এক ভুতুড়ে কাণ্ড

শিবরাম চক্রবর্তী রচিত 'এক ভুতুড়ে কাণ্ড' গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | ষষ্ঠ শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 November 2025 Last Update: 03 June 2026

👻 এক ভুতুড়ে কাণ্ড

শিবরাম চক্রবর্তী গল্প

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • ষোড়শ পাঠ • গল্প

ভুতুড়ে কাহিনী রম্যরচনা সাইকেল যাত্রা রাতের অ্যাডভেঞ্চার হাসির গল্প

শিবরাম চক্রবর্তী (১৯০৩-১৯৮০)

বাংলা রম্যরচনা ও মজার গল্পের অগ্রগণ্য লেখক। পোশাকি নাম চঞ্চল, কিন্তু লেখার ক্ষেত্রে শিবরাম নামেই পরিচিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য বই: 'বাড়ি থেকে পালিয়ে', 'হাসির চেক্কা', 'হর্ববর্ণন ও গোবর্ণন', 'মক্ষ্বা বনাম পশ্চিতেরি', 'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা'। তাঁর লেখার বৈশিষ্ট্য হলো অতি সাধারণ ঘটনাকে হাস্যরসাত্মক ও কল্পনাপ্রবণ দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা।

📖

গল্প

এক ভুতুড়ে কাণ্ড

✍️

লেখক

শিবরাম চক্রবর্তী

🎨

ধরন

রম্যরচনা (হাসির গল্প)

📚

পাঠ

ষোড়শ পাঠ (সাহিত্য মেলা)

গল্পের সারাংশ ও মূলভাব

সারাংশ: "এক ভুতুড়ে কাণ্ড" গল্পে লেখক এক অদ্ভুত রাতের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তিনি সাইকেলে করে কোথাও যাচ্ছিলেন। রাতের অন্ধকারে, কুয়াশার মধ্যে, নির্জন পথে একা চলতে চলতে হঠাৎ তাঁর সাইকেলের টায়ার ফেঁসে যায়। এই বিপদের সময় তিনি ভাবতে থাকেন যে, এ যেন গল্পের বইয়ের মতোই এক ভুতুড়ে পরিস্থিতি। তিনি সাহায্যের আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন। কুয়াশা আর চাঁদের আবছা আলোয় রাতটা ক্রমশ রহস্যময় হয়ে ওঠে। শেষপর্যন্ত অদ্ভুতভাবে একটি গাড়ি এসে পৌঁছায়—যেটি আদতে একটি ভূতুড়ে গাড়ি নয়, বরং একটি বাস্তব গাড়ি যা থেকে এক ভদ্রলোক নেমে এসে তাঁর গাড়ির সাহায্য প্রার্থনা করেন! ঘটনার আকস্মিকতা ও হাস্যকর পরিণতি গল্পটিকে করে তুলেছে অসাধারণ এক রম্যরচনা।

কেন্দ্রীয় চেতনা: কল্পনা আর বাস্তবের মিশেলে শিবরাম চক্রবর্তী দেখিয়েছেন কীভাবে ভয় আর কৌতুক একসঙ্গে কাজ করে। গল্পটি আমাদের শেখায়, অনেক সময় আমাদের মনের ভয়ই পরিস্থিতিকে ভুতুড়ে করে তোলে, অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির মাধ্যমেই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়।

১. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও

২ টি
১.১ শিবরাম চক্রবর্তীর পোশাকি নাম কী?
শিবরাম চক্রবর্তীর পোশাকি নাম ছিল চঞ্চল, কিন্তু লেখার ক্ষেত্রে তিনি শিবরাম নামেই পরিচিত।
১.২ তাঁর লেখা দুটি বিখ্যাত বইয়ের নাম লেখো।
শিবরাম চক্রবর্তীর দুটি বিখ্যাত বই হলো: \'বাড়ি থেকে পালিয়ে\' এবং \'হাসির চেক্কা\'। এছাড়াও \'হর্ববর্ণন ও গোবর্ণন\', \'মক্ষ্বা বনাম পশ্চিতেরি\', \'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা\' তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

২. নীচের বাক্যগুলি কী ধরনের (সরল/যৌগিক/জটিল) তা নির্ধারণ করো

বাক্যধরন
২.১ ভুত বলে কিছু আছে?সরল বাক্য
২.২ যেখানে ভয় সেখানেই সাইকেলের টায়ার ফাঁসে।জটিল বাক্য (যেখানে-সেখানেই সংযোগে)
২.৩ একটা পরমৈশ্বর্যদী সাইকেল হাতে পেয়ে হুড়ুর দিকে পাড়ি জমিয়েছিলাম কিন্তু মাইল সাতেক না যেতে যেতেই তার একটা টায়ার ফেঁসে গেল।যৌগিক বাক্য (কিন্তু দ্বারা যুক্ত)
২.৪ আমার টর্চ বাতিটা জ্বালিয়ে নিয়ে প্রাণপণে পোঁ-পোঁ করতে লাগলাম।সরল বাক্য
২.৫ যেখানটায় জুইভার থাকবার কথা সেখানে কেউ নেই।জটিল বাক্য (যেখানটায়-সেখানে সংযোগে)

৩. নীচের বাক্যগুলিতে কী কী অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে লেখো

বাক্যঅনুসর্গ
৩.১ সাইকেল করে যেতে হলই হয়েছে।করে
৩.২ কয়েক মিনিট বাদে সেখান থেকে নামলাম।বাদে, থেকে
৩.৩ তার চেয়ে বাঘের পেটের মধ্যে দিয়ে স্বর্গ যাওয়া শ্রেয়।চেয়ে, মধ্যে, দিয়ে
৩.৪ আপনা থেকেই আমার মুখ দিয়েই বেরিয়ে গেল।থেকেই, দিয়েই

৪. নীচের বাক্যগুলিকে কর্তাখণ্ড ও ক্রিয়াখণ্ডে ভাগ করো

বাক্যকর্তাখণ্ডক্রিয়াখণ্ড
৪.১ আসতে আসতে গাড়িটা আমার সামনে এসে পড়ল।গাড়িটাআসতে আসতে আমার সামনে এসে পড়ল
৪.২ দরজার হাতল ঘুরিয়ে চুপ করে পড়লাম ভিতরে।(আমি - ঊহ্য)দরজার হাতল ঘুরিয়ে চুপ করে পড়লাম ভিতরে
৪.৩ চিরদিনই আমি আশাবাদী।আমিচিরদিনই আশাবাদী
৪.৪ এগিয়ে এসে বললেন ভদ্রলোক।ভদ্রলোকএগিয়ে এসে বললেন

৫. নীচের বাক্যগুলির মধ্যে থেকে সম্বন্ধপদ খুঁজে নিয়ে বিশ্লেষণ করো

বাক্যসম্বন্ধপদবিশ্লেষণ
৫.১ কিন্তু গাড়িটার থামবার কোনো লক্ষণ নেই।গাড়িটার থামবারথামবার সঙ্গে গাড়িটার সম্বন্ধ
৫.২ আমার পাশ কাটিয়ে যাবার লক্ষণ দেখে আমি মরিয়া হয়ে উঠলাম।আমার পাশ কাটিয়েপাশ কাটানোর সঙ্গে আমার সম্বন্ধ
৫.৩ শেষপর্যন্ত আসতে আসতে আসল গাড়িটা।—এ বাক্যে সম্বন্ধপদ নেই
৫.৪ কাল সকালে উদ্ধার করা যাবে।—এ বাক্যে সম্বন্ধপদ নেই

শব্দার্থ

গল্পের কঠিন শব্দ
শব্দঅর্থ
দরাজব্যাপ্ত, বিস্তৃত
পরমৈশ্বর্যদীএখানে 'অন্যের' বুঝানো হয়েছে (ব্যঙ্গাত্মক)
পাতেতুলনা, প্রতিযোগিতা
মানসপটমনের মধ্যে, কল্পনায়
অবশ্যম্ভাবীযা নিশ্চয় হবে
বিবি-অসিনঅসিন কোম্পানির ছোট গাড়ি
উইকিদুষ্ট ও ক্ষতিকর
শ্রেয়ভালো, উত্তম
সর্বস্বান্তসব কিছু হারানো

৬. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও

৬.১ \'সাইকেল করে যেতে হলই হয়েছে।\' — লেখকের গন্তব্য কোথায়? সাইকেল করে যাওয়ার প্রসঙ্গ এখানে কেন?
উত্তর: লেখকের গন্তব্য ছিল রাঁচি। তিনি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কাজে সাইকেল করে রওনা দিয়েছিলেন। সাইকেল করে যাওয়ার প্রসঙ্গটি গল্পের মূল ঘটনার সূত্রপাত করে—কারণ পথে সাইকেলের টায়ার ফেঁসে যাওয়াতেই সমস্ত ভুতুড়ে অভিজ্ঞতার শুরু। লেখকের একাকী রাতের পথে সাইকেল চালানো থেকেই কাহিনীর রহস্যময়তা ও হাস্যরসের জন্ম হয়েছে।
৬.২ \'যেখানে ভয় সেখানেই সেথ হয়\' — প্রবাদটির মর্মার্থ কী? একই ভাব বোঝাতে আরেকটি প্রবাদ উল্লেখ করো।
উত্তর: প্রবাদটির মর্মার্থ হলো—আমরা যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভাবি বা চিন্তা করি, সেই বিপদটাই যেন বাস্তবে ঘটে। একই ভাব বোঝাতে আরেকটি প্রবাদ হলো: \'যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়\' অথবা \'যত ভাবনা তত বিপদ\'।
৬.৩ \'চিরদিনই আমি আশাবাদী\' — এই আশাবাদের গুণে লেখক কীভাবে পুরস্কৃত হলেন?
উত্তর: লেখক চিরদিনই আশাবাদী ছিলেন যে, সমস্যার সমাধান কিছু না কিছু একটা ঘটবেই। এই আশাবাদের ফলেই তিনি রাতের নির্জন পথে অপেক্ষা করতে পেরেছিলেন এবং শেষপর্যন্ত একটি গাড়ির দেখা পান। যদিও গাড়িটি প্রথমে থামেনি, তবু শেষমেশ সাহায্য এসেছিল। তাঁর ধৈর্য ও আশাবাদী মনোভাবই তাঁকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিল।

৭. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো

৭.১ \'অনর্থক করল চট করে আর নজর করে টচর করা\' — কোন ঘটনা প্রসঙ্গে উক্তিটির অবতারণা? \'চট\' আর \'টচর\' শব্দের প্রয়োগে যে শব্দ নিয়ে খেলা হয়েছে, গল্প থেকে খুঁজে এমন কয়েকটি উদাহরণ দাও। তুমি নিজে এ জাতীয় কয়েকটি বাক্য লেখো।
উত্তর: লেখক যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে টর্চ জ্বালিয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করছিলেন, একটি গাড়ি এসে না থেমেই চলে যায়। তখনই লেখক এই উক্তিটি করেন—অর্থাৎ বৃথাই চট করে টর্চ নাড়লেন, কোনো লাভ হলো না।

শব্দ নিয়ে খেলা: এখানে \'চট\' ও \'টচর\' একই বর্ণগুলি উল্টো করে ব্যবহার করা হয়েছে। গল্পে আরও এমন উদাহরণ: \'হব-হব\' (সামনে-পিছনে), \'মক্ষ্বা বনাম পশ্চিতেরি\' (বইয়ের নামে), \'হর্ববর্ণন ও গোবর্ণন\'।

নিজের তৈরি বাক্য:
• \'তোর কাজটা কর, আর কর্কশ বচন বলিস না।\'
• \'বকশো না, শব করো কাজ।\'
• \'টকটক করে কথা বলো না, কটকটে স্বভাবে কাজ নেই।\'
৭.২ গল্প অনুসরণে সেই নিজ বনপথে লেখকের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
উত্তর: লেখক এক ভুতুড়ে রাতে সাইকেল নিয়ে নির্জন পথে রাঁচির দিকে যাচ্ছিলেন। চারিদিকে কুয়াশার চাদর, আকাশে আবছা চাঁদের আলো। হঠাৎ সাইকেলের টায়ার ফেঁসে যায়। তিনি একা, অন্ধকারে, সাহায্যের কোনো আশা নেই। টর্চ জ্বালিয়ে গাড়ি থামানোর বৃথা চেষ্টা করেন। কুয়াশা ক্রমশ ঘন হয়, তিনি শুনতে পান আজব সব শব্দ। হঠাৎ একটা গাড়ি আসে, কিন্তু না থেমেই চলে যায়! শেষে এক ভদ্রলোকের \'বিবি-অসিন\' গাড়ি এসে থামে—কিন্তু দেখা যায়, উল্টে সেই ভদ্রলোকই সাহায্য প্রার্থী! গাড়ি ঠেলতে হবে! সম্পূর্ণ ভুতুড়ে আবহের বিপরীতে এ এক নিখাদ হাসির পরিণতি।
৭.৩ \'বাঘের দৃষ্টিভঙ্গি ওরকম উদার হতে পারে না।\' — কোন উদার দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলা হয়েছে? লেখকের কাছে সেই \'দৃষ্টিভঙ্গি\' কতটা উদারতা নিয়ে এসেছিল, তা বিশ্লেষণ করে দাও।
উত্তর: \'উদার দৃষ্টিভঙ্গি\' বলতে গাড়ির হেডলাইটের আলোকে বোঝানো হয়েছে, যা দু\'দিকের চোখের (হেডলাইট) মতো ফাঁক ফাঁক হয়ে কুয়াশা ভেদ করে আসছিল। বাঘের মতো হিংস্র প্রাণীর চোখ কখনোই এতটা উদার বা প্রশস্ত হয় না—বরং তা হয় তীক্ষ্ণ ও সংকীর্ণ।

লেখকের কাছে এই \'উদারতা\' প্রথমে আশার সঞ্চার করেছিল। ভেবেছিলেন বুঝি কোনো গাড়ি এসে তাঁকে উদ্ধার করবে। কিন্তু যখন গাড়িটা তাঁকে অতিক্রম করে চলে গেল, তখনই বোঝা গেল, দৃষ্টিভঙ্গির \'উদারতা\' শুধু আলোর বিস্তারেই, মানবিক সাহায্যের উদারতা তাতে নেই। এটি এক ব্যঙ্গাত্মক পর্যবেক্ষণ।
৭.৪ \'এই হয়তো সমরীর রাঁচি ফেরার শেষ সুযোগ।\' — কোন সুযোগের কথা বলা হয়েছে? লেখক কীভাবে সেই সুযোগকে কাজে লাগান?
উত্তর: \'সমরী\' বলতে এখানে \'সাইকেল আরোহী\' লেখক নিজেকে বুঝিয়েছেন (ব্যঙ্গ করে)। রাতের নির্জন পথে যখন গাড়িটি এসে থামে, তখন লেখকের মনে হয়েছিল, রাঁচি পৌঁছানোর এটাই হয়তো শেষ সুযোগ—এই গাড়িতে লিফট নিতে পারলে আর পায়ে হেঁটে কষ্ট করতে হবে না।

লেখক সুযোগটিকে কাজে লাগাতে প্রাণপণে টর্চ জ্বালিয়ে গাড়িকে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গাড়িটি না থামায় তাঁর সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরে অবশ্য ভিন্নভাবে—একটি সাহায্যপ্রার্থী গাড়িকে ঠেলে দিয়ে—তিনি মানবিকতার পরিচয় দেন।
৭.৫ \'আমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকলাম\' — লেখক কেন তার কথা অসমাপ্ত রেখে হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন?
উত্তর: গাড়িটা যখন এসে লেখকের পাশ কাটিয়ে চলে গেল, লেখক সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ভাবতেও পারেননি যে, এতক্ষণ অপেক্ষার পরেও সাহায্যের সুযোগ এভাবে হাতছাড়া হয়ে যাবে। গাড়িটা এসেছিল—মুহূর্তের জন্য থামার আশা জাগিয়েছিল—আর তারপর নিমেষেই অদৃশ্য হয়ে গেল। এই আকস্মিকতায় তাঁর কথা বলার ক্ষমতাও যেন লোপ পেয়েছিল, বিস্ময়ে তিনি হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
৭.৬ \'বি-ড্রাইভার গাড়ি মতো চলিল ভিত্তি মতো চলিতে লাগল\' — \'বি-ড্রাইভার গাড়ি\' চলার প্রকৃত কারণটি কীভাবে গল্পে উদ্ভাসিত হলো?
উত্তর: \'বি-ড্রাইভার গাড়ি\' অর্থাৎ চালকবিহীন গাড়ি—পাঠকের মনে প্রথমে ভূতুড়ে গাড়ির ধারণা তৈরি হয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, প্রকৃত কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন: গাড়িটি হাতে ঠেলে নিয়ে আসা হচ্ছিল। গাড়ির ইঞ্জিন বিকল ছিল, তাই এক ভদ্রলোক নিজে একা গাড়িটা ঠেলতে ঠেলতে আসছিলেন—মাইল আটেক দূর থেকে! গাড়িটি চালকবিহীনভাবে চলছিল না, বরং পেছন থেকে ঠেলার কারণেই চলছিল। এই চমকপ্রদ সত্য প্রকাশের মাধ্যমেই গল্পের ভূতুড়ে আবহ এক লহমায় হাসির খোরাকে পরিণত হয়।
৭.৭ \'এবারও আমার আলস্যই জয়ী হলো শেষটায়।\' — গল্প অনুসরণে লেখকের উৎকণ্ঠা, আলস্য ও কৃতৎপরতার দৃষ্টান্ত দাও।
উত্তর: উৎকণ্ঠা: সাইকেলের টায়ার ফেঁসে যাওয়ার পর লেখক অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন। রাতের অন্ধকার, কুয়াশা, নির্জনতা—সব মিলিয়ে তাঁর মনে নানারকম ভয় ও চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে।

আলস্য: উদ্ধার পাওয়ার পরেও তিনি নিজে হেঁটে যাওয়ার চেয়ে বরং গাড়ির জুইভারে বসে যাওয়ার কথাই ভেবেছেন। \'এবারও আলস্যই জয়ী হলো\' বলতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—কষ্ট করে হাঁটার বদলে বসে যাওয়ার সুযোগটাই তাঁর কাছে বেশি লোভনীয় মনে হয়েছে।

কৃতৎপরতা: লেখকের টর্চ জ্বালিয়ে প্রাণপণে গাড়ি থামানোর চেষ্টা, পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল, এবং শেষে ভদ্রলোকের গাড়ি ঠেলায় সাহায্য করা—এসবই তাঁর কৃতৎপরতার প্রমাণ।
৭.৮ শেষ পর্যন্ত লেখক সেই \'শিবির অসিন\' থেকে কীভাবে উদ্ধার পেয়েছিলেন? এরপর তিনি কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন?
উত্তর: \'বিবি-অসিন\' ছিল একটি ছোট গাড়ি, যার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গিয়েছিল। একজন ভদ্রলোক একাই সেই গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে মাইল আটেক দূর থেকে আসছিলেন। তিনি কাউকে সাহায্যকারী হিসেবে না পেয়ে লেখকের কাছে এসে গাড়ি ঠেলে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

লেখক তাঁর আশাবাদী স্বভাব অনুযায়ী ধৈর্য ধরে ছিলেন এবং শেষপর্যন্ত এই ভদ্রলোকের দেখা পান। গাড়ি ঠেলে দিতে সাহায্য করাই ছিল তাঁর সেই ভুতুড়ে রাত থেকে \'উদ্ধার\' পাওয়ার উপায়। এরপর লেখক ভদ্রলোকের সঙ্গে গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে এগিয়ে যান এবং লাইন পেরিয়ে ভদ্রলোকের বাড়ির কাছে পৌঁছে স্বস্তি পান।

৮. তোমার কোনো গা-ছমছমে অভিজ্ঞতার কথা বন্ধুর কাছে একটি চিঠি লেখো

প্রিয় বন্ধু অর্ণব,

আমার প্রীতি নিও। আজ তোমাকে একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা বলব।

গত শনিবার রাতে আমি দাদার বাড়ি থেকে একা ফিরছিলাম। আমাদের পাড়ার মোড়টা খুবই অন্ধকার—স্ট্রিট লাইটটা কদিন ধরে নষ্ট। সেদিন ছিল একাদশী, আকাশে চাঁদ নেই বললেই চলে। আমি সাইকেল চালিয়ে আসছি, এমন সময় হঠাৎ পেছন থেকে মনে হলো কে যেন ডাকছে—'ও ভাই, দাঁড়াও তো!'

আমি চমকে উঠে পেছন ফিরলাম। কাউকে দেখলাম না। আবার চলতে শুরু করেছি, আবার সেই ডাক—এবার আরও স্পষ্ট। আমার গা দিয়ে কাঁটা দিয়ে উঠল! সাহস করে আবার থামলাম। দেখি, একটা বটগাছের আড়াল থেকে কে যেন টর্চ জ্বালিয়ে ইশারা করছে।

ভয়ে আমার পা অবশ হয়ে গেল! কিন্তু কাছে গিয়ে দেখি—আরে বাবা! এ যে আমাদের পাড়ার কেষ্টকাকা! উনি তাঁর বিড়াল হারিয়ে খুঁজছেন! উনি বললেন, 'বাবা, আমার পুশি গাছটায় উঠেছে, নামাতে পারছি না। তুই একটু সাহায্য কর তো!'

যাক, ভূত নয়—শুধু কেষ্টকাকার পুশি উদ্ধার অভিযান! এমনিই শেষরক্ষা। পরে অবশ্য অনেক হেসেছি। কিন্তু ওই সময়টুকুতে সত্যি খুব ভয় পেয়েছিলাম!

তোমারও কি এমন কোনো অভিজ্ঞতা হয়েছে? জানিও।

ইতি,
তোর প্রিয় বন্ধু
(তোমার নাম)

গল্পের শিক্ষা

"এক ভুতুড়ে কাণ্ড" গল্পটি শুধু হাসির গল্প নয়, এটি আমাদের শেখায় ভয়কে জয় করার মন্ত্র। লেখক দেখিয়েছেন, অনেক সময় আমাদের কল্পনাই ভয়কে বড় করে তোলে, অথচ বাস্তবে ভয়ের কিছু নেই। সাহস, ধৈর্য আর আশাবাদী মনোভাব নিয়ে চললে যেকোনো বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়। গল্পটির শেষাংশে বোঝা যায়, পরস্পরের সাহায্যই প্রকৃত 'উদ্ধার'—ভূত নয়, মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় সহায়।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

\'এক ভুতুড়ে কাণ্ড\' বাংলা সাহিত্যের রম্যরচনাকার শিবরাম চক্রবর্তী (১৯০৩-১৯৮০) রচিত। এটি WBBSE ষষ্ঠ শ্রেণির \'সাহিত্য মেলা\' পাঠ্যপুস্তকের ষোড়শ পাঠে অন্তর্ভুক্ত একটি রম্যরচনা (হাসির গল্প)।

গল্পটির মূলভাব হলো—কল্পনা ও বাস্তবের মিশেলে এক অন্ধকার রাতের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। লেখক সাইকেলে রাঁচি যাওয়ার পথে টায়ার ফেঁসে গেলে একাকী অন্ধকারে পড়েন। কুয়াশাবৃত নির্জন পথ, ভুতুড়ে শব্দ আর আগমন-প্রস্থানের বিভ্রান্তিকর ঘটনার মধ্য দিয়ে গল্প এগোয়। শেষে দেখা যায়, যা ভূত মনে হয়েছিল তা আসলে একজন সহায়-প্রার্থী মানুষ, যে নিজেই বিপদে। গল্পটি ভয় ও কৌতুকের চমৎকার সমন্বয়।

শিবরাম চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত রম্যরচনাকার। তাঁর পোশাকি নাম ছিল \'চঞ্চল\' কিন্তু লেখক হিসেবে তিনি শিবরাম নামেই খ্যাত। তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর বিখ্যাত বইগুলির মধ্যে রয়েছে \'বাড়ি থেকে পালিয়ে\', \'হাসির চেক্কা\', \'হর্ববর্ণন ও গোবর্ণন\', \'মক্ষ্বা বনাম পশ্চিতেরি\', \'ঈশ্বর পৃথিবী ভালোবাসা\'। হাস্যরসাত্মক ও কল্পনাপ্রবণ গদ্যের জন্য তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর।