সেনাপতি শংকর

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'সেনাপতি শংকর' গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | ষষ্ঠ শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 November 2025 Last Update: 03 June 2026

🕊️ সেনাপতি শংকর

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় গল্প

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • দ্বিতীয় পাঠ

স্বপ্নবিলাসী পাখিপ্রেমিক প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ আকন্দবাড়ি স্কুল

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় (১৯৩৩ - ২০০১)

অধুনা বাংলাদেশের খুলনায় তাঁর জন্ম। বহুবিচিত্র জীবিকার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই সাংবাদিক-লেখকের সব রচনাতেই সেই বিচিত্রতার স্বাদ পাওয়া যায়। ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি তাঁর "শাহাজাদা দারাশুকো" উপন্যাসের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বই হলো: বেঁচে থাকার স্বাদ, ভাস্কো দা গামার ভাইপো, মনে কি পড়ে, কুবেরের বিষয় আশয়, ঈশ্বরীতলার রূপোকথা, ক্লাস সেভেনের মিস্টার ব্লেক ইত্যাদি। বর্তমান গল্পটি তাঁর 'সেনাপতি শংকর' নামক গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

📖

গল্প

সেনাপতি শংকর

✍️

লেখক

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

🌱

মূলভাব

প্রকৃতিপ্রেম ও স্বপ্ন

📚

উৎস

সেনাপতি শংকর গ্রন্থ

গল্পের সারাংশ

আকন্দবাড়ি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শংকর সেনাপতি। সে অত্যন্ত প্রকৃতিপ্রেমী ও স্বপ্নবিলাসী একটি ছেলে। একদিন প্রকৃতিবিজ্ঞানের ক্লাসে বিভীষণ মাস্টারমশাই যখন এমু পাখির কথা পড়াচ্ছিলেন, শংকর তখন জানলা দিয়ে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে শঙ্খচিলের ওড়া দেখছিল এবং নিজের স্বপ্নের জগতে ভাসছিল। মাস্টারমশাই তাকে পড়া ধরতে গেলে সে ঘাবড়ে গিয়ে বলে যে, সে ঘোলপুকুরে এমু পাখি দেখেছে। আসলে স্বপ্নের দেখা ও বাস্তবের দেখাকে সে গুলিয়ে ফেলেছিল। প্রথমে মাস্টারমশাই রেগে গেলেও পরে শংকরের প্রকৃতি ও পাখিদের প্রতি ভালোবাসার কথা জানতে পেরে খুশি হন। তিনি তাকে উপহাস না করে উৎসাহ দেন এবং বলেন যে, এই খোলামেলা পৃথিবীই হলো সবচেয়ে বড়ো বই, আর তাকে চোখ ভরে দেখাই হলো সবচেয়ে বড়ো পড়াশুনো।

হাতে কলমে (অনুশীলনীর সম্পূর্ণ উত্তর)

১. লেখক পরিচিতি থেকে প্রশ্ন:

১.১ শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো।
শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা দুটি উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম হলো— 'বেঁচে থাকার স্বাদ' এবং 'কুবেরের বিষয় আশয়' (অন্যান্য: ভাস্কো দা গামার ভাইপো, ক্লাস সেভেনের মিস্টার ব্লেক)।
১.২ তিনি কোন বইয়ের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন?
তিনি তাঁর রচিত 'শাহাজাদা দারাশুকো' উপন্যাসের জন্য ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন।

২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও:

২.১ আকন্দবাড়ি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা কোন কোন জায়গা থেকে পড়তে আসে?
আকন্দবাড়ি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা কাছাকাছি ভেটুরিয়া, সাঁইবাড়ি, ঘোলপুকুর আর আকন্দবাড়ি থেকে পড়তে আসে।
২.২ স্কুলের জানলা থেকে কী কী দেখা যায়?
স্কুলের জানলা দিয়ে আকাশের মেঘ এবং পাখিদের ডানা মেলে উড়ে যাওয়া দেখা যায়।
২.৩ শংকর কীসের স্বপ্ন দেখে?
শংকর স্বপ্ন দেখে যে সে ঘোলপুকুরে গাব গাছের উঁচু ডাল থেকে ঝাঁপ দিয়ে পাখির মতো ডানা মেলে আকাশে ভাসছে বা উড়ছে।
২.৪ শংকরের স্বপ্নে বাতাসের রং কী?
শংকরের স্বপ্নে বাতাসের রং হলো নীলচে।
২.৫ এমু ছাড়া উড়তে পারে না শুধু দৌড়তে পারে এমন একটি পাখির নাম লেখো।
এমু ছাড়া উড়তে পারে না শুধু দৌড়তে পারে এমন একটি পাখি হলো উটপাখি (অথবা পেঙ্গুইন, কিউই)।

৩. গল্প থেকে একই অর্থযুক্ত শব্দ খুঁজে নিয়ে লেখো

প্রদত্ত শব্দগল্পে ব্যবহৃত সমার্থক শব্দ
বিদ্যালয়স্কুল
অনিলবাতাস
জগৎপৃথিবী
একাগ্র-চিত্ততন্ময় বা আনমনা
পাখাডানা
রোপণ করারোয়া

৪. বিপরীতার্থক শব্দ লিখে তা দিয়ে বাক্য রচনা করো

মূল শব্দবিপরীত শব্দবাক্য রচনা
ভিজেশুকনোশীতকালে গাছের সব শুকনো পাতা ঝরে যায়।
রাতদিনপৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে দিন ও রাত হয়।
বাইরেভেতরে / ভিতরেপ্রচণ্ড রোদে ঘোরাঘুরি না করে ঘরের ভেতরে থাকা উচিত।
গাঢ়হালকাভোরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা যায়।
বিশ্বাসঅবিশ্বাসকাউকে বিনা কারণে অবিশ্বাস করা ঠিক নয়।

৫. সন্ধি বিচ্ছেদ করো

বঙ্গোপসাগর = বঙ্গ + উপসাগর
তন্ময় = তৎ + ময়
সাবধান = স + অবধান
ত্রিশেক = ত্রিশ + এক
পঞ্চানন = পঞ্চ + আনন

৬. বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করো এবং রূপ পরিবর্তন করো

প্রদত্ত শব্দ: প্রকৃতি, ব্যথা, মাটি, বিশ্বাস, জল, মাঠ, শব্দ।

মূল শব্দ (পদ)রূপ পরিবর্তন
প্রকৃতি (বিশেষ্য)প্রাকৃতিক (বিশেষণ)
ব্যথা (বিশেষ্য)ব্যথিত (বিশেষণ)
মাটি (বিশেষ্য)মেটে (বিশেষণ)
বিশ্বাস (বিশেষ্য)বিশ্বস্ত / বিশ্বাসী (বিশেষণ)
জল (বিশেষ্য)জলীয় (বিশেষণ)
মাঠ (বিশেষ্য)মেঠো (বিশেষণ)
শব্দ (বিশেষ্য)শাব্দিক / শব্দিত (বিশেষণ)

৭. সমোচ্চারিত বা প্রায় সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ

শব্দজোড়অর্থবাক্য রচনা
ভাষা / ভাসাভাষা (মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম)বাংলা আমাদের মাতৃভাষা।
ভাসা (জলের উপর থাকা)হালকা কাঠ সহজে জলে ভাসে।
পড়ে / পরেপড়ে (পাঠ করে / পতিত হয়)ছেলেটি মন দিয়ে বই পড়ে।
পরে (পরিধান করে / অনন্তর)মেলা থেকে ফেরার পরে সে ঘুমিয়ে পড়ল।
শংকর / সংকরশংকর (শিব বা মহাদেব / নাম)শংকর সেনাপতি প্রকৃতি ভালোবাসত।
সংকর (মিশ্রিত)ব্রোঞ্জ একটি সংকর ধাতু।
মাথা / মাতামাথা (মস্তক)অতিরিক্ত রোদ লাগায় তার মাথা ব্যথা করছে।
মাতা (মা / জননী)মাতা ও পিতা আমাদের পরম গুরু।
বাঁশ / বাসবাঁশ (এক প্রকার গাছ)বাঁশ দিয়ে চমৎকার ঝুড়ি ও কুলো তৈরি হয়।
বাস (বসবাস / যানবাহন)আমি এই গ্রামেই বাস করি। / সে বাস ধরে শহরে গেল।

৮. পাখি ও গাছের নামের তালিকা তৈরি

গল্পে উল্লিখিত এবং তোমার জানা কয়েকটি পাখি ও গাছের বৈশিষ্ট্য দিয়ে ছক পূরণ করা হলো:

পাখির নামআকাররংঠোঁটলেজপাঝুঁটিকোথায় দেখেছ
শঙ্খচিলমাঝারিসাদা ও হালকা খয়েরিবড়ো, সামান্য বাঁকানোচেরামাঝারিনেইআকাশে উড়তে
মাছরাঙাছোটোনীল, সবুজ, বাদামিলম্বা ও তীক্ষ্ণছোটোখুব ছোটোনেইপুকুর বা নদীর ধারে
কাকমাঝারিকালোশক্ত ও মজবুতমাঝারিমাঝারিনেইবাড়ির আশেপাশে
গাছের নামআকারপাতাগুলো কেমনফুলফলকোথায় দেখেছ
নারকেলখুব লম্বাবড়ো, চিরুনি বা পালকের মতোছোটো, হলুদ-সাদাবড়ো আকারের (ডাব/নারকেল)গ্রামের পুকুর পাড়ে
সবেদামাঝারিডিম্বাকার, চকচকে সবুজছোটো, সাদাটেগোলাকার, মিষ্টি স্বাদবাগানে বা উঠোনে
গাব গাছমাঝারি থেকে বড়োমাঝারি, গাঢ় সবুজছোটো, সাদাগোলাকার (গাব ফল)দিঘির পাড়ে

৯. উপসর্গ যোগ করে নতুন শব্দ তৈরি

উপসর্গশব্দনতুন শব্দ
বিজ্ঞান (গল্পে বিজ্ঞান শব্দটি আছে)বিজ্ঞান
প্রকৃতি (গল্পে প্রকৃতি শব্দটি আছে)প্রকৃতি
নিশ্বাসনিশ্বাস
সুবাতাসসুবাতাস
আকাশ (গল্পে আকাশ শব্দটি আছে)আকাশ

১০. সংখ্যাবাচক শব্দ খুঁজে বের করো

বাক্যসংখ্যাবাচক শব্দ
১০.১ পাঁচ-সাত মাইলের ভেতর বঙ্গোপসাগর।পাঁচ-সাত
১০.২ জনা ত্রিশেক ছেলেমেয়ে বসে।ত্রিশেক
১০.৩ সেদিকে তাকিয়ে একটি ছেলে আনমনা হয়ে পড়েছিল।একটি
১০.৪ এক একদিন রাতে স্বপ্নের ভেতর সেও অমন ভেসে পড়ে।এক-একদিন

১১. অনুসর্গ ও বিভক্তি নির্ণয়

বাক্যঅনুসর্গবিভক্তি যুক্ত পদ
১১.১ এখানে বাতাসের ভেতর সবসময় ভিজে জলের ঝাপটা থাকে।ভেতরবাতাস + এর, জল + এর
১১.২ মাটির মেঝে।(নেই)মাটি + র
১১.৩ সেই জানলা দিয়ে মেঘ দেখা যায় আকাশের।দিয়েআকাশ + এর
১১.৪ স্বপ্নের ভেতর সে খাট থেকে পড়েও যায়।ভেতর, থেকেস্বপ্ন + এর
১১.৫ সে তার স্বপ্নের কথা আর কাউকে কখনও বলবে না।(নেই)স্বপ্ন + এর

১২. উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ খুঁজে লেখো

বাক্যউদ্দেশ্য অংশবিধেয় অংশ
১২.১ আকন্দবাড়ি স্কুলের ক্লাস ফাইভে বিভীষণ দাশ এমু পাখির কথা বলছিলেন।আকন্দবাড়ি স্কুলের ক্লাস ফাইভে বিভীষণ দাশএমু পাখির কথা বলছিলেন।
১২.২ স্কুলের সামনে ধানক্ষেতে রোয়া ধান সবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।স্কুলের সামনে ধানক্ষেতে রোয়া ধানসবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
১২.৩ গাঢ় ছাইরঙের বিরাট এক পাখি।(পাখিটি - উহ্য)গাঢ় ছাইরঙের বিরাট এক পাখি।
১২.৪ তন্ময় হয়ে শুনছিল শংকর।শংকরতন্ময় হয়ে শুনছিল।
১২.৫ এই খোলামেলা পৃথিবীই সবচেয়ে বড়ো বই।এই খোলামেলা পৃথিবীইসবচেয়ে বড়ো বই।

১৩. একই শব্দের ভিন্নার্থে প্রয়োগ এবং ১৪. বাক্যের শ্রেণিবিভাগ

১৩ 'কথা' এবং 'চোখ' শব্দের দুটি আলাদা অর্থে ব্যবহার:
কথা:
(১) প্রতিশ্রুতি: সে কথা দিয়ে কথা রাখেনি।
(২) প্রসঙ্গ: এই বিষয়ে আর কোনো কথা উঠবে না।

চোখ:
(১) নজর / দৃষ্টি রাখা: অচেনা ছেলেটার ওপর চোখ রেখো।
(২) দর্শনেন্দ্রিয় (অঙ্গ): তার ডান চোখ খারাপ হয়ে গেছে।

১৪. বাক্যের গঠনগত শ্রেণিবিভাগ:

বাক্যবাক্যের শ্রেণি
১৪.১ জানলায় কোনো শিক নেই।সরল বাক্য
১৪.২ জেগে থাকতে দেখা আর স্বপ্নে দেখা জিনিস আজকাল শংকরের গুলিয়ে যাচ্ছে।সরল বাক্য
১৪.৩ পাখি দেখার জন্য যখন মাঠে বা বাগানে ঘুরবে - তখন খুব সাবধানে পা টিপে টিপে চলবে।জটিল বাক্য
১৪.৪ বিভীষণ মাস্সাই যে তাকে এমন একটা কথা বলবেন তা ভাবতে পারেনি শংকর।জটিল বাক্য

১৫. শব্দ দিয়ে অনুচ্ছেদ রচনা

প্রদত্ত শব্দ: গুঁড়ো, প্রকৃতি, জানলা, ডানা, ছায়া, শব্দ, স্বপ্ন, খোলামেলা।
অনুচ্ছেদ:
বাইরে হাওয়ায় বৃষ্টির গুঁড়ো উড়ে বেড়াচ্ছে। জানলা দিয়ে একমনে তাকিয়ে দেখছে ঝিমলি। প্রকৃতি যেন রোজ নতুন নতুন সাজে এসে হাজির হয়। পাশের আম গাছটার ছায়া এসে পড়েছে ঘরের মেঝেতে। হঠাৎ একটা মিষ্টি শব্দ শুনে ঝিমলি দেখল, গাছে বসা সবুজ টিয়ার ডানায় মুক্তোর মতো বিন্দু বিন্দু জল। এই খোলামেলা পরিবেশে বসে থাকতে থাকতে ঝিমলি যেন এক রঙিন স্বপ্ন দেখতে শুরু করল।

১৬. নিজের ভাষায় বড়ো প্রশ্নের উত্তর

১৬.১ 'পাগলা বাতাসে তার ঢেউয়ের গুঁড়ো সবসময়ে উড়ে আসছে'—এখানে বাতাসকে 'পাগলা' বলা হলো কেন?
উত্তর: বঙ্গোপসাগর থেকে মাত্র পাঁচ-সাত মাইল দূরে আকন্দবাড়ি গ্রাম অবস্থিত। সমুদ্রের দিক থেকে আসা বাতাস কোনো বাধা না পেয়ে প্রচণ্ড বেগে ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বইতে থাকে। এই উদ্দাম, এলোমেলো ও বাধাহীন প্রবল গতির জন্যই বাতাসকে এখানে 'পাগলা' বলা হয়েছে।
১৬.২ 'বিভীষণ দাশ এমু পাখির কথা বলেছিলেন।' গল্পের 'বিভীষণ দাশ'-এর পরিচয় দাও। এমু পাখি ছাড়া গল্পে আর কোন পাখির প্রসঙ্গ এসেছে?
উত্তর: 'সেনাপতি শংকর' গল্পে বিভীষণ দাশ হলেন আকন্দবাড়ি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির প্রকৃতিবিজ্ঞানের শিক্ষক। তিনি একজন কড়া প্রকৃতির কিন্তু জ্ঞানী ও ছাত্রদরদী শিক্ষক, যিনি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের প্রতি ছাত্রদের উৎসাহিত করেন।
এমু পাখি ছাড়া এই গল্পে শঙ্খচিল, বাজপাখি, কাক, মাছরাঙা, হাঁড়িচাচা, ডৌখোল, পানকৌড়ি এবং তিতির পাখির প্রসঙ্গ এসেছে।
১৬.৩ 'শংকর বুঝল, কোথাও একটা বড়ো ভুল হয়ে যাচ্ছে।'—কে এই শংকর? তার স্বভাবের প্রকৃতি কেমন? তার যে কোথাও একটা বড়ো ভুল হয়ে যাচ্ছে—এটা সে কীভাবে বুঝতে পারল?
উত্তর: শংকর হলো আকন্দবাড়ি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির একজন ছাত্র, গল্পের প্রধান চরিত্র।
স্বভাব: শংকর অত্যন্ত প্রকৃতিপ্রেমী, কল্পনাপ্রবণ এবং স্বপ্নবিলাসী একটি ছেলে। গাছের ডালে বসা, পাখি দেখা এবং স্বপ্নে পাখির মতো ওড়া তার প্রিয় বিষয়।
ভুল বোঝার কারণ: মাস্টারমশাই যখন জানতে চান শংকর এমু পাখি কোথায় দেখেছে, শংকর সরলভাবে ঘোলপুকুরের সবেদা গাছে দেখার কথা বলে। তখন মাস্টারমশাই তাকে ঠাট্টার সুরে জেরা করতে শুরু করেন। মাস্টারমশাইয়ের কথার সেই বিদ্রূপাত্মক সুর শুনেই শংকর বুঝতে পারে যে সে নিশ্চয়ই কোথাও একটা বড়ো ভুল করে ফেলেছে।
১৬.৪ এমু পাখির যে বর্ণনা শংকর দিয়েছিল তার সঙ্গে পাখিটির মিল বা অমিল কী লেখো।
উত্তর: শংকর বলেছিল, এমু পাখি বাজপাখির চেয়ে বড়ো, চওড়া বুক, গাঢ় ছাই রঙের। উড়ে গেলে ডানায় বাতাস কাটার শব্দ হয় এবং অন্য পাখিরা ভয়ে সরে যায়।
অমিল: বাস্তবের এমু পাখির সঙ্গে এর সবচেয়ে বড়ো অমিল হলো, শংকর বলেছিল এমু উড়ে যায়, কিন্তু প্রকৃতিবিজ্ঞানের বই অনুযায়ী এমু পাখি উড়তেই পারে না, তারা হলো দৌড়বাজ পাখি এবং তাদের বাস আন্ডিজ পর্বতমালার মতো দূর দেশে।
১৬.৫ 'এটা কি পঞ্চানন অপেরা পেয়েছ?'—'অপেরা' বলতে কী বোঝ? এখানে অপেরার প্রসঙ্গ এল কেন?
উত্তর: 'অপেরা' বলতে সাধারণত যাত্রাদল বা গীতিনাট্যের আসরকে বোঝায়, যেখানে অভিনেতারা বানিয়ে বানিয়ে বা মুখস্থ করা নাটকীয় সংলাপ উচ্চারণ করেন।
প্রসঙ্গ: শংকর যখন কল্পনায় দেখা এমু পাখির বর্ণনা দিচ্ছিল যে সেটা আকাশে উড়ে গেলে ডানায় বাতাস কাটার শব্দ হয়, তখন মাস্টারমশাই বুঝতে পারেন শংকর বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলছে। শংকরের এই বানিয়ে বলা গল্পকে যাত্রাপালার কাল্পনিক সংলাপের সঙ্গে তুলনা করতেই মাস্টারমশাই ব্যঙ্গ করে পঞ্চানন অপেরার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন।
১৬.৬ 'বলো, বলতেই হবে'—কাকে একথা বলা হলো? উদ্দিষ্টকে কোন কথা বলতে হবে বলে দাবি জানানো হয়েছে?
উত্তর: একথাটি শংকর সেনাপতিকে বলা হয়েছে।
মাস্টারমশাই বিভীষণ দাশ শংকরকে চেপে ধরেছেন এই কথা জানার জন্য যে, এমু পাখি হলো দৌড়বাজ পাখি, উড়তেই পারে না এবং থাকে আন্ডিজ পর্বতে। তাহলে শংকর ঘোলপুকুরের বড়োদিঘির পাড়ে সেই এমু পাখিকে কীভাবে ও কোথা থেকে পেল, সেই সত্যি কথাটিই তাকে বলতে হবে বলে দাবি জানানো হয়েছে।
১৬.৭ গল্প অনুসরণে আকন্দবাড়ি স্কুলে প্রকৃতিবিজ্ঞান ক্লাসে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিজের ভাষায় লেখো。
উত্তর: আকন্দবাড়ি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে বিভীষণ দাশ মহাশয় প্রকৃতিবিজ্ঞানের ক্লাস নিচ্ছিলেন এবং এমু পাখির কথা বোঝাচ্ছিলেন। সেইসময় শংকর সেনাপতি জানলার বাইরে শঙ্খচিল উড়তে দেখে আনমনা হয়ে পড়ে। মাস্টারমশাই তাকে পড়া ধরলে সে চমকে ওঠে। মাস্টারমশাই এমু পাখি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে শংকর ঘাবড়ে গিয়ে স্বপ্নে দেখা এমু পাখির অবাস্তব বর্ণনা দিতে থাকে যে, সে ঘোলপুকুরে এমু দেখেছে। এতে সারা ক্লাস হাসিতে ফেটে পড়ে। মাস্টারমশাই তাকে ধমক দেন এবং তার বাবাকে স্কুলে আসতে বলেন। কিন্তু শেষে শংকরের পাখিদের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার কথা জানতে পেরে মাস্টারমশাই খুশি হন এবং প্রকৃতিকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার উপদেশ দেন।
১৬.৮ 'স্বপ্নে সে অনেক কিছু জানতে পেরেছে।'—কার স্বপ্ন দেখার কথা বলা হয়েছে? স্বপ্ন দেখে সে কী জেনেছে?
উত্তর: এখানে শংকর সেনাপতির স্বপ্ন দেখার কথা বলা হয়েছে।
যা জেনেছে: শংকর স্বপ্ন দেখে জেনেছে যে স্বপ্নের জগতে বাতাসের রং নীলচে হয় এবং বাড়ি-ঘরদোর খয়েরি রঙের হয়। স্বপ্নে কারও ধাক্কা বা গুঁতো খেলে কোনো ব্যথাই লাগে না, জলের নীচে ভেসে ওঠার মতো অনুভূতি হয়।
১৬.৯ 'পাখি দেখার জন্য যখন মাঠে বা বাগানে ঘুরবে'—তখন কীভাবে চলতে হবে?
উত্তর: বিভীষণ মাস্টারমশাইয়ের উপদেশ অনুযায়ী, পাখি দেখার জন্য মাঠে বা বাগানে ঘুরলে খুব সাবধানে পা টিপে টিপে চলতে হবে, যেন পায়ের কোনো শব্দ না হয়। জামাকাপড়ের রং শুকনো পাতা বা জলপাই রঙের হতে হবে যাতে তা গাছের পাতার সঙ্গে মিশে থাকে। এছাড়া বেগুনি রঙের জামা পরলেও ভালো, কারণ পাখিরা বেগুনি রং দেখতে পায় না।
১৬.১০ 'তাদের কথা বলতে পারো?'—এই প্রশ্নের সূত্র ধরে বক্তা-শ্রোতার কথোপকথনের অংশটুকু নিজের ভাষায় লেখো。
উত্তর: মাস্টারমশাই বিভীষণ দাশ শংকরকে জিজ্ঞেস করেন সে যেসব পাখি দেখেছে তাদের নাম বলতে পারবে কিনা। এই অপ্রত্যাশিত প্রশ্নে শংকর লজ্জা পেয়ে জানায়—মাছরাঙা, হাঁড়িচাচা, ডৌখোল, পানকৌড়ি, তিতির প্রভৃতি পাখির কথা। শংকরের এই পাখি-পরিচয় শুনে মাস্টারমশাই খুব খুশি হন। তিনি শংকরকে উৎসাহ দিয়ে বলেন যে, চোখ খোলা রেখে পৃথিবীর সব পাখি, গাছপালা, মেঘ ও আলোকে দেখতে। কারণ এই খোলামেলা পৃথিবীই হলো সবচেয়ে বড়ো বই, আর তাকে চোখ ভরে দেখাই হলো জীবনের সবচেয়ে বড়ো পড়াশুনো।

গল্পের শিক্ষণীয় বিষয়

"সেনাপতি শংকর" গল্পটি আমাদের শেখায় যে, পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান বা প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃতিই হলো আমাদের সবচেয়ে বড়ো শিক্ষক। বিভীষণ মাস্টারমশাইয়ের কথায় আমরা বুঝতে পারি যে, শুধু বই পড়াই শিক্ষা নয়, চোখ কান খোলা রেখে চারপাশের গাছপালা, পশুপাখি ও পরিবেশকে জানা এবং ভালোবাসাও হলো প্রকৃত পড়াশুনো। শংকরের মতো কল্পনাপ্রবণ ও স্বপ্নবিলাসী মনের বিকাশ ঘটলে পৃথিবী আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'সেনাপতি শংকর' গল্পটি প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত। এটি WBBSE ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের দ্বিতীয় পাঠে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গল্পের মূল চরিত্র হলো আকন্দবাড়ি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শংকর সেনাপতি। সে অত্যন্ত প্রকৃতিপ্রেমী, কল্পনাপ্রবণ এবং স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। সে স্বপ্নে পাখির মতো ডানা মেলে আকাশে উড়তে দেখে।

বিভীষণ মাস্টারমশাই শংকরকে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, চোখ খোলা রেখে পৃথিবীর পাখি, গাছপালা, মেঘ, আলো—সব দেখে নিতে। কারণ এই খোলামেলা পৃথিবীই হলো সবচেয়ে বড়ো বই, তাকে চোখ ভরে দেখাই সবচেয়ে বড়ো পড়াশুনো।

পাখি দেখার সময় শুকনো পাতার রং, জলপাই রং অথবা বেগুনি রঙের জামা পরা উচিত। কারণ এই রংগুলো গাছের পাতার সঙ্গে মিশে থাকে এবং বেগুনি রং পাখিরা দেখতে পায় না, ফলে পাখিরা ভয় পেয়ে উড়ে যায় না।