Chapter 4.A: অভিব্যক্তি (Evolution)
সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 44 MCQ | 35 SAQ | 10 Broad Questions
মিলার-ইউরে ল্যামার্কবাদ ডারউইনবাদ জীবাশ্ম সমসংস্থ অঙ্গ
🧬
রাসায়নিক বিবর্তন
ওপারিন ও মিলারের পরীক্ষার মাধ্যমে জীবনের উৎপত্তি
🦒
প্রাকৃতিক নির্বাচন
ডারউইনবাদের আলোকে জিরাফ ও প্রজাতির বিবর্তন
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
44 টি1. অভিব্যক্তি (Evolution) কথাটির আক্ষরিক অর্থ কী?
ক) আকস্মিক সৃষ্টি
খ) ক্রমবিকাশ
গ) স্থিরতা
ঘ) ধ্বংস
ব্যাখ্যা: লাতিন শব্দ 'Evolver' থেকে Evolution কথাটি এসেছে, যার অর্থ ক্রমবিকাশ।
2. জীবের ক্রমবিকাশকে এককথায় কী বলা হয়?
ক) অভিযোজন
খ) জনন
গ) অভিব্যক্তি
ঘ) বিপাক
ব্যাখ্যা: সরলতম জীব থেকে ক্রমান্তরে জটিল জীবে উন্নীত হওয়াকে জৈব অভিব্যক্তি বা জীব বিবর্তন বলে।
3. হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) অভিব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেছেন?
ক) জীবে সৃষ্টি ঈশ্বরের ইচ্ছায় হয়
খ) সরল অবস্থা থেকে জটিল অবস্থায় ধারাবাহিক ও গতিশীল পরিবর্তন
গ) জীব একবার সৃষ্টি হয়েছে ও অপরিবর্তিত আছে
ঘ) জীবে পরিবর্তন ঘটে না
ব্যাখ্যা: হার্বার্ট স্পেনসারের মতে, নিৰ্দিষ্ট সত্তা সরল অবস্থা থেকে জটিল অবস্থায় পর্যায়ক্রমিক ও গতিশীল পরিবর্তনের মাধ্যমে অভিব্যক্তি ঘটে।
4. জীবের উৎপত্তি সংক্রান্ত রাসায়নিক বিবর্তনবাদ কার নামে যুক্ত?
ক) ডারউইন ও ওয়ালেস
খ) ওপারিন ও হ্যালডেন
গ) ল্যামার্ক ও ওয়াইসম্যান
ঘ) মিলার ও ইউরে
ব্যাখ্যা: ওপারিন (1920) ও হ্যালডেন (1930) জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তির ধারণা দেন, যা রাসায়নিক বিবর্তনবাদ নামে পরিচিত।
5. পৃথিবীর বয়স আনুমানিক কত কোটি বছর?
ক) 300 কোটি
খ) 450 কোটি
গ) 100 কোটি
ঘ) 600 কোটি
ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর সৃষ্টি প্রায় 450 কোটি বছর পূর্বে সূর্যের অংশ থেকে ঘটেছে।
6. জীবনের উৎপত্তির প্রথম ধাপ কী ছিল?
ক) RNA সৃষ্টি
খ) DNA সৃষ্টি
গ) জৈব যৌগের উৎপত্তি
ঘ) কোশের সৃষ্টি
ব্যাখ্যা: প্রথমে বিভিন্ন জৈব যৌগ যেমন হাইড্রোকার্বন (মিথেন, ইথিলিন ইত্যাদি) ধাপে ধাপে সৃষ্টি হয়েছিল।
7. মিলার ও ইউরে (Miller & Urey) তাঁদের পরীক্ষায় কোন তড়িৎ যন্ত্র ব্যবহার করেছিলেন?
ক) ক্রেস্কোগ্রাফ
খ) রেজোন্যান্ট রেকর্ডার
গ) টাংস্টেন ইলেকট্রোড
ঘ) ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ
ব্যাখ্যা: প্রাচীন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সৃষ্টি করে টাংস্টেন ইলেকট্রোডের সাহায্যে 60,000 ভোল্ট তড়িৎ প্রয়োগ করা হয়েছিল।
8. মিলার-ইউরে পরীক্ষায় কোন গ্যাসগুলি ব্যবহার করা হয়নি?
ক) CH₄, NH₃, H₂
খ) H₂O বাষ্প
গ) O₂ (অক্সিজেন)
ঘ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা: প্রাচীন বায়ুমণ্ডল ছিল বিজারকমণ্ডলী, তাই এতে মুক্ত অক্সিজেন (O₂) ছিল না। CH₄, NH₃, H₂ এবং জলীয় বাষ্প ব্যবহার করা হয়েছিল।
9. মিলারের পরীক্ষাগারে কোন অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়েছিল?
ক) গ্লাইসিন, অ্যালানিন
খ) লাইসিন, ট্রিপটোফ্যান
গ) সিস্টিন, প্রোলিন
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা: পরীক্ষায় গ্লাইসিন, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড, অ্যালানিন, ল্যাকটিক অ্যাসিড, ফরমিক অ্যাসিড ইত্যাদি তৈরি হয়েছিল।
10. ল্যামার্কের প্রদত্ত মতবাদটির নাম কী?
ক) প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ
খ) ল্যামার্কবাদ (Lamarckism)
গ) মিউটেশন তত্ত্ব
ঘ) জিন প্রবাহ তত্ত্ব
ব্যাখ্যা: ফরাসি বিজ্ঞানী ল্যামার্ক 1809 সালে অভিব্যক্তি সংক্রান্ত মতবাদ প্রকাশ করেন যা ল্যামার্কবাদ নামে পরিচিত।
11. ল্যামার্কের মতবাদে কয়টি মূল সূত্র বর্তমান?
ব্যাখ্যা: ল্যামার্কবাদের ৪টি মূল সূত্র: পরিবেশের প্রভাব, অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার, অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার এবং নতুন প্রজাতির উৎপত্তি।
12. ল্যামার্কবাদের 'অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্র' অনুসারে কোনটি সত্য?
ক) ব্যবহারে অঙ্গ দুর্বল হয়
খ) অব্যবহারে অঙ্গ সবল হয়
গ) ক্রমাগত ব্যবহারে অঙ্গ সবল ও সুগঠিত হয়
ঘ) ব্যবহার ও অব্যবহার অঙ্গের উপর প্রভাব ফেলে না
ব্যাখ্যা: পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে কোনো অঙ্গের ব্যাপক ব্যবহার তাকে সবল করে এবং অব্যবহার তাকে দুর্বল ও বিলুপ্ত করে।
13. জিরাফের গলা লম্বা হওয়ার পেছনে ল্যামার্কের ব্যাখ্যা কোনটি?
ক) প্রাকৃতিক নির্বাচন
খ) মিউটেশন
গ) খাদ্যের জন্য ক্রমাগত গলা টেনে টেনে ওপরে তোলা
ঘ) জিনগত প্রকরণ
ব্যাখ্যা: ল্যামার্কের মতে, জিরাফ উঁচু গাছের পাতা খেতে ক্রমাগত গলা টানার ফলে বংশানুক্রমে গলা লম্বা হয়েছে।
14. ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব কোন গ্রন্থে প্রকাশিত হয়?
ক) Philosophie Zoologique
খ) Systema Naturae
গ) On the Origin of Species
ঘ) The Descent of Man
ব্যাখ্যা: ডারউইন 1859 সালে 'On the Origin of Species by Means of Natural Selection' গ্রন্থে এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
15. ডারউইনবাদ অনুসারে বিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি কোনটি?
ক) অঙ্গের ব্যবহার
খ) প্রাকৃতিক নির্বাচন
গ) অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি
ঘ) লড়াইয়ের ইচ্ছা
ব্যাখ্যা: ডারউইনবাদের মূলকথা হল প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection), যা যোগ্যতমের উদ্বর্তন ঘটায়।
16. ডারউইনের তত্ত্ব অনুযায়ী 'যোগ্যতমের উদ্বর্তন' (Survival of the fittest) বলতে কী বোঝায়?
ক) বড়ো প্রাণী টিকে থাকে
খ) শক্তিশালী প্রাণীই টিকে থাকে
গ) পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনে সক্ষম প্রাণী টিকে থাকে
ঘ) বুদ্ধিমান প্রাণী টিকে থাকে
ব্যাখ্যা: জীবন সংগ্রামে যাদের সহায়ক অভিযোজনমূলক বৈশিষ্ট্য থাকে তারাই টিকে থাকে এবং বংশবিস্তার করে।
17. ডারউইনের মতে প্রকরণ (Variation) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
ক) পরিবেশ সরাসরি সৃষ্টি করে
খ) শুধুমাত্র অঙ্গের ব্যবহারে
গ) জীবদেহে ছোটো ছোটো প্রভেদ হিসাবে
ঘ) কোনো প্রকার পরিবর্তন নেই
ব্যাখ্যা: পৃথিবীতে কোনো জীব সম্পূর্ণ একরকম নয়, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পার্থক্য বা প্রভেদ থাকে, যাকে প্রকরণ বলে।
18. সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous organs) কাকে বলে?
ক) একই কাজ করে, কিন্তু গঠন আলাদা
খ) গঠন একই, কিন্তু কাজ আলাদা
গ) বিলুপ্ত অঙ্গ
ঘ) কাজ ও গঠন একই
ব্যাখ্যা: যেসব অঙ্গের গঠন একই প্রকার কিন্তু কাজ আলাদা, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। যেমন- তিমির ফ্লিপার, পাখির ডানা।
19. নীচের কোনটি সমসংস্থ অঙ্গের উদাহরণ?
ক) পতঙ্গের ডানা ও পাখির ডানা
খ) তিমির ফ্লিপার ও বাদুড়ের ডানা
গ) ক্যাকটাসের কাঁটা ও পেয়াজের শঙ্কপত্র
ঘ) পাখির ডানা ও পতঙ্গের ডানা
ব্যাখ্যা: তিমির ফ্লিপার, বাদুড়ের ডানা, মানুষের হাত একই অস্থি (হিউমেরাস, রেডিয়াস) দিয়ে গঠিত, কিন্তু কাজ আলাদা।
20. সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous organs) সৃষ্টির কারণ কী?
ক) অপসারী বিবর্তন
খ) সমান্তরাল বিবর্তন
গ) অভিসারী বিবর্তন
ঘ) জিন মিউটেশন
ব্যাখ্যা: সমবৃত্তীয় অঙ্গ সৃষ্টির ঘটনাকে অ্যানালজি বলে, যা অভিসারী অভিব্যক্তির (Convergent evolution) ফল।
21. পতঙ্গের ডানা ও পাখির ডানা কী ধরনের অঙ্গ?
ক) সমসংস্থ
খ) সমবৃত্তীয়
গ) নিষ্ক্রিয়
ঘ) লুপ্ত
ব্যাখ্যা: পতঙ্গের ডানা কাইটিনে গঠিত, পাখির ডানা পালকে গঠিত; কাজ একই (ওড়া) কিন্তু গঠন আলাদা, তাই এরা সমবৃত্তীয় অঙ্গ।
22. নিষ্ক্রিয় অঙ্গ (Vestigeal organs) কী?
ক) সর্বদা সক্রিয় থাকা অঙ্গ
খ) বিবর্তনের ফলে লুপ্তপ্রায় বা কার্যক্ষমতা হারানো অঙ্গ
গ) নতুন সৃষ্ট অঙ্গ
ঘ) একান্ত প্রয়োজনীয় অঙ্গ
ব্যাখ্যা: দেহে উপস্থিত থেকে কিছু অঙ্গ কার্যক্ষমতা হারিয়ে লুপ্তপ্রায় হলে, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। যেমন- মানুষের অ্যাপেনডিক্স।
23. মানবদেহের অ্যাপেনডিক্স (Appendix) কোন প্রাণীর সক্রিয় সিকামের সমসংস্থ?
ক) কুকুর
খ) গিনিপিগ
গ) বানর
ঘ) খরগোশ
ব্যাখ্যা: গিনিপিগের সক্রিয় সিকাম মানুষের দেহে নিষ্ক্রিয় অ্যাপেনডিক্সে পরিণত হয়েছে।
24. মানবদেহের কক্কিক্স (Coccyx) বা অনুচ্ছেদ কাস্থি আসলে কী?
ক) নিষ্ক্রিয় লেজ
খ) একটি পাঁজর
গ) মেরুদণ্ডের প্রসারিত অংশ
ঘ) করোটির অংশ
ব্যাখ্যা: বানরের সক্রিয় লেজ মানুষের দেহে কক্কিক্স বা অনুচ্ছেদ কাস্থিতে পরিণত হয়েছে, যা একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ।
25. মাছের হৃদপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃদপিণ্ড বলা হয় কেন?
ক) এটি অতি বৃহৎ
খ) এতে সব সময় অক্সিজেনবিহীন রক্ত প্রবাহিত হয়
গ) এটি বাইরে অবস্থান করে
ঘ) এতে কোন প্রকোষ্ঠ নেই
ব্যাখ্যা: মাছের হৃদপিণ্ডে কেবল দূষিত (অক্সিজেনবিহীন) রক্ত প্রবাহিত হয় বলে একে ভেনাস হার্ট বলে।
26. মাছ থেকে স্তন্যপায়ী পর্যন্ত হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?
ক) ২ → ৩ → ৪ (চার প্রকোষ্ঠ)
খ) ৪ → ৩ → ২
গ) ২ → ৪ → ৩
ঘ) কোন পরিবর্তন হয়নি
ব্যাখ্যা: মাছের ২ প্রকোষ্ঠ (1 অলিন্দ, 1 নিলয়), উভচর ও সরীসৃপের ৩ প্রকোষ্ঠ (2 অলিন্দ, 1 নিলয়), পাখি ও স্তন্যপায়ীর ৪ প্রকোষ্ঠ (2 অলিন্দ, 2 নিলয়) বিশিষ্ট।
27. ভ্রূণতত্ত্ববিদ ভন বেয়ার (Von Baer) কী আবিষ্কার করেন?
ক) বায়োজেনেটিক সূত্র
খ) ভ্রূণের সাদৃশ্য সূত্র
গ) কোষ তত্ত্ব
ঘ) জিন তত্ত্ব
ব্যাখ্যা: ভন বেয়ার বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের মধ্যে প্রাথমিক অবস্থায় সাদৃশ্য লক্ষ্য করেন, যা থেকে হেকেল বায়োজেনেটিক সূত্র দেন।
28. হেকেলের (Haeckel) বায়োজেনেটিক সূত্র (Biogenetic Law) কী বলে?
ক) জিনই জীবনের ভিত্তি
খ) অনটোজেনি পুনরাবৃত্তি করে ফাইলোজেনির
গ) যোগ্যতমের উদ্বর্তন ঘটে
ঘ) জীব একবার সৃষ্টি হয়েছে
ব্যাখ্যা: Ernst Haeckel-এর সূত্র: 'Ontogeny repeats Phylogeny', অর্থাৎ কোনো প্রাণীর ভ্রূণীয় বিকাশ তার জাতিজনিক বিবর্তনকে পুনরাবৃত্তি করে।
29. মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ভ্রূণের গলবিল অঞ্চলে কী দেখা যায়?
ক) ফুলকা খাঁজ (Gill slits)
খ) ডানা
গ) কান
ঘ) চোখ
ব্যাখ্যা: সকল মেরুদণ্ডী (মাছ, ব্যাঙ, পাখি, মানুষ) ভ্রূণের গলবিল অঞ্চলে ফুলকা খাঁজ উপস্থিত থাকে, যদিও পরবর্তীতে তা লুপ্ত হয়।
30. ঘোড়ার বিবর্তনের প্রথম ধাপ কোন প্রাণীটি ছিল?
ক) ইকুয়াস
খ) মেরিহিপাস
গ) প্লিওহিপাস
ঘ) ইওহিপাস (হাইর্যাকোথেরিয়াম)
ব্যাখ্যা: ইওসিন যুগের ইওহিপ্পাস (Hyracotherium) ছিল শৃগালের আকারের, যার পায়ে 4টি করে আঙুল ছিল।
31. আধুনিক ঘোড়া (Equus) তে কোন বৈশিষ্ট্যটি বিবর্তনের ফলে এসেছে?
ক) পাঁচটি আঙুল
খ) শাখাযুক্ত দাঁত
গ) একটি মাত্র খুর সম্বলিত পা
ঘ) কাঁটা
ব্যাখ্যা: বিবর্তনের ধারায় ঘোড়ার পায়ের আঙুলের সংখ্যা কমে এসে শেষে একটি মাত্র কার্যকরী খুর সম্বলিত পা সৃষ্টি হয়েছে।
32. ঘোড়ার বিবর্তনে কোন শারীরিক পরিবর্তনটি দেখা যায়নি?
ক) আকার বৃদ্ধি
খ) আঙুলের সংখ্যা হ্রাস
গ) মস্তিষ্কের (করোটির) আয়তন হ্রাস
ঘ) দাঁতের গঠনের জটিলতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: ঘোড়ার বিবর্তনে দেহের আকার, দাঁতের জটিলতা ও করোটির আয়তন বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু আঙুল সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
33. ল্যামার্ক কত খ্রিস্টাব্দে 'Philosophie Zoologique' গ্রন্থটি প্রকাশ করেন?
ক) 1809
খ) 1859
গ) 1744
ঘ) 1920
ব্যাখ্যা: ল্যামার্ক 1809 সালে ফিলোজফি জুওলজিক (Philosophie Zoologique) নামক গ্রন্থে তার মতবাদ প্রকাশ করেন।
34. ডারউইনের জাহাজের নাম কী ছিল?
ক) বিগল (H.M.S. Beagle)
খ) টাইটানিক
গ) ভিক্টোরিয়া
ঘ) মেরিনার
ব্যাখ্যা: ডারউইন এইচ.এম.এস. বিগল (H.M.S. Beagle) জাহাজে করে 1831-1838 পর্যন্ত সমুদ্রযাত্রা করেন এবং তথ্য সংগ্রহ করেন।
35. আণুবীক্ষণিক জীব থেকে ধীরে ধীরে জটিল জীব সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
ক) অপসারী বিবর্তন
খ) অভিসারী বিবর্তন
গ) ক্রমবিবর্তন (Gradual evolution)
ঘ) লাফিয়ে বিবর্তন
ব্যাখ্যা: যে বিবর্তনে একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের একাধিক প্রজাতির সৃষ্টি হয়, তাকে অপসারী বিবর্তন বলে।
36. ওপারিন ও হ্যালডেনের মতবাদ অনুযায়ী প্রাণ সৃষ্টির প্রথম ধাপ কোনটি?
ক) কোসার্ভেট সৃষ্টি
খ) জৈব যৌগ সৃষ্টি
গ) নিউক্লিক অ্যাসিড সৃষ্টি
ঘ) কোষপর্দা সৃষ্টি
ব্যাখ্যা: রাসায়নিক বিবর্তনবাদের প্রথম ধাপে সরল জৈব যৌগ (হাইড্রোকার্বন) সৃষ্টি হয়, তারপর জটিল যৌগ সৃষ্টি হয়।
37. মিলার-ইউরে পরীক্ষায় শক্তি সরবরাহ করা হয়েছিল কীসের মাধ্যমে?
ক) সূর্যালোক
খ) তড়িৎক্ষরণ (Electric discharge)
গ) তেজস্ক্রিয়তা
ঘ) ভূ-তাপ
ব্যাখ্যা: 60,000 ভোল্টের তড়িৎক্ষরণের মাধ্যমে প্রাচীন বায়ুমণ্ডলে শক্তি সরবরাহ করা হয়েছিল, যা হল বজ্রপাতের প্রতীক।
38. অপসারী (Divergent) ও অভিসারী (Convergent) বিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায় যথাক্রমে কোন অঙ্গে?
ক) নিষ্ক্রিয় ও সমবৃত্তীয়
খ) সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয়
গ) সমবৃত্তীয় ও সমসংস্থ
ঘ) নিষ্ক্রিয় ও সমসংস্থ
ব্যাখ্যা: সমসংস্থ (Homologous) অঙ্গ অপসারী বিবর্তনের প্রমাণ, আর সমবৃত্তীয় (Analogous) অঙ্গ অভিসারী বিবর্তনের প্রমাণ।
39. প্রজাপতি ও পাখির ডানা অভিসারী বিবর্তনের প্রমাণ দেয় কেন?
ক) গঠন একই, কাজ ভিন্ন
খ) গঠন ভিন্ন, কাজ একই
গ) উভয়ের গঠন ও কাজ একই
ঘ) উভয়ের গঠন ও কাজ ভিন্ন
ব্যাখ্যা: এরা উভয়েই ওড়ার কাজ করে (কাজ এক), কিন্তু পতঙ্গের ডানা কাইটিনের এবং পাখির ডানা অস্থি ও পালকের তৈরি (গঠন ভিন্ন)।
40. মানব ভ্রূণে ফুলকা খাঁজের উপস্থিতি কী ইঙ্গিত দেয়?
ক) মানুষ মাছ থেকে এসেছে, এমন নয়
খ) মানুষ ও মাছের পূর্বপুরুষ একই ছিল
গ) মানুষ ফুলকা দিয়ে শ্বাস নিতে পারে
ঘ) মানুষের শ্বাসতন্ত্র অকার্যকর
ব্যাখ্যা: ভ্রূণে ফুলকা খাঁজ থাকা প্রমাণ করে ভিন্ন ভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণী কোন এক পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত। এটি বায়োজেনেটিক সূত্রের পক্ষে প্রমাণ।
41. মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ভ্রূণীয় সাদৃশ্য থেকে কী প্রমাণিত হয়?
ক) প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র সৃষ্টি
খ) ভিন্ন ভিন্ন পূর্বপুরুষ
গ) সাধারণ পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব
ঘ) প্রাকৃতিক নির্বাচন ভুল
ব্যাখ্যা: সকল মেরুদণ্ডীর ভ্রূণ প্রাথমিক অবস্থায় প্রায় একই রকম দেখতে হয়। হেকেলের সূত্রমতে এটি একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভবের প্রমাণ।
42. অভিসারী বিবর্তনের একটি সঠিক উদাহরণ নির্বাচন করো।
ক) তিমির ফ্লিপার ও বাদুড়ের ডানা
খ) মানুষের হাত ও বানরের হাত
গ) পেয়াজের শঙ্কপত্র ও ক্যাকটাসের কাঁটা
ঘ) পাখির ডানা ও পতঙ্গের ডানা
ব্যাখ্যা: পাখির ডানা ও পতঙ্গের ডানা হল ভিন্ন গঠনের অঙ্গ কিন্তু কাজ একই (ওড়া)। এটি অভিসারী বিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমবৃত্তীয় অঙ্গ।
43. ঘোড়ার বিবর্তনের ক্ষেত্রে কোন যুগের ভূতাত্ত্বিক স্তর সবচেয়ে প্রাচীন নমুনা বহন করে?
ক) প্লাইস্টোসিন
খ) মায়োসিন
গ) অলিগোসিন
ঘ) ইওসিন
ব্যাখ্যা: ইওসিন যুগে ইওহিপ্পাস (Eohippus) বা হাইর্যাকোথেরিয়ামের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, যা ঘোড়ার প্রাচীনতম পূর্বপুরুষ।
44. ল্যামার্কের মতবাদ অগ্রাহ্য হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ কী ছিল?
ক) প্রাকৃতিক নির্বাচন
খ) ওয়াইসম্যানের ইঁদুরের লেজ কাটার পরীক্ষা
গ) ডারউইনের সমুদ্রযাত্রা
ঘ) মেন্ডেলের জিনতত্ত্ব
ব্যাখ্যা: ওয়াইসম্যান 60 পুরুষ ধরে ইঁদুরের লেজ কেটেও লেজযুক্ত ইঁদুর পেয়েছিলেন, প্রমাণিত হয় অর্জিত বৈশিষ্ট্য বংশগত নয়।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
35 টি1. অভিব্যক্তি (Evolution) কাকে বলে?
যে মন্থর ও গতিশীল ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কোনো উদ্বেগীয় সরলতম জীব থেকে ক্রমান্তরে জটিল জীবে উন্নীত হয় তাকে অভিব্যক্তি বা জৈব অভিব্যক্তি বলে।
2. রাসায়নিক বিবর্তনবাদ কী?
ওপারিন ও হ্যালডেনের মতে, আদিম পৃথিবীর রাসায়নিক পদার্থগুলি ধীরে ধীরে জটিল জৈব যৌগে পরিণত হয়ে প্রাণের উৎপত্তি ঘটায়। একে রাসায়নিক বিবর্তনবাদ বলে।
3. মিলার ও ইউরে-র পরীক্ষায় কোন কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল?
মিথেন (CH₄), অ্যামোনিয়া (NH₃), হাইড্রোজেন (H₂) এবং জলীয় বাষ্প (H₂O) (2:2:1 অনুপাতে)।
4. মিলার-ইউরে পরীক্ষার গুরুত্ব কী?
এই পরীক্ষা প্রথম প্রমাণ করে যে, প্রাচীন পৃথিবীর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে জীবনের ভিত্তি অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হওয়া সম্ভব।
5. ল্যামার্কবাদ বা ল্যামার্কিজম (Lamarckism) কাকে বলে?
ল্যামার্কের মতে, পরিবেশের প্রভাবে জীবদেহে পরিবর্তন ঘটে, অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের ফলে অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলি বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয়ে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি করে।
6. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্র (Use and Disuse) কী?
পরিবেশের চাহিদা অনুযায়ী জীবের কোনো অঙ্গের ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে তা সবল হয়, আর ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে তা দুর্বল ও লুপ্তপ্রায় হয়।
7. ল্যামার্কবাদ অনুসারে সাপের পা কীভাবে লুপ্ত হল?
ল্যামার্কের মতে, সাপ সরু গর্তে চলাচলের জন্য পা ব্যবহার বন্ধ করায় ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে সাপের পা লুপ্তপ্রায় অঙ্গে পরিণত হয়েছে।
8. ল্যামার্কবাদের অর্জিত বৈশিষ্ট্যের সূত্রটি ব্যাখ্যা করো।
জীবের জীবনকালে পরিবেশের প্রভাবে যেসব বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়, তা পরবর্তী প্রজন্মের জীবে সঞ্চারিত হয়। এইভাবে প্রজন্মান্তরে ছোটো ছোটো পরিবর্তন জমা হয়ে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করে।
9. ডারউইনবাদ (Darwinism) কাকে বলে?
ডারউইনের মতবাদ অনুযায়ী, প্রকরণের ভিত্তিতে প্রকৃতি অনুকূল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবকে নির্বাচিত করে, ফলে যোগ্যতমের উদ্বর্তন ঘটে এবং ধীরে ধীরে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।
10. ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের মূল বক্তব্য কী?
প্রকৃতি নিজেই একটি ছাঁকনি হিসাবে কাজ করে, যা জীবদেহের অনুকূল প্রকরণগুলিকে টিকিয়ে রাখে এবং প্রতিকূল প্রকরণগুলিকে ধ্বংস করে। একে প্রাকৃতিক নির্বাচন বা Natural Selection বলে।
11. জীবন সংগ্রাম (Struggle for existence) কাকে বলে?
জীবের জ্যামিতিক হারে বংশবৃদ্ধি ঘটে কিন্তু খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত থাকায় বেঁচে থাকার জন্য জীবকে যে প্রতিযোগিতা করতে হয়, তাকে ডারউইন জীবন সংগ্রাম বলে আখ্যা দিয়েছেন।
12. প্রকরণ (Variation) বলতে কী বোঝো?
পৃথিবীতে কখনোই কোনো দুটি জীব সম্পূর্ণভাবে একরকম হয় না। একই পিতামাতার একাধিক সন্তানের মধ্যে যে ছোটো ছোটো পার্থক্য বা ভিন্নতা দেখা যায়, তাকে প্রকরণ বলে।
13. যোগ্যতমের উদ্বর্তন (Survival of the fittest) বলতে কী বোঝো?
জীবন সংগ্রামে লিপ্ত জীবদের মধ্যে যাদের দেহে সহায়ক অভিযোজনমূলক বৈশিষ্ট্য থাকে তারাই টিকে থাকার অধিকারী হয় এবং বংশবিস্তার করে। কালক্রমে অন্যরা বিলুপ্ত হয়।
14. ডারউইনের মতে জিরাফের গলা লম্বা হওয়ার কারণ কী?
জিরাফের পূর্বপুরুষের মধ্যে যাদের গলা সামান্য লম্বা ছিল, তারা উঁচু গাছের পাতা খেতে পেরে টিকে গিয়েছিল। প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফলে ক্রমশ তাদের বংশধরে লম্বা গলা সম্পন্ন জিরাফের সৃষ্টি হয়েছে।
15. ডারউইনবাদ ও ল্যামার্কবাদের মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য কী?
ল্যামার্কবাদ অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতিতে বিশ্বাসী, কিন্তু ডারউইনবাদে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে জীবের পূর্ব-অবস্থিত প্রকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
16. জীববিবর্তনের পক্ষে জীবাশ্ম (Fossil) কীভাবে প্রমাণ দেয়?
ভিন্ন ভিন্ন ভূতাত্ত্বিক স্তরে বিভিন্ন সময়ের প্রাণীর দেহাবশেষ (জীবাশ্ম) পাওয়া যায়। প্রাচীন স্তরের জীবাশ্ম সরল এবং আধুনিক স্তরের জীবাশ্ম জটিল প্রকৃতির হয়, যা ক্রমবিবর্তন প্রমাণ করে।
17. সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous organ) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে অঙ্গগুলির মৌলিক গঠন এক কিন্তু কাজ আলাদা, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। যেমন- তিমির ফ্লিপার, পাখির ডানা, বাদুড়ের ডানা, মানুষের হাত।
18. সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous organ) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে অঙ্গগুলির মৌলিক গঠন আলাদা কিন্তু কাজ একই, তাদের সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলে। যেমন- পতঙ্গের ডানা (কাইটিন), পাখির ডানা (পালক) ও বাদুড়ের ডানা (প্যাটাজিয়াম)।
19. নিষ্ক্রিয় অঙ্গ (Vestigeal organ) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যেসব অঙ্গ জীবদেহে বর্তমান কিন্তু পূর্বপুরুষের দেহে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে অকার্যকর বা লুপ্তপ্রায়, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। যেমন- মানুষের অ্যাপেনডিক্স ও কক্কিক্স।
20. বায়োজেনেটিক সূত্রটি (Biogenetic Law) কী?
হেকেলের এই সূত্র অনুযায়ী, 'Ontogeny repeats Phylogeny' অর্থাৎ ভ্রূণীয় বিকাশের ধাপগুলি প্রাণীটির জাতিজনিক বিবর্তনের ইতিহাসকে পুনরাবৃত্তি করে।
21. অপসারী বিবর্তন (Divergent Evolution) ও অভিসারী বিবর্তন (Convergent Evolution) কী?
একই পূর্বপুরুষ থেকে ভিন্ন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে গিয়ে যখন বিভিন্ন প্রজাতির সৃষ্টি হয়, তখন তাকে অপসারী বিবর্তন বলে। ভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকে এসে একই পরিবেশে কাজের জন্য একই ধরনের অঙ্গ সৃষ্টি হলে তাকে অভিসারী বিবর্তন বলে।
22. মাছের হৃদপিণ্ডকে একক্রী হৃদপিণ্ড বলা হয় কেন?
মাছের হৃদপিণ্ডে রক্ত একবার মাত্র চলাচল করে (হৃদপিণ্ড→ ফুলকা→ দেহ→ হৃদপিণ্ড), তাই একে একক্রী হৃদপিণ্ড বলে।
23. পাখি ও স্তন্যপায়ীর হৃদপিণ্ডকে দ্বিক্রী হৃদপিণ্ড বলা হয় কেন?
এদের হৃদপিণ্ডে রক্ত দু-বার প্রবেশ করে (হৃদপিণ্ড→ ফুসফুস→ হৃদপিণ্ড→ দেহ), তাই একে দ্বিক্রী হৃদপিণ্ড বলে। এতে অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনবিহীন রক্ত সম্পূর্ণ পৃথক থাকে।
24. ইওহিপ্পাস (Eohippus) বা হাইর্যাকোথেরিয়াম সম্পর্কে কী জানো?
এটি ছিল ঘোড়ার আদিতম পূর্বপুরুষ (ইওসিন যুগ)। এদের উচ্চতা ছিল 30 cm, এবং পায়ে চারটি করে আঙুল ছিল।
25. ঘোড়ার বিবর্তনে পায়ের আঙুলের সংখ্যা কীভাবে পরিবর্তন হয়েছে?
প্রথমে ইওহিপ্পাসে 4টি, তারপর মেরিহিপ্পাসে 3টি (পার্শ্বীয়গুলি ক্রমশ ক্ষুদ্র), অবশেষে ইকুয়াসে একটি মাত্র আঙুল (খুর) দৃঢ় হয়েছে।
26. প্রাকৃতিক নির্বাচন ও কৃত্রিম নির্বাচনের মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।
প্রাকৃতিক নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল এবং ধীর প্রক্রিয়া। কৃত্রিম নির্বাচন মানুষের ইচ্ছানুযায়ী প্রয়োজনীয় গুণাবলীযুক্ত জীব নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত ঘটানো হয়।
27. ল্যামার্কের মতবাদের মূল Sূত্রগুলি কী কী?
চারটি মূল সূত্র: ১. পরিবেশের প্রভাব, ২. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্র, ৩. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্র, ৪. নতুন প্রজাতির উৎপত্তি সূত্র।
28. ডারউইনের মতবাদের মূল বক্তব্যগুলি কী কী?
অতিবৃদ্ধি (Overproduction), জীবন সংগ্রাম (Struggle for existence), প্রকরণ (Variation), যোগ্যতমের উদ্বর্তন (Survival of the fittest), প্রাকৃতিক নির্বাচন ও নতুন প্রজাতির উৎপত্তি।
29. জীববিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে তুলনামূলক শারীরস্থানের ভূমিকা কী?
সমসংস্থ, সমবৃত্তীয় ও নিষ্ক্রিয় অঙ্গগুলি বিভিন্ন প্রাণীর আন্তঃসম্পর্ক এবং পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব প্রমাণ করে, যা জৈব বিবর্তনের পক্ষে জোরালো সাক্ষ্য বহন করে।
30. পেয়াজের শঙ্কপত্র ও ক্যাকটাসের কাঁটা কীভাবে উদ্ভিদের সমসংস্থ অঙ্গ হতে পারে?
উভয়ই পাতার রূপান্তর (মৌলিক গঠন এক), কিন্তু কাজ আলাদা। পেয়াজে খাদ্য সঞ্চয় করে, আর ক্যাকটাসে রক্ষণাক্ষত অঙ্গ হিসাবে কাজ করে।
31. মানুষের লেজের অস্থি (Coccyx) কেন নিষ্ক্রিয় অঙ্গ?
মানুষের পূর্বপুরুষ লেজ ব্যবহার করলেও, বর্তমানে সোজা হয়ে চলার ফলে এর প্রয়োজন ফুরিয়েছে। এটি এখন লুপ্তপ্রায় একটি অস্থি মাত্র, যা নিষ্ক্রিয় অঙ্গের উদাহরণ।
32. একটি জীবাশ্ম কীভাবে ঘোড়ার বিবর্তন ব্যাখ্যা করে?
ঘোড়ার জীবাশ্ম দেখে বোঝা যায়, প্রাচীন ইওহিপ্পাস থেকে শুরু করে আধুনিক ইকুয়াস পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে দেহের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, আঙুলের সংখ্যা কমেছে এবং দাঁতের গঠন খাদ্যাভ্যাসের সাথে জটিল হয়েছে।
33. প্রাকৃতিক নির্বাচন বলতে কী বোঝো?
এটি সেই প্রক্রিয়া যেখানে প্রকৃতি বেছে নেয় কোন বৈশিষ্ট্যগুলি টিকে থাকার জন্য সুবিধাজনক। সহায়ক প্রকরণযুক্ত জীব স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচিত হয়ে বংশবিস্তার করে।
34. ওপারিন ও হ্যালডেনের মতে জৈব যৌগ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল?
আদিম বায়ুমণ্ডলে তড়িৎক্ষরণ ও তাপের প্রভাবে হাইড্রোকার্বন (মিথেন ইত্যাদি) সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তী ধাপে শর্করা, অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং জটিল প্রোটিনে পরিণত হয়।
35. জীবনের উৎপত্তির জন্য তরল মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা কী?
আদিম সমুদ্রের জলে বিভিন্ন জৈব যৌগ মিশে লঘু তপ্ত স্যুপ (soup) তৈরি করে। এই তরল মাধ্যমে বিক্রিয়ার সুবিধা ছিল বলেই কোসার্ভেট ও কোষের সৃষ্টি সম্ভব হয়।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)
10 টি1. জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি সম্পর্কে ওপারিন ও হ্যালডেনের মতবাদ ব্যাখ্যা করো। মিলার-ইউরে পরীক্ষার গুরুত্ব আলোচনা করো।
ওপারিন-হ্যালডেনের রাসায়নিক বিবর্তনবাদ:
রুশ বিজ্ঞানী ওপারিন (1920) ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হ্যালডেন (1930) মনে করতেন, পৃথিবীতে প্রথম জীবন সৃষ্টি হয়েছিল রাসায়নিক বিবর্তনের মাধ্যমে। এই মতবাদ অনুযায়ী ধাপগুলি ছিল:
- ১. সরল জৈব যৌগ সৃষ্টি: আদিম বায়ুমণ্ডলে (CH₄, NH₃, H₂) সূর্যের তীব্র তাপ ও বজ্রপাতের ফলে হাইড্রোকার্বন (মিথেন) সৃষ্টি হয়।
- ২. জটিল জৈব যৌগ সৃষ্টি: পরবর্তীতে সমুদ্রের জলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শর্করা, ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যামাইনো অ্যাসিড ও নিউক্লিওটাইড তৈরি হয়।
- ৩. কোসার্ভেট সৃষ্টি: জৈব যৌগগুলি জমাট বেঁধে কোসার্ভেট নামক কোলয়েডধর্মী বিন্দু তৈরি করে, যা বাইরের থেকে পৃথক ছিল।
- ৪. প্রাণের উৎপত্তি: নিউক্লিক অ্যাসিড ও এনজাইমের সমন্বয়ে স্ব-প্রজননে সক্ষম আদিকোষ গঠিত হয়।
মিলার-ইউরে পরীক্ষা (1953):
স্ট্যানলি মিলার ও হ্যারল্ড ইউরে পরীক্ষাগারে আদিম পৃথিবীর পরিবেশ তৈরি করে CH₄, NH₃, H₂ ও জলীয় বাষ্প-এর মিশ্রণে 60,000 ভোল্ট তড়িৎক্ষরণ ঘটান। এক সপ্তাহ পর দ্রবণে গ্লাইসিন, অ্যালানিন-সহ নানা অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। গুরুত্ব: এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে, প্রাণহীন রাসায়নিক বস্তু থেকেও প্রাণের ভিত্তি (অ্যামাইনো অ্যাসিড) তৈরি হওয়া সম্ভব, যা ওপারিন-হ্যালডেনের রাসায়নিক বিবর্তনবাদের পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ।
2. ল্যামার্কের মতবাদ (Lamarckism) বলতে কী বোঝো? এর চারটি মূল সূত্র উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও। ল্যামার্কবাদ কেন বাতিল হয়েছিল?
ল্যামার্কবাদ:
ফরাসি বিজ্ঞানী ল্যামার্ক (1809) প্রথম জীববিবর্তনের একটি সুসংহত মতবাদ দেন। তাঁর মতে, জীব পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে নিজ দেহে পরিবর্তন আনে।
চারটি মূল সূত্র:
- পরিবেশের প্রভাব: পরিবেশের পরিবর্তন জীবের চাহিদা ও অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটায়। যেমন: আর্দ্রতা কমে গেলে উদ্ভিদের মূল লম্বা হয়।
- অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্র: জিরাফ উঁচু গাছের পাতা খেতে ক্রমাগত গলা টানতে টানতে গলা লম্বা করেছে (ব্যবহার)। সাপ সরু গর্তে চলতে পা ব্যবহার না করায় পা লুপ্ত হয়েছে (অব্যবহার)।
- অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার: জীবদেহে এইভাবে অর্জিত লম্বা গলা বা লুপ্ত পায়ের বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয়।
- নতুন প্রজাতির উৎপত্তি: ক্রমাগত অর্জিত বৈশিষ্ট্যের সঞ্চালনের ফলে এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতি সৃষ্টি হয়।
বাতিলের কারণ:
আগস্ট ওয়াইসম্যান টানা 60 পুরুষ ধরে ইঁদুরের লেজ কেটেও প্রতিটি প্রজন্মে লেজযুক্ত ইঁদুর পান। ফলে প্রমাণিত হয়, দেহের বাইরের অর্জিত বৈশিষ্ট্য (কাটা লেজ) জননকোশে পৌঁছায় না, তাই বংশানুক্রমিক হওয়া সম্ভব নয়।
3. ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব (Darwinism) ব্যাখ্যা করো। জিরাফের গলা লম্বা হওয়া কীভাবে ডারউইনবাদ ব্যাখ্যা করে?
ডারউইনবাদ:
চার্লস ডারউইন 1859 সালে "On the Origin of Species" গ্রন্থে প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব দেন। এর মূল বক্তব্য হল:
- অতিবৃদ্ধি: জীব জ্যামিতিক হারে বংশবৃদ্ধি করলেও খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত।
- জীবন সংগ্রাম: সীমিত সম্পদের জন্য জীবকে অন্তঃপ্রজাতি ও আন্তঃপ্রজাতি পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে হয়।
- প্রকরণ (Variation): একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে গঠন, আকার ইত্যাদির কিছু পার্থক্য থাকে।
- যোগ্যতমের উদ্বর্তন: যেসব প্রকরণ পরিবেশে টিকে থাকতে সহায়ক, তারাই প্রতিযোগিতায় জেতে।
- প্রাকৃতিক নির্বাচন: প্রকৃতি ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে অনুকূল প্রকরণযুক্ত জীবকে নির্বাচিত করে এবং প্রতিকূল প্রকরণকে ধ্বংস করে।
জিরাফের গলা লম্বা হওয়ার ব্যাখ্যা:
ডারউইনের মতে, জিরাফের পূর্বপুরুষদের গলার দৈর্ঘ্য জিনগত ভিন্নতার কারণে কম-বেশি হতো। যাদের গলা একটু লম্বা ছিল, তারা সহজেই উঁচু গাছের পাতা খেতে পারত। খাদ্যের অভাবে যখন জীবন সংগ্রাম ঘনীভূত হল, তখন লম্বা গলার জিরাফরা টিকে গেল কিন্তু ছোটো গলার জিরাফরা মারা পড়ল। এই উপকারী প্রকরণ (লম্বা গলা) পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হতে হতে জিরাফের গলা ক্রমশ লম্বা হয়েছে।
4. সমসংস্থ অঙ্গ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ কাকে বলে? উদাহরণসহ এরা কীভাবে জৈব অভিব্যক্তির প্রমাণ বহন করে তা লেখো।
সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous Organs):
যে অঙ্গগুলি মৌলিক উৎস ও গঠনে এক কিন্তু ভিন্ন পরিবেশে কাজের প্রয়োজনে বিভিন্নতর রূপ নিয়েছে, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে।
উদাহরণ: তিমির ফ্লিপার, বাদুড়ের ডানা, মানুষের হাত ও চিতাবাঘের অগ্রপদ — এরা সবাই হিউমেরাস, রেডিয়াস, কারপাল ইত্যাদি একই অস্থি দিয়ে গঠিত, কিন্তু কাজ যথাক্রমে সাঁতার, ওড়া, ধরা এবং দৌড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous Organs):
যে অঙ্গগুলি উৎস ও গঠনে আলাদা কিন্তু একই পরিবেশে বসবাসকারী জীবের একই কাজের জন্য সৃষ্টি হয়েছে, তাদের সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলে।
উদাহরণ: পাখির ডানা ও পতঙ্গের ডানা। পাখির ডানা অস্থি ও পালকে গঠিত; পতঙ্গের ডানা কাইটিনের তৈরি। কাজ (ওড়া) একই।
অভিব্যক্তির প্রমাণ:
- সমসংস্থ অঙ্গ অপসারী বিবর্তন প্রমাণ করে, অর্থাৎ একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন বাসস্থলের উপযোগী অঙ্গের গঠনগত ভিন্নতা এসেছে।
- সমবৃত্তীয় অঙ্গ অভিসারী বিবর্তন প্রমাণ করে, অর্থাৎ ভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকেও একই পরিবেশে খাপ খাওয়াতে গিয়ে একই রকম অঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে।
5. ঘোড়ার বিবর্তনে জীবাশ্মের প্রমাণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো। ইওহিপ্পাস থেকে ইকুয়াস পর্যন্ত বিবর্তনে কী কী শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়?
ঘোড়ার বিবর্তন ও জীবাশ্ম প্রমাণ:
ঘোড়ার বিবর্তন একটি ধারাবাহিক ও পূর্ণাঙ্গ জীবাশ্ম ইতিহাস প্রদান করে। এই বিবর্তন শুরু হয় ইওসিন যুগ থেকে।
- ইওহিপ্পাস (Eohippus/Hyracotherium) - ইওসিন যুগ: আকার ছিল শৃগালের মতো (30 cm)। সামনের পায়ে 4টি ও পেছনের পায়ে 3টি করে আঙুল ছিল। এরা নরম পাতা খেত। করোটির আয়তন ছিল ছোটো।
- মেরিহিপ্পাস (Mesohippus) - অলিগোসিন যুগ: আকার বেড়ে ভেড়ার ন্যায় হয়। পায়ের আঙুল 3টি হয়েছে, যার মাঝেরটি বেশ শক্ত। দাঁতের জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- মেরিচিপ্পাস (Merychippus) - মায়োসিন যুগ: পার্শ্ব আঙুল দুটি মাটি স্পর্শ করত না। দাঁতের উচ্চতা ও জটিলতা বেড়ে যায়, ঘাস খাওয়ার উপযোগী হয়।
- প্লিওহিপ্যাস (Pliohippus) - প্লায়োসিন যুগ: উচ্চতা 120 cm হয় এবং প্রথম একটিমাত্র খুরযুক্ত পা দেখা যায়।
- ইকুয়াস (Equus) - প্লাইস্টোসিন যুগ: আধুনিক ঘোড়া। একটি মাত্র খুর সম্বলিত পা এবং দীর্ঘদেহী। করোটির আয়তন বৃদ্ধি পাওয়ায় বুদ্ধিমত্তাও বৃদ্ধি পায়।
শারীরিক পরিবর্তনসমূহ:
(i) দেহের উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি (30 cm থেকে 150+ cm)। (ii) পায়ের আঙুল সংখ্যা হ্রাস (4/3 → 1)। (iii) পার্শ্বীয় আঙুলের লোপ। (iv) দাঁতের জটিলতা ও উচ্চতা বৃদ্ধি। (v) শক্ত খুরের আবির্ভাব (দৌড়ানোর জন্য)। (vi) করোটির আয়তন বৃদ্ধি।
6. মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃদপিণ্ডের তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে জৈব অভিব্যক্তি প্রমাণ করা যায়?
হৃদপিণ্ডের বিবর্তন প্রমাণ:
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের (মাছ, উভচর, সরীসৃপ, পাখি, স্তন্যপায়ী) হৃদপিণ্ডের গঠনগত জটিলতা বৃদ্ধি জীববিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
- মাছ (২ প্রকোষ্ঠ): এক অলিন্দ ও এক নিলয় সম্বলিত সরলতম হৃদপিণ্ড। এদের হৃদপিণ্ডে কেবল দূষিত (অক্সিজেনবিহীন) রক্ত প্রবাহিত হয় বলে একে 'ভেনাস হার্ট' বলে। এই হৃদপিণ্ড একক্রী।
- উভচর (৩ প্রকোষ্ঠ): হৃদপিণ্ডে দৃশ্যত দুই অলিন্দ ও এক নিলয়। নিলয়ে অক্সিজেনযুক্ত ও বিযুক্ত রক্ত মিশে যায়, তবে পৃথক থাকার প্রাথমিক প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়।
- সরীসৃপ (৩.৫ প্রকোষ্ঠ): নিলয়ে একটি অসম্পূর্ণ পর্দা (অন্তর্বিভক্তি) দেখা দেয়, যার ফলে বিশুদ্ধ ও দূষিত রক্ত অনেকটাই পৃথক থাকে। তবে কুমিরের সম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠের হৃদপিণ্ড দেখা যায়।
- পাখি ও স্তন্যপায়ী (৪ প্রকোষ্ঠ): সম্পূর্ণভাবে বিভক্ত ডান ও বাম অলিন্দ ও নিলয়। দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্ত সম্পূর্ণ পৃথক থাকে। এদের হৃদপিণ্ড দ্বিক্রী, অর্থাৎ রক্ত হৃদপিণ্ডের মধ্যে দিয়ে দু-বার প্রবাহিত হয়।
সিদ্ধান্ত: এই ধারাবাহিকতা সরাসরি ইঙ্গিত দেয় যে বিবর্তনের মাধ্যমে জীবদেহের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য হৃদপিণ্ড সরল থেকে জটিলতর হয়েছে। এটি একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ তত্ত্বের পক্ষে জোরালো প্রমাণ।
7. ভ্রূণতত্ত্ব কীভাবে অভিব্যক্তির প্রমাণ দেয়? বায়োজেনেটিক সূত্র ব্যাখ্যা সহযোগে আলোচনা করো।
ভ্রূণতত্ত্ব (Embryology):
ভন বেয়ার (Von Baer) প্রথম বলেছিলেন যে বিভিন্ন শ্রেণির প্রাণীর ভ্রূণ বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে একইরকম দেখতে হয়। পরবর্তীতে হেকেল (Ernst Haeckel) এই পর্যবেক্ষণ থেকে বিখ্যাত বায়োজেনেটিক সূত্র (Biogenetic Law) দেন, যার মূল বক্তব্য হল: "অনটোজেনি রিপিটস ফাইলোজেনি" (Ontogeny repeats Phylogeny) — অর্থাৎ একটি প্রাণীর ভ্রূণীয় বিকাশ সেই প্রাণীর জাতিজনিক (বিবর্তনের) ইতিহাসকে পুনরাবৃত্তি করে।
উদাহরণ:
মাছ, স্যালাম্যান্ডার, কচ্ছপ, পাখি, খরগোশ এবং মানুষের ভ্রূণ প্রাথমিক অবস্থায় দেখতে একইরকম হয়। এদের গলবিল অঞ্চলে ফুলকা খাঁজ (Gill slits) এবং একটি লেজের মতো গঠন অনুপস্থিত থাকে। মাছের ফুলকা ফুলকা খাঁজ হিসেবে স্থায়ী রূপ নিলেও, পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে তা পরবর্তীকালে লুপ্তপ্রায় বা রূপান্তরিত হয় (যেমন মানুষের ফুলকার খিল কানের অংশে রূপান্তরিত হয়)।
প্রমাণ: জীব সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন প্রজাতি হলেও ভ্রূণ অবস্থায় তাদের মিল থাকা প্রমাণ করে যে তাদের একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ ছিল, যেখান থেকে তারা পৃথক বৈশিষ্ট্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে। এটি জৈব অভিব্যক্তির একটি অকাট্য প্রমাণ।
8. ডারউইনবাদ ও ল্যামার্কবাদের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যগুলি চিহ্নিত করো।
সাদৃশ্য (Similarities):
- উভয় মতবাদই বিশ্বাস করে যে পৃথিবীর সকল জীব একটি সরল পূর্বপুরুষ থেকে ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করেছে।
- উভয়েই মনে করে পরিবেশ জীবের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- নতুন প্রজাতির উৎপত্তি হয়।
বৈসাদৃশ্য (Differences):
| বিষয় | ল্যামার্কবাদ | ডারউইনবাদ |
|---|
| প্রকরণের ধারণা | প্রয়োজনে জীব নিজেই পরিবর্তন আনে। | পূর্ব থেকেই জীবদেহে ক্ষুদ্র পার্থক্য (প্রকরণ) বর্তমান থাকে। |
| বিবর্তনের চালিকাশক্তি | অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার, এবং অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার। | প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection)। |
| অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার | বিশ্বাস করে যে জীবজীবনকালে অর্জিত বৈশিষ্ট্য বংশগত হয়। | বিশ্বাস করে না। শুধু জিনগত (বংশানুক্রমিক) প্রকরণই বংশপরম্পরায় যায়। |
| উদাহরণ (জিরাফের গলা) | পাতা খাওয়ার জন্য জিরাফ দীর্ঘ সময় ধরে গলা টেনে লম্বা করেছে। | লম্বা গলাযুক্ত জিরাফ প্রকরণবশতই ছিল এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনে সেটি মঙ্গলজনক হওয়ায় টিকে গেছে। |
9. জৈব অভিব্যক্তির বিভিন্ন প্রমাণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
জৈব অভিব্যক্তির পক্ষে প্রমাণসমূহ:
১. জীবাশ্মবিজ্ঞান: পাললিক শিলায় অনুজ্জ্বল থেকে নবীন শিলাস্তরে সরল জীবাশ্ম থেকে ক্রমশ জটিল জীবাশ্মের প্রাপ্তি বিবর্তনের সরাসরি প্রমাণ। যেমন: ঘোড়ার বিবর্তন।
২. তুলনামূলক শারীরস্থান: সমসংস্থ, সমবৃত্তীয় ও নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বিভিন্ন প্রাণীগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্দেশ করে।
৩. ভ্রূণতত্ত্ব: ভিন্ন প্রাণীর ভ্রূণে প্রাথমিক সাদৃশ্য (যেমন ফুলকা খাঁজ) প্রমাণ করে সকলেরই একটি অভিন্ন পূর্বপুরুষ ছিল।
৪. জৈব-রাসায়নিক প্রমাণ: সকল প্রাণীর কোষে DNA, RNA, ATP-র মত অণু ব্যবহার করার পদ্ধতি এবং জিনের সিকোয়েন্সের সাদৃশ্য অভিন্ন উৎসের প্রমাণ দেয়।
10. মাছ, উভচর, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ীর হৃদপিণ্ডের তুলনামূলক গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করো এবং বিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?
হৃদপিণ্ডের গঠন ও বিবর্তন:
- মাছের হৃদপিণ্ড (২ প্রকোষ্ঠ): একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়। শুধু দূষিত রক্ত (ভেনাস হার্ট) সংবহন করে। রক্ত হৃদপিণ্ডে একবার আসে, তাই একক্রী।
- উভচর হৃদপিণ্ড (৩ প্রকোষ্ঠ): দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়। ডান অলিন্দে দূষিত রক্ত ও বাম অলিন্দে কিছু বিশুদ্ধ রক্ত আসে। নিলয়ে রক্ত মিশে গেলেও তা সাময়িক।
- সরীসৃপ হৃদপিণ্ড (অসম্পূর্ণ ৪ প্রকোষ্ঠ): দুই অলিন্দ ও নিলয়ের মধ্যে আংশিক ভাগ থাকে, যা বিশুদ্ধ ও দূষিত রক্তকে কিছুটা পৃথক করে। কুমিরে এটি সম্পূর্ণ ৪ প্রকোষ্ঠ।
- স্তন্যপায়ী ও পাখির হৃদপিণ্ড (৪ প্রকোষ্ঠ): সম্পূর্ণ পৃথক ডান ও বাম অংশ। বিশুদ্ধ ও দূষিত রক্ত মিশে না। দ্বিক্রী প্রকৃতির।
বিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্ক: এই ধারাবাহিক পরিবর্তন স্পষ্টভাবে দেখায় কীভাবে জল থেকে স্থলে জীবের আবির্ভাব এবং কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির (যেমন উষ্ণ রক্তের প্রাণী হওয়া) জন্য হৃদপিণ্ডের গঠন ধাপে ধাপে জটিল হয়েছে।
মনে রেখো!
ল্যামার্কবাদ: অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশগতি (পরীক্ষায় বাতিল)।
ডারউইনবাদ: প্রাকৃতিক নির্বাচনই বিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি।
ঘোড়ার বিবর্তন: ইওহিপ্পাস → মেরিহিপ্পাস → প্লিওহিপ্পাস → ইকুয়াস (আঙুল সংখ্যা 4 থেকে 1)।