জল (Water)
নবম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায় (ষষ্ঠ অংশ) | 50 MCQ | 40 SAQ | 10 Broad Questions
ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ খরতা ও পারমুটিট আর্সেনিক দূষণ ইউট্রোফিকেশন
💧
জলের ধর্ম ও খরতা
মৃদু ও খর জল, $4^\circ C$ উষ্ণতায় ঘনত্ব সর্বাধিক
🚰
জলদূষণ ও শোধন
ফ্লুরাইড, আর্সেনিক, ক্লোরিনেশন এবং RO পদ্ধতি
Interactive MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
50 টিসঠিক উত্তর জানতে যেকোনো একটি অপশনে ক্লিক করো।
1. জলের আপেক্ষিক তাপ কত?
ক) 0.5 cal/g°C
খ) 1 cal/g°C
গ) 80 cal/g°C
ঘ) 540 cal/g°C
ব্যাখ্যা: জলের আপেক্ষিক তাপ অন্যান্য যেকোনো কঠিন বা তরল পদার্থের চেয়ে বেশি। এর মান 1 cal/g°C বা 4200 J/kg K।
2. জলের ঘনত্ব কোন উষ্ণতায় সর্বাধিক হয়?
ক) $0^\circ C$
খ) $100^\circ C$
গ) $4^\circ C$
ঘ) $-4^\circ C$
ব্যাখ্যা: জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণের কারণে $4^\circ C$ (বা 277 K) উষ্ণতায় জলের আয়তন সর্বনিম্ন এবং ঘনত্ব সর্বাধিক ($1 g/cm^3$) হয়।
3. বরফ গলনের লীন তাপ কত?
ক) 80 cal/g
খ) 537 cal/g
গ) 1 cal/g
ঘ) 540 cal/g
ব্যাখ্যা: 1 গ্রাম বরফকে একই উষ্ণতায় 1 গ্রাম জলে পরিণত করতে 80 ক্যালোরি তাপের প্রয়োজন হয়। তাই বরফ গলনের লীন তাপ 80 cal/g।
4. জলের বাষ্পীভবনের লীন তাপ কত?
ক) 80 cal/g
খ) 100 cal/g
গ) 537 cal/g
ঘ) 1 cal/g
ব্যাখ্যা: জলের বাষ্পীভবনের লীন তাপ প্রায় 537 cal/g (বা 540 cal/g)। এর জন্যই ফুটন্ত জলের চেয়ে স্টিমে হাত পুড়লে বেশি কষ্ট হয়।
5. শীতপ্রধান দেশে জলাশয়ের জল জমে বরফে পরিণত হলেও জলজ প্রাণীরা বেঁচে থাকে কেন?
ক) জলের আপেক্ষিক তাপ বেশি বলে
খ) জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণের জন্য
গ) বরফ তাপের সুপরিবাহী বলে
ঘ) জলে লবণ থাকে বলে
ব্যাখ্যা: জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণের কারণে জলাশয়ের ওপরের জল জমে বরফ হলেও নীচের জলের উষ্ণতা $4^\circ C$ থাকে, যা জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।
6. জলকে সার্বজনীন দ্রাবক (Universal solvent) বলা হয় কেন?
ক) এর ঘনত্ব বেশি
খ) এর ডাই-ইলেকট্রিক ধ্রুবকের মান উচ্চ
গ) এটি বর্ণহীন
ঘ) এটি সহজলভ্য
ব্যাখ্যা: জলের পরাবৈদ্যুতিক ধ্রুবক (Dielectric constant)-এর মান খুব বেশি (প্রায় 80) হওয়ায় এটি অধিকাংশ অজৈব এবং বহু জৈব পদার্থকে দ্রবীভূত করতে পারে।
7. যে জলে সাবান ঘষলে সহজে ফেনা উৎপন্ন হয় না, তাকে কী বলে?
ক) মৃদু জল
খ) খর জল
গ) ভারী জল
ঘ) পাতিত জল
ব্যাখ্যা: খর জলে (Hard water) ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের লবণ দ্রবীভূত থাকায় এতে সাবান ঘষলে সহজে ফেনা হয় না, বরং অদ্রবণীয় সাদা অধঃক্ষেপ তৈরি হয়।
8. জলের অস্থায়ী খরতা (Temporary hardness) কীসের কারণে হয়?
ক) ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের ক্লোরাইড
খ) ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের সালফেট
গ) ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের বাইকার্বনেট
ঘ) সোডিয়ামের কার্বনেট
ব্যাখ্যা: জলে ক্যালসিয়াম ($Ca^{2+}$) ও ম্যাগনেশিয়ামের ($Mg^{2+}$) বাইকার্বনেট ($HCO_3^-$) লবণ দ্রবীভূত থাকলে জলের অস্থায়ী খরতার সৃষ্টি হয়।
9. জলের স্থায়ী খরতা (Permanent hardness) কীসের কারণে হয়?
ক) Ca ও Mg এর বাইকার্বনেট
খ) Ca ও Mg এর ক্লোরাইড ও সালফেট
গ) Na ও K এর ক্লোরাইড
ঘ) Fe ও Cu এর সালফেট
ব্যাখ্যা: জলে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের ক্লোরাইড ($Cl^-$) ও সালফেট ($SO_4^{2-}$) লবণ দ্রবীভূত থাকলে স্থায়ী খরতার সৃষ্টি হয়।
10. অস্থায়ী খরতা কীভাবে সহজে দূর করা যায়?
ক) জলকে ফুটিয়ে
খ) ক্লোরিনেশন করে
গ) ফিল্টার করে
ঘ) চুম্বক ব্যবহার করে
ব্যাখ্যা: জলকে ফোটালে দ্রবীভূত বাইকার্বনেট লবণ বিযোজিত হয়ে অদ্রবণীয় কার্বনেট লবণে পরিণত হয় এবং অধঃক্ষিপ্ত হয়। ফলে অস্থায়ী খরতা দূর হয়।
11. স্থায়ী খরতা কি শুধু ফুটিয়ে দূর করা যায়?
ক) হ্যাঁ
খ) না
গ) কিছু ক্ষেত্রে
ঘ) চাপ বাড়ালে যায়
ব্যাখ্যা: স্থায়ী খরতা সৃষ্টিকারী ক্লোরাইড ও সালফেট লবণগুলি উত্তাপে বিযোজিত হয় না, তাই এদের শুধু ফুটিয়ে দূর করা যায় না। রাসায়নিক পদ্ধতি প্রয়োজন।
12. ক্লার্কের পদ্ধতি (Clark's method) কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
ক) জল পরিশোধনে
খ) অস্থায়ী খরতা দূর করতে
গ) স্থায়ী খরতা দূর করতে
ঘ) আর্সেনিক মুক্ত করতে
ব্যাখ্যা: ক্লার্কের পদ্ধতিতে খর জলের সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ কলিচুন ($Ca(OH)_2$) মিশিয়ে অস্থায়ী খরতা দূর করা হয়।
13. জলের স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় প্রকার খরতা দূর করতে কোন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়?
ক) স্ফুটন
খ) পারমুটিট পদ্ধতি
গ) ক্লোরিনেশন
ঘ) সেন্ট্রিফিউগেশন
ব্যাখ্যা: পারমুটিট বা জিওলাইট পদ্ধতি এবং আয়ন-বিনিময় রেজিন (Ion-exchange resin) পদ্ধতির সাহায্যে জলের উভয় প্রকার খরতা সম্পূর্ণ দূর করা যায়।
14. পারমুটিট (Permutit) এর রাসায়নিক নাম কী?
ক) সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট
খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
গ) ম্যাগনেশিয়াম সালফেট
ঘ) পটাশিয়াম অ্যালুমিনেট
ব্যাখ্যা: পারমুটিট বা জিওলাইট হলো কৃত্রিমভাবে তৈরি সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট ($Na_2Z$), যা জলের $Ca^{2+}$ ও $Mg^{2+}$ আয়নকে $Na^+$ দ্বারা বিনিময় করে খরতা দূর করে।
15. আয়ন বিনিময় রেজিন পদ্ধতিতে জল থেকে খরতা সৃষ্টিকারী ক্যাটায়নগুলি দূর করতে কী ব্যবহার করা হয়?
ক) অ্যানায়ন বিনিময়কারী রেজিন
খ) ক্যাটায়ন বিনিময়কারী রেজিন
গ) অ্যানিমেল চারকোল
ঘ) পারমুটিট
ব্যাখ্যা: ক্যাটায়ন বিনিময়কারী রেজিন ($RH^+$) খর জলের $Ca^{2+}$ ও $Mg^{2+}$ ক্যাটায়নগুলিকে শোষণ করে এবং জলে $H^+$ আয়ন মুক্ত করে।
16. আয়ন বিনিময় রেজিন পদ্ধতিতে প্রাপ্ত জল কীরূপ হয়?
ক) মৃদু জল
খ) খর জল
গ) ডি-মিনারেনালাইজড বা আয়নমুক্ত জল
ঘ) লবণাক্ত জল
ব্যাখ্যা: এই পদ্ধতিতে ক্যাটায়ন এবং অ্যানায়ন উভয়ই মুক্ত হওয়ায় উৎপন্ন জল সম্পূর্ণ আয়নমুক্ত বা খনিজমুক্ত (Deionized water) হয়।
17. পানীয় জলে আর্সেনিকের (As) নিরাপদ মাত্রা (WHO নির্দেশিত) কত?
ক) 0.5 mg/L
খ) 0.01 mg/L
গ) 1.0 mg/L
ঘ) 5.0 mg/L
ব্যাখ্যা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে পানীয় জলে আর্সেনিকের নিরাপদ সর্বোচ্চ সীমা হলো 0.01 mg/L। (ভারতীয় মান অনুযায়ী 0.05 mg/L পর্যন্ত চলনযোগ্য)।
18. ব্ল্যাকফুট ডিজিজ (Blackfoot disease) কীসের কারণে হয়?
ক) পারদ দূষণ
খ) ক্যাডমিয়াম দূষণ
গ) আর্সেনিক দূষণ
ঘ) ফ্লুরাইড দূষণ
ব্যাখ্যা: দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিক দূষিত জল পান করলে হাতের ও পায়ের চেটোতে কালো কালো ছোপ দাগ পড়ে এবং ঘা হয়। একে ব্ল্যাকফুট ডিজিজ বলে।
19. পানীয় জলে অতিরিক্ত ফ্লুরাইড ($F^-$) থাকলে কোন রোগ হয়?
ক) মিনামাটা
খ) ইতাই-ইতাই
গ) ফ্লুরোসিস
ঘ) কলেরা
ব্যাখ্যা: জলে ফ্লুরাইডের মাত্রা 1.5 mg/L এর বেশি হলে ফ্লুরোসিস রোগ হয়, যার ফলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয় এবং হাড় বেঁকে যায় (Skeletal fluorosis)।
20. পানীয় জলে সামান্য পরিমাণ ফ্লুরাইড (প্রায় 1 mg/L) থাকা কেন প্রয়োজন?
ক) জল মিষ্টি করতে
খ) দাঁতের ক্ষয়রোধ করতে
গ) জীবাণু ধ্বংস করতে
ঘ) খরতা দূর করতে
ব্যাখ্যা: সামান্য পরিমাণ ফ্লুরাইড দাঁতের এনামেলকে শক্তিশালী করে এবং দাঁতের ক্ষয় (Dental caries) রোধ করতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ফ্লুরাইড ক্ষতিকর।
21. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কাকে বলে?
ক) জলের পরিশোধনকে
খ) জলাশয়ে পুষ্টি উপাদানের বৃদ্ধিকে
গ) ভূগর্ভস্থ জলের স্তর হ্রাসকে
ঘ) জলে আর্সেনিক বৃদ্ধিকে
ব্যাখ্যা: জলাশয়ে কৃষিজমির সার (নাইট্রেট ও ফসফেট) বা ডিটারজেন্ট মিশে পুষ্টি উপাদানের মাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
22. ইউট্রোফিকেশনের ফলে জলাশয়ে কীসের বৃদ্ধি ঘটে?
ক) মাছের
খ) শৈবালের (Algal bloom)
গ) ডলফিনের
ঘ) পাখির
ব্যাখ্যা: পুষ্টি উপাদানের আধিক্যের কারণে জলাশয়ে শৈবাল ও জলজ আগাছা অতি দ্রুত হারে বংশবৃদ্ধি করে পুরো জলাশয় ঢেকে ফেলে। একে শৈবাল প্রস্ফুটন বা Algal bloom বলে।
23. অ্যালগাল ব্লুম (Algal bloom) এর ফলে জলে কোন গ্যাসের অভাব দেখা দেয়?
ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড
খ) অক্সিজেন
গ) নাইট্রোজেন
ঘ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা: শৈবালদের মৃত্যু ও পচনের জন্য জলে দ্রবীভূত প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন ($O_2$) খরচ হয়। ফলে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (DO) মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
24. BOD (Biochemical Oxygen Demand) কীসের মাত্রা নির্দেশ করে?
ক) জলের বিশুদ্ধতা
খ) বায়ুদূষণ
গ) জলদূষণের মাত্রা (জৈব দূষক)
ঘ) শব্দদূষণ
ব্যাখ্যা: জলে উপস্থিত পচনশীল জৈব দূষককে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে BOD বলে। BOD বেশি মানে জলদূষণ বেশি।
25. পানীয় জলে কলিফর্ম (Coliform) ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি কী নির্দেশ করে?
ক) জলটি খুব বিশুদ্ধ
খ) জলে খনিজ বেশি আছে
গ) জলটি মলমূত্র দ্বারা দূষিত
ঘ) জলে অক্সিজেন বেশি আছে
ব্যাখ্যা: কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া মানুষ বা স্তন্যপায়ী প্রাণীর অন্ত্রে থাকে। পানীয় জলে এদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে জলটি মলমূত্র বা নিকাশি বর্জ্য দ্বারা দূষিত।
26. পানীয় জল পরিশোধনে ক্লোরিনেশন (Chlorination) কেন করা হয়?
ক) খরতা দূর করতে
খ) আর্সেনিক দূর করতে
গ) রোগজীবাণু ধ্বংস করতে
ঘ) গন্ধ দূর করতে
ব্যাখ্যা: ক্লোরিন বা ব্লিচিং পাউডার জলের সাথে মিশে হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড তৈরি করে, যা শক্তিশালী জীবাণুনাশক হিসেবে জলের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে।
27. জল পরিশোধনে কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
ক) আলফা রশ্মি
খ) গামা রশ্মি
গ) আলট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি
ঘ) এক্স-রশ্মি
ব্যাখ্যা: অতিবেগুনি বা UV রশ্মি জলের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য অণুজীবের DNA নষ্ট করে তাদের ধ্বংস করে। আধুনিক ওয়াটার পিউরিফায়ারে এটি ব্যবহৃত হয়।
28. ফুটন্ত জলে জীবাণু মারা যায় কেন?
ক) তাপমাত্রার জন্য প্রোটিন জমাট বাঁধে
খ) অক্সিজেন উড়ে যায়
গ) লবণ গলে যায়
ঘ) pH পরিবর্তন হয়
ব্যাখ্যা: 100°C উষ্ণতায় জল 15-20 মিনিট ফোটালে উত্তাপের কারণে জীবাণুদের কোষের প্রোটিন জমাট বেঁধে যায় এবং তারা মারা যায়।
29. বিপরীত অভিস্রবণ (Reverse Osmosis - RO) পদ্ধতি কী কাজে লাগে?
ক) সমুদ্রের জল লবণমুক্ত করতে
খ) খরতা দূর করতে
গ) আর্সেনিক ও ফ্লোরাইড দূর করতে
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা: RO পদ্ধতিতে উচ্চচাপ প্রয়োগ করে অর্ধভেদ্য পর্দার সাহায্যে দূষিত বা লবণাক্ত জল থেকে প্রায় সমস্ত রকম দ্রবীভূত খনিজ, ভারী ধাতু এবং জীবাণু মুক্ত করে বিশুদ্ধ পানীয় জল তৈরি করা হয়।
30. হ্যালোজোন (Halazone) ট্যাবলেট কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
ক) জ্বর কমাতে
খ) জল জীবাণুমুক্ত করতে
গ) খরতা দূর করতে
ঘ) মাটি শোধনে
ব্যাখ্যা: হ্যালোজোন ট্যাবলেট হলো এক প্রকার ক্লোরিনযুক্ত ট্যাবলেট যা সহজে পানীয় জলকে জীবাণুমুক্ত করার জন্য জলে মেশানো হয়।
31. মিনামাটা (Minamata) রোগ কোন্ ধাতুর দূষণের ফলে হয়?
ক) আর্সেনিক
খ) ক্যাডমিয়াম
গ) পারদ (Mercury)
ঘ) সীসা
ব্যাখ্যা: জলে মিথাইল মার্কারি বা পারদ দূষণের ফলে জাপানে প্রথম মিনামাটা রোগ দেখা গিয়েছিল, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
32. ইতাই-ইতাই (Itai-Itai) রোগ কোন্ ধাতুর দূষণের ফলে হয়?
ক) পারদ
খ) ক্যাডমিয়াম
গ) আর্সেনিক
ঘ) লোহা
ব্যাখ্যা: ক্যাডমিয়াম (Cd) দূষিত জল পানের ফলে জাপানে ইতাই-ইতাই (যাহার অর্থ 'ব্যথা ব্যথা') রোগ হয়, যাতে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়।
33. ব্লু বেবি সিনড্রোম (Blue baby syndrome) জলে কীসের আধিক্যের কারণে হয়?
ক) নাইট্রেট ($NO_3^-$)
খ) সালফেট
গ) ক্লোরাইড
ঘ) ফ্লুরাইড
ব্যাখ্যা: পানীয় জলে নাইট্রেটের মাত্রা বেশি হলে তা শিশুদের রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ কমিয়ে দেয়, ফলে শিশুর শরীর নীল হয়ে যায়। একে মেথেমোগ্লোবিনেমিয়া বা ব্লু বেবি সিনড্রোম বলে।
34. COD (Chemical Oxygen Demand) কী নির্দেশ করে?
ক) কেবল জৈব দূষণ
খ) কেবল অজৈব দূষণ
গ) জৈব ও অজৈব উভয় প্রকার দূষণ
ঘ) জলের খরতা
ব্যাখ্যা: জলে উপস্থিত জৈব এবং জারণযোগ্য অজৈব পদার্থ উভয়কেই রাসায়নিকভাবে জারিত করতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে COD বলে।
35. জলের খরতা কোন এককে মাপা হয়?
ক) ppm (Parts per million)
খ) mg/L
গ) উভয়ই
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: জলের খরতা সাধারণত $CaCO_3$ এর সমতুল্য হিসেবে ppm (parts per million) বা mg/L এককে পরিমাপ করা হয়। (1 ppm = 1 mg/L)।
36. খর জলে কাপড় কাচা অসুবিধাজনক কেন?
ক) কাপড় ছিঁড়ে যায়
খ) সাবানের অপচয় হয় এবং ফেনা হয় না
গ) কাপড় শক্ত হয়ে যায়
ঘ) রং উঠে যায়
ব্যাখ্যা: খর জলে থাকা Ca ও Mg আয়ন সাবানের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেশিয়াম স্টিয়ারেট তৈরি করে, ফলে ফেনা হয় না এবং সাবানের প্রচুর অপচয় হয়।
37. ভারী জল (Heavy water) এর সংকেত কী?
ক) $H_2O_2$
খ) $D_2O$
গ) $H_3O^+$
ঘ) $T_2O$
ব্যাখ্যা: হাইড্রোজেনের ভারী আইসোটোপ ডয়টেরিয়াম ($D$ বা ${}^2H$) দিয়ে গঠিত জলকে ভারী জল ($D_2O$) বলে। এটি পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
38. বিশুদ্ধ জলে সামান্য অ্যাসিড মেশালে তা কীসে পরিণত হয়?
ক) তড়িৎ অবিশ্লেষ্য
খ) তড়িৎ বিশ্লেষ্য
গ) খর জল
ঘ) মৃদু জল
ব্যাখ্যা: বিশুদ্ধ জল বিদ্যুতের কুপরিবাহী। কিন্তু সামান্য অ্যাসিড (যেমন $H_2SO_4$) মেশালে এটি আয়নিত হয়ে তড়িতের সুপরিবাহী বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থে পরিণত হয়।
39. আর্সেনিকোসিস (Arsenicosis) রোগের একটি লক্ষণ কী?
ক) দাঁতের ক্ষয়
খ) ত্বকে কালো ছোপ ও ঘা
গ) হাড় বেঁকে যাওয়া
ঘ) চোখ অন্ধ হওয়া
ব্যাখ্যা: আর্সেনিক দূষণের ফলে আর্সেনিকোসিস হয়, যার প্রধান লক্ষণ হলো হাতের ও পায়ের তালুতে কালো কালো দাগ বা ছোপ (মেলানোসিস) এবং ক্ষত বা ক্যানসার।
40. জিওলাইট (Zeolite) পদ্ধতিতে জল পরিশোধনের পর জিওলাইট পুনরায় কর্মক্ষম করতে কী ব্যবহার করা হয়?
ক) 10% NaCl দ্রবণ
খ) 10% HCl দ্রবণ
গ) বিশুদ্ধ জল
ঘ) গরম জল
ব্যাখ্যা: খরতা দূর করতে করতে জিওলাইট যখন ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম জিওলাইটে পরিণত হয়ে অকেজো হয়ে পড়ে, তখন তার মধ্যে দিয়ে 10% NaCl (ব্রাইন) দ্রবণ চালনা করলে তা পুনরায় সোডিয়াম জিওলাইটে (কর্মক্ষম) পরিণত হয়।
41. বৃষ্টির জল সাধারণত কীরূপ হয়?
ক) সবচেয়ে বেশি খর
খ) মৃদু জল
গ) তীব্র আম্লিক
ঘ) লবণাক্ত
ব্যাখ্যা: বৃষ্টির জল হলো প্রাকৃতিক জলের সবচেয়ে বিশুদ্ধ রূপ, যাতে কোনো ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেশিয়ামের লবণ দ্রবীভূত থাকে না। তাই এটি মৃদু জল (Soft water)।
42. কীসের উপস্থিতির কারণে সমুদ্রের জল খর প্রকৃতির হয়?
ক) ক্যালসিয়াম সালফেট
খ) ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড
গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ঘ) উপরের সবকটি লবণ
ব্যাখ্যা: সমুদ্রের জলে প্রচুর পরিমাণে NaCl এর সাথে সাথে Ca ও Mg এর ক্লোরাইড ও সালফেট লবণ মিশে থাকে, যার কারণে তা খর জল হয়।
43. DO (Dissolved Oxygen) এর মাত্রা কমে গেলে জলাশয়ে কী প্রভাব পড়ে?
ক) জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে
খ) জলজ প্রাণী বৃদ্ধি পায়
গ) জলের ঘনত্ব কমে
ঘ) জলের খরতা বাড়ে
ব্যাখ্যা: জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (DO) মাত্রা কমে গেলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী শ্বাসকষ্টে মারা যায়। এটি ইউট্রোফিকেশনের একটি ক্ষতিকর প্রভাব।
44. জলদূষণ প্রতিরোধে গৃহস্থালির বর্জ্য কোথায় ফেলা উচিত নয়?
ক) ডাস্টবিনে
খ) নদী বা পুকুরে
গ) কম্পোস্ট পিটে
ঘ) নর্দমায়
ব্যাখ্যা: নদী বা জলাশয়ে গৃহস্থালির আবর্জনা, পলিথিন বা নিকাশি জল ফেললে জলদূষণ ঘটে, যা পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।
45. কোন পদার্থটি জলের অস্থায়ী খরতা দূর করতে ব্যবহৃত হয়?
ক) সোডিয়াম কার্বনেট
খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড (কলিচুন)
গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ঘ) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট
ব্যাখ্যা: ক্লার্কের পদ্ধতিতে জলের অস্থায়ী খরতা দূর করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড বা কলিচুন মেশানো হয়।
46. সোডিয়াম কার্বনেট ($Na_2CO_3$) যোগ করে জলের কোন খরতা দূর করা যায়?
ক) কেবল অস্থায়ী
খ) কেবল স্থায়ী
গ) উভয় প্রকার খরতা
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: জলে সোডিয়াম কার্বনেট (কাপড় কাচার সোডা) মেশালে এটি স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় প্রকার খরতা সৃষ্টিকারী Ca ও Mg লবণের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় কার্বনেট তৈরি করে অধঃক্ষিপ্ত করে।
47. আয়নমুক্ত জলে (Deionized water) কোন আয়নের উপস্থিতি থাকে?
ক) $Na^+$ এবং $Cl^-$
খ) $Ca^{2+}$ এবং $Mg^{2+}$
গ) কেবলমাত্র $H^+$ এবং $OH^-$
ঘ) কোনো আয়ন থাকে না
ব্যাখ্যা: আয়ন বিনিময় পদ্ধতিতে প্রাপ্ত জলে সমস্ত খনিজ আয়ন দূর হয়ে যায় এবং কেবলমাত্র জলের নিজস্ব $H^+$ এবং $OH^-$ আয়ন উপস্থিত থাকে।
48. পানীয় জলে কোন ধাতুকল্পের (Metalloid) উপস্থিতি সবচেয়ে বিপজ্জনক?
ক) আয়রন
খ) জিংক
গ) আর্সেনিক (As)
ঘ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা: আর্সেনিক একটি তীব্র বিষাক্ত ধাতুকল্প। ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিকের মাত্রা বৃদ্ধি বর্তমানে একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যসংকট।
49. সক্রিয় কাঠকয়লা বা অ্যাক্টিভেটেড চারকোল (Activated charcoal) জল পরিশোধনে কী কাজে লাগে?
ক) জীবাণু মারতে
খ) খরতা দূর করতে
গ) জলের দুর্গন্ধ ও রং দূর করতে
ঘ) আর্সেনিক মুক্ত করতে
ব্যাখ্যা: সক্রিয় কাঠকয়লা তার পৃষ্ঠতলে জলের বিভিন্ন দূষক, দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জৈব যৌগ এবং রঞ্জক পদার্থকে অধিশোষণ (Adsorption) করে জলকে বর্ণহীন ও গন্ধহীন করে।
50. জলের কোন্ ধর্মটি জলকে 'সেরা শীতলকারক' (Best coolant) হিসেবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে?
ক) উচ্চ স্ফুটনাঙ্ক
খ) উচ্চ আপেক্ষিক তাপ
গ) ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ
ঘ) উচ্চ ঘনত্ব
ব্যাখ্যা: জলের আপেক্ষিক তাপ বেশি হওয়ায় এটি উষ্ণ হতে প্রচুর তাপ শোষণ করতে পারে। তাই গাড়ির রেডিয়েটরে ইঞ্জিন ঠান্ডা করতে জল ব্যবহৃত হয়।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
40 টি1. 'জলই জীবন' বলা হয় কেন?
পৃথিবীতে সর্বপ্রথম প্রাণের স্পন্দন জলের মধ্যেই দেখা দিয়েছিল। জীবদেহের খাদ্যবস্তুর পাচন, পুষ্টি উপাদান পরিবহণ, রেচন, রক্ত সঞ্চালন এবং উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ ও বীজের অঙ্কুরোদ্গম প্রভৃতি সমস্ত জৈবনিক প্রক্রিয়ার জন্যই জল একটি অপরিহার্য উপাদান। তাই জলই জীবন।
2. জলের আপেক্ষিক তাপ বেশি হওয়ার একটি সুবিধা লেখো।
জলের আপেক্ষিক তাপ (1 cal/g°C) বেশি হওয়ায় জল উষ্ণ হতে বা ঠান্ডা হতে অনেক বেশি সময় ও তাপের প্রয়োজন হয়। এই ধর্মের জন্য গাড়ির রেডিয়েটর ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখতে শীতলকারক বা কুল্যান্ট (Coolant) হিসেবে জল ব্যবহার করা হয়।
3. জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ (Anomalous expansion of water) বলতে কী বোঝো?
সাধারণত উষ্ণতা বৃদ্ধি করলে তরলের আয়তন বাড়ে, কিন্তু জলের ক্ষেত্রে $0^\circ C$ থেকে $4^\circ C$ পর্যন্ত উষ্ণতা বৃদ্ধি করলে আয়তন বাড়ার বদলে হ্রাস পায় এবং ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। $4^\circ C$ এ ঘনত্ব সর্বাধিক হয়। জলের এই অস্বাভাবিক আচরণকেই ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ বলে।
4. জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণের একটি প্রাকৃতিক সুবিধা লেখো।
শীতপ্রধান দেশে শীতকালে জলাশয়ের ওপরের স্তরের জল জমে বরফ হয়ে গেলেও, ব্যতিক্রান্ত প্রসারণের ফলে নীচের স্তরের জলের উষ্ণতা $4^\circ C$ থাকে এবং তা তরল থাকে। এর ফলে তীব্র শীতেও মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীরা বেঁচে থাকতে পারে।
5. মৃদু জল (Soft water) কাকে বলে?
যে জলে সাবান ঘষলে খুব সহজেই প্রচুর ফেনা উৎপন্ন হয় এবং সাবানের অপচয় কম হয়, সেই জলকে মৃদু জল বলে। যেমন- বৃষ্টির জল, পাতিত জল।
6. খর জল (Hard water) কাকে বলে?
যে জলে সাবান ঘষলে সহজে ফেনা উৎপন্ন হয় না, বরং সাবান জলের সাথে বিক্রিয়া করে সাদা অদ্রবণীয় অধঃক্ষেপ (Scum) তৈরি করে, সেই জলকে খর জল বলে। যেমন- সমুদ্রের জল, নলকূপের জল।
7. জলের খরতার প্রধান কারণ কী?
জলে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম ($Ca^{2+}$), ম্যাগনেশিয়াম ($Mg^{2+}$) এবং আয়রন ($Fe^{2+}$) এর বাইকার্বনেট, ক্লোরাইড ও সালফেট লবণ উপস্থিত থাকাই জলের খরতার প্রধান কারণ।
8. জলের অস্থায়ী খরতা (Temporary hardness) বলতে কী বোঝো?
জলে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের বাইকার্বনেট লবণ ($Ca(HCO_3)_2, Mg(HCO_3)_2$) দ্রবীভূত থাকলে যে খরতার সৃষ্টি হয়, তাকে অস্থায়ী খরতা বলে। জলকে কেবল ফুটিয়েই এই খরতা দূর করা যায়।
9. জলের স্থায়ী খরতা (Permanent hardness) বলতে কী বোঝো?
জলে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের ক্লোরাইড ($CaCl_2, MgCl_2$) এবং সালফেট ($CaSO_4, MgSO_4$) লবণ দ্রবীভূত থাকলে যে খরতার সৃষ্টি হয়, তাকে স্থায়ী খরতা বলে। এটি কেবল ফুটিয়ে দূর করা যায় না।
10. অস্থায়ী খরতা স্ফুটন পদ্ধতিতে কীভাবে দূর হয়?
খর জলকে ফোটালে জলে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট বিযোজিত হয়ে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট ($CaCO_3$) এ পরিণত হয় এবং অধঃক্ষিপ্ত হয়। ফলে জলের খরতা দূর হয়।
11. ক্লার্কের পদ্ধতি (Clark's method) কী?
জলের অস্থায়ী খরতা দূর করার একটি রাসায়নিক পদ্ধতি হলো ক্লার্কের পদ্ধতি। এতে খর জলের সাথে হিসাবমতো নির্দিষ্ট পরিমাণ কলিচুন ($Ca(OH)_2$) মেশানো হয়, যা বাইকার্বনেট লবণকে অদ্রবণীয় কার্বনেট লবণে পরিণত করে।
12. পারমুটিট (Permutit) কী?
পারমুটিট বা জিওলাইট হলো কৃত্রিমভাবে তৈরি জলযোজিত সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট ($Na_2O, Al_2O_3, 2SiO_2, xH_2O$)। এটি জলের স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় খরতা দূর করতে আয়ন-বিনিময়কারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
13. আয়ন মুক্ত জল (Deionized water) কাকে বলে?
ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন বিনিময়কারী রেজিনের মাধ্যমে খর জল চালনা করে জল থেকে খরতা সৃষ্টিকারী ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন উভয়কেই সম্পূর্ণ দূর করে যে খনিজ-মুক্ত বিশুদ্ধ জল পাওয়া যায়, তাকে আয়নমুক্ত জল বলে।
14. আয়নমুক্ত জল কি পানের যোগ্য?
না, আয়নমুক্ত জল পানযোগ্য নয়। কারণ এতে মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়ামের মতো উপকারী খনিজ লবণগুলি একেবারে থাকে না এবং এই জল হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
15. আর্সেনিক (Arsenic) কী এবং এর নিরাপদ মাত্রা কত?
আর্সেনিক হলো একটি বিষাক্ত ধাতুকল্প। WHO-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী পানীয় জলে আর্সেনিকের নিরাপদ সর্বোচ্চ সীমা হলো 0.01 mg/L। (ভারতে 0.05 mg/L পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়)।
16. ব্ল্যাকফুট ডিজিজ (Blackfoot disease) কী?
দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিক-দূষিত জল পানের ফলে মানুষের হাত ও পায়ের তালুতে কালো কালো ছোপ বা দাগ (মেলানোসিস) দেখা দেয় এবং ঘা বা ক্যানসার সৃষ্টি হয়। একে ব্ল্যাকফুট ডিজিজ বলে।
17. ফ্লুরোসিস (Fluorosis) কী?
পানীয় জলে ফ্লুরাইড আয়নের ($F^-$) মাত্রা 1.5 mg/L এর বেশি হলে মানুষের দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে হলদে ছোপ পড়ে এবং হাড় দুর্বল ও বেঁকে যায়। এই রোগকে ফ্লুরোসিস বলে।
18. পানীয় জলে সামান্য ফ্লুরাইডের উপস্থিতি প্রয়োজনীয় কেন?
পানীয় জলে প্রায় 1 mg/L মাত্রায় ফ্লুরাইড থাকলে তা দাঁতের এনামেলকে শক্তিশালী করে এবং দাঁতের ক্ষয় (Dental caries) রোধ করতে সাহায্য করে।
19. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কাকে বলে?
কৃষিজমির নাইট্রোজেন ও ফসফরাস যুক্ত সার এবং গৃহস্থালির ডিটারজেন্ট বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলাশয়ে মিশলে জলের পুষ্টি উপাদানের মাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
20. অ্যালগাল ব্লুম (Algal bloom) কী?
ইউট্রোফিকেশনের ফলে জলাশয়ে পুষ্টি উপাদান বৃদ্ধি পাওয়ায় শৈবাল, কচুরিপানা ও অন্যান্য জলজ আগাছা অতি দ্রুত হারে বংশবৃদ্ধি করে পুরো জলাশয়কে সবুজ চাদরের মতো ঢেকে ফেলে। একে অ্যালগাল ব্লুম বা শৈবাল প্রস্ফুটন বলে।
21. BOD (Biochemical Oxygen Demand) কাকে বলে?
জলের একটি নির্দিষ্ট নমুনায় উপস্থিত পচনশীল জৈব পদার্থগুলিকে বায়বীয় ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে সম্পূর্ণ জারিত বা ভাঙতে যে পরিমাণ দ্রবীভূত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে ওই জলের BOD বলে। BOD বেশি হলে জলদূষণ বেশি বোঝায়।
22. COD (Chemical Oxygen Demand) কাকে বলে?
জলের নমুনায় উপস্থিত সমস্ত জৈব এবং জারণযোগ্য অজৈব পদার্থকে তীব্র জারক পদার্থ (যেমন পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট) দ্বারা সম্পূর্ণ জারিত করতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে COD বলে।
23. DO (Dissolved Oxygen) কী?
জলে দ্রবীভূত মুক্ত অক্সিজেনের মাত্রাকে DO বলে। জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য DO অপরিহার্য। এর মাত্রা 4-5 mg/L এর নীচে নামলে জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটতে পারে।
24. কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া (Coliform bacteria) কী?
মানুষ ও অন্যান্য উষ্ণমণ্ডলীয় প্রাণীর অন্ত্রে কলিফর্ম (যেমন ই. কোলাই) নামক ব্যাকটেরিয়া বাস করে। পানীয় জলে এদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে জলটি নিকাশি বর্জ্য বা মলমূত্র দ্বারা দূষিত।
25. জল পরিশোধনে ক্লোরিনেশন (Chlorination) পদ্ধতি কী?
পানীয় জল থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও রোগজীবাণু ধ্বংস করার জন্য জলে নির্দিষ্ট মাত্রায় ক্লোরিন গ্যাস, ব্লিচিং পাউডার বা হ্যালোজোন ট্যাবলেট মেশানো হয়। এই জীবাণুনাশক পদ্ধতিকে ক্লোরিনেশন বলে।
26. হ্যালোজোন (Halazone) ট্যাবলেট কী?
হ্যালোজোন হলো p-(N,N-dichlorosulfamyl) benzoic acid এর একটি ক্লোরিনযুক্ত ট্যাবলেট, যা সহজেই পানীয় জলকে জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহার করা হয়।
27. জল ফুটলে জীবাণু মরে কেন?
জলকে 100°C উষ্ণতায় 15-20 মিনিট ফোটালে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে জলের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর কোষের প্রোটিন জমাট বেঁধে যায় এবং তারা মারা যায়।
28. জল পরিশোধনে UV রশ্মির ভূমিকা কী?
অতিবেগুনি বা UV (Ultraviolet) রশ্মি জলের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য অণুজীবের কোষে প্রবেশ করে তাদের DNA বা RNA নষ্ট করে দেয়, ফলে জীবাণুগুলি ধ্বংস হয়।
29. বিপরীত অভিস্রবণ বা RO (Reverse Osmosis) পদ্ধতি কী?
উচ্চচাপ প্রয়োগ করে অর্ধভেদ্য পর্দার সাহায্যে দূষিত বা লবণাক্ত জল থেকে দ্রাবক (বিশুদ্ধ জল)-কে আলাদা করার পদ্ধতিকে বিপরীত অভিস্রবণ বলে। এটি আধুনিক ওয়াটার পিউরিফায়ারে ব্যবহৃত হয়।
30. মিনামাটা রোগ কীসের প্রভাবে হয়?
জলে পারদ (Mercury) বা মিথাইল মার্কারি দূষণের ফলে মানুষের স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয় এবং মিনামাটা নামক মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হয়। (প্রথম জাপানের মিনামাটা উপসাগরে দেখা যায়)।
31. ইতাই-ইতাই বা আউচ-আউচ রোগ কীসের প্রভাবে হয়?
জলে ক্যাডমিয়াম (Cadmium) ধাতুর দূষণের ফলে হাড় ও কিডনির মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হয়, যাকে ইতাই-ইতাই রোগ বলা হয়।
32. ব্লু বেবি সিনড্রোম (Blue baby syndrome) কী?
পানীয় জলে নাইট্রেট লবণের আধিক্য থাকলে তা শিশুদের রক্তে মেথেমোগ্লোবিন তৈরি করে, যা অক্সিজেন পরিবহণ ব্যাহত করে। ফলে শিশুর শরীর নীলচে হয়ে যায়, একে ব্লু বেবি সিনড্রোম বলে।
33. সমুদ্রের জল পানযোগ্য নয় কেন?
সমুদ্রের জলে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) এবং ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের লবণ দ্রবীভূত থাকায় তা অত্যন্ত লবণাক্ত ও খর প্রকৃতির হয়, যা মানবদেহের কোষের জলশূন্যতা ঘটাতে পারে।
34. ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক দূষণের প্রধান কারণ কী?
অতিরিক্ত পরিমাণে গভীর নলকূপের জল তুলে নেওয়ার ফলে মাটির নীচের স্তরে বাতাস প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা আর্সেনিক যুক্ত খনিজ (যেমন আর্সেনোপাইরাইট) জারিত হয়ে জলে দ্রবণীয় আর্সেনিক যৌগে পরিণত হয়।
35. কলকারখানার বর্জ্য জলদূষণ কীভাবে ঘটায়?
কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যে সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতু এবং নানা রকম বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে, যা সরাসরি নদী বা জলাশয়ে মিশে মারাত্মক জলদূষণ ঘটায়।
36. জলদূষণ প্রতিরোধের দুটি উপায় লেখো।
১. কলকারখানা ও শহরের নিকাশি বর্জ্য জলকে শোধন বা ট্রিটমেন্ট (ETP) না করে সরাসরি নদী বা জলাশয়ে ফেলা উচিত নয়। ২. কৃষিকাজে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমানো উচিত।
37. খাদ্যলবণ (NaCl) কি জলের খরতা সৃষ্টি করে?
না। সোডিয়ামের (Na) বা পটাশিয়ামের (K) কোনো লবণ (যেমন NaCl) জলের খরতা সৃষ্টি করে না। খরতা শুধুমাত্র Ca, Mg, Fe ইত্যাদি আয়নের লবণের জন্য হয়।
38. বয়েলারের স্কেল বা বয়লার ইনক্রাস্টেশন কী?
শিল্পক্ষেত্রে বয়লারে খর জল ব্যবহার করলে, তাপের প্রভাবে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম লবণ বয়লারের ভেতরের গায়ে পুরু আস্তরণ বা স্তর তৈরি করে, যাকে বয়লার স্কেল বলে।
39. কৃষিকাজে জলদূষণের প্রভাব কী?
দূষিত জল সেচের কাজে ব্যবহার করলে সেই দূষক পদার্থগুলি (যেমন ভারী ধাতু) মাটির গুণমান নষ্ট করে এবং খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে ফসলে প্রবেশ করে মানবদেহে রোগ সৃষ্টি করে।
40. সক্রিয় কাঠকয়লা (Activated carbon) জল পরিশোধনে কী কাজ করে?
সক্রিয় কাঠকয়লা তার অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্রে জলের বিভিন্ন দূষক, উদ্বায়ী জৈব পদার্থ এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী গ্যাসকে অধিশোষণ (Adsorption) করে জলকে পরিষ্কার ও গন্ধহীন করে।
Broad Questions - দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (৩ ও ৫ নম্বর)
10 টি1. জলের খরতা (Hardness of water) বলতে কী বোঝো? খর জল ও মৃদু জলের মধ্যে পার্থক্য লেখো। জলের খরতার প্রধান কারণগুলি কী কী?
জলের খরতা:
যে জলে সাবান ঘষলে সহজেই ফেনা উৎপন্ন হয় না, বরং সাবান জলের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় সাদা অধঃক্ষেপ বা গাদ (Scum) সৃষ্টি করে এবং প্রচুর সাবানের অপচয় ঘটায়, জলের সেই ধর্মকে খরতা বলে এবং সেই জলকে খর জল (Hard water) বলে।
খর জল ও মৃদু জলের পার্থক্য:
| বিষয় | মৃদু জল (Soft Water) | খর জল (Hard Water) |
|---|
| সাবানের সাথে ফেনা | সাবান ঘষলে সহজেই প্রচুর ফেনা উৎপন্ন হয়। | সহজে ফেনা হয় না, অদ্রবণীয় সাদা গাদ তৈরি হয়। |
| দ্রবীভূত লবণ | এতে Ca বা Mg-এর কোনো দ্রবণীয় লবণ থাকে না। | এতে Ca এবং Mg-এর বাইকার্বনেট, ক্লোরাইড ও সালফেট লবণ থাকে। |
| ব্যবহারের সুবিধা | কাপড় কাচা, বয়লারে ব্যবহার ও রান্নার জন্য বেশ উপযোগী। | কাপড় কাচায় সাবান নষ্ট হয় এবং বয়লারে স্কেল (আস্তরণ) তৈরি করে ক্ষতি করে। |
খরতার কারণ:
জলে প্রধানত ক্যালসিয়াম ($Ca^{2+}$) এবং ম্যাগনেশিয়াম ($Mg^{2+}$) এর বাইকার্বনেট ($HCO_3^-$), ক্লোরাইড ($Cl^-$) এবং সালফেট ($SO_4^{2-}$) লবণ দ্রবীভূত থাকার কারণেই জলের খরতার সৃষ্টি হয়।
2. জলের অস্থায়ী খরতা ও স্থায়ী খরতা বলতে কী বোঝো? স্ফুটন পদ্ধতিতে জলের অস্থায়ী খরতা কীভাবে দূর করা যায় তা রাসায়নিক সমীকরণসহ ব্যাখ্যা করো।
অস্থায়ী খরতা (Temporary Hardness):
জলে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের বাইকার্বনেট লবণ ($Ca(HCO_3)_2$ এবং $Mg(HCO_3)_2$) দ্রবীভূত থাকলে যে খরতার সৃষ্টি হয়, তাকে অস্থায়ী খরতা বলে। জলকে শুধুমাত্র ফোটালেই এই খরতা দূর করা যায়।
স্থায়ী খরতা (Permanent Hardness):
জলে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের ক্লোরাইড ও সালফেট লবণ ($CaCl_2, MgCl_2, CaSO_4, MgSO_4$) দ্রবীভূত থাকলে যে খরতার সৃষ্টি হয়, তাকে স্থায়ী খরতা বলে। এটি কেবল ফুটিয়ে দূর করা যায় না।
স্ফুটন পদ্ধতিতে অস্থায়ী খরতা দূরীকরণ:
অস্থায়ী খর জলকে 100°C উষ্ণতায় 15-20 মিনিট ফোটালে, জলে দ্রবীভূত থাকা দ্রবণীয় ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট বা ম্যাগনেশিয়াম বাইকার্বনেট বিযোজিত হয়ে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট বা ম্যাগনেশিয়াম কার্বনেট-এ পরিণত হয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস বেরিয়ে যায়।
রাসায়নিক সমীকরণ:
$Ca(HCO_3)_2 \xrightarrow{\text{তাপ}} CaCO_3 \downarrow (সাদা অধঃক্ষেপ) + H_2O + CO_2 \uparrow$
$Mg(HCO_3)_2 \xrightarrow{\text{তাপ}} MgCO_3 \downarrow + H_2O + CO_2 \uparrow$
এই অদ্রবণীয় কার্বনেট লবণগুলি পাত্রের তলায় থিতিয়ে পড়ে, যা পরে পরিশ্রুত করে নিলেই খরতা মুক্ত মৃদু জল পাওয়া যায়।
3. পারমুটিট বা জিওলাইট (Permutit/Zeolite) পদ্ধতি ব্যবহার করে জলের খরতা কীভাবে দূর করা হয় তা লেখো।
পারমুটিট পদ্ধতি:
জলের স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় প্রকার খরতা দূর করার জন্য পারমুটিট বা জিওলাইট পদ্ধতি একটি অত্যন্ত কার্যকরী এবং আধুনিক পদ্ধতি।
পারমুটিট কী: পারমুটিট হলো কৃত্রিমভাবে তৈরি জলযোজিত সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট ($Na_2O, Al_2O_3, 2SiO_2, xH_2O$)। সংক্ষেপে একে সোডিয়াম জিওলাইট বা $Na_2Z$ লেখা হয়। এটি জলে অদ্রবণীয়।
কার্যপ্রণালী:
১. একটি লম্বা সিলিন্ডার আকৃতির ট্যাংকের মধ্যে পারমুটিটের স্তর রেখে তার ওপর দিয়ে খর জল চালনা করা হয়।
২. খর জলে থাকা খরতা সৃষ্টিকারী ক্যালসিয়াম ($Ca^{2+}$) ও ম্যাগনেশিয়াম ($Mg^{2+}$) আয়নগুলি পারমুটিটের সোডিয়াম ($Na^+$) আয়ন দ্বারা প্রতিস্থাপিত বা বিনিময় হয়।
বিক্রিয়া:
$Na_2Z (কঠিন) + Ca^{2+} (জলে) \rightarrow CaZ (কঠিন) + 2Na^+ (জলে)$
$Na_2Z (কঠিন) + Mg^{2+} (জলে) \rightarrow MgZ (কঠিন) + 2Na^+ (জলে)$
৩. অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম জিওলাইট ($CaZ, MgZ$) সিলিন্ডারেই আটকে থাকে এবং খরতা সৃষ্টিকারী ক্যাটায়ন মুক্ত হয়ে $Na^+$ যুক্ত মৃদু জল নির্গত হয়। ($Na^+$ আয়ন খরতা সৃষ্টি করে না)।
জিওলাইটের পুনর্নবীকরণ (Regeneration):
অনেক জল শোধন করার পর সমস্ত জিওলাইট $CaZ$ বা $MgZ$ এ পরিণত হলে তা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তখন ট্যাংকের ভেতর দিয়ে 10% NaCl (ব্রাইন) দ্রবণ চালনা করলে তা পুনরায় কর্মক্ষম সোডিয়াম জিওলাইটে ($Na_2Z$) পরিণত হয়।
$CaZ + 2NaCl \rightarrow Na_2Z + CaCl_2$
4. আয়ন বিনিময় রেজিন (Ion Exchange Resin) পদ্ধতির সাহায্যে কীভাবে আয়নমুক্ত জল (Deionized water) প্রস্তুত করা হয়?
আয়ন বিনিময় পদ্ধতি:
এই পদ্ধতিতে খর জলকে দুটি পৃথক ট্যাংকের মধ্যে দিয়ে চালনা করা হয়, যার একটিতে ক্যাটায়ন বিনিময়কারী রেজিন এবং অপরটিতে অ্যানায়ন বিনিময়কারী রেজিন থাকে।
১. ক্যাটায়ন বিনিময় (Cation Exchange):
প্রথমে খর জলকে ক্যাটায়ন বিনিময়কারী রেজিন ($RH^+$) যুক্ত প্রথম ট্যাংকের মধ্যে দিয়ে চালনা করা হয়। এই রেজিন জলের খরতা সৃষ্টিকারী ক্যাটায়নগুলিকে ($Ca^{2+}, Mg^{2+}, Na^+$ ইত্যাদি) শোষণ করে নেয় এবং তার বদলে সমতুল্য পরিমাণ হাইড্রোজেন আয়ন ($H^+$) জলে মুক্ত করে।
বিক্রিয়া: $2RH^+ + Ca^{2+} \rightarrow R_2Ca^{2+} + 2H^+$
২. অ্যানায়ন বিনিময় (Anion Exchange):
এরপর এই জলকে অ্যানায়ন বিনিময়কারী রেজিন ($ROH^-$) যুক্ত দ্বিতীয় ট্যাংকের মধ্যে দিয়ে চালনা করা হয়। এই রেজিন জলের সমস্ত অ্যানায়নগুলিকে ($Cl^-, SO_4^{2-}, HCO_3^-$ ইত্যাদি) শোষণ করে নেয় এবং তার বদলে সমতুল্য পরিমাণ হাইড্রক্সিল আয়ন ($OH^-$) জলে মুক্ত করে।
বিক্রিয়া: $2ROH^- + SO_4^{2-} \rightarrow R_2SO_4^{2-} + 2OH^-$
৩. আয়নমুক্ত জল গঠন:
প্রথম ট্যাংক থেকে আসা $H^+$ আয়ন এবং দ্বিতীয় ট্যাংক থেকে আসা $OH^-$ আয়ন পরস্পর যুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ জলের অণু তৈরি করে।
বিক্রিয়া: $H^+ + OH^- \rightarrow H_2O$
এই পদ্ধতিতে জল থেকে সমস্ত প্রকার দ্রবীভূত ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন দূর হয়ে যায়। প্রাপ্ত এই জলকে আয়নমুক্ত জল বা খনিজমুক্ত (Deionized / Demineralized) জল বলা হয়।
5. ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক (Arsenic) দূষণ কী? এর ক্ষতিকারক প্রভাব বা লক্ষণগুলি (ব্ল্যাকফুট ডিজিজ) আলোচনা করো।
আর্সেনিক দূষণ:
আর্সেনিক (As) হলো একটি তীব্র বিষাক্ত ধাতুকল্প। ভূগর্ভস্থ পাথরের স্তরে আর্সেনোপাইরাইট ($FeAsS$) নামক খনিজ থাকে। কৃষিকাজে বা পানীয় জলের জন্য পাম্পের সাহায্যে অতিরিক্ত মাত্রায় ভূগর্ভস্থ জল তুলে নেওয়ার ফলে মাটির নীচে শূন্যস্থান তৈরি হয় এবং সেখানে বাতাস প্রবেশ করে। এই বাতাসের অক্সিজেনের প্রভাবে আর্সেনিক খনিজ জারিত হয়ে জলে দ্রবণীয় আর্সেনিক যৌগে (আর্সেনাইট ও আর্সেনেট) পরিণত হয় এবং ভূগর্ভস্থ জলে মিশে মারাত্মক আর্সেনিক দূষণ ঘটায়।
ক্ষতিকারক প্রভাব (আর্সেনিকোসিস):
দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিক-দূষিত (0.01 mg/L এর বেশি মাত্রা) জল পান করলে মানবদেহে আর্সেনিকোসিস (Arsenicosis) নামক মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হয়। এর প্রধান লক্ষণগুলি হলো:
- মেলানোসিস (Melanosis): মানুষের বুকে, পিঠে এবং হাতের তালুতে কালো কালো দাগ বা ছোপ দেখা যায়।
- কেরাটোসিস (Keratosis): হাতের চেটো বা পায়ের তলায় ত্বক শক্ত হয়ে খসখসে গুটি বা ফাটল তৈরি হয়।
- ব্ল্যাকফুট ডিজিজ (Blackfoot Disease): পায়ের রক্তনালিতে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়ে পায়ের পাতা কালো হয়ে পচে যায় এবং ঘা সৃষ্টি হয়। একে ব্ল্যাকফুট ডিজিজ বলে।
- ক্যানসার: দীর্ঘস্থায়ী দূষণের ফলে ত্বক, ফুসফুস, লিভার এবং কিডনির ক্যানসার হতে পারে।
6. ফ্লুরাইড (Fluoride) দূষণ কী? পানীয় জলে এর অভাব এবং আধিক্যের ফল (ফ্লুরোসিস) আলোচনা করো।
ফ্লুরাইড দূষণ:
পানীয় জলে নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি ফ্লুরাইড ($F^-$) আয়ন উপস্থিত থাকলে তাকে ফ্লুরাইড দূষণ বলে। পাথরের স্তরে থাকা ফ্লুরাইড খনিজ জলে দ্রবীভূত হয়ে এই দূষণ ঘটাতে পারে।
১. ফ্লুরাইডের অভাবের ফল:
পানীয় জলে সামান্য মাত্রায় (0.5 থেকে 1.0 mg/L) ফ্লুরাইড উপস্থিত থাকা মানবদেহের জন্য উপকারী। এটি দাঁতের এনামেলকে (ক্যালসিয়াম ফ্লুরোপ্যাটাইট গঠন করে) অ্যাসিডের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং মজবুত রাখে। জলে ফ্লুরাইডের অভাব হলে দাঁতের ক্ষয় (Dental caries) বা ক্যাভিটি রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
২. ফ্লুরাইডের আধিক্যের ফল (ফ্লুরোসিস):
পানীয় জলে ফ্লুরাইডের মাত্রা 1.5 mg/L এর বেশি হলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক বিষ হিসেবে কাজ করে এবং ফ্লুরোসিস (Fluorosis) নামক রোগ সৃষ্টি করে।
- ডেন্টাল ফ্লুরোসিস: দাঁতের ওপর হলুদ বা বাদামি রঙের স্থায়ী ছোপ পড়ে এবং দাঁত ভঙ্গুর হয়ে অকালে ভেঙে যায়।
- স্কেলিটাল ফ্লুরোসিস: ফ্লুরাইডের মাত্রা অত্যাধিক হলে তা হাড়ের ক্যালসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে হাড়ের গঠন নষ্ট করে দেয়। এর ফলে হাড় দুর্বল হয়ে বেঁকে যায়, গাঁটে গাঁটে প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং মানুষ পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। পিঠের শিরদাঁড়া ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া এর একটি প্রধান লক্ষণ।
7. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কাকে বলে? এর কারণ এবং ক্ষতিকারক প্রভাব (অ্যালগাল ব্লুম ও BOD বৃদ্ধি) ব্যাখ্যা করো।
ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication):
জলাশয়ে পুষ্টি উপাদানের (বিশেষ করে নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস) মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
ইউট্রোফিকেশনের কারণ:
কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার (নাইট্রেট ও ফসফেট), গৃহস্থালির কাপড় কাচার ডিটারজেন্ট, এবং শিল্পের বর্জ্য পদার্থ বৃষ্টির জলে ধুয়ে নদী, হ্রদ বা পুকুরে গিয়ে মেশে। এই নাইট্রেট ও ফসফেট লবণগুলি জলজ উদ্ভিদের জন্য প্রচুর পুষ্টি জুগিয়ে থাকে।
ক্ষতিকারক প্রভাব:
- অ্যালগাল ব্লুম (Algal Bloom): অতিরিক্ত পুষ্টির কারণে জলাশয়ে শৈবাল (Algae), কচুরিপানা ও অন্যান্য জলজ আগাছা অতি দ্রুত হারে বংশবৃদ্ধি করে এবং গোটা জলাশয়ের ওপর সবুজ চাদরের মতো একটি স্তর তৈরি করে। একে শৈবাল প্রস্ফুটন বা অ্যালগাল ব্লুম বলে। এর ফলে সূর্যালোক জলের নীচে পৌঁছাতে পারে না এবং নীচের উদ্ভিদগুলি মরে যায়।
- দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) হ্রাস ও BOD বৃদ্ধি: শৈবাল ও মৃত উদ্ভিদের পচন ঘটানোর জন্য জলে থাকা বায়বীয় ব্যাকটেরিয়া প্রচুর পরিমাণে দ্রবীভূত অক্সিজেন (Dissolved Oxygen বা DO) ব্যবহার করে। ফলে জলে অক্সিজেনের মারাত্মক অভাব দেখা দেয়। একে বলা হয় জলের Biochemical Oxygen Demand (BOD) বেড়ে যাওয়া।
- জলজ প্রাণীর মৃত্যু: অক্সিজেনের অভাবে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী শ্বাসকষ্টে মারা যায় এবং গোটা জলাশয়টি দূষিত ও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
8. পানীয় জল পরিশোধনের পদ্ধতি হিসেবে 'ক্লোরিনেশন' এবং 'বিপরীত অভিস্রবণ (RO)' পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
১. ক্লোরিনেশন (Chlorination):
পানীয় জল থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও রোগজীবাণু (Pathogens) ধ্বংস করার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী রাসায়নিক পদ্ধতি হলো ক্লোরিনেশন।
পদ্ধতি: জল সরবরাহ কেন্দ্রে বা মিউনিসিপ্যালিটির জলে নির্দিষ্ট মাত্রায় ক্লোরিন গ্যাস ($Cl_2$), তরল ক্লোরিন বা ব্লিচিং পাউডার মেশানো হয়।
জীবাণুনাশক ক্রিয়া: ক্লোরিন জলের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড ($HClO$) নামক একটি অস্থায়ী যৌগ উৎপন্ন করে।
$Cl_2 + H_2O \rightarrow HCl + HClO$
এই হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড বিযোজিত হয়ে জায়মান অক্সিজেন ([O]) উৎপন্ন করে, যা অত্যন্ত সক্রিয় এবং শক্তিশালী জারক পদার্থ। এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের কোষপ্রাচীর নষ্ট করে তাদের ধ্বংস করে।
২. বিপরীত অভিস্রবণ (Reverse Osmosis বা RO):
এটি জল পরিশোধনের একটি অত্যন্ত আধুনিক ভৌত পদ্ধতি।
পদ্ধতি: সাধারণ অভিস্রবণে দ্রাবক (বিশুদ্ধ জল) অর্ধভেদ্য পর্দা ভেদ করে লঘু দ্রবণ থেকে গাঢ় দ্রবণের দিকে যায়। কিন্তু বিপরীত অভিস্রবণে দূষিত বা লবণাক্ত জলের (গাঢ় দ্রবণ) ওপর অভিস্রবণ চাপের চেয়ে অনেক বেশি চাপ (উচ্চ পাম্পের সাহায্যে) প্রয়োগ করা হয়।
ফলাফল: এর ফলে জলের স্বাভাবিক প্রবাহ উলটে যায়। দূষিত জল থেকে কেবলমাত্র বিশুদ্ধ জলের অণুগুলি অর্ধভেদ্য পর্দা (Semi-permeable membrane) ভেদ করে পরিষ্কার জলের দিকে চলে আসে। দূষিত খনিজ লবণ, ভারী ধাতু (আর্সেনিক, ফ্লোরাইড), এবং জীবাণুগুলি পর্দার ওপারে আটকে থাকে। সমুদ্রের নোনা জলকে পানযোগ্য করার জন্য (Desalination) এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
9. জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ (Anomalous expansion of water) বলতে কী বোঝো? শীতপ্রধান দেশে জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকতে এটি কীভাবে সাহায্য করে তা ব্যাখ্যা করো।
জলের ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ:
সাধারণত যেকোনো তরলের উষ্ণতা বৃদ্ধি করলে তার আয়তন বাড়ে এবং ঘনত্ব কমে। কিন্তু জলের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা যায়। $0^\circ C$ থেকে $4^\circ C$ পর্যন্ত উষ্ণতা বৃদ্ধি করলে জলের আয়তন বাড়ার পরিবর্তে হ্রাস পায় এবং ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। $4^\circ C$ উষ্ণতায় জলের ঘনত্ব সর্বাধিক ($1 g/cm^3$) এবং আয়তন সর্বনিম্ন হয়। জলের এই অস্বাভাবিক ধর্মকেই ব্যতিক্রান্ত প্রসারণ বলে।
শীতপ্রধান দেশে জলজ প্রাণীদের ওপর প্রভাব:
তীব্র শীতে যখন বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা $0^\circ C$ এর নীচে নেমে যায়, তখন হ্রদ বা পুকুরের জলের ওপরের স্তর ঠান্ডা হতে শুরু করে।
১. জলের তাপমাত্রা যখন $4^\circ C$ এ পৌঁছায়, তখন তার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সেই ভারী জল জলাশয়ের নীচে চলে যায় এবং নীচের অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা জল ওপরে আসে। এভাবে জলের পরিচলন স্রোত চলতে থাকে।
২. যখন সমগ্র জলাশয়ের জলের তাপমাত্রা $4^\circ C$ হয়ে যায়, তখন পরিচলন স্রোত বন্ধ হয়ে যায়।
৩. এরপর বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে থাকা ওপরের স্তরের জলের তাপমাত্রা $4^\circ C$ থেকে কমে $0^\circ C$ এ পৌঁছালে তা বরফে পরিণত হয়।
৪. বরফ তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় এটি বাইরের কনকনে ঠান্ডাকে জলাশয়ের গভীরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ফলে ওপরের স্তরে বরফ জমলেও, জলাশয়ের নীচের দিকের জলের তাপমাত্রা $4^\circ C$ ই থেকে যায় এবং তা তরল অবস্থাতেই থাকে।
জলের এই ব্যতিক্রান্ত আচরণের জন্যই শীতপ্রধান দেশে জলাশয় সম্পূর্ণ জমে কঠিন বরফে পরিণত হয় না এবং মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীরা নীচের তরল জলে নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারে।
10. কলিফর্ম কাউন্ট (Coliform count) কী? পানীয় জলে এর উপস্থিতি কী নির্দেশ করে? জলকে জীবাণুমুক্ত করার কয়েকটি উপায় লেখো।
কলিফর্ম কাউন্ট:
কলিফর্ম (Coliform) হলো মানুষ এবং অন্যান্য উষ্ণমণ্ডলীয় স্তন্যপায়ী প্রাণীর অন্ত্রে (Intestine) বসবাসকারী এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া (যেমন Escherichia coli বা E. coli)। 100 mL জলের নমুনায় উপস্থিত এই ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা নির্ণয় করাকেই কলিফর্ম কাউন্ট বলা হয়।
উপস্থিতি কী নির্দেশ করে:
কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া নিজে সবসময় সরাসরি রোগ সৃষ্টি না করলেও, এরা মলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই পানীয় জলে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে জলটি নিকাশি বর্জ্য বা মানুষের মলমূত্র দ্বারা দূষিত হয়েছে। এর অর্থ হলো ওই জলে কলেরা, টাইফয়েড, বা জন্ডিস সৃষ্টিকারী অন্যান্য ভয়ংকর রোগজীবাণু (Pathogens) থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই WHO-এর মতে নিরাপদ পানীয় জলে কলিফর্ম কাউন্ট শূন্য হওয়া উচিত।
জল জীবাণুমুক্ত করার উপায়:
- স্ফুটন (Boiling): জলকে 100°C উষ্ণতায় 15-20 মিনিট ধরে ফোটালে উত্তাপের কারণে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। এটি সবচেয়ে সহজ ও ঘরোয়া পদ্ধতি।
- রাসায়নিক পদ্ধতি: জলে ব্লিচিং পাউডার, ক্লোরিন ট্যাবলেট (হ্যালোজোন) বা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে জলকে জীবাণুমুক্ত করা হয়।
- অতিবেগুনি রশ্মি (UV Ray): আধুনিক ফিল্টারে জলের মধ্য দিয়ে UV রশ্মি চালনা করা হয়, যা জীবাণুর DNA নষ্ট করে তাদের মেরে ফেলে।
- ওজোন গ্যাস চালনা: জলের মধ্য দিয়ে ওজোন ($O_3$) গ্যাস চালনা করলে তা শক্তিশালী জারক হিসেবে জীবাণু ধ্বংস করে।
মাস্টার টিপস!
পরীক্ষায় মনে রেখো: অস্থায়ী খরতা বাইকার্বনেট লবণের জন্য এবং স্থায়ী খরতা ক্লোরাইড ও সালফেট লবণের জন্য হয়। আর্সেনিক দূষণের নিরাপদ মাত্রা $0.01 mg/L$। ইউট্রোফিকেশনের ফলে জলে DO (দ্রবীভূত অক্সিজেন) কমে এবং BOD বাড়ে।