ষষ্ঠ শ্রেণীর ইতিহাস বইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায় "সাম্রাজ্য বিস্তার ও শাসন : আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের প্রথম ভাগ"-এর সম্পূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই অধ্যায়ে আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণ, মৌর্য সাম্রাজ্য, কুষাণ শাসন, গুপ্ত সাম্রাজ্য এবং হর্ষবর্ধনের শাসনকালের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
-
ভারতের জাতীয় প্রতীক হিসাবে কোনটি গ্রহণ করা হয়েছে?উত্তর: সারনাথে পাওয়া অশোকস্তম্ভ
-
আলেকজান্ডার কোন দেশের রাজা ছিলেন?উত্তর: ম্যাসিডনের (গ্রিসের)
-
আলেকজান্ডার কত বছর বয়সে ম্যাসিডনের রাজা হন?উত্তর: ২০ বছর বয়সে
-
আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময় মগধের রাজা কে ছিলেন?উত্তর: ধননন্দ (নন্দ বংশের শেষ রাজা)
-
পুরু এবং আলেকজান্ডারের মধ্যে যুদ্ধ কোথায় হয়েছিল?উত্তর: ঝিলম নদীর ধারে
-
মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?উত্তর: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
-
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধান পরামর্শদাতা কে ছিলেন?উত্তর: চাণক্য বা কৌটিল্য
-
কৌটিল্যের লেখা বিখ্যাত বইটির নাম কী?উত্তর: অর্থশাস্ত্র
-
গ্রিক শাসক সেলুকাস কাকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজসভায় দূত হিসেবে পাঠিয়েছিলেন?উত্তর: মেগাস্থিনিসকে
-
মেগাস্থিনিসের লেখা বইটির নাম কী?উত্তর: ইন্ডিকা
-
কলিঙ্গ যুদ্ধ কত খ্রিস্টপূর্বাব্দে হয়েছিল?উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দে
-
কলিঙ্গ যুদ্ধের পর কে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন?উত্তর: সম্রাট অশোক
-
অশোক তাঁর শাসনকালে কোন নীতি প্রচার করেছিলেন?উত্তর: ধম্ম (অহিংসা ও শান্তির নীতি)
-
মৌর্য সাম্রাজ্যের শেষ রাজা কে ছিলেন?উত্তর: বৃহদ্রথ
-
কুষাণরা মূলত কোন দেশের যাজাবর উপজাতি ছিল?উত্তর: চিনের
-
কুষাণ সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট কে ছিলেন?উত্তর: কনিষ্ক
-
শকাব্দ বা কনিষ্কাব্দ কবে শুরু হয়?উত্তর: ৭৮ খ্রিস্টাব্দে
-
কনিষ্কের রাজসভার একজন বিখ্যাত চিকিৎসক কে ছিলেন?উত্তর: চরক
-
গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রথম শক্তিশালী সম্রাট কে ছিলেন?উত্তর: প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
-
গুপ্তাব্দ কে চালু করেন?উত্তর: প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (৩১৯-৩২০ খ্রিস্টাব্দে)
-
গুপ্ত সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট কে ছিলেন?উত্তর: সমুদ্রগুপ্ত
-
এলাহাবাদ প্রশস্তি কে রচনা করেন?উত্তর: হরিষেণ (সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি)
-
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের উপাধি কী ছিল?উত্তর: বিক্রমাদিত্য
-
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত কাদের পরাজিত করে শকারি উপাধি নিয়েছিলেন?উত্তর: শকদের
-
ফা-হিয়েন কার রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন?উত্তর: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে
-
গুপ্ত বংশের শেষ শক্তিশালী সম্রাট কে ছিলেন?উত্তর: স্কন্দগুপ্ত
-
হর্ষবর্ধন কবে রাজা হন (হর্ষাব্দ শুরু হয়)?উত্তর: ৬০৬ খ্রিস্টাব্দে
-
বাণভট্ট কার সভাকবি ছিলেন?উত্তর: হর্ষবর্ধনের
-
সুয়ান জাং (হিউয়েন সাং) কার রাজত্বকালে ভারতে আসেন?উত্তর: হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে
-
দক্ষিণ ভারতে চালুক্য বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন?উত্তর: দ্বিতীয় পুলকেশী
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ - 1 Mark)
-
সাম্রাজ্য বলতে কী বোঝায়?উত্তর: যখন একজন রাজা অনেকগুলো ছোটো ছোটো রাজ্য যুদ্ধ করে দখল করে একটি বিশাল রাষ্ট্র গড়ে তোলেন, তখন তাকে সাম্রাজ্য বলা হয়।
-
আলেকজান্ডার কেন ভারতে বেশিদিন থাকতে পারেননি?উত্তর: দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে ম্যাসিডনের সৈন্যরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল এবং তারা গ্রিসে ফিরে যেতে বিদ্রোহ করেছিল, তাই আলেকজান্ডার বেশিদিন ভারতে থাকতে পারেননি।
-
নন্দ বংশের পতন কে ঘটিয়েছিলেন?উত্তর: চাণক্যের সাহায্যে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে নন্দ বংশের পতন ঘটিয়েছিলেন।
-
অর্থশাস্ত্র বইটির বিষয়বস্তু কী?উত্তর: কৌটিল্যের লেখা 'অর্থশাস্ত্র' মূলত একটি রাষ্ট্রনীতি এবং রাজধর্ম সম্পর্কিত বই, যেখানে রাজা কীভাবে রাজ্য শাসন করবেন তার নিয়মাবলি লেখা আছে।
-
মেগাস্থিনিস কে ছিলেন?উত্তর: মেগাস্থিনিস ছিলেন গ্রিক শাসক সেলুকাসের পাঠানো একজন দূত, যিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজসভায় এসেছিলেন। তাঁর লেখা বইয়ের নাম 'ইন্ডিকা'।
-
কলিঙ্গ যুদ্ধ সম্রাট অশোকের জীবনে কী পরিবর্তন এনেছিল?উত্তর: কলিঙ্গ যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু দেখে অশোক গভীরভাবে শোকাহত হন। তিনি চিরকালের জন্য যুদ্ধ করা ছেড়ে দেন এবং বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে অহিংসার পথ বেছে নেন।
-
অশোকের ধম্ম কী?উত্তর: অশোক প্রজাদের নৈতিক উন্নতির জন্য বেশ কিছু সহজ ও ভালো উপদেশ প্রচার করেছিলেন (যেমন- বড়োদের সম্মান করা, পশুহত্যা না করা), একেই অশোকের ধম্ম বলা হয়।
-
মহামাত্র বা মহামাত্য কাদের বলা হতো?উত্তর: মৌর্য সাম্রাজ্যে রাজার পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মচারীদের মহামাত্র বা মহামাত্য বলা হতো। এরা বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন।
-
কুষাণরা কীভাবে ভারতে আসে?উত্তর: চিনের একটি যাযাবর গোষ্ঠী 'ইউ-এ-ঝি'-রা নানা জায়গায় ঘুরে শেষে ব্যাকট্রিয়া ও হিন্দুকুশ পর্বত পার হয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করে কুষাণ সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।
-
কনিষ্ক কেন বৌদ্ধধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন?উত্তর: বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত অশ্বঘোষের প্রভাবে সম্রাট কনিষ্ক বৌদ্ধধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি আয়োজন করেন।
-
চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি কোথায় আয়োজিত হয়েছিল?উত্তর: সম্রাট কনিষ্কের উদ্যোগে কাশ্মীরে (বা জলন্ধরে) চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি আয়োজিত হয়েছিল।
-
মহারাজাধিরাজ উপাধি গুপ্ত সম্রাটরা কেন নিতেন?উত্তর: গুপ্ত সম্রাটরা নিজেদের বিশাল ক্ষমতা এবং অন্যান্য ছোটো রাজাদের ওপর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার জন্য মহারাজাধিরাজ উপাধি নিতেন।
-
এলাহাবাদ প্রশস্তি থেকে কী জানা যায়?উত্তর: এলাহাবাদ প্রশস্তি থেকে গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয়, তাঁর গুণাবলি এবং গুপ্ত সাম্রাজ্যের বিস্তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
-
নবরত্ন কাদের বলা হতো?উত্তর: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত্যের রাজসভায় কালিদাসসহ নয়জন অত্যন্ত গুণী পণ্ডিত ছিলেন, যাঁদের একসঙ্গে নবরত্ন বলা হতো।
-
স্কন্দগুপ্তকে 'ভারতের রক্ষাকর্তা' বলা হয় কেন?উত্তর: দুর্ধর্ষ হুনরা যখন ভারত আক্রমণ করে, তখন স্কন্দগুপ্ত বীরত্বের সঙ্গে তাদের পরাজিত করে ভারতকে রক্ষা করেছিলেন, তাই তাঁকে 'ভারতের রক্ষাকর্তা' বলা হয়।
-
হর্ষবর্ধনের রাজধানী কোথায় ছিল?উত্তর: হর্ষবর্ধনের প্রাথমিক রাজধানী ছিল থানেশ্বর, পরে তিনি কনৌজে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন।
-
হর্ষচরিত বইটি কে লিখেছেন?উত্তর: হর্ষচরিত বইটি লিখেছেন হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্ট। এটি হর্ষবর্ধনের জীবনের অনেক ঘটনা নিয়ে লেখা।
-
সুয়ান জাং (হিউয়েন সাং) কেন ভারতে এসেছিলেন?উত্তর: চিনা পরিব্রাজক সুয়ান জাং মূলত বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ সংগ্রহ করতে এবং বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে আরও পড়াশোনা করার জন্য ভারতে এসেছিলেন।
-
নর্মদা নদীর তীরে হর্ষবর্ধনের সঙ্গে কার যুদ্ধ হয়েছিল?উত্তর: নর্মদা নদীর তীরে হর্ষবর্ধনের সঙ্গে চালুক্য বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা দ্বিতীয় পুলকেশীর যুদ্ধ হয়েছিল, যেখানে হর্ষবর্ধন পরাজিত হন।
-
গুপ্ত যুগে প্রদেশগুলিকে কী বলা হতো?উত্তর: গুপ্ত যুগে সাম্রাজ্যের বিশাল প্রদেশগুলিকে 'ভুক্তি' বা 'দেশ' বলা হতো এবং এর শাসকদের 'উপারিক' বলা হতো।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions - 3/5 Marks)
-
সম্রাট অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধের কারণ এবং ফলাফল আলোচনা করো।
উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ২৬১ অব্দে সম্রাট অশোক কলিঙ্গ (বর্তমান ওড়িশা) আক্রমণ করেন।
কারণ:
১) বাণিজ্যিক স্বার্থ: কলিঙ্গ ছিল সমুদ্রের ধারে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য করার জন্য কলিঙ্গ দখল করা অশোকের কাছে অত্যন্ত জরুরি ছিল।
২) নিরাপত্তা: কলিঙ্গ মগধের খুব কাছে অবস্থিত শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য ছিল, যা মৌর্য সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য বিপদজনক হতে পারত।ফলাফল:
কলিঙ্গ যুদ্ধে অশোক জয়ী হন, কিন্তু এই যুদ্ধে প্রায় এক লক্ষ মানুষ মারা যায় এবং দেড় লক্ষ মানুষ বন্দি হয়। এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলা দেখে অশোক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন জীবনে আর কখনও যুদ্ধ করবেন না। তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধের বদলে 'ধম্ম' বা অহিংসার পথে সাম্রাজ্য শাসনের নীতি গ্রহণ করেন। -
মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন কেন হয়েছিল বলে তুমি মনে করো?
উত্তর: সম্রাট অশোকের মৃত্যুর পর প্রায় পঞ্চাশ বছরের মধ্যেই বিশাল মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটে যায়। এর পিছনে একাধিক কারণ ছিল:
১) দুর্বল উত্তরাধিকারী: অশোকের পরবর্তী রাজারা অত্যন্ত দুর্বল ও অযোগ্য ছিলেন। তাঁরা এত বড়ো সাম্রাজ্য শাসন করার ক্ষমতা রাখতেন না।
২) বিশাল সাম্রাজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: মৌর্য সাম্রাজ্য ছিল বিশাল। পাটলিপুত্র থেকে সুদূর প্রদেশগুলি শাসন করা এবং যোগাযোগ রক্ষা করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।
৩) প্রাদেশিক শাসকদের অত্যাচার: শক্তিশালী রাজার অভাবে দূরের প্রদেশের শাসকরা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করতে শুরু করে, যার ফলে প্রজারা বিদ্রোহ করে।
৪) সেনাবাহিনীর দুর্বলতা: অশোক অহিংস নীতি নেওয়ায় মৌর্য সেনাবাহিনী আর আগের মতো শক্তিশালী ছিল না। ফলে বাইরের আক্রমণ ঠেকানো কঠিন হয়ে যায়। -
সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় সম্পর্কে এলাহাবাদ প্রশস্তি থেকে কী জানা যায়?
উত্তর: গুপ্ত সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয়ের বিষয়ে তাঁর সভাকবি হরিষেণের লেখা 'এলাহাবাদ প্রশস্তি' থেকে বিস্তারিত জানা যায়:
১) আর্যাবর্ত (উত্তর ভারত) জয়: সমুদ্রগুপ্ত উত্তর ভারতের নয় জন রাজাকে যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং তাঁদের রাজ্যগুলিকে সরাসরি নিজের সাম্রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন।
২) দাক্ষিণাত্য (দক্ষিণ ভারত) জয়: দক্ষিণ ভারতে তিনি বারো জন রাজাকে পরাজিত করেন। কিন্তু তিনি এই রাজ্যগুলি নিজের সাম্রাজ্যভুক্ত করেননি। তিনি শুধু তাঁদের কাছ থেকে বশ্যতা ও কর আদায় করে তাঁদের রাজ্য ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, একেই 'গ্রহণ-পরিমােক্ষ' নীতি বলা হয়।
৩) উপজাতিদের বশ্যতা: তাঁর ভয়ে অনেক সীমান্ত রাজ্য এবং উপজাতিরা বিনা যুদ্ধেই তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেছিল। -
গুপ্ত সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: গুপ্ত সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থা ছিল সুসংগঠিত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
১) রাজার ক্ষমতা: শাসনব্যবস্থার শীর্ষে ছিলেন সম্রাট নিজে। তাঁরা 'মহারাজাধিরাজ', 'পরমভট্টারক' ইত্যাদি বিশাল উপাধি নিতেন এবং নিজেদের দেবতার সমান বলে প্রচার করতেন।
২) প্রাদেশিক শাসন: বিশাল সাম্রাজ্যকে শাসনকার্যের সুবিধার জন্য কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল, যেগুলিকে 'ভুক্তি' বা 'দেশ' বলা হতো। এর প্রধানকে বলা হতো 'উপারিক'।
৩) স্থানীয় শাসন (বিষয় ও গ্রাম): ভুক্তিগুলিকে আবার কয়েকটি জেলায় ভাগ করা হতো, যাদের বলা হতো 'বিষয়'। বিষয়ের প্রধানকে বলা হতো 'বিষয়পতি'। সবথেকে ছোটো শাসন স্তর ছিল গ্রাম। গ্রামের শাসন দেখভাল করত 'গ্রামিক'।
৪) কর্মচারী: রাজাকে সাহায্য করার জন্য কুমারামাত্য, সান্ধিবিগ্রহিক প্রভৃতি নানা পদমর্যাদার সরকারি কর্মচারী ছিলেন। -
হর্ষবর্ধনের শাসনকাল এবং তাঁর সাফল্যের বিবরণ দাও।
উত্তর: ৬০৬ খ্রিস্টাব্দে হর্ষবর্ধন থানেশ্বরের সিংহাসনে বসেন এবং তাঁর শাসনকাল থেকেই 'হর্ষাব্দ' শুরু হয়।
১) রাজ্য বিস্তার: তিনি থানেশ্বর ও কনৌজকে একত্র করে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এরপর তিনি বাংলা, বিহার, ওড়িশা এবং উত্তর ভারতের অনেক জায়গা জয় করেন।
২) নর্মদার যুদ্ধ: উত্তর ভারত জয় করে তিনি যখন দক্ষিণ ভারতের দিকে অগ্রসর হন, তখন নর্মদা নদীর তীরে চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশীর কাছে তিনি বাধা পান এবং পরাজিত হন। ফলে নর্মদাই তাঁর সাম্রাজ্যের দক্ষিণ সীমানা হয়ে দাঁড়ায়।
৩) শাসনব্যবস্থা: হর্ষবর্ধন খুব দয়ালু শাসক ছিলেন। তিনি ঘন ঘন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে প্রজাদের অবস্থা দেখতেন। দণ্ডব্যবস্থা কঠোর হলেও তিনি প্রজাদের মঙ্গলের জন্য অনেক কাজ করেছেন। তাঁর আমলে চিনা পরিব্রাজক সুয়ান জাং ভারতে এসেছিলেন।