বায়ুমণ্ডলের ৯৭ ভাগ বাতাস ভূপৃষ্ঠ থেকে কত কিমির মধ্যে অবস্থিত?
ক. ১০ কিমি
খ. ২৭ কিমি
গ. ৫০ কিমি
ঘ. ৮০ কিমি
✔️ খ. ২৭ কিমি
MCQ 3
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত শতাংশ?
ক. ২১%
খ. ৭৮%
গ. ৫০%
ঘ. ৯৭%
✔️ খ. ৭৮%
MCQ 4
বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত শতাংশ?
ক. ৭৮%
খ. ৫০%
গ. ২১%
ঘ. ১%
✔️ গ. ২১%
MCQ 5
বায়ুমণ্ডল না থাকলে দিনের বেলা কী হত?
ক. আরামদায়ক
খ. প্রচণ্ড গরম
গ. স্বাভাবিক
ঘ. ঠান্ডা
✔️ খ. প্রচণ্ড গরম
MCQ 6
ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে কাছের বায়ুস্তরের নাম কী?
ক. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
খ. মেসোস্ফিয়ার
গ. ট্রপোস্ফিয়ার
ঘ. থার্মোস্ফিয়ার
✔️ গ. ট্রপোস্ফিয়ার
MCQ 7
ট্রপোস্ফিয়ার ভূপৃষ্ঠ থেকে কত কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত?
ক. ৮ কিমি
খ. ১৬ কিমি
গ. ৫০ কিমি
ঘ. ৮০ কিমি
✔️ খ. ১৬ কিমি
MCQ 8
ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা কত কমে?
ক. ৩.৪° সে.
খ. ৫.৪° সে.
গ. ৬.৪° সে.
ঘ. ৭.৪° সে.
✔️ গ. ৬.৪° সে.
MCQ 9
মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি কোন স্তরে হয়?
ক. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
খ. ট্রপোস্ফিয়ার
গ. মেসোস্ফিয়ার
ঘ. থার্মোস্ফিয়ার
✔️ খ. ট্রপোস্ফিয়ার
MCQ 10
ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরের স্তরের নাম কী?
ক. মেসোস্ফিয়ার
খ. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
গ. আয়োনোস্ফিয়ার
ঘ. এক্সোস্ফিয়ার
✔️ খ. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
MCQ 11
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে তাপমাত্রার কী পরিবর্তন হয়?
ক. কমে
খ. বাড়ে
গ. একই থাকে
ঘ. ওঠানামা করে
✔️ খ. বাড়ে
MCQ 12
ওজোন স্তর কোন স্তরে অবস্থিত?
ক. ট্রপোস্ফিয়ার
খ. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
গ. মেসোস্ফিয়ার
ঘ. থার্মোস্ফিয়ার
✔️ খ. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
MCQ 13
ওজোন স্তর আমাদের কী থেকে রক্ষা করে?
ক. বৃষ্টি
খ. ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি
গ. ভূমিকম্প
ঘ. ঝড়
✔️ খ. ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি
MCQ 14
মেসোস্ফিয়ারে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে তাপমাত্রার কী পরিবর্তন হয়?
ক. বাড়ে
খ. কমে
গ. একই থাকে
ঘ. তীব্রভাবে বাড়ে
✔️ খ. কমে
MCQ 15
থার্মোস্ফিয়ারের অপর নাম কী?
ক. ওজোন স্তর
খ. আয়োনোস্ফিয়ার
গ. মেঘস্তর
ঘ. নীলস্তর
✔️ খ. আয়োনোস্ফিয়ার
MCQ 16
বেতার তরঙ্গ কোন স্তর থেকে প্রতিফলিত হয়?
ক. ট্রপোস্ফিয়ার
খ. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
গ. আয়োনোস্ফিয়ার
ঘ. এক্সোস্ফিয়ার
✔️ গ. আয়োনোস্ফিয়ার
MCQ 17
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে জেট বিমান চলাচল করে কেন?
ক. বাতাস বেশি
খ. শান্ত স্তর বলে
গ. অক্সিজেন বেশি
ঘ. গরম বলে
✔️ খ. শান্ত স্তর বলে
MCQ 18
দিনের বেলা আকাশ নীল দেখায় কেন?
ক. সমুদ্রের প্রতিফলনে
খ. নীল রঙের বিচ্ছুরণ বেশি হয়
গ. ওজোনের কারণে
ঘ. ধূলিকণার জন্য
✔️ খ. নীল রঙের বিচ্ছুরণ বেশি হয়
MCQ 19
শিলামণ্ডলের ইংরেজি নাম কী?
ক. Hydrosphere
খ. Lithosphere
গ. Atmosphere
ঘ. Biosphere
✔️ খ. Lithosphere
MCQ 20
পৃথিবীর স্থলভাগের পরিমাণ কত শতাংশ?
ক. ৭১%
খ. ৫০%
গ. ২৯%
ঘ. ৯৭%
✔️ গ. ২৯%
MCQ 21
ভূ-পৃষ্ঠের সবচেয়ে বাইরের পাতলা স্তরের নাম কী?
ক. গুরুমণ্ডল
খ. কেন্দ্রমণ্ডল
গ. ভূ-ত্বক
ঘ. শিলামণ্ডল
✔️ গ. ভূ-ত্বক
MCQ 22
পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডলের তাপমাত্রা কত?
ক. ১০০০°-২০০০° সে.
খ. ২০০০°-৪০০০° সে.
গ. ৫০০০°-৬০০০° সে.
ঘ. ১০০°-৫০০° সে.
✔️ খ. ২০০০°-৪০০০° সে.
MCQ 23
বারিমণ্ডলের ইংরেজি নাম কী?
ক. Lithosphere
খ. Hydrosphere
গ. Atmosphere
ঘ. Biosphere
✔️ খ. Hydrosphere
MCQ 24
পৃথিবীর জলভাগের পরিমাণ কত শতাংশ?
ক. ২৯%
খ. ৫০%
গ. ৭১%
ঘ. ৯৭%
✔️ গ. ৭১%
MCQ 25
সমুদ্রের জলে মোট জলের কত শতাংশ আছে?
ক. ৭১%
খ. ৫০%
গ. ৯৭%
ঘ. ৩%
✔️ গ. ৯৭%
MCQ 26
মিষ্টি জলের পরিমাণ কত শতাংশ?
ক. ৯৭%
খ. ৭১%
গ. ২৯%
ঘ. ৩%
✔️ ঘ. ৩%
MCQ 27
কোন গ্রহকে 'নীল গ্রহ' বলা হয়?
ক. মঙ্গল
খ. শুক্র
গ. পৃথিবী
ঘ. বৃহস্পতি
✔️ গ. পৃথিবী
MCQ 28
জলের চক্রাকার আবর্তনকে কী বলে?
ক. শিলাচক্র
খ. জলচক্র
গ. বায়ুচক্র
ঘ. খাদ্যচক্র
✔️ খ. জলচক্র
MCQ 29
জলচক্রের মাধ্যমে জল কয়টি অবস্থায় পাওয়া যায়?
ক. ১টি
খ. ২টি
গ. ৩টি
ঘ. ৪টি
✔️ গ. ৩টি
MCQ 30
জলীয় বাষ্প বাতাসের চেয়ে কেমন?
ক. ভারী
খ. হালকা
গ. সমান
ঘ. কখনো ভারী কখনো হালকা
✔️ খ. হালকা
MCQ 31
প্রাচীন অখণ্ড স্থলভাগের নাম কী ছিল?
ক. প্যানথালাসা
খ. প্যানজিয়া
গ. গন্ডোয়ানা
ঘ. লরেশিয়া
✔️ খ. প্যানজিয়া
MCQ 32
প্যানজিয়া কত কোটি বছর আগে ভাঙতে শুরু করে?
ক. ১০ কোটি বছর
খ. ২০ কোটি বছর
গ. ৫০ কোটি বছর
ঘ. ১০০ কোটি বছর
✔️ খ. ২০ কোটি বছর
MCQ 33
মহাদেশ সঞ্চরণের মূল কারণ কী?
ক. বায়ুপ্রবাহ
খ. গুরুমণ্ডলে পরিচলন স্রোত
গ. সমুদ্রস্রোত
ঘ. ভূমিকম্প
✔️ খ. গুরুমণ্ডলে পরিচলন স্রোত
MCQ 34
মহাদেশগুলো বছরে কত সেমি. করে সরে?
ক. ১-৫ সেমি.
খ. ২-২০ সেমি.
গ. ২০-৫০ সেমি.
ঘ. ৫০-১০০ সেমি.
✔️ খ. ২-২০ সেমি.
MCQ 35
বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি?
ক. আটলান্টিক
খ. ভারত মহাসাগর
গ. প্রশান্ত মহাসাগর
ঘ. সুমেরু মহাসাগর
✔️ গ. প্রশান্ত মহাসাগর
MCQ 36
ক্ষুদ্রতম মহাসাগর কোনটি?
ক. প্রশান্ত
খ. আটলান্টিক
গ. ভারত
ঘ. সুমেরু
✔️ ঘ. সুমেরু
MCQ 37
পৃথিবীতে মহাসাগর কয়টি?
ক. ৩টি
খ. ৪টি
গ. ৫টি
ঘ. ৭টি
✔️ গ. ৫টি
MCQ 38
মহাদেশ কয়টি?
ক. ৫টি
খ. ৬টি
গ. ৭টি
ঘ. ৮টি
✔️ গ. ৭টি
MCQ 39
বিশ্ব উষ্ণায়নের ইংরেজি নাম কী?
ক. Global Cooling
খ. Global Warming
গ. Greenhouse Effect
ঘ. Climate Change
✔️ খ. Global Warming
MCQ 40
কোন গ্যাস বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী?
ক. অক্সিজেন
খ. নাইট্রোজেন
গ. কার্বন ডাইঅক্সাইড
ঘ. হাইড্রোজেন
✔️ গ. কার্বন ডাইঅক্সাইড
MCQ 41
পৃথিবীর বয়স প্রায় কত?
ক. ১০০ কোটি বছর
খ. ২৫০ কোটি বছর
গ. ৪৬০ কোটি বছর
ঘ. ১০০০ কোটি বছর
✔️ গ. ৪৬০ কোটি বছর
MCQ 42
জীবমণ্ডলের ইংরেজি নাম কী?
ক. Atmosphere
খ. Lithosphere
গ. Hydrosphere
ঘ. Biosphere
✔️ ঘ. Biosphere
✏️
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
30 টি
🔹 বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?
পৃথিবীর চারিদিকে ঘিরে থাকা বায়ুর স্তরকে বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) বলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত এর অস্তিত্ব থাকলেও ৯৭ ভাগ বাতাসই প্রথম ২৭ কিমির মধ্যে অবস্থিত।
🔹 বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় উপাদানগুলো কী কী?
বায়ুমণ্ডলে প্রধানত নাইট্রোজেন (৭৮%) ও অক্সিজেন (২১%) আছে। এছাড়াও আর্গন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, নিয়ন, ওজোন, জলীয় বাষ্প প্রভৃতি রয়েছে।
🔹 ট্রপোস্ফিয়ার কী?
ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬ কিমি পর্যন্ত বায়ুস্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে। এখানে ধূলিকণা, জলকণা থাকে বলেই মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি হয়। প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৪° সে. করে তাপমাত্রা কমে।
🔹 স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার কী?
ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরে ৫০ কিমি পর্যন্ত স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার। এখানে বাতাস কম, ধূলিকণা নেই, মেঘ-বৃষ্টি হয় না। জেট বিমান চলাচল করে। ২০-২৫ কিমি উচ্চতায় ওজোন স্তর অবস্থিত।
🔹 ওজোন স্তর কী? এর গুরুত্ব কী?
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ২০-২৫ কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের স্তর আছে। এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর প্রাণীদের রক্ষা করে।
🔹 আয়োনোস্ফিয়ার কী?
থার্মোস্ফিয়ারকে আয়োনোস্ফিয়ারও বলা হয়। এই স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে, তাই আমরা রেডিও শুনতে পাই। তাপমাত্রা এখানে ২০০০° সে. পর্যন্ত হতে পারে।
🔹 দিনের বেলা আকাশ নীল দেখায় কেন?
বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা ও জলকণায় সূর্যের সাত রঙের মধ্যে নীল রঙ সবচেয়ে বেশি বিচ্ছুরিত হয়, তাই দিনের বেলা আকাশকে নীল দেখায়।
🔹 রাতের বেলা আকাশ কালো দেখায় কেন?
রাতের বেলা সূর্যের আলো নেই বলে বায়ুমণ্ডলে কোনো বিচ্ছুরণ ঘটে না। ফলে আকাশ কালো দেখায় এবং মহাকাশের আসল রং দৃশ্যমান হয়।
🔹 শিলামণ্ডল কাকে বলে?
পৃথিবীর স্থলভাগ মূলত শিলা ও মাটি দিয়ে তৈরি। এই কঠিন বহিরাবরণকে শিলামণ্ডল (Lithosphere) বলে। ভূ-ত্বক ও গুরুমণ্ডলের ওপরের অংশ নিয়ে এটি গঠিত।
🔹 ভূ-ত্বক কী?
পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের পাতলা শক্ত আবরণকে ভূ-ত্বক (Crust) বলে। এটি শিলামণ্ডলের অংশ। মহাদেশীয় ভূ-ত্বক গ্রানাইট ও মহাসাগরীয় ভূ-ত্বক ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত।
🔹 বারিমণ্ডল কাকে বলে?
পৃথিবীর বিশাল জলভাগকে বারিমণ্ডল (Hydrosphere) বলে। নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর, হিমবাহ, ভৌমজল — সবই বারিমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত।
🔹 পৃথিবীকে 'নীল গ্রহ' বলা হয় কেন?
পৃথিবীর ৭১% জলভাগ থাকায় মহাকাশ থেকে একে নীল গোলকের মতো দেখায়। সৌরজগতের আর কোনো গ্রহে এত জল নেই, তাই একে নীল গ্রহ (Blue Planet) বলে।
🔹 জলচক্র কাকে বলে?
সূর্যের তাপে জল বাষ্প হয়ে উপরে ওঠে, ঠান্ডায় মেঘ তৈরি হয়, বৃষ্টি বা তুষার রূপে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। জলের এই চক্রাকার আবর্তনই জলচক্র (Water Cycle)।
🔹 জলচক্রের মাধ্যমে জল কী কী অবস্থায় পাওয়া যায়?
জলচক্রের মাধ্যমে জল তিন অবস্থায় পাওয়া যায় — (১) তরল (জল), (২) কঠিন (বরফ/তুষার), (৩) বাষ্পীয় (জলীয় বাষ্প)।
🔹 জলীয় বাষ্প কীভাবে মেঘে পরিণত হয়?
জলীয় বাষ্প বাতাসের চেয়ে হালকা হয়ে উপরে ওঠে। উপরের ঠান্ডা স্তরে এসে জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে জলকণায় পরিণত হয় এবং ধূলিকণাকে আশ্রয় করে মেঘ গঠন করে।
🔹 মহাদেশ সঞ্চরণ কাকে বলে?
মহাদেশগুলো খুব ধীর গতিতে (বছরে ২-২০ সেমি.) পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বা ধাক্কা খাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে মহাদেশ সঞ্চরণ (Continental Drift) বলে।
🔹 প্যানজিয়া কী?
প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একত্রিত হয়ে একটি বিশাল অখণ্ড মহাদেশ গঠন করেছিল, যার নাম প্যানজিয়া (Pangaea)। চারদিকে ছিল প্যানথালাসা নামক মহাসমুদ্র।
🔹 মহাদেশ সঞ্চরণের কারণ কী?
ভূ-গর্ভের প্রচণ্ড তাপে গুরুমণ্ডলে পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয়। এই পরিচলন স্রোতের কারণে ভূ-ত্বকের প্লেটগুলো ধীরে ধীরে সরে যায়, যার ফলে মহাদেশ সঞ্চরণ ঘটে।
🔹 প্রশান্ত মহাসাগর সম্পর্কে কী জানো?
প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean) পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর। এর আয়তন পৃথিবীর মোট জলভাগের প্রায় অর্ধাংশ। এটি এশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে অবস্থিত।
🔹 পৃথিবীর সৃষ্টি কীভাবে হয়েছিল?
প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে সৌরজগৎ সৃষ্টির সময় পৃথিবী ছিল জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড। ক্রমে তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হয়ে বাইরের অংশ জমাট বেঁধে ভূ-ত্বক তৈরি হয়।
🔹 বিশ্ব উষ্ণায়ন কাকে বলে?
যানবাহন ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীর চারিদিকে আবরণ তৈরি করে তাপ আটকে রাখে। ফলে দিন দিন পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে, একে বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) বলে।
🔹 বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব কী কী?
বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরুর বরফ গলছে, সমুদ্রের জলতল বাড়ছে, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, মরুভূমির প্রসার, শস্যহানি ও মহামারির মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
🔹 জীবমণ্ডল কাকে বলে?
বারিমণ্ডল, শিলামণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলের মিলিত অংশে যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে, তাকে জীবমণ্ডল (Biosphere) বলে। এটি উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের বসবাসের অঞ্চল।
🔹 পৃথিবীর জলভাগ ও স্থলভাগের অনুপাত কত?
পৃথিবীর মোট ক্ষেত্রফলের ৭১% জলভাগ (বারিমণ্ডল) এবং ২৯% স্থলভাগ (শিলামণ্ডল)। উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ বেশি ও দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগ বেশি (প্রায় ১৫% বেশি)।
🔹 মহাসাগরগুলোর নাম কী কী?
পৃথিবীতে ৫টি মহাসাগর আছে — প্রশান্ত মহাসাগর (বৃহত্তম), আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, সুমেরু মহাসাগর (ক্ষুদ্রতম) ও কুমেরু মহাসাগর।
🔹 CPC, CFC কীভাবে ক্ষতি করে?
ফ্রিজ, AC ও রাসায়নিক দ্রব্য থেকে নির্গত CFC গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরে পৌঁছে একে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছায়।
🔹 পৃথিবীর চারটি মণ্ডলের নাম লেখো।
পৃথিবীর চারটি প্রধান মণ্ডল হলো — (১) বারিমণ্ডল (Hydrosphere), (২) শিলামণ্ডল (Lithosphere), (৩) বায়ুমণ্ডল (Atmosphere), (৪) জীবমণ্ডল (Biosphere)।
🔹 পরিচলন স্রোত কীভাবে কাজ করে?
গুরুমণ্ডলের প্রচণ্ড তাপে গরম পদার্থ হালকা হয়ে ওপরে ওঠে এবং ঠান্ডা ভারী পদার্থ নীচে নামে। এই চক্রাকার গতিকেই পরিচলন স্রোত (Convection Current) বলে। এর ফলেই মহাদেশ সঞ্চরণ ঘটে।
🔹 বায়ুমণ্ডল না থাকলে কী হত?
বায়ুমণ্ডল না থাকলে দিনের বেলা প্রচণ্ড গরম ও রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা হত। শ্বাস-প্রশ্বাস অসম্ভব হত, উল্কাপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেত না এবং পৃথিবী প্রাণহীন হয়ে যেত।
🔹 মহাদেশ সঞ্চরণের প্রমাণ কী?
দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব ও আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল জigsaw puzzle-এর মতো মিলে যায়। এছাড়া একই ধরনের জীবাশ্ম ও শিলাস্তর দুই মহাদেশে পাওয়া গেছে, যা মহাদেশ সঞ্চরণের প্রমাণ।
📚
রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)
6 টি
📌 বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস (নীচ থেকে উপরে):
ট্রপোস্ফিয়ার (০-১৬ কিমি): সবচেয়ে নীচের স্তর। ধূলিকণা, জলীয় বাষ্প থাকে। মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি এই স্তরেই হয়। প্রতি ১০০০ মিটারে ৬.৪° সে. তাপমাত্রা কমে।
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (১৬-৫০ কিমি): শান্ত স্তর, বিমান চলাচলের উপযোগী। ২০-২৫ কিমিতে ওজোন স্তর আছে। উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা বাড়ে।
মেসোস্ফিয়ার (৫০-৮০ কিমি): তাপমাত্রা আবার কমতে থাকে। উল্কা এ স্তরে এসে জ্বলে যায়।
এক্সোস্ফিয়ার (৩০০-১০,০০০ কিমি): শেষ স্তর, ক্রমশ মহাকাশে মিশেছে। কৃত্রিম উপগ্রহ এ স্তরে থাকে।
📌 জলচক্র কী? জলচক্রের ধাপগুলো চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
জলচক্র (Water Cycle): সূর্যের তাপে সমুদ্র, নদী, হ্রদ থেকে জল বাষ্পে পরিণত হয়ে বায়ুমণ্ডলে মেশে এবং পুনরায় বৃষ্টি বা তুষার রূপে পৃথিবীতে ফিরে আসে। জলের এই চক্রাকার আবর্তনই জলচক্র।
ধাপসমূহ:
বাষ্পীভবন: সূর্যের তাপে জল বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে ওঠে।
ঘনীভবন: ঠান্ডা স্তরে জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে জলকণায় পরিণত হয়।
মেঘ গঠন: জলকণা ধূলিকণাকে আশ্রয় করে একত্রিত হয়ে মেঘ তৈরি করে।
অধঃক্ষেপণ: বড় জলকণা বা বরফকণা ভারী হয়ে বৃষ্টি বা তুষার রূপে নেমে আসে।
সংগ্রহ: বৃষ্টির জল নদী বা ভৌমজল রূপে আবার সমুদ্রে ফিরে যায়।
📌 বারিমণ্ডল, শিলামণ্ডল ও বায়ুমণ্ডল কীভাবে জীবমণ্ডল গঠন করে? পৃথিবীতে এদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
তিন মণ্ডলের মিলনে জীবমণ্ডল:
বারিমণ্ডল (জল), শিলামণ্ডল (স্থল) ও বায়ুমণ্ডল (বাতাস) — এই তিনটি মণ্ডলের মিলিত অঞ্চলেই জীবনের অস্তিত্ব দেখা যায়। একে জীবমণ্ডল (Biosphere) বলে।
গুরুত্ব:
বারিমণ্ডল: জলই জীবন। ৭১% জলভাগ পৃথিবীকে নীল গ্রহে পরিণত করেছে। পানীয় জল, কৃষি, শিল্প, পরিবহণ সবকিছুর জন্যই জল অপরিহার্য।
শিলামণ্ডল: মাটি ও শিলা থেকে উদ্ভিদ পুষ্টি পায়। খনিজ, ধাতু, কয়লা, তেল ইত্যাদি আমরা শিলামণ্ডল থেকেই পাই।
বায়ুমণ্ডল: শ্বাস-প্রশ্বাসের অক্সিজেন সরবরাহ করে, ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
এই তিন মণ্ডলের পারস্পরিক ভারসাম্যের ফলেই পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ সম্ভব হয়েছে।
📌 মহাদেশ সঞ্চরণ তত্ত্ব কী? এর প্রমাণ ও কারণ আলোচনা করো।
মহাদেশ সঞ্চরণ তত্ত্ব (Continental Drift Theory):
১৯১২ সালে আলফ্রেড ভেগনার বলেন — মহাদেশগুলো স্থির নয়, ধীর গতিতে চলমান। বছরে ২-২০ সেমি. করে সরে যায়। প্রাচীনকালে সমস্ত মহাদেশ 'প্যানজিয়া' নামক এক অখণ্ড ভূখণ্ডে যুক্ত ছিল।
প্রমাণ:
উপকূলীয় মিল: দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব ও আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল পরস্পর মিলে যায়।
জীবাশ্ম: একই প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবাশ্ম দুই মহাদেশে পাওয়া গেছে।
শিলাস্তর: একই বয়স ও প্রকৃতির শিলাস্তর পৃথক মহাদেশে মেলে।
হিমবাহের চিহ্ন: উষ্ণ অঞ্চলে প্রাচীন হিমবাহের চিহ্ন মেলে।
কারণ: গুরুমণ্ডলে পরিচলন স্রোতই ভূ-ত্বকের প্লেটগুলোকে নাড়িয়ে দেয়, ফলে মহাদেশগুলো ধীরে ধীরে সরে যায়।
📌 বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ ও প্রভাব আলোচনা করো। এটি রোধে করণীয় কী কী?
বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming):
গ্রিনহাউস গ্যাস (CO₂, মিথেন, CFC) নির্গমন বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়াকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
কারণ:
শিল্প-কারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া।
জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল) পোড়ানো।
বনভূমি ধ্বংস।
CFC-যুক্ত দ্রব্যের ব্যবহার।
প্রভাব:
মেরুর বরফ গলছে, সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে।
বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, শক্তিশালী ঝড়।
কৃষি উৎপাদন হ্রাস ও দুর্ভিক্ষ।
জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
রোধের উপায়: বৃক্ষরোপণ, নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ।
📌 পৃথিবীর পাঁচটি মহাসাগরের পরিচয় দাও। এদের বৈশিষ্ট্যগুলো লেখো।
পৃথিবীর ৫টি মহাসাগর:
প্রশান্ত মহাসাগর: বৃহত্তম ও গভীরতম; পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জলভাগ। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার মধ্যে অবস্থিত।
আটলান্টিক মহাসাগর: দ্বিতীয় বৃহত্তম; পশ্চিমে আমেরিকা, পূর্বে ইউরোপ-আফ্রিকা। ইংরেজি 'S' আকারের।
ভারত মহাসাগর: তৃতীয় বৃহত্তম; উত্তরে এশিয়া, পশ্চিমে আফ্রিকা, পূর্বে অস্ট্রেলিয়া। ভারতীয় উপদ্বীপের নামে নামকরণ।
সুমেরু মহাসাগর: উত্তর মেরু কেন্দ্র করে; ক্ষুদ্রতম ও অগভীর। চারদিকে ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা। সারাবছর বরফে ঢাকা।
কুমেরু মহাসাগর: দক্ষিণ মেরুতে; আটলান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাংশের মিলন। ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।
Sponsored Links
Class 6 Geography Chapter 5: জল-স্থল-বাতাস
জল-স্থল-বাতাস অধ্যায়ে বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস, বারিমণ্ডল, শিলামণ্ডল, জীবমণ্ডল, জলচক্র, মহাদেশ সঞ্চরণ তত্ত্ব, প্যানজিয়া, পাঁচ মহাসাগর, বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
বায়ুমণ্ডলের স্তর
জলচক্র ও বারিমণ্ডল
মহাদেশ সঞ্চরণ
বিশ্ব উষ্ণায়ন
Frequently Asked Questions (জল-স্থল-বাতাস)
বায়ুমণ্ডলের প্রধান স্তর পাঁচটি — ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার ও এক্সোস্ফিয়ার।
বাষ্পীভবন, ঘনীভবন, মেঘ গঠন, অধঃক্ষেপণ (বৃষ্টি/তুষার) ও সংগ্রহ — এই পাঁচটি ধাপে জলচক্র সম্পন্ন হয়।
হ্যাঁ, সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সর্বশেষ ২০২৬ সিলেবাস অনুযায়ী তৈরি।