মিশ্রণের উপাদানের পৃথকীকরণ (Separation of Mixture)
নবম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায় (পঞ্চম অংশ) | 50 MCQ | 40 SAQ | 10 Broad Questions
আংশিক পাতন বিয়োজী ফানেল ঊর্ধ্বপাতন সেন্ট্রিফিউগেশন
⚗️
তরল পৃথকীকরণ
স্ফুটনাঙ্কের ভিত্তিতে আংশিক পাতন এবং ঘনত্বের ভিত্তিতে বিয়োজী ফানেল
🔬
আধুনিক পদ্ধতি
ঊর্ধ্বপাতন, সেন্ট্রিফিউগেশন এবং ক্রোমাটোগ্রাফির ব্যবহার
Interactive MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
50 টিসঠিক উত্তর জানতে যেকোনো একটি অপশনে ক্লিক করো।
1. স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য $10^\circ C$ অপেক্ষা কম এরূপ দুটি তরলের সমসত্ত্ব মিশ্রণ থেকে উপাদানগুলিকে পৃথক করা যাবে কোন্ পদ্ধতিতে?
ক) সাধারণ পাতন
খ) আংশিক পাতন
গ) পরিস্রাবণ
ঘ) বিয়োজী ফানেল
ব্যাখ্যা: কাছাকাছি স্ফুটনাঙ্কবিশিষ্ট (পার্থক্য $<20^\circ C$) দুটি তরলের সমসত্ত্ব মিশ্রণকে পৃথক করতে ফ্র্যাকশনেটিং কলাম বা অংশন স্তম্ভ যুক্ত আংশিক পাতন (Fractional distillation) ব্যবহার করা হয়।
2. তেল ও জলের মিশ্রণের ক্ষেত্রে উপাদানগুলি পৃথক্করণের পদ্ধতিটির নাম কী?
ক) পাতন
খ) আংশিক পাতন
গ) বিয়োজী ফানেল
ঘ) ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা: তেল ও জল পরস্পর অমিশ্রণীয় (Immiscible) তরল। এদের ঘনত্বের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে বিয়োজী ফানেলের (Separatory funnel) সাহায্যে পৃথক করা হয়।
3. ইথার (A), জল (B) ও ক্লোরোফর্মের (C) ঘনত্বের ক্রম হল—
ক) $A > C > B$
খ) $C > B > A$
গ) $C > A > B$
ঘ) $A = B < C$
ব্যাখ্যা: ক্লোরোফর্মের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি (১.৪৯ g/mL), তারপর জল (১.০০ g/mL) এবং ইথারের ঘনত্ব সবচেয়ে কম (০.৭১ g/mL)। তাই ক্রমটি হলো $C > B > A$।
4. মিথানল ($65^\circ C$) ও অ্যাসিটোনের ($56^\circ C$) মিশ্রণে তাপ প্রয়োগ করলে পাতন ফ্লাক্স থেকে কোন্টি আগে পাতিত হয়?
ক) মিথানল
খ) অ্যাসিটোন
গ) দুটি একসঙ্গেই
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: যে তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম, সেটি আগে বাষ্পীভূত হয় এবং ঘনীভূত হয়ে আগে পাতিত হয়। অ্যাসিটোনের স্ফুটনাঙ্ক কম হওয়ায় এটি আগে পাতিত হবে।
5. সমসত্ত্ব তরল মিশ্রণ থেকে বিশুদ্ধ তরলকে পৃথক করার পদ্ধতি কোনটি?
ক) পরিশ্রাবণ
খ) পাতন
গ) বিয়োজী ফানেল
ঘ) সেন্ট্রিফিউগেশন
ব্যাখ্যা: কোনো তরলে কঠিন দ্রবীভূত থাকলে (যেমন নুন-জল) তাকে তাপ দিয়ে বাষ্পীভূত করে এবং পরে শীতল করে ঘনীভূত করার পদ্ধতি হলো পাতন (Distillation)।
6. পাতন (Distillation) প্রক্রিয়ার দুটি প্রধান ধাপ কী কী?
ক) বাষ্পীভবন ও গলন
খ) বাষ্পীভবন ও ঘনীভবন
গ) ঘনীভবন ও ঊর্ধ্বপাতন
ঘ) পরিশ্রাবণ ও বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা: পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন। প্রথমে তরলকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা হয়, তারপর বাষ্পকে শীতল করে পুনরায় তরলে পরিণত করা হয়।
7. অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ (Azeotropic mixture) কী?
ক) যারা কখনোই ফোটে না
খ) যারা নির্দিষ্ট উষ্ণতায় স্থির অনুপাতে ফোটে
গ) যাদের স্ফুটনাঙ্ক ভিন্ন
ঘ) অমিশ্রণীয় তরল
ব্যাখ্যা: যেসব তরল মিশ্রণ একটি নির্দিষ্ট সংযুক্তিতে অপরিবর্তিত উষ্ণতায় ফোটে এবং তরল ও বাষ্প দশায় উপাদানগুলির সংযুক্তি একই থাকে, তাদের অ্যাজিওট্রোপ বলে।
8. রেকটিফায়েড স্পিরিট (Rectified spirit) কীসের অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ?
ক) মিথানল ও জল
খ) ইথানল ও জল
গ) অ্যাসিটোন ও ইথার
ঘ) কেরোসিন ও জল
ব্যাখ্যা: 95.6% ইথানল ও 4.4% জলের মিশ্রণ হলো একটি অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ, যাকে রেকটিফায়েড স্পিরিট বলে।
9. অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণকে আংশিক পাতনের সাহায্যে কি সম্পূর্ণরূপে পৃথক করা যায়?
ক) হ্যাঁ
খ) না
গ) কেবল চাপ বাড়ালে
ঘ) কেবল উষ্ণতা কমালে
ব্যাখ্যা: অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণের উপাদানগুলি একই উষ্ণতায় একই সাথে বাষ্পীভূত হয়, তাই সাধারণ বা আংশিক পাতন দ্বারা এদের 100% পৃথক করা যায় না।
10. জল ও কার্বন টেট্রাক্লোরাইড ($CCl_4$) এর মিশ্রণকে কোন্ যন্ত্রের সাহায্যে পৃথক করা হয়?
ক) পাতন ফ্লাস্ক
খ) বিয়োজী ফানেল
গ) অংশন স্তম্ভ
ঘ) ফিল্টার পেপার
ব্যাখ্যা: জল ও কার্বন টেট্রাক্লোরাইড অমিশ্রণীয় তরল। $CCl_4$ ভারী হওয়ায় নীচে এবং জল হালকা হওয়ায় ওপরে স্তর তৈরি করে। এদের বিয়োজী ফানেল দিয়ে পৃথক করা যায়।
11. বিয়োজী ফানেলে জল ও ক্লোরোফর্মের মিশ্রণ রাখলে নীচের স্তরে কোনটি থাকে?
ক) জল
খ) ক্লোরোফর্ম
গ) ইথার
ঘ) উভয়ই মিশে থাকে
ব্যাখ্যা: ক্লোরোফর্মের ঘনত্ব জলের চেয়ে বেশি। তাই বিয়োজী ফানেলে ক্লোরোফর্ম নীচের স্তরে এবং জল ওপরের স্তরে থাকে।
12. পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল শোধনাগারে কোন্ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়?
ক) সাধারণ পাতন
খ) আংশিক পাতন
গ) ঊর্ধ্বপাতন
ঘ) বিয়োজী ফানেল
ব্যাখ্যা: পেট্রোলিয়ামে উপস্থিত বিভিন্ন উপাদান (পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ইত্যাদি)-এর স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য খুব কম হওয়ায় এদের আংশিক পাতনের সাহায্যে পৃথক করা হয়।
13. যেসব কঠিন পদার্থ তাপ দিলে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, তাদের ধর্মকে কী বলে?
ক) বাষ্পীভবন
খ) ঘনীভবন
গ) ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation)
ঘ) কেলাসন
ব্যাখ্যা: নিশাদল ($NH_4Cl$), কর্পূর, ন্যাপথালিন, আয়োডিন প্রভৃতি কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে এরা সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। একে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
14. লবণ ও নিশাদলের ($NH_4Cl$) মিশ্রণকে কোন্ পদ্ধতিতে পৃথক করবে?
ক) পরিশ্রাবণ
খ) ঊর্ধ্বপাতন
গ) বিয়োজী ফানেল
ঘ) আংশিক পাতন
ব্যাখ্যা: নিশাদল ঊর্ধ্বপাতিত হয় কিন্তু লবণ হয় না। তাই তাপ দিলে নিশাদল বাষ্প হয়ে উড়ে যায় এবং লবণ পড়ে থাকে।
15. রক্ত বা দুধ থেকে বিভিন্ন উপাদান পৃথক করতে কোন্ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়?
ক) কেন্দ্রাতিগ বা সেন্ট্রিফিউগেশন
খ) আংশিক পাতন
গ) বিয়োজী ফানেল
ঘ) ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা: রক্তের কণিকা বা দুধ থেকে ক্রিম আলাদা করতে সেন্ট্রিফিউজ (Centrifuge) যন্ত্রে অতি দ্রুত বেগে ঘোরানো হয়, ফলে ঘনত্বের পার্থক্যের জন্য উপাদানগুলি আলাদা হয়।
16. ন্যাপথালিন ও বালির মিশ্রণ থেকে ন্যাপথালিন কীভাবে পৃথক করবে?
ক) জলে দ্রবীভূত করে
খ) ঊর্ধ্বপাতনের সাহায্যে
গ) বিয়োজী ফানেল দিয়ে
ঘ) পরিশ্রাবণ দ্বারা
ব্যাখ্যা: ন্যাপথালিন ঊর্ধ্বপাতিত হতে পারে কিন্তু বালি পারে না। তাপ দিলে ন্যাপথালিন বাষ্প হয়ে আলাদা হয়ে যায়।
17. কাদাজল থেকে পরিষ্কার জল পেতে কোন সাধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?
ক) পাতন
খ) পরিশ্রাবণ (Filtration)
গ) ঊর্ধ্বপাতন
ঘ) সেন্ট্রিফিউগেশন
ব্যাখ্যা: ফিল্টার পেপারের সাহায্যে কাদাজল থেকে কাদার অদ্রবণীয় কণাগুলিকে ছেঁকে আলাদা করার পদ্ধতি হলো পরিশ্রাবণ।
18. কালি বা রং-এর বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণ পৃথক করতে কোন আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়?
ক) বিয়োজী ফানেল
খ) আংশিক পাতন
গ) ক্রোমাটোগ্রাফি
ঘ) কেলাসন
ব্যাখ্যা: ক্রোমাটোগ্রাফি (Chromatography) পদ্ধতি ব্যবহার করে কালি বা রঞ্জক পদার্থের একাধিক বর্ণকে খুব সহজেই আলাদা করা যায়।
19. দুটি মিশ্রণীয় তরলকে পৃথক করার মূল ভিত্তি কী?
ক) ঘনত্বের পার্থক্য
খ) স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য
গ) দ্রাব্যতার পার্থক্য
ঘ) রঙের পার্থক্য
ব্যাখ্যা: দুটি সমসত্ত্ব বা মিশ্রণীয় তরলকে (যেমন জল ও অ্যালকোহল) তাদের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে পাতন বা আংশিক পাতন দ্বারা পৃথক করা হয়।
20. দুটি অমিশ্রণীয় তরলকে পৃথক করার মূল ভিত্তি কী?
ক) ঘনত্বের পার্থক্য
খ) স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য
গ) দ্রাব্যতার পার্থক্য
ঘ) বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা: যে তরলগুলি পরস্পরের সাথে মেশে না (যেমন তেল ও জল), তাদের ঘনত্বের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে বিয়োজী ফানেল দ্বারা পৃথক করা হয়।
21. ফ্র্যাকশনেটিং কলাম বা অংশন স্তম্ভ কোথায় ব্যবহার করা হয়?
ক) সাধারণ পাতনে
খ) আংশিক পাতনে
গ) বিয়োজী ফানেলে
ঘ) পরিশ্রাবণে
ব্যাখ্যা: কাছাকাছি স্ফুটনাঙ্কের তরল বাষ্পকে বারবার ঘনীভূত ও বাষ্পীভূত করে সম্পূর্ণ পৃথক করার জন্য আংশিক পাতনে ফ্র্যাকশনেটিং কলাম ব্যবহার করা হয়।
22. অ্যানিলিন ও জলের মিশ্রণ কীভাবে পৃথক করা হয়?
ক) সাধারণ পাতন
খ) বিয়োজী ফানেল
গ) স্টিম পাতন (Steam Distillation)
ঘ) ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা: অ্যানিলিন জলে অদ্রবণীয় কিন্তু স্টিমে উদ্বায়ী। তাই এদের স্টিম পাতন প্রক্রিয়ায় সহজে পৃথক করা যায়।
23. কর্পূর ও লবণের মিশ্রণ কীভাবে পৃথক করা যায়?
ক) ঊর্ধ্বপাতন দ্বারা
খ) জলে দ্রবীভূত করে
গ) উভয় পদ্ধতি দ্বারাই
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: উভয় পদ্ধতিই কাজ করবে। তাপ দিলে কর্পূর ঊর্ধ্বপাতিত হবে। অথবা জলে গোলালে লবণ গলবে কিন্তু কর্পূর অদ্রবণীয় থাকায় ফিল্টার করে আলাদা করা যাবে।
24. কোনো জৈব দ্রাবকে উদ্বায়ী অশুদ্ধি থাকলে কীভাবে তা মুক্ত করবে?
ক) পরিশ্রাবণ
খ) পাতন
গ) ঊর্ধ্বপাতন
ঘ) বিয়োজী ফানেল
ব্যাখ্যা: মূল্যবান জৈব দ্রাবকে অশুদ্ধি দ্রবীভূত থাকলে পাতন (Distillation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশুদ্ধ জৈব দ্রাবককে বাষ্পীভূত ও ঘনীভূত করে পুনরুদ্ধার করা হয়।
25. বেঞ্জিন ও টলুইনের মিশ্রণ পৃথক করতে কোন পদ্ধতি লাগবে?
ক) বিয়োজী ফানেল
খ) আংশিক পাতন
গ) পরিশ্রাবণ
ঘ) সাধারণ পাতন
ব্যাখ্যা: বেঞ্জিন ($80^\circ C$) ও টলুইন ($110^\circ C$) পরস্পরের সাথে মিশে থাকে। এদের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য খুব কম হওয়ায় আংশিক পাতন ব্যবহৃত হয়।
26. পানীয় জল থেকে ব্যাকটেরিয়া মুক্ত করতে কোন্ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়?
ক) UV রশ্মি চালনা
খ) বিয়োজী ফানেল
গ) ক্লোরিনেশন
ঘ) ক এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা: শহরের জল পরিশোধনে ক্লোরিনেশন, ওজোনাইজেশন বা আল্ট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি চালনা করে ব্যাকটেরিয়া মুক্ত করা হয়।
27. চিনি ও বালির মিশ্রণ থেকে উপাদানগুলিকে কীভাবে পৃথক করবে?
ক) ঊর্ধ্বপাতন
খ) জলে দ্রবীভূত করে পরিশ্রাবণ
গ) আংশিক পাতন
ঘ) বিয়োজী ফানেল
ব্যাখ্যা: মিশ্রণটিকে জলে গোলালে চিনি দ্রবীভূত হবে কিন্তু বালি হবে না। এরপর ফিল্টার করলে বালি আলাদা হবে, আর পরিশ্রুত দ্রবণকে বাষ্পীভূত করলে চিনি পাওয়া যাবে।
28. কোন তরল মিশ্রণের উপাদানগুলিকে ক্রোমাটোগ্রাফি পদ্ধতিতে পৃথক করার মূল নীতি কী?
ক) স্ফুটনাঙ্ক
খ) অধিশোষণ (Adsorption)
গ) ঘনত্ব
ঘ) প্লবতা
ব্যাখ্যা: ক্রোমাটোগ্রাফিতে স্থির দশার ওপর মিশ্রণের উপাদানগুলির অধিশোষণের (Adsorption) পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে এদের পৃথক করা হয়।
29. লোহার গুঁড়ো ও সালফারের মিশ্রণ কীভাবে পৃথক করা হয়?
ক) জলে গুলে
খ) চুম্বকের সাহায্যে
গ) বিয়োজী ফানেলে
ঘ) ঊর্ধ্বপাতনে
ব্যাখ্যা: লোহার গুঁড়ো চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয়, কিন্তু সালফার হয় না। তাই চুম্বক ব্যবহার করে এদের সহজে আলাদা করা যায়।
30. সামুদ্রিক জল থেকে বিশুদ্ধ পানীয় জল পেতে কোন পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকরী?
ক) পরিশ্রাবণ
খ) বিয়োজী ফানেল
গ) বিপরীত অভিস্রবণ (Reverse Osmosis)
ঘ) ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা: সমুদ্রের নোনা জল থেকে লবণ মুক্ত করে বিশুদ্ধ পানীয় জল তৈরি করতে বিপরীত অভিস্রবণ (RO) বা পাতন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
31. বিয়োজী ফানেলে জল ও সরষের তেল রাখলে কোন তরলটি ওপরের স্তরে থাকে?
ক) জল
খ) সরষের তেল
গ) দুটিই মিশে থাকে
ঘ) বলা সম্ভব নয়
ব্যাখ্যা: তেলের ঘনত্ব জলের চেয়ে কম, তাই সরষের তেল জলের ওপর ভাসে এবং ওপরের স্তর গঠন করে।
32. পাতনের সময় থার্মোমিটার কোথায় লাগানো হয়?
ক) ফ্লাস্কের তরলে ডুবিয়ে
খ) ফ্লাস্কের পার্শনলের মুখে
গ) লিবিগ শীতকের শেষে
ঘ) গ্রাহক পাত্রে
ব্যাখ্যা: বাষ্পের সঠিক উষ্ণতা মাপার জন্য থার্মোমিটারের বাল্বটি পাতন ফ্লাস্কের পার্শনলের (side tube) ঠিক মুখের কাছে রাখা হয়।
33. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ($NH_4Cl$) ও সোডিয়াম ক্লোরাইড ($NaCl$) এর মিশ্রণ পৃথক করতে কোনটি ব্যবহার করবে?
ক) পাতন
খ) আংশিক পাতন
গ) ঊর্ধ্বপাতন
ঘ) সেন্ট্রিফিউগেশন
ব্যাখ্যা: অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (নিশাদল) একটি ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ। তাপ দিলে এটি বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে, কিন্তু সোডিয়াম ক্লোরাইড পড়ে থাকবে।
34. আয়োডিন ও বালির মিশ্রণ পৃথক করার পদ্ধতিটি কী?
ক) পরিশ্রাবণ
খ) ঊর্ধ্বপাতন
গ) পাতন
ঘ) ক্রোমাটোগ্রাফি
ব্যাখ্যা: আয়োডিন একটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ। তাপ দিলে আয়োডিন বাষ্পে পরিণত হবে যা ঠান্ডা করে পুনরায় কঠিন আয়োডিন পাওয়া যাবে, বালি পড়ে থাকবে।
35. অংশন স্তম্ভ বা ফ্র্যাকশনেটিং কলামে কী থাকে যা বাষ্পকে ঘনীভূত করতে সাহায্য করে?
ক) জল
খ) কাচের ছোট ছোট টুকরো বা বিডস
গ) ফিল্টার পেপার
ঘ) চুম্বক
ব্যাখ্যা: ফ্র্যাকশনেটিং কলামের মধ্যে কাচের ছোট ছোট বিডস (beads) থাকে যা বাষ্পকে ঠান্ডা হওয়ার জন্য অনেকটা বেশি পৃষ্ঠতল (surface area) প্রদান করে।
36. খনিজ তেল থেকে পেট্রোল, ডিজেল আলাদা করা হয় কেন?
ক) এদের ঘনত্ব আলাদা
খ) এদের স্ফুটনাঙ্ক আলাদা
গ) এরা অমিশ্রণীয়
ঘ) এরা ঊর্ধ্বপাতিত হয়
ব্যাখ্যা: পেট্রোলিয়ামের বিভিন্ন উপাদানের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য থাকে, যার কারণে আংশিক পাতন ব্যবহার করে এদের আলাদা করা সম্ভব হয়।
37. কোন্ পদ্ধতিতে তরলের বাষ্পীভবন ও ঘনীভবন একই সাথে ঘটে?
ক) বিয়োজী ফানেল
খ) সেন্ট্রিফিউগেশন
গ) পাতন (Distillation)
ঘ) কেলাসন
ব্যাখ্যা: পাতন প্রক্রিয়ায় ফ্লাস্কে বাষ্পীভবন এবং শীতকে (Condenser) ঘনীভবন একই সাথে চলতে থাকে।
38. লিবিগ শীতকে (Liebig condenser) জল প্রবাহ কোন দিক থেকে কোন দিকে হয়?
ক) ওপর থেকে নীচে
খ) নীচ থেকে ওপরে
গ) যেকোনো দিকে
ঘ) জল লাগে না
ব্যাখ্যা: শীতকে শীতল জল সর্বদা নীচের দিক থেকে প্রবেশ করানো হয় এবং ওপরের দিক দিয়ে গরম জল বের হয়, যাতে শীতকটি সব সময় জলপূর্ণ থাকে ও কার্যকর ঘনীভবন হয়।
39. দুধ থেকে ক্রিম আলাদা করতে কোন পদ্ধতি সবচেয়ে ভালো?
ক) পরিস্রাবণ
খ) কেন্দ্রাতিগ (Centrifugation)
গ) পাতন
ঘ) বিয়োজী ফানেল
ব্যাখ্যা: কেন্দ্রাতিগ যন্ত্রে (Centrifuge) দুধকে প্রবল বেগে ঘোরালে হালকা ক্রিম বা মাখন ওপরে চলে আসে এবং ভারী অংশ নীচে থিতিয়ে পড়ে।
40. ক্রোমাটোগ্রাফিতে স্থির দশা হিসেবে কী ব্যবহৃত হতে পারে?
ক) কাচ
খ) ফিল্টার পেপার বা সিলিকা জেল
গ) জল
ঘ) ইথার
ব্যাখ্যা: পেপার ক্রোমাটোগ্রাফিতে ফিল্টার পেপার স্থির দশা (Stationary phase) হিসেবে কাজ করে।
41. কালির মিশ্রণ থেকে উপাদান পৃথক করতে কোন ক্রোমাটোগ্রাফি ব্যবহৃত হয়?
ক) গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি
খ) পেপার ক্রোমাটোগ্রাফি
গ) কলাম ক্রোমাটোগ্রাফি
ঘ) তরল ক্রোমাটোগ্রাফি
ব্যাখ্যা: রঞ্জক পদার্থ বা কালির মিশ্রণ পৃথক করার জন্য সাধারণ পরীক্ষাগারে পেপার ক্রোমাটোগ্রাফি (Paper Chromatography) ব্যবহার করা হয়।
42. বায়ু থেকে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন ইত্যাদি পৃথক করতে কোন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়?
ক) সাধারণ পাতন
খ) আংশিক পাতন
গ) বিয়োজী ফানেল
ঘ) ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা: বায়ুকে প্রথমে উচ্চচাপে ও নিম্ন উষ্ণতায় তরলে পরিণত করা হয়। তারপর সেই তরল বায়ুর আংশিক পাতন করে এর উপাদান গ্যাসগুলিকে আলাদা করা হয়।
43. উচ্চ স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট তরল মিশ্রণকে পৃথক করতে কোন পাতন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়?
ক) সাধারণ পাতন
খ) নিম্নচাপে পাতন (Vacuum Distillation)
গ) আংশিক পাতন
ঘ) স্টিম পাতন
ব্যাখ্যা: যেসব তরল তাদের স্ফুটনাঙ্কে পৌঁছানোর আগেই বিযোজিত হয়ে যায়, তাদের ক্ষেত্রে নিম্নচাপে পাতন (Vacuum distillation) ব্যবহার করে কম উষ্ণতায় ফোটানো হয়।
44. জল ও ইথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রণকে কী বলা হয়?
ক) অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ
খ) প্রলম্বন
গ) কোলয়েড
ঘ) অমিশ্রণীয় মিশ্রণ
ব্যাখ্যা: নির্দিষ্ট অনুপাতে জল ও ইথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রণ একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতায় ফোটে এবং বাষ্প ও তরলের সংযুক্তি এক থাকে, তাই এটি অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ।
45. বিয়োজী ফানেলে স্টপকক (Stopcock) কেন ব্যবহৃত হয়?
ক) তরল গরম করতে
খ) তরল ঠান্ডা করতে
গ) তরলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে
ঘ) গ্যাস বের করতে
ব্যাখ্যা: বিয়োজী ফানেলের নীচে থাকা স্টপককটি খুলে ভারী তরলের স্তরটিকে ফোঁটায় ফোঁটায় আলাদা পাত্রে বের করে নেওয়া হয় এবং স্তর শেষ হলে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
46. লোহার গুঁড়ো ও বালির মিশ্রণ পৃথক করতে কী লাগবে?
ক) বিয়োজী ফানেল
খ) চুম্বক
গ) পাতন ফ্লাস্ক
ঘ) শীতক
ব্যাখ্যা: লোহা একটি চৌম্বক পদার্থ। মিশ্রণে একটি শক্তিশালী চুম্বক ধরলে লোহার গুঁড়োগুলি চুম্বকে আটকে যাবে এবং বালি পড়ে থাকবে।
47. কঠিন ও তরলের সমসত্ত্ব মিশ্রণ থেকে শুধু কঠিন পদার্থটি পেতে চাইলে কোনটি সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি?
ক) পরিশ্রাবণ
খ) বিয়োজী ফানেল
গ) বাষ্পীভবন (Evaporation)
ঘ) ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা: লবণ-জলের দ্রবণ থেকে শুধু লবণ পেতে চাইলে দ্রবণটিকে বাষ্পীভূত করলে জল উড়ে যাবে এবং কঠিন লবণ পড়ে থাকবে। একে বাষ্পীভবন বা কেলাসন বলা যায়।
48. পাতনের সাহায্যে যে বিশুদ্ধ তরলটি গ্রাহক পাত্রে জমা হয় তাকে কী বলে?
ক) পরিশ্রুত
খ) পাতিত তরল (Distillate)
গ) অবশেষ
ঘ) অ্যাজিওট্রোপ
ব্যাখ্যা: পাতন প্রক্রিয়ায় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে যে বিশুদ্ধ তরল পাওয়া যায়, তাকে পাতিত তরল বা Distillate বলে।
49. দুটি তরলের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য $25^\circ C$ এর বেশি হলে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?
ক) সাধারণ পাতন
খ) আংশিক পাতন
গ) বিয়োজী ফানেল
ঘ) ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা: স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য অনেকটা বেশি ($25^\circ C$ বা তার বেশি) হলে অংশন স্তম্ভ ছাড়াই সাধারণ পাতন (Simple distillation) পদ্ধতির সাহায্যে তরল দুটিকে আলাদা করা যায়।
50. কোনো জৈব দ্রাবকে অনুদ্বায়ী (Non-volatile) অশুদ্ধি মিশে থাকলে কীভাবে বিশুদ্ধ করবে?
ক) পরিশ্রাবণ
খ) পাতন
গ) বিয়োজী ফানেল
ঘ) ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা: অশুদ্ধ দ্রাবকটিকে পাতন ফ্লাস্কে উত্তপ্ত করলে উদ্বায়ী দ্রাবকটি বাষ্পীভূত হয়ে শীতকে ঘনীভূত হবে এবং অনুদ্বায়ী অশুদ্ধি ফ্লাস্কেই পড়ে থাকবে।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
40 টি1. পাতন (Distillation) কাকে বলে?
কোনো তরলে অদ্রবণীয় বা দ্রবণীয় কঠিন পদার্থ মিশে থাকলে, তাপ প্রয়োগে তরলটিকে বাষ্পীভূত করে এবং সেই বাষ্পকে পুনরায় শীতল ও ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ তরল পাওয়ার পদ্ধতিকে পাতন বলে। (পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন)।
2. আংশিক পাতন (Fractional distillation) কাকে বলে?
পরস্পরের সাথে মিশে থাকে এমন দুটি তরলের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য খুব কম ($20^\circ C$ এর নীচে) হলে, অংশন স্তম্ভ (Fractionating column) ব্যবহার করে তরল মিশ্রণকে বাষ্পীভূত ও ঘনীভূত করে আলাদা করার পদ্ধতিকে আংশিক পাতন বলে।
3. কাছাকাছি স্ফুটনাঙ্কবিশিষ্ট দুটি তরলের সমসত্ত্ব মিশ্রণ থেকে উপাদানগুলিকে কোন্ পদ্ধতিতে পৃথক করবে?
কাছাকাছি স্ফুটনাঙ্কবিশিষ্ট দুটি তরলের সমসত্ত্ব মিশ্রণকে 'আংশিক পাতন' (Fractional distillation) পদ্ধতির সাহায্যে পৃথক করা হয়।
4. পৃথক্করণের কাজে বিয়োজী ফানেল (Separatory funnel) কখন ব্যবহৃত হয়?
যেসব তরল একে অপরের সাথে মেশে না (অর্থাৎ অমিশ্রণীয়) এবং যাদের ঘনত্বের পার্থক্য থাকে, তাদের মিশ্রণকে পৃথক করার জন্য বিয়োজী ফানেল ব্যবহার করা হয়। (যেমন- তেল ও জলের মিশ্রণ)।
5. অ্যাজিওট্রোপ বা অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ (Azeotropic mixture) কী?
যে তরল মিশ্রণ একটি নির্দিষ্ট ও স্থির উষ্ণতায় ফোটে এবং তরল ও বাষ্প দশায় উপাদানগুলির সংযুক্তি একই থাকে, সেই মিশ্রণকে অ্যাজিওট্রোপ বা অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ বলে। (যেমন- 95.6% ইথানল ও 4.4% জলের মিশ্রণ)।
6. সাধারণ পাতন প্রক্রিয়ায় মিথানল ও অ্যাসিটোনের মিশ্রণ থেকে উপাদানগুলিকে পৃথক করা যায় না কেন?
মিথানল ($65^\circ C$) ও অ্যাসিটোন ($56^\circ C$) উভয়ের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য খুবই কম। সাধারণ পাতনে তাপ দিলে উভয়ের বাষ্প একসঙ্গেই তৈরি হয়ে ঘনীভূত হতে থাকে, ফলে বিশুদ্ধ অবস্থায় এদের আলাদা করা যায় না। এর জন্য আংশিক পাতন প্রয়োজন।
7. পাতন ফ্লাক্সে মিথানল ও অ্যাসিটোনের মিশ্রণে তাপ প্রয়োগ করলে কোন্টি আগে পাতিত হয়?
অ্যাসিটোনের স্ফুটনাঙ্ক ($56^\circ C$) মিথানলের ($65^\circ C$) চেয়ে কম। তাই মিশ্রণে তাপ প্রয়োগ করলে অ্যাসিটোন আগে বাষ্পীভূত হয়ে আগে পাতিত হবে।
8. তেল ও জলের মিশ্রণের ক্ষেত্রে উপাদানগুলি পৃথক্করণের পদ্ধতিটির নাম লেখো।
তেল ও জল অমিশ্রণীয় তরল হওয়ায় এদের ঘনত্বের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে 'বিয়োজী ফানেল' (Separatory funnel) -এর সাহায্যে পৃথক করা হয়।
9. ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation) কাকে বলে?
যে পদ্ধতিতে কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তা তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় এবং শীতল করলে বাষ্প সরাসরি কঠিনে ফিরে আসে, তাকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
10. দুটি ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থের নাম লেখো।
দুটি ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ হলো: নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ($NH_4Cl$) এবং কর্পূর (Camphor)। এছাড়া আয়োডিন, ন্যাপথালিনও ঊর্ধ্বপাতিত হয়।
11. নুন ও কর্পূরের মিশ্রণকে কোন্ পদ্ধতিতে পৃথক করবে?
মিশ্রণটিকে সামান্য উত্তপ্ত করলে কর্পূর ঊর্ধ্বপাতিত হয়ে বাষ্পে পরিণত হবে, যাকে ঠান্ডা করে পুনরায় কর্পূর পাওয়া যাবে। নুন বাষ্পীভূত হবে না, তাই পাত্রে পড়ে থাকবে।
12. সেন্ট্রিফিউগেশন (Centrifugation) বা কেন্দ্রাতিগ পদ্ধতি কী?
যে পদ্ধতিতে একটি তরলের মধ্যে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম কণাগুলিকে একটি ঘূর্ণায়মান যন্ত্রের (Centrifuge) সাহায্যে প্রবল বেগে ঘুরিয়ে ঘনত্বের পার্থক্যের ভিত্তিতে আলাদা করা হয়, তাকে সেন্ট্রিফিউগেশন বলে।
13. দুধ থেকে মাখন তোলার জন্য কোন্ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?
দুধ থেকে ক্রিম বা মাখন আলাদা করার জন্য সেন্ট্রিফিউগেশন বা কেন্দ্রাতিগ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
14. ক্রোমাটোগ্রাফি (Chromatography) কাকে বলে?
যে পদ্ধতিতে কোনো সমসত্ত্ব মিশ্রণের উপাদানগুলিকে একটি স্থির দশা (Stationary phase) এবং একটি সচল দশার (Mobile phase) মধ্যে অধিশোষণের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে পৃথক করা হয়, তাকে ক্রোমাটোগ্রাফি বলে।
15. কালির মিশ্রণ বা উদ্ভিদের রঞ্জক পৃথক করতে কোন্ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়?
কালির বিভিন্ন রং বা উদ্ভিদের পাতার রঞ্জক (যেমন ক্লোরোফিল) পৃথক করতে পেপার ক্রোমাটোগ্রাফি (Paper chromatography) ব্যবহৃত হয়।
16. লিবিগ শীতক (Liebig condenser) কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
পাতন বা আংশিক পাতন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন উত্তপ্ত বাষ্পকে দ্রুত ঠান্ডা করে পুনরায় তরলে (ঘনীভূত) পরিণত করার জন্য লিবিগ শীতক ব্যবহার করা হয়।
17. শীতকে শীতল জলের প্রবাহ নীচ থেকে ওপরের দিকে রাখা হয় কেন?
নীচ থেকে ওপরে জল প্রবাহিত হলে শীতকের বাইরের জ্যাকেটটি সর্বদা জলে পূর্ণ থাকে। এর ফলে বাষ্প অনেক বেশি শীতল জলের সংস্পর্শে আসে এবং ঘনীভবন খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়।
18. বিয়োজী ফানেলে জল ও ক্লোরোফর্মের মিশ্রণ রাখলে কোনটি নীচের স্তরে থাকে?
ক্লোরোফর্মের ঘনত্ব জলের চেয়ে বেশি হওয়ায় ক্লোরোফর্ম ভারী হয় এবং এটি বিয়োজী ফানেলের নীচের স্তরে অবস্থান করে। জল হালকা হওয়ায় ওপরের স্তরে থাকে।
19. বিয়োজী ফানেলে জল ও কেরোসিনের মিশ্রণ রাখলে কোনটি ওপরের স্তরে থাকে?
কেরোসিনের ঘনত্ব জলের চেয়ে কম হওয়ায় কেরোসিন জলের চেয়ে হালকা। তাই বিয়োজী ফানেলে কেরোসিন ওপরের স্তরে অবস্থান করে।
20. পেট্রোলিয়াম শোধনে কোন্ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?
খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়ামে থাকা বিভিন্ন উপাদানের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য খুব কম হওয়ায় এদের পৃথক করার জন্য আংশিক পাতন (Fractional distillation) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
21. লোহার গুঁড়ো ও বালির মিশ্রণ কীভাবে পৃথক করা হয়?
মিশ্রণটির কাছে একটি শক্তিশালী চুম্বক ধরলে, লোহার গুঁড়োগুলি চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে আলাদা হয়ে যাবে এবং অয়স্কান্ত পদার্থ বালি পাত্রেই পড়ে থাকবে।
22. বালি ও লবণের মিশ্রণ কীভাবে পৃথক করা হয়?
মিশ্রণটিকে জলে দ্রবীভূত করলে লবণ গলে যাবে। এরপর মিশ্রণটিকে ফিল্টার পেপার দিয়ে ছেঁকে নিলে বালি ফিল্টার পেপারে আটকে যাবে। পরিশ্রুত লবণ-জলকে বাষ্পীভূত করলে লবণ পাওয়া যাবে।
23. ফ্র্যাকশনেটিং কলাম বা অংশন স্তম্ভের কাজ কী?
আংশিক পাতনের সময় ফ্র্যাকশনেটিং কলাম বাষ্পকে ঘনীভূত হওয়ার জন্য অনেক বেশি পৃষ্ঠতল প্রদান করে। ফলে যে তরলের স্ফুটনাঙ্ক বেশি, তার বাষ্প আগে ঘনীভূত হয়ে ফ্লাস্কে ফিরে আসে এবং কম স্ফুটনাঙ্কের বাষ্প শীতকে পৌঁছায়।
24. পাতিত জল (Distilled water) কী?
সাধারণ জলকে পাতন প্রক্রিয়ায় (বাষ্পীভূত করে পুনরায় ঘনীভূত করে) যে সম্পূর্ণ খনিজ-মুক্ত ও বিশুদ্ধ জল পাওয়া যায়, তাকে পাতিত জল বা Distilled water বলে।
25. সাধারণ পাতন পদ্ধতিতে কেন দুটি উদ্বায়ী তরলকে পৃথক করা যায় না?
দুটি উদ্বায়ী তরলের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য কম হলে, একটি ফোটানোর সময় অপরটিরও কিছুটা বাষ্প তৈরি হয়ে ঘনীভূত হয়। ফলে গ্রাহক পাত্রে আবার একটি মিশ্রণই পাওয়া যায়, সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ তরল পাওয়া যায় না।
26. তরল মিশ্রণ থেকে উপাদান পৃথক করার মূল নীতি কী (পাতনের ক্ষেত্রে)?
পাতনের ক্ষেত্রে তরল মিশ্রণের উপাদানগুলিকে পৃথক করার মূল ভিত্তি হলো তাদের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য (Boiling point difference)।
27. অ্যানিলিন ও জলের মিশ্রণ কোন্ পদ্ধতিতে পৃথক করা হয়?
অ্যানিলিন জলে অদ্রবণীয় কিন্তু স্টিমে উদ্বায়ী। তাই এদের বাষ্প পাতন বা স্টিম পাতন (Steam Distillation) প্রক্রিয়ায় সহজে পৃথক করা যায়।
28. সমুদ্রের জল থেকে কীভাবে বিশুদ্ধ পানীয় জল পাওয়া যায়?
সমুদ্রের জলকে পাতন প্রক্রিয়ায় বাষ্পীভূত করে সেই বাষ্পকে ঠান্ডা করলে লবণ ও অন্যান্য খনিজ ফ্লাস্কে পড়ে থাকে এবং বিশুদ্ধ পানীয় জল পাওয়া যায়। বর্তমানে বিপরীত অভিস্রবণ (RO) পদ্ধতিও ব্যবহৃত হয়।
29. বেঞ্জিন ($80^\circ C$) ও টলুইন ($110^\circ C$) এর মিশ্রণ কীভাবে পৃথক করবে?
যেহেতু বেঞ্জিন এবং টলুইনের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য ($30^\circ C$) তুলনামূলকভাবে কম এবং এরা সমসত্ত্ব মিশ্রণ তৈরি করে, তাই আংশিক পাতন বা সাধারণ পাতন (সতর্কতার সাথে) ব্যবহার করে এদের পৃথক করা যায়।
30. একটি জৈব দ্রাবকে অশুদ্ধিরূপে অনুদ্বায়ী কঠিন দ্রবীভূত থাকলে কীভাবে বিশুদ্ধ দ্রাবক পাবে?
অশুদ্ধ দ্রাবকটিকে পাতন ফ্লাস্কে নিয়ে উত্তপ্ত করলে উদ্বায়ী বিশুদ্ধ দ্রাবকটি বাষ্পীভূত হবে এবং শীতকে ঘনীভূত হয়ে গ্রাহক পাত্রে জমা হবে। অনুদ্বায়ী কঠিন অশুদ্ধি পাতন ফ্লাস্কেই পড়ে থাকবে।
31. বিয়োজী ফানেলের স্টপকক-এর কাজ কী?
বিয়োজী ফানেলের নীচের দিকে থাকা স্টপককটিকে সাবধানে খুলে ভারী তরলের স্তরটিকে ফোঁটায় ফোঁটায় বের করে নেওয়া হয়। প্রথম স্তরটি শেষ হওয়ামাত্রই স্টপকক বন্ধ করে দুটি তরলকে আলাদা করা হয়।
32. চকের গুঁড়ো ও জলের মিশ্রণ কীভাবে পৃথক করবে?
চকের গুঁড়ো জলে অদ্রবণীয়। তাই মিশ্রণটিকে ফিল্টার পেপার দিয়ে পরিশ্রাবণ (Filtration) করলেই চকের গুঁড়ো ফিল্টার পেপারে আটকে যাবে এবং পরিষ্কার জল পাওয়া যাবে।
33. নিম্নচাপে পাতন (Vacuum distillation) কখন ব্যবহৃত হয়?
যেসব তরল তাদের স্ফুটনাঙ্কে পৌঁছানোর আগেই তাপে বিয়োজিত হয়ে যায় (যেমন গ্লিসারিন), তাদের ক্ষেত্রে চাপ কমিয়ে কম উষ্ণতায় ফোটানোর জন্য নিম্নচাপে পাতন ব্যবহৃত হয়।
34. অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ কেন আংশিক পাতন দ্বারা পৃথক করা যায় না?
কারণ অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ একটি বিশুদ্ধ তরলের মতো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় ফোটে এবং তরল ও বাষ্প দশায় এদের সংযুক্তি একই থাকে। তাই এদের বাষ্পীভূত করে আলাদা করা সম্ভব হয় না।
35. আয়োডিন ও বালির মিশ্রণ থেকে আয়োডিন কীভাবে আলাদা করবে?
মিশ্রণটিকে একটি পাত্রে নিয়ে সামান্য উত্তপ্ত করলে আয়োডিন ঊর্ধ্বপাতিত হয়ে বেগুনি বর্ণের বাষ্প তৈরি করবে। এই বাষ্পকে ঠান্ডা ফানেলের গায়ে জমা করে বিশুদ্ধ কঠিন আয়োডিন পাওয়া যাবে। বালি পাত্রে পড়ে থাকবে।
36. জল ও ইথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রণকে কি আংশিক পাতন দিয়ে 100% পৃথক করা যায়?
না, 100% পৃথক করা যায় না। আংশিক পাতনের সাহায্যে সর্বাধিক 95.6% ইথাইল অ্যালকোহল এবং 4.4% জলের অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ (রেকটিফায়েড স্পিরিট) পাওয়া যায়। এর বেশি বিশুদ্ধ করা যায় না।
37. রক্তের নমুনা থেকে প্লাজমা কীভাবে আলাদা করা হয়?
রক্তের নমুনাকে একটি টেস্টটিউবে নিয়ে সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রে তীব্র বেগে ঘোরালে ঘনত্বের পার্থক্যের জন্য ভারী রক্তকণিকাগুলি নীচে থিতিয়ে পড়ে এবং হালকা প্লাজমা ওপরে উঠে আসে।
38. ফিল্টার পেপারের কাজ কী?
ফিল্টার পেপারে অতি সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকে যা তরলকে অনায়াসে পার হতে দেয় কিন্তু তরলে অদ্রবণীয় কঠিন কণাগুলিকে (যেমন কাদা, বালি) আটকে দেয়। এটি পরিশ্রাবণে ব্যবহৃত হয়।
39. অবশেষ বা Residue কাকে বলে?
পরিশ্রাবণ বা পাতন প্রক্রিয়ার শেষে যে অদ্রবণীয় কঠিন বা অনুদ্বায়ী পদার্থটি ফিল্টার পেপারে বা পাতন ফ্লাস্কে অবশিষ্ট হিসেবে পড়ে থাকে, তাকে অবশেষ বা Residue বলে।
40. পরিশ্রুত বা Filtrate কাকে বলে?
পরিশ্রাবণ প্রক্রিয়ায় ফিল্টার পেপারের সূক্ষ্ম ছিদ্র ভেদ করে যে পরিষ্কার তরল পদার্থটি ফানেলের নীচের পাত্রে জমা হয়, তাকে পরিশ্রুত বা Filtrate বলে।
Broad Questions - দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (৩ ও ৫ নম্বর)
10 টি1. পাতন (Distillation) প্রক্রিয়ার মূল নীতিটি লেখো। সাধারণ পাতনের সাহায্যে তরল ও কঠিনের সমসত্ত্ব মিশ্রণ থেকে তরলকে কীভাবে পৃথক করা হয়?
পাতন পদ্ধতির মূল নীতি:
পাতন প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো পদার্থের বাষ্পীভবন (Evaporation) এবং ঘনীভবন (Condensation)। যখন কোনো তরলে কোনো অনুদ্বায়ী (non-volatile) কঠিন পদার্থ দ্রবীভূত থাকে, তখন ওই মিশ্রণকে তাপ দিলে কেবল উদ্বায়ী তরলটি বাষ্পীভূত হয়, কঠিনটি বাষ্পীভূত হয় না। এরপর সেই তরলের বাষ্পকে শীতল করে ঘনীভূত করলে পুনরায় বিশুদ্ধ তরল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন।
তরল ও কঠিনের মিশ্রণ পৃথকীকরণ (যেমন নুন-জল):
- উপকরণ: একটি গোলতল পাতন ফ্লাস্ক, লিবিগ শীতক (Liebig condenser), থার্মোমিটার, বুনসেন বার্নার এবং একটি গ্রাহক পাত্র।
- পদ্ধতি: নুন-জলের মিশ্রণটিকে পাতন ফ্লাস্কে নিয়ে উত্তপ্ত করা হয়। জলের স্ফুটনাঙ্ক $100^\circ C$ হওয়ায় জল বাষ্পে পরিণত হয়। অনুদ্বায়ী লবণ ফ্লাস্কেই থেকে যায়।
- ঘনীভবন: উৎপন্ন বাষ্প ফ্লাস্কের পার্শনল দিয়ে লিবিগ শীতকের ভেতর প্রবেশ করে। শীতকের বাইরের আবরণীতে ঠান্ডা জলের প্রবাহ থাকায় বাষ্প দ্রুত শীতল হয়ে ঘনীভূত হয় এবং জলের ফোঁটায় পরিণত হয়।
- ফলাফল: এই ঘনীভূত বিশুদ্ধ জল (পাতিত জল) গ্রাহক পাত্রে জমা হয় এবং কঠিন লবণ পাতন ফ্লাস্কে অবশেষ হিসেবে পড়ে থাকে।
2. আংশিক পাতন (Fractional distillation) পদ্ধতির মূল নীতিটি কী? সাধারণ পাতন ও আংশিক পাতনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
আংশিক পাতন পদ্ধতির মূল নীতি:
যেসব মিশ্রণীয় তরলের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য খুব কম (সাধারণত $20^\circ C$ এর নীচে), তাদের সাধারণ পাতনের সাহায্যে পৃথক করা যায় না। এক্ষেত্রে পাতন ফ্লাস্ক এবং শীতকের মাঝখানে একটি ফ্র্যাকশনেটিং কলাম বা অংশন স্তম্ভ (Fractionating column) ব্যবহার করা হয়।
মিশ্রণকে উত্তপ্ত করলে কম স্ফুটনাঙ্কের তরলের বাষ্প বেশি তৈরি হয়। অংশন স্তম্ভের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় বাষ্প ও ঘনীভূত তরলের মধ্যে একাধিকবার বাষ্পীভবন ও ঘনীভবন চলতে থাকে। ফলে বেশি স্ফুটনাঙ্কের তরলের বাষ্প অংশন স্তম্ভেই ঘনীভূত হয়ে ফ্লাস্কে ফিরে আসে এবং কেবল কম স্ফুটনাঙ্কের বিশুদ্ধ তরলের বাষ্প শীতকে পৌঁছে ঘনীভূত হয়।
সাধারণ পাতন ও আংশিক পাতনের পার্থক্য:
| বিষয় | সাধারণ পাতন (Simple Distillation) | আংশিক পাতন (Fractional Distillation) |
|---|
| প্রয়োগক্ষেত্র | তরল-কঠিন মিশ্রণ বা স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য অনেক বেশি ($25^\circ C$ এর বেশি) এমন তরল মিশ্রণে ব্যবহৃত হয়। | কাছাকাছি স্ফুটনাঙ্কবিশিষ্ট (পার্থক্য খুব কম) দুটি বা ততোধিক তরলের মিশ্রণ পৃথক করতে ব্যবহৃত হয়। |
| যন্ত্রপাতি | এক্ষেত্রে কোনো ফ্র্যাকশনেটিং কলাম বা অংশন স্তম্ভ ব্যবহৃত হয় না। | পাতন ফ্লাস্ক ও শীতকের মাঝে একটি অংশন স্তম্ভ (Fractionating column) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। |
| কার্যকারিতা | সহজ ও দ্রুত পদ্ধতি, কিন্তু কাছাকাছি স্ফুটনাঙ্কের তরল 100% পৃথক করতে পারে না। | জটিল ও ধীর পদ্ধতি, কিন্তু উপাদানগুলিকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশুদ্ধ অবস্থায় পৃথক করতে পারে। |
3. জল ও কার্বন টেট্রাক্লোরাইড ($CCl_4$) এর মিশ্রণ থেকে উপাদানগুলির পৃথক্করণ পদ্ধতি বর্ণনা করো।
পৃথকীকরণের মূল নীতি:
জল ও কার্বন টেট্রাক্লোরাইড ($CCl_4$) হলো পরস্পর অমিশ্রণীয় (immiscible) দুটি তরল। এদের ঘনত্বের পার্থক্য আছে ($CCl_4$ ভারী এবং জল হালকা)। তাই এদের বিয়োজী ফানেলের (Separatory funnel) সাহায্যে সহজেই পৃথক করা যায়।
পদ্ধতি:
- প্রথমে বিয়োজী ফানেলের স্টপকক (Stopcock) বন্ধ করে ফানেলের ভেতর জল ও $CCl_4$ এর মিশ্রণটি ঢালা হলো।
- এরপর ফানেলের মুখে ছিপি লাগিয়ে ফানেলটিকে স্ট্যান্ডের সাহায্যে খাড়াভাবে কিছুক্ষণ স্থির অবস্থায় রেখে দেওয়া হলো।
- যেহেতু $CCl_4$ এর ঘনত্ব (১.৫৯ g/mL) জলের (১.০০ g/mL) চেয়ে বেশি, তাই এটি ভারী। কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে মিশ্রণটি দুটি সম্পূর্ণ আলাদা স্তরে বিভক্ত হয়েছে। ভারী $CCl_4$ ফানেলের নীচের স্তরে এবং হালকা জল ওপরের স্তরে অবস্থান করবে।
- এবার ফানেলের নীচের মুখে একটি পরিষ্কার বিকার রেখে অত্যন্ত সাবধানে স্টপককটি খুলে দেওয়া হলো। ভারী $CCl_4$ ফোঁটায় ফোঁটায় বিকারে জমা হতে থাকবে।
- নীচের স্তরটি সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক মুহূর্তেই (যখন দুই স্তরের সংযোগস্থল স্টপককের কাছে পৌঁছাবে) স্টপককটি বন্ধ করে দিতে হবে।
ফলাফল:
এর ফলে $CCl_4$ বিকারে সংগৃহীত হবে এবং জল বিয়োজী ফানেলের ভেতরে থেকে যাবে। এভাবে দুটি তরলকে সম্পূর্ণ আলাদা করা যায়।
4. একটি মূল্যবান জৈব দ্রাবকে অশুদ্ধিরূপে অনুদ্বায়ী (non-volatile) জৈব কঠিন দ্রবীভূত থাকলে কীভাবে দ্রাবকটির পুনরুদ্ধার (Recovery) করবে?
পুনরুদ্ধার পদ্ধতি (পাতন):
যেহেতু জৈব দ্রাবকটি উদ্বায়ী (সহজেই বাষ্পীভূত হয়) এবং কঠিন অশুদ্ধিটি অনুদ্বায়ী (তাপে বাষ্পীভূত হয় না), তাই এদের সাধারণ পাতন (Simple distillation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহজেই পৃথক করে মূল্যবান দ্রাবকটিকে পুনরুদ্ধার করা যায়।
কার্যপ্রণালী:
- উত্তপ্তকরণ: অশুদ্ধ জৈব দ্রাবকটিকে একটি গোলতল পাতন ফ্লাস্কে নেওয়া হয়। ফ্লাস্কের মুখে থার্মোমিটার ও পার্শনলে লিবিগ শীতক যুক্ত করা হয়। এরপর ফ্লাস্কটিকে ওয়াটার বাথ বা স্যান্ড বাথের ওপর রেখে (জৈব দ্রাবক দাহ্য হতে পারে তাই সরাসরি আগুন দেওয়া হয় না) ধীরে ধীরে উত্তপ্ত করা হয়।
- বাষ্পীভবন: দ্রাবকটির স্ফুটনাঙ্কে পৌঁছালে বিশুদ্ধ জৈব দ্রাবকটি বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে। অনুদ্বায়ী কঠিন অশুদ্ধিটি বাষ্পীভূত হতে পারে না, তাই সেটি ফ্লাস্কেই থেকে যায়।
- ঘনীভবন: উৎপন্ন বিশুদ্ধ দ্রাবকের বাষ্প লিবিগ শীতকের ভেতর প্রবেশ করে। শীতকের চারপাশের ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে এসে বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বিশুদ্ধ তরল দ্রাবকে পরিণত হয়।
- সংগ্রহ: এই বিশুদ্ধ তরল দ্রাবকটিকে শীতকের অপর প্রান্তে রাখা একটি গ্রাহক পাত্রে সংগ্রহ করা হয়। ফ্লাস্কে থাকা অবশেষটি হলো কঠিন অশুদ্ধি। এভাবে মূল্যবান দ্রাবকটি পুনরুদ্ধার করা হয়।
5. ঊর্ধ্বপাতন (Sublimation) প্রক্রিয়ার মূল নীতিটি কী? নুন ও আয়োডিনের মিশ্রণ থেকে আয়োডিনকে কীভাবে পৃথক করবে?
ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ার মূল নীতি:
সাধারণত কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তা প্রথমে তরলে এবং পরে গ্যাসে পরিণত হয়। কিন্তু কিছু কিছু কঠিন পদার্থ আছে (যেমন- কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল, ন্যাপথালিন) যাদের তাপ দিলে এরা তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিনে ফিরে আসে। এই ধর্মকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। কোনো মিশ্রণে একটি ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য এবং একটি সাধারণ পদার্থ থাকলে এই পদ্ধতির সাহায্যে তাদের পৃথক করা হয়।
নুন ও আয়োডিনের মিশ্রণ পৃথকীকরণ:
- উপকরণ: একটি চিনামাটির বাটি (Evaporating dish), একটি কাচের ফানেল, তুলো এবং বুনসেন বার্নার।
- পদ্ধতি: নুন ও আয়োডিনের মিশ্রণটিকে চিনামাটির বাটিতে নেওয়া হলো। একটি কাচের ফানেলকে উলটে বাটির ওপর ঢেকে দেওয়া হলো এবং ফানেলের খোলা নলটি তুলো দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হলো।
- উত্তপ্তকরণ: বাটিটিকে বুনসেন বার্নারের সাহায্যে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত করা হলো।
- পর্যবেক্ষণ ও পৃথকীকরণ: তাপের প্রভাবে আয়োডিন ঊর্ধ্বপাতিত হয়ে বেগুনি বর্ণের বাষ্প তৈরি করবে। নুনের কোনো পরিবর্তন হবে না। আয়োডিনের বাষ্প ওপরে উঠে উলটানো ফানেলের ঠান্ডা গায়ে লেগে ঘনীভূত হয়ে কঠিন, বিশুদ্ধ আয়োডিনের কেলাস তৈরি করবে।
- ফলাফল: ফানেলটি সরিয়ে নিলে তার গা থেকে বিশুদ্ধ আয়োডিন পাওয়া যাবে এবং বাটিতে শুধু নুন পড়ে থাকবে।
6. অ্যাজিওট্রোপ (Azeotrope) কী? সাধারণ পাতন প্রক্রিয়ায় মিথানল ও অ্যাসিটোনের মিশ্রণ থেকে উপাদানগুলিকে পৃথক করা যায় না কেন?
অ্যাজিওট্রোপ বা অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ:
যেসব মিশ্রণীয় তরল মিশ্রণ একটি নির্দিষ্ট সংযুক্তিতে (composition) এবং স্থির উষ্ণতায় বিশুদ্ধ তরলের মতো ফুটতে থাকে এবং ফুটন্ত তরল ও তার থেকে উৎপন্ন বাষ্পের সংযুক্তি সম্পূর্ণ একই থাকে, সেই মিশ্রণকে অ্যাজিওট্রোপ বা অ্যাজিওট্রোপিক মিশ্রণ (Constant boiling mixture) বলে। যেহেতু তরল ও বাষ্পের সংযুক্তি একই থাকে, তাই এদের আংশিক পাতন দ্বারা 100% পৃথক করা যায় না (যেমন- 95.6% ইথানল ও 4.4% জলের মিশ্রণ)।
মিথানল ও অ্যাসিটোনের মিশ্রণ পৃথকীকরণের সমস্যা:
মিথানল (স্ফুটনাঙ্ক $65^\circ C$) এবং অ্যাসিটোন (স্ফুটনাঙ্ক $56^\circ C$) উভয়ই উদ্বায়ী তরল এবং এদের স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য খুবই কম (মাত্র $9^\circ C$)।
সাধারণ পাতন প্রক্রিয়ায় এই মিশ্রণটিকে তাপ দিলে, অ্যাসিটোনের বাষ্পের সাথে সাথে মিথানলেরও প্রচুর বাষ্প তৈরি হতে শুরু করে। এর ফলে শীতকের মধ্যে দিয়ে উভয় বাষ্পই একসাথে ঘনীভূত হয়ে গ্রাহক পাত্রে জমা হয়। অর্থাৎ, গ্রাহক পাত্রে আবার সেই মিথানল ও অ্যাসিটোনের একটি মিশ্রণই পাওয়া যায়, সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ তরল পাওয়া যায় না।
এই কারণে কাছাকাছি স্ফুটনাঙ্কবিশিষ্ট এই মিশ্রণটিকে পৃথক করার জন্য সাধারণ পাতনের পরিবর্তে আংশিক পাতন (Fractional distillation) পদ্ধতি এবং অংশন স্তম্ভ ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক।
7. তেল ও জলের মিশ্রণের ক্ষেত্রে উপাদানগুলি পৃথক্করণের পদ্ধতিটি সচিত্র (বর্ণনামূলক) আলোচনা করো।
পদ্ধতির নাম: বিয়োজী ফানেল (Separating Funnel) পদ্ধতি
তেল (যেমন- সরষের তেল বা কেরোসিন) এবং জল হলো পরস্পর অমিশ্রণীয় (immiscible) দুটি তরল। তেলের ঘনত্ব জলের চেয়ে কম, তাই তেল জলে ভাসে। এই ঘনত্বের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে এদের পৃথক করা হয়।
কার্যপ্রণালী:
- বিয়োজী ফানেলে মিশ্রণ ঢালা: একটি বিয়োজী ফানেলের স্টপকক বন্ধ রেখে তেল ও জলের মিশ্রণটি ফানেলের ভেতরে ঢালা হয়।
- স্থির রাখা: ফানেলের মুখে ছিপি লাগিয়ে সেটিকে একটি স্ট্যান্ডের রিং-এর সাথে খাড়াভাবে কিছুক্ষণ স্থির অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়।
- স্তর বিভাজন: কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, মিশ্রণটি দুটি সম্পূর্ণ আলাদা স্তরে বিভক্ত হয়েছে। জলের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় জল ফানেলের নীচে একটি স্তর তৈরি করে এবং তেল হালকা হওয়ায় জলের ওপর ভাসমান অবস্থায় ওপরের স্তর তৈরি করে।
- পৃথকীকরণ: এবার ছিপি খুলে ফানেলের নীচে একটি পরিষ্কার বিকার রাখা হয়। স্টপককটি সাবধানে অল্প খুলে ভারী জলের স্তরটিকে ফোঁটায় ফোঁটায় বিকারে সংগ্রহ করা হয়।
- স্টপকক বন্ধ করা: জলের স্তরটি প্রায় শেষ হয়ে তেলের স্তরটি স্টপককের কাছাকাছি এলেই সঙ্গে সঙ্গে স্টপককটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ফলাফল: এইভাবে বিকারে বিশুদ্ধ জল এবং বিয়োজী ফানেলে তেল আলাদাভাবে পাওয়া যায়।
8. সেন্ট্রিফিউগেশন (Centrifugation) বা কেন্দ্রাতিগ পদ্ধতি কী? প্রাত্যহিক জীবনে এর দুটি ব্যবহার উল্লেখ করো।
সেন্ট্রিফিউগেশন (কেন্দ্রাতিগ পদ্ধতি):
যে পদ্ধতিতে কোনো তরল মিশ্রণে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম অদ্রবণীয় কঠিন কণাগুলিকে বা ভিন্ন ঘনত্বের দুটি তরলকে একটি ঘূর্ণায়মান যন্ত্রের (Centrifuge machine) সাহায্যে অত্যন্ত দ্রুত বেগে ঘুরিয়ে ঘনত্বের পার্থক্যের ভিত্তিতে আলাদা করা হয়, তাকে সেন্ট্রিফিউগেশন বা কেন্দ্রাতিগ পদ্ধতি বলে।
মূল নীতি: মিশ্রণটিকে তীব্র বেগে ঘোরালে কেন্দ্রাতিগ বলের (Centrifugal force) প্রভাবে অপেক্ষাকৃত ভারী কণাগুলি পাত্রের বা টেস্টটিউবের তলদেশে থিতিয়ে পড়ে এবং হালকা উপাদানগুলি ওপরে ভেসে ওঠে।
প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহার:
- রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা: প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে রক্তের নমুনা থেকে রক্তকণিকা (RBC, WBC) এবং প্লাজমা আলাদা করার জন্য সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
- দুধ থেকে মাখন তোলা: ডেয়ারি শিল্পে দুধ থেকে ক্রিম বা মাখন আলাদা করার জন্য এই পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। দুধকে প্রবল বেগে ঘোরালে হালকা ফ্যাট বা মাখন ওপরে চলে আসে এবং ভারী অংশ নীচে থাকে।
- ওয়াশিং মেশিন: কাপড় কাচার মেশিনে (Washing machine) ভেজা কাপড় শুকানোর (Spin dry) জন্য স্পিনারে এই কেন্দ্রাতিগ নীতি প্রয়োগ করে কাপড় থেকে জল বের করে দেওয়া হয়।
9. ক্রোমাটোগ্রাফি (Chromatography) কাকে বলে? পেপার ক্রোমাটোগ্রাফির সাহায্যে কালির মিশ্রণ থেকে বিভিন্ন রং কীভাবে পৃথক করা হয়?
ক্রোমাটোগ্রাফি:
ক্রোমাটোগ্রাফি হলো এমন একটি আধুনিক পৃথকীকরণ পদ্ধতি, যেখানে কোনো সমসত্ত্ব মিশ্রণের উপাদানগুলিকে একটি স্থির দশা (Stationary phase) এবং একটি সচল দশার (Mobile phase) মধ্যে অধিশোষণের (Adsorption) এবং দ্রাব্যতার পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে পৃথক করা হয়।
কালির রং পৃথকীকরণ (Paper Chromatography):
- প্রস্তুতি: একটি সরু ও লম্বা ফিল্টার পেপারের (স্থির দশা) নীচের প্রান্ত থেকে সামান্য ওপরে পেন্সিল দিয়ে একটি দাগ টানা হয় এবং সেই দাগের মাঝখানে কালির (যাতে একাধিক রং মেশানো আছে) একটি ছোট ফোঁটা দিয়ে শুকিয়ে নেওয়া হয়।
- সচল দশা প্রয়োগ: এবার ফিল্টার পেপারটিকে একটি বিকার বা জারে রাখা উপযুক্ত দ্রাবকের (যেমন- জল বা অ্যালকোহল, যা সচল দশা) মধ্যে খাড়াভাবে এমনভাবে ঝোলানো হয় যেন কালির ফোঁটাটি দ্রাবকের ঠিক ওপরে থাকে (জলে না ডোবে)।
- পর্যবেক্ষণ: কৈশিক ক্রিয়ার (Capillary action) ফলে দ্রাবক ধীরে ধীরে ফিল্টার পেপার বেয়ে ওপরের দিকে উঠতে শুরু করে। দ্রাবক যখন কালির ফোঁটা অতিক্রম করে, তখন সে কালির উপাদান রঞ্জকগুলিকেও সাথে নিয়ে ওপরে ওঠে।
- পৃথকীকরণ: কালির যে রঙের দ্রাব্যতা ওই দ্রাবকে বেশি এবং ফিল্টার পেপারের প্রতি অধিশোষণ ক্ষমতা কম, সেটি দ্রাবকের সাথে বেশি দ্রুত ওপরে ওঠে। যার অধিশোষণ বেশি, সেটি ধীরে ওপরে ওঠে। এর ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই কালির বিভিন্ন রং ফিল্টার পেপারের বিভিন্ন উচ্চতায় আলাদা আলাদা দাগ বা ব্যান্ড হিসেবে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
10. বিশুদ্ধ পানীয় জল প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ক্লোরিনেশন এবং বিপরীত অভিস্রবণ (Reverse Osmosis - RO) পদ্ধতির ভূমিকা আলোচনা করো।
১. ক্লোরিনেশন (Chlorination):
শহরের জল সরবরাহ ব্যবস্থায় বা মিউনিসিপ্যালিটির জলে রোগজীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য জলে নির্দিষ্ট মাত্রায় ক্লোরিন গ্যাস ($Cl_2$), ব্লিচিং পাউডার বা ক্লোরিন ট্যাবলেট মেশানো হয়। এই পদ্ধতিকে ক্লোরিনেশন বলে।
ভূমিকা: ক্লোরিন একটি তীব্র জীবাণুনাশক। এটি জলের সাথে বিক্রিয়া করে হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড ($HClO$) উৎপন্ন করে, যা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে মেরে ফেলে জলকে পানযোগ্য ও নিরাপদ করে তোলে।
২. বিপরীত অভিস্রবণ (Reverse Osmosis - RO):
সাধারণ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় দ্রাবক লঘু দ্রবণ থেকে গাঢ় দ্রবণের দিকে অর্ধভেদ্য পর্দা ভেদ করে যায়। কিন্তু গাঢ় দ্রবণের (যেমন নোনা জল বা দূষিত জল) ওপর যদি অভিস্রবণ চাপের চেয়ে বেশি বাহ্যিক চাপ প্রয়োগ করা হয়, তখন দ্রাবক (বিশুদ্ধ জল) গাঢ় দ্রবণ থেকে অর্ধভেদ্য পর্দা ভেদ করে লঘু দ্রবণের দিকে (বা পরিষ্কার দিকে) যেতে শুরু করে। একে বিপরীত অভিস্রবণ (RO) বলে।
ভূমিকা: বর্তমানে বাড়িতে ব্যবহৃত আধুনিক ওয়াটার পিউরিফায়ার (RO filter) এবং সমুদ্রের নোনা জলকে লবণমুক্ত (Desalination) করে বিশুদ্ধ পানীয় জল তৈরি করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী। এর সাহায্যে জল থেকে দ্রবীভূত ক্ষতিকারক ভারী ধাতু (যেমন- আর্সেনিক, ফ্লুরিন), লবণ এবং জীবাণু সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব হয়।
মাস্টার টিপস!
পরীক্ষায় মনে রেখো: অমিশ্রণীয় তরল (যেমন তেল ও জল) সর্বদা বিয়োজী ফানেল দ্বারা পৃথক করা হয়। স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য কম হলে আংশিক পাতন এবং বেশি হলে সাধারণ পাতন ব্যবহৃত হয়। পেট্রোলিয়াম শোধনে আংশিক পাতন ব্যবহৃত হয়।