সূর্য থেকে আসা তাপের কত শতাংশ ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে?
ক. ৩৫%
খ. ৫১%
গ. ৭৫%
ঘ. ১০০%
✔️ খ. ৫১%
MCQ 8
Albedo কাকে বলে?
ক. ভূপৃষ্ঠের শোষিত তাপ
খ. মহাশূন্যে ফিরে যাওয়া তাপ
গ. বায়ুমণ্ডলের তাপ
ঘ. সমুদ্রের শোষিত তাপ
✔️ খ. মহাশূন্যে ফিরে যাওয়া তাপ
MCQ 9
পার্থিব বিকিরণ কাকে বলে?
ক. সূর্য থেকে আসা তাপ
খ. পৃথিবী থেকে ফিরে যাওয়া তাপ
গ. আগ্নেয়গিরির তাপ
ঘ. চাঁদ থেকে আসা আলো
✔️ খ. পৃথিবী থেকে ফিরে যাওয়া তাপ
MCQ 10
তাপ পরিবহণের কোন পদ্ধতিতে বায়ু গরম হয়ে উপরে ওঠে?
ক. বিকিরণ
খ. পরিবহণ
গ. পরিচলন
ঘ. প্রতিফলন
✔️ গ. পরিচলন
MCQ 11
তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের নাম কী?
ক. ব্যারোমিটার
খ. হাইগ্রোমিটার
গ. থার্মোমিটার
ঘ. অ্যানিমোমিটার
✔️ গ. থার্মোমিটার
MCQ 12
সেলসিয়াস স্কেলে জলের স্ফুটনাঙ্ক কত?
ক. ০°
খ. ৩২°
গ. ১০০°
ঘ. ২১২°
✔️ গ. ১০০°
MCQ 13
ফারেনহাইট স্কেলে জলের হিমাঙ্ক কত?
ক. ০°
খ. ৩২°
গ. ১০০°
ঘ. ২১২°
✔️ খ. ৩২°
MCQ 14
দৈনিক উষ্ণতার প্রসর কাকে বলে?
ক. একদিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য
খ. এক মাসের গড় তাপমাত্রা
গ. এক বছরের গড় তাপমাত্রা
ঘ. সারা জীবনের গড় তাপমাত্রা
✔️ ক. একদিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য
MCQ 15
বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর বলতে কী বোঝায়?
ক. একদিনের তাপমাত্রার পার্থক্য
খ. শীতলতম ও উষ্ণতম মাসের তাপমাত্রার পার্থক্য
গ. সপ্তাহের পার্থক্য
ঘ. দশকের পার্থক্য
✔️ খ. শীতলতম ও উষ্ণতম মাসের তাপমাত্রার পার্থক্য
MCQ 16
বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে?
ক. বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ
খ. নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ
গ. বাতাসের ওজন
ঘ. বাতাসের চাপ
✔️ খ. নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ
MCQ 17
আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কী?
ক. থার্মোমিটার
খ. ব্যারোমিটার
গ. হাইগ্রোমিটার
ঘ. অ্যানিমোমিটার
✔️ গ. হাইগ্রোমিটার
MCQ 18
বায়ুচাপ মাপার যন্ত্রের নাম কী?
ক. হাইগ্রোমিটার
খ. ব্যারোমিটার
গ. থার্মোমিটার
ঘ. রেনগজ
✔️ খ. ব্যারোমিটার
MCQ 19
কোন স্থানে বায়ুচাপ সবচেয়ে বেশি?
ক. পাহাড়ের চূড়ায়
খ. সমুদ্রপৃষ্ঠে
গ. আকাশে
ঘ. মরুভূমিতে
✔️ খ. সমুদ্রপৃষ্ঠে
MCQ 20
বায়ু কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়?
ক. নিম্নচাপ থেকে উচ্চচাপে
খ. উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপে
গ. সবদিকে সমান
ঘ. শুধু উত্তর থেকে
✔️ খ. উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপে
MCQ 21
বায়ুর গতিবেগ মাপার যন্ত্রের নাম কী?
ক. ব্যারোমিটার
খ. অ্যানিমোমিটার
গ. হাইগ্রোমিটার
ঘ. থার্মোমিটার
✔️ খ. অ্যানিমোমিটার
MCQ 22
মেঘাচ্ছন্নতা কাকে বলে?
ক. আকাশে পাখির পরিমাণ
খ. আকাশে মেঘের পরিমাণ
গ. বৃষ্টির পরিমাণ
ঘ. রোদের পরিমাণ
✔️ খ. আকাশে মেঘের পরিমাণ
MCQ 23
মেঘলা রাতে গরম লাগে কেন?
ক. সূর্যের আলোয়
খ. মেঘ পৃথিবীর তাপ আটকে রাখে
গ. বাতাসের চাপ বাড়ে
ঘ. বৃষ্টি হয়
✔️ খ. মেঘ পৃথিবীর তাপ আটকে রাখে
MCQ 24
বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্রের নাম কী?
ক. থার্মোমিটার
খ. ব্যারোমিটার
গ. রেনগজ
ঘ. অ্যানিমোমিটার
✔️ গ. রেনগজ
MCQ 25
ঘনীভবন কাকে বলে?
ক. জল বাষ্পে পরিণত হওয়া
খ. বাষ্প ঠান্ডা হয়ে জলকণায় পরিণত হওয়া
গ. বরফ গলা
ঘ. জল ফোটা
✔️ খ. বাষ্প ঠান্ডা হয়ে জলকণায় পরিণত হওয়া
MCQ 26
পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া অফিস কোথায় অবস্থিত?
ক. শিলিগুড়ি
খ. দার্জিলিং
গ. কলকাতার আলিপুর
ঘ. দুর্গাপুর
✔️ গ. কলকাতার আলিপুর
MCQ 27
আবহাওয়ার পূর্বাভাস কাকে বলে?
ক. পুরনো আবহাওয়ার খবর
খ. ভবিষ্যতের আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা
গ. বর্তমানের খবর
ঘ. গতকালের আবহাওয়া
✔️ খ. ভবিষ্যতের আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা
MCQ 28
সূর্যরশ্মির পতনকোণ কাকে বলে?
ক. সূর্যরশ্মি ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে যে কোণ তৈরি করে
খ. সূর্য ও চাঁদের কোণ
গ. বাতাসের কোণ
ঘ. সমুদ্রের কোণ
✔️ ক. সূর্যরশ্মি ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে যে কোণ তৈরি করে
MCQ 29
সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়লে কী হয়?
ক. কম গরম
খ. বেশি গরম
গ. ঠান্ডা
ঘ. বৃষ্টি
✔️ খ. বেশি গরম
MCQ 30
প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা কত কমে?
ক. ৩.৫° সে.
খ. ৪.৫° সে.
গ. ৬.৫° সে.
ঘ. ১০° সে.
✔️ গ. ৬.৫° সে.
MCQ 31
সমোন্নতা রেখা কাকে বলে?
ক. সমান উচ্চতার রেখা
খ. সমান গড় উষ্ণতাযুক্ত স্থানের যোগকারী রেখা
গ. সমান বৃষ্টির রেখা
ঘ. সমান চাপের রেখা
✔️ খ. সমান গড় উষ্ণতাযুক্ত স্থানের যোগকারী রেখা
MCQ 32
উষ্ণমণ্ডল কোন কোন রেখার মধ্যে অবস্থিত?
ক. সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত
খ. কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি
গ. নিরক্ষরেখা ও মেরু
ঘ. মূলমধ্যরেখা ও তারিখ রেখা
✔️ খ. কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি
MCQ 33
হিমমণ্ডল কোন অঞ্চলে?
ক. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
খ. মেরু বৃত্ত থেকে মেরু পর্যন্ত
গ. ক্রান্তীয় অঞ্চলে
ঘ. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
✔️ খ. মেরু বৃত্ত থেকে মেরু পর্যন্ত
MCQ 34
পৃথিবীকে কয়টি তাপমণ্ডলে ভাগ করা হয়েছে?
ক. ২টি
খ. ৩টি
গ. ৪টি
ঘ. ৫টি
✔️ খ. ৩টি
MCQ 35
কোন গোলার্ধে সমোন্নতা রেখাগুলো বেশি বাঁকানো?
ক. উত্তর গোলার্ধ
খ. দক্ষিণ গোলার্ধ
গ. উভয় গোলার্ধে সমান
ঘ. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
✔️ খ. দক্ষিণ গোলার্ধ
MCQ 36
সমুদ্রের কাছাকাছি স্থানের জলবায়ু কেমন?
ক. চরমভাবাপন্ন
খ. সমভাবাপন্ন
গ. মরুভূমির মতো
ঘ. মেরুর মতো
✔️ খ. সমভাবাপন্ন
MCQ 37
সমুদ্র থেকে দূরের স্থানের জলবায়ু কেমন?
ক. সমভাবাপন্ন
খ. চরমভাবাপন্ন
গ. সবসময় ঠান্ডা
ঘ. সবসময় গরম
✔️ খ. চরমভাবাপন্ন
MCQ 38
দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগ বেশি থাকায় কী হয়?
ক. তাপমাত্রার প্রসর বেশি
খ. তাপমাত্রার প্রসর কম
গ. বৃষ্টি হয় না
ঘ. তাপমাত্রা খুব বাড়ে
✔️ খ. তাপমাত্রার প্রসর কম
MCQ 39
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান কয়টি?
ক. ৩টি
খ. ৪টি
গ. ৫টি
ঘ. ৬টি
✔️ গ. ৫টি
MCQ 40
আলিপুর আবহাওয়া অফিস থেকে কী পাওয়া যায়?
ক. শুধু তাপমাত্রা
খ. আবহাওয়ার পূর্বাভাস
গ. শুধু বৃষ্টির খবর
ঘ. ভূমিকম্পের খবর
✔️ খ. আবহাওয়ার পূর্বাভাস
MCQ 41
শীতকালের সকালে কোন দিকের জানালা বন্ধ রাখতে ইচ্ছে করে?
ক. দক্ষিণ
খ. পূর্ব
গ. উত্তর
ঘ. পশ্চিম
✔️ গ. উত্তর
MCQ 42
তুষারপাত হয় কখন?
ক. তাপমাত্রা ০° সে.-এর উপরে
খ. তাপমাত্রা ০° সে.-এর নীচে
গ. গরমকালে
ঘ. বর্ষাকালে
✔️ খ. তাপমাত্রা ০° সে.-এর নীচে
✏️
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
30 টি
🌤️ আবহাওয়া কাকে বলে?
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুর উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ ও মেঘাচ্ছন্নতার অবস্থাকে আবহাওয়া (Weather) বলে। আবহাওয়া প্রতিদিন বা প্রতি মুহূর্তে বদলাতে পারে।
🌤️ জলবায়ু কাকে বলে?
কোনো অঞ্চলের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু (Climate) বলে। জলবায়ু বছরের পর বছর প্রায় একই রকম থাকে।
🌤️ আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রধান পার্থক্য কী?
আবহাওয়া নির্দিষ্ট সময়ের স্বল্প পরিসরের অস্থায়ী অবস্থা, যা দ্রুত বদলায়। জলবায়ু ৩০-৩৫ বছরের গড়, বিস্তৃত অঞ্চলের স্থায়ী অবস্থা, যা প্রতিদিন বদলায় না।
🌤️ আগত সৌর বিকিরণ (Insolation) কাকে বলে?
সূর্য থেকে যে তাপ ও আলো পৃথিবীতে আসে, তাকে আগত সৌর বিকিরণ বা Insolation (Incoming Solar Radiation) বলে। এর মাত্র ৫১% ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে, বাকিটা প্রতিফলিত বা শোষিত হয়।
🌤️ Albedo কাকে বলে?
সূর্য থেকে আসা তাপের যে অংশ ভূপৃষ্ঠ বা বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়, তাকে Albedo বা প্রতিফলিত সৌর বিকিরণ বলে। এটি মোট তাপের প্রায় ৩৫%।
🌤️ তাপ সঞ্চালনের তিনটি পদ্ধতি কী কী?
তাপ সঞ্চালনের তিনটি পদ্ধতি হলো — (১) বিকিরণ (Radiation): সরাসরি তাপ স্থানান্তর, (২) পরিবহণ (Conduction): পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপ প্রবাহ, (৩) পরিচলন (Convection): গরম বায়ু উপরে ও শীতল বায়ু নীচে নেমে তাপ ছড়ানো।
🌤️ বায়ুমণ্ডল কীভাবে উত্তপ্ত হয়?
বায়ুমণ্ডল সরাসরি সূর্যরশ্মি দ্বারা উত্তপ্ত হয় না। প্রথমে ভূপৃষ্ঠ সূর্যরশ্মি শোষণ করে উত্তপ্ত হয়, তারপর বিকিরণ, পরিবহণ ও পরিচলনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়।
🌤️ দৈনিক উষ্ণতার প্রসর কাকে বলে?
কোনো স্থানের এক দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যকে দৈনিক উষ্ণতার প্রসর (Diurnal Range of Temperature) বলে। মরুভূমিতে এই প্রসর সবচেয়ে বেশি।
🌤️ বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর কাকে বলে?
কোনো স্থানের শীতলতম ও উষ্ণতম মাসের গড় তাপমাত্রার পার্থক্যকে বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর (Annual Range of Temperature) বলে। সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে এটি কম, মহাদেশের অভ্যন্তরে বেশি।
🌤️ বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে? কীভাবে মাপা হয়?
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যে জলীয় বাষ্প থাকে, তাকে বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity) বলে। এটি হাইগ্রোমিটার (Hygrometer) যন্ত্রের সাহায্যে মাপা হয়।
🌤️ বায়ুচাপ কাকে বলে? কী দিয়ে মাপা হয়?
ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর ওজনের ফলে সৃষ্ট চাপকে বায়ুচাপ (Air Pressure) বলে। সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুচাপ সবচেয়ে বেশি। এটি ফোর্টিন ব্যারোমিটার (Barometer) দিয়ে মাপা হয়।
🌤️ উচ্চচাপ ও নিম্নচাপের সঙ্গে আবহাওয়ার সম্পর্ক কী?
উচ্চচাপ অঞ্চলে বায়ু ভারী হয়ে নীচে নামে, আকাশ পরিষ্কার ও আবহাওয়া শান্ত থাকে। নিম্নচাপ অঞ্চলে বায়ু হালকা হয়ে উপরে ওঠে, ঝড়-বৃষ্টি ও অশান্ত আবহাওয়া সৃষ্টি হয়।
🌤️ বায়ুপ্রবাহের কারণ কী? কী দিয়ে মাপা হয়?
বায়ু সব জায়গায় চাপ সমান রাখতে উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। একে বায়ুপ্রবাহ বলে। গতিবেগ মাপা হয় অ্যানিমোমিটার (Anemometer) দিয়ে এবং দিক মাপা হয় বাতপতাকা দিয়ে।
🌤️ মেঘাচ্ছন্নতা কাকে বলে?
আকাশে মেঘের পরিমাণের পরিমাপকে মেঘাচ্ছন্নতা (Cloud Cover) বলে। ০% মানে পরিষ্কার আকাশ, ৫০% আংশিক মেঘলা, ১০০% মানে সম্পূর্ণ মেঘলা আকাশ।
🌤️ মেঘলা রাতে গরম বেশি লাগে কেন?
মেঘলা আকাশ পৃথিবীকে চাদরের মতো ঢেকে রাখে। দিনের বেলা ভূপৃষ্ঠ যে তাপ শোষণ করে, মেঘের কারণে রাতে তা মহাশূন্যে বেরিয়ে যেতে পারে না। ফলে রাতের তাপমাত্রা বেড়ে গরম লাগে।
🌤️ বৃষ্টিপাত কীভাবে হয়?
জলীয় বাষ্প হালকা হয়ে উপরে ওঠে, ঠান্ডা স্তরে ঘনীভূত হয়ে জলকণায় পরিণত হয়। এই জলকণা ধূলিকণাকে আশ্রয় করে মেঘ তৈরি করে। জলকণা বড় ও ভারী হয়ে অভিকর্ষের টানে বৃষ্টিরূপে নেমে আসে। তাপমাত্রা ০° সে.-এর নীচে থাকলে তুষারপাত হয়।
🌤️ আবহাওয়ার পূর্বাভাস কী? এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আবহাওয়া অফিস আবহাওয়ার উপাদান বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের আবহাওয়া সম্পর্কে যে ধারণা দেয়, তাকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস (Weather Forecast) বলে। কৃষি, বিমান চলাচল, নৌপরিবহণ ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🌤️ পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া অফিস কোথায়?
পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া অফিসের সদর দপ্তর কলকাতার আলিপুরে অবস্থিত। এখান থেকে ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার তথ্য সংগৃহীত হয় এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
🌤️ সূর্যরশ্মির পতনকোণ কী?
সূর্য থেকে আসা আলো ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে যে কোণ তৈরি করে, তাকে সূর্যরশ্মির পতনকোণ বলে। পতনকোণ লম্বের কাছাকাছি হলে বেশি গরম এবং তির্যক হলে কম গরম পড়ে।
🌤️ উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাপমাত্রা কমে কেন?
ভূপৃষ্ঠ সূর্যের তাপ শোষণ করে উত্তপ্ত হয় এবং সেই তাপেই বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়। উচ্চতা বাড়লে ভূপৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব বাড়ে, তাই তাপ ক্রমশ কমে যায়। প্রতি ১০০০ মিটারে প্রায় ৬.৫° সে. করে তাপমাত্রা কমে।
🌤️ সমোন্নতা রেখা কাকে বলে?
পৃথিবীর মানচিত্রে সমান গড় উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলোকে যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমোন্নতা রেখা (Isotherm) বলে। এরা কখনো পরস্পরকে ছেদ করে না।
🌤️ সমোন্নতা রেখাগুলো দক্ষিণ গোলার্ধে বেশি সোজা কেন?
দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি (প্রায় ৮১%)। জলভাগ সমানভাবে তাপ শোষণ ও বিকিরণ করে, তাই তাপমাত্রার তারতম্য কম হয়। ফলে সমোন্নতা রেখাগুলো দক্ষিণ গোলার্ধে অপেক্ষাকৃত সোজা হয়।
🌤️ উষ্ণমণ্ডল কাকে বলে?
কর্কটক্রান্তি (২৩.৫° উ:) ও মকরক্রান্তি (২৩.৫° দ:) রেখার মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলকে উষ্ণমণ্ডল (Torrid Zone) বলে। সূর্যরশ্মি সারা বছর লম্বভাবে পড়ায় এখানে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকে।
🌤️ নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল কাকে বলে?
কর্কটক্রান্তি থেকে সুমেরুবৃত্ত (৬৬.৫° উ:) এবং মকরক্রান্তি থেকে কুমেরুবৃত্ত (৬৬.৫° দ:) পর্যন্ত অঞ্চলকে নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল (Temperate Zone) বলে। এখানে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ায় মাঝারি ধরনের তাপমাত্রা বিরাজ করে।
🌤️ হিমমণ্ডল কাকে বলে?
সুমেরুবৃত্ত থেকে উত্তর মেরু এবং কুমেরুবৃত্ত থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত অঞ্চলকে হিমমণ্ডল (Frigid Zone) বলে। সূর্যরশ্মি সারা বছর অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ায় এখানে তাপমাত্রা খুব কম, সারাবছর ঠান্ডা থাকে।
🌤️ কোনো স্থানের জলবায়ু সমভাবাপন্ন না চরমভাবাপন্ন বোঝা যায় কীভাবে?
দৈনিক ও বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর দেখে। প্রসর কম হলে সমভাবাপন্ন (Maritime Climate) ও প্রসর বেশি হলে চরমভাবাপন্ন (Continental Climate) জলবায়ু। সমুদ্রের কাছে সমভাবাপন্ন এবং মহাদেশের অভ্যন্তরে চরমভাবাপন্ন।
🌤️ কৃষকের জীবনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস কীভাবে কাজে লাগে?
কৃষকেরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে চাষের সময়, বীজ বপন, সার প্রয়োগ, সেচ ও ফসল কাটার পরিকল্পনা করেন। ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা পেলে ফসল রক্ষার ব্যবস্থা নিতে পারেন।
🌤️ জেলেদের জীবনে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের গুরুত্ব কী?
নদী বা সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে জেলেরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নেন। ঝড়ের সতর্কতা থাকলে তাঁরা সমুদ্রে যান না, এতে প্রাণহানি ও নৌকা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান।
🌤️ বিমানচালকের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস কেন জরুরি?
বিমানচালক উড্ডয়নের আগে আকাশের অবস্থা, মেঘ, বৃষ্টি, বাতাসের গতি ও দিক জেনে নেন। খারাপ আবহাওয়ায় বিমান দুর্ঘটনা এড়াতে রুট পরিবর্তন বা ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
🌤️ জলের চেয়ে স্থলভাগ তাড়াতাড়ি গরম ও ঠান্ডা হয় কেন?
স্থলভাগ অস্বচ্ছ এবং তাপ পরিবহণ ক্ষমতা কম, তাই তাড়াতাড়ি গরম ও ঠান্ডা হয়। জলভাগ স্বচ্ছ, তাপধারণ ক্ষমতা বেশি, ধীরে গরম ও ধীরে ঠান্ডা হয়। এই কারণে সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলের জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়।
📚
রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)
6 টি
📌 আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য ও সম্পর্ক আলোচনা করো। সারণি তৈরি করো।
পার্থক্য:
আবহাওয়া
জলবায়ু
নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমণ্ডলের অবস্থা
৩০-৩৫ বছরের গড় অবস্থা
প্রতিদিন বা মুহূর্তে বদলায়
প্রতিদিন বদলায় না
স্বল্প পরিসরে পরিবর্তিত
বিস্তৃত অঞ্চলে পরিবর্তিত
উদাহরণ: আজকের আবহাওয়া গরম
উদাহরণ: পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু উষ্ণ-আর্দ্র
সম্পর্ক: কোনো অঞ্চলের দীর্ঘদিনের আবহাওয়ার গড় থেকেই জলবায়ু নির্ধারিত হয়। আবহাওয়া জলবায়ুরই একটি ক্ষণস্থায়ী রূপ।
📌 তাপ সঞ্চালনের পদ্ধতিগুলো ব্যাখ্যা করো। বায়ুমণ্ডল কীভাবে উত্তপ্ত হয়?
তাপ সঞ্চালনের তিনটি পদ্ধতি:
বিকিরণ (Radiation): যে পদ্ধতিতে মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। যেমন — সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসা।
পরিবহণ (Conduction): যে পদ্ধতিতে তাপ কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে সঞ্চালিত হয়। যেমন — গরম চামচের তাপ হাতে আসা।
পরিচলন (Convection): তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ গরম হয়ে হালকা হয়ে উপরে ওঠে এবং ঠান্ডা ভারী পদার্থ নীচে নামে — এর মাধ্যমে তাপ ছড়ায়।
বায়ুমণ্ডলের উত্তপ্ত হওয়া: বায়ুমণ্ডল সরাসরি সূর্যরশ্মি দ্বারা উত্তপ্ত হয় না। প্রথমে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়, তারপর — (ক) বিকিরণে তাপ বাতাসে ছড়ায়, (খ) পরিবহণে ভূপৃষ্ঠের সংলগ্ন বায়ু উত্তপ্ত হয়, (গ) পরিচলনে গরম বায়ু উপরে ওঠে ও ঠান্ডা বায়ু নীচে নেমে সমগ্র বায়ুমণ্ডল ক্রমশ উত্তপ্ত হয়।
📌 পৃথিবীর তাপমণ্ডল বা তাপ অঞ্চল কয়টি ও কী কী? এদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।
পৃথিবীর তিনটি তাপমণ্ডল:
১. উষ্ণমণ্ডল (Torrid Zone):
কর্কটক্রান্তি (২৩.৫° উ:) থেকে মকরক্রান্তি (২৩.৫° দ:) পর্যন্ত বিস্তৃত।
সূর্যরশ্মি সারাবছর লম্বভাবে বা প্রায় লম্বভাবে পড়ে।
পৃথিবীর উষ্ণতম অঞ্চল, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৫°-৩০° সে.।
২. নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল (Temperate Zone):
ক্রান্তিরেখা থেকে মেরুবৃত্ত পর্যন্ত (২৩.৫° থেকে ৬৬.৫° পর্যন্ত)।
সূর্যরশ্মি মাঝারি তির্যকভাবে পড়ে।
তাপমাত্রা মাঝারি ধরনের, না খুব গরম না খুব ঠান্ডা।
৩. হিমমণ্ডল (Frigid Zone):
মেরুবৃত্ত (৬৬.৫°) থেকে মেরু (৯০°) পর্যন্ত।
সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে।
সারাবছর প্রচণ্ড ঠান্ডা, তাপমাত্রা প্রায় সর্বদা হিমাঙ্কের নীচে।
📌 আবহাওয়া ও জলবায়ুর পাঁচটি প্রধান উপাদানের নাম লেখো এবং এদের পরিমাপক যন্ত্রের বর্ণনা দাও।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর ৫টি প্রধান উপাদান:
উপাদান
পরিমাপক যন্ত্র
বায়ুর উষ্ণতা
থার্মোমিটার (সেলসিয়াস/ফারেনহাইট স্কেল)
বায়ুর আর্দ্রতা
হাইগ্রোমিটার
বায়ুচাপ
ফোর্টিন ব্যারোমিটার
বায়ুপ্রবাহ (গতিবেগ)
অ্যানিমোমিটার
বৃষ্টিপাত
রেনগজ
এছাড়া ষষ্ঠ উপাদান হিসেবে মেঘাচ্ছন্নতা চোখে পর্যবেক্ষণ করে ০% থেকে ১০০% পর্যন্ত পরিমাপ করা হয়।
📌 সূর্যরশ্মির পতনকোণ ও উচ্চতা কীভাবে তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে? উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করো।
সূর্যরশ্মির পতনকোণের প্রভাব:
সূর্যরশ্মি ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে যে কোণে পড়ে, তাকে পতনকোণ বলে।
লম্বভাবে পড়লে (৯০° কোণ): রশ্মি কম জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয়, তাই তাপমাত্রা বেশি হয়। যেমন — নিরক্ষীয় অঞ্চল।
তির্যকভাবে পড়লে (কম কোণ): একই পরিমাণ রশ্মি বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে, তাপমাত্রা কম হয়। যেমন — মেরু অঞ্চল।
উচ্চতার প্রভাব:
ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে ওঠা যায়, তাপমাত্রা তত কমে। কারণ — (১) ভূপৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব বাড়ে, (২) বায়ুর ঘনত্ব কমে যাওয়ায় তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে। প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬.৫° সে. করে তাপমাত্রা কমে।
উদাহরণ: দার্জিলিং (২,০৪২ মি.) কলকাতার চেয়ে বেশি ঠান্ডা। ২০০০ মিটারে ১৫° সে. থাকলে ৪০০০ মিটারে হবে (১৫ - ১৩) = ২° সে.।
📌 আমাদের জীবনে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের গুরুত্ব ও ব্যবহার আলোচনা করো।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতের আবহাওয়া কেমন হবে তা জানান। একে আবহাওয়ার পূর্বাভাস (Weather Forecast) বলে।
বিভিন্ন পেশায় গুরুত্ব:
কৃষক: বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে চাষ, বীজ বপন, সেচ ও ফসল কাটার পরিকল্পনা নেন। ঝড়-শিলাবৃষ্টির সতর্কতা পেয়ে ফসল রক্ষা করেন।
জেলে: সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে ঝড়ের সতর্কতা জানতে পারেন, প্রাণহানি রোধ হয়।
বিমানচালক: উড্ডয়নের আগে মেঘ, বৃষ্টি, বাতাসের গতি জেনে নিরাপদ উড্ডয়নের পরিকল্পনা নেন।
নাবিক: জাহাজ চলাচলের সময় ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এড়িয়ে নিরাপদ পথে চলেন।
সাধারণ মানুষ: দৈনন্দিন জীবনে বাইরে বের হওয়ার পরিকল্পনা, ভ্রমণ, উৎসব ইত্যাদি আবহাওয়া জেনে ঠিক করেন।
Sponsored Links
Class 6 Geography Chapter 7: আবহাওয়া ও জলবায়ু
আবহাওয়া ও জলবায়ু অধ্যায়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ধারণা, পার্থক্য, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ, বৃষ্টিপাত, মেঘাচ্ছন্নতা, তাপ সঞ্চালন, তাপমণ্ডল, সমোন্নতা রেখা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
Frequently Asked Questions (আবহাওয়া ও জলবায়ু)
আবহাওয়া নির্দিষ্ট সময়ের স্বল্প পরিসরের অস্থায়ী অবস্থা। জলবায়ু ৩০-৩৫ বছরের গড় অবস্থা, যা দ্রুত বদলায় না।
তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের নাম থার্মোমিটার। সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলে তাপমাত্রা মাপা হয়।
হ্যাঁ, সমস্ত প্রশ্নোত্তর WBBSE-র সর্বশেষ ২০২৬ সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি।