Chapter 4: কার্বন ও কার্বনঘটিত যৌগ (Carbon & Its Compounds)

কার্বনের রূপভেদ (হিরে, গ্রাফাইট, ফুলারিন), কার্বনঘটিত যৌগের অবস্থান, কার্বন ডাইঅক্সাইড, গ্রিনহাউস এফেক্ট, জ্বালানি ও শক্তি, পলিমার, কয়লা ও পেট্রোলিয়াম সংরক্ষণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 28 April 2026 Last Update: 31 May 2026
Class 8 Chapter 4 কার্বন ও কার্বনঘটিত যৌগ

Chapter 4: কার্বন ও কার্বনঘটিত যৌগ (Carbon & Its Compounds)

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 23 MCQ | 10 SAQ | 7 Broad Questions

হিরে গ্রাফাইট ফুলারিন CO₂ গ্রিনহাউস জ্বালানি পলিমার
💎

হিরে

ত্রিমাত্রিক জালিকা, সবচেয়ে কঠিন, তাপ সুপরিবাহী

✏️

গ্রাফাইট

স্তরীভূত, তড়িৎ সুপরিবাহী, পিচ্ছিলকারক

🌍

CO₂ ও গ্রিনহাউস

চুনজল ঘোলা করে; GHG → বিশ্বউষ্ণায়ন

🧪

পলিমার

পলিথিন, টেফলন, PVC, টেরিলিন — কৃত্রিম যৌগ

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

23 টি
1. কার্বনের কোন রূপভেদটি সবচেয়ে কঠিন?
ক) ক) গ্রাফাইট
খ) খ) হিরে (ডায়মন্ড)
গ) গ) ফুলারিন
ঘ) ঘ) কাঠকয়লা
ব্যাখ্যা: হিরে (Diamond) পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন প্রাকৃতিক পদার্থ। এর ত্রিমাত্রিক জালিকার মতো গঠনে কার্বন পরমাণুগুলি পরস্পর দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ — কোনো ফাঁকফোকর নেই। এই কারণে হিরে গ্রাফাইটের চেয়ে অনেক শক্ত। কাচ কাটতে ও খনিতে ড্রিলিং-এ হিরে ব্যবহৃত হয়।
2. গ্রাফাইটের গঠন কেমন?
ক) ক) ত্রিমাত্রিক জালিকা
খ) খ) স্তরীভূত (সমান্তরাল ত্বকে সাজানো)
গ) গ) ফুটবল আকৃতি
ঘ) ঘ) অনিয়তাকার
ব্যাখ্যা: গ্রাফাইটে কার্বন পরমাণুগুলি বিচ্ছিন্ন সমান্তরাল স্তরে (Layer) সাজানো থাকে। স্তরগুলির মধ্যে দূরত্ব বেশি এবং আকর্ষণ বল দুর্বল — ফলে ওপরের স্তর নীচের স্তরের ওপর দিয়ে সহজে পিছলে যেতে পারে। এই কারণে পেনসিলের শিস কাগজে দাগ কাটে।
3. গ্রাফাইট তড়িতের সুপরিবাহী — কেন?
ক) ক) স্তরে স্তরে আয়ন থাকে
খ) খ) প্রতিটি কার্বন পরমাণুতে একটি মুক্ত ইলেকট্রন থাকে
গ) গ) ধাতব বন্ধন থাকে
ঘ) ঘ) জলে দ্রবীভূত হয়
ব্যাখ্যা: গ্রাফাইটে প্রতিটি কার্বন পরমাণু তিনটি অন্যান্য কার্বনের সাথে সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ — চতুর্থ ইলেকট্রনটি মুক্ত থাকে। এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলি স্তরের মধ্যে চলাচল করে তড়িৎ পরিবহণ করে। তাই গ্রাফাইট দিয়ে তড়িৎ বিশ্লেষণের তড়িৎদ্বার তৈরি করা হয়।
4. হিরে ও গ্রাফাইটের মধ্যে কোনটি পিচ্ছিলকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
ক) ক) হিরে
খ) খ) গ্রাফাইট
গ) গ) দুটিই
ঘ) ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: গ্রাফাইটের স্তরগুলির মধ্যে আকর্ষণ বল দুর্বল — স্তরগুলি সহজে পিছলে যেতে পারে। তাই গ্রাফাইট একটি শুষ্ক পিচ্ছিলকারক (Dry Lubricant) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তেলের সাথে গ্রাফাইট গুঁড়ো মিশিয়ে যন্ত্রের পিচ্ছিলকারক তৈরি করা হয়।
5. হিরের তাপ পরিবাহিতা কেমন?
ক) ক) কুপরিবাহী
খ) খ) সর্বোচ্চ তাপ সুপরিবাহী (ঘরের তাপমাত্রায়)
গ) গ) মাঝারি
ঘ) ঘ) তাপ পরিবহণ করে না
ব্যাখ্যা: ঘরের তাপমাত্রায় (25°C) হিরের তাপ পরিবাহিতা যে কোনো কঠিন পদার্থের চেয়ে বেশি। এই কারণে এখন কৃত্রিম হিরের পাতলা পাতে (Diamond Substrate) ইলেকট্রনিক বর্তনী (Circuit) তৈরি করা হয় — বর্তনীর উৎপন্ন তাপ দ্রুত ছড়িয়ে যায় ও বর্তনী ঠান্ডা থাকে।
6. ফুলারিন (Fullerene) অণুতে কতটি কার্বন পরমাণু থাকতে পারে?
ক) ক) 6 টি
খ) খ) 60 বা 70 টি
গ) গ) 1000 টি
ঘ) ঘ) 2 টি
ব্যাখ্যা: ফুলারিন (Fullerene) — কার্বনের আণবিক রূপভেদ। সবচেয়ে পরিচিত C₆₀ (বাকমিনস্টারফুলারিন) যাতে 60টি কার্বন পরমাণু ফুটবলের মতো গঠনে সাজানো থাকে। C₇₀-ও পাওয়া যায়। ইলেকট্রনিক্স ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফুলারিনের অনেক প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা চলছে।
7. চারকোল বা কাঠকয়লার অধিশোষণ ধর্মের ব্যবহার কী?
ক) ক) তাপ পরিবহণ
খ) খ) জল পরিশোধন (রং ও অশুদ্ধি অপসারণ)
গ) গ) তড়িৎ পরিবহণ
ঘ) ঘ) জ্বালানি হিসেবে
ব্যাখ্যা: কাঠকয়লা (Charcoal) তার ছিদ্রযুক্ত পৃষ্ঠতলে বিভিন্ন পদার্থের অণু ধরে রাখতে পারে — একে অধিশোষণ (Adsorption) ধর্ম বলে। জল পরিশোধন, গ্যাস মাস্কে বিষাক্ত গ্যাস শোষণ, চিনি শিল্পে রং অপসারণে ব্যবহৃত হয়।
8. পরীক্ষাগারে CO₂ প্রস্তুতিতে কোন বিক্রিয়ক জোড়া ব্যবহৃত হয়?
ক) ক) Zn + H₂SO₄
খ) খ) CaCO₃ + লঘু HCl
গ) গ) Na₂O₂ + H₂O
ঘ) ঘ) KClO₃ + MnO₂
ব্যাখ্যা: CaCO₃ + 2HCl → CaCl₂ + CO₂↑ + H₂O। মার্বেল চূর্ণ (CaCO₃)-এর সাথে লঘু HCl বা HNO₃ যোগ করলে CO₂ উৎপন্ন হয়। H₂SO₄ ব্যবহার করলে CaSO₄-এর অদ্রবণীয় আস্তরণ পড়ায় বিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। CO₂ বায়ুর চেয়ে ভারী।
9. CO₂ গ্যাস শনাক্তকরণের প্রধান পরীক্ষা কী?
ক) ক) 'পপ' শব্দ হয়
খ) খ) স্বচ্ছ চুনজলকে ঘোলা করে
গ) গ) শিখাসহ জ্বলে
ঘ) ঘ) লিটমাস নীল হয়
ব্যাখ্যা: CO₂ গ্যাস স্বচ্ছ চুনজলের (Ca(OH)₂ দ্রবণ/Lime Water) মধ্য দিয়ে চালনা করলে চুনজল ঘোলা (দুধের মতো সাদা) হয়ে যায় — কারণ অদ্রবণীয় CaCO₃ উৎপন্ন হয়: Ca(OH)₂ + CO₂ → CaCO₃↓ + H₂O। বেশি CO₂ পাঠালে আবার স্বচ্ছ হয়।
10. CO₂ গ্যাস বায়ুর চেয়ে ভারী — এর প্রমাণ কী?
ক) ক) CO₂ ভর্তি বেলুন উপরে ওঠে
খ) খ) CO₂ ভর্তি বেলুন নীচে পড়ে থাকে, হাওয়ায় ভাসে না
গ) গ) CO₂ গ্যাসের রং দেখা যায়
ঘ) ঘ) CO₂ জলে দ্রবীভূত হয়
ব্যাখ্যা: CO₂ বায়ুর চেয়ে প্রায় 1.5 গুণ ভারী। পরীক্ষা: ভিনেগার + খাবার সোডা বিক্রিয়ায় উৎপন্ন CO₂ বেলুনে ভরা হলে, খুলে দিলে বেলুনটি হাওয়ায় ভাসে না — নীচে পড়ে থাকে। এটি প্রমাণ করে CO₂ বায়ুর চেয়ে ভারী।
11. কার্বন ডাইঅক্সাইড জলে দ্রবীভূত হয়ে কী উৎপন্ন করে?
ক) ক) CaCO₃
খ) খ) H₂CO₃ (কার্বনিক অ্যাসিড)
গ) গ) CO
ঘ) ঘ) CH₄
ব্যাখ্যা: CO₂ + H₂O → H₂CO₃ (কার্বনিক অ্যাসিড) — এটি একটি দুর্বল অ্যাসিড। নীল লিটমাসকে লাল করে। সোডা ওয়াটার, কোমল পানীয় — এসবে চাপে CO₂ দ্রবীভূত থাকে, খুললে বুদবুদ বেরোয়।
12. গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse Gas) কোনটি?
ক) ক) O₂
খ) খ) N₂
গ) গ) CO₂
ঘ) ঘ) H₂
ব্যাখ্যা: গ্রিনহাউস গ্যাস: CO₂, H₂O (বাষ্প), CH₄, N₂O, O₃ ও ক্লোরোফ্লুরোকার্বন — এরা ইনফ্রারেড রশ্মি শোষণ ও পুনঃবিকিরণ করে বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখে। O₂ ও N₂ গ্রিনহাউস গ্যাস নয়। CO₂-র পরিমাণ বাড়াই বিশ্বউষ্ণায়নের প্রধান কারণ।
13. জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel)-এর উদাহরণ কী কী?
ক) ক) সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি
খ) খ) কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস
গ) গ) জৈব গ্যাস, বায়োডিজেল
ঘ) ঘ) জলবিদ্যুৎ, পারমাণবিক শক্তি
ব্যাখ্যা: জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel): লক্ষ লক্ষ বছর আগে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ ভূগর্ভে চাপা পড়ে উচ্চ চাপ ও তাপে রূপান্তরিত হয়ে সৃষ্ট জ্বালানি — কয়লা (Coal), পেট্রোলিয়াম (Petroleum) ও প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas)। এগুলি অনবায়নযোগ্য (Non-renewable) শক্তির উৎস।
14. জৈব গ্যাস (Biogas)-এর প্রধান উপাদান কী?
ক) ক) CO₂
খ) খ) CH₄ (মিথেন)
গ) গ) H₂
ঘ) ঘ) O₂
ব্যাখ্যা: জৈব গ্যাস বা বায়োগ্যাস (Biogas): জৈব আবর্জনা (গবাদিপশুর মল, কৃষিজাত বর্জ্য, খাদ্যবর্জ্য) বায়ুর অনুপস্থিতিতে অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া কর্তৃক পচনের (Anaerobic Digestion) মাধ্যমে উৎপন্ন গ্যাস। এর প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄, ~60-70%), বাকিটা CO₂। এটি সম্পূর্ণ জ্বালানি — রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত।
15. জ্বালানি দহনে উৎপন্ন ক্ষতিকর গ্যাস কোনটি?
ক) ক) অ্যামোনিয়া (NH₃)
খ) খ) কার্বন মনোক্সাইড (CO)
গ) গ) অক্সিজেন (O₂)
ঘ) ঘ) নাইট্রোজেন (N₂)
ব্যাখ্যা: অসম্পূর্ণ দহনে (কম O₂-তে) কার্বন মনোক্সাইড (CO) উৎপন্ন হয় — যা অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস। এটি রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে O₂-এর চেয়ে 200 গুণ শক্তভাবে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহণ ব্যাহত করে। বন্ধ ঘরে কাঠ-কয়লা জ্বালিয়ে শোয়া বিপজ্জনক — CO বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হতে পারে।
16. অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain)-র কারণ কী?
ক) ক) CO₂
খ) খ) SO₂ ও NO₂ (বৃষ্টির জলে দ্রবীভূত)
গ) গ) O₂
ঘ) ঘ) N₂
ব্যাখ্যা: কয়লা ও ডিজেল পোড়ালে SO₂, আর উচ্চ তাপমাত্রায় ইঞ্জিনে N₂ + O₂ → NO₂ উৎপন্ন হয়। বৃষ্টির জলে SO₂ → H₂SO₃/H₂SO₄ এবং NO₂ → HNO₃ উৎপন্ন — এসব অ্যাসিড বৃষ্টির সাথে পড়ে শস্য, ঘরবাড়ি, মাটির ক্ষতি করে। একে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
17. বিশ্বউষ্ণায়ন (Global Warming) রোধে কী করা উচিত?
ক) ক) বেশি করে গাছ লাগানো ও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমানো
খ) খ) বেশি কয়লা পোড়ানো
গ) গ) বন কেটে ফেলা
ঘ) ঘ) প্লাস্টিক পোড়ানো
ব্যাখ্যা: উষ্ণায়ন রোধের উপায়: (i) বৃক্ষরোপণ — গাছ CO₂ শোষণ করে। (ii) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর, বায়ু, জল) ব্যবহার। (iii) CNG-র মতো পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহার। (iv) শক্তি সাশ্রয় ও পুনর্ব্যবহার (Recycle)।
18. কয়লা সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি কী?
ক) ক) কয়লা পোড়ানো
খ) খ) কয়লা ওয়াশিং (Coal Washing)
গ) গ) কয়লা জলে ফেলা
ঘ) ঘ) কয়লা রোদে শুকানো
ব্যাখ্যা: কয়লা ওয়াশিং (Coal Washing/Beneficiation): কয়লাকে যান্ত্রিকভাবে ধুয়ে অশুদ্ধি (মাটি, পাথর, সালফার) দূর করে কম ধোঁয়া ও কম ছাই উৎপাদনকারী উন্নতমানের কয়লা তৈরি করা হয়। ভারতে 17টি কয়লা ওয়াশারি আছে — 2013 সালে আরও 16টির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
19. পলিমার (Polymer) কাকে বলে?
ক) ক) একক অণু
খ) খ) বহুসংখ্যক অণু রাসায়নিকভাবে জুড়ে গঠিত দীর্ঘ শৃঙ্খল যৌগ
গ) গ) ধাতব যৌগ
ঘ) ঘ) গ্যাসীয় মৌল
ব্যাখ্যা: পলিমার (Polymer): একই রকম বা ভিন্ন রকমের বহুসংখ্যক ক্ষুদ্র অণু (মনোমার) রাসায়নিকভাবে জুড়ে গিয়ে একক শৃঙ্খলাকৃতির যে দীর্ঘ যৌগ তৈরি করে, তাকে পলিমার বলে। যেমন পলিথিন (ইথিলিন → পলিথিন), টেফলন, PVC, নাইলন ইত্যাদি।
20. পলিথিনের ধর্ম ও ব্যবহার কী?
ক) ক) নমনীয়, তড়িতের কুপরিবাহী — নন-স্টিক বাসনপত্র
খ) খ) শক্ত, তাপ সহনশীল — বৈদ্যুতিক তার
গ) গ) তড়িতের সুপরিবাহী — ব্যাটারি
ঘ) ঘ) জলে দ্রাব্য — ওষুধ
ব্যাখ্যা: পলিথিন (Polythene/Polyethylene): নমনীয় কিন্তু আংশিক কঠিন (মোমের মতো), তড়িতের কুপরিবাহী (Insulator), রাসায়নিকে নিষ্ক্রিয়। ব্যবহার: নন-স্টিক বাসনপত্রের প্রলেপ, গাড়ির বডির ওপর প্রলেপ, রাসায়নিক শিল্পে পাইপ ও পাত্র।
21. টেফলনের বিশেষ ধর্ম কী?
ক) ক) তড়িতের সুপরিবাহী
খ) খ) উচ্চ গলনাঙ্কবিশিষ্ট ও ক্ষয়কারী রাসায়নিকে নিষ্ক্রিয়
গ) গ) জলে দ্রাব্য
ঘ) ঘ) ভঙ্গুর
ব্যাখ্যা: টেফলন (Teflon/PTFE): উচ্চ গলনাঙ্কবিশিষ্ট, তড়িতের কুপরিবাহী, বিভিন্ন ক্ষয়কারী রাসায়নিকের প্রতি অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়। ব্যবহার: নন-স্টিক রান্নার পাত্রের প্রলেপ, রাসায়নিক শিল্পে পাইপ ও গ্যাসকেট, বৈদ্যুতিক তারের অন্তরক।
22. PVCPVC দিয়ে কী তৈরি হয়?
ক) ক) সোনার গয়না
খ) খ) জলের পাইপ, বৈদ্যুতিক তারের আবরণ, চামড়ার বিকল্প
গ) গ) খাদ্যদ্রব্য
ঘ) ঘ) ওষুধ
ব্যাখ্যা: PVC (Polyvinyl Chloride): স্বচ্ছ বা অস্বচ্ছ, শক্ত — জল, তেল, পেট্রোল ও রাসায়নিকের সংস্পর্শে নিষ্ক্রিয়। ব্যবহার: জলের পাইপ, বৈদ্যুতিক তারের আবরণ, কৃত্রিম চামড়া (রেক্সিন), বৃষ্টির কোট, গামবুট।
23. টেরিলিন কাপড়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ক) জল শোষণ করে না, ভাঁজ পড়ে না, দীর্ঘস্থায়ী
খ) খ) তুলোর মতো জল শোষণ করে
গ) গ) খুব ভারী
ঘ) ঘ) সহজে ছিঁড়ে যায়
ব্যাখ্যা: টেরিলিন (Terelene/Polyester): নাইলনের মতো জল শোষণ করে না, সহজে দাগ ধরে না, শক্ত (টেকসই), ভাঁজরোধী (Crease-resistant), দীর্ঘস্থায়ী তন্তু। ভাঁজ না পড়ায় ইস্ত্রি করার দরকার পড়ে না। টেরিকট (Tericot) — টেরিলিন + সুতোর মিশ্রণে তৈরি কাপড় — আর্দ্র-গ্রীষ্মপ্রধান দেশে জনপ্রিয়।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

10 টি
1. 💎 হিরে ও গ্রাফাইটের গঠনগত পার্থক্য কীভাবে তাদের ভৌত ধর্ম নির্ধারণ করে?

উত্তর:

বিষয়হিরে (Diamond)গ্রাফাইট (Graphite)
গঠনত্রিমাত্রিক জালিকা — কার্বন পরমাণু দৃঢ়ভাবে চারটি বন্ধনে আবদ্ধস্তরীভূত ষড়ভুজাকার চাদর — স্তরের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ
কাঠিন্যসবচেয়ে কঠিননরম, পিছল
তড়িৎ পরিবাহিতাকুপরিবাহীসুপরিবাহী (মুক্ত e⁻)
তাপ পরিবাহিতাসর্বোচ্চ (25°C)ভালো
ব্যবহারকাচ কাটা, ড্রিলিং, ইলেকট্রনিক্সপেনসিলের শিস, পিচ্ছিলকারক

গঠনই ধর্ম নির্ধারণ করে: হিরেতে প্রতিটি C 4টি C-এর সাথে শক্ত সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ — কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই → অন্তরক, অত্যন্ত কঠিন। গ্রাফাইটে প্রতিটি C 3টি C-এর সাথে বন্ধনে আবদ্ধ, ১টি ইলেকট্রন মুক্ত → তড়িৎ পরিবাহী। স্তরগুলির মধ্যে দুর্বল ভ্যান ডার ওয়ালস বল → স্তর পিছলে যায় → নরম ও পিচ্ছিলকারক।

2. 💎 ফুলারিন (Fullerene) কী? এর গঠন ও সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে যা জানো লেখো।

উত্তর:

ফুলারিন (Fullerene): কার্বনের তৃতীয় রূপভেদ (Allotrope) — প্রথমে গবেষণাগারে ও পরে প্রকৃতিতেও পাওয়া গেছে। এটি কার্বনের আণবিক রূপ — C₆₀ (বাকমিনস্টারফুলারিন), C₇₀ ইত্যাদি।

গঠন: C₆₀ অণুতে 60টি কার্বন পরমাণু 20টি ষড়ভুজ ও 12টি পঞ্চভুজ আকারে ফুটবলের মতো সাজানো থাকে। অতি ক্ষুদ্র আণবিক গোলক।

বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাব্য ব্যবহার: (i) অণু হিসেবে নির্দিষ্ট আকার — ইলেকট্রনিক্সে আণবিক ডিভাইস তৈরিতে। (ii) চিকিৎসাবিজ্ঞানে ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেমে। (iii) অতিপরিবাহী যৌগ গঠনে (ক্ষার ধাতুর সাথে)। (iv) সৌরকোশ ও লুব্রিকেন্ট হিসেবে গবেষণা চলছে।

3. 💎 কাঠকয়লার (Charcoal) অধিশোষণ ধর্ম কী? পরীক্ষার মাধ্যমে কীভাবে বোঝানো যায়?

উত্তর:

অধিশোষণ (Adsorption): কোনো কঠিন পদার্থের পৃষ্ঠতলে গ্যাস, তরল বা দ্রবীভূত পদার্থের অণুগুলির আটকে থাকার প্রক্রিয়া। কাঠকয়লা তার ছিদ্রযুক্ত বিপুল পৃষ্ঠতলের কারণে চমৎকার অধিশোষক।

পরীক্ষা: (i) কাঠকয়লা গুঁড়ো করে নাও। (ii) একটি ফ্লাস্কে অল্প জল নিয়ে তাতে কালি বা রং গুলে নাও। (iii) এতে কাঠকয়লার গুঁড়ো ঢেলে ছিপি বন্ধ করে ভালো করে ঝাঁকাও এবং কিছুক্ষণ রেখে দাও। (iv) মিশ্রণটি ফিলটার করো — ফিলট্রেট (পরিস্রুত তরল) বর্ণহীন হবে। কারণ কাঠকয়লা রঙের অণুগুলিকে নিজের পৃষ্ঠতলে অধিশোষণ করে নিয়েছে।

অন্যান্য ব্যবহার: গ্যাস মাস্কে বিষাক্ত গ্যাস শোষণ, চিনি শিল্পে বর্ণ অপসারণ, জল পরিশোধন।

4. 🫧 পরীক্ষাগারে CO₂ প্রস্তুতির পদ্ধতি, সমীকরণ ও সতর্কতা লেখো। কেন H₂SO₄ ব্যবহার করা যায় না?

উত্তর:

প্রয়োজন: মার্বেল চূর্ণ (CaCO₃), লঘু HCl, উলফ বোতল, নির্গমনল, গ্যাসজার।

পদ্ধতি: উলফ বোতলে মার্বেল চূর্ণ নিয়ে লঘু HCl যোগ। নির্গমনল দিয়ে CO₂ গ্যাস নিম্নমুখী বায়ু অপসারণ পদ্ধতিতে (Downward Displacement of Air) গ্যাসজারে সংগ্রহ (CO₂ বায়ুর চেয়ে ভারী)।

বিক্রিয়া: CaCO₃ + 2HCl → CaCl₂ + CO₂↑ + H₂O।

কেন H₂SO₄ নয়? CaCO₃ + H₂SO₄ → CaSO₄↓ + CO₂ + H₂O। CaSO₄ (ক্যালশিয়াম সালফেট) জলে প্রায় অদ্রবণীয় — এটি মার্বেলের ওপর পাতলা আস্তরণ পড়ে। ফলে মার্বেল আর অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসতে পারে না — বিক্রিয়া থেমে যায়।

5. 🫧 CO₂ গ্যাসের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মগুলি উদাহরণ ও সমীকরণসহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

ভৌত ধর্ম: বর্ণহীন, গন্ধহীন গ্যাস। বায়ুর চেয়ে ~1.5 গুণ ভারী। জলে মোটামুটি দ্রবণীয়।

রাসায়নিক ধর্ম:

1. অম্লীয় অক্সাইড: CO₂ + H₂O → H₂CO₃ (কার্বনিক অ্যাসিড — দুর্বল অ্যাসিড, নীল লিটমাস → লাল)।

2. চুনজলের সাথে: Ca(OH)₂ + CO₂ → CaCO₃↓ (সাদা) + H₂O — চুনজল ঘোলা হয় (CO₂-র শনাক্তকরণ পরীক্ষা)। অতিরিক্ত CO₂ পাঠালে: CaCO₃ + CO₂ + H₂O → Ca(HCO₃)₂ (দ্রবণীয় — আবার স্বচ্ছ হয়)।

3. ক্ষারের সাথে: 2NaOH + CO₂ → Na₂CO₃ + H₂O।

4. দহনে সাহায্য: CO₂ নিজে দাহ্য নয় এবং দহনে সাহায্যও করে না — অগ্নিনির্বাপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

5. সালোকসংশ্লেষ: 6CO₂ + 6H₂O → C₆H₁₂O₆ + 6O₂।

6. 🌍 গ্রিনহাউস এফেক্ট (Greenhouse Effect) কী? এর কারণ, ফলাফল ও প্রতিকার আলোচনা করো।

উত্তর:

গ্রিনহাউস এফেক্ট: বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস (গ্রিনহাউস গ্যাস — GHG) সূর্যের ছোটো তরঙ্গের আলো ভূপৃষ্ঠে পৌঁছতে দেয়, কিন্তু ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত দীর্ঘ তরঙ্গের ইনফ্রারেড রশ্মি শোষণ করে ও পুনর্বিকিরণ করে বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখে — একে গ্রিনহাউস এফেক্ট বলে। এটি প্রাকৃতিক ও প্রয়োজনীয় (না থাকলে পৃথিবী -18°C হত), কিন্তু মানবসৃষ্ট কারণে এর মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

গ্রিনহাউস গ্যাস: CO₂ (প্রধান), H₂O (বাষ্প), CH₄, N₂O, O₃, CFC।

কারণ (মানবসৃষ্ট বৃদ্ধি): জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, অরণ্যবিনাশ, সিমেন্ট শিল্প, ধানক্ষেত, গবাদিপশু, সার ব্যবহার।

ফলাফল (বিশ্বউষ্ণায়ন): মেরুর বরফ গলা — সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি — উপকূলীয় শহর ডোবা; আবহাওয়ার চরমভাব (বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়); কৃষিজ উৎপাদন হ্রাস; জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি; রোগজীবাণুর বিস্তার।

প্রতিকার: (i) বৃক্ষরোপণ — CO₂ শোষণ। (ii) জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর, বায়ু) ব্যবহার। (iii) শক্তি সাশ্রয় ও পুনর্ব্যবহার (Recycle)। (iv) CNG-র মতো পরিষ্কার জ্বালানির ব্যবহার।

7. ⛽ জৈব গ্যাস (Biogas) উৎপাদন প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। এটি কেন পরিবেশবান্ধব জ্বালানি?

উত্তর:

জৈব গ্যাস / বায়োগ্যাস (Biogas): জৈব আবর্জনা (গবাদিপশুর গোবর, কৃষিজাত বর্জ্য, খাদ্যবর্জ্য, পৌর জঞ্জাল) — বায়ুর অনুপস্থিতিতে (Anaerobic condition) বিশেষ ব্যাকটেরিয়া কর্তৃক জৈব-রাসায়নিক পচন (Anaerobic Digestion) ঘটলে যে গ্যাস উৎপন্ন হয়। প্রধান উপাদান: CH₄ (মিথেন) ~60-70%, CO₂ ~30-40%, সামান্য H₂S।

উৎপাদন (গোবর গ্যাস প্লান্ট): গবাদিপশুর গোবর ও জল মিশিয়ে স্লারি তৈরি → ডাইজেস্টার ট্যাঙ্কে ঢালা → অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়া (মিথানোজেন) জটিল জৈব অণু ভেঙে CH₄ ও CO₂ উৎপন্ন করে। গ্যাস সংগ্রহ করে পাইপে রান্নাঘরে বা জেনারেটরে পাঠানো হয়। ব্যয়িত স্লারি উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

পরিবেশবান্ধব কেন: (i) নবায়নযোগ্য (Renewable) — গোবর ও বর্জ্য সর্বদা পাওয়া যায়। (ii) কার্বন নিরপেক্ষ — পোড়ালে যে CO₂ বেরোয়, তা উদ্ভিদ পূর্বে শোষণ করেছিল। (iii) বর্জ্যের নিরাপদ নিষ্কাশন — দূষণ নিয়ন্ত্রণ। (iv) সাশ্রয়ী — গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ।

8. ⛽ জীবাশ্ম জ্বালানি সংরক্ষণের উপায়গুলি কী কী? নবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্প উৎস সম্পর্কে লেখো।

উত্তর:

জীবাশ্ম জ্বালানি সংরক্ষণের উপায়:

  1. সঞ্চয় (Conservation): অপ্রয়োজনে জ্বালানি ব্যয় না করা — বাতি, পাখা, যন্ত্র বন্ধ রাখা।
  2. কয়লা ওয়াশিং (Coal Washing): অশুদ্ধি অপসারণ — কম ধোঁয়া ও কম ছাই, উন্নত দহন।
  3. পরিবহণে সাশ্রয়: জলপথ — পাইপলাইনে তেল পরিবহণ অপচয় কমায়।
  4. নিম্নমানের কয়লা ব্যবহার: তরল জ্বালানিতে রূপান্তর (Coal Liquefaction) করে ব্যবহার।
  5. প্রাকৃতিক গ্যাসের সংরক্ষণ: উৎস থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাস নষ্ট না করে ধরে রাখা।
  6. জ্বালানিবিহীন যানবাহন: সাইকেল, জ্বালানিবিহীন নৌকোর ব্যবহার উৎসাহিত করা।
  7. গণপরিবহণ: ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বাস-ট্রেন ব্যবহার করলে মাথাপিছু জ্বালানি সাশ্রয় হয়।

নবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্প:

  • সৌরশক্তি: সোলার প্যানেল — বিদ্যুৎ, সোলার কুকার — রান্না।
  • বায়ুশক্তি: উইন্ড টারবাইন — বিদ্যুৎ উৎপাদন।
  • জলবিদ্যুৎ: বাঁধে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ।
  • জোয়ারভাটার শক্তি (Tidal Energy): জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ।
  • ভূ-তাপ শক্তি (Geothermal): ভূগর্ভের তপ্ত জল বা বাষ্প থেকে বিদ্যুৎ।
  • পারমাণবিক শক্তি: নিউক্লীয় বিভাজন (Fission) — ইউরেনিয়াম/প্লুটোনিয়াম — কিন্তু তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সমস্যা।
9. 🧪 পলিমার (Polymer) কাকে বলে? পলিথিন, টেফলন, PVC ও টেরিলিনের ধর্ম ও ব্যবহার সারণি আকারে লেখো।

উত্তর:

পলিমারধর্মপ্রধান ব্যবহার
পলিথিন (Polythene)নমনীয় কিন্তু আংশিক কঠিন (মোমের মতো), তড়িৎ কুপরিবাহী, রাসায়নিকে নিষ্ক্রিয়নন-স্টিক বাসনপত্রের প্রলেপ, গাড়ির বডি প্রলেপ, রাসায়নিক শিল্প
টেফলন (PTFE)উচ্চ গলনাঙ্ক, তড়িৎ কুপরিবাহী, ক্ষয়কারী রাসায়নিকে নিষ্ক্রিয়নন-স্টিক রান্নার পাত্র, রাসায়নিক পাইপ, বৈদ্যুতিক অন্তরক
PVCস্বচ্ছ/অস্বচ্ছ, শক্ত, জল-তেল-পেট্রোল রাসায়নিকে নিষ্ক্রিয়জলের পাইপ, বৈদ্যুতিক তারের আবরণ, কৃত্রিম চামড়া, রেইনকোট
টেরিলিন (Polyester)জল শোষণ করে না, ভাঁজরোধী, দীর্ঘস্থায়ী, সহজে দাগ ধরে নাটেরিকট কাপড় (সুতো + টেরিলিন), দড়ি, সিট বেল্ট, জামাকাপড়

সংজ্ঞা: পলিমার = বহুসংখ্যক ক্ষুদ্র অণু (মনোমার) রাসায়নিক বন্ধনে জুড়ে গঠিত বৃহৎ দীর্ঘ শৃঙ্খল যৌগ। অধিকাংশ কৃত্রিম পলিমারই কার্বনঘটিত যৌগ থেকে তৈরি।

10. 🧪 কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের সুবিধা কী কী? প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার কী কী সমস্যা সৃষ্টি করে?

উত্তর:

কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের সুবিধা:

  1. দীর্ঘস্থায়িত্ব (Durability): প্রাকৃতিক উপাদানের (কাঠ, ধাতু, কাচ) চেয়ে অনেক বেশি টেকসই ও ক্ষয়রোধী।
  2. ছাঁচযোগ্যতা (Moldability): ইচ্ছামতো আকৃতি দেওয়া যায় — জটিল ডিজাইনের জিনিস সহজে তৈরি।
  3. হালকা (Lightweight): ধাতুর তুলনায় অনেক হালকা — পরিবহণ খরচ কম।
  4. রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা: মরচে ধরে না, অ্যাসিড-ক্ষারে অপরিবর্তিত থাকে।
  5. অন্তরক (Insulator): তাপ ও তড়িতের কুপরিবাহী — নিরাপদ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।
  6. সাশ্রয়ী: উৎপাদন খরচ কম।

অতিরিক্ত ব্যবহারের সমস্যা:

  • অজৈব-অবিয়োজনযোগ্য (Non-biodegradable): প্লাস্টিক মাটিতে মিশে যায় না — শত শত বছর পরিবেশে থেকে যায়।
  • মাটি ও জল দূষণ: ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক মাটির জল নিষ্কাশন বন্ধ করে ও নালা-নর্দমা আটকায়।
  • জলজ প্রাণীর মৃত্যু: সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্য — মাছ, কচ্ছপ, পাখির পেটে গিয়ে মৃত্যু ঘটায়।
  • মাইক্রোপ্লাস্টিক: ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ — মানবস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।
  • পোড়ানো — বায়ুদূষণ: প্লাস্টিক পোড়ালে বিষাক্ত ডাইঅক্সিন ও ফিউরান গ্যাস নির্গত হয়।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর

7 টি
1. কার্বনের রূপভেদ (Allotropes) কাকে বলে? হিরে, গ্রাফাইট ও ফুলারিনের গঠন, ধর্ম ও ব্যবহারের তুলনামূলক আলোচনা করো।

রূপভেদ (Allotropy)

একই মৌল বিভিন্ন ভৌত রূপে প্রকৃতিতে পাওয়া যাওয়ার ঘটনাকে রূপভেদ বা অ্যালোট্রপি বলে। কার্বনের সুপরিচিত রূপভেদ: হিরে, গ্রাফাইট, ফুলারিন, চারকোল ইত্যাদি।

বৈশিষ্ট্যহিরে (Diamond)গ্রাফাইট (Graphite)ফুলারিন (Fullerene)
গঠনত্রিমাত্রিক জালিকা, প্রতিটি C 4টি C-এর সাথে যুক্তস্তরীভূত ষড়ভুজাকার চাদর, প্রতিটি C 3টি C-এর সাথেআণবিক গোলক — C₆₀ ফুটবল আকৃতি
কাঠিন্যসবচেয়ে কঠিন প্রাকৃতিক পদার্থনরম, পিচ্ছিলআণবিক কঠিন
তড়িৎকুপরিবাহীসুপরিবাহী (মুক্ত e⁻)অর্ধপরিবাহী
তাপসর্বোচ্চ পরিবাহী (25°C)ভালো পরিবাহীগবেষণাধীন
ব্যবহারকাচকাটা, ড্রিলিং, ইলেকট্রনিক সার্কিটপেনসিল, তড়িৎদ্বার, পিচ্ছিলকারকইলেকট্রনিক্স, ড্রাগ ডেলিভারি
2. জীবাশ্ম জ্বালানি কী? এর শ্রেণিবিভাগ, ব্যবহার, সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ও উপায়গুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।

জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuels)

লক্ষ লক্ষ বছর আগে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ ভূগর্ভে চাপা পড়ে উচ্চ চাপ ও তাপে রূপান্তরিত হয়ে সৃষ্ট জ্বালানি।

  • কয়লা (Coal): কাঠিন্যের ক্রম — পিট, লিগনাইট, বিটুমিনাস, অ্যানথ্রাসাইট।
  • পেট্রোলিয়াম (Petroleum): তরল — পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ইত্যাদি।
  • প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas): প্রধানত CH₄ — CNG, PNG।

সংরক্ষণের উপায়:

কয়লা ওয়াশিং, শক্তি সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার (সৌর, বায়ু, জল, জোয়ার, ভূ-তাপ, জৈব গ্যাস), গণপরিবহণ, সাইকেল ব্যবহার, CNG-র ব্যবহার।

3. গ্রিনহাউস এফেক্ট ও বিশ্বউষ্ণায়ন (Global Warming) কী? কারণ, গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহের উৎস, ফলাফল ও প্রতিকার বিস্তারিত বর্ণনা করো।

গ্রিনহাউস এফেক্ট

বায়ুমণ্ডলের GHG সূর্যের ছোটো তরঙ্গ ঢুকতে দেয়, কিন্তু দীর্ঘ তরঙ্গের IR রশ্মি শোষণ করে — ফাঁদের মতো তাপ আটকায়।

প্রধান GHG ও উৎস:

  • CO₂: জ্বালানি দহন, অরণ্যবিনাশ, সিমেন্ট শিল্প।
  • CH₄: ধানক্ষেত, গবাদিপশু, গ্যাস লিকেজ, জৈব বর্জ্য।
  • N₂O: নাইট্রোজেন সার, শিল্প প্রক্রিয়া।
  • CFC: রেফ্রিজারেটর, এসি, স্প্রে — ওজোন স্তরও ক্ষয় করে।

ফলাফল (বিশ্বউষ্ণায়ন):

মেরুর বরফ গলা → সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি → উপকূলীয় নগর প্লাবন; চরম আবহাওয়া; কৃষি উৎপাদন হ্রাস; জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি; রোগবিস্তার।

প্রতিকার:

বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য শক্তি, শক্তি সাশ্রয়, পুনর্ব্যবহার, আন্তর্জাতিক চুক্তি (Kyoto Protocol, Paris Agreement)।

4. পলিমার (Polymer) কী? কৃত্রিম পলিমারের ব্যবহার, সুবিধা ও পরিবেশগত সমস্যা বিস্তারিত আলোচনা করো। পলিমার বর্জ্যের সমস্যা সমাধানে করণীয় কী?

পলিমার = মনোমার + মনোমার + ... → দীর্ঘ শৃঙ্খল

প্রধান কৃত্রিম পলিমার: পলিথিন, টেফলন, PVC, পলিস্টাইরিন, নাইলন, টেরিলিন, অরলন।

সুবিধা:

দীর্ঘস্থায়ী, ছাঁচযোগ্য, হালকা, রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়, তাপ-তড়িৎ অন্তরক, সাশ্রয়ী।

পরিবেশগত সমস্যা:

অ-জৈব-অবিয়োজনযোগ্য (Non-biodegradable), মাটি-জল-সমুদ্র দূষণ, নালা-নর্দমা আটকানো, প্লাস্টিক পোড়ালে বিষাক্ত গ্যাস, মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

সমাধান:

3R (Reduce, Reuse, Recycle), জৈব-অবিয়োজনযোগ্য প্লাস্টিক (Bioplastic — PLA, PHA), পলিমার বর্জ্য থেকে জ্বালানি (Pyrolysis), টোট ব্যাগ ব্যবহার — প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধকরণ।

5. নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বলতে কী বোঝো? উভয়ের উদাহরণ দাও। কেন নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝোঁকা প্রয়োজন?

অনবায়নযোগ্য (Non-renewable):

যে শক্তির উৎস সীমিত ও ব্যবহারের সাথে সাথে ফুরিয়ে যাচ্ছে — পুনর্ভরণ হতে কোটি কোটি বছর লাগে। যেমন: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম (পারমাণবিক)।

নবায়নযোগ্য (Renewable):

যে উৎস অফুরন্ত ও বারবার ব্যবহার করা যায় — প্রকৃতির চক্রে স্বল্প সময়ে পুনর্ভরণ হয়। যেমন: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, জোয়ারভাটা শক্তি, ভূ-তাপ শক্তি, জৈব ভর (Biomass), জৈব গ্যাস।

স্থানান্তরের কারণ:

(i) জীবাশ্ম জ্বালানি ফুরিয়ে আসছে। (ii) গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে — জলবায়ু পরিবর্তন রোধ। (iii) দূষণ কমানো। (iv) শক্তি নিরাপত্তা — আমদানি নির্ভরতা কমানো। (v) টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development)।

6. জ্বালানির দহনে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবগুলি কী কী? অ্যাসিড বৃষ্টি, বিশ্বউষ্ণায়ন ও ধোঁয়াশার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে লেখো।

জ্বালানি দহনের পরিবেশগত প্রভাব:

  1. CO₂ নিঃসরণ → বিশ্বউষ্ণায়ন: জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে CO₂ বাতাসে মিশে গ্রিনহাউস এফেক্ট বাড়ায় → বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
  2. CO (কার্বন মনোক্সাইড): অসম্পূর্ণ দহনে — বিষাক্ত, হিমোগ্লোবিনের সাথে বিক্রিয়া → অক্সিজেন পরিবহণ ব্যাহত।
  3. SO₂ → অ্যাসিড বৃষ্টি: কয়লা ও ডিজেলে থাকা S জ্বলে SO₂ → H₂SO₃/H₂SO₄ → অ্যাসিড বৃষ্টি → শস্য, স্থাপত্য, জলজ প্রাণীর ক্ষতি।
  4. NO₂ → অ্যাসিড বৃষ্টি ও ধোঁয়াশা (Photochemical Smog): ইঞ্জিনের উচ্চ তাপমাত্রায় N₂ + O₂ → NO → NO₂ → HNO₃ + ধোঁয়াশা → শ্বাসকষ্ট।
  5. অদগ্ধ কার্বন কণা (Soot): শ্বাসনালীতে জমে — হাঁপানি, অ্যাজমা।

প্রতিকার:

পরিষ্কার জ্বালানি (CNG), SO₂ স্ক্রাবার, ক্যাটালিটিক কনভার্টার (গাড়িতে), নবায়নযোগ্য শক্তি, গাছ লাগানো।

7. কার্বনঘটিত যৌগের বৈচিত্র্য ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। জীবজগতে ও দৈনন্দিন জীবনে কার্বনের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।

কার্বনের বৈচিত্র্যের কারণ:

(i) চতুর্যোজী (Tetravalency) — C পরমাণু নিজের সাথে দীর্ঘ শৃঙ্খল, শাখা ও বলয় গঠন করতে পারে (Catenation)। (ii) একক, দ্বিবন্ধন ও ত্রিবন্ধন গঠন ক্ষমতা — C—C, C=C, C≡C ও হেটেরো-পরমাণুর (O, N, S, Cl) সাথে বন্ধন। (iii) আইসোমেরিজম — একই আণবিক সংকেতের যৌগ ভিন্ন গঠনে বিরাজ করতে পারে। এই কারণে 1 কোটিরও বেশি জৈব যৌগ পরিচিত।

জীবজগতে ভূমিকা:

সমস্ত জৈব অণু — প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, DNA, RNA, ATP, ভিটামিন, হরমোন, এনজাইম — সবই কার্বনের মূল কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে। মানবদেহের প্রায় 50% ভর কার্বনের।

দৈনন্দিন জীবনে:

জ্বালানি (CH₄, C₈H₁₈), প্লাস্টিক, কাপড় (টেরিলিন, নাইলন), ওষুধ, রং, প্রসাধনী, কীটনাশক, সার, দ্রাবক — সবই কার্বনঘটিত।

মনে রেখো!

হিরে: ত্রিমাত্রিক, কঠিনতম, অন্তরক | গ্রাফাইট: স্তরীভূত, নরম, মুক্ত e⁻ → পরিবাহী | CO₂ প্রস্তুতি: CaCO₃ + HCl; H₂SO₄ নয় | শনাক্তকরণ: চুনজল ঘোলা করে | গ্রিনহাউস গ্যাস: CO₂, CH₄, N₂O, CFC | বিশ্বউষ্ণায়ন: বরফ গলা, সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি | জীবাশ্ম জ্বালানি: কয়লা, পেট্রোল, প্রাকৃতিক গ্যাস — অনবায়নযোগ্য, সংরক্ষণ জরুরি | পলিমার: পলিথিন, টেফলন, PVC, টেরিলিন — দীর্ঘস্থায়ী কিন্তু অ-জৈব-অবিয়োজনযোগ্য → 3R

Sponsored Links

Frequently Asked Questions - কার্বন ও কার্বনঘটিত যৌগ (Chapter 4)

হিরে: ত্রিমাত্রিক জালিকা গঠন — প্রতিটি C 4টি C-এর সাথে দৃঢ় সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ → সবচেয়ে কঠিন, তাপ সুপরিবাহী, তড়িৎ কুপরিবাহী। গ্রাফাইট: স্তরীভূত ষড়ভুজাকার চাদর — প্রতিটি C 3টি C-এর সাথে বন্ধনে, 1টি ইলেকট্রন মুক্ত → নরম ও পিচ্ছিল (স্তর পিছলে যায়), তড়িৎ সুপরিবাহী (মুক্ত e⁻), পেনসিলের শিস ও তড়িৎদ্বারে ব্যবহৃত।

CO₂ গ্যাসকে স্বচ্ছ চুনজলের (Lime Water — Ca(OH)₂ দ্রবণ) মধ্য দিয়ে চালনা করলে চুনজল দুধের মতো ঘোলা (সাদা) হয়ে যায় — কারণ অদ্রবণীয় ক্যালশিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) উৎপন্ন হয়। সমীকরণ: Ca(OH)₂ + CO₂ → CaCO₃↓ + H₂O। অতিরিক্ত CO₂ পাঠালে ঘোলা আবার স্বচ্ছ হয়: CaCO₃ + CO₂ + H₂O → Ca(HCO₃)₂।

গ্রিনহাউস এফেক্ট (Greenhouse Effect) হল বায়ুমণ্ডলের GHG কর্তৃক তাপ আটকে রাখার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া — যা পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখে। কিন্তু মানুষের কার্যকলাপে (জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, অরণ্যবিনাশ) GHG-র পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে এই এফেক্ট অতিরিক্ত মাত্রা পেয়েছে — ফলত বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে, যাকে বিশ্বউষ্ণায়ন (Global Warming) বলে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ।

প্লাস্টিক অ-জৈব-অবিয়োজনযোগ্য (Non-biodegradable) — শত শত বছর পরিবেশে থেকে যায়, মাটি-জল দূষণ করে, নালা-নর্দমা আটকায়, সমুদ্রের জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটায়। পোড়ালে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। সমাধান: 3R — Reduce (কমানো), Reuse (পুনর্ব্যবহার), Recycle (পুনঃচক্রায়ন); জৈব-অবিয়োজনযোগ্য প্লাস্টিক (Bioplastic) ব্যবহার; প্লাস্টিক ব্যাগের পরিবর্তে কাগজ বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার।