ষষ্ঠ শ্রেণীর ইতিহাস বইয়ের পঞ্চম অধ্যায় "খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের ভারতীয় উপমহাদেশ : রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং ধর্মের বিবর্তন - উত্তর ভারত"-এর সম্পূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই অধ্যায়ে ষোড়শ মহাজনপদ, মগধের উত্থান, এবং নতুন ধর্ম আন্দোলন (জৈন ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম)-এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
-
প্রাচীন ভারতে গ্রামের থেকে বড়ো অঞ্চলকে কী বলা হতো?উত্তর: জন
-
সাধারণ মানুষ বা জনগণ যেখানে পাকাপাকিভাবে বাস করত তাকে কী বলা হতো?উত্তর: জনপদ
-
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে কয়টি মহাজনপদের কথা জানা যায়?উত্তর: ১৬টি (ষোড়শ মহাজনপদ)
-
মহাজনপদগুলির বেশিরভাগই কোথায় অবস্থিত ছিল?উত্তর: উত্তর ভারতে (গঙ্গা উপত্যকায়)
-
দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত একমাত্র মহাজনপদ কোনটি ছিল?উত্তর: অশ্মক
-
মহাজনপদগুলির মধ্যে কোন মহাজনপদটি সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে?উত্তর: মগধ
-
মগধের প্রথম রাজধানী কোথায় ছিল?উত্তর: রাজগৃহ
-
মগধের পরবর্তী রাজধানী কোথায় স্থানান্তরিত হয়?উত্তর: পাটলিপুত্রে
-
বজ্জি বা বৃজি মহাজনপদের রাজধানী কোথায় ছিল?উত্তর: বৈশালী
-
বৃজি এবং মল্ল- এই দুটি কী ধরনের মহাজনপদ ছিল?উত্তর: গণরাজ্য (প্রজাতান্ত্রিক)
-
হর্যঙ্ক বংশের প্রথম শক্তিশালী রাজা কে ছিলেন?উত্তর: বিম্বিসার
-
বিম্বিসারের পর কে মগধের সিংহাসনে বসেন?উত্তর: অজাতশত্রু
-
কৃষিকাজের উন্নতির জন্য খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে কোন ধাতুর ব্যবহার বেড়েছিল?উত্তর: লোহা
-
জৈন ধর্মের প্রধান প্রচারকদের কী বলা হতো?উত্তর: তীর্থংকর
-
জৈন ধর্মে মোট কতজন তীর্থংকর ছিলেন?উত্তর: ২৪ জন
-
জৈন ধর্মের ২৩তম তীর্থংকর কে ছিলেন?উত্তর: পার্শ্বনাথ
-
জৈন ধর্মের ২৪তম বা শেষ তীর্থংকর কে ছিলেন?উত্তর: বর্ধমান মহাবীর
-
পার্শ্বনাথের প্রচারিত চারটি মূল নীতিকে একসঙ্গে কী বলা হয়?উত্তর: চতুর্যাম
-
মহাবীর চতুর্যামের সঙ্গে পঞ্চম কোন ব্রতটি যোগ করেছিলেন?উত্তর: ব্রহ্মচর্য (সব মিলিয়ে পঞ্চমহাব্রত)
-
যেসব জৈন সন্ন্যাসীরা কোনো পোশাক পরতেন না, তাঁদের কী বলা হতো?উত্তর: দিগম্বর
-
যেসব জৈন সন্ন্যাসীরা সাদা পোশাক পরতেন, তাঁদের কী বলা হতো?উত্তর: শ্বেতাম্বর
-
গৌতম বুদ্ধের জন্ম কোন বংশে হয়েছিল?উত্তর: শাক্য বংশে
-
গৌতম বুদ্ধের প্রকৃত নাম কী ছিল?উত্তর: সিদ্ধার্থ
-
গৌতম বুদ্ধ প্রথম কোথায় তাঁর ধর্মপ্রচার করেন?উত্তর: সারনাথে (মৃগদাবে)
-
বৌদ্ধ ধর্মে মানুষের জীবনে দুঃখের মূল কারণ কী বলা হয়েছে?উত্তর: কামনা বা বাসনা
-
বৌদ্ধ ধর্মে দুঃখ দূর করার আটটি পথকে একসঙ্গে কী বলা হয়?উত্তর: অষ্টাঙ্গিক মার্গ
-
বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম কী?উত্তর: ত্রিপিটক
-
ত্রিপিটক কোন ভাষায় লেখা হয়েছিল?উত্তর: পালি ভাষায়
-
জৈন ধর্মের প্রধান গ্রন্থগুলি কোন ভাষায় লেখা হতো?উত্তর: প্রাকৃত (অর্ধমাগধী) ভাষায়
-
মহাবীর কথায় দেহত্যাগ বা নির্বাণ লাভ করেন?উত্তর: পাবা নগরীতে
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ - 1 Mark)
-
জনপদ কাকে বলে?উত্তর: প্রাচীন ভারতে সাধারণ মানুষ বা জনগণ কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় পাকাপাকিভাবে বাস করতে শুরু করলে, সেই জায়গাকে জনপদ বলা হতো।
-
মহাজনপদ কী?উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের দিকে কয়েকটি জনপদ আয়তনে ও ক্ষমতায় বৃদ্ধি পেয়ে বড়ো রাজ্যে পরিণত হয়, এদেরই মহাজনপদ বলা হতো।
-
ষোড়শ মহাজনপদ বলতে কী বোঝায়?উত্তর: বৌদ্ধ ও জৈন সাহিত্য থেকে জানা যায় যে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে ১৬টি বড়ো মহাজনপদ ছিল। এদের একসঙ্গে ষোড়শ মহাজনপদ বলা হয়।
-
দুটি প্রজাতান্ত্রিক মহাজনপদের নাম লেখো।উত্তর: মল্ল এবং বৃজি (বা বজ্জি) হলো দুটি প্রজাতান্ত্রিক বা গণরাজ্য মহাজনপদ।
-
গণরাজ্য বা প্রজাতান্ত্রিক রাজ্য কাকে বলে?উত্তর: যে সব মহাজনপদে কোনো একজন রাজা বংশানুক্রমিকভাবে শাসন করতেন না, বরং সাধারণ মানুষ আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতেন কে রাজ্য চালাবেন, তাদের গণরাজ্য বলে।
-
মগধ রাজ্যের দুটি রাজধানীর নাম লেখো।উত্তর: মগধের প্রথম রাজধানী ছিল রাজগৃহ এবং পরবর্তীকালের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র।
-
தீর্থংকর কাদের বলা হয়?উত্তর: জৈন ধর্মে যাঁরা প্রধান ধর্মপ্রচারক এবং ধর্মগুরু ছিলেন, তাঁদের তীর্থংকর বলা হতো। প্রথম তীর্থংকর ছিলেন ঋষভনাথ।
-
চতুর্যাম কী?উত্তর: জৈনদের ২৩তম তীর্থংকর পার্শ্বনাথ জৈনদের জন্য চারটি মূল নীতি মেনে চলার নির্দেশ দেন- প্রাণী হত্যা না করা, মিথ্যা না বলা, চুরি না করা এবং অপরের সম্পত্তি দখল না করা। এই চার নীতিকে চতুর্যাম বলে।
-
পঞ্চমহাব্রত কাকে বলে?উত্তর: পার্শ্বনাথের চারটি নীতির (চতুর্যাম) সাথে ২৪তম তীর্থংকর মহাবীর 'ব্রহ্মচর্য' পালনের নীতিটি যোগ করেন। এই পাঁচটি নীতিকে একত্রে পঞ্চমহাব্রত বলা হয়।
-
শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর কাদের বলা হয়?উত্তর: জৈন সন্ন্যাসীদের মধ্যে যাঁরা মহাবীরের পথ মেনে কোনো পোশাক পরতেন না তাঁদের দিগম্বর বলা হতো, আর যাঁরা পার্শ্বনাথের পথ মেনে সাদা কাপড় পরতেন তাঁদের শ্বেতাম্বর বলা হতো।
-
আর্যসত্য কী?উত্তর: গৌতম বুদ্ধ মানুষের জীবনের দুঃখ দূর করার জন্য চারটি মূল উপদেশের কথা বলেছিলেন, এই চারটি উপদেশকেই বৌদ্ধধর্মে আর্যসত্য বলা হয়।
-
অষ্টাঙ্গিক মার্গ কী?উত্তর: বৌদ্ধ ধর্মে দুঃখ থেকে মুক্তির জন্য গৌতম বুদ্ধ আটটি পথের কথা বলেছিলেন (যেমন- সদ্বাক্য, সৎকার্য ইত্যাদি), এই আটটি পথকে একসঙ্গে অষ্টাঙ্গিক মার্গ বলে।
-
ত্রিপিটক-এর তিনটি পিটকের নাম কী কী?উত্তর: ত্রিপিটকের তিনটি ভাগ হলো- সুত্ত পিটক, বিনয় পিটক এবং অভিধম্ম পিটক।
-
হীনযান ও মহাযান কী?উত্তর: পরবর্তীকালে বৌদ্ধ ধর্ম দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যায়। যাঁরা বুদ্ধের মূর্তি পুজো করতেন তাঁরা হলেন মহাযান, আর যাঁরা বুদ্ধের আদি উপদেশ মেনে চলতেন তাঁরা হলেন হীনযান।
-
জৈন ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম কী?উত্তর: জৈন ধর্মের প্রধান গ্রন্থগুলির নাম হলো 'দ্বাদশ অঙ্গ', যা প্রাকৃত ভাষায় লেখা হয়েছিল।
-
আজীবিক ধর্মমতের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?উত্তর: আজীবিক নামক একটি নতুন ধর্মমতের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গোশাল বা মঙ্খলিপুত্ত গোশাল।
-
গৌতম বুদ্ধ কোথায় তপস্যা করে জ্ঞান বা বোধি লাভ করেন?উত্তর: বিহারের বুদ্ধগয়ায় একটি অশ্বত্থ গাছের নীচে বসে তপস্যা করে তিনি জ্ঞান বা বোধি লাভ করেছিলেন।
-
ধর্মচক্র প্রবর্তন কী?উত্তর: গৌতম বুদ্ধ জ্ঞান লাভের পর সারনাথে তাঁর প্রথম পাঁচজন সঙ্গীকে তাঁর উপদেশ শুনিয়েছিলেন। বুদ্ধের এই প্রথম ধর্মপ্রচারকেই 'ধর্মচক্র প্রবর্তন' বলা হয়।
-
মগধ কোন নদীর তীরে অবস্থিত ছিল?উত্তর: মগধ মূলত গঙ্গা এবং শোন নদীর তীরে অবস্থিত ছিল, যা সেখানকার কৃষিকাজ ও বাণিজ্যের জন্য খুব সুবিধাজনক ছিল।
-
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে লোহার ব্যবহার কেন বেড়েছিল?উত্তর: কৃষিকাজে লাঙলের ফলা হিসেবে এবং বন জঙ্গল পরিষ্কার করে নতুন জনপদ তৈরির জন্য লোহার অস্ত্রের ব্যবহার এই সময়ে খুব বেড়ে গিয়েছিল।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions - 3/5 Marks)
-
ষোড়শ মহাজনপদগুলির মধ্যে মগধ সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল কেন? মগধের উত্থানের কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ষোড়শ মহাজনপদগুলির মধ্যে মগধ সবচেয়ে বড়ো ও শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। এর পিছনে কয়েকটি কারণ ছিল:
১) ভৌগোলিক সুবিধা: মগধের রাজধানী রাজগৃহ পাহাড় দিয়ে ঘেরা ছিল, ফলে শত্রুদের আক্রমণ করা কঠিন ছিল। পরের রাজধানী পাটলিপুত্র ছিল গঙ্গা ও শোন নদীর তীরে, ফলে নৌ-বাণিজ্যে সুবিধা হতো।
২) খনিজ সম্পদ: মগধ অঞ্চলে প্রচুর লোহার খনি ছিল। ফলে মগধের রাজারা মজবুত লোহার অস্ত্র ও চাষের উন্নত যন্ত্রপাতি বানাতে পারতেন।
৩) কৃষিকাজ: গঙ্গা উপত্যকার উর্বর পলিমটির কারণে মগধে প্রচুর ফসল উৎপন্ন হতো। ফলে রাজ্যের আয় বেড়েছিল।
৪) হাতির ব্যবহার: মগধের জঙ্গলে প্রচুর হাতি পাওয়া যেত। সেই হাতিগুলিকে মগধের রাজারা প্রথম নিজেদের সেনাবাহিনীতে সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার করেছিলেন।
৫) শক্তিশালী রাজা: বিম্বিসার, অজাতশত্রুর মতো দূরদর্শী রাজারা নিজেদের বুদ্ধি ও পরাক্রমে মগধের শক্তি বৃদ্ধি করেছিলেন। -
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে নতুন ধর্ম আন্দোলন (জৈন ও বৌদ্ধ ধর্ম) শুরু হওয়ার পিছনে কী কী কারণ ছিল?
উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে প্রাচীন বৈদিক বা ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রতিবাদে জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের মতো নতুন ধর্মমতের উত্থান ঘটেছিল। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
১) কৃষিকাজে বাধা: এই সময় অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর হয়ে পড়েছিল। চাষের জন্য গোরুর খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বৈদিক যজ্ঞে প্রচুর পশু ও গোরু বলি দেওয়ার ফলে কৃষিকাজে বিশাল ক্ষতি হচ্ছিল। তাই সাধারণ মানুষ পশুহত্যা বন্ধ করতে চাইছিল।
২) বর্ণপ্রথার কঠোরতা: বৈদিক সমাজে জন্মগত বর্ণপ্রথা খুব কঠোর হয়ে উঠেছিল। ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়দের ক্ষমতা বেড়েছিল এবং বৈশ্য ও শূদ্রদের সামাজিক সম্মান ছিল না।
৩) ব্রাহ্মণদের প্রতি ক্ষোভ: যজ্ঞ ও পূজাপাঠ খুব খরচসাপেক্ষ এবং সংস্কৃত ভাষায় হতো যা সাধারণ মানুষের বোধগম্য ছিল না। এর ফলে সাধারণ মানুষ এমন এক সহজ ধর্মের খোঁজ করছিল যেখানে খরচ নেই এবং যা সবার বোধগম্য। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম প্রাকৃত ও পালি ভাষায় সহজভাবে প্রচার করায় মানুষ সেদিকে আকৃষ্ট হয়। -
বৌদ্ধ ধর্মের মূল উপদেশ বা নীতিগুলি (আর্যসত্য ও অষ্টাঙ্গিক মার্গ) সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: গৌতম বুদ্ধের প্রচারিত বৌদ্ধ ধর্মের মূল উপদেশগুলি খুবই সহজ ও সরল ছিল।
আর্যসত্য: বুদ্ধ মানুষের জীবনের দুঃখ দূর করার জন্য চারটি মূল কথা বলেছিলেন যাকে আর্যসত্য বলে। এগুলি হলো:
১) পৃথিবীতে মানুষের জীবনে দুঃখ আছে।
২) এই দুঃখের মূল কারণ হলো মানুষের নানা বিষয়ে কামনা বা বাসনা।
৩) কামনা ও বাসনা দূর করতে পারলেই দুঃখ দূর করা সম্ভব।
৪) দুঃখ দূর করার জন্য আটটি সঠিক পথ বা উপায় আছে।অষ্টাঙ্গিক মার্গ: দুঃখ থেকে মুক্তির জন্য বুদ্ধ যে আটটি পথের কথা বলেছিলেন তাকে অষ্টাঙ্গিক মার্গ বলে। মার্গ মানে পথ। এই আটটি পথ হলো- সঠিক দেখা, সঠিক সংকল্প, সঠিক বাক্য, সঠিক আচরণ, সঠিক জীবনযাপন, সঠিক চেষ্টা, সঠিক চিন্তা এবং সঠিক ধ্যান। এই পথগুলি মেনে চললেই মানুষ নির্বাণ বা মুক্তি লাভ করতে পারে।
-
জৈন ধর্মের মূল নীতিগুলি (চতুর্যাম ও পঞ্চমহাব্রত) কী কী ছিল?
উত্তর: জৈন ধর্মের মূল লক্ষ্য ছিল অহিংসা ও সংযম।
চতুর্যাম: জৈনদের ২৩তম তীর্থংকর পার্শ্বনাথ জৈনদের জন্য চারটি মূল নীতি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই চারটি নীতিকে একসঙ্গে চতুর্যাম বলা হয়। নীতিগুলি হলো:
১) কোনো প্রাণী হত্যা না করা (অহিংসা)।
২) কখনো মিথ্যা কথা না বলা।
৩) অপরের জিনিস চুরি না করা।
৪) নিজের জন্য কোনো সম্পত্তি বা ধন-সম্পদ জমিয়ে না রাখা।পঞ্চমহাব্রত: পরবর্তীকালে জৈন ধর্মের ২৪তম তীর্থংকর বর্ধমান মহাবীর পার্শ্বনাথের এই চারটি নীতির সঙ্গে আরও একটি নীতি যোগ করেন। সেটি হলো 'ব্রহ্মচর্য' পালন করা। এই পাঁচটি নীতিকে একত্রে পঞ্চমহাব্রত বলা হয়। এই ব্রত কঠোরভাবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
-
জৈন ধর্ম এবং বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে প্রধান সাদৃশ্য (মিল) ও বৈসাদৃশ্য (অমিল) গুলি লেখো।
উত্তর:
সাদৃশ্য বা মিল:
১) দুটি ধর্মই ব্রাহ্মণদের তৈরি করা কঠোর বর্ণভেদ প্রথা এবং বেদের আধিপত্যকে অস্বীকার করেছিল।
২) দুটি ধর্মই যজ্ঞের নামে পশুহত্যা বা বলিদানের চরম বিরোধিতা করেছিল এবং অহিংসার ওপর জোর দিয়েছিল।
৩) দুটি ধর্মই সংস্কৃত ভাষার বদলে সাধারণ মানুষের ভাষা (জৈনরা প্রাকৃত এবং বৌদ্ধরা পালি ভাষা) ব্যবহার করে ধর্ম প্রচার করেছিল।
৪) মহাবীর এবং গৌতম বুদ্ধ- দুজনেই ক্ষত্রিয় বংশের সন্তান ছিলেন।বৈসাদৃশ্য বা অমিল:
১) তপস্যার ধরন: জৈন ধর্মে কঠোর তপস্যা এবং শরীরকে কষ্ট দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মে কঠোর তপস্যা বা চরম ভোগ-বিলাস কোনোটিকেই সমর্থন করা হয়নি, বুদ্ধ 'মধ্যমপন্থা' বা মাঝখানের পথ নিতে বলেছিলেন।
২) অহিংসার কঠোরতা: জৈন ধর্মে অহিংসা নীতি খুব কঠোরভাবে মানা হতো (এমনকী কৃষিকাজকেও তারা পাপ মনে করত, কারণ মাটিতে পোকা মারা যায়)। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মে অহিংসা অতটা কঠোর ছিল না।