Chapter 4: কার্বন ও কার্বনঘটিত যৌগ (Carbon & Its Compounds)
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 23 MCQ | 10 SAQ | 7 Broad Questions
হিরে
ত্রিমাত্রিক জালিকা, সবচেয়ে কঠিন, তাপ সুপরিবাহী
গ্রাফাইট
স্তরীভূত, তড়িৎ সুপরিবাহী, পিচ্ছিলকারক
CO₂ ও গ্রিনহাউস
চুনজল ঘোলা করে; GHG → বিশ্বউষ্ণায়ন
পলিমার
পলিথিন, টেফলন, PVC, টেরিলিন — কৃত্রিম যৌগ
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
23 টিSAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
10 টিউত্তর:
| বিষয় | হিরে (Diamond) | গ্রাফাইট (Graphite) |
|---|---|---|
| গঠন | ত্রিমাত্রিক জালিকা — কার্বন পরমাণু দৃঢ়ভাবে চারটি বন্ধনে আবদ্ধ | স্তরীভূত ষড়ভুজাকার চাদর — স্তরের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ |
| কাঠিন্য | সবচেয়ে কঠিন | নরম, পিছল |
| তড়িৎ পরিবাহিতা | কুপরিবাহী | সুপরিবাহী (মুক্ত e⁻) |
| তাপ পরিবাহিতা | সর্বোচ্চ (25°C) | ভালো |
| ব্যবহার | কাচ কাটা, ড্রিলিং, ইলেকট্রনিক্স | পেনসিলের শিস, পিচ্ছিলকারক |
গঠনই ধর্ম নির্ধারণ করে: হিরেতে প্রতিটি C 4টি C-এর সাথে শক্ত সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ — কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই → অন্তরক, অত্যন্ত কঠিন। গ্রাফাইটে প্রতিটি C 3টি C-এর সাথে বন্ধনে আবদ্ধ, ১টি ইলেকট্রন মুক্ত → তড়িৎ পরিবাহী। স্তরগুলির মধ্যে দুর্বল ভ্যান ডার ওয়ালস বল → স্তর পিছলে যায় → নরম ও পিচ্ছিলকারক।
উত্তর:
ফুলারিন (Fullerene): কার্বনের তৃতীয় রূপভেদ (Allotrope) — প্রথমে গবেষণাগারে ও পরে প্রকৃতিতেও পাওয়া গেছে। এটি কার্বনের আণবিক রূপ — C₆₀ (বাকমিনস্টারফুলারিন), C₇₀ ইত্যাদি।
গঠন: C₆₀ অণুতে 60টি কার্বন পরমাণু 20টি ষড়ভুজ ও 12টি পঞ্চভুজ আকারে ফুটবলের মতো সাজানো থাকে। অতি ক্ষুদ্র আণবিক গোলক।
বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাব্য ব্যবহার: (i) অণু হিসেবে নির্দিষ্ট আকার — ইলেকট্রনিক্সে আণবিক ডিভাইস তৈরিতে। (ii) চিকিৎসাবিজ্ঞানে ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেমে। (iii) অতিপরিবাহী যৌগ গঠনে (ক্ষার ধাতুর সাথে)। (iv) সৌরকোশ ও লুব্রিকেন্ট হিসেবে গবেষণা চলছে।
উত্তর:
অধিশোষণ (Adsorption): কোনো কঠিন পদার্থের পৃষ্ঠতলে গ্যাস, তরল বা দ্রবীভূত পদার্থের অণুগুলির আটকে থাকার প্রক্রিয়া। কাঠকয়লা তার ছিদ্রযুক্ত বিপুল পৃষ্ঠতলের কারণে চমৎকার অধিশোষক।
পরীক্ষা: (i) কাঠকয়লা গুঁড়ো করে নাও। (ii) একটি ফ্লাস্কে অল্প জল নিয়ে তাতে কালি বা রং গুলে নাও। (iii) এতে কাঠকয়লার গুঁড়ো ঢেলে ছিপি বন্ধ করে ভালো করে ঝাঁকাও এবং কিছুক্ষণ রেখে দাও। (iv) মিশ্রণটি ফিলটার করো — ফিলট্রেট (পরিস্রুত তরল) বর্ণহীন হবে। কারণ কাঠকয়লা রঙের অণুগুলিকে নিজের পৃষ্ঠতলে অধিশোষণ করে নিয়েছে।
অন্যান্য ব্যবহার: গ্যাস মাস্কে বিষাক্ত গ্যাস শোষণ, চিনি শিল্পে বর্ণ অপসারণ, জল পরিশোধন।
উত্তর:
প্রয়োজন: মার্বেল চূর্ণ (CaCO₃), লঘু HCl, উলফ বোতল, নির্গমনল, গ্যাসজার।
পদ্ধতি: উলফ বোতলে মার্বেল চূর্ণ নিয়ে লঘু HCl যোগ। নির্গমনল দিয়ে CO₂ গ্যাস নিম্নমুখী বায়ু অপসারণ পদ্ধতিতে (Downward Displacement of Air) গ্যাসজারে সংগ্রহ (CO₂ বায়ুর চেয়ে ভারী)।
বিক্রিয়া: CaCO₃ + 2HCl → CaCl₂ + CO₂↑ + H₂O।
কেন H₂SO₄ নয়? CaCO₃ + H₂SO₄ → CaSO₄↓ + CO₂ + H₂O। CaSO₄ (ক্যালশিয়াম সালফেট) জলে প্রায় অদ্রবণীয় — এটি মার্বেলের ওপর পাতলা আস্তরণ পড়ে। ফলে মার্বেল আর অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসতে পারে না — বিক্রিয়া থেমে যায়।
উত্তর:
ভৌত ধর্ম: বর্ণহীন, গন্ধহীন গ্যাস। বায়ুর চেয়ে ~1.5 গুণ ভারী। জলে মোটামুটি দ্রবণীয়।
রাসায়নিক ধর্ম:
1. অম্লীয় অক্সাইড: CO₂ + H₂O → H₂CO₃ (কার্বনিক অ্যাসিড — দুর্বল অ্যাসিড, নীল লিটমাস → লাল)।
2. চুনজলের সাথে: Ca(OH)₂ + CO₂ → CaCO₃↓ (সাদা) + H₂O — চুনজল ঘোলা হয় (CO₂-র শনাক্তকরণ পরীক্ষা)। অতিরিক্ত CO₂ পাঠালে: CaCO₃ + CO₂ + H₂O → Ca(HCO₃)₂ (দ্রবণীয় — আবার স্বচ্ছ হয়)।
3. ক্ষারের সাথে: 2NaOH + CO₂ → Na₂CO₃ + H₂O।
4. দহনে সাহায্য: CO₂ নিজে দাহ্য নয় এবং দহনে সাহায্যও করে না — অগ্নিনির্বাপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
5. সালোকসংশ্লেষ: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂।
উত্তর:
গ্রিনহাউস এফেক্ট: বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস (গ্রিনহাউস গ্যাস — GHG) সূর্যের ছোটো তরঙ্গের আলো ভূপৃষ্ঠে পৌঁছতে দেয়, কিন্তু ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত দীর্ঘ তরঙ্গের ইনফ্রারেড রশ্মি শোষণ করে ও পুনর্বিকিরণ করে বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখে — একে গ্রিনহাউস এফেক্ট বলে। এটি প্রাকৃতিক ও প্রয়োজনীয় (না থাকলে পৃথিবী -18°C হত), কিন্তু মানবসৃষ্ট কারণে এর মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
গ্রিনহাউস গ্যাস: CO₂ (প্রধান), H₂O (বাষ্প), CH₄, N₂O, O₃, CFC।
কারণ (মানবসৃষ্ট বৃদ্ধি): জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, অরণ্যবিনাশ, সিমেন্ট শিল্প, ধানক্ষেত, গবাদিপশু, সার ব্যবহার।
ফলাফল (বিশ্বউষ্ণায়ন): মেরুর বরফ গলা — সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি — উপকূলীয় শহর ডোবা; আবহাওয়ার চরমভাব (বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়); কৃষিজ উৎপাদন হ্রাস; জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি; রোগজীবাণুর বিস্তার।
প্রতিকার: (i) বৃক্ষরোপণ — CO₂ শোষণ। (ii) জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর, বায়ু) ব্যবহার। (iii) শক্তি সাশ্রয় ও পুনর্ব্যবহার (Recycle)। (iv) CNG-র মতো পরিষ্কার জ্বালানির ব্যবহার।
উত্তর:
জৈব গ্যাস / বায়োগ্যাস (Biogas): জৈব আবর্জনা (গবাদিপশুর গোবর, কৃষিজাত বর্জ্য, খাদ্যবর্জ্য, পৌর জঞ্জাল) — বায়ুর অনুপস্থিতিতে (Anaerobic condition) বিশেষ ব্যাকটেরিয়া কর্তৃক জৈব-রাসায়নিক পচন (Anaerobic Digestion) ঘটলে যে গ্যাস উৎপন্ন হয়। প্রধান উপাদান: CH₄ (মিথেন) ~60-70%, CO₂ ~30-40%, সামান্য H₂S।
উৎপাদন (গোবর গ্যাস প্লান্ট): গবাদিপশুর গোবর ও জল মিশিয়ে স্লারি তৈরি → ডাইজেস্টার ট্যাঙ্কে ঢালা → অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া (মিথানোজেন) জটিল জৈব অণু ভেঙে CH₄ ও CO₂ উৎপন্ন করে। গ্যাস সংগ্রহ করে পাইপে রান্নাঘরে বা জেনারেটরে পাঠানো হয়। ব্যয়িত স্লারি উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পরিবেশবান্ধব কেন: (i) নবায়নযোগ্য (Renewable) — গোবর ও বর্জ্য সর্বদা পাওয়া যায়। (ii) কার্বন নিরপেক্ষ — পোড়ালে যে CO₂ বেরোয়, তা উদ্ভিদ পূর্বে শোষণ করেছিল। (iii) বর্জ্যের নিরাপদ নিষ্কাশন — দূষণ নিয়ন্ত্রণ। (iv) সাশ্রয়ী — গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর:
জীবাশ্ম জ্বালানি সংরক্ষণের উপায়:
- সঞ্চয় (Conservation): অপ্রয়োজনে জ্বালানি ব্যয় না করা — বাতি, পাখা, যন্ত্র বন্ধ রাখা।
- কয়লা ওয়াশিং (Coal Washing): অশুদ্ধি অপসারণ — কম ধোঁয়া ও কম ছাই, উন্নত দহন।
- পরিবহণে সাশ্রয়: জলপথ — পাইপলাইনে তেল পরিবহণ অপচয় কমায়।
- নিম্নমানের কয়লা ব্যবহার: তরল জ্বালানিতে রূপান্তর (Coal Liquefaction) করে ব্যবহার।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের সংরক্ষণ: উৎস থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাস নষ্ট না করে ধরে রাখা।
- জ্বালানিবিহীন যানবাহন: সাইকেল, জ্বালানিবিহীন নৌকোর ব্যবহার উৎসাহিত করা।
- গণপরিবহণ: ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বাস-ট্রেন ব্যবহার করলে মাথাপিছু জ্বালানি সাশ্রয় হয়।
নবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্প:
- সৌরশক্তি: সোলার প্যানেল — বিদ্যুৎ, সোলার কুকার — রান্না।
- বায়ুশক্তি: উইন্ড টারবাইন — বিদ্যুৎ উৎপাদন।
- জলবিদ্যুৎ: বাঁধে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ।
- জোয়ারভাটার শক্তি (Tidal Energy): জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ।
- ভূ-তাপ শক্তি (Geothermal): ভূগর্ভের তপ্ত জল বা বাষ্প থেকে বিদ্যুৎ।
- পারমাণবিক শক্তি: নিউক্লীয় বিভাজন (Fission) — ইউরেনিয়াম/প্লুটোনিয়াম — কিন্তু তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সমস্যা।
উত্তর:
| পলিমার | ধর্ম | প্রধান ব্যবহার |
|---|---|---|
| পলিথিন (Polythene) | নমনীয় কিন্তু আংশিক কঠিন (মোমের মতো), তড়িৎ কুপরিবাহী, রাসায়নিকে নিষ্ক্রিয় | নন-স্টিক বাসনপত্রের প্রলেপ, গাড়ির বডি প্রলেপ, রাসায়নিক শিল্প |
| টেফলন (PTFE) | উচ্চ গলনাঙ্ক, তড়িৎ কুপরিবাহী, ক্ষয়কারী রাসায়নিকে নিষ্ক্রিয় | নন-স্টিক রান্নার পাত্র, রাসায়নিক পাইপ, বৈদ্যুতিক অন্তরক |
| PVC | স্বচ্ছ/অস্বচ্ছ, শক্ত, জল-তেল-পেট্রোল রাসায়নিকে নিষ্ক্রিয় | জলের পাইপ, বৈদ্যুতিক তারের আবরণ, কৃত্রিম চামড়া, রেইনকোট |
| টেরিলিন (Polyester) | জল শোষণ করে না, ভাঁজরোধী, দীর্ঘস্থায়ী, সহজে দাগ ধরে না | টেরিকট কাপড় (সুতো + টেরিলিন), দড়ি, সিট বেল্ট, জামাকাপড় |
সংজ্ঞা: পলিমার = বহুসংখ্যক ক্ষুদ্র অণু (মনোমার) রাসায়নিক বন্ধনে জুড়ে গঠিত বৃহৎ দীর্ঘ শৃঙ্খল যৌগ। অধিকাংশ কৃত্রিম পলিমারই কার্বনঘটিত যৌগ থেকে তৈরি।
উত্তর:
কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের সুবিধা:
- দীর্ঘস্থায়িত্ব (Durability): প্রাকৃতিক উপাদানের (কাঠ, ধাতু, কাচ) চেয়ে অনেক বেশি টেকসই ও ক্ষয়রোধী।
- ছাঁচযোগ্যতা (Moldability): ইচ্ছামতো আকৃতি দেওয়া যায় — জটিল ডিজাইনের জিনিস সহজে তৈরি।
- হালকা (Lightweight): ধাতুর তুলনায় অনেক হালকা — পরিবহণ খরচ কম।
- রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা: মরচে ধরে না, অ্যাসিড-ক্ষারে অপরিবর্তিত থাকে।
- অন্তরক (Insulator): তাপ ও তড়িতের কুপরিবাহী — নিরাপদ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।
- সাশ্রয়ী: উৎপাদন খরচ কম।
অতিরিক্ত ব্যবহারের সমস্যা:
- অজৈব-অবিয়োজনযোগ্য (Non-biodegradable): প্লাস্টিক মাটিতে মিশে যায় না — শত শত বছর পরিবেশে থেকে যায়।
- মাটি ও জল দূষণ: ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক মাটির জল নিষ্কাশন বন্ধ করে ও নালা-নর্দমা আটকায়।
- জলজ প্রাণীর মৃত্যু: সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্য — মাছ, কচ্ছপ, পাখির পেটে গিয়ে মৃত্যু ঘটায়।
- মাইক্রোপ্লাস্টিক: ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ — মানবস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।
- পোড়ানো — বায়ুদূষণ: প্লাস্টিক পোড়ালে বিষাক্ত ডাইঅক্সিন ও ফিউরান গ্যাস নির্গত হয়।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর
7 টিরূপভেদ (Allotropy)
একই মৌল বিভিন্ন ভৌত রূপে প্রকৃতিতে পাওয়া যাওয়ার ঘটনাকে রূপভেদ বা অ্যালোট্রপি বলে। কার্বনের সুপরিচিত রূপভেদ: হিরে, গ্রাফাইট, ফুলারিন, চারকোল ইত্যাদি।
| বৈশিষ্ট্য | হিরে (Diamond) | গ্রাফাইট (Graphite) | ফুলারিন (Fullerene) |
|---|---|---|---|
| গঠন | ত্রিমাত্রিক জালিকা, প্রতিটি C 4টি C-এর সাথে যুক্ত | স্তরীভূত ষড়ভুজাকার চাদর, প্রতিটি C 3টি C-এর সাথে | আণবিক গোলক — C₆₀ ফুটবল আকৃতি |
| কাঠিন্য | সবচেয়ে কঠিন প্রাকৃতিক পদার্থ | নরম, পিচ্ছিল | আণবিক কঠিন |
| তড়িৎ | কুপরিবাহী | সুপরিবাহী (মুক্ত e⁻) | অর্ধপরিবাহী |
| তাপ | সর্বোচ্চ পরিবাহী (25°C) | ভালো পরিবাহী | গবেষণাধীন |
| ব্যবহার | কাচকাটা, ড্রিলিং, ইলেকট্রনিক সার্কিট | পেনসিল, তড়িৎদ্বার, পিচ্ছিলকারক | ইলেকট্রনিক্স, ড্রাগ ডেলিভারি |
জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels)
লক্ষ লক্ষ বছর আগে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ ভূগর্ভে চাপা পড়ে উচ্চ চাপ ও তাপে রূপান্তরিত হয়ে সৃষ্ট জ্বালানি।
- কয়লা (Coal): কাঠিন্যের ক্রম — পিট, লিগনাইট, বিটুমিনাস, অ্যানথ্রাসাইট।
- পেট্রোলিয়াম (Petroleum): তরল — পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ইত্যাদি।
- প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas): প্রধানত CH₄ — CNG, PNG।
সংরক্ষণের উপায়:
কয়লা ওয়াশিং, শক্তি সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার (সৌর, বায়ু, জল, জোয়ার, ভূ-তাপ, জৈব গ্যাস), গণপরিবহণ, সাইকেল ব্যবহার, CNG-র ব্যবহার।
গ্রিনহাউস এফেক্ট
বায়ুমণ্ডলের GHG সূর্যের ছোটো তরঙ্গ ঢুকতে দেয়, কিন্তু দীর্ঘ তরঙ্গের IR রশ্মি শোষণ করে — ফাঁদের মতো তাপ আটকায়।
প্রধান GHG ও উৎস:
- CO₂: জ্বালানি দহন, অরণ্যবিনাশ, সিমেন্ট শিল্প।
- CH₄: ধানক্ষেত, গবাদিপশু, গ্যাস লিকেজ, জৈব বর্জ্য।
- N₂O: নাইট্রোজেন সার, শিল্প প্রক্রিয়া।
- CFC: রেফ্রিজারেটর, এসি, স্প্রে — ওজোন স্তরও ক্ষয় করে।
ফলাফল (বিশ্বউষ্ণায়ন):
মেরুর বরফ গলা → সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি → উপকূলীয় নগর প্লাবন; চরম আবহাওয়া; কৃষি উৎপাদন হ্রাস; জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি; রোগবিস্তার।
প্রতিকার:
বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য শক্তি, শক্তি সাশ্রয়, পুনর্ব্যবহার, আন্তর্জাতিক চুক্তি (Kyoto Protocol, Paris Agreement)।
পলিমার = মনোমার + মনোমার + ... → দীর্ঘ শৃঙ্খল
প্রধান কৃত্রিম পলিমার: পলিথিন, টেফলন, PVC, পলিস্টাইরিন, নাইলন, টেরিলিন, অরলন।
সুবিধা:
দীর্ঘস্থায়ী, ছাঁচযোগ্য, হালকা, রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়, তাপ-তড়িৎ অন্তরক, সাশ্রয়ী।
পরিবেশগত সমস্যা:
অ-জৈব-অবিয়োজনযোগ্য (Non-biodegradable), মাটি-জল-সমুদ্র দূষণ, নালা-নর্দমা আটকানো, প্লাস্টিক পোড়ালে বিষাক্ত গ্যাস, মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সমাধান:
3R (Reduce, Reuse, Recycle), জৈব-অবিয়োজনযোগ্য প্লাস্টিক (Bioplastic — PLA, PHA), পলিমার বর্জ্য থেকে জ্বালানি (Pyrolysis), টোট ব্যাগ ব্যবহার — প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধকরণ।
অনবায়নযোগ্য (Non-renewable):
যে শক্তির উৎস সীমিত ও ব্যবহারের সাথে সাথে ফুরিয়ে যাচ্ছে — পুনর্ভরণ হতে কোটি কোটি বছর লাগে। যেমন: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম (পারমাণবিক)।
নবায়নযোগ্য (Renewable):
যে উৎস অফুরন্ত ও বারবার ব্যবহার করা যায় — প্রকৃতির চক্রে স্বল্প সময়ে পুনর্ভরণ হয়। যেমন: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, জোয়ারভাটা শক্তি, ভূ-তাপ শক্তি, জৈব ভর (Biomass), জৈব গ্যাস।
স্থানান্তরের কারণ:
(i) জীবাশ্ম জ্বালানি ফুরিয়ে আসছে। (ii) গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে — জলবায়ু পরিবর্তন রোধ। (iii) দূষণ কমানো। (iv) শক্তি নিরাপত্তা — আমদানি নির্ভরতা কমানো। (v) টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development)।
জ্বালানি দহনের পরিবেশগত প্রভাব:
- CO₂ নিঃসরণ → বিশ্বউষ্ণায়ন: জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে CO₂ বাতাসে মিশে গ্রিনহাউস এফেক্ট বাড়ায় → বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
- CO (কার্বন মনোক্সাইড): অসম্পূর্ণ দহনে — বিষাক্ত, হিমোগ্লোবিনের সাথে বিক্রিয়া → অক্সিজেন পরিবহণ ব্যাহত।
- SO₂ → অ্যাসিড বৃষ্টি: কয়লা ও ডিজেলে থাকা S জ্বলে SO₂ → H₂SO₃/H₂SO₄ → অ্যাসিড বৃষ্টি → শস্য, স্থাপত্য, জলজ প্রাণীর ক্ষতি।
- NO₂ → অ্যাসিড বৃষ্টি ও ধোঁয়াশা (Photochemical Smog): ইঞ্জিনের উচ্চ তাপমাত্রায় N₂ + O₂ → NO → NO₂ → HNO₃ + ধোঁয়াশা → শ্বাসকষ্ট।
- অদগ্ধ কার্বন কণা (Soot): শ্বাসনালীতে জমে — হাঁপানি, অ্যাজমা।
প্রতিকার:
পরিষ্কার জ্বালানি (CNG), SO₂ স্ক্রাবার, ক্যাটালিটিক কনভার্টার (গাড়িতে), নবায়নযোগ্য শক্তি, গাছ লাগানো।
কার্বনের বৈচিত্র্যের কারণ:
(i) চতুর্যোজী (Tetravalency) — C পরমাণু নিজের সাথে দীর্ঘ শৃঙ্খল, শাখা ও বলয় গঠন করতে পারে (Catenation)। (ii) একক, দ্বিবন্ধন ও ত্রিবন্ধন গঠন ক্ষমতা — C—C, C=C, C≡C ও হেটেরো-পরমাণুর (O, N, S, Cl) সাথে বন্ধন। (iii) আইসোমেরিজম — একই আণবিক সংকেতের যৌগ ভিন্ন গঠনে বিরাজ করতে পারে। এই কারণে 1 কোটিরও বেশি জৈব যৌগ পরিচিত।
জীবজগতে ভূমিকা:
সমস্ত জৈব অণু — প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, DNA, RNA, ATP, ভিটামিন, হরমোন, এনজাইম — সবই কার্বনের মূল কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে। মানবদেহের প্রায় 50% ভর কার্বনের।
দৈনন্দিন জীবনে:
জ্বালানি (CH₄, C₈H₁₈), প্লাস্টিক, কাপড় (টেরিলিন, নাইলন), ওষুধ, রং, প্রসাধনী, কীটনাশক, সার, দ্রাবক — সবই কার্বনঘটিত।
মনে রেখো!
হিরে: ত্রিমাত্রিক, কঠিনতম, অন্তরক | গ্রাফাইট: স্তরীভূত, নরম, মুক্ত e⁻ → পরিবাহী | CO₂ প্রস্তুতি: CaCO₃ + HCl; H₂SO₄ নয় | শনাক্তকরণ: চুনজল ঘোলা করে | গ্রিনহাউস গ্যাস: CO₂, CH₄, N₂O, CFC | বিশ্বউষ্ণায়ন: বরফ গলা, সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি | জীবাশ্ম জ্বালানি: কয়লা, পেট্রোল, প্রাকৃতিক গ্যাস — অনবায়নযোগ্য, সংরক্ষণ জরুরি | পলিমার: পলিথিন, টেফলন, PVC, টেরিলিন — দীর্ঘস্থায়ী কিন্তু অ-জৈব-অবিয়োজনযোগ্য → 3R