পাগলা গণেশ

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় রচিত 'পাগলা গণেশ' গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | সপ্তম শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 19 December 2025 Last Update: 31 May 2026

🤖 পাগলা গণেশ

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বিজ্ঞান কল্পগল্প

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • প্রথম পাঠ • গল্প

বিজ্ঞান বনাম কলা ৩৫৮৯ সাল হিমালয় অনুভূতিহীনতা কবিতার শক্তি

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (জন্ম: ১৯৩৫)

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক। জন্ম ব্রহ্মপুত্র নদীর ধারের ময়মনসিংহে (বর্তমান বাংলাদেশ)। পেশায় শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর প্রথম উপন্যাস 'ঘুণপোকা', প্রথম কিশোর উপন্যাস 'মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি'। কিশোর সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে পেয়েছেন 'বিদ্যাসাগর পুরস্কার'। এছাড়া 'আনন্দ পুরস্কার' ও 'সাহিত্য অকাদেমি' পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন। খেলাধুলা, বিশেষ করে ফুটবল ও ক্রিকেটে তাঁর গভীর আগ্রহ।

📖

গল্প

পাগলা গণেশ

✍️

লেখক

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

🔬

ধরন

বিজ্ঞান কল্পকাহিনি (Sci-Fi)

📚

পাঠ

প্রথম পাঠ (সাহিত্য মেলা)

গল্পের সারাংশ ও মূলভাব

সারাংশ: "পাগলা গণেশ" একটি ভবিষ্যৎ-কল্পিত বিজ্ঞান আশ্রিত গল্প। সাল ৩৫৮৯। পৃথিবীতে তখন মৃত্যু বলতে কিছুই নেই—টিকা আবিষ্কারের ফলে মানুষ অমরত্ব লাভ করেছে। কিন্তু এই অমরত্ব আর অতি-বিজ্ঞানের চর্চা মানুষকে অনুভূতিহীন করে তুলেছে। কেউ আর কবিতা লেখে না, গান গায় না, ছবি আঁকে না—সবই 'অনাবশ্যক ভাবাবেগ' বলে গণ্য হয়। একমাত্র ব্যতিক্রম 'পাগলা গণেশ'। তিনি হিমালয়ে নিরিবিলি বসে কবিতা লেখেন, গান করেন, ছবি আঁকেন। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিকে কেউ বোঝে না, এমনকি একজন পুলিশও কবিতা পড়তে পারে না। গল্পটি বিজ্ঞান ও কলার দ্বন্দ্ব এবং আবেগ-অনুভূতির অপরিহার্যতা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

কেন্দ্রীয় চেতনা: শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই মানুষকে প্রকৃত মানুষ করে না; তার জন্য প্রয়োজন কবিতা, গান, ছবি—এই 'অনাবশ্যক ভাবাবেগ' গুলিই। কারণ, এগুলো ছাড়া মানুষ কেবল যন্ত্র মাত্র।

১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো

৪ টি
১.১ ‘পাগলা গণেশ’ একটি (বিজ্ঞান/ কল্পবিজ্ঞান/ রূপকথা) - বিষয়ক গল্প।
সঠিক উত্তর: কল্পবিজ্ঞান। গল্পটিতে ভবিষ্যৎ পৃথিবী, অমরত্ব, মহাকাশ যাত্রা ইত্যাদি বিজ্ঞানের কল্পিত দিক উঠে এসেছে, তাই এটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি বা কল্পবিজ্ঞান।
১.২ ‘অবজারভেটরি’-র বাংলা প্রতিশব্দ (পরীক্ষাগার/ গবেষণাগার/ নিরীক্ষণাগার)।
সঠিক উত্তর: মানমন্দির বা পর্যবেক্ষণাগার। Observatory-র আক্ষরিক অর্থ এই দুটিই; এটি মহাকাশ পর্যবেক্ষণের গবেষণাগার।
১.৩ সভ্যসমাজ থেকে দূরে পালিয়ে গিয়ে গণেশ (হিমালয়ের গিরিগুহায়/ গভীর জঙ্গলে/ মহাকাশে) আশ্রয় নিয়েছিলেন।
সঠিক উত্তর: হিমালয়ের গিরিগুহায়। গল্পে বলা হয়েছে, 'সে সভ্য সমাজ থেকে দূরে থাকার জন্য হিমালয়ের একটা গিরিগুহায় আশ্রয় নিল'।
১.৪ গল্পের তথ্য অনুসারে মৃত্যুতে টিকা আবিষ্কার হয়েছিল (৩৫৮৯/ ৩৪৩৯/ ৩৫০০) সালে।
সঠিক উত্তর: ৩৫৮৯। গল্পের শুরুতেই সালটি উল্লেখ আছে।

২. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও

১০ টি
২.১ "সালটা ৩৫৮৯" — এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীতে কোন কোন নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের কথা গল্পে বলা হয়েছে?
এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীতে তিনটি বড়ো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের কথা বলা হয়েছে: (ক) টিকা আবিষ্কারের ফলে মানুষ মৃত্যুহীনতা বা অমরত্ব লাভ করেছে। (খ) টাইটান, মঙ্গল এবং শুক্রগ্রহে ল্যাবরেটরি (গবেষণাগার) স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। (গ) মহাকাশের নক্ষত্রপুঞ্জে দ্রুতগামী মহাকাশযানে যাত্রা শুরু হয়েছে—সূর্যের বাইরে আর কোনো গ্রহ নেই বলেও আবিষ্কৃত হয়েছে।
২.২ "ওসব অনাবশ্যক ভাবাবেগ কোনো কাজেই লাগে না"—"অনাবশ্যক ভাবাবেগ" বলতে কী বোঝানো হয়েছে? একে সত্যিই তোমার "অনাবশ্যক" বলে মনে হয় কি?
অনাবশ্যক ভাবাবেগ: কবিতা, গান, ছবি আঁকা, নাটক, সিনেমা—এ ধরনের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চাকে গল্পের বিজ্ঞান-অন্ধ সমাজ 'অনাবশ্যক ভাবাবেগ' বলে চিহ্নিত করেছে।
আমার মতামত: মোটেও নয়। এগুলি মানুষকে যন্ত্র নয় বরং সত্যিকারের মানুষ করে তোলে। এগুলি না থাকলে মনের সৌন্দর্যচেতনা, ভালোবাসা, করুণা ও সৃজনশীলতা শুকিয়ে যায়। তাই এগুলি একান্তই আবশ্যক।
২.৩ "চর্চার অভাবে মানুষের মনে আর ওসবের উল্লেখ হয় না"— মানুষের মন থেকে কোন কোন অনুভূতিগুলো হারিয়ে গেছে?
মানুষের মন থেকে যেসব অনুভূতি হারিয়ে গেছে: (ক) প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে 'আহা' বা আনন্দিত হওয়ার ক্ষমতা (চাঁদ, কোকিলের ডাক, পলাশ ফুল)। (খ) বর্ষার বৃষ্টি দেখে মন বিগলিত হওয়ার প্রবণতা। (গ) গোলাপ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা—বরং তার রাসায়নিক বিশ্লেষণই বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। (ঘ) দয়া, মায়া, করুণা, ভালোবাসা ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তা ও চর্চা সম্পূর্ণ লুপ্ত হয়ে গেছে।
২.৪ "ব্যতিক্রম অবশ্য এক আধজন আছে"— ব্যতিক্রমী মানুষটি কে? কীভাবে তিনি 'ব্যতিক্রম' হয়ে উঠেছিলেন?
ব্যতিক্রমী মানুষ: গল্পের প্রধান চরিত্র 'পাগলা গণেশ'ই সেই ব্যতিক্রম।
ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ: দেড়শো বছর আগে (আজ থেকে) যখন শিল্প-সংগীত-সাহিত্য ইত্যাদির পাট উঠে যেতে লাগল এবং নিপাট বিজ্ঞান ও অ্যানালিসিসের জয়জয়কার শুরু হল, তখন গণেশ তা মেনে নিতে পারেননি। তাঁর মনে হয়েছিল, বিজ্ঞানেরও একটা সীমা থাকা দরকার। তাই তিনি সমাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে হিমালয়ে গিরিগুহায় বসবাস করতে থাকেন এবং কবিতা, গান, ছবি আঁকা চালিয়ে যান।
২.৫ "ও মশাই, এমন বিকট শব্দ করছেন কেন?"— কার উদ্দেশ্যে কারা একথা বলেছিল? কোন কাজকে তারা 'বিকট শব্দ' মনে করেছিল?
উদ্দেশ্য: কথাটি বলা হয়েছিল গণেশকে উদ্দেশ্য করে।
কারা বলেছিল: আকাশ থেকে দুটি 'পাখাওলা লোক' ইথিওপিয়ার লাসা থেকে ইসলামাবাদ যাওয়ার পথে হঠাৎ নেমে এসে রীতিমতো ধমক দিয়ে একথা বলেছিল।
বিকট শব্দ: গণেশ সেদিন গলা ছেড়ে গান করছিলেন। সেই গানকেই তারা 'বিকট শব্দ' বা বিরক্তিকর আওয়াজ বলে মনে করেছিল, কারণ তারা গান চিনতে পারেনি।
২.৬ "গণেশ তাদের মুখবন্ধী ভুলে গেছে"— গণেশ কাদের মুখবন্ধী ভুলে গেছে? তাঁর এই ভুলে যাওয়ার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?
গণেশ তাঁর তিন ছেলে, এক মেয়ের মুখবন্ধী ভুলে গেছেন।
কারণ: গত একশো বছরের মধ্যে তারা কেউ বাবার কাছে আসেনি। তারা প্রত্যেকেই কৃতী বিজ্ঞানী এবং নিজেদের গবেষণা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে, পরিবারের প্রতি তাদের কোনো মায়া-মমতা বা দায়িত্ববোধ অবশিষ্ট নেই। দীর্ঘদিন না দেখায় স্বাভাবিকভাবেই গণেশ তাদের মুখ ভুলে গেছেন। এখানে পারিবারিক বন্ধনের চরম সংকট ফুটে উঠেছে।
২.৭ "গণেশকে সমস্বরে অভিবাদন করে বলল"— কে, কী বলেছিল? তার এভাবে তাঁকে সম্মান জানানোর কারণটি কী?
কে: একজন পুলিশম্যান (পুলিশকর্মী) যিনি আকাশ থেকে পাখাওলা যানবাহনে নেমে এসেছিলেন।
কী বলেছিল: 'স্যার, এককালে আপনি যখন কলকাতার সায়েন্স কলেজে মাইক্রো ইলেকট্রনিক্স পড়াতেন, তখন আমি আপনার ছাত্র ছিলাম।'
কারণ: গণেশ অতীতে কলকাতার সায়েন্স কলেজে অধ্যাপনা করতেন। সেই সূত্রে পুলিশকর্মী তাঁর প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন, তাই শিক্ষক হিসেবে তাঁকে সম্মান জানিয়েছিলেন।
২.৮ "আমি পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি"— বক্তা কীভাবে পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন? তাঁর প্রচেষ্টা কি সফল হয়েছিল?
উপায়: গণেশ বিশ্বাস করতেন, পৃথিবী এখন মৃতপ্রায়—কারণ মানুষ কৃত্রিম অমরত্ব পেলেও অনুভূতি হারিয়েছে। তাই তিনি প্রতিদিন কবিতা লিখে পাহাড় থেকে বাতাসে ভাসিয়ে দিচ্ছিলেন। তাঁর মতে, কবিতা হল পৃথিবীকে বাঁচানোর 'ওষুধ' বা প্রেসক্রিপশন।
সফলতা: আপাতদৃষ্টিতে তাঁর প্রচেষ্টা সরাসরি সফল হয়নি। কারণ, পুলিশকর্মী কবিতার কাগজ কুড়িয়ে পড়তে গিয়েও কিছুই বুঝতে পারেনি। তবু শেষ দৃশ্যে তিনজন দর্শক আসন্ন মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল—এতে এক গভীর জীবনবোধের ইঙ্গিত রয়েছে।
২.৯ "লোকটা অসহায়ভাবে মাথা নেড়ে বলল"— এখানে কার কথা বলা হয়েছে? সে কী বলল? তার অসহায়ভাবে মাথা নাড়ার কারণ কী?
কার কথা: সেই পুলিশম্যানটির কথা বলা হয়েছে।
কী বলল: সে গণেশের দেওয়া কবিতার কাগজ পড়তে গিয়ে বলল—'কিছুই বুঝিনি স্যার। কোনোদিন এ জিনিস পড়িনি।' তার বয়স একশো একুশ বছর, অথচ সে কবিতা কাকে বলে জানে না! তার শিক্ষাজীবনে কবিতা পড়ানো হয়নি।
অসহায়তার কারণ: তার অসহায়তা এসেছে কবিতা না বোঝার লজ্জা ও শিক্ষার অভাব থেকে। সে নিরীহ ও ভালোমানুষ, কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা তাকে অনুভূতির ভাষা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করেছে।
২.১০ "তিনজন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বসে রইল"— এই তিনজন কারা? তাদের মুখ স্থ হওয়ার কারণ কী?
তিনজন: পাখাওলা পুলিশকর্মী, রাষ্ট্রপতির মহাসচিব (যিনি বিমানে করে নেমেছিলেন), এবং একজন সাধারণ মহিলা পর্যটক।
মন্ত্রমুগ্ধ হওয়ার কারণ: গণেশের কথায় প্রভাবিত হয়ে তারা শেষ মুহূর্তে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। হয়তো তাদের মনের গভীরে কোথাও কবিতা বা অনুভূতির স্পর্শ লেগেছিল, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে—পৃথিবী ধ্বংসের মুখোমুখি। তাই তারা নির্বাক, স্থির হয়ে বসে রইল।

৩. 'পাগলা গণেশ' গল্পের মুখ্য চরিত্র গণেশকে তোমার কেমন লাগল?

৩ গণেশ চরিত্র সম্পর্কে তোমার মতামত

গল্পের মুখ্য চরিত্র পাগলা গণেশ সমাজের চোখে পাগল হলেও, প্রকৃতপক্ষে তিনিই একমাত্র জীবিত ও অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ। একটি মৃতপ্রায়, বিজ্ঞান-অন্ধ অনুভূতিহীন পৃথিবীতে গণেশই একমাত্র ব্যতিক্রম।

গণেশের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:

  • সাহসী ও ব্যতিক্রমী: পুরো দুনিয়া যখন কবিতা-গানকে অনাবশ্যক ভাবাবেগ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে, তখন তিনি একাই তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। এ এক দুঃসাহসিক কাজ।
  • সৃজনশীল ও শিল্পী মানস: তিনি কবিতা লেখেন, গান করেন, পাথর কেটে ছবি আঁকেন। শিল্পের প্রতি তাঁর অগাধ টান আর সৃষ্টিশীলতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
  • প্রগতিবিরোধী নন, ভারসাম্যবাদী: গণেশ বিজ্ঞান বোঝেন না তা নন—তিনি নিজেও এককালে সায়েন্স কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। কিন্তু তিনি চান জীবনে বিজ্ঞান ও শিল্পের মধ্যে ভারসাম্য থাকুক।
  • একাকী সংগ্রামী: নিজের ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী—কেউই তাঁর পাশে নেই। এই বৈরাগ্যপূর্ণ নিঃসঙ্গতায় বসেও তিনি পৃথিবীকে বাঁচাতে চেয়েছেন কবিতার মাধ্যমে।

আমার অনুভূতি: গণেশ চরিত্রটি একইসঙ্গে করুণ ও অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি আমাদের শেখান—বেঁচে থাকা আর জীবন ধারণের মধ্যে তফাত আছে। শুধু যন্ত্রের মতো নিঃশ্বাস নেওয়া জীবন নয়; কবিতা, সুর, সৌন্দর্য উপলব্ধি করাই প্রকৃত অমরত্ব।

৪. অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিম্নরেখাঙ্কিত শব্দগুলির পরিবর্তে নতুন শব্দ বসাও

সমার্থক শব্দ প্রয়োগ
মূল বাক্যপরিবর্তিত শব্দসহ বাক্য
ওসব অনাবশ্যক ভাবাবেগ কোনো কাজেই লাগে না।ওসব অপ্রয়োজনীয় ভাবাবেগ কোনো কাজেই লাগে না।
কেউ ঠাট্টা বিদ্রুপ করল না।কেউ ঠাট্টা ব্যঙ্গ করল না।
দুনিয়াটা কবচে যাবে।দুনিয়াটা ধ্বংস হয়ে যাবে।
মহাসচিব তাঁর বিমান থেকে নামলেন গণেশের ডেরায়।মহাসচিব তাঁর উড়োজাহাজ থেকে নামলেন গণেশের ডেরায়।
গণেশকে সমস্বরে অভিবাদন জানিয়ে বলল।গণেশকে সমস্বরে নমস্কার জানিয়ে বলল।
কবিতা লিখতে লেগেছ, কবিতা মকসো করেছ।কবিতা লিখতে লেগেছ, কবিতা অভ্যাস করেছ।
হিমালয় যে খুব নির্জন জায়গা, তা নয়।হিমালয় যে খুব নিভৃত জায়গা, তা নয়।
ধুর মশাই, এ যে বিকট শব্দ।ধুর মশাই, এ যে কর্কশ শব্দ।

৫. এককথায় প্রকাশ

বিস্তারিত অর্থএককথায় প্রকাশ
মহান যে সচিবমহাসচিব
প্রতিরোধ করে যেপ্রতিরোধকারী
গতির আছে যারগতিময়
মৃত্যুকে জয় করেছে যেমৃত্যুঞ্জয়
অন্ত নেই যারঅন্তহীন

৬. সন্ধি বিচ্ছেদ করো

শব্দসন্ধি বিচ্ছেদ
মাধ্যাকর্ষণমাধ্যা + অকর্ষণ (মধ্য + অকর্ষণ)
আবিষ্কারআবিঃ + কার
মৃত্যুঞ্জয়মৃত্যুম্ + জয়
অনাবশ্যকন + আবশ্যক (ণত্ববিধি)
গবেষণাগো + এষণা
অন্তরীক্ষঅন্তর + ঈক্ষ (অন্তরীক্ষ = অন্তরীক্ষ)
হিমালয়হিম + আলয়
নির্জননিঃ + জন
গবেষণাগারগবেষণা + আগার
পরীক্ষাপরি + ঈক্ষা

৭. সমার্থক শব্দ লেখো

শব্দসমার্থক শব্দ
কৃতিকলা, শিল্প, কাজ, রচনা, সৃষ্টি
পৃথিবীধরিত্রী, ভুবন, জগৎ, বসুন্ধরা, ধরণী
আলোচনাবিচার, সমালোচনা, পর্যালোচনা, চর্চা, বিবেচনা

৮. বিশেষণগুলির পর উপযুক্ত বিশেষ্য বসাও ও বাক্য রচনা করো

বিশেষণবিশেষ্যবাক্য
কৃতিকৃতিত্বতিনি তাঁর কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন।
মধুরমধুরতাতাঁর ব্যবহারে এক অদ্ভুত মধুরতা আছে।
সকরুণসকরুণতাগল্পটি অপূর্ব সরুণতায় ভরা।
যান্ত্রিকযান্ত্রিকতাযান্ত্রিকতা মানুষকে অনুভূতিহীন করে তোলে।
ফিরোজাফিরোজাপানাসন্ধ্যার আকাশে ফিরোজাপানা রঙ ধরা পড়েছে।
মৃতুৎমৃত্তিকামৃত্তিকার গন্ধে মন ভরে যায় বর্ষায়।

৯. রেখাঙ্কিত পদগুলির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো

বাক্যরেখাঙ্কিত পদকারকবিভক্তি
গণেশও আর সকলের মতো টিকাটা নিয়েছিল।টিকাটাকর্মকারকশূন্য (টা)
তার গানের গলা বেশ ভালোই।গানেরসম্বন্ধ পদএর (র)
আকাশে একটা পিপে ভাসছিল।আকাশেঅধিকরণ কারকএ
আজ সকালে গণেশকে কবিতায় পেয়েছে।গণেশকেকর্মকারককে
আমি পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি।পৃথিবীকেকর্মকারককে
ও মশাই, এমন বিকট শব্দ করছেন কেন?মশাইসম্বোধন পদ
রাষ্ট্রপতির মহাসচিব তাঁর বিমান থেকে নামলেন।রাষ্ট্রপতিরসম্বন্ধ পদএর (র)
তিনজন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বসে রইল।তিনজনকর্তৃকারকশূন্য

গল্পের শিক্ষা

"পাগলা গণেশ" কেবল একটি কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়, এটি বর্তমান সময়ের জন্যও এক গভীর সতর্কবার্তা। আমরা যেন কেবল যন্ত্র ও প্রযুক্তির পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য, অনুভূতি ও সম্পর্কগুলিকে ভুলে না যাই। কবিতা, গান, ছবি—এই 'অনাবশ্যক ভাবাবেগ' গুলিই প্রকৃতপক্ষে আমাদের 'মানুষ' করে তোলে। গণেশ পাগল নন, তিনিই একমাত্র জ্ঞানী—যিনি সভ্যতার আসল সত্য বুঝতে পেরেছিলেন।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'পাগলা গণেশ' গল্পটি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৩৫) রচিত। এটি একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি বা কল্পবিজ্ঞান (Science Fiction)। গল্পটি WBBSE সপ্তম শ্রেণির 'সাহিত্য মেলা' পাঠ্যপুস্তকের প্রথম পাঠে অন্তর্ভুক্ত।

গল্পটির মূলভাব: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অন্ধ অনুকরণ মানুষকে অনুভূতিহীন যন্ত্রে পরিণত করে। ৩৫৮৯ সালের ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে মানুষ মৃত্যুহীনতা অর্জন করলেও কবিতা, গান, ছবি, ভালোবাসা ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম 'পাগলা গণেশ', যিনি তাঁর কবিতা ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, এই 'অনাবশ্যক ভাবাবেগ' ছাড়া প্রকৃত 'জীবন' অর্থহীন।

গণেশ প্রতিদিন কবিতা লিখে সেগুলি বাতাসে ভাসিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, কবিতাই হল পৃথিবীর মৃত্যু রোধের 'ওষুধ'। তাঁর মতে, মানুষ যতক্ষণ কবিতা পড়তে ও বুঝতে শিখবে, ততক্ষণ পৃথিবী বেঁচে থাকবে।