উৎস।
3. কোন খাদ্য উপাদান সবচেয়ে বেশি শক্তি সরবরাহ করে?
ক) ক) শর্করা
খ) খ) প্রোটিন
গ) গ) স্নেহ বা ফ্যাট
ঘ) ঘ) ভিটামিন
ফ্যাট বা লিপিড (Fat/Lipid) সর্বাধিক শক্তি সরবরাহকারী খাদ্য উপাদান — 1g ফ্যাট = 9 kcal (শর্করা ও প্রোটিনের দ্বিগুণেরও বেশি)। তেল, ঘি, মাখন, বাদাম, নারকেল ফ্যাটের উৎস। দেহে অতিরিক্ত ফ্যাট জমা স্থূলতা ঘটায়।
4. ভিটামিন C-এর অভাবে কোন রোগ হয়?
ক) ক) রাতকানা
খ) খ) বেরিবেরি
গ) গ) স্কার্ভি
ঘ) ঘ) গলগণ্ড
ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) এর অভাবে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয় — মাড়ি ফুলে রক্ত পড়া, দাঁত পড়ে যাওয়া, ত্বকে রক্তক্ষরণ। টাটকা টক ফল (আমলকী, লেবু, কমলা), কাঁচা পেয়ারা, টম্যাটো ভিটামিন C-এর উৎকৃষ্ট উৎস।
5. রাতকানা (Night Blindness) রোগ কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
ক) ক) ভিটামিন A
খ) খ) ভিটামিন B
গ) গ) ভিটামিন C
ঘ) ঘ) ভিটামিন D
ভিটামিন A (রেটিনল) এর অভাবে রাতকানা বা নাইট ব্লাইন্ডনেস হয় — কম আলোতে দেখতে অসুবিধা। এছাড়া চোখ শুকিয়ে যাওয়া (জেরপথ্যালমিয়া) ও ত্বক রুক্ষ হয়। গাজর, পাকা আম, পেঁপে, সবুজ শাক, ডিমের কুসুম, মেটে ভিটামিন A-এর উৎস।
6. ভিটামিন D-এর অভাবে কী রোগ হয়?
ক) ক) বেরিবেরি
খ) খ) স্কার্ভি
গ) গ) রিকেটস
ঘ) ঘ) অ্যানিমিয়া
ভিটামিন D (ক্যালসিফেরল) এর অভাবে রিকেটস (Rickets) রোগ হয় — হাড় নরম ও বাঁকা হয়ে যায়, শিশুদের হাঁটু ধনুকের মতো বাঁকে। সূর্যালোক ত্বকে ভিটামিন D সংশ্লেষ করে — তাই একে 'সানশাইন ভিটামিন' বলে।
7. বেরিবেরি (Beriberi) রোগ কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
ক) ক) ভিটামিন A
খ) খ) ভিটামিন B1 (থায়ামিন)
গ) গ) ভিটামিন C
ঘ) ঘ) ভিটামিন K
ভিটামিন B1 (থায়ামিন)-এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয় — পেশি দুর্বল, স্নায়ুর সমস্যা, হৃদযন্ত্রের সমস্যা। ছাঁটা না করা চাল, গম, ডাল, বাদাম, শিম, মেটে ভিটামিন B1-এর উৎস। মেশিনে পালিশ করা চাল থেকে B1 নষ্ট হয়।
8. কোন ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?
ক) ক) ভিটামিন A
খ) খ) ভিটামিন D
গ) গ) ভিটামিন E
ঘ) ঘ) ভিটামিন K
ভিটামিন K (ফাইলোকুইনোন) রক্ত জমাট বাঁধার জন্য অপরিহার্য — এটি যকৃতে প্রোথ্রম্বিন তৈরিতে সাহায্য করে। সবুজ শাকসবজি, ব্রোকোলি, বাঁধাকপি, সয়াবিন তেল ভিটামিন K-এর উৎস। নবজাতককে সাধারণত ভিটামিন K ইনজেকশন দেওয়া হয়।
9. কোনটি স্নেহে দ্রাব্য (Fat-soluble) ভিটামিন?
ক) ক) ভিটামিন B
খ) খ) ভিটামিন C
গ) গ) ভিটামিন D
ঘ) ঘ) ভিটামিন B12
ভিটামিন A, D, E ও K — এই চারটি স্নেহে (ফ্যাটে) দ্রবণীয় ভিটামিন। এগুলি দেহের ফ্যাট কলায় সঞ্চিত থাকে। ভিটামিন B কমপ্লেক্স ও C জলে দ্রবণীয় — এগুলি মূত্রের সাথে নির্গত হয় ও নিয়মিত গ্রহণ প্রয়োজন।
10. ভিটামিন B কমপ্লেক্স ও C কোন ধরনের ভিটামিন?
ক) ক) ফ্যাটে দ্রাব্য
খ) খ) জলে দ্রাব্য
গ) গ) অ্যালকোহলে দ্রাব্য
ঘ) ঘ) তেলে দ্রাব্য
ভিটামিন B কমপ্লেক্স (B1, B2, B3, B6, B12, ফলিক অ্যাসিড) ও ভিটামিন C জলে দ্রবণীয় (Water-soluble) ভিটামিন। এগুলি দেহে সঞ্চিত থাকে না — নিয়মিত খাদ্য থেকে গ্রহণ করতে হয়। অতিরিক্ত পরিমাণ মূত্রের সাথে বেরিয়ে যায়।
11. রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া (Anaemia) কোন খনিজ মৌলের অভাবে হয়?
ক) ক) ক্যালশিয়াম
খ) খ) আয়রন বা লোহা
গ) গ) জিঙ্ক
ঘ) ঘ) আয়োডিন
লোহা বা আয়রনের (Fe) অভাবে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হয় — রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়, দুর্বল লাগে, ত্বক ফ্যাকাসে হয়। নটেশাক, কলমি শাক, মেটে, ডিম, কিশমিশ, খেজুর, গুড় আয়রনের ভালো উৎস।
12. গলগণ্ড বা গয়টার (Goiter) কোন খনিজের অভাবে হয়?
ক) ক) ক্যালশিয়াম
খ) খ) আয়রন
গ) গ) আয়োডিন
ঘ) ঘ) সোডিয়াম
আয়োডিন (I) এর অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গলগণ্ড বা গয়টার রোগ হয়। থাইরক্সিন হরমোন তৈরিতে আয়োডিন প্রয়োজন। আয়োডিনযুক্ত নুন (Iodized Salt) খেয়ে এটি প্রতিরোধ করা যায়। পাহাড়ি অঞ্চলে মাটি ও জলে আয়োডিন কম।
13. হাড় ও দাঁত গঠনের জন্য কোন খনিজ মৌল অপরিহার্য?
ক) ক) আয়রন
খ) খ) সোডিয়াম
গ) গ) ক্যালশিয়াম
ঘ) ঘ) জিঙ্ক
ক্যালশিয়াম (Ca) হাড় ও দাঁতের প্রধান গঠনকারী খনিজ। ফসফরাস (P) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) হাড় গঠনে সহায়ক। দুধ, দই, ছানা, পনির, কাঁটা-সহ ছোট মাছ (মলা-চিংড়ি), সবুজ শাক ক্যালশিয়ামের উৎস।
14. পেশিতে টান (Muscle Cramp) ধরার কারণ কী?
ক) ক) আয়রনের অভাব
খ) খ) সোডিয়াম বা ক্যালশিয়ামের অভাব
গ) গ) ভিটামিন C-এর অভাব
ঘ) ঘ) শর্করার অভাব
রক্তে সোডিয়াম (Na⁺), পটাশিয়াম (K⁺) বা ক্যালশিয়ামের (Ca²⁺) ঘাটতি হলে পেশিতে টান (ক্র্যাম্প) বা খিঁচুনি হতে পারে। অতিরিক্ত ঘামে সোডিয়াম বেরিয়ে যায় — তাই গরমে ORS (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন) বা নুন-চিনির জল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
15. দেহে জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে কোন খনিজ?
ক) ক) আয়রন
খ) খ) ক্যালশিয়াম
গ) গ) সোডিয়াম
ঘ) ঘ) জিঙ্ক
সোডিয়াম (Na⁺) ও পটাশিয়াম (K⁺) দেহকোষে অভিস্রবণ (Osmosis) নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। Na⁺ কোষের বাইরে ও K⁺ কোষের ভিতরে বেশি থাকে — একে সোডিয়াম-পটাশিয়াম পাম্প বলে।
16. কোন খাদ্য উপাদান থেকে কোনো শক্তি পাওয়া যায় না?
ক) ক) শর্করা
খ) খ) প্রোটিন
গ) গ) ফ্যাট
ঘ) ঘ) ভিটামিন ও খনিজ মৌল
ভিটামিন, খনিজ মৌল, জল ও খাদ্যতন্তু (Roughage/Fiber) থেকে সরাসরি কোনো শক্তি (ক্যালোরি) পাওয়া যায় না। কিন্তু এগুলি দেহের বিপাক ক্রিয়া ও সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাট — এই তিনটি শক্তি সরবরাহকারী খাদ্য উপাদান।
17. কোনটি প্রোটিনের উৎস নয়?
ক) ক) মাছ
খ) খ) ডিম
গ) গ) আপেল
ঘ) ঘ) ডাল
আপেলে প্রধানত শর্করা, ভিটামিন, খাদ্যতন্তু ও জল থাকে — প্রোটিন নগণ্য। মাছ, ডিম, মাংস, দুধ, ডাল, সয়াবিন, বাদাম প্রোটিনের সমৃদ্ধ উৎস। মাশরুমও প্রোটিনের ভালো উৎস।
18. চাল, গম, আলু কোন খাদ্য উপাদানের প্রধান উৎস?
ক) ক) প্রোটিন
খ) খ) শর্করা
গ) গ) ফ্যাট
ঘ) ঘ) ভিটামিন
চাল (ভাত), গম (রুটি), আলু, ভুট্টা, বাজরা — এগুলি শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের প্রধান উৎস। এগুলি দেহে সহজে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে।
19. মানবদেহের ওজনের কত শতাংশ জল?
ক) ক) 30%
খ) খ) 50%
গ) গ) 70%
ঘ) ঘ) 90%
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহের ওজনের প্রায় 60-70% জল। রক্তে 90%, পেশিতে 75%, মস্তিষ্কে 73%, হাড়েও 31% জল থাকে। জেলিফিশের দেহে জল প্রায় 95%। দেহে জলের পরিমাণ বয়সের সাথে কমে।
20. প্রতিদিন কতটা জল পান করা প্রয়োজন (প্রাপ্তবয়স্ক)?
ক) ক) 1 লিটার
খ) খ) 2-3 লিটার
গ) গ) 5 লিটার
ঘ) ঘ) 10 লিটার
সাধারণত দৈনিক 2-3 লিটার (8-12 গ্লাস) জল পান করা উচিত। সঠিক পরিমাণ: প্রতি কেজি দেহের ওজনের জন্য 30-50 মিলিলিটার। যেমন 50 কেজির মানুষের প্রতিদিন 1.5-2.5 লিটার জল প্রয়োজন। গরমে বা ব্যায়ামে বেশি প্রয়োজন।
21. খাদ্যতন্তু (Dietary Fiber) বা রাফেজের কাজ কী?
ক) ক) শক্তি দেওয়া
খ) খ) হজম না হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করা
গ) গ) প্রোটিন সরবরাহ
ঘ) ঘ) হাড় গঠন
খাদ্যতন্তু বা রাফেজ (Roughage) হজম হয় না — এটি অন্ত্রের মধ্য দিয়ে যায় এবং মলের সাথে জল ধরে রেখে মল নরম রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। ফল, শাকসবজি, ওটস, ইসবগুলের ভুসি, ডাল — ফাইবারের ভালো উৎস।
22. সালোকসংশ্লেষে (Photosynthesis) উদ্ভিদ কোন খাদ্য তৈরি করে?
ক) ক) প্রোটিন
খ) খ) ফ্যাট
গ) গ) শর্করা (গ্লুকোজ)
ঘ) ঘ) ভিটামিন
সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক, CO₂ ও জল ব্যবহার করে গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) তৈরি করে — যা একটি সরল শর্করা। 6CO₂ + 6H₂O + আলো → C₆H₁₂O₆ + 6O₂। পরে গ্লুকোজ স্টার্চ বা সেলুলোজে রূপান্তরিত হয়।
23. দুধে কোন কোন খাদ্য উপাদান পাওয়া যায়?
ক) ক) শুধু প্রোটিন
খ) খ) প্রোটিন, ফ্যাট, শর্করা, ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন
গ) গ) শুধু ফ্যাট
ঘ) ঘ) শুধু ভিটামিন
দুধ একটি পূর্ণ খাদ্য — এতে প্রোটিন (কেসিন), ফ্যাট (ক্রিম), শর্করা (ল্যাকটোজ), ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন A, B2, B12, D পাওয়া যায়। তবে ভিটামিন C ও আয়রন অত্যন্ত কম — তাই শিশুদের মায়ের দুধের পর সম্পূরক খাদ্য প্রয়োজন।
24. কোন ধরণের রান্নায় ভিটামিন নষ্ট হয়?
ক) ক) সেদ্ধ
খ) খ) ভাপে রান্না
গ) গ) অতিরিক্ত গরমে ভাজা বা বেশি সেদ্ধ
ঘ) ঘ) কাঁচা
অতিরিক্ত গরমে ও দীর্ঘক্ষণ সেদ্ধ করলে ভিটামিন C, থায়ামিন (B1) ও ফলিক অ্যাসিড নষ্ট হয়। ভিটামিন C জলে দ্রবীভূত হয়ে রান্নার জলের সাথে ফেলে দিলে নষ্ট হয়। তাই শাকসবজি কম জলে ও কম সময়ে ঢাকা দিয়ে রান্না করা উচিত।
25. পুষ্টিহীনতা (Malnutrition) বলতে কী বোঝায়?
ক) ক) অতিরিক্ত খাওয়া
খ) খ) প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি বা ভারসাম্যহীনতা
গ) গ) শুধু কম খাওয়া
ঘ) ঘ) শুধু ভিটামিনের অভাব
পুষ্টিহীনতা বা অপুষ্টি (Malnutrition) হল প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের (শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ) অভাব, আধিক্য বা ভারসাম্যহীনতা। কোয়াশিওরকর (প্রোটিনের অভাব), ম্যারাসমাস (ক্যালোরি ঘাটতি), মোটা হয়ে যাওয়া — সবই পুষ্টিহীনতার রূপ।
26. প্রাকৃতিক, প্রক্রিয়াজাত ও সংসৃষ্ট (জাঙ্ক) খাদ্যের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর?
ক) ক) সংসৃষ্ট
খ) খ) প্রক্রিয়াজাত
গ) গ) প্রাকৃতিক
ঘ) ঘ) সবই সমান
প্রাকৃতিক খাদ্য (তাজা ফল, সবজি, গোটা শস্য) পুষ্টিতে ভরপুর, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে (পাস্তুরিত দুধ, আটা) কিছু পুষ্টি নষ্ট হয়, আর অতি-প্রক্রিয়াজাত বা জাঙ্ক ফুডে (চিপস, কোমল পানীয়) পুষ্টি প্রায় নেই — কেবল ক্যালোরি, চিনি, লবণ ও ট্রান্স ফ্যাট।
27. ট্রান্স ফ্যাট (Trans Fat) কোথায় পাওয়া যায়?
ক) ক) তাজা ফল
খ) খ) বেকারির খাবার (বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি)
গ) গ) সবুজ শাকসবজি
ঘ) ঘ) দুধ
ট্রান্স ফ্যাট (Trans Unsaturated Fatty Acid) ভ্যানাস্পতি ঘি, ডালডা, বেকারি পণ্য (বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি), ভাজা খাবার (চিপস, ভাজা পুরি), মার্জারিন ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। এটি LDL (খারাপ কোলেস্টেরল) বাড়ায় ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
28. দেহে জলের প্রধান কাজ কোনটি?
ক) ক) শক্তি সরবরাহ
খ) খ) দ্রাবক ও পরিবাহক হিসেবে কাজ করা
গ) গ) হাড় গঠন
ঘ) ঘ) প্রোটিন তৈরি
দেহে জলের প্রধান কাজ: (১) দ্রাবক — পুষ্টি, গ্যাস ও বর্জ্য পদার্থ দ্রবীভূত করে, (২) পরিবাহক — রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে পুষ্টি পরিবহণ, (৩) তাপ নিয়ন্ত্রণ — ঘামের মাধ্যমে, (৪) রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যম, (৫) অস্থিসন্ধির পিচ্ছিলকারক।
29. অ্যাজিনোমোটো (Ajinomoto/MSG) এর অতিরিক্ত ব্যবহারে কী ক্ষতি হতে পারে?
ক) ক) ওজন কমে
খ) খ) মাথাব্যথা, বমিভাব, স্নায়বিক সমস্যা
গ) গ) হাড় শক্ত হয়
ঘ) ঘ) চোখ ভালো হয়
অ্যাজিনোমোটো বা MSG (Monosodium Glutamate) কৃত্রিম স্বাদবর্ধক — চাইনিজ খাবারে (চাউমিন, মোমো, স্যুপ), প্যাকেটজাত স্ন্যাকসে ব্যবহৃত। অতিরিক্তে চায়না সিনড্রোম (মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, ঘাম), স্নায়ুর ক্ষতি ও স্থূলতা ঘটাতে পারে।
30. BMI (Body Mass Index) কী নির্দেশ করে?
ক) ক) দেহের তাপমাত্রা
খ) খ) দেহের ওজন উচ্চতা অনুপাতে সঠিক কিনা
গ) গ) রক্তচাপ
ঘ) ঘ) হাড়ের ঘনত্ব
BMI = ওজন (কেজি) / উচ্চতা² (মিটার²)। স্বাভাবিক BMI = 18.5-24.9, অতিরিক্ত ওজন = 25-29.9, স্থূলতা = 30 বা তার বেশি। এটি সঠিক ওজন মূল্যায়নের সহজ পদ্ধতি — তবে পেশিবহুলদের BMI বেশি হলেও স্থূল নয়।
31. ক্যালোরি (Calorie) কী পরিমাপের একক?
ক) ক) দূরত্ব
খ) খ) ওজন
গ) গ) খাদ্যের শক্তি বা তাপ
ঘ) ঘ) দ্রুতি
ক্যালোরি (Calorie) হল তাপ বা শক্তি পরিমাপের একক। 1 কিলোক্যালোরি (kcal) = 1 কেজি জলের তাপমাত্রা 1°C বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ। খাদ্যে: শর্করা 4 kcal/g, প্রোটিন 4 kcal/g, ফ্যাট 9 kcal/g। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক চাহিদা 2000-2500 kcal, নারীর 1800-2200 kcal।
32. সুষম খাদ্য (Balanced Diet) বলতে কী বোঝায়?
ক) ক) শুধু মাছ-মাংস খাওয়া
খ) খ) প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য উপাদান সঠিক অনুপাতে থাকা
গ) গ) শুধু ফল খাওয়া
ঘ) ঘ) যেকোনো খাবার বেশি করে খাওয়া
সুষম খাদ্য (Balanced Diet) হল এমন খাদ্য যাতে শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ মৌল, জল ও খাদ্যতন্তু — প্রতিটি উপাদানই দেহের চাহিদা অনুপাতে উপস্থিত থাকে। বয়স, লিঙ্গ, কাজের ধরন অনুযায়ী সুষম খাদ্যের চাহিদা ভিন্ন হয়।
33. কোনটি জলে দ্রাব্য ভিটামিন?
ক) ক) ভিটামিন A
খ) খ) ভিটামিন D
গ) গ) ভিটামিন C
ঘ) ঘ) ভিটামিন E
ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) ও B কমপ্লেক্স (B1, B2, B3, B6, B12, ফলিক অ্যাসিড) জলে দ্রাব্য। ফ্যাটে দ্রাব্য: ভিটামিন A, D, E, K। জলে দ্রাব্য ভিটামিন তাপ ও জলে নষ্ট হয়, দেহে জমা থাকে না — নিয়মিত গ্রহণ প্রয়োজন।
34. পাটালিপত্র বা পটেটো চিপসে কোন ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে?
ক) ক) ভিটামিন
খ) খ) ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত লবণ
গ) গ) প্রোটিন
ঘ) ঘ) ফাইবার
বাণিজ্যিক ভাজা খাবার (চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই) উচ্চ তাপে ভাজার সময় ট্রান্স ফ্যাট উৎপন্ন হয়। এছাড়া অতিরিক্ত লবণ (NaCl), কৃত্রিম স্বাদ ও সংরক্ষক (Preservatives) থাকে — স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
35. দেহের কোন অঙ্গ জল অপচয় রোধ করে ও পুনঃশোষণ করে?
ক) ক) যকৃৎ
খ) খ) হৃদপিণ্ড
গ) গ) বৃক্ক বা কিডনি
ঘ) ঘ) পাকস্থলী
বৃক্ক (Kidney) রক্ত থেকে পরিস্রুত জল ও প্রয়োজনীয় খনিজের প্রায় 99% পুনঃশোষণ করে, ফলে মূত্রের সাথে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়। ADH (অ্যান্টি-ডাইইউরেটিক হরমোন) এই পুনঃশোষণ নিয়ন্ত্রণ করে।
36. ব্রেকফাস্ট বা সকালের জলখাবার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ক) ক) ওজন বাড়ে
খ) খ) রাতভর উপোসের পর বিপাক চালু ও শক্তি জোগায়
গ) গ) অলসতা আসে
ঘ) ঘ) ঘুম আসে
রাতের ঘুমের পর দেহের গ্লুকোজ স্টোর কমে যায়। সকালের জলখাবার (Breakfast) রক্তের শর্করা স্বাভাবিক করে, বিপাক ক্রিয়া শুরু করে, মনোযোগ বাড়ায় এবং সারাদিনের কর্মক্ষমতা জোগায়। প্রোটিন + ফাইবারযুক্ত ব্রেকফাস্ট সবচেয়ে ভালো।
37. কৃত্রিম মিষ্টিকারক (Artificial Sweetener) স্যাকারিন বা অ্যাসপার্টামের অতিরিক্ত সেবনে কী হতে পারে?
ক) ক) ওজন বাড়ে
খ) খ) ক্যানসার ও স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি
গ) গ) হাড় শক্ত হয়
ঘ) ঘ) চোখ ভালো হয়
কৃত্রিম মিষ্টিকারক (স্যাকারিন, অ্যাসপার্টাম, সাইক্লোমেট) রাসায়নিক দ্রব্য — চিনির চেয়ে শতগুণ বেশি মিষ্টি, কোনো ক্যালোরি নেই। কিন্তু গবেষণায় অতিরিক্ত সেবনে মূত্রথলির ক্যানসার (স্যাকারিন), মাইগ্রেন, মানসিক অবসাদের (অ্যাসপার্টাম) ঝুঁকি দেখা গেছে।
38. ক্যারামেল (Caramel) রং কীভাবে তৈরি হয়?
ক) ক) ফল থেকে
খ) খ) চিনি গরম করে পুড়িয়ে
গ) গ) দুধ থেকে
ঘ) ঘ) লবণ থেকে
ক্যারামেল (Caramel Color) খাদ্যে ব্যবহৃত বাদামি রং যা চিনি (সুক্রোজ) উচ্চ তাপে (170°C) গরম করে ক্যারামেলাইজেশন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। কোলা ড্রিংকস, সয়া সস, বিস্কুট, চকোলেটে ব্যবহৃত। অতিরিক্ত ক্যারামেল সেবন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।
39. মেটানিল ইয়োলো (Metanil Yellow) কী?
ক) ক) ভিটামিন
খ) খ) নিষিদ্ধ কৃত্রিম রং — খাদ্যে ব্যবহার অবৈধ
গ) গ) প্রাকৃতিক রং
ঘ) ঘ) খনিজ মৌল
মেটানিল ইয়োলো একটি শিল্প-রঞ্জক (Industrial dye) যা খাদ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ — কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা হলুদ, মিষ্টি, জিলিপি রঙিন করতে ব্যবহার করে। এটি যকৃৎ, স্নায়ু ও পাকস্থলীর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
40. খাবার সংরক্ষণে (Food Preservation) কোন পদ্ধতি কার্যকর?
ক) ক) ফুটন্ত জলে সেদ্ধ
খ) খ) ফ্রিজে ঠান্ডা করা
গ) গ) শুকনো করা, নুন বা চিনি দেওয়া
ঘ) ঘ) উপরের সবকটিই
খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি: (১) হিমায়ন (Refrigeration/Freezing), (২) শুষ্ককরণ (Drying), (৩) নুন/চিনি/তেল দিয়ে সংরক্ষণ (Curing/Pickling), (৪) টিনজাতকরণ (Canning), (৫) পাস্তুরাইজেশন — দুধের জন্য। প্রতিটি পদ্ধতিই অণুজীবের বৃদ্ধি রোধ করে।
41. রান্নার জল ফেলে দিলে কোন ভিটামিন নষ্ট হয়?
ক) ক) ভিটামিন A
খ) খ) ভিটামিন D
গ) গ) ভিটামিন C ও B কমপ্লেক্স
ঘ) ঘ) ভিটামিন K
শাকসবজি রান্নার পর অতিরিক্ত জল ফেলে দিলে তাতে দ্রবীভূত ভিটামিন C, B1, B2, ফলিক অ্যাসিড ও খনিজ পদার্থ নষ্ট হয়। তাই শাকসবজি কম জলে ঢেকে রান্না করা উচিত — যাতে ভিটামিন নষ্ট না হয়।
42. পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization) কী?
ক) ক) জল সেদ্ধ করা
খ) খ) দুধকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম করে দ্রুত ঠান্ডা করা
গ) গ) খাবার শুকনো করা
ঘ) ঘ) নুন দেওয়া
পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization): লুই পাস্তুর আবিষ্কৃত পদ্ধতি — দুধকে 63°C তাপমাত্রায় 30 মিনিট বা 72°C তাপমাত্রায় 15 সেকেন্ড গরম করে দ্রুত ঠান্ডা করলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (যেমন টিবি, টাইফয়েড) মরে কিন্তু স্বাদ ও পুষ্টিগুণ থাকে।
43. একটি শিশুর প্রোটিনের অভাবে কী রোগ হতে পারে?
ক) ক) রাতকানা
খ) খ) কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor)
গ) গ) স্কার্ভি
ঘ) ঘ) গলগণ্ড
শিশুদের প্রোটিনের তীব্র অভাবে কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) রোগ হয় — পেট ফুলে যায় (Edema), ত্বক ফেটে যায়, চুল লালচে হয়, বৃদ্ধি থেমে যায়। ম্যারাসমাস (Marasmus) শর্করা ও প্রোটিন উভয়ের অভাবে হয় — শরীর শীর্ণ হয়ে যায়।
44. কোন খাবারে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট (Antioxidant) থাকে?
ক) ক) ভাজা খাবার
খ) খ) টাটকা ফল ও সবজি (বেরি, সবুজ শাক)
গ) গ) কোমল পানীয়
ঘ) ঘ) পেস্ট্রি
টাটকা ফল (ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, আঙুর, ডালিম), সবুজ শাকসবজি, গ্রিন টি, ডার্ক চকোলেটে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে — যা দেহকোষের জারণজনিত ক্ষতি (Oxidative Stress) রোধ করে এবং ক্যানসার, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
45. ভিটামিন E এর প্রধান কাজ কী?
ক) ক) হাড় গঠন
খ) খ) অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট — কোষের সুরক্ষা
গ) গ) রক্ত জমাট বাঁধা
ঘ) ঘ) হজমে সাহায্য
ভিটামিন E (টোকোফেরল) একটি শক্তিশালী চর্বিতে দ্রাব্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট — এটি কোষপ্রাচীরের অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডকে জারণ থেকে রক্ষা করে। বাদাম, সূর্যমুখী তেল, পালং শাক, অ্যাভোকাডো ভিটামিন E এর উৎস।
46. বাড়িতে পানীয় জল বিশুদ্ধ করার সহজ পদ্ধতি কী?
ক) ক) ফিল্টার করা
খ) খ) 15-20 মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করা
গ) গ) ফিটকিরি ব্যবহার
ঘ) ঘ) উপরের সবকটিই
বাড়িতে জল বিশুদ্ধকরণের একাধিক পদ্ধতি: (১) ফুটানো (20 মিনিট) — ব্যাকটেরিয়া মরে, (২) ফিল্টার — কাদা-ময়লা আটকায়, (৩) ফিটকিরি (Alum) — অদ্রবণীয় কণা তলানিতে জমা করে, (৪) ক্লোরিন ট্যাবলেট/ব্লিচিং পাউডার — জীবাণুমুক্ত করে।
47. কারাজিনান (Carrageenan) কী খাবারে ব্যবহৃত হয়?
ক) ক) রুটি
খ) খ) আইসক্রিম ও জেলি
গ) গ) ডাল
ঘ) ঘ) ভাত
কারাজিনান (Carrageenan) সামুদ্রিক শৈবাল (Red Seaweed) থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক ঘনকরণকারী (Thickening Agent) — আইসক্রিম, জেলি, পুডিং, দই, সয়া মিল্ক ইত্যাদিতে ক্রিমি টেক্সচারের জন্য ব্যবহৃত। এটি নিরাপদ তবে অতিরিক্তে হজমের সমস্যা হতে পারে।
48. খাদ্য পিরামিড (Food Pyramid) কিসের নির্দেশনা দেয়?
ক) ক) খাদ্যের দাম
খ) খ) কোন খাদ্য কতটা পরিমাণে খাওয়া উচিত
গ) গ) ব্যায়ামের নিয়ম
ঘ) ঘ) রান্নার পদ্ধতি
খাদ্য পিরামিড (Food Pyramid) হল পুষ্টিবিদদের তৈরি নির্দেশিকা — কোন খাদ্যগোষ্ঠী দৈনিক কতটা পরিমাণে খাওয়া উচিত। নীচে: দানাশস্য (সর্বাধিক), উপর ক্রমশ: ফল-সবজি → প্রোটিন → দুগ্ধজাত → চর্বি ও মিষ্টি (সর্বনিম্ন)।
1. খাদ্যের সাতটি প্রধান উপাদানের নাম লেখো। শক্তি সরবরাহ করে কোন তিনটি?
খাদ্যের সাতটি প্রধান উপাদান: (১) শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate), (২) প্রোটিন (Protein), (৩) স্নেহ বা ফ্যাট/লিপিড (Fat/Lipid), (৪) ভিটামিন (Vitamin), (৫) খনিজ মৌল (Mineral), (৬) জল (Water), (৭) খাদ্যতন্তু বা ফাইবার (Roughage/Dietary Fiber)। এছাড়া ফাইটোকেমিক্যাল (উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক) নামক উপকারী যৌগও খাদ্যে থাকে। শক্তি সরবরাহকারী তিনটি: শর্করা (4 kcal/g), প্রোটিন (4 kcal/g) ও ফ্যাট (9 kcal/g)। ভিটামিন, খনিজ, জল ও ফাইবার শক্তি সরবরাহ করে না — কিন্তু সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
2. শর্করা (Carbohydrate) কাকে বলে? এর উৎস ও দেহে কাজ লেখো।
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Cₙ(H₂O)ₙ সাধারণ সূত্র): কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত জৈব যৌগ যা দেহের শক্তির প্রধান ও সুলভ উৎস (1g = 4 kcal)। প্রকারভেদ: (১) সরল শর্করা — গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ (চিনি), (২) জটিল শর্করা — স্টার্চ (ভাত, রুটি, আলু), সেলুলোজ (ফাইবার), গ্লাইকোজেন (প্রাণীর দেহে সঞ্চিত)। উৎস: উদ্ভিজ্জ — ধান, গম, ভুট্টা, আলু, মিষ্টি আলু, আখ, ফল; প্রাণীজ — দুধ (ল্যাকটোজ), মধু। কাজ: (১) শক্তি সরবরাহ, (২) গ্লাইকোজেন রূপে যকৃৎ ও পেশিতে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়, (৩) ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ।
3. প্রোটিন (Protein) কাকে বলে? দেহে এর প্রয়োজনীয়তা ও উৎস লেখো।
প্রোটিন (Protein): অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার — নাইট্রোজেনযুক্ত জটিল জৈব যৌগ। দেহের গঠনমূলক বা 'বডি বিল্ডিং' খাদ্য উপাদান — 1g প্রোটিন = 4 kcal। প্রয়োজনীয়তা: (১) পেশি, হাড়, ত্বক, চুল, নখের গঠন ও ক্ষয়পূরণ, (২) এনজাইম, হরমোন ও অ্যান্টিবডি তৈরিতে, (৩) রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে, (৪) কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধি — শিশু, গর্ভবতী, স্তন্যদাত্রীর জন্য অতিরিক্ত প্রয়োজন, (৫) প্রয়োজন হলে শক্তি সরবরাহ। উৎস: (ক) প্রাণীজ — মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির, (খ) উদ্ভিজ্জ — ডাল, সয়াবিন, বাদাম, শিম, মটর, ছোলা, মাশরুম।
4. ভিটামিন (Vitamin) কাকে বলে? ফ্যাটে দ্রাব্য ও জলে দ্রাব্য ভিটামিনের নাম লেখো।
ভিটামিন (Vitamin = Vital + Amine): জৈব রাসায়নিক যৌগ যা দেহ স্বাভাবিকভাবে তৈরি করতে পারে না — নগণ্য পরিমাণে প্রয়োজন কিন্তু বিপাকক্রিয়ায় অপরিহার্য। এগুলি কোনো শক্তি সরবরাহ করে না, সহ-উৎসেচক (Co-enzyme) বা উৎসেচকের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে। ফ্যাটে দ্রাব্য (Fat-soluble) — যকৃৎ ও ফ্যাট কলায় জমা হয়: (১) ভিটামিন A (রেটিনল), (২) ভিটামিন D (ক্যালসিফেরল), (৩) ভিটামিন E (টোকোফেরল), (৪) ভিটামিন K (ফাইলোকুইনোন)। জলে দ্রাব্য (Water-soluble) — দেহে জমা হয় না, নিয়মিত গ্রহণ প্রয়োজন: (১) ভিটামিন B কমপ্লেক্স — B1, B2, B3, B5, B6, B7, B9, B12, (২) ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড)।
5. ক্যালশিয়াম (Calcium) এর উৎস, দেহে ভূমিকা ও অভাবজনিত সমস্যা লেখো।
ক্যালশিয়াম (Ca) দেহে সর্বাধিক পরিমাণে উপস্থিত খনিজ মৌল — দেহের ওজনের প্রায় 1.5-2%। উৎস: দুধ, দই, ছানা, পনির, কাঁটা-সহ ছোট মাছ (মলা, চিংড়ি), সবুজ শাক (পালং, কলমি), তিল, রাগি, সয়াবিন, ডিমের কুসুম। দেহে ভূমিকা: (১) হাড় ও দাঁতের প্রধান গঠনকারী (হাইড্রক্সিঅ্যাপাটাইট Ca₅(PO₄)₃OH), (২) পেশির সংকোচন, (৩) স্নায়ু সংবেদ প্রেরণ, (৪) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য (থ্রম্বিন সক্রিয়করণ), (৫) হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ। অভাবজনিত সমস্যা: (১) শিশুদের রিকেটস — হাড় নরম ও বাঁকা, (২) বয়স্কদের অস্টিওপোরোসিস — হাড় ভঙ্গুর, (৩) পেশিতে টান (টেটানি), (৪) দাঁতের গঠন দুর্বল।
6. লৌহ বা আয়রনের (Iron) উৎস, ভূমিকা ও অভাবজনিত লক্ষণ কী?
আয়রন বা লোহা (Fe) হিমোগ্লোবিনের অপরিহার্য উপাদান। উৎস: নটেশাক, কলমি শাক, পালং শাক, মেটে বা কলিজা, ডিমের কুসুম, শুকনো ফল (কিশমিশ, খেজুর), গুড়, ডালিম, বিট, কুমড়োর বীজ। ভূমিকা: (১) রক্তের হিমোগ্লোবিনের হিম অংশের কেন্দ্রীয় ধাতু — অক্সিজেন পরিবহণ, (২) পেশির মায়োগ্লোবিন গঠন, (৩) শ্বসন এনজাইম (সাইটোক্রোম) এর উপাদান, (৪) মস্তিষ্কের সঠিক কার্যক্রম। অভাব: আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা — ত্বক-মাড়ি-নখ ফ্যাকাসে, অল্পেই হাঁপিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, শিশুদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত। ভিটামিন C আয়রন শোষণে সাহায্য করে, চা-কফির ট্যানিন বাধা দেয়।
7. জল (Water) দেহে কী কী ভূমিকা পালন করে? দৈনিক জলের চাহিদা কত?
দেহে জলের (H₂O) ভূমিকা: (১) দ্রাবক (Universal Solvent) — পুষ্টি, অক্সিজেন, CO₂, বর্জ্য, হরমোন দ্রবীভূত করে, (২) পরিবাহক — রক্ত ও লসিকায় দ্রবীভূত পদার্থ পরিবহণ, (৩) তাপ নিয়ন্ত্রণ — ঘাম নিঃসরণ ও বাষ্পীভবনে দেহ ঠান্ডা করে, (৪) পিচ্ছিলকারক (Lubricant) — অস্থিসন্ধির সাইনোভিয়াল ফ্লুইড, লালা, (৫) রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যম ও অংশগ্রহণকারী (হাইড্রোলাইসিস), (৬) কোষের দৃঢ়তা বজায় রাখা (টার্গর), (৭) বর্জ্য নিষ্কাশন — মূত্র ও মলের মাধ্যমে। চাহিদা: প্রতিদিন দেহের প্রতি কেজি ওজনের জন্য 30-50 মিলি অর্থাৎ একজন 50 কেজির মানুষের 1.5-2.5 লিটার, 60 কেজিতে 2-3 লিটার। গরম, ব্যায়াম, জ্বরে বেশি প্রয়োজন।
8. সুষম খাদ্য (Balanced Diet) কাকে বলে? একটি সুষম খাদ্য তালিকায় কী কী থাকা উচিত?
সুষম খাদ্য (Balanced Diet): যে খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ মৌল, জল ও ফাইবার — প্রতিটি পুষ্টি উপাদানই দেহের চাহিদা অনুপাতে সঠিক পরিমাণে উপস্থিত থাকে, তাকে সুষম খাদ্য বলে। একটি আদর্শ সুষম খাদ্য তালিকায় থাকা উচিত: (১) শর্করা (মোট ক্যালোরির 60-70%) — ভাত, রুটি, আলু, ওটস, (২) প্রোটিন (10-15%) — মাছ/ডিম/ডাল/সয়াবিন/দুধ, (৩) ফ্যাট (15-25%) — রান্নার তেল, বাদাম, (৪) ভিটামিন ও খনিজ — টাটকা মৌসুমি ফল ও সবজি, সবুজ শাক, (৫) ফাইবার — শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য, (৬) পর্যাপ্ত জল — 2-3 লিটার। বয়স, লিঙ্গ, কাজের ধরন অনুযায়ী পরিমাণ ভিন্ন হবে — যেমন বাড়ন্ত শিশু, গর্ভবতী, খেলোয়াড়ের প্রোটিন বেশি লাগে।
9. প্রাকৃতিক খাদ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও জাঙ্ক ফুডের মধ্যে পার্থক্য কী? কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?
প্রাকৃতিক খাদ্য (Natural Food): সরাসরি প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত, কোনো প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া — পুষ্টিগুণে ভরপুর, দাম কম। যেমন: তাজা ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল, দুধ। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য (Processed Food): সংরক্ষণের জন্য কিছু প্রক্রিয়াকরণ করা হয় — কিছু পুষ্টি নষ্ট হয়, দাম মাঝারি। যেমন: আটা (গম পেষা), পাস্তুরিত দুধ, শুকনো ফল, আচার। জাঙ্ক ফুড/সংসৃষ্ট খাদ্য (Ultra-processed/Junk): সম্পূর্ণ কৃত্রিম উপাদান, উচ্চ ক্যালোরি কিন্তু পুষ্টি প্রায় নেই — রং, স্বাদ, গন্ধ কৃত্রিমভাবে যোগ। যেমন: চিপস, কোমল পানীয়, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, বার্গার। সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর: প্রাকৃতিক খাদ্য — তারপর প্রক্রিয়াজাত। জাঙ্ক ফুড যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।
10. খাদ্যতন্তু (Dietary Fiber) কী? এর উৎস ও গুরুত্ব লেখো।
খাদ্যতন্তু বা ফাইবার (Roughage): উদ্ভিজ্জ খাদ্যের অপাচ্য অংশ — প্রধানত সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, পেকটিন ও লিগনিন যা মানুষের পাচক রস হজম করতে পারে না। প্রকার: (১) দ্রবণীয় ফাইবার — ওটস, ইসবগুল, আপেল, গাজর — কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা কমায়, (২) অদ্রবণীয় ফাইবার — গোটা শস্য, শাকসবজি, বাদাম — মলের পরিমাণ বাড়ায়। উৎস: ফল (আপেল, পেয়ারা, কলা), সবজি (গাজর, বিট, ব্রোকোলি), ডাল, ছোলা, ওটস, ইসবগুলের ভুসি, বাদাম। গুরুত্ব: (১) কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে ও পাইলসের ঝুঁকি কমায়, (২) কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ, (৩) রক্তের কোলেস্টেরল ও শর্করা নিয়ন্ত্রণ, (৪) ওজন নিয়ন্ত্রণ — পেট ভরা অনুভূতি দেয়।
1. খাদ্যের প্রধান পুষ্টি উপাদানগুলি (শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট) বিস্তারিত আলোচনা করো। এদের উৎস, দেহে কাজ ও অভাবজনিত সমস্যা সম্পর্কে লেখো।
খাদ্যের তিনটি প্রধান শক্তি সরবরাহকারী উপাদান
| বিষয় | শর্করা (Carbohydrate) | প্রোটিন (Protein) | ফ্যাট/লিপিড (Fat) |
|---|
| গঠন | C, H, O (Cₙ(H₂O)ₙ) | C, H, O, N, S — অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার | C, H, O — ফ্যাটি অ্যাসিড + গ্লিসেরল |
| শক্তি | 4 kcal/g | 4 kcal/g | 9 kcal/g (সর্বোচ্চ) |
| প্রধান উৎস | ভাত, রুটি, আলু, চিনি, ফল | মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, দুধ | তেল, ঘি, মাখন, বাদাম |
| প্রধান কাজ | শক্তির প্রধান উৎস | দেহগঠন, এনজাইম, হরমোন | সংরক্ষিত শক্তি, অন্তরক |
| অভাব | ম্যারাসমাস (শীর্ণতা) | কোয়াশিওরকর, বৃদ্ধি ব্যাহত | শক্তি ঘাটতি, ফ্লেকি স্কিন |
শর্করা দৈনিক মোট ক্যালোরির 60-70%, প্রোটিন 10-15% ও ফ্যাট 15-25% সরবরাহ করা উচিত। তিনটিই দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।
2. ভিটামিন কাকে বলে? ফ্যাটে দ্রাব্য ও জলে দ্রাব্য ভিটামিনগুলির তালিকা তৈরি করে প্রত্যেকটির উৎস, কাজ ও অভাবজনিত রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত লেখো।
ভিটামিন — সারসারণি
| ভিটামিন | রাসায়নিক নাম | উৎস | কাজ | অভাবে রোগ |
|---|
| A | রেটিনল | গাজর, পাকা আম, মেটে, ডিম | দৃষ্টি, ত্বক, রোগ প্রতিরোধ | রাতকানা, জেরপথ্যালমিয়া |
| D | ক্যালসিফেরল | সূর্যালোক, দুধ, ডিম, মাছের তেল | Ca শোষণ, হাড় গঠন | রিকেটস (শিশু), অস্টিওম্যালাসিয়া |
| E | টোকোফেরল | বাদাম, সূর্যমুখী তেল, পালং | অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, কোষ সুরক্ষা | বন্ধ্যত্ব, স্নায়ুর সমস্যা |
| K | ফাইলোকুইনোন | সবুজ শাক, ব্রোকোলি | রক্ত জমাট বাঁধা | রক্তক্ষরণ, হিমোরেজ |
| B1 | থায়ামিন | গোটা শস্য, ডাল, বাদাম | শর্করা বিপাক, স্নায়ু | বেরিবেরি |
| B3 | নায়াসিন | মাংস, বাদাম, গোটা শস্য | কোষ শ্বসন | পেলাগ্রা (4D) |
| B12 | কোবালামিন | মাংস, ডিম, দুধ (উদ্ভিজ্জে নেই) | DNA সংশ্লেষ, লোহিত কণিকা | পার্নিসিয়াস অ্যানিমিয়া |
| C | অ্যাসকরবিক অ্যাসিড | আমলকী, লেবু, পেয়ারা, টম্যাটো | কোলাজেন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, Fe শোষণ | স্কার্ভি |
3. মানবদেহে জলের ভূমিকা ব্যাপক ও বহুমুখী — বিস্তারিত আলোচনা করো। জল বিশুদ্ধকরণের বিভিন্ন পদ্ধতি ও দৈনিক জলের সঠিক চাহিদা সম্পর্কে লেখো।
জল (Water) — জীবনের জন্য অপরিহার্য
মানবদেহের ওজনের 60-70% জল। রক্তে 90%, মস্তিষ্কে 73%, পেশিতে 75%, হাড়ে 31%।
দেহে জলের প্রধান ভূমিকা:
- সার্বজনীন দ্রাবক: পুষ্টি, গ্যাস (O₂, CO₂), বর্জ্য, ইলেকট্রোলাইট দ্রবীভূত করে।
- পরিবাহক মাধ্যম: রক্তরস (Plasma) হয়ে পুষ্টি, হরমোন ও বর্জ্য পরিবহণ।
- তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: ঘাম নিঃসরণ ও বাষ্পীভবনে দেহ ঠান্ডা — 1 ml ঘাম বাষ্পীভূত হতে ~0.58 kcal তাপ অপসারিত হয়।
- পিচ্ছিলকারক: অস্থিসন্ধির সাইনোভিয়াল ফ্লুইড, লালা, শ্লেষ্মা।
- রাসায়নিক বিক্রিয়া: হাইড্রোলাইসিস, হজম — জলের অনুপস্থিতিতে এনজাইম কাজ করে না।
- রেচন: বৃক্কের মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, অতিরিক্ত লবণ মূত্রে নির্গত।
জল বিশুদ্ধকরণ:
- ফুটানো: 15-20 মিনিট ফুটালে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস মরে — সহজ ও নির্ভরযোগ্য।
- পরিস্রাবণ (Filtration): ক্যান্ডেল ফিল্টার, RO (Reverse Osmosis), UV ফিল্টার।
- রাসায়নিক: ক্লোরিন ট্যাবলেট (Halazone), ফিটকিরি (Alum) — কণা তলানিতে ফেলা।
দৈনিক চাহিদা:
প্রতি কেজি দেহের ওজনে 30-50 ml। 50 কেজির মানুষ → 1.5-2.5 L, 70 কেজি → 2-3 L। গরম আবহাওয়া, ব্যায়াম ও জ্বরে বেশি।
মনে রেখো!
শর্করা-প্রোটিন-ফ্যাট → শক্তি | ভিটামিন-খনিজ → শক্তি নেই, তবু অপরিহার্য | A-D-E-K → ফ্যাটে দ্রাব্য | B-C → জলে দ্রাব্য | ঘামের সাথে Na⁺ বেরোয় → ORS খাও | স্কার্ভি → ভিট C, রিকেট → ভিট D, রাতকানা → ভিট A, অ্যানিমিয়া → Fe, গলগণ্ড → I | জাঙ্ক ফুড এড়াও, প্রাকৃতিক খাবার খাও!