Chapter 5.D: জীববৈচিত্র্য এবং সংরক্ষণ (Biodiversity & Conservation)
জীববৈচিত্র্য, হটস্পট, সংরক্ষণ পদ্ধতি, JFM, PBR এবং বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি | 50 MCQ | 40 SAQ | 10 Broad Questions
ইন-সিটু সংরক্ষণ এক্স-সিটু (ক্রায়োসংরক্ষণ) প্রজেক্ট টাইগার JFM ও PBR হটস্পট বহিরাগত প্রজাতি
🌍
সংরক্ষণ পদ্ধতি
জাতীয় উদ্যান, চিড়িয়াখানা এবং ক্রায়োসংরক্ষণের পার্থক্য ও গুরুত্ব
🐅
বিপন্ন প্রাণী
বাঘ, গন্ডার, রেড পান্ডা এবং এশীয় সিংহের সংরক্ষণ প্রকল্প
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
50 টি1. পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার ঘটেছিল প্রায় কত বছর পূর্বে?
ক) ৩ বিলিয়ন
খ) ৪ বিলিয়ন
গ) ৫ বিলিয়ন
ঘ) ২ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা: পৃথিবীতে প্রায় ৪ বিলিয়ন বছর পূর্বে সমুদ্রের জলে প্রথম প্রাণের সঞ্চার ঘটেছিল।
2. সর্বপ্রথম কে জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) শব্দটির প্রবর্তন করেন?
ক) নরম্যান মায়ার্স
খ) ওয়াল্টার রোসেন (Walter Rosen)
গ) ওডাম
ঘ) হেকেল
ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানী ওয়াল্টার রোসেন (Walter Rosen) ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম 'Biodiversity' বা জীববৈচিত্র্য শব্দটির প্রবর্তন করেন।
3. ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম জীববৈচিত্র্যকে ব্যাখ্যা করেন কারা?
ক) নর্স ও ম্যাকমানুস
খ) ওয়াটসন ও ক্রিক
গ) রোসেন ও মায়ার্স
ঘ) ডারউইন ও ওয়ালেস
ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানী নর্স ও ম্যাকমানুস (Norse and Macmanus) ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম জীববৈচিত্র্যকে ব্যাখ্যা করেন।
4. কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপস্থিত ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির বৈচিত্র্যকে কী বলে?
ক) জিনগত বৈচিত্র্য
খ) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
গ) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
ঘ) গামা বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা: কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির জীবের উপস্থিতিকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity) বলে।
5. জীববৈচিত্র্য প্রধানত কয় প্রকারের হয়?
ক) ২ প্রকার
খ) ৩ প্রকার
গ) ৪ প্রকার
ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা: জীববৈচিত্র্য প্রধানত ৩ প্রকার: জিনগত বৈচিত্র্য, প্রজাতিগত বৈচিত্র্য এবং বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য।
6. বাস্তুতান্ত্রিক জীববৈচিত্র্যকে (অ্যালফা, বিটা, গামা) কে ভাগ করেছেন?
ক) হুইটেকার (Whittaker)
খ) ওডাম
গ) ট্যান্সলে
ঘ) রোসেন
ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানী হুইটেকার (Whittaker) ১৯৬০ সালে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যকে অ্যালফা, বিটা এবং গামা বৈচিত্র্যে ভাগ করেন।
7. কোনো একটি নির্দিষ্ট বাসস্থানের ক্ষুদ্র অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যকে কী বলে?
ক) বিটা বৈচিত্র্য
খ) গামা বৈচিত্র্য
গ) অ্যালফা বৈচিত্র্য
ঘ) ডেল্টা বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা: একটি নির্দিষ্ট বাসস্থানের বা ক্ষুদ্র অঞ্চলের অন্তর্গত জীববৈচিত্র্যকে অ্যালফা (Alpha) বৈচিত্র্য বলে।
8. একটি বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যকে কী বলে?
ক) অ্যালফা বৈচিত্র্য
খ) বিটা বৈচিত্র্য
গ) গামা বৈচিত্র্য
ঘ) মেগা বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা: একটি বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চলের (যেমন একটি দেশ বা মহাদেশের) সামগ্রিক বৈচিত্র্যকে গামা (Gamma) বৈচিত্র্য বলে।
9. 'বায়োডাইভারসিটি হটস্পট' (Biodiversity Hotspot) কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
ক) নরম্যান মায়ার্স (Norman Myers)
খ) ওয়াল্টার রোসেন
গ) র্যাচেল কারসন
ঘ) এ. জি. ট্যান্সলে
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ পরিবেশবিদ নরম্যান মায়ার্স (১৯৮৮) সর্বপ্রথম 'হটস্পট' ধারণাটির প্রবর্তন করেন।
10. বিশ্বে বর্তমানে মোট কতগুলি বায়োডাইভারসিটি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে?
ক) ২৫ টি
খ) ৩৪ টি
গ) ৩৬ টি
ঘ) ৪০ টি
ব্যাখ্যা: সারা বিশ্বে বর্তমানে মোট ৩৬টি বায়োডাইভারসিটি হটস্পট রয়েছে।
11. ভারতের মধ্যে মোট কয়টি বায়োডাইভারসিটি হটস্পট অবস্থিত?
ক) ২ টি
খ) ৩ টি
গ) ৪ টি
ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা: ভারতে ৪টি হটস্পট রয়েছে: পূর্ব হিমালয়, পশ্চিমঘাট পর্বত ও শ্রীলঙ্কা, ইন্দো-বার্মা এবং সুন্দাল্যান্ড।
12. পূর্ব হিমালয় হটস্পটের একটি বিপন্ন প্রাণী কোনটি?
ক) রেড পান্ডা
খ) সিংহ
গ) নীলগিরি থর
ঘ) একশৃঙ্গ গন্ডার
ব্যাখ্যা: রেড পান্ডা, তুষার চিতা ইত্যাদি পূর্ব হিমালয় হটস্পটের বিপন্ন প্রাণী।
13. নীচের কোনটি পশ্চিমঘাট পর্বত ও শ্রীলঙ্কা হটস্পটের স্থানীয় প্রজাতি?
ক) লায়ন টেলড ম্যাকাক (Lion-tailed macaque)
খ) রেড পান্ডা
গ) গন্ডার
ঘ) ওরাংওটাং
ব্যাখ্যা: লায়ন টেলড ম্যাকাক, নীলগিরি থর ইত্যাদি পশ্চিমঘাট পর্বত অঞ্চলের এন্ডেমিক প্রাণী।
14. আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কোন হটস্পটের অন্তর্গত?
ক) পূর্ব হিমালয়
খ) পশ্চিমঘাট
গ) সুন্দাল্যান্ড (Sundaland)
ঘ) ইন্দো-বার্মা
ব্যাখ্যা: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সুন্দাল্যান্ড হটস্পটের অংশ।
15. যেসব প্রজাতি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলেই পাওয়া যায়, তাদের কী বলে?
ক) বহিরাগত প্রজাতি
খ) এন্ডেমিক (Endemic) প্রজাতি
গ) বিলুপ্ত প্রজাতি
ঘ) পরিযায়ী প্রজাতি
ব্যাখ্যা: যে প্রজাতি একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাকে এন্ডেমিক বা স্থানিক প্রজাতি বলে।
16. ডোডো পাখি পৃথিবীর কোন দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়েছে?
ক) ভারত
খ) মরিশাস
গ) অস্ট্রেলিয়া
ঘ) নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা: মরিশাস দ্বীপের ডোডো (Dodo) পাখি মানুষের শিকারের কারণে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
17. নীচের কোনটি একটি বহিরাগত (Alien) বা বিদেশি প্রজাতি যা জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ?
ক) কচুরিপানা
খ) ল্যান্টানা
গ) পার্থেনিয়াম
ঘ) ওপরের সবগুলিই
ব্যাখ্যা: কচুরিপানা (Eichhornia), ল্যান্টানা (Lantana) এবং পার্থেনিয়াম (Parthenium) সবই বহিরাগত প্রজাতি যা দেশীয় প্রজাতির ক্ষতি করছে।
18. নীচের কোন মাছটি বহিরাগত প্রজাতি হিসেবে ভারতের জলাশয়ে দেশীয় মাছের ক্ষতি করছে?
ক) রুই
খ) কাতলা
গ) তেলাপিয়া ও আফ্রিকান মাগুর
ঘ) ইলিশ
ব্যাখ্যা: তেলাপিয়া এবং আফ্রিকান মাগুর বহিরাগত প্রজাতি, যারা জলাশয়ের দেশীয় মাছের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।
19. বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে ভারতের কোন অঞ্চলের দ্বীপগুলি জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে?
ক) সুন্দরবন
খ) থর মরুভূমি
গ) লাক্ষাদ্বীপ
ঘ) পূর্বঘাট
ব্যাখ্যা: সমুদ্রপৃষ্ঠের জলস্তর বৃদ্ধির কারণে সুন্দরবনের লোহাচরা, ঘোড়ামারা ইত্যাদি দ্বীপগুলি তলিয়ে যাচ্ছে।
20. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের একটি প্রধান কারণ কী?
ক) বনায়ন
খ) সংরক্ষণের বৃদ্ধি
গ) বাসস্থানের বিনাশ (Habitat loss)
ঘ) বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা: বাসস্থানের বিনাশ বা Habitat loss জীববৈচিত্র্য হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ।
21. কোনো জীবকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানের মধ্যে সংরক্ষণ করাকে কী বলে?
ক) এক্স-সিটু সংরক্ষণ
খ) ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণ
গ) ক্রায়োসংরক্ষণ
ঘ) চিড়িয়াখানা
ব্যাখ্যা: জীবকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে বা বাসস্থানে সংরক্ষণ করাকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলে।
22. নীচের কোনটি ইন-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ নয়?
ক) জাতীয় উদ্যান
খ) অভয়ারণ্য
গ) বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ
ঘ) চিড়িয়াখানা
ব্যাখ্যা: চিড়িয়াখানা (Zoo) বা বোটানিক্যাল গার্ডেন হল এক্স-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ, কারণ এখানে নিজস্ব বাসস্থানের বাইরে সংরক্ষণ করা হয়।
23. ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান (National Park) কোনটি?
ক) কাজিরাঙা
খ) করবেট জাতীয় উদ্যান (Corbett National Park)
গ) সুন্দরবন
ঘ) কানহা
ব্যাখ্যা: উত্তরাখণ্ডের হেইলি ন্যাশনাল পার্ক (বর্তমানে জিম করবেট জাতীয় উদ্যান, ১৯৩৬) ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান।
24. পশ্চিমবঙ্গের একটি জাতীয় উদ্যানের নাম কী?
ক) গোরুমারা
খ) কাজিরাঙা
গ) করবেট
ঘ) পেরিয়ার
ব্যাখ্যা: গোরুমারা, জলদাপাড়া, নেওড়াভ্যালি, সুন্দরবন প্রভৃতি পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় উদ্যান।
25. যে বনাঞ্চলে জনসাধারণের প্রবেশ, কাঠ কাটা বা পশুচারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তাকে কী বলে?
ক) অভয়ারণ্য
খ) জাতীয় উদ্যান (National Park)
গ) চিড়িয়াখানা
ঘ) সংরক্ষিত বন
ব্যাখ্যা: জাতীয় উদ্যান কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং এখানে মানুষের কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
26. জীবমণ্ডল বা বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Biosphere Reserve) প্রকল্প কে গ্রহণ করে?
ক) WHO
খ) UNESCO
গ) UNICEF
ঘ) WWF
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে UNESCO-র MAB (Man and Biosphere) কর্মসূচির অন্তর্গত বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ গঠিত হয়।
27. ভারতের প্রথম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ কোনটি?
ক) নীলগিরি (Nilgiri)
খ) সুন্দরবন
গ) নন্দাদেবী
ঘ) মানস
ব্যাখ্যা: ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ভারতের প্রথম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ।
28. জীবকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণ করাকে কী বলে?
ক) ইন-সিটু
খ) এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ
গ) বায়োস্ফিয়ার
ঘ) অভয়ারণ্য
ব্যাখ্যা: স্বাভাবিক বাসস্থানের বাইরে চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন বা জিন ব্যাঙ্কে সংরক্ষণ করাকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলে।
29. ভারতের বিখ্যাত বোটানিক্যাল গার্ডেন (AJCBIBG) কোথায় অবস্থিত?
ক) দার্জিলিং
খ) দিল্লি
গ) শিবপুর, হাওড়া (কলকাতা)
ঘ) চেন্নাই
ব্যাখ্যা: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান বোটানিক গার্ডেন হাওড়ার শিবপুরে অবস্থিত (এক্স-সিটু সংরক্ষণ)।
30. ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation) পদ্ধতিতে কত তাপমাত্রায় উদ্ভিদ অঙ্গ বা পরাগরেণু সংরক্ষণ করা হয়?
ক) 0°C
খ) -10°C
গ) -196°C
ঘ) 100°C
ব্যাখ্যা: তরল নাইট্রোজেনে -১৯৬°C তাপমাত্রায় বীজ, পরাগরেণু, শুক্রাণু বা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করাকে ক্রায়োসংরক্ষণ বলে।
31. ক্রায়োসংরক্ষণে কোন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়?
ক) তরল অক্সিজেন
খ) তরল নাইট্রোজেন (Liquid Nitrogen)
গ) তরল কার্বন ডাইঅক্সাইড
ঘ) কঠিন বরফ
ব্যাখ্যা: তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করে -১৯৬°C তাপমাত্রায় অতিশীতল অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়।
32. JFM-এর পুরো নাম কী?
ক) Joint Forest Management
খ) Junior Forest Movement
গ) Joint Flora Management
ঘ) Joint Fauna Movement
ব্যাখ্যা: JFM-এর পুরো নাম Joint Forest Management (যৌথ বন ব্যবস্থাপনা)।
33. JFM প্রকল্প ভারতে প্রথম কোথায় শুরু হয়েছিল?
ক) আসামে
খ) পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের আরাবারি অরণ্যে
গ) কেরালায়
ঘ) উত্তরাখণ্ডে
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আরাবারি (Arabari) অরণ্যের নষ্ট হয়ে যাওয়া শাল গাছ পুনরুদ্ধারের জন্য প্রথম JFM শুরু হয়।
34. JFM-এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
ক) জঙ্গল কেটে চাষাবাদ
খ) স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে অরণ্যের সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা
গ) শুধু পশু শিকার করা
ঘ) কাঠ বিক্রি করা
ব্যাখ্যা: স্থানীয় বনবাসী মানুষদের সাথে বনদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বনভূমির সুরক্ষা, বিকাশ ও ব্যবস্থাপনাই ছিল JFM এর মূল উদ্দেশ্য।
35. PBR-এর পুরো নাম কী?
ক) People's Biodiversity Register
খ) Public Bio Record
গ) Project Biological Resources
ঘ) Plant Biology Register
ব্যাখ্যা: PBR-এর পুরো নাম People's Biodiversity Register।
36. PBR কী ধরনের নথি?
ক) শুধুমাত্র প্রাণীর তালিকা
খ) স্থানীয় মানুষের সাহায্যে গড়ে তোলা স্থানীয় জীবসম্পদ ও তার ব্যবহারের প্রামাণ্য নথি
গ) স্কুলের বই
ঘ) বনদপ্তরের গুপ্ত খাতা
ব্যাখ্যা: PBR হল একটি প্রামাণ্য নথি যেখানে স্থানীয় জীবসম্পদের প্রাপ্তিসাধ্যতা, ব্যবহার এবং ঐতিহ্যবাহী পরম্পরাগত জ্ঞান লিপিবদ্ধ থাকে।
37. ভারতের 'প্রজেক্ট টাইগার' (Project Tiger) বা ব্যাঘ্র প্রকল্প কত সালে শুরু হয়?
ক) ১৯৭২
খ) ১৯৭৩
গ) ১৯৮০
ঘ) ১৯৯২
ব্যাখ্যা: বাঘের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় ভারত সরকার WWF-এর সহায়তায় ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল প্রজেক্ট টাইগার শুরু করে।
38. পশ্চিমবঙ্গের একটি বিখ্যাত ব্যাঘ্র প্রকল্প (Tiger Reserve) কোনটি?
ক) জলদাপাড়া
খ) সুন্দরবন
গ) কাজিরাঙা
ঘ) গির
ব্যাখ্যা: সুন্দরবন (Sundarbans) ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাঘ্র প্রকল্প (রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য বিখ্যাত)।
39. একশৃঙ্গ গন্ডার (One-horned Rhino) প্রধানত কোথায় সংরক্ষণ করা হয়?
ক) সুন্দরবন
খ) কাজিরাঙা ও জলদাপাড়া
গ) গির অরণ্য
ঘ) করবেট
ব্যাখ্যা: আসামের কাজিরাঙা (Kaziranga) এবং পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া ও গোরুমারায় একশৃঙ্গ গন্ডার সংরক্ষণ করা হয়।
40. গন্ডার সংরক্ষণের জন্য 'প্রজেক্ট রাইনো' (Project Rhino) কত সালে চালু হয়?
ক) ১৯৭৩
খ) ১৯৮৭
গ) ১৯৯০
ঘ) ২০০৫
ব্যাখ্যা: গন্ডার সংরক্ষণের জন্য ১৯৮৭ সালে গন্ডার প্রকল্প বা Project Rhino চালু হয়।
41. এশীয় সিংহ (Asiatic Lion) ভারতের কোথায় সংরক্ষণ করা হয়?
ক) সুন্দরবন
খ) কাজিরাঙা
গ) গুজরাটের গির অরণ্য (Gir Forest)
ঘ) করবেট
ব্যাখ্যা: বর্তমানে এশীয় সিংহ শুধুমাত্র গুজরাটের গির অরণ্যেই (Gir National Park) প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঁচে আছে।
42. কুমির সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত একটি জায়গার নাম কী?
ক) গির
খ) ভিতরকণিকা (ওড়িশা)
গ) জলদাপাড়া
ঘ) কাজিরাঙা
ব্যাখ্যা: ওড়িশার ভিতরকণিকা, টিকরপাড়া, নন্দনকানন এবং পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের লোহিয়ান দ্বীপে কুমির প্রকল্প রয়েছে।
43. রেড পান্ডা (Red Panda) কোন অঞ্চলের একটি বিপন্ন প্রজাতি?
ক) পশ্চিমঘাট পর্বত
খ) পূর্ব হিমালয় (দার্জিলিং, সিকিম)
গ) রাজস্থান
ঘ) মধ্যপ্রদেশ
ব্যাখ্যা: রেড পান্ডা পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের (সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ, দার্জিলিং) ২২০০-৪৮০০ ফুট উচ্চতার দেবদারু ও বাঁশবাগানে বাস করে।
44. রেড পান্ডার প্রধান খাদ্য কী?
ক) মাছ
খ) বাঁশ পাতা ও কান্ড
গ) ইঁদুর
ঘ) ঘাস
ব্যাখ্যা: রেড পান্ডা প্রধানত বাঁশজাতীয় গাছকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। বাঁশগাছের হ্রাস রেড পান্ডা কমার অন্যতম কারণ।
45. রেড পান্ডা প্রজেক্ট কোথায় চালু করা হয়েছে?
ক) গুজরাটে
খ) সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে
গ) মধ্যপ্রদেশে
ঘ) কেরালায়
ব্যাখ্যা: ভারত সরকার WWF-এর তত্ত্বাবধানে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে (পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জিওলজিক্যাল পার্ক, দার্জিলিং সহ) রেড পান্ডা প্রজেক্ট চালু করেছে।
46. WWF এর সম্পূর্ণ নাম কী?
ক) World Wildlife Fund
খ) World Wide Fund for Nature
গ) World Water Fund
ঘ) Wildlife Welfare Federation
ব্যাখ্যা: WWF এর বর্তমান পুরো নাম World Wide Fund for Nature (আগে World Wildlife Fund ছিল)। এটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অর্থ ও সহায়তা প্রদান করে।
47. ভারতের একটি বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির নাম লেখো।
ক) রয়েল বেঙ্গল টাইগার
খ) রেড পান্ডা
গ) এশীয় সিংহ
ঘ) সবগুলিই
ব্যাখ্যা: বাঘ, রেড পান্ডা, গন্ডার, এশীয় সিংহ সবই ভারতের বিপন্ন বা বিপদমুক্ত প্রজাতির (Endangered species) তালিকায় রয়েছে।
48. পশ্চিমবঙ্গের কোথায় গন্ডার প্রকল্প বা Rhino Project রয়েছে?
ক) সুন্দরবন
খ) জলদাপাড়া
গ) সজনেখালি
ঘ) বক্সা
ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া এবং গোরুমারায় গন্ডার সংরক্ষণ করা হয়।
49. ভিতরকণিকা ন্যাশনাল পার্ক কোন প্রাণী সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত?
ক) বাঘ
খ) সিংহ
গ) লোনা জলের কুমির (Crocodile)
ঘ) গন্ডার
ব্যাখ্যা: ওড়িশার ভিতরকণিকা (Bhitarkanika) লোনা জলের কুমির এবং অলিভ রিডলে কচ্ছপ সংরক্ষণের জন্য বিশ্ববিখ্যাত।
50. আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস (International Day for Biological Diversity) কবে পালিত হয়?
ক) ২২ মে
খ) ৫ জুন
গ) ২২ এপ্রিল
ঘ) ২১ মার্চ
ব্যাখ্যা: প্রতি বছর ২২ মে সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালিত হয়।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
40 টি1. জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) কাকে বলে?
বিভিন্ন প্রকার বাস্তুতন্ত্রে অথবা পরিবেশে কিংবা বাসস্থলে জিনগত, প্রজাতিগত এবং বাস্তুতান্ত্রিক স্তরে জীবের মধ্যে যেসব বিভিন্নতা বা বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে এককথায় জীববৈচিত্র্য বলে।
2. 'জীববৈচিত্র্য' বা 'Biodiversity' শব্দটি প্রথম কে প্রবর্তন করেন?
বিজ্ঞানী ওয়াল্টার রোসেন (Walter Rosen) ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম 'জীববৈচিত্র্য' শব্দটির প্রবর্তন করেন।
3. জীববৈচিত্র্যকে প্রথম কে ব্যাখ্যা করেন?
বিজ্ঞানী নর্স ও ম্যাকমানুস (Norse and Macmanus) ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম জীববৈচিত্র্যকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করেন।
4. জীববৈচিত্র্যের তিনটি প্রধান স্তর কী কী?
জীববৈচিত্র্যের তিনটি প্রধান স্তর হল: ১) জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity), ২) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity) এবং ৩) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)।
5. অ্যালফা (Alpha) বৈচিত্র্য বলতে কী বোঝো?
কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র বাসস্থানের বা একটি নির্দিষ্ট ইকোসিস্টেমের অন্তর্গত জীবের বৈচিত্র্যকে অ্যালফা বৈচিত্র্য বলে।
6. গামা (Gamma) বৈচিত্র্য কী?
একটি বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চলের (যেমন- একটি দেশ, দ্বীপ বা মহাদেশ) সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যকে গামা বৈচিত্র্য বলে।
7. বায়োডাইভারসিটি হটস্পট (Biodiversity Hotspot) কাকে বলে?
পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে সর্বাধিক সংখ্যক এন্ডেমিক (স্থানিক) প্রজাতি বাস করে এবং যেসব অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য মানুষের ক্রিয়াকলাপের ফলে চরম বিপন্ন বা ধ্বংসের মুখে, সেই অঞ্চলগুলিকে বায়োডাইভারসিটি হটস্পট বলে।
8. 'হটস্পট' কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
ব্রিটিশ পরিবেশবিদ নরম্যান মায়ার্স (Norman Myers) ১৯৮৮ সালে সর্বপ্রথম 'হটস্পট' ধারণাটির প্রবর্তন করেন।
9. সারা বিশ্বে এবং ভারতে মোট কতগুলি হটস্পট রয়েছে?
সারা বিশ্বে বর্তমানে মোট ৩৬টি হটস্পট চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে ভারতে ৪টি হটস্পট অবস্থিত।
10. ভারতের ৪টি বায়োডাইভারসিটি হটস্পটের নাম লেখো।
ভারতের ৪টি হটস্পট হল: ১) পূর্ব হিমালয়, ২) পশ্চিমঘাট পর্বত ও শ্রীলঙ্কা, ৩) ইন্দো-বার্মা অঞ্চল এবং ৪) সুন্দাল্যান্ড।
11. এন্ডেমিক প্রজাতি (Endemic species) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যেসব প্রজাতির জীব শুধুমাত্র পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং অন্যত্র প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় না, তাদের এন্ডেমিক প্রজাতি বলে। যেমন- অস্ট্রেলিয়ার ক্যাঙারু, ভারতের লায়ন টেলড ম্যাকাক।
12. পূর্ব হিমালয় হটস্পটের দুটি বিপন্ন প্রাণীর নাম লেখো।
পূর্ব হিমালয় হটস্পটের দুটি বিপন্ন প্রাণী হল রেড পান্ডা এবং তুষার চিতা (Snow leopard)।
13. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করো।
১) বাসস্থানের বিনাশ (Habitat loss ও খণ্ডন) অর্থাৎ বনভূমি ধ্বংস করে নগরায়ণ ও কৃষিকাজ। ২) চোরাশিকার ও বন্যপ্রাণী হত্যা (Poaching)।
14. বহিরাগত প্রজাতি (Alien species) কীভাবে জীববৈচিত্র্য হ্রাস করে?
বাইরে থেকে আসা প্রজাতি (যেমন- কচুরিপানা, পার্থেনিয়াম, তেলাপিয়া) স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে প্রবেশ করে দেশীয় প্রজাতির সাথে খাদ্য ও বাসস্থানের তীব্র প্রতিযোগিতা করে দেশীয় প্রজাতিকে অবলুপ্তির পথে ঠেলে দেয়।
15. ভারতের জলাশয়ে জীববৈচিত্র্য হ্রাসের জন্য দায়ী দুটি বহিরাগত মাছের নাম লেখো।
তেলাপিয়া (Tilapia) এবং আফ্রিকান মাগুর মাছ ভারতের জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের বিনাশ ঘটাচ্ছে।
16. ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে?
বিপন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীকে তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানের মধ্যে (অর্থাৎ বনে বা জঙ্গলে) সযত্নে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বা স্বস্থানিক সংরক্ষণ বলে।
17. ইন-সিটু সংরক্ষণের তিনটি উদাহরণ দাও।
ইন-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ হল: জাতীয় উদ্যান (National Park), অভয়ারণ্য (Sanctuary) এবং বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Biosphere Reserve)।
18. এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে?
বিপন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীকে তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে মানুষের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে এক্স-সিটু বা অস্থানিক সংরক্ষণ বলে।
19. এক্স-সিটু সংরক্ষণের তিনটি উদাহরণ দাও।
চিড়িয়াখানা (Zoo), বোটানিক্যাল গার্ডেন (Botanical Garden) এবং ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation বা জিন ব্যাঙ্ক)।
20. জাতীয় উদ্যান (National Park) কাকে বলে?
যে সংরক্ষিত বনাঞ্চল কেন্দ্রীয় সরকারের আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং যেখানে জনসাধারণের প্রবেশ, শিকার, কাঠ কাটা বা পশুচারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তাকে জাতীয় উদ্যান বলে। (যেমন- করবেট, গোরুমারা)।
21. অভয়ারণ্য (Sanctuary) কাকে বলে?
যে সংরক্ষিত অরণ্যে রাজ্য সরকারের আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণীরা নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে এবং প্রজনন করতে পারে, তাকে অভয়ারণ্য বলে। অনুমতি সাপেক্ষে এখানে কাঠ সংগ্রহ করা যায়। (যেমন- জলদাপাড়া, বেথুয়াডহরি)।
22. ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation) কী?
যে এক্স-সিটু সংরক্ষণ পদ্ধতিতে তরল নাইট্রোজেনে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় (-১৯৬°C) বিপন্ন উদ্ভিদের বীজ, পরাগরেণু, মুকুল এবং প্রাণীর শুক্রাণু বা ডিম্বাণু দীর্ঘদিনের জন্য অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়, তাকে ক্রায়োসংরক্ষণ বলে।
23. JFM-এর সম্পূর্ণ নাম কী? এটি কবে কোথায় শুরু হয়?
JFM-এর সম্পূর্ণ নাম Joint Forest Management (যৌথ বন ব্যবস্থাপনা)। ১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আরাবারি অরণ্যে এটি প্রথম শুরু হয়।
24. JFM-এর মূল উদ্দেশ্য কী?
বনদপ্তরের সাথে স্থানীয় গ্রামবাসীদের যৌথ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ধ্বংসের হাত থেকে অরণ্যকে বাঁচানো এবং অরণ্যের সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা সুনিশ্চিত করাই JFM এর মূল উদ্দেশ্য।
25. PBR কী? এর পুরো নাম লেখো।
PBR-এর পুরো নাম People's Biodiversity Register। এটি স্থানীয় মানুষের সাহায্যে গড়ে তোলা একটি প্রামাণ্য নথি, যেখানে স্থানীয় জীবসম্পদের প্রাপ্তিসাধ্যতা, ব্যবহার এবং ঐতিহ্যবাহী পরম্পরাগত জ্ঞান লিপিবদ্ধ থাকে।
26. প্রজেক্ট টাইগার (Project Tiger) বা ব্যাঘ্র প্রকল্প কবে চালু হয়?
ভারতে বাঘ সংরক্ষণের জন্য ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল ভারত সরকার WWF-এর সহায়তায় প্রজেক্ট টাইগার চালু করে।
27. পশ্চিমবঙ্গের একটি ব্যাঘ্র প্রকল্পের নাম লেখো।
পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প (Sundarbans Tiger Reserve) রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য বিখ্যাত।
28. ভারতের কোথায় কোথায় একশৃঙ্গ গন্ডার সংরক্ষণ করা হয়?
আসামের কাজিরাঙা (Kaziranga) এবং পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া ও গোরুমারা জাতীয় উদ্যানে একশৃঙ্গ গন্ডার সংরক্ষণ করা হয়।
29. এশীয় সিংহ (Asiatic Lion) ভারতের কোথায় সংরক্ষণ করা হয়?
বর্তমানে এশীয় সিংহ শুধুমাত্র গুজরাটের গির অরণ্যে (Gir National Park) প্রাকৃতিক পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়।
30. কুমির (Crocodile) সংরক্ষণের দুটি কেন্দ্রের নাম লেখো।
ওড়িশার ভিতরকণিকা (Bhitarkanika) এবং পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের লোহিয়ান দ্বীপ কুমির সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত।
31. রেড পান্ডা (Red Panda) কোথায় পাওয়া যায়?
রেড পান্ডা পূর্ব হিমালয় অঞ্চলে বিশেষত নেপাল, ভুটান, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এবং দার্জিলিংয়ের ২২০০-৪৮০০ ফুট উচ্চতায় দেবদারু ও বাঁশবাগানে পাওয়া যায়।
32. রেড পান্ডা বিপন্ন হওয়ার প্রধান কারণ কী?
পরিবেশ নষ্ট হওয়ার ফলে এদের প্রধান খাদ্য বাঁশজাতীয় গাছের সংখ্যা হ্রাস এবং এদের সুন্দর লোমযুক্ত চামড়ার জন্য চোরাশিকারিদের দ্বারা হত্যাই রেড পান্ডা কমার প্রধান কারণ।
33. রেড পান্ডা প্রজেক্ট কোথায় চালু করা হয়েছে?
ভারত সরকারের WWF-এর তত্ত্বাবধানে সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এবং দার্জিলিঙের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্কে রেড পান্ডা প্রজেক্ট চালু করা হয়েছে।
34. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে PBR-এর ভূমিকা কী?
PBR স্থানীয় মানুষকে জীবসম্পদের গুরুত্ব বোঝায়, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান সংরক্ষণ করে এবং সম্পদগুলির সুষম ব্যবহারে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় ভূমিকা নেয়।
35. সুন্দরবন কী কী সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত?
সুন্দরবন মূলত রয়েল বেঙ্গল টাইগার (বাঘ), মোহনার কুমির, এবং ম্যানগ্রোভ (সুন্দরী, গরাণ, গেঁওয়া) উদ্ভিদের ইন-সিটু সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত। এটি একটি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ।
36. WWF-এর সম্পূর্ণ নাম কী? এর কাজ কী?
WWF-এর সম্পূর্ণ নাম World Wide Fund for Nature। এটি বিশ্বজুড়ে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণে অর্থ, পরিকল্পনা এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।
37. বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং কীভাবে জীববৈচিত্র্য হ্রাস করছে?
গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে (সুন্দরবনের দ্বীপগুলি তলিয়ে যাচ্ছে), জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে এবং মেরুভল্লুক, পেঙ্গুইন ও বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ বিপন্ন হচ্ছে।
38. পরাশ্রয়ী বা কো-এক্সটিংকশন (Co-extinction) কী?
প্রকৃতিতে একটি প্রজাতি অবলুপ্ত হলে তার ওপর নির্ভরশীল অন্য প্রজাতিটিও যদি খাদ্যাভাবে বা অন্য কারণে অবলুপ্ত হয়, তাকে কো-এক্সটিংকশন বলে।
39. বোটানিক্যাল গার্ডেনে কী সংরক্ষণ করা হয়?
বোটানিক্যাল গার্ডেনে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে আনা বিপন্ন ও দুর্লভ প্রজাতির উদ্ভিদগুলিকে কৃত্রিম পরিবেশে সযত্নে সংরক্ষণ ও প্রজনন করানো হয় (এক্স-সিটু)।
40. ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যানের নাম কী? এটি কোথায় অবস্থিত?
ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান হল জিম করবেট জাতীয় উদ্যান (Jim Corbett National Park)। এটি উত্তরাখণ্ড রাজ্যে অবস্থিত এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)
10 টি1. জীববৈচিত্র্য (Biodiversity) কাকে বলে? জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
জীববৈচিত্র্য:
বিজ্ঞানী ওয়াল্টার রোসেনের (১৯৮৫) মতে, বিভিন্ন প্রকার বাস্তুতন্ত্রে বা পরিবেশে জিনের, প্রজাতির এবং বাস্তুতন্ত্রের যে বিভিন্নতা বা বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে একত্রে জীববৈচিত্র্য বলে।
জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণ:
- বাসস্থানের বিনাশ ও খণ্ডন: জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষিকাজ, শিল্পস্থাপন এবং নগরায়ণের জন্য নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে। জঙ্গল কেটে রাস্তা বা রেললাইন তৈরির ফলে প্রাণীদের বাসস্থান খণ্ডিত হচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মূল কারণ।
- চোরাশিকার ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার: লোম, চামড়া, দাঁত, শিং, হাড় ও মাংসের লোভে বাঘ, গন্ডার, হাতি, হরিণ প্রভৃতি বন্যপ্রাণীকে বেআইনিভাবে হত্যা করা হচ্ছে। অত্যধিক ব্যবহারের ফলে ভেষজ উদ্ভিদও হারিয়ে যাচ্ছে।
- বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশ: বাইরে থেকে আনা উদ্ভিদ (কচুরিপানা, পার্থেনিয়াম, ল্যান্টানা) বা প্রাণী (তেলাপিয়া, আফ্রিকান মাগুর) দেশীয় প্রজাতির সাথে খাদ্য ও বাসস্থানের প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে দেশীয় প্রজাতিকে ধ্বংস করছে।
- দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন: বায়ু, জল ও মাটি দূষণের ফলে বহু প্রাণী ও উদ্ভিদের মৃত্যু হচ্ছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং মেরু অঞ্চলের প্রাণীরা বিপন্ন।
2. ইন-সিটু (In-situ) এবং এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে? এদের মধ্যে পার্থক্যগুলি সারণির সাহায্যে দেখাও।
ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণ:
- ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণ: বিপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীকে তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানের মধ্যেই (যেমন- বন বা জঙ্গলে) সযত্নে সংরক্ষণ করাকে ইন-সিটু বা স্বস্থানিক সংরক্ষণ বলে। উদাহরণ: জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য।
- এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ: বিপন্ন জীবকে তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে মানুষের কৃত্রিম তত্ত্বাবধানে বিশেষ পরিবেশে সংরক্ষণ করাকে এক্স-সিটু বা অস্থানিক সংরক্ষণ বলে। উদাহরণ: চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ক্রায়োসংরক্ষণ।
পার্থক্য:
| বিষয় | ইন-সিটু সংরক্ষণ | এক্স-সিটু সংরক্ষণ |
|---|
| সংরক্ষণের স্থান | জীবের নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে সংরক্ষণ করা হয়। | প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়। |
| পরিসর | এর পরিসর অত্যন্ত বৃহৎ (পুরো বনাঞ্চল)। | এর পরিসর তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র। |
| উদ্দেশ্য | সমগ্র বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করা। | শুধুমাত্র বিপন্ন বা নির্দিষ্ট প্রজাতিকে বাঁচানো ও প্রজনন ঘটানো। |
| উদাহরণ | সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান, জলদাপাড়া অভয়ারণ্য। | আলিপুর চিড়িয়াখানা, শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন। |
3. বায়োডাইভারসিটি হটস্পট (Biodiversity Hotspot) কাকে বলে? হটস্পট নির্ধারণের শর্তগুলি কী কী? ভারতের হটস্পটগুলির নাম লেখো।
হটস্পট:
ব্রিটিশ পরিবেশবিদ নরম্যান মায়ার্স (১৯৮৮) প্রথম হটস্পট ধারণার প্রবর্তন করেন। পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে সর্বাধিক সংখ্যক এন্ডেমিক (স্থানিক) প্রজাতি বাস করে এবং যেসব অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য মানুষের ক্রিয়াকলাপের ফলে চরম ধ্বংসের মুখে, সেই সর্বাধিক জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চলগুলিকে বায়োডাইভারসিটি হটস্পট বলে।
হটস্পট নির্ধারণের শর্ত:
- অঞ্চলটিতে প্রচুর পরিমাণে এন্ডেমিক প্রজাতি (Endemic species - যা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না) থাকতে হবে। (অন্তত ১৫০০ টি এন্ডেমিক সংবহনকলাযুক্ত উদ্ভিদ থাকতে হবে)।
- অঞ্চলটির জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত বিপন্ন বা মানুষের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে (অন্তত ৭০% আদি বাসস্থান নষ্ট হয়ে থাকতে হবে)।
ভারতের হটস্পট:
সারা বিশ্বের ৩৬টি হটস্পটের মধ্যে ৪টি ভারতে অবস্থিত: ১. পূর্ব হিমালয় হটস্পট (সিকিম, দার্জিলিং, অরুণাচল), ২. পশ্চিমঘাট পর্বত ও শ্রীলঙ্কা হটস্পট, ৩. ইন্দো-বার্মা হটস্পট (উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশ), ৪. সুন্দাল্যান্ড হটস্পট (আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ)।
4. JFM (Joint Forest Management) কী? জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে JFM এর ভূমিকা আলোচনা করো।
JFM (যৌথ বন ব্যবস্থাপনা):
JFM-এর পুরো নাম Joint Forest Management। ১৯৭১ সালে ভারত সরকারের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার আরাবারি (Arabari) অরণ্যের নষ্ট হয়ে যাওয়া শাল গাছ পুনরুদ্ধারের জন্য এই প্রকল্প শুরু হয়। এর মূল কথা হল, বনদপ্তরের সাথে স্থানীয় বনবাসী মানুষদের যৌথ উদ্যোগে ধ্বংসের হাত থেকে অরণ্যকে বাঁচানো এবং তার সঠিক ব্যবস্থাপনা করা।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে JFM-এর ভূমিকা:
- অরণ্য সুরক্ষা: বনদপ্তর একা বিশাল অরণ্য পাহারা দিতে পারে না। স্থানীয় মানুষের সাহায্যে চোরাশিকারি এবং বেআইনি কাঠকাটা বন্ধ করে বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
- বনায়ন বা বৃক্ষরোপণ: ফাঁকা জমিতে নতুন করে গাছ লাগিয়ে বনের ঘনত্ব বাড়ানো হয়, যা বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তোলে।
- দাবানল প্রতিরোধ: গ্রীষ্মকালে বনে আগুন (দাবানল) লাগলে স্থানীয় মানুষের সাহায্যে দ্রুত তা নেভানোর ব্যবস্থা করা হয়, ফলে বহু প্রাণীর প্রাণ বাঁচে।
- আর্থিক সুবিধা: অরণ্য রক্ষার বিনিময়ে বনদপ্তর স্থানীয় মানুষদের বনজ সম্পদ (যেমন- মধু, মোম, শালপাতা, শুষ্ক ডালপালা) সংগ্রহের অধিকার দেয় এবং কাঠ বিক্রির লভ্যাংশের একটি অংশ প্রদান করে, ফলে তারা অরণ্য রক্ষায় আরও উৎসাহিত হয়।
5. PBR (People's Biodiversity Register) কী? জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে PBR এর গুরুত্ব লেখো।
PBR:
PBR-এর পুরো নাম People's Biodiversity Register। ২০০২ সালের জীববৈচিত্র্য আইন অনুযায়ী স্থানীয় স্তরে (যেমন- পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপ্যালিটি) স্থানীয় মানুষদের সহায়তায় গড়ে তোলা একটি প্রামাণ্য বা লিখিত নথি হল PBR। এতে স্থানীয় অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবসম্পদ, তাদের ব্যবহার এবং সেই সংক্রান্ত পরম্পরাগত বা ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান (Traditional knowledge) বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ থাকে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে PBR-এর গুরুত্ব:
- সম্পদের তালিকাভুক্তিকরণ: কোনো এলাকায় কত প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী আছে, কোনটি বিপন্ন এবং কোনটি বিলুপ্তপ্রায়, তার সঠিক তথ্য PBR থেকে পাওয়া যায়। ফলে সংরক্ষণের সঠিক পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
- ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের সংরক্ষণ: স্থানীয় উপজাতি বা বয়স্ক মানুষদের ভেষজ উদ্ভিদ বা বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান থাকে যা হারিয়ে যেতে বসেছে। PBR সেই অমূল্য জ্ঞানকে নথিবদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করে।
- বাণিজ্যিক শোষণে বাধা: কোনো বহুজাতিক কোম্পানি যাতে স্থানীয় সম্পদের (বায়োপাইরেসি) বেআইনি পেটেন্ট বা অধিকার নিতে না পারে, তার আইনি প্রমাণ হিসেবে PBR কাজ করে।
- সচেতনতা বৃদ্ধি: PBR তৈরির সময় স্থানীয় মানুষ নিজেদের সম্পদের গুরুত্ব বুঝতে পারে, ফলে তারা নিজেরাই জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতন ও উদ্যোগী হয়।
6. ভারতের প্রজেক্ট টাইগার (Project Tiger) সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো। বাঘ সংরক্ষণের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
প্রজেক্ট টাইগার:
ভারতে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের (Panthera tigris) সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায়, ভারত সরকার ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল WWF (World Wide Fund for Nature)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাঘ সংরক্ষণের জন্য যে বিশেষ প্রকল্প চালু করে, তাকে 'প্রজেক্ট টাইগার' বা ব্যাঘ্র প্রকল্প বলে। বর্তমানে ভারতে ৫০টিরও বেশি টাইগার রিজার্ভ রয়েছে, যার মধ্যে সুন্দরবন, করবেট, কানহা, রণথম্বোর অন্যতম।
বাঘ সংরক্ষণের ব্যবস্থা:
- কোর এরিয়া সংরক্ষণ: টাইগার রিজার্ভের কোর বা ভেতরের অঞ্চলে মানুষের প্রবেশ, পশুচারণ এবং কাঠ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে বাঘেরা নিশ্চিন্তে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
- চোরাশিকার বন্ধ: বাঘের চামড়া, হাড় বা দাঁতের লোভে চোরাশিকার বন্ধ করতে কড়া আইন প্রণয়ন এবং বনরক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
- খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখা: বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ, বুনো শুয়োর ইত্যাদির সংখ্যা যাতে ঠিক থাকে তার জন্য তৃণভূমির উন্নতি করা হয়েছে।
- জল ও চিকিৎসার ব্যবস্থা: গ্রীষ্মকালে পানীয় জলের জন্য কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করা এবং অসুস্থ বাঘের জন্য উন্নত পশু চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে ভারতে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
7. একশৃঙ্গ গন্ডার (One-horned Rhino) সংরক্ষণে ভারত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলি আলোচনা করো। গন্ডার বিপন্ন হওয়ার কারণ কী?
গন্ডার বিপন্ন হওয়ার কারণ:
গন্ডার বিপন্ন হওয়ার প্রধান কারণ হল এর 'খড়্গ' বা শিং। মানুষের একটি অন্ধবিশ্বাস আছে যে গন্ডারের খড়্গের ওষধি গুণ রয়েছে বা এটি থেকে যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরি হয়। এই অমূলক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে চোরাশিকারিরা ব্যাপক হারে গন্ডার হত্যা করেছে। এছাড়া বাসস্থানের অভাব এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও গন্ডার কমার কারণ।
গন্ডার সংরক্ষণে পদক্ষেপ (Project Rhino):
ভারত সরকার ১৯৮৭ সালে গন্ডার সংরক্ষণের জন্য 'প্রজেক্ট রাইনো' চালু করে। ভারতের আসামের কাজিরাঙা (Kaziranga), মানস এবং পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া ও গোরুমারা জাতীয় উদ্যানে গন্ডার সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
১. কড়া নজরদারি: গন্ডার শিকার বন্ধ করার জন্য আধুনিক অস্ত্র ও ওয়্যারলেস যুক্ত বনরক্ষী বা অ্যান্টি-পোচিং সেল গঠন করা হয়েছে।
২. বাসস্থান ও খাদ্য: গন্ডাররা মূলত লম্বা ঘাস (এলিফ্যান্ট গ্রাস) খেতে ভালোবাসে। তাদের জন্য উপযুক্ত চারণভূমি ও কাদা জলের জলাশয় রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
৩. ইন্ডিয়ান রাইনো ভিশন ২০২০ (IRV 2020): এই প্রকল্পের মাধ্যমে আসামে গন্ডারের সংখ্যা ৩০০০ এ নিয়ে যাওয়ার এবং বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলে তাদের ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা অত্যন্ত সফল হয়েছে।
8. রেড পান্ডা (Red Panda) প্রজেক্ট কী? রেড পান্ডা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং সংরক্ষণের উপায়গুলি লেখো।
রেড পান্ডা প্রজেক্ট:
রেড পান্ডা (Ailurus fulgens) পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের (সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ, দার্জিলিং) ২২০০-৪৮০০ ফুট উচ্চতার দেবদারু ও বাঁশবাগানের একটি চরম বিপন্ন প্রজাতি। এদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় ভারত সরকার WWF-এর তত্ত্বাবধানে 'রেড পান্ডা প্রজেক্ট' চালু করেছে। দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জিওলজিক্যাল পার্কে এদের কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে পরে জঙ্গলে ছাড়া হচ্ছে।
বিপন্ন হওয়ার কারণ ও সংরক্ষণের উপায়:
বিপন্ন হওয়ার কারণ: ১. রেড পান্ডার প্রধান খাদ্য বাঁশপাতা। পাহাড়ি জঙ্গলে বাঁশগাছ কেটে ফেলার জন্য এরা খাদ্যাভাবে মারা যাচ্ছে। ২. এদের সুন্দর লোমযুক্ত চামড়ার জন্য (টুপি, ব্যাগ তৈরিতে) মানুষ এদের হত্যা করছে। ৩. কুকুর ঘটিত রোগ (ক্যানাইন ডিস্টেম্পার) জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ায় এদের মৃত্যু হচ্ছে।
সংরক্ষণের উপায়: ১. রেড পান্ডার বাসস্থানে প্রচুর পরিমাণে বাঁশগাছ ও দেবদারু গাছ লাগানো। ২. চোরাশিকার বন্ধ করতে কড়া আইন প্রয়োগ করা। ৩. এক্স-সিটু পদ্ধতিতে চিড়িয়াখানায় প্রজনন ঘটিয়ে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। ৪. বন্য কুকুরদের জঙ্গলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।
9. ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation) বলতে কী বোঝো? ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণে জাতীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার ভূমিকা লেখো।
ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation):
এটি একটি আধুনিক এক্স-সিটু সংরক্ষণ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় (সাধারণত তরল নাইট্রোজেনের সাহায্যে -১৯৬°C তাপমাত্রায়) বিপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর সজীব কোশ, কলা, পরাগরেণু, বীজ, শুক্রাণু বা ডিম্বাণুকে অবিকৃত অবস্থায় দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। একে জিন ব্যাঙ্ক (Gene bank) ও বলা হয়। প্রয়োজনে এই সংরক্ষিত কোশ থেকে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে নতুন জীব সৃষ্টি করা যায়।
জাতীয় উদ্যানের ভূমিকা (In-situ):
জাতীয় উদ্যান (যেমন- করবেট, গোরুমারা) হল কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রিত একটি বিশাল বনাঞ্চল যেখানে কোনো মানুষের কার্যকলাপ বা শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এখানে উদ্ভিদ ও প্রাণীরা তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে স্বাধীনভাবে খাদ্য সংগ্রহ ও প্রজনন করে। এর ফলে পুরো বাস্তুতন্ত্রটিই সংরক্ষিত হয়।
চিড়িয়াখানার ভূমিকা (Ex-situ):
চিড়িয়াখানা (যেমন- আলিপুর চিড়িয়াখানা) হল কৃত্রিমভাবে তৈরি করা বাসস্থান। বন্য পরিবেশে যে প্রাণীটি খাদ্যের অভাবে বা চোরাশিকারির ভয়ে মারা যেতে পারে, তাকে চিড়িয়াখানায় এনে সযত্নে খাবার ও চিকিৎসা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়। এছাড়া এখানে কৃত্রিম প্রজনন (Captive breeding) ঘটিয়ে বিপন্ন প্রাণীর সংখ্যা বাড়ানো হয়।
10. মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এবং পরিবেশ রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের তিনটি প্রধান গুরুত্ব (Importance) আলোচনা করো।
জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব:
মানুষ এবং পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব অপরিসীম। এর তিনটি প্রধান গুরুত্ব নীচে আলোচনা করা হল:
- খাদ্য ও কৃষিজ সম্পদের উৎস: মানুষ তার প্রয়োজনীয় সমস্ত খাদ্য (যেমন- ধান, গম, ফল, সবজি, মাছ, মাংস) জীববৈচিত্র্য থেকেই লাভ করে। বন্য প্রজাতির উদ্ভিদ থেকে সংকরায়ণের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী নতুন শস্যের জাত তৈরি করা হয়। জীববৈচিত্র্য না থাকলে খাদ্যাভাব দেখা দেবে।
- ওষুধ ও ভেষজ সম্পদ প্রস্তুত: আধুনিক চিকিৎসার বহু জীবনদায়ী ওষুধ উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে তৈরি হয়। যেমন- সিঙ্কোনা গাছ থেকে ম্যালেরিয়ার ওষুধ 'কুইনাইন', সর্পগন্ধা থেকে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ 'রেসারপিন', এবং নয়নতারা থেকে ক্যানসারের ওষুধ (ভিনক্রিস্টিন) পাওয়া যায়। বহু জীবাণু থেকে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয়।
- বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: জীববৈচিত্র্য খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালকে অটুট রেখে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে। গাছপালা সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে বাতাসে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সামঞ্জস্য রক্ষা করে, বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global warming) রোধ করে এবং বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে। পরাগযোগের জন্য কীটপতঙ্গ ও পাখি অপরিহার্য। একটি প্রজাতি ধ্বংস হলে পুরো বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়তে পারে।
মনে রেখো!
ইন-সিটু সংরক্ষণ: প্রাকৃতিক বাসস্থানে (জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য)।
এক্স-সিটু সংরক্ষণ: কৃত্রিম পরিবেশে (চিড়িয়াখানা, ক্রায়োসংরক্ষণ -১৯৬°C)।
JFM (১৯৭১): আরাবারি অরণ্য, শালগাছ পুনরুদ্ধার। PBR: স্থানীয় জীবসম্পদের প্রামাণ্য নথি।
বিপন্ন প্রাণী: বাঘ (সুন্দরবন), গন্ডার (কাজিরাঙা, জলদাপাড়া), সিংহ (গির), রেড পান্ডা (সিকিম, দার্জিলিং)।