আঁকা, লেখা
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • তৃতীয় পাঠ
কবিতা
আঁকা, লেখা
কবি
মৃদুল দাশগুপ্ত
পাঠ
তৃতীয় পাঠ (সাহিত্য মেলা)
ধরন
প্রকৃতি ও সৃজনশীলতা
সম্পূর্ণ কবিতা
আঁকা, লেখা✍️ আঁকা, লেখা
কবিতার সারাংশ ও মূলভাব
মূলভাব: "আঁকা, লেখা" কবিতায় মৃদুল দাশগুপ্ত কবির আঁকা আর লেখার জগৎটিকে প্রকৃতি ও চারপাশের প্রাণীদের সঙ্গে মিলিয়ে এক অপূর্ব কাব্যচিত্র এঁকেছেন। কবি যখন রং ছড়িয়ে ছবি আঁকেন, তখন শালিকেরা ঝগড়া থামায়, চড়ুই পাখি অবাক হয়ে তাকায়, মাছরাঙা মাছ ভুলে নীল রং ধার দিতে চায়। আবার যখন কবি ছড়া লেখেন, তখন চাঁদের দুধের সর জমে, বাতাস কাঁপন দেয়, জোনাকিরা বকুল গাছে 'অ-আ' লিখে দেয়।
কবির কাছে এই প্রকৃতির সঙ্গে সৃজনের যে মিলন, সেইটাই তাঁর পরম পুলক—সেটাই তাঁর 'পদক পাওয়া' বা শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। প্রকৃতি, পাখি, কীটপতঙ্গ আর কবির আঁকা-লেখা—সব যেন এক সুতোয় গাঁথা।
১. 'পিটপিটে চোখ'-এর মতো আরও পাঁচটি শব্দ তৈরি করো
প্রদত্ত উদাহরণ: কুড়মুড় চানাচুর
- মিটমিটে আলো — হালকাভাবে জ্বলা আলো
- খটখটে রাস্তা — এবড়োখেবড়ো, কঠিন রাস্তা
- চকচকে মেঝে — পরিষ্কার, উজ্জ্বল মেঝে
- টসটসে তরমুজ — টাটকা, রসালো তরমুজ
- লকলকে শরীর — সরু ও লম্বাটে শরীর
- ঝরঝরে বাতাস — একটানা বইতে থাকা বাতাস
২. সঠিক বানানটি বেছে নাও
| প্রশ্ন | সঠিক বানান |
|---|---|
| ২.১ | মৎস্য (মৎস্য / মৎস্ / মত্স্য) |
| ২.২ | দুধের সর (দুধের স্বর / দুধের সর / দুধের শর) |
| ২.৩ | কাঁপন (কাপন / কাঁপন / কাঁপণ) |
| ২.৪ | ঈষৎ (ঈশৎ / ইষৎ / ঈষৎ) |
৩. সমার্থক শব্দ কবিতা থেকে খুঁজে লেখো
| প্রদত্ত শব্দ | সমার্থক শব্দ (কবিতা থেকে) |
|---|---|
| সামান্য | ঈষৎ — সামান্য পরিমাণ, অল্প |
| আনন্দ | পুলক — রোমাঞ্চ, আনন্দের অনুভূতি |
| মীন | মৎস্য — মাছ |
| নক্ষত্র | তারা — আকাশের তারা |
| মুষিক | ইঁদুর — ইঁদুর, গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা প্রাণী |
৪. 'কম্পন' → 'কাঁপন' — একই নিয়মে ছক সম্পূর্ণ করো
| মূল শব্দ | পরিবর্তিত রূপ | নিয়ম |
|---|---|---|
| কম্পন | কাঁপন | ম্প → ঁপ (ম + প → ঁ + প) |
| শম্পা | শাঁপা | ম্প → ঁপ |
| সাম্প্রত | সাঁপ্রত | ম্প্র → ঁপ্র |
| সম্পূর্ণ | সঁপূর্ণ | ম্পু → ঁপু |
| সম্পত্তি | সঁপত্তি | ম্প → ঁপ |
| সংকল্প | সংকল্প (অপরিবর্তিত — সংস্কৃত তৎসম শব্দ) | — |
৫. সমষ্টিবাচক শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| ৫.১ ভেড়ার _____ | ভেড়ার পাল |
| ৫.২ কইমাছের _____ | কইমাছের ঝাঁক |
| ৫.৩ হাতির _____ | হাতির দল |
| ৫.৪ নৌকার _____ | নৌকার বহর |
| ৫.৫ সুপুরি গাছের _____ | সুপুরি গাছের সারি |
| ৫.৬ ছাত্রদের _____ | ছাত্রদের দল |
অতিরিক্ত: প্রজাপতির ঝাঁক, পাখির ঝাঁক বা দল, মাছের ঝাঁক, গরুর পাল, সৈন্যের দল বা বাহিনী
৬. বিশেষ্যের বিশেষণ রূপ লেখো
| বিশেষ্য | বিশেষণ |
|---|---|
| রং | রঙিন |
| ছবি | ছবিতুল্য / চিত্রিত |
| মাঠ | মেঠো / মাঠের |
| লেখা | লিখিত |
| পুলক | পুলকিত |
৭. বিশেষণের সঙ্গে উপযুক্ত বিশেষ্য বসিয়ে বাক্য রচনা
- ঈষৎ (হাসি): তাঁর মুখে ঈষৎ হাসি ফুটে উঠল।
- বেজায় (রাগ): বাবার বেজায় রাগ দেখে সবাই চুপ হয়ে গেল।
- পিটপিটে (চোখ): পিটপিটে চোখে ইঁদুরটা গর্ত থেকে উঁকি মারছিল।
- পরম (আনন্দ): মায়ের মুখে হাসি দেখে আমার পরম আনন্দ হলো।
- নীল (আকাশ): শরতের নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ ভাসছে।
- গোপনে (বিয়ে): তারা দুজনে গোপনে বিয়ে করে ফেলল।
৮. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো
| শব্দ | বিপরীতার্থক শব্দ |
|---|---|
| গোপনে | প্রকাশ্যে |
| ঈষৎ | প্রচুর / অত্যন্ত |
| খুশি | দুঃখী / বিষণ্ণ |
| পুব | পশ্চিম |
| বড় | ছোট |
৯. নিম্নরেখ অংশগুলির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো
| বাক্যাংশ | পদ | কারক | বিভক্তি |
|---|---|---|---|
| তিনটি শালিক বগড়া থামায়। | তিনটি শালিক | কর্তৃকারক | শূন্য |
| গর্ত থেকে ইঁদুর, সেটাও পিটপিটে চোখ দেখছে চেয়ে। | গর্ত থেকে | অপাদান কারক | থেকে |
| প্রজাপতির ঝাঁক চাইছে তাদের রাখতে আমার আঁকায়। | প্রজাপতির ঝাঁক | কর্তৃকারক | শূন্য |
| এবার যেন তারার মালা খুব গোপনে নামছে কাছে। | কাছে | অধিকরণ কারক | এ (সপ্তমী) |
| সেই তো আমার পদক পাওয়া। | আমার | সম্বন্ধ পদ | র (ষষ্ঠী) |
১০. বাক্য বাড়াও
সম্প্রসারিত: আমি যখন রং ছড়িয়ে খুশ-খেয়ালে মনের সুখে নানা রঙের ছবি আঁকি।
সম্প্রসারিত: ওই যে মাঠের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে, সন্ধ্যা নামার মুখে চাঁদের দুধের সর খুব নরম ও ঘন হয়ে জমে যায় যখন পুব আকাশে।
সম্প্রসারিত: গর্তের ভেতর থেকে ইঁদুরটা উঁকি মেরে তার পিটপিটে চোখে কৌতূহল নিয়ে দেখছে চেয়ে।
সম্প্রসারিত: যখন সন্ধ্যাবেলা বাতাস ঈষৎ কাঁপন দেয়, তখনই আমার নতুন ছড়া লেখার শুরু হয়।
সম্প্রসারিত: দশটি জোনাকি পোকা বকুল গাছের ডালে বসে অন্ধকারে আলো জ্বেলে 'অ' লিখেছে আর 'আ' লিখেছে।
১১. একটি বাক্যে উত্তর দাও
10 টি১২. দুই-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও
6 টি• কবি যখন আনন্দের সঙ্গে সৃষ্টি করেন, রং ও তুলি যেন প্রাণ পায়।
• দুপুরে সাধারণত সবাই বিশ্রাম নেয়, কিন্তু কবি তখন সৃজনশীল—তাই রং-তুলিরা যেন আদৃত বোধ করে।
• চারপাশের পাখি, প্রজাপতি, ইঁদুর—সবার কৌতূহলী উপস্থিতি আরও আনন্দ বাড়িয়ে দেয়।
তাদের এই আলো-লেখা দেখে মনে হয়েছে—যেন তারার মালা খুব গোপনে কবির কাছে নেমে এসেছে। প্রকৃতি যে নিজেই এক বর্ণমালা, এক ভাষা সৃষ্টি করতে পারে—এ যেন তারই প্রমাণ। কবির কাছে এই দৃশ্যই পরম পুলকের, এটাই কবির জীবনের সেরা 'পদক পাওয়া'।
১৩. অনধিক দশটি বাক্যে উত্তর দাও
4 টিসম্পর্ক ও গুরুত্ব:
কবির কাছে আঁকা আর লেখা নিছক একাকী সৃজন নয়—এগুলোর মধ্যে দিয়ে তিনি পৌঁছাতে চান তাঁর প্রিয়জনের কাছে। হাওয়া (বাতাস) যেন দূতের কাজ করে—কবির ছড়াকে বয়ে নিয়ে যায় \'তোমার\' কাছে। এই \'তুমি\'ই হলেন কবির সৃষ্টির মূল প্রেরণা ও প্রাপক।
বিচার করলে দেখা যায়: (১) কবির আঁকা যখন পাখি-প্রজাপতি-ইঁদুরকে মুগ্ধ করে, তখন সেই আনন্দের পূর্ণতা পেতে চায় প্রিয়জনের উপস্থিতি। (২) কবির লেখা যখন জোনাকির আলোয় অক্ষর হয়ে ফোটে, তখন সেই সৃষ্টিও একান্তভাবেই \'তোমার\' জন্য। অর্থাৎ, সমস্ত সৃজনশীলতার চূড়ান্ত গন্তব্যই হলো এই \'তুমি\' বা ভালোবাসার মানুষটি। তাঁকে ছাড়া আঁকা-লেখার পুলক অসম্পূর্ণ।
১) চাঁদের দুধের সর: পুব আকাশে চাঁদের যে আলো মাঠে পড়ে, তাকে \'দুধের সর\'-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সর যেমন ঘন, সাদা ও কোমল—চাঁদের আলোটাও তেমনই নরম ও স্নিগ্ধ। প্রকৃতির এই উপমা ছাড়া মাঠের চাঁদ-ধোয়া রূপ বোঝানো যেত না।
২) তারার মালা: জোনাকিদের সমবেত আলোকে তারার মালার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রাতের তারারা যেমন আকাশে গয়নার মতো ঝুলে থাকে, জোনাকিরাও তেমনই বকুল গাছে আলোর হার পরিয়ে দিয়েছে।
৩) জোনাকির \'অ-আ\' লেখা: এটি উপমা নয়—মানবীয়করণ (Personification)। জোনাকিরা যেন অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন—তাদের আলোর রেখা যেন বর্ণমালা হয়ে ধরা দিয়েছে।
৪) পদক পাওয়া: কবি ছড়া লেখার পুলককে \'পদক পাওয়া\'-র সঙ্গে তুলনা করেছেন। আসল পুরস্কার কোনো ধাতব পদক নয়—সৃজনের আনন্দই শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।
এই উপমাগুলি ছাড়া কবির সৃজনলোকের জাদুকরী আবহ বোঝানো সম্ভব হতো না।
এর কারণ:
১) ভাষার মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করা আমার কাছে সহজ। রং আর তুলির চেয়ে শব্দ দিয়ে মনের ভাব আঁকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
২) কবিতা লেখার সময় কোনো বাঁধাধরা নিয়মের প্রয়োজন পড়ে না—ছন্দ-মিল থাকতেই হবে এমনও নয়। নিজের মনের কথা সোজাসুজি বলা যায়।
৩) কবিতা বা ছড়া লেখার পর সেটা জোরে পড়ে শোনাতে ভালো লাগে। আঁকা ছবি দেখানো যায়, কিন্তু \'শোনানো\' যায় না।
৪) তাছাড়া, কবিতা লেখার জন্য শুধু কলম-কাগজ বা মোবাইলই যথেষ্ট। ছবি আঁকতে গেলে রং-তুলি-কাগজ—অনেক সরঞ্জাম চাই।
তবে ছবি আঁকাটাও যে ভালো লাগে না তা নয়—বিশেষ করে প্রকৃতির ছবি আঁকতে আমার দারুণ লাগে। কিন্তু দুটোর মধ্যে বেছে নিতে হলে আমি নিঃসন্দেহে কবিতা লেখাকেই বেছে নেবো।
এটি একটি হাতে লেখা পত্রিকা তৈরি করার জন্য নির্দেশনা ও নমুনা:
প্রথম পাতা (প্রচ্ছদ):
• ওপরে বড় অক্ষরে নাম: \'জোনাকির আলো\'
• নীচে একটি জোনাকি পোকার ছবি আঁকো (কালো কাগজে সাদা-হলুদে)
• সম্পাদকের নাম ও শ্রেণি লেখো
দ্বিতীয় পাতা:
• তোমার নিজের লেখা একটি ছড়া—যেমন বৃষ্টি, ফুল, পাখি বা স্কুল নিয়ে
• পাশে বৃষ্টির ফোঁটা বা ফুলের ছোট্ট ছবি আঁকো
তৃতীয় পাতা:
• একটি ছোট্ট গল্প বা কবিতা—যেমন \'আমার প্রিয় বন্ধু\' বা \'একটি ভোরে দেখা\'
• পাশে সূর্যোদয় বা বন্ধুর ছবি আঁকো
চতুর্থ পাতা (শেষ পাতা):
• \'আমার পত্রিকা সম্বন্ধে শিক্ষকের মতামত\'
• নীচে শিক্ষকের স্বাক্ষরের জন্য জায়গা
গুরুত্বপূর্ণ: পত্রিকাটি সম্পূর্ণ হাতে লিখবে (পেনসিল বা পেনে), রং পেনসিল বা জলরং দিয়ে ছবি আঁকবে। মার্জিন টেনে সুন্দর করে সাজাবে। শিক্ষককে দেখানোর পর তাঁর মতামত নীচে লিখে নেবে।