Chapter 6: দেহের গঠন (Body Organization)
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 30 MCQ | 8 SAQ | 6 Broad Questions
অণুবীক্ষণ কোশ নিউক্লিয়াস মাইটোকন্ড্রিয়া প্লাস্টিড গলজি
🔬
অণুবীক্ষণ যন্ত্র
সরল (20×) → যৌগিক (4000×) → ইলেকট্রন (3 লক্ষ×)
🦠
কোশের অঙ্গাণু
নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ER, গলজি, রাইবোজোম, লাইসোজোম
🌿
উদ্ভিদ বনাম প্রাণী
প্রাচীর, প্লাস্টিড, গহ্বর — উদ্ভিদে; সেন্ট্রোজোম — প্রাণীতে
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
30 টি1. কোশ (Cell) প্রথম কে আবিষ্কার করেন?
ক) ক) লিউয়েনহুক
খ) খ) রবার্ট হুক (Robert Hooke)
গ) গ) ডারউইন
ঘ) ঘ) পাস্তুর
ব্যাখ্যা: 1665 সালে বিজ্ঞানী রবার্ট হুক (Robert Hooke) গাছের কাঠের ছাল নিয়ে নিজের তৈরি সরু অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মৌচাকের প্রাকোষ্ঠের মতো অসংখ্য কুঠুরি দেখেন এবং এদের 'Cellulae' (ল্যাটিন — ঘর) নাম দেন। পরে এদেরই 'Cell' (কোশ) নামে অভিহিত করা হয়।
2. প্রথম সজীব কোশ কে পর্যবেক্ষণ করেন?
ক) ক) রবার্ট হুক
খ) খ) লিউয়েনহুক (Leeuwenhoek)
গ) গ) রবার্ট ব্রাউন
ঘ) ঘ) শ্লাইডেন
ব্যাখ্যা: 1674 সালে ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক (Antonie van Leeuwenhoek) প্রথম সজীব কোশ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি উন্নত ক্ষমতার অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করে নানা অণুজীব ও রক্তকোশ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। রবার্ট হুক মৃত কোশ (কর্ক কোশ) দেখেছিলেন।
3. সরল আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Simple Microscope) কত গুণ বিবর্ধন করতে পারে?
ক) ক) 15-20 গুণ
খ) খ) 100 গুণ
গ) গ) 2000 গুণ
ঘ) ঘ) 1 লক্ষ গুণ
ব্যাখ্যা: সরল আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে (Simple Light Microscope) একটি মাত্র লেন্স ব্যবহার করা হয়। এর সাহায্যে বস্তুকে 15-20 গুণ বড় করে দেখা সম্ভব। ফুল কেটে তার অংশ বিশেষ দেখার জন্য এ ধরনের অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহৃত হতো।
4. যৌগিক আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Compound Microscope) কত গুণ বিবর্ধন করতে সক্ষম?
ক) ক) 50-100
খ) খ) 2000-4000
গ) গ) 50000
ঘ) ঘ) 3 লক্ষ
ব্যাখ্যা: যৌগিক আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে (Compound Light Microscope) একাধিক লেন্স (অভিলেন্স ও অভিলক্ষ) ব্যবহৃত হয়। দৃশ্যমান আলো দ্বারা বস্তুকে আলোকিত করা হয় এবং আয়নার সাহায্যে আলো ফেলা হয়। এর সাহায্যে বস্তুকে 2000-4000 গুণ পর্যন্ত বড় করে দেখা যায়। ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল ইত্যাদি দেখতে ব্যবহৃত হয়।
5. ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Electron Microscope)-এর বিবর্ধন ক্ষমতা কত?
ক) ক) 2000-4000
খ) খ) 50,000-3,00,000
গ) গ) 500-1000
ঘ) ঘ) 10-20
ব্যাখ্যা: ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Electron Microscope) আলোর পরিবর্তে দ্রুতগতির ইলেকট্রন প্রবাহ এবং কাচের লেন্সের পরিবর্তে তড়িৎচুম্বক ব্যবহার করে। এর সাহায্যে বস্তুকে 50,000 থেকে 3,00,000 (তিন লক্ষ) গুণ পর্যন্ত বড় করে দেখা যায়। ভাইরাস, কোশ-অঙ্গাণুর সূক্ষ্ম গঠন ইত্যাদি দেখতে ব্যবহৃত হয়।
6. লোহিত রক্তকণিকার (RBC) আকৃতি কেমন?
ক) ক) গোলাকার, দু-পাশ চাপটা (চাকতির মতো)
খ) খ) তারা-আকৃতি
গ) গ) নলাকার
ঘ) ঘ) অনিয়মিত
ব্যাখ্যা: লোহিত রক্তকণিকা (RBC) গোলাকার, দু-পাশ চাপটা — অনেকটা চাকতির (Biconcave Disc) মতো। এই বিশেষ আকৃতির কারণে এটি (i) বিভিন্ন ব্যাসের রক্তনালীর মধ্য দিয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারে, (ii) বেশি পৃষ্ঠতল ক্ষেত্রফলের জন্য বেশি পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহণ করতে পারে।
7. পেশিকোশের (Muscle Cell) আকৃতি কেমন?
ক) ক) গোলাকার
খ) খ) দু-প্রান্ত সূচালো, মাঝখানটা চওড়া (তন্তুময়)
গ) গ) চ্যাপটা
ঘ) ঘ) তারার মতো
ব্যাখ্যা: পেশিকোশ (Muscle Cell/Myocyte) তন্তুময় — দু-প্রান্ত সূচালো ও মাঝখানটা চওড়া। এই বিশেষ গঠনের জন্য এরা সংকোচন-প্রসারণ (Contract & Relax) করতে পারে। পেশিকোশের সংকোচন-প্রসারণের জন্যই স্থান পরিবর্তন, খাদ্যনালীর মধ্য দিয়ে খাদ্য স্থানান্তরণ, রক্ত সঞ্চালন ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন হয়।
8. স্নায়ুকোশের (Nerve Cell) মূল কোশদেহের আকৃতি কেমন?
ক) ক) তারা-আকৃতি বা গোলাকার, শাখা-প্রশাখাযুক্ত
খ) খ) চাকতির মতো
গ) গ) সূচালো
ঘ) ঘ) চৌকো
ব্যাখ্যা: স্নায়ুকোশ (Neuron)-এর মূল কোশদেহ তারার মতো বা গোলাকার এবং তার সঙ্গে নানা আকৃতির শাখা-প্রশাখা (ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সন) যুক্ত থাকে। স্নায়ুকোশ দৈর্ঘ্যে অন্যান্য কোশের তুলনায় অনেক বেশি হয় (কয়েক মিটার পর্যন্ত)। এরা উদ্দীপনা (আলো, শব্দ, তাপ ইত্যাদি) গ্রহণ ও পরিবহণ করে।
9. ডিম (মুরগির কুসুম) কী ধরনের গঠন?
ক) ক) একটি পূর্ণাঙ্গ একক কোশ (Single Cell)
খ) খ) বহুকোশী কলা
গ) গ) অঙ্গ
ঘ) ঘ) তন্ত্র
ব্যাখ্যা: মুরগির ডিমের কুসুম (Yolk) আসলে একটি একক কোশ — যাকে খালি চোখে দেখা যায়। এটি একটি বৃহত্তম কোশের উদাহরণ। সাদা অংশ (অ্যালবুমিন) কুসুমকে ঘিরে থাকে। উটপাখির অনিষিক্ত ডিম হল বৃহত্তম একক কোশ (ব্যাস ~15 cm)।
10. কোশের আকার সাধারণত কী এককে মাপা হয়?
ক) ক) সেন্টিমিটার (cm)
খ) খ) মিলিমিটার (mm)
গ) গ) মাইক্রোমিটার বা মাইক্রন (µm)
ঘ) ঘ) কিলোমিটার (km)
ব্যাখ্যা: কোশের আকার সাধারণত মাইক্রোমিটার বা মাইক্রন (µm)-এ মাপা হয়। 1 µm = 1 মিলিমিটারের 1000 ভাগের 1 ভাগ = 10⁻⁶ মিটার। 1 mm = 1000 µm। বেশিরভাগ কোশের আকার 5-10 µm। একটি ফুলস্টপ (.)-এ প্রায় 400টি ব্যাকটেরিয়া কোশ এঁটে যেতে পারে।
11. 1 মাইক্রন (µm) = কত ন্যানোমিটার (nm)?
ক) ক) 10 nm
খ) খ) 100 nm
গ) গ) 1000 nm
ঘ) ঘ) 10000 nm
ব্যাখ্যা: 1 মিটার = 1000 মিলিমিটার, 1 mm = 1000 মাইক্রোমিটার (µm), 1 µm = 1000 ন্যানোমিটার (nm), 1 nm = 10 অ্যাংস্ট্রম (Å)। অর্থাৎ 1 µm = 1000 nm। কোশ পর্দার পুরুত্ব মাত্র 7-8 nm।
12. কোশ প্রাচীর (Cell Wall) কোন কোশে থাকে?
ক) ক) শুধু প্রাণীকোশে
খ) খ) শুধু উদ্ভিদকোশে
গ) গ) উভয় কোশে
ঘ) ঘ) কোনোটিতেই নয়
ব্যাখ্যা: কোশ প্রাচীর (Cell Wall) শুধুমাত্র উদ্ভিদকোশে থাকে — প্রাণীকোশে অনুপস্থিত। এটি সেলুলোজ দিয়ে গঠিত একটি অনমনীয়, ভেদ্য বহিরাবরণ — কোশকে দৃঢ়তা ও নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে এবং বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
13. প্লাস্টিড (Plastid) কোন ধরনের কোশে দেখা যায়?
ক) ক) প্রাণীকোশ
খ) খ) শুধু উদ্ভিদকোশ
গ) গ) উভয় কোশ
ঘ) ঘ) শুধু ব্যাকটেরিয়ায়
ব্যাখ্যা: প্লাস্টিড (Plastid) শুধুমাত্র উদ্ভিদকোশে থাকে — প্রাণীকোশে অনুপস্থিত। ক্লোরোপ্লাস্ট (সবুজ — সালোকসংশ্লেষ), ক্রোমোপ্লাস্ট (রঙিন — ফুল-ফলের বর্ণ), লিউকোপ্লাস্ট (বর্ণহীন — শ্বেতসার সঞ্চয়)।
14. প্রাণীকোশ বিভাজনে কোন অঙ্গাণু অংশগ্রহণ করে?
ক) ক) লাইসোজোম
খ) খ) সেন্ট্রোজোম (Centrosome)
গ) গ) রাইবোজোম
ঘ) ঘ) গলজি বস্তু
ব্যাখ্যা: সেন্ট্রোজোম (Centrosome) — পর্দাবিহীন অঙ্গাণু, প্রাণীকোশ বিভাজনে (মাইটোসিস ও মিয়োসিস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি স্পিন্ডল ফাইবার (Spindle Fibre) গঠনে সাহায্য করে। উদ্ভিদকোশে সেন্ট্রোজোম অনুপস্থিত — উদ্ভিদকোশ বিভাজন অন্য প্রক্রিয়ায় ঘটে।
15. লাইসোজোম (Lysosome)-কে কোশের কী বলা হয়?
ক) ক) শক্তি ঘর
খ) খ) আত্মঘাতী থলি (Suicidal Bag)
গ) গ) প্রোটিন কারখানা
ঘ) ঘ) প্যাকেজিং সেন্টার
ব্যাখ্যা: লাইসোজোম (Lysosome) পর্দাবদ্ধ থলির মতো অঙ্গাণু, যার মধ্যে নানা ধরনের পরিপাককারী উৎসেচক (Hydrolytic Enzymes) থাকে। এটি কোশে প্রবেশ করা রোগজীবাণু ধ্বংস করে এবং প্রয়োজনে নিজ কোশকেও ধ্বংস করতে পারে (Autolysis) — এজন্য একে 'আত্মঘাতী থলি' (Suicidal Bag) বা Suicide Squad বলা হয়।
16. মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)-কে কোশের কী বলা হয়?
ক) ক) প্রোটিন কারখানা
খ) খ) কোশের শক্তিঘর (Powerhouse)
গ) গ) প্যাকেজিং সেন্টার
ঘ) ঘ) বংশগতির ভাণ্ডার
ব্যাখ্যা: মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria) কোশের শ্বসন (Cellular Respiration)-এর প্রধান কেন্দ্র। এখানে গ্লুকোজের জারণ ঘটে এবং ATP (শক্তি মুদ্রা) উৎপন্ন হয়। এজন্য একে 'কোশের শক্তিঘর' (Powerhouse of the Cell) বলা হয়। দ্বি-পর্দাবিশিষ্ট, নিজস্ব DNA ও রাইবোজোম আছে।
17. রাইবোজোম (Ribosome)-কে কোশের কী বলা হয়?
ক) ক) শক্তিঘর
খ) খ) প্রোটিন কারখানা (Protein Factory)
গ) গ) আত্মঘাতী থলি
ঘ) ঘ) প্যাকেজিং সেন্টার
ব্যাখ্যা: রাইবোজোম (Ribosome) — পর্দাবিহীন অঙ্গাণু, প্রোটিন সংশ্লেষণের (Translation) স্থান। mRNA-র সঙ্কেত অনুযায়ী অ্যামাইনো অ্যাসিড জুড়ে প্রোটিন শৃঙ্খল তৈরি করে। এজন্য একে 'প্রোটিন কারখানা' (Protein Factory) বলা হয়। প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয় কোশেই আছে।
18. গলজি বস্তু (Golgi Body)-র প্রধান কাজ কী?
ক) ক) প্রোটিন সংশ্লেষ
খ) খ) শক্তি উৎপাদন
গ) গ) কোশীয় নিঃসরণ (প্যাকেজিং ও ক্ষরণ)
ঘ) ঘ) সালোকসংশ্লেষ
ব্যাখ্যা: গলজি বস্তু (Golgi Body/Apparatus) — চাপটা থলির মতো স্তরীভূত অঙ্গাণু। এর প্রধান কাজ: প্রোটিন ও লিপিডের প্যাকেজিং (Packaging), প্রক্রিয়াকরণ (Modification) ও কোশের বাইরে নিঃসরণ (Secretion)। পাকস্থলীর উৎসেচক ক্ষরণকারী কোশে (গ্যাস্ট্রিক গ্ল্যান্ড) গলজি বস্তুর সংখ্যা বেশি থাকে।
19. প্রাণীকোশ ও উদ্ভিদকোশের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কোনটি?
ক) ক) নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি
খ) খ) কোশ প্রাচীর ও প্লাস্টিড — উদ্ভিদে আছে, প্রাণীতে নেই
গ) গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
ঘ) ঘ) রাইবোজোম
ব্যাখ্যা: প্রধান পার্থক্য: (i) কোশ প্রাচীর (Cell Wall): উদ্ভিদে সেলুলোজ নির্মিত শক্ত প্রাচীর আছে — প্রাণীকোশে নেই। (ii) প্লাস্টিড (Plastid): উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট ইত্যাদি আছে — প্রাণীকোশে নেই। (iii) সেন্ট্রোজোম: প্রাণীকোশে আছে — উদ্ভিদকোশে নেই। (iv) গহ্বর (Vacuole): উদ্ভিদে বড় স্থায়ী, প্রাণীতে ছোট ও অস্থায়ী।
20. কোশের নিউক্লিয়াসের প্রধান কাজ কী?
ক) ক) শক্তি উৎপাদন
খ) খ) বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন ও কোশীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ
গ) গ) প্রোটিন সংশ্লেষ
ঘ) ঘ) বর্জ্য নিষ্কাশন
ব্যাখ্যা: নিউক্লিয়াস (Nucleus) — দ্বি-পর্দাবৃত, ক্রোমাটিন জালিকা ও নিউক্লিওলাসযুক্ত। এর মধ্যে DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) থাকে যা জিন বহন করে। প্রধান কাজ: বংশগতির বৈশিষ্ট্য ধারণ ও এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বহন; এবং কোশের সকল বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ।
21. রবার্ট হুক যে কোশ দেখেছিলেন তা মৃত ছিল কেন?
ক) ক) গাছ মৃত ছিল
খ) খ) তিনি কর্ক (মৃত ছাল) কোশ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন
গ) গ) অণুবীক্ষণ যন্ত্র নষ্ট ছিল
ঘ) ঘ) তিনি ভুল দেখেছিলেন
ব্যাখ্যা: রবার্ট হুক গাছের কর্ক (Cork) বা মৃত ছাল কোশ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন — যে কোশগুলি ইতোমধ্যে মৃত ছিল এবং কেবল কোশপ্রাচীর অবশিষ্ট ছিল। 1674 সালে লিউয়েনহুকই প্রথম সজীব কোশ (অণুজীব, রক্তকোশ) পর্যবেক্ষণ করেন।
22. শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) রোগজীবাণু ধ্বংস করার সময় কোন অঙ্গাণুর সংখ্যা বাড়ে?
ক) ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
খ) খ) লাইসোজোম
গ) গ) রাইবোজোম
ঘ) ঘ) গলজি বস্তু
ব্যাখ্যা: শ্বেত রক্তকণিকা (WBC/Leucocyte) দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ — এরা অ্যামিবার মতো আকৃতি পরিবর্তন করে রোগজীবাণুকে গ্রাস করে (Phagocytosis)। এই জীবাণু পাচন করে ধ্বংস করার জন্য লাইসোজোম প্রয়োজন — তাই এ সময় শ্বেত রক্তকণিকায় লাইসোজোমের সংখ্যা বেড়ে যায়।
23. হাত-পায়ের পেশিকোশে কোন অঙ্গাণু বেশি থাকে ও কেন?
ক) ক) মাইটোকন্ড্রিয়া — শক্তির চাহিদা মেটাতে
খ) খ) লাইসোজোম — জীবাণু ধ্বংস করতে
গ) গ) ক্লোরোপ্লাস্ট — সালোকসংশ্লেষে
ঘ) ঘ) গলজি — নিঃসরণে
ব্যাখ্যা: হাত-পায়ের পেশি খুব তাড়াতাড়ি নড়াচড়া করে — তাই এদের প্রচুর শক্তি (ATP) প্রয়োজন। ATP উৎপন্ন হয় মাইটোকন্ড্রিয়ায় (কোষীয় শ্বসনের মাধ্যমে)। তাই হাত-পায়ের পেশিকোশে মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা অনেক বেশি থাকে।
24. মরু অঞ্চলের ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ কীভাবে জল সঞ্চয় করে?
ক) ক) পাতায়
খ) খ) কাণ্ডের প্যারেনকাইমা কোশের বড় গহ্বরে (Vacuole)
গ) গ) মূলে
ঘ) ঘ) ফুলে
ব্যাখ্যা: ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ মরু অঞ্চলের শুকনো ও গরম পরিবেশে বাস করে। এদের কাণ্ডের কোশগুলিতে অতিবৃহৎ গহ্বর (Vacuole) থাকে — যেখানে জল সঞ্চিত থাকে। পাতাগুলি কাঁটায় (Spine) রূপান্তরিত হয়ে গেছে — প্রস্বেদন (Transpiration) কমিয়ে জল অপচয় রোধ করে।
25. উদ্ভিদকোশের গহ্বরে (Vacuole) সঞ্চিত কোশরস কী কী ধারণ করে?
ক) ক) শুধু জল
খ) খ) জল, খনিজ লবণ, শর্করা, অ্যামাইনো অ্যাসিড, রঞ্জক পদার্থ
গ) গ) শুধু প্রোটিন
ঘ) ঘ) শুধু গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা: উদ্ভিদকোশের স্থায়ী গহ্বর (Central Vacuole) 'কোশরস' (Cell Sap)-এ পূর্ণ থাকে। কোশরসে জল, খনিজ লবণ, শর্করা, অ্যামাইনো অ্যাসিড, জৈব অ্যাসিড, রঞ্জক পদার্থ (অ্যান্থোসায়ানিন ইত্যাদি) দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। টনোপ্লাস্ট নামক একক পর্দা দিয়ে ঘেরা।
26. কোশ পর্দা (Plasma Membrane)-র প্রধান কাজ কী?
ক) ক) কোশকে শক্ত করা
খ) খ) কোশের ভেতরে ও বাইরে পদার্থের নির্বাচিত যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ
গ) গ) প্রোটিন তৈরি
ঘ) ঘ) শক্তি উৎপাদন
ব্যাখ্যা: প্লাজমা পর্দা বা কোশ ঝিল্লি (Plasma Membrane/Cell Membrane) — লিপিড দ্বি-স্তর ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অর্ধভেদ্য পর্দা (Selectively Permeable Membrane)। এটি কোশের বাইরের আবরণ — প্রাণীকোশে সবচেয়ে বাইরের স্তর (কোশ প্রাচীর নেই), উদ্ভিদকোশে কোশ প্রাচীরের ঠিক ভেতরে অবস্থিত।
27. ডাল বা সবজির রং রান্নার জলে বেরিয়ে আসে — এর কারণ কী?
ক) ক) জলের চাপ
খ) খ) তাপে প্লাজমা পর্দা ও টনোপ্লাস্ট নষ্ট হয়ে যায় এবং কোশরস বেরিয়ে আসে
গ) গ) লবণের প্রভাব
ঘ) ঘ) আলোর প্রভাব
ব্যাখ্যা: সবজি বা ডাল রান্নার সময় উচ্চ তাপে কোশের প্লাজমা পর্দা ও গহ্বরের টনোপ্লাস্ট পর্দা ধ্বংস (Denature) হয়ে যায়। ফলে কোশের ভেতরে থাকা রঞ্জক পদার্থ (যেমন বিটালেইন, অ্যান্থোসায়ানিন) ও অন্যান্য কোশরস জলীয় মাধ্যমে বেরিয়ে আসে — জলের রং পরিবর্তন হয়।
28. বিভিন্ন পরিবেশে জীবের অভিযোজনে কোশের ভূমিকা কী?
ক) ক) কোশের কোনো ভূমিকা নেই
খ) খ) কোশীয় স্তরে গঠনগত ও কার্যগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই জীব পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়
গ) গ) শুধু আচরণগত পরিবর্তন হয়
ঘ) ঘ) কোশ সবসময় একই থাকে
ব্যাখ্যা: বিভিন্ন পরিবেশের (মরু, মেরু, জলজ, উচ্চ লবণাক্ততা, কম O₂ ইত্যাদি) সাথে খাপ খাওয়াতে জীবের দেহে গঠনগত ও কার্যগত বৈচিত্র্য দেখা যায়। এই অভিযোজনের মূল ভিত্তি হল কোশীয় স্তরের পরিবর্তন। যেমন — ক্যাকটাসে জল সঞ্চয়ের জন্য বড় গহ্বর; উচ্চ O₂ চাহিদা মেটাতে পেশিকোশে বেশি মাইটোকন্ড্রিয়া।
29. কোশের কোন অঙ্গাণুটি কোশের 'প্যাকেজিং ও ডিসপ্যাচ সেন্টার' নামে পরিচিত?
ক) ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
খ) খ) গলজি বস্তু (Golgi Apparatus)
গ) গ) লাইসোজোম
ঘ) ঘ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
ব্যাখ্যা: গলজি বস্তু (Golgi Body) — কোশের সচিবালয় বা প্যাকেজিং সেন্টার নামে পরিচিত। এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে আগত প্রোটিন ও লিপিড এখানে প্রক্রিয়াজাত, প্যাকেজ ও লেবেল করা হয় এবং ভেসিকল আকারে কোশের নির্দিষ্ট গন্তব্যে বা কোশ-বাইরে (নিঃসরণ) পাঠানো হয়।
30. অ্যামিবার ক্ষণপদ (Pseudopodia)-র কাজ কী?
ক) ক) খাদ্য ধরা
খ) খ) চলাচল ও খাদ্যগ্রহণ
গ) গ) শুধু রক্ষা
ঘ) ঘ) প্রজনন
ব্যাখ্যা: অ্যামিবার অনিয়মিত আকৃতি — কোশদেহের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষণপদ (Pseudopodia/False Feet) বেরোয়। ক্ষণপদ ক্ষণস্থায়ী — কখনো তৈরি হয়, আবার পর মুহূর্তেই বিলীন হয়। এগুলি অ্যামিবার চলাচলে (Amoeboid Movement) ও খাদ্যগ্রহণে (Phagocytosis/পিনোসাইটোসিস) সাহায্য করে। শ্বেত রক্তকণিকাও ক্ষণপদের মাধ্যমে জীবাণু গ্রাস করে।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
8 টি1. 🔬 অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Microscope)-এর প্রকারভেদ ও ব্যবহার লেখো। কোন যন্ত্রে কত গুণ বিবর্ধন সম্ভব?
উত্তর:
| প্রকার | বিবর্ধন ক্ষমতা | বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার |
|---|
| সরল আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র | 15-20× | একটি লেন্স — ফুলের অংশবিশেষ, সরল গঠন পর্যবেক্ষণ |
| যৌগিক আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র | 2000-4000× | একাধিক লেন্স (অভিলেন্স + অভিলক্ষ), আয়নার সাহায্যে আলোকিত — ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল, কলার গঠন |
| ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র | 50,000-3,00,000× | ইলেকট্রন রশ্মি ও চৌম্বক লেন্স — ভাইরাস, অঙ্গাণুর সূক্ষ্ম গঠন, DNA ইত্যাদি |
2. 🔬 রবার্ট হুক ও লিউয়েনহুক-এর অবদান কী? এদের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
রবার্ট হুক (1665): গাছের কর্ক (মৃত ছাল) নিয়ে প্রথম কোশ (Cell) আবিষ্কার করেন এবং 'Cellulae' (ছোট ঘর) নাম দেন। তিনি মৃত কোশ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন — কারণ কর্কে শুধু কোশপ্রাচীর অবশিষ্ট থাকে।
লিউয়েনহুক (1674): ওলন্দাজ বিজ্ঞানী, উন্নত অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করে প্রথম সজীব কোশ পর্যবেক্ষণ করেন — নানা অণুজীব (Bacteria, Protozoa) ও রক্তকোশ দেখেছিলেন।
পার্থক্য: হুক — মৃত কোশ, লিউয়েনহুক — সজীব কোশ; হুক প্রথম নাম দেন, লিউয়েনহুক প্রথম জীবন্ত কোশীয় গঠনের বর্ণনা দেন।
3. 🧫 প্রাণীকোশ ও উদ্ভিদকোশের মধ্যে পার্থক্যগুলি সারণি আকারে লেখো।
উত্তর:
| বৈশিষ্ট্য | প্রাণীকোশ | উদ্ভিদকোশ |
|---|
| কোশ প্রাচীর (Cell Wall) | অনুপস্থিত | সেলুলোজ নির্মিত, উপস্থিত |
| প্লাস্টিড (Plastid) | অনুপস্থিত | ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট, লিউকোপ্লাস্ট উপস্থিত |
| সেন্ট্রোজোম (Centrosome) | উপস্থিত (কোশ বিভাজনে) | উচ্চতর উদ্ভিদে অনুপস্থিত |
| গহ্বর (Vacuole) | ছোট, অস্থায়ী, একাধিক | বড়, স্থায়ী, সাধারণত একটি (কেন্দ্রীয় গহ্বর) |
| গলজি বস্তু | একক, বড় (ডিক্টিওজোম) | একাধিক, ছোট (গলজি বডি) |
| আকৃতি | অনিয়মিত, প্রাচীরহীন | সুনির্দিষ্ট, প্রাচীরযুক্ত |
4. 🧫 কোশ অঙ্গাণুসমূহের নাম, অবস্থান, বৈশিষ্ট্য ও কাজ সারণি আকারে লেখো।
উত্তর:
| অঙ্গাণু | অবস্থান | প্রধান কাজ |
|---|
| নিউক্লিয়াস | উভয় কোশ (কেন্দ্রে) | বংশগতি (DNA), কোশ নিয়ন্ত্রণ |
| মাইটোকন্ড্রিয়া | উভয় কোশ | শক্তি উৎপাদন — ATP (কোশের শক্তিঘর) |
| রাইবোজোম | উভয় কোশ | প্রোটিন সংশ্লেষ (প্রোটিন কারখানা) |
| ER (এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম) | উভয় কোশ | প্রোটিন ও লিপিড পরিবহণ, পর্দা সংশ্লেষ |
| গলজি বস্তু | উভয় কোশ | প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াকরণ ও নিঃসরণ |
| লাইসোজোম | শুধু প্রাণীকোশ | অন্তঃকোশীয় পরিপাক, আত্মহত্যা থলি |
| প্লাস্টিড | শুধু উদ্ভিদকোশ | সালোকসংশ্লেষ (ক্লোরোপ্লাস্ট), বর্ণ (ক্রোমোপ্লাস্ট) |
| সেন্ট্রোজোম | শুধু প্রাণীকোশ | কোশ বিভাজনে স্পিন্ডল গঠন |
| গহ্বর (Vacuole) | উভয় (প্রাণীতে ছোট) | জল ও খনিজ সঞ্চয়, কোশরস ধারণ |
5. 🧫 নিউক্লিয়াস (Nucleus)-এর গঠন ও কাজ বিস্তারিতভাবে লেখো।
উত্তর:
গঠন: নিউক্লিয়াস দ্বি-স্তরী পর্দা (Nuclear Envelope) দিয়ে ঘেরা — যাতে নিউক্লীয় রন্ধ্র (Nuclear Pore) থাকে। ভেতরে ক্রোমাটিন জালিকা (Chromatin Network/DNA + প্রোটিন) ও একটি বা একাধিক নিউক্লিওলাস (Nucleolus — rRNA সংশ্লেষ) থাকে। নিউক্লিওপ্লাজম (Nucleoplasm) নামক তরলে নিমজ্জিত।
কাজ:
- DNA-তে বংশগতির বৈশিষ্ট্য সঞ্চিত (জিন/Gene) — প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বহন।
- কোশ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম তৈরি ও সমবিভাজন।
- mRNA তৈরির মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষ নিয়ন্ত্রণ (ট্রান্সক্রিপশন)।
- সমস্ত কোশীয় কার্যকলাপের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক।
6. 🧫 মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)-র গঠন ও কাজ কী? কেন একে 'কোশের শক্তিঘর' বলা হয়?
উত্তর:
গঠন: দ্বি-পর্দাবিশিষ্ট (Outer & Inner Membrane), অন্তঃপর্দা ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি (Cristae) গঠন করে। ভেতরের ধাত্র (Matrix)-এ নিজস্ব বৃত্তাকার DNA, RNA, রাইবোজোম (70S) ও শ্বসন বন্ধক উৎসেচক থাকে। আকার: 0.5-1 μm × 2-8 μm।
কাজ:
- সাইটোক্রোম শৃঙ্খলের মাধ্যমে গ্লুকোজের বায়বীয় জারণ (কোশীয় শ্বসন) — ATP উৎপাদন।
- ক্রেবস চক্র (TCA Cycle) — ম্যাট্রিক্সে ঘটে।
- ফ্যাটি অ্যাসিডের β-জারণ।
- নিজস্ব DNA ও রাইবোজোম থাকায় নিজস্ব প্রোটিন সংশ্লেষণে সক্ষম — অর্ধ-স্বয়ংশাসিত (Semi-autonomous)।
শক্তিঘর: ATP (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট) — কোশের শক্তি মুদ্রা, মাইটোকন্ড্রিয়াতে উৎপন্ন হয়। মোট ATP-র সিংহভাগ এখানেই সংশ্লেষিত হয় বলে একে 'কোশের শক্তিঘর' (Powerhouse) বলা হয়।
7. 🔬 কোশের আকার ও আকৃতির বৈচিত্র্য উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো। কোন কোশ সবচেয়ে বড় ও কোনটি সবচেয়ে লম্বা?
উত্তর:
আকৃতির বৈচিত্র্য:
- লোহিত রক্তকণিকা (RBC): গোলাকার, দুই পাশ চাপটা (Biconcave Disc) — O₂ পরিবহণের জন্য। ~7 μm ব্যাস।
- পেশিকোশ (Muscle Cell): তন্তুময়, দুই প্রান্ত সূচালো — সংকোচন-প্রসারণের উপযোগী।
- স্নায়ুকোশ (Neuron): তারা-আকৃতির মূলদেহ, দীর্ঘ অ্যাক্সন (Axon) — 1 মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে (সবচেয়ে দীর্ঘতম কোশ)।
- অ্যামিবা ও শ্বেত রক্তকণিকা: অনিয়মিত, সর্বদা পরিবর্তনশীল — ক্ষণপদ সৃষ্টি।
- উদ্ভিদ প্যারেনকাইমা: গোলাকার/ডিম্বাকার, পাতলা প্রাচীর — সঞ্চয়।
সবচেয়ে বড়: উটপাখির অনিষিক্ত ডিমের কুসুম — ব্যাস ≈ 15 cm (একক কোশ)। সবচেয়ে ছোট: মাইকোপ্লাজমা (Mycoplasma) ব্যাকটেরিয়া — ~0.1 μm।
8. 🧫 প্লাস্টিড (Plastid) কাকে বলে? প্রকারভেদ ও কাজ লেখো।
উত্তর:
প্লাস্টিড (Plastid): দ্বি-পর্দাবিষ্ট, নিজস্ব DNA ও রাইবোজোমযুক্ত অর্ধ-স্বয়ংশাসিত অঙ্গাণু — শুধুমাত্র উদ্ভিদকোশ ও কিছু শৈবালে থাকে।
প্রকারভেদ:
- ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): সবুজ — ক্লোরোফিল বর্ণকণা। গ্রানা (Grana) স্তূপে থাইলাকয়েড পর্দায় সালোকসংশ্লেষের আলোক বিক্রিয়া ঘটে। স্ট্রোমায় অন্ধকার বিক্রিয়া (ক্যালভিন চক্র)। কাজ: সালোকসংশ্লেষ — সৌরশক্তি → রাসায়নিক শক্তি (গ্লুকোজ)।
- ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): হলুদ, কমলা, লাল — ক্যারোটিনয়েড (ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল) বর্ণকণা। কাজ: ফুল ও ফলে বর্ণ সৃষ্টি — পরাগায়ণ ও বীজ বিস্তারে সাহায্য।
- লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): বর্ণহীন — মূলে, কাণ্ডে, বীজে। কাজ: শ্বেতসার (Amyloplast), তেল (Elaioplast), প্রোটিন (Proteinoplast) সঞ্চয়।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর
6 টি1. কোশ আবিষ্কারের ইতিহাস ও অণুবীক্ষণ যন্ত্রের ক্রমবিকাশ আলোচনা করো। সরল, যৌগিক ও ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য কী?
কোশ আবিষ্কারের ইতিহাস
1665 — রবার্ট হুক (কর্ক কোশ → 'Cell'), 1674 — লিউয়েনহুক (প্রথম সজীব কোশ), 1831 — রবার্ট ব্রাউন (নিউক্লিয়াস আবিষ্কার), 1838-39 — শ্লাইডেন ও শোয়ান (কোশ তত্ত্ব — Cell Theory), 1855 — ভির্চো (সকল কোশ পূর্ববর্তী কোশ থেকে উৎপন্ন)।
| যন্ত্র | আলোর উৎস | লেন্স | বিবর্ধন | দৃষ্ট উদাহরণ |
|---|
| সরল | দৃশ্যমান আলো | 1টি | 15-20× | ফুলের অংশ |
| যৌগিক | দৃশ্যমান আলো + আয়না | একাধিক | 2000-4000× | ব্যাকটেরিয়া, RBC |
| ইলেকট্রন | ইলেকট্রন রশ্মি | চৌম্বক লেন্স | 3,00,000× | ভাইরাস, DNA |
2. প্রাণীকোশ ও উদ্ভিদকোশের গঠনগত পার্থক্য ও সাদৃশ্যগুলি সারণি আকারে আলোচনা করো। প্রতিটি অঙ্গাণুর কাজ উল্লেখ করো।
সাদৃশ্য:
উভয়েরই প্লাজমা পর্দা, নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ER, রাইবোজোম, গলজি বস্তু, লাইসোজোম (প্রাণীতে বেশি) আছে।
| বৈশিষ্ট্য | প্রাণীকোশ | উদ্ভিদকোশ |
|---|
| কোশ প্রাচীর | ✗ | ✓ (সেলুলোজ) |
| প্লাস্টিড | ✗ | ✓ (ক্লোরো-, ক্রোমো-, লিউকো-) |
| সেন্ট্রোজোম | ✓ | ✗ |
| গহ্বর | ছোট, অস্থায়ী | বড়, স্থায়ী (কেন্দ্রীয়) |
অঙ্গাণুর কাজ:
নিউক্লিয়াস (নিয়ন্ত্রণ), মাইটোকন্ড্রিয়া (ATP), রাইবোজোম (প্রোটিন), ER (পরিবহণ), গলজি (প্যাকেজিং), লাইসোজোম (পরিপাক), প্লাস্টিড (সালোকসংশ্লেষ), সেন্ট্রোজোম (বিভাজন), গহ্বর (সঞ্চয়)।
3. কোশের বিভিন্ন অঙ্গাণু ও তাদের কাজ বিস্তারিত আলোচনা করো। (নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, লাইসোজোম, গলজি বস্তু, রাইবোজোম, প্লাস্টিড, ER)
কোশ অঙ্গাণু (Cell Organelles) — বিস্তারিত
নিউক্লিয়াস: দ্বি-পর্দা, DNA, কোশের মস্তিষ্ক — প্রোটিন সংশ্লেষ, বংশগতি, কোশ বিভাজন।
মাইটোকন্ড্রিয়া: দ্বি-পর্দা (ক্রিস্টি), নিজস্ব DNA। ATP সংশ্লেষ (কোশীয় শ্বসন) — 'Powerhouse'।
রাইবোজোম: পর্দাবিহীন, rRNA + প্রোটিন। mRNA অনুবাদ করে প্রোটিন সংশ্লেষ — 'Protein Factory'।
ER (এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম): নালিকা জালিকা। মসৃণ (SER — লিপিড সংশ্লেষ) ও অমসৃণ (RER — রাইবোজোমযুক্ত, প্রোটিন সংশ্লেষ ও পরিবহণ)।
গলজি বস্তু: স্তরীভূত চাপটা থলি। প্রোটিনের প্যাকেজিং, মোড়কীকরণ, নিঃসরণ।
লাইসোজোম: একক পর্দা, অ্যাসিড হাইড্রোলেজ উৎসেচক। ফ্যাগোসাইটোসিস, অটোফেজি, অটোলাইসিস — 'Suicidal Bag'।
প্লাস্টিড: দ্বি-পর্দা, উদ্ভিদে। ক্লোরোপ্লাস্ট (সালোকসংশ্লেষ), ক্রোমোপ্লাস্ট (বর্ণ), লিউকোপ্লাস্ট (সঞ্চয়)।
4. কোশের আকৃতি ও আকার — বৈচিত্র্য, কারণ ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। মানবদেহের বিভিন্ন কোশের আকৃতি ও তাদের কাজের সাথে সম্পর্ক কী?
আকৃতি ও কাজের সম্পর্ক
কোশের আকৃতি তার কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত:
- RBC (চাপটা চাকতি): O₂ পরিবহণে বেশি পৃষ্ঠতল → দ্রুত গ্যাস বিনিময়; চাপটা → কৈশিক নালীতে সহজে চলাচল।
- পেশিকোশ (তন্তুময়): সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা — চলন, খাদ্য স্থানান্তরণ ইত্যাদি।
- স্নায়ুকোশ (দীর্ঘ, শাখান্বিত): অ্যাক্সন — দীর্ঘ দূরত্বে দ্রুত সংকেত পরিবহণ (1m পর্যন্ত); ডেনড্রাইট — সংকেত গ্রহণ।
- অ্যামিবা/WBC (অনিয়মিত): ক্ষণপদ — চলাচল ও ফ্যাগোসাইটোসিস।
- উদ্ভিদ প্যারেনকাইমা (গোলাকার): বড় গহ্বর — জল ও খাদ্য সঞ্চয়।
আকার: বেশিরভাগ কোশ 5-10 μm, স্নায়ুকোশ কয়েক মিটার (জিরাফের পা থেকে মস্তিষ্ক), উটপাখির ডিম 15 cm।
5. উদ্ভিদকোশের গহ্বর (Vacuole)-এর গঠন, কাজ ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। প্রাণীকোশের লাইসোজোমকে 'আত্মঘাতী থলি' বলা হয় কেন?
উদ্ভিদ কোশগহ্বর (Central Vacuole)
গঠন: টনোপ্লাস্ট (Tonoplast) নামক একক পর্দা দিয়ে ঘেরা। উদ্ভিদকোশের 90% পর্যন্ত জায়গা দখল করে থাকে। কোশরস (Cell Sap)-এ পূর্ণ — যাতে জল, শর্করা, অ্যামাইনো অ্যাসিড, জৈব অ্যাসিড, খনিজ লবণ, রঞ্জক (অ্যান্থোসায়ানিন) দ্রবীভূত।
কাজ: (i) জল ও খনিজ সঞ্চয়। (ii) টার্গর চাপ (Turgor Pressure) বজায় রেখে উদ্ভিদকে সোজা ও দৃঢ় রাখা। (iii) কোশের pH নিয়ন্ত্রণ। (iv) বর্জ্য পদার্থ সঞ্চয় (Detoxification)। (v) ফুল-ফলে বর্ণ প্রদর্শন (অ্যান্থোসায়ানিন)।
লাইসোজোম — 'আত্মঘাতী থলি'
লাইসোজোমে প্রায় 40 ধরনের অ্যাসিড হাইড্রোলেজ উৎসেচক থাকে (প্রোটিয়েজ, লাইপেজ, নিউক্লিয়েজ ইত্যাদি)। স্বাভাবিক অবস্থায় এরা পর্দার ভেতরে আবদ্ধ। কিন্তু কোশের ক্ষতি হলে বা প্রোগ্রামড সেল ডেথ (Apoptosis)-এর সময় লাইসোজোম ফেটে এই উৎসেচক বেরিয়ে এসে নিজ কোশকেই পরিপাক করে ধ্বংস করে ফেলে — তাই একে 'আত্মঘাতী থলি' বা Suicidal Bag বলে। ট্যাডপোলের লেজ বিলুপ্তি — লাইসোজোমের অটোলাইসিসের ফল।
6. বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবের কোশীয় অভিযোজন (Cellular Adaptation) কীভাবে ঘটে? মরু, মেরু, জলজ ও উচ্চ অক্সিজেন চাহিদার পরিবেশের উদাহরণ দাও।
কোশীয় অভিযোজন (Cellular Adaptation)
জীব পরিবেশের প্রতিকূলতার সাথে টিকে থাকার জন্য কোশীয় স্তরে যে গঠনগত ও কার্যগত পরিবর্তন ঘটায়, তাকে কোশীয় অভিযোজন বলে।
- মরু অঞ্চল (গরম ও শুকনো — ক্যাকটাস): কাণ্ডের প্যারেনকাইমা কোশে অতিবৃহৎ গহ্বর — জল সঞ্চয়। পাতা কাঁটায় (Spine) রূপান্তর — প্রস্বেদন কমানো। কিউটিকল পুরু — বাষ্পীভবন রোধ।
- মেরু অঞ্চল (ঠান্ডা — মেরু ভল্লুক, সিল): ত্বকের নীচে চর্বিকলা (Adipose Tissue) — তাপ অন্তরক ও শক্তি ভাণ্ডার। মাইটোকন্ড্রিয়া — 'বাদামি চর্বি' (Brown Fat)-এ তাপ উৎপাদন (Non-shivering Thermogenesis)।
- জলজ পরিবেশ (মাছ): ফুলকার ল্যামেলি — এককোশী পুরু → দ্রুত O₂ বিনিময়। কাউন্টারকারেন্ট সিস্টেম — O₂ নিষ্কাশন দক্ষতা।
- উচ্চ O₂ চাহিদা (পেশিকোশ): মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা বিপুল — ATP উৎপাদন। মায়োগ্লোবিন — O₂ সঞ্চয়।
মনে রেখো!
হুক (1665): মৃত কর্ক কোশ — 'Cell' | লিউয়েনহুক (1674): প্রথম সজীব কোশ |
অণুবীক্ষণ: সরল (20×) | যৌগিক (4000×) | ইলেকট্রন (3 লক্ষ×) |
উদ্ভিদকোশ: প্রাচীর ✓, প্লাস্টিড ✓, সেন্ট্রোজোম ✗ | প্রাণীকোশ: প্রাচীর ✗, প্লাস্টিড ✗, সেন্ট্রোজোম ✓ |
নিউক্লিয়াস: মস্তিষ্ক | মাইটোকন্ড্রিয়া: শক্তিঘর | রাইবোজোম: প্রোটিন কারখানা |
গলজি: প্যাকেজিং | লাইসোজোম: আত্মঘাতী থলি | ক্লোরোপ্লাস্ট: সালোকসংশ্লেষ