Chapter 10: পরিবেশের সংকট ও সংরক্ষণ (Environmental Crisis & Conservation)

বন ও জীববৈচিত্র্য, বনের স্তরবিন্যাস, বন ধ্বংসের কারণ ও ফলাফল, সুন্দরবন ও ম্যানগ্রোভ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, প্ল্যাঙ্কটন, সমুদ্র দূষণ, মরুভূমি ও মেরু অঞ্চলের জীব, বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ, IUCN Red Data Book, গঙ্গা শুশুক, একশৃঙ্গ গণ্ডার | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 28 April 2026 Last Update: 31 May 2026
Chapter 10: পরিবেশের সংকট ও সংরক্ষণ

Chapter 10: পরিবেশের সংকট ও সংরক্ষণ

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 23 MCQ | 10 SAQ | 10 Broad Questions

বন সমুদ্র মরুভূমি মেরু বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ
🌲

বনভূমি

33% স্থলভাগ, Canopy, Forest Floor, বন্যা নিয়ন্ত্রণ

🌊

সামুদ্রিক জীব

প্ল্যাঙ্কটন, ম্যানগ্রোভ, বায়োলুমিনেসেন্স, অক্টোপাস

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

23 টি
1. পৃথিবীর স্থলভাগের কত শতাংশ বনভূমি দ্বারা ঢাকা?
ক) ক) 10%
খ) খ) 21%
গ) গ) 33% (এক-তৃতীয়াংশ)
ঘ) ঘ) 50%
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (33%) বনভূমি দ্বারা ঢাকা। ভারতের স্থলভাগের প্রায় 21% বনভূমি। তবে বিশ্বব্যাপী বনভূমির পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে কমছে। 2011 সালকে জাতিসংঘ 'আন্তর্জাতিক বনবর্ষ' (International Year of Forests) হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
2. বনের স্তরবিন্যাসের (Stratification) একদম ওপরের স্তরটিকে কী বলা হয়?
ক) ক) আন্ডারস্টোরি
খ) খ) ছাদ (Canopy)
গ) গ) ফরেস্ট ফ্লোর
ঘ) ঘ) শাব স্তর
ব্যাখ্যা: বনের একদম ওপরের স্তরকে 'ছাদ' (Canopy) বলা হয় — গাছের চূড়াগুলো এক হয়ে এই স্তর গঠন করে, যা সূর্যের আলোকে বনের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। এটি সাধারণত 30 মিটার উচ্চতায় তৈরি হয়, কখনো 90 মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
3. বনের মেঝের ওপরের স্তরটি (Forest Floor) কী দিয়ে তৈরি হয়?
ক) ক) কংক্রিট
খ) খ) মরা পাতা, ফুলের পাপড়ি, পচা ফল, প্রাণীর মল — জৈব পদার্থ দিয়ে
গ) গ) বালি
ঘ) ঘ) কাদা
ব্যাখ্যা: বনের মেঝে (Forest Floor) — মরা পাতা, ফুলের পাপড়ি, পচা ফল, গাছের ছোট ডাল, পাখির পালক, প্রাণীর মল ও মৃতদেহ ইত্যাদি জৈব পদার্থ দিয়ে তৈরি। এগুলি পচে হিউমাস তৈরি হয়, যা থেকে বনের গাছের বৃদ্ধির সহায়ক নানা খনিজ মৌল ও অ্যামোনিয়া নির্গত হয়।
4. 2011 সালকে জাতিসংঘ কী হিসেবে ঘোষণা করেছিল?
ক) ক) আন্তর্জাতিক জলবর্ষ
খ) খ) আন্তর্জাতিক বনবর্ষ (International Year of Forests)
গ) গ) আন্তর্জাতিক ধরিত্রী বর্ষ
ঘ) ঘ) আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য বর্ষ
ব্যাখ্যা: বন বাঁচানোর সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UN) 2011 সালকে 'আন্তর্জাতিক বনবর্ষ' (International Year of Forests) হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
5. একটি 50 বছর বয়সী গাছ তার জীবদ্দশায় প্রায় কত কেজি অক্সিজেন বাতাসে ছাড়ে?
ক) ক) 500 কেজি
খ) খ) 2700 কেজি
গ) গ) 1000 কেজি
ঘ) ঘ) 5000 কেজি
ব্যাখ্যা: একটি বৃক্ষ জাতীয় গাছ যদি প্রায় 50 বছর বেঁচে থাকে, তবে সে তার জীবদ্দশায় প্রায় 2700 কেজি অক্সিজেন (O₂) বাতাসে ছাড়ে। এটি বনভূমির অক্সিজেন উৎপাদনের গুরুত্ব বোঝায়।
6. বনে আগুন লাগার প্রাকৃতিক কারণ নয় কোনটি?
ক) ক) অগ্নুৎপাতে গরম লাভা
খ) খ) বজ্রপাত
গ) গ) ধূমপান ও রান্না করা
ঘ) ঘ) বাঁশগাছে ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা: বনে আগুন লাগার প্রাকৃতিক কারণ: (i) অগ্নুৎপাতের গরম লাভা। (ii) বজ্রপাত। (iii) তীব্র বায়ুপ্রবাহে বাঁশগাছে ঘর্ষণ। মানবসৃষ্ট কারণ: ধূমপান, রান্না করা, শিকার, কৃষিজমি সম্প্রসারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো।
7. বন কেটে ফেলার ফলে মাটি থেকে পাথর বেরিয়ে আসা ও মরুভূমি সৃষ্টির ঘটনাকে কী বলে?
ক) ক) বনসৃজন
খ) খ) মরুকরণ (Desertification)
গ) গ) পলিমাটি জমা
ঘ) ঘ) ভূমিক্ষয়
ব্যাখ্যা: মরুকরণ/মরুভূমিকরণ (Desertification): বন কেটে ফেলায় গাছের শিকড় আর মাটির কণা আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে না। বৃষ্টির ধারায় মাটি ধুয়ে যায় ও পাথর বেরিয়ে আসে। বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনা চলতে থাকলে মরুভূমি পর্যন্ত সৃষ্টি হতে পারে।
8. ম্যানগ্রোভ অরণ্যের গাছেরা শ্বাসকার্য চালায় কীসের সাহায্যে?
ক) ক) পাতার মাধ্যমে
খ) খ) শ্বাসমূল (Pneumatophore)-এর মাধ্যমে
গ) গ) শুধু কাণ্ডের মাধ্যমে
ঘ) ঘ) ফুলের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা: ম্যানগ্রোভ অরণ্যের (সুন্দরবন) গাছ যেমন — বাইন, পশুর, কেওড়া, গরান — জোয়ারের সময় কাদায় ডুবে যায়। মাটির নীচের শিকড়ে O₂ পৌঁছতে পারে না। তাই এদের মূল থেকে মাটির ওপরে অসংখ্য শ্বাসমূল (Pneumatophore) বেরিয়ে বাতাস থেকে O₂ গ্রহণ করে।
9. সমুদ্রের জলে লবণের পরিমাণ কত (প্রতি 1000 গ্রাম)?
ক) ক) 5-10 গ্রাম
খ) খ) 33-38 গ্রাম
গ) গ) 100 গ্রাম
ঘ) ঘ) 1-2 গ্রাম
ব্যাখ্যা: সমুদ্রের জলে প্রতি 1000 গ্রাম (1 লিটার)-এ প্রায় 33-38 গ্রাম লবণ দ্রবীভূত থাকে। স্থলভাগের উদ্ভিদেরা এই উচ্চ লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে না — ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদেরা আংশিকভাবে মূল বা পাতার লবণগ্রন্থির সাহায্যে অতিরিক্ত লবণ দেহ থেকে বের করে দেয়।
10. সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটন প্রধানত কত প্রকার?
ক) ক) 1
খ) খ) 2 — ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটন
গ) গ) 3
ঘ) ঘ) 4
ব্যাখ্যা: প্ল্যাঙ্কটন (Plankton) — স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে পারে না এরকম ভাসমান অণুবীক্ষণিক জীব। প্রধানত 2 প্রকার: (i) ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন (উদ্ভিদ — সালোকসংশ্লেষী, O₂ উৎপাদক)। (ii) জুপ্ল্যাঙ্কটন (প্রাণী — ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন খায়)। এরা জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি।
11. ডায়াটম (Diatom)-এর কোশপ্রাচীর কী দিয়ে গঠিত?
ক) ক) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
খ) খ) সিলিকা (Silica)
গ) গ) কাইটিন
ঘ) ঘ) সেলুলোজ
ব্যাখ্যা: ডায়াটম (Diatom) — এককোশী ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন। এককভাবে বা শৃঙ্খলাকারে কলোনি তৈরি করে। এদের কোশপ্রাচীর সিলিকা (SiO₂) দিয়ে গঠিত — যা স্বচ্ছ কাচের মতো। ডায়াটম মারা গেলে সমুদ্রতলে সিলিকা সঞ্চিত হয়ে ডায়াটোমাইট (Diatomaceous Earth) তৈরি হয়।
12. বায়োলুমিনেসেন্স (Bioluminescence) কী?
ক) ক) সূর্যের আলো
খ) খ) জীবদেহ থেকে নির্গত 'ঠান্ডা আলো' (রাসায়নিক বিক্রিয়ায়)
গ) গ) বিদ্যুৎ চমকানো
ঘ) ঘ) আগুনের আলো
ব্যাখ্যা: বায়োলুমিনেসেন্স (Bioluminescence): কিছু সামুদ্রিক জীবের দেহে লুসিফেরিন (Luciferin) ও লুসিফারেজ (Luciferase) উৎসেচকের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন 'ঠান্ডা আলো' (তাপবিহীন)। গভীর সমুদ্রে (200-1000 m) শিকার, আত্মরক্ষা ও ছদ্মবেশের জন্য ব্যবহৃত হয়। জোনাকি পোকাও বায়োলুমিনেসেন্ট।
13. সাগরকুসুম (Sea Anemone)-এর পাপড়ির মতো উপাঙ্গগুলি আসলে কী?
ক) ক) পাতা
খ) খ) কর্ষিকা (Tentacles) — অসংখ্য দংশক কোশযুক্ত
গ) গ) ফুল
ঘ) ঘ) পা
ব্যাখ্যা: সাগরকুসুম (Sea Anemone) — নরম ও লম্বা বৃত্তের ওপর ফুলের পাপড়ির মতো দেখতে। এই 'পাপড়ি'গুলি আসলে কর্ষিকা (Tentacles), যাতে অসংখ্য দংশক কোশ (Nematocyst) থাকে। ছোট মাছ বা প্রাণী শিকার করতে ও আত্মরক্ষায় কাজে লাগে। মাঝখানে মুখ থাকে।
14. অক্টোপাসের বাহুর সংখ্যা কত?
ক) ক) 6
খ) খ) 8
গ) গ) 10
ঘ) ঘ) 12
ব্যাখ্যা: অক্টোপাস (Octopus — 'অক্টো' = আট, 'পাস' = পা): বাহুর সংখ্যা 8। লম্বা শুঁড়ের মতো বাহুতে অসংখ্য শোষক যন্ত্র (Sucker) থাকে। কেন্দ্রে মুখ। আক্রান্ত হলে কালি ছিটিয়ে জল ঘোলা করে পালায়। মা অক্টোপাস ডিম পাড়ার পর না খেয়ে পাহারা দেয় এবং বাচ্চা ফোটার পর মারা যায়।
15. হাঙর (Shark)-এর কঙ্কাল কী দিয়ে গঠিত?
ক) ক) শক্ত হাড়
খ) খ) কোমল তরুণাস্থি (Cartilage)
গ) গ) কাইটিন
ঘ) ঘ) সিলিকা
ব্যাখ্যা: হাঙর (Shark) — হাড়ের পরিবর্তে কোমল তরুণাস্থি (Cartilage) দিয়ে গঠিত কঙ্কালবিশিষ্ট মাছ (Chondrichthyes)। আমাদের নাকের ডগা ও কানের শক্ত অংশও তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি। হাঙরের দাঁত ভেঙে গেলে পেছনের সারির দাঁত সামনে এগিয়ে আসে।
16. কোয়েলকান্থ (Coelacanth) মাছ সম্পর্কে সঠিক তথ্য কোনটি?
ক) ক) সম্পূর্ণ বিলুপ্ত
খ) খ) 'জীবন্ত জীবাশ্ম' (Living Fossil) — ৬.৫ কোটি বছর আগে বিলুপ্ত ভাবা হলেও ১৯৩৮ সালে পুনরাবিষ্কৃত
গ) গ) স্বাদু জলের মাছ
ঘ) ঘ) প্ল্যাঙ্কটন
ব্যাখ্যা: কোয়েলকান্থ (Coelacanth): লোব-পাখনাযুক্ত মাছ — প্রায় 6.5 কোটি বছর আগে ডাইনোসরের সাথে বিলুপ্ত বলে মনে করা হত। 1938 সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্রে জীবিত অবস্থায় আবিষ্কৃত হয়। এজন্য একে 'জীবন্ত জীবাশ্ম' (Living Fossil) বলা হয়।
17. IUCN-এর Red Data Book কী?
ক) ক) লাল রঙের বই
খ) খ) বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির তালিকা (Red List)
গ) গ) রান্নার বই
ঘ) ঘ) পাখির বই
ব্যাখ্যা: IUCN (International Union for Conservation of Nature) — পৃথিবীর বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির একটি লাল তালিকা (Red List) প্রকাশ করে। এটি 'Red Data Book' নামে পরিচিত। ক্যাটেগরি: বিলুপ্ত (Extinct), সংকটাপন্ন (Critically Endangered), বিপন্ন (Endangered), বিপদগ্রস্ত (Vulnerable) ইত্যাদি।
18. Ex Situ সংরক্ষণ পদ্ধতি বলতে কী বোঝায়?
ক) ক) প্রাকৃতিক বনে সংরক্ষণ
খ) খ) স্বাভাবিক বাসস্থানের বাইরে কৃত্রিম পরিবেশে (চিড়িয়াখানা/বোটানিক্যাল গার্ডেন) সংরক্ষণ
গ) গ) অভয়ারণ্যে সংরক্ষণ
ঘ) ঘ) শিকার নিষিদ্ধ করা
ব্যাখ্যা: Ex Situ (অফ-সাইট) সংরক্ষণ: যে জীবকে তার প্রাকৃতিক বাসস্থানে (In Situ) বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না, তাকে স্বাভাবিক বাসস্থানের বাইরে কৃত্রিম পরিবেশে — যেমন চিড়িয়াখানা (Zoo), বোটানিক্যাল গার্ডেন, জিন ব্যাঙ্ক, ক্রায়োপ্রিজারভেশন — এনে সংরক্ষণ করার পদ্ধতি।
19. গঙ্গা শুশুক (Gangetic Dolphin) কী ধরনের প্রাণী?
ক) ক) মাছ
খ) খ) স্তন্যপায়ী জলজ প্রাণী (Cetacean)
গ) গ) সরীসৃপ
ঘ) ঘ) উভচর
ব্যাখ্যা: গঙ্গা শুশুক (Platanista gangetica) — স্বাদু জলের স্তন্যপায়ী জলজ প্রাণী (Cetacean)। ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়, বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়। নাসাগহ্বরের ডরসাল বার্সার সাহায্যে ইকোলোকেশন (Echolocation) করে পথ চলে। চোখে লেন্স নেই — কার্যত অন্ধ। ভারতের জাতীয় জলজ প্রাণী (National Aquatic Animal)।
20. একশৃঙ্গ গণ্ডারের খড়গ কী দিয়ে তৈরি?
ক) ক) হাড়
খ) খ) কেরাটিন (Keratin) — প্রোটিন
গ) গ) ক্যালসিয়াম
ঘ) ঘ) দাঁতের এনামেল
ব্যাখ্যা: গণ্ডারের খড়গ (Horn) — কেরাটিন (Keratin) নামক একধরনের প্রোটিন দিয়ে গঠিত। আমাদের চুল ও নখও কেরাটিন দিয়ে তৈরি। ভেঙে গেলে পুনরায় গজায়। ৬ বছর বয়স থেকে গজাতে শুরু করে। ভ্রান্ত বিশ্বাসে একে ঔষধি গুণসম্পন্ন ভেবে চোরাশিকারিদের লোভের শিকার হয় — যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
21. আর্থ সামিট (Earth Summit) 1992 কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
ক) ক) নিউ ইয়র্ক
খ) খ) জেনেভা
গ) গ) রিও ডি জেনেইরো (Rio de Janeiro)
ঘ) ঘ) টোকিও
ব্যাখ্যা: 1992 সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে পরিবেশ বিষয়ক এক বিশ্ব সম্মেলন (Earth Summit/UNCED) অনুষ্ঠিত হয়। এখানে পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যা ও তার নিয়ন্ত্রণের জন্য 'এজেন্ডা-21' (Agenda 21) — একুশ দফা কর্মসূচি গৃহীত হয়। মুখ্য বিষয়: টেকসই উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য।
22. সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ গাছেরা কীভাবে বংশরক্ষা করে?
ক) ক) বীজ উড়ে গিয়ে
খ) খ) মাতৃগাছে থাকতেই ফলের মধ্যে অঙ্কুরোদগম (Vivipary) হয় — চারা সরাসরি কাদায় গেঁথে যায়
গ) গ) পাখির মাধ্যমে
ঘ) ঘ) বায়ুর মাধ্যমে
ব্যাখ্যা: ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ (গরান, কেওড়া, বাইন)-এর ফল মাটিতে পড়ার আগেই মাতৃগাছের মধ্যেই অঙ্কুরোদগম ঘটে (Vivipary Germination)। সৃষ্ট চারাটি সূচালো শিকড়-সহ সোজা নীচের কাদায় গেঁথে যায় — জোয়ারের টানে ভেসে যায় না। একে ভিভিপ্যারি (Vivipary) বলে।
23. সমুদ্র দূষণের ফলে 'অ্যালগাল ব্লুম' (Algal Bloom) কীভাবে সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি করে?
ক) ক) আলো বাড়ায়
খ) খ) পুষ্টির আধিক্যে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের বিস্ফোরক বৃদ্ধি → O₂ হ্রাস → মাছ মারা যায়
গ) গ) জল ঠান্ডা করে
ঘ) ঘ) লবণাক্ততা বাড়ায়
ব্যাখ্যা: রাসায়নিক সার ও পয়ঃপ্রণালীর জৈব বর্জ্য সমুদ্রে মিশলে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বিস্ফোরক হারে বৃদ্ধি পায় — একে অ্যালগাল ব্লুম (Algal Bloom) বলে। এরা জলের স্বচ্ছতা কমিয়ে দেয় — সূর্যালোক প্রবেশে বাধা → সালোকসংশ্লেষ ব্যাহত। এছাড়া এদের শ্বাসকার্যের ফলে জলের দ্রবীভূত O₂ শেষ হয়ে → মাছ ও অন্যান্য প্রাণী অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

10 টি
1. 🌳 বনের স্তরবিন্যাস (Forest Stratification)-এর পাঁচটি স্তরের নাম ও বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

  1. ছাদ (Canopy) — সর্বোচ্চ স্তর: গাছের মাথাগুলো এক হয়ে ছাদ গঠন করে। সূর্যালোককে বনের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। উচ্চতা সাধারণত 30 m, কখনো 90 m।
  2. আন্ডারস্টোরি (Understory) — দ্বিতীয় স্তর: ছাদের নীচের স্তর। ক্রমশ লম্বা হয়ে ওঠা ছোট গাছ, গুল্ম। বাতাসের বেগ ও আলো তুলনামূলক কম।
  3. শাব স্তর (Shrub Layer) — তৃতীয় স্তর: নতুন জন্মানো গাছ, পরিণত গুল্ম ও লতানো গাছ। ছোট প্রাণীদের খাদ্য, বাসস্থান ও আত্মরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  4. বীরুৎ স্তর (Herb Layer) — চতুর্থ স্তর: অল্প উচ্চতার বীরুৎজাতীয় উদ্ভিদ, সদ্য অঙ্কুরিত চারা, ফার্ন, ঘাস ও আগাছা। ইঁদুর, পোকামাকড়, সাপ, পাখি বাস করে।
  5. বনের মেঝে (Forest Floor) — নিম্নতম স্তর: মরা পাতা, ফুল, ফল, ডাল, পালক ও প্রাণীর দেহাবশেষ দিয়ে তৈরি। পচে হিউমাস ও খনিজ পুষ্টি উৎপন্ন করে। কেঁচো, আরশোলা, শামুক ও অণুজীবের আবাস।
2. 🌳 বনভূমি বাঁচানোর উপায়গুলি কী কী? (5টি উপায়)

উত্তর:

  1. বনাঞ্চলে গাছকাটা বন্ধ করা — আইন করে যথেচ্ছভাবে গাছ কাটা নিষিদ্ধ করতে হবে।
  2. নতুন করে গাছ লাগানো ও বনসৃজন (Afforestation) — কাটা গাছের জায়গায় পুনরায় চারা রোপণ ও নতুন বনাঞ্চল তৈরি।
  3. বনে আগুন লাগার সম্ভাবনা কমানো — ধূমপান, রান্না, শিকারিদের অসাবধানতা নিবারণ; ফায়ার লাইন তৈরি।
  4. পরিণত গাছ কেটে সেই জায়গায় একই প্রজাতির চারা লাগানো — টেকসই বনব্যবস্থাপনা (Sustainable Forestry) — 'Selective Logging'।
  5. পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ ও রোগাক্রান্ত গাছের চিকিৎসা — বনাঞ্চলে অতিরিক্ত গবাদি পশু চরানো বন্ধ করা এবং রোগ-পোকার আক্রমণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
3. 🌳 বনে আগুন লাগার প্রধান কারণ ও তার ফলাফল আলোচনা করো।

উত্তর:

কারণ:

  1. প্রাকৃতিক: (i) অগ্নুৎপাতের সময় গরম লাভার সংস্পর্শে শুকনো গাছ জ্বলে ওঠা। (ii) বজ্রপাত। (iii) তীব্র বায়ুপ্রবাহে বাঁশগাছে ঘর্ষণে আগুন।
  2. মানবসৃষ্ট: (i) বনের ভেতর ধূমপান ও রান্না করা। (ii) কৃষিজমি সম্প্রসারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন (Slash & Burn/Jhum)। (iii) অসাবধানতা বা নাশকতা।

ফলাফল:

  • CO₂ বেড়ে O₂ কমে → বিশ্বউষ্ণায়ন ত্বরান্বিত হয়।
  • বৃষ্টিপাতের প্রায় 50% শোষণ ক্ষমতা নষ্ট → বন্যার সম্ভাবনা বাড়ে।
  • গাছ পুড়ে মাটির ক্ষয় বেড়ে যায় → জলদূষণ।
  • বহু প্রাণীর তাৎক্ষণিক মৃত্যু ও অন্যদের আশ্রয়হীনতা → জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি।
  • উদাহরণ: 1910-তে আমেরিকার দাবানলে ~3 মিলিয়ন একর বন নষ্ট, 87 জন দমকলকর্মীর মৃত্যু।
4. 🌊 ম্যানগ্রোভ অরণ্যের (সুন্দরবন) উদ্ভিদেরা কী কী অভিযোজনের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকে?

উত্তর:

ম্যানগ্রোভের প্রতিকূলতা: উচ্চ লবণাক্ততা (33-38 g/L), কর্দমাক্ত O₂-স্বল্প মাটি, জোয়ার-ভাটার টান, জলাবদ্ধতা।

অভিযোজন (Adaptations):

  1. শ্বাসমূল (Pneumatophore): মাটির নীচের শিকড় কাদায় ডুবে O₂ না পাওয়ায় — মূল থেকে মাটির ওপরে অসংখ্য নলাকার শ্বাসমূল বেরিয়ে বাতাস থেকে O₂ গ্রহণ করে।
  2. ঠেসমূল (Stilt Root): গরান গাছের মতো — জোয়ার-ভাটার টানে উপড়ে না যাওয়ার জন্য কাণ্ডের গোড়া থেকে ঠেসমূল বেরিয়ে মাটিতে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে।
  3. ভিভিপ্যারি (Vivipary): ফল মাটিতে পড়ার আগেই মাতৃগাছের ভেতরেই অঙ্কুরোদগম হয় — সূচালো চারা সরাসরি কাদায় গেঁথে যায়। (গরান, কেওড়া, বাইন)।
  4. লবণ নিঃসরণ: অতিরিক্ত লবণ পাতার লবণগ্রন্থি (Salt Gland) বা পুরনো পাতা ঝরিয়ে দেহ থেকে বের করে দেয়।
5. 🌊 ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটনের মধ্যে পার্থক্য লেখো। পরিবেশে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের গুরুত্ব কী?

উত্তর:

বিষয়ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন (Phytoplankton)জুপ্ল্যাঙ্কটন (Zooplankton)
শ্রেণিউদ্ভিদ (অণুবীক্ষণিক শৈবাল)প্রাণী (অণুবীক্ষণিক প্রাণী)
পুষ্টিস্বভোজী — সালোকসংশ্লেষ করে খাদ্য তৈরিপরভোজী — ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটন খায়
উদাহরণডায়াটম, ডাইনোফ্ল্যাজেলেট, সায়ানোব্যাকটেরিয়াকোপিপড, ক্রিল, ফোরামিনিফেরা
O₂ উৎপাদনপৃথিবীর ~50% O₂ উৎপাদনO₂ গ্রহণ করে
খাদ্যশৃঙ্খলউৎপাদক — খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তিপ্রথম স্তরের খাদক — তিমি, মাছের খাদ্য

পরিবেশে গুরুত্ব: (i) পৃথিবীর অর্ধেক O₂ সরবরাহ। (ii) সমুদ্রের খাদ্যজালের (Food Web) ভিত্তি। (iii) কার্বন চক্র — CO₂ শোষণ ও সমুদ্রতলে কার্বন সঞ্চয়ে (Biological Carbon Pump) ভূমিকা।

6. 🌊 সামুদ্রিক দূষণের ৪টি প্রধান উৎস ও প্রভাব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

  1. রাসায়নিক সার ও পয়ঃপ্রণালীর জৈব বর্জ্য: অ্যালগাল ব্লুম → জলে O₂ ঘাটতি → Eutrophication (সুপুষ্টিকরণ) → 'ডেড জোন'।
  2. তেল দূষণ (Oil Spill): জাহাজ দুর্ঘটনা বা তেল তোলার প্ল্যাটফর্ম লিকেজ। জলের ওপর তেলের স্তর → O₂ চলাচল ব্যাহত। সামুদ্রিক পাখির পালকে তেল লেগে তাপ ও জল নিরোধক ক্ষমতা নষ্ট → মৃত্যু।
  3. প্লাস্টিক দূষণ: সামুদ্রিক প্রাণী খাবার ভেবে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে → খাদ্যনালীতে বাধা → অনাহারে মৃত্যু। মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে।
  4. জলবায়ু পরিবর্তন → মহাসাগরের অম্লীকরণ (Ocean Acidification): বায়ুমণ্ডলের CO₂ সমুদ্রে শোষিত → H₂CO₃ → pH কমে। ফলে কোরাল, কাঁকড়া, লবস্টারের ক্যালসিয়াম কার্বনেটের খোলক তৈরি ব্যাহত → দুর্বল বা দ্রবীভূত হয়ে যায়।
7. 🐬 গঙ্গা শুশুক (Gangetic Dolphin)-এর গঠন, অভিযোজন ও সংকট সম্পর্কে লেখো।

উত্তর:

গঠন ও অভিযোজন: স্তন্যপায়ী, ফুসফুসে শ্বাস নেয় — জলের ওপরে ভেসে নাসারন্ধ্র দিয়ে বায়ু নেয়। চোখে লেন্স নেই — কার্যত অন্ধ। শব্দ তরঙ্গ (Click) ছুড়ে প্রতিধ্বনি শুনে পথ চলে — ইকোলোকেশন (Echolocation)। সামনের দুটি পা ফ্লিপারে (Flipper) পরিণত, লেজ চ্যাপটা। ২৭-৩২টি ছোট দাঁত — সব একই ধরনের। চামড়ার নীচে পুরু ব্লাবার (Blubber) — তাপ নিরোধক।

সংকট: (i) নদীবাঁধ → গভীরতা কমে, বালির চর জেগে দল বিচ্ছিন্ন → অন্তঃপ্রজনন। (ii) জলদূষণ — কলকারখানার বর্জ্য, তেল শোধনাগার → মাছের সংখ্যা কমে → খাদ্যাভাব। (iii) মাছ ধরার জালে আটকে মৃত্যু।

সংরক্ষণ: জাতীয় জলজ প্রাণী (National Aquatic Animal, 2009)। বিক্রমশীলা গ্যাঞ্জেটিক ডলফিন স্যাংচুয়ারি (বিহার, 1991)। উত্তরপ্রদেশের বিজঘাট-নারোরা গঙ্গা অঞ্চল — রামসর স্থান (Ramsar Site) ঘোষিত।

8. 🦏 একশৃঙ্গ গণ্ডার: গঠন, অভ্যাস, সংকট ও সংরক্ষণ সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

উত্তর:

গঠন: চামড়া পুরু (4 cm), ভাঁজযুক্ত — বর্ম পরা মনে হয়। নাকের ওপরে ~60 cm লম্বা একটিমাত্র খড়গ — কেরাটিন (Keratin) প্রোটিন দিয়ে গঠিত (যেমন নখ/চুল)। নীচের চোয়ালের ছেনে-দাঁত (Incisor) খুব লম্বা।

অভ্যাস: তৃণভোজী (লম্বা ঘাস, জলজ উদ্ভিদ, ফল)। একই জায়গায় মলত্যাগ করে → মলস্তূপ (Dunghill) তৈরি। একাকী বাস, ঘ্রাণশক্তি প্রবল, দৃষ্টিশক্তি দুর্বল।

সংকট: (i) চোরাশিকার — ভ্রান্ত বিশ্বাসে খড়গের 'ঔষধি গুণ' আছে মনে করে (কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই)। (ii) বাসস্থান ধ্বংস — বন কেটে কৃষিজমি ও বসতি সম্প্রসারণ।

সংরক্ষণ: ভারত — মানস, কাজিরাঙা, পবিতরা (আসাম); জলদাপাড়া, গোরুমারা (পশ্চিমবঙ্গ); দুধওয়া (উ.প্র.)। নেপাল — চিতওয়ান ন্যাশনাল পার্ক। আইনে শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। IUCN: Vulnerable।

9. 📊 IUCN Red Data Book-এর বিপন্নতার বিভিন্ন ক্যাটেগরি (Category) কী কী? সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

IUCN (International Union for Conservation of Nature) জীববৈচিত্র্যের অবস্থা অনুযায়ী প্রজাতিগুলোকে নিম্নলিখিত ক্যাটেগরিতে ভাগ করে:

  1. বিলুপ্ত (Extinct — EX): ওই প্রজাতির শেষ সদস্যটিও মারা গেছে। আর কখনো দেখা যাবে না — যেমন ডোডো, প্যাসেঞ্জার পিজিয়ন।
  2. বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত (Extinct in the Wild — EW): শুধু চিড়িয়াখানা বা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে কয়েকটি জীবিত — বন্য পরিবেশে আর নেই।
  3. মহাবিপন্ন (Critically Endangered — CR): নিকট ভবিষ্যতে যে কোনো সময় বিলুপ্ত হতে পারে — যেমন জাভান গণ্ডার, লেদারব্যাক কচ্ছপ।
  4. বিপন্ন (Endangered — EN): বন্য পরিবেশে বিলুপ্তির সমূহ সম্ভাবনা — যেমন রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এশিয়াটিক লায়ন।
  5. বিপদগ্রস্ত (Vulnerable — VU): অদূর ভবিষ্যতে বিপন্ন হতে পারে — যেমন একশৃঙ্গ গণ্ডার, গঙ্গা শুশুক।
  6. প্রায়-বিপদগ্রস্ত (Near Threatened — NT): এখনো বিপন্ন নয়, কিন্তু বিপদগ্রস্ত হওয়ার কাছাকাছি।
  7. ন্যূনতম উদ্বেগজনক (Least Concern — LC): সংখ্যা পর্যাপ্ত — বিলুপ্তির আশঙ্কা কম।
10. 🛡️ In Situ ও Ex Situ সংরক্ষণের মধ্যে পার্থক্য কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর:

বিষয়In Situ (স্থানিক) সংরক্ষণEx Situ (স্থানান্তরিত) সংরক্ষণ
অবস্থানজীবের নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানেপ্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে কৃত্রিম পরিবেশে
পদ্ধতিঅভয়ারণ্য, ন্যাশনাল পার্ক, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভচিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জিন ব্যাংক, ক্রায়োপ্রিজারভেশন
সুবিধাপ্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র অক্ষুণ্ণ, প্রজাতি স্বাধীনসংকটাপন্ন প্রজাতির শেষ সদস্যদের বাঁচানো, নিয়ন্ত্রিত প্রজনন
উদাহরণসুন্দরবন (টাইগার), কাজিরাঙা (গণ্ডার)আলিপুর চিড়িয়াখানা, শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন, ন্যাশনাল জিন ব্যাংক

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর

10 টি
1. বনভূমির গুরুত্ব, সংকট ও সংরক্ষণের উপায় বিস্তারিত আলোচনা করো। বন ধ্বংসের ফলাফল (Desertification, Global Warming, Biodiversity Loss) বর্ণনা করো।

বনভূমির গুরুত্ব

  • জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও CO₂/O₂ ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। একটি 50 বছর বয়সী গাছ জীবনে 2700 kg O₂ ছাড়ে।
  • জীববৈচিত্র্যের আধার: জীবজন্তুর আশ্রয়স্থল — ধারণ করে 80% স্থলজ প্রজাতি।
  • মাটি ও জল সংরক্ষণ: গাছের শিকড় মাটির কণা আঁকড়ে ধরে → মৃত্তিকা ক্ষয় ও বন্যা রোধ। বৃষ্টির জল ভূগর্ভে প্রবেশ করিয়ে জলস্তর নিয়ন্ত্রণ।
  • অর্থনৈতিক: কাঠ, জ্বালানি, ওষুধ (কুইনাইন, ট্যাক্সল), আঠা, রেজিন, কাগজের কাঁচামাল।

সংকট ও কারণ:

কৃষিজমি সম্প্রসারণ (Slash & Burn), নগরায়ণ, কাঠ পাচার, খনন, বাঁধ, বনে আগুন।

ফলাফল:

  • মরুকরণ (Desertification): গাছহীন মাটি ধুয়ে পাথর বেরিয়ে আসে, ঊষরতা হারিয়ে মরুভূমি বিস্তার।
  • বিশ্বউষ্ণায়ন (Global Warming): গাছ কমায় CO₂ শোষণ কমে → GHG বেড়ে উষ্ণতা বাড়ে।
  • জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি (Biodiversity Loss): বাসস্থান ধ্বংস → প্রজাতি বিলুপ্ত।
  • বন্যা ও মৃত্তিকা ক্ষয়: বৃষ্টির 50% শোষণ ক্ষমতা হারিয়ে বন্যা।

সংরক্ষণ:

গাছ কাটা আইনত বন্ধ, বনসৃজন (Afforestation), ন্যাশনাল পার্ক ও অভয়ারণ্য ঘোষণা, টেকসই বনব্যবস্থাপনা, আগুন নিয়ন্ত্রণ, পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ, এজেন্ডা-21 (Earth Summit 1992)।

2. ম্যানগ্রোভ অরণ্য (সুন্দরবন) — এর বৈশিষ্ট্য, উদ্ভিদের অভিযোজন (Adaptations), সংকট ও সংরক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত লেখো।

ম্যানগ্রোভ (Mangrove) — সুন্দরবন

পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপীয় ম্যানগ্রোভ অরণ্য — পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার মোহনায় অবস্থিত। UNESCO World Heritage Site (1987) এবং Biosphere Reserve।

উদ্ভিদের অভিযোজন:

  1. শ্বাসমূল (Pneumatophore): কাদায় অক্সিজেনের অভাবে মূল থেকে মাটির ওপরে নলাকার শ্বাসমূল বেরোয় — বাইন, কেওড়া।
  2. ঠেসমূল (Stilt/Prop Root): গরান গাছের কাণ্ড থেকে নীচের দিকে ঠেসমূল নেমে মাটিতে শক্ত করে ধরে → জোয়ারের টানে উপড়ে যায় না।
  3. ভিভিপ্যারি (Vivipary): ফল মাটিতে পড়ার আগে মাতৃগাছে অঙ্কুরোদগম → চারা সরাসরি কাদায় স্থাপিত।
  4. লবণ নিঃসরণ: পাতার লবণগ্রন্থির মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণ দেহ থেকে বের করে দেয়। পাতা ঝরিয়েও লবণ নিষ্কাশন।

সংকট:

জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি → লবণাক্ততা বেড়ে অনেক গাছ মরে যাচ্ছে। কাঠ পাচার, চিংড়ি ঘেরের জন্য বনভূমি ধ্বংস, ঘূর্ণিঝড় (আমফান, ইয়াস) ও তেল দূষণ।

সংরক্ষণ:

সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ (1973), বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (2001), Project Tiger, মধু সংগ্রহ ও মাছ ধরায় নিয়ন্ত্রণ, ইকো-ট্যুরিজম, ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার (Mangrove Restoration)।

3. সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য — প্ল্যাঙ্কটন, নেকটন ও বেন্থোস সম্পর্কে ধারণা দাও। পাঁচটি সামুদ্রিক প্রাণীর অভিযোজন ও গুরুত্ব বর্ণনা করো।

সামুদ্রিক জীবের শ্রেণিবিভাগ:

  • প্ল্যাঙ্কটন (Plankton — ভাসমান): স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে পারে না — ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন (ডায়াটম, ডাইনোফ্ল্যাজেলেট) ও জুপ্ল্যাঙ্কটন (কোপিপড, ক্রিল)।
  • নেকটন (Nekton — সক্রিয় সাঁতারু): স্রোতের বিপরীতে শক্তিশালী সাঁতার কাটতে পারে — মাছ, স্কুইড, তিমি, ডলফিন, হাঙর।
  • বেন্থোস (Benthos — তলদেশবাসী): সমুদ্রতলে বাস করে — কোরাল, সাগরকুসুম, তারামাছ, কাঁকড়া, লবস্টার, শামুক।

৫টি সামুদ্রিক প্রাণীর অভিযোজন:

  1. হাঙর (Shark): তরুণাস্থি কঙ্কাল, 5টি ফুলকা-ছিদ্র, ডার্মাল ডেন্টিকল (প্ল্যাকয়েড আঁশ) — সাঁতারে ঘর্ষণ কমায়। কয়েক সারি দাঁত।
  2. অক্টোপাস (Octopus): 8টি বাহু + শোষক, কালি ছিটিয়ে পালানো (Ink Sac), ক্রোমাটোফোর → রং বদল (Camouflage), অত্যন্ত বুদ্ধিমান।
  3. সী পেন (Sea Pen): পালকের মতো কলমের আকৃতি — অসংখ্য শাখা, পাথরে আটকে থাকার জন্য। বায়োলুমিনেসেন্ট।
  4. তিমি (Whale — Blue Whale): পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাণী, বেলিন প্লেট (Baleen) দিয়ে ক্রিল ছেঁকে খায়, ব্লাবার (চর্বিস্তর) — তাপ নিরোধক।
  5. সাগরকুসুম (Sea Anemone): কর্ষিকায় দংশক কোশ (Nematocyst) — শিকার, সিম্বায়োটিক সম্পর্ক (ক্লাউনফিশ + অ্যানিমোন)।
4. মেরু অঞ্চলের (Polar Region) প্রাণীদের অভিযোজন — শীতনিদ্রা (Hibernation) ও পরিযান (Migration)-সহ উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো। মেরু ভালুকের বিশেষ অভিযোজনগুলি কী কী?

মেরু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:

অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রা (-50°C), দীর্ঘ অন্ধকার শীত, স্বল্প গ্রীষ্মে 24-ঘন্টা সূর্যালোক (Midnight Sun), বরফাবৃত ভূমি। আকটিক (উত্তর) — তিমি, সিল, মেরু ভালুক, অ্যান্টার্কটিক (দক্ষিণ) — পেঙ্গুইন, সিল, ক্রিল।

অভিযোজন:

  1. শীতনিদ্রা (Hibernation): স্থলচর প্রাণী (যেমন গ্রাউন্ড স্কুইরেল) শীতকালে বিপাক হার কমিয়ে, দেহের তাপমাত্রা নামিয়ে গর্তে সুপ্ত অবস্থায় কাটায়।
  2. পরিযান (Migration): আর্কটিক টার্ন — প্রায় 11,000 মাইল (18,000 km) পথ পাড়ি দিয়ে আকটিক থেকে অ্যান্টার্কটিকে যায় (খাদ্য ও প্রজননের জন্য)। বল্গা হরিণ, তিমিরাও পরিযায়ী।

মেরু ভালুকের অভিযোজন:

  • সাদা লোম — ক্যামোফ্লেজ: বরফের সাথে মিশে শিকারের কাছে অলক্ষ্যে পৌঁছতে। লোম স্বচ্ছ — UV শোষণ করে। ত্বক কালো — তাপ ধরে রাখে।
  • দ্বি-স্তরী লোম ও ব্লাবার (10 cm): তাপ নিরোধক — জমাট জলে সাঁতার কাটতে পারে।
  • পায়ের তলায় লোম ও রুক্ষ প্যাড: বরফের ওপর হাঁটার সময় পিছলে যাওয়া রোধ।
  • ঘ্রাণশক্তি: 32 km দূর থেকেও সিলের গন্ধ পায়।
  • সামনের পায়ের পাতায় আংশিক জাল: শক্তিশালী সাঁতার।
  • হাইবারনেশন নয় — 'ওয়াকিং হাইবারনেশন': গর্ভবতী স্ত্রী শীতকালে গুহায় ডেন (Den) তৈরি করে বাচ্চা দেয় — বিপাক কিছুটা ধীর হয়।
5. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ — In Situ ও Ex Situ পদ্ধতি উদাহরণসহ বর্ণনা করো। ভারতের বিপন্ন প্রাণী ও তাদের সংরক্ষণ প্রকল্প (Project Tiger, Project Elephant, Project Rhino) সম্পর্কে লেখো।

In Situ সংরক্ষণ:

প্রাকৃতিক বাসস্থানে: ন্যাশনাল পার্ক (10, টাইগার রিজার্ভ (54), অভয়ারণ্য (প্রায় 566), বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (18)। যেমন: করবেট (প্রথম ন্যাশনাল পার্ক), কাজিরাঙা (গণ্ডার), সুন্দরবন (টাইগার), মানস।

Ex Situ সংরক্ষণ:

প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে: চিড়িয়াখানা (Zoo), বোটানিক্যাল গার্ডেন, জিন ব্যাংক (Seed Bank), ক্রায়োপ্রিজারভেশন (তরল N₂-এ -196°C), টিস্যু কালচার। উদা: ন্যাশনাল জিন ব্যাংক (দিল্লি), আর্ন্তজাতিক ধান গবেষণা কেন্দ্র (IRRI)।

সংরক্ষণ প্রকল্প:

  • প্রজেক্ট টাইগার (1973): 54টি টাইগার রিজার্ভ — রয়েল বেঙ্গল টাইগার। 1972-এ 1827 → 2022-এ ~3167 (সফল)।
  • প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট (1992): হাতি সংরক্ষণ — 33টি এলিফ্যান্ট রিজার্ভ — করিডোর সুরক্ষা, মানব-হাতি সংঘাত কমানো।
  • প্রজেক্ট রাইনো (2005): একশৃঙ্গ গণ্ডার — কাজিরাঙা, মানস, পবিতরা। ভারতীয় রাইনো ভিশন 2020 — 3000 বন্য গণ্ডার।
  • প্রজেক্ট ডলফিন (2020): গঙ্গা ও সিন্ধু নদীর ডলফিন — টাইগার প্রজেক্টের আদলে।
  • প্রজেক্ট স্নো লিওপার্ড: তুষার চিতা — হিমালয় অঞ্চল।
6. মরুভূমির জীববৈচিত্র্য — উট, ক্যাকটাস, ফেনেক শেয়াল ও জারবিল-এর অভিযোজনগুলি আলোচনা করো। মরুকরণ (Desertification) রোধে করণীয় কী?

মরুভূমির বৈশিষ্ট্য:

বার্ষিক বৃষ্টিপাত < 25 cm, দিনে প্রচণ্ড তাপ (50°C+), রাতে ঠান্ডা, 90% সৌরবিকিরণ প্রতিফলিত, জলের তীব্র অভাব। পৃথিবীর 1/5 ভাগ মরুভূমি। সাহারা, গোবি, মরুথর, আটাকামা, অ্যান্টার্কটিকা (শীতল মরুভূমি)।

অভিযোজন (Adaptations):

জীবঅভিযোজন
উট (Camel)কুঁজে ফ্যাট সঞ্চয় (জল নয়), দীর্ঘ পক্ষকাল জল ছাড়া বাঁচতে পারে, নাসারন্ধ্র বন্ধ করতে পারে, ৩টি চোখের পাতা
ক্যাকটাস (Cactus)পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত → প্রস্বেদন ন্যূনতম, কাণ্ড সবুজ ও রসালো → CAM সালোকসংশ্লেষ (রাতে পত্ররন্দ্র খোলে), গভীর ও বিস্তৃত মূল
ফেনেক শেয়াল (Fennec Fox)বিশাল কান (তাপ বিকিরণ), রাত্রিচর (Nocturnal), কিডনি দক্ষ → ঘনীভূত মূত্র → জল সাশ্রয়
জারবিল (Jerboa)লম্বা পিছনের পা (ক্যাঙ্গারুর মতো লাফিয়ে চলে), গর্তবাসী, রাত্রিচর, বিপাকীয় জল (Metabolic Water) ব্যবহার

মরুকরণ রোধ:

বনসৃজন (Afforestation), বালিয়াড়ি স্থিতিকরণ (Sand Dune Stabilization), মৃত্তিকা ও জল সংরক্ষণ, জুম চাষ বন্ধ, অতিরিক্ত পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ। UN: 2006 — 'আন্তর্জাতিক মরুভূমি ও মরুকরণ বর্ষ' (IYDD)। UNCCD (Convention to Combat Desertification) — 1994।

7. আর্থ সামিট (Earth Summit, 1992) ও এজেন্ডা-21 কী? টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development) বলতে কী বোঝো? পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলি কী কী?

আর্থ সামিট (Earth Summit) / UNCED, Rio de Janeiro, 1992

জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলন (UN Conference on Environment and Development)। 172টি দেশের সরকার, 2400 NGO-র প্রতিনিধি যোগ দেন। মূল অর্জন: এজেন্ডা-21, রিও ডিক্লারেশন, জীববৈচিত্র্য সনদ (CBD), জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC), বন নীতি (Forest Principles)।

এজেন্ডা-21 (Agenda 21)

২১শ শতাব্দীর জন্য টেকসই উন্নয়নের ব্যাপক কর্মসূচি — ৪০ অধ্যায়, ৪টি সেকশন। মূল বিষয়: দারিদ্র্য দূরীকরণ, বন সংরক্ষণ, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, স্বাদু জল সংরক্ষণ, সমুদ্র সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বিষাক্ত বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ। 'Think Globally, Act Locally'।

টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development):

ব্রুন্ডটল্যান্ড কমিশন (1987) — 'ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিজেদের চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা মেটানো'। 3E: Environment, Economy, Equity। SDG (Sustainable Development Goals) — 17 Goals, 169 targets (2015-2030)।

আন্তর্জাতিক উদ্যোগ:

  • UNFCCC (1992), Kyoto Protocol (1997), Paris Agreement (2015) — জলবায়ু।
  • Convention on Biological Diversity (CBD, 1992) — জীববৈচিত্র্য।
  • CITES (1973) — বিপন্ন প্রজাতির বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ।
  • Ramsar Convention (1971) — জলাভূমি সংরক্ষণ।
  • Montreal Protocol (1987) — ওজোন স্তর রক্ষা (সফল)।
  • IUCN Red List — প্রজাতির অবস্থা নিরূপণ।
8. গঙ্গা শুশুক (Gangetic Dolphin) — 'সুসু' নামে পরিচিত এই প্রাণীটির সম্পূর্ণ জীবনচক্র, অভিযোজন, সংকট ও সংরক্ষণ প্রচেষ্টার বিবরণ দাও। এটি কেন 'ভারতের জাতীয় জলজ প্রাণী' হিসেবে স্বীকৃত?

পরিচিতি (Platanista gangetica)

গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা ও কর্ণফুলী নদী ব্যবস্থায় পাওয়া যায়। স্বাদু জলের স্তন্যপায়ী (Obligate Freshwater Dolphin)। দৈর্ঘ্য: 1.5-2.6 m, ওজন: 70-90 kg। 'সুসু' নাম — শ্বাস নেওয়ার সময় 'সুস-সুস' শব্দ থেকে। গর্ভকাল: 9-10 মাস, 1টি বাচ্চা। জীবনকাল: ~30 বছর।

অভিযোজন:

  • ইকোলোকেশন (Echolocation): চোখে লেন্স না থাকায় (কার্যত অন্ধ) — নাসাগহ্বরের ডরসাল বার্সা থেকে শব্দ তরঙ্গ (Click) ছুড়ে প্রতিধ্বনি শুনে পথ চলে ও শিকার ধরে। কর্দমাক্ত অগভীর জলে অত্যন্ত কার্যকরী।
  • স্নাউট (Rostrum): লম্বা, দাঁতযুক্ত চঞ্চুর মতো — কাদায় লুকিয়ে থাকা চিংড়ি ও মাছ ধরতে সাহায্য করে।
  • সাঁতারের অভিযোজন: প্যাডেল-আকৃতির ফ্লিপার, চ্যাপটা লেজ, নমনীয় ঘাড়ের পরিবর্তে সুবিন্যস্ত কশেরুকা — জটিল বাঁকে দ্রুত সাঁতার।
  • শ্বাস: ব্লো-হোল (Blowhole) — চোখের গোড়ায় লম্বাটে ছিদ্র — ইচ্ছামতো খোলে-বন্ধ করে। 30-120 সেকেন্ড অন্তর ভেসে O₂ নেয়।

সংকট:

নদীবাঁধ ও ব্যারেজ → দল বিচ্ছিন্ন (Fragmentation) → অন্তঃপ্রজনন। মাছ ধরার জালে আটকে মৃত্যু। কলকারখানার বর্জ্য ও তেল দূষণ → মাছের সংখ্যা কমে → খাদ্যসংকট। পর্যটনবাহী নৌকার গোলমালে ইকোলোকেশন ব্যাহত।

সংরক্ষণ:

  • জাতীয় জলজ প্রাণী (National Aquatic Animal, 5 অক্টোবর 2009 — মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত)।
  • প্রজেক্ট ডলফিন (Project Dolphin, 2020) — টাইগার প্রজেক্টের আদলে।
  • বিক্রমশীলা গ্যাঞ্জেটিক ডলফিন স্যাংচুয়ারি (বিহার, 1991 — 60 km গঙ্গা) — বিশ্বের প্রথম শুশুক অভয়ারণ্য।
  • উ.প্র. বিজঘাট-নারোরা রামসার সাইট (Ramsar Site, 2005)।
  • IUCN: Endangered (2012), CITES: Appendix I, Wildlife Protection Act (1972): Schedule I।
9. বিশ্বউষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কীভাবে সুন্দরবনকে হুমকির মুখে ফেলছে? ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

সুন্দরবনের জন্য হুমকি — বিশ্বউষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠ উচ্চতা বৃদ্ধি (SLR)

IPCC (2021) অনুযায়ী গত 100 বছরে বিশ্বের গড় সমুদ্রপৃষ্ঠ 15-20 cm বেড়েছে। বঙ্গোপসাগরে SLR হার: ~3.14 mm/বছর। প্রভাব: (i) লবণাক্ততা বৃদ্ধি: জোয়ারের নোনা জল আরও গভীরে ঢুকে মিঠে জলের মজুদ লবণাক্ত করছে → সুন্দরী গাছ (Heritiera fomes) 'টপ ডাইং' রোগে মরছে। (ii) তটভূমি ক্ষয় (Coastal Erosion): প্রতি বছর প্রায় 5 km² ভূমি বিলীন। (iii) ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধি: উষ্ণ সমুদ্র → বেশি ও তীব্র সাইক্লোন (আমফান 2020 — 260 km/h) → ম্যানগ্রোভের ব্যাপক ক্ষতি। (iv) দ্বীপ নিমজ্জন: নিউ মুর (দক্ষিণ তালপট্টি) দ্বীপ 2010-এ সম্পূর্ণ নিমজ্জিত। ঘোড়ামারা দ্বীপের অর্ধেক জলের নীচে।

ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব:

  • জীববৈচিত্র্যের হটস্পট: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মেছোবিড়াল, কুমির, কচ্ছপ, 260+ প্রজাতির পাখি, 35+ সরীসৃপ।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমন: সাইক্লোন ও সুনামির ধাক্কা শোষণ করে — 2004 সুনামিতে সুন্দরবন রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে।
  • কার্বন সিঙ্ক (Blue Carbon): ক্রান্তীয় বনের চেয়ে 5 গুণ বেশি কার্বন সঞ্চয় করে — জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ।
  • জীবিকা: প্রায় 4.5 মিলিয়ন মানুষের মধু, কাঠ, মাছ ও পর্যটন নির্ভর জীবিকা।

সংরক্ষণ প্রচেষ্টা:

Sundarban Biosphere Reserve (1989), Project Tiger (1973 — 2585 km²), UNESCO World Heritage Site (1987), Ramsar Site (2019), National Action Plan on Climate Change (SAPCC), ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার ও উপকূলবর্তী সবুজ বেষ্টনী (Green Wall) তৈরি।

10. জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় (Biodiversity Loss) — কারণ, ফলাফল ও প্রতিকার বিস্তারিত বর্ণনা করো। IUCN Red List-এর বিভিন্ন ক্যাটেগরি ও ভারতের পাঁচটি বিপন্ন প্রাণীর নাম ও তাদের সংরক্ষণ অবস্থা লেখো।

জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়ের কারণ (HIPPO):

  1. H — Habitat Loss (বাসস্থান ধ্বংস): বন নিধন, নগরায়ণ, কৃষি সম্প্রসারণ — সবচেয়ে বড় হুমকি (~80% অবক্ষয়ের কারণ)।
  2. I — Invasive Species (অনুপ্রবেশকারী প্রজাতি): বিদেশি প্রজাতি (যেমন ওয়াটার হায়াসিন্থ, লান্টানা) দেশীয় প্রজাতিকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দেয়।
  3. P — Pollution (দূষণ): কীটনাশক, শিল্প বর্জ্য, প্লাস্টিক, তেল — কীস্টোন প্রজাতির ক্ষতি।
  4. P — Population (মানব জনসংখ্যা বৃদ্ধি): সম্পদের ওপর চাপ — অতিরিক্ত শোষণ (Overexploitation)।
  5. O — Overharvesting (অতিরিক্ত আহরণ): নির্বিচারে শিকার, মাছ ধরা, কাঠ কাটা — প্রজাতির সংখ্যা বিপন্ন স্তরে নামিয়ে আনা।

ফলাফল:

বাস্তুতন্ত্রের সেবা (Ecosystem Services) ব্যাহত — পরাগায়ণ, জল পরিশোধন, মাটির উর্বরতা, কার্বন সঞ্চয় — সব হ্রাস। খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়া। বিলুপ্তি — বর্তমানে 1 মিলিয়ন প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে (IPBES, 2019)। ষষ্ঠ গণবিলুপ্তি (6th Mass Extinction) — নৃতাত্ত্বিক (Anthropocene)।

ভারতের ৫টি বিপন্ন প্রাণী:

প্রাণীIUCN Statusজনসংখ্যা (প্রায়)অবস্থান (ভারত)
রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris)Endangered~2967 (2018)সুন্দরবন, করবেট, কানহা, বান্ধবগড়
একশৃঙ্গ গণ্ডার (Rhinoceros unicornis)Vulnerable~3700 (2021)কাজিরাঙা, মানস, জলদাপাড়া
এশিয়াটিক সিংহ (Panthera leo persica)Endangered~674 (2020)গির ফরেস্ট (গুজরাট)
গঙ্গা শুশুক (Platanista gangetica)Endangered~3500গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র
তুষার চিতা (Panthera uncia)Vulnerable~400-700লাদাখ, সিকিম, উত্তরাখণ্ড

প্রতিকার:

ইন সিটু + এক্স সিটু সংরক্ষণ, প্রকল্প টাইগার/এলিফ্যান্ট/ডলফিন, Wildlife Protection Act (1972) — Schedule I-VI, CITES — আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য আইন (Biological Diversity Act, 2002), কমিউনিটি কনজারভেশন, ইকো-ট্যুরিজম, পরিবেশ শিক্ষা।

মনে রেখো!

বনস্তর: Canopy → Understory → Shrub → Herb → Forest Floor | ম্যানগ্রোভ: শ্বাসমূল, ভিভিপ্যারি, লবণগ্রন্থি | IUCN: EX → CR → EN → VU → NT → LC | Ex Situ: চিড়িয়াখানা, জিন ব্যাংক | Earth Summit: Rio 1992 → Agenda 21 | জাতীয় জলজ প্রাণী: গঙ্গা শুশুক | মেরু ভালুক: সাদা লোম, ব্লাবার, ক্যামোফ্লেজ | গণ্ডারের খড়গ: কেরাটিন (নখ/চুলের মতো প্রোটিন)

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

আর্থ সামিট (Earth Summit) — 1992 সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন। 172টি দেশ অংশ নেয়। এতে পরিবেশ রক্ষার জন্য 'এজেন্ডা-21' (Agenda 21) নামক ২১শ শতাব্দীর জন্য একুশ দফা কর্মসূচি গৃহীত হয় — যার মূল লক্ষ্য টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development)।