ষষ্ঠ শ্রেণীর ইতিহাস বইয়ের অষ্টম অধ্যায় "প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতিচর্চার নানাদিক : শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শিল্প"-এর সম্পূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই অধ্যায়ে প্রাচীন ভারতের শিক্ষাকেন্দ্র (নালন্দা, তক্ষশিলা), সাহিত্য (বেদ, মহাকাব্য, সঙ্গম সাহিত্য), চিকিৎসাবিজ্ঞান (চরক, সুশ্রুত), জ্যোতির্বিদ্যা (আর্যভট্ট) এবং ভাস্কর্য ও স্থাপত্য (স্তূপ, বিহার, গান্ধার শিল্প)-এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
-
প্রাচীন ভারতে পড়াশোনা মূলত কেমন ছিল?উত্তর: মৌখিক বা শুনে শুনে মনে রাখা
-
ব্রাহ্মণদের শিক্ষাকেন্দ্র গুরুকুলে কাদের পড়ার অধিকার ছিল না?উত্তর: শূদ্রদের
-
নালন্দা মহাবিহার কোথায় অবস্থিত?উত্তর: বর্তমান বিহারে
-
নালন্দা মহাবিহারে কোন দেশের ছাত্ররা পড়তে আসত?উত্তর: চিন, তিব্বত, কোরিয়া প্রভৃতি দেশের
-
হিউয়েন সাং কোন মহাবিহারে পড়াশোনা করেছিলেন?উত্তর: নালন্দায়
-
তক্ষশিলা মহাবিহার কোন অঞ্চলে অবস্থিত ছিল?উত্তর: গান্ধার অঞ্চলে (বর্তমান পাকিস্তানে)
-
প্রাচীন ভারতের প্রথম দিকের লিপি কী ছিল?উত্তর: ব্রাহ্মী লিপি
-
খরোষ্ঠী লিপি কোন দিক থেকে লেখা হতো?উত্তর: ডান দিক থেকে বাঁ দিকে
-
সম্রাট অশোকের শিলালেখগুলিতে মূলত কোন লিপি ব্যবহৃত হয়েছে?উত্তর: ব্রাহ্মী লিপি
-
সংস্কৃত ব্যাকরণ 'অষ্টাধ্যায়ী' কে রচনা করেন?উত্তর: পাণিনি
-
'মহাভাষ্য' কে লিখেছিলেন?উত্তর: পতঞ্জলি
-
বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থগুলি প্রধানত কোন ভাষায় লেখা হতো?উত্তর: পালি ভাষায়
-
জৈন ধর্মগ্রন্থগুলি কোন ভাষায় লেখা হতো?উত্তর: প্রাকৃত বা অর্ধমাগধী ভাষায়
-
'অর্থশাস্ত্র' কার রচনা?উত্তর: কৌটিল্য বা চাণক্য
-
'বুদ্ধচরিত' কে রচনা করেন?উত্তর: অশ্বঘোষ
-
তামিল সাহিত্যের প্রাচীনতম রূপকে কী বলা হয়?উত্তর: সঙ্গম সাহিত্য
-
'অভিজ্ঞানশকুন্তলম' নাটকটি কার লেখা?উত্তর: কালিদাস
-
'মৃচ্ছকটিকম' নাটকের রচয়িতা কে?উত্তর: শূদ্রক
-
প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত চিকিৎসক কে ছিলেন?উত্তর: চরক
-
শল্য চিকিৎসায় (সার্জারি) প্রাচীন ভারতে কে বিখ্যাত ছিলেন?উত্তর: সুশ্রুত
-
'সূর্য সিদ্ধান্ত' বইটি কার লেখা?উত্তর: আর্যভট্ট
-
শূন্য (০)-এর ব্যবহার প্রথম কারা আবিষ্কার করেন?উত্তর: প্রাচীন ভারতীয় পণ্ডিতরা
-
পৃথিবী যে নিজের অক্ষের চারপাশে ঘোরে, সেকথা প্রথম কে বলেছিলেন?উত্তর: আর্যভট্ট
-
'বৃহৎসংহিতা' কার রচনা?উত্তর: বরাহমিহির
-
সাঁচী স্তূপ ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?উত্তর: মধ্যপ্রদেশ
-
অজন্তা গুহাচিত্রগুলি মূলত কোন ধর্মের সঙ্গে যুক্ত?উত্তর: বৌদ্ধ ধর্ম
-
গান্ধার শিল্পে কোন দুটি সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটেছিল?উত্তর: গ্রিক ও ভারতীয়
-
মথুরা শিল্পে মূলত কোন পাথরের ব্যবহার হতো?উত্তর: লাল বেলেপাথর
-
চন্দ্রকেতুগড় কোন শিল্পের জন্য বিখ্যাত?উত্তর: পোড়ামাটি বা টেরাকোটা শিল্প
-
গুপ্ত যুগে মূলত কাদের উপাসনার জন্য মন্দির বানানো শুরু হয়?উত্তর: হিন্দু দেবতাদের
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ - 1 Mark)
-
মহাবিহার কী?উত্তর: প্রাচীন ভারতে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পড়াশোনা ও একসঙ্গে থাকার জন্য তৈরি বড়ো শিক্ষাকেন্দ্রগুলিকে মহাবিহার বলা হতো (যেমন- নালন্দা মহাবিহার)।
-
নালন্দা মহাবিহারের গ্রন্থাগারটির নাম কী ছিল?উত্তর: নালন্দা মহাবিহারের বিশাল গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরিটির নাম ছিল 'ধর্মগঞ্জ'।
-
তক্ষশিলায় কী কী বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হতো?উত্তর: তক্ষশিলা মহাবিহারে বেদ, ধনুর্বিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, রাজনীতি এবং নানা কারিগরি বিদ্যা শেখানো হতো।
-
বলভী শিক্ষাকেন্দ্রটি কোথায় অবস্থিত ছিল?উত্তর: বলভী শিক্ষাকেন্দ্রটি বর্তমান গুজরাট রাজ্যে অবস্থিত ছিল, যা হীনযান বৌদ্ধদের একটি বড়ো শিক্ষাকেন্দ্র ছিল।
-
ব্রাহ্মী লিপি থেকে কোন কোন আধুনিক লিপির জন্ম হয়েছে?উত্তর: প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি থেকেই সময়ের সাথে সাথে বাংলা, হিন্দি (দেবনাগরী), মারাঠি প্রভৃতি লিপির জন্ম হয়েছে।
-
মহাকাব্য বলতে কী বোঝো?উত্তর: কোনো বিশেষ মহৎ ঘটনা, বড়ো যুদ্ধ বা রাজবংশের শাসককে নিয়ে রচিত বিশাল আকারের কবিতাকে মহাকাব্য বলা হয়।
-
ভারতের দুটি প্রাচীন মহাকাব্যের নাম লেখো।উত্তর: ভারতের দুটি বিখ্যাত প্রাচীন মহাকাব্য হলো রামায়ণ এবং মহাভারত।
-
সঙ্গম সাহিত্য কী?উত্তর: প্রাচীন দক্ষিণ ভারতে 'সঙ্গম' বা কবিদের সম্মেলনে তামিল ভাষায় যে বিপুল সাহিত্য রচিত হয়েছিল, তাকে সঙ্গম সাহিত্য বলে।
-
কালিদাসের লেখা দুটি বিখ্যাত কাব্যের নাম লেখো।উত্তর: মহাকবি কালিদাসের লেখা দুটি বিখ্যাত কাব্য হলো 'মেঘদূত' এবং 'কুমারসম্ভবম'।
-
'চরক সংহিতা' বইটির বিষয়বস্তু কী?উত্তর: 'চরক সংহিতা' হলো চিকিৎসাবিদ্যা বা আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের একটি প্রধান গ্রন্থ, যেখানে নানা রোগের কারণ ও ওষুধের বর্ণনা রয়েছে।
-
'সুশ্রুত সংহিতা'য় কীসের বর্ণনা রয়েছে?উত্তর: সুশ্রুত সংহিতায় প্রধানত শল্য চিকিৎসা বা সার্জারির (অস্ত্রোপচার) বর্ণনা এবং নানা ডাক্তারি যন্ত্রপাতির কথা রয়েছে।
-
আর্যভট্ট কে ছিলেন?উত্তর: আর্যভট্ট ছিলেন গুপ্ত যুগের একজন বিখ্যাত গণিতজ্ঞ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী, যিনি প্রথম বলেছিলেন যে পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ঘোরে।
-
বরাহমিহির কী জন্য বিখ্যাত ছিলেন?উত্তর: বরাহমিহির ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পণ্ডিত। তাঁর লেখা বিখ্যাত বইটি হলো 'বৃহৎসংহিতা'।
-
স্তূপ কী?উত্তর: গৌতম বুদ্ধ বা বৌদ্ধ সাধকদের দেহাবশেষ (যেমন- হাড়, দাঁত) মাটির নীচে রেখে তার ওপর যে গম্বুজ বা উলটানো বাটির মতো ইমারত বানানো হতো, তাকে স্তূপ বলে।
-
চৈত্য কী?উত্তর: পাহাড় খোদাই করে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের উপাসনা বা প্রার্থনার জন্য যে গুহা বা মন্দির তৈরি করা হতো, তাকে চৈত্য বলা হয়।
-
বিহার কী?উত্তর: বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীদের একসঙ্গে থাকার এবং পড়াশোনা করার জন্য যে আবাসিক জায়গা তৈরি করা হতো, তাকে বিহার বলে।
-
অজন্তার গুহাচিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?উত্তর: মহারাষ্ট্রের অজন্তা গুহার দেওয়ালে মূলত গৌতম বুদ্ধের জীবনের গল্প বা 'জাতক'-এর গল্প নিয়ে চমৎকার রঙিন ছবি আঁকা হয়েছিল।
-
গান্ধার শিল্পের প্রধান বিষয়বস্তু কী ছিল?উত্তর: গান্ধার শিল্পের প্রধান বিষয়বস্তু ছিল গ্রিক দেবতা অ্যাপোলোর আদলে গৌতম বুদ্ধ এবং বোধিসত্ত্বের সুন্দর মূর্তি তৈরি করা।
-
মথুরা শিল্পে কাদের মূর্তি তৈরি হতো?উত্তর: মথুরা শিল্পে মূলত লাল বেলেপাথর ব্যবহার করে বুদ্ধ, মহাবীর এবং বিভিন্ন হিন্দু দেবতাদের মূর্তি তৈরি করা হতো।
-
চন্দ্রকেতুগড় কোথায় অবস্থিত?উত্তর: চন্দ্রকেতুগড় বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বিদ্যাধরী নদীর তীরে অবস্থিত, যা প্রাচীন পোড়ামাটির শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions - 3/5 Marks)
-
নালন্দা মহাবিহারের শিক্ষা ব্যবস্থার বিবরণ দাও।
উত্তর: প্রাচীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল বিহারের নালন্দা মহাবিহার।
১) ছাত্র ও শিক্ষক: এখানে অন্তত দশ হাজার ছাত্র এবং পনেরোশো শিক্ষক ছিলেন। দেশ-বিদেশ (যেমন- চিন, তিব্বত, কোরিয়া) থেকে ছাত্ররা এখানে পড়তে আসত। বিখ্যাত চিনা পরিব্রাজক সুয়ান জাং বা হিউয়েন সাং এখানকার ছাত্র ছিলেন।
২) কঠিন প্রবেশিকা: নালন্দায় ভর্তি হওয়া খুব সোজা ছিল না। মহাবিহারের দ্বারপণ্ডিতরা কঠিন পরীক্ষা নিতেন, সেই পরীক্ষায় পাশ করলেই তবে ছাত্ররা ভেতরে পড়ার সুযোগ পেত।
৩) পঠনপাঠন: এখানে প্রধানত বৌদ্ধধর্ম ও দর্শন পড়ানো হতো। এর পাশাপাশি চিকিৎসাবিদ্যা, ব্যাকরণ, জ্যোতির্বিদ্যা এবং লজিক বা তর্কবিদ্যাও পড়ানো হতো।
৪) গ্রন্থাগার: নালন্দায় 'ধর্মগঞ্জ' নামে একটি বিশাল লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার ছিল, যেখানে প্রচুর প্রাচীন পুঁথি সযত্নে রাখা ছিল। -
প্রাচীন ভারতে বিজ্ঞান, গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার চর্চায় আর্যভট্ট ও বরাহমিহিরের অবদান আলোচনা করো।
উত্তর: গুপ্ত যুগে বিজ্ঞান ও গণিতচর্চায় প্রভূত উন্নতি হয়েছিল। এই সময়ের দুজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ছিলেন আর্যভট্ট এবং বরাহমিহির।
আর্যভট্টের অবদান: তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত গণিতজ্ঞ এবং জ্যোতির্বিদ। তাঁর লেখা বিখ্যাত বই হলো 'সূর্য সিদ্ধান্ত'। তিনি প্রথম প্রমাণ করেছিলেন যে পৃথিবী গোল এবং তা নিজের অক্ষের ওপর ঘুরপাক খায় (আহ্নিক গতি)। এছাড়া গণিতে শূন্য (০)-এর ব্যবহার এবং দশমিক পদ্ধতির ব্যবহার তাঁর আমলেই শুরু হয় বলে মনে করা হয়।
বরাহমিহিরের অবদান: বরাহমিহিরও ছিলেন একজন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তাঁর রচিত বিখ্যাত বইটি হলো 'বৃহৎসংহিতা'। এই বইতে জ্যোতির্বিদ্যার পাশাপাশি আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, ভূমিকম্প এবং উদ্ভিদবিদ্যার মতো নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
-
প্রাচীন ভারতের চিকিৎসাবিজ্ঞানের (আয়ুর্বেদ) বিকাশ সম্পর্কে লেখো। চরক ও সুশ্রুতের অবদান কী ছিল?
উত্তর: প্রাচীন ভারতে চিকিৎসাবিজ্ঞানকে 'আয়ুর্বেদ' বলা হতো। এই সময় চিকিৎসাবিদ্যায় ব্যাপক উন্নতি ঘটেছিল।
চরকের অবদান: চরক ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন বিখ্যাত চিকিৎসক বা ফিজিশিয়ান। তাঁর লেখা বইটির নাম 'চরক সংহিতা'। এই বইতে জ্বর, কুষ্ঠ, যক্ষ্মা ইত্যাদি নানা কঠিন রোগের কারণ ও তার লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এতে নানা ভেষজ গাছপালা ও ওষুধের কথাও বলা আছে।
সুশ্রুতের অবদান: সুশ্রুত ছিলেন প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ শল্য চিকিৎসক বা সার্জন। তাঁর লেখা বইয়ের নাম 'সুশ্রুত সংহিতা'। এই বইতে মানবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাটা-ছেঁড়া বা অস্ত্রোপচারের (সার্জারি) নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া আছে। অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত নানা সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতির বিবরণও এতে পাওয়া যায়।
-
স্তূপ, চৈত্য এবং বিহার বলতে কী বোঝো? এদের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: প্রাচীন ভারতের স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের প্রধান তিনটি নিদর্শন হলো স্তূপ, চৈত্য এবং বিহার।
১) স্তূপ: গৌতম বুদ্ধ বা অন্যান্য সম্মানীয় বৌদ্ধ সাধকদের দেহাবশেষ (যেমন- হাড়, দাঁত বা চুল) মাটির নীচে রেখে, তার ওপর যে উলটানো বাটি বা গম্বুজাকৃতির ইমারত বানানো হতো তাকে স্তূপ বলে। যেমন- সাঁচী স্তূপ। স্তূপ হলো মূলত একটি স্মৃতিসৌধ।
২) চৈত্য: চৈত্য হলো বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের উপাসনা বা প্রার্থনার জায়গা। পাহাড়ের গা খোদাই করে গুহার মতো মন্দির বানিয়ে সেখানে উপাসনা করা হতো। যেমন- কার্লে চৈত্য।
৩) বিহার: বিহার হলো আবাসিক শিক্ষাকেন্দ্র। বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীরা যেখানে একসঙ্গে থাকতেন, পড়াশোনা করতেন এবং ধর্মচর্চা করতেন, সেই বাড়িগুলিকে বিহার বলা হতো।
-
গান্ধার শিল্প ও মথুরা শিল্পের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: কুষাণ আমলে উত্তর-পশ্চিম ভারতে দুটি বিখ্যাত ভাস্কর্য শিল্পের বিকাশ ঘটে- গান্ধার শিল্প এবং মথুরা শিল্প।
গান্ধার শিল্পের বৈশিষ্ট্য: বর্তমান পাকিস্তানের পেশোয়ারের কাছে এই শিল্প গড়ে উঠেছিল। এই শিল্পে গ্রিক, রোমান এবং ভারতীয় রীতির মিশ্রণ ঘটেছিল। গান্ধার শিল্পে প্রধানত গৌতম বুদ্ধের মূর্তি বানানো হতো, এবং বুদ্ধকে দেখতে অনেকটা গ্রিক দেবতা অ্যাপোলোর মতো হতো। মূর্তির শরীরে ঢেউ-খেলানো পোশাক এবং নীলচে-ধূসর পাথরের ব্যবহার এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
মথুরা শিল্পের বৈশিষ্ট্য: উত্তরপ্রদেশের মথুরাকে কেন্দ্র করে এই শিল্প গড়ে ওঠে। এটি সম্পূর্ণ দেশীয় বা ভারতীয় রীতির শিল্প। এতে প্রধানত মথুরার স্থানীয় লাল বেলেপাথর ব্যবহার করা হতো। এই শিল্পে বুদ্ধ ও মহাবীরের মূর্তির পাশাপাশি বিভিন্ন হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তিও তৈরি করা হয়েছিল।