Chapter 1.A: উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়াপ্রদান

উদ্দীপক, সংবেদনশীলতা, উদ্ভিদের চলন (ট্যাকটিক, ট্রপিক, ন্যাস্টিক), আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর পরীক্ষা | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 03 May 2026 Last Update: 10 June 2026
Madhyamik Life Science Chapter 1.A: উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়াপ্রদান Question Answer

Chapter 1.A: উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়াপ্রদান

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 51 MCQ | 42 SAQ | 10 Broad Questions

ফোটোট্রপিক হাইড্রোট্রপিক সিসমোন্যাস্টি ক্রেস্কোগ্রাফ জিওট্রপিক চলন ও গমন
🌱

উদ্ভিদের চলন

ট্যাকটিক, ট্রপিক এবং ন্যাস্টিক চলনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা

🔬

জে. সি. বসুর পরীক্ষা

লজ্জাবতী ও বনচাঁড়ালের সংবেদনশীলতা প্রমাণ

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

51 টি
1. উদ্দীপকের প্রভাবে জীবদের সাড়া প্রদানের ক্ষমতাকে কী বলে?
ক) চলন
খ) সংবেদনশীলতা
গ) গমন
ঘ) উদ্দীপনা
2. নীচের কোনটি বাহ্যিক উদ্দীপকের উদাহরণ নয়?
ক) তাপ
খ) আলো
গ) বাতাস
ঘ) হরমোন
3. উদ্ভিদের সাড়াপ্রদান প্রধানত কীভাবে ঘটে?
ক) গমনের মাধ্যমে
খ) চলনের মাধ্যমে
গ) কান্নার মাধ্যমে
ঘ) দৌড়ানোর মাধ্যমে
4. যে প্রক্রিয়ায় জীব স্বেচ্ছায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের দ্বারা স্থান পরিবর্তন করে তাকে কী বলে?
ক) চলন
খ) গমন
গ) ট্যাকটিক চলন
ঘ) ন্যাস্টিক চলন
5. নীচের কোন উদ্ভিদ গমনে সক্ষম?
ক) লজ্জাবতী
খ) বনচাঁড়াল
গ) ক্ল্যামাইডোমোনাস
ঘ) সুন্দরী
6. পাতাশ্যাওলা গাছের পাতার কোশে কোন ধরনের চলন দেখা যায়?
ক) প্রবাহগতি বা রোটেশন
খ) আবর্তগতি বা সারকুলেশন
গ) সিলিয়ারি চলন
ঘ) ট্যাকটিক চলন
7. কুমড়ো গাছের কান্ডের রোমে কোন ধরনের প্রোটোপ্লাজমীয় চলন দেখা যায়?
ক) রোটেশন
খ) আবর্তগতি বা সারকুলেশন
গ) ফোটোট্রপিক
ঘ) ফোটোন্যাস্টিক
8. লজ্জাবতী লতার পাতায় স্পর্শ করলে পাতা নুয়ে পড়ে। এটি কী ধরনের চলন?
ক) ফোটোন্যাস্টি
খ) থার্মোন্যাস্টি
গ) সিসমোন্যাস্টি
ঘ) কেমোন্যাস্টি
9. বনচাঁড়াল উদ্ভিদের পার্শ্ব পত্রক দুটি পর্যায়ক্রমে ওঠানামা করে। একে কী চলন বলে?
ক) সিসমোন্যাস্টি
খ) প্রকরণ চলন (Movement of variation)
গ) ট্যাকটিক চলন
ঘ) জিওট্রপিক চলন
10. আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা প্রমাণের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করেননি?
ক) Resonant Recorder
খ) Electric Probe
গ) Crescograph
ঘ) Thermometer
11. লজ্জাবতী পাতার পত্রমূলের কোন অংশ থেকে জল স্থানান্তরিত হলে পাতা নুয়ে পড়ে?
ক) পত্ররন্ধ্র
খ) উপাধান (Pulvinus)
গ) পত্রফলক
ঘ) জাইলেম
12. উদ্ভিদ চলনকে প্রধানত কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
ক) দুই
খ) তিন
গ) চার
ঘ) পাঁচ
13. বহিস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ অঙ্গের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনকে কী বলে?
ক) ট্রপিক চলন
খ) ট্যাকটিক চলন
গ) ন্যাস্টিক চলন
ঘ) রসস্ফীতি চলন
14. মসের শুক্রাণু সুক্রোজের প্রভাবে ডিম্বাণুর দিকে অগ্রসর হয়। এটি কী প্রকার চলন?
ক) ফোটোট্যাকটিক
খ) কেমোট্যাকটিক
গ) হাইড্রোট্রপিক
ঘ) কেমোন্যাস্টিক
15. ফার্নের শুক্রাণু কোন রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে ডিম্বাণুর দিকে ধাবিত হয়?
ক) ম্যালিক অ্যাসিড
খ) সুক্রোজ
গ) গ্লুকোজ
ঘ) প্রোটিন
16. তীব্র আলোকে ক্ল্যামাইডোমোনাস আলোর বিপরীত দিকে গমন করে, একে কী বলে?
ক) অনুকূল আলোকবর্তী
খ) প্রতীপ আলোকবর্তী
গ) প্রতিকূল জলবর্তী
ঘ) সিসমোন্যাস্টিক
17. উদ্দীপকের উৎসের দিকে বা গতিপথের দিকে উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে কী বলে?
ক) ন্যাস্টিক চলন
খ) ট্যাকটিক চলন
গ) ট্রপিক চলন
ঘ) গ্লুকোট্রপিক চলন
18. উদ্ভিদের মূল আলোক উৎসের বিপরীত দিকে অগ্রসর হয়, তাই মূলকে কী বলে?
ক) অনুকূল আলোকবর্তী
খ) প্রতিকূল আলোকবর্তী
গ) তির্যক আলোকবর্তী
ঘ) অনুকূল জলবর্তী
19. উদ্ভিদের পাতা আলোক রশ্মির সঙ্গে কীরূপভাবে বৃদ্ধি পায়?
ক) সমান্তরালভাবে
খ) তির্যকভাবে
গ) বিপরীতভাবে
ঘ) অভিকর্ষের দিকে
20. জলবৃত্তি বা হাইড্রোট্রপিক চলনে উদ্ভিদের কাণ্ড কীরূপ আচরণ করে?
ক) অনুকূল জলবর্তী
খ) প্রতিকূল জলবর্তী
গ) তির্যক জলবর্তী
ঘ) কোনো সাড়া দেয় না
21. ভিজে কাঠের গুঁড়ো ভর্তি চালুনির পরীক্ষায় মূল চালুনির ছিদ্র দিয়ে বেরনোর পর আবার বেঁকে চালুনির দিকে প্রবেশ করে কেন?
ক) আলোর খোঁজে
খ) অভিকর্ষের টানে
গ) জলের আকর্ষণে
ঘ) বাতাসের কারণে
22. উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে অভিকর্ষের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে কী বলে?
ক) জিওট্রপিক চলন
খ) ফোটোট্রপিক চলন
গ) হাইড্রোট্রপিক চলন
ঘ) সিসমোন্যাস্টিক চলন
23. উদ্ভিদের পার্শ্বীয় মূল পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের সঙ্গে কীরূপভাবে বৃদ্ধি পায়?
ক) লম্বভাবে (তির্যক অভিকর্ষবর্তী)
খ) বিপরীত দিকে
গ) মাটির উপরে
ঘ) সমান্তরালভাবে
24. সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল মাটির ওপরে উঠে আসে, এটি কী প্রকার চলন?
ক) অনুকূল অভিকর্ষবর্তী
খ) প্রতিকূল অভিকর্ষবর্তী
গ) অনুকূল জলবর্তী
ঘ) ফোটোন্যাস্টিক
25. উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে নিয়ন্ত্রিত না হয়ে উদ্দীপকের 'তীব্রতার' উপর নির্ভর করে, তখন তাকে কী বলে?
ক) ট্যাকটিক চলন
খ) ট্রপিক চলন
গ) ন্যাস্টিক চলন
ঘ) গমন
26. পদ্ম ও সূর্যমুখী ফুল আলোর তীব্রতায় ফোটে। এটি কী ধরনের চলন?
ক) ফোটোট্রপিক
খ) ফোটোন্যাস্টিক
গ) থার্মোন্যাস্টিক
ঘ) কেমোন্যাস্টিক
27. সন্ধ্যামালতি ও জুঁই ফুল কখন ফোটে?
ক) বেশি আলোতে
খ) কম আলোতে
গ) দুপুরবেলায়
ঘ) অধিক তাপে
28. টিউলিপ ফুলের পাপড়ি অধিক তাপে খোলে এবং কম তাপে মুদে যায়। এটি কোন চলন?
ক) থার্মোন্যাস্টিক
খ) ফোটোন্যাস্টিক
গ) সিসমোন্যাস্টিক
ঘ) নিকটিন্যাস্টিক
29. আলো ও তাপ উভয়ের প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে কী বলে?
ক) থার্মোন্যাস্টি
খ) নিকটিন্যাস্টি
গ) সিসমোন্যাস্টি
ঘ) কেমোন্যাস্টি
30. তেঁতুল গাছের পাতা দিনের বেলায় খুলে যায় ও রাতে মুদে যায়, এটি কোন চলনের উদাহরণ?
ক) নিকটিন্যাস্টি
খ) থার্মোন্যাস্টি
গ) ফোটোট্রপিক
ঘ) সিসমোন্যাস্টি
31. স্পর্শ, ঘর্ষণ বা আঘাতের তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদের ন্যাস্টিক চলনকে কী বলে?
ক) সিসমোন্যাস্টিক
খ) কেমোন্যাস্টিক
গ) থার্মোন্যাস্টিক
ঘ) ফোটোন্যাস্টিক
32. পতঙ্গভুক উদ্ভিদ সূর্যশিশিরের পাতার কর্ষিকা পতঙ্গের সংস্পর্শে এলে বেঁকে যায়। এটি কোন প্রকার চলন?
ক) কেমোন্যাস্টিক
খ) সিসমোন্যাস্টিক
গ) থার্মোন্যাস্টিক
ঘ) ফোটোন্যাস্টিক
33. নীচের কোনটি হরমোন (অক্সিন) দ্বারা প্রভাবিত হয়?
ক) ট্যাকটিক চলন
খ) ন্যাস্টিক চলন
গ) ট্রপিক চলন
ঘ) সিলিয়ারি চলন
34. ট্যাকটিক চলন ও ট্রপিক চলনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
ক) ট্যাকটিক চলনে সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয়, ট্রপিক চলনে হয় না
খ) ট্রপিক চলনে স্থান পরিবর্তন হয়, ট্যাকটিকে হয় না
গ) ট্রপিক চলন আলোর তীব্রতায় হয়
ঘ) কোনো পার্থক্য নেই
35. ন্যাস্টিক চলনের প্রধান নিয়ন্ত্রক কী?
ক) উদ্দীপকের গতিপথ
খ) উদ্দীপকের তীব্রতা
গ) হরমোন
ঘ) অভিকর্ষ
36. উদ্ভিদের কাণ্ডকে 'অনুকূল আলোকবর্তী' বলা হয় কেন?
ক) এটি আলোর দিকে বৃদ্ধি পায় বলে
খ) এটি আলোর বিপরীতে বৃদ্ধি পায় বলে
গ) এটি অন্ধকারে বৃদ্ধি পায় বলে
ঘ) এটি মাটির নীচে যায় বলে
37. বনচাঁড়ালের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
ক) Mimosa pudica
খ) Desmodium gyrans
গ) Chlamydomonas reinhardtii
ঘ) Volvox aureus
38. লজ্জাবতী লতার বৈজ্ঞানিক নাম কী?
ক) Mimosa pudica
খ) Desmodium gyrans
গ) Mangifera indica
ঘ) Ficus benghalensis
39. উদ্ভিদের চলন বা সঞ্চালনকে প্রধানত কী বলা হয়?
ক) বক্রতাজনিত সঞ্চালন (Movement of curvature)
খ) সামগ্রিক চলন
গ) গ্লাইডিং চলন
ঘ) অ্যামিবয়েড চলন
40. ডায়াটম (Diatom) কী ধরনের চলন দেখায়?
ক) গমনে সক্ষম সামগ্রিক চলন
খ) ট্রপিক চলন
গ) ন্যাস্টিক চলন
ঘ) জিওট্রপিক চলনে
41. কেমোট্যাকটিক চলনে মসের শুক্রাণু কোন পদার্থের দিকে ধাবিত হয়?
ক) ম্যালিক অ্যাসিড
খ) সুক্রোজ
গ) পেপসিন
ঘ) গ্লুকোজ
42. উদ্ভিদের মূল অভিকর্ষের টানে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয়, একে কী বলে?
ক) প্রতিকূল অভিকর্ষবর্তী
খ) অন অনুকূল অভিকর্ষবর্তী
গ) তির্যক অভিকর্ষবর্তী
ঘ) অনুকূল জলবর্তী
43. সুন্দরী গাছের শ্বাসমূলের চলন নীচের কোনটির উদাহরণ?
ক) অনুকূল অভিকর্ষবর্তী
খ) প্রতিকূল অভিকর্ষবর্তী
গ) অনুকূল আলোকবর্তী
ঘ) খ ও গ উভয়ই
44. উদ্ভিদ কোশের প্রোটোপ্লাজমে বহিস্থ উদ্দীপক ছাড়া যে চলন দেখা যায়, তাকে কী বলে?
ক) ট্রপিক চলন
খ) স্বতঃস্ফূর্ত চলন (রোটেশন/সারকুলেশন)
গ) ট্যাকটিক চলন
ঘ) সিসমোন্যাস্টি
45. সূর্যশিশির উদ্ভিদের কর্ষিকাগুলির পতঙ্গ আবদ্ধ করা কোন ধরনের চলন?
ক) কেমোন্যাস্টিক
খ) কেমোট্যাকটিক
গ) সিসমোন্যাস্টিক
ঘ) ফোটোন্যাস্টিক
46. পেট্রিডিসে ভিজে তুলোর ওপর অঙ্কুরিত বীজ খাড়াভাবে রাখলে ভ্রূণমূল কোন দিকে বাড়ে?
ক) ওপরের দিকে
খ) পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের দিকে
গ) আলোর দিকে
ঘ) অনুভূমিকভাবে
47. ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কোনটিতে?
ক) উদ্দীপকের গতিপথ বনাম তীব্রতা
খ) আলো বনাম জল
গ) স্থান পরিবর্তন বনাম বক্রতা
ঘ) কোনোটিই নয়
48. বনচাঁড়ালের তিনটি ফলকের মধ্যে কোনগুলি ওঠানামা করে?
ক) মাঝের বড়ো ফলকটি
খ) দুই পাশের ছোটো ফলক দুটি
গ) তিনটি ফলকই
ঘ) কোনোটিই নয়
49. উদ্ভিদের সাড়াপ্রদান পদ্ধতিকে মূলত কয়টি যন্ত্রের সাহায্যে আচার্য জে. সি. বসু প্রমাণ করেছিলেন?
ক) Crescograph, Resonant Recorder
খ) Thermometer, Barometer
গ) Microscope, Telescope
ঘ) ECG, EEG
50. কোন প্রকার চলনে উদ্ভিদদেহের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন ঘটে?
ক) ন্যাস্টিক চলনে
খ) ট্রপিক চলনে
গ) ট্যাকটিক চলনে
ঘ) জিওট্রপিক চলনে
51. উদ্ভিদের চলন প্রধানত কী জাতীয় চলন?
ক) সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন
খ) বক্রতাজনিত সঞ্চালন
গ) অ্যামিবয়েড চলন
ঘ) সিলিয়ারি চলন

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)

42 টি

1. সংবেদনশীলতা (Sensitivity) কাকে বলে?

পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তনের (উদ্দীপকের) প্রভাবে জীবদের সাড়া প্রদানের ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বলে।

2. উদ্দীপক (Stimuli) কী?

যেসব বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন জীবদেহ শনাক্ত করতে পারে এবং যা জীবে সাড়া প্রদানে সাহায্য করে, তাকে উদ্দীপক বলে। যেমন- আলো, তাপ, হরমোন।

3. বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের একটি করে উদাহরণ দাও।

বাহ্যিক উদ্দীপক: তাপ, আলো, বাতাস। অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক: হরমোন।

4. চলন (Movement) কাকে বলে?

যে প্রক্রিয়ায় জীব নির্দিষ্ট স্থানে স্থির থেকে অর্থাৎ স্থানান্তরে না গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা উদ্দীপকের প্রভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে, তাকে চলন বলে।

5. গমন (Locomotion) কাকে বলে?

যে প্রক্রিয়ায় জীব স্বেচ্ছায় বা উদ্দীপকের প্রভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের দ্বারা সামগ্রিকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থান পরিবর্তন করে, তাকে গমন বলে।

6. চলন ও গমনের মূল পার্থক্য কী?

চলনে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না (উদ্ভিদ মাটি সংলগ্ন থাকে), কিন্তু গমনে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় (যেমন প্রাণীদের ক্ষেত্রে)।

7. গমনে সক্ষম দুটি উদ্ভিদের নাম লেখো।

ক্ল্যামাইডোমোনাস (Chlamydomonas), ভলভক্স (Volvox) এবং ডায়াটম (Diatom)।

8. উদ্ভিদ কোশে স্বতঃস্ফূর্ত প্রোটোপ্লাজমীয় চলন বা রোটেশন কোথায় দেখা যায়?

পাতাশ্যাওলা গাছের পাতার কোশে রোটেশন বা প্রবাহগতি দেখা যায়।

9. সারকুলেশন বা আবর্তগতি কোন উদ্ভিদে দেখা যায়?

কুমড়ো গাছের কাণ্ডের রোমের কোশে সারকুলেশন বা আবর্তগতি দেখা যায়।

10. লজ্জাবতী পাতার চলন কী ধরনের চলন?

লজ্জাবতী লতার পাতায় স্পর্শ করলে পাতাগুলি নুয়ে পড়ে। এটি সিসমোন্যাস্টি (Seismonastic) বা স্পর্শব্যাপ্তি চলন।

11. বনচাঁড়াল উদ্ভিদে কী ধরনের চলন দেখা যায়?

বনচাঁড়াল উদ্ভিদে প্রকরণ চলন (Movement of variation) দেখা যায়, যেখানে পার্শ্ব পত্রক দুটি পর্যায়ক্রমে রসস্ফীতির পরিবর্তনে ওঠানামা করে।

12. আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা প্রমাণের জন্য কোন কোন যন্ত্র আবিষ্কার বা ব্যবহার করেন?

তিনি Resonant Recorder, Electric Probe এবং Crescograph প্রভৃতি যন্ত্র ব্যবহার করে উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা প্রমাণ করেন।

13. পালভিনাস (Pulvinus) বা উপাধান কী?

লজ্জাবতী পাতার পত্রমূলের স্ফীত অংশকে পালভিনাস বা উপাধান বলে। এই কোশগুলি থেকে জল স্থানান্তরিত হলে পাতা নুয়ে পড়ে।

14. উদ্ভিদের বক্র সঞ্চালন (Movement of curvature) বলতে কী বোঝো?

জৈবিক প্রয়োজনে উদ্দীপকের উপস্থিতিতে বা অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদ নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ থেকে যে অঙ্গ সঞ্চালন করে, তাকে বক্র সঞ্চালন বলে।

15. ট্যাকটিক চলন (Tactic movement) কাকে বলে?

আলো, তাপমাত্রা, রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি বহিস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ অঙ্গের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনকে ট্যাকটিক চলন বা আবিষ্ট চলন বলে।

16. ফোটোট্যাকটিক চলন কী? উদাহরণ দাও।

আলোক উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদদেহের স্থান পরিবর্তনকে ফোটোট্যাকটিক চলন বলে। উদাহরণ: ক্ল্যামাইডোমোনাস, ভলভক্স ইত্যাদি শৈবালের আলোর দিকে গমন।

17. কেমোট্যাকটিক চলন কী?

রাসায়নিক পদার্থের আকর্ষণে উদ্ভিদ গ্যামেট বা অঙ্গের সামগ্রিক চলনকে কেমোট্যাকটিক চলন বলে। যেমন- ম্যালিক অ্যাসিডের প্রভাবে ফার্নের শুক্রাণুর চলন।

18. ট্রপিক চলন বা দিগ্নির্ণীত চলন কাকে বলে?

উদ্দীপকের উৎসের দিকে বা উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে ট্রপিক চলন বা দিগ্নির্ণীত চলন বলে।

19. ফোটোট্রপিক চলন কাকে বলে?

উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন আলোক উৎসের গতিপথ অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে ফোটোট্রপিক বা আলোকবৃত্তি চলন বলে।

20. উদ্ভিদের কাণ্ড ও মূল আলোর সাপেক্ষে কীরূপ আচরণ করে?

উদ্ভিদের কাণ্ড আলোর দিকে বাড়ে (অনুকূল আলোকবর্তী), এবং মূল আলোর বিপরীত দিকে বাড়ে (প্রতিকূল আলোকবর্তী)।

21. হাইড্রোট্রপিক চলন বা জলবৃত্তি কাকে বলে?

উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন জলের উৎসের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে হাইড্রোট্রপিক চলন বা জলবৃত্তি বলে।

22. হাইড্রোট্রপিক চলনে উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ডের আচরণ কীরূপ?

মূল সর্বদা জলের দিকে বৃদ্ধি পায় (অনুকূল জলবর্তী), এবং কাণ্ড জলের বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায় (প্রতিকূল জলবর্তী)।

23. জিওট্রপিক চলন বা অভিকর্ষবৃত্তি কাকে বলে?

উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে অভিকর্ষের গতিপথ অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে জিওট্রপিক চলন বা অভিকর্ষবৃত্তি বলে।

24. উদ্ভিদের পার্শ্বীয় মূলকে তির্যক অভিকর্ষবর্তী বলা হয় কেন?

পার্শ্বীয় মূল পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের (অভিকর্ষের) সঙ্গে লম্বভাবে বা তির্যকভাবে বৃদ্ধি পায় বলে এদের তির্যক অভিকর্ষবর্তী বলা হয়।

25. ন্যাস্টিক চলন বা ব্যাপ্তি চলন কাকে বলে?

উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন উদ্দীপকের গতিপথের উপর নির্ভর না করে উদ্দীপকের 'তীব্রতার' (Intensity) উপর নির্ভর করে নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে ন্যাস্টিক চলন বলে।

26. ফোটোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উদ্ভিদ অঙ্গের সঞ্চালন যখন আলোকের তীব্রতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে ফোটোন্যাস্টিক চলন বলে। উদাহরণ: পদ্ম, সূর্যমুখী ফুল বেশি আলোতে ফোটে।

27. থার্মোন্যাস্টিক বা তাপব্যাপ্তি চলন কী?

উষ্ণতার তীব্রতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে থার্মোন্যাস্টিক চলন বলে। যেমন: টিউলিপ ফুল অধিক তাপে ফোটে এবং কম তাপে মুদে যায়।

28. নিকটিন্যাস্টি (Nyctinasty) চলন কী?

উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন আলো ও তাপ উভয়ের প্রভাবে ঘটে তখন তাকে নিকটিন্যাস্টি চলন বলে। যেমন: তেঁতুল গাছের পাতা দিনের বেলায় খোলে ও রাতে মুদে যায়।

29. সিসমোন্যাস্টিক বা স্পর্শব্যাপ্তি চলন কাকে বলে?

স্পর্শ, ঘর্ষণ, আঘাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি উদ্দীপকের তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের যে ন্যাস্টিক চলন হয়, তাকে সিসমোন্যাস্টিক চলন বলে। যেমন- লজ্জাবতী লতা।

30. কেমোন্যাস্টিক বা রসায়ন ব্যাপ্তি চলন কী?

কোনো রাসায়নিক পদার্থের (প্রোটিন, ক্লোরোফর্ম) সংস্পর্শে উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে কেমোন্যাস্টিক চলন বলে। যেমন- সূর্যশিশিরের কর্ষিকা পতঙ্গের সংস্পর্শে বেঁকে যায়।

31. উদ্ভিদের কোন চলন হরমোন (অক্সিন) দ্বারা প্রভাবিত হয়?

উদ্ভিদের ট্রপিক চলন (যেমন ফোটোট্রপিক বা জিওট্রপিক চলন) হরমোন (প্রধানত অক্সিন) দ্বারা প্রভাবিত হয়।

32. কোন চলনে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন ঘটে?

ট্যাকটিক চলনে (Tactic movement) উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন ঘটে (যেমন শৈবালের আলো অভিমুখে চলন)।

33. উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত চলন কোনটি?

ট্রপিক চলন (Tropic movement) সর্বদা উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

34. উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত চলন কোনটি?

ন্যাস্টিক চলন (Nastic movement) সর্বদা উদ্দীপকের তীব্রতার উপর নির্ভর করে নিয়ন্ত্রিত হয়।

35. সুন্দরী গাছের শ্বাসমূলে কোন প্রকার ট্রপিক চলন দেখা যায়?

সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল মাটির উপরে উঠে আসে, তাই এতে প্রতিকূল অভিকর্ষবর্তী (Negative geotropic) এবং অনুকূল আলোকবর্তী (Positive phototropic) চলন দেখা যায়।

36. মসের শুক্রাণু এবং ফার্নের শুক্রাণুর চলন কী প্রকারের?

মসের শুক্রাণু সুক্রোজের প্রভাবে এবং ফার্নের শুক্রাণু ম্যালিক অ্যাসিডের প্রভাবে ডিম্বাণুর দিকে ধাবিত হয়, এটি কেমোট্যাকটিক (Chemotactic) চলন।

37. প্রতীপ আলোকবর্তী চলন কী?

তীব্র আলোকে ক্ল্যামাইডোমোনাস বা ভলভক্স যখন আলোর বিপরীত দিকে গমন করে, তখন তাকে প্রতীপ আলোকবর্তী (Negative phototactic) চলন বলে।

38. লজ্জাবতী গাছের পাতায় স্পর্শ করলে কী ঘটে?

লজ্জাবতী গাছের পাতায় স্পর্শ করলে পত্রমূলের উপাধান (pulvinus) থেকে জল স্থানান্তরিত হয়, রসস্ফীতি চাপ কমে যায় এবং পত্রকগুলি মুদে যায় (সিসমোন্যাস্টি)।

39. উদ্ভিদ কোশের প্রোটোপ্লাজমে কয় ধরনের চলন দেখা যায়?

বহিস্থ উদ্দীপক ছাড়া প্রোটোপ্লাজমে সাধারণত দুই ধরনের চলন দেখা যায়: রোটেশন বা প্রবাহগতি (যেমন পাতাশ্যাওলা) এবং সারকুলেশন বা আবর্তগতি (যেমন কুমড়ো কাণ্ড)।

40. আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কীভাবে প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদের সাড়াপ্রদান প্রাণীদের মতোই?

তিনি ক্রেস্কোগ্রাফ ও বৈদ্যুতিক প্রোব ব্যবহার করে দেখান যে, লজ্জাবতী বা বনচাঁড়ালে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা পাঠালে তা কাণ্ডের মধ্য দিয়ে পাতায় পৌঁছে প্রতিক্রিয়া (চলন) সৃষ্টি করে, ঠিক যেমন প্রাণীরা স্নায়ুতন্ত্রের সাহায্যে সাড়া দেয়।

41. বনচাঁড়ালের বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?

বনচাঁড়ালের বিজ্ঞানসম্মত নাম হল *Desmodium gyrans* (বা *Desmodium* sp.)।

42. লজ্জাবতীর বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?

লজ্জাবতীর বিজ্ঞানসম্মত নাম হল *Mimosa pudica*।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)

10 টি

1. উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা বলতে কী বোঝায়? আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর পরীক্ষাগুলির সাহায্যে উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

সংবেদনশীলতা:

পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন বা উদ্দীপকের (যেমন আলো, তাপ, স্পর্শ) প্রভাবে জীবদের সাড়া প্রদানের ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বলে। উদ্ভিদ মাটি সংলগ্ন থাকলেও এরা উদ্দীপকের প্রভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চলন ঘটিয়ে সাড়া প্রদান করে।

আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর পরীক্ষা:

বিশিষ্ট ভারতীয় বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু Resonant Recorder, Electric Probe, এবং Crescograph নামক যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এই যন্ত্রগুলির সাহায্যে তিনি প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে এবং তারা প্রাণীদের মতোই উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। তিনি লজ্জাবতী (Mimosa pudica) এবং বনচাঁড়াল (Desmodium gyrans) উদ্ভিদে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা (electrical stimulation) প্রয়োগ করে দেখান যে উদ্দীপনা উদ্ভিদ কাণ্ডের মধ্য দিয়ে পাতায় পৌঁছে পাতাকে নুইয়ে দিচ্ছে বা পাতার স্বতঃস্ফূর্ত চলন ঘটাচ্ছে। স্পন্দন মুক্ত অবস্থায় বনচাঁড়ালের পত্রবৃন্ত কেটে দিলে স্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু উপাধানের (pulvinus) মাধ্যমে বিদ্যুৎ উদ্দীপনা প্রয়োগ করলে আবার স্পন্দন ঘটে। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে উদ্ভিদের প্রতিক্রিয়া প্রাণীদের স্নায়বিক প্রতিক্রিয়ার মতোই কাজ করে।

2. ট্রপিক চলন বা দিগ্নির্ণীত চলন কাকে বলে? ফোটোট্রপিক চলন একটি পরীক্ষার সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।

ট্রপিক চলন:

উদ্দীপকের উৎসের দিকে বা উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে উদ্ভিদ অঙ্গের যে বক্র চলন ঘটে, তাকে ট্রপিক চলন বা দিগ্নির্ণীত চলন বলে। যেমন আলোর দিকে কাণ্ডের বৃদ্ধি।

ফোটোট্রপিক চলনের পরীক্ষা:

উদ্দেশ্য: উদ্ভিদের বিটপ বা কাণ্ড যে আলোর উৎসের দিকে বৃদ্ধি পায় (অনুকূল আলোকবর্তী) তা প্রমাণ করা।
পদ্ধতি: টবসহ একটি সতেজ চারাগাছকে একটি অন্ধকার ঘরে জানলার সামনে রাখা হল। ঘরের অন্য সব জানলা-দরজা বন্ধ করে কেবল ওই জানলার একটি পাল্লা খুলে রাখা হল যাতে একদিক থেকেই আলো ঘরে প্রবেশ করতে পারে।
পর্যবেক্ষণ: কয়েকদিন পর লক্ষ করলে দেখা যাবে, গাছের কাণ্ড বা বিটপ অংশ সোজা বৃদ্ধি না পেয়ে যেদিক থেকে জানলার আলো আসছে সেদিকে বেঁকে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সিদ্ধান্ত: এই পরীক্ষা থেকে প্রমাণিত হয় যে, উদ্ভিদের কাণ্ডের চলন অনুকূল আলোকবর্তী (Positively phototropic)।

3. হাইড্রোট্রপিক চলন বা জলবৃত্তি বলতে কী বোঝো? ভিজে কাঠের গুঁড়োর পরীক্ষার সাহায্যে এটি প্রমাণ করো।

হাইড্রোট্রপিক চলন:

উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন জলের উৎসের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে হাইড্রোট্রপিক চলন বা জলবৃত্তি বলে। মূল সাধারণত জলের উৎসের দিকে বাড়ে (অনুকূল জলবর্তী)।

পরীক্ষা:

উপকরণ: একটি তারের চালুনি, কিছু ভিজে কাঠের গুঁড়ো এবং কয়েকটি সদ্য অঙ্কুরিত ছোলা বা মটর বীজ।
পদ্ধতি: চালুনিটিতে ভিজে কাঠের গুঁড়ো রেখে তার মধ্যে বীজগুলি রেখে চালুনিটিকে শূন্যে ঝুলিয়ে দেওয়া হল।
পর্যবেক্ষণ: কয়েকদিন পর দেখা যাবে বীজগুলি অঙ্কুরিত হয়ে ভ্রূণমূলগুলি অভিকর্ষের টানে চালুনির ছিদ্র দিয়ে নীচের দিকে বেরিয়ে ঝুলে আছে। কিন্তু আরও কয়েকদিন পর দেখা যাবে, ভ্রূণমূলগুলি নীচের দিকে না বেড়ে ইউ-টার্ন নিয়ে পুনরায় বেঁকে চালুনির ছিদ্রে প্রবেশ করেছে।
সিদ্ধান্ত: প্রথমে অভিকর্ষের টানে মূল নীচে এলেও, পরে জলের খোঁজে (যেহেতু কাঠের গুঁড়ো ভিজে ছিল এবং বাতাস শুষ্ক ছিল) মূলগুলি জলের উৎসের দিকে বেঁকে যায়। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, মূলের চলন অনুকূল জলবর্তী (Positively hydrotropic)।

4. জিওট্রপিক চলন বা অভিকর্ষবৃত্তি কাকে বলে? একটি পরীক্ষার সাহায্যে উদ্ভিদের মূলের অনুকূল অভিকর্ষবর্তী চলন ব্যাখ্যা করো।

জিওট্রপিক চলন:

উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে অভিকর্ষের গতিপথ অনুসারে হয়, তখন তাকে জিওট্রপিক চলন বা অভিকর্ষবৃত্তি বলে। মূল পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের দিকে বাড়ে, তাই মূল অনুকূল অভিকর্ষবর্তী।

পরীক্ষা:

উপকরণ: একটি পেট্রিডিস, ভিজে তুলো, পিন এবং কয়েকটি সদ্য অঙ্কুরিত বীজ।
পদ্ধতি: একটি পেট্রিডিসে ভিজে তুলোর প্যাড রেখে তার ওপর কয়েকটি অঙ্কুরিত বীজ পিনের সাহায্যে বিভিন্ন দিকে (উপর, নীচ, পাশে) মুখ করে আটকে দেওয়া হল। এবার পেট্রিডিসটিকে একটি আংটার সাহায্যে টেবিলের ওপর খাড়াভাবে রেখে দেওয়া হল।
পর্যবেক্ষণ: কয়েকদিন পর পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, বীজের ভ্রূণমূলগুলির প্রাথমিক অবস্থান যেমনই হোক না কেন (অর্থাৎ মুখ যেদিকেই থাকুক), বৃদ্ধি পাওয়ার সময় প্রতিটি ভ্রূণমূল পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের দিকে বা নীচের দিকে বেঁকে অগ্রসর হয়েছে।
সিদ্ধান্ত: এই পরীক্ষা থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, মূলের চলন সর্বদা অভিকর্ষের টানে নীচের দিকে ঘটে, অর্থাৎ মূল অনুকূল অভিকর্ষবর্তী (Positively geotropic)।

5. ন্যাস্টিক চলন বা ব্যাপ্তি চলন কাকে বলে? ফোটোন্যাস্টিক ও থার্মোন্যাস্টিক চলনের উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও।

ন্যাস্টিক চলন:

উদ্ভিদ অঙ্গের বক্র চলন যখন উদ্দীপকের গতিপথের উপর নির্ভর না করে উদ্দীপকের 'তীব্রতার' (Intensity) উপর নির্ভর করে নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন সেই প্রকার চলনকে ন্যাস্টিক চলন বা ব্যাপ্তি চলন বলে। এটি হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয় না এবং এতে সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন ঘটে না।

ফোটোন্যাস্টিক চলন (Photonasty):

উদ্ভিদ অঙ্গের সঞ্চালন যখন আলোকের তীব্রতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে ফোটোন্যাস্টিক বা আলোক ব্যাপ্তি চলন বলে।
উদাহরণ: পদ্ম, সূর্যমুখী ফুল দিনের বেলায় আলোর তীব্রতায় ফোটে আবার আলো কমে গেলে মুদে যায়। বিপরীতভাবে সন্ধ্যামালতি ও জুঁই ফুল কম আলোতে ফোটে।

থার্মোন্যাস্টিক চলন (Thermonasty):

উদ্ভিদ অঙ্গের সঞ্চালন যখন উষ্ণতার বা তাপের তীব্রতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে থার্মোন্যাস্টিক বা তাপব্যাপ্তি চলন বলে।
উদাহরণ: টিউলিপ ফুলের পাপড়ি অধিক তাপে খোলে এবং কম তাপে মুদে যায়।

6. সিসমোন্যাস্টিক চলন ও কেমোন্যাস্টিক চলন বলতে কী বোঝো? উপযুক্ত উদাহরণ সহযোগে বুঝিয়ে দাও।

সিসমোন্যাস্টিক চলন (Seismonasty):

স্পর্শ, ঘর্ষণ, আঘাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি উদ্দীপকের তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের যে ন্যাস্টিক চলন হয়, তাকে সিসমোন্যাস্টিক বা স্পর্শব্যাপ্তি চলন বলে।
উদাহরণ: লজ্জাবতী (Mimosa pudica) লতার পাতা স্পর্শ করা মাত্র পাতার পত্রকগুলি দ্রুত নুয়ে পড়ে। কারণ পাতা উদ্দীপিত হলে স্ফীত পত্রবৃন্ত বা পালভিনাস (pulvinus) থেকে জল দ্রুত পার্শ্ববর্তী কোশে চলে যায়। ফলে রসস্ফীতি চাপ (Turgor pressure) কমে গিয়ে পত্রকগুলি মুদে যায়।

কেমোন্যাস্টিক চলন (Chemonasty):

কোনো রাসায়নিক পদার্থের (যেমন প্রোটিন, ইথার, ক্লোরোফর্ম প্রভৃতি) সংস্পর্শে উদ্ভিদ অঙ্গের যে ন্যাস্টিক চলন ঘটে, তাকে কেমোন্যাস্টিক বা রসায়ন ব্যাপ্তি চলন বলে।
উদাহরণ: পতঙ্গভুক উদ্ভিদ যেমন সূর্যশিশির (Sundew), কলসপত্রী ইত্যাদির পাতার কর্ষিকাগুলি পতঙ্গের দেহের প্রোটিনের সংস্পর্শে আসামাত্র দ্রুত বেঁকে গিয়ে পতঙ্গকে আবদ্ধ করে ফেলে। এটি রাসায়নিক তীব্রতার কারণে ঘটে।

7. ট্যাকটিক, ট্রপিক এবং ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো বা পার্থক্য লেখো।

ট্যাকটিক, ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যট্যাকটিক চলনট্রপিক চলনন্যাস্টিক চলন
চলনের ধরনএটি একপ্রকার সামগ্রিক চলন (Locomotion) যেখানে উদ্ভিদ বা অঙ্গের স্থান পরিবর্তন হয়।এটি একপ্রকার বক্র চলন, এতে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না।এটিও একপ্রকার বক্র চলন, এতে সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না।
উদ্দীপকের প্রভাবউদ্দীপকের তীব্রতা ও গতিপথ উভয়ের প্রভাবে ঘটে।শুধুমাত্র উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হয়।শুধুমাত্র উদ্দীপকের তীব্রতার উপর নির্ভর করে, গতিপথের ওপর নয়।
হরমোনের ভূমিকাঅক্সিন হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয় না।এই চলন প্রধানত অক্সিন হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত হয়।এটি হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, মূলত রসস্ফীতি চাপের পরিবর্তনে ঘটে।
উদাহরণশৈবালের (ক্ল্যামাইডোমোনাস) আলোকের দিকে গমন (ফোটোট্যাকটিক)।উদ্ভিদের কাণ্ডের আলোর উৎসের দিকে চলন (ফোটোট্রপিক)।স্পর্শ করলে লজ্জাবতীর পাতা মুদে যাওয়া (সিসমোন্যাস্টি)।

8. উদ্ভিদের রসস্ফীতি চাপজনিত (Turgor movement) চলনগুলি কীভাবে ঘটে? লজ্জাবতী ও বনচাঁড়ালের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।

রসস্ফীতি চাপজনিত চলন:

উদ্ভিদের কিছু চলন বৃদ্ধির কারণে না ঘটে, কোশের ভেতরের জলের পরিমাণের হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে ঘটে। কোশে জল প্রবেশ করলে কোশ স্ফীত হয় (রসস্ফীতি বা Turgor pressure বাড়ে), আবার জল বেরিয়ে গেলে কোশ শিথিল হয়ে পড়ে। এর ফলে উদ্ভিদ অঙ্গের সঞ্চালন ঘটে।

লজ্জাবতীর সিসমোন্যাস্টি:

লজ্জাবতী গাছের পাতার নীচে স্ফীত অংশ থাকে যাকে উপাধান বা পালভিনাস বলে। পাতা স্পর্শ করলে বা আঘাত পেলে উদ্দীপনা এই পালভিনাস কোশে পৌঁছায়। সঙ্গে সঙ্গে পালভিনাস কোশ থেকে জল পার্শ্ববর্তী কোশ বা আন্তঃকোশীয় স্থানে বেরিয়ে যায়। ফলে রসস্ফীতি চাপ কমে যায় এবং পাতাগুলি নুয়ে পড়ে। উদ্দীপক সরে গেলে পুনরায় জল প্রবেশ করে পাতা আগের অবস্থায় ফেরে।

বনচাঁড়ালের প্রকরণ চলন:

বনচাঁড়াল (Desmodium gyrans) উদ্ভিদের যৌগিক পাতার তিনটি ফলক থাকে। এর মধ্যে মাঝেরটি বড়ো এবং দুই পাশের দুটি ছোটো। পরিণত অবস্থায় দুই পাশের ছোটো ফলক দুটির মূল কোশগুলিতে পর্যায়ক্রমে রসস্ফীতি চাপের হ্রাস ও বৃদ্ধি ঘটে। এর ফলে ফলক দুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওঠানামা করতে থাকে। একে প্রকরণ চলন (Movement of variation) বলে।

9. ট্যাকটিক চলন কাকে বলে? ফোটোট্যাকটিক এবং কেমোট্যাকটিক চলন সম্পর্কে যা জানো লেখো।

ট্যাকটিক চলন:

আলো, তাপমাত্রা, রাসায়নিক পদার্থ, বিদ্যুৎ প্রভৃতি বহিস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ অঙ্গের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনকে ট্যাকটিক চলন বা আবিষ্ট চলন (Tactic movement) বলে। এতে উদ্ভিদ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে।

ফোটোট্যাকটিক চলন:

সমগ্র উদ্ভিদদেহ যখন আলোক উদ্দীপকের প্রভাবে স্থান পরিবর্তন করে, তাকে ফোটোট্যাকটিক বা আলোক অভিমুখী চলন বলে।
উদাহরণ: ক্ল্যামাইডোমোনাস, ভলভক্স ইত্যাদি এককোশী বা কলোনি গঠনকারী শৈবাল আলোর উৎসের দিকে সাতার কেটে এগিয়ে যায়। তবে আলো অত্যন্ত তীব্র হলে এরা আলোর বিপরীত দিকে গমন করে, যাকে প্রতীপ আলোকবর্তী চলন বলে।

কেমোট্যাকটিক চলন:

রাসায়নিক পদার্থের আকর্ষণে উদ্ভিদ গ্যামেট বা চলরেণুর সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনকে কেমোট্যাকটিক চলন বলে।
উদাহরণ: মসের শুক্রাণু সুক্রোজের আকর্ষণে এবং ফার্নের শুক্রাণু ম্যালিক অ্যাসিডের আকর্ষণে আর্কিগোনিয়াম বা ডিম্বাণুর দিকে অগ্রসর হয়।

10. চলন ও গমনের মধ্যে পার্থক্য কী? উদ্ভিদের ক্ষেত্রে চলন কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আলোচনা করো।

চলন ও গমনের পার্থক্য:

  • চলন (Movement): জীব নির্দিষ্ট স্থানে স্থির থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা উদ্দীপকের প্রভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে। এতে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না। এটি উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা যায়।
  • গমন (Locomotion): জীব স্বেচ্ছায় বা উদ্দীপকের প্রভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের দ্বারা সামগ্রিকভাবে স্থান পরিবর্তন করে। এতে সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয়। এটি সাধারণত প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য (কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ছাড়া)।

উদ্ভিদের ক্ষেত্রে চলনের গুরুত্ব:

উদ্ভিদ মাটি সংলগ্ন থাকায় প্রাণীদের মতো স্থান পরিবর্তন করে খাদ্য সংগ্রহ বা আত্মরক্ষা করতে পারে পণ্ডিত না। তাই বেঁচে থাকার জন্য চলন এদের অপরিহার্য:
১) খাদ্য ও জল সংগ্রহ: মূল অভিকর্ষ ও জলের টানে (জিওট্রপিক ও হাইড্রোট্রপিক চলন) মাটির গভীরে প্রবেশ করে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
২) সালোকসংশ্লেষ: কাণ্ড ও পাতা আলোর দিকে (ফোটোট্রপিক চলন) বৃদ্ধি পেয়ে সালোকসংশ্লেষের জন্য প্রয়োজনীয় সূর্যালোক গ্রহণ করে।
৩) আত্মরক্ষা ও প্রজনন: স্পর্শে লজ্জাবতীর পাতা মুদে গিয়ে তৃণভোজী প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা পায়। পরাগযোগের সুবিধার জন্য কিছু ফুল নির্দিষ্ট আলো বা তাপে ফোটে (ফোটোন্যাস্টি)।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

পরিবেশের বিভিন্ন উদ্দীপকের (যেমন আলো, তাপ, স্পর্শ) প্রভাবে উদ্ভিদদেহের সাড়া প্রদানের ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বলে। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ক্রেস্কোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে এটি প্রমাণ করেছিলেন।

ট্রপিক চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এটি হরমোন (অক্সিন) নির্ভর। অন্যদিকে, ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের তীব্রতার উপর নির্ভর করে এবং এটি প্রধানত কোশের রসস্ফীতি চাপের পরিবর্তনে ঘটে।

বনচাঁড়াল গাছে প্রকরণ চলন (Movement of variation) দেখা যায়। এর পরিণত কোশের রসস্ফীতির পরিবর্তনে পার্শ্ব পত্রক দুটি পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওঠানামা করে।

লজ্জাবতী পাতার চলন হল সিসমোন্যাস্টিক বা স্পর্শব্যাপ্তি চলন। স্পর্শ বা আঘাতের ফলে পত্রমূলের উপাধান (pulvinus) থেকে জল সরে যায় এবং পাতা নুয়ে পড়ে।

সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল মাটির উপরে উঠে আসে, তাই এটি প্রতিকূল অভিকর্ষবর্তী (Negative geotropic) চলনের একটি আদর্শ উদাহরণ।