Chapter 2.A: কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র
সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 45 MCQ | 41 SAQ | 10 Broad Questions
DNA মাইটোসিস মিয়োসিস ক্রসিং ওভার কোশচক্র ক্যারিওকাইনেসিস
🔬
কোশচক্র ও মাইটোসিস
ইন্টারফেজ, প্রফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ
🧬
মিয়োসিস ও প্রকরণ
ক্রসিং ওভার, বাইভ্যালেন্ট ও জিনগত বৈচিত্র্য
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
45 টি1. জনিত কোশ থেকে অপত্য কোশ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে কী বলে?
ক) কোশচক্র
খ) কোশ বিভাজন
গ) জনন
ঘ) বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: যে প্রক্রিয়ায় জনিত কোশ থেকে অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়, তাকে কোশ বিভাজন (Cell Division) বলে।
2. Flemming কত সালে প্রথম কোশ বিভাজন পর্যবেক্ষণ করেন?
ক) 1870
খ) 1880
গ) 1890
ঘ) 1900
ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানী ফ্লেমিং (Flemming) 1880 সালে স্যালামান্ডারের কোশে প্রথম কোশ বিভাজন পর্যবেক্ষণ করেন।
3. কোশ বিভাজনে কোন অঙ্গাণুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
ক) রাইবোজোম
খ) নিউক্লিয়াস
গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
ঘ) গলগি বস্তু
ব্যাখ্যা: নিউক্লিয়াসে অবস্থিত DNA, জিন ইত্যাদি কোশ বিভাজনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
4. ক্রোমোজোম কী?
ক) নিউক্লিয় জালিকা থেকে উৎপন্ন নিউক্লিয় প্রোটিন দিয়ে গঠিত স্বপ্রজননশীল সূত্রাকার অঙ্গ
খ) কোশপর্দার ভাঁজ
গ) সাইটোপ্লাজমের কণা
ঘ) রাইবোজোমের অংশ
ব্যাখ্যা: নিউক্লিয় জালিকা থেকে উৎপন্ন, DNA ও প্রোটিনে গঠিত বংশগত বৈশিষ্ট্য বহনকারী সূত্রাকার অঙ্গই ক্রোমোজোম।
5. ডিএনএ (DNA)-এর সম্পূর্ণ নাম কী?
ক) ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড
খ) রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড
গ) ডি-অক্সিরাইবোজ নিউক্লিয়াস
ঘ) ডাই-নাইট্রো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা: DNA-এর পুরো নাম Deoxyribonucleic Acid (ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)।
6. কুণ্ডলীকৃত অবস্থায় DNA-কে কী বলে?
ক) জিন
খ) নিউক্লিয় জালিকা
গ) RNA
ঘ) প্রোটিন
ব্যাখ্যা: কুণ্ডলীকৃত বা আংশিক মুক্ত অবস্থায় DNA নিউক্লিয় জালিকা (Chromatin network) নামে পরিচিত।
7. DNA-র গঠনগত একককে কী বলে?
ক) অ্যামাইনো অ্যাসিড
খ) নিউক্লিওটাইড
গ) ফ্যাটি অ্যাসিড
ঘ) গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা: DNA-র গঠন ও কার্যগত একক হল নিউক্লিওটাইড (Nucleotide)।
8. নীচের কোনটি DNA-তে থাকা নাইট্রোজেন বেস নয়?
ক) অ্যাডিনিন
খ) গুয়ানিন
গ) ইউরাসিল
ঘ) সাইটোসিন
ব্যাখ্যা: DNA-তে থাইমিন থাকে, ইউরাসিল (Uracil) থাকে RNA-তে।
9. ওয়াটসন ও ক্রিক DNA-এর মডেল কত সালে প্রকাশ করেন?
ক) 1943
খ) 1953
গ) 1963
ঘ) 1973
ব্যাখ্যা: ওয়াটসন ও ক্রিক ১৯৫৩ সালে DNA-এর দ্বিতন্ত্রী নকশা (Double Helix model) প্রণয়ন করেন।
10. DNA-র দ্বিতন্ত্রীতে অ্যাডিনিন কোন বেসের সঙ্গে যুক্ত থাকে?
ক) গুয়ানিন
খ) সাইটোসিন
গ) থাইমিন
ঘ) ইউরাসিল
ব্যাখ্যা: DNA-তে A (অ্যাডিনিন) সবসময় T (থাইমিন)-এর সঙ্গে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনীতে (A=T) যুক্ত থাকে।
11. RNA-তে থাইমিনের পরিবর্তে কোন বেসটি থাকে?
ক) অ্যাডিনিন
খ) গুয়ানিন
গ) ইউরাসিল
ঘ) সাইটোসিন
ব্যাখ্যা: RNA-তে থাইমিনের (T) জায়গায় ইউরাসিল (U) নাইট্রোজেন বেস হিসেবে থাকে।
12. কোশচক্রের স্থায়ী বা বিশ্রাম দশাকে কী বলে?
ক) প্রফেজ
খ) মেটাফেজ
গ) ইন্টারফেজ
ঘ) অ্যানাফেজ
ব্যাখ্যা: ইন্টারফেজ (Interphase) হল দুটি কোশ বিভাজনের মধ্যবর্তী প্রস্তুতিমূলক দশা, যা প্রকৃত বিশ্রাম দশা নয়।
13. নীচের কোনটি মাইটোটিক ফেজের সঠিক ধারাক্রম?
ক) মেটাফেজ → প্রফেজ → অ্যানাফেজ → টেলোফেজ
খ) প্রফেজ → অ্যানাফেজ → মেটাফেজ → টেলোফেজ
গ) প্রফেজ → মেটাফেজ → অ্যানাফেজ → টেলোফেজ
ঘ) অ্যানাফেজ → মেটাফেজ → প্রফেজ → টেলোফেজ
ব্যাখ্যা: মাইটোসিসের সঠিক ধারাক্রম হল: প্রফেজ → মেটাফেজ → অ্যানাফেজ → টেলোফেজ।
14. ক্যারিওকাইনেসিস (Karyokinesis) বলতে কী বোঝায়?
ক) সাইটোপ্লাজমের বিভাজন
খ) নিউক্লিয়াসের বিভাজন
গ) কোশগহ্বরের বিভাজন
ঘ) প্লাস্টিডের বিভাজন
ব্যাখ্যা: নিউক্লিয়াসের বিভাজন প্রক্রিয়াকে ক্যারিওকাইনেসিস (Karyokinesis) এবং সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস (Cytokinesis) বলে।
15. মাইটোসিসের দীর্ঘতম দশা কোনটি?
ক) মেটাফেজ
খ) প্রফেজ
গ) অ্যানাফেজ
ঘ) টেলোফেজ
ব্যাখ্যা: প্রফেজ হল মাইটোসিসের প্রথম ও দীর্ঘস্থায়ী দশা। এই দশায় ক্রোমাটিন সুতাগুলি কুণ্ডলীকৃত হয়ে ক্রোমোজোম সৃষ্টি করে।
16. মাইটোসিসের কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলি বিষুবীয় অঞ্চলে বিন্যস্ত হয়?
ক) প্রফেজ
খ) মেটাফেজ
গ) অ্যানাফেজ
ঘ) টেলোফেজ
ব্যাখ্যা: মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলি স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে (Equatorial plane) বিন্যস্ত হয়।
17. কোশচক্রের কোন দশায় DNA প্রতিলিপন (Replication) ঘটে?
ক) G1 দশা
খ) S দশা
গ) G2 দশা
ঘ) M দশা
ব্যাখ্যা: ইন্টারফেজের S (Synthesis) দশায় DNA-র প্রতিলিপন বা রেপ্লিকেশন ঘটে।
18. মাইটোসিস বিভাজনের ফলে সৃষ্ট অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা কীরূপ হয়?
ক) মাতৃকোশের অর্ধেক
খ) মাতৃকোশের সমান
গ) মাতৃকোশের দ্বিগুণ
ঘ) অনিয়মিত
ব্যাখ্যা: মাইটোসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে, তাই একে সমবিভাজন (Equational division) বলে।
19. মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
ক) সমান থাকে
খ) অর্ধেক হয়
গ) দ্বিগুণ হয়
ঘ) চারগুণ হয়
ব্যাখ্যা: মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়, তাই একে হ্রাস বিভাজন (Reduction division) বলে।
20. একটি মাতৃকোশ থেকে মিয়োসিসের ফলে কয়টি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়?
ব্যাখ্যা: মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোশ থেকে চারটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়।
21. হোমোলোগাস ক্রোমোজোম কাকে বলে?
ক) আকৃতি, জিন সজ্জারীতি ও সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানে একই রকম একজোড়া ক্রোমোজোম
খ) যেকোনো দুটি ক্রোমোজোম
গ) শুধুমাত্র সিস্টার ক্রোমাটিড
ঘ) ভিন্ন আকৃতির ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা: একজোড়া ক্রোমোজোম যাদের আকৃতি, জিন সজ্জা ও বিন্যাস একই রকম, তাদের হোমোলোগাস ক্রোমোজোম বলে।
22. মিয়োসিস-I-এ হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া বাঁধাকে কী বলে?
ক) টেট্রাড
খ) বাইভ্যালেন্ট বা ডায়াড
গ) সিস্টার ক্রোমাটিড
ঘ) কায়াজমা
ব্যাখ্যা: দুটি হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া বাঁধলে তাকে বাইভ্যালেন্ট (Bivalent) বা ডায়াড (Diad) বলে।
23. দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময়কে কী বলে?
ক) সিন্যাপসিস
খ) কায়াজমা
গ) ক্রসিং ওভার
ঘ) সংকরায়ণ
ব্যাখ্যা: নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে জিনের বিনিময়কে ক্রসিং ওভার (Crossing over) বলে। কায়াজমা হল যেখানে তারা সংযুক্ত থাকে।
24. মিয়োসিস কোথায় ঘটে?
ক) দেহকোশে
খ) জনন মাতৃকোশে
গ) বর্ধনশীল অঞ্চলে
ঘ) ত্বকের কোশে
ব্যাখ্যা: মিয়োসিস বিভাজন কেবল জনন মাতৃকোশে (Germ mother cell) ঘটে এবং জননকোশ সৃষ্টি করে।
25. মাইটোসিসের তাৎপর্য কী?
ক) বংশগতির ভিত্তি
খ) জিনগত প্রকরণ
গ) দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ
ঘ) বিবর্তন
ব্যাখ্যা: মাইটোসিসের মাধ্যমে দেহের বৃদ্ধি, কোশ প্রতিস্থাপন ও ক্ষয়পূরণ (Repair) ঘটে।
26. কোশচক্রের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কী হতে পারে?
ক) স্বাভাবিক বৃদ্ধি
খ) অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজন ও টিউমার
গ) সালোকসংশ্লেষ
ঘ) শ্বসন বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: কোশচক্রের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনের ফলে টিউমার সৃষ্টি হতে পারে, যা পরে ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে।
27. প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে?
ক) কোশপ্লেট গঠনের মাধ্যমে
খ) খাঁজ সৃষ্টি (Cleavage furrow) পদ্ধতিতে
গ) বাডিং -এর মাধ্যমে
ঘ) খণ্ডীভবনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা: প্রাণীকোশে কোশপর্দা ভেতরের দিকে খাঁজ সৃষ্টি করে সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়, একে ক্লিভেজ ফারো পদ্ধতি বলে।
28. উদ্ভিদকোশের সাইটোকাইনেসিসে ব্যবহৃত পর্দাটি কী নামে পরিচিত?
ক) প্লাজমা মেমব্রেন
খ) কোশপ্লেট
গ) নিউক্লিয়ার মেমব্রেন
ঘ) স্পিন্ডল ফাইবার
ব্যাখ্যা: উদ্ভিদকোশ বিষুবীয় অঞ্চলে কোশপ্লেট (Cell plate) গঠনের মাধ্যমে সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন করে।
29. PCR-এর সম্পূর্ণ নাম কী?
ক) Polymer Chain Reaction
খ) Polymerase Chain Reaction
গ) Protein Chain Reaction
ঘ) Polypeptide Chain Reaction
ব্যাখ্যা: PCR-এর পুরো নাম Polymerase Chain Reaction (পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন)।
30. DNA অণুতে গুয়ানিনের সঙ্গে কোন বেসের বন্ধনী থাকে?
ক) অ্যাডিনিন
খ) থাইমিন
গ) সাইটোসিন
ঘ) ইউরাসিল
ব্যাখ্যা: G (গুয়ানিন) সবসময় C (সাইটোসিন)-এর সঙ্গে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনীতে (G≡C) যুক্ত থাকে।
31. DNA ও RNA-র মধ্যে প্রধান পার্থক্য কোন শর্করাটি?
ক) রাইবোজ ও ডি-অক্সিরাইবোজ
খ) গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ
গ) মল্টোজ ও সুক্রোজ
ঘ) গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ
ব্যাখ্যা: DNA-তে থাকে ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা এবং RNA-তে থাকে রাইবোজ শর্করা।
32. হেটারোক্রোমাটিন (Heterochromatin) কী?
ক) কম কুণ্ডলীকৃত হালকা রং ধারণকারী ক্রোমাটিন
খ) অধিক কুণ্ডলীকৃত গাঢ় রং ধারণকারী ক্রোমাটিন
গ) প্রোটিন বস্তু
ঘ) RNA অংশ
ব্যাখ্যা: কোশ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমের যে অংশ গাঢ় রঙে রঞ্জিত হয় ও বেশি কুণ্ডলীকৃত থাকে, তাকে হেটারোক্রোমাটিন বলে।
33. অ্যানাফেজ দশায় কী ঘটে?
ক) ক্রোমোজোম বিষুবীয় অঞ্চলে আসে
খ) সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে অপত্য ক্রোমোজোম বিপরীত মেরুতে যায়
গ) নিউক্লিয় পর্দা গঠিত হয়
ঘ) DNA দ্বিগুণ হয়
ব্যাখ্যা: অ্যানাফেজে সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় এবং অপত্য ক্রোমোজোমগুলি স্পিন্ডল তন্তুর সাহায্যে বিপরীত মেরুর দিকে চলতে শুরু করে।
34. জিনগত প্রকরণের মূল কারণ কী?
ক) মাইটোসিস
খ) ক্রসিং ওভার ও মিয়োসিস
গ) গমন
ঘ) রসস্ফীতি
ব্যাখ্যা: মিয়োসিসের সময় ক্রসিং ওভারের ফলে অপত্য কোশে জিনের নতুন বিন্যাস ঘটে, যা জিনগত প্রকরণের মূল ভিত্তি।
35. কোশচক্রের ক্রমবিন্যাস কী?
ক) G1 → S → G2 → M
খ) M → G1 → S → G2
গ) S → G2 → M → G1
ঘ) G2 → M → G1 → S
ব্যাখ্যা: কোশচক্রের সঠিক ক্রম: G1 (প্রথম বৃদ্ধি) → S (DNA সংশ্লেষ) → G2 (দ্বিতীয় বৃদ্ধি) → M (মাইটোসিস/মিয়োসিস)।
36. নিউক্লিওটাইডের গঠনে কী কী থাকে?
ক) শর্করা + ফসফেট + নাইট্রোজেন বেস
খ) ফ্যাট + গ্লিসারল
গ) অ্যামাইনো অ্যাসিড + পেপটাইড
ঘ) শুধু নাইট্রোজেন বেস
ব্যাখ্যা: প্রতিটি নিউক্লিওটাইড একটি পেন্টোজ শর্করা, একটি ফসফেট অণু এবং একটি নাইট্রোজেন ক্ষারক নিয়ে গঠিত।
37. মিয়োসিসের কোন উপ-দশায় ক্রসিং ওভার ঘটে?
ক) লেপ্টোটিন
খ) প্যাকাইটিন
গ) জাইগোটিন
ঘ) ডিপ্লোটিন
ব্যাখ্যা: মিয়োসিস-I-এর প্রফেজের প্যাকাইটিন (Pachytene) উপ-দশায় নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ক্রসিং ওভার ঘটে।
38. G0 দশায় কোশ কী অবস্থায় থাকে?
ক) সক্রিয় বিভাজনরত
খ) বিপাকীয়ভাবে সক্রিয় কিন্তু বিভাজিত হয় না
গ) মৃত
ঘ) DNA সংশ্লেষরত
ব্যাখ্যা: কিছু কোশ (যেমন স্নায়ুকোশ) G0 দশায় প্রবেশ করে যেখানে তারা বিভাজিত হয় না কিন্তু জীবিত ও বিপাকীয়ভাবে সক্রিয় থাকে।
39. ইউক্রোমাটিন (Euchromatin) অঞ্চলে কী ঘটে?
ক) অধিক কুণ্ডলীকরণ
খ) জিনের প্রকাশ বা ট্রান্সক্রিপশন
গ) শুধু RNA থাকে
ঘ) কোনো কাজ হয় না
ব্যাখ্যা: কম কুণ্ডলীকৃত ক্রোমাটিন অর্থাৎ ইউক্রোমাটিন অঞ্চলেই মূলত জিনের প্রকাশ (Gene expression) বা mRNA তৈরির কাজ ঘটে।
40. টেলোফেজ দশায় কোনটি ঘটে?
ক) স্পিন্ডল তন্তু গঠন
খ) নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব
গ) ক্রোমোজোমের বিষুবীয় অঞ্চলে বিন্যাস
ঘ) সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্তকরণ
ব্যাখ্যা: মাইটোসিসের শেষ দশা টেলোফেজে অপত্য নিউক্লিয়াসের চারপাশে নিউক্লিয় পর্দা গঠিত হয় এবং নিউক্লিওলাস পুনরাবির্ভূত হয়।
41. মাইটোসিসের ফলে একটি মাতৃকোশ থেকে কয়টি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়?
ক) একটি
খ) দুটি
গ) তিনটি
ঘ) চারটি
ব্যাখ্যা: মাইটোসিস কোশ বিভাজনের ফলে একটি মাতৃকোশ বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়।
42. মিয়োসিসকে কেন হ্রাস বিভাজন বলে?
ক) ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয় বলে
খ) কোশের আকার কমে বলে
গ) কোশ সংখ্যা কমে বলে
ঘ) সাইটোপ্লাজম কমে বলে
ব্যাখ্যা: মিয়োসিসের ফলে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে অর্ধেক (2n → n) হয়, তাই একে হ্রাস বিভাজন বলে।
43. সিস্টার ক্রোমাটিড কাকে বলে?
ক) ভিন্ন ক্রোমোজোমের অংশ
খ) একই ক্রোমোজোমের প্রতিলিপিত দুটি অর্ধেক
গ) non-sister chromatid
ঘ) হোমোলোগাস অংশ
ব্যাখ্যা: DNA প্রতিলিপনের পর একটি ক্রোমোজোমের যে দুটি অভিন্ন প্রতিলিপি তৈরি হয়, তাদের সিস্টার ক্রোমাটিড বলে।
44. উদ্ভিদের দেহকোশে মাইটোসিস প্রধানত কোথায় দেখা যায়?
ক) পরিণত পাতায়
খ) মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে (বর্ধনশীল অঞ্চল)
গ) ফুলের পাপড়িতে
ঘ) ঘ] ফলে
ব্যাখ্যা: মূল এবং কাণ্ডের অগ্রভাগের ভাজক কলায় (Meristematic tissue) মাইটোসিস বিভাজন সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
45. নিচের কোনটি RNA-র কাজ?
ক) বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করা
খ) প্রোটিন সংশ্লেষ করা
গ) শক্তি উৎপাদন
ঘ) ফ্যাট সঞ্চয়
ব্যাখ্যা: RNA প্রধানত DNA থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রোটিন সংশ্লেষে সহায়তা করে।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
41 টি1. কোশ বিভাজন কাকে বলে?
যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় একটি জনিত কোশ বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি করে, তাকে কোশ বিভাজন (Cell Division) বলে।
2. কোশচক্র কাকে বলে?
কোশের বিভাজন ও বৃদ্ধির চক্রাকার আবর্তনকে কোশচক্র (Cell Cycle) বলে। এটি ইন্টারফেজ ও মাইটোটিক ফেজে বিভক্ত।
3. ক্রোমোজোম কী?
নিউক্লিয়াসস্থিত DNA ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত স্বপ্রজননশীল সূত্রাকার অঙ্গাণু যা বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে।
4. DNA ও RNA-এর একটি পার্থক্য লেখো।
DNA দ্বিতন্ত্রী (Double stranded) এবং তাতে থাইমিন থাকে; কিন্তু RNA প্রধানত একতন্ত্রী (Single stranded) এবং তাতে ইউরাসিল থাকে।
5. ইন্টারফেজ কাকে বলে?
দুটি কোশ বিভাজনের মধ্যবর্তী প্রস্তুতিমূলক দশাকে ইন্টারফেজ বলে। এই সময় কোশ আকারে বৃদ্ধি পায় এবং DNA-এর প্রতিলিপন ঘটে।
6. ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিসের মধ্যে পার্থক্য কী?
ক্যারিওকাইনেসিস হল নিউক্লিয়াসের বিভাজন, অপরদিকে সাইটোকাইনেসিস হল সাইটোপ্লাজমের বিভাজন।
7. মাইটোসিসের প্রফেজ দশার বৈশিষ্ট্য কী?
প্রফেজে ক্রোমাটিন জালিকা কুণ্ডলীকৃত হয়ে স্পষ্ট ক্রোমোজোমে পরিণত হয়, প্রতিটি ক্রোমোজোমে দুটি করে সিস্টার ক্রোমাটিড থাকে এবং নিউক্লিয় পর্দা বিলুপ্ত হতে শুরু করে।
8. মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলি কোথায় অবস্থান করে?
মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলি স্পিন্ডল তন্তুর বিষুবীয় অঞ্চলে (Equatorial plane) বিন্যস্ত হয়।
9. মাইটোসিসের অ্যানাফেজ দশার মূল ঘটনা কী?
এ দশায় সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে অপত্য ক্রোমোজোমগুলি স্পিন্ডল তন্তুর সংকোচনের মাধ্যমে বিপরীত মেরুর দিকে চলতে শুরু করে।
10. টেলোফেজ দশায় কীভাবে নিউক্লিয়াসের পুনর্গঠন ঘটে?
টেলোফেজে ক্রোমোজোমগুলি দীর্ঘ ও সূক্ষ্ণ হয়ে নিউক্লিয় জালিকায় পরিণত হয়, নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব ঘটে।
11. মাইটোসিস কোশ বিভাজনের গুরুত্ব কী?
মাইটোসিসের ফলে দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, পুরোনো কোশের স্থান পূরণ এবং অযৌন জনন সম্পন্ন হয়।
12. মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
মাইটোসিসে অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের সমান থাকে, কিন্তু মিয়োসিসে অপত্য কোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়।
13. হোমোলোগাস ক্রোমোজোম কাকে বলে?
একজোড়া ক্রোমোজোম যাদের আকৃতি, জিন সজ্জারীতি ও সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান একই রকম, তাদের হোমোলোগাস ক্রোমোজোম বলে। এদের একটি পিতৃ এবং অপরটি মাতৃ উৎস থেকে আসে।
14. বাইভ্যালেন্ট বা ডায়াড কী?
মিয়োসিসের প্রফেজ-I-এ দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়ায় জোড়ায় সংযুক্ত হয়ে যে গঠন তৈরি করে, তাকে বাইভ্যালেন্ট বা ডায়াড বলে।
15. ক্রসিং ওভার কাকে বলে?
মিয়োসিস-I চলাকালে বাইভ্যালেন্ট অবস্থায় দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটাকে ক্রসিং ওভার বলে। এটি জিনগত প্রকরণের মূল কারণ।
16. সিস্টার ক্রোমাটিড কী?
DNA প্রতিলিপনের ফলে সৃষ্ট একই ক্রোমোজোমের দুটি অভিন্ন তন্তুকে সিস্টার ক্রোমাটিড বলে, যারা সেন্ট্রোমিয়ার দিয়ে যুক্ত থাকে।
17. কায়াজমা (Chiasma) কী?
যে স্থানে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলি পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে ক্রসিং ওভার ঘটায়, তাকে কায়াজমা বলে। এটি দেখতে ইংরেজি X অক্ষরের মতো।
18. কোশচক্রের S দশার গুরুত্ব কী?
S (Synthesis) দশায় DNA-র প্রতিলিপন ঘটে, ফলে কোশের DNA-র পরিমাণ দ্বিগুণ হয় যা বিভাজনের জন্য অপরিহার্য।
19. G0 দশা বলতে কী বোঝো?
কিছু কোশ (যেমন স্নায়ুকোশ) ইন্টারফেজের G1 দশা থেকে কোশচক্র থেকে বেরিয়ে বিভাজনহীন স্থায়ী অবস্থায় চলে যায়, একে G0 দশা বলে।
20. অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজনের ফলাফল কী?
অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজনের ফলে টিউমার (Tumor) সৃষ্টি হয়, যা ক্ষতিকারক (ম্যালিগন্যান্ট) হয়ে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
21. উদ্ভিদ ও প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিসের পার্থক্য কী?
প্রাণীকোশে খাঁজ সৃষ্টির মাধ্যমে (Cleavage furrow) এবং উদ্ভিদকোশে কোশপ্লেট (Cell plate) গঠনের মাধ্যমে সাইটোকাইনেসিস ঘটে।
22. এককোশী জীবে মাইটোসিসের ভূমিকা কী?
এককোশী জীবের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে মাইটোসিস প্রক্রিয়ায়। এটি তাদের জননের মাধ্যম।
23. ক্ষয়পূরণ (Repair)-এ মাইটোসিসের ভূমিকা লেখো।
আঘাতপ্রাপ্ত বা ক্ষয়প্রাপ্ত স্থানে মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে নতুন কোশ সৃষ্টি হয়ে ক্ষতস্থান পূরণ করে, যেমন কেটে যাওয়া ত্বক তৈরি হওয়া।
24. ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদান কী কী?
ক্রোমোজোম প্রধানত DNA, RNA (সামান্য) ও হিস্টোন প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
25. DNA-র দ্বিতন্ত্রী মডেলের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
দুটি তন্তু একে অপরের বিপরীতমুখী এবং প্যাঁচানো। বেস জোড়া (A=T, G≡C) পরস্পরকে হাইড্রোজেন বন্ধনীতে আটকে রাখে।
26. RNA-র প্রধান প্রকারভেদগুলি কী কী?
RNA প্রধানত তিন প্রকার: mRNA (মেসেঞ্জার RNA), tRNA (ট্রান্সফার RNA) এবং rRNA (রাইবোজোমাল RNA)।
27. ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয় কেন?
ক্রোমোজোমে অবস্থিত DNA-র অংশবিশেষ (জিন) পিতামাতা থেকে সন্তানে বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে আনে, তাই একে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলে।
28. সমবিভাজন কাকে বলে ও কেন?
যে কোশ বিভাজনে অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের সমান থাকে, তাকে সমবিভাজন বলে। মাইটোসিস সমবিভাজনের উদাহরণ।
29. হ্রাস বিভাজন কাকে বলে ও কেন?
যে কোশ বিভাজনে অপত্য কোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের অর্ধেক হয়, তাকে হ্রাস বিভাজন বলে। মিয়োসিস হ্রাস বিভাজনের উদাহরণ।
30. ইউক্রোমাটিন ও হেটারোক্রোমাটিনের মূল পার্থক্য কী?
ইউক্রোমাটিন কম কুণ্ডলীকৃত ও জিনগতভাবে সক্রিয়, হেটারোক্রোমাটিন অধিক কুণ্ডলীকৃত ও জিনগতভাবে নিষ্ক্রিয়।
31. মিয়োসিস-I এবং মিয়োসিস-II-এর মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।
মিয়োসিস-I হল হ্রাস বিভাজন (ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়), মিয়োসিস-II হল সমবিভাজন (মাইটোসিসের মতো)।
32. জিন কাকে বলে?
DNA অণুর সুনির্দিষ্ট অংশ যা কোনো নির্দিষ্ট বংশগত বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে জিন বলে।
33. ক্রোমাটিন ও ক্রোমোজোমের মধ্যে সম্পর্ক কী?
বিশ্রামাবস্থায় DNA তন্তু ক্রোমাটিন জালিকা হিসেবে থাকে। বিভাজনের সময় ক্রোমাটিন কুণ্ডলীকৃত ও সংক্ষিপ্ত হয়ে ক্রোমোজোম গঠন করে।
34. মাইটোসিসে স্পিন্ডল তন্তুর কাজ কী?
স্পিন্ডল তন্তু ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে যুক্ত হয়ে অ্যানাফেজ দশায় ক্রোমোজোমকে মেরুর দিকে টেনে নিয়ে যায়।
35. DNA ও জিনের সম্পর্ক কী?
DNA হল রাসায়নিক অণু, আর জিন হল এই DNA অণুর একটি কার্যগত খণ্ড যা বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে।
36. মিয়োসিসের প্রয়োজনীয়তা কী?
যৌন জননকারী জীবে গ্যামেট সৃষ্টির সময় ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস করা ও জিনগত প্রকরণ (variation) সৃষ্টিই হল মিয়োসিসের প্রধান প্রয়োজনীয়তা।
37. কোশচক্রের বিভিন্ন দশাগুলির নাম ক্রমানুসারে লেখো।
কোশচক্রের ধাপগুলি হল: G1 → S → G2 → M (যেখানে M দশা প্রফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজে বিভক্ত)।
38. প্রাণীতে ক্ষয়পূরণের একটি উদাহরণ দাও।
টিকটিকির লেজ কেটে গেলে পুনরায় নতুন লেজ গজানো (রিজেনারেশন) মাইটোসিসের মাধ্যমে ঘটে।
39. পুনরুৎপাদন (Regeneration) কাকে বলে? মাইটোসিসের ভূমিকা কী?
জীবদেহের হারানো অঙ্গের পুনরায় সৃষ্টি হওয়াকে পুনরুৎপাদন বলে। যেমন কাঁকড়ার পা, টিকটিকির লেজ গজানো; মাইটোসিস এতে সহায়তা করে।
40. DNA ও RNA-র শর্করার মধ্যে পার্থক্য কী?
DNA-তে ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা (অক্সিজেন পরমাণু একটি কম) এবং RNA-তে রাইবোজ শর্করা থাকে।
41. সেন্ট্রোমিয়ার কী?
ক্রোমোজোমের মাঝের বা প্রান্তের যে খাঁজকাটা অঞ্চলে সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি পরস্পর যুক্ত থাকে এবং স্পিন্ডল তন্তু আটকায়, তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)
10 টি1. ক্রোমোজোম, DNA ও জিনের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক কী? DNA অণুর গঠন সংক্ষেপে আলোচনা করো।
আন্তঃসম্পর্ক:
ক্রোমোজোম হল DNA ও প্রোটিনের তৈরি বাহক কাঠামো। DNA হল রাসায়নিক জৈব যৌগ এবং জিন হল DNA-র নির্দিষ্ট একটি খণ্ড যা কোনো বৈশিষ্ট্যের জন্য সংকেত বহন করে।
অর্থাৎ, ক্রোমোজোম (বাহক) > DNA (রাসায়নিক) > জিন (কার্যগত একক)।
DNA-র গঠন:
ওয়াটসন ও ক্রিকের মডেল অনুযায়ী DNA একটি দ্বিতন্ত্রী কুণ্ডলী (Double Helix)।
উপাদান: প্রতিটি তন্তু ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা ও ফসফেটের তৈরি মেরুদণ্ড নিয়ে গঠিত।
সিঁড়ির ধাপ: নাইট্রোজেন ক্ষারকগুলি (Adenine, Guanine, Cytosine, Thymine) একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হাইড্রোজেন বন্ধনীতে যুক্ত থাকে। Adenine সবসময় Thymine-এর সঙ্গে (A=T) এবং Guanine সবসময় Cytosine-এর সঙ্গে (G≡C) যুক্ত থাকে।
2. মাইটোসিস কাকে বলে? মাইটোসিসের ধাপগুলি (ক্যারিওকাইনেসিস) সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
মাইটোসিস (Mitosis):
যে কোশ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়ে ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি করে, তাকে মাইটোসিস বলে।
ক্যারিওকাইনেসিসের ধাপ:
- প্রফেজ (Prophase): ক্রোমাটিন কুণ্ডলীকৃত হয়ে ক্রোমোজোমে পরিণত হয়, নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস বিলুপ্ত হয়, স্পিন্ডল যন্ত্র গঠিত হয়।
- মেটাফেজ (Metaphase): ক্রোমোজোমগুলি স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে বিন্যস্ত হয় এবং এদের সেন্ট্রোমিয়ার স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত থাকে।
- অ্যানাফেজ (Anaphase): সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় এবং অপত্য ক্রোমোজোমগুলি স্পিন্ডল তন্তুর সংকোচনে বিপরীত মেরুর দিকে চলতে শুরু করে।
- টেলোফেজ (Telophase): ক্রোমোজোমগুলি পুনরায় নিউক্লিয় জালিকে পরিণত হয়, নিউক্লিয় পর্দা ও নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব ঘটে।
3. মিয়োসিস কী? মিয়োসিস-I-এর ধাপগুলি চিত্রসহ বর্ণনা করো। মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বলার কারণ উল্লেখ করো।
মিয়োসিস:
এটি এক বিশেষ ধরনের কোশ বিভাজন যার ফলে একটি ডিপ্লয়েড (2n) জনন মাতৃকোশ থেকে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়।
মিয়োসিস-I-এর ধাপ:
- প্রফেজ-I: দীর্ঘতম দশা। হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া বাঁধে (সিন্যাপসিস) ও বাইভ্যালেন্ট গঠন করে। ক্রসিং ওভার ঘটে। নিউক্লিয় পর্দা বিলুপ্ত হয়।
- মেটাফেজ-I: বাইভ্যালেন্টগুলি বিষুবীয় অঞ্চলে বিন্যস্ত হয়।
- অ্যানাফেজ-I: হোমোলোগাস ক্রোমোজোমগুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে বিপরীত মেরুতে গমন করে (সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় না)।
- টেলোফেজ-I: দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়।
হ্রাস বিভাজনের কারণ:
এই প্রক্রিয়ার শেষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের অর্ধেক (n) হয় বলে একে হ্রাস বিভাজন বলে।
4. কোশচক্র কাকে বলে? কোশচক্রের বিভিন্ন দশা (G1, S, G2, M) ও তাদের গুরুত্ব আলোচনা করো।
কোশচক্র:
একটি কোশের জন্ম থেকে বিভাজন পর্যন্ত পর্যায়ক্রমিক ঘটনাবলীকে কোশচক্র বলে। এটি দুটি মুখ্য ভাগে বিভক্ত: ইন্টারফেজ ও M-ফেজ।
দশাসমূহ:
- G1 দশা (1st Gap): কোশ বিপাকীয়ভাবে সক্রিয় থাকে, RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষ করে এবং আকারে বৃদ্ধি পায়।
- S দশা (Synthesis): DNA-র প্রতিলিপন ঘটে, ফলে ক্রোমোজোমে দুটি করে ক্রোমাটিড সৃষ্টি হয়।
- G2 দশা (2nd Gap): বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও স্পিন্ডল তন্তু গঠনের উপাদান তৈরি হয়।
- M দশা (Mitotic phase): প্রকৃত বিভাজনের দশা যেখানে নিউক্লিয়াস (ক্যারিওকাইনেসিস) ও সাইটোপ্লাজম (সাইটোকাইনেসিস) বিভক্ত হয়।
5. DNA ও RNA-র মধ্যে গঠনগত ও কার্যগত পার্থক্যগুলি লেখো।
গঠনগত পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | DNA | RNA |
|---|
| শর্করা | ডি-অক্সিরাইবোজ | রাইবোজ |
| তন্ত্রী সংখ্যা | দ্বিতন্ত্রী | সাধারণত একতন্ত্রী |
| নাইট্রোজেন বেস | A, G, C, T | A, G, C, U (ইউরাসিল) |
কার্যগত পার্থক্য:
DNA: প্রধান কাজ বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে এবং জিনগত তথ্য সংরক্ষণ করা।
RNA: DNA থেকে তথ্য সংগ্রহ করে রাইবোজোমে প্রোটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করা।
6. মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো (অন্তত পাঁচটি পার্থক্য)।
মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য:
| বিষয় | মাইটোসিস | মিয়োসিস |
|---|
| স্থান | দেহকোশে ঘটে। | জনন মাতৃকোশে ঘটে। |
| ক্রোমোজোম সংখ্যা | অপত্য কোশে সমান (2n) থাকে। | অপত্য কোশে অর্ধেক (n) হয়। |
| অপত্য কোশের সংখ্যা | একটি কোশ থেকে ২টি সৃষ্টি হয়। | একটি কোশ থেকে ৪টি সৃষ্টি হয়। |
| ক্রসিং ওভার | ঘটে না। | মিয়োসিস-I-এর প্রফেজে ঘটে। |
| ভূমিকা | বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ। | গ্যামেট সৃষ্টি ও জিনগত প্রকরণ। |
7. মিয়োসিসের তাৎপর্য কী? জিনগত প্রকরণ সৃষ্টিতে মিয়োসিস কীভাবে সহায়তা করে?
মিয়োসিসের তাৎপর্য:
- জননকোশ বা গ্যামেট সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা।
- ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে জিনের নতুন বিন্যাস সৃষ্টি করা, যা প্রকরণ ও বিবর্তনের মূল ভিত্তি।
- পিতৃ ও মাতৃ ক্রোমোজোমের মধ্যে অবাধ বিন্যাস (Independent assortment)-এর মাধ্যমে বৈচিত্র্য সৃষ্টি।
জিনগত প্রকরণ:
মিয়োসিস-I চলাকালে হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড় বাঁধার সময় নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ডিএনএ খণ্ডের বিনিময় (ক্রসিং ওভার) ঘটে। এর ফলে অপত্য কোশে জিনের বিন্যাসে বিচিত্রতা আসে, যা জিনগত বৈচিত্র্যের মূল কারণ।
8. ক্রসিং ওভার কাকে বলে? মিয়োসিসে ক্রসিং ওভারের পদ্ধতি ও গুরুত্ব আলোচনা করো।
ক্রসিং ওভার (Crossing over):
মিয়োসিস-I-এর প্রফেজ-I দশায় (বিশেষত প্যাকাইটিন উপ-দশায়) দুটি হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিড পরস্পরের মধ্যে যে অংশের বিনিময় ঘটায়, তাকে ক্রসিং ওভার বলে।
পদ্ধতি:
হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া বাঁধার পর কায়াজমা নামক স্থানে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডগুলি ভেঙে যায় এবং পুনরায় যুক্ত হয়। এক্ষেত্রে দেহাংশের কিছু অংশ বিনিময় হয়।
গুরুত্ব:
- নতুন জিন সমন্বয় সৃষ্টি করে।
- জিনগত বৈচিত্র্য ও প্রকরণের (Variation) সৃষ্টি করে।
- বিবর্তনের (Evolution) কাঁচামাল সরবরাহ করে।
9. হোমোলোগাস ক্রোমোজোম, সিস্টার ক্রোমাটিড এবং নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলতে কী বোঝো? মিয়োসিসে এদের ভূমিকা লেখো।
সংজ্ঞা:
- হোমোলোগাস ক্রোমোজোম: একই আকৃতি ও জিন সজ্জাযুক্ত একজোড়া ক্রোমোজোম যার একটি পিতার ও অপরটি মাতার থেকে আসে।
- সিস্টার ক্রোমাটিড: DNA প্রতিলিপনের ফলে সৃষ্ট একই ক্রোমোজোমের দুটি অভিন্ন অংশ বা অর্ধেক।
- নন-সিস্টার ক্রোমাটিড: বাইভ্যালেন্টে অবস্থিত দুটি ভিন্ন হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিড।
ভূমিকা:
হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া বাঁধার ফলে বাইভ্যালেন্ট সৃষ্টি হয়। সিস্টার ক্রোমাটিডগুলি মিয়োসিস-II-তে আলাদা হয়। নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ক্রসিং ওভার ঘটে যা জিনগত বৈচিত্র্যের প্রধান উৎস।
10. মাইটোসিসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে প্রযোজ্য তা উদাহরণসহ লেখো।
মাইটোসিসের গুরুত্ব:
- বৃদ্ধি: ভ্রূণ থেকে পূর্ণাঙ্গ জীব সৃষ্টি মাইটোসিসের মাধ্যমে ঘটে।
- ক্ষয়পূরণ (Healing): চামড়া কেটে গেলে মাইটোসিসের মাধ্যমে নিমেষে নতুন কোশ সৃষ্টি হয়ে ক্ষতস্থান পূরণ করে।
- পুনরুৎপাদন (Regeneration): টিকটিকির লেজ কেটে গেলে বা কাঁকড়ার পা নষ্ট হলে মাইটোসিসের মাধ্যমে তা পুনরায় সৃষ্টি হয়।
- অযৌন জনন: হাইড্রা, ইস্ট, ব্যাকটেরিয়া মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
- কোশ প্রতিস্থাপন: লোহিত রক্তকণিকা (RBC) প্রতি ১২০ দিন পর মজ্জায় মাইটোসিসের মাধ্যমে নতুন কোশ জন্মায়।
মনে রেখো!
মাইটোসিস (সমবিভাজন): দেহকোশে ঘটে, ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে (2n→2n)। 1টি কোশ থেকে 2টি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়।
মিয়োসিস (হ্রাস বিভাজন): জনন মাতৃকোশে ঘটে, ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয় (2n→n)। 1টি কোশ থেকে 4টি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়।
কোশচক্র: G1 → S → G2 → M। S দশায় DNA প্রতিলিপন ঘটে।
ক্রসিং ওভার: মিয়োসিস-I-এ নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময়, যা জিনগত প্রকরণের মূল কারণ।