🔬 কিশোর বিজ্ঞানী
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • ত্রয়োবিংশ পাঠ • কবিতা
কবিতা
কিশোর বিজ্ঞানী
কবি
অন্নদাশঙ্কর রায়
মূল চরিত্র
বিজ্ঞানী নিউটন
পাঠ
ত্রয়োবিংশ পাঠ
কবিতার সারাংশ ও মূলভাব
সারাংশ: "কিশোর বিজ্ঞানী" কবিতায় প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের জীবনের এক গভীর দর্শনকে সহজ ছন্দের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ছোটোবেলায় যে কিশোরের খেলায় মন বসত না, সে সমুদ্রের তীরে ঘুরে ঘুরে নানা রঙের ঝিনুক কুড়োত। বড়ো হয়ে সেই কিশোরই অসীম জ্ঞানের সাগরতীরে "বিদ্যারতন" বা জ্ঞান সংগ্রহ করতে শুরু করেন। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে যখন মানুষ তাঁকে তাঁর বাণী বা শ্রেষ্ঠ উপলব্ধির কথা জিজ্ঞাসা করে, তখন সেই বৃদ্ধ ও পরম বিজ্ঞানী জানান যে, তিনি এই অনন্ত জ্ঞানসমুদ্রের তীরে কেবল কয়েকটি মুঠি নুড়ি বা পাথরকুচিই সংগ্রহ করতে পেরেছেন মাত্র, আসল জ্ঞানভাণ্ডার এখনও অজানা রয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় চেতনা: মানুষের জ্ঞান যতই গভীর হোক না কেন, এই অসীম বিশ্বের রহস্যের তুলনায় তা অত্যন্ত সামান্য। প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি সর্বদা বিনয়ী হন এবং নিজের অসম্পূর্ণতাকে স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও
২ টি২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও
৫ টিশব্দার্থ (Vocabulary)
ব্যাকরণ ও ভাষা অনুশীলন
৩. কবিতা থেকে বিপরীত শব্দ খুঁজে নিয়ে লেখো:
(প্রদত্ত শব্দ: আলো, ছোটো, এখানে, তখন)
| প্রদত্ত শব্দ | কবিতা থেকে প্রাপ্ত বিপরীত শব্দ |
|---|---|
| আলো | আঁধার |
| ছোটো | বড়ো |
| এখানে | সেখানে |
| তখন | এখন |
৪. প্রতিটি শব্দকে পৃথক অর্থে আলাদা বাক্যে প্রয়োগ করো:
(শব্দ: সুধায়, পুরী, বেলা, হেলা, ভরা)
• পুরী (নগর বা শহর অর্থে): উৎসবের আনন্দে সেজে ওঠা শহরটিকে আজ যেন এক মায়াবী পুরী বলে মনে হচ্ছে।
• বেলা (সময় বা সমুদ্রতীর অর্থে): অনেক বেলা হয়ে গেছে, এবার বাড়ি ফিরে চলো।
• হেলা (অবহেলা অর্থে): মূল্যবান সময়কে কখনোই হেলায় নষ্ট করা উচিত নয়।
• ভরা (পূর্ণ অর্থে): বর্ষায় গ্রামের নদীটি কানায় কানায় ভরা থাকে।
৫. আবিষ্কারের গল্পগুলির পাশে পাশে আবিষ্কারকের নাম উল্লেখ করো:
(শব্দ: ঘড়ি, এরোপ্লেন, রেডিও, দূরবীন, টেলিভিশন)
| আবিষ্কারের বিষয় | আবিষ্কারকের নাম |
|---|---|
| ঘড়ি (যান্ত্রিক/পেন্ডুলাম) | পিটার হেনলেইন / ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস |
| এরোপ্লেন | রাইট ভ্রাতৃদ্বয় (অরভিল ও উইলবার রাইট) |
| রেডিও | গুগলিয়েলমো মার্কোনি |
| দূরবীন (টেলিস্কোপ) | গ্যালিলিও গ্যালিলেই (বা হ্যান্স লিপারশে) |
| টেলিভিশন | জন লগি বেয়ার্ড |
৬. ছুটি পেলে তোমার মন কী করতে চায় পাঁচটি বাক্যে লেখো।
২. ছুটির দিনে দুপুরে আমি গল্পের বই পড়তে খুব ভালোবাসি।
৩. বিকেলবেলা সাইকেল নিয়ে নদীর ধারে বা গ্রামের মেঠো পথে ঘুরতে যেতে আমার মন চায়।
৪. আমার ছবি আঁকার শখ আছে, তাই ছুটি পেলেই আমি রং-তুলি নিয়ে বসে পড়ি।
৫. লম্বা ছুটি পেলে পরিবারের সবার সাথে অজানা কোনো পাহাড় বা জঙ্গলে বেড়াতে যেতে আমার খুব ভালো লাগে।
৭. কবিতা থেকে শব্দ নিয়ে নীচের শব্দছকটি পূরণ করো:
(যেহেতু এখানে ছকটি অসম্পূর্ণ, তাই বর্ণগুলি থেকে কবিতায় ব্যবহৃত সম্ভাব্য শব্দগুলি নীচে দেওয়া হলো)
| প্রদত্ত অক্ষর | কবিতা থেকে প্রাপ্ত শব্দ |
|---|---|
| ধা | আঁধার |
| পা | পারাবার |
| ট | ছুটে, হেঁটে, নিউটন |
| ঙে | রঙের |
| শো | কিশোর |
৮. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো (রচনাধর্মী)
সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য: রূপকথার গল্পে রাজা, রানি, রাজপুত্র এবং অলৌকিক বা কাল্পনিক ঘটনা থাকে যা বাস্তবের সাথে মেলে না। কিন্তু এই কবিতায় রূপকথার ঢঙে শুরু হলেও এর বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ বাস্তব এবং সত্য। এখানে বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের জীবনের সত্য ঘটনাকে একটি রূপকথার গল্পের মতো করে সুন্দরভাবে পরিবেশন করা হয়েছে, যা এই কবিতার মূল বৈসাদৃশ্য।
কিশোরেরা সাধারণত মাঠে গিয়ে ক্রিকেট, ফুটবল, দৌড়োদৌড়ি বা লুকোচুরি খেলতে ভালোবাসে। কিন্তু ছড়ার এই কিশোরটি অন্যান্য সাধারণ ছেলেদের মতো খেলাধুলো না করে, ছুটি পেলেই সমুদ্রের ধারে ছুটে যেত এবং সারা দিন ধরে নানা রঙের নকশা আঁকা ঝিনুক কুড়োতে পছন্দ করত।
কারণ, কিশোরের কাছে ওই সুন্দর ঝিনুকগুলি ছিল মহার্ঘ রত্নের মতোই মূল্যবান এবং রহস্যময়। সাধারণ মানুষের চোখে সেগুলি নিছকই মূল্যহীন ঝিনুক মাত্র, কিন্তু কৌতূহলী কিশোরের কাছে সেগুলির এক আলাদা দাম ছিল। তাই সাধারণ লোক সেই ঝিনুকের আসল কদর বা মূল্য না চিনলেও কিশোরের কাছে তা রত্নতুল্য ছিল—এই কারণেই চেনা বা না চেনার প্রসঙ্গটি এসেছে।
মানুষ বা সাধারণ লোক তাঁকে তাঁর শ্রেষ্ঠ উপলব্ধি বা "বাণী"-র কথা জিজ্ঞাসা করে।
উত্তরে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলেন যে, তিনি সারা জীবন ধরে অনন্ত জ্ঞানের সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে কেবল কয়েকটি মুঠি নুড়ি বা পাথরকুচিই কুড়িয়েছেন মাত্র, বিশাল জ্ঞানসমুদ্র এখনও তাঁর কাছে অজানা রয়ে গেছে।
বিজ্ঞানে নিউটনের অবদান: স্যার আইজ্যাক নিউটন ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ। বিজ্ঞানশাস্ত্রে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তিনি ১৬৮৭ সালে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা" প্রকাশ করেন। তিনি মহাকর্ষ সূত্র (Law of Universal Gravitation) এবং গতির তিনটি সূত্র (Laws of Motion) আবিষ্কার করে পদার্থবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন। এর পাশাপাশি আলোকবিজ্ঞান বা অপটিক্স নিয়েও তিনি গভীর গবেষণা করেন এবং প্রমাণ করেন যে সাদা আলো সাতটি রঙের সমষ্টি। ক্যালকুলাস নামক গণিতের বিশেষ শাখার আবিষ্কারেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারগুলি আধুনিক বিজ্ঞানের পথ প্রশস্ত করেছিল।