অধ্যায় ১১: আমাদের দেশ ভারত প্রশ্ন ও উত্তর

WBBSE Class 6 Geography Chapter 11 - ভারতের ভূপ্রকৃতি, নদনদী, জলবায়ু, মাটি, স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও কৃষিকাজের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর।

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 11 February 2026 Last Update: 02 June 2026
🇮🇳 অধ্যায় ১১

আমাদের দেশ ভারত

ভারতের অবস্থান • ভূপ্রকৃতি • নদনদী • জলবায়ু • মৃত্তিকা • স্বাভাবিক উদ্ভিদ • বন্যপ্রাণী ও কৃষিকাজ

📝

বহুবিকল্পধর্মী প্রশ্ন (MCQ)

52 টি
MCQ 1
আয়তনে পৃথিবীতে ভারতের স্থান কত?
ক. প্রথম
খ. দ্বিতীয়
গ. পঞ্চম
ঘ. সপ্তম
✔️ ঘ. সপ্তম
MCQ 2
জনসংখ্যার বিচারে পৃথিবীতে ভারতের স্থান কত (২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী)?
ক. প্রথম
খ. দ্বিতীয়
গ. তৃতীয়
ঘ. পঞ্চম
✔️ খ. দ্বিতীয়
MCQ 3
ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম বিন্দু কোনটি?
ক. ইন্দিরা পয়েন্ট
খ. কন্যাকুমারিকা
গ. পোর্ট ব্লেয়ার
ঘ. লাক্ষাদ্বীপ
✔️ খ. কন্যাকুমারিকা
MCQ 4
ভারতের দক্ষিণতম স্থলবিন্দু কোনটি?
ক. কন্যাকুমারিকা
খ. ইন্দিরা পয়েন্ট
গ. কার নিকোবর
ঘ. পকপ্রণালী
✔️ খ. ইন্দিরা পয়েন্ট
MCQ 5
ভারতের মোট অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা কয়টি?
ক. ২৫ টি
খ. ২৭ টি
গ. ২৮ টি
ঘ. ২৯ টি
✔️ গ. ২৮ টি
MCQ 6
ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংখ্যা কয়টি (বই অনুযায়ী)?
ক. ৬ টি
খ. ৭ টি
গ. ৮ টি
ঘ. ৯ টি
✔️ খ. ৭ টি
MCQ 7
ভারতের বৃহত্তম রাজ্য কোনটি?
ক. মধ্যপ্রদেশ
খ. উত্তরপ্রদেশ
গ. রাজস্থান
ঘ. মহারাষ্ট্র
✔️ গ. রাজস্থান
MCQ 8
ভারতের ক্ষুদ্রতম রাজ্য কোনটি?
ক. সিকিম
খ. ত্রিপুরা
গ. গোয়া
ঘ. কেরালা
✔️ গ. গোয়া
MCQ 9
ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য কোনটি?
ক. মহারাষ্ট্র
খ. পশ্চিমবঙ্গ
গ. বিহার
ঘ. উত্তরপ্রদেশ
✔️ ঘ. উত্তরপ্রদেশ
MCQ 10
ভারতের সবথেকে জনবিরল রাজ্য কোনটি?
ক. সিকিম
খ. মিজোরাম
গ. গোয়া
ঘ. অরুণাচল প্রদেশ
✔️ ক. সিকিম
MCQ 11
সংবিধান স্বীকৃত ভারতীয় ভাষার সংখ্যা কয়টি?
ক. ১৫ টি
খ. ১৮ টি
গ. ২২ টি
ঘ. ২৪ টি
✔️ গ. ২২ টি
MCQ 12
ভারতের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
ক. মাউন্ট এভারেস্ট
খ. গডউইন অস্টিন (K2)
গ. কাঞ্চনজঙ্ঘা
ঘ. নন্দাদেবী
✔️ খ. গডউইন অস্টিন (K2)
MCQ 13
ভারতে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
ক. কাঞ্চনজঙ্ঘা
খ. মাকালু
গ. ধবলগিরি
ঘ. অন্নপূর্ণা
✔️ ক. কাঞ্চনজঙ্ঘা
MCQ 14
পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
ক. গডউইন অস্টিন
খ. মাউন্ট এভারেস্ট
গ. কাঞ্চনজঙ্ঘা
ঘ. মাকালু
✔️ খ. মাউন্ট এভারেস্ট
MCQ 15
ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ কোনটি?
ক. জেমু
খ. সিয়াচেন
গ. গঙ্গোত্রী
ঘ. হিসপার
✔️ খ. সিয়াচেন
MCQ 16
হিমালয়ের কোন অংশে সারা বছর বরফ জমে থাকে?
ক. শিবালিক
খ. হিমাচল
গ. হিমাদ্রি
ঘ. জাসকার
✔️ গ. হিমাদ্রি
MCQ 17
শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝের উপত্যকাকে কী বলে?
ক. দুন
খ. তরাই
গ. কয়াল
ঘ. গিরিপথ
✔️ ক. দুন
MCQ 18
ভারতের দীর্ঘতম নদী কোনটি?
ক. ব্রহ্মপুত্র
খ. সিন্ধু
গ. গঙ্গা
ঘ. গোদাবরী
✔️ গ. গঙ্গা
MCQ 19
গঙ্গা নদীর দৈর্ঘ্য কত?
ক. ২৯০০ কিমি
খ. ২৮৮০ কিমি
গ. ২৫০০ কিমি
ঘ. ২৫২৫ কিমি
✔️ গ. ২৫০০ কিমি
MCQ 20
ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতে কী নামে পরিচিত?
ক. যমুনা
খ. পদ্মা
গ. সাংপো
ঘ. মেঘনা
✔️ গ. সাংপো
MCQ 21
গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ তুষারগুহা থেকে উৎপন্ন হওয়ার পর গঙ্গার প্রথম নাম কী ছিল?
ক. ভাগীরথী
খ. অলকানন্দা
গ. হুগলি
ঘ. যমুনা
✔️ ক. ভাগীরথী
MCQ 22
কোন নদীকে 'দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা' বলা হয়?
ক. কৃষ্ণা
খ. কাবেরী
গ. গোদাবরী
ঘ. মহানদী
✔️ গ. গোদাবরী
MCQ 23
ভারতের একটি পশ্চিমবাহিনী নদীর নাম কী?
ক. নর্মদা
খ. গোদাবরী
গ. কৃষ্ণা
ঘ. মহানদী
✔️ ক. নর্মদা
MCQ 24
পৃথিবীর বৃহত্তম নদী-মধ্যবর্তী দ্বীপ কোনটি?
ক. সাগরদ্বীপ
খ. মাজুলি
গ. আন্দামান
ঘ. লাক্ষাদ্বীপ
✔️ খ. মাজুলি
MCQ 25
সিন্ধু নদের উৎপত্তি কোথায়?
ক. গঙ্গোত্রী হিমবাহ
খ. কৈলাস পর্বতের হিমবাহ
গ. চেমায়ুং দং হিমবাহ
ঘ. সিয়াচেন হিমবাহ
✔️ খ. কৈলাস পর্বতের হিমবাহ
MCQ 26
মালাবার উপকূলের উপহ্রদগুলিকে কী বলে?
ক. দুন
খ. কয়াল
গ. রন
ঘ. তরাই
✔️ খ. কয়াল
MCQ 27
লাক্ষাদ্বীপ কী দিয়ে তৈরি?
ক. পলিমাটি
খ. আগ্নেয়গিরি
গ. প্রবাল
ঘ. বালি
✔️ গ. প্রবাল
MCQ 28
ভারতের বৃহত্তম মরুভূমি কোনটি?
ক. সাহারা
খ. গোবি
গ. থর
ঘ. কালাহারি
✔️ গ. থর
MCQ 29
গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে যে উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু বয়, তাকে কী বলে?
ক. আঁধি
খ. লু
গ. কালবৈশাখী
ঘ. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা
✔️ খ. লু
MCQ 30
গ্রীষ্মকালে বিকেলবেলায় পশ্চিমবঙ্গে যে কালচে মেঘের ঝড়বৃষ্টি হয়, তাকে কী বলে?
ক. লু
খ. আঁধি
গ. কালবৈশাখী
ঘ. আশ্বিনের ঝড়
✔️ গ. কালবৈশাখী
MCQ 31
পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান কোনটি?
ক. চেরাপুঞ্জি
খ. মৌসিনরাম
গ. শিলং
ঘ. দার্জিলিং
✔️ খ. মৌসিনরাম
MCQ 32
বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয় ভারতের কোন উপকূলে?
ক. করমণ্ডল উপকূলে
খ. মালাবার উপকূলে
গ. কোঙ্কন উপকূলে
ঘ. উত্তর সরকার উপকূলে
✔️ ক. করমণ্ডল উপকূলে
MCQ 33
শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে যে হালকা বৃষ্টি হয়, তাকে কী বলে?
ক. কালবৈশাখী
খ. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা
গ. লু
ঘ. আঁধি
✔️ খ. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা
MCQ 34
নবীন পলিমাটিকে কী বলা হয়?
ক. ভাঙর
খ. খাদার
গ. রেগুর
ঘ. ল্যাটেরাইট
✔️ খ. খাদার
MCQ 35
প্রাচীন পলিমাটিকে কী বলা হয়?
ক. খাদার
খ. ভাঙর
গ. রেগুর
ঘ. পডসল
✔️ খ. ভাঙর
MCQ 36
তুলা চাষ সবচেয়ে ভালো হয় কোন মাটিতে?
ক. পলি মাটি
খ. লাল মাটি
গ. কালো মাটি
ঘ. মরু মাটি
✔️ গ. কালো মাটি
MCQ 37
লোহা থাকায় কোন মাটির রং লাল হয়?
ক. কালো মাটি
খ. পলি মাটি
গ. লাল মাটি ও ল্যাটেরাইট
ঘ. পার্বত্য মাটি
✔️ গ. লাল মাটি ও ল্যাটেরাইট
MCQ 38
চা ও কফি চাষের জন্য উপযুক্ত মাটি কোনটি?
ক. মরু অঞ্চলের মাটি
খ. কালো মাটি
গ. পার্বত্য অঞ্চলের মাটি
ঘ. পলি মাটি
✔️ গ. পার্বত্য অঞ্চলের মাটি
MCQ 39
কোন উদ্ভিদের মূল মাটির ওপর শ্বাস নেওয়ার জন্য বেরিয়ে থাকে?
ক. পর্ণমোচী
খ. চিরসবুজ
গ. ম্যানগ্রোভ
ঘ. কাঁটাঝোপ
✔️ গ. ম্যানগ্রোভ
MCQ 40
পাইন, ফার, স্প্রুস — এগুলো কী ধরনের উদ্ভিদ?
ক. চিরসবুজ
খ. পার্বত্য অঞ্চলের উদ্ভিদ
গ. ম্যানগ্রোভ
ঘ. মরু উদ্ভিদ
✔️ খ. পার্বত্য অঞ্চলের উদ্ভিদ
MCQ 41
'সুন্দরবন' অঞ্চলে কোন গাছ বেশি দেখা যায়?
ক. শাল
খ. সেগুন
গ. সুন্দরী
ঘ. মেহগনি
✔️ গ. সুন্দরী
MCQ 42
ভারতের প্রথম বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কবে চালু হয়?
ক. ১৯৭০ সালে
খ. ১৯৭১ সালে
গ. ১৯৭২ সালে
ঘ. ১৯৭৩ সালে
✔️ গ. ১৯৭২ সালে
MCQ 43
কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান কোন প্রাণীর জন্য বিখ্যাত?
ক. বাঘ
খ. সিংহ
গ. একশৃঙ্গ গন্ডার
ঘ. হাতি
✔️ গ. একশৃঙ্গ গন্ডার
MCQ 44
একশৃঙ্গ গন্ডার পশ্চিমবঙ্গের কোথায় দেখা যায়?
ক. সুন্দরবন
খ. জলদাপাড়া
গ. বেথুয়াডহরি
ঘ. বক্সা
✔️ খ. জলদাপাড়া
MCQ 45
গির অরণ্য কোন রাজ্যে অবস্থিত?
ক. রাজস্থান
খ. মধ্যপ্রদেশ
গ. গুজরাট
ঘ. মহারাষ্ট্র
✔️ গ. গুজরাট
MCQ 46
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার কোথায় দেখা যায়?
ক. গির অরণ্য
খ. সুন্দরবন
গ. করবেট ন্যাশনাল পার্ক
ঘ. জলদাপাড়া
✔️ খ. সুন্দরবন
MCQ 47
সর্পগন্ধা গাছের মূল থেকে কী তৈরি হয় যা উচ্চ রক্তচাপ কমায়?
ক. কুইনাইন
খ. রেসারপিন
গ. পেনিসিলিন
ঘ. ডাটুরিন
✔️ খ. রেসারপিন
MCQ 48
ম্যালেরিয়ার ওষুধ কুইনাইন কোন গাছ থেকে পাওয়া যায়?
ক. সর্পগন্ধা
খ. সিঙ্কোনা
গ. তুলসী
ঘ. নিম
✔️ খ. সিঙ্কোনা
MCQ 49
ভারতের বৃহত্তম আদিবাসী গোষ্ঠী কোনটি (বই অনুযায়ী)?
ক. গন্ড
খ. ভিল
গ. সাঁওতাল
ঘ. টোডা
✔️ ক. গন্ড
MCQ 50
গারো উপজাতি ভারতের কোন রাজ্যে বাস করে?
ক. পশ্চিমবঙ্গ
খ. মেঘালয়
গ. অরুণাচল প্রদেশ
ঘ. হিমাচল প্রদেশ
✔️ খ. মেঘালয়
MCQ 51
পাহাড়ি ঢালু জমিতে ধাপ কেটে যে চাষ হয় তাকে কী বলে?
ক. ঝুম চাষ
খ. ধাপ চাষ
গ. মিশ্র কৃষিকাজ
ঘ. স্থানান্তর কৃষিকাজ
✔️ খ. ধাপ চাষ
MCQ 52
উচ্চ ফলনশীল বীজ, সার, জলসেচ ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষিজ উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যাওয়াকে কী বলে?
ক. সাদা বিপ্লব
খ. নীল বিপ্লব
গ. সবুজ বিপ্লব
ঘ. হলুদ বিপ্লব
✔️ গ. সবুজ বিপ্লব
✏️

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)

42 টি
🔹 ভারত কোন্ গোলার্ধে অবস্থিত?
ভারত নিরক্ষরেখার উত্তরে অর্থাৎ উত্তর গোলার্ধে এবং মূলমধ্যরেখার পূর্বে অর্থাৎ পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত।
🔹 ভারতের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশগত অবস্থান লেখো।
ভারতের মূল ভূখণ্ড দক্ষিণে ৮°৪' উত্তর অক্ষরেখা থেকে উত্তরে ৩৭°৬' উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং পশ্চিমে ৬৮°৭' পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে পূর্বে ৯৭°২৫' পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত।
🔹 ভারতের চারদিকের সীমানা উল্লেখ করো।
ভারতের উত্তর-পশ্চিমে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান; উত্তরে চিন, নেপাল ও ভুটান; পূর্বে মায়ানমার, বাংলাদেশ ও বঙ্গোপসাগর; পশ্চিমে আরব সাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর ও শ্রীলঙ্কা অবস্থিত।
🔹 উপদ্বীপ কাকে বলে? ভারতের একটি উপদ্বীপের নাম লেখো।
তিনদিকে জলভাগ দ্বারা বেষ্টিত স্থলভাগকে উপদ্বীপ বলে। দক্ষিণ ভারতের ত্রিভুজাকৃতি অংশটি একটি উপদ্বীপ, একে ভারতীয় উপদ্বীপ বলা হয়।
🔹 উপসাগর কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে উপসাগর বলে। যেমন— বঙ্গোপসাগর বা খাম্বাট উপসাগর।
🔹 ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির নাম লেখো।
ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলি হলো— বাংলাদেশ, চিন, পাকিস্তান, নেপাল, মায়ানমার, ভুটান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপ।
🔹 ভারতের কয়েকটি বিশ্ব-সাংস্কৃতিক এবং প্রাকৃতিক ঐতিহ্য স্থানের নাম লেখো।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্থান: খাজুরাহো, অজন্তা-ইলোরার গুহা, কোণারক, দিল্লির হুমায়ুনের সমাধি, আগ্রার তাজমহল। প্রাকৃতিক ঐতিহ্য স্থান: সুন্দরবন জাতীয় বনাঞ্চল, নন্দাদেবী শৃঙ্গ, কাজিরাঙা অভয়ারণ্য।
🔹 ভারতের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধান কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
ভূ-প্রকৃতির বৈচিত্র্য অনুসারে ভারতকে ৫টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়: ১. উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল, ২. উত্তরের নদীগঠিত সমভূমি অঞ্চল, ৩. উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল, ৪. পশ্চিমের মরু অঞ্চল, ৫. উপকূলের সমভূমি অঞ্চল ও দ্বীপপুঞ্জ।
🔹 হিমালয় পর্বতমালাকে উত্তর থেকে দক্ষিণে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? কী কী?
হিমালয় পর্বতমালাকে উত্তর থেকে দক্ষিণে ৩টি সমান্তরাল ভাগে ভাগ করা যায়— একেবারে উত্তরে হিমাদ্রি, তার দক্ষিণে হিমাচল এবং একেবারে দক্ষিণে শিবালিক।
🔹 দুন কী? উদাহরণ দাও।
শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝের সংকীর্ণ উপত্যকাকে 'দুন' বলে। যেমন— দেরাদুন।
🔹 তরাই অঞ্চল কী?
শিবালিক হিমালয়ের পাদদেশের ঘন অরণ্যাবৃত ও স্যাঁতস্যাঁতে অঞ্চলকে 'তরাই' বলা হয়।
🔹 গঙ্গা নদীর উৎস কোথায়? এর দৈর্ঘ্য কত?
গঙ্গা নদী গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ তুষারগুহা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ২৫০০ কিমি, এটি ভারতের দীর্ঘতম নদী।
🔹 গঙ্গা নদীর প্রধান কয়েকটি উপনদীর নাম লেখো।
গঙ্গা নদীর কয়েকটি প্রধান উপনদী হলো— যমুনা, শোন, গোমতী, গণ্ডক, কোশী ইত্যাদি।
🔹 ব্রহ্মপুত্র নদ কোথা থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং এটি তিব্বতে কী নামে পরিচিত?
ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতের মানস সরোবরের কাছে চেমায়ুং দং হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে। তিব্বতে এটি 'সাংপো' নামে পরিচিত।
🔹 মাজুলি দ্বীপ কী?
ব্রহ্মপুত্র নদের মাজুলি দ্বীপ হলো পৃথিবীর বৃহত্তম নদী-মধ্যবর্তী দ্বীপ, যা অসমে অবস্থিত।
🔹 ভারতের কয়েকটি পশ্চিমবাহিনী নদীর নাম লেখো। এরা কোথায় পতিত হয়েছে?
ভারতের পশ্চিমবাহিনী নদী হলো নর্মদা ও তাপি (বা তাপতী)। এরা খাম্বাট উপসাগর হয়ে আরব সাগরে পতিত হয়েছে।
🔹 কয়াল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
মালাবার উপকূলের উপহ্রদগুলিকে 'কয়াল' বলে। উপহ্রদ হলো স্থলভাগ দ্বারা আবদ্ধ, লবণাক্ত হ্রদ যা একদিক সমুদ্রে উন্মুক্ত। যেমন- ভেম্বানাদ কয়াল।
🔹 প্রবাল দ্বীপ কীভাবে সৃষ্টি হয়? ভারতের একটি প্রবাল দ্বীপের নাম লেখো।
প্রবাল হলো একধরনের ছোটো সামুদ্রিক কীট। কোটি কোটি প্রবাল কীটের দেহাংশ সমুদ্রে জমে প্রবাল দ্বীপ তৈরি হয়। ভারতের লাক্ষাদ্বীপ একটি প্রবাল দ্বীপের উদাহরণ।
🔹 লু ও আঁধি কী?
গ্রীষ্মকালে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে দিনের বেলায় যে অতি শুষ্ক ও উষ্ণ বায়ু বয় তাকে 'লু' বলে। পশ্চিম ভারতে তখন এই তাপপ্রবাহের সাথে প্রচণ্ড ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয়, তাকে 'আঁধি' বলে।
🔹 কালবৈশাখী কী?
গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মাঝে মাঝে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে প্রচণ্ড বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি হয়, একে 'কালবৈশাখী' বলে।
🔹 মৌসুমি বায়ু বলতে কী বোঝো?
মৌসুমি (Monsoon) শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ 'মৌসিম' থেকে যার অর্থ 'ঋতু'। যে বায়ু ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে বয়, তাকে মৌসুমি বায়ু বলে। এর প্রভাবেই ভারতে বৃষ্টিপাত হয়।
🔹 পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কী?
শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে (যেমন পাঞ্জাব, কাশ্মীর) মাঝে মাঝে ২-৪ দিন একটানা মেঘলা আকাশ থাকে ও ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয় বা তুষারপাত হয়। একে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বা Western Disturbance বলে।
🔹 করমণ্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয় কেন?
করমণ্ডল উপকূলে বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে একবার বৃষ্টি হয়, আবার শরৎ-শীতকালে প্রত্যাবর্তকারী উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে এখানে এসে দ্বিতীয়বার বৃষ্টিপাত ঘটায়।
🔹 খাদার ও ভাঙর কী?
ভারতের সমভূমি অঞ্চলে নদীর তীরবর্তী নবীন ও উর্বর পলিমাটিকে 'খাদার' বলে এবং নদীর দূরবর্তী প্রাচীন ও অপেক্ষাকৃত অনুর্বর পলিমাটিকে 'ভাঙর' বলে।
🔹 কালো বা রেগুর মাটির বৈশিষ্ট্য কী? এই মাটিতে কী কী চাষ হয়?
কালো মাটির জলধারণ ক্ষমতা খুব বেশি এবং এটি খুবই উর্বর। এই মাটি তুলা, আঁখ এবং চিনাবাদাম চাষের জন্য আদর্শ।
🔹 ল্যাটেরাইট মাটির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
১) লোহা অক্সাইডের উপস্থিতির জন্য এই মাটির রং ইটের মতো গাঢ় লাল হয়। ২) এই মাটি অনুর্বর, তবে সার দিয়ে চিনাবাদাম, জোয়ার, বাজরা, রাগি চাষ করা যায়।
🔹 মাটি সংরক্ষণের দুটি প্রধান উপায় লেখো।
১) পাহাড়ি ঢালু জমিতে ধাপ কেটে চাষ করা উচিত। ২) নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং বেশি সংখ্যায় গাছ লাগাতে হবে।
🔹 স্বাভাবিক উদ্ভিদ কাকে বলে?
মানুষের চেষ্টা ছাড়াই, শুধুমাত্র প্রকৃতির উপর নির্ভর করে (জলবায়ু ও মাটির প্রভাবে) আপনা-আপনি যে গাছপালা জন্মায় ও বেড়ে ওঠে, তাকে স্বাভাবিক উদ্ভিদ বলে।
🔹 ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য কোথায় দেখা যায়? এখানকার দুটি গাছের নাম লেখো।
যেখানে ২০০ সেমির বেশি বৃষ্টিপাত হয় সেখানে দেখা যায়; যেমন- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল। এখানকার গাছ হলো মেহগনি, রবার, রোজউড।
🔹 পর্ণমোচী উদ্ভিদের পাতা ঝরে যায় কেন?
শুষ্ক ঋতুতে (শীত ও প্রাক্-গ্রীষ্মকালে) যাতে গাছের জল বাষ্পমোচনের মাধ্যমে বেশি বেরিয়ে না যায়, তাই জলের অপচয় রোধ করতে পর্ণমোচী উদ্ভিদ তাদের সব পাতা একসঙ্গে ঝরিয়ে দেয়।
🔹 ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু অরণ্যের উদ্ভিদের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
১) শ্বাস নেওয়ার জন্য এদের মূল মাটির ওপরে বেরিয়ে থাকে (শ্বাসমূল)। ২) নরম কাদামাটিতে গাছকে শক্তভাবে দাঁড় করিয়ে রাখতে ঠেসমূল থাকে।
🔹 ভেষজ উদ্ভিদ কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
যেসব উদ্ভিদের মূল, পাতা, ছাল বা ফল থেকে নানা রকম রোগ নিরাময়ের ওষুধ তৈরি হয়, তাদের ভেষজ উদ্ভিদ বলে। যেমন— তুলসী, সিঙ্কোনা, সর্পগন্ধা।
🔹 পরিযায়ী পাখি কাদের বলা হয়?
শীতকালে শীতপ্রধান দেশ থেকে বাঁচার জন্য কিছু পাখি উড়ে আমাদের দেশে চলে আসে। আবার গরম পড়লে তারা নিজেদের দেশে ফিরে যায়। এদের পরিযায়ী পাখি বলে। যেমন— বুনো হাঁস।
🔹 সংরক্ষিত অরণ্য ও সুরক্ষিত অরণ্যের মধ্যে পার্থক্য কী?
সংরক্ষিত অরণ্যে (Reserved Forest) শিকার, পশুপালন বা গাছ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু সুরক্ষিত অরণ্যে (Protected Forest) অরণ্যের ওপর নির্ভরশীল মানুষদের কিছু শর্তে শিকার বা বনজ সম্পদ সংগ্রহের অধিকার দেওয়া হয়।
🔹 জাতীয় উদ্যান (National Park) কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
যেখানে বন্যপ্রাণীর সাথে সাথে স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার দিকেও কড়া নজর দেওয়া হয় এবং যা কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাকে জাতীয় উদ্যান বলে। যেমন— অসমের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান।
🔹 অভয়ারণ্য কী? উদাহরণ দাও।
যেখানে লুপ্তপ্রায় প্রজাতির সুরক্ষা ও উন্নয়নের দিকে বিশেষ লক্ষ রাখা হয় এবং বন্যপ্রাণীরা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে পারে, তাকে অভয়ারণ্য বলে। যেমন— পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া অভয়ারণ্য।
🔹 সবুজ বিপ্লব কী?
ষাট দশকের শেষে ভারতে কৃষিকাজে উচ্চ ফলনশীল বীজ, সার, জলসেচ ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে কৃষিজ উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়, এই ঘটনাকে 'সবুজ বিপ্লব' বলা হয়।
🔹 মিলেট কী? কোথায় এদের চাষ হয়?
জোয়ার, বাজরা এবং রাগি — এই তিনটি ফসলকে একসঙ্গে মিলেট (Millet) বলে। শুষ্ক ও কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে, যেমন রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্রে এর চাষ বেশি হয়।
🔹 আদিবাসী বা উপজাতি কাদের বলে?
বিশেষ সামাজিক গোষ্ঠী, যারা প্রাচীনকাল থেকে শিকার, পশুপালন, ফলমূল সংগ্রহ করে জীবনযাপন করে আসছে এবং যাদের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল, তাদের আদিবাসী বা উপজাতি বলে।
🔹 গন্ড ও সাঁওতাল উপজাতিরা কোথায় বাস করে?
গন্ড উপজাতি মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও অন্ধ্রপ্রদেশে বাস করে। সাঁওতাল উপজাতি পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা রাজ্যে বাস করে।
🔹 ঝুম চাষ কী?
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আদিবাসী মানুষ বন কেটে ও পুড়িয়ে আলু, সবজির চাষ করে। কয়েক বছর পর মাটির উর্বরতা কমে গেলে তারা অন্য জায়গায় গিয়ে একই পদ্ধতিতে চাষ করে, একে ঝুম চাষ বলে।
🔹 ধাপ চাষ বলতে কী বোঝো?
পাহাড়ি অঞ্চলে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করার জন্য এবং জল ধরে রাখার জন্য পাহাড়ের ঢালু জমিতে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে যে চাষ করা হয়, তাকে ধাপ চাষ বলে।
📚

রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)

10 টি
📌 ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য অনুসারে ভারতকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী? উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।

ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগ: ভূ-প্রকৃতির বৈচিত্র্য অনুসারে ভারতকে ৫টি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা যায়। এগুলি হলো— ১) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল, ২) উত্তরের নদীগঠিত সমভূমি অঞ্চল, ৩) উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল, ৪) পশ্চিমের মরু অঞ্চল, ৫) উপকূলের সমভূমি অঞ্চল ও দ্বীপপুঞ্জ।

উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল:

  • অবস্থান: এটি ভারতের একেবারে উত্তরে উত্তর-পশ্চিমে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত ধনুকের আকারে অবস্থান করছে।
  • প্রধান পর্বতশ্রেণি: হিমালয় ও কারাকোরাম এখানকার প্রধান পর্বতশ্রেণি। কারাকোরাম পর্বতের 'গডউইন অস্টিন' (K2) ভারতের উচ্চতম শৃঙ্গ।
  • হিমালয় পর্বতমালা: হিমালয়কে উত্তর থেকে দক্ষিণে তিনটি সমান্তরাল ভাগে ভাগ করা যায়— হিমাদ্রি (সারা বছর বরফাবৃত, সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা এখানেই অবস্থিত), হিমাচল (এখানে কাশ্মীর উপত্যকা ও দার্জিলিং, সিমলার মতো শৈলশহর অবস্থিত) এবং শিবালিক (সবচেয়ে দক্ষিণের নিচু অংশ, পাদদেশকে তরাই বলে)।
  • হিমবাহ ও গিরিপথ: এখানে সিয়াচেন, জেমু প্রভৃতি হিমবাহ এবং বানিহাল, জোজিলা, নাথুলা প্রভৃতি গিরিপথ রয়েছে। এখানকার জীবনযাত্রা কষ্টকর হলেও পর্যটনের জন্য খুব বিখ্যাত।
📌 হিমালয় পর্বতমালাকে উত্তর থেকে দক্ষিণে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? প্রতিটি ভাগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

হিমালয় পর্বতমালাকে উত্তর থেকে দক্ষিণে তিনটি সমান্তরাল ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. হিমাদ্রি হিমালয়: এটি হিমালয়ের একেবারে উত্তরের অংশ। এর গড় উচ্চতা ৬০০০ মিটারের বেশি। উচ্চতা বেশি হওয়ায় এখানকার পর্বতশৃঙ্গগুলোতে সারা বছর বরফ জমে থাকে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮ মি) এবং ভারতে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮,৫৯৮ মি) এই অংশেই অবস্থিত।
  2. হিমাচল হিমালয়: হিমাদ্রির ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত অংশ হলো হিমাচল। এর গড় উচ্চতা ৩০০০ মিটারের বেশি। পিরপাঞ্জাল, ধওলাধর প্রভৃতি পর্বতশ্রেণি এখানে দেখা যায়। দার্জিলিং, মুসৌরি, মানালি, সিমলার মতো বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলো এই অংশে অবস্থিত। হিমাদ্রি ও পিরপাঞ্জালের মাঝে রয়েছে কাশ্মীর উপত্যকা।
  3. শিবালিক হিমালয়: হিমাচলের দক্ষিণে অবস্থিত হিমালয়ের সবচেয়ে নিচু অংশ। এর গড় উচ্চতা ১৫০০ মিটারের কম। শিবালিক ও হিমাচলের মাঝের উপত্যকাকে 'দুন' (যেমন- দেরাদুন) বলে। শিবালিকের পাদদেশের ঘন অরণ্যময় স্যাঁতস্যাঁতে অঞ্চলকে 'তরাই' বলে।
📌 ভারতের উত্তরের নদীগঠিত সমভূমি অঞ্চল এবং উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের বর্ণনা দাও।

উত্তরের নদীগঠিত সমভূমি অঞ্চল:

  • উত্তরে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল এবং দক্ষিণে উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের মাঝখানে এই বিশাল সমভূমি অবস্থিত।
  • পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও অসম রাজ্যের মধ্যে এটি বিস্তৃত।
  • সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী এবং তাদের উপনদীগুলো হিমালয় থেকে পলি বয়ে এনে এই উর্বর সমভূমি সৃষ্টি করেছে।
  • উর্বর মাটি ও সমতল ভূমি হওয়ায় এখানে কৃষিকাজ খুব ভালো হয় এবং যাতায়াত ব্যবস্থাও উন্নত, তাই এটি ভারতের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল।

উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল:

  • উত্তরের সমভূমির দক্ষিণে অবস্থিত এই অঞ্চলটি ত্রিভুজের মতো দেখতে। এর তিনদিক পাহাড় দিয়ে ঘেরা।
  • উত্তরে আরাবল্লী, বিন্ধ্য, সাতপুরা পাহাড়; পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং পূর্বে পূর্বঘাট পর্বতমালা অবস্থিত।
  • এই মালভূমির গড় উচ্চতা ৬০০-৯০০ মিটার। পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ভূমির উচ্চতা ক্রমশ কমে গেছে।
  • এখানকার প্রধান নদীগুলি হলো মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী, যেগুলি বঙ্গোপসাগরে পড়েছে এবং নর্মদা ও তাপি, যেগুলি আরব সাগরে পড়েছে।
📌 গঙ্গা নদীর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত গতিপথ বিস্তারিত আলোচনা করো।

গঙ্গা ভারতের দীর্ঘতম ও প্রধান নদী। এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫০০ কিমি। গঙ্গা নদীর গতিপথ নীচে বর্ণনা করা হলো:

  1. উৎস: গঙ্গা নদী উত্তরাখণ্ডের হিমালয় পর্বতের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ তুষারগুহা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। উৎপত্তিস্থলে এর নাম 'ভাগীরথী'।
  2. মধ্যগতি: এরপর নদীটি সমভূমিতে নেমে আসে এবং উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদের কাছে প্রধান উপনদী 'যমুনা' গঙ্গার সাথে মিলিত হয়েছে। এছাড়া শোন, গোমতী, গণ্ডক, কোশী প্রভৃতি উপনদীগুলি গঙ্গায় এসে মিশেছে। হরিদ্বার, কানপুর, এলাহাবাদ, বারাণসী, পাটনা গঙ্গার তীরে অবস্থিত প্রধান শহর।
  3. নিম্নগতি: নদীটি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ানের কাছে দুটি শাখায় ভাগ হয়েছে। প্রধান শাখাটি 'পদ্মা' নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং অপর শাখাটি 'ভাগীরথী-হুগলি' নামে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
  4. মোহনা: অবশেষে পদ্মা ও যমুনার মিলিত প্রবাহ (মেঘনা নামে) এবং ভাগীরথী-হুগলি নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। মোহনার কাছে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী মিলে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সমভূমি (সুন্দরবন) তৈরি করেছে।
📌 ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।

মৌসুমি বায়ু (Monsoon) ভারতের জলবায়ুকে সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ভারতকে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয়। এর প্রভাবগুলি হলো:

  1. বৃষ্টিপাত ঘটানো: ভারতের কৃষিকাজ এবং অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণভাবে মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। গ্রীষ্মের শেষে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে এসে ভারতে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়।
  2. ঋতু বৈচিত্র্য: মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই ভারতের ঋতুগুলি (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত) আবর্তিত হয়।
  3. বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টন: মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনার জন্য ভারতের সব জায়গায় সমান বৃষ্টি হয় না। মেঘালয়ের মৌসিনরামে যেমন পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টি হয়, তেমনি রাজস্থানের থর মরুভূমিতে প্রায় বৃষ্টিই হয় না।
  4. বন্যা ও খরা: কোনো বছর মৌসুমি বায়ু আগে এলে বা অতিবৃষ্টি হলে অসম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারে প্রবল বন্যা দেখা দেয়। আবার বৃষ্টিপাত কম হলে দাক্ষিণাত্যের মালভূমি, রাজস্থান বা গুজরাটে খরা সৃষ্টি হয়।
  5. সংস্কৃতি ও উৎসব: মৌসুমি বৃষ্টির সাথে সাথে কৃষিকাজ শুরু হয়, তাই একে কেন্দ্র করে ভারতে নবান্ন, ওনাম, বিহু-এর মতো নানা কৃষিভিত্তিক উৎসব পালিত হয়।
📌 মাটি কীভাবে সৃষ্টি হয়? ভারতের মাটির শ্রেণিবিভাগ করে যে কোনো তিন প্রকার মাটির বিবরণ দাও।

মাটি সৃষ্টি: জলবায়ু, আদি শিলা, জৈব পদার্থ, ভূ-প্রকৃতি এবং সময়ের ওপর নির্ভর করে মাটি তৈরি হয়। বহু বছর ধরে শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে এবং তার সাথে উদ্ভিদ ও প্রাণীর পচা দেহাংশ (হিউমাস) মিশে মাটির সৃষ্টি হয়।

শ্রেণিবিভাগ: ভারতের মাটিকে প্রধানত ৬ ভাগে ভাগ করা যায়— ১. পলি মাটি, ২. কালো মাটি, ৩. লাল মাটি, ৪. ল্যাটেরাইট মাটি, ৫. মরু অঞ্চলের মাটি এবং ৬. পার্বত্য অঞ্চলের মাটি।

যেকোনো তিনটি মাটির বিবরণ:

  1. পলি মাটি: নদীর বয়ে আনা পলি সঞ্চিত হয়ে এই মাটি তৈরি হয়। এই মাটি খুব উর্বর। ধান, গম, পাট প্রভৃতি প্রায় সব ফসল এই মাটিতে ভালো হয়। উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
  2. কালো মাটি: ব্যাসল্ট শিলা থেকে এই মাটির সৃষ্টি। জলধারণ ক্ষমতা খুব বেশি। তুলো এবং চিনাবাদাম চাষের জন্য এটি আদর্শ। মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে এই মাটি প্রচুর দেখা যায়।
  3. ল্যাটেরাইট মাটি: অতিরিক্ত উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে যেখানে বর্ষা ও শুষ্ক ঋতু পর্যায়ক্রমে আসে, সেখানে এই মাটি সৃষ্টি হয়। লোহা থাকায় রং ইটের মতো লাল। এটি অনুর্বর, তবে সার দিয়ে চিনাবাদাম, মিলেট চাষ করা যায়। ছোটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে এটি দেখা যায়।
📌 মাটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী? মাটি সংরক্ষণের উপায়গুলি আলোচনা করো।

প্রয়োজনীয়তা: মাটি প্রকৃতির অমূল্য দান। উদ্ভিদের জন্মানো, কৃষিকাজ, বাড়িঘর নির্মাণ থেকে শুরু করে জীবকুলের বেঁচে থাকা মাটির ওপরই নির্ভরশীল। অতিরিক্ত বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ বা মানুষের অবৈজ্ঞানিক কার্যকলাপের ফলে মাটির ওপরের উর্বর স্তর ক্ষয়ে যায়, যাকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে। মৃত্তিকা ক্ষয় হলে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে। তাই মাটি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

মাটি সংরক্ষণের উপায়:

  1. বৃক্ষরোপণ: গাছের শেকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে। তাই নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে নতুন গাছ লাগাতে হবে।
  2. ধাপ চাষ: পাহাড়ি অঞ্চলে ঢালু জমিতে জলের তোড়ে মাটি ধুয়ে যায়। তাই পাহাড়ের ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে চাষ করলে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করা যায়।
  3. পশুপালন নিয়ন্ত্রণ: নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ন্ত্রিতভাবে পশুপালনের ব্যবস্থা করতে হবে, কারণ অতিরিক্ত পশুচারণে ঘাস বা ছোট গাছ নষ্ট হয়ে মাটি আলগা হয়ে যায়।
  4. অবৈজ্ঞানিক কাজ বন্ধ করা: অবৈজ্ঞানিকভাবে খনিজ সম্পদ উত্তোলন, পাহাড়ের ঢালে রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং ঝুম চাষের মতো ক্ষতিকারক কৃষিপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
📌 ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য এবং ম্যানগ্রোভ অরণ্যের বৈশিষ্ট্য লেখো।

ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদকে প্রধানত ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়— ১. ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য, ২. ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য, ৩. কাঁটাঝোপ ও গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, ৪. উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং ৫. পার্বত্য নাতিশীতোষ্ণ অরণ্য।

ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য (Tropical Evergreen Forest):

  • বৈশিষ্ট্য: যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমির বেশি, সেখানে এই অরণ্য দেখা যায়। প্রচুর জল পাওয়ার কারণে সারা বছর গাছের পাতা সবুজ থাকে (কখনোই সব পাতা একসঙ্গে ঝরে না)। গাছগুলো খুব লম্বা হয় এবং কাঠ খুব শক্ত ও ভারী হয়।
  • উদ্ভিদ: মেহগনি, রবার, রোজউড, আবলুস।
  • বণ্টন: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে।

উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু অরণ্য (Mangrove Forest):

  • বৈশিষ্ট্য: সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে এরা জন্মায়। জোয়ারের জলে মাটি ডুবে থাকায় শ্বাস নেওয়ার জন্য মাটির ওপর এদের 'শ্বাসমূল' দেখা যায়। নরম কাদামাটিতে গাছকে শক্তভাবে ধরে রাখার জন্য 'ঠেসমূল' থাকে।
  • উদ্ভিদ: সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, হেতাল।
  • বণ্টন: পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন এবং উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও গুজরাটের উপকূল অঞ্চলে।
📌 অরণ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী? অরণ্য সংরক্ষণের উপায়গুলি আলোচনা করো।

অরণ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা: অরণ্য আমাদের অক্সিজেন জোগায়, বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান প্রদান করে এবং কাঠ, মধু, মোম ও ভেষজ ওষুধের মতো মূল্যবান সম্পদ দেয়। তাই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অরণ্য সংরক্ষণ অপরিহার্য।

অরণ্য সংরক্ষণের উপায়:

  1. বৃক্ষচ্ছেদন রোধ: আইন করে নির্বিচারে বনভূমি বা গাছ কাটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।
  2. বনসৃজন: পতিত জমি, নদীর ধার, রাস্তার পাশে বা পাহাড়ের ঢালে প্রচুর পরিমাণে নতুন গাছ লাগিয়ে অরণ্য সৃষ্টি করতে হবে (Afforestation)।
  3. পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: বনাঞ্চলে অবাধ পশুচারণ নিষিদ্ধ করতে হবে যাতে ছোট চারাগাছগুলো নষ্ট না হয়।
  4. চোরাশিকার ও কাঠপাচার রোধ: চোরাকারবারীদের রুখতে বনবিভাগকে কড়া নজরদারি চালাতে হবে।
  5. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের মধ্যে অরণ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং তাদের বন সংরক্ষণে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে।
  6. দাবানল প্রতিরোধ: গ্রীষ্মকালে বনে যাতে আগুন (দাবানল) না লাগে তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
📌 ভারতের কৃষিকাজে জলসেচের প্রয়োজনীয়তা কী? ভারতের প্রধান ফসল ধান চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

জলসেচের প্রয়োজনীয়তা: ভারতের কৃষিকাজ মূলত মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মৌসুমি বৃষ্টিপাত অনিয়মিত ও অনিশ্চিত। কোনো বছর বৃষ্টি কম হলে খরা দেখা দেয়, আবার শীত বা প্রাক্-গ্রীষ্মকালে প্রায় বৃষ্টি হয় না। তাই সারা বছর ধরে সফলভাবে কৃষিকাজ করতে এবং খরা থেকে ফসল বাঁচাতে নদী, খাল, পুকুর বা মাটির তলার জল তুলে কৃত্রিমভাবে জমিতে জল দেওয়ার (জলসেচ) একান্ত প্রয়োজন।

ধান চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ:

  • উষ্ণতা: ধান ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মণ্ডলের ফসল। ধান চাষের জন্য গড়ে ২২° থেকে ৩২° সেলসিয়াস উষ্ণতা প্রয়োজন।
  • বৃষ্টিপাত: ধান চাষে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। গড়ে ১৫০ থেকে ৩০০ সেমি বৃষ্টিপাত ধান চাষের পক্ষে আদর্শ। চারাগাছ বড় হওয়ার সময় জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকা দরকার।
  • মাটি: নদীর তীরবর্তী উর্বর পলিমাটি এবং এঁটেল বা দোআঁশ মাটি ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
  • উৎপাদক রাজ্য: পশ্চিমবঙ্গ, অসম, বিহার, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা প্রভৃতি রাজ্যে প্রচুর ধান চাষ হয়।
Sponsored Links

Class 6 Geography Chapter 11: আমাদের দেশ ভারত

আমাদের দেশ ভারত অধ্যায়ে ভারতের বিস্তৃতি, প্রতিবেশী রাষ্ট্র, হিমালয় ও অন্যান্য ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগ, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সহ প্রধান নদনদী, মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব, বিভিন্ন মৃত্তিকা ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ, কৃষিকাজ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানকার সমস্ত প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সিলেবাস মেনে প্রস্তুত করা হয়েছে।

Frequently Asked Questions (আমাদের দেশ ভারত)

ভারতের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ হলো কারাকোরাম পর্বতের গডউইন অস্টিন (K2)। তবে ভারতে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো কাঞ্চনজঙ্ঘা।

ভারতের দীর্ঘতম নদী হলো গঙ্গা। এর দৈর্ঘ্য ২৫০০ কিলোমিটার। এটি গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।

উচ্চ ফলনশীল বীজ, সার, জলসেচ ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষিজ উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যাওয়াকে সবুজ বিপ্লব বলা হয়।

হ্যাঁ, এই সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও নোটসগুলি WBBSE-র সর্বশেষ পাঠ্যক্রম এবং ২০২৬ সালের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।