Chapter 1.D: প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয় - স্নায়ুতন্ত্র
স্নায়ুতন্ত্র, নিউরোন, মস্তিষ্ক, প্রতিবর্ত ক্রিয়া এবং মানুষের চোখের গঠন ও ত্রুটির সম্পূর্ণ প্রস্তুতি | 50 MCQ | 41 SAQ | 10 Broad Questions
নিউরোন মস্তিষ্ক সাইন্যাপস মানুষের চোখ মায়োপিয়া প্রতিবর্ত ক্রিয়া
🧠
ভৌত সমন্বয়ক
নিউরোন, মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের গঠন ও কাজ
👁️
দৃষ্টি ও উপযোজন
চোখের গঠন এবং মায়োপিয়া, হাইপারমেট্রোপিয়ার প্রতিকার
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
50 টি1. প্রাণীদেহে ভৌত সমন্বয়ক (Physical Coordinator) হিসেবে কাজ করে কে?
ক) রক্ত
খ) হরমোন
গ) স্নায়ুতন্ত্র
ঘ) পেশিতন্ত্র
ব্যাখ্যা: স্নায়ুতন্ত্র প্রাণীদেহে বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করে ভৌত সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে।
2. স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক কী?
ক) নেফ্রন
খ) নিউরোন
গ) নিউরোগ্লিয়া
ঘ) অ্যালভিওলাই
ব্যাখ্যা: নিউরোন (Neuron) বা স্নায়ুকোশ হল স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক।
3. স্নায়ুতন্ত্রের ধারক কোশ বা সাপোর্টিং সেল কাকে বলে?
ক) সোয়ান কোশ
খ) নিউরোন
গ) নিউরোগ্লিয়া
ঘ) গ্যাংলিয়ন
ব্যাখ্যা: নিউরোগ্লিয়া স্নায়ুতন্ত্রের প্রায় ৯০% স্থান অধিকার করে থাকে এবং এটি স্নায়ুতন্ত্রের ধারক কোশ হিসেবে কাজ করে। এরা স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণ করে না।
4. নিউরোনের কোশদেহে অবস্থিত দানাদার অংশটিকে কী বলে?
ক) নিজল দানা
খ) নিউরোফাইব্রিল
গ) সেন্ট্রোজোম
ঘ) মায়েলিন সিথ
ব্যাখ্যা: কোশদেহে রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন দ্বারা গঠিত কণাকে নিজল দানা (Nissl granules) বলে। এগুলি প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে।
5. নিউরোনের কোন অংশে নিজল দানা থাকে না?
ক) ডেনড্রন
খ) কোশদেহ
গ) অ্যাক্সন
ঘ) ডেনড্রাইট
ব্যাখ্যা: অ্যাক্সন অংশে কোনো নিজল দানা থাকে না।
6. অ্যাক্সনের ওপরের স্নেহপদার্থ নির্মিত আবরণীকে কী বলে?
ক) নিউরিলেমা
খ) মায়েলিন সিথ
গ) অ্যাক্সোলেমা
ঘ) এন্ডোনিউরিয়াম
ব্যাখ্যা: অ্যাক্সনের ওপরের লিপিড বা স্নেহপদার্থ দ্বারা গঠিত পুরু আবরণীকে মায়েলিন সিথ (Myelin sheath) বা মেডুলারি আবরণী বলে।
7. রানভিয়ারের পর্ব (Nodes of Ranvier) কোথায় দেখা যায়?
ক) কোশদেহে
খ) ডেনড্রনে
গ) অ্যাক্সনে
ঘ) পেশিতে
ব্যাখ্যা: অ্যাক্সনের যে স্থানে মায়েলিন সিথ থাকে না, সেই সংকুচিত স্থানকে রানভিয়ারের পর্ব বলে।
8. সোয়ান কোশ (Schwann cell) কোথায় থাকে?
ক) ডেনড্রনে
খ) মায়েলিন সিথ ও নিউরিলেমার মাঝে
গ) সাইন্যাপসে
ঘ) মস্তিষ্কে
ব্যাখ্যা: অ্যাক্সনের মায়েলিন সিথ এবং নিউরিলেমা আবরণের অন্তর্বর্তী স্থানে নিউক্লিয়াসযুক্ত সোয়ান কোশ থাকে।
9. দুটি নিউরোনের সংযোগস্থলকে কী বলে?
ক) গ্যাংলিয়ন
খ) সাইন্যাপস
গ) ডেনড্রন
ঘ) নিউরোগ্লিয়া
ব্যাখ্যা: একটি নিউরোনের অ্যাক্সন এবং পরবর্তী নিউরোনের ডেনড্রনের সংযোগস্থলকে সাইন্যাপস (Synapse) বা প্রান্তসন্নিকর্ষ বলে।
10. নীচের কোনটি একটি নিউরোট্রান্সমিটার (Neurotransmitter)?
ক) ইনসুলিন
খ) থাইরক্সিন
গ) অ্যাসিটাইলকোলিন
ঘ) পেপসিন
ব্যাখ্যা: অ্যাসিটাইলকোলিন, অ্যাড্রেনালিন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থ সাইন্যাপসের মাধ্যমে স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণে সাহায্য করে, তাই এদের নিউরোট্রান্সমিটার বলে।
11. যে স্নায়ু গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বহন করে, তাকে কী বলে?
ক) আজ্ঞাবহ স্নায়ু
খ) মিশ্র স্নায়ু
গ) সংজ্ঞাবহ (Sensory) স্নায়ু
ঘ) মোটর স্নায়ু
ব্যাখ্যা: সংজ্ঞাবহ বা সেনসরি স্নায়ু গ্রাহক অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে মস্তিষ্ক বা সুষুম্নাকাণ্ডে পাঠায়। (যেমন- অপটিক স্নায়ু)।
12. নীচের কোনটি একটি মিশ্র স্নায়ু (Mixed Nerve)?
ক) অপটিক স্নায়ু
খ) অডিটরি স্নায়ু
গ) ভেগাস স্নায়ু
ঘ) অকিউলোমোটর স্নায়ু
ব্যাখ্যা: ভেগাস (Vagus), ফেসিয়াল ইত্যাদি স্নায়ু সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ উভয় তন্তু দ্বারা গঠিত, তাই এরা মিশ্র স্নায়ু।
13. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (Central Nervous System) প্রধানত কী নিয়ে গঠিত?
ক) মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড
খ) করোটীয় ও সুষুম্না স্নায়ু
গ) স্বয়ংক্রিয় স্নায়ু
ঘ) গ্যাংলিয়ন
ব্যাখ্যা: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র মস্তিষ্ক (Brain) এবং সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal Cord) নিয়ে গঠিত।
14. মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড়ো অংশের নাম কী?
ক) লঘুমস্তিষ্ক
খ) গুরুমস্তিষ্ক (Cerebrum)
গ) থ্যালামাস
ঘ) সুষুম্নাশীর্ষক
ব্যাখ্যা: মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড়ো অংশ হল গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম (Cerebrum), যা চিন্তা, স্মৃতি, বুদ্ধি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।
15. গুরুমস্তিষ্কের দুটি গোলার্ধ কোন স্নায়ুযোজক দ্বারা যুক্ত থাকে?
ক) ভারমিস
খ) করপাস ক্যালোসাম
গ) পনস
ঘ) মেনিনজেস
ব্যাখ্যা: গুরুমস্তিষ্কের ডান ও বাম গোলার্ধ করপাস ক্যালোসাম (Corpus callosum) নামক স্নায়ুতন্তুগুচ্ছ দ্বারা যুক্ত থাকে।
16. মস্তিষ্কের কোন অংশ দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে?
ক) গুরুমস্তিষ্ক
খ) হাইপোথ্যালামাস
গ) লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum)
ঘ) থ্যালামাস
ব্যাখ্যা: লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম (Cerebellum) প্রাণীদের গমনের সময় দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
17. লঘুমস্তিষ্কের দুটি গোলার্ধ কোন যোজক দ্বারা যুক্ত থাকে?
ক) করপাস ক্যালোসাম
খ) ভারমিস (Vermis)
গ) যোজক কলা
ঘ) মেডালা
ব্যাখ্যা: লঘুমস্তিষ্কের ডান ও বাম গোলার্ধ ভারমিস (Vermis) নামক যোজক দ্বারা যুক্ত থাকে।
18. মস্তিষ্কের কোন অংশকে রিলে স্টেশন (Relay station) বলা হয়?
ক) থ্যালামাস
খ) হাইপোথ্যালামাস
গ) গুরুমস্তিষ্ক
ঘ) সুষুম্নাকাণ্ড
ব্যাখ্যা: থ্যালামাস গ্রাহক থেকে আসা দর্শন, শ্রবণ ছাড়া অন্যান্য সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনাকে গ্রহণ করে গুরুমস্তিষ্কে পাঠায়, তাই একে রিলে স্টেশন বলে।
19. ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম, ঘর্ম ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের কোন অংশ?
ক) থ্যালামাস
খ) হাইপোথ্যালামাস
গ) লঘুমস্তিষ্ক
ঘ) পনস
ব্যাখ্যা: হাইপোথ্যালামাস ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা, রাগ, ভয়, ঘর্ম এবং দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
20. শ্বাসকার্য ও হৃদ্স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের কোন অংশ?
ক) লঘুমস্তিষ্ক
খ) সুষুম্নাশীর্ষক (Medulla oblongata)
গ) হাইপোথ্যালামাস
ঘ) গুরুমস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা: সুষুম্নাশীর্ষক বা মেডালা অবলংগাটা শ্বাসকেন্দ্র ও হৃৎকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করে, এছাড়া বমি, লালাক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
21. মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের চারপাশের আবরণীকে কী বলে?
ক) প্লুরা
খ) পেরিকার্ডিয়াম
গ) মেনিনজেস (Meninges)
ঘ) ক্যাপসুল
ব্যাখ্যা: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড মেনিনজেস নামক ত্রি-স্তরীয় আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে (ডুরাম্যাটার, অ্যারাকনয়েড ম্যাটার, পায়াম্যাটার)।
22. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের গহ্বরে যে তরল থাকে তার নাম কী?
ক) রক্ত
খ) লসিকা
গ) সাইনোভিয়াল তরল
ঘ) সেরিপ্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF)
ব্যাখ্যা: মস্তিষ্কের নিলয় ও সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালিতে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (Cerebrospinal Fluid - CSF) থাকে। এটি পুষ্টি সরবরাহ করে এবং আঘাত থেকে রক্ষা করে।
23. মানুষের করোটীয় স্নায়ুর (Cranial nerves) সংখ্যা কত?
ক) ১০ জোড়া
খ) ১২ জোড়া
গ) ৩১ জোড়া
ঘ) ৩৩ জোড়া
ব্যাখ্যা: মানুষের মস্তিষ্ক থেকে ১২ জোড়া করোটীয় স্নায়ু নির্গত হয়।
24. মানুষের সুষুম্না স্নায়ুর (Spinal nerves) সংখ্যা কত?
ক) ১২ জোড়া
খ) ২১ জোড়া
গ) ৩১ জোড়া
ঘ) ১১ জোড়া
ব্যাখ্যা: মানুষের সুষুম্নাকাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু নির্গত হয়।
25. প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action) প্রথম কে আবিষ্কার করেন?
ক) আইভান প্যাভলভ
খ) ভেন্ট
গ) ডারউইন
ঘ) মেন্ডেল
ব্যাখ্যা: রুশ বিজ্ঞানী আইভান প্যাভলভ (Ivan Pavlov) কুকুরের লালাক্ষরণের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ধারণা দেন।
26. হঠাৎ চোখে আলো পড়লে চোখ বন্ধ হয়ে যায়। এটি কীসের উদাহরণ?
ক) ট্যাকটিক চলন
খ) সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া
গ) অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া
ঘ) ঐচ্ছিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা: চোখে আলো পড়লে চোখের পাতা বন্ধ হওয়া একটি জন্মগত বা সহজাত (Innate) প্রতিবর্ত ক্রিয়া, যা পূর্ব অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল নয়।
27. শিশুর হাঁটতে বা কথা বলতে শেখা কী ধরনের প্রতিবর্ত ক্রিয়া?
ক) সহজাত
খ) অর্জিত (Acquired)
গ) অনপেক্ষ
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: হাঁটতে শেখা, সাইকেল চালানো, কথা বলা এগুলি বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করতে হয়, তাই এগুলি অর্জিত (Acquired/Conditioned) প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
28. প্রতিবর্ত পথ বা রিফ্লেক্স আর্ক-এর কয়টি অংশ থাকে?
ব্যাখ্যা: প্রতিবর্ত চাপের ৫টি অংশ: গ্রাহক (Receptor), সংজ্ঞাবহ স্নায়ু, স্নায়ুকেন্দ্র, আজ্ঞাবহ স্নায়ু এবং কারক (Effector)।
29. প্রতিবর্ত ক্রিয়ার প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র কোনটি?
ক) গুরুমস্তিষ্ক
খ) লঘুমস্তিষ্ক
গ) সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal Cord)
ঘ) থ্যালামাস
ব্যাখ্যা: বেশিরভাগ প্রতিবর্ত ক্রিয়া (যেমন- পায়ে কাঁটা ফুটলে পা সরিয়ে নেওয়া) সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
30. চোখের কোন অংশ ক্যামেরার ডায়াফ্রামের মতো আলো প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে?
ক) কর্নিয়া
খ) লেন্স
গ) আইরিস (Iris) / তারারন্ধ্র
ঘ) রেটিনা
ব্যাখ্যা: আইরিস বা কনীনিকা তারারন্ধ্রের (Pupil) সংকোচন ও প্রসারণ ঘটিয়ে চোখে আলো প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।
31. চোখের কোন্ স্তরে বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
ক) স্ক্লেরা
খ) কোরয়েড
গ) রেটিনা (Retina)
ঘ) কর্নিয়া
ব্যাখ্যা: রেটিনা হল চোখের সবচেয়ে ভেতরের আলোক সংবেদী স্তর, যেখানে বস্তুর উলটো প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
32. চোখের সাদা ও অস্বচ্ছ বাইরের আবরণীর নাম কী?
ক) স্ক্লেরা
খ) কোরয়েড
গ) রেটিনা
ঘ) কনজাংটিভা
ব্যাখ্যা: অক্ষিগোলকের বাইরের এক-পঞ্চমাংশ সাদা ও অস্বচ্ছ তন্তুময় আবরণীকে স্ক্লেরা (Sclera) বলে। এটি চোখের আকার বজায় রাখে।
33. চোখের কোরয়েড বা কৃষ্ণমণ্ডল স্তরের কাজ কী?
ক) আলো প্রবেশ করানো
খ) চোখের ভেতরে আলোর প্রতিফলন রোধ করা
গ) প্রতিবিম্ব গঠন
ঘ) লেন্সকে ধরে রাখা
ব্যাখ্যা: কোরয়েড স্তরে প্রচুর মেলানিন রঞ্জক থাকায় এটি কালো হয় এবং চোখের ভেতরে আলোর প্রতিফলন রোধ করে।
34. মৃদু আলোতে দেখতে সাহায্য করে রেটিনার কোন কোশ?
ক) কোন কোশ
খ) রড কোশ (Rod cell)
গ) স্নায়ুকোশ
ঘ) গ্লিয়া কোশ
ব্যাখ্যা: রেটিনায় উপস্থিত রড কোশ (Rod cell) মৃদু আলোতে বা অন্ধকারে দেখতে সাহায্য করে। এতে রোডোপসিন রঞ্জক থাকে।
35. উজ্জ্বল আলো ও বর্ণ চিনতে সাহায্য করে কোন কোশ?
ক) রড কোশ
খ) কোন কোশ (Cone cell)
গ) কোরয়েড
ঘ) অন্ধবিন্দু
ব্যাখ্যা: কোন কোশ (Cone cell) উজ্জ্বল আলোতে দেখতে এবং বর্ণ বা রং চিনতে সাহায্য করে। এতে আয়োডোপসিন রঞ্জক থাকে।
36. মানুষের চোখের লেন্সের প্রকৃতি কীরূপ?
ক) অবতল
খ) উভোত্তল (Biconvex)
গ) সমতল
ঘ) সমতলোত্তল
ব্যাখ্যা: মানুষের চোখের লেন্সটি স্বচ্ছ, স্থিতিস্থাপক এবং উভোত্তল (Biconvex) প্রকৃতির।
37. চোখের লেন্সের বক্রতা বা ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করতে সাহায্য করে কে?
ক) সিলিয়ারি পেশি
খ) আইরিস
গ) রেটিনা
ঘ) স্ক্লেরা
ব্যাখ্যা: সিলিয়ারি বডির পেশি লেন্সের বক্রতা পরিবর্তন করে ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করে, যা উপযোজনে (Accommodation) সাহায্য করে।
38. রেটিনার যে স্থানে সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, তাকে কী বলে?
ক) অন্ধবিন্দু
খ) পীতবিন্দু (Yellow spot)
গ) তারারন্ধ্র
ঘ) কোরয়েড
ব্যাখ্যা: রেটিনার ঠিক মাঝখানে যে অংশে প্রচুর কোন কোশ থাকে এবং সবচেয়ে ভালো প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, তাকে পীতবিন্দু (Macula lutea/Yellow spot) বা ফোভিয়া সেন্ট্রালিস বলে।
39. রেটিনা ও অপটিক স্নায়ুর সংযোগস্থলে যেখানে দর্শন অনুভূতি থাকে না, তাকে কী বলে?
ক) অন্ধবিন্দু (Blind spot)
খ) পীতবিন্দু
গ) তারারন্ধ্র
ঘ) কর্নিয়া
ব্যাখ্যা: অপটিক স্নায়ু যে স্থান দিয়ে চোখ থেকে বের হয় সেখানে কোনো রড বা কোন কোশ থাকে না, তাই প্রতিবিম্ব গঠিত হলেও দেখা যায় না। একে অন্ধবিন্দু বলে।
40. অক্ষিগোলকের লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠে যে জেলির মতো তরল থাকে, তাকে কী বলে?
ক) অ্যাকুয়াস হিউমর
খ) ভিট্রিয়াস হিউমর
গ) সাইনোভিয়াল তরল
ঘ) সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড
ব্যাখ্যা: ভিট্রিয়াস হিউমর (Vitreous humor) লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী বড় প্রকোষ্ঠে থাকে এবং অক্ষিগোলকের আকৃতি বজায় রাখে।
41. অক্ষিগোলকের ব্যাস স্বাভাবিকের তুলনায় বড়ো হয়ে গেলে কী ত্রুটি দেখা দেয়?
ক) হাইপারমেট্রোপিয়া
খ) মায়োপিয়া (Myopia)
গ) প্রেসবায়োপিয়া
ঘ) ক্যাটারাক্ট
ব্যাখ্যা: অক্ষিগোলকের ব্যাস বড়ো হয়ে গেলে বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে গঠিত হয়, ফলে দূরের বস্তু অস্পষ্ট দেখায়। একে মায়োপিয়া বা নিকট দৃষ্টি বলে।
42. মায়োপিয়া বা হ্রস্বদৃষ্টি ত্রুটি দূর করতে কোন লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয়?
ক) উত্তল লেন্স
খ) অবতল লেন্স (Concave lens)
গ) বাইফোকাল লেন্স
ঘ) সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্স
ব্যাখ্যা: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের অবতল (Concave) লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে প্রতিবিম্ব ঠিক রেটিনায় গঠিত হয়।
43. যে দৃষ্টি ত্রুটিতে কাছের বস্তু অস্পষ্ট কিন্তু দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে কী বলে?
ক) মায়োপিয়া
খ) হাইপারমেট্রোপিয়া (Hypermetropia)
গ) প্রেসবায়োপিয়া
ঘ) গ্লুকোমা
ব্যাখ্যা: অক্ষিগোলকের ব্যাস ছোটো হলে প্রতিবিম্ব রেটিনার পিছনে গঠিত হয়, ফলে কাছের বস্তু দেখা যায় না। একে হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূর দৃষ্টি বলে।
44. হাইপারমেট্রোপিয়া দূর করতে কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?
ক) অবতল লেন্স
খ) উত্তল লেন্স (Convex lens)
গ) বাইফোকাল লেন্স
ঘ) প্রিজম
ব্যাখ্যা: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের উত্তল (Convex) লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে হাইপারমেট্রোপিয়া ত্রুটি দূর হয়।
45. বয়স বাড়ার সাথে লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে গেলে যে ত্রুটি দেখা দেয়, তাকে কী বলে?
ক) প্রেসবায়োপিয়া (Presbyopia)
খ) মায়োপিয়া
গ) হাইপারমেট্রোপিয়া
ঘ) ক্যাটারাক্ট
ব্যাখ্যা: ৪০ বছরের বেশি বয়সে লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হওয়ায় কাছের বস্তু দেখতে অসুবিধা হয়, একে প্রেসবায়োপিয়া বা চালশে বলে।
46. প্রেসবায়োপিয়া ত্রুটি দূর করতে কী ব্যবহার করা হয়?
ক) অবতল লেন্স
খ) উত্তল লেন্স
গ) বাইফোকাল বা প্রোগ্রেসিভ লেন্স
ঘ) সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্স
ব্যাখ্যা: বাইফোকাল (Bifocal) বা প্রোগ্রেসিভ লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে প্রেসবায়োপিয়া দূর হয়।
47. চোখের লেন্স ঘোলাটে বা অস্বচ্ছ হয়ে গেলে তাকে কী বলে?
ক) গ্লুকোমা
খ) ছানি বা ক্যাটারাক্ট (Cataract)
গ) মায়োপিয়া
ঘ) বর্ণান্ধতা
ব্যাখ্যা: বার্ধক্যে চোখের লেন্স প্রোটিন জমার কারণে অস্বচ্ছ বা ঘোলাটে হয়ে যায়, একে ছানি বা ক্যাটারাক্ট বলে। অপারেশনের মাধ্যমে লেন্স প্রতিস্থাপন (IOL) করে এর চিকিৎসা করা হয়।
48. স্থান পরিবর্তন না করে লেন্সের বক্রতা পরিবর্তনের মাধ্যমে দেখার পদ্ধতিকে কী বলে?
ক) উপযোজন (Accommodation)
খ) প্রতিবর্ত ক্রিয়া
গ) প্রতিসরণ
ঘ) দ্বিনেত্র দৃষ্টি
ব্যাখ্যা: চোখের লেন্সের বক্রতা (ফোকাস দৈর্ঘ্য) পরিবর্তন করে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার পদ্ধতিকে উপযোজন বলে।
49. দুটি চোখ দিয়ে একই বস্তুর প্রতিবিম্ব দেখাকে কী বলে?
ক) একনেত্র দৃষ্টি
খ) দ্বিনেত্র দৃষ্টি (Binocular vision)
গ) উপযোজন
ঘ) রঙিন দৃষ্টি
ব্যাখ্যা: মানুষ, পেঁচা ইত্যাদি প্রাণীর দুটি চোখ মুখের সামনের দিকে থাকায় দুটি চোখ দিয়ে একই বস্তুর ত্রিমাত্রিক ছবি দেখা যায়, একে দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলে।
50. মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে নিউরোনের সংখ্যা প্রায় কত?
ক) ১০ লক্ষ
খ) ১০০ কোটি
গ) প্রায় ১০,০০০ কোটি (100 Billion)
ঘ) ১০ হাজার
ব্যাখ্যা: মানব মস্তিষ্কে ও স্নায়ুতন্ত্রে প্রায় ১০,০০০ কোটি বা ১০০ বিলিয়ন নিউরোন থাকে।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
41 টি1. স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) কাকে বলে?
স্নায়ুকোশ ও নিউরোগ্লিয়া দিয়ে গঠিত যে তন্ত্রের সাহায্যে প্রাণীদেহে উদ্দীপনা গ্রহণ, উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং দেহের বিভিন্ন যন্ত্র ও তন্ত্রের মধ্যে ভৌত সমন্বয় সাধন হয়, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
2. গ্রাহক (Receptor) কী? একটি উদাহরণ দাও।
প্রাণীদেহের যেসব অঙ্গ পরিবেশ থেকে বিভিন্ন উদ্দীপনা (যেমন- আলো, তাপ, শব্দ) গ্রহণ করে, তাদের গ্রাহক বা রিসেপ্টর বলে। উদাহরণ: চোখ (আলোকগ্রাহক), কান (শব্দগ্রাহক), ত্বক (স্পর্শগ্রাহক)।
3. কারক (Effector) কী? একটি উদাহরণ দাও।
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে আসা আদেশের প্রভাবে প্রাণীদেহের যেসব অঙ্গ উদ্দীপিত হয়ে সাড়া প্রদান করে, তাদের কারক বা ইফেক্টর বলে। উদাহরণ: পেশি এবং গ্রন্থি।
4. নিউরোন (Neuron) কাকে বলে?
স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক, যা স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণে সক্ষম, তাকে নিউরোন বা স্নায়ুকোশ বলে। এটি কোশদেহ, ডেনড্রন ও অ্যাক্সন নিয়ে গঠিত।
5. নিউরোগ্লিয়া (Neuroglia) কী?
স্নায়ুতন্ত্রে নিউরোন ছাড়া অপর যে অবিভাজ্য, স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণে অক্ষম ধারক কোশ থাকে, তাকে নিউরোগ্লিয়া বলে। এরা স্নায়ুতন্ত্রের প্রায় ৯০% স্থান অধিকার করে থাকে।
6. নিজল দানা (Nissl granules) কী?
নিউরোনের কোশদেহে নিউরোপ্লাজমের মধ্যে রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন দ্বারা গঠিত যেসব দানা থাকে, তাদের নিজল দানা বলে। এরা প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে। (অ্যাক্সনে নিজল দানা থাকে না)।
7. সোয়ান কোশ (Schwann cell) কোথায় থাকে?
নিউরোনের অ্যাক্সনের ওপরের দুটি আবরণ—মায়েলিন সিথ (ভেতরে) এবং নিউরিলেমা (বাইরে)—এর অন্তর্বর্তী স্থানে যে নিউক্লিয়াসযুক্ত কোশ থাকে, তাকে সোয়ান কোশ বলে।
8. রানভিয়ারের পর্ব (Nodes of Ranvier) কাকে বলে?
অ্যাক্সনের নিউরিলেমা আবরণের নীচে মায়েলিন সিথটি নিরবচ্ছিন্ন নয়। যে নির্দিষ্ট স্থানে মায়েলিন সিথ থাকে না এবং নিউরিলেমা সংকুচিত হয়ে অ্যাক্সোলেমাকে স্পর্শ করে, তাকে রানভিয়ারের পর্ব বলে।
9. সাইন্যাপস (Synapse) বা প্রান্তসন্নিকর্ষ কাকে বলে?
একটি নিউরোনের অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত এবং পরবর্তী নিউরোনের ডেনড্রনের শুরুর প্রান্তের মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম ফাঁকযুক্ত সংযোগস্থলকে সাইন্যাপস বা প্রান্তসন্নিকর্ষ বলে। এখান দিয়ে স্নায়ুস্পন্দন একমুখী পরিবাহিত হয়।
10. নিউরোট্রান্সমিটার (Neurotransmitter) কী? উদাহরণ দাও।
যে রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে স্নায়ুস্পন্দন সাইন্যাপস অতিক্রম করে এক নিউরোন থেকে অন্য নিউরোনে বা কারকে পরিবাহিত হয়, তাকে নিউরোট্রান্সমিটার বলে। উদাহরণ: অ্যাসিটাইলকোলিন (Acetylcholine), অ্যাড্রেনালিন।
11. সংজ্ঞাবহ বা সেনসরি (Sensory) স্নায়ু কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে স্নায়ু গ্রাহক (Receptor) থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (মস্তিষ্ক বা সুষুম্নাকাণ্ডে) বহন করে, তাকে সংজ্ঞাবহ স্নায়ু বলে। উদাহরণ: অপটিক স্নায়ু, অডিটরি স্নায়ু।
12. আজ্ঞাবহ বা মোটর (Motor) স্নায়ু কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে আজ্ঞামূলক স্পন্দন কারক অঙ্গে (পেশি বা গ্রন্থিতে) বহন করে নিয়ে যায়, তাকে আজ্ঞাবহ বা মোটর স্নায়ু বলে। উদাহরণ: অকিউলোমোটর স্নায়ু।
13. মিশ্র স্নায়ু (Mixed Nerve) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে স্নায়ু সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ উভয় প্রকার স্নায়ুতন্তু নিয়ে গঠিত এবং উভয় দিকেই স্পন্দন পরিবহণ করতে পারে, তাকে মিশ্র স্নায়ু বলে। উদাহরণ: ভেগাস (Vagus), ফেসিয়াল স্নায়ু।
14. গ্যাংলিয়ন (Ganglion) বা স্নায়ুগ্রন্থি কাকে বলে?
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে কয়েকটি নিউরোনের কোশদেহগুলি যোগকলা দ্বারা আবৃত হয়ে যে ঈষৎ স্ফীত গ্রন্থি সৃষ্টি করে, তাকে গ্যাংলিয়ন বা স্নায়ুগ্রন্থি বলে। এখান থেকে স্নায়ু উৎপন্ন হয়।
15. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র কী নিয়ে গঠিত?
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (CNS) মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ে গঠিত। প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (PNS) ১২ জোড়া করোটীয় স্নায়ু এবং ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু নিয়ে গঠিত।
16. মেনিনজেস (Meninges) কী?
মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের চারপাশের ত্রি-স্তরীয় প্রতিরক্ষামূলক আবরণীকে মেনিনজেস বলে। এর বাইরের স্তরকে ডুরাম্যাটার, মাঝের স্তরকে অ্যারাকনয়েড ম্যাটার এবং ভেতরের স্তরকে পায়াম্যাটার বলে।
17. CSF-এর সম্পূর্ণ নাম কী? এর কাজ কী?
CSF-এর সম্পূর্ণ নাম Cerebrospinal Fluid (সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড)। এটি মস্তিষ্কের গহ্বর (নিলয়) এবং সুষুম্নাকাণ্ডের কেন্দ্রীয় নালিতে থাকে। কাজ: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে যান্ত্রিক আঘাত থেকে রক্ষা করা এবং কোশে পুষ্টি সরবরাহ করা।
18. গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম (Cerebrum)-এর দুটি কাজ লেখো।
১. স্মৃতি, চিন্তা, বুদ্ধি, চেতনা, আবেগ ইত্যাদি মানসিক গুণাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। ২. দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ ইত্যাদি অনুভূতি গ্রহণ করে এবং ঐচ্ছিক পেশির চলন নিয়ন্ত্রণ করে।
19. করপাস ক্যালোসাম (Corpus callosum) কী?
মানব মস্তিষ্কে গুরুমস্তিষ্কের বা সেরিব্রামের ডান ও বাম গোলার্ধ দুটি যে চওড়া স্নায়ুতন্তুগুচ্ছ দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে, তাকে করপাস ক্যালোসাম বলে।
20. থ্যালামাস (Thalamus)-এর একটি প্রধান কাজ লেখো।
থ্যালামাস গ্রাহক থেকে আসা দর্শন ও শ্রবণ ছাড়া অন্যান্য সমস্ত সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনাকে (যেমন- স্পর্শ, ব্যথা, চাপ) গ্রহণ করে গুরুমস্তিষ্কে পাঠায়, তাই একে রিলে স্টেশন (Relay station) বলা হয়।
21. হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus)-এর দুটি কাজ লেখো।
১. ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম, ঘর্ম এবং দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ২. পিটুইটারি গ্রন্থির হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে (সুপ্রিম কমান্ডার)।
22. লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম (Cerebellum)-এর প্রধান কাজ কী?
লঘুমস্তিষ্কের প্রধান কাজ হল প্রাণীদের গমনের সময় দেহের ভারসাম্য (Body balance) রক্ষা করা এবং ঐচ্ছিক পেশির টান নিয়ন্ত্রণ করা।
23. ভারমিস (Vermis) কী?
লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলামের ডান ও বাম গোলার্ধ দুটি মাঝখানে যে যোজক দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে ভারমিস বলে।
24. সুষুম্নাশীর্ষক বা মেডালা অবলংগাটা (Medulla oblongata)-এর কাজ কী?
এটি মস্তিষ্কের সবচেয়ে পেছনের অংশ যা শ্বাসকেন্দ্র ও হৃৎকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া বমি, লালাক্ষরণ, গলাধঃকরণ প্রভৃতি প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
25. সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal Cord)-এর প্রধান কাজ কী?
১. দেহের বেশিরভাগ প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex action) সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ২. মস্তিষ্ক এবং দেহের বিভিন্ন অংশের মধ্যে স্নায়ুস্পন্দন আদান-প্রদান করা।
26. প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action) কাকে বলে?
পরিবেশের কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (প্রধানত সুষুম্নাকাণ্ডের) নির্দেশে স্বতঃস্ফূর্ত, অনৈচ্ছিক ও তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণীদেহে যে সাড়া প্রদানের ঘটনা ঘটে, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। যেমন- পায়ে কাঁটা ফুটলে পা সরিয়ে নেওয়া।
27. সহজাত (Innate) প্রতিবর্ত ক্রিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যেসব প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মগত, বংশানুক্রমিকভাবে প্রাপ্ত এবং পূর্ব অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল নয়, তাদের সহজাত বা জন্মগত প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। উদাহরণ: চোখে আলো পড়লে পাতা বন্ধ হওয়া, শিশুর স্তনপান।
28. অর্জিত বা শর্তসাপেক্ষ (Acquired/Conditioned) প্রতিবর্ত ক্রিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যেসব প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মগত নয়, বরং বারবার অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত হয়, তাদের অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। উদাহরণ: সাইকেল চালানো, কথা বলা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো।
29. প্রতিবর্ত চাপ বা রিফ্লেক্স আর্ক (Reflex Arc) কাকে বলে?
যে স্নায়ুপথের মাধ্যমে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার স্নায়ুস্পন্দন আবর্তিত হয় (গ্রাহক থেকে শুরু করে কারক পর্যন্ত), সেই পথকে প্রতিবর্ত চাপ বা রিফ্লেক্স আর্ক বলে।
30. প্রতিবর্ত চাপের পাঁচটি অংশের নাম ক্রমানুসারে লেখো।
১. গ্রাহক (Receptor), ২. সংজ্ঞাবহ স্নায়ু (Sensory nerve), ৩. স্নায়ুকেন্দ্র (Nerve centre - সুষুম্নাকাণ্ড), ৪. আজ্ঞাবহ স্নায়ু (Motor nerve), ৫. কারক (Effector)।
31. স্ক্লেরা (Sclera)-এর অবস্থান ও কাজ লেখো।
স্ক্লেরা বা শ্বেতমণ্ডল হল মানবচক্ষুর অক্ষিগোলকের বাইরের এক-পঞ্চমাংশ সাদা, অস্বচ্ছ, তন্তুময় আবরণী। কাজ: চোখের অভ্যন্তরীণ অংশগুলিকে রক্ষা করা এবং চোখের নির্দিষ্ট আকৃতি বজায় রাখা।
32. কোরয়েড (Choroid) বা কৃষ্ণমণ্ডল-এর কাজ কী?
স্ক্লেরার নীচের স্তরটি হল কোরয়েড। এতে প্রচুর মেলানিন রঞ্জক এবং রক্তজালক থাকে। কাজ: চোখের ভেতরে আলোর প্রতিফলন রোধ করা এবং রেটিনাকে পুষ্টি সরবরাহ করা।
33. রেটিনা (Retina)-এর কাজ কী?
রেটিনা হল চোখের সবচেয়ে ভেতরের স্নায়বিক এবং আলোক সংবেদী স্তর। কাজ: এখানে বস্তুর উলটো প্রতিবিম্ব গঠিত হয় এবং আলোক উদ্দীপনা অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
34. কর্নিয়া (Cornea) ও আইরিস (Iris)-এর কাজ কী?
কর্নিয়া চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ যা দিয়ে আলো ভেতরে প্রবেশ করে। আইরিস বা কনীনিকা হল কর্নিয়ার পেছনের পেশিময় পর্দা, যা তারারন্ধ্রের (Pupil) আকার ছোটো বা বড়ো করে চোখে আলোর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।
35. রড কোশ (Rod cell) ও কোন কোশ (Cone cell)-এর কাজ লেখো।
রড কোশ: রোডোপসিন রঞ্জকযুক্ত, যা মৃদু আলোতে বা অন্ধকারে দেখতে সাহায্য করে (বর্ণ চিনতে পারে না)। কোন কোশ: আয়োডোপসিন রঞ্জকযুক্ত, যা উজ্জ্বল আলোতে দেখতে এবং বিভিন্ন বর্ণ (রং) চিনতে সাহায্য করে।
36. পীতবিন্দু (Yellow spot) ও অন্ধবিন্দু (Blind spot) কী?
পীতবিন্দু: রেটিনার ঠিক মাঝখানে যে অংশে প্রচুর কোন কোশ থাকে এবং সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। অন্ধবিন্দু: রেটিনা ও অপটিক স্নায়ুর সংযোগস্থল যেখানে কোনো রড বা কোন কোশ থাকে না এবং দর্শন অনুভূতি থাকে না।
37. অ্যাকুয়াস হিউমর (Aqueous humor) ও ভিট্রিয়াস হিউমর (Vitreous humor) কোথায় থাকে?
অ্যাকুয়াস হিউমর কর্নিয়া ও লেন্সের মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠে থাকে। ভিট্রিয়াস হিউমর লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী বড় প্রকোষ্ঠে থাকে এবং অক্ষিগোলকের আকার বজায় রাখে।
38. উপযোজন বা অ্যাকোমোডেশন (Accommodation) কাকে বলে?
স্থান পরিবর্তন না করে চোখের লেন্সের বক্রতা (তথা ফোকাস দৈর্ঘ্য) সিলিয়ারি পেশির সাহায্যে পরিবর্তন করে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার পদ্ধতিকে উপযোজন বলে।
39. মায়োপিয়া (Myopia) বা হ্রস্বদৃষ্টি কী? এর প্রতিকার কী?
অক্ষিগোলকের ব্যাস স্বাভাবিকের চেয়ে বড়ো হলে বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে গঠিত হয়, ফলে দূরের বস্তু অস্পষ্ট দেখায়। একে মায়োপিয়া বলে। প্রতিকার: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের অবতল লেন্স (Concave lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করা।
40. হাইপারমেট্রোপিয়া (Hypermetropia) কী? এর প্রতিকার কী?
অক্ষিগোলকের ব্যাস স্বাভাবিকের চেয়ে ছোটো হলে বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার পিছনে গঠিত হয়, ফলে কাছের বস্তু অস্পষ্ট দেখায়। একে হাইপারমেট্রোপিয়া বলে। প্রতিকার: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের উত্তল লেন্স (Convex lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করা।
41. প্রেসবায়োপিয়া (Presbyopia) ও ক্যাটারাক্ট (Cataract) কী?
প্রেসবায়োপিয়া: বয়স বাড়ার সাথে লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হওয়ায় কাছের বস্তু দেখতে অসুবিধা হয় (চালশে)। বাইফোকাল লেন্স দিয়ে প্রতিকার হয়। ক্যাটারাক্ট (ছানি): বার্ধক্যে চোখের লেন্স প্রোটিন জমার কারণে অস্বচ্ছ বা ঘোলাটে হয়ে যায়। সার্জারি করে লেন্স প্রতিস্থাপন এর চিকিৎসা।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)
10 টি1. স্নায়ুতন্ত্রের সংজ্ঞা দাও। প্রাণীদেহে হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের কাজের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি লেখো।
স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System):
স্নায়ুকোশ (নিউরোন) ও নিউরোগ্লিয়া দিয়ে গঠিত যে তন্ত্রের সাহায্যে প্রাণীদেহে উদ্দীপনা গ্রহণ, উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের কাজের মধ্যে ভৌত সমন্বয় সাধন হয়, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের কাজের পার্থক্য:
| বিষয় | হরমোন (রাসায়নিক সমন্বয়ক) | স্নায়ুতন্ত্র (ভৌত সমন্বয়ক) |
|---|
| কাজের গতি | হরমোনের কাজ ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়। | স্নায়ুতন্ত্রের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। |
| কাজের স্থায়িত্ব | হরমোনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। | স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাব তাৎক্ষণিক ও ক্ষণস্থায়ী হয়। |
| পরিবহণ মাধ্যম | রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। | স্নায়ুতন্তু বা নিউরোনের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক স্পন্দনরূপে বাহিত হয়। |
| কাজের পর পরিণতি | কাজ শেষে হরমোন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। | কাজ শেষে স্নায়ুতন্ত্রের কোনো গঠনগত বা কার্যগত পরিবর্তন বা ধ্বংস হয় না। |
2. একটি আদর্শ নিউরোনের (Neuron) প্রধান অংশগুলির নাম লেখো এবং চিত্রসহ (গঠনগত বর্ণনা) এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
নিউরোনের গঠন:
স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক নিউরোন প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: ১) কোশদেহ (Cell body) এবং ২) প্রবর্ধক (Processes - ডেনড্রন ও অ্যাক্সন)।
- কোশদেহ বা সোমা (Soma): এটি নিউরোনের গোলাকার বা তারকাকার অংশ। এতে একটি বড়ো নিউক্লিয়াস, মাইটোকনড্রিয়া, গলগি বডি এবং প্রোটিন সংশ্লেষকারী নিজল দানা (Nissl granules) থাকে। কোশদেহে সেন্ট্রোজোম নিষ্ক্রিয় থাকায় নিউরোন বিভাজিত হতে পারে না।
- ডেনড্রন (Dendron): কোশদেহ থেকে নির্গত ছোটো, শাখাপ্রশাখাযুক্ত প্রবর্ধককে ডেনড্রন বলে। এর শাখাগুলিকে ডেনড্রাইট বলে। কাজ: পূর্ববর্তী নিউরোন বা গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোশদেহে পাঠানো।
- অ্যাক্সন (Axon): কোশদেহের অ্যাক্সন হিলক থেকে নির্গত দীর্ঘ, শাখাবিহীন প্রবর্ধকটিকে অ্যাক্সন বলে। এর ওপরের আবরণটিকে অ্যাক্সোলেমা বলে। অ্যাক্সোলেমার ওপর লিপিড নির্মিত মায়েলিন সিথ থাকে। এর বাইরের আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। মায়েলিন সিথ ও নিউরিলেমার মাঝে সোয়ান কোশ থাকে। অ্যাক্সনের যে স্থানে মায়েলিন সিথ থাকে না তাকে রানভিয়ারের পর্ব বলে। কাজ: কোশদেহ থেকে স্নায়ুস্পন্দন পরবর্তী নিউরোনে বা কারকে বহন করা।
3. স্নায়ু (Nerve), স্নায়ুতন্তু (Nerve fibre) এবং স্নায়ুগ্রন্থি (Ganglion)-এর মধ্যে সম্পর্ক কী? কাজের ভিত্তিতে স্নায়ুর শ্রেণিবিভাগ করো।
সম্পর্ক:
স্নায়ুতন্তু: নিউরোনের দীর্ঘ প্রবর্ধক অর্থাৎ অ্যাক্সনগুলি (এবং কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ ডেনড্রন) আবরণী পরিবৃত হয়ে স্নায়ুতন্তু গঠন করে।
স্নায়ু (Nerve): অসংখ্য স্নায়ুতন্তু যোগকলার আবরণী (এন্ডোনিউরিয়াম, পেরিনিউরিয়াম, এপিনুরিয়াম) দ্বারা গুচ্ছাকারে আবদ্ধ হয়ে যে রজ্জুর মতো গঠন তৈরি করে, তাকে স্নায়ু বলে।
স্নায়ুগ্রন্থি (Ganglion): কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে কয়েকটি নিউরোনের কোশদেহগুলি যোগকলায় আবৃত হয়ে যে স্ফীত অংশ গঠন করে, তাকে গ্যাংলিয়ন বলে। এই গ্যাংলিয়ন থেকেই মূলত স্নায়ুগুলি (স্নায়ুতন্তুর গুচ্ছ) উৎপন্ন হয়।
কাজের ভিত্তিতে স্নায়ুর শ্রেণিবিভাগ:
১. সংজ্ঞাবহ বা সেনসরি স্নায়ু (Sensory nerve): গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বহন করে। (যেমন- অপটিক স্নায়ু)।
২. আজ্ঞাবহ বা মোটর স্নায়ু (Motor nerve): কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে নির্দেশ কারকে (পেশি/গ্রন্থি) বহন করে। (যেমন- অকিউলোমোটর স্নায়ু)।
৩. মিশ্র স্নায়ু (Mixed nerve): সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ উভয় প্রকার স্নায়ুতন্তু দ্বারা গঠিত এবং উভয় দিকে স্পন্দন বহন করে। (যেমন- ভেগাস স্নায়ু, ফেসিয়াল স্নায়ু)।
4. সাইন্যাপস বা প্রান্তসন্নিকর্ষ (Synapse) কাকে বলে? এর গঠন ও স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণের পদ্ধতি আলোচনা করো।
সাইন্যাপস বা প্রান্তসন্নিকর্ষ:
একটি নিউরোনের অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত (Pre-synaptic knob) এবং পরবর্তী নিউরোনের ডেনড্রনের শুরুর প্রান্তের (Post-synaptic membrane) মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম ফাঁকযুক্ত (প্রায় ২০-৩০ ন্যানোমিটার) সংযোগস্থলকে সাইন্যাপস বলে। এখান দিয়ে স্নায়ুস্পন্দন কেবল একমুখীভাবে পরিবাহিত হয়।
গঠন ও পরিবহণ পদ্ধতি:
অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তটি স্ফীত হয়ে সাইন্যাপটিক নব (Synaptic knob) গঠন করে। এর ভেতরে প্রচুর সাইন্যাপটিক ভেসিকল (Synaptic vesicle) থাকে, যার মধ্যে নিউরোট্রান্সমিটার (Neurotransmitter) নামক রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- অ্যাসিটাইলকোলিন) সঞ্চিত থাকে।
স্নায়ুস্পন্দন অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তে পৌঁছালে সাইন্যাপটিক ভেসিকলগুলি ফেটে যায় এবং নিউরোট্রান্সমিটার সাইন্যাপটিক ক্লেফটে (Synaptic cleft - দুটি নিউরোনের মাঝের ফাঁক) মুক্ত হয়। এই রাসায়নিক পদার্থ পরবর্তী নিউরোনের ডেনড্রন পর্দায় (Post-synaptic membrane) উপস্থিত রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ফলে পরবর্তী নিউরোনে একটি নতুন বৈদ্যুতিক স্পন্দন তৈরি হয় এবং উদ্দীপনাটি সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
5. মানব মস্তিষ্কের (Human Brain) প্রধান অংশগুলির নাম লেখো। গুরুমস্তিষ্ক (Cerebrum) এবং হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus)-এর কাজ বর্ণনা করো।
মস্তিষ্কের প্রধান অংশগুলি:
মানব মস্তিষ্ক প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত:
১. অগ্রমস্তিষ্ক (Forebrain): গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম) এবং ডায়েনকেফালন (থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস) নিয়ে গঠিত।
২. মধ্যমস্তিষ্ক (Midbrain): টেকটাম ও সেরিব্রাল পেডাংকল নিয়ে গঠিত।
৩. পশ্চাৎমস্তিষ্ক (Hindbrain): লঘুমস্তিষ্ক (সেরিবেলাম), পনস (Pons) এবং সুষুম্নাশীর্ষক (Medulla oblongata) নিয়ে গঠিত।
গুরুমস্তিষ্ক (Cerebrum)-এর কাজ:
এটি মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (ডান ও বাম গোলার্ধে বিভক্ত যা করপাস ক্যালোসাম দ্বারা যুক্ত)। এর কাজ:
১. মানসিক গুণাবলি যেমন- চিন্তা, স্মৃতি, বুদ্ধি, চেতনা, বিচারক্ষমতা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা।
২. দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, স্পর্শ ইত্যাদি বিভিন্ন অনুভূতি গ্রহণ করা ও বিশ্লেষণ করা।
৩. ঐচ্ছিক পেশির চলন ও বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করা।
হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus)-এর কাজ:
১. এটি ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা, রাগ, ভয়, ঘর্ম এবং দেহের তাপমাত্রা (Body temperature) নিয়ন্ত্রণ করে।
২. এটি রিলিজিং হরমোন ক্ষরণের মাধ্যমে পিটুইটারি গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই একে 'সুপ্রিম কমান্ডার' বলা হয়।
6. লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum) ও সুষুম্নাশীর্ষক (Medulla oblongata)-এর অবস্থান ও কাজ লেখো। মেনিনজেস ও CSF-এর গুরুত্ব কী?
লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum):
অবস্থান: গুরুমস্তিষ্কের পশ্চাৎভাগে এবং সুষুম্নাশীর্ষকের ওপরে অবস্থিত। এর দুটি গোলার্ধ 'ভারমিস' দ্বারা যুক্ত থাকে।
কাজ: প্রাণীদের গমনের সময় দেহের ভারসাম্য (Body balance) রক্ষা করা এবং ঐচ্ছিক পেশির টান (Muscle tone) নিয়ন্ত্রণ করে চলন সমন্বয় করা।
সুষুম্নাশীর্ষক (Medulla oblongata):
অবস্থান: পনস-এর নীচে এবং সুষুম্নাকাণ্ডের ওপরে অবস্থিত মস্তিষ্কের সবচেয়ে পেছনের অংশ।
কাজ: এটি শ্বাসকেন্দ্র ও হৃৎকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে শ্বাসকার্য ও হৃদ্স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া বমি, লালাক্ষরণ, গলাধঃকরণ প্রভৃতি প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
মেনিনজেস ও CSF-এর গুরুত্ব:
মেনিনজেস (Meninges): এটি মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের ত্রি-স্তরীয় প্রতিরক্ষামূলক আবরণী, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে বাইরের যান্ত্রিক আঘাত ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
CSF (Cerebrospinal Fluid): এটি মস্তিষ্কের নিলয় ও সুষুম্নাকাণ্ডের গহ্বরে থাকা তরল, যা স্নায়ুকোশে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে, বর্জ্য অপসারণ করে এবং মস্তিষ্কের ওপর তরলের গদি (cushion) তৈরি করে ঘর্ষণ ও আঘাত থেকে রক্ষা করে।
7. প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action) কাকে বলে? সহজাত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখো। প্যাভলভের পরীক্ষাটি সংক্ষেপে লেখো।
প্রতিবর্ত ক্রিয়া:
পরিবেশের কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের (প্রধানত সুষুম্নাকাণ্ডের) নির্দেশে স্বতঃস্ফূর্ত, অনৈচ্ছিক ও তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণীদেহে যে সাড়া প্রদানের ঘটনা ঘটে, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
সহজাত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | সহজাত (Innate) প্রতিবর্ত ক্রিয়া | অর্জিত (Acquired) প্রতিবর্ত ক্রিয়া |
|---|
| প্রকৃতি | এগুলি জন্মগত এবং বংশানুক্রমিকভাবে প্রাপ্ত। | এগুলি জন্মগত নয়, অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত। |
| পূর্ব অভিজ্ঞতা | পূর্ব অভিজ্ঞতার কোনো প্রয়োজন হয় না। | বারবার অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। |
| স্থায়িত্ব | এগুলি স্থায়ী প্রকৃতির, সারাজীবন থাকে। | অনুশীলন বন্ধ করলে এগুলি অবলুপ্ত হতে পারে। |
| উদাহরণ | শিশুর স্তনপান, চোখে আলো পড়লে পাতা বন্ধ হওয়া। | সাইকেল চালানো, কথা বলা, কুকুরকে ঘণ্টা বাজিয়ে খাবার দেওয়া। |
প্যাভলভের পরীক্ষা (Pavlov's Experiment):
রুশ বিজ্ঞানী আইভান প্যাভলভ একটি কুকুরকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দিতেন। খাবার দেখলে কুকুরের লালাক্ষরণ হত (এটি সহজাত প্রতিবর্ত)। কিছুদিন পর তিনি খাবার দেওয়ার ঠিক আগে একটি ঘণ্টা বাজাতেন। এভাবে বেশ কিছুদিন করার পর, একদিন তিনি খাবার না দিয়ে শুধু ঘণ্টা বাজালেন। দেখা গেল, শুধু ঘণ্টা ধ্বনি শুনেই কুকুরের লালাক্ষরণ হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, বারবার অনুশীলনের ফলে কুকুরের মধ্যে ঘণ্টা ধ্বনির সাথে লালাক্ষরণের একটি নতুন শর্তসাপেক্ষ বা অর্জিত (Conditioned) প্রতিবর্ত ক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
8. একটি সরল প্রতিবর্ত চাপের (Reflex Arc) বিভিন্ন অংশগুলির নাম ও কাজ প্রবাহচিত্রের (বর্ণনা) মাধ্যমে লেখো।
প্রতিবর্ত চাপ বা রিফ্লেক্স আর্ক:
যে স্নায়ুপথের মাধ্যমে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার স্নায়ুস্পন্দন আবর্তিত হয়, তাকে প্রতিবর্ত চাপ বলে। একটি সরল প্রতিবর্ত চাপের ৫টি প্রধান অংশ থাকে:
- গ্রাহক (Receptor): দেহের ত্বক, পেশি বা জ্ঞানেন্দ্রিয়, যা বাইরের উদ্দীপনা (যেমন- সুঁচ ফোটা বা গরম বস্তু) গ্রহণ করে।
- সংজ্ঞাবহ স্নায়ু (Sensory/Afferent nerve): গ্রাহক থেকে উৎপন্ন উদ্দীপনা বা স্নায়ুস্পন্দনকে বহন করে স্নায়ুকেন্দ্রে (সুষুম্নাকাণ্ডে) নিয়ে যায়।
- স্নায়ুকেন্দ্র (Nerve centre): সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর পদার্থ, যা সংজ্ঞাবহ স্পন্দনকে বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত আজ্ঞামূলক স্পন্দনে (Motor impulse) রূপান্তরিত করে। (এখানে সহযোগী নিউরোন বা Interneuron থাকে)।
- আজ্ঞাবহ স্নায়ু (Motor/Efferent nerve): স্নায়ুকেন্দ্র থেকে উৎপন্ন নির্দেশ বা আজ্ঞাকে বহন করে নির্দিষ্ট কারকে নিয়ে যায়।
- কারক (Effector): দেহের নির্দিষ্ট পেশি বা গ্রন্থি, যা নির্দেশ পেয়ে সংকুচিত বা প্রসারিত হয়ে সাড়া প্রদান করে (যেমন- হাত বা পা সরিয়ে নেওয়া)।
প্রবাহচিত্র: উদ্দীপক → গ্রাহক → সংজ্ঞাবহ স্নায়ু → স্নায়ুকেন্দ্র (সুষুম্নাকাণ্ড) → আজ্ঞাবহ স্নায়ু → কারক → সাড়াপ্রদান।
9. মানবচক্ষুর প্রধান অংশগুলির নাম লেখো এবং রেটিনা, লেন্স, কর্নিয়া ও আইরিসের কাজ বর্ণনা করো।
মানবচক্ষুর প্রধান অংশ:
বাইরের আবরণী (স্ক্লেরা, কর্নিয়া), মধ্যস্তর (কোরয়েড, আইরিস, সিলিয়ারি বডি), ভেতরের স্তর (রেটিনা), এবং প্রতিসারক মাধ্যম (অ্যাকুয়াস হিউমর, লেন্স, ভিট্রিয়াস হিউমর)।
বিভিন্ন অংশের কাজ:
- রেটিনা (Retina): চোখের সবচেয়ে ভেতরের আলোক সংবেদী স্তর। এতে রড কোশ (মৃদু আলোতে দেখতে) ও কোন কোশ (উজ্জ্বল আলো ও বর্ণ চিনতে) থাকে। এর কাজ হল বস্তুর উলটো প্রতিবিম্ব গঠন করা এবং আলোক উদ্দীপনাকে অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠানো।
- লেন্স (Lens): আইরিসের পেছনে অবস্থিত একটি স্বচ্ছ, স্থিতিস্থাপক ও উভোত্তল স্ফটিকাকার অংশ। এর কাজ হল আলোকরশ্মিকে প্রতিসৃত করে রেটিনার ওপর নিখুঁত প্রতিবিম্ব গঠন করা। (উপযোজনে সাহায্য করে)।
- কর্নিয়া (Cornea): চোখের সামনের স্বচ্ছ ও স্ফীত অংশ। এর কাজ হল চোখে আলো প্রবেশ করতে দেওয়া এবং প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে আলোকরশ্মিকে লেন্সের দিকে বাঁকানো।
- আইরিস (Iris) বা কনীনিকা: কর্নিয়ার পেছনের পেশিময়, রঙিন পর্দা। এর মাঝখানে তারারন্ধ্র (Pupil) থাকে। এর কাজ হল তারারন্ধ্রকে ছোটো বা বড়ো করে চোখের ভেতরে আলোর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা (ক্যামেরার ডায়াফ্রামের মতো)।
10. চোখের উপযোজন (Accommodation) বলতে কী বোঝো? মায়োপিয়া, হাইপারমেট্রোপিয়া এবং প্রেসবায়োপিয়া রোগের কারণ ও প্রতিকার আলোচনা করো।
উপযোজন (Accommodation):
চোখের স্থান পরিবর্তন না করে, সিলিয়ারি পেশি ও সাসপেন্সারি লিগামেন্টের সাহায্যে চোখের লেন্সের বক্রতা (তথা ফোকাস দৈর্ঘ্য) পরিবর্তন করে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তুকে রেটিনায় স্পষ্টভাবে দেখার পদ্ধতিকে উপযোজন বলে।
দৃষ্টির ত্রুটি ও প্রতিকার:
- মায়োপিয়া (Myopia) বা হ্রস্বদৃষ্টি:
কারণ: অক্ষিগোলকের ব্যাস স্বাভাবিকের চেয়ে বড়ো হয়ে গেলে বা লেন্সের বক্রতা বৃদ্ধি পেলে বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে গঠিত হয়। ফলে দূরের বস্তু অস্পষ্ট দেখায় কিন্তু কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়।
প্রতিকার: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের অবতল লেন্স (Concave lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে প্রতিবিম্ব ঠিক রেটিনায় গঠিত হয়। - হাইপারমেট্রোপিয়া (Hypermetropia) বা দীর্ঘদৃষ্টি:
কারণ: অক্ষিগোলকের ব্যাস স্বাভাবিকের চেয়ে ছোটো হলে বা লেন্সের বক্রতা কমে গেলে প্রতিবিম্ব রেটিনার পিছনে গঠিত হয়। ফলে কাছের বস্তু অস্পষ্ট দেখায় কিন্তু দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়।
প্রতিকার: উপযুক্ত ফোকাস দৈর্ঘ্যের উত্তল লেন্স (Convex lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে ত্রুটি দূর হয়। - প্রেসবায়োপিয়া (Presbyopia) বা চালশে:
কারণ: ৪০ বছর বয়সের পর চোখের লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে যায় এবং সিলিয়ারি পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে কাছের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখতে অসুবিধা হয়।
প্রতিকার: বাইফোকাল (Bifocal) বা প্রোগ্রেসিভ লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করে এই ত্রুটি দূর করা হয়।
মনে রেখো!
নিউরোন: স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক। (নিজল দানা অ্যাক্সনে থাকে না)।
মস্তিষ্ক: গুরুমস্তিষ্ক (স্মৃতি/চিন্তা), লঘুমস্তিষ্ক (ভারসাম্য), হাইপোথ্যালামাস (তাপমাত্রা/ক্ষুধা)।
দৃষ্টির ত্রুটি: মায়োপিয়া (কাছে স্পষ্ট, দূরে অস্পষ্ট) → অবতল লেন্স। হাইপারমেট্রোপিয়া (দূরে স্পষ্ট, কাছে অস্পষ্ট) → উত্তল লেন্স।
প্রতিবর্ত ক্রিয়া: সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অনৈচ্ছিক তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদান।