পিঁপড়ে

অমিয় চক্রবর্তী রচিত 'পিঁপড়ে' কবিতার সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | ষষ্ঠ শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 November 2025 Last Update: 03 June 2026

🐜 পিঁপড়ে

অমিয় চক্রবর্তী কবিতা

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • দ্বাদশ পাঠ • কবিতা

জীবপ্রেম ক্ষণস্থায়ী জীবন সমবেদনা ক্ষুদ্র প্রাণী

অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬)

আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি। প্রথম জীবনে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। একমুঠো, পারাপার, পালাবদল, পুষ্পিত ইমেজ, ঘরে ফেরার দিন তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যু পলজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৬৩ সালে তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।

📖

কবিতা

পিঁপড়ে

✍️

কবি

অমিয় চক্রবর্তী

🔍

মূল বিষয়

জীবের প্রতি ভালোবাসা

📚

পাঠ

দ্বাদশ পাঠ (সাহিত্য মেলা)

কবিতার সারাংশ ও মূলভাব

সারাংশ: "পিঁপড়ে" কবিতায় কবি অমিয় চক্রবর্তী পৃথিবীর এক অতি ক্ষুদ্র প্রাণী পিঁপড়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। পিঁপড়েরা সারিবদ্ধভাবে ব্যস্ত ও মধুর ভঙ্গিতে চলাফেরা করে, একে অপরকে ছুঁয়ে নীরবে কথা বলে। কবি চান তারা এই পৃথিবীতে স্বাধীনভাবে বাঁচুক, ধুলো মাখুক এবং নিজেদের মতো করে জীবন কাটাক। কবি এই ছোট্ট প্রাণীটিকে কোনোভাবেই দুঃখ বা আঘাত দিতে চান না। তাঁর মতে, আমরা সকলেই এই পৃথিবীর বুকে মাত্র কয়েকদিনের অতিথি ("দু-দিনের ঘর")। তাই সব প্রাণীর প্রতিই আমাদের ভালোবাসা ও আদর থাকা উচিত।

কেন্দ্রীয় চেতনা: এই পৃথিবীর বুকে প্রতিটি ক্ষুদ্র প্রাণীরই বেঁচে থাকার সমান অধিকার আছে। অহিংসা, সর্বজীবের প্রতি সমবেদনা এবং পরম মমতাই হলো এই কবিতার মূল উপজীব্য।

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও

২ টি
১.১ অমিয় চক্রবর্তী কোথায় অধ্যাপনা করতেন?
কবি অমিয় চক্রবর্তী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যু পলজ বিশ্ববিদ্যালয়ে (New Paltz University) অধ্যাপনা করতেন।
১.২ তাঁর দুটি কবিতার বইয়ের নাম লেখো।
তাঁর লেখা দুটি বিখ্যাত কবিতার বইয়ের নাম হলো 'একমুঠো' এবং 'পারাপার'।

২. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো

৬ টি
২.১ কবির কী দেখে 'কেমন যেন চেনা লাগে' মনে হয়েছে?
সারি বেঁধে চলা ছোটো ছোটো পিঁপড়েদের ব্যস্ত ও মধুর চলাফেরা দেখে কবির মনে হয়েছে যে এ দৃশ্য তাঁর 'কেমন যেন চেনা লাগে'।
২.২ 'কেমন যেন চেনা লাগে' কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।
পিঁপড়েদের চলার মধ্যে যে শৃঙ্খলা, দলবদ্ধতা এবং একে অপরের সঙ্গে নীরবে ভাব বিনিময়ের ভঙ্গি রয়েছে, তা মানুষের সমাজজীবনের মতোই পরিচিত ও চেনা। তাই কবি এই কথাটি বলেছেন।
২.৩ কবি কাউকে দুঃখ দিতে চাননি কেন?
ছোটো পিঁপড়েটিও এই পৃথিবীরই এক সৃষ্টি। তারও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। কবির মনে সর্বজীবের প্রতি গভীর মমতা ও ভালোবাসা আছে বলেই তিনি একটি ছোটো পিঁপড়েকেও অকারণে সরিয়ে দিয়ে বা আঘাত করে দুঃখ দিতে চাননি।
২.৪ 'কোন অতলে ডাকুক' কে কাকে এই ডাক দেয়?
এখানে মাটির গভীর অতলে থাকা প্রাণের স্পন্দন যেন মাটির ওপরের পিঁপড়েদের আপন টানে বা স্নেহে ডাকে।
২.৫ কবি আজ প্রাণের কোন পরিচয় পেয়েছেন?
কবি আজ প্রাণের এই পরিচয় পেয়েছেন যে, প্রাণ সর্বদা সচল, কর্মচঞ্চল এবং পৃথিবীর বুকে প্রতিটি প্রাণই একে অপরের সাথে গভীর ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ।
২.৬ 'দু দিনের ঘর' বলতে কী বোঝ?
'দু দিনের ঘর' বলতে এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীকে বোঝানো হয়েছে। মানুষ বা প্রাণী কেউই এই পৃথিবীতে চিরস্থায়ী নয়, সকলেরই জীবন খুব ছোটো বা ক্ষণস্থায়ী।

ব্যাকরণ ও ভাষা অনুশীলন

৩. প্রার্থনা, নির্দেশ, অনুরোধ বোঝাতে বাংলায় ক্রিয়ার শেষে 'উক' যোগ হয়। কবিতা থেকে এমন আরো পাঁচটি শব্দ খুঁজে বের করো:

কবিতা থেকে পাওয়া 'উক' যুক্ত ৫টি শব্দ হলো:
১) ঘুরুক (ঘুর + উক)
২) দেখুক (দেখ্ + উক)
৩) রাখুক (রাখ্ + উক)
৪) মাখুক (মাখ্ + উক)
৫) ডাকুক (ডাক্ + উক)

৪. নীচের সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলির অর্থ পার্থক্য দেখিয়ে প্রত্যেকটি ব্যবহার করে পৃথক বাক্য রচনা করো:

শব্দঅর্থবাক্য রচনা
ভরেপূর্ণ করেকলসিটি পরিষ্কার জলে ভরে দাও।
ভোরেসকালবেলায়আজ ভোরে খুব সুন্দর বাতাস বইছিল।
ঘরেকক্ষের ভেতর / গৃহেছেলেটি তার ঘরে বসে মনোযোগ দিয়ে পড়ছে।
ঘোরেআবর্তিত হয় / ঘোরেপৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে অনবরত ঘোরে।
আনলনিয়ে এলবাবা আজ বাজার থেকে অনেক ফল আনল।
অনলআগুনগ্রীষ্মের তাপে মনে হচ্ছে যেন আকাশ থেকে অনল ঝরছে।
মধুরমিষ্টিছোটো মেয়েটির গলার স্বর খুব মধুর।
মেদুরস্নিগ্ধ / কোমলবর্ষার মেঘ-মেদুর আকাশ দেখতে আমার খুব ভালো লাগে।

৫. পাশের শব্দঝুড়ি থেকে ঠিক শব্দ বেছে নীচের ছকটি সম্পূর্ণ করো:

(শব্দঝুড়ি: ধুলো, মাটি, পিপীলিকা, যারা, ধূলা)

মূল শব্দসঠিক শব্দ (শব্দঝুড়ি থেকে)
মৃত্তিকামাটি
ধূলাধুলো
যাহারাযারা
পিপীলিকাপিঁপড়ে

৬. কবিতা থেকে সর্বনামগুলি খুঁজে বের করে আলাদা আলাদা বাক্যে ব্যবহার করো:

কবিতায় ব্যবহৃত কয়েকটি সর্বনাম এবং তাদের বাক্য রচনা:

• তার: আমি তার খাতাটা কাল ফেরত দিয়ে দেব।
• ওকে: তুমি ওকে আজ বিকেলে আমাদের বাড়িতে আসতে বোলো।
• ওর: ওর হাতের লেখা খুব সুন্দর।
• কে: কে ওই লোকটা, যে এতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে?
• যারা: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
• সবাইকে: শিক্ষক মহাশয় সবাইকে চুপ করে বসতে বললেন।

৭. নীচের স্তম্ভদুটি মেলাও:

বাঁ দিকের অংশডান দিকের অংশমিলিত শব্দ
প্রতিদিনপ্রতিদিন
বিস্মরণবিস্মরণ
অচেনাঅচেনা
কুকথাকুকথা
সুমধুরসুমধুর

৮. কবিতা থেকে সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়াগুলি খুঁজে নীচের খোপে যথাস্থানে বসাও:

সমাপিকা ক্রিয়া (Finite Verbs)অসমাপিকা ক্রিয়া (Non-finite Verbs)
ঘুরুক, দেখুক, থাকুক, লাগে, রাখুক, মাখুক, করে, আনল, চলে, ডাকুক, আছি, ঘিরেছে।ছুঁয়ে, সরিয়ে, নিতে।

৯. দুটি বাক্যে ভেঙে লেখো:

বাক্য: "মাটির বুকে সবাই আছি এই দু-দিনের ঘরে তার স্মরণে সবাইকে আজ ঘিরেছে আদরে।"

১. মাটির বুকে এই দু-দিনের ঘরে আমরা সবাই আছি।
২. তার স্মরণে সবাইকে আজ সে আদরে ঘিরেছে।

১০. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো (রচনাধর্মী)

১০.১ পিঁপড়ের ভাষাহীন চলাচলের মধ্যে বিনিময়ের ভঙ্গিটি কেমন?
উত্তর: পিঁপড়েরা যখন সারিবদ্ধভাবে চলাচল করে, তখন তারা কোনো শব্দ করে না। কিন্তু এই স্তব্ধ ও ভাষাহীন চলাচলের মধ্যেও তারা একে অপরকে শুঁড় দিয়ে ছুঁয়ে যায়। এই ছুঁয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই তারা যেন একে অপরের সাথে কথা বলে এবং নিজেদের মধ্যে নিখুঁতভাবে ভাবের বিনিময় করে।
১০.২ 'মাটির বুকে যারাই আছি এই দুদিনের ঘরে'- 'এই দু-দিনের ঘরে' বলতে কী বোঝ? কে সবাইকে কীভাবে 'এই দু-দিনের ঘরে' আদরে ঘিরে রাখে?
উত্তর: 'এই দু-দিনের ঘরে' বলতে আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীকে বোঝানো হয়েছে। মানুষ বা পিঁপড়ে—কোনো প্রাণীই এই পৃথিবীতে চিরস্থায়ী নয়, সকলেরই আয়ু বা জীবনকাল খুব সীমিত বা ক্ষণস্থায়ী।

সৃষ্টিকর্তা বা প্রকৃতির পরম শক্তি সবাইকে তাঁর ভালোবাসা ও আদরে ঘিরে রাখে। এই বিশাল পৃথিবীতে অতি ক্ষুদ্র পিঁপড়ে থেকে শুরু করে উন্নত মানুষ—সবাই একই প্রকৃতির অংশ এবং পরম করুণাময়ের আদরে সুরক্ষিত।
১০.৩ এই কবিতায় কবির কীরূপ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে তা বুঝিয়ে দাও。
উত্তর: 'পিঁপড়ে' কবিতায় কবি অমিয় চক্রবর্তীর সর্বজীবের প্রতি গভীর প্রেম, সমবেদনা এবং অহিংসার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে এই বিশাল পৃথিবীতে মানুষের মতো একটি অতি ক্ষুদ্র পিঁপড়েরও বেঁচে থাকার সমান অধিকার আছে। তিনি তাদের জীবনে বাধা সৃষ্টি করতে বা তাদের সামান্যতম দুঃখ দিতেও রাজি নন। পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী জীবনে সকল প্রাণীর প্রতি অহিংসা ও মমতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই এই কবিতার মূল সুর।
১০.৪ বিভিন্ন রকমের পিঁপড়ে এবং তাদের বাসস্থান, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনপ্রণালী সম্বন্ধে তোমার পর্যবেক্ষণগুলি একটি খাতায় লেখো। (Activity)
উত্তর: (শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নমুনা পর্যবেক্ষণ)
আমাদের চারপাশে সাধারণত লাল পিঁপড়ে এবং কালো পিঁপড়ে দেখা যায়। লাল পিঁপড়েরা (ডাঁশ) একটু রাগী প্রকৃতির হয় এবং তারা কামড়ালে জ্বালা করে; এরা সাধারণত গাছের ডালে পাতা মুড়িয়ে বাসা বানায়। অন্যদিকে, কালো পিঁপড়েরা শান্ত স্বভাবের হয় এবং মাটির গর্তে বা দেয়ালের ফাটলে বাসা বানায়। পিঁপড়েরা সমাজবদ্ধ জীব। তারা দল বেঁধে সারিবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। তারা মিষ্টি জাতীয় খাবার, মরা পোকামাকড়, এবং খাবারের টুকরো খেতে ভালোবাসে। এরা ভবিষ্যতের জন্য খাবার সঞ্চয় করে রাখে।
১০.৫ একটি লাল পিঁপড়ে ও একটি কালো পিঁপড়ের মধ্যে একটি কাল্পনিক কথোপকথন রচনা করো। (Activity)
উত্তর: (কাল্পনিক কথোপকথন)
লাল পিঁপড়ে: ভাই কালো পিঁপড়ে, সারাদিন মাটির নীচে ওই অন্ধকার গর্তে কী করে থাকো? আমাদের দেখো, আমরা কেমন খোলা হাওয়ায় গাছের মগডালে পাতা মুড়িয়ে থাকি!
কালো পিঁপড়ে: তা ঠিক বলেছ ভাই। কিন্তু গাছের ডালে তো রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ের অনেক ভয়। মাটির নীচের গর্তে আমরা বেশ নিরাপদে থাকি।
লাল পিঁপড়ে: তা অবশ্য ঠিক। তবে কাল ওই বাড়ির রান্নাঘর থেকে আমি একটা বড়ো চিনির দানা জোগাড় করেছি। আজ খুব আনন্দ!
কালো পিঁপড়ে: বাহ! আমি আজ একটা মরা ফড়িং পেয়েছি। চলো, শীত আসার আগে আমরা দুজনেই আরও খাবার সঞ্চয় করে রাখি।

কবিতার শিক্ষা

"পিঁপড়ে" কবিতাটি আমাদের শেখায় যে এই পৃথিবীতে ছোটো-বড়ো প্রতিটি প্রাণীরই সমান গুরুত্ব এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। আমরা এই পৃথিবীতে মাত্র কয়েকদিনের অতিথি। তাই আমাদের উচিত অহংকার ত্যাগ করে ক্ষুদ্রতম প্রাণীর প্রতিও সহানুভূতিশীল হওয়া এবং অহিংসার পথে চলা।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'পিঁপড়ে' কবিতাটি প্রখ্যাত বাঙালি কবি অমিয় চক্রবর্তী রচনা করেছেন।

কবি উপলব্ধি করেছেন যে এই পৃথিবীতে মানুষের মতো ছোটো পিঁপড়েরও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সমান অধিকার আছে। তাঁর মনে সর্বজীবের প্রতি গভীর মমতা ও ভালোবাসা আছে বলেই তিনি পিঁপড়েকে কোনো দুঃখ বা আঘাত দিতে চাননি।

'দু-দিনের ঘর' বলতে আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে প্রতিটি প্রাণীরই জীবনকাল অত্যন্ত সীমিত।

পিঁপড়েরা সারিবদ্ধভাবে চলাচলের সময় মুখে কোনো শব্দ করে না, কিন্তু তারা একে অপরকে শুঁড় দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে নীরবে নিজেদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান করে।