ষষ্ঠ শ্রেণীর ইতিহাস বইয়ের সপ্তম অধ্যায় "অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা : আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের প্রথম ভাগ"-এর সম্পূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই অধ্যায়ে প্রাচীন ভারতের দ্বিতীয় নগরায়ণ, গিল্ড ব্যবস্থা, অগ্রহার প্রথা, সেচব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নারী ও চণ্ডালদের সামাজিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
-
ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় নগরায়ণ কবে শুরু হয়েছিল?উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে
-
দ্বিতীয় নগরায়ণের প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?উত্তর: গঙ্গা উপত্যকায়
-
কৃষিকাজে লোহার ব্যবহার ব্যাপকভাবে কোন শতকে বাড়ে?উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে
-
মৌর্য যুগে অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কী ছিল?উত্তর: কৃষিকাজ
-
সুদর্শন হ্রদ কে খনন শুরু করেছিলেন?উত্তর: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
-
সুদর্শন হ্রদের সংস্কার কোন শক শাসক করেছিলেন?উত্তর: রুদ্রদমন
-
প্রাচীন ভারতে কারিগর ও ব্যবসায়ীদের সংগঠনকে কী বলা হতো?উত্তর: গিল্ড (Guild) বা শ্রেণি
-
প্রাচীন ভারতে ধনী ব্যবসায়ীদের কী বলা হতো?উত্তর: শ্রেষ্ঠী
-
যারা দল বেঁধে দূরে বাণিজ্য করতে যেত, তাদের কী বলা হতো?উত্তর: সার্থবাহ
-
দাক্ষিণাত্যের কালো মাটিতে কোন ফসলের চাষ খুব ভালো হতো?উত্তর: তুলো
-
উৎপন্ন ফসলের কত ভাগ কৃষকদের কর হিসেবে রাজাকে দিতে হতো?উত্তর: একের ছয় ভাগ (১/৬)
-
রাজারা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্রাহ্মণদের যে নিষ্কর জমি দান করতেন, তাকে কী বলে?উত্তর: অগ্রহার ব্যবস্থা
-
অগ্রহার ব্যবস্থার ফলে সমাজে কাদের ক্ষমতা বেড়েছিল?উত্তর: ব্রাহ্মণদের
-
মৌর্য আমলে গুজরাটের একটি বিখ্যাত বন্দর-নগরের নাম কী?উত্তর: ভৃগুকচ্ছ বা ব্রোচ
-
প্রাচীন বাংলার একটি বিখ্যাত সমুদ্র বন্দরের নাম কী?উত্তর: তাম্রলিপ্ত
-
কোন চিনা পরিব্রাজক গুপ্ত যুগে ভারতে এসেছিলেন?উত্তর: ফা-হিয়েন
-
ফা-হিয়েন-এর মতে, গুপ্ত যুগে সাধারণ মানুষ কেনাকাটার জন্য কী ব্যবহার করত?উত্তর: কড়ি
-
গুপ্ত যুগে সোনার মুদ্রাকে কী বলা হতো?উত্তর: দিনার বা সুবর্ণ
-
গুপ্ত যুগে রুপোর মুদ্রাকে কী বলা হতো?উত্তর: রূপক
-
গুপ্ত যুগে সমাজ কয়টি মূল বর্ণে বিভক্ত ছিল?উত্তর: চারটি
-
কাদের সমাজে 'অস্পৃশ্য' বা ছোঁয়াচে বলে মনে করা হতো?উত্তর: চণ্ডালদের
-
মেয়েদের নিজস্ব সম্পদ বা ধনকে প্রাচীন ভারতে কী বলা হতো?উত্তর: স্ত্রী-ধন
-
মেগাস্থিনিসের মতে প্রাচীন ভারতের সমাজে কয়টি জাতি বা শ্রেণি ছিল?উত্তর: সাতটি
-
জীবক কে ছিলেন?উত্তর: প্রাচীন ভারতের একজন বিখ্যাত চিকিৎসক
-
কুষাণ আমলে ভারত থেকে রোম পর্যন্ত প্রধান বাণিজ্য পথ কোনটি ছিল?উত্তর: রেশম পথ (Silk Route)
-
প্রাচীন ভারতে বাণিজ্যের প্রসারের ফলে কোন ধর্মের প্রচার বাড়ে?উত্তর: বৌদ্ধ ধর্ম
-
সুয়ান জাং-এর মতে, হর্ষবর্ধনের আমলে কৃষকদের উৎপন্ন ফসলের কত ভাগ কর দিতে হতো?উত্তর: একের ছয় ভাগ
-
গুপ্ত ও গুপ্ত-পরবর্তী যুগে বেগার শ্রম বা বিনা পারিশ্রমিকে খাটানোকে কী বলা হতো?উত্তর: বিষ্টি
-
দাক্ষিণাত্যে কৃষিকাজের উন্নতির জন্য রাজারা মূলত কী নির্মাণ করতেন?উত্তর: সেচখাল ও জলাধার
-
প্রাচীন ভারতে গ্রামের প্রধানকে কী বলা হতো?উত্তর: গ্রামিক
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ - 1 Mark)
-
দ্বিতীয় নগরায়ণ কাকে বলে?উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার পতনের অনেক বছর পর, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক নাগাদ গঙ্গা উপত্যকায় পুনরায় নতুন করে নগর গড়ে ওঠার প্রক্রিয়াকে দ্বিতীয় নগরায়ণ বলে।
-
গহপতি বা গৃহপতি কাদের বলা হতো?উত্তর: প্রাচীন ভারতে পরিবারের প্রধান পুরুষ সদস্য বা ধনী কৃষকদের গহপতি বা গৃহপতি বলা হতো।
-
গিল্ড বা শ্রেণি কী?উত্তর: প্রাচীন ভারতে কারিগর ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের পেশার সুবিধা এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য যে সংঘ বা সমবায় তৈরি করেছিলেন, তাকে গিল্ড বা শ্রেণি বলা হতো।
-
গিল্ডের প্রধান কাজ কী ছিল?উত্তর: গিল্ডের প্রধান কাজ ছিল জিনিসপত্রের গুণমান এবং দাম ঠিক করা, এবং বিপদের সময় কারিগর বা ব্যবসায়ীদের সাহায্য করা।
-
অগ্রহার ব্যবস্থা কী?উত্তর: গুপ্ত ও গুপ্ত-পরবর্তী যুগে রাজারা পুণ্যলাভ বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্রাহ্মণ এবং বৌদ্ধ মঠগুলিকে যে নিষ্কর (ট্যাক্স-ফ্রি) জমি দান করতেন, তাকে অগ্রহার ব্যবস্থা বলে।
-
সুদর্শন হ্রদ কেন তৈরি করা হয়েছিল?উত্তর: গুজরাটের খরা-প্রবণ এলাকায় কৃষিকাজে জলসেচের সুবিধার জন্য মৌর্য আমলে সুদর্শন হ্রদ তৈরি করা হয়েছিল।
-
রেশম পথ (Silk Route) কী?উত্তর: প্রাচীনকালে চিন থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে রোম পর্যন্ত যে পথ দিয়ে রেশম বা সিল্কের বাণিজ্য চলত, তাকে রেশম পথ বলা হয়। কুষাণরা এই পথের একাংশ নিয়ন্ত্রণ করত।
-
স্ত্রী-ধন কী? এর ওপর কার অধিকার ছিল?উত্তর: বিয়ের সময় মেয়েরা বাবা-মা বা শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে যেসব উপহার ও সম্পদ পেত তাকে স্ত্রী-ধন বলা হতো। এর ওপর একমাত্র মেয়েদেরই অধিকার ছিল।
-
ফা-হিয়েন চণ্ডালদের সম্পর্কে কী বলেছেন?উত্তর: ফা-হিয়েন বলেছেন যে চণ্ডালদের অস্পৃশ্য মনে করা হতো, তারা গ্রামের বাইরে থাকত এবং গ্রামে ঢুকলে অন্যদের সতর্ক করার জন্য কাঠে কাঠ ঠুকে শব্দ করত।
-
প্রাচীন ভারতে কর বা ট্যাক্স কেন নেওয়া হতো?উত্তর: বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করার খরচ, রাজকর্মচারীদের বেতন এবং সেনাবাহিনী পোষার জন্য কৃষকদের কাছ থেকে কর নেওয়া হতো।
-
বলি ও ভাগ কী?উত্তর: প্রাচীন ভারতে কৃষকদের আয়ের ওপর রাজাকে যে নির্দিষ্ট কর দিতে হতো তার প্রধান দুটি ভাগ হলো বলি এবং ভাগ।
-
তাম্রলিপ্ত বন্দরটি কোথায় অবস্থিত ছিল?উত্তর: তাম্রলিপ্ত প্রাচীন বাংলার একটি বিখ্যাত সমুদ্র বন্দর, যা বর্তমান পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক অঞ্চলে অবস্থিত ছিল।
-
দাক্ষিণাত্যে তুলো চাষ ভালো হতো কেন?উত্তর: দাক্ষিণাত্যের মাটি ছিল কালো এবং আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে তৈরি, যা কার্পাস বা তুলো চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল।
-
সুয়ান জাং-এর মতে হর্ষবর্ধনের আমলে কর ব্যবস্থা কেমন ছিল?উত্তর: চিনা পরিব্রাজক সুয়ান জাং-এর মতে হর্ষবর্ধনের আমলে করের বোঝা খুব বেশি বা ভারী ছিল না, প্রজাদের আয়ের মাত্র ১/৬ অংশ কর দিতে হতো।
-
চণ্ডাল কাদের বলা হতো?উত্তর: প্রাচীন সমাজে চার বর্ণের বাইরে সমাজের সবথেকে নীচুতলার মানুষদের চণ্ডাল বলা হতো। তারা প্রধানত রাস্তা পরিষ্কার করা বা শবদাহ করার কাজ করত।
-
মৌর্য-পরবর্তী যুগে বাণিজ্যে উন্নতির একটি বড়ো কারণ লেখো।উত্তর: মৌর্য-পরবর্তী যুগে রোমান সাম্রাজ্যের সাথে ভারতের সামুদ্রিক ব্যবসা শুরু হওয়ায় বাণিজ্যের প্রভূত উন্নতি হয়েছিল।
-
শুঙ্গ ও কুষাণ যুগে কোন শিল্পের খুব উন্নতি হয়েছিল?উত্তর: শুঙ্গ ও কুষাণ যুগে পোড়ামাটির শিল্পের (Terracotta art) খুব উন্নতি হয়েছিল। মাটি দিয়ে খেলনা, মূর্তি ও থালা-বাসন বানানো হতো।
-
মথুরা কীসের জন্য বিখ্যাত ছিল?উত্তর: প্রাচীনকালে মথুরা শহর সূক্ষ্ম সুতির কাপড় এবং 'শাটক' নামক বিশেষ পোশাক তৈরির জন্য বিখ্যাত ছিল।
-
প্রাচীন ভারতে মহাজনদের কাজ কী ছিল?উত্তর: বাণিজ্যের উন্নতির সাথে সাথে টাকার লেনদেন বাড়ে। এই সময় মহাজনরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে টাকা ধার দিত এবং তার বিনিময়ে সুদ নিত।
-
মেগাস্থিনিস তাঁর বর্ণনায় ভারতের দাসপ্রথা সম্পর্কে কী বলেছেন?উত্তর: মেগাস্থিনিস তাঁর বর্ণনায় বলেছিলেন যে ভারতে দাসপ্রথা ছিল না। কিন্তু অন্যান্য প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে সেই সময় দাসপ্রথার অস্তিত্ব ছিল।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions - 3/5 Marks)
-
প্রথম নগরায়ণ (হরপ্পা) এবং দ্বিতীয় নগরায়ণ (মহাজনপদ)-এর মধ্যে পার্থক্যগুলি লেখো।
উত্তর: ভারতীয় উপমহাদেশে দুটি পর্যায়ে নগরায়ণ হয়েছিল, যাদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে:
১) সময়কাল ও স্থান: প্রথম নগরায়ণ বা হরপ্পা সভ্যতা গড়ে উঠেছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ থেকে ১৫০০ অব্দের মধ্যে সিন্ধু উপত্যকায়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় নগরায়ণ শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে, মূলত গঙ্গা নদীর উপত্যকায়।
২) ধাতুর ব্যবহার: প্রথম নগরায়ণ ছিল তামা ও ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা, তারা লোহার ব্যবহার জানত না। কিন্তু দ্বিতীয় নগরায়ণের মূল ভিত্তি ছিল লোহার ব্যবহার (লোহার লাঙল, অস্ত্র)।
৩) লিপির ব্যবহার: হরপ্পা সভ্যতার লিপি আজও পড়া যায়নি। কিন্তু দ্বিতীয় নগরায়ণের যুগে ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী লিপি ব্যবহৃত হতো, যা ঐতিহাসিকরা পড়তে পেরেছেন।
৪) পরিকল্পনা: হরপ্পার নগর পরিকল্পনা অত্যন্ত নিখুঁত ও উন্নত ছিল (যেমন- সুন্দর নিকাশি ব্যবস্থা)। কিন্তু দ্বিতীয় নগরায়ণের নগরগুলি ততটা নিখুঁত পরিকল্পনায় গড়ে ওঠেনি। -
গিল্ড (Guild) বা সংঘ কীভাবে গড়ে উঠেছিল? গিল্ডের কাজগুলি কী কী ছিল?
উত্তর: গিল্ড গড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট: প্রাচীন ভারতে কৃষির পাশাপাশি কারিগরি শিল্প এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের খুব উন্নতি হয়। কারিগর এবং ব্যবসায়ীরা নিজেদের পেশার সুবিধা, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য একজোট হয়ে সমবায় বা সংগঠন তৈরি করে। একেই গিল্ড বা শ্রেণি বলা হতো।
গিল্ডের কাজগুলি হলো:
১) গুণমান ও দাম নির্ধারণ: কারিগরদের তৈরি জিনিসপত্রের গুণমান এবং তার সঠিক দাম ঠিক করা গিল্ডের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল।
২) নিয়মকানুন তৈরি: গিল্ড নিজেদের সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মকানুন বানাত, যা সবাইকে মেনে চলতে হতো।
৩) সদস্যদের সাহায্য: কোনো সদস্য বিপদে পড়লে বা আর্থিক সমস্যায় পড়লে গিল্ড তাকে সাহায্য করত।
৪) ব্যাঙ্কের কাজ: অনেক গিল্ড ব্যাঙ্কের মতো কাজ করত, অর্থাৎ সাধারণ মানুষের টাকা জমা রাখত এবং সেই টাকায় ব্যবসা করত। -
প্রাচীন ভারতে জলসেচ ব্যবস্থা কেন গড়ে উঠেছিল? সুদর্শন হ্রদের ইতিহাস সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: প্রাচীন ভারতের অর্থনীতি মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিল। সব জায়গায় বৃষ্টিপাত সমান হতো না। তাই চাষের জমিতে সারা বছর জলের জোগান দেওয়ার জন্যই রাজারা খাল কেটে ও জলাধার বানিয়ে জলসেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন।
সুদর্শন হ্রদের ইতিহাস:
১) নির্মাণ: গুজরাটের কাথিয়াবাড় অঞ্চল খুব খরা-প্রবণ ছিল। তাই কৃষিকাজের সুবিধার জন্য মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য পাহাড়ের জল আটকে 'সুদর্শন হ্রদ' খনন শুরু করেন। পরে সম্রাট অশোক এই হ্রদ থেকে জলসেচের জন্য খাল কেটে দেন।
২) সংস্কার: বন্যা বা ঝড়ে বারবার এই হ্রদের বাঁধ ভেঙে যেত। শক শাসক রুদ্রদমন প্রচুর নিজের টাকা খরচ করে এই হ্রদটি মেরামত করেছিলেন।
৩) পরবর্তী সংস্কার: গুপ্ত সম্রাট স্কন্দগুপ্তের আমলেও এই হ্রদের বাঁধ ভেঙে গেলে তাঁর প্রাদেশিক শাসক পর্ণদত্ত হ্রদটি পুনরায় মেরামত করেছিলেন। এর থেকে বোঝা যায় কৃষির জন্য রাজারা সেচব্যবস্থাকে কতটা গুরুত্ব দিতেন। -
গুপ্ত ও গুপ্ত-পরবর্তী যুগে অগ্রহার ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো? এর ফলাফল কী হয়েছিল?
উত্তর: অগ্রহার ব্যবস্থা: গুপ্ত ও গুপ্ত-পরবর্তী যুগে রাজারা অনেক সময় ধর্মীয় উদ্দেশ্যে বা পুণ্যলাভের আশায় ব্রাহ্মণ, পুরোহিত এবং বৌদ্ধ বা জৈন মঠগুলিকে জমি দান করতেন। এই দান করা জমিগুলি ছিল সম্পূর্ণ নিষ্কর, অর্থাৎ এই জমির জন্য রাজাকে কোনো ট্যাক্স বা কর দিতে হতো না। এই প্রথাকেই অগ্রহার বা ব্রহ্মদেয় ব্যবস্থা বলা হয়।
অগ্রহার ব্যবস্থার ফলাফল:
১) এই ব্যবস্থার ফলে ব্রাহ্মণ ও মন্দিরগুলির প্রচুর জমি-জমা এবং সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
২) সমাজে ব্রাহ্মণদের ক্ষমতা ও সম্মান অনেক গুণ বেড়ে যায়।
৩) যে জমিতে আগে চাষ হতো না, সেইসব জমি ব্রাহ্মণরা দান হিসেবে পাওয়ায় সেখানে নতুন করে কৃষিকাজ শুরু হয়, ফলে কৃষি এলাকার বিস্তার ঘটে।
৪) তবে কিছু ক্ষেত্রে কৃষকদের অবস্থা খারাপ হয়, কারণ ব্রাহ্মণ জমির মালিকরা কৃষকদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় করত। -
প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে নারী ও চণ্ডালদের সামাজিক অবস্থান কেমন ছিল?
উত্তর: নারীদের অবস্থান: প্রাচীন ভারতে, বিশেষ করে পরবর্তী বৈদিক ও গুপ্ত যুগে নারীদের সামাজিক মর্যাদা বেশ খারাপ ছিল। সমাজে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবল ছিল। বাল্যবিবাহের চল ছিল এবং মেয়েদের নিজের পছন্দের বিয়েকে খুব একটা ভালো চোখে দেখা হতো না। নারীদের সাধারণত রাজনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অংশ নিতে দেওয়া হতো না। তবে, বিয়ের সময় পাওয়া উপহার বা 'স্ত্রী-ধন'-এর ওপর নারীদের অধিকার ছিল।
চণ্ডালদের অবস্থান: সমাজে ব্রাহ্মণদের ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে বর্ণব্যবস্থা খুব কঠোর হয়ে পড়ে। সমাজের সবথেকে নীচে স্থান ছিল চণ্ডালদের। চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েনের বিবরণ থেকে জানা যায় যে চণ্ডালদের অস্পৃশ্য মনে করা হতো। তাদের গ্রামের বাইরে থাকতে বাধ্য করা হতো এবং গ্রামে ঢুকলে কাঠে কাঠ ঠুকে শব্দ করতে হতো যাতে সাধারণ মানুষ তাদের ছুঁয়ে না ফেলে। তারা সাধারণত রাস্তা পরিষ্কার, পশু শিকার ও শবদাহ করার কাজ করত।