1পৃথিবীতে আনুমানিক কত কোটি প্রজাতির জীব বাস করে?
2Species (স্পেশিস) শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ কী?
3মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
4জীবজগৎকে প্রধানত কয়টি রাজ্যে ভাগ করা হয়েছে?
5অ্যানিমালিয়া (Animalia) রাজ্যটি কী?
6ছত্রাকদের রাজ্যের নাম কী?
7ব্যাকটেরিয়াদের রাজ্যের নাম কী?
8ভাইরাসকে জীবজগতে স্থান দেওয়া হয়নি কেন?
9যে প্রাণীদের মেরুদণ্ড নেই তাদের কী বলা হয়?
10পোকামাকড়, মাকড়সা, চিংড়ি— এরা কোন পর্বের প্রাণী?
11শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস কোন পর্বের প্রাণী?
12কেঁচো ও জোঁক কোন পর্বের প্রাণী?
13তারা মাছ (স্টারফিশ) ও সি-আর্চিন কোন পর্বের?
14মাছ, উভচর, সরীসৃপ, পাখি, স্তন্যপায়ী— এরা কী ধরনের প্রাণী?
16উভচর (Amphibian) প্রাণীর বৈশিষ্ট্য কী?
17সরীসৃপ (Reptile)-দের বৈশিষ্ট্য কী?
19স্তন্যপায়ী (Mammal) প্রাণীর বৈশিষ্ট্য কী?
20উদ্ভিদ রাজ্যে বীরুৎ (Herb) কাদের বলে?
21ঝোপ জাতীয় (Shrub/গুল্ম) গাছের বৈশিষ্ট্য কী?
22বৃক্ষ (Tree) কাদের বলা হয়?
23শৈবাল বা শ্যাওলা কী ধরনের উদ্ভিদ?
24মস (Moss) বা ফার্ন (Fern) কী জাতীয় উদ্ভিদ?
25টেরিডোফাইটা কাদের বলা হয়?
26বস্তুবীজী (Gymnosperm) উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কী?
27গুপ্তবীজী (Angiosperm) উদ্ভিদ কাদের বলা হয়?
28একবীজপত্রী (Monocotyledon) উদ্ভিদে কয়টি বীজপত্র থাকে?
29দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে বীজপত্র কয়টি?
30ধান কোন ধরনের উদ্ভিদ (বীজপত্র অনুযায়ী)?
31ছোলা/মটর কয়টি বীজপত্র বিশিষ্ট?
32পাতার শিরাবিন্যাস জালের মতো হলে সেটি কী ধরনের উদ্ভিদ?
33পাতার শিরাগুলো সমান্তরাল হলে তা কী নির্দেশ করে?
34দই তৈরিতে কোন অনুজীব সাহায্য করে?
35টাইফয়েড ও কলেরা রোগের কারণ কী?
36প্রোটিস্টা (Protista) রাজ্যে কী ধরনের জীব থাকে?
37আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহের বাইরে কী থাকে?
38কর্ডাটা (Chordata) পর্বের বৈশিষ্ট্য কী?
39আমগাছ কোন ধরনের উদ্ভিদ?
40নারকেল গাছে কোন ধরনের শিরাবিন্যাস দেখা যায়?
41ব্যাং কোন শ্রেণির মেরুদণ্ডী প্রাণী?
42তিমি ও শুশুক (ডলফিন) কী ধরনের প্রাণী?
43প্ল্যান্টি (Plantae) রাজ্যে কাদের স্থান দেওয়া হয়?
44সালোকসংশ্লেষ করতে পারে না কোন রাজ্যের জীব?
45আম, জাম, কাঁঠাল— এরা কী ধরনের উদ্ভিদ?
46পৃথিবীতে কত রকমের জীব আছে বিজ্ঞানীদের ধারণা?
47পাতিকাক ও দাঁড়কাক একই প্রজাতি কি না?
48কেন্দ্রীয় নিউক্লিয়াস নেই কোন রাজ্যের জীবে?
49পাইন গাছের বীজ কোথায় থাকে?
1প্রজাতি (Species) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
একই বৈশিষ্ট্যযুক্ত, একই ধরনের জীব থেকে একই রকম বংশধর জন্ম নেয়, তাদের একত্রে এক প্রজাতি বলে। যেমন— বাঘ একটি প্রজাতি, সিংহ একটি প্রজাতি। পাতিকাক ও দাঁড়কাক ভিন্ন প্রজাতির। মানুষও একটিমাত্র প্রজাতি (Homo sapiens)।
2জীবজগতের পাঁচটি রাজ্যের নাম ও উদাহরণ লেখো।
১. মোনেরা (Monera): ব্যাকটেরিয়া। ২. প্রোটিস্টা (Protista): অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম। ৩. ফানজাই (Fungi): ছত্রাক/মাশরুম। ৪. প্ল্যান্টি (Plantae): উদ্ভিদ। ৫. অ্যানিমালিয়া (Animalia): প্রাণী। এটি R.H. Whittaker-এর প্রস্তাবিত শ্রেণিবিভাগ।
3অমেরুদণ্ডী প্রাণী কাদের বলা হয়? পাঁচটি উদাহরণ দাও।
যে সকল প্রাণীর দেহে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া নেই, তাদের অমেরুদণ্ডী (Invertebrate) বলে। যেমন: (১) কেঁচো, (২) আরশোলা (পোকা), (৩) মাকড়সা, (৪) শামুক, (৫) চিংড়ি, (৬) জোঁক, (৭) তারা মাছ।
4মেরুদণ্ডী প্রাণী কাদের বলে? পাঁচটি প্রধান শ্রেণির নাম ও একটি করে উদাহরণ লেখো।
যে প্রাণীদের দেহে কশেরুকা সমন্বিত মেরুদণ্ড থাকে, তাদের মেরুদণ্ডী বলে। পাঁচ শ্রেণি: ১. মাছ (রুই, শিঙি), ২. উভচর (ব্যাঙ, স্যালামান্ডার), ৩. সরীসৃপ (সাপ, টিকটিকি, কুমির), ৪. পাখি (পায়রা, শালিক), ৫. স্তন্যপায়ী (মানুষ, গরু, বাদুড়, তিমি)।
5মাছ ও উভচরের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য লেখো।
১. মাছ সারা জীবন জলে থাকে, ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়। উভচর বাচ্চাকালে জলে (ফুলকা) এবং বড়ো হলে ডাঙায় (ফুসফুস/ত্বক) শ্বাস নেয়। ২. মাছের গায়ে আঁশ থাকে, চলার জন্য পাখনা। উভচরের গা ভেজা ও নরম ত্বক, পা থাকে (শাবকাবস্থায় লেজ থাকে)। যেমন— ব্যাঙ।
6উদ্ভিদকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায়? সংক্ষেপে উল্লেখ করো।
উদ্ভিদকে নানা ভাবে ভাগ করা যায়: (১) আকারভেদে: বীরুৎ (ধান, আলু), গুল্ম (জবা, গোলাপ), বৃক্ষ (আম, কাঁঠাল)। (২) ফুল-ফলের ভিত্তিতে: অপুষ্পক (শৈবাল, মস, ফার্ন) ও সপুষ্পক। (৩) বীজের অবস্থান: বস্তুবীজী (পাইন) ও গুপ্তবীজী (আম, ধান)। (৪) বীজপত্র: একবীজপত্রী (ধান) ও দ্বিবীজপত্রী (ছোলা)।
7বীরুৎ, গুল্ম ও বৃক্ষের পার্থক্য লেখো।
বীরুৎ (Herb): কাণ্ড নরম, আকারে ছোটো, তেমন ডালপালা নেই। যেমন ধান, আলু, পুদিনা। গুল্ম (Shrub): গাছ লম্বায় কম, গোড়া থেকেই অনেক শক্ত ডালপালা, ঝোপের মতো। যেমন জবা, গোলাপ। বৃক্ষ (Tree): লম্বা, পুরু ও কাঠালো কাণ্ড, ওপরে অনেক ডালপালা। যেমন আম, বট, নিম।
8বস্তুবীজী (Gymnosperm) ও গুপ্তবীজী (Angiosperm) উদ্ভিদের পার্থক্য লেখো।
বস্তুবীজী: বীজ খোলা অবস্থায় থাকে, কোনো ফলের মধ্যে আবদ্ধ থাকে না। ফুল তৈরি হয় না, বীজ শঙ্কু (Cone)-তে সাজানো থাকে। যেমন— পাইন, জিনগো। গুপ্তবীজী: বীজ ফলের মধ্যে সুরক্ষিত ভাবে আবদ্ধ থাকে, ফুল ও ফল হয়। যেমন— আম, কাঁঠাল, ধান, জবা।
9একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
১. বীজপত্র: একবীজপত্রীতে ১টি (ধান), দ্বিবীজপত্রীতে ২টি (ছোলা)। ২. পাতার শিরাবিন্যাস: একবীজপত্রীতে সমান্তরাল, দ্বিবীজপত্রীতে জালিকা। ৩. মূল: একবীজপত্রীতে গুচ্ছমূল, দ্বিবীজপত্রীতে প্রধান মূল (ট্যাপ রুট)। ৪. কাণ্ডে ভাস্কুলার বান্ডল: একবীজপত্রীতে বিক্ষিপ্ত, দ্বিবীজপত্রীতে বলয়াকারে সজ্জিত।
10অপুষ্পক উদ্ভিদ কাদের বলে? উদাহরণ দাও।
যে সমস্ত উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ হয় না, স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে বংশবিস্তার করে— তাদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। যেমন: শৈবাল (স্পাইরোগাইরা), শ্যাওলা/মস (Moss), ফার্ন (ঢেকিশাক), টেরিডোফাইটা। এদের ফুল না থাকলেও পাতায় বীজাণুথলি (Sporangia) থাকে।
11ফার্ন (Fern) উদ্ভিদ কোথায় রেণু তৈরি করে?
ফার্নের পাতার নিচের দিকে বা পাতার ধার মুড়ে গিয়ে বাদামি বা কালো রঙের ফুটকি/রেখা তৈরি হয়, যার মধ্যে রেণু বা স্পোর থাকে। এই স্পোর মাটিতে পড়ে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন গাছ জন্মায়। ফার্নের ফুল হয় না, বীজও হয় না।
12আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
১. দেহ খণ্ডায়িত (মাথা, বক্ষ, উদর)। ২. সন্ধিল (জোড়যুক্ত) উপাঙ্গ/পা ও শুঁড় থাকে। ৩. দেহের বাইরে শক্ত কাইটিনের খোলা বা এক্সোস্কেলিটন থাকে। যেমন— আরশোলা, মাকড়সা, চিংড়ি, প্রজাপতি, মশা।
13মলাস্কা (Mollusca) পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য কী কী?
১. দেহ নরম, অখণ্ডিত। ২. চলাচলের জন্য মাংসল পা থাকে। ৩. নরম দেহের ভেতরে বা বাইরে চুনাজাতীয় পদার্থের শক্ত খোলক (Shell) থাকে। ৪. ম্যান্টল নামে পাতলা আবরণী থাকে। যেমন— শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস, স্কুইড।
14পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য লেখো (অন্তত তিনটি)।
১. দেহত্বক: পাখির গা পালকে ঢাকা, স্তন্যপায়ীর গায়ে লোম। ২. অগ্রপদ: পাখির ডানা, স্তন্যপায়ীর হাত/থাবা। ৩. প্রজনন: পাখি ডিম পাড়ে, স্তন্যপায়ী (বেশিরভাগ) সরাসরি বাচ্চা দেয়। ৪. দুধ: পাখির স্তন্যগ্রন্থি নেই, স্তন্যপায়ী বাচ্চাকে দুধ খাইয়ে বড়ো করে। যেমন— পায়রা (পাখি), গরু (স্তন্যপায়ী)।
15ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো। এরা ভালো না খারাপ কাজ করে? উদাহরণ দাও।
ব্যাকটেরিয়া এককোষী প্রোক্যারিওটিক অণুজীব, রাজ্য মোনেরা-ভুক্ত। উপকারী: ল্যাকটোব্যাসিলাস (দই তৈরি), নাইট্রোজেন স্থিতিকারী (রাইজোবিয়াম)। ক্ষতিকর: টাইফয়েড (সালমোনেলা টাইফি), কলেরা (ভিব্রিও কলেরি), যক্ষ্মা (মাইকোব্যাকটেরিয়াম) রোগ সৃষ্টি করে।
16বিজ্ঞানীরা কেন মানুষের আলাদা বৈজ্ঞানিক নাম (Homo sapiens) দিয়েছেন?
বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় মানুষকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিকভাবে একটি অভিন্ন ল্যাটিন নাম (Homo sapiens) স্থির করেন যাতে বিশ্বের সব বিজ্ঞানী ও গবেষক একই প্রজাতিকে একই নামে চিনতে ও আলোচনা করতে পারেন। এটি দ্বিপদ নামকরণের (Binomial Nomenclature) অংশ।
17পৃথিবীতে প্রায় ৩ কোটি প্রজাতির জীব থাকা সত্ত্বেও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য কেন নষ্ট হয় না?
প্রতিটি প্রজাতি খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে জড়িত যে কোনো প্রজাতির সংখ্যা প্রকৃতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। শিকার-শিকারি সম্পর্ক, রোগ, খাদ্যের প্রতিযোগিতা, পরজীবিতা— এসব প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য বজায় থাকে। একে 'প্রকৃতির ভারসাম্য' (Balance of Nature) বলে।
18কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে দেহে নোটোকর্ড (একটি দৃঢ়, নমনীয় দণ্ড) থাকে। অধিকাংশের ক্ষেত্রে ভ্রূণাবস্থায় নোটোকর্ড পরে কশেরুকা-সম্বলিত মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। ফুলকা ছিদ্র (Pharyngeal slits) ও পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে। যাদের মেরুদণ্ড গঠিত হয় তারা মেরুদণ্ডী, বাকিরা প্রোটোকর্ডাটা।
19মোনেরা (Monera) রাজ্যের জীবের বৈশিষ্ট্য কী?
এরা এককোষী, সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও পর্দাঘেরা অঙ্গাণু নেই (প্রোক্যারিওটিক)। DNA সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে। কোষপ্রাচীর পেপটিডোগ্লাইকান নির্মিত। কিছু সালোকসংশ্লেষে সক্ষম (সায়ানোব্যাকটেরিয়া), কিছু পরজীবী, কিছু মৃতজীবী। দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি হয়। যেমন— ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল।
20শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা কী?
পৃথিবীতে বিরাট সংখ্যক জীবকে অধ্যায়ন ও বোঝার সুবিধার জন্য শ্রেণিবিন্যাস অপরিহার্য। এটা জীববৈচিত্র্যের একটি সূচিবদ্ধ ক্যাটালগ তৈরি করে, বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে সম্পর্ক ও বিবর্তনের ধারা বুঝতে সাহায্য করে। চিকিৎসা, কৃষি, সংরক্ষণ জীববিদ্যা— সকল ক্ষেত্রেই প্রজাতি সঠিকভাবে শনাক্তকরণ জরুরি।
21আলু ও কুমড়ো একই জাতীয় (বীরুৎ) হলেও তাদের মধ্যে অমিল কোথায়?
আলু গাছ মাটির নিচে টিউবার (স্ফীতকন্দ) তৈরি করে যা আমরা খাই, গাছ লতিয়ে মাটিতে ছড়ায় না। কুমড়ো বীরুৎ হয়েও লতিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়, ফুল ও বড়ো ফলে বীজ হয়। আলুতে বীজপত্র ২টি (ডিকট), কুমড়োতেও ডিকট— তবে বংশ, গোত্র ও প্রজাতি ভিন্ন।
22কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পাইন ও আম গাছকে পৃথক শ্রেণিতে ফেলা হয়েছে?
পাইন: ফুল হয় না, বীজ শঙ্কুতে খোলা থাকে (বস্তুবীজী), পাতা সূঁচালো। আম: ফুল ও মিষ্ট ফলে বীজ আবৃত (গুপ্তবীজী), পাতা চওড়া ও জালিকা শিরাবিশিষ্ট। বীজ আবৃত/অনাবৃত অবস্থানের ভিত্তিতে পাইন Gymnosperm এবং আম Angiosperm শ্রেণির অন্তর্গত।
23শৈবাল ও ফার্নের মধ্যে পার্থক্য কী?
শৈবাল: থ্যালোফাইটা, দেহ মূল-কাণ্ড-পাতায় বিভক্ত নয় (থ্যালাস), জলে থাকে। উদাহরণ: স্পাইরোগাইরা। ফার্ন: টেরিডোফাইটা, মূল-কাণ্ড-পাতা স্পষ্ট, ডাঙায় জন্মায়, পাতার নিচে স্পোর তৈরি হয়। উদাহরণ: ঢেকিশাক। উভয়ই অপুষ্পক, তবে ফার্ন উন্নততর।
24ব্যাঙকে উভচর বলা হয় কেন?
ব্যাঙ জীবনের প্রথমাংশ (শাবক/ব্যাঙাচি) সম্পূর্ণ জলে কাটায়— ফুলকার সাহায্যে শ্বাস নেয়, লেজ দিয়ে সাঁতার কাটে। পরিণত ব্যাঙ ফুসফুস ও ত্বকের সাহায্যে ডাঙায় শ্বাস নেয়, লেজ খসে যায়, পা গজায়। জীবনচক্রের এই দুই ভিন্ন বাসস্থানের (জল ও স্থল) জন্য ব্যাঙকে উভচর (Amphibian) বলে।
25বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসের দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature) পদ্ধতি কী?
লিনিয়াস প্রস্তাবিত নিয়মে প্রতিটি জীবের একটি দ্বিপদ (দুই অংশের) বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়। প্রথম অংশ গণ (Genus) ও দ্বিতীয় অংশ প্রজাতি (species) নির্দেশ করে। যেমন— মানুষ = Homo sapiens (Homo গণ, sapiens প্রজাতি)। নাম দুটি ল্যাটিন/ল্যাটিনীকৃত ভাষায় ও ইটালিক্সে লেখা হয়।
26সরীসৃপ (Reptile) প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য কী কী? কেন এদের ডাঙায় ডিম পাড়তে হয়?
সরীসৃপের গায়ে আঁশ, ফুসফুসে শ্বাস, হৃৎপিণ্ড অসম্পূর্ণ চারপ্রকোষ্ঠ (কুমির ব্যতীত)। এরা ভূপৃষ্ঠে বুকে মাটি ঘেঁষে চলে। ডিমের খোলক শক্ত ও ছিদ্রযুক্ত (ক্লেইডোয়িক ডিম)— ভ্রূণের শ্বাস ও পুষ্টির জন্য। জলের নিচে ডিম ফেললে ভ্রূণ অক্সিজেন পাবে না, তাই ডাঙায় ডিম পাড়তে হয়। যেমন— টিকটিকি, সাপ, কচ্ছপ, কুমির।
27গাছের শ্রেণিবিভাগের ধাপগুলো কী কী? নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত বিন্যস্ত করো।
শ্রেণিবিন্যাসের ধাপ (Hierarchy): প্রজাতি (Species) → গণ (Genus) → গোত্র (Family) → বর্গ (Order) → শ্রেণি (Class) → পর্ব/বিভাগ (Phylum/Division) → রাজ্য (Kingdom)। যেমন— ধান: রাজ্য Plantae, বিভাগ Angiosperm, শ্রেণি Monocotyledon, বর্গ Poales, গোত্র Poaceae, গণ Oryza, প্রজাতি sativa।
28জীববৈচিত্র্য কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রকার জীবের (উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব) বিপুল প্রকারভেদ, তাদের জিনগত বৈচিত্র্য ও বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রে তাদের বসবাসের সমাহারকে জীববৈচিত্র্য বলে। যেমন— সুন্দরবনের বাঘ থেকে শুরু করে মাটির নিচের ব্যাকটেরিয়া, সমুদ্রের প্রবাল— সবই এই বৈচিত্র্যের অংশ।
29পাতার শিরাবিন্যাস দেখে কীভাবে একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী চেনা যায়? উদাহরণ দাও।
একবীজপত্রী (Monocot): পাতার শিরাগুলো একে অপরের সঙ্গে না মিশে সমান্তরালভাবে বিস্তৃত থাকে। যেমন— ধান, গম, নারকেল, কলা। দ্বিবীজপত্রী (Dicot): পাতার মধ্যশিরার দু-পাশের শাখা-প্রশাখা শিরাগুলো জালের মতো জড়িয়ে থাকে। যেমন— আম, কাঁঠাল, জবা, তুলসী।
30সকল ব্যাকটেরিয়াই কি ক্ষতিকর? উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করো।
না, সকল ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয়। বরং অধিকাংশই উপকারী। উপকারী: ল্যাকটোব্যাসিলাস (দই-পাউরুটি), রাইজোবিয়াম (নাইট্রোজেন বন্ধন), অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া (ভিটামিন সংশ্লেষ), স্ট্রেপ্টোমাইসিস (অ্যান্টিবায়োটিক)। ক্ষতিকর: ভিব্রিও কলেরি, মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস (টিবি), সালমোনেলা টাইফি (টাইফয়েড)। ব্যাকটেরিয়া ছাড়া বাস্তুতন্ত্র চলতে পারে না।
31উদ্ভিদ ও প্রাণীর রাজ্যের বাইরে কেন আরো তিনটি রাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে?
হুইটেকার (Whittaker) কোষের গঠন (প্রোক্যারিওট বনাম ইউক্যারিওট), দেহের গঠন (এককোষী বনাম বহুকোষী), পুষ্টি পদ্ধতি (স্বভোজী/পরভোজী), এবং প্রজননের ভিত্তিতে পূর্বের দ্বিরাজ্য পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা দূর করতে পাঁচ-রাজ্য পদ্ধতি প্রস্তাব করেন। ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও এককোষী ইউক্যারিওটরা উদ্ভিদ বা প্রাণী কোনোটির সঙ্গে পুরোপুরি ফিট না করায় এদের আলাদা রাজ্য মোনেরা, প্রোটিস্টা ও ফানজাই দেওয়া হয়েছে।
32কচ্ছপ ও কুমিরের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লেখো।
সাদৃশ্য: উভয়েই সরীসৃপ, ফুসফুসে শ্বাস, ডাঙায় ডিম পাড়ে, গায়ে শক্ত আঁশ। বৈসাদৃশ্য: কচ্ছপের দেহ পিঠ ও পেটের শক্ত খোলায় (ক্যারাপেস-প্লাস্ট্রন) আবৃত, চোয়ালে দাঁত নেই (ঠোঁট)। কুমিরের সমগ্র দেহ আঁশে ঢাকা, মুখে ধারালো দাঁত, লম্বাটে দেহ। কুমির/অ্যালিগেটরের হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণ চারপ্রকোষ্ঠ— সরীসৃপের মধ্যে ব্যতিক্রম।
33শ্রেণিবিন্যাসের জনক কাকে বলা হয় ও কেন?
সুইডিশ প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus)-কে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। তিনিই প্রথম দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature) পদ্ধতি চালু করেন, Species Plantarum ও Systema Naturae গ্রন্থে হাজারো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম ও শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা আজও আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত।
34তিমি ও শুশুক সমুদ্রে বাস করেও মাছ নয় কেন?
তিমি ও শুশুক শ্বাস নেয় ফুসফুস দিয়ে (জলের ওপর ভেসে ব্লো-হোল দিয়ে), এদের গায়ে লোম (অল্প), ফুলকা নেই। এরা সরাসরি বাচ্চা দেয় ও দুধ খাইয়ে বড়ো করে, উষ্ণ রক্তের প্রাণী। মাছ ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়, ডিম পাড়ে, দেহে আঁশ, ঠান্ডা রক্ত। এই স্তন্যপায়ী বৈশিষ্ট্যের জন্যই এরা মাছ নয়, স্তন্যপায়ী (Order Cetacea)।
1জীবজগতের পাঁচ-রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো। প্রতিটি রাজ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ দাও। উদ্ভিদ ও প্রাণী ছাড়াও কেন আলাদা রাজ্যের প্রয়োজন হলো?
Hint: R.H. Whittaker (1969)-এর পাঁচ রাজ্য: (১) মোনেরা: প্রোক্যারিওট, এককোষী (ব্যাকটেরিয়া)। (২) প্রোটিস্টা: এককোষী ইউক্যারিওট (অ্যামিবা)। (৩) ফানজাই: পরভোজী, কোষপ্রাচীর কাইটিন (ছত্রাক)। (৪) প্ল্যান্টি: বহুকোষী স্বভোজী, সালোকসংশ্লেষ (উদ্ভিদ)। (৫) অ্যানিমালিয়া: বহুকোষী পরভোজী, চলনক্ষম (প্রাণী)। পূর্বের দ্বি-রাজ্য পদ্ধতি ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও প্রোটিস্টার স্বাতন্ত্র্য ধরতে ব্যর্থ হয়েছিল।
2মেরুদণ্ডী প্রাণীদের পাঁচটি শ্রেণির নাম, বৈশিষ্ট্য, শ্বাসকার্য ও প্রজনন পদ্ধতি উদাহরণসহ উল্লেখ করো। প্রতিটি শ্রেণির দুটি করে উদাহরণ দাও।
Hint: ১. মাছ: জলে, ফুলকা, ডিম পাড়ে (রুই, শিঙি)। ২. উভচর: জলে ও ডাঙায়, ফুলকা→ফুসফুস/ত্বক, ডিম (ব্যাঙ, স্যালামান্ডার)। ৩. সরীসৃপ: ফুসফুস, শক্ত খোলার ডিম, বুকে মাটি ঘেঁষে (সাপ, টিকটিকি, কুমির)। ৪. পাখি: ফুসফুস, ডিম পাড়ে, পালক ও ডানা (পায়রা, শালিক)। ৫. স্তন্যপায়ী: ফুসফুস, বাচ্চা দেয় ও দুধ খাওয়ায় (মানুষ, গরু, তিমি, বাদুড়)।
3উদ্ভিদ শ্রেণিবিভাগের বিভিন্ন ধাপগুলি কী কী? আকার, ফুল-ফলের উপস্থিতি, বীজের আবরণ ও বীজপত্রের সংখ্যা— এই চারটি মানদণ্ডে উদাহরণসহ উদ্ভিদকে ভাগ করো।
Hint: আকার: বীরুৎ (ধান), গুল্ম (জবা), বৃক্ষ (আম)। ফুল-ফল: অপুষ্পক (শৈবাল, মস, ফার্ন— স্পোর), সপুষ্পক (আম— ফুল-ফল)। বীজের আবরণ: বস্তুবীজী (পাইন— বীজ খোলা), গুপ্তবীজী (আম— ফলে বীজ)। বীজপত্র: একবীজপত্রী (ধান— ১টি, সমান্তরাল শিরা), দ্বিবীজপত্রী (ছোলা— ২টি, জালিকা শিরা)।
4অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান কয়েকটি পর্বের নাম, বৈশিষ্ট্য, বাসস্থান ও উদাহরণ নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ছক তৈরি করো।
Hint: আর্থ্রোপোডা: সন্ধিল পা, শক্ত খোলা (আরশোলা, মাকড়সা, চিংড়ি, প্রজাপতি)। মলাস্কা: নরম দেহ, খোলক (শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস)। অ্যানিলিডা: দেহ খণ্ডিত, রিং (কেঁচো, জোঁক)। নেমাটোডা: অখণ্ডিত গোলকৃমি (গোলকৃমি)। প্লাটিহেলমিনথেস: চ্যাপ্টা দেহ (চ্যাপ্টা কৃমি/টেপওয়ার্ম)। একাইনোডার্মাটা: কাঁটাযুক্ত ত্বক, সমুদ্রবাসী (তারা মাছ, সি-আর্চিন)।
5একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য বীজপত্র, শিরাবিন্যাস, মূল, ফুল ও কাণ্ডের ভিত্তিতে তুলনা করো। প্রতিটি মানদণ্ডের জন্য একটি করে উদাহরণ দাও।
Hint: ১. বীজপত্র: এক=১টি (ধান), দ্বি=২টি (ছোলা)। ২. শিরাবিন্যাস: এক=সমান্তরাল (নারকেল), দ্বি=জালিকা (আম)। ৩. মূল: এক=গুচ্ছমূল, দ্বি=ট্যাপ রুট। ৪. ফুল: এক=পাপড়ি ৩-এর গুণিতক, দ্বি=৪/৫ গুণিতক। ৫. কাণ্ডে ভাস্কুলার বান্ডল: এক=বিক্ষিপ্ত, দ্বি=বলয়াকারে। ৬. একবীজপত্রীতে ক্যাম্বিয়াম নেই, দ্বিবীজপত্রীতে আছে (গৌণ বৃদ্ধি)।
6জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো। বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রজাতির ভূমিকা কী?
Hint: জীববৈচিত্র্য: অক্সিজেন উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, মৃত্তিকা সংরক্ষণ, ওষুধের উৎস, পর্যটন। প্রতিটি প্রজাতিই খাদ্যজালের অংশ— একটি বিলুপ্ত হলে সম্পূর্ণ শৃঙ্খল বিপন্ন হতে পারে। যেমন মৌমাছি না থাকলে পরাগমিলন বন্ধ → ফসলহানি → মানুষের খাদ্যসংকট। সংরক্ষণ: অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, CITES চুক্তি, টেকসই উন্নয়ন ও জনসচেতনতা জরুরি।