Chapter 6: পরিবেশের সজীব উপাদানের গঠনগত বৈচিত্র্য ও কার্যগত প্রক্রিয়া

মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজ | অঙ্কুরোদ্গম | পরাগযোগ | অভিস্রবণ | জীবদেহে জল নিয়ন্ত্রণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 27 April 2026 Last Update: 31 May 2026

Chapter 6: পরিবেশের সজীব উপাদান

Class 7 Poribesh O Biggan

Chapter 6: পরিবেশের সজীব উপাদানের গঠনগত বৈচিত্র্য ও কার্যগত প্রক্রিয়া

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 48 MCQ | 10 SAQ | 3 Broad

MCQ (ব্যাখ্যাসহ)

48 টি
1. বীজের কোন অংশ থেকে মূল সৃষ্টি হয়?
ক) ক) ভ্রূণমুকুল
খ) খ) ভ্রূণমূল
গ) গ) বীজপত্র
ঘ) ঘ) ভ্রূণাক্ষ
বীজের ভ্রূণমূল (Radicle) থেকেই মূল (Root) সৃষ্টি হয়। অঙ্কুরোদ্গমের সময় ভ্রূণমূল প্রথমে নীচের দিকে বৃদ্ধি পেয়ে মাটির ভিতরে প্রবেশ করে মূল গঠন করে। ভ্রূণমুকুল (Plumule) থেকে কাণ্ড ও পাতা সৃষ্টি হয়।
2. মূলের ডগায় অবস্থিত টুপির নাম কী?
ক) ক) মূল আবরণ
খ) খ) মূল টুপি (Root Cap)
গ) গ) মূল কেশ
ঘ) ঘ) মূল পত্র
মূলের একেবারে অগ্রভাগে একটি টুপির মতো অংশ থাকে — একে মূল টুপি (Root Cap) বলে। এটি মূলের কোমল অগ্রভাগকে মাটির ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং মাটিতে প্রবেশে সাহায্য করে। কচুরিপানার মতো জলজ উদ্ভিদে স্পষ্ট দেখা যায়।
3. মূলের মূলরোম (Root Hair) অঞ্চলটি কোথায় থাকে?
ক) ক) টুপির ঠিক উপরে
খ) খ) মূলের মধ্যভাগে
গ) গ) টুপির কিছুটা উপরে, নরম অংশের পরে
ঘ) ঘ) মূলের গোড়ায়
টুপির ঠিক ওপরে কোষ বিভাজন অঞ্চল, তারপর কোষ দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি অঞ্চল। তার ওপর থেকে মূলরোম (Root Hair) অঞ্চল শুরু হয় — যেখানে এককোষী সূক্ষ্ম রোমের মাধ্যমে জল ও খনিজ লবণ শোষিত হয়।
4. জবা ফুলের বৃতির প্রতিটি অংশকে কী বলে?
ক) ক) পাপড়ি
খ) খ) বৃত্যংশ (Sepal)
গ) গ) পুংকেশর
ঘ) ঘ) গর্ভকেশর
জবা ফুলের বাইরের সবুজ ঘণ্টার মতো অংশটি হল বৃতি (Calyx)। বৃতির প্রতিটি সবুজ পাতার মতো অংশকে বৃত্যংশ (Sepal) বলে। জবা ফুলের বৃতিতে ৫টি বৃত্যংশ থাকে — এগুলি ফুলের কুঁড়ি অবস্থায় সুরক্ষা প্রদান করে।
5. ফুলের পাপড়িগুলির সমষ্টিকে কী বলে?
ক) ক) বৃতি
খ) খ) দলমণ্ডল (Corolla)
গ) গ) পুংকেশর চক্র
ঘ) ঘ) গর্ভকেশর চক্র
ফুলের পাপড়ি বা দলগুলির (Petal) সমষ্টিকে দলমণ্ডল (Corolla) বলে। রঙিন পাপড়ির কাজ হল পোকামাকড় ও পাখিদের আকৃষ্ট করে পরাগযোগে সাহায্য করা। জবা ফুলে ৫টি আলাদা বড় লাল পাপড়ি থাকে।
6. পরাগধানী (Anther) কোথায় থাকে?
ক) ক) গর্ভমুণ্ডের ওপর
খ) খ) পুংদণ্ডের মাথায়
গ) গ) গর্ভাশয়ে
ঘ) ঘ) বৃত্যংশে
পরাগধানী (Anther) পুংকেশরের (Stamen) শীর্ষে থাকে এবং পুংদণ্ড (Filament) এর উপর ভর করে থাকে। পরাগধানীর ভিতর হলুদ রঙের পরাগরেণু (Pollen grain) উৎপন্ন হয়। জবা ফুলের পুংকেশরে লম্বা সূক্ষ্ম তারের মাথায় কলির মতো থাকে — সেটাই পরাগধানী।
7. সমস্ত পুংকেশরকে একসঙ্গে কী বলে?
ক) ক) দলমণ্ডল
খ) খ) পুংকেশর চক্র (Androecium)
গ) গ) গর্ভকেশর চক্র
ঘ) ঘ) পুষ্পাক্ষ
ফুলের সমস্ত পুংকেশরকে (Stamen) একসঙ্গে পুংকেশর চক্র বা পুংস্তবক (Androecium) বলে। এটি ফুলের পুরুষ জননাঙ্গ। জবা ফুলে অসংখ্য পুংকেশর একত্রে থাকে।
8. গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড — এদের একসঙ্গে কী বলে?
ক) ক) পুংকেশর
খ) খ) গর্ভকেশর (Carpel/Pistil)
গ) গ) বৃতি
ঘ) ঘ) পরাগধানী
ফুলের স্ত্রী জননাঙ্গ — গর্ভাশয় (Ovary), গর্ভদণ্ড (Style) ও গর্ভমুণ্ড (Stigma) — এদের একত্রে গর্ভকেশর বা স্ত্রীস্তবক (Pistil/Carpel) বলে। সমস্ত গর্ভকেশরকে গর্ভকেশর চক্র (Gynoecium) বলে।
9. ফুলের যে অংশ থেকে ফল সৃষ্টি হয় তার নাম কী?
ক) ক) গর্ভমুণ্ড
খ) খ) গর্ভদণ্ড
গ) গ) গর্ভাশয় (Ovary)
ঘ) ঘ) পাপড়ি
পরাগযোগ ও নিষেকের পর গর্ভাশয় (Ovary) বৃদ্ধি পেয়ে ফলে (Fruit) পরিণত হয় এবং গর্ভাশয়ের ভিতরের ডিম্বক (Ovule) বীজে (Seed) পরিণত হয়। গর্ভমুণ্ডে পরাগরেণু পড়ে এবং গর্ভদণ্ডের মধ্য দিয়ে পরাগনালী গর্ভাশয়ে পৌঁছায়।
10. একটি ফুল থেকে একটিমাত্র ফল গঠিত হলে তাকে কী বলে?
ক) ক) যৌগিক ফল
খ) খ) গুচ্ছিত ফল
গ) গ) সরল ফল (Simple Fruit)
ঘ) ঘ) অপ্রকৃত ফল
একটি ফুলের একটি গর্ভাশয় থেকে একটি মাত্র ফল গঠিত হলে তাকে সরল ফল (Simple Fruit) বলে। যেমন — আম, লেবু, কলা, টম্যাটো। আতা (Custard Apple) হল গুচ্ছিত ফল (Aggregate Fruit) — একটি ফুলের একাধিক গর্ভাশয় যুক্ত হয়ে।
11. আম ফলের রসালো যে অংশ আমরা খাই তা কী?
ক) ক) বহিঃত্বক
খ) খ) মধ্বক্ত্বক (Mesocarp)
গ) গ) অন্তঃত্বক
ঘ) ঘ) বীজপত্র
আমের ফলত্বক বা পেরিকাপ (Pericarp) তিন স্তরের: (১) বহিঃত্বক — পাতলা চামড়া (খোসা), (২) মধ্বক্ত্বক — রসালো শাঁস (আমরা যা খাই), (৩) অন্তঃত্বক — কঠিন, আঁটি রূপে বীজকে ঘিরে রাখে।
12. মটর বীজে বীজপত্রের সংখ্যা কত?
ক) ক) একটি
খ) খ) দুটি
গ) গ) তিনটি
ঘ) ঘ) অনেকগুলি
মটর, ছোলা, আম, কুমড়ো, শিম — ইত্যাদি দ্বিবীজপত্রী (Dicot) উদ্ভিদ। এদের বীজে দুটি বীজপত্র (Cotyledons) থাকে। ধান, গম, ভুট্টা, নারকেল — একবীজপত্রী (Monocot) — একটি মাত্র বীজপত্র থাকে।
13. ভুট্টা বীজে বীজপত্রের সংখ্যা কত?
ক) ক) একটি
খ) খ) দুটি
গ) গ) তিনটি
ঘ) ঘ) অনেক
ভুট্টা (Maize) একবীজপত্রী (Monocot) উদ্ভিদ — একটি মাত্র বীজপত্র (Scutellum) থাকে। ধান, গম, জোয়ার, বাজরা, আখ, কলা, নারকেল, তাল, বাঁশ — সবই একবীজপত্রী। মটর-ছোলা-আম দ্বিবীজপত্রী।
14. বীজের ভ্রূণমুকুল থেকে উদ্ভিদের কোন অংশ গঠিত হয়?
ক) ক) মূল
খ) খ) কাণ্ড ও পাতা
গ) গ) ফুল
ঘ) ঘ) ফল
বীজের অঙ্কুরোদ্গমের সময় ভ্রূণমুকুল (Plumule) থেকে উদ্ভিদের কাণ্ড (Shoot) ও পাতা (Leaves) গঠিত হয়। ভ্রূণমূল (Radicle) থেকে মূল গঠিত হয়। ভ্রূণমুকুল ও ভ্রূণমূলের মধ্যবর্তী অংশ ভ্রূণাক্ষ (Tigellum)।
15. ছোলা বীজের অঙ্কুরোদ্গমের সময় বীজপত্র মাটির নীচেই থাকে — একে কী বলে?
ক) ক) মৃদভেদী অঙ্কুরোদ্গম
খ) খ) মৃদস্থিত অঙ্কুরোদ্গম (Hypogeal)
গ) গ) এপিজিয়াল
ঘ) ঘ) প্যারাজিয়াল
যে অঙ্কুরোদ্গমে বীজপত্র মাটির নীচেই থেকে যায়, তাকে মৃদস্থিত বা হাইপোজিয়াল অঙ্কুরোদ্গম (Hypogeal Germination) বলে। যেমন — মটর, ছোলা, আম, ধান, গম। কুমড়ো, তেঁতুল, শিমের বীজপত্র মাটির ওপরে উঠে আসে — মৃদভেদী (Epigeal)।
16. বৃত্ত, দলমণ্ডল, পুংকেশর চক্র ও গর্ভকেশর চক্র — এরা কী?
ক) ক) ফুলের চারটি প্রধান স্তবক
খ) খ) ফলের অংশ
গ) গ) বীজের অংশ
ঘ) ঘ) মূলের অংশ
একটি পূর্ণাঙ্গ ফুলের বাইরে থেকে ভিতরে চারটি স্তবক থাকে: (১) বৃতি (Calyx), (২) দলমণ্ডল (Corolla), (৩) পুংকেশর চক্র (Androecium) — পুরুষ জননাঙ্গ, (৪) গর্ভকেশর চক্র (Gynoecium) — স্ত্রী জননাঙ্গ।
17. পরাগরেণু (Pollen Grain) কোথায় উৎপন্ন হয়?
ক) ক) গর্ভমুণ্ডে
খ) খ) পরাগধানীতে (Anther)
গ) গ) গর্ভাশয়ে
ঘ) ঘ) পাপড়িতে
পরাগরেণু (Pollen Grain) পুংকেশরের পরাগধানীতে (Anther) উৎপন্ন হয়। এটি পুরুষ গ্যামেট (শুক্রাণু) ধারণ করে। পরাগধানী ফেটে গেলে পরাগরেণু বেরিয়ে বায়ু, জল, পোকা বা পাখির মাধ্যমে গর্ভমুণ্ডে পৌঁছায় — একে পরাগযোগ (Pollination) বলে।
18. অর্ধভেদ্য পর্দা (Semi-permeable Membrane) কাকে বলে?
ক) ক) যে পর্দা সকল অণু চলাচলে বাধা দেয়
খ) খ) যে পর্দা শুধু জলের অণু চলাচল করতে দেয়, বড় অণু আটকায়
গ) গ) যে পর্দা সবকিছুই যেতে দেয়
ঘ) ঘ) যে পর্দা শুধু গ্যাস চলাচল করতে দেয়
যে পর্দা বা পর্দার মাধ্যমে ক্ষুদ্র অণু (জল, গ্যাস) চলাচল করতে পারে কিন্তু বড় দ্রাব্য অণু (চিনি, লবণ) চলাচল করতে পারে না, তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা (Semi-permeable Membrane) বলে। কোষপর্দা (Cell Membrane), ব্লাডার ইত্যাদি অর্ধভেদ্য।
19. জল কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে চলাচল করাকে কী বলে?
ক) ক) ব্যাপন (Diffusion)
খ) খ) অভিস্রবণ (Osmosis)
গ) গ) শোষণ
ঘ) ঘ) ইমবাইবিশন
অভিস্রবণ (Osmosis): অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে জলের অণু কম দ্রাব্য ঘনত্বের স্থান (অর্থাৎ বেশি জলের ঘনত্ব) থেকে বেশি দ্রাব্য ঘনত্বের স্থানে (অর্থাৎ কম জলের ঘনত্ব) চলাচল করে। মূলরোম দিয়ে মাটি থেকে জল শোষণ অভিস্রবণের উদাহরণ।
20. নুন জলে রাখলে আলু বা কিশমিশ কুঁচকে যায় কেন?
ক) ক) নুন ঢুকে যায়
খ) খ) অভিস্রবণে কোষ থেকে জল বেরিয়ে যায়
গ) গ) ঠান্ডা লাগে
ঘ) ঘ) আলু পচে যায়
নুন জলের ঘনত্ব আলুর কোষরসের চেয়ে বেশি → বাইরের দ্রবণ হাইপারটনিক। অভিস্রবণে কোষের ভিতর থেকে জল বেরিয়ে যায় → কোষ সংকুচিত হয় (Plasmolysis) → আলু কুঁচকে যায়। নুন-চিনির আচারে একই কারণে সবজি নরম হয়।
21. মাটির জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে মূলের কোন অংশ?
ক) ক) মূল টুপি
খ) খ) মূলরোম অঞ্চল
গ) গ) বিভাজন অঞ্চল
ঘ) ঘ) মূলের গোড়া
মূলরোম (Root Hair) অঞ্চলের এককোষী সূক্ষ্ম রোমগুলি অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মাটি থেকে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে। মূলরোম কোষের কোষরসের ঘনত্ব মাটির জলের চেয়ে বেশি → জল অভিস্রবণে কোষে প্রবেশ করে।
22. বীজের অঙ্কুরোদ্গমের (Germination) জন্য অপরিহার্য শর্ত কোনগুলি?
ক) ক) আলো, সার, মাটি
খ) খ) জল, অক্সিজেন, উপযুক্ত তাপমাত্রা
গ) গ) শুধু জল
ঘ) ঘ) শুধু আলো
বীজের অঙ্কুরোদ্গমের জন্য তিনটি প্রধান শর্ত: (১) জল — বীজের খোলস নরম করে ও এনজাইম সক্রিয় করে, (২) অক্সিজেন — কোষ শ্বসনের জন্য, (৩) উপযুক্ত তাপমাত্রা — 20-35°C। কিছু বীজের আলো প্রয়োজন, কিছু অন্ধকার। খুব বেশি জল দিলে বাতাস না পেয়ে বীজ পচে যায়।
23. দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণের অভিস্রবণ চাপ সমান হলে তাদের কী বলে?
ক) ক) হাইপারটনিক
খ) খ) হাইপোটনিক
গ) গ) আইসোটনিক (Isotonic)
ঘ) ঘ) প্লাজমোলাইসিস
দুটি দ্রবণের অভিস্রবণ চাপ সমান হলে (জলের চলাচল বন্ধ), তাদের পরস্পর আইসোটনিক (Isotonic) বলে। রক্তের সাথে 0.9% NaCl দ্রবণ (Normal Saline) আইসোটনিক — তাই স্যালাইন ইনজেকশনে লোহিত কণিকা ফাটে না বা কুঁচকে না।
24. কোষের তুলনায় বাইরের দ্রবণ বেশি ঘন হলে তাকে কী বলে?
ক) ক) আইসোটনিক
খ) খ) হাইপোটনিক
গ) গ) হাইপারটনিক (Hypertonic)
ঘ) ঘ) নিউট্রাল
কোষরসের তুলনায় বাইরের দ্রবণের ঘনত্ব বেশি হলে তাকে হাইপারটনিক (Hypertonic) দ্রবণ বলে। এমন দ্রবণে কোষ থেকে জল বেরিয়ে যায় → কোষ সংকুচিত হয় (Plasmolysis)। নুন জলে রাখলে শাকসবজি মোলায়েম হওয়ার কারণ এটি।
25. পাতার মাধ্যমে জল বাষ্পীভূত হয়ে বেরিয়ে যাওয়াকে কী বলে?
ক) ক) অভিস্রবণ
খ) খ) বাষ্পমোচন (Transpiration)
গ) গ) শোষণ
ঘ) ঘ) উৎস্বেদন
পাতার পত্ররন্ধ্রের (Stomata) মাধ্যমে জল বাষ্পাকারে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পমোচন (Transpiration) বলে। বাষ্পমোচন গাছে জল পরিবহণে 'টানা' সৃষ্টি করে (Transpiration Pull) এবং মাটি থেকে মূলরোমে ক্রমাগত জল শোষণে সাহায্য করে।
26. পাতার মূলকাজ কী?
ক) ক) প্রজনন
খ) খ) সালোকসংশ্লেষ বা খাদ্য প্রস্তুত করা
গ) গ) জল শোষণ
ঘ) ঘ) গাছকে ধরে রাখা
পাতার প্রধান কাজ সালোকসংশ্লেষ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক, CO₂ ও জল থেকে খাদ্য (শর্করা) তৈরি করা। এছাড়া বাষ্পমোচন, গ্যাসের আদান-প্রদান (Stomata দিয়ে) ও কিছু উদ্ভিদে খাদ্য সঞ্চয়ও পাতা করে।
27. আলু উদ্ভিদের কোন রূপান্তরিত অংশ?
ক) ক) রূপান্তরিত মূল
খ) খ) রূপান্তরিত কাণ্ড (Stem Tuber)
গ) গ) রূপান্তরিত পাতা
ঘ) ঘ) রূপান্তরিত ফুল
আলু (Potato) রূপান্তরিত ভূনিম্নস্থ কাণ্ড (Underground Stem Tuber) — কাণ্ডের 'চোখ' (Eyes/Nodes) থেকে নতুন গাছ জন্মায়। মিষ্টি আলু (Sweet Potato) রূপান্তরিত মূল। আদা, হলুদ, কলার কন্দ — রূপান্তরিত কাণ্ডই। গাজর, মূলো, বিট — রূপান্তরিত মূল।
28. কাণ্ডের প্রধান কাজ কী কী?
ক) ক) জল ও খাদ্য পরিবহণ, ডাল-পাতা-ফুল ধারণ
খ) খ) শুধু খাদ্য তৈরি
গ) গ) শুধু জল শোষণ
ঘ) ঘ) শুধু প্রজনন
কাণ্ডের প্রধান কাজ: (১) মূল থেকে শোষিত জল ও খনিজ জাইলেম টিস্যুর মাধ্যমে পাতায় পরিবহণ, (২) পাতায় তৈরি খাদ্য ফ্লোয়েমের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহণ, (৩) শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল ও ফল ধরে রাখা, (৪) কিছু উদ্ভিদে খাদ্য সঞ্চয় (আলু, আদা, রসুন), (৫) বংশবিস্তারে সাহায্য (কাণ্ড কলম, পুইশাকের কাণ্ড রোপণ)।
29. পামগাছের কাণ্ড কী কাজ করে?
ক) ক) বংশবিস্তার (Vegetative Propagation)
খ) খ) খাদ্য তৈরি
গ) গ) ফুল ধারণ
ঘ) ঘ) বাষ্পমোচন
পাম, বাঁশ, কলাগাছে যেহেতু ফুল ফোটে না বা বীজ তৈরি করে না, তাই কাণ্ডের মাধ্যমেই অঙ্গজ বংশবিস্তার (Vegetative Propagation) ঘটে। কলাগাছের কাণ্ডের চোখ (Sucker) থেকেই নতুন কলাগাছ জন্মায়।
30. চড়া রোদে গাছের পাতা থেকে জল বেরিয়ে যাওয়া রোধ করে কোন অংশ?
ক) ক) মূল
খ) খ) কাণ্ডের ছাল বা বাকল
গ) গ) ফুল
ঘ) ঘ) ফল
কাণ্ডের বাইরের ছাল বা বাকল (Bark) গাছকে রোদ, তাপ ও আঘাত থেকে রক্ষা করে। বাকলের কর্ক (Cork) স্তর জলরোধক — বাষ্পমোচন হ্রাস করে ও গাছের অভ্যন্তরীণ জলের অপচয় রোধ করে।
31. তরমুজ খুব বড় — কিন্তু কুমড়ো গাছে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হয় না। কারণ কী?
ক) ক) কাণ্ড লতানো ও মাটিতেই ছড়ানো
খ) খ) ফল ফাঁপা
গ) গ) পাতা বড়
ঘ) ঘ) মূল গভীর
কুমড়ো গাছের কাণ্ড লতানো (Creeping) — মাটিতেই ছড়িয়ে থাকে এবং ফল মাটিতেই পড়ে থাকে বা লতিয়ে থাকে। তরমুজ গাছও লতানো। লাউ, শসা, পুইশাকের কাণ্ড বেয়ে ওঠে (Climbing) — এদের অবলম্বন প্রয়োজন।
32. গুল্ম (Shrub) কাকে বলে?
ক) ক) খুব লম্বা গাছ
খ) খ) কাণ্ড মাটিতেই লতিয়ে থাকে
গ) গ) অপেক্ষাকৃত ছোট, ঝোপালো কাণ্ড (যেমন জবা, গোলাপ)
ঘ) ঘ) শুধু জলে জন্মায়
গুল্ম (Shrub): অপেক্ষাকৃত ছোট (1-3 মিটার), গোড়া থেকেই শাখা-প্রশাখা বের হয়, কাণ্ড কাঠের মতো হয় কিন্তু বৃহৎ বৃক্ষের মতো বড় নয়। যেমন — জবা, গোলাপ, কৃষ্ণচূড়া (ছোট অবস্থায়), লঙ্কা গাছ। গাছের গোঁড়ি মোটা ও কাঠালো হয় বট, আম, দেবদারু — এগুলি বৃক্ষ (Tree)।
33. অঙ্গজ বংশবিস্তার (Vegetative Propagation) কাকে বলে?
ক) ক) বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার
খ) খ) উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড বা পাতার মাধ্যমে বংশবিস্তার
গ) গ) পরাগযোগের মাধ্যমে
ঘ) ঘ) স্পোরের মাধ্যমে
ফুল-ফল-বীজ ছাড়াই উদ্ভিদ যখন তার দেহাংশ (কাণ্ড, মূল, পাতা) থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে, তাকে অঙ্গজ বংশবিস্তার (Vegetative Propagation) বলে। যেমন — আলুর 'চোখ' থেকে, আদার কন্দ থেকে, কলার সাকার থেকে, পাথরকুচির পাতা থেকে, আখের কাণ্ডের গাঁট থেকে।
34. পরাগযোগ (Pollination) কাকে বলে?
ক) ক) ফুল ফোটা
খ) খ) পরাগরেণু পরাগধানী থেকে গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর
গ) গ) ফল পাকা
ঘ) ঘ) বীজ অঙ্কুরিত হওয়া
পরাগরেণু (Pollen) পরাগধানী (Anther) থেকে স্থানান্তরিত হয়ে একই ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে (Stigma) পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে পরাগযোগ (Pollination) বলে। এটি দুই প্রকার: স্বপরাগযোগ (Self-pollination) ও ইতর পরাগযোগ (Cross-pollination)।
35. মৌমাছি, প্রজাপতি ফুলে বসে — এরা কী কাজ করে?
ক) ক) ফুল খায়
খ) খ) পরাগযোগ (Pollination) ঘটায়
গ) গ) গাছ কাটে
ঘ) ঘ) জল খায়
মৌমাছি, প্রজাপতি, পাখি (হামিংবার্ড), বাদুড় ইত্যাদি পরাগবাহক (Pollinator) — ফুলের মধু খেতে আসার সময় এদের দেহে পরাগরেণু লেগে যায় এবং অন্য ফুলে স্থানান্তরিত হয় → ইতর পরাগযোগ ঘটে। কীটনাশকের ব্যবহারে এরা বিলুপ্ত হলে পরাগযোগ ব্যাহত হবে।
36. নীচের কোনটি ইতর পরাগযোগে সাহায্য করে না?
ক) ক) বায়ু
খ) খ) পোকামাকড়
গ) গ) জল
ঘ) ঘ) মূল
ইতর পরাগযোগের মাধ্যম: বায়ু (Anemophily — ধান, গম, ভুট্টা), পোকামাকড় (Entomophily — জবা, সরিষা), পাখি (Ornithophily — শিমুল, মধুমালতী), জল (Hydrophily — শালুক, কচুরিপানা), বাদুড় (Chiropterophily — শিমুল, কদম)। মূল পরাগযোগে অংশ নেয় না।
37. একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পার্থক্য করা হয় কীসের ভিত্তিতে?
ক) ক) পাতার সংখ্যা
খ) খ) বীজপত্রের সংখ্যা
গ) গ) ফুলের রং
ঘ) ঘ) কাণ্ডের উচ্চতা
সপুষ্পক উদ্ভিদকে প্রধানত বীজপত্রের (Cotyledon) সংখ্যার ভিত্তিতে একবীজপত্রী (Monocotyledons) ও দ্বিবীজপত্রী (Dicotyledons) — এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। একবীজপত্রীতে ১টি (ধান, গম), দ্বিবীজপত্রীতে ২টি (মটর, আম) বীজপত্র থাকে।
38. পাতার বোঁটাকে কী বলে?
ক) ক) পত্রফলক
খ) খ) পত্রবৃত্ত (Petiole)
গ) গ) পত্রমূল
ঘ) ঘ) শিরা
পাতার যে সরু দণ্ডের সাহায্যে পাতাটি কাণ্ড বা শাখার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাকে পত্রবৃত্ত (Petiole) বলে। পাতার চওড়া চ্যাপ্টা অংশ পত্রফলক (Lamina), কাণ্ডের গায়ে পত্রবৃত্তের গোড়ার প্রসারিত অংশ পত্রমূল (Leaf Base)।
39. কাণ্ডের গাঁট (Node) থেকে কী বের হয়?
ক) ক) মূল
খ) খ) পাতা ও শাখা
গ) গ) ফুল শুধু
ঘ) ঘ) ফল শুধু
কাণ্ডের নির্দিষ্ট স্থানে (গাঁট বা Node) থেকে পাতা ও শাখা বের হয়। দুটি গাঁটের মধ্যবর্তী অংশ পর্ব বা ইন্টারনোড (Internode)। মূলের কোনো গাঁট বা পর্ব থাকে না — এটি মূল ও কাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।
40. সবুজ রঙের জন্য উদ্ভিদের পাতায় কোন অঙ্গাণু থাকে?
ক) ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
খ) খ) ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)
গ) গ) রাইবোজোম
ঘ) ঘ) নিউক্লিয়াস
উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) নামক প্লাস্টিড থাকে যাতে সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল (Chlorophyll) থাকে। ক্লোরোফিল সূর্যালোক শোষণ করে সালোকসংশ্লেষ ঘটায়।
41. মটর গাছের আকর্ষ (Tendril) কোন অঙ্গের রূপান্তর?
ক) ক) মূল
খ) খ) পাতার (Leaf Tendril)
গ) গ) কাণ্ড
ঘ) ঘ) ফুল
মটর গাছে পাতার শেষাংশ রূপান্তরিত হয়ে সরু, প্যাঁচানো আকর্ষ (Tendril) তৈরি করে যা অবলম্বন হিসেবে কাজ করে। অপরাজিতায় পুরো পত্রকটিই আকর্ষে রূপান্তরিত। কুমড়োর আকর্ষ কাণ্ড রূপান্তরিত (Stem Tendril)।
42. প্লাজমোলাইসিস (Plasmolysis) কী?
ক) ক) কোষের জল শোষণ
খ) খ) হাইপারটনিক দ্রবণে কোষ থেকে জল বেরিয়ে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হওয়া
গ) গ) কোষ বিভাজন
ঘ) ঘ) সালোকসংশ্লেষ
হাইপারটনিক দ্রবণে (নুন জল) রাখলে অভিস্রবণে কোষের ভিতর থেকে জল বেরিয়ে যায় → কোষের প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয়ে কোষপ্রাচীর থেকে আলাদা হয়ে যায় — একে প্লাজমোলাইসিস (Plasmolysis) বলে। নুন-চিনি দিয়ে আচার সংরক্ষণে ব্যাকটেরিয়া মরার কারণ এটি।
43. কচুরিপানা জলে ভাসে কেন?
ক) ক) এটি খুব হালকা
খ) খ) পত্রবৃত্ত স্পঞ্জের মতো বায়ুকুঠুরীতে ভরা
গ) গ) পাতা বড়
ঘ) ঘ) মূল লম্বা
কচুরিপানা (Water Hyacinth) জলে ভাসে কারণ এর পত্রবৃত্ত (Petiole) ফুলে স্পঞ্জের মতো অসংখ্য বায়ুকুঠুরী (Aerenchyma) গঠন করে — যা গাছকে জলপৃষ্ঠে ভাসিয়ে রাখে। জলজ উদ্ভিদে অ্যারেনকাইমা কলা দেখা যায়।
44. বীজের বাইরের আবরণকে কী বলে?
ক) ক) ভ্রূণ
খ) খ) বীজত্বক (Seed Coat)
গ) গ) ফলত্বক
ঘ) ঘ) বীজপত্র
বীজের বাইরের রক্ষাকারী আবরণকে বীজত্বক (Seed Coat) বা টেস্টা (Testa) বলে। অনেক বীজে বাইরে কঠিন টেস্টা ও ভিতরে পাতলা টেগমেন (Tegmen) — এই দুই স্তরের বীজত্বক থাকে। বীজের ডিম্বকনাভি (Hilum) ও ডিম্বকরত্র (Micropyle) দাগ দুটি বীজত্বকের ওপরেই থাকে।
45. ফুলের সবুজ রঙের যে অংশ কুঁড়িকে ঢেকে রাখে তার নাম কী?
ক) ক) পাপড়ি
খ) খ) বৃতি (Calyx)
গ) গ) পরাগধানী
ঘ) ঘ) গর্ভমুণ্ড
বৃতি (Calyx) ফুলের বাইরের সবুজ পাতার মতো অংশ যা কুঁড়ি অবস্থায় ফুলের সমস্ত অংশকে সুরক্ষা দিয়ে রাখে। বৃতির প্রতিটি অংশ বৃত্যংশ (Sepal)। গোলাপ, জবা ফুলে স্পষ্ট দেখা যায়।
46. মাটির নীচ থেকে যে অংশ আমরা খাই, তার সবটাই কি মূল?
ক) ক) হ্যাঁ
খ) খ) না — কিছু কাণ্ড (আলু, আদা), কিছু মূল (গাজর, মুলো)
গ) গ) সবই পাতা
ঘ) ঘ) সবই ফুল
মাটির নীচের সব অংশ মূল নয়। আলু, আদা, হলুদ, রসুন, পেঁয়াজ — রূপান্তরিত কাণ্ড (Stem modification)। গাজর, মূলো, বিট, কচু — রূপান্তরিত মূল (Root modification)। মূল চেনার উপায়: এতে কোনো গাঁট (Node) বা পাতা (Scale leaf) থাকে না।
47. নিউম্যাটোফোর (Pneumatophore) কী?
ক) ক) পাতা
খ) খ) শ্বাসমূল (শ্বাসকার্যে সাহায্যকারী মূল)
গ) গ) কাণ্ড
ঘ) ঘ) ফুল
সুন্দরী, গরান, কেওড়া ইত্যাদি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের মূল মাটি থেকে উপরের দিকে (বিপরীত অভিকর্ষমুখী) বেড়ে আসে — একে শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর (Pneumatophore) বলে। কর্দমাক্ত অক্সিজেন-স্বল্প মাটিতে এরা বায়ু থেকে অক্সিজেন শোষণ করে।
48. মৃতদেহীভোজী (Saprophytic) উদ্ভিদের পুষ্টি কীভাবে হয়?
ক) ক) সালোকসংশ্লেষ করে
খ) খ) মৃত ও পচনশীল জৈব বস্তু থেকে পরজীবী হিসেবে
গ) গ) পোকা ধরে
ঘ) ঘ) পরাশ্রয়ী হয়ে
মৃতদেহীভোজী (Saprophyte) উদ্ভিদ — যেমন ব্যাঙের ছাতা (Mushroom), ছত্রাক — মৃত পচনশীল জৈব বস্তু থেকে পুষ্টি শোষণ করে। এদের ক্লোরোফিল নেই, সালোকসংশ্লেষ করতে পারে না। পচনকার্যে এরা বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

SAQ (পূর্ণ উত্তর)

10 টি
1. মূল (Root) চেনার প্রধান উপায় কী? মূলের বৈশিষ্ট্য লেখো।
মূল চেনার প্রধান উপায়: (১) বীজের ভ্রূণমূল থেকে সৃষ্টি হয় ও মাটির দিকে (অভিকর্ষের দিকে) বৃদ্ধি পায়, (২) কাণ্ডের মতো কোনো গাঁট (Node) বা পর্ব (Internode) থাকে না, (৩) মূলের অগ্রভাগে একটি টুপি — মূল টুপি (Root Cap) থাকে, (৪) টুপির কিছুটা ওপরে মূলরোম (Root Hair) অঞ্চল থাকে যার মাধ্যমে জল ও খনিজ শোষিত হয়, (৫) সাধারণত মাটির নীচে থাকে, বর্ণহীন। মূলের কাজ: মাটিতে গাছকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখা, জল ও খনিজ শোষণ, কিছু মূলে খাদ্য সঞ্চয় (গাজর, মুলো, বিট, কচু)।
2. কাণ্ড (Stem) চেনার উপায় কী? কাণ্ডের প্রধান কাজ লেখো।
কাণ্ড চেনার উপায়: (১) বীজের ভ্রূণমুকুল (Plumule) থেকে সৃষ্টি হয় ও আলোর দিকে (উপরের দিকে) বৃদ্ধি পায়, (২) কাণ্ডে গাঁট (Node) ও পর্ব (Internode) থাকে — গাঁট থেকে পাতা ও শাখা বের হয়, (৩) কাণ্ডে কাক্ষিক মুকুল (Axillary Bud) ও অগ্রমুকুল (Apical Bud) থাকে, (৪) কিছু কাণ্ড ভূনিম্নস্থ (আলু, আদা) বা রূপান্তরিত (কুমড়োর আকর্ষ, বেলের কাঁটা) হতে পারে। কাজ: (১) ডাল-পাতা-ফুল-ফল ধারণ, (২) জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাধ্যমে জল ও খাদ্য পরিবহণ, (৩) কাণ্ডের ছাল বা বাকল সুরক্ষা দেয়, (৪) কিছু কাণ্ডে খাদ্য সঞ্চয় (আলু, আদা, রসুন), (৫) অঙ্গজ বংশবিস্তার।
3. ফুলের চারটি প্রধান স্তবকের নাম ও কাজ লেখো।
একটি পূর্ণাঙ্গ ফুলে বাইরে থেকে ভিতরে চারটি স্তবক থাকে: (১) বৃতি (Calyx): সবুজ বৃত্যংশ (Sepal) নিয়ে গঠিত — ফুলের কুঁড়ি অবস্থায় সুরক্ষা দেয়, সালোকসংশ্লেষও করে। (২) দলমণ্ডল (Corolla): রঙিন পাপড়ি (Petal) নিয়ে গঠিত — পোকামাকড় ও পাখি আকৃষ্ট করে পরাগযোগে সাহায্য করে। (৩) পুংকেশর চক্র (Androecium): পুরুষ জননাঙ্গ — পুংদণ্ড (Filament) ও পরাগধানী (Anther) নিয়ে গঠিত, পরাগরেণু উৎপন্ন করে। (৪) গর্ভকেশর চক্র (Gynoecium): স্ত্রী জননাঙ্গ — গর্ভমুণ্ড (Stigma), গর্ভদণ্ড (Style) ও গর্ভাশয় (Ovary) নিয়ে গঠিত। নিষেকের পর গর্ভাশয় ফলে ও ডিম্বক বীজে পরিণত হয়।
4. পরাগযোগ (Pollination) কাকে বলে? স্বপরাগযোগ ও ইতরপরাগযোগের পার্থক্য কী?
পরাগযোগ (Pollination): পরাগধানী থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া। স্বপরাগযোগ (Self-pollination): একই ফুলের পরাগরেণু সেই ফুলের অথবা একই গাছের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়লে — যেমন জবা, সরিষা, ধুতুরা। ইতরপরাগযোগ (Cross-pollination): এক গাছের ফুলের পরাগরেণু অন্য গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়লে — যেমন কুমড়ো, শিমুল, পেঁপে। ইতরপরাগযোগে বায়ু, পোকামাকড়, জল, পাখি, বাদুড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ইতরপরাগযোগের ফলে সৃষ্ট উদ্ভিদে জিনগত বৈচিত্র্য ও জীবনীশক্তি বেশি থাকে।
5. ফল (Fruit) কীভাবে গঠিত হয়? সরল ফল, গুচ্ছিত ফল ও যৌগিক ফলের উদাহরণ দাও।
পরাগযোগ ও নিষেকের (Fertilization) পর গর্ভাশয় (Ovary) ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে ফলের (Fruit) সৃষ্টি করে। গর্ভাশয়ের ডিম্বক (Ovule) পরিবর্তিত হয়ে বীজ (Seed) গঠিত হয়। ফলের প্রকারভেদ: (১) সরল ফল (Simple Fruit): একটি ফুলের একটি গর্ভাশয় থেকে — যেমন আম, লেবু, কলা, টম্যাটো, শসা। (২) গুচ্ছিত ফল (Aggregate Fruit): একটি ফুলের একাধিক পৃথক পৃথক গর্ভাশয় যুক্ত হয়ে — যেমন আতা (Custard Apple), স্ট্রবেরি। (৩) যৌগিক ফল (Multiple/Compound Fruit): একাধিক ফুলের গর্ভাশয় একত্রে যুক্ত হয়ে — যেমন আনারস, কাঁঠাল, ডুমুর।
6. অভিস্রবণ (Osmosis) কাকে বলে? পরীক্ষার মাধ্যমে কীভাবে বোঝাবে?
অভিস্রবণ (Osmosis): অর্ধভেদ্য পর্দার (Semi-permeable membrane) মধ্য দিয়ে জলের অণু কম দ্রাব্য ঘনত্বের স্থান থেকে বেশি দ্রাব্য ঘনত্বের স্থানে (অর্থাৎ বেশি জল → কম জল) চলাচল করাকে অভিস্রবণ বলে। পরীক্ষা: ১) একটি আলু খুঁড়ে তাতে চিনি বা নুন ভরে জলের পাত্রে রাখো। কিছুক্ষণ পর আলুর গর্তে জল জমা হবে — বাইরের জল (কম ঘনত্ব) → আলুর গর্তে (বেশি ঘনত্ব) অভিস্রবণে গেছে। ২) নুন জলে কিশমিশ রাখলে কুঁচকে যায় — কোষের জল বেরিয়ে (হাইপারটনিক দ্রবণ) প্লাজমোলাইসিস হয়।
7. অঙ্কুরোদ্গম (Germination) কাকে বলে? এর শর্ত ও দুটি প্রকার ব্যাখ্যা করো।
অঙ্কুরোদ্গম (Germination): সুপ্ত বীজ থেকে ভ্রূণের বৃদ্ধি পেয়ে চারাগাছ সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরোদ্গম বলে। শর্ত: (১) পর্যাপ্ত জল — বীজ নরম করে ও এনজাইম সক্রিয় করে, (২) অক্সিজেন — শ্বসনের জন্য, (৩) উপযুক্ত তাপমাত্রা (20-35°C), (৪) কিছু বীজে আলো বা অন্ধকার প্রয়োজন। প্রকার: (ক) মৃদভেদী (Epigeal): বীজপত্র মাটির ওপরে উঠে আসে — কুমড়ো, তেঁতুল, শিম। (খ) মৃদস্থিত (Hypogeal): বীজপত্র মাটির নীচেই থাকে — মটর, ছোলা, আম, ধান, গম। ভ্রূণমূল → মূল, ভ্রূণমুকুল → কাণ্ড ও পাতা।
8. উদ্ভিদের গৌণ বা অঙ্গজ বংশবিস্তার (Vegetative Propagation) কাকে বলে? পাঁচটি উদ্ভিদের উদাহরণ দাও যেখানে কাণ্ডের মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটে।
উদ্ভিদ যখন ফুল-ফল-বীজ উৎপাদন ছাড়াই নিজ দেহের কোনো অঙ্গ (কাণ্ড, মূল বা পাতা) থেকে নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করে, তাকে অঙ্গজ বংশবিস্তার (Vegetative Propagation) বলে। কাণ্ডের মাধ্যমে বংশবিস্তার — পাঁচটি উদাহরণ: (১) আলু: 'চোখ' বা মুকুল থেকে নতুন গাছ, (২) আদা ও হলুদ: ভূমধ্যস্থ কাণ্ড বা রাইজোম (Rhizome) থেকে, (৩) আখ: কাণ্ডের গাঁট থেকে, (৪) পুইশাকের কাণ্ড রোপণ করলে মূল বের হয়, (৫) গোলাপ, জবা: কাণ্ডের কলম (Cutting) দিয়ে। কলাগাছের সাকার (Sucker) থেকেও বংশবিস্তার হয়।
9. পাতার প্রধান অংশ ও তাদের কাজ লেখো। দ্বিবীজপত্রী ও একবীজপত্রী পাতার শিরাবিন্যাসের পার্থক্য কী?
পাতার তিনটি প্রধান অংশ: (১) পত্রমূল (Leaf Base): যে অংশ দিয়ে পাতা কাণ্ডের গাঁটের সাথে যুক্ত থাকে। কিছু উদ্ভিদে পত্রমূল ফুলে পুলভিনাস (Pulvinus) গঠন করে। (২) পত্রবৃত্ত (Petiole): পত্রফলককে কাণ্ডের সাথে যুক্ত রাখা সরু দণ্ড। কচুরিপানার পত্রবৃত্ত বায়ুকুঠুরীতে ভরা। (৩) পত্রফলক (Lamina): পাতার চওড়া চ্যাপ্টা সবুজ অংশ — সালোকসংশ্লেষ ও বাষ্পমোচন ঘটে, পত্ররন্ধ্র থাকে। শিরাবিন্যাস: দ্বিবীজপত্রীতে জালিকা শিরাবিন্যাস (Reticulate — আম, জবা), একবীজপত্রীতে সমান্তরাল শিরাবিন্যাস (Parallel — ধান, গম, কলা)।
10. জীবকোষে জলের চলাচল কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়? হাইপারটনিক, হাইপোটনিক ও আইসোটনিক দ্রবণের পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।
জীবকোষে জলের চলাচল অভিস্রবণ (Osmosis) প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রিত হয় — অর্ধভেদ্য কোষপর্দার মধ্য দিয়ে জল কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বে ধাবিত হয়। তিনটি অবস্থা: (১) হাইপারটনিক (Hypertonic): বাইরের দ্রবণের ঘনত্ব > কোষরসের ঘনত্ব → কোষ থেকে জল বেরিয়ে যায় → কোষ কুঁচকে যায় (প্লাজমোলাইসিস)। যেমন: নুন জলে রাখা কিশমিশ কুঁচকে যাওয়া, আচারে সবজি নরম হওয়া। (২) হাইপোটনিক (Hypotonic): বাইরের দ্রবণ < কোষরস → জল কোষে প্রবেশ করে → কোষ ফুলে ওঠে। যেমন: বৃষ্টির জলে কিশমিশ ফুলে ওঠা। (৩) আইসোটনিক (Isotonic): দুদিকের ঘনত্ব সমান → জলের কোনো নিট চলাচল নেই → কোষ স্থির থাকে। যেমন: রক্তকোষ 0.9% NaCl দ্রবণে (Normal Saline) ফাটে না বা কুঁচকে না।

Broad Questions

3 টি
1. একটি আদর্শ ফুলের গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করো। ফুলের চারটি স্তবকের নাম, অবস্থান ও কাজ বিস্তারিত আলোচনা করো। পুংকেশর ও গর্ভকেশরের অংশগুলি চিহ্নিত করো।

আদর্শ ফুলের গঠন (জবা ফুলের উদাহরণ)

একটি পূর্ণাঙ্গ ফুলে (Complete Flower) বাইরে থেকে ভিতরের দিকে পর্যায়ক্রমে চারটি স্তবক থাকে — বৃতি, দলমণ্ডল, পুংকেশর চক্র ও গর্ভকেশর চক্র।

স্তবকএককঅবস্থানকাজ
বৃতি (Calyx)বৃত্যংশ (Sepal)সবচেয়ে বাইরেকুঁড়িকে সুরক্ষা, সালোকসংশ্লেষ
দলমণ্ডল (Corolla)পাপড়ি/দল (Petal)বৃতির ভিতরপরাগবাহক আকর্ষণ, রঙিন
পুংকেশর চক্র (Androecium)পুংকেশর (Stamen)দলমণ্ডলের ভিতরপুরুষ জননাঙ্গ, পরাগরেণু উৎপাদন
গর্ভকেশর চক্র (Gynoecium)গর্ভকেশর (Pistil)সবচেয়ে ভিতরে/কেন্দ্রেস্ত্রী জননাঙ্গ, বীজ ও ফল উৎপাদন
পুংকেশরের অংশ: পুংদণ্ড (Filament) ও পরাগধানী (Anther)। পরাগধানীতে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়।
গর্ভকেশরের অংশ: গর্ভমুণ্ড (Stigma), গর্ভদণ্ড (Style) ও গর্ভাশয় (Ovary)।
2. বীজের গঠন ও অঙ্কুরোদ্গম প্রক্রিয়া বিস্তারিত আলোচনা করো। একবীজপত্রী (ভুট্টা) ও দ্বিবীজপত্রী (মটর) বীজের পার্থক্য লেখো। অঙ্কুরোদ্গমের শর্ত কী কী?

বীজের গঠন (মটর বীজ — দ্বিবীজপত্রী)

বাইরের দিকে দ্বিস্তরী বীজত্বক (Seed Coat) — বাইরেরটি কঠিন টেস্টা (Testa), ভিতরেরটি পাতলা টেগমেন (Tegmen)। বীজত্বকের ওপরে ডিম্বকনাভি (Hilum) দাগ ও ডিম্বকরত্র (Micropyle) ছিদ্র থাকে। ভিতরে ভ্রূণ (Embryo) — যার অংশ: দুটি বীজপত্র (Cotyledon), ভ্রূণাক্ষ (Tigellum), ভ্রূণমুকুল (Plumule) ও ভ্রূণমূল (Radicle)।

একবীজপত্রী (ভুট্টা) বনাম দ্বিবীজপত্রী (মটর)

বিষয়মটর (Dicot)ভুট্টা (Monocot)
বীজপত্র সংখ্যা২টি১টি (Scutellum)
সস্য (Endosperm)অনুপস্থিত (বীজপত্রেই খাদ্য)উপস্থিত (বীজপত্র থেকে আলাদা)
ভ্রূণমূল আবরণনেইকোলিওরাইজা
ভ্রূণমুকুল আবরণনেইকোলিওপটাইল
অঙ্কুরোদ্গমের শর্ত: (১) জল, (২) অক্সিজেন, (৩) উপযুক্ত তাপমাত্রা (20-35°C)।
3. অভিস্রবণ (Osmosis) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো। উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনে অভিস্রবণের গুরুত্ব কী? হাইপারটনিক ও হাইপোটনিক দ্রবণে কোষের অবস্থা ব্যাখ্যা করো।

অভিস্রবণ (Osmosis)

অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে জলের অণু কম দ্রাব্য ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি দ্রাব্য ঘনত্বের দ্রবণের দিকে চলাচল করার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে। এটি একটি ভৌত প্রক্রিয়া — জীবকোষের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য।

উদ্ভিদ জীবনে গুরুত্ব:
  1. মূলরোম দ্বারা মাটি থেকে জল ও খনিজ লবণ শোষণ।
  2. কোষের অন্তঃচাপ (Turgor Pressure) বজায় রাখা — যা কোমল উদ্ভিদ অঙ্গকে দৃঢ় রাখে।
  3. পত্ররন্ধ্রের খোলা-বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ।
  4. বীজের অঙ্কুরোদ্গমে জল শোষণ।
প্রাণী জীবনে গুরুত্ব:
  1. লোহিত রক্তকণিকার আকৃতি বজায় রাখা — Normal Saline (0.9% NaCl)-রক্তের সাথে আইসোটনিক।
  2. বৃক্কে পরিস্রাবণ ও পুনঃশোষণ (Reabsorption of water)।
  3. কোষে পুষ্টি ও আয়নের চলাচল নিয়ন্ত্রণ।
দশাদ্ৰবণকোষে জলের দিকফলাফল
হাইপারটনিকবাইরে > ভিতরেকোষ → বাইরেপ্লাজমোলাইসিস (কোষ কুঁচকে)
হাইপোটনিকবাইরে < ভিতরেবাইরে → কোষেটার্গিড (কোষ ফুলে ওঠে)
আইসোটনিকবাইরে = ভিতরেচলাচল নেইস্থিতিশীল (Flaccid)

মনে রেখো!

মূলে মূলরোম ও মূল টুপি থাকে | কাণ্ডে গাঁট-পর্ব থাকে | ফুলের ৪টি স্তবক: বৃতি→দলমণ্ডল→পুংকেশর→গর্ভকেশর | গর্ভাশয় → ফল, ডিম্বক → বীজ | মটর ২ বীজপত্র, ভুট্টা ১ বীজপত্র | অভিস্রবণ: কম ঘনত্ব → বেশি ঘনত্বে জল চলাচল | নুন জলে কোষ কুঁচকে যায় (প্লাজমোলাইসিস) | বীজ অঙ্কুরোদ্গমে জল, বাতাস, উষ্ণতা চাই!

Sponsored Links

FAQ

মূলে কোনো গাঁট বা পর্ব থাকে না, মূল টুপি ও মূলরোম থাকে এবং মাটির দিকে বৃদ্ধি পায়। কাণ্ডে গাঁট-পর্ব থাকে, গাঁট থেকে পাতা ও শাখা বের হয় এবং আলোর দিকে বৃদ্ধি পায়।

অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে জলের অণু কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে চলাচল করাকে অভিস্রবণ বলে। মূলরোমে জল শোষণ, কিডনিতে পুনঃশোষণ — অভিস্রবণের উদাহরণ।