Chapter 5.B: পরিবেশ দূষণ (Environmental Pollution)
সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 40 MCQ | 39 SAQ | 10 Broad Questions
বায়ুদূষণ জলদূষণ মাটি দূষণ শব্দদূষণ বায়োম্যাগনিফিকেশন
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
40 টি1. বিজ্ঞানী ওভাম (Odum, 1933) প্রদত্ত পরিবেশ দূষণের সংজ্ঞা অনুযায়ী দূষণ কিসের পরিবর্তন?
ক) ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের
খ) শুধুমাত্র ভৌত বৈশিষ্ট্যের
গ) শুধুমাত্র রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের
ঘ) জলবায়ুর পরিবর্তন
ব্যাখ্যা: ওভামের মতে, পরিবেশ দূষণ হল বায়ু, জল, মাটি প্রভৃতির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের অনভিপ্রেত পরিবর্তন।
2. নীচের কোনটি প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট দূষণ?
ক) কলকারখানার ধোঁয়া
খ) যানবাহনের কালো ধোঁয়া
গ) অগ্ন্যুৎপাত ও দাবানল
ঘ) প্লাস্টিক বর্জ্য
ব্যাখ্যা: অগ্ন্যুৎপাত, দাবানল, বজ্রপাত প্রভৃতি প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট দূষণ। বাকিগুলো মানুষের সৃষ্ট।
3. বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্ট ফুসফুসের রোগ কোনটি?
ক) টাইফয়েড
খ) ক্যানসার ও অ্যাজমা
গ) আমাশয়
ঘ) উদরাময়
ব্যাখ্যা: বায়ুদূষণের ফলে ফুসফুসের ক্যানসার, এমফাইসিমা, অ্যাজমা ও সিলিকোসিস প্রভৃতি রোগ দেখা যায়।
4. অ্যাসিড বৃষ্টির (Acid Rain) অন্যতম প্রধান কারণ কী?
ক) CO₂ ও CO
খ) SO₂ ও NO₂
গ) O₂ ও N₂
ঘ) CH₄ ও H₂
ব্যাখ্যা: বায়ুতে উপস্থিত SO₂ ও NO₂ জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ হয়।
5. জলদূষণ (Water Pollution) কাকে বলে?
ক) জলে দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া
খ) জলের ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের অনভিপ্রেত পরিবর্তন
গ) জলের পরিমাণ কমে যাওয়া
ঘ) বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা: জলের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের অনভিপ্রেত পরিবর্তন হলেই তাকে জলদূষণ বলে, যাতে জলজ প্রাণী ও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
6. কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত নীচের কোন রাসায়নিকটি জলদূষণের জন্য দায়ী?
ক) ইউরিয়া
খ) DDT
গ) অ্যামোনিয়া
ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা: রাসায়নিক সার (ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া) এবং কীটনাশক (DDT, BHC) সবই ধুয়ে গিয়ে জলদূষণ ঘটায়।
7. জলদূষণের ফলে সৃষ্ট জলবাহিত রোগ নীচের কোনটি?
ক) হাঁপানি
খ) কলেরা
গ) ব্রংকাইটিস
ঘ) সিলিকোসিস
ব্যাখ্যা: দূষিত জল পানের ফলে কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, উদরাময় ইত্যাদি জলবাহিত রোগ হয়।
8. ইউট্রিফিকেশন (Eutrophication) প্রক্রিয়াটি কোথায় ঘটে?
ক) বায়ুতে
খ) মাটিতে
গ) জলাশয়ে
ঘ) মহাকাশে
ব্যাখ্যা: জলাশয়ে ফসফেট, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান মিশে শৈবালের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটিয়ে ইউট্রিফিকেশন ঘটায়।
9. শৈবাল ব্লুম (Algal Bloom) কী?
ক) জলে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি
খ) জলাশয়ে শৈবালের ব্যাপক ও দ্রুত বৃদ্ধি
গ) মাটিতে শৈবাল জন্মানো
ঘ) বায়ুতে গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: ইউট্রিফিকেশনের জন্য জলাশয়ে শৈবালের ব্যাপক ও দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তাকে শৈবাল ব্লুম (Algal bloom) বলে।
10. BOD (Biological Oxygen Demand) বলতে কী বোঝায়?
ক) জলে দ্রবীভূত জৈব পদার্থকে বিয়োজিত করতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ
খ) প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন
গ) বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের চাহিদা
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: জলে উপস্থিত জৈব উপাদানকে অণুজীবের সাহায্যে বিয়োজিত করার জন্য যে পরিমাণ অক্সিজেনের দরকার হয়, তাকে BOD বলে।
11. কত dB (ডেসিবেল) শব্দে মানুষের বধিরতা দেখা দিতে পারে?
ক) 50 dB
খ) 80 dB
গ) 100 dB
ঘ) 120 dB
ব্যাখ্যা: দীর্ঘদিন 100 ডেসিবেল শব্দের মধ্যে বাস করলে বধিরতা দেখা যায়, এবং 160 dB-তে কানের পর্দা ছিঁড়ে যায়।
12. মাটি দূষণ (Soil Pollution) কাকে বলে?
ক) মাটির রং পরিবর্তন
খ) মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষতিকর পরিবর্তন
গ) মাটিতে সার প্রয়োগ
ঘ) মাটিতে গাছ লাগানো
ব্যাখ্যা: মাটিতে রাসায়নিক সার, কীটনাশক, জীবাণু ইত্যাদি দূষক পদার্থ মিশে মাটির তাত্ত্বিক গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্যের ক্ষতি করলে তাকে মাটি দূষণ বলে।
13. মাটিতে বসবাসকারী টিটেনাস রোগের জীবাণু কোনটি?
ক) Clostridium tetani
খ) Salmonella typhi
গ) Vibrio cholerae
ঘ) Mycobacterium tuberculosis
ব্যাখ্যা: মাটিতে থাকা Clostridium tetani ব্যাকটেরিয়া আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে প্রবেশ করলে টিটেনাস রোগ হয়।
14. জৈব বিবর্ধন (Biomagnification) কাকে বলে?
ক) দূষক পদার্থের পরিমাণ ধাপে ধাপে কমে যাওয়া
খ) দূষক পদার্থের গাঢ়ত্ব খাদ্যশৃঙ্খলে ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া
গ) দূষক পদার্থ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া
ঘ) মাটিতে সার প্রয়োগ
ব্যাখ্যা: জৈব বিবর্ধনে (Biomagnification) দূষকের পরিমাণ বা ঘনত্ব খাদ্যস্তরের নীচ থেকে উপরের দিকে বৃদ্ধি পায়। যেমন- DDT-র ক্ষেত্রে ঘটে।
15. DDT কী ধরনের পদার্থ?
ক) সহজে পচনশীল সার
খ) অপচনশীল কীটনাশক
গ) জীবাণু ধ্বংসকারী ওষুধ
ঘ) বায়ুদূষক গ্যাস
ব্যাখ্যা: DDT (Dichloro Diphenyl Trichloroethane) একটি অপচনশীল কীটনাশক, যা পরিবেশে বছরের পর বছর জমে থেকে জৈব বিবর্ধন ঘটায়।
16. শব্দদূষণ (Noise Pollution) প্রধানত কাকে প্রভাবিত করে?
ক) শুধুমাত্র উদ্ভিদকে
খ) শুধুমাত্র জলজ প্রাণীকে
গ) মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর শ্রবণেন্দ্রিয় ও স্নায়ুতন্ত্রকে
ঘ) বায়ুমণ্ডলকে
ব্যাখ্যা: সহন ক্ষমতার বাইরে তীব্র শব্দ মানুষের কান, হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে এবং প্রাণীদের আতঙ্কিত করে।
17. কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ বন্যপ্রাণীর কোন আচরণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে?
ক) খাদ্যগ্রহণে
খ) প্রজনন স্বার্থে যোগাযোগে
গ) জলপানে
ঘ) বিশ্রামে
ব্যাখ্যা: অতিরিক্ত শব্দে বন্যপ্রাণী নিজেদের ডাক শুনতে পায় না, তাই প্রজননকালে সঙ্গীর খোঁজে সমস্যা হয় এবং প্রজনন ব্যাহত হয়।
18. মানুষের হৃদ্যন্ত্রের ওপর শব্দদূষণের প্রভাব কী?
ক) হৃৎপিণ্ডের গতি ধীর হয় ও রক্তচাপ বাড়ে
খ) হৃৎপিণ্ডের গতি অপরিবর্তিত থাকে
গ) রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে
ঘ) ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ে
ব্যাখ্যা: দীর্ঘস্থায়ী তীব্র আওয়াজে হৃদ্স্পন্দনের গতি বেড়ে বা কমে যায়, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রক্তচাপ বেড়ে যায়।
19. নীচের কোনটি মাটি দূষণের কারণ নয়?
ক) রাসায়নিক সার
খ) কীটনাশক (DDT, BHC)
গ) অ্যাসিড বৃষ্টি
ঘ) প্লাস্টিক বর্জ্য
ব্যাখ্যা: অ্যাসিড বৃষ্টি হল জলদূষণ ও বায়ুদূষণের ফলাফল। সার, কীটনাশক ও প্লাস্টিক সরাসরি মাটি দূষণ ঘটায়।
20. DDT-র জৈব বিবর্ধনে (Biomagnification) কোন খাদ্যস্তরে সর্বোচ্চ ঘনত্ব দেখা যায়?
ক) ফাইটোপ্ল্যাংকটনে
খ) জুপ্ল্যাংকটনে
গ) ছোট মাছে
ঘ) মৎস্যভুক পাখিতে
ব্যাখ্যা: জৈব বিবর্ধনের ফলে খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থাকা মৎস্যভুক পাখি ও মানুষের দেহে DDT-র সর্বোচ্চ ঘনত্ব (1.05-12 ppm) দেখা যায়।
21. জলে দ্রবীভূত DDT প্রথমে কোন খাদ্যস্তরে প্রবেশ করে?
ক) জুপ্ল্যাংকটন
খ) ছোট মাছ
গ) ফাইটোপ্ল্যাংকটন
ঘ) বড় মাছ
ব্যাখ্যা: জলে দ্রবীভূত DDT সর্বপ্রথম ফাইটোপ্ল্যাংকটনের (উদ্ভিদকণা) দেহে প্রবেশ করে। (0.01 ppm)
22. নীচের কোন জীবটি DDT-র জৈব বিবর্ধনের শীর্ষে অবস্থান করে?
ক) জুপ্ল্যাংকটন
খ) বড় মাছ
গ) ছোট মাছ
ঘ) মাছভুক (মৎস্যভুক) পাখি
ব্যাখ্যা: খাদ্যশৃঙ্খলের ধাপে ধাপে মাছভুক পাখির দেহে জমা DDT-র ঘনত্ব সর্বোচ্চ (1.05–12 ppm) হয়।
23. ইউট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ার ফলে জলাশয়ে অক্সিজেনের পরিমাণ কী হয়?
ক) বেড়ে যায়
খ) অপরিবর্তিত থাকে
গ) কমে যায়
ঘ) প্রথমে বাড়ে পরে কমে
ব্যাখ্যা: শৈবাল ব্লুমের পরে শৈবাল মারা যায় এবং ব্যাকটেরিয়ার পচন ক্রিয়ায় অক্সিজেনের পরিমাণ দ্রুত কমে যায়।
24. মানুষের শরীরে সিসা (Lead) ধাতুর বিষক্রিয়ায় কোন রোগটি হয়?
ক) ইটাই ইটাই
খ) মিনামাটা
গ) ভিসেলক্লিয়া (Plumbism)
ঘ) ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা: মাটি থেকে সিসা বা লেড মানবদেহে প্রবেশ করলে ভিসেলক্লিয়া রোগ হয়। ক্যাডমিয়াম থেকে ইটাই ইটাই এবং পারদ থেকে মিনামাটা রোগ হয়।
25. নীচের কোনটি প্রাকৃতিক দূষণের উৎস?
ক) কল-কারখানা
খ) দাবানল
গ) গাড়ির ধোঁয়া
ঘ) কীটনাশক
ব্যাখ্যা: দাবানল, অগ্ন্যুৎপাত ও ধূলিঝড় প্রাকৃতিক দূষণের উৎস। বাকিগুলো মনুষ্যসৃষ্ট বা anthropogenic।
26. কৃষিক্ষেত্রে আগাছা ধ্বংস করতে ব্যবহৃত রাসায়নিকটির নাম কী?
ক) DDT
খ) BHC
গ) 2,4-D
ঘ) ইউরিয়া
ব্যাখ্যা: 2,4-D এবং সিমাজিন হল আগাছানাশক রাসায়নিক (Herbicides), যা আগাছা ধ্বংসে কাজে লাগে।
27. কীটনাশক BHC-এর পুরো নাম কী?
ক) Benzene Hexa Chloride
খ) Bio Hazard Chemical
গ) Boron Hydrogen Carbon
ঘ) Benzyl Hydro Carbon
ব্যাখ্যা: BHC-এর সম্পূর্ণ নাম Benzene Hexa Chloride। এটি একটি ক্ষতিকর কীটনাশক।
28. জনবসতি বৃদ্ধির কারণে পরিবেশে কী ঘটে?
ক) দূষণ বৃদ্ধি পায়
খ) দূষণ হ্রাস পায়
গ) সবুজায়ন বাড়ে
ঘ) শব্দ দূষণ কমে
ব্যাখ্যা: জনবসতি ও নগরায়নের ফলে কল-কারখানা, যানবাহন ইত্যাদি বৃদ্ধি পেয়ে দূষণ বৃদ্ধি পায়।
29. কর্মক্ষেত্রে শব্দদূষণের প্রধান শিকার কারা?
ক) শিক্ষক
খ) কৃষক
গ) ইস্পাত কারখানা ও টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক
ঘ) জেলে
ব্যাখ্যা: ইঞ্জিনিয়ারিং শপ, টেক্সটাইল মিল, নিউজপেপার প্রেস প্রভৃতি জায়গায় তীব্র শব্দের জন্য সেখানকার শ্রমিকরা শব্দদূষণের শিকার হন।
30. জল দূষিত হলে নীচের কোন প্রাণীটির মৃত্যু ঘটে প্রথমে?
ক) কুমির
খ) কচ্ছপ
গ) মাছ
ঘ) হাঁস
ব্যাখ্যা: জলদূষণে অক্সিজেনের অভাব ও বিষক্রিয়ায় জলজ প্রাণী, বিশেষ করে মাছের মৃত্যু প্রথম ঘটে।
31. অ্যাসিড বৃষ্টির pH সাধারণত কত হয়?
ক) 7.0 এর বেশি
খ) 7.0
গ) 5.6 এর কম
ঘ) 8.0
ব্যাখ্যা: স্বাভাবিক বৃষ্টির pH 5.6 হলেও অ্যাসিড বৃষ্টির pH 5.6-এর নীচে নেমে যায় (অম্লীয় হয়)।
32. জলদূষণের ফলে কোন কোন জলবাহিত রোগ দেখা যায়?
ক) হাঁপানি ও ক্যানসার
খ) টাইফয়েড, কলেরা, আমাশয়
গ) বধিরতা ও হৃদ্রোগ
ঘ) ভিসেলক্লিয়া ও মিনামাটা
ব্যাখ্যা: দূষিত পানি পানের ফলে কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় প্রভৃতি রোগ হয়। ভিসেলক্লিয়া ও মিনামাটা ভারী ধাতু দূষণের ফল।
33. শব্দদূষণের ফলে বন্যপ্রাণীর জন্য সবচেয়ে বড়ো বিপদ কী?
ক) খাওয়ার সমস্যা
খ) ঘুমের ব্যাঘাত
গ) প্রজনন ব্যাহত
ঘ) পানির অভাব
ব্যাখ্যা: শব্দ দূষণে বন্যপ্রাণীরা পরস্পরের প্রজননকালীন ডাক শুনতে না পাওয়ায় তাদের প্রজনন বাধাপ্রাপ্ত হয়।
34. মাটির দূষণ রোধে সবচেয়ে ভালো উপায় কী?
ক) রাসায়নিক সার প্রয়োগ
খ) জৈব সার প্রয়োগ ও মাটির জীবাণু সংরক্ষণ
গ) কীটনাশক প্রয়োগ
ঘ) প্লাস্টিক পোড়ানো
ব্যাখ্যা: জৈব সার ও সবুজ সার প্রয়োগ করে মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ বজায় রাখা দূষণ রোধের সর্বোত্তম উপায়।
35. ক্যাডমিয়াম (Cadmium) ধাতু দেহে প্রবেশ করলে কী রোগ হয়?
ক) ভিসেলক্লিয়া
খ) ইটাই-ইটাই
গ) মিনামাটা
ঘ) টিটেনাস
ব্যাখ্যা: ক্যাডমিয়ামের বিষক্রিয়ায় ইটাই-ইটাই (Itai-Itai) রোগ হয়, যা জাপানে প্রথম দেখা গিয়েছিল।
36. কোন এনজাইম সিসার (Pb) বিষক্রিয়ায় বাধাপ্রাপ্ত হয়?
ক) ক্যাটালেজ
খ) অ্যামাইলেজ
গ) হিম সিন্থেটেজ (ALAD)
ঘ) নাইট্রোজিনেজ
ব্যাখ্যা: সিসা (Lead) দেহের হিম সিন্থেটেজ এনজাইমের কাজে বাধা দেয়, ফলে রক্তাল্পতা (Anemia) হয়।
37. পারদ (Mercury) দূষণের ফলে সৃষ্ট স্নায়বিক রোগ কোনটি?
ক) ভিসেলক্লিয়া
খ) মিনামাটা
গ) ইটাই-ইটাই
ঘ) কলেরা
ব্যাখ্যা: জাপানের মিনামাটা উপসাগরে পারদ দূষণের ফলে সৃষ্ট তীব্র স্নায়বিক রোগটিকে মিনামাটা রোগ বলে।
38. আলোক দূষণ (Light Pollution) কী ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে?
ক) মাটির উর্বরতা কমায়
খ) বন্যপ্রাণীর দৈনন্দিন ছন্দ ও নিশাচর প্রাণীর জীবনচক্র নষ্ট করে
গ) জলের গুণাগুণ নষ্ট করে
ঘ) বধিরতা সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা: অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো রাতের পরিবেশ নষ্ট করে, নিশাচর প্রাণী ও পরিযায়ী পাখিদের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায়।
39. DDT-র জৈব বিবর্ধনে ফাইটোপ্ল্যাংকটন থেকে মৎস্যভুক পাখিতে DDT-র ঘনত্ব কত গুণ বৃদ্ধি পায়?
ক) 10 গুণ
খ) 100 গুণ
গ) প্রায় 1000 গুণ বা তার বেশি
ঘ) একই থাকে
ব্যাখ্যা: জলে 0.001 ppm থেকে মৎস্যভুক পাখিতে প্রায় 12 ppm-এ পৌঁছায়, অর্থাৎ প্রায় 10,000 গুণেরও বেশি বেড়ে যায়।
40. কান পাতি দেওয়ার (Hearing Aid) প্রয়োজন হয় কখন?
ক) 50 dB শব্দে
খ) 80 dB শব্দে
গ) 100 dB+ শব্দে দীর্ঘদিন থাকলে বধিরতায়
ঘ) কোলাহলমুক্ত স্থানে
ব্যাখ্যা: দীর্ঘদিন তীব্র শব্দে (>100 dB) থাকলে কর্টি অঙ্গ নষ্ট হয়ে বধিরতা আসে এবং শ্রবণযন্ত্র (Hearing aid) প্রয়োজন হয়।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
39 টি1. পরিবেশ দূষণ (Environmental Pollution) বলতে কী বোঝো?
পরিবেশ দূষণ হল বায়ু, জল, মাটি প্রভৃতির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের এমন এক অনভিপ্রেত পরিবর্তন যা মানবসভ্যতা, জীবজগৎ ও শিল্পপ্রক্রিয়ার ক্ষতি করে (ওভাম, 1933)।
2. প্রাকৃতিক দূষণের দুটি উদাহরণ দাও।
দুটি প্রাকৃতিক দূষণ হল: (১) দাবানল বা অরণ্যের আগুন এবং (২) অগ্ন্যুৎপাত।
3. মনুষ্যসৃষ্ট দূষণের দুটি উৎস কী কী?
দুটি মনুষ্যসৃষ্ট উৎস হল: (১) কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও বর্জ্য এবং (২) যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া।
4. বায়ুদূষণের ফলে ফুসফুসের কোন কোন রোগ দেখা যায়?
বায়ুদূষণের ফলে ফুসফুসের ক্যানসার, এমফাইসিমা, অ্যাজমা (হাঁপানি) এবং সিলিকোসিস প্রভৃতি রোগ দেখা দেয়।
5. অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain) কাকে বলে?
বায়ুতে কল-কারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়ায় মিশ্রিত SO₂ ও NO₂ জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড মিশ্রিত জল বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে নেমে আসাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
6. জলদূষণের সংজ্ঞা দাও।
জলের স্বাভাবিক ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের অনভিপ্রেত পরিবর্তনের ফলে যদি জলজ প্রাণী, উদ্ভিদ ও মানুষের ক্ষতি হয়, তাকে জলদূষণ বলে।
7. জলদূষণের দুটি কারণ লেখো।
১. কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার (ইউরিয়া) ও কীটনাশক (DDT, BHC) জলাশয়ে মিশে যাওয়া। ২. পুকুর-নদীতে জীবাণুযুক্ত বর্জ্য (মলমূত্র, মরা পশুর দেহ) ফেলা।
8. জলবাহিত রোগ বলতে কী বোঝো? দুটি উদাহরণ দাও।
দূষিত জল পান করার ফলে যে সকল রোগ হয়, তাদের জলবাহিত রোগ বলে। যেমন- কলেরা ও টাইফয়েড।
9. ইউট্রিফিকেশন (Eutrophication) কাকে বলে?
জলাশয়ে ফসফেট জাতীয় সার, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান মিশলে জলজ উদ্ভিদ ও শৈবালের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে এবং পরে অক্সিজেনের অভাবে পচন ধরে। এই প্রক্রিয়াই ইউট্রিফিকেশন।
10. শৈবাল ব্লুম (Algal Bloom) বলতে কী বোঝো?
ইউট্রিফিকেশনের ফলে পুষ্টি উপাদানের আধিক্যে জলাশয়ে শৈবালের যে ব্যাপক ও দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে এবং জলের উপরিভাগ সবুজ হয়ে যায়, তাকে শৈবাল ব্লুম বলে।
11. BOD (Biological Oxygen Demand) কী?
জলে উপস্থিত জৈব উপাদান/বর্জ্যকে অণুজীব পচন ঘটানোর সময় যে পরিমাণ দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যয় করে, তাকে জৈব অক্সিজেন চাহিদা বা BOD বলে। জলের উৎকর্ষ বিচারে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
12. মাটি দূষণ (Soil Pollution) কাকে বলে?
বিভিন্ন রাসায়নিক সার, কীটনাশক, জীবাণু, ছত্রাক ইত্যাদি দূষক পদার্থ মাটিতে মিশে মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটানোকে মাটি দূষণ বলে।
13. মাটি দূষণের জন্য দায়ী দুটি রাসায়নিক পদার্থের নাম লেখো।
মাটি দূষণের জন্য দায়ী দুটি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ হল DDT (Dichloro Diphenyl Trichloroethane) ও BHC (Benzene Hexa Chloride)।
14. মাটি দূষণের ফলে মানুষ কীভাবে রোগাক্রান্ত হয়?
মাটিতে উপস্থিত জীবাণু (Clostridium tetani), ভাইরাস, বা বিষাক্ত ভারী ধাতু (সিসা, পারদ) ক্ষতস্থান বা খাদ্যের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে টিটেনাস, ভিসেলক্লিয়া, মিনামাটা প্রভৃতি রোগ সৃষ্টি করে।
15. জৈব বিবর্ধন (Biomagnification) বা বায়োম্যাগনিফিকেশন কাকে বলে?
অপচনশীল দূষক পদার্থ (DDT) যখন খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে, তখন নিম্ন খাদ্যস্তর থেকে উচ্চতর খাদ্যস্তরে ওঠার সময় দূষকের গাঢ়ত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে জৈব বিবর্ধন বলে।
16. DDT কী? এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক কেন?
DDT (Dichloro Diphenyl Trichloroethane) একটি অপচনশীল কীটনাশক। এটি পরিবেশে সহজে ধ্বংস হয় না বলে খাদ্যশৃঙ্খলে জমা হয়ে জৈব বিবর্ধন ঘটায়, যা প্রাণীদেহের মারাত্মক ক্ষতি করে।
17. শব্দ দূষণ (Noise Pollution) বলতে কী বোঝো?
সহন ক্ষমতার বাইরে তীব্র শব্দ যা মানুষের শারীরবৃত্তীয় কাজের ব্যাঘাত ঘটায় এবং শরীর ও মনের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, তাকে শব্দ দূষণ বলে। সাধারণত 80-100 dB-এর বেশি শব্দকে দূষণ ধরা হয়।
18. শব্দ দূষণের কারণ কী কী?
বিভিন্ন যানবাহনের হর্নের আওয়াজ, শিল্প-কলকারখানার (ইঞ্জিনিয়ারিং শপ, টেক্সটাইল মিল) বিকট শব্দ শব্দ দূষণের কারণ।
19. মানুষের কানের ওপর শব্দ দূষণের প্রভাব কী?
দীর্ঘদিন 100 dB শব্দে থাকলে মানুষের বধিরতা দেখা যায়। 160 dB তীব্র আওয়াজে কানের পর্দা ছিঁড়ে যেতে পারে এবং কর্টি অঙ্গ নষ্ট হয়ে যায়।
20. মানুষের হৃদ্যন্ত্রের ওপর শব্দ দূষণের প্রভাব কী?
তীব্র আওয়াজের ফলে হৃৎস্পন্দনের গতি বেড়ে বা কমে যায়, রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা ও ধমনির রক্তচাপ বেড়ে যায়।
21. বন্যপ্রাণীর ওপর শব্দ দূষণের প্রভাব কী?
শব্দ দূষণে বন্যপ্রাণী ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়; তাদের প্রজননের ডাক শুনতে না পাওয়ায় প্রজনন ব্যাহত হয় এবং কোলাহলে তারা মৃত্যুমুখেও পতিত হতে পারে।
22. ইউট্রিফিকেশনের প্রধান কারণ কী?
আবর্জনা শোধন কেন্দ্রের অজৈব পুষ্টিকর বর্জ্য, কৃষিজমি থেকে ধৌত হওয়া ফসফেট/নাইট্রেট সার এবং ডিটারজেন্ট জলাশয়ে মিশে যাওয়াই ইউট্রিফিকেশনের প্রধান কারণ।
23. ইউট্রিফিকেশনের প্রতিকার কী?
জলাশয়ে আবর্জনা ও অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। ফসফেটযুক্ত ডিটারজেন্টের ব্যবহার কমাতে হবে ও কৃষিজমির রাসায়নিক সারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
24. জৈব বিবর্ধনে DDT-র ঘনত্ব খাদ্যশৃঙ্খলে কীভাবে বাড়ে?
জল (0.001 ppm) → ফাইটোপ্ল্যাংকটন (0.01 ppm) → জুপ্ল্যাংকটন (0.024 ppm) → ছোট মাছ (0.123 ppm) → বড় মাছ/পাখি (1.05-12 ppm) – এভাবে ক্রমাগত ঘনত্ব বাড়ে।
25. কর্মক্ষেত্রে (পেশাগত) শব্দ দূষণ কী?
ভারি শিল্প, যেমন- ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, টেক্সটাইল মিল, নিউজপেপার প্রেস ও গাড়ি সারানোর কারখানায় তীব্র আওয়াজে কাজ করার ফলে কর্মীরা যে শব্দ দূষণের শিকার হন, তা পেশাগত শব্দ দূষণ।
26. মাটি দূষণের জন্য দায়ী দুটি ডিটারজেন্ট বা পরিষ্কারক পদার্থ কী কী?
অ্যালকাইল বেনজিন সালফোনেট (ABS) ও ফসফেট যুক্ত ডিটারজেন্ট বা সাবান মাটি ও জল দূষণ ঘটায়।
27. বায়ু দূষণ বলতে কী বোঝো?
বায়ুতে ধোঁয়া, ধুলো, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড প্রভৃতি দূষক গ্যাস ও কণা নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেড়ে গিয়ে মানুষের ও পরিবেশের ক্ষতি করলে তাকে বায়ু দূষণ বলে।
28. কীটনাশক কী? এরা কীভাবে মাটি দূষণ ঘটায়?
যেসব রাসায়নিক পদার্থ পোকা-মাকড় ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়, তাদের কীটনাশক বলে (যেমন DDT, BHC)। এরা মাটিতে অতি দীর্ঘকাল অপরিবর্তিত থেকে মাটির স্বাভাবিক অণুজীবদের ধ্বংস করে ও শস্যে বিষক্রিয়া ঘটায়।
29. মাটি দূষণে আগাছানাশকের ভূমিকা কী?
আগাছা দমনে ব্যবহৃত 2,4-D ও সিমাজিনের মতো রাসায়নিকগুলি মাটিতে মিশে মাটির স্বাভাবিক জীবাণু ও বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করে মাটি দূষণ ঘটায়।
30. সিসা দূষণের প্রভাবে মানবদেহে কী রোগ হয়?
মাটি বা খাদ্যের মাধ্যমে দেহে সিসা (Lead) প্রবেশ করলে ভিসেলক্লিয়া (Plumbism) রোগ হয়, যা রক্তাল্পতা ও কিডনির সমস্যা করতে পারে।
31. পারদ (Mercury) দূষণে কী ব্যাধি হয়?
শিল্প-কারখানার বর্জ্যের মাধ্যমে জল ও মাটিতে পারদ মেশে, যা খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করলে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়, একে মিনামাটা রোগ (Minamata disease) বলে।
32. ক্যাডমিয়াম দূষণে দেহে কী রোগ হয়?
ক্যাডমিয়াম দূষণে ইটাই-ইটাই (Itai-Itai) নামক বেদনাদায়ক রোগ হয়, যা প্রধানত হাড় ও অস্থিসন্ধিকে দুর্বল করে দেয়।
33. জল দূষণ প্রতিকারে করণীয় কী?
১. জলে আবর্জনা ও প্লাস্টিক না ফেলা। ২. শিল্প কল-কারখানার বর্জ্য নির্গমনের পূর্বে পরিশোধন করা। ৩. কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করা।
34. শব্দদূষণ প্রতিকারের দুটি উপায় লেখো।
১. রাস্তায় ও আবাসিক এলাকায় অপ্রয়োজনে হর্ন না বাজানো। ২. উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী কলকারখানায় সাইলেন্সার ও শব্দরোধী প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
35. বায়ু দূষণ প্রতিকারের উপায় কী?
১. কল-কারখানা ও যানবাহনে ধোঁয়া শোষক যন্ত্র (Catalytic converter, Scrubber) ব্যবহার। ২. নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সিএনজি, সৌর) ব্যবহার বাড়ানো। ৩. বেশি করে গাছ লাগানো।
36. মাটি দূষণ প্রতিকারের দুটি উপায় লেখো।
১. রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা। ২. প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (Recycling) করা ও মাটিতে না ফেলা।
37. ডেসিবেল (dB) এককটি কোন দূষণ মাপতে ব্যবহার হয়?
ডেসিবেল (dB) এককটি শব্দ দূষণের তীব্রতা মাপতে ব্যবহার করা হয়।
38. জল দূষণের ফলে ‘শৈবাল ব্লুম’-এর পরবর্তী ক্ষতি কী?
শৈবাল ব্লুমের ফলে জলের উপরিভাগ ঢেকে যায় ও আলো প্রবেশ করতে পারে না। পরে শৈবাল মারা গেলে ব্যাকটেরিয়ার পচনের ফলে জলে অক্সিজেন কমে মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে।
39. জৈব বিবর্ধনে (Biomagnification) দূষকের ঘনত্ব বৃদ্ধির একটি উদাহরণ দাও।
জলে দ্রবীভূত DDT-র ঘনত্ব হয় 0.001 ppm (প্রায়)। ছোট মাছে তা বেড়ে হয় 0.123 ppm এবং মৎস্যভুক পাখির দেহে তা বেড়ে 1.05-12 ppm পর্যন্ত পৌঁছায়।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)
10 টি1. পরিবেশ দূষণ কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার দূষণের নাম সংক্ষেপে লেখো।
পরিবেশ দূষণ:
পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান (বায়ু, জল, মাটি) এর স্বাভাবিক ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের অনভিপ্রেত পরিবর্তন যা মানবসভ্যতা, জীবজগৎ ও শিল্পপ্রক্রিয়ার ক্ষতি করে, তাকে পরিবেশ দূষণ বলে। (ওভাম, 1933)
প্রকারভেদ:
পরিবেশ দূষণ প্রধানত নিম্নলিখিত প্রকারের হয়:
১. বায়ু দূষণ (Air Pollution)
২. জল দূষণ (Water Pollution)
৩. মাটি দূষণ (Soil Pollution)
৪. শব্দ দূষণ (Noise Pollution)
৫. তেজস্ক্রিয় দূষণ (Radioactive Pollution)
৬. আলোক দূষণ (Light Pollution)
2. বায়ু দূষণের কারণ, ফলাফল ও প্রতিকার সম্পর্কে যা জানো বিস্তারিত লেখো।
বায়ু দূষণের কারণ:
১. কল-কারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের কালো ধোঁয়া থেকে নির্গত CO, CO₂, SO₂, NO₂ প্রভৃতি গ্যাস।
২. পারমাণবিক বিস্ফোরণ ও তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণ।
৩. দাবানল ও অগ্ন্যুৎপাত (প্রাকৃতিক)।
ফলাফল:
১. ফুসফুসের ক্যানসার, এমফাইসিমা, অ্যাজমা ও ব্রংকাইটিস প্রভৃতি রোগ।
২. অ্যাসিড বৃষ্টি, যা স্থাপত্য ও ফসলের ক্ষতি করে।
৩. গ্রিনহাউস প্রভাব ও বিশ্ব উষ্ণায়ন।
প্রতিকার:
১. কলকারখানায় স্ক্রাবার ও ফিল্টার ব্যবহার।
২. সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত গাড়ির ব্যবহার।
৩. বৃক্ষরোপন ও বনভূমি সংরক্ষণ।
3. জল দূষণ কী? এর প্রধান কারণ ও মানবজীবনে এর প্রভাব আলোচনা করো।
জল দূষণ:
জলের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষতিকারক পরিবর্তন ঘটিয়ে জলজ উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ালে তাকে জল দূষণ বলে।
কারণ:
১. কৃষিক্ষেতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার (ইউরিয়া) ও কীটনাশক (DDT, BHC) ধুয়ে জলাশয়ে মেশা।
২. পুকুর বা নদীতে জীবাণুযুক্ত বর্জ্য (মলমূত্র, মরা পশুর দেহ) ফেলা।
৩. শিল্প-কারখানার অবিশোধিত বর্জ্য ও তাপ-দূষণ।
মানবজীবনে প্রভাব:
১. দূষিত জল পানে কলেরা, টাইফয়েড, উদরাময় প্রভৃতি জলবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে।
২. ভারী ধাতু দূষণের ফলে মিনামাটা (পারদ), ইটাই-ইটাই (ক্যাডমিয়াম) প্রভৃতি রোগ হয়।
৩. ইউট্রিফিকেশনের ফলে জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয় এবং মাছের উৎপাদন কমে।
4. ইউট্রিফিকেশন (Eutrophication) কাকে বলে? এর কারণ, প্রভাব ও প্রতিকার বিস্তারিত আলোচনা করো।
ইউট্রিফিকেশন:
জলাশয়ে অজৈব পুষ্টিকর বর্জ্য (নাইট্রেট, ফসফেট) মিশে জলজ উদ্ভিদ ও শৈবালের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটায় এবং পরে পঁচনের ফলে অক্সিজেন হ্রাস পেয়ে জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটায়, এই প্রক্রিয়াকে ইউট্রিফিকেশন বলে।
কারণ:
১. কৃষিজমি থেকে ধৌত রাসায়নিক সার ও ফসফেট যুক্ত ডিটারজেন্ট জলাশয়ে মেশা।
২. আবর্জনা শোধনকেন্দ্রের অপরিশোধিত অজৈব পুষ্টিকর বর্জ্য নদীতে ফেলা।
প্রভাব:
১. শৈবাল ব্লুম (Algal Bloom) সৃষ্টি হয়, যার ফলে জলের আলো প্রবেশে বাধা পায়।
২. পঁচনের ফলে জলাশয়ে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে মাছের মৃত্যু ঘটে এবং দুর্গন্ধ তৈরি হয়।
প্রতিকার:
১. ফসফেট ও নাইট্রেট যুক্ত সার ও ডিটারজেন্টের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ।
২. আবর্জনা ও শিল্পবর্জ্য শোধন করে জলাশয়ে ফেলা।
5. জৈব বিবর্ধন (Biomagnification) বলতে কী বোঝ? DDT-র জৈব বিবর্ধন একটি রেখাচিত্রের মাধ্যমে বুঝিয়ে দাও।
জৈব বিবর্ধন:
যে প্রক্রিয়ায় অপচনশীল দূষক পদার্থ (DDT) খাদ্যশৃঙ্খলের এক স্তর থেকে পরবর্তী স্তরে স্থানান্তরিত হওয়ার সময় দেহে এর ঘনত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে, তাকে জৈব বিবর্ধন বা Biomagnification বলে।
DDT-র জৈব বিবর্ধনের চিত্র:
| খাদ্যস্তর | DDT-র ঘনত্ব (ppm) |
|---|
| জল (পুকুর/নদী) | 0.001 approx |
| ফাইটোপ্ল্যাংকটন (উদ্ভিদকণা) | 0.01 |
| জুপ্ল্যাংকটন (প্রাণীকণা) | 0.024 |
| ছোট মাছ | 0.123 |
| বড় মাছ | 1.05 – 2.0 |
| মৎস্যভুক পাখি (বা মানুষ) | 1.05 – 12.0 |
এখানে দেখা যায়, জলে মিশ্রিত DDT খাদ্যশৃঙ্খলে যেমন উপরের দিকে ওঠে, ততই তার গাঢ়ত্ব বেড়ে জৈব বিবর্ধন ঘটায়।
6. মাটি দূষণ কী এবং কেন হয়? মাটি দূষণের ফলে মানবদেহে কী কী সমস্যা হতে পারে তা উদাহরণসহ লেখো।
মাটি দূষণ:
বিভিন্ন রাসায়নিক সার, কীটনাশক, বর্জ্যপদার্থ, ভারী ধাতু, প্লাস্টিক, জীবাণু প্রভৃতির প্রভাবে মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের অবনমন ঘটিয়ে তাকে জীব ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর করে তোলাকে মাটি দূষণ বলে।
কারণ:
১. কৃষিক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের (DDT, BHC) ব্যবহার।
২. শিল্পাঞ্চলের ভারী ধাতু (সিসা, পারদ) মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া।
৩. মাটির জীবাণু ও পরজীবী (কৃমি, ভাইরাস) জমা হওয়া।
মানবদেহে প্রভাব:
১. টিটেনাস: মাটিতে থাকা *Clostridium tetani* জীবাণু আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে প্রবেশ করলে।
২. ভিসেলক্লিয়া (Plumbism): সিসা (Lead) দূষণের ফলে রক্তাল্পতা ও কিডনি সমস্যা।
৩. মিনামাটা: পারদ (Hg) দূষণে স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি।
৪. ইটাই-ইটাই: ক্যাডমিয়াম (Cd) দূষণে অস্থিসন্ধির বিকৃতি ও বেদনা।
7. শব্দ দূষণ কী? শব্দ দূষণের মানবদেহে ও বন্যপ্রাণীর ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তারিত আলোচনা করো।
শব্দ দূষণ:
সহনক্ষমতার অতিরিক্ত বিকট ও তীব্র শব্দ যা মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাঘাত ঘটায় এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, তাকে শব্দ দূষণ বলে।
মানবদেহে প্রভাব:
১. শ্রবণেন্দ্রিয়ের ক্ষতি: দীর্ঘকাল 100 dB-এ থাকলে বধিরতা হতে পারে। 160 dB-এ কানের পর্দা ছিঁড়ে যায় এবং কর্টি অঙ্গ নষ্ট হয়।
২. হৃদ্যন্ত্রের ওপর প্রভাব: হৃৎস্পন্দনের গতি বেড়ে বা কমে যায়। রক্তচাপ ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়।
৩. মানসিক প্রভাব: অনিদ্রা, বিরক্তি, মনোযোগের অভাব ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।
বন্যপ্রাণীর ওপর প্রভাব:
১. তীব্র আওয়াজে বন্যপ্রাণী ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
২. অতিরিক্ত কোলাহলের ফলে প্রাণীরা পরস্পরের ডাক (প্রজনন সংকেত) শুনতে পায় না, ফলে তাদের প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
8. পরিবেশ দূষণের কারণ হিসেবে 'জনবিস্ফোরণ' ও 'শিল্পায়নের' ভূমিকা কী? আলোচনা করো।
জনবিস্ফোরণের ভূমিকা:
অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে মাটি ও জল দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি নগরায়ণের ফলে বিপুল পরিমাণ আবর্জনা তৈরি হয়ে পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে।
শিল্পায়নের ভূমিকা:
উন্নয়নের সাথে সাথে কল-কারখানার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই কল-কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুদূষণ এবং রাসায়নিক বর্জ্য জল ও মাটি দূষণের প্রধান কারণ। ভারী ধাতু ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্যও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এই দুই কারণই মূলত আজকের দূষণ সংকটের মূলে রয়েছে।
9. শৈবাল ব্লুম (Algal Bloom) কী? শৈবাল ব্লুম ও ইউট্রিফিকেশন কীভাবে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত?
শৈবাল ব্লুম:
জলাশয়ে পুষ্টি উপাদান বেড়ে গেলে নীলাভ-সবুজ শৈবাল অতি দ্রুত ও ব্যাপক হারে বংশবৃদ্ধি করে পুকুর/নদীর জলকে সবুজ বা লালচে করে তোলে, একেই শৈবাল ব্লুম বলে।
ইউট্রিফিকেশন ও শৈবাল ব্লুমের সম্পর্ক:
ইউট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপই হল শৈবাল ব্লুমের সৃষ্টি। পুষ্টি আধিক্যে শৈবালের সংখ্যা বেড়ে গেলে তা জলাধারের উপরিভাগ ঢেকে ফেলে। যখন এই বিপুল পরিমাণ শৈবাল মারা যায়, তখন ব্যাকটেরিয়া কর্তৃক পচনের ফলে জলের অক্সিজেন শেষ হয়ে যায় এবং জল দুর্গন্ধময় হয়। অর্থাৎ, শৈবাল ব্লুম হল ইউট্রিফিকেশনের সবচেয়ে দৃশ্যমান ও সর্বপ্রথম পর্যায়।
10. কৃষি ও শিল্প বর্জ্যের প্রভাবে সৃষ্ট 'ভারী ধাতু দূষণ' সম্পর্কে যা জানো লেখো। এটি মানবদেহে কী কী রোগের সৃষ্টি করে?
ভারী ধাতু দূষণ:
শিল্প-কারখানা ও খনি থেকে নির্গত বিষাক্ত ভারী ধাতু (সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক) বর্জ্যের মাধ্যমে মাটি ও জলে মিশে যায়। এছাড়া ব্যাটারি, রং ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকেও এ ধাতুগুলি পরিবেশে ছড়ায়। অপচনশীলতার জন্য এরা খাদ্যশৃঙ্খলে দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জৈব বিবর্ধন ঘটায়।
রোগের সৃষ্টি:
১. সিসা (Lead) – ভিসেলক্লিয়া (Plumbism): রক্তশূন্যতা, স্নায়বিক দুর্বলতা, শিশুদের বুদ্ধিমত্তা হ্রাস।
২. পারদ (Mercury) – মিনামাটা রোগ: স্নায়ুতন্ত্রের ধ্বংস, দৃষ্টিহীনতা, পক্ষাঘাত।
৩. ক্যাডমিয়াম (Cadmium) – ইটাই-ইটাই রোগ: হাড়ের বিকৃতি, অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা, কিডনি বিকল।
মনে রেখো! দূষণের প্রভাব ও পরিভাষা
BOD (জৈব অক্সিজেন চাহিদা): জল দূষণের মাপকাঠি।
ইউট্রিফিকেশন: জলে শৈবাল ব্লুম ও অক্সিজেন হ্রাস।
বায়োম্যাগনিফিকেশন: খাদ্যশৃঙ্খলে DDT-র ঘনত্ব বৃদ্ধি।
শব্দদূষণ: 80+ dB ক্ষতিকর, 160 dB-তে পর্দা ছিঁড়ে।