🤖 পাগলা গণেশ
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • প্রথম পাঠ • গল্প
গল্প
পাগলা গণেশ
লেখক
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ধরন
বিজ্ঞান কল্পকাহিনি (Sci-Fi)
পাঠ
প্রথম পাঠ (সাহিত্য মেলা)
গল্পের সারাংশ ও মূলভাব
সারাংশ: "পাগলা গণেশ" একটি ভবিষ্যৎ-কল্পিত বিজ্ঞান আশ্রিত গল্প। সাল ৩৫৮৯। পৃথিবীতে তখন মৃত্যু বলতে কিছুই নেই—টিকা আবিষ্কারের ফলে মানুষ অমরত্ব লাভ করেছে। কিন্তু এই অমরত্ব আর অতি-বিজ্ঞানের চর্চা মানুষকে অনুভূতিহীন করে তুলেছে। কেউ আর কবিতা লেখে না, গান গায় না, ছবি আঁকে না—সবই 'অনাবশ্যক ভাবাবেগ' বলে গণ্য হয়। একমাত্র ব্যতিক্রম 'পাগলা গণেশ'। তিনি হিমালয়ে নিরিবিলি বসে কবিতা লেখেন, গান করেন, ছবি আঁকেন। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিকে কেউ বোঝে না, এমনকি একজন পুলিশও কবিতা পড়তে পারে না। গল্পটি বিজ্ঞান ও কলার দ্বন্দ্ব এবং আবেগ-অনুভূতির অপরিহার্যতা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
কেন্দ্রীয় চেতনা: শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই মানুষকে প্রকৃত মানুষ করে না; তার জন্য প্রয়োজন কবিতা, গান, ছবি—এই 'অনাবশ্যক ভাবাবেগ' গুলিই। কারণ, এগুলো ছাড়া মানুষ কেবল যন্ত্র মাত্র।
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো
৪ টি২. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
১০ টিআমার মতামত: মোটেও নয়। এগুলি মানুষকে যন্ত্র নয় বরং সত্যিকারের মানুষ করে তোলে। এগুলি না থাকলে মনের সৌন্দর্যচেতনা, ভালোবাসা, করুণা ও সৃজনশীলতা শুকিয়ে যায়। তাই এগুলি একান্তই আবশ্যক।
ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ: দেড়শো বছর আগে (আজ থেকে) যখন শিল্প-সংগীত-সাহিত্য ইত্যাদির পাট উঠে যেতে লাগল এবং নিপাট বিজ্ঞান ও অ্যানালিসিসের জয়জয়কার শুরু হল, তখন গণেশ তা মেনে নিতে পারেননি। তাঁর মনে হয়েছিল, বিজ্ঞানেরও একটা সীমা থাকা দরকার। তাই তিনি সমাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে হিমালয়ে গিরিগুহায় বসবাস করতে থাকেন এবং কবিতা, গান, ছবি আঁকা চালিয়ে যান।
কারা বলেছিল: আকাশ থেকে দুটি 'পাখাওলা লোক' ইথিওপিয়ার লাসা থেকে ইসলামাবাদ যাওয়ার পথে হঠাৎ নেমে এসে রীতিমতো ধমক দিয়ে একথা বলেছিল।
বিকট শব্দ: গণেশ সেদিন গলা ছেড়ে গান করছিলেন। সেই গানকেই তারা 'বিকট শব্দ' বা বিরক্তিকর আওয়াজ বলে মনে করেছিল, কারণ তারা গান চিনতে পারেনি।
কারণ: গত একশো বছরের মধ্যে তারা কেউ বাবার কাছে আসেনি। তারা প্রত্যেকেই কৃতী বিজ্ঞানী এবং নিজেদের গবেষণা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে, পরিবারের প্রতি তাদের কোনো মায়া-মমতা বা দায়িত্ববোধ অবশিষ্ট নেই। দীর্ঘদিন না দেখায় স্বাভাবিকভাবেই গণেশ তাদের মুখ ভুলে গেছেন। এখানে পারিবারিক বন্ধনের চরম সংকট ফুটে উঠেছে।
কী বলেছিল: 'স্যার, এককালে আপনি যখন কলকাতার সায়েন্স কলেজে মাইক্রো ইলেকট্রনিক্স পড়াতেন, তখন আমি আপনার ছাত্র ছিলাম।'
কারণ: গণেশ অতীতে কলকাতার সায়েন্স কলেজে অধ্যাপনা করতেন। সেই সূত্রে পুলিশকর্মী তাঁর প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন, তাই শিক্ষক হিসেবে তাঁকে সম্মান জানিয়েছিলেন।
সফলতা: আপাতদৃষ্টিতে তাঁর প্রচেষ্টা সরাসরি সফল হয়নি। কারণ, পুলিশকর্মী কবিতার কাগজ কুড়িয়ে পড়তে গিয়েও কিছুই বুঝতে পারেনি। তবু শেষ দৃশ্যে তিনজন দর্শক আসন্ন মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল—এতে এক গভীর জীবনবোধের ইঙ্গিত রয়েছে।
কী বলল: সে গণেশের দেওয়া কবিতার কাগজ পড়তে গিয়ে বলল—'কিছুই বুঝিনি স্যার। কোনোদিন এ জিনিস পড়িনি।' তার বয়স একশো একুশ বছর, অথচ সে কবিতা কাকে বলে জানে না! তার শিক্ষাজীবনে কবিতা পড়ানো হয়নি।
অসহায়তার কারণ: তার অসহায়তা এসেছে কবিতা না বোঝার লজ্জা ও শিক্ষার অভাব থেকে। সে নিরীহ ও ভালোমানুষ, কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা তাকে অনুভূতির ভাষা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করেছে।
মন্ত্রমুগ্ধ হওয়ার কারণ: গণেশের কথায় প্রভাবিত হয়ে তারা শেষ মুহূর্তে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। হয়তো তাদের মনের গভীরে কোথাও কবিতা বা অনুভূতির স্পর্শ লেগেছিল, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে—পৃথিবী ধ্বংসের মুখোমুখি। তাই তারা নির্বাক, স্থির হয়ে বসে রইল।
৩. 'পাগলা গণেশ' গল্পের মুখ্য চরিত্র গণেশকে তোমার কেমন লাগল?
গল্পের মুখ্য চরিত্র পাগলা গণেশ সমাজের চোখে পাগল হলেও, প্রকৃতপক্ষে তিনিই একমাত্র জীবিত ও অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ। একটি মৃতপ্রায়, বিজ্ঞান-অন্ধ অনুভূতিহীন পৃথিবীতে গণেশই একমাত্র ব্যতিক্রম।
গণেশের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:
- সাহসী ও ব্যতিক্রমী: পুরো দুনিয়া যখন কবিতা-গানকে অনাবশ্যক ভাবাবেগ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে, তখন তিনি একাই তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। এ এক দুঃসাহসিক কাজ।
- সৃজনশীল ও শিল্পী মানস: তিনি কবিতা লেখেন, গান করেন, পাথর কেটে ছবি আঁকেন। শিল্পের প্রতি তাঁর অগাধ টান আর সৃষ্টিশীলতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
- প্রগতিবিরোধী নন, ভারসাম্যবাদী: গণেশ বিজ্ঞান বোঝেন না তা নন—তিনি নিজেও এককালে সায়েন্স কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। কিন্তু তিনি চান জীবনে বিজ্ঞান ও শিল্পের মধ্যে ভারসাম্য থাকুক।
- একাকী সংগ্রামী: নিজের ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী—কেউই তাঁর পাশে নেই। এই বৈরাগ্যপূর্ণ নিঃসঙ্গতায় বসেও তিনি পৃথিবীকে বাঁচাতে চেয়েছেন কবিতার মাধ্যমে।
আমার অনুভূতি: গণেশ চরিত্রটি একইসঙ্গে করুণ ও অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি আমাদের শেখান—বেঁচে থাকা আর জীবন ধারণের মধ্যে তফাত আছে। শুধু যন্ত্রের মতো নিঃশ্বাস নেওয়া জীবন নয়; কবিতা, সুর, সৌন্দর্য উপলব্ধি করাই প্রকৃত অমরত্ব।
৪. অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিম্নরেখাঙ্কিত শব্দগুলির পরিবর্তে নতুন শব্দ বসাও
সমার্থক শব্দ প্রয়োগ| মূল বাক্য | পরিবর্তিত শব্দসহ বাক্য |
|---|---|
| ওসব অনাবশ্যক ভাবাবেগ কোনো কাজেই লাগে না। | ওসব অপ্রয়োজনীয় ভাবাবেগ কোনো কাজেই লাগে না। |
| কেউ ঠাট্টা বিদ্রুপ করল না। | কেউ ঠাট্টা ব্যঙ্গ করল না। |
| দুনিয়াটা কবচে যাবে। | দুনিয়াটা ধ্বংস হয়ে যাবে। |
| মহাসচিব তাঁর বিমান থেকে নামলেন গণেশের ডেরায়। | মহাসচিব তাঁর উড়োজাহাজ থেকে নামলেন গণেশের ডেরায়। |
| গণেশকে সমস্বরে অভিবাদন জানিয়ে বলল। | গণেশকে সমস্বরে নমস্কার জানিয়ে বলল। |
| কবিতা লিখতে লেগেছ, কবিতা মকসো করেছ। | কবিতা লিখতে লেগেছ, কবিতা অভ্যাস করেছ। |
| হিমালয় যে খুব নির্জন জায়গা, তা নয়। | হিমালয় যে খুব নিভৃত জায়গা, তা নয়। |
| ধুর মশাই, এ যে বিকট শব্দ। | ধুর মশাই, এ যে কর্কশ শব্দ। |
৫. এককথায় প্রকাশ
| বিস্তারিত অর্থ | এককথায় প্রকাশ |
|---|---|
| মহান যে সচিব | মহাসচিব |
| প্রতিরোধ করে যে | প্রতিরোধকারী |
| গতির আছে যার | গতিময় |
| মৃত্যুকে জয় করেছে যে | মৃত্যুঞ্জয় |
| অন্ত নেই যার | অন্তহীন |
৬. সন্ধি বিচ্ছেদ করো
| শব্দ | সন্ধি বিচ্ছেদ |
|---|---|
| মাধ্যাকর্ষণ | মাধ্যা + অকর্ষণ (মধ্য + অকর্ষণ) |
| আবিষ্কার | আবিঃ + কার |
| মৃত্যুঞ্জয় | মৃত্যুম্ + জয় |
| অনাবশ্যক | ন + আবশ্যক (ণত্ববিধি) |
| গবেষণা | গো + এষণা |
| অন্তরীক্ষ | অন্তর + ঈক্ষ (অন্তরীক্ষ = অন্তরীক্ষ) |
| হিমালয় | হিম + আলয় |
| নির্জন | নিঃ + জন |
| গবেষণাগার | গবেষণা + আগার |
| পরীক্ষা | পরি + ঈক্ষা |
৭. সমার্থক শব্দ লেখো
| শব্দ | সমার্থক শব্দ |
|---|---|
| কৃতি | কলা, শিল্প, কাজ, রচনা, সৃষ্টি |
| পৃথিবী | ধরিত্রী, ভুবন, জগৎ, বসুন্ধরা, ধরণী |
| আলোচনা | বিচার, সমালোচনা, পর্যালোচনা, চর্চা, বিবেচনা |
৮. বিশেষণগুলির পর উপযুক্ত বিশেষ্য বসাও ও বাক্য রচনা করো
| বিশেষণ | বিশেষ্য | বাক্য |
|---|---|---|
| কৃতি | কৃতিত্ব | তিনি তাঁর কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন। |
| মধুর | মধুরতা | তাঁর ব্যবহারে এক অদ্ভুত মধুরতা আছে। |
| সকরুণ | সকরুণতা | গল্পটি অপূর্ব সরুণতায় ভরা। |
| যান্ত্রিক | যান্ত্রিকতা | যান্ত্রিকতা মানুষকে অনুভূতিহীন করে তোলে। |
| ফিরোজা | ফিরোজাপানা | সন্ধ্যার আকাশে ফিরোজাপানা রঙ ধরা পড়েছে। |
| মৃতুৎ | মৃত্তিকা | মৃত্তিকার গন্ধে মন ভরে যায় বর্ষায়। |
৯. রেখাঙ্কিত পদগুলির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো
| বাক্য | রেখাঙ্কিত পদ | কারক | বিভক্তি |
|---|---|---|---|
| গণেশও আর সকলের মতো টিকাটা নিয়েছিল। | টিকাটা | কর্মকারক | শূন্য (টা) |
| তার গানের গলা বেশ ভালোই। | গানের | সম্বন্ধ পদ | এর (র) |
| আকাশে একটা পিপে ভাসছিল। | আকাশে | অধিকরণ কারক | এ |
| আজ সকালে গণেশকে কবিতায় পেয়েছে। | গণেশকে | কর্মকারক | কে |
| আমি পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি। | পৃথিবীকে | কর্মকারক | কে |
| ও মশাই, এমন বিকট শব্দ করছেন কেন? | মশাই | সম্বোধন পদ | |
| রাষ্ট্রপতির মহাসচিব তাঁর বিমান থেকে নামলেন। | রাষ্ট্রপতির | সম্বন্ধ পদ | এর (র) |
| তিনজন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বসে রইল। | তিনজন | কর্তৃকারক | শূন্য |