আমাদের দেশ ভারত
ভারতের অবস্থান • ভূপ্রকৃতি • নদনদী • জলবায়ু • মৃত্তিকা • স্বাভাবিক উদ্ভিদ • বন্যপ্রাণী ও কৃষিকাজ
বহুবিকল্পধর্মী প্রশ্ন (MCQ)
52 টিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
42 টিরচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)
10 টিভারতের ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগ: ভূ-প্রকৃতির বৈচিত্র্য অনুসারে ভারতকে ৫টি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা যায়। এগুলি হলো— ১) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল, ২) উত্তরের নদীগঠিত সমভূমি অঞ্চল, ৩) উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল, ৪) পশ্চিমের মরু অঞ্চল, ৫) উপকূলের সমভূমি অঞ্চল ও দ্বীপপুঞ্জ।
উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল:
- অবস্থান: এটি ভারতের একেবারে উত্তরে উত্তর-পশ্চিমে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত ধনুকের আকারে অবস্থান করছে।
- প্রধান পর্বতশ্রেণি: হিমালয় ও কারাকোরাম এখানকার প্রধান পর্বতশ্রেণি। কারাকোরাম পর্বতের 'গডউইন অস্টিন' (K2) ভারতের উচ্চতম শৃঙ্গ।
- হিমালয় পর্বতমালা: হিমালয়কে উত্তর থেকে দক্ষিণে তিনটি সমান্তরাল ভাগে ভাগ করা যায়— হিমাদ্রি (সারা বছর বরফাবৃত, সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা এখানেই অবস্থিত), হিমাচল (এখানে কাশ্মীর উপত্যকা ও দার্জিলিং, সিমলার মতো শৈলশহর অবস্থিত) এবং শিবালিক (সবচেয়ে দক্ষিণের নিচু অংশ, পাদদেশকে তরাই বলে)।
- হিমবাহ ও গিরিপথ: এখানে সিয়াচেন, জেমু প্রভৃতি হিমবাহ এবং বানিহাল, জোজিলা, নাথুলা প্রভৃতি গিরিপথ রয়েছে। এখানকার জীবনযাত্রা কষ্টকর হলেও পর্যটনের জন্য খুব বিখ্যাত।
হিমালয় পর্বতমালাকে উত্তর থেকে দক্ষিণে তিনটি সমান্তরাল ভাগে ভাগ করা যায়:
- হিমাদ্রি হিমালয়: এটি হিমালয়ের একেবারে উত্তরের অংশ। এর গড় উচ্চতা ৬০০০ মিটারের বেশি। উচ্চতা বেশি হওয়ায় এখানকার পর্বতশৃঙ্গগুলোতে সারা বছর বরফ জমে থাকে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮ মি) এবং ভারতে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা (৮,৫৯৮ মি) এই অংশেই অবস্থিত।
- হিমাচল হিমালয়: হিমাদ্রির ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত অংশ হলো হিমাচল। এর গড় উচ্চতা ৩০০০ মিটারের বেশি। পিরপাঞ্জাল, ধওলাধর প্রভৃতি পর্বতশ্রেণি এখানে দেখা যায়। দার্জিলিং, মুসৌরি, মানালি, সিমলার মতো বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলো এই অংশে অবস্থিত। হিমাদ্রি ও পিরপাঞ্জালের মাঝে রয়েছে কাশ্মীর উপত্যকা।
- শিবালিক হিমালয়: হিমাচলের দক্ষিণে অবস্থিত হিমালয়ের সবচেয়ে নিচু অংশ। এর গড় উচ্চতা ১৫০০ মিটারের কম। শিবালিক ও হিমাচলের মাঝের উপত্যকাকে 'দুন' (যেমন- দেরাদুন) বলে। শিবালিকের পাদদেশের ঘন অরণ্যময় স্যাঁতস্যাঁতে অঞ্চলকে 'তরাই' বলে।
উত্তরের নদীগঠিত সমভূমি অঞ্চল:
- উত্তরে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল এবং দক্ষিণে উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের মাঝখানে এই বিশাল সমভূমি অবস্থিত।
- পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও অসম রাজ্যের মধ্যে এটি বিস্তৃত।
- সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী এবং তাদের উপনদীগুলো হিমালয় থেকে পলি বয়ে এনে এই উর্বর সমভূমি সৃষ্টি করেছে।
- উর্বর মাটি ও সমতল ভূমি হওয়ায় এখানে কৃষিকাজ খুব ভালো হয় এবং যাতায়াত ব্যবস্থাও উন্নত, তাই এটি ভারতের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল।
উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল:
- উত্তরের সমভূমির দক্ষিণে অবস্থিত এই অঞ্চলটি ত্রিভুজের মতো দেখতে। এর তিনদিক পাহাড় দিয়ে ঘেরা।
- উত্তরে আরাবল্লী, বিন্ধ্য, সাতপুরা পাহাড়; পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং পূর্বে পূর্বঘাট পর্বতমালা অবস্থিত।
- এই মালভূমির গড় উচ্চতা ৬০০-৯০০ মিটার। পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ভূমির উচ্চতা ক্রমশ কমে গেছে।
- এখানকার প্রধান নদীগুলি হলো মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরী, যেগুলি বঙ্গোপসাগরে পড়েছে এবং নর্মদা ও তাপি, যেগুলি আরব সাগরে পড়েছে।
গঙ্গা ভারতের দীর্ঘতম ও প্রধান নদী। এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫০০ কিমি। গঙ্গা নদীর গতিপথ নীচে বর্ণনা করা হলো:
- উৎস: গঙ্গা নদী উত্তরাখণ্ডের হিমালয় পর্বতের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ তুষারগুহা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। উৎপত্তিস্থলে এর নাম 'ভাগীরথী'।
- মধ্যগতি: এরপর নদীটি সমভূমিতে নেমে আসে এবং উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদের কাছে প্রধান উপনদী 'যমুনা' গঙ্গার সাথে মিলিত হয়েছে। এছাড়া শোন, গোমতী, গণ্ডক, কোশী প্রভৃতি উপনদীগুলি গঙ্গায় এসে মিশেছে। হরিদ্বার, কানপুর, এলাহাবাদ, বারাণসী, পাটনা গঙ্গার তীরে অবস্থিত প্রধান শহর।
- নিম্নগতি: নদীটি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ানের কাছে দুটি শাখায় ভাগ হয়েছে। প্রধান শাখাটি 'পদ্মা' নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং অপর শাখাটি 'ভাগীরথী-হুগলি' নামে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- মোহনা: অবশেষে পদ্মা ও যমুনার মিলিত প্রবাহ (মেঘনা নামে) এবং ভাগীরথী-হুগলি নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। মোহনার কাছে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী মিলে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সমভূমি (সুন্দরবন) তৈরি করেছে।
মৌসুমি বায়ু (Monsoon) ভারতের জলবায়ুকে সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ভারতকে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয়। এর প্রভাবগুলি হলো:
- বৃষ্টিপাত ঘটানো: ভারতের কৃষিকাজ এবং অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণভাবে মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। গ্রীষ্মের শেষে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে এসে ভারতে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- ঋতু বৈচিত্র্য: মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই ভারতের ঋতুগুলি (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত) আবর্তিত হয়।
- বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টন: মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনার জন্য ভারতের সব জায়গায় সমান বৃষ্টি হয় না। মেঘালয়ের মৌসিনরামে যেমন পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টি হয়, তেমনি রাজস্থানের থর মরুভূমিতে প্রায় বৃষ্টিই হয় না।
- বন্যা ও খরা: কোনো বছর মৌসুমি বায়ু আগে এলে বা অতিবৃষ্টি হলে অসম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারে প্রবল বন্যা দেখা দেয়। আবার বৃষ্টিপাত কম হলে দাক্ষিণাত্যের মালভূমি, রাজস্থান বা গুজরাটে খরা সৃষ্টি হয়।
- সংস্কৃতি ও উৎসব: মৌসুমি বৃষ্টির সাথে সাথে কৃষিকাজ শুরু হয়, তাই একে কেন্দ্র করে ভারতে নবান্ন, ওনাম, বিহু-এর মতো নানা কৃষিভিত্তিক উৎসব পালিত হয়।
মাটি সৃষ্টি: জলবায়ু, আদি শিলা, জৈব পদার্থ, ভূ-প্রকৃতি এবং সময়ের ওপর নির্ভর করে মাটি তৈরি হয়। বহু বছর ধরে শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে এবং তার সাথে উদ্ভিদ ও প্রাণীর পচা দেহাংশ (হিউমাস) মিশে মাটির সৃষ্টি হয়।
শ্রেণিবিভাগ: ভারতের মাটিকে প্রধানত ৬ ভাগে ভাগ করা যায়— ১. পলি মাটি, ২. কালো মাটি, ৩. লাল মাটি, ৪. ল্যাটেরাইট মাটি, ৫. মরু অঞ্চলের মাটি এবং ৬. পার্বত্য অঞ্চলের মাটি।
যেকোনো তিনটি মাটির বিবরণ:
- পলি মাটি: নদীর বয়ে আনা পলি সঞ্চিত হয়ে এই মাটি তৈরি হয়। এই মাটি খুব উর্বর। ধান, গম, পাট প্রভৃতি প্রায় সব ফসল এই মাটিতে ভালো হয়। উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
- কালো মাটি: ব্যাসল্ট শিলা থেকে এই মাটির সৃষ্টি। জলধারণ ক্ষমতা খুব বেশি। তুলো এবং চিনাবাদাম চাষের জন্য এটি আদর্শ। মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে এই মাটি প্রচুর দেখা যায়।
- ল্যাটেরাইট মাটি: অতিরিক্ত উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে যেখানে বর্ষা ও শুষ্ক ঋতু পর্যায়ক্রমে আসে, সেখানে এই মাটি সৃষ্টি হয়। লোহা থাকায় রং ইটের মতো লাল। এটি অনুর্বর, তবে সার দিয়ে চিনাবাদাম, মিলেট চাষ করা যায়। ছোটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে এটি দেখা যায়।
প্রয়োজনীয়তা: মাটি প্রকৃতির অমূল্য দান। উদ্ভিদের জন্মানো, কৃষিকাজ, বাড়িঘর নির্মাণ থেকে শুরু করে জীবকুলের বেঁচে থাকা মাটির ওপরই নির্ভরশীল। অতিরিক্ত বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ বা মানুষের অবৈজ্ঞানিক কার্যকলাপের ফলে মাটির ওপরের উর্বর স্তর ক্ষয়ে যায়, যাকে মৃত্তিকা ক্ষয় বলে। মৃত্তিকা ক্ষয় হলে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে। তাই মাটি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
মাটি সংরক্ষণের উপায়:
- বৃক্ষরোপণ: গাছের শেকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে। তাই নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে নতুন গাছ লাগাতে হবে।
- ধাপ চাষ: পাহাড়ি অঞ্চলে ঢালু জমিতে জলের তোড়ে মাটি ধুয়ে যায়। তাই পাহাড়ের ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে চাষ করলে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করা যায়।
- পশুপালন নিয়ন্ত্রণ: নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ন্ত্রিতভাবে পশুপালনের ব্যবস্থা করতে হবে, কারণ অতিরিক্ত পশুচারণে ঘাস বা ছোট গাছ নষ্ট হয়ে মাটি আলগা হয়ে যায়।
- অবৈজ্ঞানিক কাজ বন্ধ করা: অবৈজ্ঞানিকভাবে খনিজ সম্পদ উত্তোলন, পাহাড়ের ঢালে রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং ঝুম চাষের মতো ক্ষতিকারক কৃষিপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদকে প্রধানত ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়— ১. ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য, ২. ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য, ৩. কাঁটাঝোপ ও গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, ৪. উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং ৫. পার্বত্য নাতিশীতোষ্ণ অরণ্য।
ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য (Tropical Evergreen Forest):
- বৈশিষ্ট্য: যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমির বেশি, সেখানে এই অরণ্য দেখা যায়। প্রচুর জল পাওয়ার কারণে সারা বছর গাছের পাতা সবুজ থাকে (কখনোই সব পাতা একসঙ্গে ঝরে না)। গাছগুলো খুব লম্বা হয় এবং কাঠ খুব শক্ত ও ভারী হয়।
- উদ্ভিদ: মেহগনি, রবার, রোজউড, আবলুস।
- বণ্টন: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢাল এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে।
উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু অরণ্য (Mangrove Forest):
- বৈশিষ্ট্য: সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে এরা জন্মায়। জোয়ারের জলে মাটি ডুবে থাকায় শ্বাস নেওয়ার জন্য মাটির ওপর এদের 'শ্বাসমূল' দেখা যায়। নরম কাদামাটিতে গাছকে শক্তভাবে ধরে রাখার জন্য 'ঠেসমূল' থাকে।
- উদ্ভিদ: সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, হেতাল।
- বণ্টন: পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন এবং উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও গুজরাটের উপকূল অঞ্চলে।
অরণ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা: অরণ্য আমাদের অক্সিজেন জোগায়, বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে, বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান প্রদান করে এবং কাঠ, মধু, মোম ও ভেষজ ওষুধের মতো মূল্যবান সম্পদ দেয়। তাই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অরণ্য সংরক্ষণ অপরিহার্য।
অরণ্য সংরক্ষণের উপায়:
- বৃক্ষচ্ছেদন রোধ: আইন করে নির্বিচারে বনভূমি বা গাছ কাটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।
- বনসৃজন: পতিত জমি, নদীর ধার, রাস্তার পাশে বা পাহাড়ের ঢালে প্রচুর পরিমাণে নতুন গাছ লাগিয়ে অরণ্য সৃষ্টি করতে হবে (Afforestation)।
- পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: বনাঞ্চলে অবাধ পশুচারণ নিষিদ্ধ করতে হবে যাতে ছোট চারাগাছগুলো নষ্ট না হয়।
- চোরাশিকার ও কাঠপাচার রোধ: চোরাকারবারীদের রুখতে বনবিভাগকে কড়া নজরদারি চালাতে হবে।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের মধ্যে অরণ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং তাদের বন সংরক্ষণে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে।
- দাবানল প্রতিরোধ: গ্রীষ্মকালে বনে যাতে আগুন (দাবানল) না লাগে তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
জলসেচের প্রয়োজনীয়তা: ভারতের কৃষিকাজ মূলত মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মৌসুমি বৃষ্টিপাত অনিয়মিত ও অনিশ্চিত। কোনো বছর বৃষ্টি কম হলে খরা দেখা দেয়, আবার শীত বা প্রাক্-গ্রীষ্মকালে প্রায় বৃষ্টি হয় না। তাই সারা বছর ধরে সফলভাবে কৃষিকাজ করতে এবং খরা থেকে ফসল বাঁচাতে নদী, খাল, পুকুর বা মাটির তলার জল তুলে কৃত্রিমভাবে জমিতে জল দেওয়ার (জলসেচ) একান্ত প্রয়োজন।
ধান চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ:
- উষ্ণতা: ধান ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মণ্ডলের ফসল। ধান চাষের জন্য গড়ে ২২° থেকে ৩২° সেলসিয়াস উষ্ণতা প্রয়োজন।
- বৃষ্টিপাত: ধান চাষে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। গড়ে ১৫০ থেকে ৩০০ সেমি বৃষ্টিপাত ধান চাষের পক্ষে আদর্শ। চারাগাছ বড় হওয়ার সময় জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকা দরকার।
- মাটি: নদীর তীরবর্তী উর্বর পলিমাটি এবং এঁটেল বা দোআঁশ মাটি ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- উৎপাদক রাজ্য: পশ্চিমবঙ্গ, অসম, বিহার, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা প্রভৃতি রাজ্যে প্রচুর ধান চাষ হয়।