1আচরণ বিজ্ঞান (Behavioral Science) কী?
2আধুনিক আচরণ বিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ কে?
3জঁ আঁরি ফ্যাবা কী নিয়ে গবেষণা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন?
4শুঁয়োপোকাদের একগুঁয়ে চলার স্বভাব নিয়ে কে পরীক্ষা করেছিলেন?
5পাখিদের ডিমের আকার ও রঙের প্রতি আকর্ষণ নিয়ে কে গবেষণা করেন?
6হাঁসের ছানা ফুটে বেরিয়ে প্রথম যাকে দেখে তাকে 'মা' ভাবে— কে আবিষ্কার করেন?
7মৌমাছির নাচের ভাষা কে আবিষ্কার করেন?
8শিম্পাঞ্জিদের নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করা প্রথম নারী বিজ্ঞানী কে?
9পিপড়েরা কী ধরনের প্রাণী?
10পিপড়ে পরিবারে পুরুষের সংখ্যা কেমন?
11চাষি পিপড়েরা কী চাষ করে?
12যাযাবর পিপড়েদের বৈশিষ্ট্য কী?
13উইপোকা কী ধরনের প্রাণী?
14উই কেন কাঠ হজম করতে পারে?
15উইয়ের শরীরে শক্ত খোলা না থাকায় তারা কী করে?
16মৌমাছিরা কী ধরনের জীবনযাপন করে?
17রানি মৌমাছি ও পুরুষ মৌমাছির মধ্যে কার সংখ্যা খুব কম?
18মৌচাকের কুঠুরি গরম হলে মৌমাছিরা কী করে?
19শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে মৌমাছি কী করে?
20মৌমাছির 'নাচের ভাষা' কী নির্দেশ করে?
21হাতির সবচেয়ে মজার অঙ্গ কোনটি?
22হাতির শুঁড় কোন দুটি অঙ্গ মিলে তৈরি হয়েছে?
23হাতি পরিবারের প্রধান কে হন?
24হাতিরা মানুষ দ্বারা আহত সঙ্গীকে কী করে?
25একটি হাতি দিনে কত খাবার খেতে পারে?
26শিম্পাঞ্জিরা কোন জিনিস ব্যবহার করে উইপোকা শিকার করে?
27শিম্পাঞ্জিরা পাথর দিয়ে কী ভাঙতে পারে?
28বিজ্ঞানীদের মতে, বুদ্ধিতে শিম্পাঞ্জিরা কার কাছাকাছি?
29পরিযায়ী পাখি কাদের বলে?
30হিমালয় থেকে শীতের সময় কোন পরিযায়ী হাঁস বাংলায় আসে?
31কাক সম্পর্কে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক?
32বিপদে পড়লে কাকেরা কী করে?
33ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহনকারী মশার নাম কী?
34ডেঙ্গি জীবাণু কোন মশা বহন করে?
35কিউলেক্স মশা কখন কামড়ায়?
36স্ত্রী মশা রক্ত খায় কেন?
37বাঘিনী বাচ্চাদের কীভাবে শিক্ষা দেয়?
38বাঘ তার এলাকা চিহ্নিত করতে কী করে?
40তিমির গায়ে কী থাকে না?
41তিমি জলের তলায় ঘুমায় কীভাবে?
42সবচেয়ে বড়ো প্রাণীর নাম কী?
43নীল তিমির প্রধান খাবার কী?
44ইমপ্রিন্টিং (Imprinting) আচরণটি কার গবেষণায় প্রকাশ পায়?
45মৌচাকের ষড়ভুজাকৃতি কুঠুরির সুবিধা কী?
46হাতির দলের কোনো সদস্য মানুষ কর্তৃক পোষ মানলে দল কী করে?
47তিমির ব্লো-হোল (Blowhole) কী?
48কোন কলা মৌমাছিকে ফুলের মধু ও পরাগের খোঁজ দেয়?
1আচরণ বিজ্ঞান (Behavioral Science) কাকে বলে?
জীবজন্তু, পোকামাকড় ও পশুপাখির স্বাভাবিক কাজকর্ম, বাসস্থান, খাদ্যগ্রহণ, প্রজনন, সামাজিকতা, শিকার ও বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি খুঁটিয়ে দেখার ও গবেষণা করার বিদ্যাই আচরণ বিজ্ঞান। চার্লস ডারউইন ও জাঁ আঁরি ফ্যাবা এক্ষেত্রে অগ্রদূত।
2ফ্যাবা-র শুঁয়োপোকা নিয়ে পরীক্ষাটি কী?
ফ্যাবা দেখেন, কিছু শুঁয়োপোকা সঙ্গীসহ একগুঁয়েভাবে সারিবদ্ধভাবে চলে— সামনের জন যে দিকে যায়, পেছনের সবাই সে দিকেই যায়। তিনি এই লাইনকে তুলে একটি গোল টবের কানায় বসিয়ে দেন। ওরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা টবের কানা ধরে চক্কর কাটতে থাকে, ক্লান্তিতে থেমে না পড়া পর্যন্ত ঘুরতেই থাকে। দলের অনুসরণ করার একগুঁয়ে স্বভাবের জন্য কেউই অন্য পথে সরে যায় না।
3টিনবার্জেনের পাখির ডিম নিয়ে পরীক্ষাটি বর্ণনা করো।
ডাচ বিজ্ঞানী নিকো টিনবার্জেন দেখেন— হেরিং গাল নামের পাখিরা মাটিতে ডিম পাড়ে ও তাতে তা দেয়। তিনি বাসার পাশে আসল ডিমের চেয়ে অনেক বড়ো, বেশি চকচকে নকল ডিম রাখলে মা বা বাবা পাখি আসল ডিম ছেড়ে নকল ডিমেই তাড়াতাড়ি তা দিতে চেষ্টা করে। বড়ো ও উজ্জ্বল ডিমের প্রতি তাদের সহজাত আকর্ষণ (Supernormal Stimulus) আছে!
4ইমপ্রিন্টিং (Imprinting) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
জন্মের পরপরই কোনো প্রাণী তার চোখের সামনে প্রথম যে চলমান বস্তুকে দেখে তাকে মা বলে স্থায়ীভাবে মেনে নেওয়ার সহজাত আচরণই ইমপ্রিন্টিং। বিজ্ঞানী কনরাড লরেঞ্জ হাঁসের ছানার ওপর পরীক্ষা করে দেখান— ডিম ফুটে বেরোনোর সময় যদি মায়ের বদলে একটি হলুদ রং করা কাঠের টুকরো বা মানুষকেও দেখানো হয়, ছানারা সেটাকেই 'মা' ভেবে সারাজীবন তার পিছু নেয়।
5মৌমাছির 'নাচের ভাষা' কী? বিজ্ঞানী কার্ল ফন ফ্রিশ কী আবিষ্কার করেছিলেন?
একটি স্কাউট মৌমাছি মধু বা পরাগে ভরা ফুলের সন্ধান পেয়ে মৌচাকে ফিরে অন্য শ্রমিক মৌমাছিদের বুঝিয়ে দিতে বিশেষভাবে নাচে। গোল নাচ (Round dance) মানে খাবার কাছে (<৫০ মি), লেজ নাড়া নাচ (Waggle dance) মানে অনেক দূরে— নাচের কোণ সূর্যের সাপেক্ষে দিক এবং কম্পনের সময়কাল দূরত্ব নির্দেশ করে। কার্ল ফন ফ্রিশ এই আবিষ্কারের জন্য ১৯৭৩ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
6জেন গুডাল কে? তিনি কী নিয়ে গবেষণা করেছিলেন?
জেন গুডাল হলেন প্রথম নারী বিজ্ঞানী যিনি আফ্রিকার গভীর জঙ্গলে গিয়ে বন্য শিম্পাঞ্জিদের আচরণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা করেন। তিনি দেখান শিম্পাঞ্জিরা হাতিয়ার (কাঠি, পাথর) ব্যবহার করে, মাংস খায়, যুদ্ধ করে, পারিবারিক বন্ধন ও আবেগ প্রকাশ করে— যা পূর্বে শুধু মানুষের বৈশিষ্ট্য বলে ধরা হতো।
7পিপড়েরা সমাজবদ্ধ প্রাণী— একটি পিপড়ে পরিবারের গঠন ব্যাখ্যা করো।
পিপড়ে সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। এতে থাকে (১) এক রানি— ডিম পাড়াই একমাত্র কাজ। (২) অসংখ্য বন্ধ্যা স্ত্রী শ্রমিক/সৈন্য— বাসা তৈরি, খাবার জোগাড়, বাচ্চা পালন ও পাহারার কাজ করে। (৩) অল্প সংখ্যক পুরুষ (ড্রোন)— শুধু প্রজননের জন্য। পৃথিবীতে পিপড়ের প্রজাতির সংখ্যা এত বেশি যে, সব প্রাণীর তুলনায় ওজনেও তারা এগিয়ে।
8চাষি পিপড়েরা কীভাবে ছত্রাক চাষ করে?
চাষি পিপড়েরা (Leaf-cutter ants) গাছের তাজা পাতা কেটে মাটির নিচে বাসায় আনে। সেই পাতার স্তূপের ওপর তারা একধরনের সাদা ছত্রাকের চাষ করে। এই ছত্রাকের বিশেষ অংশ (গঙ্গাইল) তাদের প্রধান খাদ্য। পিপড়েরা বছরের পর বছর ধরে সতর্কতার সঙ্গে এই ছত্রাকের পরিচর্যা ও ফসল তোলে— এটি কৃষির এক উন্নত উদাহরণ।
9উইপোকাদের কয়েকটি অভিযোজন উল্লেখ করো যা তাদের গর্তে বসবাসে সাহায্য করে।
(১) দেহ নরম ও আর্দ্র— বাইরে এলে জলীয় বাষ্প বেরিয়ে শুকিয়ে যায়, তাই সুড়ঙ্গ বানিয়ে ভেতরেই চলে। (২) বিশেষ অন্ত্রজীবাণু সেলুলোজ হজম করে কাঠকে খাদ্যে পরিণত করতে পারে, যা অন্য প্রাণী পারে না। (৩) সুড়ঙ্গের ভেতরে বাহিরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত করে। (৪) কাঠের মধ্যেই বাসা বানিয়ে পরিবার গড়ে।
10মৌমাছিরা শীত ও বর্ষায় কীভাবে নিজেদের রক্ষা করে?
শীতে মৌমাছিরা দলবদ্ধভাবে মৌচাকের মধ্যে গোল হয়ে জড়ো হয়ে পাখা নাড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করে চাক গরম রাখে। বর্ষায় মোম ভিজে নরম হয়ে ভেঙে যেতে পারে ও বাচ্চা মারা যেতে পারে— তখন শ্রমিকরা জোরে জোরে পাখা নেড়ে বাতাস করে ভিজে বাসা শুকিয়ে ফেলে ও বাচ্চাদের রক্ষা করে।
11হাতির শুঁড়ের কাজগুলো কী কী?
হাতির শুঁড় নাক ও উপরের ঠোঁট জুড়ে গঠিত অত্যন্ত শক্তিশালী ও দক্ষ অঙ্গ। কাজ: (১) গাছের ডাল-পাতা ভেঙে খাওয়া। (২) বাতাসে গন্ধ শোঁকা। (৩) জল শুষে মুখে ঢালা। (৪) ঘাস ছিঁড়ে মুখে পুরে নেওয়া। (৫) মাটিতে পড়ে থাকা ছোট্ট ফল কুড়িয়ে তোলা। (৬) গোসল করতে জল ছিটানো। (৭) বিপদে শুঁড় তুলে সতর্কসংকেত দেওয়া ও ডাকা।
12হাতি সমাজের নিয়ম-কানুন কেমন কঠোর? উদাহরণ দাও।
হাতি সমাজ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পারিবারিক। বাচ্চাকে সবসময় চোখে চোখে রাখা হয়। দলছুট বাচ্চাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যদি জানতে পারে বাচ্চাটি মানুষের কাছে পোষ মানল বা আশ্রয় নিয়েছে, তাহলে সেই বাচ্চাকে আর কখনো দলে গ্রহণ করে না— তাকে একেবারে পরিত্যাগ করে। এই কঠোর নিয়মের জন্যই বন্য হাতির দল সুসংহত থাকে।
13শিম্পাঞ্জিরা কীভাবে হাতিয়ার ব্যবহার করে? তিনটি উদাহরণ দাও।
(১) পাথরকে হাতুড়ির মতো ব্যবহার করে শক্ত বাদাম বা খোলা ভাঙে। (২) কাঠির ডগা ছাড়িয়ে উইপোকার গর্তে ঢুকিয়ে উইপোকা তুলে খায়। (৩) চিবিয়ে নেওয়া পাতা জলে ডুবিয়ে স্পঞ্জের মতো শুষে জল পান করে। হাতিয়ার তৈরি ও ব্যবহারে মানুষ ছাড়া এত উন্নত আর কোনো প্রাণী নেই।
14পরিযায়ী পাখি কারা এবং তারা কেন পরিযান করে?
যেসব পাখি প্রজনন-স্থল ও খাদ্যসংস্থানের জন্য প্রতি বছর নির্দিষ্ট ঋতুতে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ উড়ে স্থানান্তরিত হয়, তারা পরিযায়ী পাখি। হিমালয়ের উঁচু অঞ্চলে শীতে বরফপাত হলে খাবারের অভাব হয়— তখন বুনো হাঁস, কাজলপাখি-সহ নানা পাখি বাংলার সমতলে চলে আসে। আবার শীত কাটলে প্রজননের জন্য ফিরে যায়। আর্কটিক টার্ন নামে পাখি উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু অবধি যায়।
15কাককে কেন বুদ্ধিমান ও সামাজিক পাখি বলা হয়?
কাকেরা অভূতপূর্ব বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়— তারা খাবার লুকিয়ে রাখতে পারে ও প্রয়োজনমতো খুঁজে বের করে। নানা খাদ্য পেতে বুদ্ধি খাটায় (যেমন গাড়ির চাকায় বাদাম ফেলে ভাঙানো)। বিপদে পড়লে একটি কাক ডাকাডাকি করলে পাড়ার সব কাক জড়ো হয় ও সম্মিলিত শব্দে শত্রুকে তাড়ায় (সামাজিক নিরাপত্তা)। কাকেরা 'সভা' বা 'কাক পার্লামেন্ট'-ও করে, যেখানে শত শত কাক একত্রিত হয়।
16ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি ও ফাইলেরিয়া ছড়ানোর জন্য দায়ী মশাগুলি কী কীভাবে আলাদা?
অ্যানোফিলিস: দেয়ালে বসলে পিছনের দেহ ৪৫° কোণ করে খাড়া থাকে, ডানায় কালো ছোপ, রাতে/সন্ধ্যায় কামড়ায়— ম্যালেরিয়া জীবাণু বহন করে। ইডিস (Aedes): পেটে ও পায়ে সাদা-কালো ডোরা, দিনের বেলা কামড়ায়, পরিষ্কার জমা জলে ডিম পাড়ে— ডেঙ্গি ও চিকুনগুনিয়া ছড়ায়। কিউলেক্স: ডানায় ছোপ নেই, গভীর রাতে নিঃশব্দে কামড়ায়, নোংরা জলে ডিম পাড়ে— ফাইলেরিয়া (গোদ) রোগ বহন করে।
17মশা নিয়ন্ত্রণে আমরা কী কী করতে পারি?
(১) বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া (ডাবের খোলা, ফুলের টব, কাপ, টায়ার ফেলে দেওয়া)। (২) নিয়মিত ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার করা ও গাপ্পি মাছ ছাড়া। (৩) মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো, শরীর ঢেকে রাখা। (৪) মশা নিরোধক ক্রিম/স্প্রে ব্যবহার। (৫) এলাকায় নিয়মিত ফগিং ও কীটনাশক স্প্রে করা। 'জমা জল ফেলো, মশা মারো'— এটাই সহজ স্লোগান।
18স্ত্রী মশা কেন রক্ত খায়, পুরুষ মশা খায় না কেন?
পুরুষ ও স্ত্রী উভয় মশা শক্তির জন্য ফুলের মধু ও গাছের রস খায়। কিন্তু স্ত্রী মশার ডিম্বাশয়ে ডিম পরিপক্ব হতে প্রচুর প্রোটিন প্রয়োজন, যা সে উষ্ণ রক্তের প্রাণী (মানুষ/গরু) কামড়ে রক্ত থেকে সংগ্রহ করে। পুরুষ মশার ডিম্বাশয় নেই, তাই রক্তের প্রয়োজন পড়ে না। স্ত্রী মশা রক্ত খাওয়ার পরই ডিম পাড়তে সক্ষম হয়।
19বাঘিনী কীভাবে তার বাচ্চাদের শিকার শিক্ষা দেয়?
বাঘিনী অত্যন্ত যত্নশীল মা। (১) প্রথমে প্রসবের আগে নির্জন, নিরাপদ গর্ত বা জায়গা খুঁজে বাসা বানায়। (২) বাচ্চা ছোটো হলে নিজে শিকার করে মাংস ছিঁড়ে এনে খাওয়ায়। (৩) একটু বড়ো হলে অর্ধমরা শিকার ধরে এনে বাচ্চাদের সামনে ছাড়ে— যাতে বাচ্চারা তাড়া করে মারার চেষ্টা করে ও শিকার ধরা শেখে। (৪) দাঁত দিয়ে মাংস ছেঁড়া দেখায়। (৫) সাঁতার কাটিয়ে নিয়ে যায়। পূর্ণাঙ্গ শিক্ষায় ৬-৭ মাস লাগে।
20মানুষ-হাতি সংঘাত কেন বাড়ছে? এর সমাধান কী?
কারণ: (১) বনভূমি কেটে কৃষিজমি, রেললাইন, রাস্তা, বসতি তৈরি— ফলে হাতির চলাচলের স্বাভাবিক করিডর নষ্ট। (২) জঙ্গলে খাবার কমে গেলে হাতির দল ফসলের খেতে হানা দেয়। (৩) বাধা দিলে বা পোষা বাচ্চা নিয়ে গেলে হাতি ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরবাড়ি ভাঙে, মানুষকে আক্রমণ করে। সমাধান: বন্যপ্রাণী করিডর রক্ষা, ইকো-সেন্সিটিভ জোন ঘোষণা, বৈদ্যুতিক বেড়া, দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও সচেতনতা।
21তিমি জলে বাস করেও মাছ নয় কেন? প্রমাণ দাও।
তিমি সম্পূর্ণ জলচর হয়েও স্তন্যপায়ী। প্রমাণ: (১) ফুলকার বদলে ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয় ও নিয়মিত ভেসে বাতাস নিতে হয়। (২) সরাসরি বাচ্চা দেয় (ডিম নয়), দুধ খাইয়ে বড়ো করে। (৩) উষ্ণ রক্তের প্রাণী। (৪) দেহের লোম (যদিও সামান্য) আছে। (৫) চামড়ার নিচে চর্বির পুরু স্তর (Blubber) দেহের তাপ ধরে রাখে। (৬) পূর্বপুরুষদের পা ছিল— অভিযোজনে সামনের পা ফ্লিপার ও পেছনের পা লোপ পেয়েছে।
22নীল তিমি সম্পর্কে চারটি তথ্য দাও যা একে পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাণী হিসেবে প্রমাণ করে।
(১) দৈর্ঘ্য ৩০ মিটার পর্যন্ত— তিনটি স্কুল বাসের সমান। (২) ওজন প্রায় ১.৫ লক্ষ কেজি (১৫০ টন)— ৩০টি পূর্ণবয়স্ক হাতি বা প্রায় ২০০০ মানুষের ওজনের সমান। (৩) সদ্যজাত বাচ্চাই ৭ মিটার লম্বা ও ২৫০০ কেজি ওজনের হয়। (৪) দিনে ৩-৪ হাজার কেজি ক্রিল (ক্ষুদ্র চিংড়ি) খায়। (৫) হৃৎপিণ্ড একটি ছোটো গাড়ির সমান, জিভের ওজন একা একটি হাতির সমান।
23তিমি কীভাবে ঘুমায় ও শ্বাস নেয়?
তিমি স্বেচ্ছাশ্বাসী— অর্থাৎ প্রতি নিঃশ্বাস সচেতনভাবে নিতে হয়। তাই পুরোপুরি ঘুমোতে পারে না, নইলে ডুবে মরবে। এদের মস্তিষ্কের একদিকের অর্ধেক জেগে থাকে, অন্য অর্ধেক বিশ্রাম নেয় (Unihemispheric Sleep)। এতে তিমি একইসঙ্গে ধীরে সাঁতরাতে, শ্বাস নিতে ভেসে উঠতে ও বিপদ বুঝতে পারে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর জেগে ভেসে ব্লো-হোল দিয়ে জোরে নিশ্বাস ছেড়ে ও নতুন করে নিঃশ্বাস নেয়।
24ব্লো-হোল (Blowhole) কী? তিমি ভেসে উঠে কেন জোরে নিশ্বাস ছাড়ে?
ব্লো-হোল হলো তিমির মাথার ওপরের বিবর্তিত নাসারন্ধ্র, যা দিয়ে তিমি শ্বাস নেয়। ডুব দেওয়ার সময় ব্লো-হোল ভাল্ভ বন্ধ থাকে। ভেসে উঠে প্রথমে সে জমে থাকা গরম নিশ্বাসের বাতাস অত্যন্ত জোরে বের করে দেয়। এই বাতাসের জলীয় বাষ্প শীতল বাইরের বাতাসে ঘনীভূত হয়ে সাদা ফোয়ারার মতো ওপরে ওঠে, যা বহুদূর থেকে নাবিকেরা দেখতে পায়।
25পিপড়ে ও উইপোকার মধ্যে সমাজব্যবস্থার প্রধান পার্থক্য কী?
পিপড়ের সমাজে শুধুমাত্র স্ত্রীরাই (রানি ও বন্ধ্যা স্ত্রী শ্রমিক/সৈন্য) সব কাজ করে, পুরুষেরা কেবল প্রজননে অংশ নেয়। কিন্তু উইপোকার সমাজে পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ই শ্রমিক ও সৈন্য হতে পারে। উইরানির দেহ সুবিশাল ডিম্ববাহী পেটে পরিণত হয় এবং চলাচলে অক্ষম। আর পিপড়ে রানি ডিম পাড়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে বাসা বদলাতে পারে।
26আচরণ বিজ্ঞানের ইতিহাসে ফ্যাবা, লরেঞ্জ ও গুডালের অবদান সংক্ষেপে লেখো।
জাঁ আঁরি ফ্যাবা: পোকামাকড়ের সহজাত আচরণ (Instinct) নিয়ে অসাধারণ পর্যবেক্ষণ— শুঁয়োপোকা ও মৌমাছির আচরণ নিয়ে লেখা আধুনিক এন্টোমোলজির ভিত্তি। কনরাড লরেঞ্জ: ইমপ্রিন্টিং আবিষ্কার— জন্মের পরেই হাঁসের ছানা কীভাবে প্রথম চলমান বস্তুকে 'মা' ভাবে। জেন গুডাল: বন্য শিম্পাঞ্জিদের দীর্ঘ গবেষণায় দেখান মানুষের মতো তাদের আবেগ, বুদ্ধি ও হাতিয়ার ব্যবহার। তিনজনই নোবেল পুরস্কার (১৯৭৩) বা বিশ্বস্বীকৃতি পেয়েছেন।
27তিমির গায়ের 'ব্লাবার' (Blubber) কী? এর কাজ কী?
ব্লাবার হলো তিমির চামড়ার নিচের পুরু চর্বির স্তর। কাজ: (১) ঠান্ডা সমুদ্রের জলে দেহের তাপ ধরে রাখে (তাপ অন্তরক)। (২) খাদ্যের অভাব হলে এই সঞ্চিত চর্বি ভেঙে বিপাকীয় জল ও শক্তি জোগায়। (৩) প্লবতা (Buoyancy) নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে— জল থেকে ভেসে উঠতে সুবিধা দেয়।
28হাতি কীভাবে যোগাযোগ করে?
হাতি শব্দ, গন্ধ ও স্পর্শের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। (১) শুঁড় উঁচিয়ে তীক্ষ্ণ তূর্যনিনাদ (Trumpeting) ছেড়ে বিপদের সংকেত ও সমাবেশ ডাকে। (২) পায়ের পাতার সংবেদনশীল ত্বক মাটিতে পদাঘাতের ইনফ্রাসাউন্ড কম্পন অনুভব করে, যা বহু কিলোমিটার দূরের হাতিদের কাছে পৌঁছায়। (৩) শুঁড় দিয়ে পরস্পরকে স্পর্শ করে স্নেহ প্রকাশ ও পরিচিতি বজায় রাখে।
29ফন ফ্রিশের মৌমাছির নাচের ভাষা ব্যাখ্যা করো— গোল নাচ ও লেজ নাড়া নাচ।
গোল নাচ (Round Dance): মৌমাছি ঘড়ির কাঁটা ও বিপরীতে পর্যায়ক্রমে ছোটো বৃত্তে ঘোরে— এর অর্থ খাবার মৌচাকের খুব কাছে (৫০ মিটারের মধ্যে)। লেজ নাড়া নাচ (Waggle Dance): মৌমাছি সরলরেখায় লেজ নাড়তে নাড়তে এগিয়ে যায়, তারপর অর্ধবৃত্ত ঘুরে ফিরে ফের সেই সরলরেখায় ফেরে। সরলরেখার দিক (উল্লম্বের সঙ্গে কোণ) সূর্যের অবস্থানের সাপেক্ষে খাবারের দিক, আর নাচের সময়কাল খাবারের দূরত্ব নির্দেশ করে।
30শিম্পাঞ্জি ও মানুষের মধ্যে প্রধান সাদৃশ্যগুলি কী কী?
(১) জিনগত সাদৃশ্য প্রায় ৯৮.৮%। (২) হাতিয়ার তৈরি ও ব্যবহার (কাঠি, পাথর) করে। (৩) মুখভঙ্গি, আলিঙ্গন ও চুম্বনের মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করে। (৪) দলগত শিকার ও যুদ্ধ কৌশল করে। (৫) প্রতিটি রাতে নতুন করে পাতা দিয়ে গাছের ডালে বাসা বানিয়ে ঘুমায়। (৬) মাতৃস্নেহ, দীর্ঘ শৈশব ও শিক্ষা দেওয়ার ধারা রয়েছে। (৭) স্বার্থপরতা ও সহমর্মিতা দুটোই দেখায়।
31কাকের খাবার লুকিয়ে রাখা ও সভা সম্বন্ধে কী জানো?
কাক ভবিষ্যতের জন্য খাবার সঞ্চয় (Caching) করে— বাড়তি খাবার পাতা বা মাটির নিচে লুকিয়ে রাখে এবং ঘণ্টাখানেক বা দিনের পরে ঠিক জায়গাটি মনে রেখে ফিরে খায়। জ্ঞানীরা একে 'এপিসোডিক মেমরি'-র প্রমাণ মনে করেন। 'কাক পার্লামেন্ট' বা সমাবেশে শত শত কাক জড়ো হয়, যেখানে তারা সম্মিলিতভাবে ডাকে— মনে করা হয় এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (যেমন মৃত কাক, নতুন বিপদ) ভাগাভাগি ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
32শিশু হাতিরা কীভাবে সমাজের নিয়ম শেখে? মানুষের সমাজের সঙ্গে এর কী মিল আছে?
শিশু হাতিরা পুরোপুরি মা ও দলের বড়ো মেয়ে সদস্যদের (আন্টি) কাছ থেকে অনুকরণ ও শাসনের মাধ্যমে সমাজের নিয়ম শেখে— কখন কোথায় যেতে হবে, কীভাবে বিপদ এড়াতে হবে, খাদ্য ও জলের সন্ধান করতে হবে। দোষ করলে শাস্তিও পায়। মানুষের সমাজেও শিশুরা একইভাবে পরিবার ও সমাজের বড়োদের দেখে, শুনে ও শাসনের মাধ্যমে ভাষা, রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও জীবনধারণের কৌশল শেখে— একে সমাজীকরণ (Socialization) বলে।
33বাঘ বন ও পরিবেশ রক্ষায় কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
বাঘ হলো বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারী ও 'ছাতা প্রজাতি' (Umbrella species)। বাঘের বাঁচার জন্য প্রয়োজন সুস্থ, বড়ো বন ও পর্যাপ্ত শিকার প্রাণী। বাঘ সংরক্ষণ করতে গেলে পুরো জঙ্গল, সেখানকার হরিণ-বন্য শূকর-সহ সব খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য আপনিই রক্ষা পায়। এছাড়া জঙ্গল কার্বন সিঙ্ক হিসেবে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে, অক্সিজেন ছাড়ে ও জলধারণ করে। সুস্থ বাঘ = সুস্থ জঙ্গল = সুস্থ পরিবেশ। বাঘ না থাকলে তৃণভোজীর সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে বনভূমি ধ্বংস করবে।
34জল জমতে না দেওয়া এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? মশার জীবনচক্রের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করো।
স্ত্রী মশা পরিষ্কার বা নোংরা স্থির জলে ভাসমান অবস্থায় ডিম পাড়ে। ডিম → লার্ভা (শূককীট) → পিউপা (মূককীট) → পূর্ণাঙ্গ মশা— সম্পূর্ণ রূপান্তর ঘটে জলের মধ্যেই ৭-১০ দিনে। জল না থাকলে ডিম পাড়তে পারে না এবং লার্ভা জলেই খাবার খেয়ে বড়ো হয়। সুতরাং, বাড়ির আশপাশে কোনো পাত্রে, ডাবের খোলায়, টায়ারে, টবে জল জমতে না দিলে মশার জীবনচক্র ভেঙে যায় এবং ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের বাহক মশা আপনা-আপনি কমে যায়।
35পরিযায়ী পাখিদের পরিযানের পেছনে জিনগত কারণ ও পরিবেশগত সংকেত কী ভূমিকা রাখে?
পরিযান এক ধরনের সহজাত আচরণ (Instinct), যা জিনে প্রোগ্রাম করা। দিনের দৈর্ঘ্যের ছোটো-বড়ো হওয়া (Photoperiod) এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন পাখির মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি ও হরমোনকে সক্রিয় করে— ফলে অস্থিরতা, অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ (Hyperphagia) ও চর্বি জমা শুরু হয় পথের শক্তির জন্য। পরে জিনগত নির্ধারিত মানচিত্র (অভ্যন্তরীণ কম্পাস) অনুযায়ী পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র, সূর্য ও তারার অবস্থান দেখে অবিশুদ্ধ নির্ভুলতায় হাজার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
1আচরণ বিজ্ঞান কাকে বলে? চার্লস ডারউইন, জাঁ আঁরি ফ্যাবা, কনরাড লরেঞ্জ, নিকো টিনবার্জেন ও কার্ল ফন ফ্রিশ— প্রত্যেকের একটি করে যুগান্তকারী গবেষণা ও অবদানের বিবরণ দাও।
Hint: ডারউইন: প্রাকৃতিক নির্বাচন ও আচরণের বিবর্তন। ফ্যাবা: পোকামাকড়ের সহজাত আচরণ (শুঁয়োপোকার সারিবদ্ধ চলা)। লরেঞ্জ: ইমপ্রিন্টিং (হাঁসের ছানার মা-বন্ধন)। টিনবার্জেন: সুপারনর্মাল স্টিমুলাস (বড়ো নকল ডিমে পাখির আকর্ষণ)। ফন ফ্রিশ: মৌমাছির নাচের ভাষা (দিক ও দূরত্ব বোঝানো)। প্রথম তিনজন ১৯৭৩ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
2পিপড়ে ও উইপোকার সমাজব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করো। উভয়ের বাসস্থান, খাদ্যাভ্যাস, শ্রমবিভাজন ও অভিযোজনের বৈশিষ্ট্যগুলি বর্ণনা করো।
Hint: পিপড়ে: বাসা মাটি/গাছে, খাদ্যভ্যাস বহুরূপী (মৃত পোকা, মধু, ছত্রাক, বীজ শস্য)। শ্রম বিভাজন: রানি (প্রজনন), বন্ধ্যা স্ত্রী (শ্রমিক/সৈন্য), ড্রোন (পুরুষ— স্বল্পকালীন)। উইপোকা: বাসা সুড়ঙ্গ/মাটির ঢিপি। খাদ্য: কাঠ (সেলুলোজ) হজমকারী অন্ত্রজীবাণু। পুরুষ-স্ত্রী উভয়ই শ্রমিক/সৈন্য। রানির পেট সুবিশাল ডিম্ববাহী থলি। উভয়ই সামাজিক কীট।
3মৌমাছি সমাজের গঠন, শ্রমিকের কাজ ও যোগাযোগ পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করো। মৌমাছির নাচের ভাষা কীভাবে খাদ্যের সন্ধান দেয়?
Hint: মৌমাছি সমাজ: রানি (একমাত্র প্রজননক্ষম স্ত্রী), কয়েকশো ড্রোন (পুরুষ), হাজার হাজার বন্ধ্যা স্ত্রী শ্রমিক। শ্রমিকের কাজ: মধু/পরাগ সংগ্রহ, চাক নির্মাণ (মোম), বাচ্চাদের খাওয়ানো, চাক পরিষ্কার, তাপমাত্রা-আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, শত্রুর হাত থেকে রক্ষা (হুল ফুটিয়ে মৃত্যু)। যোগাযোগ: ফেরোমোন (রাসায়নিক সংকেত) ও নাচ। গোল নাচ (কাছে), লেজ নাড়া নাচ (দূরের ফুলের দিক ও দূরত্ব নির্দেশ)— ফন ফ্রিশের নোবেলজয়ী আবিষ্কার।
4হাতির সামাজিক জীবন, যোগাযোগ পদ্ধতি, বুদ্ধিমত্তা ও মানব-হাতি সংঘাতের কারণ ও প্রতিকার আলোচনা করো।
Hint: সামাজিক: মাতৃতান্ত্রিক পরিবার (মা/দিদিমা প্রধান), পুরুষ একাকী। যোগাযোগ: শব্দ, শুঁড়ের স্পর্শ, ইনফ্রাসাউন্ড (পায়ের মাধ্যমে সিসমিক কম্পন)। বুদ্ধিমত্তা: দীর্ঘ স্মৃতি, নিজেকে আয়নায় চেনা, মৃত সঙ্গীর প্রতি শোক। সংঘাতের কারণ: বনভূমি ধ্বংস ও করিডর বিলুপ্তি, খাদ্যের অভাব। প্রতিকার: অভয়ারণ্য সম্প্রসারণ, ইলেকট্রিক ফেন্সিং, সোলার লাইট, ক্ষতিপূরণ ও সচেতনতা।
5শিম্পাঞ্জি ও মানুষের মধ্যে আচরণগত, জিনগত ও সামাজিক সাদৃশ্যগুলি বিশ্লেষণ করো। জেন গুডালের গবেষণা কীভাবে এ বিষয়ে আমাদের ধারণা বদলে দিয়েছে?
Hint: শিম্পাঞ্জি: হাতিয়ার তৈরি/ব্যবহার (কাঠি, পাথর), জটিল সামাজিক বন্ধন ও রাজনীতি, শিকার ও মাংসভোজন, যুদ্ধ, সহমর্মিতা, মাতৃ-স্নেহ ও দীর্ঘ শিশুপালন, আবেগের অভিব্যক্তি। মানুষ: ৯৮.৮% DNA সাদৃশ্য। জেন গুডাল প্রথম দেখান মানুষই একমাত্র হাতিয়ার-ব্যবহারকারী প্রাণী নয়— বরং শিম্পাঞ্জিরা পাতার স্পঞ্জ বানায়, কাঠির দড়ি ছাড়ায়, বাদাম ভাঙে পাথর দিয়ে। তাদের ব্যক্তিত্ব, নামকরণ ও প্রজন্মান্তরের জ্ঞান সঞ্চয় সম্বন্ধে ধারণা দিয়েছেন।
6পরিযায়ী পাখি কাদের বলে? এরা কেন পরিযান করে? পরিযানের সময় তারা দিক নির্ণয় কীভাবে করে এবং এই দীর্ঘ যাত্রায় শক্তি কোথা থেকে পায়? তিনটি পরিযায়ী পাখির উদাহরণ দাও।
Hint: পরিযায়ী: শীতে উত্তর থেকে দক্ষিণে গরম অঞ্চলে আসা, গ্রীষ্মে প্রজননে ফেরা। কারণ: খাদ্যের অভাব, চরম শীত এড়ানো, দিনের আলো কমা। দিক নির্ণয়: সূর্য, তারা, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র, ভূমিরেখা ও গন্ধ। শক্তি: আগে থেকে প্রচুর খেয়ে দেহে ৫০% পর্যন্ত চর্বি জমা (হাইপারফেজিয়া), বাতাসের অনুকূল স্তর ব্যবহার। উদাহরণ: বুনো হাঁস (হিমালয় → বাংলা), খঞ্জনা, কাজলপাখি, আর্কটিক টার্ন (উত্তর মেরু → দক্ষিণ মেরু)।
7তিমি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো। তিমি কেন স্তন্যপায়ী? নীল তিমির আকার, খাদ্য, শ্বাসকার্য, ঘুম ও ব্লাবার-এর ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
Hint: স্তন্যপায়ী প্রমাণ: ফুসফুসে শ্বাস, বাচ্চাকে দুধ, লোম, উষ্ণ রক্ত। নীল তিমি: ৩০ মি, ১৫০ টন— ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো প্রাণী। খাদ্য: ক্রিল (প্রতিদিন ৪ টন)। শ্বাস: ব্লো-হোল দিয়ে স্বেচ্ছায়, ভেসে উঠে পুরোনো বাতাস ফোয়ারার মতো ছাড়ে। ঘুম: ইউনিহেমিস্ফেরিক— মস্তিষ্কের অর্ধেক জাগে, অর্ধেক ঘুমোয়, যাতে ডুবে না যায়। ব্লাবার: চামড়ার নিচে ৩০-৫০ সেমি পর্যন্ত চর্বির স্তর— তাপরোধক, শক্তি ভাণ্ডার ও প্লবতা নিয়ন্ত্রণ করে।
8মশার জীবনচক্র, বিভিন্ন প্রজাতির মশার বৈশিষ্ট্য, রোগবিস্তার প্রক্রিয়া ও প্রতিরোধের উপায়গুলি একটি ছকের মাধ্যমে বর্ণনা করো।
Hint: জীবনচক্র: ডিম → লার্ভা (জলে, ৪ দফা খোলস ছাড়ে) → পিউপা (কমা আকৃতির, খায় না) → ইমাগো/পূর্ণাঙ্গ মশা। অ্যানোফিলিস: ৪৫° কোণে বসে, রাতে কামড়ায়— ম্যালেরিয়া (প্লাজমোডিয়াম)। ইডিস: ডোরাকাটা, দিনের বেলা কামড়ায়— ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া। কিউলেক্স: নিঃশব্দ, গভীর রাতে— ফাইলেরিয়া। প্রতিরোধ: জমা জল ফেলা, মশারি/রিপেলেন্ট, জৈব নিয়ন্ত্রণ (গাপ্পি মাছ, ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস), সময়মতো ফগিং। ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগেই মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।