Chapter 11: আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও উদ্ভিদজগৎ
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 37 MCQ | 11 SAQ | 6 Broad Questions
বাঁশ কচুরিপানা শাল মসলা ওষধি নিম
🎋
বাঁশ
Green Gold, দ্রুততম বর্ধনশীল, মাস্ট ফ্লাওয়ারিং
💧
কচুরিপানা
Invasive to Resource — বায়োরিমিডিয়েশন
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
37 টি1. বাঁশ কী ধরনের উদ্ভিদ?
ক) ক) একবর্ষজীবী
খ) খ) বহুবর্ষজীবী, ফাঁপা কাণ্ডযুক্ত ঘাস
গ) গ) গুল্ম
ঘ) ঘ) লতা
ব্যাখ্যা: বাঁশ (Bamboo) — বাঁশ এক ধরনের বহুবর্ষজীবী, নিটোল পর্ব ও ফাঁপা পর্বমধ্যযুক্ত চিরসবুজ উদ্ভিদ। এটি Poaceae (ঘাস) গোত্রের সদস্য — কাঠের মতো শক্ত হলেও প্রকৃতপক্ষে ঘাস। পৃথিবীর দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদ — প্রতিদিন প্রায় 100 cm পর্যন্ত বাড়তে পারে।
2. কোন কোন বাঁশ কত বছর অন্তর ফুল ফোটে?
ক) ক) প্রতি বছর
খ) খ) 65 বা 120 বছর অন্তর
গ) গ) 5 বছর
ঘ) ঘ) 200 বছর
ব্যাখ্যা: অধিকাংশ বাঁশে অনিয়মিতভাবে ফুল আসে। অনেক বাঁশগাছে 65 বা 120 বছর অন্তর ফুল ফোটে। ফুল ফোটার পরই বাঁশগাছের মৃত্যু হয় — একে 'গ্রেগেরিয়াস ফ্লাওয়ারিং' (Gregarious Flowering) বা 'মাস্ট সিডিং' (Mast Seeding) বলে। Melocanna bambusoides প্রতি 30-35 বছর অন্তর ফুল ফোটায়।
3. বাঁশ ফুল ফোটার পর ইঁদুরের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে কী বিপদ ঘটতে পারে?
ক) ক) শস্য নষ্ট, দুর্ভিক্ষ ও মহামারি (টাইফাস, প্লেগ)
খ) খ) বন্যা
গ) গ) ভূমিকম্প
ঘ) ঘ) সুনামি
ব্যাখ্যা: বাঁশে মাস ফ্লাওয়ারিং ও ফল উৎপাদনের সময় ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর অত্যধিক হারে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে। এরা তখন শস্যক্ষেতের, গুদামের শস্য খেয়ে ও শস্যহানি ঘটিয়ে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে। টাইফাস, প্লেগসহ ইঁদুরবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটিয়ে মহামারি পর্যন্ত হতে পারে।
4. 'তবাসির' (Tabashir) কী - যা বাঁশ থেকে পাওয়া যায়?
ক) ক) কাঠ
খ) খ) ঔষধি সিলিকা যৌগ (হাঁপানি-কাশির ওষুধ)
গ) গ) আঠা
ঘ) ঘ) ফল
ব্যাখ্যা: 'তবাসির' (Tabashir/Bamboo Manna) — Bambusa arundinacea প্রজাতির বাঁশের পর্বসন্ধিতে সিলিকন ডাইঅক্সাইড (SiO₂) ও সিলিসিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ এক ধরনের ঔষধি পদার্থ জমা হয়। এটি হাঁপানি, সর্দিকাশি ও নানা সংক্রামক ব্যাধির আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
5. বাঁশের তন্তুর ব্যাস কত (bamboo fabric-এর জন্য)?
ক) ক) 10 mm
খ) খ) 3 mm-র কম
গ) গ) 1 cm
ঘ) ঘ) 50 mm
ব্যাখ্যা: বাঁশের তন্তুর ব্যাস 3 মিলিমিটারের কম — অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নরম। তাই ইদানীং 'bamboo fabric' (বাঁশ-তন্তুর কাপড়) জামাকাপড় তৈরির কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, আর্দ্রতা শোষক ও পরিবেশবান্ধব।
6. কচুরিপানা কী ধরনের উদ্ভিদ?
ক) ক) জলে ভাসমান বহুবর্ষজীবী
খ) খ) স্থলজ গাছ
গ) গ) মরুজ উদ্ভিদ
ঘ) ঘ) পরজীবী
ব্যাখ্যা: কচুরিপানা (Eichhornia crassipes) — জলে ভাসমান বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। এর পেটিওল (বৃন্ত) স্পঞ্জের মতো ফাঁপা — বায়ুথলি হিসেবে কাজ করে ভাসতে সাহায্য করে। প্রতি গাছে বছরে 1000-এর বেশি বীজ তৈরি হয় এবং মাত্র দুই সপ্তাহে সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।
7. কচুরিপানার অতিবৃদ্ধি কী কী সমস্যা সৃষ্টি করে?
ক) ক) জল চলাচল বন্ধ, O₂ কমে মাছ মরে, মশার বংশবৃদ্ধি
খ) খ) শুধু দেখতে খারাপ লাগে
গ) গ) জল শোধন করে
ঘ) ঘ) কোনো সমস্যা নেই
ব্যাখ্যা: কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণ না করলে পুকুর-হ্রদের জলকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে: (i) জলপ্রবাহ বন্ধ হয়, (ii) সূর্যের আলো জলে প্রবেশ করতে পারে না → অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ ব্যাহত, (iii) জলে O₂-এর মাত্রা কমে → মাছ ও কচ্ছপ মারা যায়, (iv) মশার বংশবৃদ্ধির আদর্শ জায়গা — ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে।
8. কচুরিপানার উপকারী ব্যবহার কী?
ক) ক) পশুখাদ্য, জৈব সার, বায়োগ্যাস উৎপাদন, জল পরিশোধন (বায়োরিমিডিয়েশন)
খ) খ) শুধু জ্বালানি
গ) গ) কোনোটিই নয়
ঘ) ঘ) শুধু ওষুধ
ব্যাখ্যা: কচুরিপানার উপকারী ব্যবহার: (i) পশুখাদ্য (প্রোটিন 10-13%)। (ii) বায়োগ্যাস উৎপাদন (উচ্চ নাইট্রোজেন)। (iii) জৈব সার (কম্পোস্ট)। (iv) ভাসমান বাগান (Floating Garden — বাংলাদেশ)। (v) বায়োরিমিডিয়েশন — ভারী ধাতু (Cd, Cr, Pb, Ni, As) শোষণ করে দূষিত জল পরিশোধন। (vi) কাগজ ও হস্তশিল্পের কাঁচামাল।
9. শালগাছের কাঠের বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ক) নরম ও ভঙ্গুর
খ) খ) শক্ত, টেকসই ও উইপোকা প্রতিরোধী (দরজা-জানালা, আসবাব, নৌকা)
গ) গ) হালকা ও ফাঁপা
ঘ) ঘ) প্লাস্টিকের মতো
ব্যাখ্যা: শালগাছ (Shorea robusta)-এর কাঠ অত্যন্ত শক্ত, টেকসই ও উইপোকা প্রতিরোধী (Termite Resistant)। খুঁটি, আসবাবপত্র, জানালা-দরজার ফ্রেম, পাটাতন, নৌকা, জাহাজের জেটি ও সেতু তৈরিতে ব্যবহৃত। কাটার সময় কাঠের রং হালকা, পরে গাঢ় বাদামি হয় — পলিশ করা যায় না।
10. শালগাছের আঠা (Resin) ও বীজের তেল কী কাজে লাগে?
ক) ক) ধূপ, জুতো পলিশ, বার্নিশ, চকোলেট ও রান্নায়
খ) খ) শুধু জ্বালানি
গ) গ) ওষুধ
ঘ) ঘ) কিছুই না
ব্যাখ্যা: শালগাছের আঠা (Damar Resin) থেকে সুগন্ধযুক্ত ধূপ, কাঠের জোড়ার প্রলেপ, জুতো পলিশ ও বার্নিশ তৈরি হয়। ছাল থেকে ট্যানিন — চামড়া শিল্পে। শালবীজ থেকে নিম্নশ্রেণির তেল — প্রদীপ জ্বালানো, রান্না ও চকোলেট প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। শালপাতা দিয়ে থালা-বাটি, স্টোভ ও জ্বালানি হিসেবে গ্রামাঞ্চলে বহুল ব্যবহৃত।
11. সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল (Pneumatophore) কী কাজ করে?
ক) ক) খাদ্য সঞ্চয়
খ) খ) বাতাস থেকে O₂ গ্রহণ (শ্বাসকার্যে)
গ) গ) জল শোষণ
ঘ) ঘ) ফুল ফোটায়
ব্যাখ্যা: সুন্দরী (Heritiera fomes) গাছের চারপাশের নরম কর্দমাক্ত মাটি থেকে অসংখ্য ছোট ছোট কাঠির মতো শ্বাসমূল (Pneumatophore) বেরিয়ে আসে। প্রথম দিকে এরা নরম থাকলেও পরে শত শত সূচালো কাঠির মতো শক্ত হয়ে যায়। এরা কর্দমাক্ত O₂-স্বল্প মাটি থেকে বাতাসের অক্সিজেন গ্রহণ করে সুন্দরী গাছকে বাঁচিয়ে রাখে।
12. সুন্দরী গাছের কাঠ ও ছালের ব্যবহার কী?
ক) ক) আসবাব, বাড়ি, খুঁটি, জ্বালানি; ছালে ট্যানিন — চামড়া ও রং শিল্পে
খ) খ) শুধু জ্বালানি
গ) গ) ওষুধ
ঘ) ঘ) কোনো ব্যবহার নেই
ব্যাখ্যা: সুন্দরী গাছের কাঠ — আসবাব, বাড়ি ও খুঁটি তৈরিতে এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। গাছের ছালে প্রচুর ট্যানিন (Tannin) থাকে — যা চামড়া ট্যানিং ও রং (Dye) শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এই গাছের প্রাচুর্যের জন্যই বনাঞ্চলটির নাম 'সুন্দরবন' হয়েছে। অতিরিক্ত কাটা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনে আজ সুন্দরী গাছ সংকটাপন্ন।
13. মধ্যযুগে এক পাউন্ড আদার দাম কত ছিল?
ক) ক) 1 টাকা
খ) খ) 1 টা ভেড়ার দামের সমান
গ) গ) 1 পয়সা
ঘ) ঘ) 1000 টাকা
ব্যাখ্যা: মধ্যযুগে (Middle Ages) এক পাউন্ড আদার (Ginger) দাম ছিল 1 টা ভেড়ার দামের সমান! আর গোলমরিচ (Black Pepper) ছিল তখনকার যুগের সবচেয়ে দামি মশলা — একে 'Black Gold' (কালো সোনা) বলা হতো। পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, হল্যান্ড (নেদারল্যান্ড) ও ব্রিটেন প্রায় তিনশো বছর ধরে মশলার দেশগুলোর দখল নেওয়ার জন্য লড়াই চালিয়েছে।
14. গোলমরিচের তীক্ষ্ণ স্বাদের জন্য দায়ী রাসায়নিক যৌগ কোনটি?
ক) ক) ক্যাপসাইসিন
খ) খ) পিপেরাইন (Piperine)
গ) গ) ইউজিনল
ঘ) ঘ) অ্যালিসিন
ব্যাখ্যা: গোলমরিচের (Black Pepper / Piper nigrum) তীক্ষ্ণ স্বাদের জন্য দায়ী যৌগ — পিপেরাইন (Piperine)। এটি একটি অ্যালকালয়েড। হিন্দিভাষী মানুষরা তীক্ষ্ণ স্বাদের জন্যই একে 'কালী মির্চ' বলেন। এছাড়া পিপেরাইন হজমশক্তি বাড়ায়, প্রদাহনাশক (Anti-inflammatory) ও জৈব-উপলভ্যতা বৃদ্ধিকারী (Bioenhancer) হিসেবে কাজ করে।
15. দারচিনি (Cinnamon) গাছের কোন অংশ থেকে মশলা তৈরি হয়?
ক) ক) পাতা
খ) খ) কাণ্ডের ছালের ভেতরের স্তর (Inner Bark)
গ) গ) মূল
ঘ) ঘ) ফুল
ব্যাখ্যা: দারচিনি (Cinnamomum verum/zeylanicum) একটি চিরহরিৎ উদ্ভিদ। এর কাণ্ডের ছালের ভেতরের স্তর (Inner Bark) শুকিয়ে দারচিনি তৈরি হয়। ছালের ধরণের ওপর ভিত্তি করে দু-ধরনের দারচিনি — মোটা ছালের ও পাতলা ছালের। দারচিনির সুগন্ধের জন্য দায়ী যৌগ — সিনামালডিহাইড (Cinnamaldehyde)।
16. রসুনের জীবাণুনাশক ক্ষমতার জন্য দায়ী যৌগ কোনটি?
ক) ক) পিপেরাইন
খ) খ) অ্যালিসিন (Allicin)
গ) গ) ইউজিনল
ঘ) ঘ) সিনামালডিহাইড
ব্যাখ্যা: রসুনে (Allium sativum) থাকা অ্যালিসিন (Allicin) — একটি সালফারঘটিত যৌগ — ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাস প্রতিরোধী (Broad-spectrum Antimicrobial)। রসুন কাটলে বা থেতলে দিলে অ্যালিনেজ উৎসেচক অ্যালিন (Alliin) নামক গন্ধহীন যৌগকে অ্যালিসিনে রূপান্তরিত করে — তখনই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঝাঁঝালো গন্ধ ও স্বাদ তৈরি হয়।
17. নিমগাছের (Neem) কোন অংশগুলি ঔষধি গুণসম্পন্ন?
ক) ক) শুধু পাতা
খ) খ) পাতা, ছাল, বীজ, তেল, মূল — প্রায় সব অংশই
গ) গ) শুধু ফুল
ঘ) ঘ) শুধু ফল
ব্যাখ্যা: নিম (Azadirachta indica) — 'গ্রাম্য ঔষধালয়' (Village Pharmacy) নামে পরিচিত। প্রায় সব অংশই ঔষধি: পাতার রস — চর্মরোগে; বীজ — ভাইরাসজনিত মহামারি ও বাতে; তেল — চুলের স্বাস্থ্য, যকৃৎ সুরক্ষা, রক্ত পরিষ্কারক; ছাল — অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল। নিম তেলে অ্যাজাডিরাকটিন (Azadirachtin) — শক্তিশালী প্রাকৃতিক কীটনাশক।
18. বেলগাছের (Bael) কোন অংশ ঔষধি গুণসম্পন্ন?
ক) ক) ফল (শরবত — আমাশয়, হজমে)
খ) খ) পাতা, ফল, মূলের ছাল — সবই
গ) গ) শুধু কাঠ
ঘ) ঘ) কিছুই নয়
ব্যাখ্যা: বেল (Aegle marmelos) — মাঝারি আকৃতির পর্ণমোচী উদ্ভিদ। ফলের শরবত আমাশয় রোগীদের অন্ত্রের যত্ন নেয়, হজমক্ষমতা বাড়ায়। কাঁচা/আধ-কাঁচা ফল ক্ষুধা ও হজমশক্তি বাড়ায়। পাতা, ফল ও মূলের ছালে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ছোটোনাগপুরের আদিবাসীরা জ্বর হলে বেলগাছের মূলের ছালের ওষুধ খান।
19. তুলসী গাছের (Holy Basil) ঔষধি গুণ কী কী?
ক) ক) শুধু সর্দি-কাশি
খ) খ) সর্দি-কাশি, ব্রঙ্কাইটিস, ইমিউনিটি বুস্টার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল
গ) গ) শুধু জ্বর
ঘ) ঘ) কোনো গুণ নেই
ব্যাখ্যা: তুলসী (Ocimum sanctum/tenuiflorum) — 'ঔষধিদের রানি' (Queen of Herbs)। পাতায় ইউজিনল (Eugenol) — অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিফাঙ্গাল। সর্দি-কাশি, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি — শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগে কার্যকরী। অ্যাডাপ্টোজেন (Adaptogen) — মানসিক চাপ হ্রাস করে। ইমিউনিটি বুস্টার — অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনলিক অ্যাসিড)। আয়ুর্বেদে 'রসায়ন' (Rejuvenator) হিসেবে পরিচিত।
20. অর্জুন গাছের (Arjuna) ছালের প্রধান ঔষধি গুণ কী?
ক) ক) চর্মরোগ
খ) খ) হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ (Cardioprotective)
গ) গ) ডায়াবেটিস
ঘ) ঘ) মাথাব্যথা
ব্যাখ্যা: অর্জুন (Terminalia arjuna) গাছের ছাল — আয়ুর্বেদীয় কার্ডিওটনিক (Cardiotonic)। এতে থাকা ট্যানিন, ট্রাইটারপেনয়েড স্যাপোনিন (Arjunolic Acid), ফ্ল্যাভোনয়েড ও গ্লাইকোসাইড হৃদপেশিকে শক্তিশালী করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, কোলেস্টেরল কমায় এবং এনজাইনা ও হার্ট ফেইলিওরে উপকারী। 'অর্জুনারিষ্ট' — বিখ্যাত আয়ুর্বেদীয় হৃদরোগের ওষুধ।
21. WHO-এর মতে পৃথিবীর কত শতাংশ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসায় ভেষজ ওষুধের ওপর নির্ভরশীল?
ক) ক) 10%
খ) খ) 50%
গ) গ) 80%
ঘ) ঘ) 100%
ব্যাখ্যা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, পৃথিবীর প্রায় 80% মানুষ (বিশেষত উন্নয়নশীল দেশে) তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ঐতিহ্যবাহী ভেষজ ওষুধের ওপর নির্ভর করেন। পৃথিবীতে প্রায় 20,000-এরও বেশি ওষধি গাছের কথা জানা গেছে — যার মধ্যে এশিয়াতেই প্রায় 8,500 প্রজাতি এবং ভারতেই প্রায় 3,500 প্রজাতির ওষধি গাছ আছে।
22. অ্যালোভেরা (Aloe vera/ঘৃতকুমারী)-র প্রধান ব্যবহার কী?
ক) ক) শুধু চুলে
খ) খ) ত্বকের যত্ন (পোড়া, কাটা-ছেঁড়া, রোদে পোড়া), কোষ্ঠকাঠিন্যে, প্রসাধনীতে
গ) গ) শুধু জ্বর
ঘ) ঘ) কিছুই নয়
ব্যাখ্যা: অ্যালোভেরা (Aloe barbadensis miller / ঘৃতকুমারী) — পাতা থেকে প্রাপ্ত স্বচ্ছ জেল (Aloe Gel): ত্বকের পোড়া (Burn), কাটা-ছেঁড়া (Wound), রোদে পোড়া (Sunburn), ব্রণ, সোরিয়াসিসে কার্যকরী। জুস (Aloe Latex — হলুদ রস): কোষ্ঠকাঠিন্যে (Anthraquinone glycosides)। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, ময়েশ্চারাইজিং। কসমেটিকস — ক্রিম, লোশন, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশে বহুল ব্যবহৃত।
23. বাঁশের কোন প্রজাতির পর্বসন্ধিতে 'তবাসির' জমা হয়?
ক) ক) Melocanna bambusoides
খ) খ) Bambusa arundinacea
গ) গ) Dendrocalamus strictus
ঘ) ঘ) Phyllostachys edulis
24. কচুরিপানার বৈজ্ঞানিক নাম কী?
ক) ক) Pistia stratiotes
খ) খ) Eichhornia crassipes
গ) গ) Lemna minor
ঘ) ঘ) Salvinia molesta
25. শালগাছের কাঠ পলিশ করা যায় না কেন?
ক) ক) খুব নরম
খ) খ) কাঠের তন্তু অমসৃণ, রেজিনযুক্ত — পলিশ ধরে না
গ) গ) খুব ভঙ্গুর
ঘ) ঘ) পচে যায়
ব্যাখ্যা: শালগাছের কাঠ পলিশ করার উপযোগী নয় — কারণ কাঠের তন্তু অমসৃণ (Coarse grain) ও এতে প্রাকৃতিক রেজিন (Resin) থাকে যা পলিশ ঠিকমতো ধরতে দেয় না। তবে কাঠ অত্যন্ত শক্ত, টেকসই ও উইপোকা প্রতিরোধী — নির্মাণকাজে ও ভারী আসবাবে অত্যন্ত মূল্যবান।
26. সুন্দরী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
ক) ক) Rhizophora mucronata
খ) খ) Heritiera fomes
গ) গ) Avicennia marina
ঘ) ঘ) Sonneratia apetala
27. গোলমরিচ গাছের আদি নিবাস কোথায়?
ক) ক) চীন
খ) খ) ভারতের পশ্চিমঘাট/মালাবার উপকূল
গ) গ) আফ্রিকা
ঘ) ঘ) ইউরোপ
ব্যাখ্যা: গোলমরিচ (Piper nigrum)-এর আদি নিবাস ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও মালাবার উপকূল (বর্তমান কেরালা)। প্রাচীনকাল থেকে ভারত মশলার দেশ হিসেবে বিখ্যাত — ভাস্কো-দা-গামা 1498 সালে কালিকট (কেরালা) এসেছিলেন মশলার সন্ধানে। ভারত এখনও বিশ্বের বৃহত্তম গোলমরিচ উৎপাদক।
28. দারচিনি গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
ক) ক) Cinnamomum verum
খ) খ) Elettaria cardamomum
গ) গ) Piper nigrum
ঘ) ঘ) Myristica fragrans
29. এলাচের (Cardamom) সুগন্ধের জন্য দায়ী যৌগ কোনটি?
ক) ক) সিনিওল (Cineole/Eucalyptol)
খ) খ) পিপেরাইন
গ) গ) অ্যালিসিন
ঘ) ঘ) ইউজিনল
ব্যাখ্যা: এলাচ (Elettaria cardamomum) — 'মশলার রানি' (Queen of Spices)। এর সুগন্ধের জন্য দায়ী প্রধান যৌগ — 1,8-সিনিওল (Cineole/Eucalyptol) ও α-টেরপিনাইল অ্যাসিটেট। মুখশুদ্ধি, হজমশক্তি বৃদ্ধি, বমিভাব দূর করতে এবং চা, বিরিয়ানি, মিষ্টান্নে স্বাদ ও গন্ধ আনতে ব্যবহৃত। ভারত (কেরালা, সিকিম) ও গুয়াতেমালা প্রধান উৎপাদক।
30. লবঙ্গের (Clove) তেলের প্রধান উপাদান কী?
ক) ক) সিনিওল
খ) খ) ইউজিনল (Eugenol)
গ) গ) পিপেরাইন
ঘ) ঘ) সিনামালডিহাইড
ব্যাখ্যা: লবঙ্গ (Syzygium aromaticum) — শুকনো ফুলের কুঁড়ি। লবঙ্গ তেলের প্রধান উপাদান ইউজিনল (Eugenol, 70-90%) — শক্তিশালী অ্যান্টিসেপটিক ও বেদনানাশক (Analgesic)। দাঁতের ব্যথায় লবঙ্গ তেল বা গোটা লবঙ্গ চিবানো — দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে সাময়িক উপশম দেয়। ইউজিনল ব্যাকটেরিয়ানাশক — মাংস সংরক্ষণেও ব্যবহৃত হয়।
31. আদার (Ginger) ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য দায়ী যৌগ কোনটি?
ক) ক) জিঞ্জেরল (Gingerol)
খ) খ) পিপেরাইন
গ) গ) অ্যালিসিন
ঘ) ঘ) ক্যাপসাইসিন
ব্যাখ্যা: আদা (Zingiber officinale)-র ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য দায়ী যৌগ — জিঞ্জেরল (Gingerol)। আদা শুকালে জিঞ্জেরল ডিহাইড্রেটেড হয়ে শোগাওল (Shogaol)-এ পরিণত হয় — যা আরও বেশি ঝাঁঝালো। আদা বমিভাব, বদহজম, গ্যাস, সর্দি-কাশি এবং প্রদাহনাশক (Anti-inflammatory) হিসেবে কার্যকরী।
32. সুশ্রুত-সংহিতায় কতগুলি ওষধি গাছের কথা উল্লেখ আছে?
ক) ক) 100
খ) খ) প্রায় 700
গ) গ) 2000
ঘ) ঘ) 10000
33. লঙ্কার (Chilli) তীক্ষ্ণতার জন্য দায়ী যৌগ কোনটি?
ক) ক) পিপেরাইন
খ) খ) ক্যাপসাইসিন (Capsaicin)
গ) গ) জিঞ্জেরল
ঘ) ঘ) অ্যালিসিন
ব্যাখ্যা: লঙ্কা/মরিচ (Capsicum annuum/frutescens)-র তীক্ষ্ণতার জন্য দায়ী — ক্যাপসাইসিন (Capsaicin)। এটি TRPV1 রিসেপ্টরে যুক্ত হয়ে 'জ্বলন্ত' অনুভূতি সৃষ্টি করে। স্কোভিল স্কেল (Scoville Scale) দিয়ে তীক্ষ্ণতা মাপা হয়। ক্যাপসাইসিন ক্রিম বাতের ব্যথায় (Arthritis) টপিকাল অ্যানালজেসিক হিসেবে ব্যবহৃত। ভুট জোলোকিয়া (Ghost Pepper) — বিশ্বের অন্যতম তীক্ষ্ণ লঙ্কা।
34. নিম তেলের প্রধান কীটনাশক উপাদান কোনটি?
ক) ক) অ্যালিসিন
খ) খ) অ্যাজাডিরাকটিন (Azadirachtin)
গ) গ) ইউজিনল
ঘ) ঘ) জিঞ্জেরল
ব্যাখ্যা: নিম তেলের প্রধান সক্রিয় উপাদান — অ্যাজাডিরাকটিন (Azadirachtin) — একটি ট্রাইটারপেনয়েড (Limonoid) যৌগ। এটি পোকার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক (Insect Growth Regulator), খাদ্যগ্রহণ প্রতিরোধক (Antifeedant) ও ডিম পাড়া প্রতিরোধক (Oviposition Deterrent) হিসেবে কাজ করে। প্রায় 200 প্রজাতির পোকা নিম-জাতীয় পণ্যে প্রতিহত হয়।
35. আমলকী (Amla)-তে কোন ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে থাকে?
ক) ক) ভিটামিন A
খ) খ) ভিটামিন C
গ) গ) ভিটামিন D
ঘ) ঘ) ভিটামিন B12
ব্যাখ্যা: আমলকী (Phyllanthus emblica/Emblica officinalis) — ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড)-এর প্রাকৃতিক উৎস — প্রতি 100 গ্রামে প্রায় 600-700 mg ভিটামিন C থাকে (কমলালেবুর চেয়ে 10-20 গুণ বেশি)। শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী, চুল ও ত্বকের জন্য উপকারী। ত্রিফলা (Triphala)-র একটি উপাদান। চ্যবনপ্রাশের প্রধান উপাদান।
36. হলুদের (Turmeric) হলুদ রঙের জন্য দায়ী যৌগ কোনটি?
ক) ক) কারকিউমিন (Curcumin)
খ) খ) ক্যাপসাইসিন
গ) গ) পিপেরাইন
ঘ) ঘ) জিঞ্জেরল
ব্যাখ্যা: হলুদ (Curcuma longa)-র হলুদ রঙের জন্য দায়ী — কারকিউমিন (Curcumin) — একটি পলিফেনল (Curcuminoid)। এটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি (COX-2 inhibitor), অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিক্যানসার (in vitro) ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল। পিপেরাইনের (গোলমরিচ) সাথে গ্রহণ করলে কারকিউমিনের জৈব-উপলভ্যতা 2000% পর্যন্ত বেড়ে যায়।
37. ভারতে বর্তমানে কত প্রজাতির ওষধি গাছ নথিভুক্ত হয়েছে?
ক) ক) প্রায় 500
খ) খ) প্রায় 3,500
গ) গ) 10,000
ঘ) ঘ) 50,000
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
11 টি1. 🎋 বাঁশের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার লেখো। (Bamboo Uses)
উত্তর:
- খাদ্য — প্রাণী ও মানুষ: বাঁশের নরম কচি কাণ্ড, গোড়া ও পাতা — পান্ডা, রেড পান্ডা, গরিলা, হাতির প্রধান খাদ্য। কচি বাঁশের অঙ্কুর (Bamboo Shoot) — এশিয়ায় সুস্বাদু খাদ্য। বাঁশের গোড়ায় পোকার লার্ভা — স্থানীয় মানুষের প্রোটিনের উৎস।
- নির্মাণসামগ্রী: ঘরবাড়ি, নদীর ওপর সাঁকো, ভারা (Scaffolding) — দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা।
- হস্তশিল্প ও আসবাব: চুপড়ি, ট্রে, ফুলদানি, ছাতার বাট, বাঁশি, খেলনা, চেয়ার-টেবিল।
- কাগজ শিল্প: বাঁশের তন্তু — কাগজের কাঁচামাল (পাল্প) — ভারত, চীন।
- ঔষধ: Bambusa arundinacea প্রজাতি থেকে 'তবাসির' (Tabashir) — হাঁপানি, সর্দিকাশি, সংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসায়।
- বস্ত্র শিল্প: বাঁশের তন্তু (Bamboo Fabric) — 3 mm-র কম ব্যাসের সূক্ষ্ম তন্তু থেকে নরম, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল জামাকাপড়।
- রান্নার পাত্র: ভাত রান্নার পাত্র (বাঁশের ফাঁপা কাণ্ড) — দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
2. 🎋 বাঁশের 'মাস্ট ফ্লাওয়ারিং' (Masting) কী? এর ফলাফল কী?
উত্তর:
মাস্ট ফ্লাওয়ারিং / গ্রেগেরিয়াস ফ্লাওয়ারিং (Mast Flowering): বহু বছর (65 বা 120 বছর) অন্তর একই প্রজাতির সমস্ত বাঁশগাছ একই সময়ে একসঙ্গে ফুল ফোটায়। বিজ্ঞানীদের মতে — এটি একটি বিবর্তনীয় কৌশল (Predator Satiation Strategy): এত বেশি পরিমাণে বীজ উৎপন্ন হয় যে, শিকারি প্রাণীরা সব বীজ খেতে পারে না — কিছু বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার সুযোগ পায়।
ফলাফল:
- ইঁদুরের বিস্ফোরক বৃদ্ধি: প্রচুর বীজ খেয়ে ইঁদুরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
- শস্যহানি ও দুর্ভিক্ষ: ইঁদুরের দল শস্যক্ষেত ও গুদামের শস্য খেয়ে ফেলে → দুর্ভিক্ষ (Mautam Famine — মিজোরাম, 1958-59)।
- মহামারি: টাইফাস, প্লেগসহ ইঁদুরবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব।
- গণমৃত্যু: ফুল ফোটার পরই বাঁশগাছ মারা যায় → স্থানীয় মানুষ ঘরবাড়ি তৈরির উপকরণ না পেয়ে গৃহহীন হয়। Melocanna bambusoides — 30-35 বছর অন্তর।
3. 💧 কচুরিপানার (Water Hyacinth) উপকারী ও অপকারী দিকগুলি আলোচনা করো।
উত্তর:
অপকারী দিক (Invasive Problem):
- বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিকর আক্রমণাত্মক জলজ আগাছা (Invasive Aquatic Weed) — মাত্র ২ সপ্তাহে সংখ্যা দ্বিগুণ।
- জলের উপরিতল সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে → সূর্যালোক প্রবেশে বাধা → জলে O₂-এর মাত্রা কমে → মাছ, কচ্ছপ মারা যায় (ইউট্রোফিকেশন)।
- জলপ্রবাহ বন্ধ → নৌচলাচল ব্যাহত। 1884 সালে ফ্লোরিডায় 50 kg/m² ঘনত্বে পুরো নদী চলাচলের অযোগ্য হয়েছিল।
- মশা (অ্যানোফিলিস, এডিস) ও শামুকের বংশবৃদ্ধির আদর্শ স্থান → ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, বিলহারজিয়া।
উপকারী দিক (Bio-resource):
- পশুখাদ্য: উচ্চ প্রোটিন (10-13%), নাইট্রোজেন — গবাদি পশু, হাঁস, মাছের খাদ্য।
- বায়োগ্যাস: মিথেন (CH₄) উৎপাদনে চমৎকার সাবস্ট্রেট।
- বায়োরিমিডিয়েশন: ভারী ধাতু (Cd, Cr, Co, Ni, Pb, Hg) ও আর্সেনিক শোষণ করে দূষিত জল পরিশোধন। সোনার খনির সায়ানাইড দূষিত জল শোধন করে।
- কাগজ ও হস্তশিল্প: কাণ্ডের তন্তু — কাগজের পাল্প; ফিলিপিন্স, ভিয়েতনামে বুড়ি, ফার্নিচার।
4. 💧 কচুরিপানা কীভাবে দূষিত জল পরিশোধনে সাহায্য করে?
উত্তর:
কচুরিপানা (Eichhornia crassipes) অত্যন্ত সহনশীল (Hardy) জলজ উদ্ভিদ। এতে ফাইটোরিমিডিয়েশন (Phytoremediation) ক্ষমতা আছে — অর্থাৎ দূষিত জল থেকে বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করে জল পরিশোধন করতে পারে।
- ভারী ধাতু শোষণ: ক্যাডমিয়াম (Cd), ক্রোমিয়াম (Cr), কোবাল্ট (Co), নিকেল (Ni), সিসা (Pb), পারদ (Hg) — শিল্পবর্জ্য থেকে নিঃসৃত এই ধাতুগুলি কচুরিপানার মূল ও কাণ্ডে জমা হয়।
- আর্সেনিক অপসারণ: আর্সেনিকসমৃদ্ধ পানীয় জল থেকে আর্সেনিক শোষণ করে জলকে বিষমুক্ত করে।
- সায়ানাইড শোষণ: সোনার খনি অঞ্চলে জলে নির্গত সায়ানাইড (Cyanide) শোষণ করে জলকে বিষমুক্ত করে।
- নাইট্রিফিকেশন: কচুরিপানার মূলে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণে ও জৈব দূষণ দূরীকরণে ভূমিকা রাখে।
5. 🌲 শালগাছের (Sal Tree) অর্থনৈতিক গুরুত্ব লেখো।
উত্তর:
কাঠ: অত্যন্ত শক্ত, টেকসই, উইপোকা প্রতিরোধী। খুঁটি, আসবাবপত্র, জানালা-দরজার ফ্রেম, পাটাতন, নৌকা, জাহাজের জেটি ও সেতু নির্মাণ। পলিশ করা যায় না — কিন্তু নির্মাণকাজে অপরিহার্য।
পাতা: শালপাতা দিয়ে থালা-বাটি, স্টোভ তৈরি — গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জ্বালানি ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত।
আঠা (Damar Resin): গাছের আঠা থেকে ধূপ, কাঠের জোড়ার প্রলেপ, জুতো পলিশ ও বার্নিশ তৈরি।
ছাল: ট্যানিন (Tannin) — চামড়া ট্যানিং শিল্পে ও রং (Dye) তৈরিতে।
বীজের তেল: নিম্নশ্রেণির তেল — প্রদীপ জ্বালানো, রান্না ও চকোলেট প্রস্তুতিতে।
শালবন ভারতের মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পাওয়া যায়। বাঁধ, হাতি, চিতাবাঘ, ভালুক — এই বনের বাসিন্দা।
6. 🌊 সুন্দরী গাছের বৈশিষ্ট্য, গুরুত্ব ও সংকট আলোচনা করো।
উত্তর:
বৈশিষ্ট্য:
- লবণাম্বু/ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ: সমুদ্রের কাছাকাছি লবণাক্ত জলে জন্মায়।
- শ্বাসমূল (Pneumatophore): নরম মাটি ভেদ করে অসংখ্য সূচালো কাঠির মতো মূল বাতাস থেকে O₂ গ্রহণ করে।
- ঠেসমূল (Stilt Root): কাণ্ডের নীচ থেকে বাঁকাভাবে মাটিতে প্রবেশ করে গাছকে নরম মাটিতে অবলম্বন দেয়।
- পাতা: ওপরের দিক সবুজ ও চকচকে, নীচের দিক হালকা সবুজ। ফল খয়েরি রঙের — ডিমের মতো, প্রতিটিতে ১টি বীজ।
গুরুত্ব: কাঠ — আসবাব, বাড়ি, খুঁটি, জ্বালানি। ছালে ট্যানিন — চামড়া ও রং শিল্পে। এই গাছের প্রাচুর্যের জন্যই বনাঞ্চলটির নাম 'সুন্দরবন'।
সংকট: অতিরিক্ত কাটা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, চিংড়ি ঘেরের জন্য বনভূমি ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি → 'টপ ডাইং' রোগ → সুন্দরী গাছ বিপন্নপ্রায়। বর্তমানে সুন্দরী গাছ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
7. 🌶️ ভারতীয় মশলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব — সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
প্রাচীনকাল: খ্রিস্টপূর্ব 3000 — মিশরীয় পিরামিড বিল্ডারদের রসুন দেওয়া হতো শক্তি ও রোগ প্রতিরোধে। মিশরীয় মমি তৈরিতে দারচিনি ও লবঙ্গ ব্যবহার হতো (অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রিজারভেটিভ)। আরব বণিকরা ভারতীয় মশলার উৎস গোপন রেখে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে একচেটিয়া বাণিজ্য করত — মশলা সোনার চেয়েও দামি ছিল।
আবিষ্কারের যুগ (Age of Discovery): 1498 — ভাস্কো-দা-গামা পর্তুগাল থেকে 24,000 মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের কালিকট (কেরালা) পৌঁছান মশলার সন্ধানে। 2 বছর, 4টি জাহাজ — মাত্র 2টি ফিরেছিল — তবু লাভ হয়েছিল বিনিয়োগের 60 গুণ!
উপনিবেশবাদ: গোলমরিচ (Black Gold) ছিল সবচেয়ে দামি মশলা — মধ্যযুগে 1 পাউন্ড আদার দাম = 1 টা ভেড়া। পর্তুগাল, স্পেন, হল্যান্ড (Dutch East India Company/VOC), ব্রিটেন — প্রায় 300 বছর ধরে মশলার দেশগুলোর (Spice Islands/Moluccas) দখল নেওয়ার জন্য যুদ্ধ চালিয়েছে।
মহামূল্যবানতার কারণ: (i) স্বাদ ও সুগন্ধ। (ii) খাদ্য সংরক্ষণ (রেফ্রিজারেটর ছিল না — লবঙ্গের ইউজিনল, দারচিনির সিনামালডিহাইড — ব্যাকটেরিয়ানাশক)। (iii) ঔষধি গুণ। (iv) মশলার উৎস গোপন — কৃত্রিম দুষ্প্রাপ্যতা (Scarcity)।
8. 🧄 রসুনের (Garlic) ৬টি ঔষধি গুণ লেখো।
উত্তর:
- জীবাণুনাশক (Antimicrobial): অ্যালিসিন (Allicin) — ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও প্রোটোজোয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরী (Broad-spectrum)।
- হৃদরোগ প্রতিরোধক (Cardioprotective): রক্তচাপ কমায় (Mild Hypotensive), LDL কোলেস্টেরল কমায়, রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় (Antiplatelet), স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।
- হজমশক্তি বৃদ্ধি: পাকস্থলীর উৎসেচক নিঃসরণ উৎপাদন উদ্দীপ্ত করে → খাবার হজমে সাহায্য করে। গ্যাস ও পেটফাঁপা দূর করে (Carminative)।
- প্রদাহনাশক (Anti-inflammatory): Diallyl disulfide — আর্থ্রাইটিস ও প্রদাহ হ্রাস।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: S-allyl cysteine — ফ্রি র্যাডিকাল স্ক্যাভেঞ্জার — কোশের জারণজনিত ক্ষতি প্রতিরোধ করে।
- ক্যানসার প্রতিরোধক (Chemopreventive): WHO-র মতে নিয়মিত রসুন খেলে পাকস্থলী ও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। রসুনের অর্গানোসালফার যৌগ কার্সিনোজেন ডিটক্সিফিকেশন এনজাইম সক্রিয় করে।
9. 🌿 নিমগাছের (Neem) বিভিন্ন অংশের ঔষধি ব্যবহার ও গুরুত্ব লেখো।
উত্তর:
নিম (Azadirachta indica) = 'গ্রাম্য ঔষধালয়' (Village Pharmacy):
- পাতার রস: চর্মরোগ — একজিমা, সোরিয়াসিস, রিংওয়ার্ম। রক্ত পরিশোধক। ভাইরাসজনিত মহামারিতে (গুটি বসন্ত, চিকেন পক্স) — পাতার রস পান ও পাতা বিছানো বিছানায় শোয়া।
- নিম তেল: চুলের খুশকি, উকুন নাশ। যকৃতের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, রক্ত পরিষ্কারক। অ্যান্টিসেপটিক — ক্ষতস্থানে প্রয়োগ।
- ছাল ও মূল: কানের ব্যথা, দাঁত ও মাড়ির ব্যথা (নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজা — প্রাকৃতিক টুথব্রাশ + অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল)।
- বাণিজ্যিক ব্যবহার: নিম-ভিত্তিক কীটনাশক (Azadirachtin — 200+ পোকায় কার্যকরী), প্রসাধনী (সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, ক্রিম), জৈব সার (নিম খৈল)।
- অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিভাইরাল: পাতা, তেল ও ছাল — নানা প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে কার্যকরী (বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত)।
10. 🌿 বেলগাছের (Bael/Wood Apple) ঔষধি গুণ ও ব্যবহার লেখো।
উত্তর:
বেল (Aegle marmelos) — আয়ুর্বেদে অত্যন্ত সম্মানিত ফল।
- ফল: পাকা ফলের শরবত — আমাশয় (Dysentery) ও ডায়ারিয়ায় অন্ত্রের যত্ন নেয়, শোষণকারী (Absorbent) হিসেবে কাজ করে। কাঁচা/আধ-কাঁচা ফল — ক্ষুধা ও হজমশক্তি বাড়ায়। দীর্ঘস্থায়ী পেটের অসুখে কার্যকরী।
- পাতা: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে (Hypoglycemic)।
- মূলের ছাল: জ্বর নিরাময়ে আদিবাসী চিকিৎসায় ব্যবহৃত (ছোটোনাগপুর অঞ্চল)।
- অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: পাতা, ফল ও মূলের ছালে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক প্রতিরোধী ক্ষমতা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত।
- বেলপাতা — শিবপূজায় অপরিহার্য (ধর্মীয় গুরুত্ব)।
11. 🌿 তুলসী (Holy Basil) — ৬টি ঔষধি গুণ ও গুরুত্ব লেখো।
উত্তর:
তুলসী (Ocimum sanctum/tenuiflorum) — 'ঔষধিদের রানি' (Queen of Herbs):
- শ্বাসতন্ত্র: সর্দি-কাশি, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি — ইউজিনল (Eugenol) ও সিনিওল (Cineole) — ডিকনজেস্ট্যান্ট ও এক্সপেক্টোর্যান্ট।
- ইমিউনিটি বুস্টার: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনলিক অ্যাসিড) — রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক প্রতিরোধী।
- অ্যাডাপ্টোজেন (Adaptogen): মানসিক চাপ (Stress) ও উদ্বেগ (Anxiety) হ্রাস করে — কর্টিসলের মাত্রা কমায়।
- জ্বর নিরাময়: ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া — প্লেটলেট কাউন্ট বাড়াতে তুলসী পাতার রস কার্যকরী (প্রাথমিক প্রমাণ)।
- হৃদরোগ প্রতিরোধ: কোলেস্টেরল কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর
6 টি1. বাঁশকে 'সবুজ সোনা' (Green Gold) বলা হয় কেন? বাঁশের পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা করো। বাঁশ ফুল ফোটার ঘটনা ও তার ফলাফল বর্ণনা করো।
বাঁশ — সবুজ সোনা (Green Gold)
বাঁশ পৃথিবীর দ্রুততম বর্ধনশীল উদ্ভিদ (প্রতিদিন ~100 cm), বহুবর্ষজীবী ঘাস (Poaceae)। প্রায় 1500 প্রজাতি। পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও নবায়নযোগ্য সম্পদ।
পরিবেশগত গুরুত্ব:
- কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন (Carbon Sequestration) — ক্রান্তীয় বনের চেয়ে 4 গুণ বেশি কার্বন শোষণ।
- মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ — ব্যাপক রাইজোম নেটওয়ার্ক।
- জলস্তর রিচার্জ।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব (8টি ব্যবহার — SAQ 1 দেখুন):
নির্মাণসামগ্রী, কাগজ, বস্ত্র, খাদ্য (Bamboo Shoot), হস্তশিল্প, ওষুধ (Tabashir), পশুখাদ্য, আসবাব।
সাংস্কৃতিক:
বাঁশি (বাঁশের তৈরি বাদ্যযন্ত্র), বাঁশের সাঁকো, নানা উৎসবে বাঁশের ব্যবহার।
মাস্ট ফ্লাওয়ারিং — ফলাফল:
65-120 বছর অন্তর সমগ্র বাঁশবন একসাথে ফুল ফোটায় (Gregarious Flowering), বীজ উৎপাদন করে ও মারা যায়। ইঁদুরের বিস্ফোরক বৃদ্ধি → শস্যহানি ও দুর্ভিক্ষ (Mautam Famine, মিজোরাম 1958-59) → টাইফাস, প্লেগ মহামারি। স্থানীয় মানুষ ঘরবাড়ি তৈরির উপকরণ না পেয়ে গৃহহীন → অর্থনৈতিক বিপর্যয়।
2. কচুরিপানা (Water Hyacinth) — বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর জলজ আগাছা থেকে সম্পদ (Wealth from Waste) — এ রূপান্তরের সম্ভাবনাগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
সমস্যা — 'বিউটি অফ বেঙ্গল' থেকে 'টেরর অফ বেঙ্গল'
দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অববাহিকা থেকে ১৮৮৪ সালে ফ্লোরিডায় শোভাবর্ধক হিসেবে আনা হয়। মাত্র ২ সপ্তাহে সংখ্যা দ্বিগুণ → ১ গাছ থেকে ১ বছরে ৪৮০০ গাছ। জলপৃষ্ঠ সম্পূর্ণ ঢেকে → নৌচলাচল বন্ধ, মাছ মারা যায়, মশার প্রজননস্থল → ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু।
সম্পদ (Bio-resource) — দারিদ্র্য দূরীকরণ:
- পশুখাদ্য: উচ্চ প্রোটিন (10-13%) — সাইলেজ হিসেবে গবাদিপশুর খাদ্য।
- জৈব সার ও কম্পোস্ট: NPK সমৃদ্ধ — রাসায়নিক সারের বিকল্প।
- বায়োগ্যাস: ১ হেক্টর কচুরিপানা থেকে বছরে ~৭০,০০০ m³ বায়োগ্যাস → রান্নার জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন।
- বায়োরিমিডিয়েশন: ভারী ধাতু (Pb, Cd, Cr, As, Hg), সায়ানাইড, রঞ্জক দ্রব্য — দূষিত জল পরিশোধন।
- হস্তশিল্প ও কাগজ: ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ায় — ব্যাগ, টুপি, পাপোশ, ফার্নিচার। কাগজের কাঁচামাল (পাল্প)।
- মাশরুম চাষ: কচুরিপানার শুকনো গুঁড়ো — মাশরুম সাবস্ট্রেট।
টেকসই দৃষ্টিভঙ্গি:
সম্পূর্ণ নির্মূল নয় — বরং 'সম্পদ-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা' (Resource-based Management)। বর্জ্য থেকে সম্পদ (Waste to Wealth) ধারণা — দারিদ্র্য দূরীকরণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ একই সাথে।
3. ভারতীয় মশলার ইতিহাস — মসলা বাণিজ্য, উপনিবেশবাদ ও বিশ্ব রাজনীতিতে মশলার প্রভাব বিস্তারিত আলোচনা করো। ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় মশলার নাম, ব্যবহার ও রাসায়নিক উপাদান উল্লেখ করো।
মশলার ইতিহাস — বিশ্ব বদলের গল্প
প্রাচীন যুগ: মিশরীয় (3000 BCE) — রসুন, পেঁয়াজ (পিরামিড নির্মাতাদের শক্তি ও স্বাস্থ্যের জন্য)। মমি তৈরি — দারচিনি, লবঙ্গ (অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রিজারভেটিভ)। আরব বণিক — ভারত-মিশর-ইউরোপ বাণিজ্য — উৎস গোপন রেখে একচেটিয়া ব্যবসা।
আবিষ্কারের যুগ: ক্রিস্টোফার কলম্বাস (1492) — আমেরিকা 'আবিষ্কার' করেছিলেন আসলে ভারতে মশলার সংক্ষিপ্ত পথ খুঁজতে গিয়ে। ভাস্কো-দা-গামা (1498) — পর্তুগাল থেকে 24,000 মাইল পাড়ি দিয়ে কালিকট (কেরালা) — 60 গুণ লাভ!
উপনিবেশবাদ ও একচেটিয়া বাণিজ্য: পর্তুগাল, স্পেন, হল্যান্ড (VOC — ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি), ব্রিটেন (ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি) — মোলুক্কাস (Spice Islands) দখলের যুদ্ধ। গোলমরিচ = 'ব্ল্যাক গোল্ড'। ১ পাউন্ড আদা = ১ ভেড়া। লবঙ্গ গাছ কেটে একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ (ডাচ)।
৫টি গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় মশলা:
| মশলা | উদ্ভিদ অংশ | রাসায়নিক যৌগ | ব্যবহার |
|---|
| গোলমরিচ | ফল (শুকনো) | পিপেরাইন | তীক্ষ্ণ স্বাদ, হজম, বায়োএনহ্যান্সার |
| দারচিনি | ছাল (Inner Bark) | সিনামালডিহাইড | সুগন্ধ, ডায়াবেটিস, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল |
| এলাচ | ফল (বীজ) | সিনিওল | 'মশলার রানি', মুখশুদ্ধি, চা |
| লবঙ্গ | ফুলের কুঁড়ি | ইউজিনল | দাঁতের ব্যথা, অ্যান্টিসেপটিক |
| হলুদ | রাইজোম | কারকিউমিন | রং, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট |
4. নিম গাছকে (Neem) 'গ্রাম্য ঔষধালয়' (Village Pharmacy) বলা হয় কেন? নিমের বিভিন্ন অংশের ব্যবহার, রাসায়নিক উপাদান ও পরিবেশগত গুরুত্ব আলোচনা করো।
নিম (Azadirachta indica) — গ্রাম্য ঔষধালয়
প্রায় 4000 বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে নিমের ঔষধি ব্যবহার নথিভুক্ত। গাছটির প্রায় প্রতিটি অংশ — পাতা, ছাল, বীজ, তেল, ফুল, মূল — ঔষধি গুণসম্পন্ন।
প্রধান রাসায়নিক উপাদান:
- অ্যাজাডিরাকটিন (Azadirachtin): বীজ ও তেলে — শক্তিশালী প্রাকৃতিক কীটনাশক (Insect Growth Regulator — 200+ পোকায় কার্যকরী)।
- নিম্বিন (Nimbin), নিম্বিডিন (Nimbidin): তিক্ত স্বাদের ট্রাইটারপেনয়েড — প্রদাহনাশক (Anti-inflammatory)।
- কোয়ারসেটিন (Quercetin): পাতায় — অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
ব্যবহার:
- পাতার রস — চর্মরোগ, রক্ত পরিশোধক; গুটি বসন্ত, চিকেন পক্সে পাতা বিছিয়ে শোয়া।
- নিম তেল — খুশকি, উকুন; যকৃতের যত্ন; অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম।
- কীটনাশক — রাসায়নিক কীটনাশকের প্রাকৃতিক, জৈব-অবিয়োজনযোগ্য (Biodegradable) বিকল্প।
- প্রসাধনী — সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, ফেসওয়াশ।
- জৈব সার — নিম খৈল (নিম বীজ থেকে তেল বের করার পর অবশিষ্টাংশ) — মাটিতে ইউরিয়া-সাশ্রয়ী ও পোকা প্রতিরোধী।
পরিবেশগত গুরুত্ব:
খরা সহনশীল (Drought-resistant) — মরুভূমিকরণ রোধে। কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন। প্রাকৃতিক বায়ুপরিশোধক (Phytoremediation)। পাখি, কাঠবিড়ালী, মৌমাছির আবাস ও খাদ্যের উৎস। UN: 'Tree of the 21st Century' (UNEP, 1992)।
5. ভারতের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ওষধি গাছের (Medicinal Plants) নাম, ব্যবহার, সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান ও বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
৫টি গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় ওষধি গাছ
| গাছ | বৈজ্ঞানিক নাম | সক্রিয় যৌগ | প্রধান ব্যবহার | বৈজ্ঞানিক প্রমাণ |
|---|
| নিম | Azadirachta indica | Azadirachtin, Nimbin | চর্মরোগ, কীটনাশক, ডেন্টাল কেয়ার | Broad-spectrum antimicrobial, Insecticidal (US EPA) |
| তুলসী | Ocimum sanctum | Eugenol, Ursolic acid, Rosmarinic acid | সর্দি-কাশি, ইমিউনিটি, স্ট্রেস | Adaptogenic, Immunomodulatory (J. Ethnopharmacology) |
| হলুদ | Curcuma longa | Curcumin | প্রদাহ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্ষত নিরাময় | COX-2 inhibition, Phase III clinical trials for cancer |
| আমলকী | Phyllanthus emblica | Vitamin C, Polyphenols, Tannins | ইমিউনিটি, চুল, ত্বক, ডায়াবেটিস | Hepatoprotective, Radioprotective (Preclinical) |
| অশ্বগন্ধা | Withania somnifera | Withaferin A, Withanolides | শক্তি বৃদ্ধি, স্ট্রেস, অনিদ্রা | Adaptogen, Cortisol-lowering (RCTs) |
WHO ও ভারত সরকারের উদ্যোগ:
Ayush মন্ত্রক (2014), Traditional Knowledge Digital Library (TKDL — 2001) — 2.5 লক্ষ ফর্মুলেশন ডিজিটালাইজড — পেটেন্ট চুরি রোধ। National Medicinal Plants Board (NMPB) — ঔষধি গাছের চাষ ও বাণিজ্যিকীকরণ। ফার্মাকোপিয়া কমিশন — স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল।
6. সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ (সুন্দরী, গরান, কেওড়া)-র বৈশিষ্ট্য, অভিযোজন ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করো।
সুন্দরী (Heritiera fomes):
- শ্বাসমূল (Pneumatophore), ঠেসমূল — নরম কর্দমাক্ত মাটিতে অবলম্বন।
- কাঠ: আসবাব, বাড়ি, খুঁটি, জ্বালানি। ছাল: ট্যানিন।
- এই গাছের প্রাচুর্যের জন্যই 'সুন্দরবন' নামকরণ। সংকটাপন্ন — 'টপ ডাইং' রোগ।
গরান (Ceriops decandra/tagal):
- খাটো গাছ, ঠেসমূল সুগঠিত — জোয়ারের টানের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকে।
- ছাল — ট্যানিন সমৃদ্ধ। কাঠ — জ্বালানি, নির্মাণ।
- ভিভিপ্যারি — ফলে মাতৃগাছেই অঙ্কুরোদগম।
কেওড়া (Sonneratia apetala):
- শ্বাসমূল সুগঠিত — বাতাস থেকে O₂ গ্রহণ।
- ফল ভোজ্য ও টক-মিষ্টি স্বাদের। কাঠ — পেনসিল, দেশলাই, প্যাকিং বাক্স।
- সুন্দরবনের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ম্যানগ্রোভ উপকূলীয় ভূমি-গঠনে (Land-building) গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিক অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
মধু (মৌয়াল সম্প্রদায় — ~2,000 মেট্রিক টন/বছর), কাঠ, জ্বালানি, গোলপাতা (ছাউনি), কাঁকড়া, মাছ, চিংড়ি সংগ্রহ। ইকো-ট্যুরিজম (সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ~4.5 মিলিয়ন মানুষের জীবিকা)। সাইক্লোন ও সুনামির ধাক্কা থেকে অভ্যন্তরীণ ভূমি রক্ষা। Blue Carbon — জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রেখো!
বাঁশ: Green Gold, 65/120 বছরে ফুল, Tabashir | কচুরিপানা: 2 সপ্তাহে দ্বিগুণ, বায়োরিমিডিয়েশন | শাল: Termite-proof কাঠ, Damar রেজিন | সুন্দরী: Pneumatophore, সুন্দরবন নামের উৎস, সংকটাপন্ন | গোলমরিচ: Black Gold, Piperine | নিম: UNEP Tree of 21st Century, Azadirachtin