Chapter 8: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য (Environment & Public Health)

ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া | পেশাগত স্বাস্থ্য সমস্যা | বায়ুবাহিত রোগ | জলবাহিত রোগ | মশা-মাছি | খাদ্য ভেজাল | পাস্তুরাইজেশন | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 27 April 2026 Last Update: 31 May 2026

Chapter 8: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

Class 7 Poribesh O Biggan

Chapter 8: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 41 MCQ | 7 SAQ | 3 Broad

MCQ (ব্যাখ্যাসহ)

41 টি
1. জাপানের মিনামাটা রোগের কারণ কোন ধাতুর বিষক্রিয়া?
ক) ক) সীসা
খ) খ) পারদ (Mercury)
গ) গ) ক্যাডমিয়াম
ঘ) ঘ) আর্সেনিক
মিনামাটা রোগ (Minamata Disease) জাপানে প্রথম শনাক্ত হয় (1956)। চিসো কর্পোরেশনের কারখানা থেকে নির্গত মিথাইলমার্কারি যুক্ত বর্জ্য সমুদ্রের জলে মেশে → মাছ ও কাঁকড়ায় জমা → সেই মাছ খেয়ে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এটি পারদের (Hg) বিষক্রিয়াজনিত রোগ।
2. পারদ (Mercury) থার্মোমিটার ও CFL বাল্বে কেন ব্যবহার হয়?
ক) ক) এটি হালকা
খ) খ) তাপমাত্রা পরিবর্তনে সুষম প্রসারণ ও সংকোচন ঘটে
গ) গ) এটি সস্তা
ঘ) ঘ) এটি রঙিন
পারদ (Hg) একমাত্র তরল ধাতু — তাপমাত্রা পরিবর্তনে এটি সমভাবে প্রসারিত ও সংকুচিত হয়, অস্বচ্ছ ও চকচকে বলে সরু নলের মধ্যেও সহজে দেখা যায়। থার্মোমিটার, ব্যারোমিটার, CFL বাল্বে পারদ ব্যবহৃত হয়। তবে বিষাক্ততার জন্য এখন ডিজিটাল থার্মোমিটার ও LED বাল্ব উৎসাহিত করা হচ্ছে।
3. আর্সেনিক (Arsenic) দূষণের ফলে কোন রোগ দেখা যায়?
ক) ক) গলগণ্ড
খ) খ) ব্ল্যাকফুট ডিজিজ ও ত্বকের ক্ষত
গ) গ) রাতকানা
ঘ) ঘ) বেরিবেরি
আর্সেনিক (As) বিষক্রিয়ায় হাত-পায়ের তলায় কালো দাগ (Keratosis), চামড়া কুঁচকে যাওয়া, ব্ল্যাকফুট ডিজিজ (Blackfoot Disease — পায়ের আঙুল পচে যাওয়া), ত্বক, ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যানসার হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ জেলা আর্সেনিক-দূষিত ভৌমজলের জন্য কুখ্যাত।
4. পানীয় জলে অতিরিক্ত ফ্লুরাইড (Fluoride) থাকলে কী সমস্যা হয়?
ক) ক) চুল পড়ে
খ) খ) দাঁতে ছোপ (Dental Fluorosis) ও হাড় বেঁকে যাওয়া (Skeletal Fluorosis)
গ) গ) জ্বর হয়
ঘ) ঘ) চোখ লাল হয়
1.5 mg/L-এর বেশি ফ্লুরাইডযুক্ত জল পান করলে দাঁতের এনামেলে বাদামি ছোপ (Dental Fluorosis) পড়ে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হাড় বেঁকে যায়, গাঁট শক্ত হয়ে যায় — একে স্কেলিটাল ফ্লুরোসিস বলে। বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মালদহ জেলার ভৌমজলে ফ্লুরাইডের মাত্রা বেশি।
5. খনিতে কাজ করা শ্রমিকদের মধ্যে কোন রোগ বেশি দেখা যায়?
ক) ক) ডায়াবেটিস
খ) খ) সিলিকোসিস (Silicosis) বা ফুসফুসের ক্ষতি
গ) গ) প্রেসবায়োপিয়া
ঘ) ঘ) চর্মরোগ
খনিতে দীর্ঘদিন কাজ করলে ধূলিকণা (কয়লা, সিলিকা, অ্যাসবেস্টস) ফুসফুসে জমে সিলিকোসিস (Silicosis), নিউমোকোনিওসিস (Pneumoconiosis), অ্যাসবেস্টোসিস (Asbestosis) — এগুলি পেশাগত ফুসফুসের রোগ। ফুসফুসের কলায় আঁশ জমে শ্বাসকষ্ট হয় এবং অক্সিজেন গ্রহণ ক্ষমতা কমে যায়।
6. ইঁটভাটার শ্রমিকরা কোন পেশাগত সমস্যায় ভোগেন?
ক) ক) মানসিক চাপ
খ) খ) কোমর ও হাঁটুর ব্যথা, চামড়া পোড়া
গ) গ) চোখের ছানি
ঘ) ঘ) শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস
ইঁটভাটার শ্রমিকরা দীর্ঘক্ষণ ঝুঁকে কাজ করেন, ভারী বোঝা তোলেন, এবং চুল্লির সামনে কাজ করেন। ফলে কোমর-হাঁটু-ঘাড়ের ব্যথা (Musculoskeletal Disorders), গরমে চামড়া পুড়ে যাওয়া ও চোখের সমস্যা দেখা যায়। কৃষি শ্রমিকরাও ঝুঁকে কাজ করে একই ধরনের সমস্যায় ভোগেন।
7. যে সব পেশায় শারীরিক শ্রম কম, সেখানে কোন রোগের ঝুঁকি বেশি?
ক) ক) হাড় ভাঙা
খ) খ) ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা (Obesity)
গ) গ) চর্মরোগ
ঘ) ঘ) বাতজ্বর
ডেস্ক জব, কম্পিউটারে কাজ, চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ — এতে শারীরিক সঞ্চালন কম হয়, অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয় না, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল বাড়ে। স্থূলতা (Obesity), টাইপ-2 ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension), হার্টের রোগ, স্পন্ডিলাইটিস ইত্যাদি 'লাইফস্টাইল ডিজিজ' দেখা দেয়।
8. বায়ুবাহিত রোগ (Airborne Disease) কীভাবে ছড়ায়?
ক) ক) জল খেলে
খ) খ) হাঁচি-কাশির ড্রপলেট ও ধূলিকণার মাধ্যমে
গ) গ) মশার কামড়ে
ঘ) ঘ) স্পর্শে
রোগীর হাঁচি, কাশি, কথা বলা বা থুতু ফেলার সময় অসংখ্য ক্ষুদ্র ড্রপলেট (Droplet) ও তরল কণা বাতাসে ভাসতে থাকে। এই কণায় থাকা জীবাণু (ভাইরাস/ব্যাকটেরিয়া) সুস্থ লোকের নাক-মুখ দিয়ে দেহে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। শুকনো ড্রপলেট ধূলিকণার সাথে মিশেও ছড়ায়।
9. যক্ষ্মা বা টিবি (Tuberculosis) রোগের কারণ কী?
ক) ক) ভাইরাস
খ) খ) ব্যাকটেরিয়া (Mycobacterium tuberculosis)
গ) গ) ছত্রাক
ঘ) ঘ) প্রোটোজোয়া
যক্ষ্মা (TB) মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস (Mycobacterium tuberculosis) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। এটি বায়ুবাহিত — রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। প্রধানত ফুসফুসে আক্রমণ করে (Pulmonary TB) — একনাগাড়ে কাশি, জ্বর, রক্ত পড়া। BCG টিকা ও DOTS থেরাপি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় কার্যকর।
10. ইনফ্লুয়েঞ্জা (Influenza/Flu) কোন ধরনের জীবাণু ঘটিত রোগ?
ক) ক) ব্যাকটেরিয়া
খ) খ) ভাইরাস
গ) গ) প্রোটোজোয়া
ঘ) ঘ) কৃমি
ইনফ্লুয়েঞ্জা (Flu) ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (Influenza virus A, B, C) দ্বারা সংক্রমিত বায়ুবাহিত রোগ। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। লক্ষণ: জ্বর, সারা শরীরে ব্যথা, গলা ব্যথা, কাশি। H1N1 (Swine Flu, 2009) ও H5N1 (Bird Flu/Avian Influenza) এর মারাত্মক রূপ।
11. কোভিড-১৯ (COVID-19) কোন ধরনের জীবাণু ঘটিত?
ক) ক) ব্যাকটেরিয়া
খ) খ) ভাইরাস (SARS-CoV-2)
গ) গ) ছত্রাক
ঘ) ঘ) প্রোটোজোয়া
কোভিড-১৯ (Coronavirus Disease 2019) SARS-CoV-2 (Severe Acute Respiratory Syndrome Coronavirus 2) নামক ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত। এটি প্রধানত ড্রপলেট ও বায়ুবাহিত (Aerosol) সংক্রমণে ছড়ায়। ২০২০ সালে WHO মহামারি (Pandemic) ঘোষণা করে।
12. কলেরা (Cholera) কোন ধরনের রোগ?
ক) ক) বায়ুবাহিত
খ) খ) জলবাহিত (Waterborne)
গ) গ) রক্তবাহিত
ঘ) ঘ) বংশগত
কলেরা (Cholera) ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae) ব্যাকটেরিয়া ঘটিত জল ও খাদ্যবাহিত রোগ। দূষিত জল বা খাবার থেকে ছড়ায়। লক্ষণ: বারবার চাল ধোয়া জলের মতো পাতলা মল (Rice-water stool), বমি, তীব্র জলশূন্যতা। ORS (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন) ও বিশুদ্ধ জল পান প্রতিরোধের মূল উপায়।
13. পোলিও (Polio) রোগ কীভাবে ছড়ায়?
ক) ক) বায়ুর মাধ্যমে
খ) খ) দূষিত জল ও খাবারের মাধ্যমে (Feco-oral route)
গ) গ) রক্ত সঞ্চালনে
ঘ) ঘ) যৌন সংসর্গে
পোলিওমায়েলাইটিস (Poliomyelitis) পোলিও ভাইরাস ঘটিত — মল-মিশ্রিত দূষিত জল ও খাদ্যের মাধ্যমে (Fecal-Oral route) ছড়ায়। ভাইরাস স্নায়ুতন্ত্র আক্রমণ করে পক্ষাঘাত (Flaccid Paralysis) ঘটাতে পারে। পোলিও ভ্যাকসিন (OPV ও IPV) দিয়ে ভারত 2014 সালে পোলিওমুক্ত ঘোষিত হয়েছে।
14. ম্যালেরিয়া (Malaria) রোগের জীবাণুর নাম কী?
ক) ক) ভিব্রিও কলেরি
খ) খ) প্লাসমোডিয়াম (Plasmodium)
গ) গ) মাইকোব্যাকটেরিয়াম
ঘ) ঘ) রাইনোভাইরাস
ম্যালেরিয়া প্রোটোজোয়া ঘটিত রোগ — প্লাসমোডিয়াম (Plasmodium vivax, P. falciparum সবচেয়ে মারাত্মক)। স্ত্রী অ্যানোফিলিস (Anopheles) মশার কামড়ে এই জীবাণু মানবদেহে প্রবেশ করে। পর্যায়ক্রমিক জ্বর (ঠান্ডা-কাঁপুনি-ঘাম), রক্তাল্পতা, প্লীহা বড় হওয়া। সিনকোনা গাছের ছাল থেকে কুইনাইন (Quinine) ওষুধ আবিষ্কৃত হয়।
15. ডেঙ্গু (Dengue) রোগের বাহক কোন মশা?
ক) ক) অ্যানোফিলিস
খ) খ) কিউলেক্স
গ) গ) এডিস ইজিপ্টাই (Aedes aegypti)
ঘ) ঘ) ম্যানসোনিয়া
ডেঙ্গু ভাইরাস ঘটিত মশাবাহিত রোগ — বাহক স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই মশা। এডিস মশার পায়ে সাদা-কালো ডোরা থাকে, এটি দিনের বেলায় কামড়ায় এবং পরিষ্কার জমা জলে (ফুলদানি, টায়ার, কুলার) ডিম পাড়ে। লক্ষণ: তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, গায়ে র্যাশ, প্লেটলেট কমে যাওয়া।
16. চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) কোন মশার মাধ্যমে ছড়ায়?
ক) ক) অ্যানোফিলিস
খ) খ) এডিস
গ) গ) কিউলেক্স
ঘ) ঘ) স্যান্ডফ্লাই
চিকুনগুনিয়া ভাইরাস ঘটিত রোগ — বাহক এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাস মশা। ডেঙ্গুর মতোই পরিষ্কার জমা জলে বংশবৃদ্ধি করে। প্রধান লক্ষণ: তীব্র গাঁটের ব্যথা ও ফোলা (Arthralgia), যা সপ্তাহ বা মাস ধরে থাকতে পারে — 'চিকুনগুনিয়া' শব্দের অর্থ 'যা বেঁকিয়ে দেয়'।
17. সাধারণ মাছি (Housefly) কোন রোগ ছড়ায়?
ক) ক) ম্যালেরিয়া
খ) খ) টাইফয়েড, ডায়ারিয়া, কলেরা
গ) গ) ডেঙ্গু
ঘ) ঘ) পোলিও
গৃহমাছি (Musca domestica) বর্জ্য, মল, থুতু ও পচা খাবারে বসে — পা ও লালা দিয়ে জীবাণু বহন করে সুস্থ মানুষের খাবারে ছড়ায়। টাইফয়েড (Salmonella typhi), কলেরা, ডায়ারিয়া, আমাশয়, পোলিও ইত্যাদি মাছিবাহিত রোগ। মাছির পেটে 4টি কালো ডোরা থাকে।
18. পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization) কে আবিষ্কার করেন?
ক) ক) রবার্ট কখ
খ) খ) লুই পাস্তুর (Louis Pasteur)
গ) গ) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ঘ) ঘ) এডওয়ার্ড জেনার
ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) 1860-এর দশকে পাস্তুরাইজেশন প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন। দুধকে 63°C-তে 30 মিনিট (বা 72°C-তে 15 সেকেন্ড) গরম করে দ্রুত ঠান্ডা করলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মরে যায় কিন্তু স্বাদ ও পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
19. বটুলিজম (Botulism) রোগের কারণ কী?
ক) ক) ভাইরাস
খ) খ) ব্যাকটেরিয়া (Clostridium botulinum) — টিনজাত খাবারে হতে পারে
গ) গ) ছত্রাক
ঘ) ঘ) কৃমি
ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম (Clostridium botulinum) ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেন-শূন্য পরিবেশে (যেমন ফোলা টিনজাত খাবার) বোটুলিনাম টক্সিন নামক মারাত্মক বিষ উৎপন্ন করে। এই টক্সিন স্নায়ুতন্ত্র আক্রমণ করে পক্ষাঘাত (Paralysis) ঘটাতে পারে — এমনকি শ্বাসযন্ত্র অচল হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।
20. খাদ্যে ভেজাল (Food Adulteration) বলতে কী বোঝায়?
ক) ক) খাবার প্যাকেট করা
খ) খ) খাদ্যে ক্ষতিকর বা নিম্নমানের পদার্থ মেশানো, প্রয়োজনীয় উপাদান সরানো
গ) গ) রান্না করা
ঘ) ঘ) ফ্রিজে রাখা
খাদ্যে ভেজাল (Adulteration): ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্যের গুণগত মান কমাতে বা পরিমাণ বাড়াতে ক্ষতিকর বা নিম্নমানের পদার্থ মেশানো, অথবা মূল্যবান উপাদান সরিয়ে ফেলা। যেমন — হলুদে মেটানিল ইয়োলো, দুধে জল, ঘিয়ে ভ্যানাস্পতি, চিনিতে চক পাউডার। FSSAI (Food Safety and Standards Authority of India) ভেজাল প্রতিরোধে কাজ করে।
21. মেটানিল ইয়োলো (Metanil Yellow) কোথায় ভেজাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
ক) ক) দুধে
খ) খ) হলুদ (Turmeric) ও মিষ্টিতে কৃত্রিম রং হিসেবে
গ) গ) চায়ে
ঘ) ঘ) ফলে
মেটানিল ইয়োলো (Metanil Yellow) একটি শিল্প রঞ্জক (Industrial dye), খাদ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা হলুদ, জিলিপি, লাড্ডু, পাপড়-এ আকর্ষণীয় হলুদ-কমলা রং আনতে এটি মেশায়। দীর্ঘদিন খেলে যকৃতের ক্ষতি, ক্যানসার ও স্নায়ুর রোগ হতে পারে।
22. আজিনোমোটো (Ajinomoto/MSG) কী?
ক) ক) ভিটামিন
খ) খ) মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট — কৃত্রিম স্বাদবর্ধক
গ) গ) প্রোটিন
ঘ) ঘ) ফ্যাট
আজিনোমোটো বা MSG (Monosodium Glutamate) একটি কৃত্রিম স্বাদবর্ধক (Flavour Enhancer) — চাইনিজ খাবার (চাউমিন, স্যুপ, মোমো), প্যাকেটজাত স্ন্যাকসে ব্যবহৃত। অতিরিক্ত সেবনে 'চায়না সিনড্রোম' (মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, ঘাম), স্নায়ুর ক্ষতি ও স্থূলতা হতে পারে।
23. খাদ্য সংরক্ষণের (Food Preservation) প্রাচীনতম পদ্ধতি কোনটি?
ক) ক) ফ্রিজিং
খ) খ) শুকনো করা (Drying), নুন বা চিনি দেওয়া
গ) গ) পাস্তুরাইজেশন
ঘ) ঘ) ক্যানিং
শুকনো করা (Sun Drying), নুন (Salting) বা চিনি (Sugaring) দিয়ে সংরক্ষণ প্রাচীনতম খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি। আচার (Pickling) — নুন, তেল ও মশলা দিয়ে, মোরব্বা — চিনির ঘন সিরায়, শুঁটকি মাছ — রোদে শুকিয়ে। এগুলির মূলনীতি — অসমোটিক চাপে অণুজীবের জল বের করে ধ্বংস করা।
24. বসন্ত (Smallpox) রোগ কীভাবে নির্মূল করা হয়েছে?
ক) ক) অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে
খ) খ) টিকাকরণ (Vaccination) — WHO-র ব্যাপক কর্মসূচিতে
গ) গ) অস্ত্রোপচার করে
ঘ) ঘ) ওষুধ দিয়ে
বসন্ত বা স্মলপক্স (Smallpox) — ভ্যারিওলা ভাইরাস (Variola virus) ঘটিত ভয়াবহ সংক্রামক রোগ। এডওয়ার্ড জেনার (1796) গো-বসন্ত থেকে প্রথম টিকা (Cowpox → Vaccination) আবিষ্কার করেন। WHO-র নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী টিকাকরণ অভিযানের মাধ্যমে 1977 সালে সর্বশেষ প্রাকৃতিক কেস শনাক্ত হয় এবং 1980 সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় — 'বসন্ত নির্মূল হয়েছে' — এটিই একমাত্র মানব রোগ যা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে।
25. CFL বাল্ব ভাঙলে কী বিপদ হতে পারে?
ক) ক) কিছুই হয় না
খ) খ) পারদ (Mercury) বাষ্প নির্গত হয়ে বিষক্রিয়া
গ) গ) আগুন লাগে
ঘ) ঘ) শব্দ হয়
কম্প্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট বাতির (CFL) ভিতরে অল্প পরিমাণ পারদ (Mercury) বাষ্প থাকে — প্রায় 4-5 মিলিগ্রাম। বাল্ব ভাঙলে পারদ বাষ্প ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্বাসের সাথে দেহে প্রবেশ করলে স্নায়ুতন্ত্র, বৃক্ক ও ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। তাই CFL ব্যবহারে সাবধানতা ও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নিষ্কাশন (E-waste disposal) জরুরি।
26. কর্মক্ষেত্রে কোন বিপদজনক গ্যাসের উপস্থিতি শ্রমিকদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে?
ক) ক) অক্সিজেন
খ) খ) কার্বন মনোক্সাইড (CO)
গ) গ) নাইট্রোজেন
ঘ) ঘ) হিলিয়াম
কলকারখানা ও খনিতে অসম্পূর্ণ দহনের ফলে কার্বন মনোক্সাইড (CO) গ্যাস উৎপন্ন হতে পারে। CO বর্ণহীন, গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস — রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেনের চেয়ে 250 গুণ জোরে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহণ বন্ধ করে দেয় (Hypoxia) → শ্রমিকের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
27. ORS (Oral Rehydration Solution) কখন ব্যবহার করা হয়?
ক) ক) জ্বর হলে
খ) খ) ডায়ারিয়া বা কলেরায় জলশূন্যতা (Dehydration) রোধে
গ) গ) কাশি হলে
ঘ) ঘ) চুলকানিতে
ORS (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন) — নির্দিষ্ট অনুপাতে গ্লুকোজ + সোডিয়াম ক্লোরাইড + পটাশিয়াম ক্লোরাইড + সোডিয়াম সাইট্রেট মেশানো লাইফ সেভিং দ্রবণ। কলেরা, ডায়ারিয়া বা বমিতে দেহ থেকে বেরিয়ে যাওয়া জল ও ইলেকট্রোলাইট পুনঃস্থাপন করে। গ্লুকোজ Na⁺ শোষণে সাহায্য করে — কো-ট্রান্সপোর্ট মেকানিজম।
28. জলবাহিত রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় কী?
ক) ক) ওষুধ খাওয়া
খ) খ) বিশুদ্ধ পানীয় জল ও সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন (Sanitation)
গ) গ) ব্যায়াম
ঘ) ঘ) টিকা
জলবাহিত রোগ (কলেরা, টাইফয়েড, ডায়ারিয়া, হেপাটাইটিস A, পোলিও) প্রতিরোধের মূল ভিত্তি: (১) বিশুদ্ধ পানীয় জল — ফুটানো/ফিল্টার/ক্লোরিনেশন, (২) যথাযথ শৌচালয় ব্যবহার ও পয়ঃনিষ্কাশন — খোলা জায়গায় মল ত্যাগ না করা (ODF — Open Defecation Free)। স্বচ্ছ ভারত মিশন (SBM)-এর এটি অন্যতম লক্ষ্য।
29. কোন মশা ফাইলেরিয়া (Filariasis) বা গোদ রোগ ছড়ায়?
ক) ক) অ্যানোফিলিস
খ) খ) এডিস
গ) গ) কিউলেক্স (Culex)
ঘ) ঘ) স্যান্ডফ্লাই
ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ (Elephantiasis) উশেরেরিয়া ব্যানক্রফটি (Wuchereria bancrofti) নামক কৃমি ঘটিত — বাহক কিউলেক্স (Culex quinquefasciatus) মশা। এটি ডোবা-নালার নোংরা জলে বংশবৃদ্ধি করে, রাতে কামড়ায়। দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণে পা, হাত, অণ্ডকোষ অস্বাভাবিক ফুলে হাতির মতো হয়ে যায়।
30. টাইফয়েড (Typhoid) রোগের জীবাণুর নাম কী?
ক) ক) ভিব্রিও কলেরি
খ) খ) সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi)
গ) গ) প্লাসমোডিয়াম
ঘ) ঘ) মাইকোব্যাকটেরিয়াম
টাইফয়েড বা এন্টেরিক জ্বর — সালমোনেলা টাইফি (Salmonella typhi) ব্যাকটেরিয়া ঘটিত জল ও খাদ্যবাহিত রোগ। দূষিত জল, মাছি-বসা খাবার থেকে ছড়ায়। লক্ষণ: ক্রমাগত জ্বর (Step-ladder pattern), মাথাব্যথা, পেটে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়ারিয়া। WIDAL টেস্টে নির্ণয়।
31. খাদ্যে বিষক্রিয়া (Food Poisoning) প্রতিরোধে কী করা উচিত?
ক) ক) বাসি খাবার না খেয়ে তাজা ও ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া
খ) খ) যেকোনো খাবার খাওয়া
গ) গ) শুধু ফল খাওয়া
ঘ) ঘ) খাবার না খাওয়া
খাদ্যে বিষক্রিয়া প্রতিরোধ: (১) তাজা খাবার খাও — বাসি, পচা, দুর্গন্ধযুক্ত নয়, (২) মাছ-মাংস-ডিম 70°C-র উপরে ভালোভাবে রান্না করা, (৩) রান্না করা খাবার ২ ঘণ্টার বেশি ঘরের তাপমাত্রায় না রেখে ফ্রিজে রাখা, (৪) খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, (৫) কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা (Cross-contamination রোধ)।
32. কাঁচা সবজি ও ফল খাওয়ার আগে কী করা প্রয়োজন?
ক) ক) কিছুই না
খ) খ) পরিষ্কার জলে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া
গ) গ) গরম করা
ঘ) ঘ) ফেলে দেওয়া
কাঁচা ফল ও সবজির গায়ে মাটি, সার, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ (Pesticide Residue) এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (E. coli, Salmonella) লেগে থাকতে পারে। তাই খাওয়ার আগে অবশ্যই পরিষ্কার প্রবাহমান জলে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে লবণ-জল বা ভিনিগার জলে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে।
33. কোয়ারেন্টাইন (Quarantine) শব্দটির অর্থ কী?
ক) ক) চিকিৎসা
খ) খ) সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে রোগী বা সন্দেহভাজনকে পৃথক রাখা
গ) গ) টিকা দেওয়া
ঘ) ঘ) ওষুধ তৈরি
কোয়ারেন্টাইন (Quarantine — ইতালীয় 'quaranta giorni' = 40 দিন): সংক্রামক রোগের সম্ভাব্য বাহক (মানুষ, পশু বা পণ্য)-কে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথক রাখা, যাতে রোগের ইনকিউবেশন পিরিয়ড পার হয়ে যায়। প্লেগ মহামারির সময় ১৪ শতকে ভেনিসে জাহাজগুলিকে ৪০ দিন বন্দরে পৃথক রাখা হত। COVID-19 মহামারিতে হোম কোয়ারেন্টাইন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
34. প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতা (Natural Immunity) কী?
ক) ক) টিকা নেওয়ার পর যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হয়
খ) খ) জন্মগতভাবে বা রোগ ভোগার পর স্বাভাবিকভাবে অর্জিত প্রতিরোধ ক্ষমতা
গ) গ) ওষুধ খাওয়ার পর
ঘ) ঘ) ইনজেকশনের পর
প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতা দুই প্রকার: (১) সহজাত (Innate) — জন্ম থেকেই প্রাপ্ত (ত্বক, শ্লেষ্মা, পাকস্থলীর অ্যাসিড), (২) অর্জিত (Acquired) — রোগাক্রান্ত হওয়ার পর প্রাকৃতিকভাবে (যেমন — একবার চিকেনপক্স হলে সারা জীবনের জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা)। টিকার মাধ্যমে অর্জিত অনাক্রম্যতা কৃত্রিম অর্জিত অনাক্রম্যতা।
35. অধিকাংশ সংক্রামক রোগের জন্য দায়ী অণুজীব কোনগুলি?
ক) ক) শুধু ব্যাকটেরিয়া
খ) খ) ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া ও কৃমি
গ) গ) শুধু ভাইরাস
ঘ) ঘ) শুধু ছত্রাক
রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবগুলিকে প্যাথোজেন (Pathogen) বলে — এগুলি পাঁচ ধরনের: (১) ভাইরাস (ইনফ্লুয়েঞ্জা, COVID-19, AIDS), (২) ব্যাকটেরিয়া (যক্ষ্মা, কলেরা, টাইফয়েড), (৩) ছত্রাক বা ফাঙ্গাস (দাদ, অ্যাসপারজিলোসিস), (৪) প্রোটোজোয়া (ম্যালেরিয়া, অ্যামিবিয়াসিস), (৫) কৃমি বা হেলমিন্থ (ফাইলেরিয়া, গোলকৃমি)।
36. ইমিউনাইজেশন (Immunization) বা টিকাকরণ কর্মসূচি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ক) ক) ওজন বাড়াতে
খ) খ) সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গণ-অনাক্রম্যতা (Herd Immunity) গড়ে তুলতে
গ) গ) উচ্চতা বাড়াতে
ঘ) ঘ) দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে
টিকাকরণ (Vaccination) কৃত্রিম অর্জিত প্রতিরোধ ক্ষমতা (Artificial Active Immunity) তৈরি করে। যখন কোনো জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ টিকাপ্রাপ্ত হন, তখন রোগটি সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ পায় না — একে হার্ড ইমিউনিটি (Herd Immunity) বা গণ-অনাক্রম্যতা বলে। ভারতের ইউনিভার্সাল ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম (UIP) ১২টি রোগের টিকা বিনামূল্যে দেয়।
37. কেন বর্ষাকালে মশাবাহিত রোগ বেশি হয়?
ক) ক) মশা শীতে মরে যায়
খ) খ) জমা জলে মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ
গ) গ) গরমে মশা ওড়ে না
ঘ) ঘ) বৃষ্টিতে মশা ভিজে যায়
বর্ষায় সর্বত্র জল জমে — ফুলদানি, ডাবের খোল, টায়ার, বালতি, ডোবা, নালা। মশা (এডিস, অ্যানোফিলিস, কিউলেক্স) জমা জলে ডিম পাড়ে → লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা হয়। উষ্ণতা ও আর্দ্রতা মশার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ। তাই বর্ষায় ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বৃদ্ধি পায়। জমা জল পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই প্রতিরোধের মূলকথা।
38. সংগনিরোধ (Isolation) ও সঙ্গরোধ (Quarantine)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
ক) ক) একই জিনিস
খ) খ) Isolation — নিশ্চিত রোগীকে পৃথক করা; Quarantine — সন্দেহভাজন বা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে পৃথক রাখা
গ) গ) Isolation — বাড়িতে থাকা; Quarantine — হাসপাতালে যাওয়া
ঘ) ঘ) কোনো পার্থক্য নেই
Isolation (পৃথকীকরণ): পরীক্ষায় নিশ্চিত (Confirmed) রোগীকে অন্য লোকের থেকে পৃথক রাখা যাতে রোগ সংক্রমণ না ঘটে। Quarantine (সঙ্গরোধ): রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি বা উপসর্গহীন কিন্তু সম্ভাব্য বাহককে নির্দিষ্ট সময়ের (ইনকিউবেশন পিরিয়ড) জন্য নজরদারিতে পৃথক রাখা। COVID-19 মহামারিতে দুটোই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
39. ক্যাডমিয়াম (Cadmium) দূষণের ফলে মানবদেহে কী রোগ হয়?
ক) ক) মিনামাটা
খ) খ) ইটাই-ইটাই (Itai-Itai) — হাড় নরম হয়ে ভেঙে যাওয়া
গ) গ) ব্ল্যাকফুট
ঘ) ঘ) স্কার্ভি
জাপানের জিনজু নদী উপত্যকায় ক্যাডমিয়াম (Cd) দূষণের ফলে ইটাই-ইটাই রোগ দেখা গিয়েছিল (Itai-Itai = 'ব্যথা করছে-ব্যথা করছে')। খনি থেকে নির্গত ক্যাডমিয়াম নদী ও ধানক্ষেতে মেশে → চাল খেয়ে মানুষের হাড় থেকে ক্যালশিয়াম বেরিয়ে গিয়ে হাড় নরম হত ও ভেঙে যেত — ভয়াবহ ব্যথা হত।
40. খাদ্যে ভেজালের ফলে সৃষ্ট তীব্র বিষক্রিয়ার লক্ষণ কী?
ক) ক) চোখ লাল হওয়া
খ) খ) বমি, ডায়ারিয়া, পেটে যন্ত্রণা, জ্বর, মাথাব্যথা
গ) গ) চুল পড়া
ঘ) ঘ) কাশি
খাদ্যে ভেজাল বা বিষক্রিয়ার সাধারণ তীব্র লক্ষণগুলি (2-3 ঘন্টার মধ্যে প্রকাশ পেতে পারে): (১) গা গোলানো ও বমি (Nausea & Vomiting), (২) পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, (৩) বারবার পাতলা মল (Diarrhea), রক্ত আমাশয়েও রক্ত যেতে পারে, (৪) জ্বর, (৫) মাথাব্যথা, (৬) দুর্বলতা। গুরুতর ক্ষেত্রে ডিহাইড্রেশন, বৃক্ক বিকল ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
41. মশা নিয়ন্ত্রণের জৈবিক পদ্ধতি (Biological Control) কী?
ক) ক) কীটনাশক স্প্রে
খ) খ) মশার লার্ভা খায় এমন মাছ (গাপ্পি, গাম্বুসিয়া) জমা জলে ছাড়া
গ) গ) মশারি টাঙানো
ঘ) ঘ) কয়েল জ্বালানো
মশা নিয়ন্ত্রণের জৈবিক পদ্ধতি (Biological Control): মশার লার্ভা ভক্ষণকারী ছোট মাছ — যেমন গাপ্পি (Guppy), গাম্বুসিয়া (Gambusia affinis — 'Mosquito fish'), তেলোটাকি, গাছুসিয়া — জমা জলে ছেড়ে দিলে মশার লার্ভা ও পিউপা খেয়ে ফেলে। এটি রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প।

SAQ (পূর্ণ উত্তর)

7 টি
1. পারদ বা মার্কারি (Mercury) বিষক্রিয়া কীভাবে ঘটে ও এর লক্ষণ কী?
পারদ (Mercury, Hg) একমাত্র তরল ধাতু — ভাঙা থার্মোমিটার, CFL বাল্ব, ব্যাটারি, শিল্প বর্জ্য ও সমুদ্রের দূষিত মাছ থেকে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। জাপানের মিনামাটা উপসাগরে কলকারখানার মিথাইলমার্কারি (Methylmercury) সমুদ্রের জলে মেশে → মাছ ও কাঁকড়ায় জমা (Bioaccumulation) → সেই মাছ খাওয়ার ফলে মানুষ মারাত্মক স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়। লক্ষণ: হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া (Numbness), দৃষ্টি ও শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস, পেশি দুর্বলতা, কথা বলতে অসুবিধা, দেহ ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, জন্মগত ত্রুটি (Congenital Minamata Disease — গর্ভস্থ শিশুরও ক্ষতি)। প্রতিরোধ: পারদ যুক্ত যন্ত্রের নিরাপদ নিষ্কাশন, সঠিক E-waste management।
2. পেশাগত স্বাস্থ্য সমস্যা (Occupational Health Hazard) কাকে বলে? তিনটি পেশা ও তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি উল্লেখ করো।
পেশাগত স্বাস্থ্য সমস্যা (Occupational Health Hazard): নির্দিষ্ট পেশার সাথে যুক্ত কর্মপরিবেশ, উপাদান বা কাজের ধরনের জন্য কর্মীর স্বাস্থ্যের উপর যে বিরূপ প্রভাব পড়ে, তাকে পেশাগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি বলে। তিনটি পেশা ও ঝুঁকি: (১) খনি শ্রমিক (Mine Worker): সিলিকা বা কয়লার ধূলিকণা ফুসফুসে জমে সিলিকোসিস (Silicosis) বা ব্ল্যাক লাং ডিজিজ — শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি হয়। এছাড়া খনির ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস (CO, মিথেন) থেকে মৃত্যু ঝুঁকি। (২) ইঁটভাটা ও নির্মাণ শ্রমিক (Brick Kiln & Construction Worker): দীর্ঘক্ষণ ঝুঁকে কাজ করা, ভারী বোঝা তোলা — কোমর-হাঁটু-ঘাড়ের স্থায়ী ব্যথা (Musculoskeletal Disorders); চুল্লির তাপে ত্বক পুড়ে যাওয়া, চোখের সমস্যা। (৩) ডেস্ক জব / IT কর্মী (Sedentary Worker): শারীরিক সঞ্চালন কম হওয়ায় স্থূলতা (Obesity), টাইপ-2 ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্পন্ডিলাইটিস (ঘাড় ও কোমরের ব্যথা), চোখের ওপর চাপ (Computer Vision Syndrome) এবং মানসিক চাপ (Depression, Anxiety) — এগুলিকে লাইফস্টাইল ডিজিজ বা সভ্যতার রোগ বলে।
3. বায়ুবাহিত রোগ (Airborne Diseases) কীভাবে সংক্রমিত হয়? তিনটি রোগ ও তাদের প্রতিকার লেখো।
বায়ুবাহিত রোগ বায়ুকে মাধ্যম করে সংক্রমিত হয়। দুটি প্রধান পদ্ধতি: (১) ড্রপলেট সংক্রমণ (Droplet Infection): রোগীর হাঁচি, কাশি, কথা বলার সময় অসংখ্য ক্ষুদ্র তরল কণা (Droplet nuclei) বেরিয়ে আসে — এই কণায় অসংখ্য জীবাণু (ভাইরাস/ব্যাকটেরিয়া) থাকে। সুস্থ মানুষ নিঃশ্বাসের সাথে এগুলি টেনে নিলে সংক্রামিত হয়। (২) ধূলি সংক্রমণ (Dust Infection): বড় ড্রপলেট মাটিতে পড়ে শুকিয়ে গেলে, জীবাণুগুলি ধূলিকণার সাথে মিশে বাতাসে ভাসে এবং নাক-মুখ দিয়ে দেহে প্রবেশ করে। তিনটি রোগ ও প্রতিকার: (ক) যক্ষ্মা বা TB (ব্যাকটেরিয়া — Mycobacterium tuberculosis): লক্ষণ — দীর্ঘস্থায়ী কাশি, সন্ধ্যায় জ্বর, কাশির সাথে রক্ত, ওজন কমা। প্রতিকার: BCG টিকা, DOTS থেরাপি (৬-৯ মাসের কোর্স), মাস্ক পরা, রোগীকে পৃথক ঘরে রাখা। (খ) ইনফ্লুয়েঞ্জা বা Flu (ভাইরাস): লক্ষণ — হঠাৎ জ্বর, গা-হাত-পা ব্যথা, গলা ব্যথা, কাশি। প্রতিকার: ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন (বাৎসরিক), বিশ্রাম, উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা। (গ) সাধারণ সর্দি-কাশি (Common Cold — Rhinovirus): লক্ষণ — নাক দিয়ে জল পড়া, হাঁচি, গলা খুশখুশ। প্রতিকার: হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় রুমাল/টিস্যু ব্যবহার, মাস্ক পরা, ভিড় এড়ানো। সার্বজনীন প্রতিরোধ: (১) মাস্ক পরা, (২) হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা, (৩) ঘর হাওয়াচলাচলযুক্ত (Ventilated) রাখা, (৪) টিকা নেওয়া, (৫) রোগীর সংস্পর্শ এড়ানো।
4. জলবাহিত রোগ (Waterborne Diseases) কীভাবে ছড়ায়? চারটি রোগের নাম, লক্ষণ ও প্রতিকার লেখো।
জলবাহিত রোগ (Waterborne Diseases): দূষিত জল পান করা বা দূষিত জলে রান্না করা খাবার খাওয়ার মাধ্যমে যে রোগগুলি ছড়ায়। বাহিত পথ: (১) মল-মিশ্রিত জল (Feco-oral route) — কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস A & E, পোলিও, ডায়ারিয়া, (২) দূষিত জলে স্নান বা কাপড় কাচার মাধ্যমেও ত্বকের মাধ্যমে কিছু জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। চারটি রোগ: (ক) কলেরা (Cholera — Vibrio cholerae): লক্ষণ — বারবার চাল ধোয়া জলের মতো পাতলা মল, বমি, তীব্র জলশূন্যতা (সারাদিনে ২০-৩০ বার মল হতে পারে → মৃত্যু ঝুঁকি)। প্রতিকার — ORS (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন) বারবার পান করানো, ফুটানো বা ক্লোরিনেট করা বিশুদ্ধ জল পান, স্যালাইন ইনফিউশন (গুরুতর ক্ষেত্রে)। (খ) টাইফয়েড (Typhoid — Salmonella typhi): লক্ষণ — ক্রমাগত জ্বর (সিঁড়ির মতো ৪-৫ দিনে বাড়ে), মাথাব্যথা, পেটে ব্যথা। প্রতিকার — অ্যান্টিবায়োটিক, WIDAL টেস্ট, বিশুদ্ধ জল ও খাবার। (গ) পোলিও (Polio — Poliovirus): লক্ষণ — জ্বর, হাত-পা অবশ, পক্ষাঘাত (Flaccid Paralysis — শিশুদের জীবনের জন্য হুমকি)। প্রতিকার — পোলিও ভ্যাকসিন (OPV পোলিওর ড্রপ, IPV ইনজেকশন)। ভারত ২০১৪ সালে পোলিওমুক্ত ঘোষিত। (ঘ) জন্ডিস/হেপাটাইটিস A (Hepatitis A — HAV ভাইরাস): লক্ষণ — জ্বর, বমি, চোখ-নখ হলুদ (জন্ডিস), যকৃতের প্রদাহ। প্রতিকার — বিশুদ্ধ জল, হেপাটাইটিস A টিকা। সার্বজনীন প্রতিরোধ: (১) ফুটানো বা ফিল্টার করা বিশুদ্ধ জল পান, (২) যথাযথ শৌচাগার ব্যবহার — খোলা জায়গায় মলত্যাগ না করা (ODF), (৩) নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া (বিশেষত টয়লেটের পর ও খাওয়ার আগে), (৪) রাস্তার খোলা খাবার ও বাসি কাটা ফল না খাওয়া।
5. মশা কীভাবে রোগ ছড়ায়? ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও ফাইলেরিয়ার বাহক মশার নাম, বৈশিষ্ট্য ও রোগের লক্ষণ লেখো।
মশা (Mosquito) পরজীবী বাহক (Vector) — নিজে অসুস্থ হয় না কিন্তু রোগজীবাণু এক দেহ থেকে অন্য দেহে বহন করে। শুধুমাত্র স্ত্রী মশা রক্ত শোষণ করে (ডিম পাড়ার জন্য প্রোটিন প্রয়োজন) এবং রক্তের মাধ্যমেই জীবাণু সংক্রমণ ঘটায়। তিনটি রোগের বাহক ও বৈশিষ্ট্য: (১) ম্যালেরিয়া (Malaria) — বাহক: স্ত্রী অ্যানোফিলিস (Anopheles) মশা। বৈশিষ্ট্য: বিশ্রামের সময় দেওয়ালের সাথে ৪৫° কোণ করে বসে, ডানায় কালো ফোঁটা থাকে, পরিষ্কার জলে ডিম পাড়ে। লক্ষণ: পর্যায়ক্রমিক জ্বর — ঠান্ডা লাগা (Rigor), কাঁপুনি, তারপর তীব্র জ্বর, ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া (প্রতি ৪৮ বা ৭২ ঘন্টা অন্তর), রক্তাল্পতা, প্লীহা বড় হওয়া। (২) ডেঙ্গু (Dengue) — বাহক: স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই (Aedes aegypti) মশা। বৈশিষ্ট্য: পায়ে সাদা-কালো ডোরা (Tiger mosquito), দিনের বেলায় কামড়ায় (সকাল ও বিকেলে), ওড়ার সময় শব্দ হয় না, পরিষ্কার জমা জলে (ফুলদানি, টায়ার, কুলার) ডিম পাড়ে। লক্ষণ: তীব্র জ্বর (হাড় ভাঙা জ্বর — Breakbone fever), চোখের পিছনে ব্যথা, গায়ে লাল র্যাশ, প্লেটলেট বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া → রক্তক্ষরণ (Dengue Hemorrhagic Fever — DHF)। (৩) ফাইলেরিয়া/গোদ রোগ (Filariasis) — বাহক: স্ত্রী কিউলেক্স (Culex quinquefasciatus) মশা। বৈশিষ্ট্য: ডোবা-নালার নোংরা জলে ডিম পাড়ে, রাতে কামড়ায়। লক্ষণ: দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণে পা, হাত, অণ্ডকোষ (Hydrocele) অস্বাভাবিকভাবে ফুলে হাতির মতো হয়ে যায় — Lymphatic Filariasis বা Elephantiasis। মশা নিয়ন্ত্রণ: (১) জমা জল সপ্তাহে একবার পাল্টানো/পরিষ্কার করা, (২) মশারি (LLIN — Long Lasting Insecticidal Net) ব্যবহার, (৩) জৈবিক নিয়ন্ত্রণ — গাপ্পি, গাম্বুসিয়া মাছ জমা জলে ছাড়া, (৪) কীটনাশক স্প্রে ও ফগিং।
6. খাদ্যে ভেজাল (Food Adulteration) কী? কেন হয় ও কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়? পাঁচটি সাধারণ ভেজাল খাদ্যের উদাহরণ দাও।
খাদ্যে ভেজাল (Food Adulteration): ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্যে ক্ষতিকর বা নিম্নমানের বস্তু মিশিয়ে খাদ্যের গুণগত মান ও বিশুদ্ধতা হ্রাস করা, অথবা মূল্যবান উপাদান সরিয়ে নেওয়া। কেন হয়: অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে, দাম কমানোর প্রতিযোগিতায় বা খাদ্যকে আকর্ষণীয় দেখাতে ভেজাল মেশায়। পাঁচটি সাধারণ ভেজাল খাদ্য: (১) হলুদ (Turmeric) — ভেজাল: মেটানিল ইয়োলো (শিল্প রঞ্জক, ক্যানসার সৃষ্টিকারী), লেড ক্রোমেট (Lead Chromate)। পরীক্ষা: হলুদ জলে মেশালে উজ্জ্বল হলুদ রং ছড়ালে ভেজাল। (২) লঙ্কা গুঁড়ো (Chilli Powder) — ভেজাল: ইটের গুঁড়ো, কৃত্রিম রং (সাডান রেড — ক্যানসার ঘটাতে পারে)। পরীক্ষা: জলে ছেড়ে দিলে ইটের গুঁড়ো ডুবে যাবে। (৩) দুধ (Milk) — ভেজাল: জল (আয়তন বাড়াতে), স্টার্চ, ডিটারজেন্ট (সাদা ও ফেনা তুলতে), ইউরিয়া (স্নিগ্ধতা বাড়াতে — বৃক্কের ক্ষতি)। পরীক্ষা: ল্যাকটোমিটার দিয়ে ঘনত্ব মাপা। (৪) ঘি/মাখন (Ghee) — ভেজাল: ভ্যানাস্পতি ঘি (Trans fat — হৃদরোগের ঝুঁকি), আলুর স্টার্চ। পরীক্ষা: আয়োডিন দ্রবণে নীল হলে স্টার্চ ভেজাল। (৫) চিনি (Sugar) — ভেজাল: চক পাউডার (Chalk Powder), সাদা বালি। পরীক্ষা: জলে গুলে দেখলে অদ্রবণীয় সাদা অংশ বসে যাবে। প্রতিরোধ: (১) খাদ্য নিরাপত্তা আইন — FSSAI (Food Safety and Standards Authority of India) আইন 2006, (২) প্যাকেটজাত খাবারে FSSAI লাইসেন্স ও 'Agmark', 'ISI' চিহ্ন দেখে কেনা, (৩) বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে কেনা, (৪) সচেতনতা — ভেজাল শনাক্তকরণ কিট (PURA Kit-এর মতো সাধারণ কেমিক্যাল টেস্ট) বাড়িতে ব্যবহার, (৫) সন্দেহ হলে অভিযোগ — FSSAI-র টোল-ফ্রি নম্বর: 1800-112-100। 'জাগো গ্রাহক জাগো'।
7. পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization) কাকে বলে? এটি কীভাবে কাজ করে ও কেন করা হয়? মিল্ক পাস্তুরাইজেশনের ধাপগুলি লেখো।
পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization): ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) আবিষ্কৃত খাদ্য (বিশেষত তরল খাদ্য — দুধ, ফলের রস) সংরক্ষণের পদ্ধতি — যেখানে খাদ্যবস্তুকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গরম করে দ্রুত ঠান্ডা করা হয়। উদ্দেশ্য: দুধ বা পানীয়ের মধ্যে উপস্থিত ক্ষতিকর জীবাণুদের (প্যাথোজেন) ধ্বংস করা — কিন্তু খাদ্যের স্বাদ, গন্ধ ও অধিকাংশ পুষ্টিগুণ (ভিটামিন, প্রোটিন) অক্ষুণ্ণ রাখা। এটি স্টেরিলাইজেশন (জীবাণুমুক্তকরণ) নয় — কিছু নিরীহ ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকতে পারে, তাই পাস্তুরিত দুধও পরে ফ্রিজে রাখতে হয়। দুধ পাস্তুরাইজেশনের ধাপ: (১) কাঁচা দুধ সংগ্রহ ও ছাঁকা (Filtration), (২) নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম: (ক) LTLT (Low Temperature Long Time): 63°C তাপমাত্রায় 30 মিনিট গরম — ছোট ডেয়ারিতে প্রচলিত, অথবা (খ) HTST (High Temperature Short Time): 72°C তাপমাত্রায় 15 সেকেন্ড গরম — বড় ডেয়ারিতেFlash Pasteurization), (৩) অবিলম্বে দ্রুত 4°C বা তার নীচে নামিয়ে আনা (Rapid Cooling) — যাতে অবশিষ্ট ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি না করতে পারে, (৪) জীবাণুমুক্ত বোতল বা প্যাকেটে ভর্তি করে কোল্ড চেইন বজায় রেখে বাজারে পাঠানো। পাস্তুরিত দুধের উপকারিতা: (১) যক্ষ্মা, ব্রুসেলোসিস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়ার মতো দুধবাহিত রোগ প্রতিরোধ, (২) দুধের শেলফ লাইফ 2-3 দিন থেকে বেড়ে 10-14 দিন হয়, (৩) স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বহুলাংশে অটুট থাকে।

Broad Questions

3 টি
1. পরিবেশগত সংকট ও দৈহিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক আলোচনা করো। পারদ (Mercury), আর্সেনিক (Arsenic) ও ফ্লুরাইড (Fluoride) দূষণের উৎস, স্বাস্থ্যগত প্রভাব ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত লেখো।

পরিবেশগত সংকট ও দৈহিক স্বাস্থ্য

পরিবেশ দূষিত হলে — বায়ু, জল, মাটি ও খাদ্যের মাধ্যমে বিষাক্ত পদার্থ (ভারী ধাতু ও রাসায়নিক) মানবদেহে জমা হয় এবং নীরবে মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ক্ষতি করে।

দূষকউৎসস্বাস্থ্যগত প্রভাবউদাহরণ/অঞ্চল
পারদ (Hg)থার্মোমিটার, CFL, ব্যাটারি, শিল্প বর্জ্যমিনামাটা রোগ — স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, দেহ বেঁকে যাওয়ামিনামাটা, জাপান (1956)
আর্সেনিক (As)ভৌমজল, কীটনাশকBlackfoot disease, চামড়ার ক্ষত, ক্যানসারপঃবঙ্গের ২৪ পরগনা, নদীয়া, মালদহ
ফ্লুরাইড (F⁻)ভূগর্ভস্থ খনিজ, শিল্প বর্জ্যDental Fluorosis (দাঁতে ছোপ), Skeletal Fluorosis (হাড় বাঁকা)বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া
প্রতিকার:
  • পারদ: পারদমুক্ত ডিজিটাল থার্মোমিটার, LED বাতি ব্যবহার; CFL ও ব্যাটারির নিরাপদ ই-বর্জ্য নিষ্কাশন।
  • আর্সেনিক: গভীর নলকূপ (সবুজ রং-চিহ্নিত, >100m), আর্সেনিক ফিল্টার (SONO, কানাই) ব্যবহার, ভূপৃষ্ঠের জল (পুকুর, নদী) সঠিকভাবে পরিশোধন।
  • ফ্লুরাইড: বিকল্প নিরাপদ জল উৎস (হ্যান্ডপাম্পে লাল চিহ্ন মানে ফ্লুরাইড-মুক্ত), অ্যাক্টিভেটেড অ্যালুমিনা ফিল্টার, বৃষ্টির জল সংগ্রহ।
2. বায়ুবাহিত, জলবাহিত ও বাহকবাহিত (Vector-borne) রোগের মধ্যে পার্থক্য করো। প্রত্যেক শ্রেণির দুটি করে রোগের নাম, জীবাণু, বাহক (যেখানে প্রযোজ্য) ও প্রতিরোধের উপায় লেখো।

রোগ সংক্রমণের মাধ্যম অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ

শ্রেণিসংক্রমণ মাধ্যমরোগ (জীবাণু)বাহকপ্রতিরোধ
বায়ুবাহিতহাঁচি-কাশির ড্রপলেট, ধূলাযক্ষ্মা (Mycobacterium), COVID-19 (SARS-CoV-2)প্রযোজ্য নয়মাস্ক, হাওয়া চলাচল, টিকা
জলবাহিতদূষিত জল/খাদ্য (Feco-oral)কলেরা (V. cholerae), টাইফয়েড (S. typhi)মাছি (যান্ত্রিক বাহক)বিশুদ্ধ জল, শৌচাগার, হাত ধোয়া
বাহকবাহিতরক্তচোষক আর্থ্রোপড (মশা, মাছি)ম্যালেরিয়া (Plasmodium), ডেঙ্গু (Dengue virus)অ্যানোফিলিস (ম্যালেরিয়া), এডিস (ডেঙ্গু)মশারি, জমা জল পরিষ্কার, টিকা (শুধু ডেঙ্গু-র জন্য উপলব্ধ হলে)
মূল প্রতিরোধ কৌশল:
  • বায়ুবাহিত: শ্বাসযন্ত্রীয় শিষ্টাচার (Respiratory Hygiene), মাস্ক, আইসোলেশন, টিকাকরণ।
  • জলবাহিত: WASH (Water, Sanitation and Hygiene) — সুপেয় জল, শৌচাগার, হাত ধোয়া।
  • বাহকবাহিত: ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট (IVM) — পরিবেশগত পরিবর্তন, জৈবিক নিয়ন্ত্রণ (গাপ্পি মাছ), LLIN মশারি, কীটনাশক স্প্রে — তবে সঠিক মাত্রায়।
3. খাদ্যে বিষক্রিয়া ও ভেজাল (Food Poisoning & Adulteration) কী? সাধারণ ভেজাল খাদ্য ও তাদের শনাক্তকরণ পদ্ধতি বর্ণনা করো। নিরাপদ খাদ্যের জন্য FSSAI-র ভূমিকা ও সচেতনতার গুরুত্ব আলোচনা করো।

খাদ্যে বিষক্রিয়া (Food Poisoning)

ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, টক্সিন বা রাসায়নিক দ্বারা দূষিত খাদ্য গ্রহণের 2-6 ঘন্টার মধ্যে তীব্র গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল উপসর্গ দেখা যায়। সাধারণ কারণ: Salmonella, E. coli, Staphylococcus aureus, Clostridium botulinum।

খাদ্যে ভেজাল (Food Adulteration)

ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্যে ক্ষতিকর বা নিম্নমানের পদার্থ মিশিয়ে গুণগত মান নষ্ট করা — অর্থনৈতিক মুনাফার উদ্দেশ্যে।

সাধারণ ভেজাল শনাক্তকরণ (সরল ঘরোয়া পদ্ধতি):
খাদ্যভেজালশনাক্তকরণ পদ্ধতি
হলুদমেটানিল ইয়োলো, লেড ক্রোমেটজলে গুলে দেখ — উজ্জ্বল হলুদ রং ছড়ালে ভেজাল। লঙ্কা গুঁড়ো জলে দিলে ইটের গুঁড়ো তলায় বসে।
দুধজল, স্টার্চ, ইউরিয়াল্যাকটোমিটার দিয়ে ঘনত্ব পরীক্ষা। আয়োডিন টিংচার দিলে নীল হলে স্টার্চ।
ঘি/মাখনভ্যানাস্পতি (Trans fat)টেস্ট টিউবে গরম করে HCl যোগ করলে লালচে গোলাপি রং → ভ্যানাস্পতি ভেজাল।
FSSAI-র ভূমিকা (Food Safety and Standards Authority of India, 2006):
  • খাদ্যের মান নির্ধারণ ও আইন প্রণয়ন।
  • লাইসেন্সিং ও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।
  • মোবাইল ফুড টেস্টিং ল্যাব — 'Food Safety on Wheels'।
  • অভিযোগ নিষ্পত্তি: টোল-ফ্রি নম্বর — 1800-112-100।
সচেতনতার গুরুত্ব:

প্রতিটি নাগরিককে সচেতন ক্রেতা হতে হবে — Agmark, FSSAI, ISI চিহ্ন দেখে প্যাকেটজাত খাদ্য কেনা, বাজার থেকে কেনার সময় রং-গন্ধ-স্বাদ অস্বাভাবিক মনে হলে না কেনা, এবং ভেজাল পেলে অভিযোগ জানানো — 'সতর্ক গ্রাহকই সুরক্ষিত গ্রাহক'।

মনে রেখো!

পারদ → মিনামাটা | আর্সেনিক → ব্ল্যাকফুট | ফ্লুরাইড → দাঁতে ছোপ | যক্ষ্মা → বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়া | কলেরা → জলবাহিত | ম্যালেরিয়া → অ্যানোফিলিস মশা | ডেঙ্গু → এডিস মশা | ভেজাল খাবার খাব না, সতর্ক থাকব | সব সময় বিশুদ্ধ জল পান করব | হাত ধোব, মাস্ক পরব, রোগ প্রতিরোধ করব!

Sponsored Links

FAQ

জাপানের মিনামাটা উপসাগরের দূষিত মাছ খাওয়ার কারণে পারদ (Mercury) বিষক্রিয়ায় স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতিজনিত রোগ। পেশি অবশ, দেহ বেঁকে যাওয়া, মানসিক প্রতিবন্ধকতা এর লক্ষণ।

ম্যালেরিয়া: স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া: স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই মশা যা দিনের বেলায় কামড়ায় এবং পরিষ্কার জমা জলে ডিম পাড়ে।