Chapter 1.E: প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন
গমন, অ্যামিবা, মাছ ও পাখির গমন পদ্ধতি, মানুষের দ্বিপদ গমন, পেশি ও অস্থিসন্ধির ভূমিকা | সম্পূর্ণ প্রস্তুতি | 50 MCQ | 40 SAQ | 10 Broad Questions
মায়োটোম পেশি উড্ডয়ন পেশি অস্থিসন্ধি ফ্লেক্সন ও এক্সটেনসন দ্বিপদ গমন সাইনোভিয়াল তরল
🐟
জলচর ও খেচর প্রাণীর গমন
মাছের পাখনার কাজ এবং পাখির ডানার পালকের (রেমিজেস) ভূমিকা
💪
পেশি ও অস্থিসন্ধি
ফ্লেক্সন, এক্সটেনসন, অ্যাবডাকশন এবং সাইনোভিয়াল জয়েন্ট
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
50 টি1. যে প্রক্রিয়ায় জীব উদ্দীপনার প্রভাবে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের দ্বারা সামগ্রিকভাবে স্থান পরিবর্তন করে তাকে কী বলে?
ক) চলন
খ) গমন
গ) শ্বসন
ঘ) রেচন
ব্যাখ্যা: সামগ্রিকভাবে স্থান পরিবর্তন করাকে গমন (Locomotion) বলে।
2. নীচের কোনটি গমনের উদ্দেশ্য বা চালিকাশক্তি নয়?
ক) খাদ্য অন্বেষণ
খ) আত্মরক্ষা
গ) হরমোন সংশ্লেষ
ঘ) প্রজনন
ব্যাখ্যা: খাদ্য, আশ্রয়, আত্মরক্ষা এবং প্রজননের উদ্দেশ্যে প্রাণীরা গমন করে। হরমোন সংশ্লেষ গমনের উদ্দেশ্য নয়।
3. অ্যামিবার (Amoeba) গমন অঙ্গের নাম কী?
ক) সিলিয়া
খ) ফ্ল্যাজেলা
গ) ক্ষণপদ (Pseudopodia)
ঘ) কর্ষিকা
ব্যাখ্যা: অ্যামিবার গমন অঙ্গ হল ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া, যার সাহায্যে অ্যামিবয়েড গমন সম্পন্ন হয়।
4. প্যারামেসিয়ামের (Paramecium) গমন অঙ্গের নাম কী?
ক) সিলিয়া (Cilia)
খ) ক্ষণপদ
গ) ফ্ল্যাজেলা
ঘ) পা
ব্যাখ্যা: প্যারামেসিয়াম সিলিয়ার সাহায্যে গমন করে, একে সিলিয়ারি গমন বলে।
5. ইউগ্লিনার (Euglena) গমন অঙ্গ কোনটি?
ক) সিলিয়া
খ) ফ্ল্যাজেলা (Flagella)
গ) ক্ষণপদ
ঘ) সিটা
ব্যাখ্যা: ইউগ্লিনা ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে গমন করে, যাকে ফ্ল্যাজেলীয় গমন বলে।
6. মাছের গমনে সাহায্যকারী 'V' আকৃতির পেশিটির নাম কী?
ক) বাইসেপস
খ) ডেলটয়েড
গ) মায়োটোম পেশি
ঘ) ট্রাইসেপস
ব্যাখ্যা: মাছের মেরুদণ্ডের দু-পাশে অবস্থিত 'V' আকৃতির পেশিগুলিকে মায়োটোম (Myotome) পেশি বলে, যা গমনে মুখ্য ভূমিকা নেয়।
7. মাছের দেহে মোট কয়টি পাখনা থাকে?
ব্যাখ্যা: মাছের দেহে মোট ৭টি পাখনা থাকে (২টি বক্ষ, ২টি শ্রেণি, ১টি পৃষ্ঠ, ১টি পায়ু এবং ১টি পুচ্ছ পাখনা)।
8. নীচের কোনটি মাছের জোড় পাখনা?
ক) পৃষ্ঠ পাখনা
খ) পুচ্ছ পাখনা
গ) বক্ষ পাখনা
ঘ) পায়ু পাখনা
ব্যাখ্যা: বক্ষ পাখনা এবং শ্রেণি পাখনা হল জোড় পাখনা (দুটি করে থাকে)।
9. মাছের গমনের সময় দিক পরিবর্তন করতে সাহায্য করে কোন পাখনা?
ক) বক্ষ পাখনা
খ) পুচ্ছ পাখনা (Caudal fin)
গ) পৃষ্ঠ পাখনা
ঘ) পায়ু পাখনা
ব্যাখ্যা: পুচ্ছ পাখনা বা লেজের পাখনা গমনের সময় নৌকার হালের মতো দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে।
10. মাছকে জলে নির্দিষ্ট গভীরতায় ভাসতে বা ডুবতে সাহায্য করে কে?
ক) পাখনা
খ) পটকা (Swim bladder)
গ) ফুলকা
ঘ) আঁশ
ব্যাখ্যা: মাছের দেহের ভেতরে থাকা পটকা বা বায়ুথলি হাইড্রোস্ট্যাটিক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে এবং মাছকে ভাসতে বা ডুবতে সাহায্য করে।
11. মাছের পটকার অগ্র প্রকোষ্ঠে কোন গ্রন্থি থাকে যা গ্যাস উৎপন্ন করে?
ক) রেড গ্রন্থি (Red gland)
খ) রেটিয়া মিরাবিলিয়া
গ) থাইরয়েড
ঘ) যকৃৎ
ব্যাখ্যা: পটকার অগ্র প্রকোষ্ঠে রেড গ্রন্থি থাকে, যা গ্যাস উৎপন্ন করে পটকাকে ফোলিয়ে মাছকে ভাসতে সাহায্য করে।
12. পটকার পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে গ্যাস শোষণকারী রক্তজালকের নাম কী?
ক) রেড গ্রন্থি
খ) রেটিয়া মিরাবিলিয়া (Rete mirabile)
গ) অ্যালভিওলাই
ঘ) গ্লোমেরুলাস
ব্যাখ্যা: রেটিয়া মিরাবিলিয়া নামক রক্তজালক পটকার গ্যাস শোষণ করে, ফলে পটকা চুপসে যায় এবং মাছ জলে ডুবে যায়।
13. পাখির ডানায় অবস্থিত বড়ো পালকগুলিকে কী বলে?
ক) রেমিজেস (Remiges)
খ) রেকট্রিসেস (Rectrices)
গ) কোভার্টস
ঘ) ডাউন
ব্যাখ্যা: পাখির ডানার প্রান্তে থাকা ২৩টি বড়ো পালককে রেমিজেস বলে, যা উড্ডয়নে সাহায্য করে।
14. পাখির ডানায় রেমিজেস পালকের সংখ্যা কত?
ক) ১২টি
খ) ২৩টি
গ) ১০টি
ঘ) ১৫টি
ব্যাখ্যা: প্রতিটি ডানায় ২৩টি করে রেমিজেস পালক থাকে।
15. পাখির লেজে অবস্থিত পালকগুলিকে কী বলে?
ক) রেমিজেস
খ) রেকট্রিসেস (Rectrices)
গ) মায়োটোম
ঘ) সিটা
ব্যাখ্যা: পাখির লেজে থাকা ১২টি বড়ো পালককে রেকট্রিসেস বলে, যা ওড়ার সময় দিক পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।
16. পাখির লেজে রেকট্রিসেস পালকের সংখ্যা কত?
ক) ২৩টি
খ) ১২টি
গ) ১০টি
ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা: পাখির লেজে ১২টি রেকট্রিসেস পালক থাকে।
17. নীচের কোনটি পাখির একটি উড্ডয়ন পেশি (Flight muscle)?
ক) বাইসেপস
খ) পেক্টোরালিস মেজর
গ) ডেলটয়েড
ঘ) ল্যাটিসিমাস ডরসি
ব্যাখ্যা: পেক্টোরালিস মেজর, পেক্টোরালিস মাইনর এবং কোরাকোব্রাকিয়ালিস হল পাখির প্রধান উড্ডয়ন পেশি।
18. পাখির কোন উড্ডয়ন পেশি ডানা নীচের দিকে নামাতে সাহায্য করে?
ক) পেক্টোরালিস মাইনর
খ) পেক্টোরালিস মেজর
গ) কোরাকোব্রাকিয়ালিস
ঘ) ট্রাইসেপস
ব্যাখ্যা: পেক্টোরালিস মেজর সংকুচিত হলে পাখির ডানা নীচের দিকে নেমে আসে।
19. পাখির কোন পেশি ডানা ওপরের দিকে তুলতে সাহায্য করে?
ক) পেক্টোরালিস মেজর
খ) পেক্টোরালিস মাইনর
গ) গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস
ঘ) সারটোরিয়াস
ব্যাখ্যা: পেক্টোরালিস মাইনর পেশি সংকুচিত হলে পাখির ডানা ওপরের দিকে উত্তোলিত হয়।
20. মানুষের গমন পদ্ধতিকে কী বলে?
ক) সিলিয়ারি গমন
খ) অ্যামিবয়েড গমন
গ) দ্বিপদ গমন (Bipedal locomotion)
ঘ) ক্রলিং
ব্যাখ্যা: মানুষ দুটি পায়ের সাহায্যে পর্যায়ক্রমে স্থান পরিবর্তন করে, তাই মানুষের গমনকে দ্বিপদ গমন বলে।
21. মানুষের গমনের সময় দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে কোন অঙ্গ?
ক) গুরুমস্তিষ্ক
খ) লঘুমস্তিষ্ক ও অন্তঃকর্ণ
গ) হাইপোথ্যালামাস
ঘ) চোখ
ব্যাখ্যা: গমনের সময় মস্তিষ্কের লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum) এবং অন্তঃকর্ণের অর্ধবৃত্তাকার নালি ও ওটোলিথ যন্ত্র দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
22. মানুষের দুটি অস্থির সংযোগস্থলকে কী বলে?
ক) লিগামেন্ট
খ) টেনডন
গ) অস্থিসন্ধি (Joint)
ঘ) পেশি
ব্যাখ্যা: দুটি বা তার বেশি অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট বলে।
23. সচল অস্থিসন্ধিতে যে তরল থাকে তার নাম কী?
ক) রক্ত
খ) লসিকা
গ) সাইনোভিয়াল তরল (Synovial fluid)
ঘ) সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড
ব্যাখ্যা: সাইনোভিয়াল গহ্বরে সাইনোভিয়াল তরল থাকে, যা অস্থিসন্ধিকে ঘর্ষণজনিত আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং পিচ্ছিল রাখে।
24. অস্থির সাথে পেশিকে যুক্ত রাখে কোন গঠন?
ক) লিগামেন্ট
খ) টেনডন (Tendon)
গ) সাইনোভিয়াল পর্দা
ঘ) তরুণাস্থি
ব্যাখ্যা: টেনডন (Tendon) হল শ্বেত তন্তুময় যোগকলা যা পেশিকে অস্থির সাথে যুক্ত রাখে।
25. অস্থির সাথে অস্থিকে যুক্ত রাখে কোন গঠন?
ক) টেনডন
খ) পেশি
গ) লিগামেন্ট (Ligament)
ঘ) স্নায়ু
ব্যাখ্যা: লিগামেন্ট (Ligament) হল স্থিতিস্থাপক যোগকলা যা দুটি অস্থিকে অস্থিসন্ধিতে যুক্ত রাখে।
26. বল ও সকেট (Ball and Socket) সন্ধি মানবদেহের কোথায় দেখা যায়?
ক) কনুইতে
খ) হাঁটুতে
গ) কাঁধে (স্কন্ধ সন্ধি)
ঘ) মাথার খুলিতে
ব্যাখ্যা: কাঁধের সন্ধি (স্কন্ধ সন্ধি) এবং নিতম্বের সন্ধি (উরু সন্ধি) হল বল ও সকেট সন্ধির উদাহরণ, যা সবদিকে ঘোরানো যায়।
27. কবজা বা হিঞ্জ (Hinge) সন্ধি কোথায় দেখা যায়?
ক) কাঁধে
খ) হাঁটু ও কনুইতে
গ) করোটিতে
ঘ) ঘাড়ে
ব্যাখ্যা: হাঁটু ও কনুইয়ের সন্ধি দরজার কবজার মতো একদিকে খোলে ও বন্ধ হয়, তাই এদের কবজা সন্ধি বলে।
28. যে প্রক্রিয়ায় দুটি অস্থি ভাঁজ হতে বা কাছাকাছি আসতে সহায়তা করে, তাকে কী বলে?
ক) এক্সটেনসন
খ) ফ্লেক্সন (Flexion)
গ) অ্যাবডাকশন
ঘ) রোটেশন
ব্যাখ্যা: দুটি অস্থি কাছাকাছি আসার প্রক্রিয়াকে ফ্লেক্সন বলে। (যেমন- কনুই ভাঁজ করা)।
29. নীচের কোনটি ফ্লেক্সর (Flexor) পেশির উদাহরণ?
ক) ট্রাইসেপস
খ) বাইসেপস
গ) ডেলটয়েড
ঘ) পাইরিফরমিস
ব্যাখ্যা: বাইসেপস (Biceps) পেশি কনুই সন্ধিকে ভাঁজ হতে সাহায্য করে, তাই এটি ফ্লেক্সর পেশি।
30. যে প্রক্রিয়ায় সন্ধিস্থল প্রসারিত হয় অর্থাৎ ভাঁজ করা অঙ্গ দূরে সরে যায়, তাকে কী বলে?
ক) ফ্লেক্সন
খ) এক্সটেনসন (Extension)
গ) অ্যাডাকশন
ঘ) রোটেশন
ব্যাখ্যা: অঙ্গকে প্রসারিত বা সোজা করার প্রক্রিয়াকে এক্সটেনসন বলে।
31. নীচের কোনটি এক্সটেনসর (Extensor) পেশির উদাহরণ?
ক) বাইসেপস
খ) ট্রাইসেপস
গ) ল্যাটিসিমাস ডরসি
ঘ) ডেলটয়েড
ব্যাখ্যা: ট্রাইসেপস (Triceps) পেশি সংকুচিত হলে ভাঁজ করা হাত সোজা হয়, তাই এটি এক্সটেনসর পেশি।
32. যে প্রক্রিয়ায় কোনো অঙ্গ দেহাক্ষ থেকে দূরে সরে যায়, তাকে কী বলে?
ক) ফ্লেক্সন
খ) অ্যাডাকশন
গ) অ্যাবডাকশন (Abduction)
ঘ) রোটেশন
ব্যাখ্যা: অঙ্গকে দেহাক্ষ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়াকে অ্যাবডাকশন বলে।
33. অ্যাবডাকশন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে কোন পেশি?
ক) ট্রাইসেপস
খ) ল্যাটিসিমাস ডরসি
গ) ডেলটয়েড (Deltoid)
ঘ) বাইসেপস
ব্যাখ্যা: কাঁধের ডেলটয়েড পেশি হাতকে দেহাক্ষ থেকে দূরে সরে যেতে সাহায্য করে, এটি একটি অ্যাবডাকটর পেশি।
34. যে প্রক্রিয়ায় কোনো অঙ্গ দেহাক্ষের নিকটবর্তী হয়, তাকে কী বলে?
ক) অ্যাবডাকশন
খ) অ্যাডাকশন (Adduction)
গ) ফ্লেক্সন
ঘ) রোটেশন
ব্যাখ্যা: অঙ্গকে দেহাক্ষের কাছাকাছি আনার প্রক্রিয়াকে অ্যাডাকশন বলে।
35. অ্যাডাকটর (Adductor) পেশির একটি উদাহরণ দাও।
ক) ডেলটয়েড
খ) ল্যাটিসিমাস ডরসি (Latissimus dorsi)
গ) বাইসেপস
ঘ) পাইরিফরমিস
ব্যাখ্যা: ল্যাটিসিমাস ডরসি পেশি হাতকে দেহাক্ষের কাছাকাছি আনতে সাহায্য করে।
36. যে প্রক্রিয়ায় দেহের কোনো অংশ তার লম্ব অক্ষের ওপর ঘোরে, তাকে কী বলে?
ক) রোটেশন (Rotation)
খ) ফ্লেক্সন
গ) এক্সটেনসন
ঘ) অ্যাবডাকশন
ব্যাখ্যা: অঙ্গের গোলাকার আবর্তনকে রোটেশন বলে।
37. রোটেটর (Rotator) পেশির একটি উদাহরণ কোনটি?
ক) ট্রাইসেপস
খ) বাইসেপস
গ) পাইরিফরমিস (Piriformis)
ঘ) ডেলটয়েড
ব্যাখ্যা: পাইরিফরমিস (Piriformis) পেশি ফিমার অস্থিকে আবর্তিত হতে সাহায্য করে, তাই এটি রোটেটর পেশি।
38. মানবদেহের দীর্ঘতম অস্থির নাম কী?
ক) হিউমেরাস
খ) ফিমার (Femur)
গ) টিবিয়া
ঘ) রেডিয়াস
ব্যাখ্যা: মানুষের উরুর অস্থি ফিমার (Femur) হল দেহের দীর্ঘতম ও ভারী অস্থি।
39. মানবদেহের পায়ের গোড়ালিতে কোন হাড় থাকে?
ক) ফিমার
খ) হিউমেরাস
গ) টারসাল
ঘ) কারপাল
ব্যাখ্যা: পায়ের গোড়ালিতে টারসাল (Tarsal) অস্থি থাকে। হাতের কবজিতে কারপাল থাকে।
40. সাইনোভিয়াল জয়েন্ট-এ তরল ধারণকারী গহ্বরটির নাম কী?
ক) সাইনোভিয়াল পর্দা
খ) সাইনোভিয়াল গহ্বর (Synovial cavity)
গ) লিগামেন্ট
ঘ) তরুণাস্থি
ব্যাখ্যা: অস্থিসন্ধিতে সাইনোভিয়াল পর্দা পরিবৃত গহ্বরকে সাইনোভিয়াল গহ্বর বলে, যার মধ্যে সাইনোভিয়াল তরল থাকে।
41. মাছের কোন পাখনা জলের মধ্যে গমনের সময় ভারসাম্য বজায় রাখে?
ক) পুচ্ছ পাখনা
খ) বক্ষ ও শ্রেণি পাখনা
গ) পৃষ্ঠ পাখনা
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: বক্ষ পাখনা (Pectoral fin) এবং শ্রেণি পাখনা (Pelvic fin) গমনের সময় ভারসাম্য বজায় রাখে এবং জলের মধ্যে ডুবতে ও ভাসতে সাহায্য করে।
42. দ্বিপদ গমনের সময় মানুষের মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র কোথায় অবস্থান করে?
ক) মাথায়
খ) পায়ে
গ) শ্রোণিদেশীয় অঞ্চলে (Pelvic region)
ঘ) বুকে
ব্যাখ্যা: দ্বিপদ গমনের সময় দেহের মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র শ্রোণিদেশ বা পেলভিক অঞ্চলে অবস্থান করে যা ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।
43. মানুষের পায়ের নীচের অংশের দুটি অস্থির নাম কী?
ক) রেডিয়াস ও আলনা
খ) টিবিয়া ও ফিবুলা
গ) ফিমার ও প্যাটেলা
ঘ) হিউমেরাস ও ফিমার
ব্যাখ্যা: হাঁটুর নীচের অংশে টিবিয়া (Tibia) এবং ফিবুলা (Fibula) নামক দুটি অস্থি থাকে।
44. প্যাটেলা (Patella) অস্থি কোথায় থাকে?
ক) কবজিতে
খ) কাঁধে
গ) হাঁটুতে
ঘ) মেরুদণ্ডে
ব্যাখ্যা: প্যাটেলা বা মালাইচাকি হাঁটুতে (Knee joint) অবস্থান করে।
45. মানুষের হাতে কনুইয়ের ওপরের দিকের অস্থির নাম কী?
ক) ফিমার
খ) হিউমেরাস (Humerus)
গ) রেডিয়াস
ঘ) টিবিয়া
ব্যাখ্যা: কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত বিস্তৃত অস্থির নাম হিউমেরাস।
46. মাছের গমনে পুচ্ছ পাখনার মূল কাজ কী?
ক) জলের গভীরে যাওয়া
খ) নৌকার হালের মতো দিক পরিবর্তন করা
গ) সোজা পথে চালিত করা
ঘ) খাদ্য ধরা
ব্যাখ্যা: পুচ্ছ পাখনা নৌকার হালের মতো কাজ করে জলের মধ্যে দিক পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।
47. পাখিদের ওড়ার সুবিধার জন্য কোন অস্থিটি নৌকার দাঁড়ের মতো 'কিল' (Keel)-এ রূপান্তরিত হয়েছে?
ক) স্টারনাম (Sternum)
খ) ফিমার
গ) হিউমেরাস
ঘ) স্ক্যাপুলা
ব্যাখ্যা: পাখিদের বক্ষাস্থি বা স্টারনাম (Sternum) রূপান্তরিত হয়ে 'কিল' গঠন করে, যার সাথে উড্ডয়ন পেশিগুলি যুক্ত থাকে।
48. পাখিদের দেহের ওজন কমানোর জন্য কোন্ অঙ্গটিতে বায়ু প্রকোষ্ঠ (Air sacs) থাকে?
ক) পেশিতে
খ) ফুসফুসে (Lungs)
গ) মস্তিষ্কে
ঘ) হৃৎপিণ্ডে
ব্যাখ্যা: পাখিদের ফুসফুসের সাথে ৯টি বায়ুথলি বা এয়ার স্যাক (Air sacs) যুক্ত থাকে, যা ওড়ার সময় অতিরিক্ত অক্সিজেন জোগায় এবং শরীরকে হালকা করে।
49. মানুষের গমনে হাতের একটি কাজ কী?
ক) শরীরকে ঠেলে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া
খ) বিপরীত পায়ের সাথে হাত সামনে এগিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখা
গ) লাফ দিতে সাহায্য করা
ঘ) কোনো কাজ নেই
ব্যাখ্যা: গমনকালে মানুষ ডান পা এগোলে বাঁ হাত এবং বাম পা এগোলে ডান হাত সামনে এগিয়ে দেহের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
50. অস্থিসন্ধির সাইনোভিয়াল পর্দায় প্রদাহ বা প্রদাহজনিত কারণে ব্যথা হলে তাকে কী রোগ বলে?
ক) গয়টার
খ) আর্থ্রাইটিস (Arthritis)
গ) ডায়াবেটিস
ঘ) মায়োপিয়া
ব্যাখ্যা: অস্থিসন্ধিতে সাইনোভিয়াল তরল কমে গেলে বা প্রদাহ হলে গাটে গাটে ব্যথা হয়, যাকে আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা বলে।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
40 টি1. গমন (Locomotion) কাকে বলে?
যে প্রক্রিয়ায় জীব উদ্দীপনার প্রভাবে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের দ্বারা সামগ্রিকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থান পরিবর্তন করে, তাকে গমন বলে।
2. প্রাণীদের গমনের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য বা চালিকাশক্তি লেখো।
১. খাদ্য অন্বেষণ: প্রাণীরা নিজেদের ও শাবকদের জন্য খাদ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে স্থানান্তরে গমন করে। ২. আত্মরক্ষা: খাদক প্রাণী কর্তৃক আক্রান্ত হলে বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য প্রাণীরা গমন করে।
3. চলন ও গমনের মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
চলনে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না (জীব নির্দিষ্ট স্থানে স্থির থাকে), কিন্তু গমনে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয়।
4. অ্যামিবার গমন অঙ্গের নাম কী এবং এর গমন পদ্ধতিকে কী বলে?
অ্যামিবার গমন অঙ্গের নাম ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া (Pseudopodia)। এর গমন পদ্ধতিকে অ্যামিবয়েড গমন বলে।
5. প্যারামেসিয়াম এবং ইউগ্লিনার গমন অঙ্গের নাম কী?
প্যারামেসিয়ামের গমন অঙ্গ হল সিলিয়া (Cilia), এবং ইউগ্লিনার গমন অঙ্গ হল ফ্ল্যাজেলা (Flagella)।
6. মায়োটোম (Myotome) পেশি কী?
মাছের মেরুদণ্ডের দু-পাশে অবস্থিত, লেজ পর্যন্ত বিস্তৃত 'V' আকৃতির শক্তিশালী পেশিগুলিকে মায়োটোম পেশি বলে। এগুলি পর্যায়ক্রমে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে মাছকে সামনের দিকে এগোতে সাহায্য করে।
7. মাছের দেহে মোট কয়টি পাখনা থাকে? জোড় ও বিজোড় পাখনাগুলি কী কী?
মাছের দেহে মোট ৭টি পাখনা থাকে। জোড় পাখনা: বক্ষ পাখনা (২টি) ও শ্রেণি পাখনা (২টি)। বিজোড় পাখনা: পৃষ্ঠ পাখনা (১টি), পায়ু পাখনা (১টি) এবং পুচ্ছ পাখনা (১টি)।
8. মাছের গমনে পুচ্ছ পাখনা ও পৃষ্ঠ পাখনার ভূমিকা লেখো।
পুচ্ছ পাখনা (Caudal fin) নৌকার হালের মতো দিক পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। পৃষ্ঠ পাখনা (Dorsal fin) গমনের সময় মাছকে জলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং জলে ড্রিলিং প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
9. মাছের পটকা (Swim bladder) গমনে কীভাবে সাহায্য করে?
পটকা মাছের হাইড্রোস্ট্যাটিক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। পটকার অগ্র প্রকোষ্ঠের রেড গ্রন্থি গ্যাস উৎপন্ন করলে মাছ জলে ভাসে এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠের রেটিয়া মিরাবিলিয়া গ্যাস শোষণ করলে মাছ জলে ডুবে যায়।
10. পাখির ডানায় এবং লেজে কতগুলি করে বড়ো পালক থাকে ও তাদের কী বলে?
পাখির প্রতিটি ডানায় ২৩টি বড়ো পালক থাকে যাদের রেমিজেস (Remiges) বলে। পাখির লেজে ১২টি বড়ো পালক থাকে যাদের রেকট্রিসেস (Rectrices) বলে।
11. রেমিজেস ও রেকট্রিসেস পালকের কাজ কী?
রেমিজেস পালক ডানার তলদেশ প্রসারিত করে পাখিকে বাতাসে ভাসতে ও উড়তে সাহায্য করে। রেকট্রিসেস পালক উড্ডয়নের সময় নৌকার হালের মতো দিক পরিবর্তন করতে এবং গতিরোধ করতে সাহায্য করে।
12. পাখির প্রধান উড্ডয়ন পেশিগুলির (Flight muscles) নাম লেখো।
পাখির প্রধান উড্ডয়ন পেশিগুলি হল: ১. পেক্টোরালিস মেজর (Pectoralis major), ২. পেক্টোরালিস মাইনর (Pectoralis minor), এবং ৩. কোরাকোব্রাকিয়ালিস (Coracobrachialis)।
13. পাখিদের ওড়ার সময় পেক্টোরালিস মেজর পেশির ভূমিকা কী?
পাখির উড্ডয়নের সময় পেক্টোরালিস মেজর পেশি সংকুচিত হলে পাখির ডানা নীচের দিকে নেমে আসে (Downstroke), যা পাখিকে বাতাসে ভর দিয়ে এগোতে সাহায্য করে।
14. মানুষের গমন পদ্ধতিকে দ্বিপদ গমন (Bipedal locomotion) বলা হয় কেন?
মানুষ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুটি পায়ের (পশ্চাৎপদের) সাহায্যে পর্যায়ক্রমে স্থান পরিবর্তন করে অগ্রসর হয় বলে মানুষের গমনকে দ্বিপদ গমন বলা হয়।
15. দ্বিপদ গমনের সময় মানুষের ভারসাম্য রক্ষায় কোন কোন অঙ্গ সাহায্য করে?
গমনের সময় মানুষের মস্তিষ্কের লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum) এবং অন্তঃকর্ণের অর্ধবৃত্তাকার নালি ও ওটোলিথ যন্ত্র দেহের ভারসাম্য রক্ষা করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
16. মানুষের পায়ের অস্থিগুলির নাম ক্রমানুসারে লেখো (উপর থেকে নীচে)।
মানুষের পায়ের অস্থিগুলি হল: ফিমার (উরু), প্যাটেলা (হাঁটু), টিবিয়া ও ফিবুলা (হাঁটুর নীচে), টারসাল (গোড়ালি), মেটাটারসাল এবং ফ্যালাঞ্জেস (পায়ের আঙুল)।
17. সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি (Synovial joint) কাকে বলে?
যেসব অস্থিসন্ধি সাইনোভিয়াল পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং যার সাইনোভিয়াল গহ্বরে ঘর্ষণরোধী সাইনোভিয়াল তরল পূর্ণ থাকে, তাদের সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি বলে। (যেমন- হাঁটু, কনুই)।
18. সাইনোভিয়াল তরল (Synovial fluid)-এর কাজ কী?
সাইনোভিয়াল তরল অস্থিসন্ধিকে পিচ্ছিল রাখে, যার ফলে অস্থিগুলির নড়াচড়ায় ঘর্ষণজনিত আঘাত বা ক্ষয় প্রতিরোধ হয় এবং পুষ্টি সরবরাহ করে।
19. লিগামেন্ট (Ligament) ও টেনডন (Tendon) কী?
লিগামেন্ট হল স্থিতিস্থাপক শ্বেত বা পীত তন্তুময় যোগকলা যা দুটি অস্থিকে অস্থিসন্ধিতে যুক্ত রাখে। টেনডন হল অস্থিতিস্থাপক শ্বেত তন্তুময় যোগকলা যা কঙ্কাল পেশিকে অস্থির সাথে যুক্ত রাখে।
20. কবজা সন্ধি বা হিঞ্জ সন্ধি (Hinge joint) কোথায় থাকে এবং এর বৈশিষ্ট্য কী?
কবজা সন্ধি হাঁটু (Knee joint) এবং কনুইতে (Elbow joint) থাকে। এর বৈশিষ্ট্য হল, এটি দরজার কবজার মতো কেবল একদিকে খোলা বা ভাঁজ করা যায়।
21. বল ও সকেট সন্ধি (Ball and Socket joint) কোথায় থাকে এবং এর বৈশিষ্ট্য কী?
বল ও সকেট সন্ধি কাঁধে (স্কন্ধ সন্ধি) এবং নিতম্বে (উরু সন্ধি) থাকে। এর বৈশিষ্ট্য হল, একটি অস্থির গোলাকার প্রান্ত অপর অস্থির সকেটের মধ্যে এমনভাবে থাকে যে অস্থিটিকে সবদিকে আবর্তন করা যায়।
22. ফ্লেক্সন (Flexion) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে প্রক্রিয়ায় দুটি অস্থি ভাঁজ হতে বা কাছাকাছি আসতে সহায়তা করে, তাকে ফ্লেক্সন বলে। উদাহরণ: বাইসেপস পেশির সংকোচনে কনুই ভাঁজ করে হাত গুটিয়ে আনা।
23. এক্সটেনসন (Extension) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে প্রক্রিয়ায় অস্থিসন্ধিস্থল প্রসারিত হয় অর্থাৎ ভাঁজ করা অঙ্গ দূরে সরে গিয়ে সোজা হয়, তাকে এক্সটেনসন বলে। উদাহরণ: ট্রাইসেপস পেশির সংকোচনে ভাঁজ করা হাত সোজা হওয়া।
24. অ্যাবডাকশন (Abduction) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে প্রক্রিয়ায় দেহের কোনো অঙ্গ দেহাক্ষ (Midline) থেকে দূরে সরে যায়, তাকে অ্যাবডাকশন বলে। উদাহরণ: ডেলটয়েড পেশির সংকোচনে হাতকে শরীর থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া।
25. অ্যাডাকশন (Adduction) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে প্রক্রিয়ায় দেহের কোনো অঙ্গ দেহাক্ষের কাছাকাছি বা নিকটবর্তী হয়, তাকে অ্যাডাকশন বলে। উদাহরণ: ল্যাটিসিমাস ডরসি পেশির সংকোচনে প্রসারিত হাতকে আবার শরীরের কাছে ফিরিয়ে আনা।
26. রোটেশন (Rotation) কাকে বলে? একটি রোটেটর পেশির নাম লেখো।
যে প্রক্রিয়ায় দেহের কোনো অংশ তার নিজস্ব লম্ব অক্ষের ওপর আবর্তিত হয় বা ঘোরে, তাকে রোটেশন বলে। একটি রোটেটর পেশির উদাহরণ হল পাইরিফরমিস (Piriformis)।
27. মানুষের হাতের দীর্ঘতম অস্থিটির নাম কী?
মানুষের হাতের (কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত) দীর্ঘতম অস্থিটির নাম হল হিউমেরাস (Humerus)।
28. মানবদেহের দীর্ঘতম ও ভারী অস্থির নাম কী?
মানবদেহের দীর্ঘতম ও ভারী অস্থিটি হল পায়ের উরুতে অবস্থিত ফিমার (Femur)।
29. মানুষের গমনে হাতের ভূমিকা কী?
গমনকালে মানুষ ডান পা এগোলে বাঁ হাত এবং বাম পা এগোলে ডান হাত সামনে এগিয়ে দেহের সঠিক ভারসাম্য (Balance) বজায় রাখে, যাতে শরীর সামনের দিকে পড়ে না যায়।
30. ফ্লেক্সর ও এক্সটেনসর পেশি পরস্পর বিপরীতধর্মী কাজ করে—কথাটির অর্থ কী?
ফ্লেক্সর পেশি (যেমন বাইসেপস) সংকুচিত হয়ে অঙ্গকে ভাঁজ করে, আর সেই একই অঙ্গকে প্রসারিত বা সোজা করার সময় এক্সটেনসর পেশি (যেমন ট্রাইসেপস) সংকুচিত হয়। তাই এরা একে অপরের বিপরীত কাজ করে (Antagonistic muscle)।
31. মাছের গমনে বক্ষ পাখনা ও শ্রেণি পাখনার ভূমিকা কী?
বক্ষ পাখনা ও শ্রেণি পাখনা গমনের সময় মাছের দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং মাছকে জলের গভীরে ডুবতে বা জলের ওপরের দিকে ভাসতে সাহায্য করে।
32. কঙ্কাল পেশি (Skeletal muscle) বলতে কী বোঝো?
যেসব ঐচ্ছিক পেশি টেনডনের সাহায্যে কঙ্কালতন্ত্রের বা অস্থির সাথে যুক্ত থাকে এবং সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে অস্থিসঞ্চালনে তথা গমনে সাহায্য করে, তাদের কঙ্কাল পেশি বলে।
33. পাখির অস্থি বা হাড় হালকা হয় কেন?
পাখিদের অস্থিগুলি বায়ুপূর্ণ এবং স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত (Pneumatic bone) হওয়ায় সেগুলি অত্যন্ত হালকা হয়, যা উড্ডয়নে সাহায্য করে।
34. মাছের গমনে রেড গ্রন্থি ও রেটিয়া মিরাবিলিয়া কীভাবে কাজ করে?
রেড গ্রন্থি গ্যাস উৎপন্ন করে পটকা ফুলিয়ে মাছকে ভাসতে সাহায্য করে, এবং রেটিয়া মিরাবিলিয়া সেই গ্যাস শোষণ করে পটকা চুপসে দিয়ে মাছকে ডুবতে সাহায্য করে।
35. অ্যামিবয়েড গমন কীভাবে ঘটে?
অ্যামিবা তার দেহের প্রোটোপ্লাজমের ঘনত্বের পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া তৈরি করে এবং সেই ক্ষণপদের সাহায্যে গড়িয়ে বা পিছলে এগিয়ে যায়।
36. ফ্ল্যাজেলীয় গমন কীভাবে ঘটে?
ইউগ্লিনা তার চাবুকের মতো দীর্ঘ ফ্ল্যাজেলাটিকে জলের মধ্যে তরঙ্গের মতো আন্দোলিত করে জলের বাধা কাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
37. সিলিয়ারি গমন বলতে কী বোঝো?
প্যারামেসিয়াম তার দেহের বাইরের অসংখ্য সূক্ষ্ম রোমের মতো সিলিয়াগুলিকে জলের মধ্যে একযোগে বা পর্যায়ক্রমে স্পন্দিত করে যে গমন সম্পন্ন করে, তাকে সিলিয়ারি গমন বলে।
38. মানুষের দ্বিপদ গমনের পর্যায়গুলি কী কী?
মানুষের দ্বিপদ গমনের দুটি প্রধান পর্যায় হল: ১. উত্তোলন দশা (Swing phase), যখন পা মাটি থেকে ওপরে ওঠে এবং ২. স্থাপন দশা (Stance phase), যখন পা মাটিতে স্থাপিত হয়।
39. প্যাটেলা (Patella) কী?
প্যাটেলা বা মালাইচাকি হল মানুষের হাঁটু সন্ধির (Knee joint) সম্মুখভাগে অবস্থিত একটি ছোটো, ত্রিকোণাকার বা চাকতির মতো অস্থি, যা অস্থিসন্ধিকে সুরক্ষিত রাখে।
40. আর্থ্রাইটিস (Arthritis) কী?
বয়সজনিত কারণে বা অন্য কোনো কারণে অস্থিসন্ধির সাইনোভিয়াল তরল শুকিয়ে গেলে বা সাইনোভিয়াল পর্দায় প্রদাহ সৃষ্টি হলে গাঁটে গাঁটে যে তীব্র ব্যথা হয়, তাকে আর্থ্রাইটিস বলে।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)
10 টি1. প্রাণীদের গমনের উদ্দেশ্য বা চালিকাশক্তিগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
গমনের চালিকাশক্তি বা উদ্দেশ্য:
প্রাণীদের গমনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি নীচে আলোচনা করা হল:
- খাদ্য অন্বেষণ: উদ্ভিদের মতো প্রাণীরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না। তাই নিজেদের এবং শাবকদের জন্য উপযুক্ত খাদ্য সংগ্রহের সন্ধানে প্রাণীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করতে হয়।
- আশ্রয় বা বাসস্থান খোঁজা: প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা পেতে এবং নিরাপদে বিশ্রাম ও প্রজননের জন্য প্রাণীরা তাদের পছন্দমতো সুরক্ষিত নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে গমন করে।
- খাদক প্রাণী থেকে আত্মরক্ষা: কোনো খাদক বা শিকারি প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হলে শিকার প্রাণীটি নিজেকে রক্ষার জন্য দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে বা পালিয়ে যায়। অর্থাৎ আত্মরক্ষার জন্য গমন অপরিহার্য।
- প্রজনন ও বংশবিস্তার: প্রজননের উদ্দেশ্যে বা উপযুক্ত সঙ্গী/সঙ্গিনীর সন্ধানে প্রাণীদের স্থানান্তর বা গমন করতে হয়। এছাড়া বংশবিস্তারের পর শাবকগুলি বড়ো হয়ে খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে (Dispersal)।
- প্রতিকূল পরিবেশ এড়ানো: চরম শীত বা গরমের হাত থেকে বাঁচতে অনেক প্রাণী (যেমন- পরিযায়ী পাখি) এক স্থান থেকে বহু দূরবর্তী অন্য স্থানে গমন করে (Migration)।
2. মাছের গমনে মায়োটোম পেশি এবং বিভিন্ন পাখনার ভূমিকা আলোচনা করো।
মাছের গমনে মায়োটোম পেশির ভূমিকা:
মাছের মেরুদণ্ডের দুই পাশে মাথার পিছন থেকে লেজ পর্যন্ত 'V' আকৃতির শক্তিশালী পেশিগুলি পরপর সাজানো থাকে, এদের মায়োটোম (Myotome) পেশি বলে। এই পেশিগুলি মাছের মস্তিস্কের আদেশে পর্যায়ক্রমে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। ডান দিকের পেশি সংকুচিত হলে মেরুদণ্ড ডান দিকে বেঁকে যায়, আবার বাঁ দিকের পেশি সংকুচিত হলে মেরুদণ্ড বাঁ দিকে বাঁকে। এই পর্যায়ক্রমিক সংকোচনের ফলে মাছের দেহে তরঙ্গের মতো একটি ঢেউ সৃষ্টি হয়, যা মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং মাছ জলের বাধা কাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
মাছের গমনে পাখনার ভূমিকা:
- পুচ্ছ পাখনা (Caudal fin): এটি নৌকার হালের মতো কাজ করে জলের মধ্যে দিক পরিবর্তন করতে সাহায্য করে এবং সামনের দিকে এগোতে ধাক্কা দেয়।
- পৃষ্ঠ ও পায়ু পাখনা (Dorsal & Anal fin): এই বিজোড় পাখনাগুলি মাছকে জলে সোজাভাবে থাকতে এবং জলের মধ্যে রোলিং বা ড্রিলিং প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
- বক্ষ ও শ্রেণি পাখনা (Pectoral & Pelvic fin): এই জোড় পাখনাগুলি মাছের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং মাছকে জলের গভীরে ডুবতে বা জলের ওপরের দিকে ভেসে উঠতে সাহায্য করে।
3. পাখির উড্ডয়নে উড্ডয়ন পেশি (Flight muscles) এবং পালকের (Feathers) ভূমিকা বিস্তারিত লেখো।
পাখির উড্ডয়ন পেশির ভূমিকা:
পাখির বক্ষাস্থি বা স্টারনাম (কিল) এর সাথে শক্তিশালী উড্ডয়ন পেশিগুলি যুক্ত থাকে, যা ডানার সঞ্চালনে মুখ্য ভূমিকা নেয়। প্রধান তিনটি পেশি হল:
- পেক্টোরালিস মেজর (Pectoralis major): এটি একটি শক্তিশালী ফ্লেক্সর পেশি। এটি সংকুচিত হলে পাখির ডানা দ্রুত নীচের দিকে নেমে আসে (Downstroke), যা পাখিকে বাতাসে ভর দিয়ে সামনের দিকে এগোতে সাহায্য করে।
- পেক্টোরালিস মাইনর (Pectoralis minor): এটি একটি এক্সটেনসর পেশি। এটি সংকুচিত হলে ডানা আবার ওপরের দিকে উত্তোলিত হয় (Upstroke)।
- কোরাকোব্রাকিয়ালিস (Coracobrachialis): এটি ডানাকে ঘোরাতে এবং উড্ডয়নের সময় দিক বজায় রাখতে সাহায্য করে।
উড্ডয়নে পালকের ভূমিকা:
পাখির ডানা ও লেজে থাকা বড়ো পালকগুলি (Flight feathers) ওড়ার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী:
- রেমিজেস (Remiges): পাখির প্রতিটি ডানার প্রান্তে ২৩টি করে বড়ো পালক থাকে। এরা ডানার তলদেশ প্রসারিত করে, যা বাতাসের চাপ ধরে রেখে পাখিকে ভাসতে এবং উড়তে সাহায্য করে।
- রেকট্রিসেস (Rectrices): পাখির লেজে ১২টি বড়ো পালক থাকে। এরা উড্ডয়নের সময় নৌকার হালের মতো দিক পরিবর্তন করতে এবং মাটিতে নামার সময় গতিরোধ (ব্রেক) করতে সাহায্য করে।
4. মানুষের দ্বিপদ গমন (Bipedal Locomotion) পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করো। গমনকালে দেহের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষিত হয়?
মানুষের দ্বিপদ গমন পদ্ধতি:
মানুষ দুটি পায়ের সাহায্যে পর্যায়ক্রমে স্থান পরিবর্তন করে, যাকে দ্বিপদ গমন বলে। এই গমনে প্রধানত পায়ের পেশি (যেমন- গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস, গ্লুটিয়াস ম্যাক্সিমাস) ও বিভিন্ন অস্থিসন্ধি সাহায্য করে। গমন পদ্ধতিকে দুটি দশায় ভাগ করা যায়:
- উত্তোলন দশা (Swing phase): হাঁটার শুরুতে মানুষ তার একটি পায়ের গোড়ালি মাটি থেকে তোলে। পায়ের পেশির সংকোচনে হাঁটু সামান্য ভাঁজ হয় এবং পুরো পাটি মাটি থেকে উঠে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। এই সময় অপর পাটি মাটিতে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত থেকে দেহের সমস্ত ভার বহন করে।
- স্থাপন দশা (Stance phase): বাতাসে থাকা পাটি সামনের দিকে এগিয়ে মাটিতে স্থাপিত হয় (প্রথমে গোড়ালি, তারপর পায়ের পাতা)। তখন পিছনের পাটি মাটি থেকে উঠে আসে। এইভাবে দুটি পা পর্যায়ক্রমে সঞ্চালিত হয়ে মানুষ সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
ভারসাম্য রক্ষা:
গমনকালে মানুষ যখন ডান পা সামনে এগোয়, তখন বাঁ হাত সামনে এগিয়ে যায় এবং বাঁ পা এগোলে ডান হাত সামনে এগিয়ে যায়। এর ফলে দেহের মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র ঠিক থাকে এবং ভারসাম্য বজায় থাকে। এছাড়া মানুষের মস্তিষ্কের লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum) এবং অন্তঃকর্ণের অর্ধবৃত্তাকার নালি ও ওটোলিথ যন্ত্র গমনের সময় স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেহের সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
5. সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি (Synovial Joint) কী? একটি সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধির গঠন বর্ণনা করো।
সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি:
যেসব অস্থিসন্ধি সাইনোভিয়াল পর্দা দ্বারা পরিবৃত থাকে এবং যার ভেতরের গহ্বরে সাইনোভিয়াল তরল পূর্ণ থাকে, তাদের সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি বলে। এটি একটি সচল অস্থিসন্ধি। যেমন- হাঁটু বা কনুইয়ের সন্ধি।
সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধির গঠন:
একটি আদর্শ সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধির প্রধান অংশগুলি হল:
- অস্থিপ্রান্ত ও তরুণাস্থি: সন্ধিতে যুক্ত হওয়া দুটি অস্থির প্রান্তভাগ মসৃণ ও স্থিতিস্থাপক তরুণাস্থি (Articular cartilage) দ্বারা আবৃত থাকে, যা অস্থির ঘর্ষণ ও ক্ষয় রোধ করে।
- সাইনোভিয়াল ক্যাপসুল ও পর্দা: অস্থিসন্ধিটির বাইরে একটি তন্তুময় আবরণ থাকে যাকে আর্টিকুলার ক্যাপসুল বলে। এর ভেতরের দিকে সাইনোভিয়াল পর্দা (Synovial membrane) থাকে।
- সাইনোভিয়াল গহ্বর ও তরল: দুটি অস্থির মধ্যবর্তী স্থানে সাইনোভিয়াল পর্দা দ্বারা ঘেরা যে ফাঁকা গহ্বর থাকে, তাকে সাইনোভিয়াল গহ্বর বলে। এই গহ্বরে সাইনোভিয়াল পর্দা থেকে নিঃসৃত সাইনোভিয়াল তরল (Synovial fluid) থাকে। এটি লুব্রিকেন্ট বা পিচ্ছিলকারক হিসেবে কাজ করে এবং অস্থিসন্ধির ঘর্ষণ দূর করে।
- লিগামেন্ট (Ligament): সন্ধিস্থলে অস্থি দুটিকে নির্দিষ্ট স্থানে ধরে রাখার জন্য স্থিতিস্থাপক লিগামেন্ট বা সন্ধিবন্ধনী থাকে।
6. বল ও সকেট সন্ধি (Ball and Socket Joint) এবং কবজা সন্ধি (Hinge Joint) কাকে বলে? এদের অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
বল ও সকেট সন্ধি:
বৈশিষ্ট্য: এই প্রকার অস্থিসন্ধিতে একটি অস্থির গোলাকার প্রান্ত বা 'বল' অপর একটি অস্থির অবতল গহ্বর বা 'সকেট'-এর মধ্যে এমনভাবে বসানো থাকে যে, অস্থিটিকে প্রায় সবদিকে (৩৬০ ডিগ্রি) আবর্তিত বা ঘোরানো যায়।
অবস্থান: ১. স্কন্ধ সন্ধি (Shoulder joint): কাঁধের কাছে হিউমেরাসের মস্তক এবং স্ক্যাপুলার গ্লেনয়েড গহ্বরের সংযোগস্থল। ২. উরু সন্ধি (Hip joint): নিতম্বের কাছে ফিমারের মস্তক এবং পেলভিস বা শ্রোণিচক্রের অ্যাসিটাবুলাম গহ্বরের সংযোগস্থল।
কবজা সন্ধি বা হিঞ্জ সন্ধি:
বৈশিষ্ট্য: এই প্রকার অস্থিসন্ধি দরজার কবজার মতো কাজ করে। এটি কেবল একদিকে খোলা বা ভাঁজ করা যায় (প্রায় ১৮০ ডিগ্রি), কিন্তু বিপরীত দিকে বাঁকানো বা ঘোরানো যায় না।
অবস্থান: ১. হাঁটু সন্ধি (Knee joint): ফিমার এবং টিবিয়া-ফিবুলার সংযোগস্থল। ২. কনুই সন্ধি (Elbow joint): হিউমেরাস এবং রেডিয়াস-আলনার সংযোগস্থল।
7. ফ্লেক্সন (Flexion) এবং এক্সটেনসন (Extension) কাকে বলে? উদাহরণ ও সংশ্লিষ্ট পেশির নামসহ বুঝিয়ে দাও।
ফ্লেক্সন (Flexion):
সংজ্ঞা: যে পদ্ধতিতে কঙ্কালসংলগ্ন পেশির সংকোচনের ফলে দুটি অস্থিসংলগ্ন অঙ্গ ভাঁজ হতে বা কাছাকাছি আসতে সহায়তা করে, তাকে ফ্লেক্সন বলে। এই প্রক্রিয়ায় যে পেশি সাহায্য করে তাকে ফ্লেক্সর (Flexor) পেশি বলে।
উদাহরণ: হাতের কনুই ভাঁজ করে হাত গুটিয়ে আনা। এই কাজে হাতের ওপরের দিকের বাইসেপস (Biceps) পেশি সংকুচিত হয়ে হিউমেরাস অস্থির কাছে রেডিয়াস ও আলনা অস্থিকে টেনে আনে।
এক্সটেনসন (Extension):
সংজ্ঞা: যে পদ্ধতিতে পেশির সংকোচনে ভাঁজ করা অস্থিসন্ধিস্থল প্রসারিত হয় অর্থাৎ ভাঁজ করা অঙ্গ দূরে সরে গিয়ে সোজা হয়, তাকে এক্সটেনসন বলে। এই প্রক্রিয়ায় যে পেশি সাহায্য করে তাকে এক্সটেনসর (Extensor) পেশি বলে। এটি ফ্লেক্সনের ঠিক বিপরীত প্রক্রিয়া।
উদাহরণ: ভাঁজ করা হাত সোজা করা। এই কাজে হাতের পেছনের দিকের ট্রাইসেপস (Triceps) পেশি সংকুচিত হয়ে ভাঁজ করা কনুইকে প্রসারিত করে হাত সোজা করে দেয়।
8. অ্যাবডাকশন (Abduction) এবং অ্যাডাকশন (Adduction) কাকে বলে? উদাহরণ ও সংশ্লিষ্ট পেশির নামসহ পার্থক্য স্পষ্ট করো।
অ্যাবডাকশন (Abduction):
সংজ্ঞা: যে পদ্ধতিতে কঙ্কাল পেশির সংকোচনে দেহের কোনো অঙ্গ বা উপাঙ্গ মানবদেহের মধ্যরেখা বা দেহাক্ষ (Body axis) থেকে দূরে সরে যায়, তাকে অ্যাবডাকশন বলে। সংশ্লিষ্ট পেশিকে অ্যাবডাকটর (Abductor) পেশি বলে।
উদাহরণ: হাতকে শরীরের পাশে সোজা না রেখে কাঁধের কাছ থেকে ওপরের দিকে বা বাইরের দিকে তুলে ধরা। এই কাজে কাঁধের ডেলটয়েড (Deltoid) পেশি সাহায্য করে।
অ্যাডাকশন (Adduction):
সংজ্ঞা: যে পদ্ধতিতে পেশির সংকোচনে দেহের কোনো অঙ্গ বা উপাঙ্গ দেহাক্ষের কাছাকাছি বা নিকটবর্তী হয়, তাকে অ্যাডাকশন বলে। সংশ্লিষ্ট পেশিকে অ্যাডাকটর (Adductor) পেশি বলে। এটি অ্যাবডাকশনের ঠিক বিপরীত প্রক্রিয়া।
উদাহরণ: প্রসারিত বা তোলা হাতকে পুনরায় শরীরের কাছে বা পাশে নামিয়ে আনা। এই কাজে পিঠের ল্যাটিসিমাস ডরসি (Latissimus dorsi) নামক পেশি সাহায্য করে।
9. রোটেশন (Rotation) কাকে বলে? মানবদেহের চলনে কঙ্কালসংলগ্ন পেশিগুলির (Skeletal Muscles) ভূমিকা আলোচনা করো।
রোটেশন (Rotation):
সংজ্ঞা: যে পদ্ধতিতে দেহের কোনো অংশ বা অঙ্গ তার নিজস্ব লম্ব অক্ষের ওপর আবর্তিত হয় বা ঘোরে, তাকে রোটেশন বলে। এই কাজে যে পেশি সাহায্য করে তাকে রোটেটর (Rotator) পেশি বলে।
উদাহরণ: পা-কে বাইরের দিকে বা ভিতরের দিকে আবর্তিত করা। উরুর পাইরিফরমিস (Piriformis) পেশি সংকুচিত হয়ে ফিমার অস্থিকে আবর্তিত হতে সাহায্য করে। ঘাড় ঘোরানোও রোটেশনের উদাহরণ।
অস্থিসঞ্চালনে কঙ্কাল পেশির ভূমিকা:
মানুষের চলন ও গমন প্রধানত অস্থি ও ঐচ্ছিক পেশির সমন্বয়ে ঘটে। যেসব ঐচ্ছিক পেশি টেনডনের সাহায্যে কঙ্কালতন্ত্রের বা অস্থির সাথে যুক্ত থাকে, তাদের কঙ্কাল পেশি বলে। এই পেশিগুলি মস্তিষ্কের নির্দেশে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে অস্থিসন্ধিকে নাড়িয়ে দেহের সঞ্চালন ঘটায়। পেশি কখনোই অস্থিকে ধাক্কা দিতে পারে না, কেবল টানতে পারে। তাই একটি পেশি (যেমন বাইসেপস) সংকুচিত হয়ে অঙ্গ ভাঁজ করলে, সেই অঙ্গকে সোজা করার জন্য বিপরীত দিকের অন্য একটি পেশিকে (যেমন ট্রাইসেপস) সংকুচিত হতে হয় (Antagonistic action)। পেশির এই সমন্বিত সংকোচনের ফলেই মানুষের যাবতীয় হাঁটাচলা সম্ভব হয়।
10. টেনডন ও লিগামেন্ট কী? মানুষের পায়ের বিভিন্ন অংশের অস্থিগুলির নাম ও তাদের বিন্যাস লেখো।
টেনডন ও লিগামেন্ট:
- টেনডন (Tendon): এটি অস্থিতিস্থাপক, দৃঢ় শ্বেত তন্তুময় যোগকলা, যা ঐচ্ছিক পেশিকে (কঙ্কাল পেশি) অস্থির সাথে শক্তভাবে যুক্ত রাখে। পেশি সংকুচিত হলে টেনডনের মাধ্যমে টান পড়ে অস্থি সঞ্চালিত হয়।
- লিগামেন্ট (Ligament): এটি স্থিতিস্থাপক শ্বেত বা পীত তন্তুময় যোগকলা, যা অস্থিসন্ধিতে দুটি অস্থিকে পরস্পরের সাথে যুক্ত রাখে। এটি অস্থিসন্ধিকে নির্দিষ্ট সীমার বাইরে বাঁকতে বাধা দেয় এবং সন্ধিকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
মানুষের পায়ের অস্থিসমূহ:
মানুষের পশ্চাৎপদ বা পায়ের অস্থিগুলি ওপর থেকে নীচে ক্রমানুসারে নিম্নরূপ বিন্যস্ত থাকে:
- ফিমার (Femur): উরুর অস্থি, যা মানবদেহের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে ভারী অস্থি। এর মস্তক শ্রোণিচক্রের সাথে যুক্ত থাকে।
- প্যাটেলা (Patella): এটি হাঁটুর সন্ধির সামনে অবস্থিত মালাইচাকি নামক ছোট অস্থি।
- টিবিয়া (Tibia) এবং ফিবুলা (Fibula): হাঁটুর নীচে থেকে গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা দুটি অস্থি। (টিবিয়া মোটা এবং ফিবুলা সরু)।
- টারসাল (Tarsal): পায়ের গোড়ালির অংশ তৈরি করে (৭টি ছোট অস্থি নিয়ে গঠিত)।
- মেটাটারসাল (Metatarsal): পায়ের পাতা গঠন করে (৫টি অস্থি)।
- ফ্যালাঞ্জেস (Phalanges): পায়ের আঙুলের অস্থি (মোট ১৪টি)।
মনে রেখো!
ফ্লেক্সন: বাইসেপস (হাত ভাঁজ)। এক্সটেনসন: ট্রাইসেপস (হাত সোজা)।
অ্যাবডাকশন: ডেলটয়েড (দেহ থেকে দূরে)। অ্যাডাকশন: ল্যাটিসিমাস ডরসি (দেহের কাছে)।
মাছ: মায়োটোম পেশি (V-আকৃতি) এবং পটকা (ভাসতে সাহায্য করে)।
পাখি: ২৩টি রেমিজেস (ডানা) এবং ১২টি রেকট্রিসেস (লেজ)।