🌾 ভরদুপুরে
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • প্রথম পাঠ • কবিতা
কবিতা
ভরদুপুরে
কবি
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
ধরন
প্রকৃতি ও জীবনভাবনা
পাঠ
প্রথম পাঠ (সাহিত্য মেলা)
কবিতার সারাংশ ও মূলভাব
সারাংশ: "ভরদুপুরে" কবিতায় কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী গ্রামবাংলার এক অলস দুপুরের ছবি এঁকেছেন। তিনি দেখেছেন অশথ গাছটি পথিকের ছাতা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার তলায় ঘাসের গালিচা পাতা রয়েছে। দূরে গোরু-বাছুর চরে বেড়াচ্ছে, গাছের তলায় শুয়ে রাখাল মেঘেদের আকাশ ছোঁয়া দেখছে। নদীর ধারে খড় বোঝাই নৌকো বাঁধা, বাতাস মিহি সাদা ধুলো ওড়াচ্ছে। এই ভরদুপুরে সবাই যার যার ঘরে ঘুমোচ্ছে। কবির মনে হয়েছে, শুধু মানুষই নয়, আঁচল পেতে বিশ্বভুবনও যেন এখানে ঘুমিয়ে পড়েছে।
কেন্দ্রীয় চেতনা: প্রকৃতির কোলে গ্রামজীবনের সরল, শান্ত ও নিসর্গ সৌন্দর্যের এক মনোরম চিত্র এই কবিতায় ফুটে উঠেছে। কবি দেখিয়েছেন, দুপুরের আলস্যে প্রকৃতি ও মানুষ একাকার হয়ে যায়।
১. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও
৩ টি২. শব্দার্থ ও সমার্থক শব্দ
কবিতার শব্দভাণ্ডার| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| গালিচা | কার্পেট, ঘাসের চমৎকার পাতার বিছানা |
| খড় | াঁপা আবরণ (যেমন নৌকোর খোল) |
| মিহিন | সূক্ষ্ম, অতি ক্ষুদ্র |
৩. একই অর্থযুক্ত শব্দ কবিতা থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো
| প্রদত্ত শব্দ | কবিতায় ব্যবহৃত সমার্থক শব্দ |
|---|---|
| তৃণ | ঘাস |
| তটিনী | নদী |
| গোরক্ষক | রাখাল |
| পৃথিবী | বিশ্বভুবন |
| জলধর | মেঘ |
ব্যাকরণ অনুশীলন
৪. বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণে এবং বিশেষণ শব্দগুলিকে বিশেষ্যে পরিবর্তিত করো
| শব্দ | রূপান্তর |
|---|---|
| খাস (বিণ.) | খাসা (বিণ.) বা খাসি (বিশেষ্য) |
| রাখাল (বি.) | রাখালিয়া (বিণ.) |
| আকাশ (বি.) | আকাশি (বিণ.) |
| মাঠ (বি.) | মেঠো (বিণ.) |
| আদর (বিণ.) | আদুরে / আদরণীয় (বিণ.) |
| গাছ (বি.) | গেছো (বিণ.) |
| লোক (বি.) | লৌকিক (বিণ.) |
৫. পাশে দেওয়া শব্দগুলির সঙ্গে উপসর্গ যোগ করে নতুন শব্দ তৈরি করো
| শব্দ | উপসর্গ + শব্দ = নতুন শব্দ |
|---|---|
| নদী | উপ + নদী = উপনদী |
| আদর | সম + আদর = সমাদর |
| বাতাস | অনু + বাতাস = অনুবাতাস (অনুবাত) |
৬. নীচের বাক্য বা বাক্যংশের উদ্দেশ্য ও বিধেয় নির্ণয় করো
| বাক্য | উদ্দেশ্য | বিধেয় |
|---|---|---|
| ওই যে অশথ গাছটি, ও তো পথিকজনের ছাতা। | ওই যে অশথ গাছটি | পথিকজনের ছাতা। |
| কেউ কোথা নেই, বাতাস ওড়ায় মিহিন সাদা ধুলো। | বাতাস | ওড়ায় মিহিন সাদা ধুলো। |
| আঁচল পেতে বিশ্বভুবন ঘুমচ্ছে এইখানে। | বিশ্বভুবন | আঁচল পেতে এইখানে ঘুমচ্ছে। |
৭. একই অর্থবিশিষ্ট শব্দদ্বয়ের একত্র ব্যবহার
‘বিশ্বভুবন’ শব্দটি ‘বিশ্ব’ আর ‘ভুবন’—এই একই অর্থবিশিষ্ট শব্দদ্বয়ের একত্র উপস্থিতি। এমন আরও পাঁচটি নতুন শব্দ তৈরি করো:
৮. ক্রিয়ার কাল নির্ণয় করো (কোনটি চলতি/ কোনটি শেষ)
| বাক্য | ক্রিয়ার কাল |
|---|---|
| চরেছে দূরে গোরু-বাছুর। | ঘটমান অতীত |
| দেখেছে রাখাল মেঘগুলো যায় আকাশটাকে ছুঁয়ে। | ঘটমান অতীত (চলতি অর্থে) |
| নদীর ধারে বাঁধা কাদের ওই বড়ো নৌকাটি। | সাধিত অতীত (অসমাপিকা) |
| বাতাস ওড়ায় মিহিন সাদা ধুলো। | সাধারণ বর্তমান |
| আঁচল পেতে বিশ্বভুবন ঘুমচ্ছে এইখানে। | ঘটমান বর্তমান |
৯. নীচের বাক্যগুলির গঠনগত শ্রেণিবিভাগ করো
| বাক্য | শ্রেণি |
|---|---|
| তলায় ঘাসের গালিচাখানি আদর করে পাতা। | সরল বাক্য |
| ওই যে অশথ গাছটি, ও তো পথিকজনের ছাতা। | যৌগিক বাক্য |
| ভরদুপুরে যে যার ঘরে ঘুমোচ্ছে লোকগুলো। | জটিল বাক্য |
| যে জানে, সেই জানে। | জটিল বাক্য |
ভাষা পর্যবেক্ষণ
আরও উদাহরণ: ও, উহা, উনি, ওঁরা, ঐ।
কবিতায় আরও আছে: ঘাসের গালিচা, নদীর ধার।
নতুন উদাহরণ: গোরুর রাখাল, দুপুরের ঘুম, আকাশের মেঘ।
আরও নির্দেশক: টা, খানা, খানি, গাছ, টুকু।
যেমন: বইটা, দোকানখানা, চিঠিখানি, ফুলগাছ, একটুকু।
অন্যান্য বহুবচন নির্দেশক: রা, এরা, গুলা, সব, গণ, বৃন্দ।
যেমন: ছেলেরা খেলছে, পাখিগুলা উড়ছে, ফুলসব ফুটেছে।
বড়ো প্রশ্নোত্তর
আজ ছুটির দিন। বাড়ির চারপাশ কেমন যেন চুপচাপ। বাইরে রোদ ঝলমল করছে, অশথ গাছটার নীচে চড়ুই পাখিগুলো উড়ছে আর কিচিরমিচির করছে। মাঠে রাখাল গোরু নিয়ে বসে আছে, গানের সুর ভেসে আসছে। আমাদের পুকুরের জল একদম স্থির, মাঝে মাঝে মাছ লাফাচ্ছে। বাড়ির উঠোনে মা পিঠে করছেন, আর দিদা কাঁথা সেলাই করছেন। সত্যি বলতে কি, এই দুপুরের শান্তিটা আমার খুব প্রিয়। তোর ওখানে কেমন লাগে ছুটির দিনে? আমাকে জানাস।
ইতি,
তোর প্রিয় বন্ধু
(নাম)