1হৃৎপিণ্ড বুকের কোন দিকে অবস্থিত?
2হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ ও সংকোচনকে একসঙ্গে কী বলে?
3প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন মিনিটে কত বার?
4হৃৎপিণ্ডের ওপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে কী বলা হয়?
5হৃৎপিণ্ডের নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে কী বলা হয়?
6সবচেয়ে বড়ো ও শক্তিশালী প্রকোষ্ঠ কোনটি?
7ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে হৃৎপিণ্ডের কোন প্রকোষ্ঠে আসে?
8শরীর থেকে আসা CO₂-সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে কোথায় জমা হয়?
10রক্তের জলীয় অংশকে কী বলে?
11ফুসফুস থেকে অক্সিজেন বহন করে কোনটি?
12শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী সৈন্য বলা হয় কাদের?
13রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে কোনটি?
14কোন হাড় বুকের মাঝখানে থাকে?
15প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে মোট কতটি হাড় আছে?
16করোটি ও মেরুদণ্ড কোন কঙ্কালের অংশ?
17হাত-পায়ের হাড় কোন কঙ্কালের অংশ?
18দুটি হাড়ের সংযোগস্থলকে কী বলে?
19কাঁধ ও কোমরে কোন ধরনের অস্থিসন্ধি দেখা যায়?
20হাঁটু ও কনুইতে কোন ধরনের অস্থিসন্ধি আছে?
21মেরুদণ্ডের প্রথম দুই কশেরুকার মধ্যে কোন সন্ধির জন্য মাথা ঘোরানো যায়?
22বৃদ্ধাঙ্গুলে কোন বিশেষ ধরনের সন্ধি আছে?
23হাড়ের আঘাতজনিত সমস্যা কোনটি?
24হাতের কবজিতে কোন অস্থিসন্ধির কথা বলা হয়েছে?
27অন্ত্রীয় পেশি কোথায় দেখা যায়?
28পেশির সমস্যার উদাহরণ কোনটি?
29তিন বছর বয়সে মাথা ও দেহকাণ্ডের অনুপাত কেমন?
30কোন বয়সে মাথা ও হাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়?
31বয়স বাড়ার সঙ্গে অঙ্গের অনুপাতে কী পরিবর্তন হয়?
32জাইগ্যান্টিজম (Gigantism) রোগটি কীসের জন্য হয়?
33বামনত্ব (Dwarfism) কেন হয়?
34স্থূলতা বা ওবেসিটি (Obesity) কী?
35দেহভর সূচক (BMI) বের করার সূত্র কী?
36স্বাভাবিক BMI-র পরিসর কত?
37BMI 30-এর বেশি হলে কী অবস্থা বোঝায়?
38হৃৎপিণ্ডের ডান ও বাম অংশের মধ্যে কী থাকে?
39সাইনোভিয়াল তরল কোথায় থাকে?
40ক্যালসিয়ামের অভাবে কী সমস্যা হয়?
41পিঠের মাঝ বরাবর লম্বা হাড়কে কী বলে?
42স্ট্রেপ্টোমাইসিন কোন রোগের ওষুধ?
43চোখের কোনায় পিঁচুটি কেন হয়?
44Femur হাড়টি শরীরের কোথায় থাকে?
45শিশুদের হাড়ের সংখ্যা বড়োদের চেয়ে বেশি কেন?
46রক্তে অক্সিজেন পরিবহণের মূল উপাদান কোনটি?
47মহাধমনি (Aorta) কোন নিলয় থেকে রক্ত বহন করে?
49কোন ভিটামিনের অভাবে রাতকানা রোগ হয়?
50হৃৎপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণ কারা নিয়ন্ত্রণ করে?
1হৃৎস্পন্দন কাকে বলে? প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন কত?
হৃৎপিণ্ড একবার প্রসারিত ও একবার সংকুচিত হওয়াকে একত্রে হৃৎস্পন্দন বলে। প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন মিনিটে ৭২-৮০ বার।
2হৃৎপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠের নাম লেখো।
হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ আছে— ওপরের দুটি ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atria), এবং নিচের দুটি ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricles)। এরা প্রাচীর (Septum) দিয়ে ডান-বামে বিভক্ত।
3বাম নিলয় হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রকোষ্ঠ কেন?
বাম নিলয় সমস্ত দেহে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পাম্প করে পাঠায় (মহাধমনির মাধ্যমে)। পুরো শরীরের প্রতিরোধ অতিক্রম করে রক্ত সঞ্চালন করতে এর প্রাচীর সবচেয়ে পুরু ও পেশি সবচেয়ে শক্তিশালী।
4হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনের পথ সংক্ষেপে লেখো (ডান অংশ ও বাম অংশ)।
সারা শরীর থেকে অশুদ্ধ রক্ত (CO₂যুক্ত) → ডান অলিন্দ → ডান নিলয় → ফুসফুসীয় ধমনি → ফুসফুস (শোধন) → শুদ্ধ রক্ত (O₂যুক্ত) → ফুসফুসীয় শিরা → বাম অলিন্দ → বাম নিলয় → মহাধমনি → সারা শরীর।
5নাড়ি (Pulse) কী এবং কোথায় সহজে অনুভব করা যায়?
হৃৎপিণ্ডের সংকোচনে ধমনির ভেতর রক্তপ্রবাহের যে তরঙ্গ তৈরি হয়, তাকে নাড়ি বলে। কবজির ভেতরের দিকে (বৃদ্ধাঙ্গুলের নিচে), গলার পাশে, কানের সামনে ইত্যাদি জায়গায় আঙুল দিয়ে নাড়ির স্পন্দন অনুভব করা যায়।
6রক্তের প্রধান চারটি উপাদানের নাম ও কাজ লেখো।
১. প্লাজমা/রক্তরস (জলীয় অংশ): পুষ্টি ও বর্জ্য বহন, অ্যান্টিবডি বহন। ২. লোহিত রক্তকণিকা (RBC): অক্সিজেন পরিবহণ। ৩. শ্বেত রক্তকণিকা (WBC): রোগজীবাণু ধ্বংস ও প্রতিরোধ। ৪. অণুচক্রিকা (Platelets): রক্ত জমাট বাঁধিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা।
7শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের 'সৈন্য' বলা হয় কেন?
শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান সৈন্য। এরা বাইরের রোগজীবাণু (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস) শরীরে ঢুকলে তাদের ঘিরে ধরে ধ্বংস করে (ফ্যাগোসাইটোসিস)। এছাড়া অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণু নিষ্ক্রিয় করে।
8অস্থিসন্ধি (Joint) কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?
দুটি বা ততোধিক হাড়ের সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে। এটি প্রধানত তিন প্রকার: (১) অচল সন্ধি (করোটির হাড়), (২) ঈষৎ চল সন্ধি (মেরুদণ্ডের কশেরুকা), (৩) চল সন্ধি (কাঁধ, কনুই, হাঁটু)।
9বল ও সকেট সন্ধি (Ball & Socket) কোথায় থাকে? এর সুবিধা কী?
কাঁধ (Scapula-Humerus) ও কোমরে (Pelvis-Femur) বল ও সকেট সন্ধি থাকে। এতে গোলাকার হাড়ের মাথা পেয়ালার মতো গর্তে বসে। এর ফলে ৩৬০° ঘূর্ণন সম্ভব— হাত-পা সবদিকে নাড়ানো যায়। এটি দেহের সবচেয়ে মুক্ত চলনক্ষম সন্ধি।
10কব্জা সন্ধি (Hinge Joint) কী? উদাহরণ দাও।
দরজার কব্জার মতো যে সন্ধিতে শুধু একদিকে (সামনে-পিছনে) নড়াচড়া সম্ভব, তাকে কব্জা সন্ধি বলে। যেমন: কনুই (Elbow) ও হাঁটু (Knee)। এতে ১৮০°-র বেশি খোলা বা ভাঁজ করা যায় না।
11পিভট সন্ধি (Pivot Joint) কোথায় থাকে? এর কাজ কী?
মেরুদণ্ডের প্রথম (অ্যাটলাস) ও দ্বিতীয় (অ্যাক্সিস) কশেরুকার মধ্যে পিভট সন্ধি থাকে। দ্বিতীয় কশেরুকার 'ওডন্টয়েড প্রসেস' বা দন্তাকার অংশকে ঘিরে প্রথম কশেরুকা ঘোরে। এর ফলে মাথা ডানে-বাঁয়ে সহজে ঘোরানো যায়।
12অক্ষীয় কঙ্কাল ও উপাঙ্গী কঙ্কাল কী? অংশগুলি লেখো।
অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial Skeleton): দেহের মধ্যঅক্ষের হাড়— করোটি, মেরুদণ্ড, বক্ষাস্থি ও পাঁজর (বক্ষপিঞ্জর)। উপাঙ্গী কঙ্কাল (Appendicular Skeleton): হাত-পা ও কাঁধ/কোমরের গার্ডল (Pectoral & Pelvic Girdle)।
13ফ্র্যাকচার (Fracture) কাকে বলে? প্রাথমিক চিকিৎসা কী?
প্রবল আঘাতে বা চাপে হাড় ভেঙে যাওয়া বা ফেটে যাওয়াকে ফ্র্যাকচার বা অস্থিভঙ্গ বলে। প্রাথমিক চিকিৎসা: আক্রান্ত অংশ নড়াচড়া না করিয়ে স্প্লিন্ট বা কাঠি দিয়ে অচল করে রাখা, বরফ দেওয়া (ফোলা কমাতে) এবং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া।
14ঐচ্ছিক পেশি, অনৈচ্ছিক পেশি ও হৃৎপেশির পার্থক্য লেখো।
১. ঐচ্ছিক পেশি: ইচ্ছা করে নাড়ানো যায় (হাত-পা), দ্রুত ক্লান্ত হয়, হাড়ের সঙ্গে যুক্ত। ২. অনৈচ্ছিক পেশি: ইচ্ছাধীন নয়, আপনা-আপনি চলে (পাকস্থলী, শ্বাসনালী), ধীরে ক্লান্ত হয়। ৩. হৃৎপেশি: শুধু হৃৎপিণ্ডে থাকে, ছন্দবদ্ধ, অনৈচ্ছিক, সারা জীবন ক্লান্তিহীনভাবে সংকোচন-প্রসারণ চালায়।
15শৈশবে মাথা ও হাত-পায়ের অনুপাত কেমন থাকে? বয়স বাড়ার সঙ্গে কী পরিবর্তন হয়?
শিশুকালে (৩ বছর) মাথা দেহের তুলনায় বড়ো এবং হাত-পা অপেক্ষাকৃত ছোটো। দেহকাণ্ড বড়ো, পা ছোটো। বয়স বাড়ার সঙ্গে (৬-১২ বছর) অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বৃদ্ধির হার বদলায়— হাত-পা লম্বা হয়, দেহকাণ্ড আনুপাতিকভাবে ছোটো হয় ও মাথার তুলনামূলক আকার কমে প্রাপ্তবয়স্ক অনুপাত পায়।
16জাইগ্যান্টিজম (Gigantism) রোগের কারণ ও লক্ষণ কী?
কারণ: পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে গ্রোথ হরমোন অতিরিক্ত ক্ষরণ। লক্ষণ: অস্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধি, অত্যধিক উচ্চতা, হাত-পা ও মুখমণ্ডলের হাড় অস্বাভাবিক লম্বা হয়। শৈশবে শুরু হলে আক্রান্ত ব্যক্তি ৭-৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারেন।
17বামনত্ব (Dwarfism) কী কারণে হয়?
পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে গ্রোথ হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বামনত্ব দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির উচ্চতা বয়সের তুলনায় অনেক কম হয়, তবে বুদ্ধি ও শারীরিক অনুপাত স্বাভাবিক থাকতে পারে।
18স্থূলতা (Obesity) কী এবং এর ক্ষতিকর দিকগুলি কী?
দেহে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত চর্বি জমা হলে দেহভর অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, একেই স্থূলতা বা ওবেসিটি বলে। ক্ষতি: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, অস্থিসন্ধির ব্যথা, যকৃতের সমস্যা ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
19BMI বা দেহভর সূচক কীভাবে নির্ণয় করা হয়? উদাহরণ দাও।
BMI = ওজন (কেজি) ÷ [উচ্চতা (মিটার)]²। উদাহরণ: কারও ওজন 40 kg ও উচ্চতা 1.22 m হলে, BMI = 40 ÷ (1.22)² ≈ 26.8। BMI 18.5-25 স্বাভাবিক, 25-30 বেশি ওজন, 30+ স্থূলতা।
20রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজ কী? এর অভাবে কী রোগ হয়?
হিমোগ্লোবিন (লোহিত রক্তকণিকায়) ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে সারা দেহে সরবরাহ করে এবং দেহ থেকে CO₂ ফুসফুসে ফেরত আনে। এর পরিমাণ কমে গেলে রক্তাল্পতা (Anemia) হয়— দুর্বলতা, ফ্যাকাসে চামড়া, শ্বাসকষ্ট দেখা যায়।
21অণুচক্রিকা (Platelets) না থাকলে কী সমস্যা হতে পারে?
অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। এর সংখ্যা কমে গেলে (থ্রম্বোসাইটোপিনিয়া) সামান্য কাটাছেঁড়াতেও রক্ত বন্ধ হতে চায় না, ত্বকে লাল-বেগুনি ছোপ (পিটিকিয়া) পড়ে, এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকে।
22হৃৎপিণ্ডে একমুখী কপাটিকার ভূমিকা কী?
হৃৎপিণ্ডের অলিন্দ ও নিলয়ের মধ্যে এবং নিলয় ও ধমনির মুখে একমুখী কপাটিকা (Valves) থাকে। এরা রক্তকে শুধু সামনের দিকে (অলিন্দ→নিলয়→ধমনি) প্রবাহিত হতে দেয়, পেছনের দিকে আসতে বাধা দেয়। কপাটিকা নষ্ট হলে রক্ত পেছনে এসে হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়।
23পিঁচুটি (Eye Booger/Sty) কীভাবে তৈরি হয়?
চোখ, নাক বা চামড়ার কাটা অংশ দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা ও জীবাণুনাশক রাসায়নিক তাদের আক্রমণ করে ধ্বংস করে। মৃত জীবাণু, মৃত WBC ও ধ্বংসাবশেষ চোখের কোণায় জমে পিঁচুটি, পুঁজ বা ক্ষতস্থানে পুঁজ (Pus) হিসেবে দেখা যায়।
24শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা কী কী? (অন্তত তিনটি)
১. ত্বক: শারীরিক প্রতিবন্ধক (Physical barrier)। ২. চোখের জল ও লালায় লাইসোজাইম এনজাইম: জীবাণুর কোষপ্রাচীর ধ্বংস করে। ৩. পাকস্থলীর HCl অ্যাসিড: খাবারের সঙ্গে আসা জীবাণু ধ্বংস করে। ৪. শ্বেত রক্তকণিকা ও অ্যান্টিবডি: অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা।
25টিকা (Vaccine) কেন দেওয়া হয়? এটি কীভাবে কাজ করে?
টিকা দেওয়ার উদ্দেশ্য দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আগে থেকে সক্রিয় করে তোলা। দুর্বল বা মৃত জীবাণু দেহে প্রবেশ করালে প্রতিরোধ ব্যবস্থা অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা পরবর্তীতে সত্যিকারের জীবাণু আক্রমণ করলে দ্রুত তাকে চিনে ধ্বংস করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।
26ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ ও তার লক্ষণ লেখো।
ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেটস (শিশু) ও অস্টিওম্যালাসিয়া (বয়স্ক) রোগ হয়। লক্ষণ: হাড় নরম ও দুর্বল, পা বাঁকা (Bow legs), হাড় ভাঙার প্রবণতা, দাঁতের গঠন খারাপ, পেশিতে খিঁচুনি। দুধ, ডিম, ছোটো মাছ, সবুজ শাকসবজি খেলে প্রতিরোধ সম্ভব।
27আয়রনের অভাবজনিত সমস্যা কী? লক্ষণ ও প্রতিকার লেখো।
আয়রন (লৌহ)-এর অভাবে রক্তাল্পতা (Anemia) হয়। লক্ষণ: শরীর ফ্যাকাসে, ক্লান্তি, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, মাথাঘোরা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া। প্রতিকার: আয়রন ট্যাবলেট, লাল শাক, কলিজা, ডিমের কুসুম, খেজুর, ডালিম ইত্যাদি আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
28মেরুদণ্ডের কাজ কী? কশেরুকাগুলোর মধ্যে ডিস্ক কেন থাকে?
মেরুদণ্ড দেহের প্রধান অক্ষ হিসেবে দেহকে সোজা রাখে, মস্তিষ্কের ধাক্কা সহ্য করে, ওজন বহন করে এবং সুষুম্নাকাণ্ডকে সুরক্ষিত রাখে। দুই কশেরুকার মাঝের ডিস্ক (Intervertebral Disc) এক ধরনের কুশন বা শক অ্যাবজর্বার হিসেবে কাজ করে, যাতে চলার সময় ধাক্কা না লাগে ও মেরুদণ্ড নমনীয় থাকে।
29সাইনোভিয়াল তরল (Synovial Fluid) কী? এর কাজ কী?
সাইনোভিয়াল তরল চল সন্ধির ভেতর এক ধরনের পিচ্ছিল তরল। এটি সাইনোভিয়াল ঝিল্লি দ্বারা আবদ্ধ থাকে। কাজ: (১) হাড়ের মাথার মধ্যে ঘর্ষণ কমানো, (২) সন্ধিকে পিচ্ছিল রাখা, (৩) হাড়ের তরুণাস্থি ও প্রান্তে পুষ্টি জোগানো।
30বৃদ্ধাঙ্গুলের স্যাডল সন্ধি (Saddle Joint) কেন গুরুত্বপূর্ণ?
স্যাডল সন্ধি (যেমন বুড়ো আঙুলের গোড়ায়) একমাত্র সন্ধি যা ২টি ভিন্ন অভিমুখে (সামনে-পিছনে ও ডানে-বামে) চলতে পারে এবং আংশিক ঘূর্ণনেও সক্ষম। এর জন্যই মানুষ জিনিসপত্র ধরতে, কলম ধরে লিখতে ও সূক্ষ্ম কাজ করতে পারে— যা অন্য প্রাণীতে নেই।
31কোন পেশি সারাজীবন ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে? এর বৈশিষ্ট্য কী?
হৃৎপেশি (Cardiac Muscle) সারাজীবন ক্লান্তিহীনভাবে ছন্দবদ্ধ সংকোচন-প্রসারণ করে। বৈশিষ্ট্য: (১) ইচ্ছাধীন নয় (অনৈচ্ছিক), (২) শাখা-প্রশাখাযুক্ত কোষ, (৩) ইন্টারক্যালেটেড ডিস্কের মাধ্যমে সংযুক্ত, (৪) নিজস্ব পেসমেকার (SA Node) আছে যা তাল বজায় রাখে।
32শরীরে পুষ্টির অভাবে কী কী বিকাশজনিত সমস্যা হতে পারে? (পাঁচটি)
১. ক্যালসিয়ামের অভাবে: রিকেটস, হাড় ক্ষয়। ২. আয়রনে: রক্তাল্পতা। ৩. ভিটামিন A: রাতকানা। ৪. ভিটামিন B: বেরিবেরি, মুখে ঘা। ৫. ভিটামিন C: স্কার্ভি (মাড়ি ফুলে রক্ত পড়া)। ৬. প্রোটিন: কোয়াশিয়রকর (পেট ফোলা, শোথ)।
33মহাধমনি (Aorta) ও ফুসফুসীয় ধমনির পার্থক্য লেখো।
মহাধমনি (Aorta): বাম নিলয় থেকে সারা দেহে বিশুদ্ধ (O₂-সমৃদ্ধ) রক্ত বহন করে। এটি শরীরের বৃহত্তম ধমনি। ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary Artery): ডান নিলয় থেকে ফুসফুসে অশুদ্ধ (CO₂-সমৃদ্ধ) রক্ত বহন করে। এটি একমাত্র ধমনি যা অশুদ্ধ রক্ত বহন করে।
34পেসমেকার (Pacemaker) কী? কেন বসানো হয়?
হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দে অবস্থিত SA Node (Sinoatrial Node) প্রাকৃতিক পেসমেকার, যা বৈদ্যুতিক স্পন্দন সৃষ্টি করে হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো কারণে এটি অকার্যকর হলে কৃত্রিম পেসমেকার (ছোটো ব্যাটারিচালিত যন্ত্র) বুকে বসানো হয় যা বৈদ্যুতিক পালস পাঠিয়ে নিয়মিত হৃৎস্পন্দন বজায় রাখে।
35হাড় নরম ও বাঁকা হয়ে যাওয়া কোন রোগ? এর প্রতিকার কী?
এটি রিকেটস (Rickets) রোগ, যা ভিটামিন D ও ক্যালসিয়াম/ফসফরাসের অভাবে শিশুদের হয়। হাড় নরম হয়ে পা বাঁকা হয়। প্রতিকার: পর্যাপ্ত সূর্যালোক (ভিটামিন D সংশ্লেষ), দুধ, ডিম, মাছের তেল, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D সাপ্লিমেন্ট।
36মানবদেহে সবচেয়ে বড়ো ও ছোটো হাড় কোনগুলি?
সবচেয়ে বড়ো হাড়: ফিমার (Femur) বা ঊর্বস্থি, যা পায়ের উরুতে থাকে। সবচেয়ে ছোটো হাড়: স্টেপিস (Stapes), যা কর্ণগহ্বরের মধ্যভাগে থাকে এবং শব্দতরঙ্গ অন্তঃকর্ণে পরিবহণ করে। এটি মাত্র ২.৫-৩ মিমি লম্বা।
37হঠাৎ হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় কী সমস্যা হতে পারে?
মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত (যেমন পিছলে পড়া) পেলে সুষুম্নাকাণ্ডের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা সংকুচিত হলে সেই অংশের নিচের সমস্ত অঙ্গের স্নায়বিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে হাত-পা অবশ হয়ে যেতে পারে (প্যারালাইসিস)। এটি একটি জরুরি চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা।
38মেয়েদের শারীরিক বৃদ্ধি ছেলেদের তুলনায় কত বছর পর্যন্ত দ্রুত হয়?
মেয়েদের শারীরিক বৃদ্ধির হার প্রায় ১০-১১ বছর বয়স থেকে বেড়ে যায় এবং ১৫-১৬ বছর বয়স পর্যন্ত দ্রুত থাকে (বয়ঃসন্ধির আগে ও পরে)। ছেলেদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির গতি একটু দেরিতে (১২-১৩ বছর থেকে) শুরু হয় এবং ১৮-১৯ বছর পর্যন্ত বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ছেলেরা গড়ে লম্বা হয়।
39হৃৎপিণ্ডের সুস্থতায় খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা কী?
অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও ভাজা খাবার, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত নুন রক্তে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার, কম চর্বির দুগ্ধজাত খাবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (মাছ) হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে। নিয়মিত ব্যায়াম ও ধূমপান বর্জনও জরুরি।
1হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কার্যপ্রণালী একটি চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো। হৃৎপিণ্ডের চারটি প্রকোষ্ঠের নাম ও একমুখী কপাটিকাগুলির কাজ লেখো।
Hint: হৃৎপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট পাম্প: ডান অলিন্দ, ডান নিলয় (অশুদ্ধ রক্ত ফুসফুসে পাঠায়), বাম অলিন্দ, বাম নিলয় (শুদ্ধ রক্ত সারা দেহে পাঠায়)। ডান দিকে ত্রিপত্র কপাটিকা, বামে দ্বিপত্র কপাটিকা (মাইট্রাল)— একমুখী রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত করে। পেছনের দিকে প্রতিরোধ করে। বাম নিলয় সবচেয়ে পুরু ও শক্তিশালী।
2রক্তের উপাদানগুলি কী কী? প্রতিটি উপাদানের গঠন ও কাজ বিস্তারিতভাবে লেখো। রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
Hint: রক্তরস/প্লাজমা (৫৫%): জল, প্রোটিন, লবণ, হরমোন, বর্জ্য বহন করে। লোহিত রক্তকণিকা (RBC): অক্সিজেন পরিবহণ (হিমোগ্লোবিন)। শ্বেত রক্তকণিকা (WBC): রোগ প্রতিরোধ, ফ্যাগোসাইটোসিস, অ্যান্টিবডি তৈরি। অণুচক্রিকা: প্লেটলেট প্লাগ ও ফাইব্রিন জালিকা তৈরি করে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে রক্তপাত বন্ধ করা।
3অস্থিসন্ধি কাকে বলে? মানবদেহের বিভিন্ন ধরনের চল সন্ধির নাম, অবস্থান ও চলনের ধরন উদাহরণসহ বর্ণনা করো।
Hint: বল ও সকেট (কাঁধ/কোমর— সর্বদিকে ঘূর্ণন), কব্জা (কনুই/হাঁটু— সামনে-পিছনে), পিভট (১ম ও ২য় কশেরুকা— মাথা ঘোরানো), স্যাডল (বৃদ্ধাঙ্গুল— ধরার কাজ), উপবৃত্তাকার (কব্জি— সামনে-পিছনে ও পাশে), গ্লাইডিং (কশেরুকার মধ্যবর্তী সন্ধি— পিছলানো)। সাইনোভিয়াল তরল ঘর্ষণ কমায়।
4শরীরের অক্ষীয় ও উপাঙ্গী কঙ্কাল কী কী হাড় নিয়ে গঠিত? প্রতিটি অংশের প্রধান হাড়গুলির নাম ও কাজ লেখো।
Hint: অক্ষীয়: করোটি (মস্তিষ্ক সুরক্ষা), মেরুদণ্ডে ৩৩টি কশেরুকা (সুষুম্না সুরক্ষা, অক্ষ হিসেবে ভার বহন), বক্ষপিঞ্জর: স্টারনাম + ১২ জোড়া পাঁজর (হৃৎপিণ্ড-ফুসফুস সুরক্ষা)। উপাঙ্গী: পেক্টোরাল গার্ডল (স্ক্যাপুলা, ক্ল্যাভিকল), বাহু (হিউমেরাস, রেডিয়াস, আলনা), পেলভিক গার্ডল, পা (ফিমার, টিবিয়া, ফিবুলা)— চলনে সাহায্য।
5পেশির প্রকারভেদ (ঐচ্ছিক, অনৈচ্ছিক, হৃৎপেশি) গঠন, অবস্থান, কাজ ও বৈশিষ্ট্যসহ ব্যাখ্যা করো। দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশির ভূমিকা লেখো।
Hint: ঐচ্ছিক: কঙ্কাল পেশি, দ্রুত সংকোচন, ক্লান্ত হয়, হাত-পা নাড়ানো, হাঁটা, লেখা। অনৈচ্ছিক: মসৃণ পেশি, ধীর সংকোচন, ক্লান্ত হয় না, পাকস্থলী-অন্ত্রের পেরিস্টালসিস, রক্তনালীর ব্যাস নিয়ন্ত্রণ। হৃৎপেশি: শাখাযুক্ত, ছন্দবদ্ধ, সারা জীবন ক্লান্তিহীন— হৃৎপিণ্ডে রক্ত পাম্পিং। ইচ্ছার বাইরে।
6শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত দৈহিক বৃদ্ধির ধারা বর্ণনা করো। বিভিন্ন বয়সে মাথা, দেহকাণ্ড ও হাত-পায়ের অনুপাত কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
Hint: শিশু (৩ বছর): মাথা অনুপাতে বড়ো, দেহকাণ্ড লম্বা, হাত-পা ছোটো। ৬ বছর: মাথা ও হাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান (~49-50 সেমি), পা লম্বা হতে শুরু। ১২ বছর: হাত-পার দৈর্ঘ্য বেড়ে মাথা তুলনামূলকভাবে ছোটো। প্রাপ্তবয়স্ক: মাথা ~উচ্চতার ১/৮ অংশ, পা সবচেয়ে লম্বা। বয়ঃসন্ধিতে (মেয়ে ১০-১৬, ছেলে ১২-১৮) দ্রুত বৃদ্ধি হয়।
7পুষ্টিহীনতা ও হরমোনের অসাম্যের কারণে শরীরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের বিভিন্ন দিক আলোচনা করো। জাইগ্যান্টিজম, বামনত্ব, স্থূলতা ও রিকেটস রোগের কারণ ও প্রতিকার লেখো।
Hint: জাইগ্যান্টিজম: অতিরিক্ত গ্রোথ হরমোন। বামনত্ব: গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি। স্থূলতা: ক্যালোরি গ্রহণ > ব্যয়, BMI > 30, খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামে নিয়ন্ত্রণ। রিকেটস: ভিটামিন D ও ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড় নরম। অপুষ্টি: প্রোটিনের অভাবে কোয়াশিয়রকর (পেট ফোলা), আয়রনে রক্তাল্পতা। সঠিক পুষ্টি, সাপ্লিমেন্ট ও চিকিৎসা প্রতিকার।
8শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কী কী উপায়ে বাইরের জীবাণুকে প্রতিহত করে? টিকাকরণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
Hint: প্রথম প্রতিরক্ষা: ত্বক, মিউকাস ঝিল্লি, পাকস্থলীর অ্যাসিড, লাইসোজাইম। দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা (জন্মগত): শ্বেত রক্তকণিকার ফ্যাগোসাইটোসিস, প্রদাহ (Inflammation), জ্বর। তৃতীয় (অভিযোজিত): লিম্ফোসাইট— B কোষ (অ্যান্টিবডি), T কোষ (সংক্রমিত কোষ ধ্বংস)। টিকাকরণ: দুর্বল/মৃত জীবাণু প্রবেশ করিয়ে মেমোরি কোষ তৈরি, ভবিষ্যতে দ্রুত প্রতিরোধ।
9হৃৎস্পন্দন, নাড়ি ও রক্তচাপের মধ্যে সম্পর্ক কী? একটি সুস্থ হৃদযন্ত্র ও রক্তসংবহনতন্ত্র বজায় রাখতে কী কী নিয়ম পালন করা উচিত?
Hint: হৃৎস্পন্দন: হৃৎপিণ্ডের ছন্দবদ্ধ সংকোচন। নাড়ি: হৃৎস্পন্দনে সৃষ্ট তরঙ্গ যা ধমনিতে অনুভূত হয়— দুটো একই গতিতে চলে। রক্তচাপ: ধমনির দেওয়ালে রক্তের চাপ (সিস্টোলিক/ডায়াস্টোলিক)। সুস্থতায় নিয়ম: নিয়মিত ব্যায়াম, কম লবণ-চর্বি খাদ্য, ধূমপান-মদ্যপান বর্জন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
10মানুষের শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধির গঠন ও কাজ বিশ্লেষণ করো। কেন মানবদেহ অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় বেশি সূক্ষ্ম ও নিপুণ কাজ করতে পারে?
Hint: বুড়ো আঙুলের স্যাডল সন্ধি ও বিরোধী (Opposable) বৃদ্ধাঙ্গুল— কলম ধরা, জিনিসপত্র নির্ভুলভাবে ধরতে পারে। বল ও সকেট সন্ধি (কাঁধে) হাতের বিস্তৃত পরিসর দেয়। কব্জির কন্ডিলয়েড সন্ধি, একাধিক ছোটো কারপাল হাড়— জটিল নড়াচড়া সম্ভব। দ্বিপদ গমনের জন্য পেলভিস ও পায়ের আর্চ। বড়ো মস্তিষ্কের স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ— এই সামগ্রিক ব্যবস্থাই মানুষকে টুল-ব্যবহার, শিল্প ও প্রযুক্তিতে পারদর্শী করেছে।