Chapter 10: পরিবেশের সংকট ও সংরক্ষণ
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 23 MCQ | 10 SAQ | 10 Broad Questions
বনভূমি
33% স্থলভাগ, Canopy, Forest Floor, বন্যা নিয়ন্ত্রণ
সামুদ্রিক জীব
প্ল্যাঙ্কটন, ম্যানগ্রোভ, বায়োলুমিনেসেন্স, অক্টোপাস
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
23 টিSAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
10 টিউত্তর:
- ছাদ (Canopy) — সর্বোচ্চ স্তর: গাছের মাথাগুলো এক হয়ে ছাদ গঠন করে। সূর্যালোককে বনের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। উচ্চতা সাধারণত 30 m, কখনো 90 m।
- আন্ডারস্টোরি (Understory) — দ্বিতীয় স্তর: ছাদের নীচের স্তর। ক্রমশ লম্বা হয়ে ওঠা ছোট গাছ, গুল্ম। বাতাসের বেগ ও আলো তুলনামূলক কম।
- শাব স্তর (Shrub Layer) — তৃতীয় স্তর: নতুন জন্মানো গাছ, পরিণত গুল্ম ও লতানো গাছ। ছোট প্রাণীদের খাদ্য, বাসস্থান ও আত্মরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- বীরুৎ স্তর (Herb Layer) — চতুর্থ স্তর: অল্প উচ্চতার বীরুৎজাতীয় উদ্ভিদ, সদ্য অঙ্কুরিত চারা, ফার্ন, ঘাস ও আগাছা। ইঁদুর, পোকামাকড়, সাপ, পাখি বাস করে।
- বনের মেঝে (Forest Floor) — নিম্নতম স্তর: মরা পাতা, ফুল, ফল, ডাল, পালক ও প্রাণীর দেহাবশেষ দিয়ে তৈরি। পচে হিউমাস ও খনিজ পুষ্টি উৎপন্ন করে। কেঁচো, আরশোলা, শামুক ও অণুজীবের আবাস।
উত্তর:
- বনাঞ্চলে গাছকাটা বন্ধ করা — আইন করে যথেচ্ছভাবে গাছ কাটা নিষিদ্ধ করতে হবে।
- নতুন করে গাছ লাগানো ও বনসৃজন (Afforestation) — কাটা গাছের জায়গায় পুনরায় চারা রোপণ ও নতুন বনাঞ্চল তৈরি।
- বনে আগুন লাগার সম্ভাবনা কমানো — ধূমপান, রান্না, শিকারিদের অসাবধানতা নিবারণ; ফায়ার লাইন তৈরি।
- পরিণত গাছ কেটে সেই জায়গায় একই প্রজাতির চারা লাগানো — টেকসই বনব্যবস্থাপনা (Sustainable Forestry) — 'Selective Logging'।
- পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ ও রোগাক্রান্ত গাছের চিকিৎসা — বনাঞ্চলে অতিরিক্ত গবাদি পশু চরানো বন্ধ করা এবং রোগ-পোকার আক্রমণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।
উত্তর:
কারণ:
- প্রাকৃতিক: (i) অগ্নুৎপাতের সময় গরম লাভার সংস্পর্শে শুকনো গাছ জ্বলে ওঠা। (ii) বজ্রপাত। (iii) তীব্র বায়ুপ্রবাহে বাঁশগাছে ঘর্ষণে আগুন।
- মানবসৃষ্ট: (i) বনের ভেতর ধূমপান ও রান্না করা। (ii) কৃষিজমি সম্প্রসারণের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন (Slash & Burn/Jhum)। (iii) অসাবধানতা বা নাশকতা।
ফলাফল:
- CO₂ বেড়ে O₂ কমে → বিশ্বউষ্ণায়ন ত্বরান্বিত হয়।
- বৃষ্টিপাতের প্রায় 50% শোষণ ক্ষমতা নষ্ট → বন্যার সম্ভাবনা বাড়ে।
- গাছ পুড়ে মাটির ক্ষয় বেড়ে যায় → জলদূষণ।
- বহু প্রাণীর তাৎক্ষণিক মৃত্যু ও অন্যদের আশ্রয়হীনতা → জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি।
- উদাহরণ: 1910-তে আমেরিকার দাবানলে ~3 মিলিয়ন একর বন নষ্ট, 87 জন দমকলকর্মীর মৃত্যু।
উত্তর:
ম্যানগ্রোভের প্রতিকূলতা: উচ্চ লবণাক্ততা (33-38 g/L), কর্দমাক্ত O₂-স্বল্প মাটি, জোয়ার-ভাটার টান, জলাবদ্ধতা।
অভিযোজন (Adaptations):
- শ্বাসমূল (Pneumatophore): মাটির নীচের শিকড় কাদায় ডুবে O₂ না পাওয়ায় — মূল থেকে মাটির ওপরে অসংখ্য নলাকার শ্বাসমূল বেরিয়ে বাতাস থেকে O₂ গ্রহণ করে।
- ঠেসমূল (Stilt Root): গরান গাছের মতো — জোয়ার-ভাটার টানে উপড়ে না যাওয়ার জন্য কাণ্ডের গোড়া থেকে ঠেসমূল বেরিয়ে মাটিতে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে।
- ভিভিপ্যারি (Vivipary): ফল মাটিতে পড়ার আগেই মাতৃগাছের ভেতরেই অঙ্কুরোদগম হয় — সূচালো চারা সরাসরি কাদায় গেঁথে যায়। (গরান, কেওড়া, বাইন)।
- লবণ নিঃসরণ: অতিরিক্ত লবণ পাতার লবণগ্রন্থি (Salt Gland) বা পুরনো পাতা ঝরিয়ে দেহ থেকে বের করে দেয়।
উত্তর:
| বিষয় | ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন (Phytoplankton) | জুপ্ল্যাঙ্কটন (Zooplankton) |
|---|---|---|
| শ্রেণি | উদ্ভিদ (অণুবীক্ষণিক শৈবাল) | প্রাণী (অণুবীক্ষণিক প্রাণী) |
| পুষ্টি | স্বভোজী — সালোকসংশ্লেষ করে খাদ্য তৈরি | পরভোজী — ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটন খায় |
| উদাহরণ | ডায়াটম, ডাইনোফ্ল্যাজেলেট, সায়ানোব্যাকটেরিয়া | কোপিপড, ক্রিল, ফোরামিনিফেরা |
| O₂ উৎপাদন | পৃথিবীর ~50% O₂ উৎপাদন | O₂ গ্রহণ করে |
| খাদ্যশৃঙ্খল | উৎপাদক — খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি | প্রথম স্তরের খাদক — তিমি, মাছের খাদ্য |
পরিবেশে গুরুত্ব: (i) পৃথিবীর অর্ধেক O₂ সরবরাহ। (ii) সমুদ্রের খাদ্যজালের (Food Web) ভিত্তি। (iii) কার্বন চক্র — CO₂ শোষণ ও সমুদ্রতলে কার্বন সঞ্চয়ে (Biological Carbon Pump) ভূমিকা।
উত্তর:
- রাসায়নিক সার ও পয়ঃপ্রণালীর জৈব বর্জ্য: অ্যালগাল ব্লুম → জলে O₂ ঘাটতি → Eutrophication (সুপুষ্টিকরণ) → 'ডেড জোন'।
- তেল দূষণ (Oil Spill): জাহাজ দুর্ঘটনা বা তেল তোলার প্ল্যাটফর্ম লিকেজ। জলের ওপর তেলের স্তর → O₂ চলাচল ব্যাহত। সামুদ্রিক পাখির পালকে তেল লেগে তাপ ও জল নিরোধক ক্ষমতা নষ্ট → মৃত্যু।
- প্লাস্টিক দূষণ: সামুদ্রিক প্রাণী খাবার ভেবে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে → খাদ্যনালীতে বাধা → অনাহারে মৃত্যু। মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন → মহাসাগরের অম্লীকরণ (Ocean Acidification): বায়ুমণ্ডলের CO₂ সমুদ্রে শোষিত → H₂CO₃ → pH কমে। ফলে কোরাল, কাঁকড়া, লবস্টারের ক্যালসিয়াম কার্বনেটের খোলক তৈরি ব্যাহত → দুর্বল বা দ্রবীভূত হয়ে যায়।
উত্তর:
গঠন ও অভিযোজন: স্তন্যপায়ী, ফুসফুসে শ্বাস নেয় — জলের ওপরে ভেসে নাসারন্ধ্র দিয়ে বায়ু নেয়। চোখে লেন্স নেই — কার্যত অন্ধ। শব্দ তরঙ্গ (Click) ছুড়ে প্রতিধ্বনি শুনে পথ চলে — ইকোলোকেশন (Echolocation)। সামনের দুটি পা ফ্লিপারে (Flipper) পরিণত, লেজ চ্যাপটা। ২৭-৩২টি ছোট দাঁত — সব একই ধরনের। চামড়ার নীচে পুরু ব্লাবার (Blubber) — তাপ নিরোধক।
সংকট: (i) নদীবাঁধ → গভীরতা কমে, বালির চর জেগে দল বিচ্ছিন্ন → অন্তঃপ্রজনন। (ii) জলদূষণ — কলকারখানার বর্জ্য, তেল শোধনাগার → মাছের সংখ্যা কমে → খাদ্যাভাব। (iii) মাছ ধরার জালে আটকে মৃত্যু।
সংরক্ষণ: জাতীয় জলজ প্রাণী (National Aquatic Animal, 2009)। বিক্রমশীলা গ্যাঞ্জেটিক ডলফিন স্যাংচুয়ারি (বিহার, 1991)। উত্তরপ্রদেশের বিজঘাট-নারোরা গঙ্গা অঞ্চল — রামসর স্থান (Ramsar Site) ঘোষিত।
উত্তর:
গঠন: চামড়া পুরু (4 cm), ভাঁজযুক্ত — বর্ম পরা মনে হয়। নাকের ওপরে ~60 cm লম্বা একটিমাত্র খড়গ — কেরাটিন (Keratin) প্রোটিন দিয়ে গঠিত (যেমন নখ/চুল)। নীচের চোয়ালের ছেনে-দাঁত (Incisor) খুব লম্বা।
অভ্যাস: তৃণভোজী (লম্বা ঘাস, জলজ উদ্ভিদ, ফল)। একই জায়গায় মলত্যাগ করে → মলস্তূপ (Dunghill) তৈরি। একাকী বাস, ঘ্রাণশক্তি প্রবল, দৃষ্টিশক্তি দুর্বল।
সংকট: (i) চোরাশিকার — ভ্রান্ত বিশ্বাসে খড়গের 'ঔষধি গুণ' আছে মনে করে (কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই)। (ii) বাসস্থান ধ্বংস — বন কেটে কৃষিজমি ও বসতি সম্প্রসারণ।
সংরক্ষণ: ভারত — মানস, কাজিরাঙা, পবিতরা (আসাম); জলদাপাড়া, গোরুমারা (পশ্চিমবঙ্গ); দুধওয়া (উ.প্র.)। নেপাল — চিতওয়ান ন্যাশনাল পার্ক। আইনে শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। IUCN: Vulnerable।
উত্তর:
IUCN (International Union for Conservation of Nature) জীববৈচিত্র্যের অবস্থা অনুযায়ী প্রজাতিগুলোকে নিম্নলিখিত ক্যাটেগরিতে ভাগ করে:
- বিলুপ্ত (Extinct — EX): ওই প্রজাতির শেষ সদস্যটিও মারা গেছে। আর কখনো দেখা যাবে না — যেমন ডোডো, প্যাসেঞ্জার পিজিয়ন।
- বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত (Extinct in the Wild — EW): শুধু চিড়িয়াখানা বা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে কয়েকটি জীবিত — বন্য পরিবেশে আর নেই।
- মহাবিপন্ন (Critically Endangered — CR): নিকট ভবিষ্যতে যে কোনো সময় বিলুপ্ত হতে পারে — যেমন জাভান গণ্ডার, লেদারব্যাক কচ্ছপ।
- বিপন্ন (Endangered — EN): বন্য পরিবেশে বিলুপ্তির সমূহ সম্ভাবনা — যেমন রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এশিয়াটিক লায়ন।
- বিপদগ্রস্ত (Vulnerable — VU): অদূর ভবিষ্যতে বিপন্ন হতে পারে — যেমন একশৃঙ্গ গণ্ডার, গঙ্গা শুশুক।
- প্রায়-বিপদগ্রস্ত (Near Threatened — NT): এখনো বিপন্ন নয়, কিন্তু বিপদগ্রস্ত হওয়ার কাছাকাছি।
- ন্যূনতম উদ্বেগজনক (Least Concern — LC): সংখ্যা পর্যাপ্ত — বিলুপ্তির আশঙ্কা কম।
উত্তর:
| বিষয় | In Situ (স্থানিক) সংরক্ষণ | Ex Situ (স্থানান্তরিত) সংরক্ষণ |
|---|---|---|
| অবস্থান | জীবের নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে | প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে কৃত্রিম পরিবেশে |
| পদ্ধতি | অভয়ারণ্য, ন্যাশনাল পার্ক, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ | চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জিন ব্যাংক, ক্রায়োপ্রিজারভেশন |
| সুবিধা | প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র অক্ষুণ্ণ, প্রজাতি স্বাধীন | সংকটাপন্ন প্রজাতির শেষ সদস্যদের বাঁচানো, নিয়ন্ত্রিত প্রজনন |
| উদাহরণ | সুন্দরবন (টাইগার), কাজিরাঙা (গণ্ডার) | আলিপুর চিড়িয়াখানা, শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন, ন্যাশনাল জিন ব্যাংক |
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর
10 টিবনভূমির গুরুত্ব
- জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও CO₂/O₂ ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। একটি 50 বছর বয়সী গাছ জীবনে 2700 kg O₂ ছাড়ে।
- জীববৈচিত্র্যের আধার: জীবজন্তুর আশ্রয়স্থল — ধারণ করে 80% স্থলজ প্রজাতি।
- মাটি ও জল সংরক্ষণ: গাছের শিকড় মাটির কণা আঁকড়ে ধরে → মৃত্তিকা ক্ষয় ও বন্যা রোধ। বৃষ্টির জল ভূগর্ভে প্রবেশ করিয়ে জলস্তর নিয়ন্ত্রণ।
- অর্থনৈতিক: কাঠ, জ্বালানি, ওষুধ (কুইনাইন, ট্যাক্সল), আঠা, রেজিন, কাগজের কাঁচামাল।
সংকট ও কারণ:
কৃষিজমি সম্প্রসারণ (Slash & Burn), নগরায়ণ, কাঠ পাচার, খনন, বাঁধ, বনে আগুন।
ফলাফল:
- মরুকরণ (Desertification): গাছহীন মাটি ধুয়ে পাথর বেরিয়ে আসে, ঊষরতা হারিয়ে মরুভূমি বিস্তার।
- বিশ্বউষ্ণায়ন (Global Warming): গাছ কমায় CO₂ শোষণ কমে → GHG বেড়ে উষ্ণতা বাড়ে।
- জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি (Biodiversity Loss): বাসস্থান ধ্বংস → প্রজাতি বিলুপ্ত।
- বন্যা ও মৃত্তিকা ক্ষয়: বৃষ্টির 50% শোষণ ক্ষমতা হারিয়ে বন্যা।
সংরক্ষণ:
গাছ কাটা আইনত বন্ধ, বনসৃজন (Afforestation), ন্যাশনাল পার্ক ও অভয়ারণ্য ঘোষণা, টেকসই বনব্যবস্থাপনা, আগুন নিয়ন্ত্রণ, পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ, এজেন্ডা-21 (Earth Summit 1992)।
ম্যানগ্রোভ (Mangrove) — সুন্দরবন
পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপীয় ম্যানগ্রোভ অরণ্য — পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার মোহনায় অবস্থিত। UNESCO World Heritage Site (1987) এবং Biosphere Reserve।
উদ্ভিদের অভিযোজন:
- শ্বাসমূল (Pneumatophore): কাদায় অক্সিজেনের অভাবে মূল থেকে মাটির ওপরে নলাকার শ্বাসমূল বেরোয় — বাইন, কেওড়া।
- ঠেসমূল (Stilt/Prop Root): গরান গাছের কাণ্ড থেকে নীচের দিকে ঠেসমূল নেমে মাটিতে শক্ত করে ধরে → জোয়ারের টানে উপড়ে যায় না।
- ভিভিপ্যারি (Vivipary): ফল মাটিতে পড়ার আগে মাতৃগাছে অঙ্কুরোদগম → চারা সরাসরি কাদায় স্থাপিত।
- লবণ নিঃসরণ: পাতার লবণগ্রন্থির মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণ দেহ থেকে বের করে দেয়। পাতা ঝরিয়েও লবণ নিষ্কাশন।
সংকট:
জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি → লবণাক্ততা বেড়ে অনেক গাছ মরে যাচ্ছে। কাঠ পাচার, চিংড়ি ঘেরের জন্য বনভূমি ধ্বংস, ঘূর্ণিঝড় (আমফান, ইয়াস) ও তেল দূষণ।
সংরক্ষণ:
সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ (1973), বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (2001), Project Tiger, মধু সংগ্রহ ও মাছ ধরায় নিয়ন্ত্রণ, ইকো-ট্যুরিজম, ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার (Mangrove Restoration)।
সামুদ্রিক জীবের শ্রেণিবিভাগ:
- প্ল্যাঙ্কটন (Plankton — ভাসমান): স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটতে পারে না — ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন (ডায়াটম, ডাইনোফ্ল্যাজেলেট) ও জুপ্ল্যাঙ্কটন (কোপিপড, ক্রিল)।
- নেকটন (Nekton — সক্রিয় সাঁতারু): স্রোতের বিপরীতে শক্তিশালী সাঁতার কাটতে পারে — মাছ, স্কুইড, তিমি, ডলফিন, হাঙর।
- বেন্থোস (Benthos — তলদেশবাসী): সমুদ্রতলে বাস করে — কোরাল, সাগরকুসুম, তারামাছ, কাঁকড়া, লবস্টার, শামুক।
৫টি সামুদ্রিক প্রাণীর অভিযোজন:
- হাঙর (Shark): তরুণাস্থি কঙ্কাল, 5টি ফুলকা-ছিদ্র, ডার্মাল ডেন্টিকল (প্ল্যাকয়েড আঁশ) — সাঁতারে ঘর্ষণ কমায়। কয়েক সারি দাঁত।
- অক্টোপাস (Octopus): 8টি বাহু + শোষক, কালি ছিটিয়ে পালানো (Ink Sac), ক্রোমাটোফোর → রং বদল (Camouflage), অত্যন্ত বুদ্ধিমান।
- সী পেন (Sea Pen): পালকের মতো কলমের আকৃতি — অসংখ্য শাখা, পাথরে আটকে থাকার জন্য। বায়োলুমিনেসেন্ট।
- তিমি (Whale — Blue Whale): পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাণী, বেলিন প্লেট (Baleen) দিয়ে ক্রিল ছেঁকে খায়, ব্লাবার (চর্বিস্তর) — তাপ নিরোধক।
- সাগরকুসুম (Sea Anemone): কর্ষিকায় দংশক কোশ (Nematocyst) — শিকার, সিম্বায়োটিক সম্পর্ক (ক্লাউনফিশ + অ্যানিমোন)।
মেরু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রা (-50°C), দীর্ঘ অন্ধকার শীত, স্বল্প গ্রীষ্মে 24-ঘন্টা সূর্যালোক (Midnight Sun), বরফাবৃত ভূমি। আকটিক (উত্তর) — তিমি, সিল, মেরু ভালুক, অ্যান্টার্কটিক (দক্ষিণ) — পেঙ্গুইন, সিল, ক্রিল।
অভিযোজন:
- শীতনিদ্রা (Hibernation): স্থলচর প্রাণী (যেমন গ্রাউন্ড স্কুইরেল) শীতকালে বিপাক হার কমিয়ে, দেহের তাপমাত্রা নামিয়ে গর্তে সুপ্ত অবস্থায় কাটায়।
- পরিযান (Migration): আর্কটিক টার্ন — প্রায় 11,000 মাইল (18,000 km) পথ পাড়ি দিয়ে আকটিক থেকে অ্যান্টার্কটিকে যায় (খাদ্য ও প্রজননের জন্য)। বল্গা হরিণ, তিমিরাও পরিযায়ী।
মেরু ভালুকের অভিযোজন:
- সাদা লোম — ক্যামোফ্লেজ: বরফের সাথে মিশে শিকারের কাছে অলক্ষ্যে পৌঁছতে। লোম স্বচ্ছ — UV শোষণ করে। ত্বক কালো — তাপ ধরে রাখে।
- দ্বি-স্তরী লোম ও ব্লাবার (10 cm): তাপ নিরোধক — জমাট জলে সাঁতার কাটতে পারে।
- পায়ের তলায় লোম ও রুক্ষ প্যাড: বরফের ওপর হাঁটার সময় পিছলে যাওয়া রোধ।
- ঘ্রাণশক্তি: 32 km দূর থেকেও সিলের গন্ধ পায়।
- সামনের পায়ের পাতায় আংশিক জাল: শক্তিশালী সাঁতার।
- হাইবারনেশন নয় — 'ওয়াকিং হাইবারনেশন': গর্ভবতী স্ত্রী শীতকালে গুহায় ডেন (Den) তৈরি করে বাচ্চা দেয় — বিপাক কিছুটা ধীর হয়।
In Situ সংরক্ষণ:
প্রাকৃতিক বাসস্থানে: ন্যাশনাল পার্ক (10, টাইগার রিজার্ভ (54), অভয়ারণ্য (প্রায় 566), বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (18)। যেমন: করবেট (প্রথম ন্যাশনাল পার্ক), কাজিরাঙা (গণ্ডার), সুন্দরবন (টাইগার), মানস।
Ex Situ সংরক্ষণ:
প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে: চিড়িয়াখানা (Zoo), বোটানিক্যাল গার্ডেন, জিন ব্যাংক (Seed Bank), ক্রায়োপ্রিজারভেশন (তরল N₂-এ -196°C), টিস্যু কালচার। উদা: ন্যাশনাল জিন ব্যাংক (দিল্লি), আর্ন্তজাতিক ধান গবেষণা কেন্দ্র (IRRI)।
সংরক্ষণ প্রকল্প:
- প্রজেক্ট টাইগার (1973): 54টি টাইগার রিজার্ভ — রয়েল বেঙ্গল টাইগার। 1972-এ 1827 → 2022-এ ~3167 (সফল)।
- প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট (1992): হাতি সংরক্ষণ — 33টি এলিফ্যান্ট রিজার্ভ — করিডোর সুরক্ষা, মানব-হাতি সংঘাত কমানো।
- প্রজেক্ট রাইনো (2005): একশৃঙ্গ গণ্ডার — কাজিরাঙা, মানস, পবিতরা। ভারতীয় রাইনো ভিশন 2020 — 3000 বন্য গণ্ডার।
- প্রজেক্ট ডলফিন (2020): গঙ্গা ও সিন্ধু নদীর ডলফিন — টাইগার প্রজেক্টের আদলে।
- প্রজেক্ট স্নো লিওপার্ড: তুষার চিতা — হিমালয় অঞ্চল।
মরুভূমির বৈশিষ্ট্য:
বার্ষিক বৃষ্টিপাত < 25 cm, দিনে প্রচণ্ড তাপ (50°C+), রাতে ঠান্ডা, 90% সৌরবিকিরণ প্রতিফলিত, জলের তীব্র অভাব। পৃথিবীর 1/5 ভাগ মরুভূমি। সাহারা, গোবি, মরুথর, আটাকামা, অ্যান্টার্কটিকা (শীতল মরুভূমি)।
অভিযোজন (Adaptations):
| জীব | অভিযোজন |
|---|---|
| উট (Camel) | কুঁজে ফ্যাট সঞ্চয় (জল নয়), দীর্ঘ পক্ষকাল জল ছাড়া বাঁচতে পারে, নাসারন্ধ্র বন্ধ করতে পারে, ৩টি চোখের পাতা |
| ক্যাকটাস (Cactus) | পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত → প্রস্বেদন ন্যূনতম, কাণ্ড সবুজ ও রসালো → CAM সালোকসংশ্লেষ (রাতে পত্ররন্দ্র খোলে), গভীর ও বিস্তৃত মূল |
| ফেনেক শেয়াল (Fennec Fox) | বিশাল কান (তাপ বিকিরণ), রাত্রিচর (Nocturnal), কিডনি দক্ষ → ঘনীভূত মূত্র → জল সাশ্রয় |
| জারবিল (Jerboa) | লম্বা পিছনের পা (ক্যাঙ্গারুর মতো লাফিয়ে চলে), গর্তবাসী, রাত্রিচর, বিপাকীয় জল (Metabolic Water) ব্যবহার |
মরুকরণ রোধ:
বনসৃজন (Afforestation), বালিয়াড়ি স্থিতিকরণ (Sand Dune Stabilization), মৃত্তিকা ও জল সংরক্ষণ, জুম চাষ বন্ধ, অতিরিক্ত পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ। UN: 2006 — 'আন্তর্জাতিক মরুভূমি ও মরুকরণ বর্ষ' (IYDD)। UNCCD (Convention to Combat Desertification) — 1994।
আর্থ সামিট (Earth Summit) / UNCED, Rio de Janeiro, 1992
জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলন (UN Conference on Environment and Development)। 172টি দেশের সরকার, 2400 NGO-র প্রতিনিধি যোগ দেন। মূল অর্জন: এজেন্ডা-21, রিও ডিক্লারেশন, জীববৈচিত্র্য সনদ (CBD), জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC), বন নীতি (Forest Principles)।
এজেন্ডা-21 (Agenda 21)
২১শ শতাব্দীর জন্য টেকসই উন্নয়নের ব্যাপক কর্মসূচি — ৪০ অধ্যায়, ৪টি সেকশন। মূল বিষয়: দারিদ্র্য দূরীকরণ, বন সংরক্ষণ, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, স্বাদু জল সংরক্ষণ, সমুদ্র সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বিষাক্ত বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ। 'Think Globally, Act Locally'।
টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development):
ব্রুন্ডটল্যান্ড কমিশন (1987) — 'ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিজেদের চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা মেটানো'। 3E: Environment, Economy, Equity। SDG (Sustainable Development Goals) — 17 Goals, 169 targets (2015-2030)।
আন্তর্জাতিক উদ্যোগ:
- UNFCCC (1992), Kyoto Protocol (1997), Paris Agreement (2015) — জলবায়ু।
- Convention on Biological Diversity (CBD, 1992) — জীববৈচিত্র্য।
- CITES (1973) — বিপন্ন প্রজাতির বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ।
- Ramsar Convention (1971) — জলাভূমি সংরক্ষণ।
- Montreal Protocol (1987) — ওজোন স্তর রক্ষা (সফল)।
- IUCN Red List — প্রজাতির অবস্থা নিরূপণ।
পরিচিতি (Platanista gangetica)
গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা ও কর্ণফুলী নদী ব্যবস্থায় পাওয়া যায়। স্বাদু জলের স্তন্যপায়ী (Obligate Freshwater Dolphin)। দৈর্ঘ্য: 1.5-2.6 m, ওজন: 70-90 kg। 'সুসু' নাম — শ্বাস নেওয়ার সময় 'সুস-সুস' শব্দ থেকে। গর্ভকাল: 9-10 মাস, 1টি বাচ্চা। জীবনকাল: ~30 বছর।
অভিযোজন:
- ইকোলোকেশন (Echolocation): চোখে লেন্স না থাকায় (কার্যত অন্ধ) — নাসাগহ্বরের ডরসাল বার্সা থেকে শব্দ তরঙ্গ (Click) ছুড়ে প্রতিধ্বনি শুনে পথ চলে ও শিকার ধরে। কর্দমাক্ত অগভীর জলে অত্যন্ত কার্যকরী।
- স্নাউট (Rostrum): লম্বা, দাঁতযুক্ত চঞ্চুর মতো — কাদায় লুকিয়ে থাকা চিংড়ি ও মাছ ধরতে সাহায্য করে।
- সাঁতারের অভিযোজন: প্যাডেল-আকৃতির ফ্লিপার, চ্যাপটা লেজ, নমনীয় ঘাড়ের পরিবর্তে সুবিন্যস্ত কশেরুকা — জটিল বাঁকে দ্রুত সাঁতার।
- শ্বাস: ব্লো-হোল (Blowhole) — চোখের গোড়ায় লম্বাটে ছিদ্র — ইচ্ছামতো খোলে-বন্ধ করে। 30-120 সেকেন্ড অন্তর ভেসে O₂ নেয়।
সংকট:
নদীবাঁধ ও ব্যারেজ → দল বিচ্ছিন্ন (Fragmentation) → অন্তঃপ্রজনন। মাছ ধরার জালে আটকে মৃত্যু। কলকারখানার বর্জ্য ও তেল দূষণ → মাছের সংখ্যা কমে → খাদ্যসংকট। পর্যটনবাহী নৌকার গোলমালে ইকোলোকেশন ব্যাহত।
সংরক্ষণ:
- জাতীয় জলজ প্রাণী (National Aquatic Animal, 5 অক্টোবর 2009 — মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত)।
- প্রজেক্ট ডলফিন (Project Dolphin, 2020) — টাইগার প্রজেক্টের আদলে।
- বিক্রমশীলা গ্যাঞ্জেটিক ডলফিন স্যাংচুয়ারি (বিহার, 1991 — 60 km গঙ্গা) — বিশ্বের প্রথম শুশুক অভয়ারণ্য।
- উ.প্র. বিজঘাট-নারোরা রামসার সাইট (Ramsar Site, 2005)।
- IUCN: Endangered (2012), CITES: Appendix I, Wildlife Protection Act (1972): Schedule I।
সুন্দরবনের জন্য হুমকি — বিশ্বউষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠ উচ্চতা বৃদ্ধি (SLR)
IPCC (2021) অনুযায়ী গত 100 বছরে বিশ্বের গড় সমুদ্রপৃষ্ঠ 15-20 cm বেড়েছে। বঙ্গোপসাগরে SLR হার: ~3.14 mm/বছর। প্রভাব: (i) লবণাক্ততা বৃদ্ধি: জোয়ারের নোনা জল আরও গভীরে ঢুকে মিঠে জলের মজুদ লবণাক্ত করছে → সুন্দরী গাছ (Heritiera fomes) 'টপ ডাইং' রোগে মরছে। (ii) তটভূমি ক্ষয় (Coastal Erosion): প্রতি বছর প্রায় 5 km² ভূমি বিলীন। (iii) ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধি: উষ্ণ সমুদ্র → বেশি ও তীব্র সাইক্লোন (আমফান 2020 — 260 km/h) → ম্যানগ্রোভের ব্যাপক ক্ষতি। (iv) দ্বীপ নিমজ্জন: নিউ মুর (দক্ষিণ তালপট্টি) দ্বীপ 2010-এ সম্পূর্ণ নিমজ্জিত। ঘোড়ামারা দ্বীপের অর্ধেক জলের নীচে।
ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব:
- জীববৈচিত্র্যের হটস্পট: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মেছোবিড়াল, কুমির, কচ্ছপ, 260+ প্রজাতির পাখি, 35+ সরীসৃপ।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমন: সাইক্লোন ও সুনামির ধাক্কা শোষণ করে — 2004 সুনামিতে সুন্দরবন রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে।
- কার্বন সিঙ্ক (Blue Carbon): ক্রান্তীয় বনের চেয়ে 5 গুণ বেশি কার্বন সঞ্চয় করে — জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ।
- জীবিকা: প্রায় 4.5 মিলিয়ন মানুষের মধু, কাঠ, মাছ ও পর্যটন নির্ভর জীবিকা।
সংরক্ষণ প্রচেষ্টা:
Sundarban Biosphere Reserve (1989), Project Tiger (1973 — 2585 km²), UNESCO World Heritage Site (1987), Ramsar Site (2019), National Action Plan on Climate Change (SAPCC), ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার ও উপকূলবর্তী সবুজ বেষ্টনী (Green Wall) তৈরি।
জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়ের কারণ (HIPPO):
- H — Habitat Loss (বাসস্থান ধ্বংস): বন নিধন, নগরায়ণ, কৃষি সম্প্রসারণ — সবচেয়ে বড় হুমকি (~80% অবক্ষয়ের কারণ)।
- I — Invasive Species (অনুপ্রবেশকারী প্রজাতি): বিদেশি প্রজাতি (যেমন ওয়াটার হায়াসিন্থ, লান্টানা) দেশীয় প্রজাতিকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দেয়।
- P — Pollution (দূষণ): কীটনাশক, শিল্প বর্জ্য, প্লাস্টিক, তেল — কীস্টোন প্রজাতির ক্ষতি।
- P — Population (মানব জনসংখ্যা বৃদ্ধি): সম্পদের ওপর চাপ — অতিরিক্ত শোষণ (Overexploitation)।
- O — Overharvesting (অতিরিক্ত আহরণ): নির্বিচারে শিকার, মাছ ধরা, কাঠ কাটা — প্রজাতির সংখ্যা বিপন্ন স্তরে নামিয়ে আনা।
ফলাফল:
বাস্তুতন্ত্রের সেবা (Ecosystem Services) ব্যাহত — পরাগায়ণ, জল পরিশোধন, মাটির উর্বরতা, কার্বন সঞ্চয় — সব হ্রাস। খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়া। বিলুপ্তি — বর্তমানে 1 মিলিয়ন প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে (IPBES, 2019)। ষষ্ঠ গণবিলুপ্তি (6th Mass Extinction) — নৃতাত্ত্বিক (Anthropocene)।
ভারতের ৫টি বিপন্ন প্রাণী:
| প্রাণী | IUCN Status | জনসংখ্যা (প্রায়) | অবস্থান (ভারত) |
|---|---|---|---|
| রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) | Endangered | ~2967 (2018) | সুন্দরবন, করবেট, কানহা, বান্ধবগড় |
| একশৃঙ্গ গণ্ডার (Rhinoceros unicornis) | Vulnerable | ~3700 (2021) | কাজিরাঙা, মানস, জলদাপাড়া |
| এশিয়াটিক সিংহ (Panthera leo persica) | Endangered | ~674 (2020) | গির ফরেস্ট (গুজরাট) |
| গঙ্গা শুশুক (Platanista gangetica) | Endangered | ~3500 | গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র |
| তুষার চিতা (Panthera uncia) | Vulnerable | ~400-700 | লাদাখ, সিকিম, উত্তরাখণ্ড |
প্রতিকার:
ইন সিটু + এক্স সিটু সংরক্ষণ, প্রকল্প টাইগার/এলিফ্যান্ট/ডলফিন, Wildlife Protection Act (1972) — Schedule I-VI, CITES — আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য আইন (Biological Diversity Act, 2002), কমিউনিটি কনজারভেশন, ইকো-ট্যুরিজম, পরিবেশ শিক্ষা।
মনে রেখো!
বনস্তর: Canopy → Understory → Shrub → Herb → Forest Floor | ম্যানগ্রোভ: শ্বাসমূল, ভিভিপ্যারি, লবণগ্রন্থি | IUCN: EX → CR → EN → VU → NT → LC | Ex Situ: চিড়িয়াখানা, জিন ব্যাংক | Earth Summit: Rio 1992 → Agenda 21 | জাতীয় জলজ প্রাণী: গঙ্গা শুশুক | মেরু ভালুক: সাদা লোম, ব্লাবার, ক্যামোফ্লেজ | গণ্ডারের খড়গ: কেরাটিন (নখ/চুলের মতো প্রোটিন)