ভানুসিংহের পত্রাবলী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ভানুসিংহের পত্রাবলী' পত্রসাহিত্যের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | সপ্তম শ্রেণি

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 19 December 2025 Last Update: 31 May 2026

ভানুসিংহের পত্রাবলী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রসাহিত্য

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • সপ্তম পাঠ
উৎস: 'ভানুসিংহের পত্রাবলি' পত্রসংকলন

পত্র বর্ষা শান্তিনিকেতন নদী ভ্রমণ কলকাতা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১ - ১৯৪১)

জন্ম কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। অল্পবয়স থেকে 'ভারতী' ও 'বালক' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। 'কথা ও কাহিনী', 'সহজপাঠ', 'রাজর্ষি', 'ছেলেবেলা', 'শিশু', 'শিশু ভোলানাথ', 'হাস্যকৌতুক', 'ডাকঘর', 'গল্পগুচ্ছ'-সহ তাঁর বহু রচনা শিশু-কিশোরদের আকৃষ্ট করে। ১৯১৩ সালে 'Song Offerings'-এর জন্য প্রথম এশিয়াবাসী হিসেবে নোবেল পুরস্কার পান। ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁর রচনা। পাঠ্যাংশটি তাঁর লেখা চিঠির সংকলন 'ভানুসিংহের পত্রাবলি' থেকে নেওয়া হয়েছে।

📝

রচনা

ভানুসিংহের পত্রাবলী

👤

লেখক

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

📚

পাঠ

সপ্তম পাঠ (সাহিত্য মেলা)

🎯

ধরন

পত্রসাহিত্য (চিঠি)

পত্রের সারসংক্ষেপ

এই পত্রদুটির প্রথমটি লেখা হয়েছে ২৯ আষাঢ়, ১৩২৯ (বাংলা সন) কলকাতা থেকে।

প্রথম পত্র: কলকাতা শহরকে ইট-কাঠের প্রকাণ্ড জন্তু বলে মনে হয় কবির—যেন তা তাঁকে গিলে ফেলেছে। অন্যদিকে শান্তিনিকেতনে বৃষ্টি নামলে চারপাশের প্রকৃতি এক করুণ সৌন্দর্যে ভরে ওঠে, গান জেগে ওঠে মনের মধ্যে। কিন্তু কলকাতার নববর্ষের বাড়ির ছাদ থেকে সেই সৌন্দর্য খাঁড়া হয়ে পড়ে। বর্ষামঙ্গলের গান শান্তিনিকেতনের মাঠে তৈরি হয়—কলকাতার হাটে তা জমবে কিনা সন্দেহ। দিনুবাবুও (দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর) কলকাতা ছেড়ে পালাতে চান।

দ্বিতীয় পত্র: লেখা ২ শ্রাবণ, ১৩২৯। কবি আত্মাই নদীতে বোটে করে ভেসে চলেছেন। বর্ষার মেঘে আকাশ ঢাকা, হালকা বাতাস বইছে, পাল তুলে দেওয়া হয়েছে। নদী কূলে কূলে পরিপূর্ণ, দলে দলে শেওলা ভেসে আসছে। দুই তটে সবুজের ঘনিমা—ধানক্ষেত, বাঁশঝাড়, আম-কাঁঠাল-তেঁতুল-শিমুল গাছ। এরই মধ্যে বৃষ্টি নামল। এই জলমগ্ন আকাশের ছায়াবৃত নিভৃত শ্যামলতায় একটি গান তৈরি করতে ইচ্ছে করছে কবির। দীর্ঘদিন বোলপুরের শুকনো ডাঙায় কাটিয়ে এখন নদীর উপর আসতে পেরে কবির মনে হচ্ছে পৃথিবীর মনের কথাটি শোনা যাচ্ছে। কিন্তু রাতের গাড়িতেই কলকাতা যেতে হবে—এটা ভালো লাগছে না।

১. সঠিক উত্তরটি বেছে লেখো

৫ টি
১.১ বর্ষামঙ্গল কোন মাসে অনুষ্ঠিত হয়?

বর্ষামঙ্গল শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। পত্রে উল্লেখ আছে 'এবার শ্রাবণ মাসে আর বারের মতো কলকাতায় বর্ষামঙ্গল গান হবে'।

১.২ শান্তিনিকেতন কোন জেলায় অবস্থিত?

শান্তিনিকেতন বীরভূম জেলায় অবস্থিত। এটি বোলপুরের কাছে রবীন্দ্রনাথের স্থাপিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিখ্যাত।

১.৩ কবি কোন নদীর ওপর বোট করে ভেসে চলেছেন?

কবি আত্মাই নদীর ওপর বোট করে ভেসে চলেছেন। এটি পদ্মা নদীর কাছাকাছি অঞ্চলের একটি নদী।

১.৪ পৃথিবীর মনের কথাটি কবি শুনতে পান —

পৃথিবীর মনের কথাটি কবি শুনতে পান নদীর ওপর এসে। তিনি বলেছেন: 'এই নদীর উপর এসে মনে হয়—পৃথিবীর যেন মনের কথাটি শুনতে পাওয়া যায়।'

১.৫ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রমাণসাহিত্যের উদাহরণ হলো —

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রমাণসাহিত্যের উদাহরণ: ছিন্নপত্র। এটি তিনি নদীতে বোটে ভ্রমণকালে লেখা চিঠির এক বিখ্যাত সংকলন। (গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ, শেষের কবিতা উপন্যাস—এগুলো প্রমাণসাহিত্য নয়।)

২. সংক্ষেপে উত্তর দাও

8 টি
২.১ "কলকাতা শহরটা আমি মোটেই পছন্দ করিনে" — কবির এই অপছন্দের কারণ কী?
কবির কলকাতা অপছন্দের কারণ: কলকাতা শহরকে তাঁর মনে হয় ইট-কাঠের একটা প্রকাণ্ড জন্তু—যেন সেটা তাঁকে একেবারে গিলে ফেলেছে। শহরের কৃত্রিমতা, ইট-পাথরের জড়তা তাঁর কোমল প্রকৃতিপ্রেমী মনকে পীড়া দিত।
২.২ "সে গান কি কলকাতা শহরের হাটে জমবে" — কোন গানের কথা বলা হয়েছে? সে গান কলকাতা শহরের হাটে জমবে না—কবির এমন ভাবনা কেন?
শান্তিনিকেতনের মাঠে তৈরি হওয়া নতুন বর্ষার গানের কথা বলা হয়েছে। কবির ভাবনা: শান্তিনিকেতনের মাঠে প্রকৃতির মাঝে যে গান সৃষ্টি হয়েছে, তা কলকাতা শহরের কৃত্রিম হাটে (ব্যস্ত, কোলাহলময় স্থানে) কখনই ঠিকমতো জমবে না। কারণ গানটির সৃষ্টির সঙ্গে প্রকৃতির যোগ আছে, হাটের সঙ্গে নেই।
২.৩ "তোমাদের ওখানে এতদিনে বোধহয় বর্ষা নেমেছে"— কাকে উদ্দেশ্য করে কবি একথা লিখেছেন? \'ওখানে\' বলতে কোন জায়গার কথা বলা হয়েছে?
কবি পত্রটি লিখেছেন সম্ভবত শান্তিনিকেতনে থাকা তাঁর কোনো আত্মীয় বা বন্ধুকে (যেমন রথীন্দ্রনাথ বা অন্য কাউকে) উদ্দেশ্য করে। \'ওখানে\' বলতে শান্তিনিকেতন বা বোলপুর-এর কথা বলা হয়েছে, যেখানে কবি সাধারণত থাকতেন এবং যেখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য কলকাতার চেয়ে অনেক বেশি।
২.৪ "শান্তিনিকেতনের মাঠে যখন বৃষ্টি নামে..." — তখন কবির কেমন অনুভূতি হয়?
শান্তিনিকেতনের মাঠে বৃষ্টি নামলে কবির মনে হয়—আকাশের আলো মাঠের ছায়ায় করুণ হয়ে আসে, ঘাসে ঘাসে পুলক লাগে, গাছগুলো যেন কথা বলতে চায়। তাঁর মনের মধ্যে গান জেগে ওঠে আর সেই সুর গিয়ে পৌঁছায় দিনুর (দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর) ঘরে। প্রকৃতি যেন সজীব ও মূর্ত হয়ে ওঠে।
২.৫ "আজ সকালেই সে পালাবে শিকার করেছে" — \'আজ\' বলতে যে দিনটির কথা বলা হয়েছে তার সাল ও তারিখ কত? \'সে\' বলতে কার কথা বলা হয়েছে? সে কোথায় পালাবে এবং কেন?
তারিখ: ২৯ আষাঢ়, ১৩২৯ (বাংলা সন)। \'সে\' বলতে দিনুবাবু (দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর)-এর কথা বলা হয়েছে। তিনি কলকাতা থেকে বোলপুর বা শান্তিনিকেতনে পালাবেন। কারণ: \'আষাঢ় মাসের বর্ষাকে এ শহরে যেমন মানায় না, দিনুবাবুকেও তেমনি\'—অর্থাৎ কলকাতা শহর তাঁর প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই নয়, তাই তিনি পালাতে চান।
২.৬ "সমস্তটার উপর বাদল-সায়াহ্নের ছায়া"— কবির চোখ দিয়ে দেখা এই \'সমস্তটা\'-র বর্ণনা দাও।
\'সমস্তটা\' বলতে বোঝানো হয়েছে: আত্মাই নদী ও তার দুই তীরের দৃশ্য। দুই তীরে প্লাবিত ধানক্ষেত, জলের ওপর জেগে থাকা ধানের মাথা, ঘন বাঁশের ঝাড়, আম-কাঁঠাল-তেঁতুল-শিমুল গাছে ঢাকা গ্রাম, নৌকাহীন নির্জন নদী—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব বর্ষামুখর প্রকৃতি। এই পুরো দৃশ্যের ওপর বাদল-সন্ধ্যার গাঢ় ছায়া নেমে এসেছে।
২.৭ "কলকাতায় না এলে আরও জমত" — কী জমত? কবির কলকাতায় আসার সঙ্গে তা না জমে ওঠার সম্পর্ক কী?
জিনিসটি: নতুন গানের সৃষ্টি জমত (হয়ে উঠত, তৈরি হত)।
সম্পর্ক: শান্তিনিকেতনের প্রকৃতির মাঝে থাকলে কবির মনের মধ্যে যে ভাব ও সুর জাগত, তাতে আরও নতুন গান তৈরি হতে পারত। কিন্তু কলকাতার নববর্ষের বাড়ির ইট-পাথরের পরিবেশে সেই সৃষ্টির আবহ তৈরি হয় না। কাজেই, কলকাতায় আসার কারণেই নতুন গান জমে ওঠেনি।
২.৮ "খাতার দিকে চোখ রাখবার এখন সময় নয়" — কোন সময়ের কথা বলা হয়েছে? খাতার দিকে চোখ রাখবার সময় কবির নেই কেন?
দ্বিতীয় পত্রে বর্ণিত সময়ের কথা বলা হয়েছে: বর্ষায় আত্মাই নদীতে বোটে ভ্রমণের সময়। খাতার দিকে চোখ রাখার সময় নেই কারণ চারপাশের প্রকৃতি এতই অসাধারণ সুন্দর যে কবির দুই চোখ শুধু বাইরের দিকে চেয়ে থাকতে চায়—নদী, আকাশ, সবুজ প্রান্তর, বৃষ্টিধারা। এত অপরূপ দৃশ্যের মাঝে লেখায় মন বসে না।

৩. দুই-চার কথা পরিচয় দাও

১ শান্তিনিকেতন

শান্তিনিকেতন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের কাছে অবস্থিত। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে 'ব্রহ্মচর্যাশ্রম' নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন, যা পরে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপান্তরিত হয়। প্রকৃতির মাঝে খোলা আকাশের নীচে শিক্ষাদান ছিল এর মূল আদর্শ। শান্তিনিকেতনের মাঠ, বৃষ্টি আর প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথের বহু সৃষ্টির প্রেরণা।

২ দিনু

দিনু অর্থাৎ দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৮২-১৯৩৫) ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ভাইঝি (জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার পুত্র)। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রধান স্বরলিপিকার। রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'সগল্পনী' নাটক দিনেন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং তাঁকে 'আমার সকল গানের ভাণ্ডারী' নামে অভিহিত করেছিলেন। কবির গানের সুর সংগ্রহের কাজে তাঁর অবদান অপরিসীম।

৩ বর্ষামঙ্গল

বর্ষামঙ্গল হলো বর্ষা ঋতুকে স্বাগত জানানোর একটি উৎসব। রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বর্ষাকে কেন্দ্র করে নিয়মিত 'বর্ষামঙ্গল' অনুষ্ঠানের প্রবর্তন করেন। এতে বর্ষার গান-কবিতা পাঠ হতো। পরে কলকাতাতেও এর প্রচলন হয়। এই পত্রে বর্ণিত হয়েছে শ্রাবণ মাসের সেই বর্ষামঙ্গল অনুষ্ঠানের কথাই।

৪ আত্মাই

আত্মাই নদী অধুনা বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে প্রবাহিত একটি নদী যা পদ্মার উপনদী। এই নদীতে বোটে করে ভ্রমণকালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর বিখ্যাত 'ছিন্নপত্র'-সহ বহু রচনার উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন। পত্রে বর্ণিত বর্ষামুখর আত্মাই নদী ও তার দুই তীরের দৃশ্য কবির মনে গভীর রেখাপাত করেছিল।

৪. একটি বর্ষামুখর দিনের অভিজ্ঞতা বিষয়ে একটি ছোট অনুচ্ছেদ রচনা করো

একটি বর্ষামুখর দিন

সেদিন ছিল আষাঢ়ের এক ভরা বর্ষার দিন। সকাল থেকেই আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। আমি আর আমার দিদা বসেছিলাম দাওয়ায়। হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে এলো, বিদ্যুৎ চমকালো, তারপর শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। ছাদের টিনের ওপর বৃষ্টির শব্দ—টাপটাপ করে যেন কে ড্রাম বাজাচ্ছে। দিদা বললেন, 'বর্ষা এলো রে!'

আমি ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দেখলাম—বাড়ির সামনের আমগাছটা ভিজে গাঢ় সবুজ হয়ে গেছে, পাতায় পাতায় জলের ফোঁটা ঝিকমিক করছে। রাস্তার ধারের কেয়াগাছটার গোড়ায় পানি জমে ছোট্ট একটা ডোবা হয়ে গেছে। একটা টিয়াপাখি ভিজে এসে বসেছে বারান্দার রেলিঙে, মাঝে মাঝে ডানা ঝাপটাচ্ছে।

বৃষ্টির শব্দে আর ব্যাঙের ডাকে চারপাশ মুখরিত। দিদা পাশে বসে বললেন, 'এখনই বর্ষামঙ্গলের সময়।' কোনো গান শোনেননি তবু তাঁর চোখেমুখে সেই পুরোনো দিনের বর্ষামঙ্গলের সুর ভেসে উঠল। বৃষ্টি বুঝি কেবল জল নয়—এটা স্মৃতি, গান আর জীবনেরই আরেক নাম।

৫-৮. ব্যাকরণ ও শব্দভাণ্ডার অনুশীলনী

৫ অর্থ লেখো: পুলক, উত্তরীয়, এসরাজ, আড়িনা, সায়াহ্ন, প্রয়াস, নিভৃত
  • পুলক: রোমাঞ্চ, হর্ষোৎকর্ষ, আনন্দে গায়ের লোম খাড়া হওয়া
  • উত্তরীয়: চাদর, গায়ে জড়ানোর বস্ত্র
  • এসরাজ: এক ধরনের তারযন্ত্র, বেহালা জাতীয় বাদ্যযন্ত্র
  • আড়িনা: নদীতীরের পাড় বা উঁচু কিনারা
  • সায়াহ্ন: সন্ধ্যাকাল, দিনাবসানের সময়
  • প্রয়াস: চেষ্টা, যত্ন, উদ্যম
  • নিভৃত: নির্জন, একান্ত, গোপন
৬ কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো
বাক্যপদকারকবিভক্তি
কলকাতা শহরটা আমি মোটেই পছন্দ করিনে।আমিকর্তৃকারকশূন্য
তার উপরে আবার আকাশ মেঘে কল্প।তার উপরেঅধিকরণ কারকএ (সপ্তমী)
আমার মনের মধ্যে গান জেগে ওঠে।মনের মধ্যেঅধিকরণ কারকএ (সপ্তমী)
কলকাতায় বর্ষামঙ্গল গান হবে।কলকাতায়অধিকরণ কারকয় (সপ্তমী)
সে গান কি কলকাতা শহরের হাটে জমবে।হাটেঅধিকরণ কারকএ (সপ্তমী)
৭ বাক্য রচনা করো: শান্তিনিকেতন, হাট, বাদল, বৃষ্টিধারা
  • শান্তিনিকেতন: শান্তিনিকেতনে গেলে মন শান্তিতে ভরে যায়।
  • হাট: গ্রামের হাটে বসে পসরা সাজিয়েছেন কুমোর, কামার আর কৃষকেরা।
  • বাদল: বাদল দিনে গরম ভাত আর আলু ভাজা খেতে দারুণ লাগে।
  • বৃষ্টিধারা: ঝমঝমিয়ে বৃষ্টিধারা পড়ছে, চারদিক জলে থৈ থৈ করছে।
৮ শব্দগুলির অর্থ পার্থক্য দেখাও
শব্দজোড়অর্থ ১অর্থ ২
সূর — শূরসূর: সুর, ধ্বনি, গানের টোনশূর: বীর, সাহসী যোদ্ধা
আষাঢ় — আসারআষাঢ়: বর্ষাকালের মাসআসার: আগমনের, আসার (ক্রিয়া)
নৃত্য — নিত্যনৃত্য: নাচনিত্য: প্রতিদিনের, সর্বদা
কুল — কূলকুল: বংশ, গোত্রকূল: নদীর তীর, পাড়
বর্ষ — বর্যবর্ষ: বছর, বারো মাসবর্য: বরণ করার যোগ্য, শ্রেষ্ঠ
সাড়া — সারাসাড়া: প্রতিক্রিয়া, জবাবসারা: সমাপ্ত করা, সারাদিন

৯-১৭. সাহিত্য বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর

9 টি
৯ বর্ষার কলকাতা শহরকে কবির বিশেষভাবে অপছন্দ করার কারণ কী?
বর্ষাকালে কলকাতা শহর কবির কাছে বিশেষভাবে অপ্রিয় কারণ:
১) কলকাতা ইট-কাঠের প্রকাণ্ড জন্তুর মতো—গিলে খায় মানুষের মনুষ্যত্ব।
২) এ শহরে বর্ষার সৌন্দর্য ফুটে ওঠে না—শান্তিনিকেতনের মতো গাছে গাছে, ঘাসে ঘাসে পুলক লাগে না।
৩) বর্ষার মেঘলা আকাশ আর ইট-পাথরের শহরের মিলন কবির কাছে কৃত্রিম মনে হয়।
৪) \'নববর্ষের বাড়ির ছাদ মঠাকর খেতে খেতে খাঁড়া হয়ে পড়ে\'—অর্থাৎ শহুরে বর্ষায় সেই আবেগ, সৌন্দর্য, নৃত্য-গান কিছুই নেই।
১০ নববর্ষ বলতে কী বোঝ?
\'নববর্ষ\' বলতে পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু পত্রের প্রসঙ্গে এটি বলা হয়েছে একটু অন্য অর্থে। এখানে \'নববর্ষের বাড়ি\' বলতে হয়তো কলকাতার কোনো নির্দিষ্ট বাড়ির কথা বলা হয়েছে (হয়তো ঠাকুরবাড়ির সম্প্রসারিত অংশ), যেখানে কবি সাময়িকভাবে অবস্থান করছিলেন। সেই বাড়ির ছাদ থেকে বর্ষা দেখতে দেখতে কবির বিরক্তি ধরে গেছে—কারণ সেখান থেকে প্রকৃতির নৃত্য-গানের দেখা মেলে না।
১১ বর্ষার ঋতুকে নিয়ে লেখা রবীন্দ্রনাথের দুটি গান ও দুটি কবিতার নাম লেখো।
গান: (১) \'এসো নীপবনে ছায়াবীথিতলে\' (২) \'বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল\'
কবিতা: (১) \'বর্ষামঙ্গল\' (২) \'আষাঢ়\' (\'আজি ঝরঝর মুখর বাদরদিনে\')
১২ সবুজ রঙের উত্তরীয় বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
\'সবুজ রঙের উত্তরীয়\' বলতে কবি প্রকৃতির ব্যাপ্ত সবুজ আচ্ছাদন-কে বুঝিয়েছেন। উত্তরীয় মানে চাদর বা গায়ে জড়ানোর বস্ত্র। যখন চারপাশের গাছপালা, ঘাস, লতাপাতায় এত ঘন সবুজের সমারোহ হয় যে মনে হয় প্রকৃতি যেন গায়ে সবুজ চাদর জড়িয়েছে—এটাই \'সবুজের উত্তরীয়\'। আর \'উত্তরীয়ের জটাজাল\' বলতে সেই সবুজের ঘন জট পাকানো রূপ বোঝাচ্ছেন, যেন হাওয়ায় উড়ছে।
১৩ কলকাতা শহরের \'হাট\'—শহরকে হাটের সঙ্গে তুলনার ব্যঞ্জনাটি কোথায়?
পত্রে কলকাতা শহরকে \'হাট\'-এর সঙ্গে তুলনা করার ব্যঞ্জনা:
হাট হলো অস্থায়ী বাজার বা মেলা—যেখানে মানুষ কেনাবেচা করে, কোলাহল হয়, ভিড় জমে, কিন্তু গভীর কোনো প্রাণ থাকে না। ব্যস্ততা আছে কিন্তু আন্তরিকতা নেই।
ঠিক তেমনই, কবির চোখে কলকাতা শহরটাও এক প্রকাণ্ড হাট—লোকজনের ভিড়, কোলাহল, যান্ত্রিক ব্যস্ততা আছে কিন্তু প্রকৃতির স্পর্শ বা আত্মার গভীরতা নেই। শান্তিনিকেতনের গান সেখানে তাই জমবে না—কারণ হাটে শিল্প জমে না, জিনিসপত্র কেনাবেচা হয়।
১৪ আষাঢ় মাসের বর্ষাকে কলকাতা শহর মানায় না—কবির এ জাতীয় মতলবের অর্থ কী?
কবির এই মতলবের অর্থ: আষাঢ় মাসের বর্ষা হলো একান্তভাবেই গ্রাম-প্রকৃতির ঋতু। বর্ষার মেঘ, নদীর কূল উপচানো জল, ধানক্ষেতের সবুজ, বাঁশবনের মরমর—এসবই গ্রামের। কলকাতার ইট-পাথরের ফাঁকে এসব কিছুই খাপ খায় না। বর্ষা যেন মানায় না শহরের কৃত্রিমতায়, কোলাহলে। তাই আষাঢ়ের বর্ষাকে \'এই শহরে মানায় না\'—বর্ষার আত্মাটাই যেন শহরে পরবাসী। দিনুবাবুকেও তেমনই শহরে মানায় না, কারণ তিনিও প্রকৃতির সন্তান।
১৫ আত্মাই নদীটি কোথায়? সেই নদীতে বোট যেতে যেতে কবি তাঁর নিবার্চিত পত্রটি লিখেছিলেন?
আত্মাই নদীটি: বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত। এটি পদ্মা নদীর একটি উপনদী।
পত্রটি: পত্রটি সম্ভবত \'ছিন্নপত্র\' সংকলনের অন্তর্গত। \'ভানুসিংহের পত্রাবলি\'-তে অন্তর্ভুক্ত হলেও, এই ধাচের পত্রগুলি মূলত \'ছিন্নপত্র\'-এরই অংশ। কবি যখন পদ্মা ও তার শাখানদীতে বোটে ভ্রমণ করছিলেন, তখনই এইসব অবিস্মরণীয় পত্র লিখেছিলেন।
১৬ নদীপাড়ের গ্রামগুলির ছবি কীভাবে কবির চোখ ধরা পড়েছে?
কবির বর্ণনায় আত্মাই নদীর দুপাড়ের গ্রামগুলির এক জীবন্ত ছবি ধরা পড়েছে:
• ঘন বাঁশের ঝাড়ে গ্রামগুলো আচ্ছন্ন হয়ে আছে।
• আম, কাঁঠাল, তেঁতুল, শিমুল গাছ নিবিড় হয়ে উঠে গ্রামকে বেষ্টন করে রেখেছে।
• নদীর তীর ধরে কাঁচা ধানক্ষেত—পানিতে ডোবা, ধানের মাথা জলের উপর জেগে আছে।
• দুই তীরে জায়গায় জায়গায় সবুজের ঘনিমা ফুলে ফুলে উঠেছে।
এই পুরো দৃশ্যটি এত নির্জন, এত ছায়াবৃত যে মনে হয়—\'\'পৃথিবীর মনের কথাটি শোনা যাচ্ছে।\'\'
১৭ আকাশ আর নদীর প্রতি ভালোবাসা, সর্বোপরি বর্ষা প্রকৃতির প্রতি কবির পঞ্চোপম কীভাবে পত্রদুটিতে প্রতিফলিত হয়েছে?
পত্রদুটিতে প্রকৃতির প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা পাঁচটি প্রধানভাবে ফুটে উঠেছে:

১) দর্শন-প্রীতি: চোখ দিয়ে দেখা—\'\'আমার দুই চোখ এখন বাইরের দিকে চেয়ে থাকতে চায়।\'\'
২) শ্রবণ-প্রীতি: বৃষ্টির ঝমঝম ধ্বনি, বাতাসের সাড়া, নদীর কল্লোল—সব শুনে কবির মন গান রচনায় উদ্বুদ্ধ হয়।
৩) ভাব-প্রীতি: প্রকৃতি দেখে মনের মধ্যে গান জাগে, \'\'মনে হতে চায়—পৃথিবীর যেন মনের কথাটি শোনা যায়।\'\'
৪) তুলনামূলক প্রীতি: কলকাতা বনাম শান্তিনিকেতনের বর্ষা—এই তুলনাই প্রমাণ করে তাঁর প্রকৃতি-প্রীতি।
৫) সৃজন-প্রীতি: প্রকৃতির রূপ দেখে কবির মনে নতুন গান সৃষ্টির ইচ্ছা জাগে—এটাই সর্বোচ্চ প্রীতি।

১৮. ক্রিয়ার কাল নির্ণয় করো

বাক্যক্রিয়াকাল
কলকাতায় বর্ষামঙ্গল গান হবে।হবেভবিষ্যৎ কাল (সাধারণ)
অনুরোধে পড়ে কথনা কথনা আমার নতুন বর্ষার গান গাইতে হয়েছে।গাইতে হয়েছেবর্তমান কাল (পুরাঘটিত)
আজ সকালেই সে পালাবে শিকার করেছে।করেছেবর্তমান কাল (পুরাঘটিত)
আত্মাই নামক একটি নদীর উপর বোট করে ভেসে চলেছেন।ভেসে চলেছেনবর্তমান কাল (ঘটমান)
অনেকদিন বোলপুরের শুকনো ডাঙায় কাটিয়ে এসেছেন।কাটিয়ে এসেছেনবর্তমান কাল (পুরাঘটিত)

১৯. বাক্যগুলিকে দুটি বাক্যে আলাদা করে লেখো

১৯.১ কথা হচ্ছে এবার শ্রাবণ মাসে আর বারের মতো কলকাতায় বর্ষামঙ্গল গান হবে।

(ক) কথা হচ্ছে এবার শ্রাবণ মাসে বর্ষামঙ্গল গান হবে।
(খ) আর বারের মতো কলকাতায় (এই অনুষ্ঠান) হবে।

১৯.২ শান্তিনিকেতনের মাঠে যখন বৃষ্টি নামে তখন তার ছায়ায় আকাশের আলো করুণ হয়ে আসে।

(ক) শান্তিনিকেতনের মাঠে বৃষ্টি নামে।
(খ) তখন তার ছায়ায় আকাশের আলো করুণ হয়ে আসে।

১৯.৩ আমার এই বোট ছাড়া নদীতে আর নৌকা নেই।

এটি সরল বাক্য—আলাদা করা যায় না। একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া 'নেই'।

১৯.৪ আমার দুই চোখ এখন বাইরের দিকে চেয়ে থাকতে চায়, খাতার দিকে চোখ রাখবার এখন সময় নয়।

(ক) আমার দুই চোখ এখন বাইরের দিকে চেয়ে থাকতে চায়।
(খ) খাতার দিকে চোখ রাখবার এখন সময় নয়।

১৯.৫ আজ রাতের গাড়িতেই কলকাতায় যাব মনে করে ভালো লাগছে না।

(ক) আজ রাতের গাড়িতেই কলকাতায় যাব।
(খ) (সে) মনে করে ভালো লাগছে না।

পত্রের শিক্ষা

মনে রেখো: রবীন্দ্রনাথের 'ভানুসিংহের পত্রাবলী' শুধু চিঠির সংকলন নয়—এটা প্রকৃতির প্রতি এক কবির গভীর ভালোবাসার দলিল। কলকাতার ইট-পাথরের শহর আর শান্তিনিকেতনের সবুজ মাঠ—এই দুই প্রান্তরে দাঁড়িয়ে কবি আমাদের দেখিয়ে দেন কোথায় জীবনের সত্যিকারের ছন্দ। নদী, বৃষ্টি, আকাশ আর মাটির টানই যে মানুষের চিরন্তন আশ্রয়।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

\'ভানুসিংহের পত্রাবলী\' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা চিঠির সংকলন। এটি পত্রসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। \'ভানুসিংহ\' ছিল রবীন্দ্রনাথের ছদ্মনাম। এই পত্রগুলিতে তিনি প্রকৃতি, বর্ষা, নদীভ্রমণ ও নিজের মনের ভাব সহজ সুন্দর ভাষায় প্রকাশ করেছেন। WBBSE সপ্তম শ্রেণির \'সাহিত্য মেলা\' পাঠ্যপুস্তকে এটি সপ্তম পাঠ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।

পত্রদুটিতে কবি কলকাতা শহরকে বিশেষভাবে অপছন্দ করেছেন—একে তিনি ইট-কাঠের প্রকাণ্ড জন্তুর সঙ্গে তুলনা করেছেন যা মানুষকে গিলে ফেলে। অন্যদিকে শান্তিনিকেতনের মাঠে বৃষ্টি নামলে প্রকৃতি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে—ঘাসে পুলক লাগে, গাছ কথা বলতে চায়, মনের মধ্যে গান জাগে। নদীতে বোট ভ্রমণের সময়ও কবি প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ। কলকাতাকে \'হাট\' বলে ব্যঙ্গ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে শহরের কোলাহল ও কৃত্রিমতা সৃজনশীলতার পরিপন্থী।

দ্বিতীয় পত্রে কবি আত্মাই নদীতে বোট ভ্রমণের এক অপূর্ব বর্ণনা দিয়েছেন। বর্ষার মেঘে আকাশ ঢাকা, হালকা বাতাস বইছে, পাল তোলা বোট চলেছে ভরা নদীতে। দুই তীরে ধানক্ষেত জলে ডোবা, ঘন বাঁশঝাড়, আম-কাঁঠাল-তেঁতুল-শিমুল গাছে ঢাকা গ্রাম। দলে দলে শেওলা ভাসছে। বৃষ্টি নামছে, দূরে মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আভা আসছে—এ যেন স্বর্গীয় দৃশ্য। এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখে কবির মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর মনের কথাটি শোনা যাচ্ছে।