ষষ্ঠ শ্রেণীর ইতিহাস বইয়ের নবম অধ্যায় "ভারত ও সমকালীন বহির্বিশ্ব : খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের প্রথমভাগ পর্যন্ত"-এর সম্পূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই অধ্যায়ে পারসিক ও আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণ, ইন্দো-গ্রিক, রোম ও চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য, রেশম পথ (Silk Route), এবং বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারকদের মাধ্যমে বাইরের দেশের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
-
পারস্যের আকেমেনীয় সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক কে ছিলেন?উত্তর: প্রথম দরায়বৌষ (Darius I)
-
প্রথম দরায়বৌষের কোন লেখ থেকে সিন্ধু উপত্যকা জয়ের কথা জানা যায়?উত্তর: নকস-ই-রুস্তম
-
গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের মতে পারসিক সাম্রাজ্যের ২০তম প্রদেশ কোনটি ছিল?উত্তর: ইন্দুস বা সিন্ধু
-
পারসিক সাম্রাজ্যে প্রদেশগুলিকে কী বলা হতো?উত্তর: সত্রপি
-
আলেকজান্ডার কবে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করেন?উত্তর: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ অব্দে
-
আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের ফলে কোন বাণিজ্য পথ খুলে যায়?উত্তর: স্থল ও জলপথ
-
ব্যাকট্রিয়া অঞ্চলটি কোথায় অবস্থিত?উত্তর: হিন্দুকুশ পর্বতের পশ্চিমে
-
ইন্দো-গ্রিক কাদের বলা হতো?উত্তর: ব্যাকট্রিয়ার গ্রিক অধিবাসীদের
-
সবথেকে বিখ্যাত ইন্দো-গ্রিক রাজা কে ছিলেন?উত্তর: মিনান্দার
-
মিনান্দার কোন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর কাছে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন?উত্তর: নাগসেন
-
'মিলিন্দপনহো' বইটিতে কার কথোপকথন রয়েছে?উত্তর: রাজা মিনান্দার ও সন্ন্যাসী নাগসেনের
-
সেন্ট থমাস খ্রিস্টধর্ম প্রচারের জন্য কার আমলে ভারতে আসেন?উত্তর: গন্ডোফারনেস-এর আমলে
-
গন্ডোফারনেস কোন বংশের শাসক ছিলেন?উত্তর: পল্লব বা পার্থীয়
-
কুষাণরা মূলত কোথা থেকে ভারতে এসেছিল?উত্তর: চিন দেশের পশ্চিম প্রান্ত থেকে
-
রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে ভারতের কোন জিনিসের বাণিজ্য সবথেকে বেশি হতো?উত্তর: গোলমরিচ ও মশলা
-
প্রাচীন ভারতের একটি বিখ্যাত পশ্চিম উপকূলীয় বন্দর হলো-উত্তর: ভৃগুকচ্ছ
-
কোন রোমান লেখক ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রোমের সোনা বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভেবে দুঃখ করেছিলেন?উত্তর: প্লিনি
-
রেশম পথ বা সিল্ক রুট দিয়ে প্রধানত কোন দেশের রেশম বাণিজ্য হতো?উত্তর: চিনের
-
চিনে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে একজন বিখ্যাত ভারতীয় সন্ন্যাসী হলেন-উত্তর: কুমারজীব
-
কুমারজীব কোথায় পড়াশোনা করেছিলেন?উত্তর: কাশ্মীরে
-
সুয়ান জাং বা হিউয়েন সাং কোন দেশে বৌদ্ধধর্মের পাণ্ডুলিপি নিয়ে গিয়েছিলেন?উত্তর: চিনে
-
ফাসিয়ান বা ফা-হিয়েন কার রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন?উত্তর: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
-
ফাসিয়ান কোন পথ দিয়ে ভারতে এসেছিলেন?উত্তর: স্থলপথে
-
সুয়ান জাং ভারতে কত বছর ছিলেন?উত্তর: প্রায় ১৫ বছর
-
প্রাচীন বাংলার একটি বিখ্যাত বন্দরের নাম কী ছিল?উত্তর: তাম্রলিপ্ত
-
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে প্রাচীন ভারতের সাহিত্যে কী বলা হতো?উত্তর: সুবর্ণভূমি বা সুবর্ণদ্বীপ
-
আলেকজান্ডার কোন দেশের রাজা ছিলেন?উত্তর: ম্যাসিডনের
-
আলেকজান্ডার কাকে হারিয়ে পারসিক সাম্রাজ্য দখল করেন?উত্তর: তৃতীয় দরায়বৌষকে
-
'পেরিপ্লাস অফ দ্য ইরিথ্রিয়ান সি' বইটি কী বিষয়ে লেখা?উত্তর: সামুদ্রিক বাণিজ্য
-
রোমানরা গোলমরিচকে কী বলত?উত্তর: যবনপ্রিয়
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ - 1 Mark)
-
ভারত ও বহির্বিশ্বের যোগাযোগ প্রাচীন যুগে কীভাবে ঘটত?উত্তর: প্রাচীন যুগে ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে বাইরের বিশ্বের যোগাযোগ মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ধর্মপ্রচারকদের মাধ্যমে ঘটত।
-
প্রথম দরায়বৌষ কে ছিলেন?উত্তর: প্রথম দরায়বৌষ ছিলেন পারস্যের (বর্তমানের ইরান) আকেমেনীয় সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ রাজা, যিনি ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু অংশ জয় করেছিলেন।
-
সত্রপ ও সত্রপি কী?উত্তর: পারসিক সাম্রাজ্যে শাসনকাজের সুবিধার জন্য রাজ্যকে অনেকগুলো প্রদেশে ভাগ করা হতো। এই প্রদেশকে সত্রপি এবং প্রদেশের শাসককে সত্রপ বলা হতো।
-
হেরোডোটাস কে ছিলেন?উত্তর: হেরোডোটাস ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক, যাঁকে ইতিহাসের জনক বলা হয়।
-
'মিলিন্দপনহো' শব্দের অর্থ কী?উত্তর: 'মিলিন্দপনহো' শব্দের পালি অর্থ হলো 'মিলিন্দের প্রশ্ন'। এই বইতে গ্রিক রাজা মিনান্দার ও বৌদ্ধ সন্ন্যাসী নাগসেনের কথোপকথন আছে।
-
মিনান্দার কে ছিলেন?উত্তর: মিনান্দার ছিলেন একজন অত্যন্ত বিখ্যাত ইন্দো-গ্রিক বা ব্যাকট্রিয় গ্রিক রাজা, যিনি পরে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
-
পার্থীয় বা পল্লব কারা?উত্তর: গ্রিকদের পর উত্তর-পশ্চিম ভারতে ইরানের পার্থিয়া অঞ্চল থেকে একটি উপজাতি গোষ্ঠী আসে, যাদের পার্থীয় বা পল্লব বলা হয়।
-
সেন্ট থমাস কেন ভারতে এসেছিলেন?উত্তর: খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে পল্লব রাজা গন্ডোফারনেস-এর রাজত্বকালে সেন্ট থমাস খ্রিস্টধর্ম প্রচারের জন্য ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিলেন।
-
কুষাণরা কোথা থেকে ভারতে এসেছিল?উত্তর: কুষাণরা ছিল 'ইউ-এ-ঝি' নামক একটি যাযাবর উপজাতির শাখা। এরা চিনের পশ্চিম অংশ থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে ভারতে এসেছিল।
-
রোমানরা গোলমরিচকে যবনপ্রিয় বলত কেন?উত্তর: রোম বা গ্রিসের মানুষের কাছে গোলমরিচ অত্যন্ত প্রিয় ছিল, তাই ভারতীয় সাহিত্যে এটিকে 'যবনপ্রিয়' (যবন অর্থাৎ বিদেশি) বলা হতো।
-
রোমের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের দুটি প্রভাব লেখো।উত্তর: রোমের সঙ্গে বাণিজ্যের ফলে ভারতের প্রচুর আর্থিক লাভ হয়েছিল এবং প্রচুর রোমান সোনার মুদ্রা ভারতের বাজারে প্রবেশ করেছিল।
-
প্লিনি কে ছিলেন?উত্তর: প্লিনি ছিলেন একজন রোমান লেখক ও পণ্ডিত, যিনি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের কারণে রোমের সোনা বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভেবে আক্ষেপ করেছিলেন।
-
ভৃগুকচ্ছ বন্দরটি কোথায় অবস্থিত?উত্তর: ভৃগুকচ্ছ বা ব্রোচ বন্দরটি গুজরাটের নর্মদা নদীর মোহনায় অবস্থিত, যা প্রাচীন ভারতের প্রধান সমুদ্র বন্দর ছিল।
-
রেশম পথ (Silk Route) কী?উত্তর: প্রাচীনকালে চিন থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে রোমান সাম্রাজ্য পর্যন্ত যে বিশাল স্থলপথ দিয়ে রেশম বা সিল্কের বাণিজ্য চলত, তাকে রেশম পথ বলা হয়।
-
কুমারজীব কে ছিলেন?উত্তর: কুমারজীব ছিলেন কাশ্মীরে শিক্ষাপ্রাপ্ত একজন অসাধারণ ভারতীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পণ্ডিত, যিনি চিনে গিয়ে বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থগুলিকে চিনা ভাষায় অনুবাদ করেন।
-
ফাসিয়ান (ফা-হিয়েন) কেন ভারতে এসেছিলেন?উত্তর: চিনা পরিব্রাজক ফাসিয়ান মূলত বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলি দর্শন করার জন্য এবং বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ বা বিনয়পিটকের নিয়মাবলি সংগ্রহ করার জন্য ভারতে এসেছিলেন।
-
সুয়ান জাং ভারতে কত বছর ছিলেন?উত্তর: সুয়ান জাং বা হিউয়েন সাং বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ সংগ্রহের জন্য ভারতে এসেছিলেন এবং প্রায় ১৫ বছর তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে ছিলেন।
-
ইৎসিং বা ই-জিং কবে ভারতে আসেন?উত্তর: চিনা পর্যটক ইৎসিং খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের শেষ দিকে জলপথে সুমাত্রা হয়ে ভারতে এসেছিলেন।
-
সুবর্ণদ্বীপ বলতে প্রাচীন ভারতে কোন অঞ্চলকে বোঝানো হতো?উত্তর: প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া বা সুমাত্রা-জাভা অঞ্চলকে সুবর্ণভূমি বা সুবর্ণদ্বীপ বলা হতো।
-
আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের একটি সুফল লেখো।উত্তর: আলেকজান্ডারের আক্রমণের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে গ্রিস এবং পাশ্চাত্যের দেশগুলির স্থল ও জলপথের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয় এবং বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions - 3/5 Marks)
-
আলেকজান্ডারের ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযানের কী প্রভাব পড়েছিল বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: ম্যাসিডনের রাজা আলেকজান্ডার খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ অব্দ নাগাদ ভারতীয় উপমহাদেশে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি এখানে বেশিদিন রাজত্ব না করলেও তাঁর এই আক্রমণের অনেকগুলি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়েছিল:
১) বাণিজ্য পথের উন্মোচন: আলেকজান্ডারের অভিযানের ফলে ভারত এবং পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে নতুন করে স্থলপথ ও জলপথ আবিষ্কৃত হয়। এর ফলে এই দুই এলাকার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটে।
২) সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান: ভারতীয়দের সাথে গ্রিক সংস্কৃতির সরাসরি পরিচয় ঘটে। এর ফলেই পরবর্তীকালে গ্রিক ও ভারতীয় শিল্পের মিশ্রণে 'গান্ধার শিল্প'-এর উদ্ভব হয়েছিল।
৩) রাজনৈতিক ঐক্য: আলেকজান্ডারের আক্রমণের ফলে উত্তর-পশ্চিম ভারতের ছোটো ছোটো রাজ্যগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পক্ষে ওই অঞ্চলগুলিকে সহজে দখল করে একটি অখণ্ড ও বিশাল মৌর্য সাম্রাজ্য গড়ে তোলা সম্ভব হয়। -
ইন্দো-গ্রিক বা ব্যাকট্রিয় গ্রিক কাদের বলা হয়? মিনান্দারের সময় বৌদ্ধধর্মের প্রসারের কথা লেখো।
উত্তর: ইন্দো-গ্রিক কাদের বলা হয়: আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর তাঁর সেনাপতিরা নানা জায়গায় নিজেদের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর মধ্যে হিন্দুকুশ পর্বতের পশ্চিমে 'ব্যাকট্রিয়া' অঞ্চলে গ্রিকরা নিজেদের শাসন কায়েম করে। পরবর্তীকালে এরা ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে প্রবেশ করে রাজত্ব শুরু করে। এই ব্যাকট্রিয়ার গ্রিক অধিবাসীদেরই 'ইন্দো-গ্রিক' বা 'ব্যাকট্রিয় গ্রিক' বলা হতো।
মিনান্দার ও বৌদ্ধধর্ম: ইন্দো-গ্রিক রাজাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন রাজা মিনান্দার (Menander)। তাঁর আমলে বৌদ্ধধর্মের খুব প্রসার ঘটেছিল। বৌদ্ধ সাহিত্য থেকে জানা যায় যে, মিনান্দার বিখ্যাত বৌদ্ধ সন্ন্যাসী নাগসেনের সাথে ধর্ম নিয়ে অনেক আলোচনা করেন এবং তাঁর সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেয়ে তিনি নিজে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। নাগসেন ও মিনান্দারের এই প্রশ্নোত্তর নিয়েই পালি ভাষায় 'মিলিন্দপনহো' (মিলিন্দের প্রশ্ন) নামক বিখ্যাত বৌদ্ধ গ্রন্থটি রচিত হয়েছিল।
-
প্রাচীন ভারতের সঙ্গে রোম সাম্রাজ্যের বাণিজ্য সম্পর্কে যা জানো লেখো। রোমানরা কেন চিন্তিত হয়েছিল?
উত্তর: ভারত-রোম বাণিজ্য: খ্রিস্টীয় প্রথম শতক থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে রোমান সাম্রাজ্যের ব্যাপক ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু হয়। ভারত থেকে মূলত সুতির ও মসলিন কাপড়, সুগন্ধি, দামি পাথর এবং গোলমরিচ সহ নানা মশলা রোমে রফতানি হতো। রোমানদের কাছে গোলমরিচ এতই প্রিয় ছিল যে ভারতে একে 'যবনপ্রিয়' বলা হতো। এই বাণিজ্যে ভারতের প্রচুর আর্থিক লাভ হয় এবং বিনিময়ে রোমান সোনা ও রুপোর মুদ্রা ভারতে আসতে শুরু করে।
রোমানদের চিন্তার কারণ: এই বাণিজ্যের ফলে রোমের প্রচুর সোনা ভারতে চলে আসছিল। এতে রোমান সাম্রাজ্যের অর্থনীতি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিখ্যাত রোমান পণ্ডিত ও লেখক প্লিনি (Pliny) তাঁর লেখায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে, ভারত এবং চিনের সাথে বাণিজ্যের কারণে রোমান সাম্রাজ্যের প্রচুর সোনা বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে, যা রোমের পক্ষে খুব ক্ষতিকর।
-
রেশম পথ বা সিল্ক রুট (Silk Route) কী? এই পথের ওপর কুষাণদের নিয়ন্ত্রণের ফলে কী সুবিধা হয়েছিল?
উত্তর: রেশম পথ (Silk Route): প্রাচীনকালে চিনের তৈরি রেশম বা সিল্কের কাপড়ের রোমান সাম্রাজ্যে খুব চাহিদা ছিল। চিন দেশ থেকে পশ্চিম এশিয়া হয়ে রোম পর্যন্ত যে বিস্তীর্ণ স্থলপথ দিয়ে এই রেশম কাপড়ের বাণিজ্য হতো, তাকেই ইতিহাসে রেশম পথ বা সিল্ক রুট বলা হয়।
কুষাণদের নিয়ন্ত্রণ ও সুবিধা: রেশম পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম দিক হয়ে যেত। কুষাণ সম্রাটরা, বিশেষ করে সম্রাট কনিষ্ক, অত্যন্ত বুদ্ধি করে এই পথের মাঝখানের অংশটি দখল করে নেন।
এর ফলে:
১) ওই পথ দিয়ে যাওয়া চিনা ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কুষাণরা প্রচুর কর (Tax) আদায় করত।
২) কুষাণ সাম্রাজ্যের অর্থনীতি খুব শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং সেই টাকায় কুষাণরা প্রচুর সোনার মুদ্রা (যাকে দিনার বলা হতো) চালু করতে পেরেছিল।
৩) ভারতীয় বণিকরাও এই পথ দিয়ে মধ্য এশিয়া এবং চিনে বাণিজ্য করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। -
প্রাচীন যুগে চিন দেশের সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের পারস্পরিক যোগাযোগ কীভাবে গড়ে উঠেছিল তা ফাসিয়ান ও সুয়ান জাং-এর সফরের ভিত্তিতে আলোচনা করো।
উত্তর: প্রাচীন যুগে চিন দেশের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল বাণিজ্য এবং বৌদ্ধ ধর্মপ্রচার। সিল্ক রুটের মাধ্যমে যেমন বাণিজ্য চলত, তেমনি ওই একই পথ ধরে বহু ভারতীয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী চিনে যান এবং বহু চিনা পরিব্রাজক ভারতে আসেন।
ফাসিয়ান (ফা-হিয়েন): গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে ফাসিয়ান স্থলপথে ভারতে আসেন। তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলি দর্শন করা এবং বৌদ্ধদের নিয়মকানুন সংবলিত 'বিনয়পিটক'-এর খাঁটি প্রতিলিপি সংগ্রহ করা। তিনি বেশ কয়েক বছর ভারতে থেকে বৌদ্ধশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং সমুদ্রপথে চিনে ফিরে যান। তাঁর লেখা থেকে গুপ্ত যুগের সমাজ ও সংস্কৃতির অনেক কথা জানা যায়।
সুয়ান জাং (হিউয়েন সাং): হর্ষবর্ধনের শাসনকালে সুয়ান জাং ভারতে এসেছিলেন। তিনিও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ এবং গৌতম বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান দর্শনের টানে এসেছিলেন। তিনি নালন্দা মহাবিহারে দীর্ঘদিন পড়াশোনা করেন। তিনি প্রায় ১৫ বছর ভারতে থাকার পর প্রচুর বৌদ্ধ পাণ্ডুলিপি ও বুদ্ধমূর্তি নিয়ে চিনে ফিরে যান। এঁদের যাতায়াতের ফলেই চিন এবং ভারতের মধ্যে এক গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।