Chapter 1.C: প্রাণীদের সাড়াপ্রদান এবং রাসায়নিক সমন্বয় - হরমোন

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি, হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারি, থাইরয়েড, অগ্ন্যাশয়, অ্যাড্রেনাল, জনন গ্রন্থি ও হরমোনজনিত রোগ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 03 May 2026 Last Update: 30 May 2026
Chapter 1.C: প্রাণী হরমোন | Madhyamik Life Science

Chapter 1.C: প্রাণীদের সাড়াপ্রদান এবং রাসায়নিক সমন্বয় - হরমোন

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 50 MCQ | 40 SAQ | 10 Broad Questions

এন্ডোক্রিন গ্রন্থি পিটুইটারি অ্যাড্রেনালিন ইনসুলিন জনন হরমোন হরমোনজনিত রোগ
🧠

মাস্টার গ্ল্যান্ড

পিটুইটারি ও হাইপোথ্যালামাসের নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া

🩺

হরমোনজনিত রোগ

বামনত্ব, গয়টার, মধুমেহ ও ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

50 টি
1. প্রাণীদেহে রাসায়নিক সমন্বয় সাধন করে কে?
ক) স্নায়ুতন্ত্র
খ) হরমোন
গ) রক্ত
ঘ) লসিকা
2. যেসব গ্রন্থির ক্ষরণ গ্রন্থির বাইরে নিঃসৃত হয় না, সরাসরি রক্তে মেশে, তাদের কী বলে?
ক) বহিঃক্ষরা গ্রন্থি
খ) মিশ্র গ্রন্থি
গ) অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি
ঘ) লালাগ্রন্থি
3. নীচের কোনটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নয়?
ক) পিটুইটারি
খ) লালাগ্রন্থি
গ) থাইরয়েড
ঘ) অ্যাড্রেনাল
4. মাস্টার গ্ল্যান্ড বা 'প্রভু গ্রন্থি' কাকে বলা হয়?
ক) থাইরয়েড
খ) অগ্ন্যাশয়
গ) পিটুইটারি
ঘ) শুক্রাশয়
5. কোন অংশকে 'সুপ্রিম কমান্ডার' বা সর্বোচ্চ প্রভুগ্রন্থি বলা হয়?
ক) থ্যালামাস
খ) হাইপোথ্যালামাস
গ) সেরিব্রাম
ঘ) মেডালা
6. TSH (Thyroid Stimulating Hormone) কোথা থেকে নিঃসৃত হয়?
ক) অগ্র পিটুইটারি
খ) পশ্চাৎ পিটুইটারি
গ) থাইরয়েড
ঘ) হাইপোথ্যালামাস
7. রক্তে থাইরক্সিনের অধিক মাত্রা পিটুইটারি থেকে TSH ক্ষরণ হ্রাস করে। একে কী বলে?
ক) পজিটিভ ফিডব্যাক
খ) ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ (Negative feedback)
গ) রাসায়নিক সমন্বয়
ঘ) স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ
8. ACTH হরমোনের লক্ষ্য অঙ্গ কোনটি?
ক) থাইরয়েড
খ) শুক্রাশয়
গ) অ্যাড্রেনাল কর্টেক্স
ঘ) বৃক্ক
9. GH (গ্রোথ হরমোন) বা STH-এর কম ক্ষরণে শিশুদের কী রোগ হয়?
ক) অতিকায়ত্ব
খ) বামনত্ব (Dwarfism)
গ) ক্রেটিনিজম
ঘ) গলগণ্ড
10. গ্রোথ হরমোনের অধিক ক্ষরণে বয়স্কদের কী রোগ হয়?
ক) কুশিং সিনড্রোম
খ) মিক্সিডিমা
গ) অ্যাক্রোমেগালি (Acromegaly)
ঘ) গয়টার
11. স্ত্রীদেহে ডিম্বাশয়ে গ্রাফিয়ান ফলিকল বা ডিম্বথলির বৃদ্ধিতে সাহায্য করে কোন হরমোন?
ক) LH
খ) FSH
গ) ICSH
ঘ) LTH
12. মাতৃদেহে স্তনদুগ্ধ ক্ষরণে সহায়তা করে কোন হরমোন?
ক) FSH
খ) LH
গ) প্রোল্যাকটিন (LTH)
ঘ) অক্সিটোসিন
13. ADH (Antidiuretic Hormone)-এর অপর নাম কী?
ক) অক্সিটোসিন
খ) ভেসোপ্রেসিন
গ) রিল্যাক্সিন
ঘ) থাইরক্সিন
14. বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস রোগ কোন হরমোনের অভাবে হয়?
ক) ইনসুলিন
খ) গ্লুকাগন
গ) ADH
ঘ) থাইরক্সিন
15. প্রসবকালে জরায়ুর সংকোচন ঘটায় কোন হরমোন?
ক) ইস্ট্রোজেন
খ) প্রোজেস্টেরন
গ) অক্সিটোসিন
ঘ) ADH
16. থাইরক্সিন হরমোনের প্রধান উপাদান কী?
ক) ক্যালসিয়াম
খ) লোহা
গ) আয়োডিন
ঘ) ফসফরাস
17. মৌল বিপাকীয় হার (BMR) বৃদ্ধি করে কোন হরমোন?
ক) ইনসুলিন
খ) থাইরক্সিন
গ) গ্লুকাগন
ঘ) ADH
18. থাইরক্সিনের কম ক্ষরণের ফলে শিশুদের কী রোগ হয়?
ক) মিক্সিডিমা
খ) ক্রেটিনিজম
গ) বামনত্ব
ঘ) গয়টার
19. অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয় কেন?
ক) রক্ত ও লসিকা থাকে
খ) অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা উভয় অংশ থাকে
গ) একাধিক হরমোন ক্ষরণ করে
ঘ) এটি বৃহত্তম গ্রন্থি
20. অগ্ন্যাশয়ের বিটা (Beta) কোশ থেকে কোন হরমোন ক্ষরিত হয়?
ক) গ্লুকাগন
খ) ইনসুলিন
গ) সোমাটোস্টেটিন
ঘ) পেপসিন
21. রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে কোন হরমোন?
ক) ইনসুলিন
খ) গ্লুকাগন
গ) অক্সিটোসিন
ঘ) থাইরক্সিন
22. কোন হরমোনকে অ্যান্টি-ডায়াবেটিক হরমোন বলা হয়?
ক) গ্লুকাগন
খ) ইনসুলিন
গ) অ্যাড্রেনালিন
ঘ) থাইরক্সিন
23. যকৃতে গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চয় করে রাখতে সাহায্য করে কে?
ক) ইনসুলিন
খ) গ্লুকাগন
গ) অ্যাড্রেনালিন
ঘ) থাইরক্সিন
24. কিটোন বডি প্রস্তুতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার জন্য ইনসুলিনকে কী বলে?
ক) ডায়াবেটোজেনিক
খ) অ্যান্টিকিটোজেনিক হরমোন
গ) গ্লাইকোজেনিক
ঘ) ক্যাটাবলিক
25. ডায়াবেটিস মেলিটাস বা মধুমেহ রোগ কোন হরমোনের অভাবে হয়?
ক) ADH
খ) ইনসুলিন
গ) গ্লুকাগন
ঘ) থাইরক্সিন
26. জরুরিকালীন বা সংকটকালীন হরমোন (Emergency hormone) কাকে বলে?
ক) থাইরক্সিন
খ) ইনসুলিন
গ) অ্যাড্রেনালিন
ঘ) টেস্টোস্টেরন
27. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি কোথায় অবস্থিত?
ক) মস্তিষ্কে
খ) বৃক্কের ঊর্ধ্বপ্রান্তে
গ) গলায়
ঘ) ডিম্বাশয়ে
28. হাঁপানির সময় শ্বাসকষ্ট লাঘব করতে সাহায্য করে কোন হরমোন?
ক) ইনসুলিন
খ) থাইরক্সিন
গ) অ্যাড্রেনালিন
ঘ) ADH
29. ত্বকের রোম খাড়া করতে (যেমন ভয় পেলে) সাহায্য করে কোন হরমোন?
ক) থাইরক্সিন
খ) টেস্টোস্টেরন
গ) অ্যাড্রেনালিন
ঘ) ইস্ট্রোজেন
30. টেস্টোস্টেরন হরমোন কোথা থেকে নিঃসৃত হয়?
ক) ডিম্বাশয়
খ) শুক্রাশয়
গ) অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি
ঘ) পিটুইটারি
31. পুরুষদের গৌণ যৌনলক্ষণ (যেমন- গোঁফ-দাড়ি গজানো, গলার স্বর মোটা হওয়া) প্রকাশ করে কোন হরমোন?
ক) ইস্ট্রোজেন
খ) টেস্টোস্টেরন
গ) অ্যাড্রেনালিন
ঘ) থাইরক্সিন
32. নারীদেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়?
ক) শুক্রাশয়
খ) পিটুইটারি
গ) ডিম্বাশয়ের গ্রাফিয়ান ফলিকল
ঘ) থাইরয়েড
33. নারীদের গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বৃদ্ধি ও অমরা (Placenta) গঠনে সাহায্য করে কোন হরমোন?
ক) ইস্ট্রোজেন
খ) প্রোজেস্টেরন
গ) রিল্যাক্সিন
ঘ) প্রোল্যাকটিন
34. নীচের কোনটি প্রোটিনধর্মী হরমোন?
ক) থাইরক্সিন
খ) টেস্টোস্টেরন
গ) STH (সোমাটোট্রফিক হরমোন)
ঘ) ইস্ট্রোজেন
35. নীচের কোনটি স্টেরয়েডধর্মী হরমোন?
ক) টেস্টোস্টেরন
খ) ইনসুলিন
গ) থাইরক্সিন
ঘ) অ্যাড্রেনালিন
36. রক্তে শর্করার স্বাভাবিক পরিমাণ কত (100 ml রক্তে)?
ক) 40-60 mg
খ) 80-120 mg
গ) 150-200 mg
ঘ) 200-250 mg
37. TRH (থাইরোট্রফিন রিলিজিং হরমোন) কোথা থেকে নিঃসৃত হয়?
ক) অগ্র পিটুইটারি
খ) থাইরয়েড
গ) হাইপোথ্যালামাস
ঘ) অগ্ন্যাশয়
38. পিটুইটারি গ্রন্থি কোথায় অবস্থিত?
ক) মস্তিষ্কের থ্যালামাসের নীচে
খ) মস্তিষ্কের মূলদেশে স্ফেনয়েড অস্থির সেলা টারসিকা প্রকোষ্ঠে
গ) গলার ট্রাকিয়ার দু-পাশে
ঘ) বৃক্কের ওপরে
39. অগ্ন্যাশয়ের আলফা (Alfa) কোশ থেকে কী ক্ষরিত হয়?
ক) ইনসুলিন
খ) গ্লুকাগন
গ) সোমাটোস্টেটিন
ঘ) পেপসিন
40. অশর্করা (প্রোটিন বা ফ্যাট) থেকে গ্লুকোজ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে কী বলে?
ক) গ্লাইকোজেনেসিস
খ) গ্লাইকোজেনোলাইসিস
গ) নিওগ্লুকোজেনেসিস
ঘ) গ্লাইকোলাইসিস
41. যকৃতে গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে রক্তে সরবরাহ করে কোন হরমোন?
ক) গ্লুকাগন
খ) ইনসুলিন
গ) থাইরক্সিন
ঘ) টেস্টোস্টেরন
42. ICSH-এর পুরো নাম কী?
ক) ইন্ট্রা সেলুলার স্টিমুলেটিং হরমোন
খ) ইন্টারস্টিসিয়াল সেল স্টিমুলেটিং হরমোন
গ) ইনসুলিন কন্ট্রোলিং স্টিমুলেটিং হরমোন
ঘ) কোনোটিই নয়
43. তারারন্ধ্রকে প্রসারিত করে ও অশ্রুগ্রন্থির ক্ষরণ বৃদ্ধি করে কোন হরমোন?
ক) থাইরক্সিন
খ) ইনসুলিন
গ) অ্যাড্রেনালিন
ঘ) ADH
44. পাহাড়ি এলাকায় মানুষদের গলগণ্ড বা গয়টার রোগ বেশি হওয়ার কারণ কী?
ক) জলে ক্যালসিয়াম কম থাকা
খ) মাটিতে আয়োডিনের অভাব
গ) অতিরিক্ত ঠান্ডা
ঘ) ভিটামিনের অভাব
45. ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগের একটি লক্ষণ কোনটি?
ক) কম মূত্র ত্যাগ
খ) মূত্রে শর্করার উপস্থিতি
গ) ওজন বৃদ্ধি
ঘ) তৃষ্ণা কমে যাওয়া
46. থাইরয়েড গ্রন্থি কোথায় অবস্থিত?
ক) মস্তিষ্কে
খ) পেটে
গ) গ্রীবাদেশে ল্যারিংক্সের নীচে ট্রাকিয়ার দু-পাশে
ঘ) বৃক্কের ওপরে
47. কোন গ্রন্থিটি মানবদেহে হরমোন ও উৎসেচক উভয়ই ক্ষরণ করে?
ক) থাইরয়েড
খ) পিটুইটারি
গ) অগ্ন্যাশয়
ঘ) অ্যাড্রেনাল
48. গ্রোথ ইনহিবিটিং হরমোন (GIH) কোথা থেকে নিঃসৃত হয়?
ক) পিটুইটারি
খ) হাইপোথ্যালামাস
গ) থাইরয়েড
ঘ) শুক্রাশয়
49. কোন হরমোনের কম ক্ষরণে ক্রেটিনিজম রোগ হয়?
ক) থাইরক্সিন
খ) STH
গ) ইনসুলিন
ঘ) ADH
50. উদ্ভিদ ও প্রাণী হরমোনের মধ্যে একটি পার্থক্য কী?
ক) উদ্ভিদ হরমোন রক্তে বাহিত হয়
খ) প্রাণী হরমোন রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে বাহিত হয়
গ) উদ্ভিদ হরমোন প্রোটিনধর্মী
ঘ) কোনো পার্থক্য নেই

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)

40 টি
1. প্রাণী হরমোন কোথা থেকে উৎপন্ন হয়?
প্রাণী হরমোন প্রধানত নালিবিহীন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine Glands) বা এন্ডোক্রিন কোশসমষ্টি থেকে উৎপন্ন হয়।
2. হরমোনকে 'রাসায়নিক সমন্বয়কারী' বা রাসায়নিক দূত বলা হয় কেন?
হরমোন প্রাণীদেহের নির্দিষ্ট স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে বিভিন্ন কলাকোশে পৌঁছায় এবং কোশে কোশে রাসায়নিক সংযোগ স্থাপন করে বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই একে রাসায়নিক সমন্বয়কারী বলে।
3. অন্তঃক্ষরা বা এন্ডোক্রিন গ্রন্থি কাকে বলে?
যেসব গ্রন্থির কোনো নিজস্ব নালি থাকে না এবং তাদের ক্ষরণ গ্রন্থির বাইরে নিঃসৃত না হয়ে সরাসরি রক্তে বা লসিকায় মিশে যায়, তাদের অন্তঃক্ষরা বা এন্ডোক্রিন গ্রন্থি বলে। যেমন- পিটুইটারি, থাইরয়েড।
4. বহিঃক্ষরা বা এক্সোক্রিন গ্রন্থি কাকে বলে?
যেসব গ্রন্থির নিজস্ব নালি থাকে এবং যাদের ক্ষরিত রস নালির মাধ্যমে গ্রন্থির বাইরে বা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছায়, তাদের বহিঃক্ষরা গ্রন্থি বলে। যেমন- লালাগ্রন্থি, যকৃৎ, ঘর্মগ্রন্থি।
5. মিশ্র গ্রন্থি (Mixed Gland) কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
যে গ্রন্থি অন্তঃক্ষরা এবং বহিঃক্ষরা উভয় প্রকার কোশ নিয়ে গঠিত এবং যারা হরমোন ও উৎসেচক উভয়ই ক্ষরণ করে, তাকে মিশ্র গ্রন্থি বলে। উদাহরণ- অগ্ন্যাশয় (Pancreas)।
6. পিটুইটারি গ্রন্থিকে 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বা 'প্রভু গ্রন্থি' বলা হয় কেন?
পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলি (যেমন TSH, ACTH, GTH) অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, জনন গ্রন্থি) বৃদ্ধি ও হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই একে প্রভু গ্রন্থি বলা হয়।
7. হাইপোথ্যালামাসকে 'সুপ্রিম কমান্ডার' বা 'সর্বোচ্চ প্রভুগ্রন্থি' বলা হয় কেন?
হাইপোথ্যালামাস থেকে নিঃসৃত রিলিজিং ও ইনহিবিটিং হরমোনগুলি পিটুইটারি গ্রন্থির হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু পিটুইটারি অন্যান্য গ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং হাইপোথ্যালামাস পিটুইটারিকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাই একে সর্বোচ্চ প্রভুগ্রন্থি বলে।
8. ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ (Feedback Control) বলতে কী বোঝায়?
যখন কোনো একটি হরমোনের রক্তে উপস্থিত মাত্রা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সেই হরমোনটির উৎপাদনকারী গ্রন্থির ক্ষরণকে বৃদ্ধি বা হ্রাস করে, তখন তাকে ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ বলে। যেমন- রক্তে থাইরক্সিন বেড়ে গেলে TSH ক্ষরণ কমে গিয়ে থাইরক্সিনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়।
9. TRH ও ARH-এর সম্পূর্ণ নাম ও কাজ কী?
TRH (Thyrotropin Releasing Hormone): অগ্র পিটুইটারিকে TSH ক্ষরণে উদ্দীপিত করে। ARH (Adrenocorticotropic Releasing Hormone): অগ্র পিটুইটারিকে ACTH ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
10. ACTH-এর সম্পূর্ণ নাম কী? এর কাজ কী?
ACTH-এর সম্পূর্ণ নাম Adreno Cortico Trophic Hormone। এটি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অঞ্চলের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাকে হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
11. STH বা GH-এর প্রধান কাজ কী?
STH (Somatotropic Hormone) বা Growth Hormone মানবদেহে অস্থি, পেশি ও অন্যান্য কলার বৃদ্ধি ঘটিয়ে দৈহিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাট বিপাকে সাহায্য করে।
12. TSH-এর কাজ কী?
TSH (Thyroid Stimulating Hormone) থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং থাইরয়েড গ্রন্থিকে থাইরক্সিন হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
13. গোনাডোট্রফিক হরমোন (GTH) কত প্রকারের হয়?
GTH প্রধানত চার প্রকারের হয়: FSH (ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন), LH (লিউটিনাইজিং হরমোন), ICSH (ইন্টারস্টিসিয়াল সেল স্টিমুলেটিং হরমোন), এবং LTH (লিউটোট্রফিক হরমোন বা প্রোল্যাকটিন)।
14. FSH ও LH-এর কাজ কী?
FSH স্ত্রীদেহে ডিম্বাশয়ে গ্রাফিয়ান ফলিকলের বৃদ্ধি ঘটিয়ে ইস্ট্রোজেন নিঃসরণে সাহায্য করে। LH স্ত্রীদেহে করপাস লিউটিয়ামের বৃদ্ধি ঘটিয়ে প্রোজেস্টেরন নিঃসরণে সহায়তা করে।
15. ICSH-এর কাজ কী?
ICSH (Interstitial Cell Stimulating Hormone) পুরুষদেহে শুক্রাশয়ে অবস্থিত ইন্টারস্টিসিয়াল কোশসমূহকে উদ্দীপিত করে টেস্টোস্টেরন হরমোনের নিঃসরণ ঘটায়।
16. ADH-এর সম্পূর্ণ নাম ও অপর নাম কী? এর কাজ কী?
ADH-এর সম্পূর্ণ নাম Anti Diuretic Hormone এবং অপর নাম ভেসোপ্রেসিন। এটি বৃক্কীয় নালিকায় জলের পুনঃশোষণ ঘটায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
17. অক্সিটোসিন হরমোনের প্রধান কাজ কী?
অক্সিটোসিন হরমোন প্রধানত গর্ভাবস্থার শেষে বা প্রসবকালে জরায়ুর পেশির সংকোচন ঘটিয়ে সন্তান প্রসবে সাহায্য করে।
18. মৌল বিপাকীয় হার (BMR) নিয়ন্ত্রণ করে কোন হরমোন?
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোন দেহের তাপ উৎপাদন ও অক্সিজেনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে মৌল বিপাকীয় হার (BMR) নিয়ন্ত্রণ করে।
19. থাইরক্সিন হরমোনের মূল উপাদান কী?
থাইরক্সিন হরমোনের মূল উপাদান হল আয়োডিন।
20. ইনসুলিন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়?
ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স-এর বিটা (Beta) কোশ থেকে ক্ষরিত হয়।
21. গ্লুকাগন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়?
গ্লুকাগন অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স-এর আলফা (Alfa) কোশ থেকে ক্ষরিত হয়।
22. ইনসুলিনকে অ্যান্টি-ডায়াবেটিক হরমোন বলা হয় কেন?
ইনসুলিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং গ্লুকোজকে কোশে প্রবেশ করিয়ে ডায়াবেটিস মেলিটাস (মধুমেহ) রোগ প্রতিরোধ করে, তাই একে অ্যান্টি-ডায়াবেটিক হরমোন বলে।
23. ইনসুলিনকে অ্যান্টিকিটোজেনিক হরমোন বলা হয় কেন?
ইনসুলিন ফ্যাট বা মেদকলার জারণ ক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে বিষাক্ত কিটোন বডি (অ্যাসিটোন ইত্যাদি) প্রস্তুতি বন্ধ রাখে, তাই একে অ্যান্টিকিটোজেনিক হরমোন বলে।
24. গ্লাইকোজেনেসিস ও নিওগ্লুকোজেনেসিস কী?
যে প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন সংশ্লেষিত হয় তাকে গ্লাইকোজেনেসিস বলে। আর যে প্রক্রিয়ায় প্রোটিন ও ফ্যাট (অশর্করা) থেকে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়, তাকে নিওগ্লুকোজেনেসিস বলে।
25. অ্যাড্রেনালিনকে জরুরিকালীন বা সংকটকালীন হরমোন বলা হয় কেন?
স্বাভাবিক অবস্থায় অ্যাড্রেনালিনের ক্ষরণ কম থাকে, কিন্তু রাগ, ভয়, উত্তেজনা বা দুশ্চিন্তার সময় এই হরমোন দ্রুত ক্ষরিত হয়ে শরীরকে সংকটজনক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সাহায্য করে বলে একে জরুরিকালীন হরমোন বলে।
26. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির অপর নাম সুপ্রারেনাল গ্রন্থি কেন?
অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি দুটি প্রতিটি বৃক্কের (Renal gland) ঠিক ঊর্ধ্বপ্রান্তে টুপির মতো অবস্থান করে, তাই এদের সুপ্রারেনাল গ্রন্থিও বলা হয়।
27. অ্যাড্রেনালিন কীভাবে শ্বাসক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে?
অ্যাড্রেনালিন শ্বাসনালি বা ব্রংকিওলের পেশিকে শিথিল করে তাদের গহ্বরকে প্রসারিত করে, ফলে হাঁপানির সময় শ্বাসকষ্ট লাঘব হয়।
28. টেস্টোস্টেরনের উৎস কী? এর একটি কাজ লেখো।
টেস্টোস্টেরন পুরুষদের শুক্রাশয়ের ইন্টারস্টিসিয়াল কোশ (লেডিগের কোশ) থেকে ক্ষরিত হয়। কাজ: পুরুষদের গৌণ যৌনলক্ষণ (গোঁফ-দাড়ি গজানো, পেশিবহুল দেহ) প্রকাশে সহায়তা করে।
29. ইস্ট্রোজেনের উৎস ও প্রধান কাজ কী?
ইস্ট্রোজেন স্ত্রীদেহের ডিম্বাশয়ের গ্রাফিয়ান ফলিকল থেকে ক্ষরিত হয়। কাজ: নারীদের ত্বক কোমল করা, স্তনগ্রন্থির বিকাশ এবং ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করা।
30. প্রোজেস্টেরন হরমোনের দুটি কাজ লেখো।
১. গর্ভাবস্থায় স্ত্রীদেহে অমরা বা প্লাসেন্টা গঠনে ও ভ্রূণের পুষ্টিতে সাহায্য করে। ২. গর্ভাবস্থায় ঋতুচক্র বন্ধ রাখে।
31. বামনত্ব (Dwarfism) রোগ কেন হয়?
অগ্র পিটুইটারি থেকে নিঃসৃত STH বা গ্রোথ হরমোনের কম ক্ষরণের ফলে শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়ে বামনত্ব রোগ হয়।
32. অ্যাক্রোমেগালি (Acromegaly) বা অতিকায়ত্ব কেন হয়?
অগ্র পিটুইটারি থেকে নিঃসৃত STH বা গ্রোথ হরমোনের অত্যধিক ক্ষরণের ফলে শিশুদের অতিকায়ত্ব (দৈর্ঘ্যে অত্যধিক বৃদ্ধি) এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাক্রোমেগালি রোগ হয়।
33. ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস বা বহুমূত্র রোগ কেন হয়? এর লক্ষণ কী?
পশ্চাৎ পিটুইটারি থেকে ADH বা ভেসোপ্রেসিন হরমোনের কম ক্ষরণের ফলে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস হয়। লক্ষণ: বৃক্কীয় নালিকায় জলের পুনঃশোষণ ক্ষমতা হ্রাস পায়, ফলে বারবার পাতলা মূত্র নির্গত হয়।
34. গলগণ্ড বা গয়টার রোগ কেন হয়?
খাদ্যে বা জলে আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোনের নিঃসরণ হ্রাস পায়। এর ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি আয়তনে ফুলে ওঠে, যাকে গলগণ্ড বা গয়টার বলে।
35. মধুমেহ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ কেন হয়?
অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোশ থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোনের কম ক্ষরণের ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে তা নির্গত হয়। একে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে।
36. ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগের তিনটি প্রধান লক্ষণ লেখো।
১. মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি ও মূত্রে শর্করার উপস্থিতি, ২. প্রবল তৃষ্ণা ও অতিরিক্ত খিদে পাওয়া, ৩. শরীরের ওজন হ্রাস ও কেটে গেলে ঘা সহজে না শুকানো।
37. কুশিং সিনড্রোম (Cushing's syndrome) কেন হয়?
পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ACTH (অ্যাড্রেনো কর্টিকো ট্রফিক হরমোন) এর অধিক ক্ষরণের ফলে মানবদেহে কুশিং বর্ণিত লক্ষণ বা Cushing's syndrome প্রকাশ পায়।
38. ক্রেটিনিজম ও মিক্সিডিমা কাদের হয়?
থাইরক্সিন হরমোনের কম ক্ষরণের ফলে শিশুদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে ক্রেটিনিজম এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মিক্সিডিমা রোগ হয়।
39. উদ্ভিদ ও প্রাণী হরমোনের মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উদ্ভিদ হরমোন কলারসের মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পরিবাহিত হয় এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ ব্যাপক। প্রাণী হরমোন রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয় এবং এর ব্যবহারিক প্রয়োগ নগণ্য।
40. স্টেরয়েডধর্মী এবং প্রোটিনধর্মী প্রাণী হরমোনের উদাহরণ দাও।
স্টেরয়েডধর্মী হরমোন: টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন। প্রোটিনধর্মী হরমোন: STH (গ্রোথ হরমোন), ইনসুলিন।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)

10 টি
1. প্রাণী হরমোনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো। উদ্ভিদ ও প্রাণী হরমোনের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি কী কী?

প্রাণী হরমোনের বৈশিষ্ট্য:

  1. উৎস: প্রাণী হরমোন প্রধানত নালিবিহীন অন্তঃক্ষরা (Endocrine) গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়।
  2. রাসায়নিক প্রকৃতি: হরমোন প্রোটিনধর্মী (যেমন- STH, ইনসুলিন), অ্যামাইনোধর্মী (যেমন- থাইরক্সিন, অ্যাড্রেনালিন), স্টেরয়েডধর্মী (যেমন- টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন) এবং লিপিডধর্মী হতে পারে।
  3. পরিবহণ পদ্ধতি: হরমোন উৎসস্থল থেকে সরাসরি রক্ত বা লসিকায় মিশে রক্তের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন স্থানে বা লক্ষ্য অঙ্গে বাহিত হয়।
  4. কাজের ধরন ও পরিণতি: হরমোন উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে বাহিত হয়ে নির্দিষ্ট কোশের বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং কাজ শেষ হওয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয়।
  5. ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ: একটি হরমোনের ক্ষরণ যখন অন্য হরমোনের দ্বারা বা নিজের ক্ষরণ মাত্রার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ বলে।

উদ্ভিদ ও প্রাণী হরমোনের পার্থক্য:

বিষয়উদ্ভিদ হরমোনপ্রাণী হরমোন
উৎসবর্ধনশীল অঙ্গের ভাজক কলা থেকে উৎপন্ন হয়।নির্দিষ্ট অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয়।
পরিবহণকলারসের মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পরিবাহিত হয়।রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
রাসায়নিক প্রকৃতিপ্রধানত জৈব অম্ল বা ক্ষারধর্মী।প্রোটিন, অ্যামাইনো বা স্টেরয়েডধর্মী।
2. হাইপোথ্যালামাসকে 'সুপ্রিম কমান্ডার' বা 'সর্বোচ্চ প্রভুগ্রন্থি' বলা হয় কেন? এখান থেকে নিঃসৃত কয়েকটি হরমোনের নাম ও কাজ লেখো।

হাইপোথ্যালামাসকে সুপ্রিম কমান্ডার বলার কারণ:

মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ থেকে বেশ কিছু রিলিজিং ও ইনহিবিটিং হরমোন ক্ষরিত হয়। এই হরমোনগুলি পিটুইটারি গ্রন্থির হরমোন ক্ষরণকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু পিটুইটারি গ্রন্থি ('প্রভু গ্রন্থি') দেহের অন্যান্য সমস্ত অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং হাইপোথ্যালামাস সেই পিটুইটারিকেই নিয়ন্ত্রণ করে, তাই হাইপোথ্যালামাসকে 'সুপ্রিম কমান্ডার' (Supreme Commander) বা সর্বোচ্চ প্রভুগ্রন্থি বলা হয়।

হাইপোথ্যালামাস নিঃসৃত কয়েকটি হরমোন ও তাদের কাজ:

  • TRH (Thyrotropin Releasing Hormone): এটি অগ্র পিটুইটারিকে TSH ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
  • ARH (Adrenocorticotropic Releasing Hormone): এটি অগ্র পিটুইটারিকে ACTH ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
  • SRH (Somatotropin Releasing Hormone): এটি অগ্র পিটুইটারিকে STH বা GH ক্ষরণে উদ্দীপনা জোগায়।
  • GnRH (Gonadotropin Releasing Hormone): এটি অগ্র পিটুইটারিকে FSH ও LH ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
  • GIH (Growth Inhibiting Hormone): এটি অগ্র পিটুইটারিকে গ্রোথ হরমোন ক্ষরণে বাধা দেয়।
3. পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত অগ্র খণ্ডের হরমোনগুলির (ACTH, GH, TSH, GTH) সম্পূর্ণ নাম লেখো এবং মানবদেহে এদের প্রধান ভূমিকা বর্ণনা করো।

পিটুইটারির অগ্র খণ্ডের হরমোনসমূহ ও তাদের কাজ:

  1. ACTH (Adreno Cortico Trophic Hormone): এই হরমোন মানবদেহে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অঞ্চলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাকে নির্দিষ্ট হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে। এর অধিক ক্ষরণে কুশিং সিনড্রোম (Cushing's syndrome) রোগ হয়।
  2. GH (Growth Hormone) বা STH (Somatotropic Hormone): এটি মানবদেহে অস্থি, তরুণাস্থি ও পেশির বৃদ্ধি ঘটিয়ে দৈহিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাট বিপাকে সাহায্য করে। এর কম ক্ষরণে বামনত্ব (Dwarfism) এবং অধিক ক্ষরণে অতিকায়ত্ব বা অ্যাক্রোমেগালি (Acromegaly) রোগ হয়।
  3. TSH (Thyroid Stimulating Hormone): এটি থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং থাইরয়েডকে থাইরক্সিন হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
  4. GTH (Gonadotrophic Hormone): এটি জনন গ্রন্থি (শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়)-র বৃদ্ধি ও ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি চার প্রকারের হয়:
    - FSH: স্ত্রীদেহে ডিম্বথলির বৃদ্ধি ও ইস্ট্রোজেন নিঃসরণ ঘটায়।
    - LH: স্ত্রীদেহে করপাস লিউটিয়ামের বৃদ্ধি ও প্রোজেস্টেরন নিঃসরণ ঘটায়।
    - ICSH: পুরুষদেহে টেস্টোস্টেরন ক্ষরণ ঘটায়।
    - LTH (প্রোল্যাকটিন): মাতৃদেহে স্তনদুগ্ধ ক্ষরণে সহায়তা করে।
4. থাইরয়েড গ্রন্থির অবস্থান কোথায়? থাইরক্সিন হরমোনের প্রধান কাজগুলি আলোচনা করো।

থাইরয়েড গ্রন্থির অবস্থান:

থাইরয়েড গ্রন্থি মানবদেহের গ্রীবাদেশে (গলায়) ল্যারিংক্সের ঠিক নীচে ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালির দু-পাশে অবস্থিত একটি দ্বি-খণ্ডক গ্রন্থি।

থাইরক্সিনের প্রধান কাজ:

  • বিপাকীয় কার্য নিয়ন্ত্রণ: থাইরক্সিন কলাকোশের বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাট বিপাকের হার বৃদ্ধি করে। এটি যকৃতে ও পেশিতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হতে সাহায্য করে।
  • মৌল বিপাকীয় হার (BMR) নিয়ন্ত্রণ: এই হরমোন দেহের কোশগুলিতে অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে তাপ উৎপাদন বৃদ্ধি করে। এর ফলে মানবদেহে মৌল বিপাকীয় হারের (BMR) বৃদ্ধি ঘটে।
  • লোহিতকণিকার ক্রমপরিণতি: থাইরক্সিন লোহিত রক্তকণিকার (RBC) ক্রমপরিণতি ও সৃষ্টিতে বিশেষ সাহায্য করে।
  • হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি: থাইরক্সিনের প্রভাবে হৃৎস্পন্দনের হার বেড়ে যায়, ফলে রক্তচাপ ও শ্বসনের হারও বৃদ্ধি পায়।
5. অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয় কেন? রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিনের ভূমিকা বর্ণনা করো।

অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি:

অগ্ন্যাশয় গ্রন্থিতে দু'ধরনের কোশসমষ্টি দেখা যায়: সনাল বা বহিঃক্ষরা অংশ (যথা- প্যানক্রিয়েটিক অ্যাসিনি), যা থেকে উৎসেচক পূর্ণ অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরিত হয়ে নালির মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে আসে এবং অনাল বা অন্তঃক্ষরা অংশ (যথা- আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স), যা সরাসরি রক্তে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন ক্ষরণ করে। যেহেতু এটি একইসাথে হরমোন ও উৎসেচক উভয়ই ক্ষরণ করে, তাই একে মিশ্র গ্রন্থি (Mixed Gland) বলে।

শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিনের ভূমিকা:

ইনসুলিন একটি অ্যান্টি-ডায়াবেটিক হরমোন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা 80-120 mg (প্রতি 100 ml রক্তে) স্থির রাখতে সাহায্য করে। ইনসুলিন প্রধানত তিনভাবে কাজ করে:
১. গ্লুকোজের ব্যবহার বৃদ্ধি: কোশপর্দার ভেদ্যতা বৃদ্ধি করে পেশিকোশে গ্লুকোজ প্রবেশের হার বাড়ায়, ফলে রক্তে গ্লুকোজ কমে যায়।
২. গ্লাইকোজেনেসিস: যকৃৎ ও পেশিকোশে গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে পরিণত করে সঞ্চয় করে রাখে।
৩. নিওগ্লুকোজেনেসিস রোধ: প্রোটিন ও ফ্যাট (অশর্করা পদার্থ) থেকে গ্লুকোজ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে (নিওগ্লুকোজেনেসিস) ইনসুলিন বাধা দেয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে না।

6. গ্লুকাগন কীভাবে কাজ করে? ইনসুলিন ও গ্লুকাগনের কাজের তুলনামূলক আলোচনা করো।

গ্লুকাগনের কাজ:

গ্লুকাগন অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোশ থেকে ক্ষরিত হয় এবং এর প্রধান কাজ হল রক্তে শর্করার (গ্লুকোজের) মাত্রা বৃদ্ধি করা। যখন রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় (যেমন- উপবাসের সময়), তখন গ্লুকাগন যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লাইকোজেনোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে এবং রক্তে সরবরাহ করে। এছাড়াও এটি গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় অশর্করা থেকেও গ্লুকোজ তৈরি করে।

ইনসুলিন ও গ্লুকাগনের তুলনামূলক আলোচনা:

বিষয়ইনসুলিনগ্লুকাগন
উৎসঅগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স-এর বিটা (Beta) কোশ।অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স-এর আলফা (Alfa) কোশ।
রক্তে শর্করার প্রভাবরক্তে শর্করার মাত্রা কমায় (হাইপোগ্লাইসেমিক প্রভাব)।রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় (হাইপারগ্লাইসেমিক প্রভাব)।
গ্লাইকোজেন বিপাকগ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে পরিণত করে সঞ্চয় করে (গ্লাইকোজেনেসিস)।সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে (গ্লাইকোজেনোলাইসিস)।
রোগকম ক্ষরণে ডায়াবেটিস মেলিটাস (মধুমেহ) রোগ হয়।কম ক্ষরণে রক্তে শর্করার অভাব বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে।
7. অ্যাড্রেনালিনকে 'জরুরিকালীন হরমোন' বলা হয় কেন? উত্তেজনা বা সংকটের সময় মানবদেহে এই হরমোনের প্রভাবগুলি লেখো।

অ্যাড্রেনালিনকে 'জরুরিকালীন হরমোন' বলার কারণ:

স্বাভাবিক অবস্থায় মানবদেহে অ্যাড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ ও ভূমিকা খুবই নগণ্য। কিন্তু রাগ, ভয়, আনন্দ, দুশ্চিন্তা বা বিপদের সময় এই হরমোনের ক্ষরণ দ্রুত বেড়ে যায়। এই হরমোন দ্রুত ক্রিয়াশীল হয়ে শরীরকে সেই সংকটময় বা জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করে। আবার জরুরি অবস্থা কেটে গেলে এর ক্রিয়াশীলতাও দ্রুত হ্রাস পায়। এই কারণে অ্যাড্রেনালিনকে জরুরিকালীন বা সংকটকালীন হরমোন (Emergency hormone) বলে।

সংকটের সময় প্রভাব:

  1. রক্ত সংবহনতন্ত্র: হার্দ-উৎপাদ (cardiac output) বৃদ্ধি করে এবং রক্তবাহকে সংকুচিত করে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়।
  2. শ্বাসক্রিয়া: শ্বাসনালি বা ব্রংকিওলের পেশিকে শিথিল করে তাদের গহ্বরকে প্রসারিত করে, ফলে শ্বাসক্রিয়া দ্রুত ও সহজ হয়।
  3. পেশিতন্ত্র: অস্থিপেশির উত্তেজিতা ও সংকোচনশীলতা বৃদ্ধি পায়, ফলে পেশি দ্রুত কাজ করতে পারে।
  4. চক্ষু ও ত্বক: চোখের তারারন্ধ্র প্রসারিত হয়। ত্বকের রোম খাড়া হয়ে যায়।
8. মানবদেহে জনন গ্রন্থি (শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়) থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলির নাম ও তাদের প্রধান কাজগুলি বর্ণনা করো।

পুরুষদেহের জনন হরমোন:

পুরুষদেহে শুক্রাশয় (Testis)-এর ইন্টারস্টিসিয়াল কোশ থেকে টেস্টোস্টেরন (Testosterone) নামক স্টেরয়েড হরমোন ক্ষরিত হয়।
কাজ: ১. পুরুষদের প্রধান যৌনাঙ্গ (যেমন শুক্রাশয়) এবং আনুষঙ্গিক যৌনাঙ্গের (প্রস্টেট গ্রন্থি) বৃদ্ধি ঘটায়। ২. পুরুষদের গৌণ যৌনলক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে (যেমন- গলার স্বর মোটা হওয়া, গোঁফ-দাড়ি গজানো, পেশিবহুল দেহ)। ৩. শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে।

স্ত্রীদেহের জনন হরমোন:

স্ত্রীদেহের ডিম্বাশয় (Ovary) থেকে প্রধানত দুটি হরমোন ক্ষরিত হয়:

  • ইস্ট্রোজেন (Oestrogen): এটি ডিম্বাশয়ের গ্রাফিয়ান ফলিকল থেকে ক্ষরিত হয়।
    কাজ: ১. নারীদের ত্বক কোমল ও মসৃণ করে এবং স্তনগ্রন্থির বিকাশ ঘটায়। ২. স্ত্রীদেহে ঋতুচক্রের আবর্তন নিয়মিত করে।
  • প্রোজেস্টেরন (Progesterone): এটি ডিম্বাশয়ের করপাস লিউটিয়াম বা পীতগ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়।
    কাজ: ১. গর্ভাবস্থায় স্ত্রীদেহে অমরা বা প্লাসেন্টা (Placenta) গঠনে এবং ভ্রূণের বৃদ্ধি ও পুষ্টিতে সাহায্য করে। ২. গর্ভাবস্থায় ঋতুচক্র বন্ধ রাখে।
9. নিম্নলিখিত হরমোনগুলির কম বা বেশি ক্ষরণে সৃষ্ট রোগ ও তাদের কারণ আলোচনা করো: (a) বামনত্ব, (b) ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস, (c) গয়টার, (d) ডায়াবেটিস মেলিটাস।

হরমোনজনিত রোগ ও কারণ:

  1. বামনত্ব (Dwarfism): অগ্র পিটুইটারি থেকে নিঃসৃত STH বা গ্রোথ হরমোনের (GH) কম ক্ষরণের ফলে শিশুদের বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে দৈহিক বৃদ্ধি হ্রাস পেয়ে বামনত্ব রোগ হয় (২০ বছর বয়সেও ৭-১০ বছরের শিশুর মতো মনে হয়)।
  2. ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (Diabetes insipidus): পশ্চাৎ পিটুইটারি থেকে নিঃসৃত ADH (ভেসোপ্রেসিন) হরমোনের অভাবে এই রোগ হয়। এর ফলে বৃক্কীয় নালিকায় জলের পুনঃশোষণ ক্ষমতা কমে যায় এবং প্রচুর পরিমাণে বারবার পাতলা মূত্র নির্গত হয় (বহুমূত্র রোগ)।
  3. গলগণ্ড বা গয়টার (Goitre): খাদ্যে বা পানীয় জলে আয়োডিনের অভাব ঘটলে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণ হ্রাস পায়। এর ফলে থাইরয়েড গ্রন্থির আকার ও আয়তন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং গলা ফুলে ওঠে, একে গলগণ্ড রোগ বলে।
  4. মধুমেহ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (Diabetes mellitus): অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোশ থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোনের কম ক্ষরণের ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে শর্করা নির্গত হয়। অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন মূত্রত্যাগ এবং ঘা না শুকানো এই রোগের প্রধান লক্ষণ।
10. অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থির মধ্যে পার্থক্য সারণির সাহায্যে দেখাও। হরমোনকে ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রক বলা হয় কেন একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝাও।

অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থির পার্থক্য:

বিষয়অন্তঃক্ষরা (Endocrine) গ্রন্থিবহিঃক্ষরা (Exocrine) গ্রন্থি
নালির উপস্থিতিএদের নিজস্ব কোনো নালি থাকে না (অনাল গ্রন্থি)।এদের নিজস্ব নালি থাকে (সনাল গ্রন্থি)।
ক্ষরিত পদার্থএই প্রকার গ্রন্থি থেকে প্রধানত হরমোন ক্ষরিত হয়।এই প্রকার গ্রন্থি থেকে প্রধানত উৎসেচক পূর্ণ রস (যেমন লালারস, অগ্ন্যাশয় রস) ক্ষরিত হয়।
কাজের স্থানক্ষরণ সরাসরি রক্তে মিশে উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে বাহিত হয়ে কাজ করে।ক্ষরণ নালির মাধ্যমে গ্রন্থির বাইরে আসে এবং উৎপত্তিস্থলে বা নির্দিষ্ট স্থানে কাজ করে।
উদাহরণপিটুইটারি, থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি।লালাগ্রন্থি, যকৃৎ, ঘর্মগ্রন্থি, অশ্রুগ্রন্থি।

ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ:

দেহের কোনো গ্রন্থির ক্ষরণ যখন পরোক্ষভাবে অন্য হরমোন দ্বারা বা সেই হরমোনের রক্তে উপস্থিত মাত্রার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ বলে।
উদাহরণ: পিটুইটারি থেকে নিঃসৃত TSH থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণ ঘটায়। রক্তে থাইরক্সিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে, থাইরক্সিন নিজেই পিটুইটারি গ্রন্থিকে বাধা দেয়, ফলে TSH ক্ষরণ কমে যায় এবং থাইরক্সিন নিঃসরণও আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে। এটি নেগেটিভ ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণের একটি ভালো উদাহরণ।

মনে রেখো!

পিটুইটারি: মাস্টার গ্ল্যান্ড বা প্রভু গ্রন্থি। হাইপোথ্যালামাস: সুপ্রিম কমান্ডার।
ইনসুলিন: রক্তে শর্করা কমায় (অ্যান্টি-ডায়াবেটিক), এর অভাবে মধুমেহ হয়।
গ্লুকাগন: রক্তে শর্করা বাড়ায়। অ্যাড্রেনালিন: জরুরিকালীন হরমোন।
রোগ: STH-এর অভাবে বামনত্ব, ADH-এর অভাবে বহুমূত্র, থাইরক্সিনের অভাবে গলগণ্ড ও ক্রেটিনিজম হয়।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলি (যেমন TSH, ACTH, GTH) অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির বৃদ্ধি ও ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই একে প্রভু গ্রন্থি বা মাস্টার গ্ল্যান্ড বলে।

অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিনের ক্ষরণ কমে গেলে রক্তে শর্করা বাড়ে ও মূত্রের সাথে শর্করা নির্গত হয়, একে ডায়াবেটিস মেলিটাস (মধুমেহ) বলে। অন্যদিকে, পশ্চাৎ পিটুইটারির ADH হরমোনের অভাবে বারবার পাতলা মূত্র নির্গত হয়, একে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (বহুমূত্র) বলে।

ভয়, রাগ, আনন্দ বা উত্তেজনার সময় অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে দ্রুত অ্যাড্রেনালিন ক্ষরিত হয়ে রক্তচাপ ও শ্বাসক্রিয়া বাড়িয়ে শরীরকে সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। তাই একে জরুরিকালীন হরমোন বলে।

অগ্ন্যাশয়ে বহিঃক্ষরা কোশ (যা উৎসেচক ক্ষরণ করে) এবং অন্তঃক্ষরা কোশ (যথা আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স, যা ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন ক্ষরণ করে) উভয়ই বর্তমান। তাই একে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়।

খাদ্যে বা পানীয় জলে আয়োডিনের ঘাটতি হলে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে পর্যাপ্ত থাইরক্সিন উৎপন্ন হতে পারে না। এর ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায়, যাকে গলগণ্ড বা গয়টার রোগ বলে।