Chapter 5: প্রাকৃতিক ঘটনা ও তার বিশ্লেষণ (Natural Phenomena & Analysis)

স্থির তড়িৎ, আধান উৎপাদন, বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, কিউমুলোনিম্বাস মেঘের গঠন, বিভব পার্থক্য, তড়িৎক্ষরণ, বজ্রপাতের সময় সতর্কতা | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 28 April 2026 Last Update: 31 May 2026
Class 8 Chapter 5 প্রাকৃতিক ঘটনা ও তার বিশ্লেষণ

Chapter 5: প্রাকৃতিক ঘটনা ও তার বিশ্লেষণ (Natural Phenomena & Analysis)

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 16 MCQ | 8 SAQ | 6 Broad Questions

বজ্রপাত মেঘ স্থির তড়িৎ আধান মেঘ গর্জন সতর্কতা

স্থির তড়িৎ

ঘর্ষণে উৎপন্ন — উলের জামা, স্ফুলিঙ্গ

🌩️

কিউমুলোনিম্বাস

12-13 km উঁচু বজ্রমেঘ, আধান পৃথক

🔥

বজ্রপাত (Lightning)

≈30,000°C, রিটার্ন স্ট্রোক, CG/CC/IC

🔊

মেঘ গর্জন (Thunder)

শূন্যস্থান → সংঘাত তরঙ্গ → আলো আগে, শব্দ পরে

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

16 টি
1. শীতকালে উলের জামা খোলার সময় চিঁড় চিঁড় শব্দ হয় — এর কারণ কী?
ক) ক) তাপ উৎপন্ন
খ) খ) স্থির তড়িতের ক্ষরণ (Static Discharge)
গ) গ) বায়ুর চাপ
ঘ) ঘ) জামা ছিঁড়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা: শীতকালে শুষ্ক বাতাসে উলের জামা শরীরের সাথে ঘর্ষণের ফলে স্থির তড়িৎ (Static Electricity) উৎপন্ন হয়। জামা খোলার সময় এই সঞ্চিত আধান হঠাৎ ক্ষরিত (Discharge) হয়ে ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ ও চিঁড় চিঁড় শব্দ সৃষ্টি করে।
2. নাইলনের মশারির সাথে ঘর্ষণের ফলে কী উৎপন্ন হয়?
ক) ক) তাপ
খ) খ) আলো
গ) গ) তড়িৎ আধান ও ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ
ঘ) ঘ) চুম্বকত্ব
ব্যাখ্যা: শীতের রাতে অন্ধকার ঘরে উলের জামা পরে নাইলনের মশারির গায়ে হাত বুলালে ঘর্ষণের ফলে তড়িৎ উৎপন্ন হয়। অন্ধকারে নীলচে ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ দেখা যায় এবং চিঁড় চিঁড় শব্দ শোনা যায় — এটি স্থির তড়িতের ক্ষরণের দৃশ্যমান প্রমাণ।
3. স্থির তড়িৎ (Static Electricity) কাকে বলে?
ক) ক) প্রবাহিত তড়িৎ
খ) খ) কোনো বস্তুতে স্থির অবস্থায় জমে থাকা তড়িৎ আধান
গ) গ) ব্যাটারির তড়িৎ
ঘ) ঘ) চৌম্বক তড়িৎ
ব্যাখ্যা: স্থির তড়িৎ (Static Electricity): ঘর্ষণ বা আবেশের ফলে কোনো অন্তরিত বস্তুতে তড়িৎ আধান উৎপন্ন হয়ে স্থির অবস্থায় জমে থাকলে তাকে স্থির তড়িৎ বলে। এটি ধীরে ধীরে ক্ষরিত (Discharge) হতে পারে বা হঠাৎ স্ফুলিঙ্গ আকারে নির্গত হতে পারে।
4. ড্রাইসেলের গায়ে 1.5 V লেখা থাকে — এটি কী নির্দেশ করে?
ক) ক) তড়িৎ প্রবাহ
খ) খ) বিভব পার্থক্য (Potential Difference)
গ) গ) তড়িৎ ক্ষমতা
ঘ) ঘ) রোধ
ব্যাখ্যা: 1.5 V (ভোল্ট) — ড্রাইসেলের দুই প্রান্তের মধ্যে 1.5 ভোল্ট বিভব পার্থক্য (Potential Difference) আছে। বিভব পার্থক্যই তড়িৎ প্রবাহের চালিকা শক্তি — বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহ ঘটে না।
5. তড়িৎ প্রবাহ কাকে বলে?
ক) ক) আধানের স্থির অবস্থা
খ) খ) আধানের প্রবাহ বা চলাচল
গ) গ) বিভব পার্থক্য
ঘ) ঘ) তাপের সঞ্চালন
ব্যাখ্যা: তড়িৎ প্রবাহ (Electric Current): কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ আধানের (ইলেকট্রন বা আয়ন) প্রবাহ বা চলাচল। ধাতব তারে ইলেকট্রনের প্রবাহ, তরলে আয়নের চলাচল — উভয়ই তড়িৎ প্রবাহের উদাহরণ।
6. বায়ুর মধ্য দিয়ে আয়নের চলাচলকে কী বলা যায়?
ক) ক) তড়িৎ প্রবাহ
খ) খ) তাপ প্রবাহ
গ) গ) শব্দ তরঙ্গ
ঘ) ঘ) আলোক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা: বায়ুর মধ্য দিয়ে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক তড়িৎকণা (আয়ন)-এর চলাচল ঘটলেও তাকে তড়িৎ প্রবাহ (Electric Current) বলা যায়। অতি সামান্য এই প্রবাহ মাপতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর (Sensitive) যন্ত্র প্রয়োজন।
7. বজ্রপাত সৃষ্টিকারী মেঘের নাম কী?
ক) ক) স্ট্র্যাটাস
খ) খ) কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus)
গ) গ) সাইরাস
ঘ) ঘ) নিম্বোস্ট্র্যাটাস
ব্যাখ্যা: কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) — 'বজ্রবিদ্যুৎ ভরা বর্ষণ মেঘ'। এই ধরনের মেঘ থেকেই বজ্রপাতসহ প্রবল বৃষ্টি হয়। এর উচ্চতা 12-13 কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। উপরে বরফের ছোটো টুকরোও জমা থাকে।
8. কিউমুলোনিম্বাস মেঘের উচ্চতা কত হতে পারে?
ক) ক) 2-3 কিমি
খ) খ) 5-6 কিমি
গ) গ) 12-13 কিমি বা তার বেশি
ঘ) ঘ) 20-25 কিমি
ব্যাখ্যা: জলীয় বাষ্পভরা বায়ু উপরে উঠতে থাকে — উপরের বায়ু ঠান্ডা, জলীয় বাষ্প জমে জলকণা হয়, লীনতাপ নির্গত হয়। এই তাপে বায়ু আরও হালকা হয়ে আরও উপরে উঠতে থাকে। ফলে মেঘ 12-13 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছায়।
9. মেঘে জলকণাগুলি কীভাবে তড়িৎগ্রস্ত (Charged) হয়?
ক) ক) সূর্যের তাপে
খ) খ) বায়ুতে আগে থেকে থাকা আহিত কণা জলকণার গায়ে জমে
গ) গ) চুম্বকের প্রভাবে
ঘ) ঘ) বৃষ্টির জলে
ব্যাখ্যা: বায়ুতে আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের আহিত কণা (Charged Particles/আয়ন) থাকে। মেঘের মধ্যে জলকণাগুলি উপরে ওঠা-নামা করার সময় এই আহিত কণাগুলি জলকণার গায়ে জমে — ফলে জলকণাগুলি তড়িৎগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
10. মেঘের নীচের দিক সাধারণত কী ধরনের আধানে আহিত হয়?
ক) ক) ধনাত্মক (+)
খ) খ) ঋণাত্মক (-)
গ) গ) নিরপেক্ষ
ঘ) ঘ) কখনো ধনাত্মক কখনো ঋণাত্মক
ব্যাখ্যা: নীচে নামতে থাকা জলকণাগুলিতে সাধারণত ঋণাত্মক (-) আধান জমা হয়। আর উপরে উঠতে থাকা জলকণাগুলিতে ধনাত্মক (+) আধান জমে। ফলে মেঘের নীচের দিক ঋণাত্মক ও উপরের দিক ধনাত্মক তড়িৎগ্রস্ত হয়।
11. বজ্রপাতের সময় মাটিতে কী ধরনের আধান আবেশের ফলে জমা হয়?
ক) ক) ঋণাত্মক
খ) খ) ধনাত্মক
গ) গ) নিরপেক্ষ
ঘ) ঘ) কোনো আধান জমে না
ব্যাখ্যা: মেঘের নীচের দিক প্রবলভাবে ঋণাত্মক (-) তড়িৎগ্রস্ত। মেঘ মাটির কিছুটা কাছে এলে তড়িৎ আবেশের (Electrostatic Induction) ফলে মাটিতে ধনাত্মক (+) আধান জমা হয়। (স্বাভাবিক অবস্থায় মাটি সামান্য ঋণাত্মক হয়)।
12. মেঘ ও মাটির মধ্যে বিভব পার্থক্য অত্যন্ত বেশি হলে কী ঘটে?
ক) ক) বৃষ্টি হয়
খ) খ) বজ্রপাত (Lightning) — প্রকাণ্ড স্ফুলিঙ্গ আকারে আধান ক্ষরিত হয়
গ) গ) কুয়াশা হয়
ঘ) ঘ) রংধনু ওঠে
ব্যাখ্যা: মেঘ ও মাটির মধ্যে বিভব পার্থক্য অত্যন্ত বেশি (কোটি কোটি ভোল্ট) হলে, বায়ুর অন্তরক ধর্ম ভেঙে যায় এবং প্রকাণ্ড স্ফুলিঙ্গের (Spark) আকারে ঋণাত্মক আধান মেঘ থেকে মাটিতে নেমে আসে — একেই বজ্রপাত (Lightning Strike) বলে।
13. বজ্রপাতের সময় বায়ু অত্যন্ত গরম হয়ে যায় — এর ফলাফল কী?
ক) ক) বৃষ্টি শুরু হয়
খ) খ) বায়ুতে সাময়িক শূন্যতা ও প্রচণ্ড কম্পন (Thunder) সৃষ্টি হয়
গ) গ) কুয়াশা সৃষ্টি হয়
ঘ) ঘ) তুষারপাত হয়
ব্যাখ্যা: প্রবল তড়িৎ প্রবাহে বায়ু অত্যন্ত গরম (≈30,000°C) হয়ে প্রসারিত হয় → সাময়িক শূন্যতা (Vacuum) সৃষ্টি হয়। শূন্যস্থানে চারপাশের বায়ু ধেয়ে এলে প্রচণ্ড কম্পন (Shockwave) তৈরি হয় — এই কম্পনই বজ্রপাতের বিকট শব্দ (Thunder/গর্জন) হিসেবে আমরা শুনতে পাই।
14. বজ্রপাতের আলো আগে দেখা যায়, শব্দ পরে শোনা যায় — কেন?
ক) ক) আলো পরে সৃষ্টি হয়
খ) খ) আলোর বেগ শব্দের বেগের চেয়ে অনেক বেশি
গ) গ) শব্দ থেমে যায়
ঘ) ঘ) কান দুর্বল
ব্যাখ্যা: আলোর বেগ ≈ 3×10⁸ m/s (প্রায় তাৎক্ষণিক), শব্দের বেগ ≈ 340 m/s (বাতাসে)। তাই বজ্রপাতের আলো (Lightning Flash) তাৎক্ষণিকভাবে দেখা গেলেও শব্দ (Thunder) সেই দূরত্ব অতিক্রম করে কানে পৌঁছতে সময় নেয়। দূরত্ব বাড়লে আলো ও শব্দের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়ে।
15. বজ্রপাত কখন ঘটতে পারে?
ক) ক) শুধু মেঘ ও মাটির মধ্যে
খ) খ) দুটি ভিন্ন মেঘের মধ্যে অথবা একই মেঘের ভিন্ন অংশের মধ্যে
গ) গ) শুধু আকাশে
ঘ) ঘ) শুধু সমুদ্রে
ব্যাখ্যা: বজ্রপাত তিনভাবে ঘটতে পারে: (i) মেঘ ও মাটির মধ্যে (Cloud-to-Ground — সবচেয়ে বিপজ্জনক)। (ii) দুটি ভিন্ন মেঘের মধ্যে (Cloud-to-Cloud)। (iii) একই মেঘের ভিন্ন অংশের মধ্যে (Intra-Cloud)। সব ক্ষেত্রেই মূল কারণ — বিপুল বিভব পার্থক্য।
16. বজ্রপাতের সময় গাছের নীচে দাঁড়ানো বিপজ্জনক — কেন?
ক) ক) গাছ পড়ে যেতে পারে
খ) খ) গাছ বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে (সুউচ্চ বস্তু)
গ) গ) গাছ থেকে জল পড়ে
ঘ) ঘ) গাছ জ্বলে যেতে পারে
ব্যাখ্যা: বজ্রপাত সাধারণত আশেপাশের সবচেয়ে উঁচু বস্তুর ওপর দিয়ে মাটিতে পৌঁছায়। গাছ (বিশেষত লম্বা গাছ) উঁচু হওয়ায় বজ্রপাত আকৃষ্ট হয় — গাছের নীচে দাঁড়ালে কারেন্ট মাটি হয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই বজ্রপাতের সময় গাছের নীচে নয়, খোলা মাঠে উঁচু থেকে দূরে নীচু হয়ে বসে পড়তে হবে।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

8 টি
1. ⚡ স্থির তড়িৎ (Static Electricity) কী? দৈনন্দিন জীবনের তিনটি উদাহরণ দাও。

উত্তর:

স্থির তড়িৎ (Static Electricity): ঘর্ষণ বা আবেশের ফলে কোনো অন্তরিত (Insulated) বস্তুতে তড়িৎ আধান উৎপন্ন হয়ে স্থির অবস্থায় জমে থাকলে তাকে স্থির তড়িৎ বলে। এটি ধীরে ধীরে বাতাসের আয়নের মাধ্যমে ক্ষরিত (Discharge) হতে পারে বা হঠাৎ স্ফুলিঙ্গ আকারে নির্গত হতে পারে。

দৈনন্দিন উদাহরণ:

  1. উলের জামা খোলা: শীতকালে শুষ্ক বাতাসে উলের জামা শরীরের সাথে ঘর্ষণে তড়িতাহিত হয়। জামা খোলার সময় ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ ও চিঁড় চিঁড় শব্দ হয়।
  2. অন্ধকারে নাইলনের মশারিতে হাত বোলানো: উলের জামা পরে নাইলনের মশারির গায়ে হাত বুলালে নীলচে আভা ও ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়।
  3. প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানো: চিরুনি তড়িতাহিত হয়ে কাগজের টুকরোকে আকর্ষণ করে।
2. ⚡ বিভব পার্থক্য (Potential Difference) কাকে বলে? তড়িৎ প্রবাহের সাথে এর সম্পর্ক কী?

উত্তর:

বিভব পার্থক্য (Potential Difference বা Voltage): কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তের বা দুটি বিন্দুর মধ্যে তড়িৎ বিভবের (Electrical Potential) যে পার্থক্য, তাকে বিভব পার্থক্য বলে। এটি তড়িৎ প্রবাহের 'চালিকা শক্তি' (Driving Force) — অনেকটা জলের উচ্চতার পার্থক্যের মতো। একক: ভোল্ট (V)।

তড়িৎ প্রবাহের সাথে সম্পর্ক (ও'মের সূত্র): V = IR — বিভব পার্থক্য (V) = তড়িৎ প্রবাহ (I) × রোধ (R)। বিভব পার্থক্য যত বেশি, প্রবাহ তত বেশি (রোধ স্থির থাকলে)। বিভব পার্থক্য না থাকলে (যেমন ড্রাইসেল খুলে নিলে) কোনো তড়িৎ প্রবাহ ঘটে না। ড্রাইসেলের গায়ে 1.5 V লেখা — অর্থাৎ এর দুই প্রান্তে 1.5 ভোল্ট বিভব পার্থক্য বিদ্যমান।

3. ⚡ কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘ কীভাবে গঠিত হয়? এর বৈশিষ্ট্য কী কী?

উত্তর:

কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus): 'বজ্রবিদ্যুৎ ভরা বর্ষণ মেঘ' — এই ধরনের মেঘ থেকেই বজ্রপাতসহ প্রবল বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও কখনো টর্নেডো সৃষ্টি হয়。

গঠন প্রক্রিয়া:

  1. অনেকটা অঞ্চল জুড়ে জলীয় বাষ্পভরা বায়ু উপরের দিকে উঠতে থাকে। আশপাশ থেকেও বায়ু এসে যোগ দেয়।
  2. উপরে বায়ুর উষ্ণতা ও চাপ কম — বায়ু ঠান্ডা হয় → জলীয় বাষ্প জমে জলকণা তৈরি হয়।
  3. বাষ্প জমে জল হলে লীনতাপ (Latent Heat) নির্গত হয় — এই তাপে বায়ু আশপাশের তুলনায় গরম ও হালকা থাকে → আরও উপরে উঠতে থাকে।
  4. এভাবে মেঘ 12-13 কিমি বা তারও বেশি উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছায়। উপরে জল জমে বরফের ছোটো টুকরোও গঠিত হয়।

বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত উল্লম্ব বিস্তার, নীচের দিক ঋণাত্মক ও উপরের দিক ধনাত্মক আধানে আহিত, বজ্রপাত ও মুষলধারে বৃষ্টির উৎস।

4. ⚡ বজ্রপাতের সময় মেঘে আধান পৃথকীকরণ (Charge Separation) কীভাবে ঘটে?

উত্তর:

আধান পৃথকীকরণ প্রক্রিয়া:

  1. বায়ুতে আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের আহিত কণা (আয়ন) বিদ্যমান থাকে — কসমিক রশ্মি, ভূপৃষ্ঠের তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদির কারণে।
  2. মেঘের অভ্যন্তরে জলকণা ও বরফকণাগুলি প্রবল বায়ুপ্রবাহে উপরে-নীচে চলাচল করতে থাকে।
  3. এই চলাচলের সময় জলকণা ও বরফকণাগুলির গায়ে বায়ুর আহিত কণাগুলি (আয়ন) জমা হয়।
  4. গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ: যে জলকণাগুলি নীচের দিকে নামে, সেগুলিতে সাধারণত ঋণাত্মক (-) আধান জমা হয়। আর যে জলকণাগুলি উপরে উঠতে থাকে, সেগুলিতে ধনাত্মক (+) আধান জমে।
  5. ফলে মেঘের নীচের দিক ঋণাত্মকউপরের দিক ধনাত্মক তড়িৎগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

এছাড়া বরফকণার সংঘর্ষে ইলেকট্রন স্থানান্তরও আধান পৃথকীকরণে ভূমিকা রাখে — বড় বরফকণা ঋণাত্মক ও ছোট বরফকণা ধনাত্মক হয়।

5. ⚡ বজ্রপাত (Lightning Strike) কীভাবে ঘটে? এর ধাপগুলি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

বজ্রপাত (Lightning): মেঘ ও মাটির (বা দুই মেঘের) মধ্যে অতি উচ্চ বিভব পার্থক্যের কারণে বায়ুর অন্তরক ধর্ম ভেঙে দিয়ে যে প্রকাণ্ড তড়িৎ স্ফুলিঙ্গ (Electric Spark) সৃষ্টি হয়, তাকে বজ্রপাত বলে।

ঘটনার ধাপ:

  1. ধাপ ১ — আধান সঞ্চয়: মেঘের নীচের দিকে ঋণাত্মক (-) আধান প্রচুর পরিমাণে জমা হয়।
  2. ধাপ ২ — আবেশ: মেঘ মাটির কাছে এলে, তড়িৎ আবেশে (Induction) মাটিতে ধনাত্মক (+) আধান জমা হয়।
  3. ধাপ ৩ — বিভব পার্থক্য বৃদ্ধি: মেঘ ও মাটির মধ্যে বিভব পার্থক্য ক্রমশ বাড়তে থাকে — কোটি কোটি ভোল্ট পর্যন্ত।
  4. ধাপ ৪ — স্টেপড লিডার (Stepped Leader): মেঘ থেকে ঋণাত্মক আধানের একটি পথ (Leader) ধাপে ধাপে মাটির দিকে নেমে আসে — চোখে দেখা যায় না, অত্যন্ত দ্রুত।
  5. ধাপ ৫ — রিটার্ন স্ট্রোক (Return Stroke): লিডার মাটির কাছাকাছি এলে মাটি থেকে প্রবল ধনাত্মক আধান উপরে উঠে আসে — এই রিটার্ন স্ট্রোকই আমরা আলোর ঝলকানি হিসেবে দেখি (তীব্র আলো, ≈30,000°C তাপ)।
6. ⚡ বজ্রপাতের সময় প্রচণ্ড শব্দ (Thunder) উৎপন্ন হয় কেন? আলো আগে দেখা যায়, শব্দ পরে শোনা যায় কেন?

উত্তর:

মেঘ গর্জন (Thunder) সৃষ্টির কারণ:

বজ্রপাতের সময় রিটার্ন স্ট্রোকে বায়ু দিয়ে অতি উচ্চ তড়িৎ প্রবাহ (≈30,000 অ্যাম্পিয়ার) প্রবাহিত হয় → বায়ু তাৎক্ষণিকভাবে প্রচণ্ড উত্তপ্ত (≈30,000°C — সূর্যের পৃষ্ঠের চেয়ে 5 গুণ বেশি) হয় ও বিপুলভাবে প্রসারিত হয়। এই আকস্মিক প্রসারণের ফলে বায়ুতে সাময়িক শূন্যস্থান (Vacuum) সৃষ্টি হয়। শূন্যস্থান পূরণ করতে চারপাশের বায়ু ধেয়ে এসে প্রচণ্ড সংঘাত তরঙ্গ (Shockwave) সৃষ্টি করে — এই সংঘাত তরঙ্গই বিকট গর্জন (Thunder/বাজ পড়ার আওয়াজ) রূপে আমরা শুনতে পাই।

আলো আগে, শব্দ পরে:

  • আলোর বেগ (c): ≈ 3 × 10⁸ m/s (প্রায় তাৎক্ষণিক — চোখের পলকে)।
  • শব্দের বেগ (v): বাতাসে ≈ 340 m/s (আলোর চেয়ে প্রায় 9 লক্ষ গুণ ধীর)।
  • তাই বজ্রপাতের আলো (Lightning Flash) ঘটার সাথে সাথেই দেখা গেলেও, শব্দ (Thunder) আমাদের কানে পৌঁছতে সময় নেয়। দূরত্ব যত বেশি, আলো ও শব্দের মধ্যে সময়ের ব্যবধান তত বেশি। (প্রতি 3 সেকেন্ড ≈ 1 কিমি দূরত্ব)।
7. ⚡ বজ্রপাত কত প্রকার ও কী কী? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

বিভব পার্থক্য যেখানেই চরমে পৌঁছায়, সেখানেই বজ্রপাত ঘটতে পারে। প্রধানত তিন প্রকার:

  1. মেঘ থেকে মাটিতে (Cloud-to-Ground, CG): সবচেয়ে বিপজ্জনক ও সবচেয়ে পরিচিত। মেঘের ঋণাত্মক নীচের অংশ থেকে মাটির ধনাত্মক আধানের দিকে বজ্রপাত হয়। (কখনো মাটি থেকে মেঘেও হয় — Positive Lightning)।
  2. দুটি ভিন্ন মেঘের মধ্যে (Cloud-to-Cloud, CC): একটি মেঘের এক প্রান্ত ও অন্য মেঘের বিপরীত আধানের মধ্যে বিভব পার্থক্য চরমে পৌঁছালে। আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা যায়, কিন্তু মাটিতে সরাসরি আঘাত করে না বলে কম বিপজ্জনক।
  3. একই মেঘের ভিন্ন অংশের মধ্যে (Intra-Cloud, IC): একই মেঘের নীচের ঋণাত্মক অংশ ও উপরের ধনাত্মক অংশের মধ্যে বজ্রপাত। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বজ্রপাত এই ধরনেরই হয়। আকাশে চমকানি (Sheet Lightning) দেখা যায়, গর্জন তুলনামূলক কম।
8. ⚠️ বজ্রপাতের সময় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত? নিরাপদ থাকার উপায়গুলি লেখো।

উত্তর:

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে সতর্কতা (Lightning Safety):

যা করবেন (DO):

  • বজ্রপাতের আশঙ্কা হলে সাথে সাথে নিরাপদ স্থানে (পাকা বাড়ি/গাড়ির ভেতর) আশ্রয় নিন। গাড়ির ধাতব কাঠামো ফ্যারাডে কেজ (Faraday Cage) হিসেবে কাজ করে — ভেতরের মানুষ সুরক্ষিত।
  • খোলা মাঠে থাকলে উঁচু গাছ, খুঁটি, পাহাড় থেকে দূরে গিয়ে নীচু হয়ে (Crouch position) বসে পড়ুন — পা জোড়া করে, মাথা নীচু করে, কান বন্ধ করে। মাটিতে শুয়ে পড়বেন না।
  • জলাশয় (পুকুর, নদী, সমুদ্র) থেকে অবিলম্বে বেরিয়ে আসুন — জল তড়িৎ সুপরিবাহী।

যা করবেন না (DON'T):

  • গাছের নীচে আশ্রয় নেবেন না — বজ্রপাত উঁচু বস্তুতে আগে পড়ে। গাছের নীচে থাকা 'সাইড ফ্ল্যাশ'-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি।
  • টেলিফোন (ল্যান্ডলাইন), বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, ধাতব পাইপ স্পর্শ করবেন না — তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবেশ করতে পারে। মোবাইল ফোন (ওয়্যারলেস) তুলনামূলক নিরাপদ।
  • খোলা মাঠে একা দাঁড়িয়ে থাকবেন না — দলবদ্ধভাবে থাকলে ছড়িয়ে যান।
  • ছাতা ব্যবহার করবেন না (ধাতব কাঠামো বজ্রপাত আকর্ষণ করে)।

30/30 নিয়ম: বজ্রপাতের আলো দেখার 30 সেকেন্ডের মধ্যে শব্দ শুনলে সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয় নিন — শেষ শব্দ শোনার 30 মিনিট পর নিরাপদ স্থান থেকে বেরোবেন।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর

6 টি
1. স্থির তড়িৎ (Static Electricity) কী? ঘর্ষণের মাধ্যমে কীভাবে তড়িৎ উৎপন্ন হয় — পরীক্ষাসহ ব্যাখ্যা করো। দৈনন্দিন জীবনে স্থির তড়িতের কয়েকটি উদাহরণ ও ব্যবহারিক প্রয়োগ আলোচনা করো।

স্থির তড়িৎ (Static Electricity)

ঘর্ষণ বা আবেশের ফলে কোনো অন্তরিত বস্তুতে তড়িৎ আধান উৎপন্ন হয়ে স্থির অবস্থায় জমে থাকাকে স্থির তড়িৎ বলে।

পরীক্ষা ১ — নাইলনের মশারিতে স্ফুলিঙ্গ:

শীতের রাতে অন্ধকার ঘরে জানালা-দরজা বন্ধ করে পর্দা টাঙানো থাকলে উলের জামা পরে নাইলনের মশারির গায়ে হাত বোলালে ঘর্ষণের ফলে নীলচে ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ দেখা যায় ও চিঁড় চিঁড় শব্দ হয় — এটি ইলেকট্রন স্থানান্তরের ফলে আধান উৎপন্নের প্রমাণ।

পরীক্ষা ২ — আধানযুক্ত পাত পরীক্ষা:

দুটি ধাতব পাত (A ও B) স্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে ড্রাইসেলের দুই প্রান্তের সাথে যুক্ত করলে পাতদুটি তড়িতাহিত হয়। খেয়াল: A (+) ও B (-) চিহ্নিত। বাতাসের আয়ন ধীরে ধীরে এই আধান ক্ষরণ করে।

দৈনন্দিন উদাহরণ ও প্রয়োগ:

  • উলের জামা খোলায় স্ফুলিঙ্গ, প্লাস্টিকের চিরুনিতে কাগজ আকর্ষণ।
  • ফটোকপিয়ার ও লেজার প্রিন্টার — স্থির তড়িতের নীতিতে কাজ করে।
  • ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রেসিপিটেটর — শিল্পের ধোঁয়া থেকে কণা অপসারণ।
  • কার্পেটে হাঁটার পর দরজার নবে শক — বিপুল ভোল্টেজ কিন্তু কম কারেন্ট।
2. বিভব পার্থক্য (Potential Difference) ও তড়িৎ প্রবাহ (Electric Current)-এর ধারণা ব্যাখ্যা করো। এদের মধ্যে সম্পর্ক কী? ও'মের সূত্র ও উদাহরণ দাও।

বিভব পার্থক্য (V)

দুটি বিন্দুর মধ্যে তড়িৎ বিভবের পার্থক্য — তড়িৎ প্রবাহের চালিকা শক্তি। একক: ভোল্ট (V)। ড্রাইসেলের গায়ে 1.5 V — দুই প্রান্তে 1.5 ভোল্ট বিভব পার্থক্য।

তড়িৎ প্রবাহ (I)

পরিবাহীর মধ্য দিয়ে আধানের প্রবাহ। একক: অ্যাম্পিয়ার (A)। ধাতুতে ইলেকট্রনের, তরলে আয়নের চলাচল।

সম্পর্ক — ও'মের সূত্র:

V = IR (যেখানে R = রোধ, Ω)। বিভব পার্থক্য দ্বিগুণ করলে প্রবাহ দ্বিগুণ (রোধ অপরিবর্তিত থাকলে)।

উদাহরণ:

পানির ট্যাঙ্কের উচ্চতা = বিভব পার্থক্য, পাইপের জলপ্রবাহ = তড়িৎ প্রবাহ, পাইপের সরুতা = রোধ। যত ওপরে ট্যাঙ্ক (বেশি V), তত জোরে জল (বেশি I) নামবে।

3. কিউমুলোনিম্বাস মেঘের গঠন প্রক্রিয়া ও বজ্রপাত সৃষ্টির সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাও। আধান পৃথকীকরণ (Charge Separation) কীভাবে ঘটে?

কিউমুলোনিম্বাস মেঘ গঠন:

জলীয় বাষ্পভরা বায়ু উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে মেঘ গঠন করে। লীনতাপ নির্গত হয়ে বায়ুকে আরও হালকা করে → বায়ু আরও উপরে উঠে 12-13 km উঁচু মেঘ গঠন করে।

আধান পৃথকীকরণ:

বায়ুতে বিদ্যমান আয়নগুলি জলকণা/বরফকণার গায়ে জমে। নীচের দিকে নামা কণা → ঋণাত্মক (-), উপরে ওঠা কণা → ধনাত্মক (+) আধানে আহিত হয়। বরফকণার সংঘর্ষ: বড় কণা (-), ছোট কণা (+) আধান পায়।

বজ্রপাত:

মেঘ (-) ও মাটি (+) এর মধ্যে কোটি কোটি ভোল্ট বিভব পার্থক্য → বায়ুর অন্তরক ধর্ম ভেঙে যায় → স্টেপড লিডার (-) নীচে নামে → আপস্ট্রিমার (+) উপরে ওঠে → সংযোগ → রিটার্ন স্ট্রোক (প্রকাণ্ড স্ফুলিঙ্গ, ≈30,000°C) → প্রচণ্ড আলো (Lightning) ও শব্দ (Thunder)।

4. বজ্রপাতের সময় করণীয় ও বর্জনীয় — বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো। বজ্রপাত নিরোধক (Lightning Conductor) কীভাবে কাজ করে?

সতর্কতা:

করণীয়: পাকা বাড়ি/গাড়ির ভেতর আশ্রয়, খোলা মাঠে নীচু হয়ে বসা, জলাশয় থেকে বেরিয়ে আসা। বর্জনীয়: গাছের নীচে দাঁড়ানো, ধাতব বস্তু/ল্যান্ডলাইন/বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ না করা, ছাতা ব্যবহার না করা, শুয়ে না পড়া। 30/30 নিয়ম: 30 সেকেন্ডের মধ্যে শব্দ → আশ্রয়; 30 মিনিট পর বেরোনো।

বজ্রপাত নিরোধক (Lightning Conductor/Arrester):

বাড়ির ছাদে সবার ওপরে একটি ধাতব দণ্ড (তামা/অ্যালুমিনিয়াম) স্থাপন করা হয়। এটি একটি মোটা তামার তারের মাধ্যমে সরাসরি মাটির গভীরে (আর্দ্র মাটিতে) প্রোথিত ধাতব পাতের সাথে যুক্ত থাকে। বজ্রপাত হলে এই দণ্ডে প্রথমে আঘাত করে এবং সম্পূর্ণ তড়িৎ নিরাপদে মাটিতে চলে যায় — বাড়ি ও মানুষ সুরক্ষিত থাকে (ফ্যারাডে কেজ নীতি)।

5. প্রাকৃতিক ঘটনা হিসাবে বজ্রপাত — এর কারণ, প্রকারভেদ ও বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ করো। বজ্রপাতের গুরুত্ব (উপকারিতা) কী?

প্রকারভেদ:

CG (Cloud-to-Ground), CC (Cloud-to-Cloud), IC (Intra-Cloud)।

কারণ:

মেঘের মধ্যে তীব্র বায়ুপ্রবাহে আধান পৃথকীকরণ → বিপুল বিভব পার্থক্য → তড়িৎ ক্ষরণ।

উপকারিতা:

(i) নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ (Nitrogen Fixation): বজ্রপাতের উচ্চ তাপে N₂ + O₂ → NO → NO₂ → HNO₃ — বৃষ্টির সাথে মাটিতে পড়ে প্রাকৃতিক নাইট্রোজেন সার হিসেবে কাজ করে — উদ্ভিদের পুষ্টি। (ii) বায়ুমণ্ডলের তড়িৎ ভারসাম্য বজায় রাখে — পৃথিবী ও আয়নোস্ফিয়ারের মধ্যে গ্লোবাল ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটের অংশ।

6. ঘর্ষণ, আবেশ ও পরিবহণের মাধ্যমে কীভাবে তড়িৎ আধান উৎপন্ন ও স্থানান্তরিত হয়? বজ্রপাতের ঘটনায় আবেশের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

ঘর্ষণ (Friction):

দুটি ভিন্ন বস্তু ঘষলে ইলেকট্রন স্থানান্তর → একটি (+) অপরটি (-)। যেমন — উলের জামা ও শরীর।

আবেশ (Induction):

কোনো তড়িতাহিত বস্তু কাছে আনলে নিরপেক্ষ বস্তুতে বিপরীত আধান সমাবেশিত হয় — বস্তুকে স্পর্শ না করেই।

পরিবহণ (Conduction):

তড়িতাহিত বস্তুকে পরিবাহী দিয়ে স্পর্শ করালে আধান স্থানান্তরিত হয়।

বজ্রপাতে আবেশ:

মেঘ (-) মাটির কাছে এলে, তড়িৎ আবেশে মাটিতে (+) আধান জমা হয়। মাটি সাধারণত ঋণাত্মক, কিন্তু মেঘের প্রবল (-) আধানের প্রভাবে ইলেকট্রন দূরে সরে যায় ও ধনাত্মক আধান প্রকাশ পায়। এই আবেশের ফলেই মেঘ-মাটির মধ্যে বিভব পার্থক্য চরমে পৌঁছায় ও বজ্রপাত ঘটে।

মনে রেখো!

স্থির তড়িৎ: ঘর্ষণে উৎপন্ন, সঞ্চিত → ক্ষরিত | বিভব পার্থক্য (V): তড়িৎ প্রবাহের চালিকা শক্তি | কিউমুলোনিম্বাস: উল্লম্ব মেঘ 12-13 km, নীচে (-) উপরে (+) | বজ্রপাত: স্টেপড লিডার + রিটার্ন স্ট্রোক, ≈30,000°C | Thunder: শূন্যস্থান পূরণে সংঘাত তরঙ্গ | আলো আগে, শব্দ পরে: c >> v | সতর্কতা: গাছের নীচে নয়, নীচু হয়ে বসো, জলাশয় থেকে দূরে, 30/30 নিয়ম

Sponsored Links

Frequently Asked Questions - প্রাকৃতিক ঘটনা (Chapter 5)

কিউমুলোনিম্বাস মেঘে জলকণা ও বরফকণার চলাচলের ফলে আধান পৃথকীকরণ ঘটে — নীচের দিকে ঋণাত্মক (-) ও উপরের দিকে ধনাত্মক (+) আধান জমা হয়। মেঘ (-) মাটির কাছে এলে আবেশে মাটিতে (+) আধান জমে। মেঘ-মাটির মধ্যে কোটি কোটি ভোল্ট বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হলে বায়ুর অন্তরক ধর্ম ভেঙে যায় এবং স্টেপড লিডার ও রিটার্ন স্ট্রোকের মাধ্যমে প্রকাণ্ড তড়িৎ স্ফুলিঙ্গ (≈30,000°C) সৃষ্টি হয় — একেই বজ্রপাত বলে।

বজ্রপাতের সময় পাকা বাড়ি বা গাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিতে হবে। খোলা মাঠে থাকলে উঁচু গাছ, খুঁটি থেকে দূরে গিয়ে নীচু হয়ে (Crouch position) বসে পড়তে হবে। জলাশয় থেকে উঠে আসতে হবে। গাছের নীচে আশ্রয় নেওয়া যাবে না, ধাতব বস্তু, ল্যান্ডলাইন টেলিফোন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা যাবে না। ছাতা ব্যবহার করা বিপজ্জনক। 30/30 নিয়ম মেনে চলতে হবে।

আলোর বেগ (≈3×10⁸ m/s) শব্দের বেগের (≈340 m/s) চেয়ে প্রায় 9 লক্ষ গুণ বেশি। তাই বজ্রপাতের আলো (Lightning Flash) তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের চোখে পৌঁছে যায়, কিন্তু শব্দ (Thunder) সেই একই দূরত্ব অতিক্রম করে কানে পৌঁছতে বেশি সময় নেয়। প্রতি 3 সেকেন্ড বিলম্ব = প্রায় 1 কিমি দূরত্ব।

শীতকালে উলের জামা খোলার সময় চিঁড় চিঁড় শব্দ ও ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ (শরীর ও জামার ঘর্ষণে), অন্ধকারে নাইলনের মশারিতে হাত বোলালে নীলচে স্ফুলিঙ্গ, প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে শুকনো চুল আঁচড়ালে চিরুনি কাগজের টুকরো আকর্ষণ করা, কার্পেটে হাঁটার পর ধাতব দরজার নবে শক লাগা — এ সবই স্থির তড়িতের উদাহরণ।