Chapter 7: অণুজীবের জগৎ (World of Microorganisms)

অণুজীবের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিবিভাগ, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, আদিপ্রাণী, ছত্রাক, শৈবাল, সংক্রমণ ও রোগ, উপকারী অণুজীব, অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, খাদ্য সংরক্ষণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 28 April 2026 Last Update: 31 May 2026
Class 8 Chapter 7 অণুজীবের জগৎ

Chapter 7: অণুজীবের জগৎ (World of Microorganisms)

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 24 MCQ | 7 SAQ | 4 Broad Questions

ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ছত্রাক অ্যান্টিবায়োটিক ভ্যাকসিন নাইট্রোজেন চক্র
🦠

ব্যাকটেরিয়া

প্রোক্যারিওটিক, পেপটিডোগ্লাইক্যান প্রাচীর, কক্কাস/ব্যাসিলাস

🧬

ভাইরাস (Virus)

অকোশীয়, DNA বা RNA, বাধ্যতামূলক পরজীবী

💊

অ্যান্টিবায়োটিক

পেনিসিলিন (1928), স্ট্রেপ্টোমাইসিন — ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

24 টি
1. অণুজীব (Microorganism) কাদের বলা হয়?
ক) ক) যাদের খালি চোখে দেখা যায়
খ) খ) যাদের খালি চোখে দেখা যায় না, অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখতে হয়
গ) গ) সব উদ্ভিদ
ঘ) ঘ) সব প্রাণী
ব্যাখ্যা: অণুজীব (Microorganism/Microbe): যেসব জীব খালি চোখে দেখা যায় না — শুধুমাত্র অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়, তাদের অণুজীব বলে। যেমন — ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া, ছত্রাক, শৈবাল। পৃথিবীর সমস্ত জীবভরের প্রায় 60% ভর অণুজীবের।
2. পৃথিবীতে অণুজীব কত বছর ধরে টিকে আছে?
ক) ক) প্রায় 350 কোটি বছর (3.5 বিলিয়ন)
খ) খ) প্রায় 10 কোটি বছর
গ) গ) প্রায় 1 কোটি বছর
ঘ) ঘ) প্রায় 10 লক্ষ বছর
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর প্রাচীনতম জীব হল অণুজীব — প্রায় 350 কোটি (3.5 বিলিয়ন) বছর ধরে টিকে আছে। এত প্রাচীন অন্য কোনো জীব আজ অবধি টিকে নেই। 1 গ্রাম মাটিতে প্রায় 100 কোটি (1 বিলিয়ন) অণুজীব বাস করে।
3. অণুজীব প্রধানত কয় প্রকার?
ক) ক) 2 প্রকার
খ) খ) 3 প্রকার
গ) গ) 4 প্রকার (ব্যাকটেরিয়া, আদিপ্রাণী, ছত্রাক, শৈবাল)
ঘ) ঘ) 5 প্রকার
ব্যাখ্যা: অণুজীব প্রধানত 4 প্রকার: (i) ব্যাকটেরিয়া (Bacteria — মোনেরা), (ii) আদিপ্রাণী (Protozoa — প্রোটিস্টা), (iii) ছত্রাক (Fungi), (iv) শৈবাল (Algae — প্রোটিস্টা)। এছাড়াও ভাইরাস (Virus) অণুজীববিজ্ঞানের আওতায় পড়ে — যদিও এদের কোশীয় গঠন নেই।
4. ব্যাকটেরিয়ার কোশে কোনটি অনুপস্থিত?
ক) ক) কোশপ্রাচীর
খ) খ) প্রকৃত নিউক্লিয়াস (সুগঠিত নিউক্লিয়াস)
গ) গ) DNA
ঘ) ঘ) রাইবোজোম
ব্যাখ্যা: ব্যাকটেরিয়া প্রোক্যারিওটিক (Prokaryotic) — এদের কোশে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (পর্দা দিয়ে ঘেরা) থাকে না। DNA পেঁচানো অবস্থায় নিউক্লয়েড অঞ্চলে থাকে। পর্দাবদ্ধ অঙ্গাণু (মাইটোকন্ড্রিয়া, লাইসোজোম, প্লাস্টিড, ER, গলজি) কোনোটিই থাকে না। শুধু পর্দাহীন রাইবোজোম (70S) থাকে।
5. ব্যাকটেরিয়ার প্রধান আকৃতি কত ধরনের?
ক) ক) 1 (গোলাকার)
খ) খ) 2 (গোলাকার ও দণ্ডাকার)
গ) গ) 3 (কমা, দণ্ড, গোলাকার)
ঘ) ঘ) 4 (কমা, দণ্ড, গোলাকার, প্যাঁচানো স্প্রিং)
ব্যাখ্যা: ব্যাকটেরিয়ার চারটি প্রধান আকৃতি: (i) কক্কাস (Coccus) — গোলাকার। (ii) ব্যাসিলাস (Bacillus) — দণ্ডাকার। (iii) ভিব্রিও (Vibrio) — কমা-আকৃতি। (iv) স্পাইরিলাম (Spirillum) — প্যাঁচানো স্প্রিং-এর মতো। এরা এককভাবে বা দলবদ্ধভাবে (জোড়া, শৃঙ্খল, স্তূপ) থাকতে পারে।
6. ভাইরাসকে জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী বলা হয় কেন?
ক) ক) আকারে বড়
খ) খ) পোষক কোশের বাইরে জড়ের মতো, ভেতরে জীবের মতো আচরণ করে
গ) গ) সালোকসংশ্লেষ করে
ঘ) ঘ) নিউক্লিয়াস আছে
ব্যাখ্যা: ভাইরাস (Virus) — অকোশীয় (Acellular): কোনো কোশীয় গঠন নেই — নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম, কোশপর্দা কিছুই নেই। শুধু প্রোটিনের খোলকে (ক্যাপসিড) আবদ্ধ নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA বা RNA)। পোষক কোশের বাইরে সম্পূর্ণ জড় (Crystal)-এর মতো — কিন্তু পোষক কোশে প্রবেশ করলে সজীবের মতো সংখ্যাবৃদ্ধি করে। তাই এদের 'জীব ও জড়ের সেতু' বলা হয়।
7. প্রথম ব্যাকটেরিয়া কে পর্যবেক্ষণ করেন?
ক) ক) রবার্ট হুক
খ) খ) লিউয়েনহুক (Leeuwenhoek)
গ) গ) লুই পাস্তুর
ঘ) ঘ) রবার্ট কখ
ব্যাখ্যা: 1674 সালে অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক (Antonie van Leeuwenhoek) নিজের তৈরি অণুবীক্ষণ যন্ত্রে প্রথম ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) জলাতঙ্কের টিকা ও জীবাণু তত্ত্ব (Germ Theory) দেন; জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কখ (Robert Koch) অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা ও কলেরার জীবাণু আবিষ্কার করেন।
8. 'ব্যাকটেরিয়া' (Bacteria) শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
ক) ক) লিউয়েনহুক
খ) খ) লুই পাস্তুর
গ) গ) এহরেনবার্গ (Ehrenberg)
ঘ) ঘ) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা: জার্মান বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান গটফ্রিড এহরেনবার্গ (Ehrenberg) 1828 সালে 'ব্যাকটেরিয়া' (Bacteria) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। বর্তমানে ব্যাকটেরিয়াদের 'মোনেরা' (Monera) গোষ্ঠীভুক্ত করা হয়।
9. দৈ (Yoghurt/Curd) তৈরিতে কোন ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়?
ক) ক) ই. কোলাই
খ) খ) ল্যাকটোব্যাসিলাস (Lactobacillus)
গ) গ) রাইজোবিয়াম
ঘ) ঘ) ক্লস্ট্রিডিয়াম
ব্যাখ্যা: ল্যাকটোব্যাসিলাস (Lactobacillus) — 37°C উষ্ণতায় দুধের ল্যাকটোজ শর্করাকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে (Lactic Acid) রূপান্তরিত করে। এই অ্যাসিড দুধের প্রোটিন (কেসিন) জমাট বাঁধিয়ে দই তৈরি করে এবং টক স্বাদ আনে। ইস্ট (Yeast/Saccharomyces) পাউরুটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
10. প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক (Penicillin) কে আবিষ্কার করেন?
ক) ক) লুই পাস্তুর
খ) খ) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (Alexander Fleming)
গ) গ) এডওয়ার্ড জেনার
ঘ) ঘ) রবার্ট কখ
ব্যাখ্যা: 1928 সালে স্কটিশ বিজ্ঞানী স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (Alexander Fleming) ঘটনাক্রমে প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক — পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কার করেন। তিনি দেখেন, পেনিসিলিয়াম নোটেটাম (Penicillium notatum) নামক ছত্রাক তার আশেপাশের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ব্যাহত করছে। এই ছত্রাক থেকে নিঃসৃত যৌগই পেনিসিলিন।
11. যক্ষ্মা (Tuberculosis/TB) কোন ধরনের অণুজীব ঘটিত রোগ?
ক) ক) ভাইরাস
খ) খ) ব্যাকটেরিয়া
গ) গ) প্রোটোজোয়া
ঘ) ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা: যক্ষ্মা (টিবি) — মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস (Mycobacterium tuberculosis) নামক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত। এটি বায়ুবাহিত — হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। BCG টিকা দ্বারা প্রতিরোধ করা যায়। DOTS পদ্ধতিতে চিকিৎসা হয় (6-9 মাস)।
12. ম্যালেরিয়া (Malaria) কী ধরনের জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট?
ক) ক) ব্যাকটেরিয়া
খ) খ) ভাইরাস
গ) গ) প্রোটোজোয়া (প্লাজমোডিয়াম)
ঘ) ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা: ম্যালেরিয়া — প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) নামক প্রোটোজোয়া (আদিপ্রাণী) দ্বারা সৃষ্ট। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে সংক্রমিত হয়। প্রজাতি: P. vivax, P. falciparum (মারাত্মক), P. malariae, P. ovale। কুইনাইন (সিঙ্কোনা গাছের ছাল থেকে) ও আর্টেমিসিনিন — ওষুধ।
13. AIDS রোগটি কী ধরনের জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট?
ক) ক) ব্যাকটেরিয়া
খ) খ) ভাইরাস (HIV)
গ) গ) প্রোটোজোয়া
ঘ) ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা: AIDS (Acquired Immuno-Deficiency Syndrome) — HIV (Human Immunodeficiency Virus) নামক রেট্রোভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (CD4+ T-lymphocyte) ধ্বংস করে দেয় — ফলে সাধারণ সংক্রমণেও মৃত্যু হতে পারে। যৌন সংসর্গ, রক্ত সঞ্চালন, সংক্রমিত সিরিঞ্জ ও মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে ছড়ায়।
14. জলাতঙ্ক (Rabies/Hydrophobia)-এর টিকা কে আবিষ্কার করেন?
ক) ক) এডওয়ার্ড জেনার
খ) খ) লুই পাস্তুর (Louis Pasteur)
গ) গ) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ঘ) ঘ) রবার্ট কখ
ব্যাখ্যা: ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) 1885 সালে জলাতঙ্ক (Rabies) রোগের টিকা আবিষ্কার করেন। তিনি প্রথম কুকুরের মেরুদণ্ড থেকে দুর্বলীকৃত ভাইরাস প্রস্তুত করে 9 বছর বয়সী জোসেফ মেইস্টার নামক বালককে প্রয়োগ করে সফল হন। পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization) পদ্ধতিও তার নামে।
15. বসন্ত (Smallpox) রোগের টিকা কে আবিষ্কার করেন?
ক) ক) লুই পাস্তুর
খ) খ) এডওয়ার্ড জেনার (Edward Jenner)
গ) গ) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ঘ) ঘ) রবার্ট কখ
ব্যাখ্যা: ইংরেজ চিকিৎসক এডওয়ার্ড জেনার (Edward Jenner) 1796 সালে প্রথম টিকা (Vaccine) আবিষ্কার করেন — গো-বসন্ত (Cowpox) ভাইরাস থেকে বসন্ত (Smallpox) রোগের টিকা। 'Vaccine' শব্দটি ল্যাটিন 'Vacca' (গরু) থেকে এসেছে। 1980 সালে WHO বসন্ত রোগ পৃথিবী থেকে নির্মূল ঘোষণা করে।
16. নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ (Nitrogen Fixation)-এ কোন ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে?
ক) ক) ল্যাকটোব্যাসিলাস
খ) খ) রাইজোবিয়াম (Rhizobium)
গ) গ) ই. কোলাই
ঘ) ঘ) স্ট্যাফাইলোকক্কাস
ব্যাখ্যা: রাইজোবিয়াম (Rhizobium) — শিম্বী জাতীয় উদ্ভিদের (মটর, ছোলা, সয়াবিন) মূলে নডিউল (Root Nodule)-এ বাস করে এবং বাতাসের N₂ কে অ্যামোনিয়াম (NH₄⁺)-এ রূপান্তরিত করে (বায়োলজিক্যাল নাইট্রোজেন ফিক্সেশন)। উদ্ভিদ এই NH₄⁺ ব্যবহার করে। এটি জৈবসার হিসাবে কাজ করে।
17. খাদ্য সংরক্ষণের কোন পদ্ধতিতে দুধ গরম করে দ্রুত ঠান্ডা করা হয়?
ক) ক) ক্যানিং
খ) খ) পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization)
গ) গ) রেফ্রিজারেশন
ঘ) ঘ) সল্টিং
ব্যাখ্যা: পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization): দুধকে 63°C-তে 30 মিনিট (বা 72°C-তে 15 সেকেন্ড — HTST) গরম করে দ্রুত ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া। এতে দুধের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (যক্ষ্মা, টাইফয়েড, ব্রুসেলোসিস) মারা যায়, কিন্তু দুধের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে। লুই পাস্তুর আবিষ্কার করেন।
18. পাট গাছ পচানোর (Retting) জন্য কোন ব্যাকটেরিয়া কাজে লাগে?
ক) ক) রাইজোবিয়াম
খ) খ) ক্লস্ট্রিডিয়াম (পেকটিন ভাঙে)
গ) গ) ল্যাকটোব্যাসিলাস
ঘ) ঘ) নাইট্রোব্যাকটার
ব্যাখ্যা: পাট গাছ কয়েকদিন পুকুরের স্থির জলে ডোবালে জলের ব্যাকটেরিয়া (Clostridium butyricum ইত্যাদি) পাটকাঠির কোশপ্রাচীরের পেকটিন (Pectin) নামক জৈব আঠালো পদার্থকে নষ্ট করে দেয়। ফলে পাটের তন্তুগুলি (Fibre) সহজেই পাটকাঠি থেকে আলাদা করা যায় — একে 'রেটিং' (Retting) বলে।
19. পেনিসিলিন কোন ধরনের অণুজীব থেকে তৈরি হয়?
ক) ক) ব্যাকটেরিয়া
খ) খ) ছত্রাক (Penicillium)
গ) গ) শৈবাল
ঘ) ঘ) ভাইরাস
ব্যাখ্যা: পেনিসিলিন — পেনিসিলিয়াম নোটেটাম (Penicillium notatum) ও পেনিসিলিয়াম ক্রাইসোজেনাম (P. chrysogenum) নামক ছত্রাক (Fungus) থেকে পাওয়া যায়। এটি একটি β-ল্যাক্টাম অ্যান্টিবায়োটিক — ব্যাকটেরিয়ার কোশপ্রাচীর সংশ্লেষণ ব্যাহত করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
20. ভ্যাকসিন (Vaccine) দেহে কী তৈরি করে?
ক) ক) অ্যান্টিবায়োটিক
খ) খ) অ্যান্টিবডি (Antibody) — রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
গ) গ) ভাইরাস
ঘ) ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা: ভ্যাকসিন (Vaccine) — মৃত, দুর্বলীকৃত জীবাণু বা তাদের অংশবিশেষ (অ্যান্টিজেন) দেহে প্রবেশ করানো হয়। এটি প্রকৃত রোগ সৃষ্টি করে না, কিন্তু দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Immune System)-কে উদ্দীপ্ত করে → অ্যান্টিবডি (Antibody) ও স্মৃতিকোশ (Memory Cell) তৈরি হয়। পরে প্রকৃত জীবাণু আক্রমণ করলে আগে থেকেই প্রস্তুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত জীবাণু ধ্বংস করে — রোগ প্রতিরোধ হয়।
21. খাদ্যে ভিনিগার যোগ করে কোন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়?
ক) ক) পাস্তুরাইজেশন
খ) খ) পিকলিং (Pickling)
গ) গ) ক্যানিং
ঘ) ঘ) রেফ্রিজারেশন
ব্যাখ্যা: পিকলিং (Pickling): কাটা আম, লেবু, বাঁধাকপি, পেঁয়াজ — ভিনিগার (অ্যাসিটিক অ্যাসিড), নুন ও তেলে ডুবিয়ে রাখা হয়। অম্লীয় pH (≈4.5) ও উচ্চ লবণাক্ততা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বৃদ্ধি ব্যাহত করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে। ভারতীয় আচার এই পদ্ধতির চমৎকার উদাহরণ।
22. ছত্রাক (Fungi)-এর কোশপ্রাচীর কী দিয়ে গঠিত?
ক) ক) সেলুলোজ
খ) খ) কাইটিন (Chitin)
গ) গ) পেপটিডোগ্লাইক্যান
ঘ) ঘ) লিগনিন
ব্যাখ্যা: ছত্রাকের (Fungi) কোশপ্রাচীর কাইটিন (Chitin) দিয়ে গঠিত — যা পোকামাকড়ের বহিঃকঙ্কালেও পাওয়া যায়। ব্যাকটেরিয়ার প্রাচীর পেপটিডোগ্লাইক্যান (Peptidoglycan/Murein), উদ্ভিদের প্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। ছত্রাক সালোকসংশ্লেষ করতে পারে না — মৃতজীবী (Saprophyte) বা পরজীবী (Parasite)।
23. ইস্ট (Yeast) পাউরুটির মণ্ড ফোলায় কেন?
ক) ক) O₂ উৎপন্ন করে
খ) খ) CO₂ গ্যাস উৎপন্ন করে (ফার্মেন্টেশন)
গ) গ) জলীয় বাষ্প তৈরি করে
ঘ) ঘ) তাপ উৎপন্ন করে
ব্যাখ্যা: ইস্ট (Saccharomyces cerevisiae) — শর্করার অবায়বীয় শ্বসনে (Fermentation) ইথানল ও CO₂ গ্যাস উৎপন্ন করে: C₆H₁₂O₆ → 2C₂H₅OH + 2CO₂↑। পাউরুটির মণ্ডে (ময়দা + চিনি + ইস্ট) উৎপন্ন CO₂ বুদবুদ মণ্ডকে স্পঞ্জের মতো ফুলিয়ে তোলে — রুটি নরম ও ফাঁপা হয়। ইথানল বেক করার সময় বাষ্পীভূত হয়ে যায়।
24. মানবদেহে অণুজীবের উপকারিতা কী?
ক) ক) শুধু রোগ সৃষ্টি করে
খ) খ) অন্ত্রে ভিটামিন B₁₂ ও K সংশ্লেষ করে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে
গ) গ) শুধু ত্বকে থাকে
ঘ) ঘ) কোনো উপকার নেই
ব্যাখ্যা: মানবদেহে বিশেষত অন্ত্রে (Large Intestine) অসংখ্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া (Gut Microbiota) বসবাস করে। এরা: (i) ভিটামিন B₁₂, K, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড সংশ্লেষ করে। (ii) অপাচ্য আঁশ (Fibre) গেঁজিয়ে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড (SCFA) তৈরি করে। (iii) ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি প্রতিহত করে। (iv) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) গঠনে সাহায্য করে।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

7 টি
1. 🦠 অণুজীবের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

উত্তর:

  1. সর্বব্যাপ্ততা: পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র পাওয়া যায় — মরুভূমি, মেরু অঞ্চলের বরফ, উষ্ণ প্রস্রবণ (Hot Spring, 100°C+), গভীর সমুদ্রের hydrothermal vent, এমনকি অন্য জীবদেহের ভিতরেও (মানুষের খাদ্যনালী, উইপোকার অন্ত্র)।
  2. O₂ চাহিদা: অধিকাংশের অক্সিজেন প্রয়োজন — কিন্তু টিটেনাস সৃষ্টিকারী Clostridium tetani-র মতো কিছু ব্যাকটেরিয়া কম O₂ ঘনত্বেও বাঁচতে পারে (অ্যানারোবিক/Facultative Anaerobe)।
  3. আর্দ্রতা: ভেজা জায়গায় এরা খুব ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। শুকনো জায়গায় সংখ্যাবৃদ্ধি কম।
  4. আলোক সংবেদনশীলতা: সরাসরি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে অনেক অণুজীব মারা যায়। তাই অন্ধকারময় জায়গায় এরা তাড়াতাড়ি বাড়ে।
  5. তাপমাত্রা: বেশিরভাগ 25°C-38°C-তে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিছু থার্মোফিলিক (Thermophilic) ব্যাকটেরিয়া 100°C-র কাছাকাছিও বৃদ্ধি পেতে পারে; সাইক্রোফিলিক (Psychrophilic) -10°C-তেও বাঁচে।
  6. পুষ্টি: কেউ মৃতজীবী (Saprophyte — পচা-গলা বস্তু থেকে পুষ্টি), কেউ পরজীবী (Parasite — অন্য জীবদেহ থেকে পুষ্টি), কেউ স্বভোজী (Autotroph — নিজ খাদ্য নিজে তৈরি — যেমন শৈবাল, সায়ানোব্যাকটেরিয়া)।
2. 🦠 ব্যাকটেরিয়া (Bacteria)-র বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব লেখো।

উত্তর:

বৈশিষ্ট্য: (i) প্রোক্যারিওটিক — সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও পর্দাবদ্ধ অঙ্গাণু অনুপস্থিত। (ii) কোশপ্রাচীর পেপটিডোগ্লাইক্যান দিয়ে গঠিত (উদ্ভিদের মতো নয়)। (iii) DNA পেঁচানো বৃত্তাকার — নিউক্লয়েড অঞ্চলে। (iv) একককোশী — ব্যাস 0.5-5 µm। (v) আকৃতি: কক্কাস (গোল), ব্যাসিলাস (দণ্ড), ভিব্রিও (কমা), স্পাইরিলাম (প্যাঁচানো)।

গুরুত্ব — উপকারী: (i) নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ — রাইজোবিয়াম, অ্যাজোটোব্যাকটর। (ii) পাট পচানো (Retting)। (iii) দই, পনির, ভিনিগার, অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন। (iv) বর্জ্য পরিশোধন — মিথেন উৎপাদন (Biogas)। অপকারী: কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা, টিটেনাস, নিউমোনিয়া, ডায়ারিয়া ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি।

3. 🦠 ভাইরাস (Virus) কেন জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী? এর বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী — কারণ: পোষক কোশের বাইরে ভাইরাস সম্পূর্ণ জড় বস্তুর (Crystal) মতো — কোনো বিপাকীয় ক্রিয়া, বৃদ্ধি বা গতি নেই। কিন্তু পোষক কোশের ভেতরে প্রবেশ করলেই সজীবের মতো পোষক কোশের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিজের সংখ্যাবৃদ্ধি (Replication) ঘটায়।

বৈশিষ্ট্য: (i) অকোশীয় (Acellular) — কোনো কোশীয় গঠন নেই। (ii) নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম, কোশপর্দা — কিছুই নেই। (iii) প্রোটিনের আবরণ (ক্যাপসিড/Capsid)-এর মধ্যে শুধু নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA বা RNA — কখনোই দুটো একসাথে নয়)। (iv) বাধ্যতামূলক পরজীবী (Obligate Intracellular Parasite) — জীবন্ত পোষক কোশ ছাড়া বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। (v) ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও বহুগুণ ছোট (20-300 nm)। (vi) রোগ সৃষ্টি: ইনফ্লুয়েঞ্জা, AIDS, পোলিও, হাম, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গু, কোভিড-19, হেপাটাইটিস, বসন্ত।

4. 🦠 অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) ও ভ্যাকসিন (Vaccine)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:

বিষয়অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic)ভ্যাকসিন (Vaccine)
সংজ্ঞাঅণুজীব থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক যৌগ যা অন্য অণুজীবকে মেরে ফেলে বা তার বৃদ্ধি ব্যাহত করেমৃত, দুর্বলীকৃত জীবাণু বা তার অংশবিশেষ যা দেহে প্রবেশ করিয়ে আগাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) গড়ে তোলা হয়
কাজইতোমধ্যে হওয়া সংক্রমণের চিকিৎসা (Curative)ভবিষ্যৎ সংক্রমণ প্রতিরোধ (Preventive/Prophylactic)
কখন দেওয়া হয়রোগ হওয়ার পরেরোগ হওয়ার আগে
কার্যকারিতাব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে; ভাইরাস ও ছত্রাকে কাজ করে নাব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস উভয়ের বিরুদ্ধেই আছে
উদাহরণপেনিসিলিন, স্ট্রেপ্টোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন, অ্যাম্পিসিলিনBCG (যক্ষ্মা), OPV (পোলিও), MMR (হাম-মাম্পস-রুবেলা), DPT (ডিপথেরিয়া-পারটুসিস-টিটেনাস), কোভিড ভ্যাকসিন
5. 🦠 খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

  1. ক্যানিং/প্যাকেজিং (Canning/Vacuum Packing): পাত্র বায়ুশূন্য করে খাদ্য ভরে সিল করা — অক্সিজেন না থাকায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায় না।
  2. রোদে শুকানো (Sun Drying): বাঁধাকপি, আম (আমসত্ত্ব), মাছ — জল শুকিয়ে ফেললে অণুজীব বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
  3. সল্টিং (Salting): মাছ, মাংস, ফলে নুন মাখালে প্লাজমোলাইসিস (Plasmolysis) ঘটে — অণুজীবের কোশ থেকে জল বেরিয়ে মারা যায়।
  4. পিকলিং (Pickling): ভিনিগার (অ্যাসিটিক অ্যাসিড) + নুন + তেল — অম্লীয় pH ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বৃদ্ধি বন্ধ করে। আচার এর উদাহরণ।
  5. চিনি যোগ (Sugaring): জ্যাম, জেলি, মোরব্বা — উচ্চ চিনির ঘনত্ব (Osmotic Pressure) অণুজীবের জল শুষে নেয়।
  6. রেফ্রিজারেশন (Refrigeration): 4°C বা হিমায়িত (-18°C) — নিম্ন তাপমাত্রায় উৎসেচক ক্রিয়া ও ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি থেমে থাকে।
  7. পাস্তুরাইজেশন (Pasteurization): দুধ — 63°C/30 মিনিট বা 72°C/15 সেকেন্ড গরম করে দ্রুত ঠান্ডা করা। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মরে, পুষ্টিগুণ থাকে।
6. 🦠 নাইট্রোজেন চক্রে (Nitrogen Cycle) অণুজীবের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

বায়ুমণ্ডলে 78% N₂ আছে — কিন্তু উদ্ভিদ সরাসরি N₂ গ্রহণ করতে পারে না। অণুজীবের মাধ্যমেই N₂ জৈব-ব্যবহারযোগ্য রূপে পরিণত হয়।

  1. নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ (Nitrogen Fixation): রাইজোবিয়াম (Rhizobium) — শিম্বী উদ্ভিদের মূল নডিউলে; অ্যাজোটোব্যাকটর (Azotobacter), ক্লস্ট্রিডিয়াম — মুক্তজীবী; সায়ানোব্যাকটেরিয়া (Anabaena, Nostoc); N₂ → NH₃/NH₄⁺।
  2. অ্যামোনিফিকেশন (Ammonification): মৃত উদ্ভিদ-প্রাণীর প্রোটিন ও নাইট্রোজেনযুক্ত যৌগ → ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের পচনে → অ্যামোনিয়া (NH₃/NH₄⁺)।
  3. নাইট্রিফিকেশন (Nitrification): নাইট্রোসোমোনাস (Nitrosomonas) — NH₄⁺ → NO₂⁻ (নাইট্রাইট); নাইট্রোব্যাকটার (Nitrobacter) — NO₂⁻ → NO₃⁻ (নাইট্রেট — উদ্ভিদ গ্রহণযোগ্য রূপ)।
  4. ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification): সিউডোমোনাস (Pseudomonas) — NO₃⁻ → N₂↑ (বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেয় — ভারসাম্য বজায়)।
7. 🦠 অণুজীব ঘটিত রোগ, জীবাণুর নাম ও সংক্রমণের মাধ্যমের তালিকা তৈরি করো।

উত্তর:

রোগজীবাণুধরনসংক্রমণ মাধ্যম
কলেরাVibrio choleraeব্যাকটেরিয়াজল, খাদ্য
টাইফয়েডSalmonella typhiব্যাকটেরিয়াজল, খাদ্য
যক্ষ্মা (TB)Mycobacterium tuberculosisব্যাকটেরিয়াবায়ু (হাঁচি-কাশি)
টিটেনাসClostridium tetaniব্যাকটেরিয়াক্ষতস্থান (মাটি/ধূলো)
ম্যালেরিয়াPlasmodiumপ্রোটোজোয়াস্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা
AIDSHIVভাইরাসরক্ত, যৌন সংসর্গ, মাতৃদুগ্ধ
পোলিওPolio Virusভাইরাসজল, খাদ্য (মল-মুখ)
ডেঙ্গুDengue Virusভাইরাসস্ত্রী এডিস মশা
দাদ/হাজাMicrosporum, Trichophytonছত্রাকসরাসরি স্পর্শ, দূষিত বস্তু

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর

4 টি
1. অণুজীব কাকে বলে? অণুজীবের শ্রেণিবিভাগ ও প্রতিটি গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করো।

অণুজীব (Microorganism)

যেসব জীব খালি চোখে দেখা যায় না, শুধুমাত্র অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায় — তাদের অণুজীব বলে। পৃথিবীর প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রাচুর্যপূর্ণ জীবগোষ্ঠী।

প্রধান 4 প্রকার + ভাইরাস:

1. ব্যাকটেরিয়া (Bacteria — Monera): প্রোক্যারিওটিক, এককোশী, সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই, পেপটিডোগ্লাইক্যান প্রাচীর। কক্কাস, ব্যাসিলাস, ভিব্রিও, স্পাইরিলাম। উপকারী (Rhizobium, Lactobacillus) ও অপকারী (Vibrio cholerae)।

2. আদিপ্রাণী (Protozoa — Protista): ইউক্যারিওটিক, এককোশী, পরজীবী বা মুক্তজীবী। চলন অঙ্গ: সিলিয়া (প্যারামিসিয়াম), ফ্ল্যাজেলা (ইউগ্লিনা), ক্ষণপদ (অ্যামিবা)। ম্যালেরিয়া (Plasmodium), অ্যামিবিয়াসিস, কালাজ্বর।

3. ছত্রাক (Fungi): ইউক্যারিওটিক, এককোশী (ইস্ট) বা বহুকোশী (মিউকর, পেনিসিলিয়াম)। কাইটিন নির্মিত প্রাচীর, সালোকসংশ্লেষ অক্ষম। উপকারী: পেনিসিলিন, ইস্ট (পাউরুটি/মদ), মাশরুম। অপকারী: দাদ, হাজা, খাদ্য বিষাক্তকরণ।

4. শৈবাল (Algae — Protista/Plantae): ইউক্যারিওটিক, সালোকসংশ্লেষী, সেলুলোজ প্রাচীর। ক্লোরেলা, ক্ল্যামাইডোমোনাস, স্পাইরোজাইরা। O₂ উৎপাদক, মহাকাশযানে CO₂/O₂ ভারসাম্যে ব্যবহৃত।

5. ভাইরাস (Virus): অকোশীয় — জীব-জড় সেতু। শুধু DNA বা RNA, ক্যাপসিড আবরণ। HIV, Influenza, SARS-CoV-2।

2. মানবদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব — প্রকারভেদ, রোগের নাম, সংক্রমণ মাধ্যম ও প্রতিরোধের উপায় সারণি আকারে আলোচনা করো।
রোগজীবাণু (ধরন)মাধ্যমপ্রতিরোধ/টিকা
কলেরাVibrio cholerae (B)জল, খাদ্যORS, বিশুদ্ধ জল, টিকা
যক্ষ্মাM. tuberculosis (B)বায়ুBCG টিকা, DOTS
টাইফয়েডSalmonella typhi (B)জল, খাদ্যবিশুদ্ধ জল, টিকা
ম্যালেরিয়াPlasmodium (P)মশা (ভেক্টর)মশারি, অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল
পোলিওPolio Virus (V)জল, খাদ্যOPV (পোলিও টিকা)
AIDSHIV (V)রক্ত, যৌনসুরক্ষিত যৌনতা, সচেতনতা
কোভিড-19SARS-CoV-2 (V)বায়ু (ড্রপলেট)মাস্ক, টিকা, দূরত্ব
দাদTrichophyton (F)স্পর্শপরিচ্ছন্নতা, অ্যান্টিফাঙ্গাল

B=ব্যাকটেরিয়া, V=ভাইরাস, P=প্রোটোজোয়া, F=ছত্রাক

3. উপকারী অণুজীব — কৃষি, শিল্প, চিকিৎসা ও পরিবেশে অণুজীবের ভূমিকা উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করো।

উপকারী অণুজীবের ভূমিকা

  1. কৃষি: Rhizobium, Azotobacter — নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ (জৈবসার)। নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া — NH₄⁺ → NO₃⁻। Bacillus thuringiensis (Bt) — জৈব কীটনাশক।
  2. শিল্প (ফার্মেন্টেশন): Lactobacillus — দই, পনির, ইয়োগার্ট। Yeast (Saccharomyces) — পাউরুটি, অ্যালকোহল, বিয়ার। Acetobacter — ভিনিগার। Aspergillus — সাইট্রিক অ্যাসিড, সয়া সস।
  3. চিকিৎসা: Penicillium — পেনিসিলিন (প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক, 1928 — ফ্লেমিং)। Streptomyces — স্ট্রেপ্টোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন, ক্লোরামফেনিকল। ভ্যাকসিন — BCG, DPT, MMR, পোলিও, কোভিড।
  4. পরিবেশ: বর্জ্য পচন ও পরিশোধন — STP-তে ব্যাকটেরিয়া জৈব বর্জ্য ভেঙে ফেলে। Biogas — মিথানোজেন ব্যাকটেরিয়া → CH₄ (রান্নার গ্যাস)। Bioremediation — তেল ছড়িয়ে পড়া (Oil Spill) পরিষ্কারে Pseudomonas।
4. ইমিউনিটি (Immunity) কাকে বলে? ভ্যাকসিন (Vaccine) কীভাবে কাজ করে? অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

ইমিউনিটি (Immunity/অনাক্রম্যতা)

জীবদেহের রোগজীবাণু (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া) ও তাদের নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সামগ্রিক ক্ষমতাকে ইমিউনিটি বা অনাক্রম্যতা বলে।

অ্যান্টিজেন (Antigen) ও অ্যান্টিবডি (Antibody)

জীবাণুর দেহ বা তাদের নিঃসৃত ক্ষতিকারক যৌগ — অ্যান্টিজেন (Antigen) — দেহে প্রবেশ করলে দেহের B-lymphocyte এক বিশেষ প্রোটিন তৈরি করে — অ্যান্টিবডি (Antibody/Immunoglobulin)। অ্যান্টিবডি নির্দিষ্টভাবে অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে তাকে ধ্বংস করে (Lock & Key mechanism)।

ভ্যাকসিন (Vaccine) কীভাবে কাজ করে?

  1. মৃত/দুর্বলীকৃত জীবাণু বা তাদের অ্যান্টিজেন দেহে প্রবেশ করানো হয়।
  2. এটি প্রকৃত রোগ সৃষ্টি করে না, কিন্তু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Immune System) সক্রিয় হয় → অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।
  3. মেমোরি B-cell ও T-cell তৈরি হয় — 'স্মৃতি' ধরে রাখে।
  4. পরে যদি প্রকৃত জীবাণু আক্রমণ করে, এই স্মৃতিকোশগুলি দ্রুত (Secondary Immune Response) বিপুল পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণু ধ্বংস করে — রোগ প্রকাশ পায় না।

মনে রেখো!

অণুজীবের প্রকার: ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া, ছত্রাক, শৈবাল | ব্যাকটেরিয়া: প্রোক্যারিওটিক, রাইজোবিয়াম (N₂ স্থিতিকরণ), ল্যাকটোব্যাসিলাস (দই) | ভাইরাস: অকোশীয়, বাধ্যতামূলক পরজীবী — HIV, Influenza, COVID-19 | অ্যান্টিবায়োটিক: পেনিসিলিন (ফ্লেমিং, 1928) — ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে, ভাইরাসে নয় | ভ্যাকসিন: জেনার (বসন্ত, 1796), পাস্তুর (জলাতঙ্ক, 1885) — রোগ প্রতিরোধ | খাদ্য সংরক্ষণ: পাস্তুরাইজেশন, ক্যানিং, রেফ্রিজারেশন, পিকলিং, সল্টিং

Sponsored Links

Frequently Asked Questions - অণুজীবের জগৎ (Chapter 7)

অণুজীব প্রধানত চার প্রকার: (১) ব্যাকটেরিয়া (Bacteria) — প্রোক্যারিওটিক, এককোশী (যেমন — রাইজোবিয়াম, ল্যাকটোব্যাসিলাস, ভিব্রিও কলেরি)। (২) আদিপ্রাণী (Protozoa) — ইউক্যারিওটিক, এককোশী (যেমন — অ্যামিবা, প্লাজমোডিয়াম, প্যারামিসিয়াম)। (৩) ছত্রাক (Fungi) — ইউক্যারিওটিক, কাইটিন প্রাচীর (যেমন — ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, অ্যাসপারজিলাস)। (৪) শৈবাল (Algae) — ইউক্যারিওটিক, সালোকসংশ্লেষী (যেমন — ক্লোরেলা, স্পাইরোজাইরা, ক্ল্যামাইডোমোনাস)। এছাড়া ভাইরাস (Virus) অকোশীয় অণুজীব — জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী।

অ্যান্টিবায়োটিক: রোগ হওয়ার পরে দেওয়া হয় — ইতোমধ্যে হওয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের চিকিৎসা করে (Curative)। যেমন পেনিসিলিন, অ্যাম্পিসিলিন। এগুলি ভাইরাস বা ছত্রাকে কাজ করে না। ভ্যাকসিন: রোগ হওয়ার আগে দেওয়া হয় — ভবিষ্যৎ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে (Preventive/Prophylactic)। মৃত বা দুর্বলীকৃত জীবাণু দেহে প্রবেশ করিয়ে আগাম ইমিউনিটি (অ্যান্টিবডি + মেমোরি কোশ) গড়ে তোলে। যেমন BCG, পোলিও টিকা, MMR, DPT।

বায়ুমণ্ডলের 78% নাইট্রোজেন (N₂) উদ্ভিদ সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না। অণুজীবের মাধ্যমেই N₂ ব্যবহারযোগ্য রূপে পরিণত হয়: (১) নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ — Rhizobium (শিম্বী মূলে), Azotobacter (মুক্তজীবী) N₂ → NH₄⁺। (২) অ্যামোনিফিকেশন — পচনকারী ব্যাকটেরিয়া মৃত জৈব N → NH₄⁺। (৩) নাইট্রিফিকেশন — Nitrosomonas (NH₄⁺ → NO₂⁻), Nitrobacter (NO₂⁻ → NO₃⁻)। (৪) ডিনাইট্রিফিকেশন — Pseudomonas (NO₃⁻ → N₂) — নাইট্রোজেন আবার বায়ুমণ্ডলে ফেরত যায়।

অণুজীবের (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক) বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ (উষ্ণতা, জল, অক্সিজেন, পুষ্টি, নিরপেক্ষ pH) প্রয়োজন। খাদ্য সংরক্ষণের প্রতিটি পদ্ধতি এই অনুকূল শর্তগুলির কোনো না কোনো একটিকে ব্যাহত করে: পাস্তুরাইজেশন — তাপে ব্যাকটেরিয়া মারা। রেফ্রিজারেশন — নিম্ন তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি থেমে যায়। সল্টিং/সুগারিং — অভিস্রবণ চাপে (Osmotic Pressure) ব্যাকটেরিয়া জল হারিয়ে মরে। পিকলিং — অম্লীয় pH (ভিনিগার) ব্যাকটেরিয়া সহ্য করতে পারে না। ক্যানিং — অক্সিজেনের অভাবে অ্যানারোবিক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিও ব্যাহত।