পটলবাবু ফিল্মস্টার

সত্যজিৎ রায় রচিত 'পটলবাবু ফিল্মস্টার' গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | সপ্তম শ্রেণি

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 19 December 2025 Last Update: 31 May 2026

পটলবাবু ফিল্মস্টার

সত্যজিৎ রায় গল্প

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • নবম পাঠ (দ্বিতীয় গল্প)

ফিল্ম শুটিং অভিনয় আত্মতৃপ্তি শিল্পীসত্তা

সত্যজিৎ রায় (১৯২১ - ১৯৯২)

বিশ্ববিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, লেখক, সঙ্গীত পরিচালক ও চিত্রকর। 'পথের পাঁচালী' (১৯৫৫) চলচ্চিত্রের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৯২ সালে ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে এবং আজীবন সম্মাননা হিসেবে অস্কার পুরস্কার পান। তাঁর বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদা এবং প্রফেসর শঙ্কু বাংলা সাহিত্যে অমর সৃষ্টি। শিশু-কিশোরদের জন্যও লিখেছেন অসংখ্য গল্প।

📖

গল্প

পটলবাবু ফিল্মস্টার

👤

লেখক

সত্যজিৎ রায়

📚

পাঠ

নবম পাঠ (সাহিত্য মেলা)

🎯

ধরন

চলচ্চিত্র বিষয়ক কিশোর গল্প

গল্পের সারাংশ ও মূলভাব

গল্পের মূল বিষয়: "পটলবাবু ফিল্মস্টার" গল্পটি একজন সাধারণ মধ্যবয়স্ক মানুষের হঠাৎ ফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার কাহিনি। পটলবাবু বা শ্রী শীতলাকান্ত রায় একদা পাড়ার থিয়েটারে অভিনয় করতেন। কিন্তু সংসারের চাপে সেই শখ চাপা পড়ে যায়। হঠাৎ একদিন নিশিকান্তবাবুর মাধ্যমে খবর আসে একটি ফিল্মের শুটিংয়ে একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব টাক-পড়া লোকের প্রয়োজন। পটলবাবু রাজি হন।

শুটিংয়ের দিন দেখা যায় পটলবাবুর চরিত্রটি অত্যন্ত ছোট—একজন পথচারী যে কিনা 'আঃ' শব্দটি উচ্চারণ করবে মাত্র। প্রথমে তিনি অপমানিত বোধ করেন। কিন্তু তাঁর পুরনো নাট্যগুরু গগন পাকড়াশির উপদেশ মনে পড়ে যায়—'যত ছোটো অংশই হোক, শিল্পী হিসেবে নিজের সেরাটা দিতে হবে।' পটলবাবু সেই ছোট্ট চরিত্রটিতেও নিজের মেধা, সৃজনশীলতা ও অভিনয়-কুশলতা ঢেলে দেন। তাঁর অভিনয় দেখে পরিচালক ও কলাকুশলীরা মুগ্ধ হন। কিন্তু অর্থ নেওয়ার আগেই পটলবাবু সেখান থেকে চলে যান—কারণ এই আত্মতৃপ্তিই তাঁর কাছে আসল পুরস্কার।

মূলভাব: কাজ ছোটো বা বড়ো নয়—নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা দিয়ে করলে ছোটো কাজও সাফল্যমণ্ডিত হয়। আত্মতৃপ্তিই সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি।

১. বন্ধনীতে দেওয়া একাধিক উত্তরের মধ্যে ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে বাক্যগুলি আবার লেখো

ক্রমিকপ্রশ্নঠিক উত্তর
১.১পটলবাবু অভিনয়ের সময় সংলাপ হিসেবে বলেছিলেনআঃ
১.২অভিনয়ের সময় পটলবাবুর হাতে ছিলযুগান্তর
১.৩অভিনয়ের সময় পটলবাবুর নাকের নীচে সেঁটে সেওয়া হয়েছিলবাটারফ্লাই গোঁফ
১.৪পরিচালিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়েছিলেন পটলবাবুবেরন মিত্তির-র
১.৫করালীবাবুর বাড়িতে হয়শ্যামাসংগীত, রবিবার সকালে

২. নীচের এলোমেলো ঘটনাগুলি গল্পের ঘটনাক্রম অনুযায়ী সাজাও

২ ঘটনাগুলি ধারাবাহিকভাবে সাজাও:

সঠিক ক্রম:

  1. পটলবাবু সবে বাজারের খালিটা কাঁধে খুলিয়েছেন এমন সময় বাইরে থেকে নিশিকান্তবাবু হাঁক দিলেন, "পটল আছ নাকি হে?"
  2. তা আপনি তো বেশ পোড়খাওয়া দেখছি।
  3. দুরুদুরু বুকে পটলবাবু এগিয়ে চললেন অফিসের গেটের দিকে।
  4. ঠিক আধঘণ্টা পরেই পটলবাবুর ডাক পড়ল, এখন আর তাঁর মনে কোনো নিরুৎসাহের ভাব নেই।
  5. সে কী, টাকা না নিয়েই চলে গেল নাকি লোকটা?
  6. টাকার তাঁর অভাব ঠিকই—কিন্তু আজকের এই যে আনন্দ, তার কাছে পাঁচটা টাকা আর কী?

৩. শুটিং-এর ঘটনা নিজের ভাষায় লেখো

৩ গল্প থেকে অংশটি উদ্ধৃত করা হয়েছে, শুটিং-এর সেই ঘটনার পরিস্থিতিটি তোমার নিজের ভাষায় নতুন করে লেখো:

পরিচালক বেরন মিত্তিরকে পটলবাবু নিজের একটি আইডিয়ার কথা বলতে গিয়ে প্রথমে ইতস্তত করছিলেন। কিন্তু সাহস করে বলেই ফেললেন। তাঁর মতে, হাতে যদি একটি খবরের কাগজ থাকে এবং তিনি যদি সেটা পড়তে পড়তে চলতে থাকেন আর হঠাৎ ধাক্কা খান, তাহলে অনমনস্ক ভাবটা আরও ভালোভাবে ফুটে উঠবে।

পরিচালক বেরন মিত্তির পটলবাবুর কথা পুরো শোনার আগেই উৎসাহের সঙ্গে সায় দিলেন এবং উপস্থিত সহকারীকে বলে পটলবাবুর হাতে 'যুগান্তর' পত্রিকাটি ধরিয়ে দিলেন। তারপর পটলবাবুকে খামের পাশে নির্ধারিত জায়গায় রেডি হয়ে যেতে বললেন। নায়ক চঞ্চলকুমারও প্রস্তুত ছিলেন। পটলবাবু তখন গোঁফ লাগিয়ে, হাতে খবরের কাগজ নিয়ে রেডি হয়ে দাঁড়ালেন।

৪. অনুৰূপ শব্দ খোঁজো

প্রদত্ত শব্দগল্পে ব্যবহৃত সমার্থক/অনুরূপ শব্দ
উৎসাহহীননিরুৎসাহ
নিরালানিরিবিলি
অপ্রত্যাশিতঅভাবনীয়
নিরুপায়নিরীহ
লাঞ্ছিতঅপমান
সম্মানপ্রতিপত্তি
প্রশংসাতারিফ
পথিকপথচারী

৫. ইংরেজি শব্দের বদলে বাংলা শব্দ বসিয়ে বাক্য গঠন

ক্রমিকইংরেজি শব্দবাংলা প্রতিশব্দনতুন বাক্য
৫.১ইম্পটেন্টগুরুত্বপূর্ণবোঝোইনি ব্যাপারটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
৫.২ডায়ালগসংলাপএই, দাদুকে সংলাপ লিখে দে।
৫.৩পেডেস্ট্রিয়ানপথচারীএকজন অন্যমনস্ক, বদমেজাজি পথচারী...
৫.৪ওয়েটঅপেক্ষাতাহলে একটু ওদিকে সরে গিয়ে অপেক্ষা করুন।
৫.৫ট্যাগোরস বার্থরবীন্দ্রজয়ন্তীআজ তো রবীন্দ্রজয়ন্তী।
৫.৬সাইলেন্টনীরবনীরব। রোদ বেরিয়েছে।
৫.৭থিয়েটারনাট্যমঞ্চনাট্যমঞ্চ এর চেয়ে শতগুণ ভালো...
৫.৮পোড়খাওয়াঅভিজ্ঞআপনি তো বেশ অভিজ্ঞ দেখছি।

৬. বিশেষণগুলি দিয়ে উপযুক্ত বিশেষ্য সৃষ্টি করে বাক্য রচনা

বিশেষণউপযুক্ত বিশেষ্যবাক্য
দোহারাযুবকএক দোহারা যুবক রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল।
ব্যস্ততমদিনবছরের এটাই সবচেয়ে ব্যস্ততম দিন।
আমুদেলোকনিশিকান্তবাবু খুব আমুদে লোক ছিলেন।
অন্যমনস্কভাবতার অন্যমনস্ক ভাব দেখে সবাই অবাক হলো।
দরকারিকাজতোমার একটি দরকারি কাজ আছে।
গভীররাতগভীর রাতে পাখিরা ঘুমায়।
নির্জনবাড়িসন্ধ্যার পর জায়গাটা নির্জন বাড়ির মতো লাগে।
অভিভূতমনতার কথা শুনে মন অভিভূত হয়ে গেল।

৭. বিশেষ্যগুলির আগে উপযুক্ত বিশেষণ স্থাপন করে বাক্য রচনা

বিশেষ্যউপযুক্ত বিশেষণবাক্য
প্রভাবগভীরতার উপর শিক্ষকের গভীর প্রভাব ছিল।
অভিনয়অসাধারণপটলবাবুর অসাধারণ অভিনয় সবাইকে মুগ্ধ করল।
ফরমাশগিন্নিরগিন্নির ফরমাশ মতো বাজার করতে হলো।
ঔদ্ধত্যপ্রচণ্ডতার প্রচণ্ড ঔদ্ধত্য কেউ সহ্য করতে পারত না।
পরিশ্রমকঠোরকঠোর পরিশ্রম ছাড়া সাফল্য আসে না।
সাফল্যবিরাটতার বিরাট সাফল্যের কথা সবাই জানে।
উৎকণ্ঠাপ্রবলফল বেরোনোর আগে প্রবল উৎকণ্ঠায় ছিলাম।
আত্মতৃপ্তিপরমভালো কাজ করলে পরম আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।

৮. সংখ্যাবাচক, অনির্দেশক ও পূরণবাচক শব্দ খুঁজে বার করো

ক্রমিকবাক্যশব্দপ্রকার
৮.১পটলবাবুর তিনখানা বাড়ির পরেই থাকেন।তিনখানাসংখ্যাবাচক
৮.২বছর তিরিশেক বয়স, লখা দোহারা চেহারা।তিরিশেকঅনির্দেশক সংখ্যাবাচক
৮.৩বাহান্ন বছর বয়সে ফিল্ম অভিনয় করার প্রভাব আসতে পারে...বাহান্নসংখ্যাবাচক
৮.৪পটলবাবুর ন'বছরের সাধের চাকরিটা কপূরের মতো উবে গেল।ন'বছরেরপূরণবাচক
৮.৫তারপর এই দশটা বছর... কী-না করেছেন পটলবাবু।দশটাসংখ্যাবাচক
৮.৬সেইটের সামনে ঠিক সাড়ে-আটটায় পৌঁছে যাবেন।সাড়ে-আটটায়পূরণবাচক

৯. বিশেষ্যগুলিকে বিশেষণ বদলে লেখো

বিশেষ্যবিশেষণ
উৎকণ্ঠাউৎকণ্ঠিত
প্রয়োগপ্রায়োগিক
উদ্ধরণউদ্ধৃত
বিরক্তিবিরক্ত
দত্তদত্তক
ঔদ্ধত্যউদ্ধত
অনুভবঅনুভূত
পরিবেশনপরিবেশিত

১০. শব্দগুলি দিয়ে নতুন বাক্য রচনা

১০ নিচের শব্দগুলি ব্যবহার করে বাক্য রচনা:
  • টক করে: নিশিকান্তবাবু টক করে পটলবাবুর কথা মনে পড়ে গেল।
  • ধাক্কা করে: হঠাৎ ধাক্কা করে দরজাটা খুলে গেল।
  • তিড়িং করে: পটলবাবু বাহান্ন বছর বয়সে তিড়িং করে লাফ দিয়ে উঠলেন।
  • হস্তদস্ত হয়ে: চঞ্চলকুমার ক্যাশ ভাঙার খবর পেয়ে হস্তদস্ত হয়ে অফিসে ছুটলেন।
  • ঠাহর করে: অনেকক্ষণ তাকিয়েও আমি জিনিসটা ঠাহর করতে পারলাম না।
  • বিম্বিম করে: রোদের আলোয় জলের উপর বিম্বিম করছে সোনালি আভা।
  • ফিসফিস করে: দুজনে মিলে ফিসফিস করে কী যেন কথা বলছিল।
  • টুক করে: টুক করে কথাটা বলে ফেলেই সে চুপ হয়ে গেল।

১১. বিশেষণগুলিকে বিশেষ্যে বদলে লেখো

বিশেষণবিশেষ্য
গভীরগভীরতা
বিকৃতবিকৃতি
নির্জননির্জনতা
সার্থকসার্থকতা
সংযতসংযম
নির্বিবাদীনির্বিবাদিতা
তীক্ষ্ণতীক্ষ্ণতা
উচিতউচিততা

১২. নিম্নরেখাঙ্কিত অংশের কারক ও বিভক্তি নির্ণয়

ক্রমিকবাক্যাংশকারকবিভক্তি
১২.১আপনি এই ছায়াটায় দাঁড়ান একটু।অধিকরণ কারক'য়' বিভক্তি (ছায়া + টা + য়)
১২.২এবার পটলবাবু লোকটিকে দেখতে পেলেন।কর্মকারক'কে' বিভক্তি
১২.৩নরেশ একতাড়া চা নিয়ে পটলবাবুর দিকে এগিয়ে এল।করণ কারক'য়ে' বিভক্তি (নিয়ে)
১২.৪শশাঙ্ক তার হাতেখড়ি থেকে একটা সাদা পাতা ছিঁড়ে...অপাদান কারক'থেকে' বিভক্তি

১৩. একটি বাক্যে উত্তর দাও

১৩.১ পটলবাবুর কাছে যেদিন ফিল্ম অভিনয়ের প্রস্তাব আসে, সেদিন ছুটির দিন ছিল কেন?
সেদিন ছিল রবীন্দ্রজয়ন্তী (ট্যাগোরস বার্থ), তাই ছুটির দিন ছিল।
১৩.২ বাজারে গিয়ে কেন গৃহিণীর ফরমাশ গুলিয়ে গেল পটলবাবুর?
হঠাৎ ফিল্মে অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার উত্তেজনায় পটলবাবুর বাজারের ফরমাশ গুলিয়ে যায়। তিনি কলমির বদলে ধনেপাতা কেনেন, আর নতুন তেলের কথা একেবারে ভুলেই যান।
১৩.৩ থিয়েটারে পটলবাবুর প্রথম পার্ট কী ছিল?
থিয়েটারে পটলবাবুর প্রথম পার্ট ছিল মৃত সেনাপতির পার্ট—চোখ বুজে হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে থাকার ভূমিকা।
১৩.৪ উনিশশ চৌষট্টি সালে পটলবাবু কলকাতায় বসবাস করতে এলেন কেন?
উনিশশ চৌষট্টি সালে পটলবাবু কলকাতার হাওসন অ্যান্ড কোম্পানিতে আরেকটু বেশি মাইনের চাকরি পেয়ে এবং নেপাল ভট্টাচার্যের বাড়িটি পেয়ে কলকাতায় চলে আসেন।
১৩.৫ পাড়ায় থিয়েটারের দল গড়া আর হলো না কেন পটলবাবুর?
যুদ্ধের ফলে আপিস ছাঁটাই হয়ে যায় এবং পটলবাবুর সাধের চাকরিটি নষ্ট হয়ে যায়, ফলে পাড়ায় থিয়েটারের দল গড়ার স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।
১৩.৬ পটলবাবু তাঁর সময়নিষ্ঠতার প্রমাণ দেওয়ার জন্য কোন উদাহরণ দিতে ভালোবাসতেন?
পটলবাবু বলতেন যে পঁচিশ বছর এক জায়গায় চাকরি করার সময় তিনি একদিনও লেট করেননি—এটাই তাঁর সময়নিষ্ঠার বড়ো প্রমাণ।
১৩.৭ "পটলবাবুর লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গেল"— পটলবাবু এমন লজ্জা পেলেন কেন?
নরেশ দত্ত যখন বলল \'আপনার আপত্তি নেই তো?\', তখন পটলবাবু লজ্জা পেয়েছিলেন কারণ তাঁর মতো বয়স্ক ও নগণ্য মানুষকে ফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হবে—এটা অপ্রত্যাশিত ও ভাবনার অতীত ছিল।
১৩.৮ "গগন পাকড়াশি আজ তাঁকে দেখলে সত্যিই খুশি হতেন"— তিনি খুশি হতেন কেন?
গগন পাকড়াশি পটলবাবুর নাট্যগুরু ছিলেন। তাঁর শিখানো উপদেশ—\'ছোটো পার্টেও শিল্পীকে সেরাটা দিতে হবে\'— পটলবাবু শুটিং-এ মেনে চলেছিলেন। তাই তিনি দেখলে সত্যিই খুশি হতেন।

১৪. চার-পাঁচটি বাক্যে উত্তর দাও

১৪.১ \'আমার টক করে তোমার কথা মনে পড়ে গেল\'— কার মনে পড়ে গেল পটলবাবুর কথা? পটলবাবুর কথাই বিশেষ করে তাঁর মনে পড়ল কেন?

নিশিকান্তবাবুর মনে টক করে পটলবাবুর কথা পড়ে গিয়েছিল। কারণ তাঁর ছোটোশালার সঙ্গে দেখা হওয়া এক ফিল্মের লোক (নরেশ দত্ত) এমন একজনকে খুঁজছিলেন যিনি বছর পঞ্চাশ বয়সি, বেঁটেখাটো, মাথায় টাক—ঠিক পটলবাবুর মতো। এতদিন ধরে চেনা পটলবাবুর অবিকল ওই বর্ণনার সঙ্গে মিল থাকায় কথা মনে পড়েছিল।

১৪.২ \'গাছকাঁঠাল ওঁফে তেল কের তোর কোনোকদিন কিছু হয় না।\' পটলবাবুর গৃহিণীর এই মন্তব্যের কারণ কী?

পটলবাবু ফিল্মে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে খুব উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বাহান্ন বছর বয়সে তিড়িং করে লাফ দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন—\'কী যে লাফটা দিতেন চ্যাপলিন! আজ যেন পুনর্যৌবন লাভ করেছি।\'

তাঁর গিন্নি বাস্তববাদী মানুষ। স্বামীর এতদিনের নানা পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে দেখেছেন। তাই ঠাট্টা করে বলেন—\'গাছ না থাকতেই কাঁঠাল ভাঙতে যেও না\' অর্থাৎ বাড়াবাড়ি করাটা উচিত হবে না।

১৪.৩ কার উপদেশের স্মৃতি পটলবাবুর অভিনেতা-সত্তাকে জাগিয়ে তুলল? কোন \'অমূল্য\' উপদেশ তিনি দিয়েছিলেন পটলবাবুকে?

গগন পাকড়াশি পটলবাবুর নাট্যগুরু ছিলেন। তাঁর উপদেশের স্মৃতিই পটলবাবুর অভিনেতা-সত্তাকে জাগিয়ে তোলে। গগন পাকড়াশির অমূল্য উপদেশ ছিল: \'একটা কথা মনে রেখো পটল। যত ছোটো পার্টিই তোমাকে দেওয়া হোক, তুমি জেনে রেখো তাতে কোনো অপমান নেই। শিল্পী হিসেবে তোমার কৃতিত্ব হবে সেই ছোটো পার্টি থেকেও শেষ রসটুকু নিংড়ে বার করে তাকে সার্থক করে তোলা। থিয়েটারের কাজ হলো পাঁচজন মিলেমিশে কাজ। সকলের সাফল্য জড়িয়ে নাটকের সাফল্য।\'

১৪.৪ \'ধন্য মশাই আপনার টাইমিং! বাপের নাম ভুলিয়ে দিয়েছিলেন প্রায়— ওঃ!\' বক্তা কে? কোন ঘটনার ফলে তাঁর এমন মন্তব্য?

বক্তা পরিচালক বেরন মিত্তির। পটলবাবু যখন নিজের চরিত্রটি অভিনয় করেন—হাতে খবরের কাগজ নিয়ে, গোঁফে হাত বুলিয়ে, সঠিক সময়ে নায়কের ধাক্কা খেয়ে \'আঃ\' শব্দটি উচ্চারণ করে রাগত স্বরে ফিরে তাকিয়ে \'সাইলেন্ট\' বলে নিজের গন্তব্যে চলে যান—তখন তাঁর টাইমিং ও অভিনয়-নৈপুণ্য এতটাই নিখুঁত ছিল যে পরিচালক অত্যন্ত খুশি হয়ে এই মন্তব্য করেছিলেন।

১৪.৫ \'এতদিন অকেজো অবস্থায় ছিলাম একরকম। যা করার তা তো আজই করেছি।\' — এই উক্তির মধ্য দিয়ে পটলবাবুর কোন মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়?

এই উক্তির মধ্য দিয়ে পটলবাবুর আত্মতৃপ্তি ও শিল্পীসত্তার জয়ের পরিচয় পাওয়া যায়। এতদিন সংসারের টানাপোড়েনে, চাকরি-বাকরির চেষ্টায় তাঁর ভিতরের অভিনেতা ঘুমিয়ে ছিল। আজ ছোট্ট একটি দৃশ্যেও নিজেকে পুরোপুরি উজাড় করে দিয়ে তিনি বুঝতে গিয়েছেন প্রকৃত সার্থকতা কী। টাকা নেওয়া-না-নেওয়া মুখ্য নয়—নিজের কাজটি নিষ্ঠার সঙ্গে করে যে আত্মতৃপ্তি পাওয়া গেছে, সেটাই বড়ো।

গল্প থেকে শিক্ষা

মনে রেখো: সত্যজিৎ রায়ের "পটলবাবু ফিল্মস্টার" গল্পটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দেয়—কাজ ছোটো বা বড়ো নয়, কাজের প্রতি নিষ্ঠাই আসল। পটলবাবু মাত্র 'আঃ' বলে একটি শব্দমাত্র উচ্চারণ করেও নিজের শিল্পীসত্তার পরিচয় দিয়ে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। টাকার অঙ্ক নয়, আত্মতৃপ্তিই একজন শিল্পীর কাছে সবচেয়ে বড়ো পুরস্কার।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

\'পটলবাবু ফিল্মস্টার\' গল্পটি বিশ্ববিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক সত্যজিৎ রায় (১৯২১-১৯৯২) রচিত। এটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির \'সাহিত্য মেলা\' পাঠ্যপুস্তকের নবম পাঠে অন্তর্ভুক্ত।

এই গল্পের মূলভাব হলো—কাজ কখনো ছোটো বা বড়ো হয় না, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতাই আসল। পটলবাবু মাত্র একটি শব্দ (\'আঃ\') উচ্চারণের ছোট্ট ভূমিকা পেয়েও তাতে নিজের সর্বস্ব ঢেলে দেন এবং আত্মতৃপ্তি অর্জন করেন। টাকা বা বাহ্যিক পুরস্কারের চেয়ে আত্মতৃপ্তিই অনেক বড়ো প্রাপ্তি।

পটলবাবুর আসল নাম \'শ্রী শীতলাকান্ত রায়\'। তবে সবাই তাঁকে পটলবাবু নামেই চিনত ও ডাকত। থিয়েটারের দিনগুলোতেও তিনি এই নামেই পরিচিত ছিলেন। একবার \'হ্যামলেট\' নাটকে পোলোনিয়াসের ভূমিকায় অভিনয়ের সময় নীচে আলাদা করে বড় অক্ষরে তাঁর এই নামই ছাপা হয়েছিল।