🐜 পিঁপড়ে
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • দ্বাদশ পাঠ • কবিতা
কবিতা
পিঁপড়ে
কবি
অমিয় চক্রবর্তী
মূল বিষয়
জীবের প্রতি ভালোবাসা
পাঠ
দ্বাদশ পাঠ (সাহিত্য মেলা)
কবিতার সারাংশ ও মূলভাব
সারাংশ: "পিঁপড়ে" কবিতায় কবি অমিয় চক্রবর্তী পৃথিবীর এক অতি ক্ষুদ্র প্রাণী পিঁপড়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। পিঁপড়েরা সারিবদ্ধভাবে ব্যস্ত ও মধুর ভঙ্গিতে চলাফেরা করে, একে অপরকে ছুঁয়ে নীরবে কথা বলে। কবি চান তারা এই পৃথিবীতে স্বাধীনভাবে বাঁচুক, ধুলো মাখুক এবং নিজেদের মতো করে জীবন কাটাক। কবি এই ছোট্ট প্রাণীটিকে কোনোভাবেই দুঃখ বা আঘাত দিতে চান না। তাঁর মতে, আমরা সকলেই এই পৃথিবীর বুকে মাত্র কয়েকদিনের অতিথি ("দু-দিনের ঘর")। তাই সব প্রাণীর প্রতিই আমাদের ভালোবাসা ও আদর থাকা উচিত।
কেন্দ্রীয় চেতনা: এই পৃথিবীর বুকে প্রতিটি ক্ষুদ্র প্রাণীরই বেঁচে থাকার সমান অধিকার আছে। অহিংসা, সর্বজীবের প্রতি সমবেদনা এবং পরম মমতাই হলো এই কবিতার মূল উপজীব্য।
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও
২ টি২. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো
৬ টিব্যাকরণ ও ভাষা অনুশীলন
৩. প্রার্থনা, নির্দেশ, অনুরোধ বোঝাতে বাংলায় ক্রিয়ার শেষে 'উক' যোগ হয়। কবিতা থেকে এমন আরো পাঁচটি শব্দ খুঁজে বের করো:
১) ঘুরুক (ঘুর + উক)
২) দেখুক (দেখ্ + উক)
৩) রাখুক (রাখ্ + উক)
৪) মাখুক (মাখ্ + উক)
৫) ডাকুক (ডাক্ + উক)
৪. নীচের সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলির অর্থ পার্থক্য দেখিয়ে প্রত্যেকটি ব্যবহার করে পৃথক বাক্য রচনা করো:
| শব্দ | অর্থ | বাক্য রচনা |
|---|---|---|
| ভরে | পূর্ণ করে | কলসিটি পরিষ্কার জলে ভরে দাও। |
| ভোরে | সকালবেলায় | আজ ভোরে খুব সুন্দর বাতাস বইছিল। |
| ঘরে | কক্ষের ভেতর / গৃহে | ছেলেটি তার ঘরে বসে মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। |
| ঘোরে | আবর্তিত হয় / ঘোরে | পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে অনবরত ঘোরে। |
| আনল | নিয়ে এল | বাবা আজ বাজার থেকে অনেক ফল আনল। |
| অনল | আগুন | গ্রীষ্মের তাপে মনে হচ্ছে যেন আকাশ থেকে অনল ঝরছে। |
| মধুর | মিষ্টি | ছোটো মেয়েটির গলার স্বর খুব মধুর। |
| মেদুর | স্নিগ্ধ / কোমল | বর্ষার মেঘ-মেদুর আকাশ দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। |
৫. পাশের শব্দঝুড়ি থেকে ঠিক শব্দ বেছে নীচের ছকটি সম্পূর্ণ করো:
(শব্দঝুড়ি: ধুলো, মাটি, পিপীলিকা, যারা, ধূলা)
| মূল শব্দ | সঠিক শব্দ (শব্দঝুড়ি থেকে) |
|---|---|
| মৃত্তিকা | মাটি |
| ধূলা | ধুলো |
| যাহারা | যারা |
| পিপীলিকা | পিঁপড়ে |
৬. কবিতা থেকে সর্বনামগুলি খুঁজে বের করে আলাদা আলাদা বাক্যে ব্যবহার করো:
• তার: আমি তার খাতাটা কাল ফেরত দিয়ে দেব।
• ওকে: তুমি ওকে আজ বিকেলে আমাদের বাড়িতে আসতে বোলো।
• ওর: ওর হাতের লেখা খুব সুন্দর।
• কে: কে ওই লোকটা, যে এতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে?
• যারা: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
• সবাইকে: শিক্ষক মহাশয় সবাইকে চুপ করে বসতে বললেন।
৭. নীচের স্তম্ভদুটি মেলাও:
| বাঁ দিকের অংশ | ডান দিকের অংশ | মিলিত শব্দ |
|---|---|---|
| প্রতি | দিন | প্রতিদিন |
| বি | স্মরণ | বিস্মরণ |
| অ | চেনা | অচেনা |
| কু | কথা | কুকথা |
| সু | মধুর | সুমধুর |
৮. কবিতা থেকে সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়াগুলি খুঁজে নীচের খোপে যথাস্থানে বসাও:
| সমাপিকা ক্রিয়া (Finite Verbs) | অসমাপিকা ক্রিয়া (Non-finite Verbs) |
|---|---|
| ঘুরুক, দেখুক, থাকুক, লাগে, রাখুক, মাখুক, করে, আনল, চলে, ডাকুক, আছি, ঘিরেছে। | ছুঁয়ে, সরিয়ে, নিতে। |
৯. দুটি বাক্যে ভেঙে লেখো:
বাক্য: "মাটির বুকে সবাই আছি এই দু-দিনের ঘরে তার স্মরণে সবাইকে আজ ঘিরেছে আদরে।"
২. তার স্মরণে সবাইকে আজ সে আদরে ঘিরেছে।
১০. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো (রচনাধর্মী)
সৃষ্টিকর্তা বা প্রকৃতির পরম শক্তি সবাইকে তাঁর ভালোবাসা ও আদরে ঘিরে রাখে। এই বিশাল পৃথিবীতে অতি ক্ষুদ্র পিঁপড়ে থেকে শুরু করে উন্নত মানুষ—সবাই একই প্রকৃতির অংশ এবং পরম করুণাময়ের আদরে সুরক্ষিত।
আমাদের চারপাশে সাধারণত লাল পিঁপড়ে এবং কালো পিঁপড়ে দেখা যায়। লাল পিঁপড়েরা (ডাঁশ) একটু রাগী প্রকৃতির হয় এবং তারা কামড়ালে জ্বালা করে; এরা সাধারণত গাছের ডালে পাতা মুড়িয়ে বাসা বানায়। অন্যদিকে, কালো পিঁপড়েরা শান্ত স্বভাবের হয় এবং মাটির গর্তে বা দেয়ালের ফাটলে বাসা বানায়। পিঁপড়েরা সমাজবদ্ধ জীব। তারা দল বেঁধে সারিবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। তারা মিষ্টি জাতীয় খাবার, মরা পোকামাকড়, এবং খাবারের টুকরো খেতে ভালোবাসে। এরা ভবিষ্যতের জন্য খাবার সঞ্চয় করে রাখে।
লাল পিঁপড়ে: ভাই কালো পিঁপড়ে, সারাদিন মাটির নীচে ওই অন্ধকার গর্তে কী করে থাকো? আমাদের দেখো, আমরা কেমন খোলা হাওয়ায় গাছের মগডালে পাতা মুড়িয়ে থাকি!
কালো পিঁপড়ে: তা ঠিক বলেছ ভাই। কিন্তু গাছের ডালে তো রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ের অনেক ভয়। মাটির নীচের গর্তে আমরা বেশ নিরাপদে থাকি।
লাল পিঁপড়ে: তা অবশ্য ঠিক। তবে কাল ওই বাড়ির রান্নাঘর থেকে আমি একটা বড়ো চিনির দানা জোগাড় করেছি। আজ খুব আনন্দ!
কালো পিঁপড়ে: বাহ! আমি আজ একটা মরা ফড়িং পেয়েছি। চলো, শীত আসার আগে আমরা দুজনেই আরও খাবার সঞ্চয় করে রাখি।