1আগ্নেয়শিলা কী থেকে তৈরি হয়?
4রেললাইনের কালো পাথরগুলি কী ধরনের শিলা?
5ঝামা পাথর (Pumice) কী ধরনের শিলা?
6পিউমিস পাথরে এত ছিদ্র থাকে কেন?
8পাললিক শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
9পাললিক শিলায় কী পাওয়া যায় যা অন্য শিলায় পাওয়া যায় না?
11বালিপাথর কী ধরনের শিলা?
12চুনাপাথর কী ধরনের শিলা?
13শেল (Shale) কী ধরনের শিলা?
14পরিবর্তিত শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
15মার্বেল পাথর কোন শিলার পরিবর্তনে তৈরি হয়?
16স্লেট (Slate) কোন শিলার পরিবর্তনে তৈরি হয়?
17গ্রানাইটের পরিবর্তনে কোন শিলা তৈরি হয়?
18খনিজ (Mineral) কাকে বলে?
20অ্যালুমিনিয়ামের আকরিকের নাম কী?
23কাঁসা (Bronze) কোন দুটি ধাতুর সংকর?
24পিতল (Brass) কোন দুটি ধাতুর সংকর?
25জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) কাকে বলে?
26কয়লা কী থেকে তৈরি হয়েছে?
27কয়লার সবচেয়ে বড়ো ব্যবহার কী?
28পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস কী থেকে তৈরি হয়?
29কয়লা পোড়ালে কী পাওয়া যায়?
30কয়লার শোধন করে কী কী জিনিস পাওয়া যায়?
32তিন ধরনের আগ্নেয়শিলার নাম কী কী?
33খনিজ ও শিলার মধ্যে সম্পর্ক কী?
34ফসিল পাওয়া যায় কোন শিলায়?
35মাটির নিচের চাপ আর তাপে পাললিক শিলা কী ধরনের শিলায় পরিণত হয়?
36পৃথিবীর ওপরের স্তরের বেশিরভাগই কী শিলা দিয়ে তৈরি?
37তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় সতর্কতা কী?
38জীবাশ্ম জ্বালানি পুনর্নবীকরণযোগ্য নয় কেন?
39পেট্রোলিয়ামকে কী বলা হয়?
1আগ্নেয়শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
পৃথিবীর অভ্যন্তরের গরম গলিত ম্যাগমা বা লাভা ঠান্ডা হয়ে জমে আগ্নেয়শিলা তৈরি হয়। যেমন— ব্যাসল্ট, গ্রানাইট, পিউমিস।
2ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে পার্থক্য কী?
ম্যাগমা হলো পৃথিবীর গভীরের গলিত পাথর। যখন এই ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির মুখ বা পাথরের ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলে।
3তিন ধরনের আগ্নেয়শিলার নাম ও একটি করে বৈশিষ্ট্য লেখো।
১. ব্যাসল্ট: কালো রঙের, ভারী ও শক্ত (রেললাইনে ব্যবহৃত)। ২. গ্রানাইট: হালকা রঙের, খুব শক্ত (বাড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত)। ৩. পিউমিস (ঝামা পাথর): অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত, জলে ভাসে।
4পিউমিস পাথরে ছিদ্র থাকে কেন?
তরল ম্যাগমায় দ্রবীভূত গ্যাস ম্যাগমার মধ্যে দিয়ে বেরোবার সময় দ্রুত জমে গেলে সেই গ্যাসের বুদবুদের জায়গায় অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়। এতে পিউমিস হালকা হয় ও জলে ভাসে।
5পাললিক শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
নদী, সমুদ্রের তলায় পলি (কাদা, বালি, নুড়ি) স্তরে স্তরে জমা হয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নিচের চাপ ও তাপে সেই পলি জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে পাললিক শিলা তৈরি হয়।
6পাললিক শিলায় ফসিল পাওয়া যায় কেন?
পাললিক শিলা জলের নিচে স্তরে স্তরে জমা হয়। পলির সাথে চাপা পড়া প্রাচীন প্রাণী বা উদ্ভিদের দেহাবশেষ (হাড়, খোল, পাতার ছাপ) পচে না গিয়ে পাথরে পরিণত হয়ে ফসিল হিসেবে রক্ষিত হয়। আগ্নেয় ও পরিবর্তিত শিলার তাপে ফসিল ধ্বংস হয়।
7তিন ধরনের পাললিক শিলার নাম ও ব্যবহার লেখো।
১. বালিপাথর: বাড়ি তৈরিতে, পাথরের স্তম্ভে। ২. চুনাপাথর: সিমেন্ট তৈরি, মার্বেলের মূল উপাদান। ৩. শেল: ইট-টালি তৈরিতে।
8পরিবর্তিত শিলা কীভাবে তৈরি হয়?
আগ্নেয়শিলা ও পাললিক শিলা পৃথিবীর গভীরে প্রবল তাপ ও চাপের কারণে তাদের গঠন ও ধর্ম পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে। এই পরিবর্তিত রূপই পরিবর্তিত শিলা। যেমন— চুনাপাথর থেকে মার্বেল, শেল থেকে স্লেট।
9মার্বেল ও স্লেট কী কী শিলার পরিবর্তনে তৈরি হয়?
মার্বেল তৈরি হয় চুনাপাথরের পরিবর্তনে। স্লেট তৈরি হয় শেলের পরিবর্তনে। নীস তৈরি হয় গ্রানাইটের পরিবর্তনে।
10খনিজ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
খনিজ হলো প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট অজৈব কঠিন পদার্থ, যাদের নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন ও স্ফটিক আকৃতি আছে। শিলা এই খনিজ কণা দিয়ে গঠিত। উদাহরণ: লোহার আকরিক (হেমাটাইট), অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক (বক্সাইট), কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার।
11আকরিক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে সব খনিজের মধ্যে ধাতু থাকে এবং যেখান থেকে সহজে ও সস্তায় ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাকে আকরিক বলে। যেমন— লোহার আকরিক হেমাটাইট, অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক বক্সাইট, তামার আকরিক কপার পাইরাইটিস।
12সংকর ধাতু কাকে বলে? দুইটি উদাহরণ দাও।
দুই বা ততোধিক ধাতু মিশিয়ে যে নতুন ধাতু তৈরি হয়, তাকে সংকর ধাতু বলে। সংকর ধাতুর ধর্ম তার উপাদান ধাতুগুলির ধর্ম থেকে আলাদা হয়। যেমন— কাঁসা (তামা + টিন), পিতল (তামা + দস্তা)।
13কাঁসা ও পিতলের উপাদান কী কী?
কাঁসা (Bronze): তামা (Copper) ও টিন (Tin)-এর সংকর। পিতল (Brass): তামা (Copper) ও দস্তা (Zinc)-এর সংকর।
14জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
প্রাচীন যুগের উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ কোটি কোটি বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং তাপ-চাপের ফলে রাসায়নিক পরিবর্তনে জ্বালানিতে পরিণত হয়। এদের জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। উদাহরণ: কয়লা, পেট্রোলিয়াম (খনিজ তেল), প্রাকৃতিক গ্যাস।
15কয়লা কীভাবে তৈরি হয়েছে?
প্রাচীনকালে অগভীর জলাভূমির বিশাল গাছপালা ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির চাপ ও তাপে সেই গাছপালার রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রথমে পিট, পরে লিগনাইট ও সবশেষে বিটুমিনাস কয়লা ও অ্যানথ্রাসাইট তৈরি হয়।
16কয়লায় গাছের পাতার ছাপ দেখা যায় কেন?
কয়লা তৈরির সময় প্রাচীন গাছের পাতা মাটির চাপ ও তাপে রাসায়নিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও তার বাহ্যিক ছাপ ধরে রাখতে পারে। অনেক কয়লার টুকরোতে ফার্ন-জাতীয় প্রাচীন উদ্ভিদের পাতার ছাপ স্পষ্ট দেখা যায়।
17পেট্রোলিয়াম কীভাবে তৈরি হয়?
প্রাচীন সমুদ্রের তলায় অতি ক্ষুদ্র প্রাণী (প্ল্যাঙ্কটন) ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ পলির সাথে জমা হয়। কোটি কোটি বছর ধরে মাটির নিচের চাপ ও তাপে এবং ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় সেগুলি প্রথমে মোম-এর মতো কিরোজেন, পরে তরল পেট্রোলিয়াম ও গ্যাসীয় প্রাকৃতিক গ্যাসে পরিণত হয়।
18জীবাশ্ম জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে কী সমস্যা হতে পারে?
জীবাশ্ম জ্বালানি পুনর্নবীকরণযোগ্য নয়— তৈরি হতে কোটি কোটি বছর লাগে। এগুলি ফুরিয়ে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, যানবাহন, শিল্পকারখানা সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিকল্প শক্তি (সৌর, বায়ু) ব্যবহার জরুরি।
19কয়লার প্রধান ব্যবহারগুলি কী কী?
১. জ্বালানি হিসেবে রান্না, ইস্ত্রি ও শিল্পকারখানায় তাপ উৎপাদনে। ২. তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে (সবচেয়ে বড়ো ব্যবহার)। ৩. কয়লাকে বায়ুর অনুপস্থিতিতে গরম করে আলকাতরা, কোক, গ্যাসীয় জ্বালানি ইত্যাদি রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি হয়।
20কয়লা শোধন করে কী কী রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া যায়?
কয়লাকে বাতাসের অনুপস্থিতিতে উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করলে কার্বন সমৃদ্ধ কঠিন পদার্থ কোক, তরল আলকাতরা, এবং গ্যাসীয় জ্বালানি পাওয়া যায়। আলকাতরা থেকে নানা ধরনের রাসায়নিক যৌগ (ন্যাপথলিন, বেনজিন, পিচ) আলাদা করা হয়।
21পৃথিবীর উপরিভাগের স্তরটি কেমন ছিল? কীভাবে বর্তমান রূপ পেয়েছে?
পৃথিবী সৃষ্টির সময় পুরো গ্রহটি ছিল খুব গরম ও গলিত পাথর দিয়ে তৈরি। ধীরে ধীরে উপরিতল ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধতে থাকলে একটি কঠিন খোল (Crust) তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় আগ্নেয়শিলার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ক্ষয়, পলি জমা, তাপ-চাপ ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় পাললিক ও পরিবর্তিত শিলা তৈরি হয়।
22গ্রানাইট ও ব্যাসল্টের মধ্যে পার্থক্য কী?
গ্রানাইট: ধীরে ঠান্ডা হয় বলে বড়ো বড়ো স্ফটিক দেখা যায়, হালকা রঙের (গোলাপি-ধূসর), বাড়ির মেঝে ও দেওয়ালে ব্যবহৃত। ব্যাসল্ট: দ্রুত ঠান্ডা হয় বলে খুব সূক্ষ্ম দানা, গাঢ় কালো রঙের, রাস্তা ও রেললাইনে ব্যবহৃত।
23ফসিল ও সাধারণ হাড়ের মধ্যে পার্থক্য কী?
সাধারণ হাড় বা কঙ্কাল সহজেই পচে নষ্ট হয়। কিন্তু বিশেষ পরিবেশে (যেমন— কাদার নিচে চাপা পড়ে, খনিজ মিশে) হাড় পাথরে রূপান্তরিত হয় এবং লক্ষ লক্ষ বছর ধরে অক্ষত থাকে। এই পাথর হয়ে যাওয়া প্রাচীন অবশেষই ফসিল।
24পরিবর্তিত শিলার গুরুত্ব কী?
পৃথিবীর উপরিভাগের বেশিরভাগ অংশই আগ্নেয় ও পরিবর্তিত শিলা দিয়ে তৈরি। এগুলি অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই। মার্বেল (তাজমহল), স্লেট (ছাদ), নীস (নির্মাণ কাজে) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগে।
25খনিজ সম্পদ কী? বাংলাদেশ/ভারতে কী কী খনিজ পাওয়া যায়?
খনিজ সম্পদ হলো ভূগর্ভে প্রাপ্ত খনিজ পদার্থ যা অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হয়। ভারতে লোহা (হেমাটাইট), কয়লা, বক্সাইট (অ্যালুমিনিয়াম), ম্যাঙ্গানিজ, চুনাপাথর, অভ্র (Mica) ইত্যাদি প্রচুর পাওয়া যায়।
26শিলাচক্র কাকে বলে? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
পৃথিবীতে শিলা এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হওয়ার আবর্তনশীল প্রক্রিয়াকে শিলাচক্র বলে। ম্যাগমা থেকে আগ্নেয়শিলা, ক্ষয়-পলি জমে পাললিক শিলা, তাপ-চাপে পরিবর্তিত শিলা, আবার গলিত হয়ে ম্যাগমা— এভাবেই চক্র চলতে থাকে।
27তড়িৎ বিশ্লেষণের পরীক্ষায় কী কী সতর্কতা নিতে হবে?
শুধুমাত্র সাধারণ ড্রাই সেল ব্যাটারি (১.৫V – ৯V) ব্যবহার করতে হবে। বাড়ির AC ইলেকট্রিক লাইন বা ইনভার্টারের লাইন থেকে কখনোই সরাসরি সংযোগ দেওয়া যাবে না। কারণ তাতে শক বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিক্ষকের উপস্থিতিতে পরীক্ষা করাই নিরাপদ।
28পেট্রোলিয়ামকে 'কালো সোনা' বলা হয় কেন?
পেট্রোলিয়াম (পেট্রোল-ডিজেল) থেকে প্লাস্টিক, রাসায়নিক সার, কৃত্রিম রবার, বার্নিশসহ হাজারো জিনিস তৈরি হয়। আধুনিক সভ্যতা পেট্রোলিয়ামের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। এর অর্থনৈতিক মূল্য সোনার মতোই অপরিসীম, তাই একে 'কালো সোনা' বলা হয়।
29শিলা ও খনিজের পার্থক্য কী?
খনিজ একটিমাত্র রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত, নির্দিষ্ট স্ফটিক গঠন থাকে (যেমন— কোয়ার্টজ শুধু SiO₂)। শিলা এক বা একাধিক খনিজ কণার সমষ্টি (যেমন— গ্রানাইটে কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার, অভ্র থাকে)। সকল শিলাই খনিজে গঠিত।
30জীবাশ্ম জ্বালানি সংরক্ষণের উপায় কী কী?
১. অপচয় রোধ করা (বিনা প্রয়োজনে গাড়ি না চালানো, জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্র ব্যবহার)। ২. সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ-এর মতো নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো। ৩. গাছ লাগিয়ে জৈব জ্বালানি (বায়োগ্যাস) উৎপাদন। ৪. পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং করা।
1আগ্নেয়শিলা, পাললিক শিলা ও পরিবর্তিত শিলার মধ্যে পার্থক্য উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো। এই তিন ধরনের শিলার সৃষ্টিপ্রক্রিয়া বর্ণনা করো।
Hint: আগ্নেয়শিলা: ম্যাগমা/লাভা ঠান্ডা হয়ে তৈরি— ব্যাসল্ট, গ্রানাইট, পিউমিস। পাললিক শিলা: পলি জমে ও চাপ-তাপে তৈরি— বালিপাথর, চুনাপাথর, শেল (ফসিল পাওয়া যায়)। পরিবর্তিত শিলা: আগ্নেয় বা পাললিকের ওপর চাপ-তাপে পরিবর্তিত— মার্বেল (চুনাপাথর থেকে), স্লেট (শেল থেকে), নীস (গ্রানাইট থেকে)।
2জীবাশ্ম জ্বালানি কী? কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস কীভাবে তৈরি হয়? এগুলি ফুরিয়ে গেলে আমাদের কী কী সমস্যা হতে পারে এবং কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়?
Hint: জীবাশ্ম জ্বালানি: প্রাচীন জীবদেহ থেকে চাপ-তাপে তৈরি জ্বালানি (কয়লা, তেল, গ্যাস)। কয়লা: প্রাচীন গাছপালা জলাভূমিতে চাপা পড়ে তৈরি। পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস: সমুদ্রের প্ল্যাঙ্কটন পলিতে চাপা পড়ে তাপে তৈরি। এরা পুনর্নবীকরণযোগ্য নয়, শেষ হয়ে যাবে। সংরক্ষণ: সৌর-বায়ু-জলবিদ্যুৎ ব্যবহার, জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্র, পুনর্ব্যবহার।
3খনিজ ও আকরিক কাকে বলে? একটি ধাতু নিষ্কাশনের পদ্ধতি উদাহরণসহ লেখো। সংকর ধাতু কাকে বলে এবং কেন তৈরি করা হয়?
Hint: খনিজ: প্রাকৃতিক অজৈব কঠিন পদার্থ (কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার)। আকরিক: যে খনিজ থেকে সস্তায় ধাতু নিষ্কাশন করা যায় (হেমাটাইট থেকে লোহা, বক্সাইট থেকে অ্যালুমিনিয়াম)। নিষ্কাশন: আকরিক গুঁড়ো করে চুল্লিতে কার্বন দিয়ে উত্তপ্ত করলে ধাতু আলাদা হয়। সংকর ধাতু: কাঁসা (Cu+Sn), পিতল (Cu+Zn)— কঠিনতা, মরিচা প্রতিরোধ বাড়াতে তৈরি হয়।
4শিলাচক্র (Rock Cycle) বলতে কী বোঝো? একটি সুন্দর চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো কীভাবে আগ্নেয়শিলা থেকে পাললিক ও পরিবর্তিত শিলা আবার ম্যাগমায় পরিণত হয়।
Hint: ম্যাগমা ঠান্ডা → আগ্নেয়শিলা। ক্ষয় হয়ে পলি → নদীতে বাহিত → জমা → চাপে-তাপে → পাললিক শিলা। চাপ-তাপ বৃদ্ধি → পরিবর্তিত শিলা। আরও তাপে গলিত → ম্যাগমা। চক্র আবর্তিত। পাললিক শিলায় ফসিল থাকে, পরিবর্তিত শিলা অত্যন্ত শক্ত হয়।
5কয়লার উৎপত্তি, প্রকারভেদ ও ব্যবহার বিস্তারিতভাবে লেখো। কয়লা শোধন করে কী কী উপজাত পাওয়া যায় এবং তাদের ব্যবহার কী?
Hint: উৎপত্তি: কার্বনিফেরাস যুগের ফার্ন-সদৃশ গাছ জলাভূমিতে পিট → লিগনাইট → বিটুমিনাস → অ্যানথ্রাসাইট। ব্যবহার: বিদ্যুৎ উৎপাদন (60%), ইস্পাত শিল্প (কোক), ইটভাটা। শোধন: ধ্বংসাত্মক পাতন → কোক (লোহা গলাতে), আলকাতরা (রাসায়নিক দ্রব্য), অ্যামোনিয়াম সালফেট (সার), কয়লা গ্যাস।
6ফসিল (জীবাশ্ম) কীভাবে তৈরি হয় এবং কেন পাললিক শিলায়ই কেবল ফসিল পাওয়া যায়? পাঁচটি ভিন্ন ধরনের ফসিলের উদাহরণ দাও ও তাদের থেকে কী তথ্য পাওয়া যায়?
Hint: জীব মারা গেলে দ্রুত পলিতে চাপা পড়ে, অক্সিজেনের অভাবে পচে না, খনিজ দ্রবণ কঙ্কালের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে পাথর হয়ে যায়। আগ্নেয়শিলার তাপে/পরিবর্তিতের চাপে ফসিল ধ্বংস হয়। উদাহরণ: ডাইনোসরের কঙ্কাল, অ্যামোনাইট (শামুক), ট্রাইলোবাইট, কয়লায় পাতার ছাপ, পেট্রিফায়েড কাঠ। এদের বয়স ও প্রাচীন পরিবেশের তথ্য মেলে।