মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র

তপন কর রচিত 'মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | ষষ্ঠ শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 November 2025 Last Update: 23 August 2026

🎨 মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র

তপন কর প্রবন্ধ / লোকশিল্প

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • একাদশ পাঠ • প্রবন্ধ

দেয়ালচিত্র মানভূম / পুরুলিয়া আদিবাসী সংস্কৃতি আলপনা ও নকশা

তপন কর (জন্ম ১৯৫৪)

হাওড়ায় বসবাস করেন। সরকারি চারু ও কারু মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে স্নাতক হন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। তিনি একজন সরকারি বিদ্যালয়ের শিল্প শিক্ষক। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলি হলো অসামান্য মানভূম, ছবি আঁকতে শেখা প্রভৃতি। পাঠ্য "মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র" রচনাংশটি লেখকের মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র প্রবন্ধেরই একটি সংকলিত ও সংক্ষেপিত অংশ।

📖

প্রবন্ধ

মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র

✍️

প্রাবন্ধিক

তপন কর

🔍

মূল বিষয়

বাংলার লোকশিল্প

📚

পাঠ

একাদশ পাঠ (সাহিত্য মেলা)

প্রবন্ধের সারাংশ ও মূলভাব

সারাংশ: "মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র" প্রবন্ধটিতে প্রাবন্ধিক তপন কর বাংলার গ্রামীণ লোকশিল্প, বিশেষত রাঢ়বঙ্গ ও মানভূম (পুরুলিয়া) অঞ্চলের দেয়ালচিত্রের এক অপূর্ব বিবরণ তুলে ধরেছেন। এই শিল্পকলা প্রধানত গ্রামের মহিলারাই তৈরি করেন এবং তাঁরা নিজস্ব দৈনন্দিন কাজের ফাঁকেই এর জন্য সময় বের করেন। দুর্গাপূজা ও কালীপূজা (দীপাবলি) উপলক্ষ্যে সাঁওতাল, ভূমিজ, কুর্মি প্রভৃতি আদিবাসী ও কৃষিজীবী গোষ্ঠীর মানুষ মাটি, গিরিমাটি ও প্রাকৃতিক রঙের সাহায্যে নিজেদের মাটির ঘরকে সাজিয়ে তোলেন। সাঁওতালি চিত্রণে জ্যামিতিক নকশার প্রাধান্য থাকে, অন্যদিকে ভূমিজ ও অন্যান্যদের চিত্রণে পদ্ম এবং মোরগঝুঁটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রতীক।

কেন্দ্রীয় চেতনা: বাংলার সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের, বিশেষত মহিলাদের, অসাধারণ শিল্পসত্তা এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ককে এই প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে। উৎসব ও প্রাত্যহিক জীবনের মেলবন্ধনেই গড়ে ওঠে এই অনন্য গ্রামীণ লোকশিল্প।

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও

২ টি
১.১ লেখক তপন করের লেখা একটি বই-এর নাম লেখো।
লেখক তপন করের লেখা একটি উল্লেখযোগ্য বই-এর নাম হলো 'অসামান্য মানভূম' (বা 'ছবি আঁকতে শেখা')।
১.২ পাঠ্য রচনাংশটি কোন বিষয়ে লেখা?
পাঠ্য রচনাংশটি রাঢ়বঙ্গের, বিশেষত পুরুলিয়া বা মানভূম অঞ্চলের কৃষিজীবী ও আদিবাসী সমাজের অন্যতম লোকশিল্প— মাটির ঘরের দেয়ালচিত্র বা দেওয়াল সাজানোর বিষয়ে লেখা।

২. ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে লেখো

৪ টি
প্রশ্নসঠিক উত্তর
২.১ দেয়াল চিত্র এঁকে থাকেন সাধারণত গ্রামের (পুরুষেরা/মেয়েরা/বালকেরা)।মেয়েরা
২.২ মূলত (বৃত্তাকার/সরলরৈখিক/জ্যামিতিক) আকার-আশ্রিত বর্ণসমাবেশেই রচিত হয় সাঁওতালী দেয়ালচিত্রণ।জ্যামিতিক
২.৩ সাধারণত মাটি থেকে (ছ'ফুট/চারফুট/আটফুট) পর্যন্ত উচ্চতায় চিত্রণটি বিস্তৃত হয়।ছ'ফুট
২.৪ (শালুকটিকে/পদ্মটিকে/গোলাপটিকে) মানভূম দেয়ালচিত্রের প্রতীক বলা হয়।পদ্মটিকে

শব্দার্থ (Vocabulary)

দেয়ালচিত্র দেয়ালের গায়ে আঁকা ছবি
চিত্রণ ছবি, প্রতিকৃতি আঁকা
পূর্বতন বিগত বা আগের
পীঠস্থান সুপ্রাচীন দেবস্থান, প্রধান চর্চাকেন্দ্র
গৃহাঙ্গন গৃহ সংলগ্ন আঙিনা বা উঠোন
চতুষ্কোণ চার কোণ বিশিষ্ট আকার
নিকানো লেপন করা বা লেপা
হরিদ্রাভ হলদেটে, পীতবর্ণযুক্ত

ব্যাকরণ ও ভাষা অনুশীলন

৩. পাঠ থেকে একই অর্থের শব্দ খুঁজে নিয়ে লেখো:

(ছবি, জোগাড়, পঙ্কজ, পুষ্প, মাটি)

প্রদত্ত শব্দপাঠ থেকে পাওয়া সমার্থক শব্দ
ছবিচিত্রণ (বা দেয়ালচিত্র)
জোগাড়সংগ্রহ
পঙ্কজপদ্ম
পুষ্পফুল
মাটিমৃত্তিকা

৪. নীচের বিশেষ্যশব্দগুলিকে বিশেষণ এবং বিশেষণশব্দগুলিকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করো:

(ভৌগোলিক, নির্বাচন, অঞ্চল, রচিত, অলংকার, জ্যামিতি)

প্রদত্ত শব্দ (শ্রেণি)রূপান্তরিত শব্দ (শ্রেণি)
ভৌগোলিক (বিশেষণ)ভূগোল (বিশেষ্য)
নির্বাচন (বিশেষ্য)নির্বাচিত (বিশেষণ)
অঞ্চল (বিশেষ্য)আঞ্চলিক (বিশেষণ)
রচিত (বিশেষণ)রচনা (বিশেষ্য)
অলংকার (বিশেষ্য)অলংকৃত (বিশেষণ)
জ্যামিতি (বিশেষ্য)জ্যামিতিক (বিশেষণ)

৫. জটিল বাক্য তৈরি করো:

পাঠ্যাংশ থেকে 'যেমন-তেমন' দিয়ে দুটি জটিল বাক্য:
১) "সেই চিত্রণের বিষয়বস্তু যেমন নিজেরা নির্বাচন করেন, তেমনি তার উপাদানও নিজেরাই সংগ্রহ করেন।"
২) "এই ধরনের বিস্তৃত আকারের ছবি যেমন লাল, নীল, সাদা, গেরুয়া ইত্যাদি বিচিত্র বর্ণের সমাবেশ আঁকা হয়, তেমনি বর্ণ ছাড়াও আঁকা হয়।"

নির্দেশিত শব্দগুলি ব্যবহার করে একটি করে জটিল বাক্য:
• যদি-তবে: যদি তুমি নিয়ম করে পড়াশোনা করো, তবে পরীক্ষায় ভালো ফল করবে।
• যখন-তখন: যখন আকাশে কালো মেঘ করে বৃষ্টি নামল, তখন আমরা বাড়ি পৌঁছালাম।
• যে-সে: যে পরিশ্রম করে, সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করে।
• যেখানে-সেখানে: যেখানে ফুলের বাগান রয়েছে, সেখানে প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়।
• যেদিন-সেদিন: যেদিন তুমি আমাদের বাড়িতে আসবে, সেদিন আমি খুব আনন্দিত হব।

৬. নীচের বাক্যগুলি জুড়ে একটি বাক্যে পরিণত করো:

প্রদত্ত একাধিক বাক্যসংযুক্ত একটি বাক্য
৬.১ এই মাটির রং ঈষৎ হরিদ্রাভ। এই মাটির রং ঈষৎ সাদাটে।এই মাটির রং ঈষৎ হরিদ্রাভ ও সাদাটে।
৬.২ দূর থেকে দৃশ্য হিসেবে মানানসই হওয়া চাই। এই ভাবেই দেয়ালগুলি নির্বাচন করা হয়।দূর থেকে দৃশ্য হিসেবে মানানসই হবে এমনভাবেই দেয়াল নির্বাচন করা হয়।
৬.৩ ঘরের চতুষ্পার্শ্ব ঘিরে থাকে একটি বেদী। তার রং কালো।ঘরের চতুষ্পার্শ্ব ঘিরে থাকা বেদীটির রং কালো।
৬.৪ বাংলার কৃষিজীবী সমাজের কিছু প্রাচীন উৎসব আছে। এগুলি হলো গো-বন্দনা, কাঁড়াখুঁটা, গোরুখুঁটা প্রভৃতি।বাংলার কৃষিজীবী সমাজের কিছু প্রাচীন উৎসব হলো গো-বন্দনা, কাঁড়াখুঁটা, গোরুখুঁটা প্রভৃতি।

৭. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো (রচনাধর্মী)

৭.১ তোমার জানা কোন অঞ্চলের লোকসমাজে দেয়ালে ছবি আঁকার চল আছে?
উত্তর: আমার জানা পুরুলিয়া বা পূর্বতন মানভূম জেলা এবং এর বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে লোকসমাজে মাটির ঘরের দেয়ালে ছবি আঁকার ব্যাপক চল আছে।
৭.২ মানভূম জেলা সংলগ্ন আর কোন কোন জেলায় দেয়াল চিত্রণ হয়ে থাকে?
উত্তর: মানভূম জেলা সংলগ্ন অন্যান্য যে জেলাগুলিতে দেয়াল চিত্রণ হয়ে থাকে সেগুলি হলো— মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বর্ধমান জেলার পশ্চিম অংশ এবং বীরভূম জেলা।
৭.৩ মানভূম জেলায় কোন কোন আদিবাসী গোষ্ঠীর বাস?
উত্তর: মানভূম জেলায় প্রধানত সাঁওতাল, হো, অসুর, ভূমিজ, মুন্ডা, ওঁরাও, খেড়িয়া, শবর, কোল, বীরহড় প্রভৃতি আদিবাসী গোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে।
৭.৪ মাটির দেয়াল চিত্রগুলি সাধারণত কোন কোন উৎসবে আঁকা হয়?
উত্তর: মাটির ঘরের দেয়াল চিত্রগুলি সাধারণত আশ্বিন মাসের দুর্গাপূজা এবং কার্তিকের অমাবস্যা বা দীপাবলি (কালীপূজা)—এই দুই প্রধান উৎসবকে উপলক্ষ করেই আঁকা হয়।
৭.৫ দেয়াল চিত্র করার জন্য কী কী উপাদান ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: দেয়াল চিত্র আঁকার জন্য প্রধানত মাটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণত লালচে রঙের গিরিমাটি বা গৈরিক মাটি, গিরিফল, ঈষৎ হলদে ও সাদাটে রঙের দুধেমাটি বা বেলেমাটি এবং এর সঙ্গে লাল, নীল, সাদা, গেরুয়া ইত্যাদি বিভিন্ন রঙের প্রাকৃতিক বর্ণ বা রং ব্যবহৃত হয়।
৭.৬ কোন তিথিতে কৃষিজীবীরা কীভাবে তাদের গৃহসজ্জা করে তা লেখো。
উত্তর: কৃষিজীবী সমাজের মানুষ প্রধানত কার্তিকের অমাবস্যা বা কালীপূজার তিথিতে তাদের গৃহসজ্জা করে থাকে। এই তিথিতেই তাদের প্রাচীন উৎসব গো-বন্দনা পালিত হয়। তারা সমগ্র ঘর-বাড়ি লেপামোছা ও মেরামত করে। এরপর গৃহাঙ্গনের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে উঠান, গোহাল (গোয়ালঘর), ধানের গোলা বা মরাই এবং মূল বাসগৃহের সর্বত্র সুন্দর আলপনা দিয়ে বাড়ি সাজিয়ে তোলে।
৭.৭ কোন কোন জাতির দেয়াল চিত্রের সাধারণ লক্ষণ পদ্ম?
উত্তর: সাঁওতাল ব্যতীত অন্যান্য আদিবাসী গোষ্ঠী, বিশেষ করে ভূমিজ, কুর্মি (মাহাত) বা অন্যান্য গোষ্ঠীর মানুষেরা যে দেয়াল চিত্রণ করে থাকেন, তার সাধারণ লক্ষণ বা প্রতীক হলো পদ্ম।
৭.৮ দুধেমাটির ওপর কী ভাবে চিত্রণ করা হয়?
উত্তর: অত্যন্ত মসৃণভাবে নিকানো দেয়ালের ওপর প্রথমে অপেক্ষাকৃত হালকা রঙের বেলেমাটি বা 'দুধেমাটি' (যার রং ঈষৎ হলদেটে ও সাদাটে)-র গোলা দিয়ে প্রলেপ বা নাতা দেওয়া হয়। এই মাটির প্রলেপটি ভিজে থাকতে থাকতেই তার ওপর হাতের আঙুলের ডগা দিয়ে দাগ টেনে টেনে নিখুঁতভাবে ছবি এঁকে চিত্রণ করা হয়।
৭.৯ মোরগঝুঁটির চালচিত্রে আর কী কী নকশা থাকে?
উত্তর: 'মোরগঝুঁটি'র চালচিত্রের ধারে ধারে সারিবদ্ধভাবে উদীয়মান সূর্যের নকশা থাকে। সূর্যগুলির ফাঁকে ফাঁকে একটি করে আধফোটা পদ্ম উঠে আসে। এর বাইরের শূন্যস্থানে ছোটো ছোটো মোটিফ বসানো হয়, যার মধ্যে পদ্ম, ইস্কাবন, হরতনের চিহ্ন, সাধারণ লতাপাতা, পাখি এবং ময়ূর ইত্যাদির নকশা থাকে।

৮. আলপনা আঁকা (Activity)

বৃত্তাকার একটি নক্শা বা আলপনা আঁকো যা তোমার বাড়িটিকে আরও সুন্দর করে তুলবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশ: এই অনুশীলনটি তোমাদের নিজেদের সৃজনশীলতার ওপর নির্ভর করছে। তোমরা খাতায় একটি কম্পাস বা গোল কোনো বস্তুর সাহায্যে সুন্দর বৃত্ত এঁকে তার ভেতর পদ্মফুল, লতাপাতা, এবং জ্যামিতিক নকশা দিয়ে একটি সুন্দর আলপনা তৈরি করতে পারো, ঠিক যেমন মানভূম অঞ্চলের মেয়েরা তাদের দেয়ালচিত্রের জন্য করে থাকে।

প্রবন্ধের শিক্ষা

"মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র" প্রবন্ধটি আমাদের শেখায় যে, শিল্প শুধুমাত্র বড়ো ক্যানভাস বা শহরের গ্যালারিতে আবদ্ধ থাকে না। বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ ও খেটে-খাওয়া মানুষের, বিশেষত নারীদের হাতের ছোঁয়ায় সাধারণ মাটির দেয়ালও কীভাবে অসাধারণ ক্যানভাসে পরিণত হতে পারে, তা এই প্রবন্ধ থেকে জানা যায়। এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ শিল্পের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র' প্রবন্ধটির রচয়িতা হলেন শিল্পী ও লেখক তপন কর। তিনি সরকারি চারু ও কারু মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তনী।

পুরুলিয়া জেলা বা পূর্বতন মানভূম জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বাংলার দেয়ালচিত্র চর্চার পীঠস্থান বলা হয়। এর পাশাপাশি বাঁকুড়া, মেদিনীপুর ও বীরভূমেও এই শিল্প দেখা যায়।

সাঁওতালি দেয়ালচিত্র মূলত জ্যামিতিক আকার-আশ্রিত। এতে চওড়া রঙিন ফিতের মতো সমান্তরাল রেখা, চতুষ্কোণ এবং ত্রিভুজের ছড়াছড়ি দেখা যায়।

দুধেমাটি হলো একধরনের হালকা রঙের বেলেমাটি। এর রং ঈষৎ হলদেটে ও সাদাটে হয় বলে স্থানীয় ভাষায় একে দুধেমাটি বলা হয়। দেয়াল নিকোনোর কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।