হযবরল (সুকুমার রায়)

সুকুমার রায় রচিত ষষ্ঠ শ্রেণির দ্রুতপঠন 'হযবরল'-এর সম্পূর্ণ আলোচনা, সারাংশ এবং প্রশ্নোত্তর।

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা দ্রুতপঠন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত সুকুমার রায় রচিত 'হযবরল' গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, চরিত্রগুলির বর্ণনা এবং পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ, Broad ও ব্যাকরণ) নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

১. গল্পের বিষয়সংক্ষেপ

হযবরল সুকুমার রায়ের লেখা বাংলা শিশুসাহিত্যের এক অমর ননসেন্স (Nonsense) বা আজগুবি গল্পের বই। এটি মূলত একটি স্বপ্নদৃশ্যের কাল্পনিক কাহিনি, যেখানে বাস্তব জগতের কোনো নিয়ম বা যুক্তি খাটে না।

গল্পটি শুরু হয় এক গরমের দুপুরে। গল্পকথক (একটি ছোটো ছেলে) ঘাসের উপর রাখা তার রুমালটা তুলতে গিয়ে দেখে সেটি একটি লাল টকটকে বেড়ালে পরিণত হয়েছে! বেড়ালটি অদ্ভুত সব কথাবার্তা বলে এবং তিব্বত যাওয়ার রাস্তা বাতলে দিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। এরপর ছেলেটি একে একে অদ্ভুত সব প্রাণীর সম্মুখীন হয়। সে দেখে একটি দাঁড়কাক শ্লেট-পেনসিল দিয়ে অঙ্ক কষছে, যার নাম 'শ্রীকাক্কেশ্বর কুচকুচে'। সে 'সাত দুগুণে চোদ্দো'র বদলে আজব সব হিসেব দেয়। তারপর দেখা মেলে এক দেড় হাত লম্বা সবুজ দাড়িওয়ালা টাক-পড়া বুড়োর, যে তার ফিতে দিয়ে মেপে সব কিছুর মাপ 'ছাব্বিশ ইঞ্চি' বের করে এবং দাবি করে যে চল্লিশ বছর বয়স হলে মানুষের বয়স আবার কমতে শুরু করে।

এরপর সে দেখে উধো আর বুধো নামের দুই ভাই নিজেদের মধ্যে অদ্ভুত মারামারি করছে। সেখানে হাজির হয় 'হিজি বিজ্ বিজ্' নামক এক আজব জন্তু, যে অসম্ভব সব কথা ভেবে ফ্যাকফ্যাক করে হাসতে থাকে। এরপর আসে 'শ্রীব্যাকরণ শিং, বি.এ. (খাদ্যবিশারদ)' নামের এক ছাগল, যে লম্বা বক্তৃতা দেয়। এক ন্যাড়া লোক এসে বেসুরো গলায় অদ্ভুত সব গান গাইতে শুরু করে। শেষে শুরু হয় এক আজব বিচারসভা বা মানহানির মোকদ্দমা। ফরিয়াদি হলো শজারু, উকিল কুমির এবং বিচারক হলো এক ঘুমন্ত হুতোমপ্যাঁচা। এই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে হঠাত ছাগলটি 'ব্যাকরণ শিং' বলে তেড়ে এসে ছেলেটির কান কামড়ে দেয়। আর ঠিক তখনই ছেলেটির ঘুম ভেঙে যায়। সে বুঝতে পারে, এতক্ষণ সে ব্যাকরণ বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ে স্বপ্ন দেখছিল, এবং ছাগলের কামড়টা আসলে তার মেজোমামার কান মলে দেওয়া!

২. লেখক পরিচিতি

সুকুমার রায় (১৮৮৭-১৯২৩): বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার, ননসেন্স বা খেয়ালরসের অদ্বিতীয় স্রষ্টা সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং পুত্র বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলি—পাগলা দাশু, হেশোরাম হুঁশিয়ার, ভবঘুরে, চণ্ডীদাস খুড়ো বাঙালির ঘরে ঘরে পরিচিত। 'আবোল তাবোল', 'হযবরল', 'পাগলা দাশু', 'ঝালাপালা', 'খাই-খাই', 'অবাক জলপান' তাঁর অমর সৃষ্টি। তাঁর সম্পাদিত 'সন্দেশ' পত্রিকা বাংলা শিশুসাহিত্যের ইতিহাসে এক মাইলফলক। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে এই অসামান্য প্রতিভাবান লেখকের মৃত্যু হয়।

৩. গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশের তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা

"চন্দ্রবিন্দুর 'চ', বেড়ালের তালব্য 'শ', রুমালের 'মা'-হলো চশমা।"
তাৎপর্য: এটি সুকুমার রায়ের ননসেন্স বা আজগুবি যুক্তির এক চমৎকার উদাহরণ। রুমাল কীভাবে বেড়াল হয়ে গেল, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। বেড়ালটি সম্পূর্ণ অবাস্তব ও উদ্ভট যুক্তির সাহায্যে চন্দ্রবিন্দু, বেড়াল এবং রুমালের অক্ষর মিলিয়ে 'চশমা' শব্দ তৈরি করে গল্পকথককে বোকা বানানোর চেষ্টা করে। এটি আসলে স্বপ্নজগতের খাপছাড়া চিন্তারই প্রকাশ।
"সাত দু-গুণে চোদ্দোর নামে চার, হাতে রইল পেনসিল!"
তাৎপর্য: কাক্কেশ্বর কুচকুচে নামক দাঁড়কাকটি সাধারণ গণিতের নিয়ম মানে না। তার মতে সময়ের সাথে সাথে সংখ্যার মানও পালটে যায়। সে সাধারণ গুণের বদলে যোগ, বিয়োগ, টাকা-পয়সা সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত হিসেব তৈরি করে। এই কাল্পনিক অঙ্কের মাধ্যমে লেখক শিশুদের মনের স্বাধীন ও বাঁধনহারা কল্পনার জগতকে তুলে ধরেছেন।
"চল্লিশ বছর হলেই আমরা বয়েস ঘুরিয়ে দিই। ... এমনি করে যখন দশ পর্যন্ত নামে তখন আবার বয়েস বাড়তে দেওয়া হয়।"
তাৎপর্য: দেড় হাত লম্বা দাড়িওয়ালা বুড়োর এই অদ্ভুত দাবি মানুষের চিরকাল যুবক থাকার বা মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার এক গোপন ইচ্ছার মজাদার রূপ। বাস্তবে বয়স কখনো কমে না, কিন্তু বুড়োর আজগুবি রাজ্যে চল্লিশ বছর বয়স হলে বয়স কমতে থাকে, ফলে কেউ বুড়ো হয়ে মরে যায় না। এটি এক ফ্যান্টাসি জগতের সুন্দর নিয়ম।
"উধোর বোঝা বুধোর ঘাড়ে।"
তাৎপর্য: এটি একটি সুপরিচিত বাংলা প্রবাদ, যার অর্থ হলো একজনের দোষ বা দায়িত্ব অন্যজনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া। গল্পে উধো আর বুধো নামক দুই যমজ ভাই আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ঘাড়ে বোঁচকা চাপিয়ে মারামারি করে এবং পরে আবার কোলাকুলি করে। প্রবাদের এই আক্ষরিক ও হাস্যকর রূপায়ণ সুকুমার রায়ের লেখার এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
"ব্যাকরণ শিখবার নাম করে বুঝি পড়ে-পড়ে ঘুমোনো হচ্ছে?"
তাৎপর্য: গল্পের একেবারে শেষ লাইন এটি। এতক্ষণ ধরে গল্পকথক যে আজগুবি জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তা যে আসলে একটি স্বপ্ন ছিল, তা এই লাইনটিতে স্পষ্ট হয়ে যায়। ছেলেটি আসলে ব্যাকরণ বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিল। অবচেতন মনে সেই 'ব্যাকরণ' শব্দটিই স্বপ্নে 'শ্রীব্যাকরণ শিং' নামক ছাগল হয়ে দেখা দিয়েছিল এবং মামার কান মলাটা স্বপ্নে ছাগলের কামড় বলে মনে হয়েছিল।

৪. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন

১. 'হযবরল' বইটির রচয়িতা কে?
(ক) সত্যজিৎ রায় (খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (গ) সুকুমার রায় (ঘ) লীলা মজুমদার
উত্তর: (গ) সুকুমার রায়
২. ঘাসের ওপর রাখা রুমালটা হঠাৎ কী হয়ে গেল?
(ক) কুকুর (খ) লাল টকটকে বেড়াল (গ) খরগোশ (ঘ) প্যাঁকপেঁকে হাঁস
উত্তর: (খ) লাল টকটকে বেড়াল
৩. বেড়ালটার মতে রুমাল, বেড়াল আর চন্দ্রবিন্দু মিলে কী হয়?
(ক) চশমা (খ) ছাতা (গ) জুতো (ঘ) বই
উত্তর: (ক) চশমা
৪. গরম লাগলে বেড়ালটা কোথায় যাওয়ার কথা বলেছিল?
(ক) হিমালয় (খ) দার্জিলিং (গ) তিব্বত (ঘ) নেপাল
উত্তর: (গ) তিব্বত
৫. তিব্বত যাওয়ার রাস্তা কে বাতলে দিতে পারবে বলে বেড়াল জানিয়েছিল?
(ক) কাক্কেশ্বর (খ) গেছোদাদা (গ) ন্যাড়া (ঘ) হিজি বিজ্ বিজ্
উত্তর: (খ) গেছোদাদা
৬. গেছোদাদা কোথায় থাকে?
(ক) জলে (খ) পাহাড়ে (গ) গাছে (ঘ) পাতালে
উত্তর: (গ) গাছে
৭. কাক কী দিয়ে শ্লেটে হিসেব করছিল?
(ক) চক দিয়ে (খ) শ্লেট পেনসিল দিয়ে (গ) পেন দিয়ে (ঘ) কাঠকয়লা দিয়ে
উত্তর: (খ) শ্লেট পেনসিল দিয়ে
৮. কাকের মতে সাত দু-গুণে চোদ্দোর নামে চার, হাতে রইল কী?
(ক) এক (খ) শূন্য (গ) পেনসিল (ঘ) দশ
উত্তর: (গ) পেনসিল
৯. কাকের বাজারে কোন জিনিসের দাম ভয়ানক মাগ্যি (বেশি)?
(ক) টাকা (খ) সময় (গ) খাবার (ঘ) জল
উত্তর: (খ) সময়
১০. গাছের ফোকর থেকে যে বুড়ো নেমেছিল, তার দাড়ি কী রঙের ছিল?
(ক) সাদা (খ) কালো (গ) সবুজ (ঘ) লাল
উত্তর: (গ) সবুজ
১১. বুড়োর হাতে কী ছিল?
(ক) লাঠি (খ) বই (গ) হুঁকো (ঘ) খাতা
উত্তর: (গ) হুঁকো
১২. বুড়ো ফিতে দিয়ে মাপলে সবকিছু কত ইঞ্চি হয়ে যায়?
(ক) কুড়ি ইঞ্চি (খ) ছাব্বিশ ইঞ্চি (গ) ত্রিশ ইঞ্চি (ঘ) চল্লিশ ইঞ্চি
উত্তর: (খ) ছাব্বিশ ইঞ্চি
১৩. বুড়োর মতে, মানুষের বয়স কত হলে বয়স ঘুরিয়ে দেওয়া হয় (কমানো হয়)?
(ক) তিরিশ (খ) চল্লিশ (গ) পঞ্চাশ (ঘ) ষাট
উত্তর: (খ) চল্লিশ
১৪. বুড়োর বর্তমান বয়স কত?
(ক) দশ (খ) তেরো (গ) পনেরো (ঘ) কুড়ি
উত্তর: (খ) তেরো
১৫. দাঁড়কাকটির নাম কী ছিল?
(ক) শ্রীকাক্কেশ্বর কুচকুচে (খ) রামকাক (গ) পাতিকাক (ঘ) বুধো
উত্তর: (ক) শ্রীকাক্কেশ্বর কুচকুচে
১৬. কাক্কেশ্বরের ঠিকানা কী ছিল?
(ক) ৪১ নং গেছোবাজার, কাগেয়াপটি (খ) ৫২ নং বটতলা (গ) ১০ নং প্যাঁচাপটি (ঘ) ২০ নং শেয়ালমার্গ
উত্তর: (ক) ৪১ নং গেছোবাজার, কাগেয়াপটি
১৭. কাকের বিজ্ঞাপনে শিশুদের জন্য কী ছাড় ছিল?
(ক) ফ্রি (খ) চিলড্রেন হাফ প্রাইস (অর্ধমূল্য) (গ) সিকি দাম (ঘ) কোনো ছাড় নেই
উত্তর: (খ) চিলড্রেন হাফ প্রাইস (অর্ধমূল্য)
১৮. বুড়ো কাকে 'টেকো মাথা' বললে রেগে যেত?
(ক) কাককে (খ) গল্পকথককে (গ) উধোকে (ঘ) প্যাঁচাকে
উত্তর: (ক) কাককে
১৯. কাকের হিসেবে বুড়োর দাম কত পড়েছিল?
(ক) দুই টাকা চোদ্দো আনা (খ) ছয় পয়সা (গ) আধ সের (ঘ) এক টাকা
উত্তর: (খ) ছয় পয়সা (কারণ জল মেশানো ছিল)
২০. প্রকাণ্ড বোঁচকার নীচে চাপা পড়ে কে হাত-পা ছুঁড়ছিল?
(ক) বুড়ো (খ) উধো (গ) বুধো (ঘ) হিজি বিজ্ বিজ্
উত্তর: (গ) বুধো
২১. উধো আর বুধো নিজেদের মধ্যে কী করছিল?
(ক) খেলা (খ) মারামারি (গ) গান (ঘ) গল্প
উত্তর: (খ) মারামারি
২২. হিজি বিজ্ বিজ্ দেখতে কেমন ছিল?
(ক) ঠিক মানুষের মতো (খ) বাঁদরের মতো (গ) মানুষ না বাঁদর, প্যাঁচা না ভূত ঠিক বোঝা যায় না (ঘ) শেয়ালের মতো
উত্তর: (গ) মানুষ না বাঁদর, প্যাঁচা না ভূত ঠিক বোঝা যায় না
২৩. হিজি বিজ্ বিজ্ সারাক্ষণ কী করত?
(ক) কাঁদত (খ) অসম্ভব কথা ভেবে হাসত (গ) ঘুমাত (ঘ) রাগ করত
উত্তর: (খ) অসম্ভব কথা ভেবে হাসত
২৪. হিজি বিজ্ বিজের ভাইয়ের নাম কী?
(ক) উধো (খ) হিজি বিজ্ বিজ্ (গ) বুধো (ঘ) তকাই
উত্তর: (খ) হিজি বিজ্ বিজ্
২৫. হিজি বিজ্ বিজের শ্বশুরের নাম কী বলে সে জানিয়েছিল?
(ক) রুটি (খ) বিস্কুট (গ) চানাচুর (ঘ) কেক
উত্তর: (খ) বিস্কুট
২৬. ঝোপের আড়াল থেকে উঁকি মারা ছাগলটার নাম কী?
(ক) শ্রীব্যাকরণ শিং (খ) শ্রীনিবাস (গ) রামছাগল (ঘ) বাদুড়গোপাল
উত্তর: (ক) শ্রীব্যাকরণ শিং
২৭. শ্রীব্যাকরণ শিং-এর উপাধি কী ছিল?
(ক) এম.এ. (খ) বি.এ. খাদ্যবিশারদ (গ) ডক্টর (ঘ) পণ্ডিত
উত্তর: (খ) বি.এ. খাদ্যবিশারদ
২৮. ছাগলের মতে, তারা কী খায় না?
(ক) কাগজের ঠোঙা (খ) মজবুত বাঁধানো বই (গ) ক্যাম্বিসের ব্যাগ (ঘ) তোশক বালিশ
উত্তর: (খ) মজবুত বাঁধানো বই
২৯. ন্যাড়ামাথা লোকটির গান কেমন ছিল?
(ক) খুব মিষ্টি (খ) অর্থহীন বা বেসুরো (গ) খুব দুঃখের (ঘ) রবীন্দ্রসংগীত
উত্তর: (খ) অর্থহীন বা বেসুরো
৩০. ন্যাড়া আজকাল কোন গান গায় বলে জানিয়েছিল?
(ক) নাইনিতালের নতুন আলু (খ) শিখিপাখার গান (গ) ফুটপাথে ধুমধাম (ঘ) ঘুমের গান
উত্তর: (খ) শিখিপাখার গান
৩১. "বাদুড় বলে ওরে ও ভাই..." শূন্যস্থানে কী হবে?
(ক) প্যাঁচা (খ) শজারু (গ) বাঁদর (ঘ) শেয়াল
উত্তর: (খ) শজারু
৩২. ন্যাড়ার গানে 'মজারু' শব্দ শুনে কে আপত্তি করেছিল?
(ক) গল্পকথক (খ) ছাগল (গ) কুমির (ঘ) প্যাঁচা
উত্তর: (ক) গল্পকথক
৩৩. কে রুল উঁচিয়ে 'মানহানির মোকদ্দমা' বলে চিৎকার করে উঠেছিল?
(ক) শেয়াল (খ) কুমির (গ) তকমা-আঁটা পাগড়ি-বাঁধা কোলাব্যাং (ঘ) শজারু
উত্তর: (গ) তকমা-আঁটা পাগড়ি-বাঁধা কোলাব্যাং
৩৪. মানহানির মোকদ্দমায় বিচারক কে ছিল?
(ক) কুমির (খ) শেয়াল (গ) কালো ঝোল্লা-পরা হুতোমপ্যাঁচা (ঘ) কোলাব্যাং
উত্তর: (গ) কালো ঝোল্লা-পরা হুতোমপ্যাঁচা
৩৫. মানহানির মোকদ্দমায় ফরিয়াদি (অভিযোগকারী) কে ছিল?
(ক) শজারু (খ) ছাগল (গ) ন্যাড়া (ঘ) কাক
উত্তর: (ক) শজারু
৩৬. বিচারসভায় শজারুর উকিল কে ছিল?
(ক) প্যাঁচা (খ) কুমির (গ) শেয়াল (ঘ) কাক
উত্তর: (খ) কুমির
৩৭. হিজি বিজ্ বিজ্ সাক্ষী দেওয়ার জন্য কত পয়সা পেয়েছিল?
(ক) দু-আনা (খ) চার আনা (ষোলো পয়সা) (গ) দশ পয়সা (ঘ) আট আনা
উত্তর: (খ) চার আনা (ষোলো পয়সা)
৩৮. "জুতোর নাম ছিল 'অবিমৃষ্যকারিতা'..." - এই অদ্ভুত নামকরণ কে করত?
(ক) শেয়াল (খ) হিজি বিজ্ বিজের এক পরিচিত লোক (মাথার ব্যারাম ছিল) (গ) কাক (ঘ) কুমির
উত্তর: (খ) হিজি বিজ্ বিজের এক পরিচিত লোক (মাথার ব্যারাম ছিল)
৩৯. লোকটির বাড়ির নাম 'কিংকর্তব্যবিমূঢ়' দেওয়ার পর কী হয়েছিল?
(ক) বাড়িটি বিক্রি হয়ে যায় (খ) ভূমিকম্প হয়ে বাড়িটাড়ি সব পড়ে যায় (গ) সবাই হাসতে থাকে (ঘ) রং নষ্ট হয়ে যায়
উত্তর: (খ) ভূমিকম্প হয়ে বাড়িটাড়ি সব পড়ে যায়
৪০. হিজি বিজ্ বিজের নাম সকালে কী থাকে?
(ক) রামতাড়ু (খ) আলু নারকোল (গ) বিস্কুট (ঘ) শ্রীনিবাস
উত্তর: (খ) আলু নারকোল
৪১. বিচারসভায় কুমির রেগে গিয়ে কাকে খেয়ে ফেলেছিল?
(ক) ছুঁচোকে (খ) কোলাব্যাংকে (গ) কাককে (ঘ) শজারুকে
উত্তর: (খ) কোলাব্যাংকে
৪২. মানহানির মোকদ্দমায় ভুলিয়ে-ভালিয়ে কাকে আসামি দাঁড় করানো হলো?
(ক) ন্যাড়াকে (খ) বুড়োকে (গ) ছাগলকে (ঘ) উধোকে
উত্তর: (ক) ন্যাড়াকে
৪৩. প্যাঁচা ন্যাড়াকে কী শাস্তি দিয়েছিল?
(ক) এক বছরের জেল (খ) তিনমাস জেল আর সাতদিনের ফাঁসি (গ) জরিমানা (ঘ) নির্বাসন
উত্তর: (খ) তিনমাস জেল আর সাতদিনের ফাঁসি
৪৪. শাস্তির কথা শুনে কে 'ব্যাকরণ শিং' বলে তেড়ে এসে গল্পকথককে গুঁতো মেরেছিল?
(ক) শেয়াল (খ) ছাগল (গ) কুমির (ঘ) প্যাঁচা
উত্তর: (খ) ছাগল
৪৫. গল্পকথকের ঘুম ভাঙলে সে ছাগলের বদলে কাকে দেখতে পেয়েছিল?
(ক) বড়োমামাকে (খ) মেজোমামাকে (গ) বাবাকে (ঘ) শিক্ষককে
উত্তর: (খ) মেজোমামাকে
৪৬. মেজোমামা গল্পকথকের কী ধরেছিলেন?
(ক) হাত (খ) কান (গ) চুল (ঘ) কলার
উত্তর: (খ) কান
৪৭. মেজোমামা কী পড়ার নাম করে ঘুমানোর কথা বলেছিলেন?
(ক) ইতিহাস (খ) ব্যাকরণ (গ) অঙ্ক (ঘ) ভূগোল
উত্তর: (খ) ব্যাকরণ
৪৮. ঘুম ভাঙার পর ছেলেটি বেড়ার ওপর কী দেখেছিল?
(ক) রুমাল (খ) একটি বেড়াল গোঁফে তা দিচ্ছে (গ) ছাগল (ঘ) পাখি
উত্তর: (খ) একটি বেড়াল গোঁফে তা দিচ্ছে
৪৯. ছেলেটি কার কাছে তার স্বপ্নের কথা বলেছিল?
(ক) মায়ের কাছে (খ) বড়োমামার কাছে (গ) মেজোমামার কাছে (ঘ) বন্ধুর কাছে
উত্তর: (খ) বড়োমামার কাছে
৫০. বড়োমামা স্বপ্নের কথা শুনে কী বলেছিলেন?
(ক) খুব সুন্দর স্বপ্ন (খ) বাজে স্বপ্ন দেখে গল্প করতে এসেছে (গ) বিশ্বাস করেছিলেন (ঘ) ভয় পেয়েছিলেন
উত্তর: (খ) বাজে স্বপ্ন দেখে গল্প করতে এসেছে

৫. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন

১. 'হযবরল' বইটি কার লেখা?
উত্তর: 'হযবরল' বইটি বাংলা শিশুসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রূপকার সুকুমার রায়ের লেখা।
২. ঘাসের ওপর রাখা রুমালটা তুলতে গিয়ে ছেলেটি কী দেখেছিল?
উত্তর: ঘাসের ওপর রাখা রুমালটা তুলতে গিয়ে ছেলেটি দেখেছিল যে রুমালটা একটি মোটাসোটা লাল টকটকে বেড়ালে পরিণত হয়েছে।
৩. বেড়ালের মতে 'চন্দ্রবিন্দু', 'বেড়াল' আর 'রুমাল' মিলে কী হয়?
উত্তর: বেড়ালের আজগুবি যুক্তি অনুযায়ী চন্দ্রবিন্দুর 'চ', বেড়ালের 'শ' (তালব্য শ), আর রুমালের 'মা' মিলে হয় 'চশমা'।
৪. গরম লাগলে বেড়ালটা কোথায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল?
উত্তর: গরম লাগলে বেড়ালটা ছেলেটিকে তিব্বত যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল।
৫. গেছোদাদা কোথায় থাকে?
উত্তর: বেড়ালের কথা অনুযায়ী, গেছোদাদা গাছে থাকে।
৬. গেছোদাদার সঙ্গে দেখা করা শক্ত কেন?
উত্তর: কারণ গেছোদাদা কোনো এক জায়গায় স্থির থাকে না। কেউ উলুবেড়ে গেলে সে মতিহারি চলে যায়, আবার মতিহারি গেলে রামকিষ্টপুরে চলে যায়।
৭. দাঁড়কাকটি কী দিয়ে শ্লেটে হিসেব করছিল?
উত্তর: দাঁড়কাকটি শ্লেট পেনসিল দিয়ে শ্লেটের উপর হিসেব করছিল।
৮. কাকের মতে "সাত দু-গুণে চোদ্দো" হয় না কেন?
উত্তর: কাকের আজগুবি হিসেবে সময়ের দাম খুব বেশি। তাই সে বলেছিল, "সাত দু-গুণে চোদ্দোর নামে চার, হাতে রইল পেনসিল!"
৯. গাছের ফোকর থেকে নামা বুড়োটির দাড়ি ও মাথার বর্ণনা দাও।
উত্তর: বুড়োটি ছিল দেড় হাত লম্বা, তার দাড়ি পা পর্যন্ত লম্বা ও সবুজ রঙের ছিল এবং তার মাথাভরা টাক ছিল যার ওপর খড়ি দিয়ে কীসব লেখা ছিল।
১০. বুড়োর ফিতের মাপে সবকিছু কত ইঞ্চি হতো এবং কেন?
উত্তর: বুড়োর ফিতের মাপে সবকিছুই ছাব্বিশ ইঞ্চি হতো, কারণ ফিতের অন্য সব লেখা উঠে গিয়ে শুধু '২৬' লেখাটা পড়া যাচ্ছিল।
১১. বুড়োর মতে মানুষের বয়স কখন থেকে কমতে শুরু করে?
উত্তর: বুড়োর মতে, মানুষের বয়স চল্লিশ বছর হলেই তা ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং বয়স একচল্লিশ না হয়ে উনচল্লিশ, আটত্রিশ করে কমতে থাকে।
১২. বুড়োর বর্তমান বয়স কত এবং কেন?
উত্তর: বুড়োর বর্তমান বয়স তেরো বছর, কারণ তার বয়স চল্লিশে পৌঁছানোর পর কমতে কমতে তেরো-তে এসে দাঁড়িয়েছে।
১৩. শ্রীকাক্কেশ্বর কুচকুচে কে?
উত্তর: শ্রীকাক্কেশ্বর কুচকুচে হলো একটি দাঁড়কাক, যে বিজ্ঞাপনের কাগজ বিলি করত এবং অদ্ভুত সব হিসেব কষত।
১৪. কাক্কেশ্বর কুচকুচের ঠিকানা কী ছিল?
উত্তর: কাক্কেশ্বর কুচকুচের ঠিকানা ছিল— ৪১ নং গেছোবাজার, কাগেয়াপটি।
১৫. কাকের বিজ্ঞাপনে শিশুদের জন্য কী সুবিধা দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: কাকের বিজ্ঞাপনে শিশুদের গণনার কার্যের জন্য 'চিলড্রেন হাফ প্রাইস' অর্থাৎ অর্ধমূল্য বা অর্ধেক দামের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
১৬. কাককে 'টেকো মাথা' বললে বুড়ো কী করত?
উত্তর: কাককে 'টেকো মাথা' বললে বুড়ো রেগে গিয়ে হুঁকো দিয়ে এক বাড়ি মেরে তার শ্লেট ফাটিয়ে দেওয়ার হুমকি দিত।
১৭. কাকের হিসেব পড়ে বুড়োর কেমন লেগেছিল?
উত্তর: কাকের হিসেব পড়ে বুড়োর তা আবোল-তাবোল লেগেছিল এবং সে রেগে গিয়েছিল।
১৮. উধো আর বুধো কে?
উত্তর: উধো আর বুধো হলো দুজন যমজ বুড়ো, যারা দেখতে অবিকল একই রকম এবং তারা একে অপরের ঘাড়ে বোঝা চাপিয়ে মারামারি করত।
十九. "উধোর বোঝা বুধোর ঘাড়ে।" - এর অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো, একজনের কাজের দায়িত্ব বা বোঝা জোর করে অন্যজনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া।
২০. হিজি বিজ্ বিজ্ দেখতে কেমন ছিল?
উত্তর: হিজি বিজ্ বিজ্-কে দেখে বোঝা যাচ্ছিল না সে মানুষ না বাঁদর, প্যাঁচা না ভূত। সে অদ্ভুত দর্শন একটি জন্তু ছিল।
২১. হিজি বিজ্ বিজ্ কী নিয়ে হাসছিল?
উত্তর: হিজি বিজ্ বিজ্ সম্পূর্ণ অবাস্তব ও আজগুবি সব ঘটনার কথা (যেমন- পৃথিবী চ্যাপটা হয়ে কাদায় পরিণত হওয়া) কল্পনা করে ফ্যাকফ্যাক করে হাসছিল।
২২. হিজি বিজ্ বিজের সব আত্মীয়স্বজনের নাম কী ছিল?
উত্তর: হিজি বিজ্ বিজের মতে, তার বাবা, ভাই, পিসে সকলের নামই ছিল 'হিজি বিজ্ বিজ্'।
২৩. শ্রীব্যাকরণ শিং কে?
উত্তর: শ্রীব্যাকরণ শিং হলো একটি মস্ত দাড়িওয়ালা ছাগল, যে নিজেকে 'বি.এ. খাদ্যবিশারদ' বলে দাবি করত।
২৪. ব্যাকরণ শিং কী কী জিনিস খেত?
উত্তর: ব্যাকরণ শিং কাগজের ঠোঙা, নারকেলের ছোবড়া, সন্দেশের মতো মাসিক পত্রিকা, পেনসিল, রবার, বোতলের ছিপি ইত্যাদি খেত।
২৫. ন্যাড়া লোকটি কী গান গেয়েছিল?
উত্তর: ন্যাড়া লোকটি সরু গলায় বেসুরো ভাবে "লাল গানে নীল সুর, হাসি হাসি গন্ধ" এবং "শিখিপাখার গান" গেয়েছিল।
২৬. ন্যাড়ার গানে 'মজারু' শব্দটি শুনে লেখক কী বলেছিলেন?
উত্তর: লেখক আপত্তি করে বলেছিলেন যে 'মজারু' বলে কোনো কথা বাংলা অভিধানে হয় না।
২৭. কে 'মানহানির মোকদ্দমা' বলে চিৎকার করে উঠেছিল?
উত্তর: একটি তকমা-আঁটা পাগড়ি-বাঁধা কোলাব্যাং হঠাৎ রুল উঁচিয়ে 'মানহানির মোকদ্দমা' বলে চিৎকার করে উঠেছিল।
২৮. মোকদ্দমায় বিচারক কে ছিল এবং সে কী করছিল?
উত্তর: মোকদ্দমায় বিচারক ছিল একটি কালো ঝোল্লা-পরা হুতোমপ্যাঁচা, সে উঁচু পাথরের ওপর বসে চোখ বুজে ঢুলছিল।
২৯. মোকদ্দমায় ফরিয়াদি ও উকিল কারা ছিল?
উত্তর: মোকদ্দমায় ফরিয়াদি বা অভিযোগকারী ছিল একটি শজারু এবং তার উকিল ছিল একটি শামলাপরা কুমির।
৩০. হিজি বিজ্ বিজ্ সাক্ষী দেওয়ার জন্য কত টাকা পেয়েছিল?
উত্তর: হিজি বিজ্ বিজ্ সাক্ষী দেওয়ার জন্য কুমিরের কাছ থেকে নগদ চার আনা (ষোলো পয়সা) পেয়েছিল।
৩১. হিজি বিজ্ বিজের পরিচিত লোকটির জুতোর নাম কী ছিল?
উত্তর: হিজি বিজ্ বিজের পরিচিত লোকটির জুতোর নাম ছিল 'অবিমৃষ্যকারিতা'।
৩২. লোকটির বাড়ির নাম 'কিংকর্তব্যবিমূঢ়' রাখার পর কী ঘটেছিল?
উত্তর: লোকটির বাড়ির নাম 'কিংকর্তব্যবিমূঢ়' রাখার পরই ভূমিকম্প হয়ে বাড়িটাড়ি সব পড়ে গিয়েছিল।
৩৩. সকালে ও বিকেলে হিজি বিজ্ বিজের নাম কী থাকে?
উত্তর: সকালে তার নাম থাকে 'আলু নারকোল' এবং বিকেলে তার নাম হয়ে যায় 'রামতাড়ু'।
৩৪. বিচারসভায় কুমির রেগে গিয়ে কী করেছিল?
উত্তর: বিচারসভায় গোলমাল বেধে যাওয়ায় কুমির রেগে গিয়ে টপ করে কোলাব্যাংকে খেয়ে ফেলেছিল।
৩৫. মোকদ্দমায় কাকে আসামি দাঁড় করানো হয়েছিল এবং কেন?
উত্তর: মোকদ্দমায় কোনো আসামি না থাকায় ভুলিয়ে-ভালিয়ে বোকা ন্যাড়াকে আসামি দাঁড় করানো হয়েছিল।
৩৬. ন্যাড়ার কী শাস্তি হয়েছিল?
উত্তর: বিচারে ন্যাড়ার তিনমাস জেল আর সাতদিনের ফাঁসির হুকুম হয়েছিল।
৩৭. শাস্তির কথা শুনে ছাগলটা কী করেছিল?
উত্তর: শাস্তির কথা শুনে ছাগলটা 'ব্যাকরণ শিং' বলে তেড়ে এসে গল্পকথককে গুঁতো মেরে তার কান কামড়ে দিয়েছিল।
৩৮. ছাগলের মুখটা বদলে গিয়ে কার মতো হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: ছাগলের মুখটা ক্রমে বদলে গিয়ে গল্পকথকের মেজোমামার মতো হয়ে গিয়েছিল।
৩৯. ঘুম ভাঙার পর গল্পকথক কী বুঝতে পেরেছিল?
উত্তর: ঘুম ভাঙার পর গল্পকথক বুঝতে পেরেছিল যে এতক্ষণ সে যা দেখছিল তা আসলে একটি স্বপ্ন ছিল এবং ব্যাকরণ পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ায় মেজোমামা তার কান মলে দিচ্ছেন।
৪০. বড়োমামা স্বপ্নের কথা শুনে কী বলেছিলেন?
উত্তর: বড়োমামা স্বপ্নের কথা অবিশ্বাস করে বলেছিলেন যে, সে কতগুলো বাজে স্বপ্ন দেখে তাই নিয়ে গল্প করতে এসেছে।

৬. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০ টি প্রশ্ন

১. 'হযবরল' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর: 'হযবরল' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো বিশৃঙ্খলা বা চরম গোলমাল। সুকুমার রায়ের লেখা এই শিশুতোষ রচনাটির পরতে পরতে রয়েছে ননসেন্স বা আজগুবি কল্পনার ছোঁয়া, যেখানে বাস্তব পৃথিবীর কোনো নিয়মকানুনই খাটে না।

গল্পটি একটি স্বপ্নদৃশ্য দিয়ে শুরু হয়। একটি সাধারণ রুমাল হঠাৎ বেড়াল হয়ে যায়। কাক অঙ্কের নিয়মে 'সাত দুগুণে চোদ্দো' না বলে উদ্ভট হিসেব দেয়। বুড়ো ফিতে দিয়ে মেপে সব কিছুর মাপ 'ছাব্বিশ ইঞ্চি' বের করে এবং বলে যে চল্লিশ বছর বয়স হলে মানুষের বয়স আবার কমতে থাকে। ছাগল নিজেকে 'খাদ্যবিশারদ' বলে দাবি করে এবং ন্যাড়া অর্থহীন গান গায়। সবশেষে এক আজব মানহানির মোকদ্দমা শুরু হয়, যার বিচারক এক ঘুমন্ত প্যাঁচা এবং আসামি এমন একজন যে কোনো অপরাধই করেনি। আসামির শাস্তি হয় "তিন মাস জেল আর সাত দিনের ফাঁসি"।

এই প্রতিটি ঘটনা যুক্তির অতীত এবং চরম খাপছাড়া। গল্পের এই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলা আগাগোড়া বিশৃঙ্খলা, অসংলগ্নতা এবং হাস্যকর গোলযোগের কারণেই বইটির নাম 'হযবরল' রাখা হয়েছে, যা বিষয়বস্তুর সাথে সম্পূর্ণ সাযুজ্যপূর্ণ ও সার্থক।

২. "চল্লিশ বছর হলেই আমরা বয়েস ঘুরিয়ে দিই।" - এই অদ্ভুত নিয়মের প্রবর্তক কে? তার এই নিয়মটির বিস্তারিত বর্ণনা দাও।

উত্তর: প্রবর্তক: সুকুমার রায়ের 'হযবরল' গল্পে এই অদ্ভুত নিয়মটির কথা শুনিয়েছিল গাছের ফোকর থেকে নেমে আসা এক দেড় হাত লম্বা, সবুজ দাড়িওয়ালা এবং টাক-পড়া বুড়ো।

নিয়মটির বর্ণনা: বাস্তব পৃথিবীতে মানুষের বয়স সময়ের সাথে সাথে কেবল বাড়তেই থাকে এবং একসময় মানুষ বৃদ্ধ হয়ে মারা যায়। কিন্তু বুড়োর আজগুবি রাজ্যে বয়সের হিসেব সম্পূর্ণ উলটো। বুড়োর মতে, বয়স যদি কেবল বাড়তেই থাকে, তবে তো একসময় মানুষ আশি-নব্বই বছর পার করে বুড়ো হয়ে মরে যাবে! এই মৃত্যুভয় এড়াতেই তারা এক অদ্ভুত নিয়ম চালু করেছে। তাদের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মানুষের বয়স যখন চল্লিশে পৌঁছায়, তখন তারা বয়সটাকে আর বাড়তে দেয় না, বরং 'ঘুরিয়ে দেয়'। অর্থাৎ, চল্লিশের পর বয়স একচল্লিশ না হয়ে উনচল্লিশ, আটত্রিশ, সাঁইত্রিশ করে পেছনের দিকে নামতে থাকে। নামতে নামতে যখন বয়স দশ বছরে পৌঁছায়, তখন আবার তাকে বাড়তে দেওয়া হয়। এই আজগুবি নিয়মের ফলেই বুড়োটি দাবি করেছিল যে তার বর্তমান বয়স হলো মাত্র তেরো বছর! এটি লেখকের এক অসামান্য ফ্যান্টাসি বা কল্পনার ফসল।

৩. 'হযবরল' গল্পে শ্রীকাক্কেশ্বর কুচকুচে-র পরিচয় এবং তার আজগুবি হিসেবের বিবরণ দাও।

উত্তর: কাক্কেশ্বর কুচকুচে-র পরিচয়: শ্রীকাক্কেশ্বর কুচকুচে হলো 'হযবরল' গল্পের একটি মজাদার চরিত্র। সে মূলত একটি দাঁড়কাক। তার ঠিকানা হলো ৪১ নং গেছোবাজার, কাগেয়াপটি। সে বিজ্ঞাপনের কাগজ বিলি করে এবং নিজেকে 'সনাতন বায়স বংশীয় দাঁড়ি কুলীন' বলে দাবি করে। তার পেশা হলো বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় হিসাবি ও বেহিসাবি সমস্ত গণনার কাজ করা।

তার আজগুবি হিসেব: কাক্কেশ্বর কুচকুচের অঙ্কের হিসেব সাধারণ গণিতের নিয়ম মানে না। গল্পকথক যখন বলে 'সাত দু-গুণে চোদ্দো', তখন কাক তা নাকচ করে দেয়। কাকের মতে, সময়ের সাথে সাথে অঙ্কের মানও পরিবর্তিত হয়। সে বলে, "সাত দু-গুণে চোদ্দোর নামে চার, হাতে রইল পেনসিল!" অর্থাৎ, সে গুণের সাথে যোগ, বিয়োগ, টাকা-আনা-পাই সবকিছু গুলিয়ে ফেলে। এছাড়া, সে যখন দূরত্বের হিসেব দেয়, তখন বলে, "ঘণ্টা হিসেবে চার আনা, মাইল হিসেবে দশ পয়সা... যোগ করলে দশ আনা, বিয়োগ করলে তিন আনা, ভাগ করলে সাত পয়সা, গুণ করলে একুশ টাকা।" এই চরম অর্থহীন ও অবাস্তব হিসেবগুলোই সুকুমার রায়ের ননসেন্স রচনার অন্যতম আকর্ষণ।

৪. উধো আর বুধো কে? তাদের কীর্তিকলাপ নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।

উত্তর: উধো ও বুধোর পরিচয়: 'হযবরল' গল্পে উধো আর বুধো হলো দুজন যমজ বুড়ো। তারা দেখতে অবিকল একই রকম, তাদের আলাদা করে চেনার কোনো উপায় নেই।

তাদের কীর্তিকলাপ: উধো আর বুধোর প্রধান কাজ হলো একে অপরের ঘাড়ে একটি প্রকাণ্ড বোঁচকা বা বোঝা চাপিয়ে দিয়ে মারামারি করা। গল্পকথক দেখতে পায়, গাছের ফোকর থেকে এক প্রকাণ্ড বোঁচকার নীচে চাপা পড়ে একজন বুড়ো (বুধো) হাত-পা ছুঁড়ছে। আর ঠিক তার মতোই দেখতে অন্য একজন বুড়ো (উধো) বোঁচকার ওপর চেপে বসে তাকে হুঁকো দিয়ে ধাঁই ধাঁই করে মারছে। এর কারণ হলো, উধো তার নিজের বোঝাটি চালাকি করে বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। বাংলা প্রবাদ 'উধোর বোঝা বুধোর ঘাড়ে'-এর এই আক্ষরিক রূপায়ণ তারা নিজেদের মধ্যে ঘটিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, কিছুক্ষণ ধপাধপ মারামারি করার পর, তারা দুজনেই হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে। তারপর তারা একে অপরের গলা জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করে এবং দিব্যি খোশমেজাজে আবার গাছের ফোকরে ঢুকে যায়। তাদের এই খাপছাড়া আচরণ গল্পটিকে অত্যন্ত হাস্যকর করে তুলেছে।

৫. হিজি বিজ্ বিজ্ চরিত্রটির বর্ণনা দাও। সে কেন সারাক্ষণ হাসত?

উত্তর: হিজি বিজ্ বিজের বর্ণনা: সুকুমার রায়ের 'হযবরল' গল্পের অন্যতম মজাদার একটি চরিত্র হলো 'হিজি বিজ্ বিজ্'। তাকে দেখতে অত্যন্ত অদ্ভুত। সে মানুষ না বাঁদর, প্যাঁচা না ভূত, তা ঠিক করে বোঝা যায় না। তার সমস্ত আত্মীয়স্বজনের (বাবা, ভাই, পিসে) নামই হলো হিজি বিজ্ বিজ্। এমনকি দিনের বিভিন্ন সময়ে তার নিজের নামও পালটে যায়—সকালে থাকে 'আলু নারকোল' আর বিকেলে হয়ে যায় 'রামতাড়ু'।

হাসার কারণ: হিজি বিজ্ বিজ্ সারাক্ষণ হাত-পা ছুঁড়ে ফ্যাকফ্যাক করে হাসত এবং হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ত। তার হাসির কারণ কোনো সাধারণ জোকস বা মজার ঘটনা ছিল না। সে সম্পূর্ণ অবাস্তব, অসম্ভব ও আজগুবি সব পরিস্থিতি কল্পনা করে হাসত। যেমন, পৃথিবীটা যদি চ্যাপটা হয়ে কাদায় পরিণত হয় আর মানুষ ধপাধপ আছাড় খায়, অথবা কেউ যদি কুলপি বরফ খেতে গিয়ে ভুল করে সাজিমাটি খেয়ে ফেলে, কিংবা রামছাগল যদি টিকটিকি খেয়ে ফেলে—এমন অদ্ভুত ও অবাস্তব চিন্তাই ছিল তার হাসির একমাত্র খোরাক। এটি আসলে শিশুদের বাঁধনহারা কল্পনার জগতেরই এক সুন্দর প্রতীক।

৬. শ্রীব্যাকরণ শিং কে? তার খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সে কী বক্তৃতা দিয়েছিল তা লেখো।

উত্তর: শ্রীব্যাকরণ শিং-এর পরিচয়: 'হযবরল' গল্পে শ্রীব্যাকরণ শিং হলো একটি মস্ত দাড়িওয়ালা ছাগল। সে খুব চমৎকার 'ব্যা' করতে পারে বলে নিজের নামের সাথে 'বি.এ.' ডিগ্রি জুড়ে নিয়েছে এবং নিজেকে 'খাদ্যবিশারদ' বলে দাবি করে।

তার খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বক্তৃতা: ব্যাকরণ শিং মানুষের একটি প্রচলিত প্রবাদ— "পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়"-এর তীব্র প্রতিবাদ করে একটি দীর্ঘ বক্তৃতা দেয়। সে জানায় যে ছাগলরা সবকিছু খায় না। টিকটিকি, খাট-পালং, টেবিল-চেয়ার, শিশি-বোতল বা মজবুত বাঁধানো বই তারা কখনও খায় না। তবে তারা কিছু নির্দিষ্ট আজব জিনিস খেতে ভালোবাসে। যেমন, খাবারের কাগজের ঠোঙা, নারকেলের ছোবড়া, সন্দেশের মতো ভালো মাসিক পত্রিকা, লেপ-কম্বল, তোশক-বালিশ, পেনসিল, রবার, বোতলের ছিপি, শুকনো জুতো এবং ক্যাম্বিসের ব্যাগ। সে আরও গর্ব করে জানায় যে তার ঠাকুরদাদা একবার এক সাহেবের আধখানা তাঁবু খেয়ে ফেলেছিল। এই বক্তৃতার মধ্য দিয়ে ছাগলের স্বভাব নিয়ে লেখক চরম হাস্যরসের সৃষ্টি করেছেন।

৭. 'হযবরল' গল্পে মানহানির মোকদ্দমার বিচারসভার যে আজগুবি চিত্র ফুটে উঠেছে, তা বর্ণনা করো।

উত্তর: 'হযবরল' গল্পের শেষাংশে এক চরম হাস্যকর ও আজগুবি মানহানির মোকদ্দমার দৃশ্য দেখা যায়।

এই বিচারসভায় কোনো নিয়ম বা শৃঙ্খলা ছিল না। বিচারক ছিল একটি কালো ঝোল্লা-পরা হুতোমপ্যাঁচা, যে উঁচু পাথরে বসে চোখ বুজে ঢুলছিল। ফরিয়াদি বা অভিযোগকারী ছিল একটি শজারু, আর তার উকিল ছিল একটি কুমির। কুমিরটি খামোখাই চোখে নখ দিয়ে খিমচিয়ে কান্নার ভান করে (কুমিরের কান্না) মোকদ্দমা শুরু করে এবং 'মান' মানে যে 'কচু', তা নিয়ে লম্বা বকতে শুরু করে।
সাক্ষী দেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। হিজি বিজ্ বিজ্ চার আনা পয়সা ঘুষ নিয়ে সাক্ষী দিতে এসে আবোল-তাবোল হাসতে থাকে। কাক্কেশ্বর কুচকুচে বিনা ডাকাই সাক্ষী দিতে শুরু করে। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মোকদ্দমায় কোনো আসামিই ছিল না! তাই বিচারক প্যাঁচা ন্যাড়া লোকটিকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে আসামি দাঁড় করায়। অবশেষে কোনো প্রমাণ, যুক্তি বা কারণ ছাড়াই প্যাঁচা রায় ঘোষণা করে— "ন্যাড়ার তিনমাস জেল আর সাতদিনের ফাঁসি।" এই সম্পূর্ণ অর্থহীন ও চরম বিশৃঙ্খল বিচারব্যবস্থা আসলে আমাদের সমাজের বিচার প্রক্রিয়ার এক প্রচ্ছন্ন ব্যঙ্গাত্মক রূপ।

৮. "একটা ন্যাড়ামাথা কে-যেন যাত্রার জুড়ির মতো চাপকান আর পায়জামা পরে..." - লোকটির গানের বর্ণনা দাও।

উত্তর: সুকুমার রায়ের 'হযবরল' গল্পে বর্ণিত ন্যাড়ামাথা লোকটি ছিল অত্যন্ত বেহায়া ও বেসুরো একজন গায়ক।

গল্পকথক কোনো আগ্রহ না দেখালেও, লোকটি ঘাড় বাঁকিয়ে জোর করেই তাকে গান শোনাতে শুরু করে। সে পকেট থেকে গানের কাগজের তাড়া বের করে সরু গলায় চিৎকার করে গান ধরে— "লাল গানে নীল সুর, হাসি হাসি গন্ধ।" এই একটিমাত্র লাইন সে বারবার গাইতে থাকে। তার অন্যান্য গানগুলিও ছিল অদ্ভুত ও অর্থহীন, যেমন— "অলিগলি চলি রাম, ফুটপাথে ধুমধাম, কালি দিয়ে চুনকাম" অথবা "নাইনিতালের নতুন আলু"। বর্তমানে সে যে 'শিখিপাখার গান'টি গাইছিল, তার কথাও ছিল চরম অবাস্তব— "শিশি বোতল ছিপি-ঢাকা সরু সরু গানে গানে/ আলাভোলা বাঁকা আলো আধো আধো কতদূরে।" এই গানের কোনো মাথামুন্ডু বা অর্থ ছিল না। এটি কেবল শব্দ নিয়ে খেলা। তার গানের কথায় শজারু, কাঙ্গারু, দেবদারুর সাথে মিলিয়ে 'মজারু' শব্দটি ব্যবহার করা হয়, যা অভিধানে নেই। ন্যাড়ার এই উদ্ভট গানগুলো ননসেন্স রচনার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

৯. "ব্যাকরণ শিখবার নাম করে বুঝি পড়ে-পড়ে ঘুমোনো হচ্ছে?" - উক্তিটির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে গল্পের সমাপ্তি কীভাবে ঘটল তা লেখো।

উত্তর: প্রেক্ষাপট: 'হযবরল' গল্পের একেবারে শেষ দৃশ্যে যখন আজগুবি বিচারসভায় ন্যাড়ার 'তিনমাস জেল আর সাতদিনের ফাঁসি'র হুকুম হয়, তখন গল্পকথক এই অন্যায় বিচারের প্রতিবাদ করতে চায়। ঠিক সেই সময় 'শ্রীব্যাকরণ শিং' নামের ছাগলটি তেড়ে এসে গল্পকথককে গুঁতো মারে এবং তার কান কামড়ে দেয়। এই কান কামড়ে দেওয়ার মুহূর্তেই উপর্যুক্ত উক্তিটি শোনা যায়।

গল্পের সমাপ্তি: ছাগলের কামড় খাওয়ার পর গল্পকথকের মনে হতে থাকে চারদিক কেমন ঘুলিয়ে যাচ্ছে। সে দেখে ছাগলটার মুখটা ধীরে ধীরে তার মেজোমামার মতো হয়ে যাচ্ছে। আসলে গল্পকথক এতক্ষণ জেগে ছিল না, সে ব্যাকরণ বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ে একটি আজগুবি স্বপ্ন দেখছিল। স্বপ্নে দেখা 'শ্রীব্যাকরণ শিং' ছাগলটি আসলে তার পঠিত 'ব্যাকরণ' বইয়েরই প্রতিফলন। মেজোমামা তাকে ঘুমোতে দেখে তার কান মলে দিয়েছিলেন, আর স্বপ্নে সেটাই ছাগলের কামড় বলে মনে হয়েছিল। ঘুম ভেঙে ছেলেটি দেখে রুমাল রুমালই আছে, কোনো বেড়াল নেই। সে বড়োমামাকে স্বপ্নের কথা জানালে বড়োমামা তাকে বাজে স্বপ্ন দেখার জন্য বকাবকি করেন। এভাবেই চরম বাস্তবের মাটিতে ফিরে এসে একটি চমৎকার স্বপ্নের গল্পের সমাপ্তি ঘটে।

১০. 'হযবরল' গল্পে সুকুমার রায়ের 'ননসেন্স' (Nonsense) বা খেয়ালরসের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা আলোচনা করো।

উত্তর: সুকুমার রায়ের 'হযবরল' বাংলা সাহিত্যে ননসেন্স বা খেয়ালরসের এক অদ্বিতীয় দৃষ্টান্ত। ননসেন্স মানে নিছক অর্থহীনতা নয়, বরং এক বিশেষ যুক্তিতে তৈরি অবাস্তব ও কল্পনার জগত, যা শিশুদের মনকে আনন্দ দেয়।

এই গল্পে আমরা দেখি, রুমাল হঠাৎ বেড়াল হয়ে যাচ্ছে। বেড়াল চন্দ্রবিন্দু, শ এবং মা দিয়ে 'চশমা' বানাচ্ছে। কাক অঙ্কের নিয়মে সাত দুগুণে চোদ্দো না বলে আজগুবি হিসেব দিচ্ছে। বয়স বাড়ার বদলে চল্লিশের পর কমতে শুরু করছে। উধো আর বুধো নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আবার কোলাকুলি করছে। হিজি বিজ্ বিজ্ চরম অসম্ভব কথা ভেবে হাসছে। ছাগল নিজেকে বি.এ. পাশ খাদ্যবিশারদ দাবি করে বক্তৃতা দিচ্ছে। প্যাঁচার বিচারসভায় ফরিয়াদি, সাক্ষী, উকিল সবাই আবোল-তাবোল বকছে এবং বিনা অপরাধে ন্যাড়াকে ফাঁসির হুকুম দেওয়া হচ্ছে।
এখানে বাস্তব পৃথিবীর কোনো বাঁধাধরা নিয়ম বা যুক্তি খাটে না। শব্দ নিয়ে খেলা, ছন্দের কারিকুরি এবং যুক্তির উলটপুরাণ ঘটিয়ে লেখক এমন এক স্বপ্নজগত তৈরি করেছেন, যা পাঠকদের হাসিতে ভরিয়ে দেয়। এই বাধাহীন, উন্মুক্ত ও হাস্যরসাত্মক কল্পনার জগতই হলো সুকুমার রায়ের ননসেন্স সাহিত্যের মূল ভিত্তি।

৭. ব্যাকরণ ও নির্মিতি (Grammar) ১০ টি প্রশ্ন

কারক ও অকারক সম্পর্ক

  • ঘাসের উপর রুমালটা ছিল... - অধিকরণ কারকে 'এর' বিভক্তি।
  • বেড়াল এক চোখ বুজে হাসতে লাগল। - কর্তৃকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
  • একটা দাঁড়কাক শ্লেট পেনসিল দিয়ে কী যেন লিখছে... - করণ কারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
  • সময়ের দাম কীরকম? - সম্বন্ধ পদে 'এর' বিভক্তি (অকারক)।
  • ন্যাড়াকে আসামি দাঁড় করানো হলো। - কর্মকারকে 'কে' বিভক্তি।

সমাস ও সন্ধি বিচ্ছেদ

  • খাদ্যবিশারদ: খাদ্যে বিশারদ (সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)।
  • মানহানি: মানের হানি (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।
  • দাঁড়কাক: দাঁড় (দাঁড়টানা) কাক (কর্মধারয় সমাস)।
  • মোকদ্দমা: (সন্ধি) - এটি ফারসি শব্দ, এর সন্ধি বিচ্ছেদ হয় না।
  • প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব: প্রতি + উৎপন্ন + মতিত্ব (সন্ধি)।

বাক্য পরিবর্তন

  • বাক্য: ঘাসের উপর রুমালটা ছিল, ঘাম মুছবার জন্য যেই সেটা তুলতে গিয়েছি অমনি রুমালটা বলল, "ম্যাও!" (সরল বাক্যে)
    উত্তর: ঘাসের উপর থাকা রুমালটা ঘাম মুছবার জন্য তুলতে যাওয়ামাত্রই "ম্যাও" করে উঠল।
  • বাক্য: আমি বললাম, "তা হলে রাস্তাটা আমায় বাতলে দিতে পারো?" (পরোক্ষ উক্তিতে/Narration Change)
    উত্তর: আমি জিজ্ঞাসা করলাম যে সে রাস্তাটা আমায় বাতলে দিতে পারে কি না।
  • বাক্য: বুড়োটা দেখতে অবিকল এই হুঁকোওয়ালা বুড়োর মতো। (নেতিবাচক/না-সূচক বাক্যে)
    উত্তর: বুড়োটা দেখতে এই হুঁকোওয়ালা বুড়োর চেয়ে আলাদা নয়।

হযবরল গল্প সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)

'হযবরল' বইটি বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও ননসেন্স রচনার স্রষ্টা সুকুমার রায়ের লেখা।

গল্পের শুরুতে ঘাসের ওপর রাখা রুমালটা হঠাৎ একটি মোটাসোটা লাল টকটকে বেড়ালে পরিণত হয়েছিল।

হিজি বিজ্ বিজ্ সম্পূর্ণ অবাস্তব ও আজগুবি সব পরিস্থিতি (যেমন- পৃথিবী চ্যাপটা হয়ে কাদায় পরিণত হওয়া) কল্পনা করে সারাক্ষণ হাসত।

গল্পের শেষে ছেলেটি বুঝতে পেরেছিল যে এতক্ষণ সে যা দেখছিল তা বাস্তব নয়, সে আসলে ব্যাকরণ বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ে একটি আজগুবি স্বপ্ন দেখছিল।