বর্জ্য পদার্থ প্রশ্ন উত্তর

WBBSE Class 6 Poribesh O Biggan Chapter 12 - জৈব ভঙ্গুর-অভঙ্গুর, 4R নীতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 04 March 2026 Last Update: 02 June 2026

বর্জ্য পদার্থ

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 43 MCQ | 29 SAQ (পূর্ণ উত্তরসহ) | 6 Broad Questions

জৈব ভঙ্গুর জৈব অভঙ্গুর 4R নীতি কম্পোস্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

43 টি
1বর্জ্য পদার্থ কাকে বলে?
2জৈব ভঙ্গুর (Biodegradable) বর্জ্য কাকে বলে?
3জৈব অভঙ্গুর (Non-biodegradable) বর্জ্য কাকে বলে?
4কোনটি জৈব ভঙ্গুর বর্জ্যের উদাহরণ?
5কোনটি জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যের উদাহরণ?
64R নীতির প্রথম R (Reduce) অর্থ কী?
74R-এর দ্বিতীয় R (Refuse) অর্থ কী?
84R-এর তৃতীয় R (Reuse) অর্থ কী?
94R-এর চতুর্থ R (Recycle) অর্থ কী?
10কম্পোস্ট সার কী থেকে তৈরি হয়?
11প্লাস্টিকের ব্যাগ জৈব অভঙ্গুর কেন?
12বাতিল ব্যাটারি কী ধরনের বর্জ্য?
13গাছের পাতা ও সবজির খোসা ফেলে দিলে কী করা উচিত?
14প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কেন?
15শিশি বোতল, টিনের ক্যান— এগুলো কী ধরনের?
16বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য কী?
17কোন উৎস থেকে বর্জ্য আসে না?
18হাসপাতালের বর্জ্যকে কী বলা হয়?
19কম্পিউটারের পুরোনো যন্ত্রাংশ কোন ধরনের বর্জ্য?
20ভাঙা রেডিও, পুরোনো মোবাইল ফোন কী বর্জ্য?
21রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট ও খোসা কী ধরনের বর্জ্য?
22পুরসভার ডাস্টবিন থেকে পাওয়া যায় কোন ধরনের বর্জ্য?
23কাগজের বোর্ড বা খবরের কাগজের ঠোঙা ফেলে দিলে কী হয়?
24প্লাস্টিক পুরসভার গাড়ি নিয়ে গিয়ে কী করে?
25বর্জ্যকে মাটিতে ফেলে পুড়িয়ে দিলে কী সমস্যা হতে পারে?
26প্লাস্টিকের ঠোঙা ব্যবহার Refuse করার অর্থ কী?
27ভাঙা কাচ ও সুচ-সিরিঞ্জ বর্জ্যের আলাদা পাত্রে ফেলা হয় কেন?
28ভার্মি-কম্পোস্ট কী?
29বর্জ্য পদার্থ জমে গেলে কী কী রোগ ছড়াতে পারে?
30জমা জলে মশার লার্ভা জন্মায় কেন?
31কোন বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব?
32ল্যান্ডফিল (Landfill) কী?
33বাংলাদেশ/ভারতে প্লাস্টিক ব্যাগ কত মাইক্রনের নিচে নিষিদ্ধ?
34নর্দমার জল জমে আবর্জনা পচে কোন গ্যাস তৈরি হয়?
35নীল বা সবুজ ডাস্টবিন (Bin) কী নির্দেশ করে?
36লাল ডাস্টবিন সাধারণত কীসের জন্য?
37পরিবেশ দূষণ রোধে বর্জ্য পদার্থকে আলাদা করার নাম কী?
38প্লাস্টিকের বোতল Reuse করার উদাহরণ কী?
39মানুষের ফেলা বর্জ্য থেকে নর্দমা আটকে জল জমে কোন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে?
40অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক কী ধরনের বর্জ্য সৃষ্টি করে?
41বর্জ্য থেকে তৈরি জৈব সারকে কী বলে?
42সবুজ অভ্যাস বলতে কী বোঝায়?
43ই-বর্জ্য (E-waste) ফেলার সঠিক উপায় কী?

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পূর্ণ উত্তরসহ)

29 টি
1বর্জ্য পদার্থ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
ব্যবহারের পর যা অপ্রয়োজনীয় বা ফেলে দেওয়ার মতো, এবং যার কোনো আর্থিক মূল্য থাকে না বা নির্দিষ্ট জায়গা দখল করে ও নির্দিষ্ট ওজন থাকে, তাকে বর্জ্য পদার্থ বলে। যেমন— কলার খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, পুরোনো জামা, ভাঙা রেডিও, মাছের আঁশ ইত্যাদি।
2জৈব ভঙ্গুর (Biodegradable) ও জৈব অভঙ্গুর (Non-biodegradable) বর্জ্যের মধ্যে পার্থক্য লেখো। প্রতিটির তিনটি করে উদাহরণ দাও।
জৈব ভঙ্গুর: অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক) দ্বারা পচে সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায় ও সার তৈরি করে। উদাহরণ: সবজি-ফলের খোসা, পাতা, কাগজের ঠোঙা, চটের ব্যাগ। জৈব অভঙ্গুর: অণুজীব ভাঙতে পারে না, দীর্ঘকাল পরিবেশে অক্ষত থেকে দূষণ সৃষ্টি করে। উদাহরণ: প্লাস্টিক, পলিথিন, কাচের টুকরো, বাতিল ব্যাটারি।
34R নীতি কী? সংক্ষেপে প্রতিটি R-এর নাম ও কাজ লেখো।
4R হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সোনালি নীতি। (১) Reduce (হ্রাস করা): বর্জ্য উৎপাদন কম করা— অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটি না করা। (২) Refuse (প্রত্যাখ্যান): ক্ষতিকর জিনিস (প্লাস্টিক ব্যাগ) নিতে অস্বীকার করা। (৩) Reuse (পুনর্ব্যবহার): কোনো জিনিস বারবার ভিন্ন কাজে লাগানো— কাচের বোতলে জল রাখা, পুরোনো জামা থেকে ব্যাগ। (৪) Recycle (পুনঃচক্রায়ন): পুরোনো প্লাস্টিক/কাগজ/ধাতু গলিয়ে/প্রক্রিয়াজাত করে নতুন জিনিস তৈরি।
4কম্পোস্ট সার কীভাবে তৈরি হয়?
বাগানের পাতা, ফুল, ঘাস ও রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট (সবজি-ফলের খোসা, চা-পাতা) একটি নির্দিষ্ট গর্তে বা কম্পোস্ট বিনে স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখা হয়। কেঁচো ও অণুজীব কয়েক সপ্তাহ/মাস ধরে সেগুলোকে পচিয়ে ভেঙে পুষ্টিসমৃদ্ধ কালো মাটির মতো জৈব সার তৈরি করে। এটি গাছের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
5প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ ও প্রাণীর কী ক্ষতি করে?
(১) জৈব অভঙ্গুর— পচে না, শত শত বছর জমে থেকে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে। (২) নর্দমা ও ড্রেন আটকে জল জমিয়ে মশা ও রোগ বৃদ্ধি করে। (৩) গরু-ছাগলের মতো পশু প্লাস্টিক খেয়ে পেট ব্লক হয়ে মারা যায়। (৪) সমুদ্রে গিয়ে জলজ প্রাণী (কচ্ছপ, মাছ, ডলফিন) প্লাস্টিককে খাবার ভেবে খেয়ে মারা যায়। (৫) পোড়ালে বিষাক্ত ডাইঅক্সিন ও ফিউরান গ্যাস বায়ুতে ছেড়ে ক্যানসার সৃষ্টি করে।
6কেন আমরা প্লাস্টিকের ব্যাগ Refuse (প্রত্যাখ্যান) করব?
একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিক ব্যাগ প্রকৃতিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থেকে মাটি, জল ও বায়ুকে দূষিত করে। এটি জৈব ভঙ্গুর নয়, কোনো প্রাণী পচাতে পারে না। নর্দমা আটকে বন্যা ও রোগ ডেকে আনে। তাই নিজের কাপড়ের বা পাটের ব্যাগ নিয়ে কেনাকাটি করা ও প্লাস্টিকের ব্যাগ সম্পূর্ণ Refuse (না) বলাই সবচেয়ে ভালো সমাধান।
7বর্জ্য পদার্থের প্রধান উৎসগুলি কী কী? (অন্তত পাঁচটি)
১. গৃহস্থালি (রান্নাঘরের খোসা, প্লাস্টিক, কাগজ, কাচের বোতল)। ২. কৃষি (ফসলের অবশিষ্টাংশ, সার, কীটনাশকের পাত্র)। ৩. শিল্প/কারখানা (রাসায়নিক বর্জ্য, ধাতব স্ল্যাগ, উচ্ছিষ্ট তেল)। ৪. হাসপাতাল (বায়োমেডিকেল বর্জ্য— ব্যান্ডেজ, সিরিঞ্জ, ওষুধের শিশি)। ৫. বাণিজ্যিক (বাজার ও দোকানের প্যাকেট, পচা ফল-সবজি)। ৬. ই-বর্জ্য (পুরোনো কম্পিউটার, মোবাইল, ব্যাটারি)।
8ভেজা বর্জ্য ও শুকনো বর্জ্য কাকে বলে? কেন আলাদা করা জরুরি?
ভেজা বর্জ্য: রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট, খোসা, পাতা, খাবারের উচ্ছিষ্ট— যা জৈব ভঙ্গুর ও সহজে পচে যায়। শুকনো বর্জ্য: প্লাস্টিক, কাগজ, ধাতু, কাচ— যা জৈব অভঙ্গুর বা ধীরে ভাঙে। এগুলো আলাদা করা জরুরি, কারণ ভেজা পচনশীল বর্জ্য কম্পোস্টিং করতে আলাদা দিতে হয়, আর শুকনো রিসাইক্লিং-এর জন্য আলাদা করতে হয়। মিশে গেলে কম্পোস্টও নষ্ট, রিসাইক্লিংও অসম্ভব।
9ই-বর্জ্য (E-waste) কী? এর উদাহরণ দাও এবং কেন এটি বিপজ্জনক?
ব্যবহারের অযোগ্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিকে ই-বর্জ্য বলে। উদাহরণ: পুরোনো কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, ব্যাটারি। বিপজ্জনক কারণ: এতে সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিকের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতু থাকে— মাটি ও জলে মিশে তা মারাত্মক স্নায়বিক রোগ, কিডনি নষ্ট ও ক্যানসারের কারণ হয়। তাই ই-বর্জ্য অনুমোদিত রিসাইক্লার ছাড়া সাধারণ আবর্জনায় ফেলা উচিত নয়।
10পুরসভার ডাস্টবিন থেকে পাওয়া মিশ্র বর্জ্যের সমস্যা কী? সমাধান কী?
মিশ্র বর্জ্যে ভেজা খাদ্য-বর্জ্য, প্লাস্টিক, কাচ, ধাতু, ব্যাটারি সব একসঙ্গে থাকে। এতে ভেজা বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ, রোগজীবাণু ও মিথেন গ্যাস ছাড়ে। আবার প্লাস্টিক/cell কে পচতে দেয় না। ফলত রিসাইক্লিং অসম্ভব হয়ে পড়ে ও পুরো স্তূপ বিষাক্ত লিচেট তৈরি করে ভূগর্ভস্থ জল দূষিত করে। সমাধান: উৎসেই বর্জ্য পৃথকীকরণ— প্রতিটি বাড়িতে নীল (শুকনো) ও সবুজ (ভেজা) ডাস্টবিন ব্যবহার করা এবং পুরসভাকেও আলাদা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা।
11রান্নাঘরের বর্জ্য থেকে কী কীভাবে উপকারী জিনিস তৈরি করা যায়?
(১) কম্পোস্টিং: সবজির খোসা, চা-পাতা, ডিমের খোসা পচিয়ে জৈব সার তৈরি। (২) বায়ো-এনজাইম: লেবু/কমলার খোসা, গুড় ও জল ফার্মেন্ট করে প্রাকৃতিক ক্লিনার। (৩) পশুখাদ্য: কিছু তরকারির খোসা (লাউ, কুমড়ো) ভালো করে ধুয়ে গবাদি পশুকে খাওয়ানো যায়, অথবা শুকিয়ে গুঁড়ো করে পোলট্রি ফিড বানানো যায়। (৪) বায়োগ্যাস: অধিক পরিমাণে জমা করে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে রান্নার গ্যাস ও জৈব সার দুটোই উৎপাদন সম্ভব।
12হাসপাতালের বর্জ্য আলাদা ও বিশেষ পদ্ধতিতে নষ্ট করা হয় কেন?
হাসপাতালের বর্জ্যে (বায়োমেডিকেল ওয়েস্ট) ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, রক্তমাখা ব্যান্ডেজ, কাটা অঙ্গ, ওষুধের শিশি— এসবে HIV, হেপাটাইটিস-B, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের মতো মারণ জীবাণু থাকতে পারে। আবার সূচালো ধাতব বস্তু পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও র্যাগ-পিকারদের শরীরে বিঁধে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই নিয়মিত আবর্জনার সঙ্গে না মিশিয়ে বায়োমেডিকেল ওয়েস্ট (Mangement & Handling) বিধি অনুযায়ী নষ্ট বা পোড়ানো (Incineration) বা অটোক্লেভ করে জীবাণুমুক্ত করতে হয়।
13বর্জ্য জ্বালিয়ে দিলে কী কী ক্ষতি হয়?
খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ালে: (১) বিষাক্ত ধোঁয়া (কার্বন মনোক্সাইড, ডাইঅক্সিন, ফিউরান) বায়ু দূষিত করে ও শ্বাসকষ্ট-ক্যানসার ঘটায়। (২) প্লাস্টিক পুড়ে গলিত বিষ তরল মাটি ও জলে মেশে। (৩) আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে দাবানল হতে পারে। (৪) বর্জ্যের মূল্যবান পুনঃচক্রায়নযোগ্য উপাদান (কাগজ, ধাতু) সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। তাই বিজ্ঞানসম্মত উপায় ইনসিনারেটর (দূষণ নিয়ন্ত্রণ-সহ) বা ল্যান্ডফিল/কম্পোস্টিং।
14বায়োগ্যাস কী? এটি কীভাবে তৈরি হয় ও পরিবেশ-বান্ধব কেন?
বায়োগ্যাস হলো প্রধানত মিথেন (CH₄) ও কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)-এর মিশ্রণ, যা জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য (গোবর, খাদ্যের উচ্ছিষ্ট) বদ্ধ ডাইজেস্টারে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পচিয়ে তৈরি হয়। এটি জ্বালানি হিসেবে রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হয়। পরিবেশ-বান্ধব কারণ: (১) বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার হয়, (২) জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প, (৩) অবশিষ্ট স্লারি উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে কাজ করে।
15পৃথকীকরণ (Segregation) বলতে কী বোঝ? কেন জরুরি?
বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য (ভেজা/জৈব ভঙ্গুর, শুকনো/প্লাস্টিক-কাগজ-কাচ, বিপজ্জনক/সিরিঞ্জ-ব্যাটারি) উৎসস্থলেই আলাদা আলাদা পাত্রে ফেলাকে বর্জ্য পৃথকীকরণ বলে। প্রয়োজনীয়তা: ভেজা বর্জ্য নিরাপদে কম্পোস্ট সার হয়, শুকনো পুনঃচক্রায়িত হয়ে সম্পদ আহরণ করে, বিপজ্জনক বর্জ্য দূষণ ও দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে না। পৃথকীকরণ না করলে সব মিশে বর্জ্য দুর্বিষহ পরিবেশগত সংকট তৈরি করে ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অসীম বাড়িয়ে দেয়।
16জমা জলে মশা জন্মানোর সঙ্গে বর্জ্যের সম্পর্ক কী?
আমাদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের কাপ, ডাবের খোলা, টায়ার, ভাঙা বোতল, বালতি বা নারকেলের মালায় বৃষ্টির জল জমে থাকে। এই স্বচ্ছ স্থির জলেই ডেঙ্গির বাহক ইডিস মশা ও ম্যালেরিয়ার অ্যানোফিলিস মশা ডিম পাড়ে ও লার্ভা বড়ো হয়। বর্জ্য ফেলে না রেখে, নিয়মিত জমা জল ফেলে/ঢেকে রাখলে মশার বংশবিস্তার রোধ করা যায়।
17বর্জ্য পদার্থ পোড়ানো বা ফেলার চেয়ে পুনর্ব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নের সুবিধাগুলি কী কী?
(১) প্রাকৃতিক সম্পদ সাশ্রয় (কম গাছ কাটা, কম খনিজ উত্তোলন)। (২) শক্তি সাশ্রয়— নতুন তৈরি করতে যত শক্তি লাগে, পুনঃচক্রায়নে তার ভগ্নাংশ লাগে। (৩) বর্জ্যের পরিমাণ কমে, ল্যান্ডফিলের জায়গা ও চাপ কমে। (৪) দূষণ হ্রাস পায়— বায়ু, জল ও মাটি কম বিষাক্ত হয়। (৫) অর্থনৈতিক লাভ— রিসাইক্লিং শিল্পে কর্মসংস্থান হয় ও কাঁচামালের আমদানি কমে।
18ল্যান্ডফিল (Landfill) কী? একটি আদর্শ স্যানিটারি ল্যান্ডফিলের বৈশিষ্ট্য কী কী?
ল্যান্ডফিল হলো বিজ্ঞানসম্মতভাবে নির্ধারিত স্থানে স্তরে স্তরে কঠিন বর্জ্য ফেলে মাটি চাপা দেওয়ার পদ্ধতি। আদর্শ স্যানিটারি ল্যান্ডফিলের বৈশিষ্ট্য: (১) নিচে পুরু পলিথিন লাইনার থাকে যাতে বিষাক্ত লিচেট ভূগর্ভস্থ জলে না মেশে। (২) লিচেট সংগ্রহের পাইপ ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থাকে। (৩) পচনে উৎপন্ন মিথেন গ্যাস সংগ্রহের পাইপ ও ফ্লেয়ার/জেনারেটর থাকে। (৪) স্তরে স্তরে মাটি চাপা দিয়ে বায়ুরোধক করা হয়। (৫) নির্দিষ্ট পরিমাণ পূর্ণ হলে উপরে মাটি-ঘাস-গাছ দিয়ে বাগান/পার্কে রূপান্তর করা হয়।
19প্রাত্যহিক জীবনে 'Reduce'-এর দুইটি বাস্তব উদাহরণ দাও।
(১) ই-মেইল/ডিজিটাল বিল ব্যবহার করে কাগজের ব্যবহার কমানো; খসড়া কাগজের দু-পিঠে লেখা। (২) রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করে একবার ব্যবহার্য ব্যাটারির বর্জ্য কমানো। (৩) একবারে বাজার করে বারবার গাড়ি/প্লাস্টিক প্যাকেট ব্যবহার না করা। (৪) টিফিনে কম খাবার নিয়ে উচ্ছিষ্ট কমানো।
20একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তুমি কী ভূমিকা নিতে পারো? (পাঁচটি কাজ)
(১) স্কুল ও বাড়িতে ভেজা ও শুকনো বর্জ্য আলাদা ডাস্টবিনে ফেলা। (২) প্লাস্টিকের জল বোতল না কিনে নিজস্ব ধাতব/কাচের বোতল ব্যবহার করা। (৩) টিফিনে প্লাস্টিক প্যাকেট নয়, স্টিল/কাচের পাত্র ব্যবহার করা। (৪) বন্ধু ও পরিবারকে 4R নীতি সম্পর্কে সচেতন করা। (৫) পুরোনো বই-খাতা, খেলনা রিসাইক্লিং বা দান করা। (৬) স্কুলে কম্পোস্ট পিট ও বাগানের পরিচর্যায় অংশ নেওয়া।
21বর্জ্য পদার্থকে সম্পদ বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
আধুনিক বিজ্ঞানে বর্জ্যকে 'ভুল জায়গায় রাখা সম্পদ' বলা হয়। কারণ— (১) ভেজা বর্জ্য পচিয়ে উৎকৃষ্ট জৈব কম্পোস্ট ও বায়োগ্যাস পাওয়া যায়। (২) শুকনো ধাতু, কাগজ, প্লাস্টিক পুনঃচক্রায়ন করে নতুন কাঁচামাল ও পণ্য তৈরি হয়। (৩) বর্জ্য থেকে ইট, কাগজের পাল্প, জ্বালানি পেলেট তৈরি করা যায়। (৪) ই-বর্জ্য থেকে সোনা, রুপা, তামার মতো মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার হয়। ফলে আবর্জনা নয়— সঠিক প্রযুক্তিতে এর বিপুল অর্থনৈতিক মূল্য আছে।
22ভার্মি-কম্পোস্টিং (Vermicomposting) কী? এর উপকারিতা কী?
ভার্মি-কম্পোস্টিং হলো বিশেষ প্রজাতির কেঁচোর (Eisenia fetida) সাহায্যে জৈব বর্জ্য (সবজির খোসা, পাতা, গোবর) দ্রুত পচিয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ জৈব সার তৈরি করার পদ্ধতি। কেঁচো বর্জ্য খেয়ে দানাদার কাস্টিংস (ভার্মি-কম্পোস্ট) ত্যাগ করে। উপকারিতা: (১) সাধারণ কম্পোস্টের চেয়ে অধিক পুষ্টিগুণ (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ) ও উপকারী অণুজীব সমৃদ্ধ। (২) গন্ধহীন ও দ্রুত প্রক্রিয়া। (৩) মাটির জলধারণ ক্ষমতা ও গঠন উন্নত করে। (৪) রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কমায়।
23রিফিউজ ডেরাইভ্ড ফুয়েল (RDF) কী?
দাহ্য বর্জ্যের (প্লাস্টিক, কাগজ, কাঠ, টেক্সটাইল) অ-পুনঃচক্রায়নযোগ্য ও উচ্চ ক্যালোরিফিক মানের অংশ প্রক্রিয়াজাত করে ছোটো ছোটো টুকরো বা পেলেট আকারে তৈরি জ্বালানিকেই RDF বা Refuse Derived Fuel (বর্জ্য থেকে প্রাপ্ত জ্বালানি) বলে। এটি সিমেন্ট কিল্ন বা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। এর ফলে ল্যান্ডফিলে জমা বর্জ্যের পরিমাণ যেমন কমে, তেমনই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও কমে।
24পাট ও কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারের পরিবেশগত সুবিধাগুলি কী কী?
(১) পাট ও কাপড় সম্পূর্ণ জৈব ভঙ্গুর— ফেলে দিলে কিছুদিনের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে অপচনশীল বর্জ্য সৃষ্টি করে না। (২) ধুয়ে বহুবার ব্যবহার করা যায় (Reuse), ফলে প্লাস্টিক ব্যাগের একক ব্যবহারের প্রয়োজন ফুরোয়। (৩) প্লাস্টিক পোড়ালে ডাইঅক্সিন গ্যাস নির্গত হয়— পাট/কাপড় পোড়ালে তেমন বিষাক্ত গ্যাস হয় না। (৪) পাট চাষে কার্বন শোষিত হয় এবং কৃষকের আয় হয়— অর্থাৎ পুরো জীবনচক্র জুড়েই এটি পরিবেশ-বান্ধব।
25আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে বর্জ্য নিয়মিত অপসারণ যেমন জরুরি, পরিবেশের জন্যও তেমন জরুরি— ব্যাখ্যা করো।
শরীর থেকে মলমূত্র নিয়মিত বার না করলে দেহ বিষাক্ত হয়ে অসুস্থ হয়। তেমনি আমাদের গৃহ, গ্রাম, শহর থেকে বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার ও প্রক্রিয়াজাত না করা হলে পরিবেশ 'অসুস্থ' হয়ে পড়ে। জমা আবর্জনা থেকে রোগজীবাণু, ইঁদুর-আরশোলা, দুর্গন্ধ, বায়ুতে বিষাক্ত গ্যাস ও জলে লিচেট সমগ্র বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই সুস্থ জীবনের জন্য সুস্থ পরিবেশ চাই, আর তার প্রথম শর্ত হলো বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
26জলাভূমি ও নদীতে কঠিন বর্জ্য ফেলার ক্ষতিকর প্রভাব কী কী?
(১) জল দূষিত হয়— জলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গিয়ে মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। (২) প্লাস্টিক ও টায়ার জলজ প্রাণীর পাকস্থলীতে গিয়ে মৃত্যু ডেকে আনে। (৩) নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, পলি জমে নাব্যতা কমে ও বন্যা হয়। (৪) জলে বিষাক্ত রাসায়নিক (ব্যাটারি, রং, তেল) মিশে পানীয় জলের উৎস ধ্বংস করে ও ত্বকের ক্যানসার ঘটায়। (৫) পর্যটন ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা বিপন্ন হয়।
27স্কুলের বর্জ্য পৃথকীকরণ কর্মসূচি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়?
(১) শ্রেণিকক্ষ ও ক্যান্টিনে জোড়া ডাস্টবিন (সবুজ-ভেজা, নীল-শুকনো) রাখা। (২) শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে প্রতিদিনের জমা বর্জ্যের ওজন ও ধরন রেকর্ড করা। (৩) জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য স্কুলের বাগানে কম্পোস্টিং পিটে ফেলা। (৪) প্লাস্টিক-কাগজ-ধাতু অনুমোদিত রিসাইক্লিং এজেন্সিতে পাঠানো— বিক্রয়লব্ধ অর্থ ইকো-ক্লাব ফান্ডে জমা রাখা। (৫) পোস্টার, স্লোগান ও কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ছাত্রসমাজকে সচেতন করে 'জিরো ওয়েস্ট স্কুল'-এর ধারণা জনপ্রিয় করা।
28একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (Single-Use Plastic) কাকে বলে? কেন এটি নিষিদ্ধ করা উচিত?
যে প্লাস্টিক পণ্য মাত্র একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়া হয়— যেমন স্ট্র, প্লাস্টিকের কাপ-প্লেট, পলিথিন ক্যারি ব্যাগ, চিপস-চকোলেটের র্যাপার— তাদের একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বলে। এটি নিষিদ্ধ করা উচিত কারণ: (১) এগুলি অনির্বাচিতভাবে যেখানে-সেখানে ফেলা হয়, সহজে সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং করা কঠিন। (২) আকারে ছোটো ও হালকা হওয়ায় নর্দমায় গিয়ে বড়ো শহরের জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। (৩) মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি দিয়ে তৈরি, উৎপাদন থেকে নিষ্কাশন সর্বত্রই কার্বন ফুটপ্রিন্ট অত্যন্ত বেশি। এর বিকল্প কাগজ, বাঁশ, শালপাতা, কাঠ, ধাতু ও পাটের সামগ্রী ব্যবহারকে উৎসাহিত করা উচিত।
29দৈনন্দিন জীবনের বর্জ্যকে কীভাবে আমরা 'সোনার খনি'তে পরিণত করতে পারি? (কয়েকটি উদাহরণসহ)
সৃজনশীল চিন্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বর্জ্যই সম্পদ: (১) রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট → কম্পোস্ট বা বায়োগ্যাস। (২) পুরোনো সংবাদপত্র ও কাগজ → পুনঃচক্রায়নে নতুন কাগজ, কাগজের ব্যাগ, পেন্সিল, ফাইল কভার। (৩) প্লাস্টিকের বোতল → ভার্টিক্যাল গার্ডেন, ঝাড়বাতি, বা পুনঃচক্রায়নে পলিয়েস্টার ফাইবার (জ্যাকেট)। (৪) পুরোনো গাড়ির টায়ার → খেলার মাঠের সুইং, ফুলের টব, রাস্তার ডিভাইডার। (৫) ই-বর্জ্যে থাকা সার্কিট বোর্ড → শহুরে খনন (Urban Mining) করে সোনা, রুপা, প্লাটিনাম, প্যালাডিয়াম উত্তোলন। সঠিকভাবে পৃথক ও প্রক্রিয়াজাত করলে বর্জ্য বিন থেকে ট্রেজার চেস্ট তৈরি হয়!

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর

6 টি
1জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য কাকে বলে? প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ ও পরিবেশের ওপর প্রভাব বিস্তারিতভাবে লেখো। 4R নীতি কীভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করে?
Hint: জৈব ভঙ্গুর: অণুজীব পচিয়ে মাটিতে মেশে— পাতা, খাবার উচ্ছিষ্ট, কাগজ। প্রভাব: সার তৈরি, কিন্তু বেশি জমলে পচে মিথেন গ্যাস ও দুর্গন্ধ। জৈব অভঙ্গুর: পচে না— প্লাস্টিক, কাচ, ব্যাটারি। প্রভাব: শতাব্দী ধরে মাটি-জল দূষিত, পশু মৃত্যু, নর্দমা বন্ধ। 4R: Reduce (কম কেনা, কম বর্জ্য), Refuse (প্লাস্টিক ব্যাগ না নেওয়া), Reuse (কাচের বোতল, কাপড়ের ব্যাগ), Recycle (প্লাস্টিক গলিয়ে দানা করা, কাগজের পাল্প)— উৎসেই সমস্যা কমানোই লক্ষ্য।
2বিভিন্ন উৎস থেকে নির্গত বর্জ্যের ধরন ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো। 'বর্জ্য পৃথকীকরণ' (Segregation) না করলে কী কী পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি হয়?
Hint: উৎস: গৃহস্থালি (ভেজা-শুকনো মিশ্র), কৃষি (রাসায়নিক পাত্র, ফসলের অবশিষ্ট), শিল্প (রাসায়নিক গুড়ো, ধাতু), হাসপাতাল (সংক্রামক সিরিঞ্জ-ব্যান্ডেজ, তেজস্ক্রিয়), ই-বর্জ্য (কম্পিউটার, মোবাইল)। পৃথকীকরণ না হলে: ভেজা বর্জ্য পচে লিচেটে ভূগর্ভস্থ জল দূষিত; ব্যাটারি/পারদ ইত্যাদি ভারী ধাতু মাটি ও জলে বিষক্রিয়া ছড়ায়; সংক্রামক বর্জ্য মহামারি ঘটাতে পারে; ই-বর্জ্য পোড়ালে ডাইঅক্সিন নির্গত হয়; রিসাইক্লিং অসম্ভব হয়ে মিশ্র আবর্জনা ল্যান্ডফিলের আয়ু কমিয়ে ফেলে।
3বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি (কম্পোস্টিং, বায়োগ্যাস, ল্যান্ডফিল, ইনসিনারেশন) আলোচনা করো। প্রতিটি পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো।
Hint: (১) কম্পোস্টিং/ভার্মিকম্পোস্টিং: ভেজা বর্জ্যের শ্রেষ্ঠ সমাধান— সার পাওয়া, কিন্তু প্লাস্টিক/বিপজ্জনক বর্জ্য মেশালে গুণগত মান ও দাম কমে। (২) বায়োগ্যাস: অ্যানারোবিক ডাইজেস্টারে গোবর/খাদ্যবর্জ্য পচিয়ে মিথেন গ্যাস (রান্না) ও স্লারি (সার), কিন্তু বিনিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। (৩) স্যানিটারি ল্যান্ডফিল: লাইনার দিয়ে বিষাক্ত লিচেট নিয়ন্ত্রণ, মিথেন সংগ্রহ; কিন্তু জমির অপ্রতুলতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া সাধারণ ডাম্পিং সাইটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা। (৪) ইনসিনারেশন (Waste-to-Energy): উচ্চ তাপে পুড়িয়ে আয়তন ৯০% কমে ও বিদ্যুৎ উৎপাদন; কিন্তু দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (স্ক্রাবার, ESP) না থাকলে ডাইঅক্সিন/ফিউরান বাতাসে ছড়ায় ও ছাই বিষাক্ত থেকে যায়।
4প্লাস্টিক দূষণ বর্তমান বিশ্বের এক ভয়াবহ সমস্যা। প্লাস্টিক বর্জ্যের উৎস, প্রভাব এবং তা সমাধানে তুমি কী কী ব্যক্তিগত ও সামাজিক পদক্ষেপ নিতে পারো?
Hint: উৎস: একবার ব্যবহার্য (স্ট্র, কাপ, প্যাকেট), শপিং ব্যাগ, মাইক্রোপ্লাস্টিক (প্রসাধনী), সিন্থেটিক কাপড়। প্রভাব: (১) মহাসাগরে ভাসমান দ্বীপ তৈরি, জলজ প্রাণীর পেটে জমে মৃত্যু। (২) মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যশৃঙ্খলে ঢুকে মানবদেহের রক্ত ও প্লাসেন্টায় সনাক্ত। (৩) নিকাশি নালা ব্লক করে শহর জলমগ্ন। (৪) পোড়ালে কার্সিনোজেনিক গ্যাস। সমাধান: ব্যক্তিগত— নিজের ব্যাগ/বোতল বহন, প্লাস্টিক প্যাকেজিং না কেনা, স্ট্র ব্যবহারে 'না' বলা। সামাজিক— স্কুল-কলেজে প্লাস্টিক-মুক্ত জোন ঘোষণা, প্লাস্টিক রোড নির্মাণে উৎসাহ, জরিমানা ও নিষিদ্ধকরণ আইন মান্য করা, পাট ও বাঁশের বিকল্প শিল্পে ভর্তুকি ও ক্রয়।
5একটি 'শূন্য-বর্জ্য অভিযান' (Zero Waste Campaign) তুমি যদি তোমার স্কুলে চালাতে চাও, তাহলে তার একটি রূপরেখা তৈরি করো। কী কী ধাপে, কীভাবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশীদার করে প্রতিদিনের বর্জ্য শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনবে?
Hint: (১) বর্জ্য নিরীক্ষণ (Waste Audit): এক সপ্তাহ স্কুলের সব বর্জ্যের ওজন ও প্রকারভেদ মাপা হবে। (২) অবকাঠামো: প্রতিটি করিডোর ও শ্রেণিকক্ষে তিনটি স্পষ্ট রঙের বিন (সবুজ-ভেজা, নীল-শুকনো রিসাইক্লেবল, লাল-বিপজ্জনক/ব্যাটারি/সিরিঞ্জ) স্থাপন। (৩) সচেতনতা: অ্যাসেম্বলিতে নাটক/কুইজ, ওয়াল পোস্টার, 'বেস্ট জিরো ওয়েস্ট ক্লাস' প্রতিযোগিতা। (৪) কম্পোস্টিং ইউনিট: স্কুলের মাঠের কোণে কেঁচোর কম্পোস্ট পিট; মধ্যাহ্নভোজের উচ্ছিষ্ট ও উঠোনের পাতা সেখানে ফেলা। (৫) রিসাইক্লিং পার্টনার: স্থানীয় অনুমোদিত রিসাইক্লারকে নিয়মিত ড্রাই ক্লিন পেপার-প্লাস্টিক-ধাতু বিক্রি। তোলা টাকা ইকো-ক্লাব ফান্ডে জমা। (৬) অভিভাবক সভায় প্লাস্টিকমুক্ত টিফিন, ব্যবহৃত নোটবুকের দু-পিঠ ব্যবহার ও পুরোনো পাঠ্যবই দানের মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন। লক্ষ্য: ৬ মাসে স্কুলের ল্যান্ডফিলগামী বর্জ্য ৮০% কমানো।
6বর্জ্য দূষণের কারণে সৃষ্ট রোগব্যাধি ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব আলোচনা করো। পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা কীভাবে একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সহায়তা করে?
Hint: রোগ-ব্যাধি: (১) জমা আবর্জনা ও স্থির জলে মশার প্রজনন → ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া। (২) নোংরা আবর্জনায় মাছি ও ইঁদুর → কলেরা, টাইফয়েড, প্লেগ। (৩) বিষাক্ত ই-বর্জ্যের ভারী ধাতু (সিসা, পারদ) → স্নায়বিক বৈকল্য, কিডনি ফেলিওর। (৪) প্লাস্টিক পোড়ানোর ধোঁয়া → শ্বাসকষ্ট, COPD, ক্যানসার। পরিচ্ছন্নতা অভিযান: নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেন সংস্কার, বর্জ্য পৃথকীকরণ, টিকাদান, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যশিক্ষার মাধ্যমে সব বয়সী নাগরিককে সম্পৃক্ত করলে রোগের বীজাণুচক্র ভাঙে, শিশুমৃত্যু কমে, উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং জাতীয় স্বাস্থ্যব্যয় সাশ্রয় হয়।

মনে রেখো!

তুমি যে প্লাস্টিকের বোতলটি ফেলে দিচ্ছো, তা ৪৫০ বছর ধরে পরিবেশে থাকবে! কিন্তু তুমি যদি 4R নীতি মেনে চলো— Reduce, Refuse, Reuse, Recycle— তাহলে তুমিই হতে পারো এক জন সুপারহিরো যে পৃথিবীকে বাঁচাচ্ছে!

PDF ডাউনলোড

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।

PDF ডাউনলোড (শীঘ্রই)
Sponsored Links

বর্জ্য পদার্থ - সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Science Tips-এ স্বাগত! Class 6 Poribesh O Biggan-এর দ্বাদশ অধ্যায় "বর্জ্য পদার্থ"-র পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নোত্তর। জৈব ভঙ্গুর ও অভঙ্গুর বর্জ্য, 4R নীতি (Reduce, Refuse, Reuse, Recycle), কম্পোস্টিং, বর্জ্য পৃথকীকরণ ও বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। প্রতিটি SAQ-এর বিস্তারিত পূর্ণ উত্তরসহ।

Frequently Asked Questions

4R হল Reduce (কমানো), Refuse (প্রত্যাখ্যান করা), Reuse (পুনর্ব্যবহার), Recycle (পুনঃচক্রায়ন)। Reduce: কম কিনলে বর্জ্য কম। Refuse: প্লাস্টিকের ব্যাগ/স্ট্র' না নিলে বর্জ্য আসেই না। Reuse: কাচের বোতল বারবার ব্যবহার করলে নতুন কেনা ও ফেলা কমে। Recycle: পুরোনো প্লাস্টিক/কাগজ গলিয়ে নতুন পণ্য বানালে কাঁচামাল বাঁচে ও ল্যান্ডফিলের চাপ কমে। এটি অনুসরণ করলে ব্যক্তিগত ও সামাজিক বর্জ্যের পরিমাণ ৮০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

জৈব ভঙ্গুর: পাতা, খাদ্যাবশেষ, কাগজ— অণুজীব দ্বারা পচে সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে সার তৈরি করে। জৈব অভঙ্গুর: প্লাস্টিক, কাচ, ব্যাটারি— অণুজীব পচাতে পারে না, দীর্ঘদিন থেকে দূষণ সৃষ্টি করে। জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য কম্পোস্ট তৈরিতে ব্যবহার হয়, কিন্তু জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য পুনঃচক্রায়ন বা বৈজ্ঞানিক নিষ্কাশন (ল্যান্ডফিল) করতে হয়।

ই-বর্জ্যে (মোবাইল, কম্পিউটার, ব্যাটারি) সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিকের মতো বিষাক্ত ভারী ধাতু থাকে— সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে ফেললে বা পোড়ালে তা মাটি, জল ও বায়ুতে মিশে ক্যানসার, কিডনি-লিভার নষ্ট ও স্নায়বিক রোগ ঘটায়। সঠিক উপায়: অনুমোদিত ই-বর্জ্য সংগ্রহকারী বা রিসাইক্লিং সেন্টারে জমা দিতে হবে, যেখানে পরিবেশগত নিয়ম মেনে ধাতু পুনরুদ্ধার ও বিষাক্ত অংশের নিরাপদ নিষ্কাশন হয়।