অধ্যায় ৩: তুমি কোথায় আছ প্রশ্ন ও উত্তর

WBBSE Class 6 Geography Chapter 3 - সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, MCQs, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, রচনাধর্মী প্রশ্ন এবং PDF নোট।

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 11 February 2026 Last Update: 02 June 2026
🌐 অধ্যায় ৩

তুমি কোথায় আছ

পৃথিবীর অক্ষ • মেরু • নিরক্ষরেখা • অক্ষরেখা • দ্রাঘিমারেখা • মূলমধ্যরেখা • গোলার্ধ • মহাবৃত্ত

📝

বহুবিকল্পধর্মী প্রশ্ন (MCQ)

41 টি
MCQ 1
পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উপর-নীচে কল্পিত রেখাকে কী বলে?
ক. নিরক্ষরেখা
খ. অক্ষরেখা
গ. পৃথিবীর অক্ষ
ঘ. দ্রাঘিমারেখা
✔️ গ. পৃথিবীর অক্ষ
MCQ 2
পৃথিবীর অক্ষের উত্তর প্রান্তকে কী বলে?
ক. দক্ষিণ মেরু
খ. উত্তর মেরু
গ. নিরক্ষরেখা
ঘ. মূলমধ্যরেখা
✔️ খ. উত্তর মেরু
MCQ 3
পৃথিবীর অক্ষের দক্ষিণ প্রান্তকে কী বলে?
ক. উত্তর মেরু
খ. দক্ষিণ মেরু
গ. কর্কটক্রান্তি
ঘ. মকরক্রান্তি
✔️ খ. দক্ষিণ মেরু
MCQ 4
উত্তর মেরুর অক্ষাংশ কত?
ক. ০°
খ. ৪৫° উ:
গ. ৯০° উ:
ঘ. ৯০° দ:
✔️ গ. ৯০° উ:
MCQ 5
দক্ষিণ মেরুর অক্ষাংশ কত?
ক. ০°
খ. ৪৫° দ:
গ. ৯০° উ:
ঘ. ৯০° দ:
✔️ ঘ. ৯০° দ:
MCQ 6
দুই মেরু থেকে সমান দূরে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত রেখাকে কী বলে?
ক. অক্ষরেখা
খ. দ্রাঘিমারেখা
গ. নিরক্ষরেখা
ঘ. মূলমধ্যরেখা
✔️ গ. নিরক্ষরেখা
MCQ 7
নিরক্ষরেখার ইংরেজি নাম কী?
ক. Axis
খ. Equator
গ. Meridian
ঘ. Orbit
✔️ খ. Equator
MCQ 8
নিরক্ষরেখার মান কত?
ক. ৯০°
খ. ২৩.৫°
গ. ০°
ঘ. ৬৬.৫°
✔️ গ. ০°
MCQ 9
নিরক্ষরেখার অপর নাম কী?
ক. মূলমধ্যরেখা
খ. বিষুবরেখা
গ. কর্কটক্রান্তি
ঘ. মকরক্রান্তি
✔️ খ. বিষুবরেখা
MCQ 10
সবচেয়ে বড় অক্ষরেখা কোনটি?
ক. কর্কটক্রান্তি
খ. মকরক্রান্তি
গ. নিরক্ষরেখা
ঘ. সুমেরুবৃত্ত
✔️ গ. নিরক্ষরেখা
MCQ 11
নিরক্ষরেখার উত্তর অংশকে কী বলে?
ক. পূর্ব গোলার্ধ
খ. পশ্চিম গোলার্ধ
গ. উত্তর গোলার্ধ
ঘ. দক্ষিণ গোলার্ধ
✔️ গ. উত্তর গোলার্ধ
MCQ 12
নিরক্ষরেখার দক্ষিণ অংশকে কী বলে?
ক. উত্তর গোলার্ধ
খ. দক্ষিণ গোলার্ধ
গ. পূর্ব গোলার্ধ
ঘ. পশ্চিম গোলার্ধ
✔️ খ. দক্ষিণ গোলার্ধ
MCQ 13
নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে অঙ্কিত রেখাগুলোকে কী বলে?
ক. দ্রাঘিমারেখা
খ. অক্ষরেখা
গ. মূলমধ্যরেখা
ঘ. কক্ষপথ
✔️ খ. অক্ষরেখা
MCQ 14
অক্ষরেখার ইংরেজি নাম কী?
ক. Meridian
খ. Equator
গ. Parallels of Latitude
ঘ. Longitude
✔️ গ. Parallels of Latitude
MCQ 15
অক্ষরেখাগুলো কোন দিকে বিস্তৃত?
ক. উত্তর-দক্ষিণ
খ. পূর্ব-পশ্চিম
গ. তির্যক
ঘ. ওপর-নীচ
✔️ খ. পূর্ব-পশ্চিম
MCQ 16
অক্ষরেখাগুলোর আকৃতি কেমন?
ক. অর্ধবৃত্ত
খ. সরলরেখা
গ. পূর্ণবৃত্ত
ঘ. উপবৃত্ত
✔️ গ. পূর্ণবৃত্ত
MCQ 17
পৃথিবীতে মোট কতটি অক্ষরেখা আছে?
ক. ১৮০টি
খ. ৩৬০টি
গ. ১৮১টি
ঘ. ১৭৯টি
✔️ গ. ১৮১টি
MCQ 18
কর্কটক্রান্তি রেখার মান কত?
ক. ২৩.৫° উ:
খ. ২৩.৫° দ:
গ. ৬৬.৫° উ:
ঘ. ৬৬.৫° দ:
✔️ ক. ২৩.৫° উ:
MCQ 19
মকরক্রান্তি রেখার মান কত?
ক. ২৩.৫° উ:
খ. ২৩.৫° দ:
গ. ৬৬.৫° উ:
ঘ. ৬৬.৫° দ:
✔️ খ. ২৩.৫° দ:
MCQ 20
সুমেরুবৃত্ত রেখার মান কত?
ক. ২৩.৫° উ:
খ. ২৩.৫° দ:
গ. ৬৬.৫° উ:
ঘ. ৬৬.৫° দ:
✔️ গ. ৬৬.৫° উ:
MCQ 21
কুমেরুবৃত্ত রেখার মান কত?
ক. ২৩.৫° উ:
খ. ২৩.৫° দ:
গ. ৬৬.৫° উ:
ঘ. ৬৬.৫° দ:
✔️ ঘ. ৬৬.৫° দ:
MCQ 22
নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে অক্ষরেখার দৈর্ঘ্যের কী পরিবর্তন হয়?
ক. বাড়তে থাকে
খ. কমতে থাকে
গ. একই থাকে
ঘ. এলোমেলো হয়
✔️ খ. কমতে থাকে
MCQ 23
উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত কল্পিত রেখাকে কী বলে?
ক. অক্ষরেখা
খ. নিরক্ষরেখা
গ. দ্রাঘিমারেখা
ঘ. কর্কটক্রান্তি
✔️ গ. দ্রাঘিমারেখা
MCQ 24
দ্রাঘিমারেখার ইংরেজি নাম কী?
ক. Parallels
খ. Equator
গ. Meridian of Longitude
ঘ. Axis
✔️ গ. Meridian of Longitude
MCQ 25
দ্রাঘিমারেখাগুলো কোন দিকে বিস্তৃত?
ক. পূর্ব-পশ্চিম
খ. উত্তর-দক্ষিণ
গ. তির্যক
ঘ. আনুভূমিক
✔️ খ. উত্তর-দক্ষিণ
MCQ 26
দ্রাঘিমারেখাগুলোর আকৃতি কেমন?
ক. পূর্ণবৃত্ত
খ. অর্ধবৃত্ত
গ. সরলরেখা
ঘ. উপবৃত্ত
✔️ খ. অর্ধবৃত্ত
MCQ 27
পৃথিবীতে মোট কতটি দ্রাঘিমারেখা আছে?
ক. ১৮০টি
খ. ১৮১টি
গ. ৩৬০টি
ঘ. ৩৬১টি
✔️ গ. ৩৬০টি
MCQ 28
সব দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য কেমন?
ক. আলাদা আলাদা
খ. বড়-ছোট
গ. সব একই
ঘ. ক্রমশ বাড়ে
✔️ গ. সব একই
MCQ 29
দ্রাঘিমারেখাগুলো পরস্পরের কেমন?
ক. সমান্তরাল
খ. লম্ব
গ. মিলিত
ঘ. সমদূরবর্তী
✔️ গ. মিলিত
MCQ 30
কত সালে মূলমধ্যরেখা নির্ধারণ করা হয়?
ক. ১৭৮৪
খ. ১৮৮৪
গ. ১৯০০
ঘ. ১৯৪৭
✔️ খ. ১৮৮৪
MCQ 31
মূলমধ্যরেখার মান কত?
ক. ৯০°
খ. ২৩.৫°
গ. ০°
ঘ. ১৮০°
✔️ গ. ০°
MCQ 32
মূলমধ্যরেখা কোন শহরের ওপর দিয়ে গেছে?
ক. প্যারিস
খ. নিউইয়র্ক
গ. লন্ডনের গ্রিনিচ
ঘ. টোকিও
✔️ গ. লন্ডনের গ্রিনিচ
MCQ 33
মূলমধ্যরেখার অপর নাম কী?
ক. নিরক্ষরেখা
খ. প্রাইম মেরিডিয়ান
গ. কর্কটক্রান্তি
ঘ. অক্ষরেখা
✔️ খ. প্রাইম মেরিডিয়ান
MCQ 34
মূলমধ্যরেখার বিপরীতে কত ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা?
ক. ৯০°
খ. ১০০°
গ. ১৮০°
ঘ. ৩৬০°
✔️ গ. ১৮০°
MCQ 35
মূলমধ্যরেখার পূর্ব অংশকে কী বলে?
ক. উত্তর গোলার্ধ
খ. দক্ষিণ গোলার্ধ
গ. পূর্ব গোলার্ধ
ঘ. পশ্চিম গোলার্ধ
✔️ গ. পূর্ব গোলার্ধ
MCQ 36
মূলমধ্যরেখার পশ্চিম অংশকে কী বলে?
ক. পূর্ব গোলার্ধ
খ. পশ্চিম গোলার্ধ
গ. উত্তর গোলার্ধ
ঘ. দক্ষিণ গোলার্ধ
✔️ খ. পশ্চিম গোলার্ধ
MCQ 37
যে বৃত্তরেখা পৃথিবীকে সমান দুই অংশে ভাগ করে তাকে কী বলে?
ক. অক্ষরেখা
খ. ক্ষুদ্রবৃত্ত
গ. মহাবৃত্ত
ঘ. দ্রাঘিমারেখা
✔️ গ. মহাবৃত্ত
MCQ 38
মহাবৃত্তের ইংরেজি নাম কী?
ক. Small Circle
খ. Great Circle
গ. Equator
ঘ. Orbit
✔️ খ. Great Circle
MCQ 39
কোনটি মহাবৃত্ত?
ক. নিরক্ষরেখা
খ. কর্কটক্রান্তি
গ. মকরক্রান্তি
ঘ. সুমেরুবৃত্ত
✔️ ক. নিরক্ষরেখা
MCQ 40
গোলকের গায়ে দুটি বিন্দুর মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্ব কোনটি?
ক. সরলরেখা
খ. বক্ররেখা
গ. মহাবৃত্তের বৃত্তচাপ
ঘ. অক্ষরেখা
✔️ গ. মহাবৃত্তের বৃত্তচাপ
MCQ 41
নাবিকরা ও বিমানচালকরা কোন পথ ব্যবহার করেন?
ক. অক্ষরেখা
খ. দ্রাঘিমারেখা
গ. মহাবৃত্তের পথ
ঘ. কর্কটক্রান্তি
✔️ গ. মহাবৃত্তের পথ
✏️

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)

30 টি
🔹 পৃথিবীর অক্ষ কাকে বলে?
পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উপর থেকে নীচে কল্পিত রেখাকে পৃথিবীর অক্ষ (Earth's Axis) বলে। এর উত্তর প্রান্ত উত্তর মেরু ও দক্ষিণ প্রান্ত দক্ষিণ মেরু।
🔹 উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু কী?
পৃথিবীর অক্ষের উত্তর প্রান্তকে উত্তর মেরু (North Pole) এবং দক্ষিণ প্রান্তকে দক্ষিণ মেরু (South Pole) বলে। উত্তর মেরুর অক্ষাংশ ৯০° উ: ও দক্ষিণ মেরুর অক্ষাংশ ৯০° দ:।
🔹 নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা কাকে বলে?
দুই মেরু থেকে সমান দূরে পৃথিবীর মাঝবরাবর পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত কাল্পনিক বৃত্তরেখাকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা (Equator) বলে। এর মান ০°।
🔹 অক্ষরেখা কাকে বলে?
নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে অঙ্কিত কাল্পনিক বৃত্তরেখাগুলোকে অক্ষরেখা (Parallels of Latitude) বলে। নিরক্ষরেখা সবচেয়ে বড় এবং ক্রমশ মেরুর দিকে ছোট হতে থাকে।
🔹 গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখাগুলোর নাম ও মান লেখো।
গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখাগুলো হলো — নিরক্ষরেখা (০°), কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উ:), মকরক্রান্তি রেখা (২৩.৫° দ:), সুমেরুবৃত্ত রেখা (৬৬.৫° উ:), কুমেরুবৃত্ত রেখা (৬৬.৫° দ:)।
🔹 অক্ষরেখার বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
অক্ষরেখাগুলো (১) পূর্ণবৃত্ত, (২) পরস্পর সমান্তরাল, (৩) পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত, (৪) দৈর্ঘ্যে ছোট-বড়, (৫) নিরক্ষরেখা সবচেয়ে বড়, (৬) মোট সংখ্যা ১৮১টি।
🔹 দ্রাঘিমারেখা কাকে বলে?
উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত কল্পিত অর্ধবৃত্ত রেখাগুলোকে দ্রাঘিমারেখা (Meridian of Longitude) বলে। সবগুলো দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান।
🔹 দ্রাঘিমারেখার বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
দ্রাঘিমারেখাগুলো (১) অর্ধবৃত্ত, (২) পরস্পর সমান্তরাল নয়, (৩) উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত, (৪) দৈর্ঘ্যে সব সমান, (৫) মেরু বিন্দুতে মিলিত হয়, (৬) মোট সংখ্যা ৩৬০টি।
🔹 মূলমধ্যরেখা কাকে বলে?
১৮৮৪ সালে আন্তর্জাতিক সভায় লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে যাওয়া দ্রাঘিমারেখাকে মূলমধ্যরেখা বা প্রাইম মেরিডিয়ান (Prime Meridian) নির্ধারণ করা হয়। এর মান ০°।
🔹 মূলমধ্যরেখার গুরুত্ব কী?
মূলমধ্যরেখা (০°) থেকে পূর্বে ও পশ্চিমে অন্যান্য দ্রাঘিমারেখার মান গণনা করা হয়। এটি পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে ভাগ করে। ১৮০° দ্রাঘিমারেখা এর বিপরীতে অবস্থিত।
🔹 পূর্ব গোলার্ধ ও পশ্চিম গোলার্ধ কাকে বলে?
০° মূলমধ্যরেখা ও ১৮০° দ্রাঘিমারেখা মিলে পৃথিবীকে সমান দুই অংশে ভাগ করে। পূর্বের অংশ পূর্ব গোলার্ধ (Eastern Hemisphere) এবং পশ্চিমের অংশ পশ্চিম গোলার্ধ (Western Hemisphere)।
🔹 উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ গোলার্ধ কাকে বলে?
নিরক্ষরেখা (০° অক্ষরেখা) পৃথিবীকে সমান দুই অংশে ভাগ করে। উত্তর অংশ উত্তর গোলার্ধ (Northern Hemisphere) এবং দক্ষিণ অংশ দক্ষিণ গোলার্ধ (Southern Hemisphere)।
🔹 মহাবৃত্ত কাকে বলে?
যে পূর্ণ বৃত্তরেখা পৃথিবীকে সমান দুই অংশে ভাগ করে তাকে মহাবৃত্ত (Great Circle) বলে। নিরক্ষরেখা একটি মহাবৃত্ত। দুটি বিপরীত দ্রাঘিমারেখা মিলেও মহাবৃত্ত গঠন করে।
🔹 মহাবৃত্তের ব্যবহারিক গুরুত্ব কী?
মহাবৃত্তের বৃত্তচাপ দুটি স্থানের মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্ব নির্দেশ করে। তাই নাবিকরা সমুদ্রযাত্রায় ও বিমানচালকরা আকাশপথে মহাবৃত্তের পথ ব্যবহার করেন।
🔹 অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
(১) অক্ষরেখা পূর্ণবৃত্ত, দ্রাঘিমারেখা অর্ধবৃত্ত। (২) অক্ষরেখা পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত, দ্রাঘিমারেখা উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত। (৩) অক্ষরেখা পরস্পর সমান্তরাল, দ্রাঘিমারেখা পরস্পর মিলিত।
🔹 পৃথিবীতে কোনো জায়গার অবস্থান কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ছেদবিন্দুর মাধ্যমে পৃথিবীতে কোনো জায়গার নির্দিষ্ট অবস্থান নির্ণয় করা হয়। অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ একত্রে কোনো স্থানের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক গঠন করে।
🔹 কর্কটক্রান্তি রেখা কী?
নিরক্ষরেখার ২৩.৫° উত্তরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) বলে। ভারতের মধ্যভাগ দিয়ে এই রেখা বিস্তৃত।
🔹 মকরক্রান্তি রেখা কী?
নিরক্ষরেখার ২৩.৫° দক্ষিণে অবস্থিত অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা (Tropic of Capricorn) বলে। এটি অস্ট্রেলিয়ার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত।
🔹 সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত কী?
উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উ: অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত (Arctic Circle) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ৬৬.৫° দ: অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত (Antarctic Circle) বলে।
🔹 নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে গেলে অক্ষরেখার দৈর্ঘ্য কমে কেন?
পৃথিবী গোলাকার বলে নিরক্ষরেখা সবচেয়ে বড় বৃত্ত। ক্রমশ মেরুর দিকে গেলে পৃথিবীর পরিধি কমতে থাকে, ফলে অক্ষরেখাগুলোর দৈর্ঘ্যও কমতে থাকে। মেরুতে গিয়ে তা বিন্দুতে পরিণত হয়।
🔹 পৃথিবীর কোনো জায়গায় সব দিক দক্ষিণ হবে কেন?
উত্তর মেরুতে দাঁড়ালে সব দিক দক্ষিণ দিকে হবে, কারণ উত্তর মেরু পৃথিবীর সর্বউত্তরের বিন্দু। সেখান থেকে চারদিকে তাকালে সবকিছুই দক্ষিণে পড়ে।
🔹 পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সঙ্গে কত ডিগ্রি কোণ করে থাকে?
পৃথিবী যে পথে সূর্যের চারদিকে ঘোরে তা হলো কক্ষপথ (Orbit)। কক্ষপথ যে তলে আছে তা কক্ষতল (Orbital Plane)। পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬.৫° কোণ করে থাকে।
🔹 নিরক্ষীয় তল কাকে বলে?
নিরক্ষরেখা যে তলে অবস্থিত তাকে নিরক্ষীয় তল (Equatorial Plane) বলে। পৃথিবীর অক্ষ নিরক্ষীয় তলের সঙ্গে ৯০° কোণ করে থাকে।
🔹 পৃথিবীর উপর কোনো স্থানের অবস্থান বোঝার জন্য কী প্রয়োজন?
পৃথিবীর উপর কোনো স্থানের অবস্থান বোঝার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট বিন্দু ও রেখা কল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে নির্ভুলভাবে অবস্থান নির্ণয় করা যায়।
🔹 ভূ-স্থানাঙ্ক কাকে বলে?
কোনো স্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশকে একত্রে ভূ-স্থানাঙ্ক (Geographical Coordinates) বলে। অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে ছেদ করে এই স্থানাঙ্ক গঠন করে।
🔹 আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কী?
১৮০° দ্রাঘিমারেখা বরাবর আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line) কল্পনা করা হয়েছে। এই রেখা অতিক্রম করলে তারিখ পরিবর্তন হয়।
🔹 Graticule বা ভৌগোলিক জালিকা কী?
অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে যে জালিকার মতো নকশা তৈরি করে তাকে Graticule বা ভৌগোলিক জালিকা বলে। এটি মানচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
🔹 গ্লোব কাকে বলে?
পৃথিবীর ছোট আকারের প্রতিরূপকে গ্লোব (Globe) বলে। গ্লোবের ওপর অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা আঁকা থাকে। এটি পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতির ধারণা দেয়।
🔹 ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপীয়রা কী করেছিল?
ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপীয়রা প্রথম কতকগুলো বিন্দু ও দাগ কল্পনা করে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরি করেন। সেই থেকেই অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ধারণা ক্রমশ বিকশিত হয়।
🔹 অক্ষরেখার সংখ্যা ১৮১টি কেন?
নিরক্ষরেখা (০°) থেকে উত্তর মেরু (৯০° উ:) পর্যন্ত ৯০টি ও দক্ষিণ মেরু (৯০° দ:) পর্যন্ত ৯০টি। নিরক্ষরেখাসহ মোট (৯০ + ৯০ + ১) = ১৮১টি অক্ষরেখা।
📚

রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)

6 টি
📌 অক্ষরেখা কাকে বলে? অক্ষরেখার বৈশিষ্ট্যগুলো বিস্তারিত আলোচনা করো।

অক্ষরেখা (Parallels of Latitude):

নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে অঙ্কিত কাল্পনিক বৃত্তরেখাগুলোকে অক্ষরেখা বলে।

বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. আকৃতি: প্রতিটি অক্ষরেখা পূর্ণবৃত্ত।
  2. দিক: এরা পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত।
  3. সমান্তরাল: সব অক্ষরেখা পরস্পর সমান্তরাল।
  4. দৈর্ঘ্য: নিরক্ষরেখা সবচেয়ে বড় (প্রায় ৪০,০৭৫ কিমি)। ক্রমশ মেরুর দিকে দৈর্ঘ্য কমে। মেরুতে বিন্দুতে পরিণত হয়।
  5. সংখ্যা: মোট ১৮১টি (উত্তর গোলার্ধে ৯০টি, দক্ষিণ গোলার্ধে ৯০টি, নিরক্ষরেখা ১টি)।
  6. মান: নিরক্ষরেখা ০° থেকে শুরু করে মেরুতে ৯০° উত্তরে বা দক্ষিণে।
  7. গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা: নিরক্ষরেখা (০°), কর্কটক্রান্তি (২৩.৫° উ:), মকরক্রান্তি (২৩.৫° দ:), সুমেরুবৃত্ত (৬৬.৫° উ:), কুমেরুবৃত্ত (৬৬.৫° দ:)।
📌 দ্রাঘিমারেখা কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

দ্রাঘিমারেখা (Meridian of Longitude):

উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত কল্পিত অর্ধবৃত্ত রেখাকে দ্রাঘিমারেখা বলে।

বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. আকৃতি: প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা অর্ধবৃত্ত।
  2. দিক: এরা উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত।
  3. সমান্তরাল: দ্রাঘিমারেখাগুলো পরস্পর সমান্তরাল নয়, মেরুতে একত্রে মিলিত হয়।
  4. দৈর্ঘ্য: সব দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান (প্রায় ২০,০৩৭ কিমি)।
  5. সংখ্যা: মোট ৩৬০টি।
  6. মান: মূলমধ্যরেখা (০°) থেকে পূর্বে ও পশ্চিমে ১৮০° পর্যন্ত।

গুরুত্ব: দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে পৃথিবীর কোনো স্থানের পূর্ব-পশ্চিম অবস্থান, সময় গণনা ও আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নির্ধারিত হয়।

📌 অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে পার্থক্যগুলো লেখো। সারণি তৈরি করো।
বৈশিষ্ট্যঅক্ষরেখাদ্রাঘিমারেখা
আকৃতিপূর্ণবৃত্তঅর্ধবৃত্ত
বিস্তৃতিপূর্ব-পশ্চিমউত্তর-দক্ষিণ
দৈর্ঘ্যভিন্ন ভিন্নসব সমান
সমান্তরালতাপরস্পর সমান্তরালপরস্পর মিলিত
সংখ্যা১৮১টি৩৬০টি
মান০° থেকে ৯০° উ:/দ:০° থেকে ১৮০° পূ:/প:
📌 মহাবৃত্ত কাকে বলে? মহাবৃত্তের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

মহাবৃত্ত (Great Circle):

যে পূর্ণ বৃত্তরেখা পৃথিবীকে সমান দুই অংশে ভাগ করতে পারে তাকে মহাবৃত্ত বলে।

বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. মহাবৃত্ত পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে যায়।
  2. মহাবৃত্ত পৃথিবীকে সর্বদা দুই সমান গোলার্ধে ভাগ করে।
  3. নিরক্ষরেখাই একমাত্র অক্ষরেখা যা মহাবৃত্ত।
  4. দুটি বিপরীত দ্রাঘিমারেখা মিলে একটি মহাবৃত্ত গঠন করে।

গুরুত্ব:

  1. মহাবৃত্তের যে বৃত্তচাপ দুটি স্থানকে স্পর্শ করে, তাই দুটি স্থানের মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্ব।
  2. নাবিকরা সমুদ্রে ও বিমানচালকরা আকাশে এই মহাবৃত্ত পথেই চলাচল করেন।
  3. পৃথিবীর কেন্দ্রগামী যেকোনো সমতল মহাবৃত্ত সৃষ্টি করে।
📌 মূলমধ্যরেখা কী? এটি কোথায় অবস্থিত এবং এর গুরুত্ব কী?

মূলমধ্যরেখা (Prime Meridian):

১৮৮৪ সালে ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় যে লন্ডনের কাছে গ্রিনিচের রয়্যাল অবজারভেটরির ওপর দিয়ে যে দ্রাঘিমারেখা গেছে, সেটিকে মূলমধ্যরেখা বা প্রাইম মেরিডিয়ান ধরা হবে। এর মান ০°।

অবস্থান: ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরের গ্রিনিচ অঞ্চলের মানমন্দিরের ওপর দিয়ে বিস্তৃত।

গুরুত্ব:

  1. এটি থেকে পূর্বে ও পশ্চিমে দ্রাঘিমার মান গণনা করা হয়।
  2. ০° ও ১৮০° দ্রাঘিমারেখা মিলে পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে ভাগ করে।
  3. বিশ্বের প্রমাণ সময় (GMT) এই মূলমধ্যরেখার স্থানীয় সময়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত।
  4. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা এর ১৮০° বিপরীতে অবস্থিত।
📌 পৃথিবীর গোলাকারত্ব ও ভৌগোলিক জালিকার ধারণা কীভাবে অবস্থান নির্ণয়ে সাহায্য করে?

ভৌগোলিক জালিকা ও অবস্থান নির্ণয়:

পৃথিবী গোলাকার বলে এর ওপর কোনো ধার বা কাণা নেই। তাই অবস্থান বোঝাতে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার জালিকা কল্পনা করা হয়েছে।

প্রক্রিয়া:

  1. অক্ষরেখা: কোনো স্থান নিরক্ষরেখা থেকে কত উত্তরে বা দক্ষিণে তা অক্ষাংশ বলে।
  2. দ্রাঘিমারেখা: কোনো স্থান মূলমধ্যরেখা থেকে কত পূর্বে বা পশ্চিমে তা দ্রাঘিমাংশ বলে।
  3. ছেদবিন্দু: অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা যে বিন্দুতে ছেদ করে, সেটাই নির্দিষ্ট স্থানের ভূ-স্থানাঙ্ক (Geographical Coordinates)।

উদাহরণ: কলকাতার অবস্থান ২২°৩৪' উ: অক্ষাংশ ও ৮৮°২২' পূ: দ্রাঘিমাংশ।

Sponsored Links

Class 6 Geography Chapter 3: তুমি কোথায় আছ

তুমি কোথায় আছ অধ্যায়ে পৃথিবীর অক্ষ, মেরু, নিরক্ষরেখা, অক্ষরেখা, দ্রাঘিমারেখা, মূলমধ্যরেখা (গ্রিনিচ), গোলার্ধের ধারণা ও মহাবৃত্ত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এবং অবস্থান নির্ণয়ের পদ্ধতি শেখানো হয়েছে।

অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা
নিরক্ষরেখা ও মূলমধ্যরেখা
উত্তর-দক্ষিণ গোলার্ধ
মহাবৃত্তের ধারণা

Frequently Asked Questions (তুমি কোথায় আছ)

অক্ষরেখা পূর্ণবৃত্ত, পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত ও পরস্পর সমান্তরাল। দ্রাঘিমারেখা অর্ধবৃত্ত, উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত ও মেরুতে মিলিত হয়।

মূলমধ্যরেখা ইংল্যান্ডের লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে বিস্তৃত। এর মান ০°।

হ্যাঁ, সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর WBBSE-র সর্বশেষ ২০২৬ সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি।