আত্মকথা

রামকিঙ্কর বেইজ রচিত 'আত্মকথা' রচনার সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | সপ্তম শ্রেণি

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 19 December 2025 Last Update: 31 May 2026

আত্মকথা

রামকিঙ্কর বেইজ আত্মকথা/স্মৃতিকথা

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • তৃতীয় পাঠ

শিল্পীর জীবন শান্তিনিকেতন চিত্রকলা ছোটবেলার স্মৃতি

রামকিঙ্কর বেইজ (১৯০৬ - ১৯৮০)

ভারতের প্রখ্যাত ভাস্কর এবং চিত্রশিল্পী। ছোটোবেলা থেকেই ছবি আঁকায় পারদর্শী ছিলেন। দেব-দেবীর ছবি আঁকতেন, কুমোর-কামারদের কাজেও আকৃষ্ট ছিলেন। পুতুল-গড়া, খড়ের সিন-তৈরি, ছবি-আঁকা ইত্যাদি কাজে যুক্ত ছিলেন। শিল্পী রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের সৌজন্যে ১৯২৫ সালে শান্তিনিকেতনে আসেন। সেখানে আচার্য নন্দলাল বসুর কাছে শিক্ষালাভ করেন। শান্তিনিকেতনে তাঁর গড়া বিখ্যাত মূর্তিগুলির মধ্যে রয়েছে—'সুজাতা', 'হাটের সাঁওতাল পরিবার', 'গান্ধিজী', 'বুদ্ধদেব', 'কাজের শেষে সাঁওতাল রমণী' ইত্যাদি। ১৯৭৬ সালে 'বিশ্বভারতী' তাঁকে 'দেশিকোত্তম' উপাধিতে ভূষিত করে।

📝

রচনা

আত্মকথা

👤

লেখক

রামকিঙ্কর বেইজ

📚

পাঠ

তৃতীয় পাঠ (সাহিত্য মেলা)

🎯

ধরন

আত্মস্মৃতিমূলক রচনা

রচনার সারাংশ ও মূলভাব

মূলভাব: "আত্মকথা" রচনায় প্রখ্যাত ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী রামকিঙ্কর বেইজ তাঁর নিজের জীবনের কথা বলেছেন। কুমোরপাড়ায় তাঁর প্রথম শিল্পীজীবনের সূচনা, যেখানে রঙের প্রয়োজন মেটাতেন গাছের পাতার রস, শিলের হলুদ, মেয়েদের পায়ের আলতা ইত্যাদি দিয়ে। আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় তিনি কলেজে অবৈতনিক ছাত্র হিসেবে পড়াশোনার সুযোগ পান। ছোটোবেলায় পড়াশোনায় মন বসত না, আঁকতেই বেশি ভালোবাসতেন।

রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের সৌজন্যে তাঁর শান্তিনিকেতনের সঙ্গে যোগাযোগ হয় এবং ১৯২৫ সালে তিনি সেখানে চলে আসেন। সেখানে আচার্য নন্দলাল বসুর কাছে চিত্রকলার শিক্ষা নেন। নন্দলাল বসু ছাত্রদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিতেন, নিজে কোনো কিছু চাপিয়ে দিতেন না। রামকিঙ্করই প্রথম শান্তিনিকেতনে অয়েল পেইন্টিং শুরু করেন।

গুরুত্বপূর্ণ দিক: নন্দলাল বসুর ছবির সাধারণ চরিত্র, সাদামাটা বিষয়বস্তু ও ক্যামেরা-নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি রামকিঙ্করকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর নিজের ছবি ও মূর্তির অধিকাংশ চরিত্রও তাই খুব সাধারণ। এই রচনায় একজন প্রকৃত শিল্পীর বেড়ে ওঠা, সংগ্রাম, শিক্ষা ও দর্শনের পরিচয় পাওয়া যায়।

১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো

৪ টি
১.১ রামকিঙ্করের প্রথম শিল্পী-ইস্কুল ছিল বাড়ির পাশের—
ক) কামারপাড়া ✔ কুমোরপাড়া গ) পুঁথিপাড়া
১.২ 'পোড়ো' শব্দটির অর্থ হলো—
ক) প্রতিকৃতি খ) আত্ম-প্রতিকৃতি ✔ প্রকৃতির ছবি
১.৩ 'অয়েল পেন্টিং' বলতে বোঝায়—
ক) জলরঙে আঁকা ছবি খ) মোমরঙে আঁকা ছবি ✔ তেলরঙে আঁকা ছবি
১.৪ রামকিঙ্করের ছবি বা মূর্তির অধিকাংশ চরিত্রই যে খুব—
ক) অসাধারণ ✔ সাধারণ গ) নগণ্য

২. একই অর্থযুক্ত শব্দ (রচনাংশ থেকে)

রচনাংশ থেকে বেছে নিয়েঅর্থ
অবৈতনিকবিনা ব্যয়ে
অ্যাকাডেমিকপ্রাতিষ্ঠানিক/প্রথাগত
প্রয়োজনদরকার
দক্ষ/নিপুণনিপুণ (শিল্পী হিসেবে)
মর্যাদাবানসম্মাননীয়

৩. বিশেষ্য থেকে বিশেষণ এবং বিশেষণ থেকে বিশেষ্য পরিবর্তন

শব্দবিশেষ্য/বিশেষণপরিবর্তিত রূপ
সার্থকবিশেষণসার্থকতা (বিশেষ্য)
সুন্দরবিশেষণসৌন্দর্য (বিশেষ্য)
মূর্তিবিশেষ্যমূর্তিমান (বিশেষণ)
চরিত্রবিশেষ্যচারিত্রিক (বিশেষণ)
উদ্বুদ্ধবিশেষণউদ্বুদ্ধতা (বিশেষ্য)

৪. এককথায় উত্তর দাও

৪.১ কী কী দিয়ে শিল্পী রামকিঙ্কর রঙের প্রয়োজন মেটাতেন?

উত্তর: গাছের পাতার রস, বাটনা-বাটা শিলের হলুদ, মেয়েদের পায়ের আলতা, মুড়ি-ভাজা খাওয়ার চাঁছা ভুষোকালি ইত্যাদি দিয়ে রামকিঙ্কর রঙের প্রয়োজন মেটাতেন।

৪.২ কার সৌজন্যে রামকিঙ্করের সঙ্গে শান্তিনিকেতনের যোগাযোগ হয়?

উত্তর: 'প্রবাসী' পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের সৌজন্যে রামকিঙ্করের সঙ্গে শান্তিনিকেতনের যোগাযোগ হয়।

৪.৩ শান্তিনিকেতনের আচার্য নন্দলাল বসু কাজের ক্ষেত্রে কেমন মনোভাব দেখাতেন?

উত্তর: নন্দলাল বসু ছাত্রদের কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতেন। তিনি নিজের কাজ করতেন, একবার ঘুরে যেতেন কিন্তু বিশেষ কোনো নির্দেশ (ইনস্ট্রাকশন) দিতেন না। নিজে কিছু চাপিয়ে দিতেন না (ইমপোজ করতেন না)।

৪.৪ নন্দলাল বসুর কাজের কোন দিকটি শিল্পী রামকিঙ্করকে বেশি প্রভাবিত করেছিল?

উত্তর: নন্দলাল বসুর ছবির সাধারণ চরিত্র, কমন ল্যান্ডস্কেপ এবং একেবারে প্রায় ক্যামেরা-নিরপেক্ষ চরিত্র—ছবির এই সাদামাটা সুরটাই রামকিঙ্করকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

৫. নিম্নলিখিত ব্যক্তি ও বিষয়গুলি নিয়ে দু-একটি বাক্য লেখো

ক) নন-কোঅপারেশন মুভমেন্ট

উত্তর: নন-কোঅপারেশন বা অসহযোগ আন্দোলন ছিল মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি বড় আন্দোলন। রামকিঙ্কর এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন এবং কংগ্রেসের কাজে সক্রিয় ছিলেন।

খ) অয়েল পেন্টিং

উত্তর: অয়েল পেন্টিং বা তেলচিত্র হল তেলরঙে আঁকা ছবি। রামকিঙ্করই প্রথম শান্তিনিকেতনে এই ধরনের ছবি আঁকা শুরু করেন এবং তাঁর আঁকা প্রথম তেলচিত্র ছিল 'গালর্ল অ্যাড দ্য ডগ'।

গ) আচার্য নন্দলাল বসু

উত্তর: নন্দলাল বসু ছিলেন শান্তিনিকেতনের কলাভবনের অধ্যয়ক এবং ভারতীয় চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি ওরিয়েন্টাল আর্টের (প্রাচ্য শিল্পধারা) প্রবর্তক ছিলেন। ছাত্রদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও সাহায্যপূর্ণ।

ঘ) ল্যান্ডস্কেপ

উত্তর: ল্যান্ডস্কেপ অর্থ প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি বা ভূদৃশ্য। নন্দলাল বসুর ছবিতে ল্যান্ডস্কেপ খুব সাধারণ ও সাদামাটা হতো, যা শিল্পী রামকিঙ্করকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

৬. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো

৪ টি
৬.১ 'ভিজুয়াল আর্টে' আমার প্রথম বর্ণপরিচয়'— শিল্পী রামকিঙ্করের ছবির সঙ্গে প্রথম বর্ণপরিচয় হয়েছিল কীভাবে?

উত্তর: শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজের প্রথম 'ভিজুয়াল আর্টে'র (দৃশ্যকলা বা চিত্রকলা) সঙ্গে পরিচয় ঘটে কুমোরপাড়ায়। বাড়ির পাশের কুমোরপাড়ায় গিয়ে তিনি দেখতেন কীভাবে কুমোরেরা মাটির পুতুল, দেব-দেবীর মূর্তি এবং নানা ধরনের খেলনা তৈরি করতেন। সেখান থেকেই রং ও রূপের জগতের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়। এছাড়া, পাড়ার প্রতিমাকারকদের দেখে তিনি ছাগলের গায়ের লোম কেটে বাঁশের কাঠির ডগায় বেঁধে তুলির কাজ করতেন। গাছের পাতার রস, শিলের হলুদ, আলতা—এই সব প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়েই তাঁর রংচিত্রের জগতে প্রবেশ ঘটে। অর্থাৎ, প্রথাগত শিক্ষা নয়, বরং কুমোরপাড়ার কুমোরদের কাজ ও গ্রামীণ কারুশিল্পই ছিল তাঁর 'ভিজুয়াল আর্টে'র প্রথম বর্ণপরিচয়।

৬.২ 'জেনারেল লাইব্রেরির উপরতলায় কলাভবনে নিয়ে গেলেন'— কে কাকে নিয়ে গিয়েছিলেন? তারপর কী ঘটেছিল?

উত্তর: 'প্রবাসী' পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় রামকিঙ্কর বেইজকে জেনারেল লাইব্রেরির উপরতলায় কলাভবনে নিয়ে গিয়েছিলেন।

এরপর যা ঘটেছিল তা হল—রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে কলাভবনের আচার্য নন্দলাল বসুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তখন রামকিঙ্করের চিত্রকলা সম্পর্কে বিশেষ কোনো ধারণা ছিল না, শুধুমাত্র 'প্রবাসী' পত্রিকার অ্যালবামে যা-কিছু ছবি দেখেছিলেন ততটুকুই জানতেন। তাঁর মনে হয়েছিল ভারতীয় চিত্রকলা খারাপ লাগে না বটে, কিন্তু বাস্তবতার ভিতর দিয়ে না গেলে তা সার্থক হবে না। পরবর্তীকালে এই ধারণাই শান্তিনিকেতনের চিত্রচর্চায় প্রকৃতিবাদী বাস্তবতার সূচনা ঘটায়।

৬.৩ 'যতদূর মনে হচ্ছে—গার্ল অ্যাড দ্য ডগ'— কার উক্তি? 'গার্ল অ্যাড দ্য ডগ' কীসের নাম? তিনি কীভাবে এ ধরনের কাজ শিখেছিলেন?

উত্তর: এটি শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজের উক্তি।

'গার্ল অ্যাড দ্য ডগ' (Girl and the Dog) হল তাঁর অঙ্কিত প্রথম অয়েল পেইন্টিং বা তেলচিত্রের নাম।

তিনি এই অয়েল পেইন্টিং কাজটি কীভাবে শিখেছিলেন— শান্তিনিকেতনে তখন কেউ অয়েল পেইন্টিং করতেন না। রামকিঙ্কর নিজেই প্রথম এই কাজ শুরু করেন। দোকানে গিয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'অয়েল-পেইন্টিং করব, কী রং আছে? কীভাবে করতে হয়, দেখান?' দোকানদার তখন তাঁকে তুলি, টিউব রং আর পাতলা তেল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন— 'এই তুলি, এই টিউবের রং আর এই পাতলা তেল আছে, একবার ভিজিয়ে নিয়ে রং করো।' এইভাবেই দোকানদারের কাছ থেকে অল্প নির্দেশ পেয়ে তিনি নিজের চেষ্টায় অয়েল পেইন্টিং শিখে ফেলেন এবং 'গার্ল অ্যাড দ্য ডগ' ছবিটি আঁকেন।

৬.৪ 'এই সাদামাটা সুরটা আমাকে ভীষণভাবে টানে'— কাকে টানে? 'সাদামাটা সুর' বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন? তাঁকে এই সুর টানে কেন?

উত্তর: নন্দলাল বসুর ছবির যে-কোনো সাধারণ ও অনাড়ম্বর বিষয়বস্তু রামকিঙ্কর বেইজকে ভীষণভাবে টানে।

'সাদামাটা সুর' বলতে রামকিঙ্কর বুঝিয়েছেন— নন্দলাল বসুর ছবির বিষয় বা পটভূমি খুব সাধারণ, চরিত্রগুলি হয় সাদামাটা। তাঁর ছবিতে বাড়াবাড়ি নেই, অতিরঞ্জন নেই। ক্যামেরার মতো সত্যি ও নির্ভেজাল চরিত্রায়ণ রয়েছে।

নন্দলাল বসুর ছবির এই সাধারণ সুর, নিরলঙ্কার চরিত্র এবং প্রাণের কমনীয়তা রামকিঙ্করকে গভীরভাবে টানে। কারণ, শিল্পী হিসেবে তিনি নিজেও বিশ্বাস করতেন যে শিল্পের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত আছে সাধারণ মানুষের জীবন ও চরিত্রের মধ্যে। এই কারণেই তিনি বলেছেন যে তাঁর নিজের ছবি ও মূর্তির অধিকাংশ চরিত্র খুব সাধারণ— এটা অনেকটাই নন্দলাল বসুর পরোক্ষ প্রভাবে।

৭. সৃজনশীল কাজ

৭ সাহিত্য মেলা বইয়ের যেকোনো একটি কবিতা বা গল্প বা যেকোনো একটি বিষয়কে আকর করে তারই সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি ছবি এঁকে দেখাও। নিজের আঁকা ছবি নিয়ে পাঁচ/ছয়টি বাক্য লেখো এবং নিজের মতামত জানাও।

নির্দেশিকা: এটি একটি সৃজনশীল কাজ। শিক্ষার্থী নিজের পছন্দমতো সাহিত্য মেলার কোনো কবিতা বা গল্প বেছে নিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ছবি আঁকবে। তারপর সেই ছবি নিয়ে নিজের ভাষায় মতামত জানাবে।

উদাহরণমূলক মতামত: আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মম চিত্তে নিতি নৃত্যে' গানটির কথা ভেবে একটি নৃত্যরত ময়ূরের ছবি এঁকেছি। ছবিতে দেখিয়েছি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মধ্যে নৃত্যরত একটি নীল ময়ূর। সবুজ ঘাস, রঙিন ফুল আর ময়ূরের পেখম তোলা দৃশ্যটি ফুটিয়ে তুলতে আমি প্যাস্টেল রং ব্যবহার করেছি। আমার মনে হয়েছে, ছবিটি গানের মূল সুরের সঙ্গে সংগতি রেখেছে।

[ এখানে শিক্ষার্থীর আঁকা ছবি বসবে ]

রামকিঙ্কর বেইজের আঁকা একটি প্রতিকৃতি

[ এখানে রামকিঙ্করের ভাস্কর্য 'মা ও ছেলে' বা 'রবীন্দ্রনাথের মূর্তি'র ছবি ]

রামকিঙ্করের বিখ্যাত ভাস্কর্য: 'মা ও ছেলে' (বাঁয়ে) ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি (ডানে)

গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

শব্দঅর্থ
কপিঅনুকরণ/নকল
ভিজুয়াল আর্টছবি/চিত্রকলা
অ্যাকাডেমিকপ্রথাগত লেখাপড়া
নন-কোঅপারেশনঅসহযোগ আন্দোলন
প্রেসেশনশোভাযাত্রা
পোস্টারপ্রতিকৃতি (ছবি)
অয়েল পেন্টিংতেলচিত্র
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়'প্রবাসী' পত্রিকার সম্পাদক
অ্যানাটমিশরীরতত্ত্ব
মাসলপেশি
ইনস্ট্রাকশননির্দেশ
ইমপোজআরোপ/চাপিয়ে দেওয়া
ওরিয়েন্টাল আর্টশিল্পকলার প্রাচ্য ধারা
ওয়েস্টার্ন আর্টশিল্পকলার পাশ্চাত্য ধারা
পেইন্টারশিল্পী (ছবি আঁকিয়ে)

শিল্পী রামকিঙ্করের পরিচিতি

রামকিঙ্কর বেইজ (১৯০৬-১৯৮০) সম্পর্কে আরও জানুন

ছোটোবেলা থেকেই ছবি আঁকায় পারদর্শী ছিলেন রামকিঙ্কর। দেব-দেবীর ছবি আঁকতেন, কুমোর-কামারদের কাজেও আকৃষ্ট ছিলেন। পুতুল-গড়া, খড়ের সিন-তৈরি, ছবি-আঁকা ইত্যাদি কাজে যুক্ত ছিলেন। শিল্পী রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে শান্তিনিকেতনে ১৯২৫ সালে নিয়ে আসেন। নন্দলাল বসু তাঁর ছবি দেখে বলেছিলেন, 'তুমি সবই জানো, আবার এখানে কেন?'

সারাজীবন তিনি অজস্র ছবি এঁকেছেন, মূর্তি গড়েছেন। তাঁর ছবিতে, ভাস্কর্যে রাঢ় দেশের মাটি ও মানুষের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিল্পকলার নানা বিশেষত্ব তাঁর কাজে ধরা পড়েছে। ১৯৭৬ সালে 'বিশ্বভারতী' কর্তৃক 'দেশিকোত্তম' উপাধিতে ভূষিত হন।

শান্তিনিকেতনে রামকিঙ্করের বিখ্যাত মূর্তি

মূর্তির নামবিবরণ
সুজাতাবুদ্ধের কাছে পরমান্ন দানকারিণী নারী মূর্তি
হাটের সাঁওতাল পরিবারহাট থেকে ফেরা এক সাঁওতাল পরিবারের দলগত মূর্তি
গান্ধিজীমহাত্মা গান্ধীর মূর্তি
বুদ্ধদেবভগবান বুদ্ধের মূর্তি
কাজের শেষে সাঁওতাল রমণীকাজ শেষে বিশ্রামরতা এক সাঁওতাল নারীর মূর্তি

শিল্পের শিক্ষা

মনে রেখো: রামকিঙ্কর বেইজের জীবন থেকে আমরা শিখি যে নিষ্ঠা, স্বাধীনচেতা মনোভাব এবং সাধারণ জীবনই হতে পারে প্রকৃত শিল্পের উৎস। দোকানদারের সামান্য নির্দেশ থেকেই তিনি অয়েল পেইন্টিং শিখেছিলেন, যা প্রমাণ করে শেখার জন্য আগ্রহই আসল। নন্দলাল বসুর মতো গুরুও তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, যা একজন শিল্পীর সৃজনশীল বিকাশে কতটা জরুরি। জীবনের ছোটো ছোটো সাদামাটা মুহূর্তেও যে অসামান্য শিল্প লুকিয়ে থাকে, এটাই 'আত্মকথা'র বড় শিক্ষা।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'আত্মকথা' প্রখ্যাত ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী রামকিঙ্কর বেইজের লেখা একটি আত্মস্মৃতিমূলক রচনা। এটি WBBSE সপ্তম শ্রেণির 'সাহিত্য মেলা' পাঠ্যপুস্তকের তৃতীয় পাঠে অন্তর্ভুক্ত।

রামকিঙ্কর বেইজের প্রথম শিল্পীজীবন শুরু হয় কুমোরপাড়ায়। তিনি বাড়ির পাশের কুমোরপাড়ায় গিয়ে কুমোরদের কাজ দেখতেন এবং সেখান থেকেই রং ও রূপের জগতের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় ঘটে।

শান্তিনিকেতনে রামকিঙ্কর বেইজের গুরু ছিলেন আচার্য নন্দলাল বসু, যিনি কলাভবনের অধ্যক্ষ এবং ভারতীয় চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ। নন্দলাল বসু ছাত্রদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করতেন।