Chapter 2.C: সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন

ফুলের গঠন, পরাগযোগ (স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগ), নিষেক প্রক্রিয়া, ফল ও বীজের সৃষ্টি | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 03 May 2026 Last Update: 30 May 2026
Chapter 2.C: সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন | Madhyamik Life Science

Chapter 2.C: সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 40 MCQ | 40 SAQ | 10 Broad Questions

ফুলের গঠন পরাগযোগ নিষেক দ্বিনিষেক বায়ুপরাগী ফল ও বীজ
🌸

ফুল ও পরাগযোগ

বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক, স্ত্রীস্তবক ও পরাগযোগের প্রকারভেদ

🍎

নিষেক ও ফলায়ন

পরাগনালি, দ্বিনিষেক, জাইগোট, সস্য ও ফল-বীজ গঠন

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

40 টি
1. সপুষ্পক উদ্ভিদের জনন অঙ্গ কী?
ক) মূল
খ) কাণ্ড
গ) পাতা
ঘ) ফুল
2. একটি সম্পূর্ণ ফুলের স্তবক সংখ্যা কয়টি?
ক) 2
খ) 3
গ) 4
ঘ) 5
3. ফুলের প্রথম স্তবক কোনটি?
ক) দলমণ্ডল
খ) বৃতি (Calyx)
গ) পুংস্তবক
ঘ) স্ত্রীস্তবক
4. বৃতির প্রতিটি অংশকে কী বলে?
ক) পাপড়ি
খ) দল
গ) বৃত্যংশ (Sepal)
ঘ) পরাগধানী
5. দলমণ্ডলের প্রধান কাজ কী?
ক) সালোকসংশ্লেষ
খ) পরাগযোগের জন্য পতঙ্গ আকর্ষণ
গ) জল শোষণ
ঘ) খাদ্য সঞ্চয়
6. ফুলের পুংজনন অঙ্গকে কী বলে?
ক) গর্ভপত্র
খ) পুংস্তবক (Androecium)
গ) স্ত্রীস্তবক
ঘ) দলমণ্ডল
7. পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে কী বলে?
ক) গর্ভপত্র
খ) পুংকেশর (Stamen)
গ) বৃত্যংশ
ঘ) গর্ভমুণ্ড
8. পুংকেশরের শীর্ষস্থিত অংশটিকে কী বলে?
ক) পুংদণ্ড
খ) পরাগধানী (Anther)
গ) গ] গর্ভদণ্ড
ঘ) ঘ] গর্ভমুণ্ড
9. ফুলের স্ত্রীজনন অঙ্গকে কী বলে?
ক) পুংস্তবক
খ) দলমণ্ডল
গ) স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশরচক (Gynoecium)
ঘ) ] বৃতি
10. স্ত্রীস্তবকের এক-একটি অংশকে কী বলে?
ক) পুংকেশর
খ) গর্ভপত্র বা কার্পেল (Carpel)
গ) পাপড়ি
ঘ) বৃত্যংশ
11. গর্ভপত্রের কয়টি অংশ?
ক) 2
খ) 3
গ) 4
ঘ) 5
12. গর্ভাশয়ের মধ্যে কী থাকে?
ক) পরাগরেণু
খ) পাপড়ি
গ) ডিম্বক (Ovule)
ঘ) বৃত্যংশ
13. পরাগধানী থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরকে কী বলে?
ক) নিষেক
খ) পরাগযোগ বা পরাগায়ন (Pollination)
গ) অঙ্কুরোদ্গম
ঘ) ফলায়ন
14. পরাগযোগ প্রধানত কত প্রকার?
ক) এক
খ) দুই
গ) তিন
ঘ) চার
15. স্বপরাগযোগ (Self pollination) কাকে বলে?
ক) একই ফুলের বা একই গাছের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পরাগযোগ
খ) ভিন্ন গাছের ফুলে পরাগযোগ
গ) বায়ুর মাধ্যমে পরাগযোগ
ঘ) জলের মাধ্যমে পরাগযোগ
16. ইতর পরাগযোগ (Cross pollination) কাকে বলে?
ক) একই ফুলে পরাগযোগ
খ) খ] একই গাছের ভিন্ন ফুলে পরাগযোগ
গ) একই প্রজাতির ভিন্ন গাছের ফুলে পরাগযোগ
ঘ) ঘ] ভিন্ন প্রজাতির ফুলে পরাগযোগ
17. নীচের কোনটি স্বপরাগযোগী ফুলের উদাহরণ?
ক) তাল
খ) পেঁপে
গ) শিম
ঘ) ঘ] লাউ
18. নীচের কোনটি ইতর পরাগযোগী ফুলের উদাহরণ?
ক) টম্যাটো
খ) শিম
গ) পেঁপে
ঘ) ঘ] সন্ধ্যামালতি
19. ইতর পরাগযোগের প্রধান বাহক কোনটি নয়?
ক) বায়ু
খ) পতঙ্গ
গ) মাটি
ঘ) জল
20. বায়ুপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য কী?
ক) বড়, রঙিন ও গন্ধযুক্ত
খ) ক্ষুদ্র, বর্ণহীন ও গন্ধহীন
গ) মধুগ্রন্থি থাকে
ঘ) ঘ] পাপড়ি বড়
21. জলপরাগী ফুলের উদাহরণ কোনটি?
ক) গম
খ) আম
গ) পাতাঝাঁঝি বা কচুরিপানা
ঘ) ঘ] গোলাপ
22. পতঙ্গপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য কী?
ক) বর্ণহীন
খ) ক্ষুদ্র
গ) রঙিন, গন্ধযুক্ত ও মধুগ্রন্থিযুক্ত
ঘ) ঘ] পরাগরেণু হালকা
23. নিষেক (Fertilization) কাকে বলে?
ক) পরাগরেণুর গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর
খ) পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলন
গ) বীজের অঙ্কুরোদ্গম
ঘ) ঘ] ফুল ফোটা
24. পরাগরেণু থেকে পরাগনালি (Pollen tube) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
ক) বাতাসের চাপে
খ) খ] গর্ভমুণ্ড নিঃসৃত রস শোষণ করে
গ) গ] রোদের তাপে
ঘ) ঘ] জলের সংস্পর্শে
25. পরাগনালি গর্ভপত্রের কোন অংশ দিয়ে ডিম্বকে প্রবেশ করে?
ক) গর্ভমুণ্ড
খ) গর্ভদণ্ড
গ) গর্ভাশয় (Ovary)
ঘ) ঘ] বৃতি
26. পরাগনালিতে কয়টি পুংজনন কোশ (Male gamete) সৃষ্টি হয়?
ক) 1
খ) 2
গ) 3
ঘ) 4
27. ভ্রূণথলির (Embryo sac) কেন্দ্রে কয়টি সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস (2n) থাকে?
ক) একটি
খ) দুটি
গ) তিনটি
ঘ) চারটি
28. একটি পুংজনন কোশ ডিম্বাণু (n) কে নিষিক্ত করলে কী সৃষ্টি হয়?
ক) সস্য (Endosperm)
খ) জাইগোট (2n)
গ) ভ্রূণ (Embryo)
ঘ) ঘ] ফল
29. দ্বিনিষেক (Double fertilization) প্রক্রিয়ায় সস্য (3n) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
ক) পুংজনন কোশ + ডিম্বাণু
খ) দ্বিতীয় পুংজনন কোশ + সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস (2n)
গ) সহকারী কোশ + পুংজনন কোশ
ঘ) ঘ] প্রতিপাদ কোশ + ডিম্বাণু
30. নিষেকের পর জাইগোট থেকে কী সৃষ্টি হয়?
ক) ফল
খ) ভ্রূণ (Embryo)
গ) সস্য
ঘ) ঘ] বীজত্বক
31. নিষেকের পর ডিম্বক (Ovule) কী গঠন করে?
ক) ফল
খ) বীজ (Seed)
গ) ফুল
ঘ) ঘ] পাপড়ি
32. নিষেকের পর গর্ভাশয় (Ovary) কী গঠন করে?
ক) বীজ
খ) সস্য
গ) ফল (Fruit)
ঘ) ঘ] পুংকেশর
33. বায়ুপরাগী ফুলে পরাগরেণুর বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ভারী ও আঠালো
খ) হালকা, ক্ষুদ্র ও মসৃণ
গ) বড় ও কাঁটাযুক্ত
ঘ) ঘ] রঙিন
34. পতঙ্গপরাগী ফুলে গর্ভমুণ্ড কেমন হয়?
ক) রোমশ, পক্ষল ও আঠালো
খ) মসৃণ
গ) লম্বা বায়বীয়
ঘ) ঘ] শুকনো
35. ফুলের কোন অংশটি ফল গঠন করে?
ক) বৃতি
খ) পাপড়ি
গ) গর্ভাশয়
ঘ) পুংকেশর
36. স্বপরাগযোগের একটি অসুবিধা কী?
ক) নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে
খ) অপত্য উদ্ভিদ দুর্বল প্রকৃতির হয়
গ) জাতের উন্নতি ঘটে
ঘ) ঘ] বাহক প্রয়োজন হয়
37. ইতর পরাগযোগের একটি গুরুত্ব কী?
ক) দুর্বল অপত্য সৃষ্টি
খ) অভিযোজন ক্ষমতা হ্রাস
গ) উৎকৃষ্ট মানের ফল ও বীজ উৎপন্ন হয়
ঘ) ঘ] বাহক লাগে না
38. পাখির মাধ্যমে পরাগযোগী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কী?
ক) গন্ধযুক্ত
খ) উজ্জ্বল লাল রঙের ফুল ও প্রচুর মধু
গ) বর্ণহীন
ঘ) ঘ] পরাগরেণু শুষ্ক
39. ভ্রূণথলির ডিম্বাণু ও সহকারী কোশ অবস্থান করে কোথায়?
ক) নীচের দিকে
খ) ওপরের দিকে (মাইক্রোপাইলার প্রান্তে)
গ) মাঝখানে
ঘ) ঘ] পাশে
40. নিষেকের পর গর্ভমুণ্ড ও গর্ভদণ্ডের কী ঘটে?
ক) ফলে পরিণত হয়
খ) সাধারণত শুকিয়ে ঝরে যায়
গ) বীজে পরিণত হয়
ঘ) ঘ] চিরস্থায়ী হয়

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)

40 টি
1. সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন অঙ্গের নাম কী?
ফুল (Flower) হল সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন অঙ্গ।
2. একটি আদর্শ ফুলের চারটি স্তবকের নাম লেখো।
বৃতি (Calyx), দলমণ্ডল (Corolla), পুংস্তবক (Androecium) এবং স্ত্রীস্তবক (Gynoecium) হল ফুলের চারটি স্তবক।
3. বৃতির কাজ কী?
বৃতি ফুলের সবচেয়ে বাইরের সবুজ অংশ, যা ফুলের অভ্যন্তরের অংশগুলিকে (বিশেষত কুঁড়ি অবস্থায়) রক্ষা করে।
4. দলমণ্ডল বা পাপড়ির কাজ কী?
উজ্জ্বল বর্ণের দলমণ্ডল পরাগযোগের জন্য কীটপতঙ্গ ও পাখিদের আকর্ষণ করে।
5. পুংকেশরের গঠন কীরূপ?
প্রতিটি পুংকেশর দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: পুংদণ্ড (Filament) এবং পরাগধানী (Anther)। পরাগধানীতে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়।
6. স্ত্রীস্তবক বা গর্ভপত্র কাকে বলে?
এটি ফুলের কেন্দ্রস্থ স্ত্রীজনন অঙ্গ। প্রতিটি গর্ভপত্র গর্ভমুণ্ড, গর্ভদণ্ড ও গর্ভাশয় নিয়ে গঠিত।
7. পরাগযোগ বা পরাগায়ন (Pollination) কাকে বলে?
পরাগরেণু পরাগধানী থেকে মুক্ত হয়ে ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পরাগযোগ বা Pollination বলে।
8. স্বপরাগযোগ (Self pollination) কাকে বলে?
যখন কোনো ফুলের পরাগরেণু সেই ফুলের বা একই গাছের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়, তাকে স্বপরাগযোগ বলে। যেমন: শিম, টম্যাটো।
9. ইতর পরাগযোগ (Cross pollination) কাকে বলে?
একই প্রজাতির অন্য গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে পরাগরেণু পতিত হলে তাকে ইতর পরাগযোগ বলে। যেমন: তাল, পেঁপে।
10. ইতর পরাগযোগের বাহকগুলি কী কী?
বায়ু, জল, পতঙ্গ এবং পাখি ইতর পরাগযোগের প্রধান বাহক বা এজেন্ট।
11. বায়ুপরাগী ফুলের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
(i) ফুলগুলি ক্ষুদ্র, বর্ণহীন ও গন্ধহীন হয়। (ii) পরাগরেণু হালকা, ক্ষুদ্র ও শুষ্ক হয় যাতে বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
12. জলপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য কী?
জলপরাগী ফুল বর্ণহীন, গন্ধহীন ও ক্ষুদ্র হয় এবং পরাগরেণু হালকা হয়। যেমন- পাতাঝাঁঝি, কচুরিপানা।
13. পতঙ্গপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য কী?
এগুলি উজ্জ্বল বর্ণের, গন্ধযুক্ত ও মধুগ্রন্থিযুক্ত হয়। গর্ভমুণ্ড রোমশ ও আঠালো হয়। যেমন- গোলাপ, সূর্যমুখী।
14. নিষেক (Fertilization) কাকে বলে?
পুংজনন কোশ (Male gamete) এবং স্ত্রীজনন কোশের (Egg cell) মিলনকে নিষেক বা ফার্টিলাইজেশন বলে। এর ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।
15. পরাগনালি (Pollen tube) কী?
পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হলে গর্ভমুণ্ডের রস শোষণ করে পরাগরেণুর অন্তঃত্বক রেণুরন্ধ্র দিয়ে নলের আকারে বেরিয়ে আসে, একে পরাগনালি বলে।
16. দ্বিনিষেক (Double fertilization) কাকে বলে?
সপুষ্পক উদ্ভিদে যখন একটি পুংজনন কোশ ডিম্বাণুকে (জাইগোট) এবং অপরটি সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসকে (সস্য) নিষিক্ত করে, তখন তাকে দ্বিনিষেক বলে।
17. ভ্রূণ (Embryo) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
নিষেকের পর জাইগোট বারবার কোশ বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ গঠন করে। ভ্রূণই ভবিষ্যতে চারাগাছ হিসেবে বের হয়।
18. ফল ও বীজ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
নিষেকের পর ডিম্বক পরিণত হয়ে বীজ (Seed) গঠন করে এবং গর্ভাশয় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে ফল (Fruit) গঠন করে।
19. জাইগোট ও সস্যের মধ্যে পার্থক্য কী?
জাইগোট হল ডিম্বাণু ও পুংজনন কোশের মিলনে সৃষ্ট ডিপ্লয়েড (2n) কোশ। সস্য হল একটি পুংজনন কোশ ও সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের মিলনে সৃষ্ট ট্রিপ্লয়েড (3n) টিস্যু।
20. ইতর পরাগযোগের দুটি সুবিধা লেখো।
(i) উৎকৃষ্ট মানের ফল ও বীজ উৎপন্ন হয়। (ii) সৃষ্ট অপত্য উদ্ভিদের অভিযোজন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
21. স্বপরাগযোগের দুটি অসুবিধা লেখো।
(i) নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয় না। (ii) অপত্য উদ্ভিদ দুর্বল প্রকৃতির হয় এবং সহজেই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়।
22. পুংকেশরের পরাগধানীতে কী থাকে?
পরাগধানীর মধ্যে হলুদ রঙের অসংখ্য পরাগরেণু (Pollen grains) থাকে।
23. গর্ভাশয়ের মধ্যে কী থাকে?
গর্ভাশয়ের মধ্যে অসংখ্য ডিম্বক (Ovule) থাকে, এবং প্রতিটি ডিম্বকের মধ্যে একটি করে ডিম্বাণু (Egg cell) থাকে।
24. পুংদণ্ড ও পরাগধানী কী?
পুংকেশরের সরু দীর্ঘ অংশটিকে পুংদণ্ড (Filament) এবং এর শীর্ষস্থিত স্ফীত অংশকে পরাগধানী বলে। পরাগধানীতে পরাগরেণু সৃষ্টি হয়।
25. গর্ভমুণ্ডের কাজ কী?
গর্ভমুণ্ড গর্ভপত্রের শীর্ষের আঠালো অংশ। এটি পরাগরেণু আটকে রাখে ও পরাগরেণুর অঙ্কুরোদ্গমে সাহায্য করে।
26. প্রতিটি ডিম্বকে কয়টি স্ত্রীজনন কোশ থাকে?
প্রতিটি ডিম্বকের মধ্যে একটি করে স্ত্রীজনন কোশ বা ডিম্বাণু (Egg cell) থাকে।
27. পরাগযোগের প্রয়োজনীয়তা কী?
পরাগযোগ না ঘটলে পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলন (নিষেক) সম্ভব নয়, ফলে ফল ও বীজ সৃষ্টি ব্যাহত হয়। তাই বংশবিস্তারের জন্য পরাগযোগ অপরিহার্য।
28. উভলিঙ্গ ফুল কাকে বলে?
যে ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক উভয়ই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল বলে। যেমন: শিম, টম্যাটো।
29. একলিঙ্গ ফুল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে ফুলে শুধু পুংস্তবক বা শুধু স্ত্রীস্তবক থাকে, তাকে একলিঙ্গ ফুল বলে। যেমন: তাল, পেঁপে, লাউ।
30. পক্ষীপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য কী?
পক্ষীপরাগী ফুল উজ্জ্বল লাল বা কমলা রঙের হয়, গন্ধহীন হয় কিন্তু প্রচুর পাতলা মধু সঞ্চয় করে। যেমন- মধুমালতি।
31. সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস (Secondary nucleus) কী?
ভ্রূণথলির মাঝখানে অবস্থিত দুটি পোলার নিউক্লিয়াস পরস্পর মিলে যে ডিপ্লয়েড (2n) নিউক্লিয়াস গঠন করে, তাকে সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস বা নির্গত নিউক্লিয়াস বলে।
32. সস্য (Endosperm) কী? এর কাজ কী?
দ্বিনিষেকের ফলে সৃষ্ট ট্রিপ্লয়েড (3n) টিস্যুকে সস্য বলে। এটি ভ্রূণের পুষ্টি সরবরাহ করে।
33. ফুল ফোটার আগে বৃতি ও দলমণ্ডলের ভূমিকা কী?
ফুল ফোটার আগে বা কুঁড়ি অবস্থায় বৃতি ও দলমণ্ডল ভিতরের পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবককে রক্ষা করে।
34. ইতর পরাগযোগের অসুবিধা কী?
ইতর পরাগযোগের প্রধান অসুবিধা হল বাহকের উপর নির্ভর করতে হয়। বাহক না থাকলে পরাগযোগ বিঘ্নিত হয় এবং প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হতে পারে।
35. সপুষ্পক উদ্ভিদে পুংজনন কোশ কয়টি ও কীভাবে সৃষ্টি হয়?
পরাগরেণু থেকে পরাগনালি সৃষ্টির পর এর মধ্যে থাকা নিউক্লিয়াস বিভক্ত হয়ে দুটি পুংজনন কোশ (Male gametes) গঠন করে।
36. পরাগযোগ ও নিষেক কি একই জিনিস?
না। পরাগযোগ হল পরাগরেণুর গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর; অপরদিকে নিষেক হল পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে জাইগোট সৃষ্টির প্রক্রিয়া।
37. স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের মধ্যে একটি মূল পার্থক্য কী?
স্বপরাগযোগ একই ফুলে বা একই গাছের ফুলে ঘটে এবং বাহক প্রয়োজন হয় না; কিন্তু ইতর পরাগযোগ ভিন্ন গাছের ফুলের মধ্যে ঘটে এবং বাহকের প্রয়োজন হয়।
38. বায়ুপরাগী ফুলের গর্ভমুণ্ড কেমন হয়?
বায়ুপরাগী ফুলের গর্ভমুণ্ড বৃহৎ, পক্ষল (পালকের মতো) ও আঠালো হয়, যাতে বাতাসে ভাসা পরাগরেণু সহজেই আটকে যেতে পারে।
39. জাইগোট ও ভ্রূণের সম্পর্ক কী?
জাইগোট হল নিষিক্ত ডিম্বাণু (একটি কোশ)। জাইগোট বারবার মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ গঠন করে।
40. পুংগ্যামেট ও ডিম্বাণুর মিলনে কী সৃষ্টি হয়?
পুংগ্যামেট ও ডিম্বাণুর (n+n) মিলনে সৃষ্ট জাইগোট (2n) হয়, যা থেকে ভ্রূণ গঠিত হয়।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)

10 টি
1. একটি আদর্শ ফুলের বিভিন্ন অংশের গঠন ও কাজ বর্ণনা করো। (চিত্রসহ)

ফুলের গঠন ও কাজ:

ফুল হল সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন অঙ্গ। একটি আদর্শ ফুলে চারটি স্তবক থাকে।

  1. বৃতি (Calyx): সবুজ বৃত্যংশ দিয়ে গঠিত। কাজ: কুঁড়ি অবস্থায় ফুলকে রক্ষা করে।
  2. দলমণ্ডল (Corolla): রঙিন পাপড়ি দিয়ে গঠিত। কাজ: পতঙ্গ ও পাখি আকর্ষণ করে পরাগযোগে সহায়তা।
  3. পুংস্তবক (Androecium): পুংকেশর সমষ্টি (পুংদণ্ড + পরাগধানী)। কাজ: পরাগরেণু উৎপাদন ও সরবরাহ।
  4. স্ত্রীস্তবক (Gynoecium): গর্ভপত্র সমষ্টি (গর্ভমুণ্ড + গর্ভদণ্ড + গর্ভাশয়)। কাজ: ডিম্বাণু উৎপাদন ও ফল-বীজ সৃষ্টি।
2. পরাগযোগ (Pollination) কাকে বলে? স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

পরাগযোগ:

পরাগধানী থেকে পরাগরেণু ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগযোগ বলে।

স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের পার্থক্য:

বিষয়স্বপরাগযোগইতর পরাগযোগ
ঘটনার স্থানএকই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন ফুলেভিন্ন গাছের ফুলে
বাহকপ্রয়োজন হয় নাপ্রয়োজন হয়
ফলাফলঅপত্য দুর্বল হয়অপত্য সবল হয়
উদাহরণশিম, টম্যাটোপেঁপে, ধান
3. স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি কী কী?

স্বপরাগযোগ:

সুবিধা: বাহকের প্রয়োজন হয় না, প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে।
অসুবিধা: নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় না, অপত্য দুর্বল হয়, অভিযোজন ক্ষমতা কম।

ইতর পরাগযোগ:

সুবিধা: নতুন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সবল অপত্য সৃষ্টি হয়, উৎকৃষ্ট ফল ও বীজ হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
অসুবিধা: বাহকের উপর নির্ভরশীল, প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হতে পারে।

4. ইতর পরাগযোগের বিভিন্ন বাহক ও তাদের বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে আলোচনা করো।

ইতর পরাগযোগের বাহক:

  1. বায়ু: ফুল ক্ষুদ্র, বর্ণহীন, গন্ধহীন। পরাগরেণু হালকা ও শুষ্ক। যেমন- ধান, গম।
  2. জল: ফুল ক্ষুদ্র, হালকা পরাগরেণু। জলের ওপর ভেসে পরাগযোগ ঘটে। যেমন- পাতাঝাঁঝি।
  3. পতঙ্গ: ফুল রঙিন, গন্ধযুক্ত ও মধুযুক্ত। গর্ভমুণ্ড আঠালো। যেমন- গোলাপ।
  4. পাখি: ফুল লাল/কমলা, গন্ধহীন, প্রচুর পাতলা মধু থাকে। যেমন- মধুমালতি।
5. সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বর্ণনা করো। দ্বিনিষেক কাকে বলে?

নিষেক প্রক্রিয়া:

  1. পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হয় (পরাগযোগ) এবং গর্ভমুণ্ড নিঃসৃত রস শোষণ করে পরাগনালি সৃষ্টি হয়।
  2. পরাগনালি গর্ভদণ্ড ভেদ করে ডিম্বকে প্রবেশ করে।
  3. পরাগনালির মধ্যে দুটি পুংজনন কোশ সৃষ্টি হয়।
  4. একটি পুংজনন কোশ ডিম্বাণু (n) কে নিষিক্ত করে জাইগোট (2n) সৃষ্টি করে।
  5. অপর পুংজনন কোশ সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসকে (2n) নিষিক্ত করে সস্য (3n) সৃষ্টি করে।
  6. জাইগোট থেকে ভ্রূণ, ডিম্বক থেকে বীজ ও গর্ভাশয় থেকে ফল সৃষ্টি হয়।

দ্বিনিষেক:

সপুষ্পক উদ্ভিদে যখন একটি পুংজনন কোশ ডিম্বাণুকে এবং অপরটি সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসকে নিষিক্ত করে, তখন তাকে দ্বিনিষেক বলে।

6. পরাগযোগ ও নিষেকের মধ্যে পার্থক্য কী? নিষেকের পর ফল ও বীজ কীভাবে গঠিত হয়?

পরাগযোগ ও নিষেকের পার্থক্য:

পরাগযোগ হল পরাগরেণুর গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর; এটি নিষেকের পূর্বশর্ত। নিষেক হল পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে জাইগোট সৃষ্টি।

ফল ও বীজ গঠন:

নিষেকের পর জাইগোট বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ গঠন করে। ডিম্বকটি পরিণত হয়ে বীজ গঠন করে এবং গর্ভাশয় পরিণত হয়ে ফল গঠন করে। বীজের মধ্যে সঞ্চিত খাদ্য (সস্য) ভ্রূণের পুষ্টি জোগায়।

7. ফুলের পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবকের গঠন ও কাজ বিস্তারিত আলোচনা করো।

পুংস্তবক (Androecium):

এটি ফুলের পুংজনন অঙ্গ। প্রতিটি পুংকেশরের দুটি অংশ- পুংদণ্ড (সরু দণ্ড) এবং পরাগধানী (স্থূল অংশ)। পরাগধানীর অভ্যন্তরে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়, যা পুংগ্যামেট বহন করে।

স্ত্রীস্তবক (Gynoecium):

এটি ফুলের স্ত্রীজনন অঙ্গ। প্রতিটি গর্ভপত্র তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত:
১. গর্ভমুণ্ড: শীর্ষস্থ আঠালো অংশ যা পরাগরেণু ধরে রাখে।
২. গর্ভদণ্ড: মধ্যবর্তী সরু নালিকা যা পরাগনালিকে ডিম্বকে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
৩. গর্ভাশয়: নিম্নস্থ স্ফীত অংশ যার মধ্যে ডিম্বক থাকে। ডিম্বকেই স্ত্রীগ্যামেট বা ডিম্বাণু অবস্থান করে।

8. বায়ুপরাগী, পতঙ্গপরাগী ও জলপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য কী কী?

তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য:

বৈশিষ্ট্যবায়ুপরাগীজলপরাগীপতঙ্গপরাগী
ফুলের আকারক্ষুদ্রক্ষুদ্রবড়
রংবর্ণহীনবর্ণহীনউজ্জ্বল
গন্ধগন্ধহীনগন্ধহীনগন্ধযুক্ত
পরাগরেণুহালকা, শুষ্কহালকাভারি, আঠালো
গর্ভমুণ্ডবড়, পক্ষলসরলরোমশ, আঠালো
উদাহরণধান, গমপাতাঝাঁঝিগোলাপ, সূর্যমুখী
9. নিষেকের পর ফুলের বিভিন্ন অংশের কী পরিবর্তন ঘটে? (ফল ও বীজ গঠন)

নিষেক পরবর্তী পরিবর্তন:

  1. জাইগোট: বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ (Embryo) গঠন করে।
  2. ডিম্বক (Ovule): পরিণত হয়ে বীজ (Seed) গঠন করে। ডিম্বকের ত্বক বীজত্বকে পরিণত হয়।
  3. গর্ভাশয় (Ovary): পরিণত হয়ে ফল (Fruit) গঠন করে। গর্ভাশয়ের ত্বক ফলে ত্বকে পরিণত হয়।
  4. গর্ভমুণ্ড ও গর্ভদণ্ড: শুকিয়ে ঝরে যায়।
  5. পুংস্তবক, দলমণ্ডল, বৃতি: সাধারণত ঝরে যায় (কিছু ক্ষেত্রে বৃতি বিদ্যমান থাকে যেমন বেগুন)।
10. সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননে পরাগযোগ ও নিষেকের গুরুত্ব আলোচনা করো।

পরাগযোগের গুরুত্ব:

পরাগরেণু ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রথম ও প্রধান শর্ত হল পরাগযোগ। এটি ছাড়া নিষেক অসম্ভব। ইতর পরাগযোগ জিনগত বৈচিত্র্য ও প্রকরণের সৃষ্টি করে যা অভিযোজন ও বিবর্তনের জন্য জরুরি।

নিষেকের গুরুত্ব:

নিষেকের মাধ্যমেই গ্যামেটের মিলন ঘটে এবং জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোটই পরবর্তী বংশধরের সূচনা। সস্য সৃষ্টির মাধ্যমেই ভ্রূণ পুষ্টি পায়। ফল ও বীজ সৃষ্টি উদ্ভিদের বিস্তার ও প্রজাতির টিকে থাকা নিশ্চিত করে।

মনে রেখো!

ফুলের চারটি স্তবক: বৃতি (সুরক্ষা) → দলমণ্ডল (আকর্ষণ) → পুংস্তবক (পুংগ্যামেট) → স্ত্রীস্তবক (স্ত্রীগ্যামেট)।
পরাগযোগ: স্বপরাগযোগ (একই ফুল/গাছ) ও ইতর পরাগযোগ (ভিন্ন গাছ)। বাহক: বায়ু, জল, পতঙ্গ, পাখি।
দ্বিনিষেক: ১টি পুংগ্যামেট ডিম্বাণুকে (n) নিষিক্ত করে জাইগোট (2n) গঠন করে, অপরটি সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসকে (2n) নিষিক্ত করে সস্য (3n) গঠন করে।
ফল ও বীজ: জাইগোট → ভ্রূণ, ডিম্বক → বীজ, গর্ভাশয় → ফল।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

ফুল হল সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন অঙ্গ। একটি আদর্শ ফুলের চারটি স্তবক: বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক।

পরাগরেণু পরাগধানী থেকে গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগযোগ বলে। এটি প্রধানত দুই প্রকার: স্বপরাগযোগ (একই ফুলে বা গাছে) এবং ইতর পরাগযোগ (ভিন্ন গাছে)।

সপুষ্পক উদ্ভিদে যখন একটি পুংজনন কোশ ডিম্বাণুকে (n) এবং অপর পুংজনন কোশ সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসকে (2n) নিষিক্ত করে, তখন তাকে দ্বিনিষেক বলে। এর ফলে জাইগোট (2n) ও সস্য (3n) সৃষ্টি হয়।

ইতর পরাগযোগের প্রধান বাহক বা এজেন্টগুলো হলো: বায়ু (ধান, গম), জল (পাতাঝাঁঝি), পতঙ্গ (গোলাপ) এবং পাখি (মধুমালতি)।

নিষেকের পর জাইগোট বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ গঠন করে। ডিম্বক পরিণত হয়ে বীজ গঠন করে এবং গর্ভাশয় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে ফল গঠন করে।