অধ্যায় ১: ইতিহাসের ধারণা
অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ
ইতিহাস শুধুমাত্র রাজা-উজিরের নাম বা সাল-তারিখ মুখস্থ করা নয়। এটি অতীতের ঘটনা ও তার কার্যকারণ সম্পর্ক বোঝার একটি প্রয়াস। এই অধ্যায়ে ইতিহাস কী, ইতিহাস জানার বিভিন্ন উপাদান, সময়কে ভাগ করার পদ্ধতি এবং ভারতের নামের উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- ইতিহাস কী: ইতিহাস হলো অতীতের ঘটনাবলির একটি সুসংবদ্ধ বিবরণ। এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে, আজকের সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি কীভাবে অতীতের বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান: অতীতকে জানার জন্য ঐতিহাসিকরা বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করেন। এগুলিকে মূলত চার ভাগে ভাগ করা যায়: (ক) লেখ (শিলালিপি, তাম্রশাসন), (খ) মুদ্রা, (গ) স্থাপত্য ও ভাস্কর্য (পুরোনো ঘর-বাড়ি, মন্দির, মসজিদ, মূর্তি) এবং (ঘ) লিখিত উপাদান (পুরোনো বই, পুঁথি)।
- যুগ বিভাজন: ঐতিহাসিকরা আলোচনার সুবিধার জন্য ইতিহাসকে প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক—এই তিনটি যুগে ভাগ করেন। তবে এই বিভাজন রাতারাতি হয় না। একটি যুগের বৈশিষ্ট্য শেষ হয়ে অন্য যুগের বৈশিষ্ট্য শুরু হতে অনেক সময় লাগে। সপ্তম থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত সময়কালকে সাধারণত ভারতের মধ্যযুগ বলা হয়।
- ভারতবর্ষের নামকরণ: 'ইন্ডিয়া' নামটি এসেছে গ্রিকদের মাধ্যমে, যা সিন্ধু নদের নাম থেকে উদ্ভূত। অন্যদিকে, আরবি-ফারসি সাহিত্যে 'হিন্দুস্তান' নামটি পাওয়া যায়, যা প্রথমে সিন্ধু সংলগ্ন অঞ্চলকে বোঝালেও পরে সমগ্র ভারতকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- ঐতিহাসিক ও তাঁর কাজ: একজন ঐতিহাসিক একজন গোয়েন্দার মতো। তিনি বিভিন্ন উপাদানরূপী সূত্র খুঁজে বের করেন, সেগুলির সত্যতা যাচাই করেন এবং যুক্তি দিয়ে সাজিয়ে অতীতের একটি চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেন।
গুরুত্বপূর্ণ সাল এবং ঘটনা
| সাল (খ্রিস্টাব্দ) | ঘটনা |
|---|---|
| খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ-৫ম শতক | গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস প্রথম 'ইন্ডিয়া' নামটি ব্যবহার করেন। |
| ২৬২ খ্রিঃ | ইরানের সাসানীয় শাসকের শিলালিপিতে প্রথম 'হিন্দুস্তান' শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়। |
| ৭ম-১২শ শতক | ভারতের ইতিহাসে 'আদি-মধ্যযুগ' হিসেবে পরিচিত। |
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
এই বিভাগে অধ্যায়ের বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত প্রশ্ন এবং তাদের উত্তর দেওয়া হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
ইতিহাসে সময় মাপার জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয় না?
(ক) সাল (খ) শতাব্দী (গ) সহস্রাব্দ (ঘ) মিনিট
উত্তর: (ঘ) মিনিট
তামার পাতের উপর লেখা হলে তাকে কী বলে?
(ক) শিলালেখ (খ) তাম্রলেখ (গ) পুঁথি (ঘ) লিখিত উপাদান
উত্তর: (খ) তাম্রলেখ
পাথরের উপর লেখা হলে তাকে কী বলে?
(ক) তাম্রলেখ (খ) শিলালেখ (গ) ফলক (ঘ) বই
উত্তর: (খ) শিলালেখ
সুলতানি বা মুঘল যুগে 'বিদেশি' বলতে কী বোঝাত?
(ক) অন্য দেশের লোক (খ) অন্য গ্রামের বা শহরের লোক (গ) অন্য ধর্মের লোক (ঘ) অন্য ভাষার লোক
উত্তর: (খ) অন্য গ্রামের বা শহরের লোক
'ইন্ডিয়া' নামটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
(ক) মেগাস্থিনিস (খ) হেরোডোটাস (গ) ফা-হিয়েন (ঘ) হিউয়েন সাঙ
উত্তর: (খ) হেরোডোটাস
ইরানি ভাষায় 'স'-এর উচ্চারণ কীসের মতো?
(ক) জ (খ) শ (গ) হ (ঘ) চ
উত্তর: (গ) হ
'হিন্দুস্তান' শব্দটি প্রথম কোন শাসকের লেখতে পাওয়া যায়?
(ক) গ্রিক (খ) রোমান (গ) পারসিক (ঘ) সাসানীয়
উত্তর: (ঘ) সাসানীয়
প্রাচীন ও মধ্যযুগের সন্ধিক্ষণকে ঐতিহাসিকরা কী বলেন?
(ক) আদি-মধ্যযুগ (খ) নব্য-প্রাচীন যুগ (গ) প্রাক-আধুনিক যুগ (ঘ) অন্ধকার যুগ
উত্তর: (ক) আদি-মধ্যযুগ
ভারতে আলু খাওয়ার চল কাদের হাত ধরে শুরু হয়?
(ক) ইংরেজ (খ) ফরাসি (গ) ওলন্দাজ (ঘ) পোর্তুগিজ
উত্তর: (ঘ) পোর্তুগিজ
ঐতিহাসিককে কার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
(ক) বিচারক (খ) শিক্ষক (গ) গোয়েন্দা (ঘ) ডাক্তার
উত্তর: (গ) গোয়েন্দা
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
ইতিহাস পাঠ জরুরি কেন?
অতীতের বিভিন্ন ঘটনা এবং মানুষের কাজকর্মের কারণ ও ফলাফল বোঝার জন্য ইতিহাস পাঠ জরুরি। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, আমাদের বর্তমান সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারি।
ইতিহাসের উপাদান বলতে কী বোঝো? কয়েকটি উদাহরণ দাও।
অতীতের যে সমস্ত জিনিসপত্র থেকে আমরা পুরোনো দিনের কথা জানতে পারি, সেগুলিকে ইতিহাসের উপাদান বলে। যেমন—পুরোনো মুদ্রা, শিলালিপি, তাম্রশাসন, পুরোনো বই, মূর্তি, স্থাপত্য ইত্যাদি।
ঐতিহাসিকদের কাজ কী?
ঐতিহাসিকদের কাজ হলো একজন গোয়েন্দার মতো। তাঁরা বিভিন্ন উপাদানরূপী সূত্র খুঁজে বের করেন, সেগুলির সত্য-মিথ্যা বিচার করেন এবং যুক্তি দিয়ে সাজিয়ে অতীতের একটি নির্ভরযোগ্য চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেন।
'ইন্ডিয়া' নামটি কীভাবে এসেছে?
পারসিকরা সিন্ধু নদ সংলগ্ন অঞ্চলকে 'হিদুষ' বলত। পরে গ্রিকরা 'হ'-এর উচ্চারণ 'ই' করায় 'হিদুষ' শব্দটি 'ইন্ডিয়া'-তে রূপান্তরিত হয়। অর্থাৎ, সিন্ধু নদের নাম থেকেই 'ইন্ডিয়া' নামটি এসেছে।
'হিন্দুস্তান' নামের উৎস কী?
আরবি-ফারসি ভাষায় সিন্ধু নদ সংলগ্ন অঞ্চলকে 'হিন্দুস্তান' বলা হত। দশম শতকের পর থেকে এই শব্দটি ধীরে ধীরে সমগ্র ভারতকে বোঝাতে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।